মীর কাসেম আলী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মীর কাসেম আলী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

মীর কাসেম আলীর আপিল শুনানীতে যুক্তি উপস্থাপন শুরু

১০/২/২০১৬

 মেহেদী হাসান

জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলীর আপিল শুনানীতে যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয়েছে। আজ  সাক্ষীদের জবানবন্দী ও জেরা পড়ে শুনানো শেষে যুক্তি উপস্থান শুরু করেন মীর কাসেম আলীর  পক্ষে নিযুক্ত আইনজীবী এসএম শাহজাহান। প্রথম দিন একটি অভিযোগের বিরুদ্ধে  যুক্তি উপস্থাপন শেষে হয়েছে । এরপর আরেকটি অভিযোগের বিরুদ্ধে  যুক্তি পেশ শুরু করেন তিনি। এরপর মামলার শুনানী আগামী সোমবার পর্যন্ত মুলতবী করেন আদালত।

সকালে মামলার কার্যক্রম শুরুতে সাক্ষীদের জবানবন্দী ও জেরা পড়ে শেষ করেন  মীর কাসেম আলীর পক্ষে নিযুক্ত আইনজীবী হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী এবং  এসএম শাহজাহান।

২ নং অভিযোগের বিরুদ্ধে উপস্থাপিত যুক্তি : 
মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (২) মোট ১৪টি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে ১০টি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দেয়া হয়েছে। দুটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। গতকাল দুই নং অভিযোগ বিষয়ে যুক্তি উপস্থান শুরু করেণ এসএম শাহজাহান। দুই নং অভিযোগ ছিল লুৎফর রহমান ফারুক নামে এক ব্যক্তিকে অপহরণ এবং ডালিম হোটেলে  আটকে রেখে নির্যাতন। এ অভিযোগে মীর কাসেম আলীকে ২০ বছর সাজা দেয়া হয়েছে। অ্যাডভোকেট এসএম শাহজাহান বলেন, এ অভিযোগ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের একমাত্র সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন ভুক্তভোগী লুৎফর রহমান ফরুক (২০ নং সাক্ষী)। তিনি সাক্ষ্য দেয়ার সময় ট্রাইব্যুনালে কেঁদে বলেছেন, নির্যাতনের ফলে তিনি  পুুরুষত্বহীন হয়ে পড়েছেন। তার সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা নষ্ট হয়ে গেছে। অথচ তিনি জেরায় স্বীকার করেছন ১৯৭৯ সালে দিলারা বেগম নামে এক মহিলাকে বিয়ে করেছেন। আমাদের কাছে প্রমান আছে তার এক মেয়ে আছে। তার মেয়ের নাম তাসনীম রহমান মুক্তা । মুক্তার  বিয়ের কাবিননামা  এবং  এসএসসির মার্কশটি  আমারা সংগ্রহ করেছি। ২১/৪/২০১৪ তারিখ আমরা সে ডকুমেন্ট ট্রাইব্যুনালে  জমা দিয়েছি। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল  তা গ্রহণ করেনি।
এসময় প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা প্রশ্ন করেণ যখন এটা জমা দিয়েছেন তখন মামলা কোন পর্যায়ে ছিল। এসএম শাহজাহান বলেন, তখন আসামী পক্ষের প্রথম সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণ চলছিল। প্রধান বিচারপতি জানতে চান তখন আপনাদের সাক্ষীর মাধ্যমে এ ডকুমেন্ট ট্রাইব্যুনালে কেন উপস্থাপন করলেননা। এসএম শাহজাহান বলেন, যেহেতু আগে আমাদের ডকুমেন্ট ট্রাইব্যুনাল প্রত্যখ্যান করেছে তাই পরে আর জমা দেইনি। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, মামলার কোন পর্যায়ে কোন ডকুমেন্ট জমা দেয়া যাবে  এবং কী গ্রহণ করা যাবে সে বিষয়ে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মামলায় বিস্তারিত উল্লেখ করেছি।

এসএম শাহজাহান এরপর বলেন, দ্ইু নং অভিযোগ বিষয়ে সাক্ষী লুৎফর রহমান একজন রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট সাক্ষী। তিনি তার জবানবন্দীতে স্বীকার করেছেন ১৯৭৭ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত  তিনি চাকতাই বকশীরহাট ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন ।
অ্যাডভোকেট এসএম শাহজাহান বলেন, সাক্ষী তার সাক্ষ্যে বলেছেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও বিভিন্ন সভা সমাবেশে মীর কাসেম আলীকে দেখেছেন কিন্তু তিনি গত ৪২ বছরেও তার বিরুদ্ধে কোন মামলা মোকদ্মমা করেননি দালাল আইনের অধীনে।
তাছাড়া তাকে অপরনের স্থান বিষয়ে বিপরীতমুখী তথ্য রয়েছে।  সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে অপহনের যে স্থানের নাম উল্লেখ করেছেন চার্জশীটে তা নেই বরং চার্জশীটে অন্য একটি স্থানের কথা উল্লেখ রয়েছে।

সাক্ষী নিজেকে একজন মুক্তিযোদ্ধা দাবি করেছেন কিন্তু পাচলাইশে ১৯৭১ সালে কোন আর্মি ক্যাম্প ছিল কি-না তা বলতে পারেননি। অথচ এটা তার জানার কথা ছিল।

এসএম শাহজাহান বলেন, দুই নং অভিযোগ বিষয়ে ২০ নং সাক্ষী লুৎফর রহমান ফারুকই হলেন একমাত্র সাক্ষী। তার বক্তব্যের সমর্থনে আর কোন সাক্ষী ছিলনা রাষ্ট্রপক্ষের। রাষ্ট্রপক্ষের অপর কোন সাক্ষী তাকে ডালিম হোটেলে বন্দী অবস্থায় নির্যাতনের শিকার হতে দেখেনি এবং বলেওনি। ট্রাইব্যুনাল এ বিষয়টি বিবেচনায় নিতে ব্যর্থ হয়েছেন।

সাক্ষী বলেছেন, ১৯৭১ সালের ১৯ নভেম্বর আটক হওয়ার আগেই তিনি মীর কাসেম আলীকে দেখেছন ছাত্র নেতা হিসেবে। অথচ তার এ বক্তব্য যে সঠিক নয় তা  ট্রাইব্যুনাল বিবেচনা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। সাক্ষীর বক্তব্য যে সঠিক নয় তার প্রমান হল মীর কাসেম আলী যে কলেজের ছাত্র ছিলেন সাক্ষী সে কলেজের ছাত্র ছিলেননা। অথচ তিনি তাকে ১৯৭১ সালের আগে দেখার কথা বললেও অন্য কোন কলেজের ছাত্রনেতার নাম তিনি বলতে পারেননি। যেমন ১৯৬৮, ১৯৬৯ এবং ১৯৭০ সালে চট্টগ্রাম কমার্স কলেজ, মহসিন কলেজের ভিপি, জিএস কারা ছিল তা বলতে পারেননি। ১৯৬৯ সালে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রশক্তির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কে ছিলেন তাও বলতে পারেননি।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র  কুমার সিনহার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ শুনানী গ্রহণ করেন। বেঞ্চের অপর চার সদস্য হলেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার এবং বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুর রহমান।  শুনানী আজ বুধবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।

আপিল আবেদন শুনানীর সময় মীর কাসেম আলীর পক্ষে অন্যান্য আইনজীবীর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার তানভির আহমেদ আল আমিন, ব্যারিস্টার মীর আহমাদ  বিন কাসেম, ব্যারিস্টার জাকের আহমেদ চৌধুরী প্রমুখ।
রাষ্ট্রপক্ষে অন্যান্যের মধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম উপস্থিত ছিলেন।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর  বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল এর আপত্তি : হাইকোর্টের সদ্য অবসরে যাওয়া বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী আজ  মীর কাসেম আলীর পক্ষে আইনজীবী হিসেবে অংশগ্রহণের শুরুতে আপত্তি উত্থাপন করেণ অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি বলেন, বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী মাত্র এক মাস আগে এলপিআরে গেছেন। তিনি সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন। সরকারি বাসভবনে থাকেন এবং সকারি গাড়ি ব্যবহার করেন। এ অবস্থায় তিনি আইনজীবী হিসেবে মামলায় অংশ গ্রহণ করতে পারেণ কি-না।
তখন প্রধান বিচারপতি বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, আমি তাকে আইনজীবী হিসেবে আইনপেশায় ফেরার   অনুমতি দিয়েছি। অনুমতি দেয়ার পূর্বে আমি তার এলপিআর এবং অন্য্যান্য সকল সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র সাক্ষর করে শেষ করেছি। এরপর আইনপেশায় ফেরার  অনুমতি দিয়েছি। তিনি তো অন্য মামলায়ও অংশগ্রহণ করছেন।  এরপর তিনি বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীকে বলেন, আপনি পড়েন (সাক্ষীর জবানবন্দী ও জেরা)।

১১টার সময় শুনানী বিরতি ঘোষণার আগে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, জাজেস রেসিডেন্ট কমপ্লেক্স এর মর্যাদা সবাই রক্ষা করবেন। যারা অবসরে গেছেন এবং যারা বর্তমানে বিচারপতি আছেন তাদের সবার প্রতি আমার এ অনুরোধ।

আপিল শুনানীর বিরতি এবং শুনানী শেষে অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের বলেন, নৈতিকভাবে বিচারপতি নজরুল ইসলাম এটা করতে পারেণনা।
শুনানী শেষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের যখন এ বিষয়ে ব্রিফিং করেণ তখন এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেণ রাষ্ট্র পরিচালিত মামলার বিরুদ্ধে তিনি আইনজীবী হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন বিধায় কি আপনি তার বিরোধীতা করছেন। অ্যাটর্নি জেনারেল এ অভিযোগ অস্বীকার করেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল এর আপত্তি বিষয়ে সুপ্রীম কোর্ট বার ভবনে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর  কাছে জানতে চান সাংবাদিকরা। তিনি তাদের বলেন, সংবিধা এবং আইন আমাকে যে অধিকার দিয়েছে তা মেনেই আমি কাজ করছি। আমি আইনের বাইরে কিছু করছিনা।

১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের লক্ষ্যে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মীর কাসেম আলীকে দুটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেয় ২০১৪ সালের ২ নভেম্বর ।
২০১২ সালের   ১৭ জুন মীর কাসেম আলীকে  গ্রেফতার করা হয় ।



রবিবার, ৪ মে, ২০১৪

মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে মামলার রায় যেকোনদিন


জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে মামলার রায় যেকোনদিন ঘোষনা করা হবে।  আজ এ মামলার সমস্ত বিচার কার্যক্রম শেষে রায়ের তারিখ অপেক্ষমান ঘোষনা করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল বিচার কার্যক্রম শেষে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের ধন্যবাদ জানিয়ে রায় ঘোষনার তারিখ অপেক্ষমান ঘোষনা করেন।

এর আগে আসামী পক্ষে ব্যারিস্টার তানভির আহমেদ আল আমিন আইনী দিক তুলে ধরে যুক্তি পেশ করেন এবং রাষ্ট্রপক্ষে ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ সংক্ষেপে আসামী পক্ষের যুক্তির জবাব দেন।
ব্যারিস্টার তানভির আহমেদ আল আমিন বলেন, সাধারণত সামরিক অফিসারদের বেলায় উর্দ্ধতন নেতৃত্বে দায় বা কমান্ড রেসপনসিবিলিটি আনা হয়। মীর কাসেম আলী একজন বেসামরিক ব্যক্তি। কমান্ড রেসপনসিবিলিটি বিষয়টি মিলিটারির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আলী আহসান মো : মুজাহিদ এবং মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে রায়ে তাদের বিরুদ্ধে  কমান্ড রেসপনসিবিলিটির দায় আনার জন্য যে দুটি মামলার উদাহরন দেয়া হয়েছে তারা দুজনই ছিল সামরিক ব্যক্তি। এই উদাহরন এ মামলায় পড়েনা। আর আকা ইউসু এবং মাহিমানা নামে যে দুজন বেসামরিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এর আগে কমান্ড রেসপনসিবিলিটির দায় আনা হয়েছে তা করা হয়েছে তাদের স্টাটাসের কারনে। ওইসব অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রশাসনিক উচ্চ পদে আসিন ছিল। প্রশাসনিক উচ্চপদে আসীন না হলে এবং তার কোন কর্তৃত্ব না থাকলে তার বিরুদ্ধে কমান্ড রেসপনসিবিলিটির অভিযোগ আনা যায়না।
ব্যারিস্টার তানভির আহমেদ আল আমিন বলেন, ডালিম হোটেলের মালিক ডালিম হোটেল দখলদার মইত্যা গুন্ডার বিরুদ্ধে মামলা করেছে এবং সেখানে তিনি মীর কাসেম আলীর নাম উল্লেখ করেননি। এখানে যারা তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছে তারা গত ৪২ বছরে তার বিরুদ্ধে একটি কথাও বলেনি কোথাও। রাষ্ট্রপক্ষ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে যে বই জমা দিয়েছে সেসব বইয়ের লেখকও স্বাধীনতার পর মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে একটি কথাও কোথাও লেখননি। তাছাড়া মীর কাসেম আলী অপরাধ সংঘটনকালে যে চট্টগ্রামে ছিলেননা তা রাষ্ট্রপক্ষের জমা দেয়া অনেক পেপারকাটিং থেকে দেখা যায়।
ব্যারিস্টার তানভির আহমেদ বলেন, মীর কাসেম আলী চট্টগ্রাম আলবদর কমান্ডার ছিলেন এ মর্মে কোন প্রমান দিতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ। রাষ্ট্রপক্ষ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
এরপর রাষ্ট্রপক্ষে ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ আসামী পক্ষের যুক্তির সংক্ষিপ্ত জবাব দিয়ে আসামীর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড দাবি করেন।

বিচার কার্যক্রম শেষে ট্রাইব্যুনালের সামনে অপেক্ষমান সাংবাদিকদের তাজুল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের ডকুমেন্ট থেকেই এটা অকাট্যভাবে প্রমানিত যে মীর কাসেম আলী ১৯৭১ সালের নভেম্বরের শুরু থেকে চট্টগ্রামে ছিলেননা। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানের প্রশ্নই আসেনা। ডালিম হোটেলের দখলদার মইত্যা গুন্ডার বিরুদ্ধে মামলা করেছে হোটেলের মালিক। সেই মামলার বিবরনে অনেক কিছু উল্লেখ আছে কিন্তু মীর কাসেম আলীর নাম নেই কোথাও। ৪২ বছর পর রাজনৈতিক প্রতিহিংশা চরিতার্থ করার জন্য ব্যক্তি  টার্গেট করে ছক একে নীলনকশার মাধ্যমে এ মামলা সাজানো হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ যে ডকুমেন্ট জমা দিয়েছে তাতে চট্টগ্রাম আল বদর কমান্ডারসহ অন্য শীর্ষ আলবদর নেতৃবৃন্দের নাম এসেছে। তাতে মীর কাসেম আলীর নাম নেই। কিন্তু তারপরও তাকে আল বদর কমান্ডার বানানো হয়েছে। ১৯৭৭ সালে জন্ম নেয়া ব্যক্তিকে মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হিসেবে হাজির করা হয়েছে। মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। আশা করছি আদালত এসব বিবেচনা করবেন।

মামলার সংপিক্ষপ্ত বিবরন :
মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে হত্যা, নির্যাতন, অপহরন লুন্ঠন এবং অগ্নিসংযোগের মত ১৪টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল রাষ্ট্রপক্ষ থেকে। ১৪টি অভিযোগেই তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হল।
১৪টি অভিযোগের মধ্যে দুটি নির্যাতন ও হত্যা বিষয়ক। বাকী  ১২টি অভিযোগ অপহরন, নির্যাতন এবং  বন্দী করে রাখা বিষয়ক। হত্যা বিষয়ক যে দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে তাতে মোট সাতজনকে হত্যার ঘটনা রয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ মীর কাসেম আলীর  নেতৃত্বে চট্টগ্রামে মহামায়া বা ডালিম হোটেলে স্বাধীনতাপন্থী মুক্তিযোদ্ধাদের অপহরন করে  নির্যাতন, হত্যা, গুম করা হত। এছাড়া  লুন্ঠন এবং অগ্নিসংযোগের মত মানবতাবিরোধী কর্মকান্ড পারিচালিত হয়েছে তার নেতৃত্বে। মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে যে ১৪টি অভিযোগ আনা হয়েছে তার  সবগুলোর সাথেই হয়  তার নেতৃত্ব  অথবা  সরাসরি  সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়েছে।

২০১২ সালের   ১৭ জুন মীর কাসেম আলীকে  ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ এবং শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১  এর নির্দেশে। সেই থেকে তিনি বন্দী রয়েছেন।

গত বছর ৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে চার্জ গঠন  করে। এরপর এ মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-২ এ স্থানান্তর করা হয়।


মীর কাসেম আলীর সংক্ষিপ্ত পরিচয়:
মীর কাসেম আলী ১৯৫২ সালে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর থানায় জন্মগ্রহণ করেন। পিতার চাকরির সুবাদে তিনি ১৯৬৫ সাল থেকে  চট্টগ্রামে বসবাস করেন এবং ১৯৬৭ সালে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করেন। ১৯৬৯ সালে তিনি চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এমএ পাশ করেন।

একজন সংগঠক, উদ্যোক্তা, পৃষ্ঠপোষক, সমাজকর্মী এবং রাজনীতির অঙ্গন ছাড়াও আরো বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিচয় রয়েছে মীর কাসেম আলীর। ব্যাংকিং, চিকিৎসা, শিক্ষা, পুনর্বাসন, আবাসন, গণমাধ্যম, পর্যটন পরিবহন খাতসহ অর্থনৈতিক সামাজিক বিভিন্ন খাতে উদ্যোগ গ্রহণ এবং নেতৃত্বে মীর কাসেম আলীর প্রশংসনীয় ভূমিকা রয়েছে।

মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনায় আসামী পক্ষে আইনজীবী ছিলেন মিজানুল ইসলাম, তাজুল ইসলাম, ব্যারিস্টার তানভির আহমেদ আল আমিন, আসাদ উদ্দিন, আবু বকর সিদ্দিক, হাসানুল বান্না প্রমুখ।
রাষ্ট্রপক্ষে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম, সুলতান মাহমুদ সিমন ও তুরিন আফরোজ।





বুধবার, ৩০ এপ্রিল, ২০১৪

রাষ্ট্রপক্ষের ডকুমেন্টই রয়েছে মীর কাসেম আলী নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে ঢাকায় ছিলেন-আইনজীবী

মেহেদী হাসান, ৩০/৪/২০১৪, বুধবার, ঢাকা।
মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ১৯৭১ সালের বেশ কিছু পেপারকাটিং জমা দিয়েছে। তাতে দেখা যায় মীর কাসেম আলী ১৯৭১ সালের  নভেম্বর ও  ডিসেম্বর মাসে ঢাকায় ছিলেন। এ সময়ে তিনি চট্টগ্রামে ছিলেননা। অথচ মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে ডালিম হোটেলকেন্দ্রিক রাষ্ট্রপক্ষ যেসব অপহরন নির্যাতন এবং হত্যার অভিযোগ করেছে তার সবগুলোই  নভেম্বর এবং ডিসেম্বর মাসে সংঘটিত। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষেরই  ডকুমেন্টে দেখা যায় তিনি অপরাধ সংঘটনকালে ঢাকায় ছিলেন চট্টগ্রামে নয়। 
মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ খন্ডন করে যুক্তি উপস্থাপনের সময় অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম এ তথ্য তুলে ধরেন।

মিজানুল ইসলাম দাবি করেন মীর কাসেম আলী ১৯৭১ সালের সাত  নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকায় ছিলেন। ছয়  নভেম্বরের আগে তিনি চট্টগ্রম নগর ছাত্রসংঘ সভাপতি ছিলেন। ছয়  নভেম্বরের পর তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রসংঘ সাধারন সম্পাদক হন এবং এরপর তিনি ঢাকায় আসেন। সাধারনত কোন পার্টির সমাধারন সম্পাদক ঢাকায়ই বাস করেন। মীর কাসেম আলী ১৯৭১ সালে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামে ছিলেন এ তথ্য রাষ্ট্রপক্ষের ডকুমেন্টে আছে। ৮ সেপ্টেম্বরের পর তিনি চট্টগ্রামে ছিলেন এ মর্মে তাদের কোন পেপারকাটিং নেই তাদের।
তিনি বলেন, বরং  রাষ্ট্রপক্ষের জমা দেয়া পেপারকাটিংয়ে দেখা যায় ১৯৭১ সালের নভেম্বর এবং ডিসেম্বর মাসে মীর কাসেম আলী ঢাকায় ছিলেন। ১৯৭১ সালের ১১ ডিসেম্বর এবং ৮ নভেম্বর তারিখে প্রকাশিত দুটি খবরের কাটিং জমা দিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ যে খবরে উল্লেখ আছে মীর কাসেম আলী ঢাকার সমাবেশে বক্তব্য দিয়েছেন।
যুক্তি পেশ শেষে ট্রাইব্যুনাল থেকে বের হয়ে মিজানুল ইসলাম দৈনিক নয়া দিগন্তকে বলেন,  দৈনিক আজাদের ১৯৭১ সালের ১১ ডিসেম্বর তারিখের একটি পেপার কাটিং জমা দিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। এ পেপারকটিংয়ের খবরে বর্নিত রয়েছে ১০ ডিসেম্বর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটের সমাবেশে মীর কাসেম আলী বক্তব্য দেয়। ১১ ডিসেম্বর তা আজাদে ছাপা হয়। এতে দেখা যায় মীর কাসেম আলী তখন ঢাকায় ছিল। তাছাড়া তাদের আরেকটি পেপারকাটিং হল ১৯৭১ সালের ৮ নভেম্বর। এ পেপারকাটিংয়েও দেখা যায় মীর কাসেম  আলী ঢাকায় একটি সমাবেশে বক্তব্য দিয়েছেন ৭ নভেম্বর।
তাছাড়া তাদের  ৭, ১১, ১৪  ও ২৪ নভেম্বর ১৯৭১ তারিখের পেপারকটিংয়ে মীর কাসেম আলীর বিবৃতি রয়েছে যা ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। ট্রাইব্যুনাল তখন বলেন ঢাকায় না থাকলেও বিবৃতি দেয়া যায়। মিজানুল ইসলাম বলেন, ধরে নেয়া যায় ঢাকায় বসেই তিনি বিবৃতি দিয়েছেন।  এসব থেকে প্রমানিত যে মীর কাসেম আলী নভেম্বর এবং ডিসেম্বর মাসে ঢাকায় ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের ডকুমেন্ট থেকে এটি স্পষ্ট যে মীর কাসেম আলী ৬ নভেম্বরের পর থেকে চট্টগ্রামে ছিলেননা বরং ঢাকায় ছিলেন। 

চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২  বিচার কার্যক্রম পরিচালান করেন।

মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে নয় নং অভিযোগ হল ২৯ নভেম্বর ১৯৭১ সালে সৈয়দ মো : এমরান হোসেন, কামাল উদ্দিন, জামালউদ্দিন, সরওয়ার উদ্দিন,  গোলাম কিবরিয়া, গোলাম রহমান এ   ছয় জনকে অপহরন ও নির্যাতন।
মিজানুল ইসলাম বলেন, এদের মধ্যে এমরান হোসেন, জামালউদ্দিন এবং সরওয়ারউদ্দিন এ তিনজকে সাক্ষী হিসেবে আনা হয়েছে। এ তিনজন বাদে বাকী চারজন বিষয়ে আর কোন তথ্য নেই। আর যে তিনজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছে তারা অপহরন ছাড়া অন্য কোন বিষয়ে কিছুই বলেনি।

জামালউদ্দিন বলেছেন, আটকের সময় ডালিম হোটেলের কাউকে তিনি চিনতে পারেননি। কারণ তারা মুখোস পড়া ছিল। অপরদিকে একই ঘর থেকে একই সময়ে আটক হওয়া অপর সাক্ষী সরওয়ার উদ্দিন বলেছেন, আটকের সময় দুজন আর্মি এবং একজন বদর সদস্য ছিল। বদর সদস্য হল মীর কাসেম আলী।

মিজানুল ইসলাম বলেন, সাতজনকে একই ঘর থেকে একই সাথে গ্রেফতার করে। এর মধ্যে তিনজন এসে সাক্ষ্য দিয়েছে এবং তাদের মধ্যে  দুজন ব্যক্তি সম্পূর্ণ বিপরীত তথ্য দিয়েছে গ্রেফতার ঘটনা বিষয়ে।
অপর সাক্ষী  এমরান বলেছেন তিনি যুদ্ধ করেছেন কিন্তু কোন এলাকায় যুদ্ধ করেছেন তা বলতে পারেননি। আর্মি ক্যাম্প কোথায় ছিল তাও বলতে পারেননি। আলবদর ক্যাম্প সম্পর্কেও বলতে পারেনি। এরকম একজন সাক্ষী আসামীকে জড়িয়ে যা বলেছে তাও অসত্য এটাই স্বাভাবিক।

মিজানুল ইসলাম বলেন, দুই জন সাক্ষী ঘটনার বর্ননা এবং তারিখ বিষয়ে সম্পূর্ণ বিপরীত তথ্য দিয়েছেন ১১ নং অভিযোগ যথা জসিম হত্যা বিষয়ে।
গাজী সালাহউদ্দিন তার বইয়ে উল্লেখ করেছেন জসিমের নিহত হবার স্থান এবং তারিখ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বই ডিফেন্স ডকুমেন্ট হিসেবে প্রদর্শনী মার্ক করা হয়েছে। অপর দিকে জসিম নিহত হওয়া বিষয়ে সাক্ষী সানাউল্লাহ এবং জাহাঙ্গীর আলম ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছে। জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, তিনি  ২৪ নভেম্বর ডালিম হোটেলে জসিমের লাশ দেখেছেন। আর সানাউল্লাহ বলেছেন তিনি ২৮ নভেম্বর ডালিম হোটেল জসিমের লাশ দেখেছেন।

মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে ১২ নং অভিযোগ হল  জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, টন্টু সেন ও রঞ্জিত দাসকে অপহরন করে নির্যাতন করা হয়। টন্টু  রঞ্জিত দাসকে হত্যা  করে  তাদের লাশ গুম করা হয়।

সানাউল্লাহ বলেছেন তিনি ২৭ নভেম্বর ডালিম হোটেলে টন্টু সেন ও রঞ্জিতের সাথে কথা বলেছেন। ২৮ তারিখ তাদের হত্যা করা হয়।
শফিউল আলমকে গ্রেফতার করা হয় ২৮ নভেম্বর। তিনি তার সেই সে সময় আনন্দ বেদনা বইয়ে উল্লেখ করেছেন ২৮ নভেম্বর টন্টু মারা যাবার  তিনদিন আগে থেকে অজ্ঞান ছিল। কিন্তু সানাউল্লাহ বলেছেন বলেছেন তিনি ২৭ তারিখ টন্টুর সাথে কথা বলেছেন ডালিম হোটেলে।  মিজানুল ইসলাম প্রশ্ন করেন অজ্ঞান লোকের সাথে সাক্ষী সানাউল্লাহ  কথা বললেন কি করে?

টন্টু সেনের ভাগনে প্রদীপ তালুকদার । ১২ নং অভিযোগ বিষয়ে  প্রদীপ সাক্ষ্য দিয়েছেন অপহরন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে। প্রদীব বলেছেন ১৯৭১ সালে তার বয়স ছিলণ ছয় বছর। তিনি যে ঠিকানা ট্রাইব্যুনালে দিয়েছেন সে ঠিকানায় তার কোন অস্তিত্ব নেই। নতুন যে ঠিকানা দিয়েছেন সেখানেও তার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তবে নতুন ঠিকানা অনুযায়ী আমরা তার ভোটার লিস্ট সংগ্রহ করেছি এবং সেখানে তার জন্ম তারিখ লেখা আছে ১৯৭৭ সাল। ১৯৭৭ সালে জন্ম নেয়া ব্যক্তি কি করে ১৯৭১ সালের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হতে পারে?
মিজানুল ইসলাম বলেন, ১২ নং অভিযোগে আরো রয়েছে হাজারি লেনে আড়াইশ থেকে তিনশ বাড়িঘরে আগুন দেয়া হয়েছে এবং একশরও বেশি পরিবারকে জোর করে ভারতে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ কোন সাক্ষী হাজির করেনি।

মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে ১৩ নং অভিযোগ হল সুনীল কান্তি বর্ধনকে অপহরন ও নির্যাতন।
মিজানুল ইসলাম বলেন, এ অভিযোগ বিষয়ে সাক্ষী সুনীল কান্তি বর্ধন অস্বাভাবিক বক্তব্য দিয়েছে। সে একবার বলছে শহরে টিকতে না পেরে গ্রামে গেছে। আবার বলছে গ্রামে টিকতে না পেরে শহরে এসেছে। গ্রামে সে কেন টিকতে পারলনা? তাছাড়া সে কোন রাজাকার আলবদরও চিনতনা। তাহলে কি করনে কাদের কারনে সে গ্রামে টিকতে পারলনা? সে বলেছে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর বাড়ি পোড়ানো হয়নি। সে যে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছে এটা তার প্রমান। কারণ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর বাড়ি পোড়ানো হয়েছিল ।

মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে ১৪ নং অভিযোগ হল নাসির উদ্দিন চৌধুরীকে অপহরন ও নির্যাতন।
নাসির উদ্দিন চৌধুরী একজন মুক্তিযোদ্ধা। চট্টগ্রাম শহরে সে এসেছে যুদ্ধের জন্য। অথচ সে বলেছে সার্কিট হাউজ ছাড়া অন্য কোথাও আর্মি ক্যাম্প ছিল কিনা তা তার জানা নেই। এটা কেমন কথা? এসময় ট্রাইব্যুনাল বলেন, তাইতো? এটা কি করে হতে পারে?
মিজানুল ইসলাম বলেন, তাদের এলাকা হাজারি লেন  বারবার পুড়িয়ে দেয়া হল, বারবার লুট হয়েছে তার এলাকায়, তার এলাকার পাশেই ডালিম হোটেল বলছে তারা আর সেখানেই এসে সে আশ্রয় নিল। এটা কি করে সত্য হতে পারে? কাজেই তার আহত হবার ঘটনা অসত্য।

সাত নং অভিযোগ হল মীর কাসেম আলীর নেতৃত্বে সাত/আট জন যুবক ডাবলমুরিং থানা থেকে সানাউল্লাহ চৌধুরী,  হাবিবুর রহমান, ইলিয়াসকে  ধরে নিয়ে ডালিম হোটেলে নির্যাতন করা হয়।
মিজানুল ইসলাম বলেন, সানাউল্লাহ বলছে তার চোখ বাঁধা ছিল। কাজেই তাকে ডালিম হোটেলের সামনে না অন্য কোথায় আনা হল তা তার পক্ষে জানা সম্ভব নয়। ইলিয়াসের অপহরন এবং নির্যাতন বিষয়ে এখানে একটা লাইন ছাড়া আর কোন কিছু কোথাও বলা হয়নি। ইলিয়াসের অপরহন নির্যাতন বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আর কোন কিছু নেই। কেন তাকে সাক্ষী হিসেবে আনা হলনা, অন্য কোন সাক্ষী দিয়ে কেন কিছু বলানো হলনা এর কোন ব্যাখ্যা নেই।
মিজানুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রাম পিডিবি নেতা নবি চৌধুরী স্বাধীনতা বিরোধী কি-না তাও সে জানেনা। তার বক্তব্য যে অসত্য এটা তার প্রমান। সে ডিসি অফিসে চাকরি করত কিন্তু ডিসি অফিস লুট হওয়ার খবরও সে জানেনা বলছে। একজন মানুষের পক্ষে স্বাভাবিকভাবে যা জানার কথা তাও সে জানেনা বলছে। সত্য এড়িয়ে গেছে। যে লোক স্বাভাবিক জানাকথা সঠিকভাবে বলছেনা তার বাকি কথা কতটা বিশ্বাসযোগ্য?

১০ নং অভিযোগ মীর কাসেম আলীর নির্দেশে মো : জাকারিয়াসহ চারজনকে অপহরন ও নির্যাতন।
ভিকটিম চারজনই সাক্ষ্য দিয়েছে। মিজানুল ইসলাম বলেন, সাক্ষী জাকারিয়া বলেছেন আটকের সময় পাকিস্তান আর্মি ছিল। শান্তি কমিটি বিষয়ে তার কোন ধারণা নেই।  এলাকায় রাজাকর ক্যাম্প দেখেনি সে। মীর কাসেম আলী ছাড়া অপর কাউকে তিনি চেনেননা।

সাক্ষী হাসিনা বেগম বলেছেন তিনি ১৯৭২ সালে সম্পাদক ছিলেন। ন্যাপ নেতা ছিলেন। কিন্তু তিনি জেরায় বলেছেন ১৯৭২ সালে দালাল আইনে ট্রাইব্যুনাল গঠন বিষয়ে জানা নেই। শান্তি কমিটি ও রাজাকার বিষয়েও বলতে পারছেননা। তার একথা কি বিশ্বাসযোগ্য? কারণ তিনি কোন সাধারন গৃহিনী নন। তিনি আবার মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বই লিখেছেন।

মিজানুল ইসলাম বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা ডালিম হোটেল তদন্ত  বিষয়ে অসত্য তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন তিনি তদন্ত করতে গিয়ে ওই বাড়ির  কারো সাথে কথা বলেননি প্রথমে । আসলে তিনি তদন্ত করেছেন ঠিকই কিন্তু তদন্তে যখন মীর কাসেম আলী বিষয়ে কোন তথ্য পাননি তখন তিনি তদন্ত বিষয়ে অস্বীকার করেন। তিনি আসল তথ্য গোপন করেছেন। ওই বাড়ির একজনকে সাক্ষী করা হয় কিন্তু তাকে আনা হয়নি। তদন্ত কর্মকর্তা জেরায় স্বীকার করেছেন ডালিম হোটেলের মালিক মইত্যা গুন্ডার বিরুদ্ধে যে মামলা করেছিল ১৯৭২ সালে সে বিষয়ে কোন তদন্ত করেননি।

মিজানুল ইসলাম বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা প্রথমে অসদ উদ্দেশ্য নিয়ে মীর কাসেম আলীকে আসামী নির্ধারন করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সাজিয়ে সে অনুযায়ী শিখিয়ে পরিয়ে সাক্ষী হাজির করেছেন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে।
যুক্তি উপস্থাপনে মিজানুল ইসলামকে সহায়তা করেন ব্যারিস্টার তানভির আহমেদ আল আমিন,  ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম, আসাদ উদ্দিন ও আবু বকর সিদ্দিক।
আগামী রোববার উভয় পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হবার কথা রয়েছে। এর মাধ্যমে শেষ হবে এ মামলার বিচার  কার্যক্রম।





মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল, ২০১৪

মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে মামলায় আসামী পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শুরু// রাষ্ট্রপক্ষের ডকুমেন্টে মীর কাসেম আলী চট্টগ্রাম আল বদর কমান্ডার ছিল এ মর্মে উল্লেখ নেই বরং ফেনির নাসির নামে এক লোক কমান্ডার ছিল মর্মে উল্লেখ আছে

মেহেদী হাসান, ২৯/৪/২০১৪, মঙ্গলবার, ঢাকা।
জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামি পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয়েছে। মীর কাসেম আলীর পক্ষে অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম যুক্তি উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের দাবি  মীর কাসেম আলী চট্টগ্রাম আলবদর বাহিনীর প্রধান ছিলেন। তার নির্দেশে এবং সিদ্ধান্তে ডালিম হোটেলে  মুক্তিযোদ্ধা এবং স্বাধীনতার পক্ষের লোকজনকে অপহরন করে এনে বন্দী করে রাখা, নির্যাতন করা এবং হত্যার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ যেসব ডকুমেন্ট জমা দিয়েছে তাতে দেখা যায় মীর কাসেম আলী চট্টগ্রাম আলবদর কমান্ডার ছিলেননা। চট্টগ্রামের আলবদর কমান্ডার ছিল ফেনির নাসির নামে এক লোক। সেক্রেটাারি ছিল সন্দ্বীপের ফয়জুল্লাহ।

মিজানুল ইসলাম আজ আসামী সনাক্তকরন প্রক্রিয়া,  আলবদর কমান্ডার ইস্যু বিষয়ে যুক্তি উপস্থাপনের পর অভিযোগ খন্ডন করে যুক্তি পেশ শুরু করেন। এরপর বিচার কার্যক্রম আগামীকাল  বুধবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।
চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

মীর কাসেম আলী আলবদর কমান্ডার ছিলেন কি-না :
মিজানুল ইসলাম শুনানীর শুরুতে বলেন, এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের দাবি হল মীর কাসেম পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রসংঘের সাধারন সম্পাদক  ছিলেন, তিনি চট্টগ্রাম আলবদর বাহিনীর প্রধান ছিলেন, তার নির্দেশে এবং সিদ্ধান্তে ডালিম হোটেল পরিচালিত হত যেখানে লোকজনকে ধরে এনে নির্যাতন এবং হত্যা করা হয়েছে।
অপরদিকে এ মামলায় আসামি পক্ষের দাবি হল মীর কাসেম আলী চট্টগ্রাম আলবদর বাহিনীর কমান্ডার ছিলেননা। ডালিম হোটেল মতিউর রহমান ওরফে মইত্যা গুন্ডার নিয়যন্ত্রন করত। ডালিম হোটেল কোন ক্যাম্প ছিলনা।

মিজানুল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে যেসব ডকুমেন্ট জমা দিয়েছে তার কোথাও তিনি  আল বদর কমান্ডার ছিলেন এ মর্মে উল্লেখ নেই। বরং অপর তিন থেকে চারজন ব্যক্তিকে এসব বইয়ে আলবদর প্রধান  হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মাহবুবুল আলমের  লেখা বই যা রাষ্ট্রপক্ষ জমা দিয়েছে তাতে ফেনির নাসির নামে একজন লোক চট্টগ্রামের আলবদর কমান্ডার ছিল বলে উল্লেখ আছে। সেক্রেটারি ছিল সন্দ্বীপের ফয়জুল্লাহ। এছাড়া চট্টগ্রাম আলবদর নেতা হিসেবে জাকির হোসেন এবং  মনসুর এর নাম উল্লেখ আছে। এসময় ট্রাইব্যুনাল বইটি নিয়ে বিষয়টি পড়ে দেখেন।
এরপর মিজানুল ইসলাম বলেন, তাহলে রাষ্ট্রপক্ষের ডকুমেন্টেই দেখা যাচ্ছে মীর কাসেম আলী চট্টগ্রাম আলবদর কমান্ডার ছিলেননা।  ছিল অন্যরা।

মিজানুল ইসলাম  বলেন, ডালিম হোটেল যে মতিউর রহমান ওরফে মইত্যা গুন্ডার নিয়ন্ত্রনে ছিল সে মর্মে আমরা দুটি ডকুমেন্ট জমা দিয়েছি। ১৯৭২ সালে মতিউর রহমান ওরফে মইত্যা গুন্ডার বিরুদ্ধে  একটি মামলার ডকুমেন্ট দিয়েছি । এছাড়া মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রাম একটি প্রামান্য দলিল বইয়েও  এ বিষয়ে উল্লেখ আছে।
তদন্ত কর্মকর্তাও জেরায় স্বীকার করেছেন ডালিম হোটেল নির্যাতন কেন্দ্র ছিল মর্মে কোন রিপোর্ট তিনি দেখেননি।

অভিযোগ খন্ডন :
মীর  কাসেম আলীর বিরুদ্ধে মোট ১৪টি অভিযোগে চার্জ গঠন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ এক  এবং পাঁচ  নং অভিযোগ বিষয়ে কোন সাক্ষী হাজির করেনি। মিজানুল ইসলাম আজ দুই, তিন, চার, ছয় এবং আট  নং অভিযোগ খন্ডন করে যুক্তি পেশ করেন।

মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে দুই নং অভিযোগ হল লুৎফর রহমানকে অপহরন করে ডালিম হোটেলে নির্যাতন। মিজানুল ইসলাম বলেন, লুৎফর রহমান বলেছেন, নির্যাতনের ফলে তার সন্তান উৎপাদনের ক্ষমতা নষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে তিনি এ ঘটনার পরে বিয়ে করেছেন। তিনি যদি পুরুষত্বহীন হবেন তাহলে তিনি বিয়ে করলেন কিভাবে? এথেকে বোঝা যায় নির্যাতনের ঘটনা মিথ্যা।

মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে তিন নং অভিযোগে বলা হয়েছে ২২ অথবা ২৩ নভেম্বর আসামীর নেতৃত্বে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে তার কদমতলা বাসা থেকে ধরে নিয়ে ডালিম হোটেলে নির্যাতন করা হয়।

মিজানুল ইসলাম বলেন, জাহাঙ্গীর আলম দাবি করেছেন ২২ অথবা ২৩ নভেম্বর তাকে ধরে নিয়ে আসা হয়। অপর দিকে শফিউল আলম তার আনন্দ বেদনার সেই সে সময় বইয়ে লিখেছেন ২৭ নভেম্বর তাকে (শফিউল আলম) ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। তাহলে চারদিন আগে জাহাঙ্গীর আলম ডালিম হোটেলে শফিউল আলমকে দেখল কি করে? কাজেই জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্য অসত্য এবং তিনি ডালিম হোটেলে মীর কাসেম আলীকে জড়িয়ে যেসব কথা বলেছেন তাও অসত্য। অপর দিকে শফিউল আলমও তার বইয়ে চট্টগ্রাম আলবদর কমান্ডার হিসেবে মীর কাসেম আলীর নাম উল্লেখ করেননি । তিনি তার আরেকটি বইয়ে আলবদর কমান্ডার হিসেবে ভিন্ন লোকের নাম উল্লেখ করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষই এসব বই জমা দিয়েছে।
তাহলে মীর কাসেম আলী আলবদর কমান্ডার ছিল  এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ থেকেই তিন রকম তথ্য দিয়েছে দেখা যায়। তাদের জমা দেয়া বইয়ে মীর কাসেম আলী নয় বরং ফেনির নাসিরকে আল বদর কমান্ডার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর তাদের অভিযোগ এবং সাক্ষীদের বক্তব্যে দাবি করা হয়েছে মীর কাসেম আলী চট্টগ্রাম আল বদর কমান্ডার ছিল। মীর কাসেম আলী আল বদর কমান্ডার ছিল এ দাবি বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের তিনরকম তথ্য রয়েছে এবং বেনিফিট অব ডাউটের সুবিধা তারা পাবেনা। 

মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে চার নং অভিযোগে বলা হয়েছে ডাবলমুরিং থানায় সাইফুদ্দিন খানকে তার নিজ বাসা থেকে ধরে নিয়ে ডালিম হোটেলে নির্যাাতন করা হয়। মিজানুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় সাইফুদ্দিনের বোন নুরজাহান ঘটনা দেখেছেন মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে কিন্তু তাকে সাক্ষী হিসেবে আনা হয়নি।

মীর কাসেম আীল বিরুদ্ধে ছয় নং অভিযোগ হল চট্টগ্রাম শহরের একটি চায়ের দোকান থেকে হারুনুর রশিদ নামে একজনকে ধরে নিয়ে ডালিম হোটেল এবং সালমা মঞ্জিলে নির্যাতন করা। মিজানুল ইসলাম বলেন, হারুনুর রশিদের স্ত্রী এ ঘটনায় সাক্ষ্য দিয়েছে। অভিযোগ বিষয়ে তার বক্তব্যই বেশি গ্রহণযোগ্য হবার কথা। কিন্তু তিনি যে সাক্ষ্য দিয়েছেন তার বিপরীত তথ্য রয়েছে তার স্বামীর কথায়। তার স্বামী হারুনুর রশিদের উদ্ধুতি দিয়ে মাহবুবুল আলম তার বইয়ে লিখেছেন, আল বদর কমান্ডারদের তিনি চিনতেননা।
মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে আট নং অভিযোগ হল নুরুল কুদ্দুস, মো : নাসির, নুরুল হোসেনসহ চারজনকে অপহরন করে ডালিম হোটেলে নিয়ে নির্যাতন। মিজানুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তিনজনই জীবিত আছে। তাদের জবানবন্দীও রেকর্ড করা হয়েছে এবং সাক্ষী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।  কিন্তু তাদের কাউকে সাক্ষী হিসেবে আনা হয়নি। কি কারনে আনা যায়নি তারও কোন ব্যাখ্যা রাষ্ট্রপক্ষ দেয়নি।
এসময় ট্রাইব্যুনাল প্রশ্ন করেন তাদেরকে সাক্ষী হিসেবে আনা না হলে তাতে কি অভিযোগের গুরুত্ব কমবে? মিজানুল ইসলাম বলেন, অবশ্যই কমবে। রুলসে এটা বলা আছে এবং রায়ে  এ বিষয়ে মূল্যায়ন ভিন্ন হবে।

বাঙ্গাল খান :
মিজানুল ইসলাম বলেন, মীর কাসেম আলী বাঙ্গাল খান নামে পরিচিত ছিল বলে ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ যুক্তি উপস্থাপনের সময় বলেছেন। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্যেই দেখা যায়  বাঙ্গাল খান নামে আরেক ব্যক্তি ছিলেন, মীর কাসেম আলী নয়।
যেমন রাষ্ট্রপক্ষের আট নং সাক্ষী এস্কান্দার আলম বলেছেন, তিনি শুনেছেন মীর কাসেম আলী বলছেন  খান সাহেব কোথায়? তখন খান সাহেব বলছেন, মীর কাসেম আমি আসছি।
১৯ নং সাক্ষী বলছেন, চোখ খুলে মীর কাসেম আলীর সাথে আরো একজনকে দেখি। উনি খান সাহেব হতে পারে। এ থেকে স্পষ্ট যে মীর কাসেম আলী খান সাহেব ছিলেননা। খান সাহেব নামে আরেকজন  আলাদা ব্যক্তি ছিলেন।

আসামী সনাক্তকরন :
মিজানুল ইসলাম বলেন, মিথ্যা তথ্য দিয়ে এ মামলর তদন্ত শুরু হয়েছে। আইন অনুসারে তদন্ত শুরু হয়নি। জেরায় তদন্ত কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন  মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে কোন মৌখিক বা লিখিত অভিযোগ ছিলনা। তদন্ত কর্মকর্তা প্রথমে ব্যক্তি হিসেবে মীর কাসেম আলীকে বাছাই করে তার নিজস্ব ধারণা অনুসারে তদন্ত শুরু করেছে । এরপর  ডালিম হোটেলের ঘটনা লিপিবদ্ধ করে  সে মোতাবেক শিখিয়ে পরিয়ে সাক্ষী হাজির করা হয়েছে।
মিজানুল ইসলাম বলেন, যখন মামলা শুরু হয় তখন মীর কাসেম আলী বাংলাদেশে একজন পরিচিত ব্যক্তি। যারা পত্রপত্রিকা পড়েন এবং টিভিতে খবর দেখেন তারা তাকে চেনেন। ট্রাইব্যুনাল আইনে আসামী  সনাক্তকরন প্রকৃয়া বিষয়ে কিছু উল্লেখ নেই। তবে বাংলাদেশে ফৌজদারি মামলায় আসামী সনাক্তকরন প্রকৃয়া উল্লেখ আছে। কি পদ্ধতিতে সাক্ষী আসামীকে সনাক্তকরন করবে তা বলা আছে। আসামীকে আট থেকে ১০ জন লোকের সাথে মিলিয়ে রেখে সাক্ষীকে আসামী সনাক্ত করতে বলা হয়। কিন্তু ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী কর্তৃক আসামী সনাক্ত করা খুব সহজ ছিল। কারণ এখানে ডকে আসামী ছাড়া আর কেউ থাকেনা। তারপর সাক্ষী সাক্ষ্য দেয়ার পর সাক্ষীকে  বলা হয় আপনি যার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন তিনি আজ ডকে উপস্থিত আছেন কি-না দেখেনতো। এভাবে খুব সহজেই সাক্ষী আসামীকে সনাক্ত করতে পারে।
মিজানুল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের এক নং সাক্ষী সৈয়দ এমরান বলেছেন মীর কাসেম আলী তার স্কুলের সহপাঠী ছিলেন সেই হিসেবে তিনি তাকে চিনতেন। সৈয়দ এমরান বলেছেন তিনি ১৯৬৮ সালে এমএনসি স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করেন।
অথচ মীর কাসেম আলী এসএসসি পাশ করেন ১৯৬৭ সালে। সহপাঠী হতে হলে একই কাসে পড়তে হয়। কিন্তু দেখা যাচ্ছে মীর কাসেম আলী তার এক বছর আগে  এসএসসি পাশ করেন। কাজেই সাক্ষী অসত্য তথ্য দিয়েছে ।
যুক্তি উপস্থাপনে মিজানুল ইসলামকে সহায়তা করেন ব্যারিস্টার তানভির আহমেদ আল আমিন, আসাদ উদ্দিন ও আবু বকর সিদ্দিক।

সোমবার, ২৮ এপ্রিল, ২০১৪

মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ

মেহেদী হাসান, ২৮/৪/২০১৪, সোমবার, ঢাকা।
জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের  মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ যুক্তি পেশ শেষ করে মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদন্ড দাবি করেন। এরপর আগামীকাল আসামী পক্ষের যুক্তি  উপস্থাপন শুরু করার জন্য নির্ধারন করে ট্রাইব্যুনাল।

চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে হত্যা, অপহরন,  নির্যাতন, লুন্ঠন এবং অগ্নিসংযোগের মত ১৪টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে চার্জ গঠন করা হয়।

আগের দিনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে আজ সকালে রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সিমন ১১, ১২.১৩ এবং ১৪ নং অভিযোগ বিষয়ে যুুক্তি পেশ শুরু করেন। এরপর রাষ্ট্রপক্ষের অপর আইনজীবী রেজিয়া সুলতানা চমন আসামী পক্ষের তিন সাক্ষীর বক্তব্য খন্ডন করে যুক্তি পেশ করেন। সবশেষে ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ আইনী বিষয় তুলে ধরে সাবমিশন রাখেন।
রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তি উপস্থাপনের সময় ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে বেশ কিছু প্রশ্নের সম্মুখীন হয়।
সুলতান মাহমুদ সিমন যুক্তি পেশের সময় ট্রাইব্যুনাল বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের বক্তব্য থেকে দেখা যায় আসামী নিজে কারো গায়ে হাত দেয়নি। নিজে কাউকে মারেনি। আসামী নিজ হাতে কাউকে মেরেছে এরকম অভিযোগ আছে?
সুলতন মাহমুদ সিমন বলেন, আছে।
১৪ নং অভিযোগ  নাসিরউদ্দিন নামে একজনকে অপহরন এবং নির্যাতন বিষয়ে যুক্তি পেশের সময় ট্রাইব্যুনাল বলেন, অপহরনের সময় আসামী ছিলনা। অপহরনের অভিযোগ প্রমানিত নয়।  ভিকটিম নিজেই বলেছে অপহরনের সময় আসামী ছিলনা। কিন্তু আমরা তো অপহরন বিষয়ে চার্জ গঠন করে ফেললাম। কোর্ট ভুল করতে পারে কিন্তু আপনারা তখন বললেননা কেন এ বিষয়ে? আপনারা তো মনে করেন একটা চার্জ গঠন করলেই হয়ে গেল।  চার্জ প্রমান করতে হবেনা?
সুলতান মাহমুদ সিমন বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্যে মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হয়েছে।

এরপর আসামী পক্ষের তিন সাক্ষীর বক্তব্য খন্ডন করে রেজিয়া সুলতানা চমন যুক্তি পেশ করেন। এসময় ট্রাইবুনালের বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হন তিনি। ট্রাইব্যুনাল বলেন, এ মামলায় আসামী পক্ষের দাবি কি? আসামী পক্ষের দাবি হল ডালিম  হোটেল চালাত মতিউর রহমান ওরফে মইত্যা গুন্ডা । সে একজন  রাজাকার। আসামী পক্ষের দাবি ডালিম হোটেল মীর কাসেম আলী চালাতনা। আসামী পক্ষ যে ডকুমেন্ট জমা দিয়েছে তা দেখে এসেছেন? আসামী পক্ষের ডকুমেন্টে ডালিম হোটেলের যে বিবরন রয়েছে তা দেখেছেন?
এসময় নীরব থাকেন রেজিয়া সুলতানা চমন।
ট্রাইব্যুনালের আরো কিছু প্রশ্ন করার পর বলেন, আপনার আর্গুমেন্ট কি আমরা করে দেব? আপনার ফি তাহলে আমাদের দিয়ে দিয়ে দিয়েন।

এরপর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ যুক্তি পেশ করে বলেন, ডালিম হোটেল মীর কাসেম আলীর সিদ্ধান্ত এবং নেতৃত্বে পরিচালিত হত। কাজেই এখানে সংঘটিত সকল অপরাধের দায়ভার তার।
ট্রাইব্যুনাল প্রশ্ন করেন, পুরো সিস্টেম যে সে পরিচালনা করত তা কোথায় আছে? সাক্ষীদের বক্তব্যে এসেছে? অনেক সময় দেখা গেছে একজন ভিকটিম ধরে হোটেলে নিয়ে এসেছে তখন আসামী সেখানে উপস্থিত ছিলনা।
তুরিন আফরোজ বলেন, বিষয় হল সেখানে কোন সিস্টেম কাজ করেছে কি-না সেটা দেখা। যেহেতু মীর কাসেম আলীর সিদ্ধান্তে এবং নেতৃত্বে ডালিম হোটেল পরিচালিত হত তাই সব ঘটনার দায় তার ওপরই বর্তায়। মীর কাসেম আলী  উপস্থিত থাকলে ধরে আনা লোকজনের ওপর নির্যাতন বেড়ে যেত। তারা দেখাত যে সবকিছু ঠিকমত চলছে, তারা ঠিকমত কাজ করছে।
তিনি বলেন, ডালিম হোটেলের নির্যাতনের যে চিত্র আমরা পাই তাতে এর সাথে সামন্যতম সম্পৃক্ত যেকোন ব্যক্তির সাজা হওয়া উচিত। আর মীর কাসেম আলীর নেতৃত্বে যেহেতু পরিচালিত হত তাই তার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড দাবি করছি আমরা।





মঙ্গলবার, ৪ মার্চ, ২০১৪

মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে ১৩ ও ১৪তম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ

৪/৩/২০১৪
জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের ১৩ ও ১৪তম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ ১৩তম সাক্ষী ইঞ্জিনিয়ার মো: হাসান ও ১৪তম সাক্ষী ফয়েজ আহমেদ সিদ্দিকীর জবানবন্দী গ্রহণ করার পর আসামীপক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম তাদের জেরা করেন। এরপর আগামীকাল মঙ্গলবার রাষ্ট্রপক্ষের পরবর্তী সাক্ষীর জবনবন্দী গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।

জবানবন্দীতে মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করেননি সাক্ষী মো: হাসান। অপর দিকে ১৪তম সাক্ষী ফয়েজ আহমেদ সিদ্দিকী জেরায় বলেছেন, মীর কাসেম আলীর ব্যক্তিগত জিবন সম্পর্কে আমার কোন ধারণা নেই।

সাক্ষ্যগ্রহণের সময় মীর কাসেম আলীকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। তার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন মিজানুল ইসলাম, ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম, অ্যাডভোকেট আসাদ উদ্দিন ও অ্যাডভোকেট আবু বকর সিদ্দিক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম ও সুলতান মাহমুদ সিমন।

১৩তম সাক্ষী ইঞ্জিনিয়ার মো: হাসানের জবানবন্দী : জবানবন্দীতে সাক্ষী মো: হাসান বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন নভেম্বর মাসের শেষ দিকে একদিন সন্ধ্যা রাতে আমরা বাড়িতে বসে রেডিওতে খবর শুনছিলাম, এমন সময় বাড়িতে হুইসেলে ও লোকজনের দৌড়াদৌড়ির শব্দ শুনতে পাই। মুখে কাপড় বাধা অবস্থায় একদল লোক আমাদের বাড়ি ঘেরাও করে তল্লাসী করে। আমার চাচা বশিরুল হুদা সাহেবের ঘরবাড়ি তল্লাসী করে তিনজনকে আটক করে। এরা হলেন হাবিবুর রহমান, ইলিয়াস সওদাগর ও সানাউল্লাহ চৌধুরী। তাদের আটক করে ডালিম হোটেলস্থ আল-বদর ক্যাম্পে নিয়ে যায়। এই ঘটনার নয় বা দশদিন পর হাবিবুর রহমান একটি রিকসাযোগে বাড়িতে ফিরে আসে। ওইদিন আমরা তাকে খুব অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পাই। হাবিবুর রহমান বাড়িতে ফিরে আসার তিন বা চারদিন পর সানাউল্লাহ চৌধুরীও ফিরে আসেন। তখন তাকেও আমি বিদ্ধস্ত অবস্থায় দেখতে পাই। তাদের কাছ থেকে জানতে পারি উভয়কেই বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে ডালিম হোটেলস্থ আল-বদর ক্যাম্পে নির্যাতন করা হয়েছিল। এই আমার জবানবন্দী।

জবানবন্দী শেষে আসামীপক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম সাক্ষীকে জেরা করেন।

জেরা:
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে হাবিবুর রহমান কি করতেন?
উত্তর : ইলেকট্রিক সরঞ্জামের ব্যবসা করতেন।
প্রশ্ন : হাবিবুর রহমানের সাথে স্বাধীনতার পরেও কি আপনার যোগাযোগ ছিল?
উত্তর : ছিল।
প্রশ্ন : সানাউল্লাহ চৌধুরী ও ইলিয়াস সওদাগরের সাথেও কি আপনার যোগাযোগ ছিল?
উত্তর : ছিল।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে ডালিম হোটেল কার দখলে বা নিয়ন্ত্রণে ছিল সে সম্পার্কে আপনার কোন ধারণা ছিল?
উত্তর : না, ছিল না।
প্রশ্ন : হাবিবুর রহমান বা সানাউল্লাহ চৌধুরী ডালিম হোটেলে নির্যাতিত হওয়া সম্পার্কে আপনাকে কোন তথ্য দেয়নি।
উত্তর : সত্য নয়।

১৪তম সাক্ষীর জবানবন্দী ও জেরা: রাষ্ট্রপক্ষের ১৪তম সাক্ষী ফয়েজ আহমেদ সিদ্দিকী জবানবন্দীতে বলেন, ১৯৭১ সালের ২৪ নভেম্বর আমার দুলাভাই সাইফুদ্দিন খানকে পশ্চিম মাদারবাড়িস্থ আজিজ কলোনী বাসা থেকে গভীর রাতে অন্যান্যদের সাথে আল-বদর বাহিনী ধরে ডালিম হোটেলে নিয়ে যায়। আল-বদর কমান্ডার ছিলেন মীর কাসেম আলী। আমার বড়বোন নুরজাহান খানের কাছ থেকে আমি একথা শুনি। এ কথা শুনার পর আমি আমার মোটর সাইকেল নিয়ে ডালিম হোটেলের সামনে যাই। ওই সময় ডালিম হোটেলের সামনে থাকা নিরাপদ মনে না করে বাসায় চলে আসি। চট্টগ্রাম শহরে থাকাও নিরাপদ মনে না করায় পটিয়ার অন্তর্গত করলডাঙ্গা পাহাড়ে আমাদের গেরীলা ইউনিটের ক্যাম্পে চলে যাই। সেখানে আমি ’৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকি। ওইদিন রাতেই পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কর্মকান্ড নিস্ক্রিয় হয়ে যাওয়ার সংবাদ পাওয়ার পর আমি চট্টগ্রাম শহরের বাসায় চলে আসি। ’৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর খুব ভোরে শতর্কতার সাথে আমি ডালিম হোটেলে পৌছাই। সেখানে দেখতে পাই কিছু লোক জড়ো হয়ে ডালিম হোটেলে বন্দীদের উদ্ধারের প্রচেষ্টা করছে। ডালিম হোটেলের প্রত্যেকটি রুমে রুমে গিয়ে আমি দুলাভাইকে খুজেছিলাম কিন্তু দেখা পায়নি। ডালিম হোটেলে অবস্থান কালে আমি ১০০ বা ১৫০ জন বন্দীকে মুক্ত হতে দেখি। যাদের মধ্যে কদমতলী থানার জাহাঙ্গীর চৌধুরী, এমরান, হাজারী লেনের সুশিল কান্তি বর্ধন, ইস্কান্দার আলম চৌধুরী ও পটিয়ার নাসিরউদ্দিন চৌধুরী ছিলেন। ১৭ ডিসেম্বরের পর আমার দুলাভাই সাইফুদ্দিন খানের সাথে দেখা হয়। তিনি চট্টগ্রাম কারাগার থেকে মুক্তিলাভ করেন। তার কাছ থেকেই জানতেপারি ডিসেম্বর মাসের ২ বা ৩ তারিখে তাকে ডালিম হোটেল থেকে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়। ডালিম হোটেলে থাকা কালীন সময়ে তাকে অমানুসিক নির্যাতন করা হয়।  

জবানবন্দী শেষে আসামীপক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম সাক্ষীকে জেরা করেন।

জেরা:
প্রশ্ন : রেজা আহমেদ সিদ্দিকী আপনার কি হন, তিনি কি জিবিত আছেন?
উত্তর : বড় ভাই, তিনি জিবিত আছেন।
প্রশ্ন : আপনার বড়বোন সুরজাহান খান জিবিত আছেন?
উত্তর : জিবিত আছেন।
প্রশ্ন : আপনি কবে পড়ালেখা শেষ করেন?
উত্তর : আমি ১৯৬৮ সালে বিকম পাস করি।
প্রশ্ন : ’৭১ সালে আপনি কোন ব্যাংকের কোন শাখায় কর্মরত ছিলেন?
উত্তর : ইউবিএল ব্যাংকের খাতুনগঞ্জ শাখায়।
প্রশ্ন : খাতুনগঞ্জ থেকে ডালিম হোটেল কোন দিকে কত দূরে?
উত্তর : পশ্চিমে, তবে কতদূরে বলতে পারব না।
প্রশ্ন : আপনার জবানবন্দীতে বর্নিত দুই দিন ছাড়া অন্যকোন দিন কি ডালিম হোটেলে গিয়েছেন?
উত্তর : দুই দিন ছাড়া অন্যকোন দিন যায়নি।
প্রশ্ন : ডালিম হোটেলের মালিকানা সম্পার্কে আপনার কোন ধারণা আছে?
উত্তর : ধারণা নেই।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালের চট্টগ্রামের রাজাকার, শান্তি কমিটি ও আল-শামস সম্পার্কে কোন ধারণা আছে কি?
উত্তর : ধারণা আছে।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের রাজাকার বাহিনীর প্রধান কে ছিলেন?
উত্তর : বলতে পারব না।
প্রশ্ন : শান্তি কমিটির সেক্রেটারী কে ছিলেন?
উত্তর : বলতে পারব না।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালের চট্টগ্রামের জালাল চৌধুরী নামে কোন ব্যক্তির নাম শুনেছেন?
উত্তর : শুনিনি।
প্রশ্ন : শেখাপড়া শেষ করার পর ছাত্রইউনিয়নের সাথে আপনার আনুষ্ঠনিক কোন যোগাযোগ ছিল কি?
উত্তর : ছিল না।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে কমিউনিস্ট পার্টির প্রকাশ্যে কোন কর্মকান্ড ছিল কি?
উত্তর : ছিল না।
প্রশ্ন : সাইফুদ্দিন খান সাহেব কি করতেন?
উত্তর : কমিউনিস্ট পার্টি করতেন এবং তিনি ব্যাংকার ছিলেন।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে ডালিম হোটেলে যাওয়ার কথাটি আপনি আজ সর্বপ্রথম এই ট্রাইব্যুনালে বললেন।
উত্তর : সত্য।
প্রশ্ন : আপনি ছাত্র অবস্থায় ছাত্রইউনিয়নের কোন পদে ছিলেন?
উত্তর : চট্টগ্রাম শহরের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালের ৭ নভেম্বর মীর কাসেম আলী ইসলামী ছাত্রসংঘের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং এরপর থেকে তিনি ঢাকায় চলে আসেন।
উত্তর : মীর কাসেম আলীর ব্যক্তিগত জিবন সম্পার্কে আমার কোন ধারণা নেই। ৭ নভেম্বরের পর তিনি ঢাকায় চলে আসেন কি না বলতে পারব না।
প্রশ্ন : মীর কাসেম আলী আল-বদর কমান্ডার ছিলেন না।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : সাইফুদ্দিন খানকে আটক করে ডালিম হোটেল নিয়ে যাওয়া হয়নি?
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনি মীর কাসেম আলীকে চেনেন না।
উত্তর : সত্য নয়।

বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে আরো দুই সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ

২৫/২/২০১৪
জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের একাদশ ও দ্বাদশ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ একাদশ সাক্ষী নাজিম উদ্দিন ও দ্বাদশ সাক্ষী মো: হাসানের জবানবন্দী গ্রহণ করার পর আসামীপক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম তাদের জেরা করেন। এরপর আগামী ৩ মার্চ পরবর্তী সাক্ষীর জবনবন্দী গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।


সাক্ষ্যগ্রহণের সময় মীর কাসেম আলীকে ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় আনা হয়। তার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন মিজানুল ইসলাম, ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম ও অ্যাডভোকেট আবু বকর সিদ্দিক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম ও সুলতান মাহমুদ সিমন।

একাদশ সাক্ষী নাজিম উদ্দিনের জবানবন্দী (সংক্ষিপ্ত) : 
জবানবন্দীতে সাক্ষী নাজিম উদ্দিন বলেন, ১৯৭১ সালের ৩০ নভেম্বর আল-বদররা আমাদের বাড়ি ঘেরাও করে আমাকে নাজিরবাড়ি মসজিদের সামনে নিয়ে আসে। সেখানে আবু জাফর, আমার চাচাতো ভাই ছুটু মিয়া, জাকারিয়া, এস্কান্দারসহ আরো কয়েকজনকে দেখতে পাই। এরপর আল-বদররা আমাদের সবাইকে দুটি ট্রাকে উঠিয়ে ডালিম হোটেলের একটি কক্ষে নিয়ে যায়। আমাকে আটক রাখার আনুমানিক ২ ঘণ্টা পর আল-বদর সদস্যরা এসে পূর্বে থেকে আটক থাকা কয়েকজনকে বের করে নিয়ে যায়। আনুমানিক ২ ঘণ্টা পর আবার তাদের রুমে ফিরিয়ে আনে যাদের অনেকের শরীরে আমি অত্যাচারের চিহ্ন দেখতে পাই। আহত ব্যক্তিরা আমাকে বলল, ‘তোমাকেও এভাবে নির্যাতন করা হবে।’ একথা শুনে আমি ভয়ে কাঁদতে থাকি। নির্যাতিত ব্যক্তিরা আরো বলছিল এটা মীর কাসেম আলীর নেতৃত্বে একটি নির্যাতন কেন্দ্র। এর তিন বা চারদিন পর আমার বাবার তদবিরে আল-বদররা আমাকে ছেড়ে দিলে বাড়ি চলে আসি। 
জবানবন্দী শেষে আসামীপক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম সাক্ষীকে জেরা করেন।

জেরা:
প্রশ্ন : আপনাকে আটক করে ডালিম হোটেলে নিয়ে আসা পর্যন্ত আবু জাফর, ছুটু মিয়া, জাকারিয়া ও এস্কান্দার ছাড়া আটককৃত আর কাউকে আপনি চিনতে পেরেছেন।
উত্তর : আর কাউকে চিনতে পারিনি।
প্রশ্ন : আপনার চাচা এস্কান্দার আটক হওয়ার পূর্বে কি করতেন।
উত্তর : পাকিস্তানে থাকতেন, সেখানে কি করতেন তা জানতাম না।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালের পূর্বে মীর কাসেম আলীর সঙ্গে আপনার কোন পরিচয় ছিল?
উত্তর : পরিচয় ছিল না।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালের শান্তি কমিটি, রাজাকার, আল-বদর ও আস শামস বাহিনী সম্পার্কে আপনার কোন ধারণা আছে।
উত্তর : আমার কোন ধারণা নেই।
প্রশ্ন : আপনাকে আটক করার পর থেকে ডালিম হোটেলে আনা পর্যন্ত সময়ে পাকিস্তান আর্মি দেখেছিলেন কি?
উত্তর : দেখিনি।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে আপনাকে আটক করা হয়নি।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনি মীর কাসেম আলীকে জড়িয়ে অসত্য সাক্ষ্য দিলেন।
উত্তর : সত্য নয়।

দ্বাদশ সাক্ষীর জবানবন্দী ও জেরা: দ্বাদশ সাক্ষী মো: হাসান জবানবন্দীতে বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি চান্দগাঁও এনএমসি হাই স্কুলের কাস নাইনের ছাত্র ছিলাম এবং স্কুলের জিএস ছিলাম। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে নিজের জিবন রক্ষার্থে অন্যত্র আত্মগোপনে যাই এবং আগষ্ট মাসে চট্টগ্রামের সাবানঘাটার বাড়িতে ফিরে আসি। ১৯৭১ সালে ২৯ নভেম্বর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে আল-বদর বাহিনীর লোক আমাদের বাড়ি ঘেরাও করে এবং বাড়ি থেকে আমিসহ প্রফেসর মওলানা নূরুল ইসলাম, আমার বাবা মরহুম আবদুস ছাত্তার, চাচাতো ভাই নূরুল কুদ্দুস, নূরুল হাশেম, মো: ইব্রাহিম, আবদুল হাকিম, মো: ইদ্রিস, মো: শফিসহ ২০-২৫ জন লোককে বের করে এনএমসি স্কুলের সামনে নিয়ে আসে মীর কাসেম আলীর নেতৃত্বে এবং আমাদের সেখানে আল-বদরদের পাহারায় রেখে মীর কাসেম আলী চলে যায়। এনএমসি হাই স্কুলের সামনে দুটি ট্রাক দাঁড়ানো অবস্থায় ছিল যাতে আটককৃত লোকদের তোলা হয়। আমার বয়স কম থাকায় আমাকে আল-বদররা এনএমসি স্কুলের সামনে থেকে ছেড়ে দেয়। এছাড়াও আমার বাবা মওলানা আবদুস ছাত্তার এবং মওলানা নূরুল ইসলাম সাহেবকে একই জায়গা থেকে আল-বদররা ছেড়ে দেয়। ট্রাকে করে যে সমস্ত ব্যক্তিদের ধরে নিয়ে গিয়েছিল তারা স্বাধীনতার পরে মুক্তি পেয়ে আমাকে জানিয়েছিল যে, তাদেরকে মীর কাসেম আলীর নেতৃত্বে ডালিম হোটেলে আটকে রাখা হয়েছিল।
টু কোর্ট- প্রশ্ন: জবানবন্দীতে বর্নিত আটককৃত কুদ্দস এবং হাশেমকে কোথা থেকে মুক্তি দেয়া হয়?
          উত্তর: চট্টগ্রাম জেল খানা থেকে। ডালিম হোটেল থেকে তাদেরকে আল-বদররা জেল খানায় পাঠিয়েছিল।
আমি মীর কাসেম আলীকে ১৯৭০ সাল থেকে চট্টগ্রাম কলেজে অধ্যায়নরত অবস্থায় চিনতাম। উনি ইসলামী ছাত্রসংঘের চট্টগ্রাম কলেজ শাখার সভাপতি ছিলেন।
জেরা:
প্রশ্ন : যেসব আল-বদরদের ঘটনার সময় দেখেছেন তারা কি মুখোশ পরিহিত ছিল?
উত্তর : সবাই মুখোশ পরা ছিল না।
প্রশ্ন : আপনি এসএমসি হাই স্কুলে পড়ার আগে কোথায় পড়তেন?
উত্তর : জামিয়া আহমাদিয়া আলিয়া মাদ্রাসায়।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে এনএমসি স্কুল কোন থানার অধীনে ছিল?
উত্তর : পাঁচলাইশ থানার অধীনে।
প্রশ্ন : চট্টগ্রাম কলেজ কোন থানার অধীনে ছিল?
উত্তর : কোতয়ালি থানার অধীনে।
প্রশ্ন : আপনার বাড়ি থেকে চট্টগ্রাম কলেজ কোন দিকে কত দূরে অবস্থিত?
উত্তর : পশ্চিম ও দক্ষিণে চার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
প্রশ্ন : ১৯৭০-৭১ সালে চট্টগ্রাম কলেজের মেনন ও মতিয়া পন্থি ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ও সম্পাদক কে চিল?
উত্তর : জানা নেই।
প্রশ্ন : ১৯৭০ সালে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রসংসদের ভিপি কে ছিল?
উত্তর : জানা নেই।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে আপনি চট্টগ্রামে পাকিস্তান আর্মি ক্যাম্প দেখেছেন?
উত্তর : পাকিস্তান আর্মির কোন ক্যাম্প দেখিনি।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে আপনি বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর ও ফিরে আসার সময় একই রকম খারাপ অবস্থা ছিল।
উত্তর : হ্যাঁ।
প্রশ্ন : বাদামতলীর মাওলানা আবুল কাশেমের নাম শুনেছেন?
উত্তর : শুনেছি। তিনি ’৭১ সালে নিহত হন।
প্রশ্ন : তিনি কি ৮০ বছর উর্ধ্ব বৃদ্ধ লোক ছিলেন?
উত্তর : বৃদ্ধ লোক ছিলেন। তবে ৮০ বছর উর্ধ্ব ছিলেন কি না বলতে পারব না। তিনি মাদ্রাসায় চাকরি করতেন।
প্রশ্ন : পিস কমিটি, রাজাকার, আস শামস সম্পার্কে আপনার কোন ধারণা নেই।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : চট্টগ্রাম শহরের রাজাকার প্রধান জালাল চৌধুরীর নাম শুনেছেন?
উত্তর : শুনিনি।
প্রশ্ন : চট্টগ্রাম শহরের পিস কমিটির চেয়ারম্যান ও সেক্রেটারির নাম বলতে পারবেন?
উত্তর : বলতে পারব না।
প্রশ্ন : আপনি বর্নিত ডালিম হোটেলে গিয়েছেন?
উত্তর : হ্যাঁ, গিয়েছি।
প্রশ্ন : ওই হোটেলের কোন মালিককে আপনি চেনেন?
উত্তর : চিনি না।
প্রশ্ন : আপনি মতিউর রহমান ওরফে মইত্যা রাজাকারের নাম শুনেছেন?
উত্তর : শুনিনি।
প্রশ্ন : আপনাদের এলাকায় কোন আল-বদর ক্যাম্প ছিল?
উত্তর : ছিল না।
প্রশ্ন : কুদ্দস এবং হাশেমকে কোথায় নিয়ে আটক রাখা হয়েছিল তা আপনি জানতেন না।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : সৈয়দ মো: এমরানকে জেল খানায় আটক রাখা হয়েছিল এবং তাকে ডালিম হোটেল আটক রাখা হয়নি।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে ২৯ নভেম্বর আপনাকে আটক করা হয়নি বা আপনি ওইদিন মীর কাসেম আলীকে দেখেনি বা ডালিম হোটেল সম্পার্কে যে বর্ণনা দিয়েছেন তা তা অসত্য। 
উত্তর : সত্য নয়।

##

সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

নবম ও দশম সাক্ষীর সাক্ষ্য: সাক্ষী বললেন মীর কাসেম আলী ছাড়া অন্যকোন রাজাকার, আল-বদরকে চিনিনা

২৪/২/২০১৪
জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের নবম ও দশম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। আজ  আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ নবম সাক্ষী মো: সালাউদ্দিন ও দশম সাক্ষী মো: জাকারিয়ার জবানবন্দী গ্রহণ করার পর আসামীপক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম তাদের জেরা করেন। জেরায় দশম সাক্ষী মো: জাকারিয়া বলেন, আমি মীর কাসেম আলী ছাড়া অন্যকোন রাজাকার ও আল-বদরকে চিনিনা। 
জেরা শেষে আগামীকাল মঙ্গলবার পরবর্তী সাক্ষীর জবনবন্দী গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।


নবম সাক্ষী মো: সালাউদ্দিনের জবানবন্দী (সংক্ষিপ্ত) : 
জবানবন্দীতে সাক্ষী সালাউদ্দিন বলেন, ১৯৭১ সালের ৩০ নভেম্বর আল-বদররা আমাকে এবং আমার চাচা মো: জাকারিয়া, জেঠাতো ভাই নাজেম, জাফর ও চাচা এস্কান্দারকে ধরে ডালিম হোটেলে নিয়ে যায়। ডালিম হোটেলের একটি কে আমাদের ঢুকিয়ে বাইরে থেকে তারা মেরে চলে যায়। আটক করার দু’তিন দিন পর আল-বদররা দরজা খুলে আমাদের এলোপাতাড়ি পেটায়। এর চার বা পাঁচদিন পর কেউ একজন আমাদের কে প্রবেশ করে আমার নাম ধরে ডাকে। ডাক শুনে সামনে এলে লোকটি আমার চোখ বেধে ডালিম হোটেলের উপরে নিয়ে যায় এবং আমাকে বলে, আমাদের কমান্ডার মীর কাশেম আলী তোমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। এরপর আমী মীর কাসেম আলীর সামনে গেলে সে আমাকে জিজ্ঞাসা করে বল কোথায় অস্ত্র আছে এবং মুক্তিবাহিনীরা কোথায় আছে। না বললে তোমাকে কেটে টুকরো টুকরো করে কর্নফুলী নদীতে ভাসিয়ে দেব। আমি কোন তথ্য না দেয়ায় মীর কাশেম আলীর নির্দেশে আল-বদরা আমাকে নির্যাতন করতে থাকে। 
আটকের এক পর্যায়ে আমার বাবা জনৈক আজিম সওদাগরের সহযোগিতায় আমাকে ছাড়িয়ে আনতে ডালিম হোটেলে যান। আমাকে আবার নিচ তলা থেকে হোটেলের ওপর তলায় নিয়ে আসে। তখন মীর কাশেম আলী বাবাকে দেখিয়ে বলেন, উনি কি তোমার বাবা? আমি হ্যাঁ সূচক উত্তর দিলে মীর কাশেম আলী বলেন, তোমার বাবার জন্য তুমি এবার বেঁচে গেলে। এরপর আমি বাবার সাথে বাড়িতে চলে আসি।
জবানবন্দী শেষে আসামীপক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম সাক্ষীকে জেরা করেন।
জেরা:
প্রশ্ন : আপনি স্বাধীনতার আগে ও পরে মীর কাসেম আলীকে দেখেননি।
উত্তর : হ্যাঁ।
প্রশ্ন : ডকে (আসামীর কাঠগড়ায়) একজন ব্যক্তি আছে আপনি তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে ট্রাইব্যুনালে এসেছেন।  
উত্তর : সত্য।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের পর থেকে আটক হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আপনি রাজাকার ও আল-বদর বাহিনীর সদস্য রাকা ছিল বা তারা কোথায় থাকতো সে সম্পার্কে আপনার কোন ধারণা ছিল?
উত্তর : রাজাকার ও আল-বদর বাহিনীর নাম শুনলেও তারা কোথায় থাকত সে সম্পার্কে আমার কোন ধারণা ছিল না।
প্রশ্ন : মতিউর রহমান ওরফে মইত্যা গুন্ডার নাম শুনেছেন?
উত্তর : শুনেছি।
প্রশ্ন : আপনি কখন থেকে ডালিম হোটেলের নাম শুনেছেন?
উত্তর : পাকিস্তান আমল থেকে।
প্রশ্ন : ডালিম হোটেলের তৎকালীন মালিক চন্দ্র মোহন নাথের নাম শুনেছেন?
উত্তর : শুনিনি।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে মইত্যা গুন্ডা ডালিম হোটেল দখল করে ছিল, এটা আপনি শুনেছেন।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনার চাচা এস্কান্দারকে কি কারণে চাকরি থেকে চলে এসছিল?
উত্তর : জানি না।
প্রশ্ন : আপনাকে ডালিম হোটেলে আটক করা হয়নি বা নির্যাতন করা হয়নি।
উত্তর : সত্য নয়।

দশম সাক্ষীর জবানবন্দী ও জেরা:
মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে দশম মো: জাকারিয়া জবানবন্দীতে বলেন, ১৯৭১ সালের রমজানের ঈদের ৫/৭ দিন পর আমি বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলাম। হঠাৎ ভোররাতে ঘরের দরোজায় কড়া নাড়ার শব্দ পাই। দরোজা খুলে দুজন সশস্ত্র আল-বদর সদস্য দেখতে পাই। তারা আমাকে ধরে আমার ভাতিজা জাফর, সালাউদ্দিন, নাজিম এবং জেঠাতো ভাই এস্কান্দারসহ আরো অনেককে প্রথমে এমএমসি স্কুল মাঠ, তারপর ট্রাকে করে ডালিম হোটেলে নিয়ে যায়।
আটকের দু’তিনদিন পর আমাকে হোটেলের উপর তলায় নিয়ে যায়। দোতলায় নিয়ে আমাকে আল-বদররা মুক্তিবাহিনী এবং তাদের অস্ত্র-শস্ত্র কোথায় এই তথ্য দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। আমি অপারগতা প্রকাশ করলে তারা আমার উপর নির্যাতন করতে থাকে। এপর্যায়ে আরেকটি লোক এসে একই তথ্য জানতে চাইল। অপারগতা প্রকাশ করলে আমাকে আবারও পেটাতে বলে। তখন আল-বদররা আবার নির্যাতন শুরু করে। এরপর আমার নিজের নিয়ে যায়। যে আল-বদররা আমাকে এতক্ষোণ যাবৎ নির্যাতন করেছিল তারা বলাবলি করছিল যে লোকটি পরবর্তীতে এসে আবার পেটাও বলে উক্তি করেছিল তার নাম মীর কাসেম আলী। এর দু’এক দিন পর আমার বাবা ও চাচা মান্নান সওদাগর এসে আল-বদর ক্যাম্প থেকে আমাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।
জবানবন্দী শেষে আসামীপক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম সাক্ষীকে জেরা করেন।

জেরা:
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে রাজাকার ও আল-বদররা আপনাদের এলাকায় না এলাকার বাইরে ছিল?
উত্তর : বলতে পারব না।
প্রশ্ন : যে আল-বদররা আপনাকে ধরে নিয়ে যায় তারা কি মুখোশ পরা ছিল?
উত্তর : হ্যাঁ, মুখোশ পরা ছিল।
প্রশ্ন : আপনি মীর কাসেম আলীকে যুদ্ধের আগে চিনতেন?
উত্তর : না, চিনতাম না।
প্রশ্ন : স্বাধীনতা যুদ্ধের পরেও দেখেননি।
উত্তর : দেখিনি।
টু কোর্ট: প্রশ্ন : আপনি মীর কাসেম আলীকে কবে কোথায় দেখেছেন?
          উত্তর : ডালিম হোটেলে আটক অবস্থায় দেখেছি। 
প্রশ্ন : আপনি মীর কাসেম আলী ছাড়া অন্য কোন রাজাকার বা আল-বদরকে চেনেন না।
উত্তর : সত্য, মীর কাসেম আলী ছাড়া অন্য কোন রাজাকার, আল-বদরকে চিনি না।
প্রশ্ন : আপনার বর্ণিত নাজির বাড়ির দিক থেকে আসা আল-বদররাও কি মুখোশ পরা ছিল? 
উত্তর : হ্যাঁ।
প্রশ্ন : আপনাদের আটক করার সময় আল-বদরদের সাথে কি পাকিস্তান আর্মি ছিল?
উত্তর : হ্যাঁ, ছিল।
প্রশ্ন : এনএমসি স্কুলের সামনে আল-বদরদের সাথে কি পাকিস্তান আর্মি দেখেছেন?
উত্তর : হ্যাঁ, দেখেছি। তারা ডালিম হোটেল পর্যন্ত গিয়েছিল। 
প্রশ্ন : শান্তি কমিটি সম্পার্কে আপনার কোন ধারণা আছে?
উত্তর : শান্তি কমিটি সম্পার্কে আমার কোন ধারণা নেই।
প্রশ্ন : আপনাদের এলাকায় কোন রাজাকার ক্যাম্প দেখেছেন?
উত্তর : না, দেখিনি।
প্রশ্ন : যুদ্ধের সময় আপনি কি বাড়ি থেকে চকবাজারে নিয়মিত যাতায়াত করতে?
উত্তর : হ্যাঁ।
প্রশ্ন : আপনি ডালিম হোটেল কখন থেকে চিনতেন?
উত্তর : যুদ্ধের আগে থেকে চিনতাম।
প্রশ্ন : আপনাকে ডালিম হোটেলের দোতলায় কি একবারই নেয়া হয়?
উত্তর : এক বারই নেয়া হয়।
প্রশ্ন : আপনার জবানবন্দীতে বর্ণিত আটক ও নির্যাতন সম্পার্কে এ পর্যন্ত কোন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেননি।
উত্তর : সত্য।
প্রশ্ন : ’৭১ সালে আপনাকে ডালিম হোটেলে আটক রাখা বা মীর কাসেম আলীর উপস্থিতিতে নির্যাতন করা বিষয়ে যা বলেছেন তা শেখানো মতে বলেছেন।
উত্তর : সত্য নয়।

রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে অষ্টম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ

২৩.০২.১৪
জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের অষ্টম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ সাক্ষী ইস্কন্দার আলম চৌধুরীর জবানবন্দী গ্রহণ করার পর আসামীপক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম তাকে জেরা করেন। এরপর আগামীকাল সোমবার পরবর্তী সাক্ষীর জবনবন্দী গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।

জবানবন্দী (সংক্ষিপ্ত): জবানবন্দীতে সাক্ষী বলেন, আমি ১৯৭১ সালে পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে মৌরিপুর এয়ারবেজে গ্রাউন্ড ইঞ্জিনিয়র হিসেবে কর্মরত ছিলাম। ’৭১ সালের নভেম্বর মাসের প্রথম দিকে এক সুযোগে পালিয়ে ঢাকায় আসি। ওই সময় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপন্ন থাকা সত্ত্বেও অনেক প্রতিকূলতা অতিক্রম করে আমি চট্টগ্রামের নিজ বাড়িতে আসি। এর পরের দিন আমার বড়ভাই মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও তৎকালীন নগর আওয়ামী লীগের সদস্য মরহুম শামসুল আলম চৌধুরীর গোপন আস্তানায় থাকি।
১৯৭১ সালের ২৯ নভেম্বর আল-বদর বাহিনী ও পাকিস্তান আর্মি আনুমানিক ভোর ৪টার দিকে আমাদের বাড়ি ঘেরাও করে ফেলে। ওই সময় আমাকে আটক করে অন্যান্য আটককৃতদের সাথে ট্রাকে করে আল-বদরের নির্যাতন ক্যাম্প ডালিম হোটেলে নিয়ে আসে। এরপর ট্রাক থেকে সকলকে নামিয়ে ডালিম হোটেলের নিচতলায় ছোট্ট একটি কক্ষে ঢোকানো হয়। ওই কক্ষে নিয়ে আসার দু’একদিন পর আমাকে চোখ ও হাত বেধে হোটেলের দ্বিতীয় তলায় একটি রুমে নিয়ে যায়। রুমে যাওয়ার পর কোন একজন লোক বলল, ‘খান কোথায়? উত্তরে কেউ একজন মীর কাসেম আলী সাহেব আমি আসছি।’ এরপর একজন আমার কক্ষে প্রবেশ করে উপর্যুপরি কিলঘুষি ও লাথি মেরে ফোরে ফেলে দেয় এবং ইলেট্রিক ওয়ার দিয়ে পেটাতে শুরু করে। এক পর্যায়ে নির্যাতনকারীদের একজন আমার চোখের বাঁধন খুলে দেয়। চোখ খুলে যাওয়ার পরে আমি মীর কাসেম আলীসহ আরেকজনকে দেখতে পাই। যিনি সম্ভবত পূর্বে উল্লেখিত খান হতে পারে। এরপর আমাকে ডালিম হোটেলের দ্বিতীয় তলা থেকে নীচতলায় আনা হয়। ১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর ডালিম হোটেলে লোকজনের আনাগোনা কমে এসছে বলে বুঝতে পারি। পরদিন ১৬ ডিসেম্বর সকালে স্থানী লোকজন ডালিম হোটেলে এসে যে কক্ষে আটক ছিলাম তার দরজা ভেঙ্গে আমাকে উদ্ধার করে।

জেরা:
জবানবন্দী শেষে আসামীপক্ষের আইনজীবী সাক্ষীকে জেরা করেন।
প্রশ্ন : আপনি ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের আগে পর্যন্ত মীর কাসেম আলীকে দেখেছেন?
উত্তর : না, দেখিনি।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আপনি স্বচোখে মীর কাসেম আলীকে দেখেছেন?
উত্তর : না, দেখিনি।
প্রশ্ন : আজ ডকে (আসামীর কাঠগড়ায়) একজন ব্যক্তি উপস্থিত আছে?
উত্তর : হ্যাঁ।
প্রশ্ন : মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য আজ এই ট্রাইব্যুনালে এসেছেন?
উত্তর : হ্যাঁ।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে মীর কাসেম আলী কোথায় থাকতেন সে সম্পার্কে আপনার ধারণা আছে?
উত্তর : কোথায় থাকতেন সে সম্পার্কে ধারণা নেই।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালের নভেম্বর মাসের প্রথম দিকে আপনি কি পাকিস্তানের মৌরিপুর এয়ারবেজ থেকে পালিয়ে যান?
উত্তর : হ্যাঁ। 
প্রশ্ন : আপনি পাকিস্তান বিমান বাহিনীর চাকরি থেকে অব্যাহতি নেয়ার কোন আবেদন করেছেন?
উত্তর : না, করিনি।
প্রশ্ন : পাকিস্তানের মৌরিপুর এয়ারবেজ থেকে করাচী এয়ারপোটের দূরত্ব কত?
উত্তর : আনুমানিক ১০-১২ কিলোমিটার।
প্রশ্ন : বিমানবাহিনী থেকে কেউ পালিয়ে গেলে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরওয়ানা জারি করা হয়।
উত্তর : সত্য।
প্রশ্ন : মুক্তিযুদ্ধের সময় আপনি পাকিস্তানের মৌরিপুর থেকে কিভাবে ঢাকায় আসেন?
উত্তর : বিমানযোগে এসেছি।
প্রশ্ন : কোন বিমানে এসেছেন?
উত্তর : সম্ভবত পিআইএ এর বিমানযোগে ঢাকায় এসেছি।
প্রশ্ন : আপনি কোন পথে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম গেছেন?
উত্তর : আমি সড়কপথ, নৌপথ ও রেলপথ ব্যবহার করেছিলাম।
প্রশ্ন : মুক্তিযুদ্ধের সময় সড়কপথ ও রেলপথ বিদ্ধস্ত ছিল কি?  
উত্তর : হ্যাঁ। তবে নৌপথ বিদ্ধস্ত ছিল না। 
প্রশ্ন : মুক্তিযুদ্ধের সময় আপনি কিভাবে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যান?
উত্তর : ঢাকা থেকে প্রথমে সদরঘাট হয়ে নৌপথে চাঁদপুর পৌছাই।
প্রশ্ন : আপনার বাড়ি চট্টগ্রামের কোথায়?
উত্তর : চট্টগ্রাম পাচলাইশ থানার অধীনে ছিল।
প্রশ্ন : সৈয়দ মো: এমরানের ঘাটিটি পাচলাইশ থানার অধীনে ছিল।
উত্তর : হ্যাঁ।
প্রশ্ন : আপনি কখন সৈয়দ মো: এমরানের ঘাটিতে গিয়ে ছিলেন?
উত্তর : কোন সময় গিয়েছিলাম তা মনে নেই। 
প্রশ্ন : সৈয়দ মো: এমরান পাকিস্তান আর্মিদের বিরুদ্ধে কোন সম্মুখ যদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিলেন কি?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের কোথায় কোথায় আল-বদর ক্যাম্প ছিল?
উত্তর : ডালিম হোটেলে আল-বদর ক্যাম্প ছিল আমি নিশ্চিত। তবে চকবাজারে আল-বদর ক্যাম্প ছিল বলে শুনেছি।
প্রশ্ন : আপনি ১৯৭১ সালে করাচী থেকে ঢাকায় এসে চট্টগ্রামে নিজ বাড়িতে যাওয়ার পথে পাকিস্তান আমি ও আল-বদরদের টহল দিতে দেখেছেন?
উত্তর : হ্যাঁ, দেখেছি।
প্রশ্ন : আপনি আটক হওয়ার আগে আপনার দেখা আল-বদরদের নাম বলতে পারবেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : আপনি ডালিম হোটেলে আটক অবস্থায় আল-বদরদের সাথে পাকিস্তান আর্মিদের দেখেছেন?
উত্তর : দু’একজন পাকিস্তন আর্মি দেখেছি।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে জালাল আহমেদ চৌধুরী নামে কোন রাজাকারের নাম শুনেছেন? 
উত্তর : শুনিনি।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে মতিউর রহমান নামের রাজাকারের নাম শুনেছেন?
উত্তর : শুনিনি, তবে কোরবানীগঞ্জের মইত্যা গুন্ডা নামে একজনের নাম শুনেছি।
প্রশ্ন : আপনি জানেন মইত্যা গুন্ডা ১৯৭১ সালে ডালিম হোটেল দখল করেছিল।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনি কি জানেন ডালিম হোটেলের মালিক কে ছিল?
উত্তর : আমি জানার চেষ্টা করিনি।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে মইত্যা গুন্ডা ডালিম হোটেল দখল করেছিল।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে আপনি চাকরি থেকে পালায়ন করে আসার কারণে আপনাকে গ্রেফতার করে জেলে আটক রাখা হয়।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : সৈয়দ মো: এমরান ৮০ বছরের অধিক বয়স্ক আবুল কাসেমকে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে জেলখানায় বন্দি ছিলেন বা ১৬ ডিসেম্বর তারিখে তিনি আপনার সাথে জেল থাকা অবস্থা থেকে মুক্তি পান। 
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনাকে ডালিম হোটেলে আটক রেখে নির্যাতনের ঘটনা সম্পর্কিত জবানবন্দী আপনি যা যা বলেছেন তা এই ট্রাইব্যুনালে প্রথম বললেন।
উত্তর : হ্যাঁ।
প্রশ্ন : দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ডালিম হোটেল দখল রাখার অভিযোগে রাখার অভিযোগে কোন মামলা হয়ে ছিল কি না?
উত্তর : জানা নেই।
প্রশ্ন : আপনাকে আটক করে ডালিম হোটেলে নিয়ে যাওয়া, সেখানে মীর কাসেম আলীর উপস্থিতিতে নির্যাতন করার বিষয়ে আপনি অসত্য সাক্ষ্য দিয়েছেন।
উত্তর : সত্য নয়।

##

বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে আরো দুই সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ

১৯/২/২০১৪
জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনের সাবেক চেয়ারম্যান (এমসি) মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের ষষ্ঠ ও সপ্তম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ ষষ্ঠ সাক্ষী মৃদুল কুমার দে ও সপ্তম সাক্ষী প্রদীপ তালুকদারের জবানবন্দী গ্রহণ করার পর আসামীপক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম তাদের জেরা করেন। এরপর আগামী রোববার পরবর্তী সাক্ষীর জবনবন্দী গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।

সাক্ষ্যগ্রহণের সময় মীর কাসেম আলী ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় বসে তা দেখেন। তার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন মিজানুল ইসলাম, ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম, অ্যাডভোকেট আবু বকর সিদ্দিক ও অ্যাডভোকেট আসাদ উদ্দিন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম ও সাইফুল ইসলাম।

ষষ্ঠ সাক্ষী মৃদুল কুমার দের জবানবন্দী: আমার নাম মৃদুল কুমার দে। আমার বর্তমান ঠিকানা, ৬৫ হাজারী লেন। কোতয়ালী থানা, চট্টগ্রাম। ১৯৭১ সালে বয়স ছিল ১৬ বছর। ’৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর দোসর রাজাকার, আল-বদর ও আস-শামস চট্টগ্রামের হাজারী লেনে নানাবিধ অত্যাচার নির্যাতন চালায়। তখন হাজারী লেনে দুই থেকে তিন শত পরিবার বসবাস করত। ওই ধ্বংসযজ্ঞের কারণে অধিকাংশ লোকজন এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়। ’৭১ সালের নভেম্বর মাসের শেষের দিকে টুনটু সেন ও রনজিত দাশকে আল-বদররা ধরে নিয়ে যায়। তাদের ধরে নিয়ে যাওয়ার একদিন পর জানতে পারি মীর কাসেম আলীর নেতৃত্বে আল-বদররা এসে ধরে নিয়ে ডালিম হোটেলে বদর বাহিনীর ক্যাম্পে নির্যাতন করে।
’৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর সকাল বেলা দেশমুক্ত হওয়ার অবস্থায় ডালিম হোটেলের আশপাশে লোক দেখতে পাই। সেখানে আমি রনজিত দাশের স্ত্রী প্রভা রানি দাশকে দেখতে পাই। তিনি কেঁদে কেঁদে আমাকে বলে তার স্বামী ও টুনটু সেনকে এখনও খুজে পায়নি। তখন আমি সেখানে দাঁড়ানো অবস্থায় যারা বন্দি ছিলেন তাদের কাছ থেকে শুনতে পাই সম্ভবত টুনটু সেন ও রনজিত দাশকে মীর কাসেম আলীর লোকেরা মেরে ফেলেছে। টুনটু সেন ও রনজিত দাশকে খ্্ুঁজে পাওয়া যায়নি।

জেরা:
প্রশ্ন : আপনি কতদিন থেকে হাজারী লেনে বাস করছেন?
উত্তর : জ্ঞান হওয়ার পর থেকে ’৭১ সাল পর্যন্ত এবং এখনো সেখানে আছি।
প্রশ্ন : ’৭১ সালে হাজারী লেনে আপনার বয়সী ৪০ বা ৫০ জন বেঁচে আছে। 
উত্তর : সত্য নয়। আমার জানা মতে দুইজন বেঁচে আছে।
প্রশ্ন : আপনার এলাকায় ’৭১ সালে যে টিএন্ডটি ভবন ছিলে তা চিনতেন?
উত্তর : হ্যা, চিনতাম।
প্রশ্ন : সেখানে আর্মি ক্যাম্প ছিল।
উত্তর : সত্য।
প্রশ্ন : ২৬ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার কতদিন পর আর্মি ক্যাম্প হয়েছিল?
উত্তর : তা আমি বলতে পারব না।
প্রশ্ন : আপনাদের এলাকার শান্তি কমিটির কেউ ছিল কি?
উত্তর : ছিল না।
প্রশ্ন : আপনাদের এলাকায় ’৭১ সালে ১৪টি স্থায়ী হিন্দু পরিবার ছিল।
উত্তর : সত্য।
প্রশ্ন : ডালিম হোটেল কখন থেকে চেনেন?
উত্তর : ’৭১ সালের আগের বছর থেকে দেখেছি।
প্রশ্ন : ডালিম হোটেলের মালিক বা তার পরিবারের কাউকে চেনেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : আপনি ’৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের পূর্বে ডালিম হোটেলে গিয়েছেন?
উত্তর : যায়নি।
প্রশ্ন : ’৭১ সালে আপনাদের এলাকার অজিত বনিক নামে কেউ ছিলেন?
উত্তর : এই নামে কেউ ছিলেন কিনা স্মরণ নেই।
প্রশ্ন : ’৭১ সালে আপনাদের এলাকার রনজন নাথ, বাবুল কান্তি নাথ ও চন্দ্র মোহন নামে কাউকে চিনতেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : মীর কাসেম আলীর বাড়ি কোথায় বা কি করতেন তা আপনি জানেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : টুনটু সেন ও রনজিত দাশকে কখন, কে এবং কিভাবে ধরে নিয়ে য়ায় তা কেউ আপনাকে বলেছে?
উত্তর : কেউ বলেনি।
প্রশ্ন : আপনি ৬৫ হাজারী লেনে থাকেন না?
উত্তর : ৬৫ হাজারী লেনে থাকি না। আমার বর্নিত হাজারী লেন ১৫৮/১৬৭ তে রূপান্ত্রিত হয়েছে।
প্রশ্ন : ১৬ ডিসেম্বর সকালে আপনি ডালিম হোটেলে গিয়েছিলেন এই কথাটি আপনি প্রথম এই ট্রাইব্যুনালে বলছেন।
উত্তর : সত্য।
প্রশ্ন : মীর কাসেম আলীর নির্দেশে টুনটু সেন ও রনজিত দাশকে ধরে নিয়ে যায়নি।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনি শেখানো মতে অসত্য জবানবন্দী দিয়েছেন।
উত্তর : সত্য নয়।

সপ্তম সাক্ষীর জবানবন্দী ও জেরা:
মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে ষষ্ঠ সাক্ষীর জেরা শেষে সপ্তম সাক্ষী প্রদীপ তালুকদারের জবানবন্দী গ্রহণ করা হয়। জবানবন্দীতে প্রদীপ তালুকদার বলেন, ’৭১ সালে আমার আনুমানিক বয়স ছিল ৬ বা ৭ বছর। আমি লেখা পড়া জানি না। ’৭১ সালে আমার মামা টুনটু সেনের বাড়িতে থাকতাম। ’৭১ সালে একদিন মামা টুনটু সেনের সঙ্গে শিব মন্দির মোড়ে গিয়েছিলাম। সেখানে ঘোরাফেরারত আল-বদররা আমার মামাকে ডালিম হোটেলে ধরে নিয়ে যায়। তখন আমার দিদা (নানী) রসবালা ডালিম হোটেলে যান এবং মামাকে ছাড়ানোর চেষ্টা করেন। আল-বদররা বলে কমান্ডার না আসা পর্যন্ত ছাড়া যাবে না। আমার দিদা কমান্ডারের নাম জিজ্ঞাসা করলে তারা বলে তার নাম মীর কাসেম আলী। আমার মামার সঙ্গে রনজিত দাশ ও আরো একজন মুসলমানকে আল-বদররা ধরে নিয়ে যায়। আমার দিদা একদিন ডালিম হোটেলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মামা জানালা দিয়ে দেখে তাকে ডাকে এবং এক পর্যায়ে ডালিম হোটেলের তৃতীয় তলা থেকে লাফ দিয়ে পাশের টিনের চালের উপর পড়ে। আমার দিদা তখন তাকে একটি চাটাই দিয়ে জড়িয়ে লুকিয়ে রাখে। কাসেম আলী তখন বলে ওকে ধর। এক পর্যায়ে মামাকে ধরে আবার ডালিম হোটেলে নিয়ে যায় এবং অত্যাচার করে মেরে ফেলে। এই ঘটনাগুলো আমি দিদার কাছ থেকে শুনেছি।

জবানবন্দী শেষে আসামীপক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম সাক্ষীকে জেরা করেন।
প্রশ্ন : আপনার মামা টুনটু সেন ’৭১ সালে কি বিবাহিত ছিল?
উত্তর : হ্যাঁ।
প্রশ্ন : আপনার মামীর নাম কি?
উত্তর : মনে নেই।
প্রশ্ন : আপকি কি ’৭১ সালে আপনার মামা ও মামীর সাথে এক বাড়িতে ছিলেন?
উত্তর : এক বাড়িতে ছিলাম না।
প্রশ্ন : আপনার মামা-মামী কি এক বাড়িতে থাকতেন?
উত্তর : হ্যাঁ, এক বাড়িতে থাকতেন।
প্রশ্ন : ’৭১ সালে আপনি আপনার পিতা মাতার সঙ্গে এক বাড়িতে থাকতেন।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : ’৭১ সালে আপনার মা কোথায় থাকতেন?
উত্তর : পটিয়ায় গ্রামের বাড়িতে।
প্রশ্ন : আপনার নানার নাম কি?
উত্তর : ভীম বালি সেন।
প্রশ্ন : আপনার নানার বাড়ি কোথায় ছিল?
উত্তর :ডালিম হোটেলের পাশে একেবারে লাগোয়া।
প্রশ্ন : ডালিম হোটেলের বর্তমান মালিক কে?
উত্তর : বলতে পারব না।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে আপনার সাথে খেলা করত এমন কারো নাম বলতে পারবেন?
উত্তর : এমন কারো নাম মনে নেই।
প্রশ্ন : আপনার মামাকে ধরে নেয়ার সময় ওই এলাকায় অনেক লোকজন ছিল।
উত্তর : উল্লেখযোগ্য লোক ছিল না।
প্রশ্ন : আপনার মামা টুনটু সেনকে আটকের আগেই ওই এলাকার অনেক দোকানপাট ও বাড়িঘর পাকিস্তান আর্মিরা পুড়িয়ে দিয়েছিল।
উত্তর : সত্য।
প্রশ্ন : আপনি যে আল-বদর রাজাকারদের দেখেছেন তাদের কারো নাম বলতে পারবেন?
উত্তর : বলতে পারব না।
প্রশ্ন : ডালিম হোটেলে যে রাজাকার ও আল-বদররা থাকত তাদেরকে আপনি নিজ চোখে দেখেছেন?
উত্তর : আমি নিজ চোখে দেখিনি।
প্রশ্ন : যে আল-বদরা আপনার মামাকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল তাদের আগে দেখেছেন বা নাম জানেন?
উত্তর : আগে দেখিনি এবং নামও জানি না।
প্রশ্ন : আপনি হাজারী লেন এলাকায় বাস করেন না এবং আপনি ওই এলাকার ভোটার না।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনি শেখানো মতে অসত্য সাক্ষ্য দিয়েছেন।
উত্তর : সত্য নয়।

মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে চতুর্থ ও পঞ্চম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ

১৮/২/২০১৪
জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনের সাবেক চেয়ারম্যান (এমসি) মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের চতুর্থ ও পঞ্চম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। আজ  আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ চতুর্থ সাক্ষী সুনীল কান্তি বর্ধনকে আসামীপক্ষের জেরা শেষে পঞ্চম সাক্ষীর শিবু দাশের সাক্ষ্যগ্রহণ করা করা হয়। দুই সাক্ষীকেই জেরা করেন মীর কাসেম আলীর আইনজীবী মিজানুল ইসলাম। জেরা শেষে আগামীকাল বুধবার রাষ্ট্রপক্ষের ষষ্ঠ সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।

আজ জেরার সময় মীর কাসেম আলীকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। তার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন মিজানুল ইসলাম, ব্যারিস্টার তানভির আহমেদ আল আমিন, ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম এবং অ্যাডভোকেট আবু বকর সিদ্দিক ও অ্যাডভোকেট আসাদ উদ্দিন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম, সাইফুল ইসলাম ও নুরজাহান মুক্তা।

চতুর্থ সাক্ষী সুনীল কান্তি বর্ধনের জেরা গতকাল মঙ্গলবার শুরু হয় । আজ তার জেরা সম্পন্ন হয়।

আজকের  জেরা
প্র্রশ্ন: ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর ডালিম হোটেলে যে কক্ষে আপনাকে বন্দী করে রাখা হয়েছিল সেখানে পূর্ব থেকে আটককৃত বন্দিদের আপনি চিনতেন?
উত্তর: না, চিনতাম না। তবে তাদের দেখলে চিনব।
প্রশ্ন: সৈয়দ মোহাম্মদ এমরান, ডিসি অফিসের কর্মচারী সানাউল্লাহ চৌধুরী, তার ভগ্নিপতি হাবিবুর রহমান ও এসকান্দার আলীকে চিনতেন?
উত্তর: চিনতাম না।
প্রশ্ন: আপনারা চট্টগ্রামের হাজারী লেনের গলিতে আসার আগে না পরে ডালিম হোটেল তৈরি হয়েছিল?
উত্তর: বলতে পারব না।
প্রশ্ন: ডালিম হোটেলের বর্তমান মালিক কে এবং সেখানে এখন কারা বসবাস করে বলতে পারবেন?
উত্তর: বলতে পারব না এবং এখন ওই হোটেলে কারা বসবাস করে তাও বলতে পারব না।
প্রশ্ন: আপনি মীর কাসেম আলীকে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর গতকাল প্রথম দেখলেন।
উত্তর: সত্য।
প্রশ্ন: ১৯৭১ সালে রনজিত দাশের পেশা কি ছিল?
উত্তর: ভাঙ্গা বোতল কেনা বেচা করতেন এবং চায়ের দোকান ছিল।
প্রশ্ন: টুনটু সেন ও রনজিত দাশের পিতার নাম বলতে পারবেন?
উত্তর: বলতে পারব না। তবে রনজিত দাশের পিতার নাম ছিল রবীন্দ্র দাশ।
প্রশ্ন: আপনি কি মুক্তিযোদ্ধা?
উত্তর: হ্যাঁ, আমি মুক্তিযোদ্ধা ছিলাম।
প্রশ্ন: আপনি কোথায় মুক্তিযুদ্ধ করেছেন?
উত্তর: আমি মুক্তিযুদ্ধ করিনি। মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন সহযোগীতা করেছি।
প্রশ্ন: আল-বদর পাকিস্তান আর্মি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত একটি গোপন সংগঠন ছিল।
উত্তর: জানা নেই।
প্রশ্ন: স্বাধীনতার পর আপনার উপর নির্যাতনের বিষয়টি আপনি পুলিশ, জেলা প্রশাসন বা মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে জানাননি।
উত্তর: সত্য।
প্রশ্ন: টুনটু সেন ও রনজিত দাশকে হত্যার তাদের স্ত্রীদের সাথে কথপোকথনের বিষয়টি গতকালই প্রথম ট্রাইব্যুনালে বলেছেন।
উত্তর: সত্য।
প্রশ্ন : দোস্ত মোহাম্মদ বিল্ডিংয়ের মালিক কে ছিল?
উত্তর: বলতে পারব না।
প্রশ্ন : বর্তমান মালিক কে বলতে পারবেন?
উত্তর :  বর্তমান মালিককে তাও বলতে পারব না।
প্রশ্ন: ১৯৭১ সালে আপনাকে চাকতাই খালের নিকট থেকে আটক করা হয়নি বা দোস্ত মোহাম্মদ বিল্ডিংয়ে নিয়ে যাওয়া বা ডালিম হোটেলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়নি।
উত্তর: সত্য নয়।
প্রশ্ন: আপনি শেখানো মতে মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিলেন।
উত্তর: সত্য নয়।
প্রশ্ন: টুনটু সেন ও রনজিত দাশ হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে আপনার জ্ঞান নেই।
উত্তর: জ্ঞান নেই, তবে শুনেছি।
প্রশ্ন: ’৭১ সালে মীর কাসেম আলী কোন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিলেন না।
উত্তর: সত্য নয়।

পঞ্চম সাক্ষীর জবানবন্দী ও জেরা :
মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের চতুর্থ সাক্ষীর জেরা শেষে পঞ্চম সাক্ষী শিবু দাশের জবানবন্দী গ্রহণ করা হয়। জবানবন্দীতে শিবু দাশ বলেন, আমার নাম শিবু দাশ। পিতা শহীদ রনজিত দাশ। মার নাম প্রভা রানী দাশ। বর্তমান বয়স ৪৬ বছর। ’৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আনুমানিক বয়স ছিল তিন বছর। ১৯৭১ সালের নভেম্বর মাসে আমার বাবা শহীদ হন। আমরা তিন ভাই বোন। ভাই বোনদের মধ্যে আমি তৃতীয়। ছোট বেলায় বাবার স্মৃতি মনে নেই। বড় হয়ে মার কাছ থেকে শুনেছি- আল-বদর বাহিনী বাবাকে হত্যা করেছে। ’৭১ সালে বাবা শিশি বোতল বিক্রি করত ও তার একটি চায়ের দোকান ছিল। ’৭১ সালের নভেম্বর মাসে মীর কাসেমের নির্দেশে বাবাকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে ডালিম হোটেলে আটক রেখে হত্যা করা হয়। এছাড়া টুনটু সেনকেও ধরে নিয়ে হত্যা করা হয়। ডালিম হোটেলে ’৭১ সালে বদর বাহিনীর আড্ডাখানা ছিল। সেখান থেকে অনেক লোকদেরকে নিয়ে মেরে ফেলত।  

জবানবন্দী শেষে আসামীপক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম সাক্ষীকে জেরা করেন।

জেরা:
প্রশ্ন: আপনার বড় বোনের নাম ও বয়স কত?
উত্তর: কৃষ্ণা দাশ। বয়স আনুমানিক ৫৫ বছর।
প্রশ্ন: টুনটু সেন ’৭১ সালে কোথায় থাকত?
উত্তর: হাজারী লেনে আমাদের প্রতিবেশি (ভাড়াটে) ছিল। 
প্রশ্ন: আপনাদের হাজারী লেনের বাড়ি থেকে ডালিম হোটেলের দূরত্ব কত?
উত্তর: প্রায় ১০০ গজ।
প্রশ্ন: ডালিম হোটেলে এখন কে থাকে?
উত্তর: বলতে পারব না। আমি এখন হাজারী লেনে থাকি না।
প্রশ্ন: আপনার মা কি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পান?
উত্তর: না।
প্রশ্ন: হাজারী লেন এলাকায় ’৭১ সালে যাদের বয়েস ১৫ বা ১৬ বছর ছিল বর্তমানে এমন ৩০ থেকে ৪০ জন এখনও বেঁচে আছেন?
উত্তর: আমার জানা নেই।
প্রশ্ন: টুনটু সেনের ছেলে মেয়ে আছে কি?
উত্তর: টুনটু সেনের কোন ছেলে মেয়ে নেই এবং স্ত্রী অন্যত্র বিয়ে করেছেন।
প্রশ্ন: ’৭১ সাল থেকে আপনার হাজারী লেন এলাকা ত্যাগ করা পর্যন্ত ডালিম হোটেলে কারা বসবাস করত জানেন?
উত্তর: কারা বসবাস করত আমি তাদের চিনি না এবং কে বসবাস করত তাও জানিনা।
প্রশ্ন: হাজারী লেন এলাকার কোন আল-বদর সদস্যর নাম বলতে পারবেন?
উত্তর: না পারব না।
প্রশ্ন: আপনার বাবাকে ধরে নেয়ার সময় অনেক লোক দেখেছে?
উত্তর: অনেক লোক দেখেছে কি না বলতে পারব না।
প্রশ্ন: আপনার মাও অপনার বাবাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় দেখেনি?
উত্তর: সত্য নয়।
প্রশ্ন: হাজারী লেনের অজিত কুমার বনিক নামে কোন স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে চেনেন?
উত্তর: চিনি না।
প্রশ্ন: ’৭১ সালে হাজারী লেনে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় স্বাধীনতার পর কোন মামলা হয়েছিল কি না?
উত্তর: জানি না।
জেরার গ্রহণের এক পর্যায়ে সাক্ষী বলেন, মাথা ঠিক নেই। অতীতের কথা ভুলে যাই।
এরপর আইনজীবী প্রশ্ন করেন, আপনার মস্তিস্কের সমস্যার কারণে আপনার স্মরণশক্তি লোপ পেয়েছে। জবাবে সাক্ষী বলেন, সত্য নয়।
প্রশ্ন: আপনার পিতা ও টুনটু সেন হত্যার বিষয়ে আপনার মায়ের উদ্বৃতি তিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা অসত্য এবং আপনার মা এধরণের কোন কথা বলেননি।
উত্তর: সত্য নয়।
প্রশ্ন: আপনি শেখানো মতে টুনটু সেন ও আপনার পিতা হত্যার ঘটনায় মীর কাসেম আলীকে জড়িয়ে অসত্য সাক্ষ্য দিলেন।
উত্তর: সত্য নয়।

সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে চতুর্থ সাক্ষীর জবানবন্দী

১৭/২/২০১৪
জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনের সাবেক চেয়ারম্যান (এমসি) মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের চতুর্থ সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণ করা হয়েছে। আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ চতুর্থ সাক্ষী সুনীল কান্তি বর্ধন ওরফে দুলালের জবানবন্দী গ্রহনের পর তাকে জেরা শুরু করেন মীর কাসেম আলীর আইনজীবী মিজানুল ইসলাম। জেরা অসমাপ্ত অবস্থায় আগামীকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত মূলতবি করা হয়েছে।

সাক্ষ্যগ্রহণের সময় মীর কাসেম আলী ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় বসে সাক্ষ্যগ্রহণ দেখেন। তার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম, ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম, অ্যাডভোকেট আসাদউদ্দিন ও অ্যাডভোকেট আবু বকর সিদ্দিক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম ও সুলতান মাহমুদ সিমন।

জবানবন্দী (সংক্ষিপ্ত): আমার নাম সুনীল কান্তি বর্ধন ওরফে দুলাল। ১৯৭১ সালের নভেম্বরের শেষের দিকে চট্টগ্রাম শহরের অবস্থা আরো খারাপ হলে একদিন আমি আমার স্ত্রী বাচ্চা ও কাজের লোকসহ চাকতাই থেকে বাড়ী যাওয়ার উদ্দেশ্যে নৌকাতে উঠছিলাম। তখন সশস্ত্র আল-বদররা আমাকে দেখে বলে এই যে মুক্তিযোদ্ধা পাওয়া গেছে। এ সময় তারা আমাকে গালিগালাজ করে চোখ বেঁধে রিকসায় তুলে। আল-বদররা চামরা গুদাম এলাকায় দোস্ত পাঞ্জাবি বিল্ডিংয়ের আল-বদর ক্যাম্পে নিয়ে আমাকে প্রচুর মারধোর করে। এরপর আমাদেরকে যথারীতি আটক রাখা হয় এবং বিভিন্নভাবে মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার করা হয়। ১৯৭১ সালের ১৩ ডিসেম্বর আমি লক্ষ্য করলাম দোস্ত মোহাম্মদ বিল্ডিংয়ের বাল্ড খুলে ফেলা হচ্ছিল। কামরুল নামে এক আল-বদর আমাকে মাঝে মধ্যে খাবার পানি ইত্যাদি দিয়ে সাহায্য করতো। কখনও সে চোখের বাঁধনও খুলে দিত। সে আমাকে ঐ দিন অর্থাৎ ১৩ ডিসেম্বর জানায় তোকে তো বাঁচাতে পারলাম না আজকে অথবা আগামী কাল তোদেরকে ডালিম হোটেেেল নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে মীর কাশেম আলী আছে সে তোদেরকে বাচতে দিবে না। দোস্ত মোহাম্মদ বিল্ডিংয়ে রাত্রি যাপনের পর আনুমানিক ভোর ৫টার দিকে আমাদেরকে নিচে নামানো হয় এবং সেখানে বন্দীদেরকে চোখ বাঁধা অবস্থায় একটি ট্রাকে ওঠানো হয এবং এই ট্রাকে করে আমাদেরকে ডালিম হোটেলে নিয়ে আসা হয়। ডালিম হোটেলে আসার পর ট্রাক থেকে লাথি মেরে মেরে নামানো হয়। সেখানে আমাকে অন্য বন্দীদের সঙ্গে একটি রুমে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে মরী কাসেম আলী ছিলেন। তিনি আমাদেরকে জিজ্ঞেস করেন তোমরা কে কি জান বল। আমরা যখন কোন তথ্যই দিচ্ছিলাম না তখন মীর কাসেম  আলী বলেন তোদের সবাইকে মেরে ফেলা হবে। এমতাবস্থায় আমিসহ মোট ৬ জনকে ডালিম হোটেলের একটি কক্ষে বন্দী করা হয় সেখানে আগে থেকেই আরো কয়েকজন বন্দী ছিলেন। বাইরে থেকে কক্ষটি তালা মেরে আনুমানিক সকাল ১০টার দিকে তারা তাদের যার যার কর্মস্থলে চলে যায়।

১৪ ডিসেম্বর রাত্রে আমরা আর কারো সাড়া শব্দ পাইনি। আমরা নিজেরা নিজেদের চোখের বাঁধন খুলে ফেলে ঘুমানোর চেষ্টা করি। ১৫ ডিসেম্বর সকাল থেকে আর কারো কোন সাড়া শব্দ পাইনি। বেলা ২ ঘটিকার সময় আমরা আমাদের কক্ষের একটি জানালা খুলি কিন্তু কারো কোন সাড়া না পেয়ে জানালা বন্ধ করে দিলাম। ১৬ ডিসেম্বর ভোরবেলা স্থানীয় লোকজন ও আমার প্রতিবেশী বন্ধু-বান্ধবরা আমাদের কক্ষের দরজা কুড়াল দিয়ে ভেঙ্গে আমাদের মুক্ত করে নিয়ে যায়। আমরা মুক্ত হয়ে আসার পর টুনটু সেন এবং রনজিত দাসের স্ত্রলা  আমাকে বলে যে, আপনারা তো মুক্ত হয়ে আসলেন তারা কোথায়? তখন আমি বলি আল-বদররা তাদেরকে মেরে ফেলেছে। তখন আমি তাদের কাছ থেকে আরো জানতে পারি মীর কাসেম আলীর নির্দেশে আল-বদররা চোখ বেঁধে টুনটু সেন ও রনজিত দাসকে  ধরে নিয়ে গিয়েছিল। তারা আর ফিরে আসেনি।

জেরা:
প্রশ্ন: ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের হাজারী লেনের অজিত কুমার বনিক নামে কাউকে চিনতেন?
উত্তর: না, এখনও চিনিনা। তবে হাজারী লেনের অজিত দাসকে আমি চিনতাম।
প্রশ্ন: ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের এক সপ্তাহের মধ্যে পাক সেনারা লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ শুরু করে।
উত্তর:  এক সপ্তাহের মধ্যে পাকিস্তান আর্মির অত্যাচার শুরু হয়নি। তবে আমরা গ্রামে চলে যাওয়ার সপ্তাহ বা দশ দিন পর হয়েছে।
প্রশ্ন: পাকিস্তান আর্মির লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ শুরু করার পর ওই এলাকায় কোন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক থাকত না।
উত্তর: সত্য নয়।
প্রশ্ন: বাবুল কান্তি নাথ নামে হাজারী লেনের কাউকে চিনতেন?
উত্তর: না। হাজারী লেনে ১৯৭১ সালে ১৪ বা ১৫টি পরিবার বসবাস করত। আর ভাড়াটিয়া ছিল শ’ খানেকের বেশি। বর্তমানে প্রায় ১৪ হাজার লোক বসবাস করে।
প্রশ্ন: ১৯৭১ সালের মার্চের পর আপনারা গ্রামের বাড়িতে চলে যাওয়ার পর আর কখনো হাজারী লেনের বাসায় এসেছেন?
উত্তর: দু’এক বার গিয়েছি।
প্রশ্ন: ১৯৭১ সালে আপনাদের বাসা থেকে ডালিম হোটেল দেখা যেত, মাঝখানে কোন বাড়ীঘর ছিল না। 
উত্তর: সত্য।
প্রশ্ন: ১৯৭১ সালে ডালিম হোটেলের মালিক কে ছিল?
উত্তর: একজন নাথ বাবু। তার পুরো নাম বলতে পারব না। ছেলে মেয়ে কয়জন তাও বলতে পারব না।
প্রশ্ন: আপনাকে যখন দোস্ত মোহাম্মদ বিল্ডিং থেকে ডালিম হোটেলে আনা হয় তখন আপনার সঙ্গে হাজারী লেনের কেউ ছিল কি ?
উত্তর: না।
প্রশ্ন: ১৯৭১ সালের কত আগে থেকে অপনারা হাজারী লেনের বাড়িতে বসবাস করেন?
উত্তর: ১৯৫২ সাল থেকে।
প্রশ্ন: যে দোকানী ১৯৭১ সালে বন্দী অবস্থায় আপনাদের বিড়ি সিগারেট ও মুড়ি দিয়েছিল সেই দোকানীর নাম বলতে পারবেন?
উত্তর: সেই দোকানীর নাম আমি বলতে পারব না।
প্রশ্ন: আপনি কি আপনার কর্মস্থলে ডালিম হোটেলের পাশ দিয়ে যেতেন?
উত্তর: না।
প্রশ্ন:১৯৭১ সালের ডালিম হোটেলের কোন কর্মচারীর নাম বলতে পারবেন?
উত্তর: না, বলতে পারব না।
প্রশ্ন: ডালিম হোটেলের পাশে টিএন্ডাট কোলোনি ছিল এবং সেখানে পাকিস্তান আর্মি অবস্থান করত। 
উত্তর: হ্যাঁ।
প্রশ্ন: হাজারী লেনের জাহাঙ্গীর চৌধুরীকে চিনতেন?
উত্তর: চিনতাম, তিনি বর্তমানে মৃত।
প্রশ্ন: জাহাঙ্গীর চৌধুরীর বাড়ী পাকিস্তান আর্মি বা অন্য কেউ কি পুড়িয়ে ছিল?
উত্তর: না, পাকিস্তান আর্মি বা অন্যকেউ পোড়ায়নি।
প্রশ্ন: জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর স্ত্রী পারভিন চৌধুরীকে চেনেন?
উত্তর: চিনিনা। জাহাঙ্গীর চৌধুরী বিয়ে করেছেন এক বড়–য়া মেয়েকে।

সোমবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

ডালিম হোটেল ঘটনার দিন ছাড়া আগে কখনো মীর কাসেম আলীকে দেখিনি-জেরায় সাক্ষী

দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনের সাবেক চেয়ারম্যান (এমসি) ও জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের তৃতীয় সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণ করা হয়েছে গতকাল। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ তৃতীয় সাক্ষী নাসিরুদ্দিন চৌধুরীর জবানবন্দী গ্রহণ করার পর তাকে জেরা শুরু করেন আসামীপক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম। আজ সাক্ষীর জেরা সম্পন্ন হয়েছে।
জেরায় সাক্ষী বলেছেন ডালিম হোটেলে ঘটনার দিন ছাড়া আগে কখনো মীর কাসেম আলীকে দেখিনি ।

সাক্ষ্যগ্রহণের সময় মীর কাসেম আলী ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় বসে সাক্ষ্য গ্রহণ দেখেন। তার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম, ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম এবং অ্যাডভোকেট আবু বকর সিদ্দিক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম ও সুলতান মাহমুদ সিমন।

জবানবন্দী (সংক্ষিপ্ত): জবানবন্দীতে সাক্ষী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বয়স ছিল ১৭ বছর। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় আমি চট্টগ্রাম শহরে আমি ও আমার সহযোদ্ধাদের সাথে যুক্ত হয়ে যুদ্ধ করতে থাকি। তখন আমি শহরের আন্দরকিল্লার নাজির আহমেদ চৌধুরী রোডে আওয়ামী লীগ নেতা আজম নাসির উদ্দিন চৌধুরীর বাড়িতে আশ্রয় গ্রহণ করি। সেই বাড়ির নিকটে ছিল ডালিম হোটেল। যেটা ছিল আল-বদর বাহিনীর হেড কোয়াটার। আমার গোপন আস্থানার খবর কোনভাবে ফাঁস হয়ে যায়। ১৯৭১ সালের নভেম্বর মাসের শেষ দিকে এক গভীর রাতে আল-বদর বাহিনীর সদস্যরা এসে আমার আশ্রয়স্থল ঘেরাও করে ফেলে এবং আমাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে চোখ বেধে মারতে মারতে ডালিম হোটেলে নিয়ে যায়। একটি অন্ধকার কক্ষে আমাকে ঢুকিয়ে মারধোর করতে থাকে এবং আমার কাছ থেকে জানতে চায় অস্ত্রসস্ত্র এবং আমার সহযোদ্ধারা কোথায়। আমার কাছ থেকে কথা বের করতে না পেরে আল-বদর সদস্যরা কক্ষ থেকে বের হয়ে যায়। যাওয়ার আগে আমার চোখের বাঁধন খুলে দিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর মীর কাসেম আলী অন্যান্য আল-বদর সদস্যদের নিয়ে আমার কক্ষে প্রবেশ করে। মীর কাসেম আলী আমাকে দেখিয়ে তার সঙ্গে আসা আল-বদর সদস্যদের বলে ওর কাছ থেকে কি এখনো কিছু আদায় করতে পারনি? ওকে আরো পেটাও’। এরপর আল-বদররা তাকে লাঠি, লোহার রড, ইলেকট্রিক তার এসব দিয়ে ইচ্ছেমতো পেটাতে থাকে। এক পর্যায়ে মীর কাশেম আলী নিজেই আমাকে জিজ্ঞাসা করে তোমার সহযোগীদের নাম কি? তাদের সেন্টার কোথায়, তাদের অস্ত্র কোথায়। আমি বলতে থাকি, আমি মুক্তযোদ্ধা নই। আমার কাছে কোন অস্ত্র নেই, আমি কিছু জানিনা। তখন তারা আমাকে পেটাতে পেটাতে রক্তাক্ত করে কক্ষ থেকে বের হয়ে যায়।
৬ ডিসেম্বর আল-বদর সদস্যদের মুখে বলাবলি হচ্ছিল চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে বম্বিং হয়েছে। সেখানে মীর কাসেম আলী আহত হয়েছে। এই কথাটি যখন প্রচারিত হয় তখন আল-বদররা আমাকে ও অন্যান্য বন্দীদের উপর অত্যাচারের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
’৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যার দিকে আমরা অনুমান করতে পারি হোটেল নিস্তব্ধ। আল-বদরদের আনাগোনা চিল না। পরদিন ১৬ ডিসেম্বর সকাল বেলা দরজা ভেঙ্গে গেলে দেখি বাইরে অনেক লোক। তারা বলছিলেন আল-বদররা পলিয়ে গেছে আপনারা বেরিয়ে আসুন। তখন আমরা যারা বন্দী ছিলাম তারা বাইরের লোকদের সহায়তায় বেরিয়ে আসি।
জবানবন্দি শেষে আসামীপরে আইনজীবী মিজানুল ইসলাম সাক্ষীকে জেরা শুরু করে।

জেরা:
প্রশ্ন: আপনার জবানবন্দী মতে ৬ ডিসেম্বর মীর কাসেম আলী আহত হওয়ার পর থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডালিম হোটেলে তাকে কখনো দেখেছেন?
উত্তর: আমি তাকে আমার কক্ষে কখনো দেখিনি।
প্রশ্ন: আপনি কি একই কক্ষে বন্দী ছিলেন, না বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কক্ষে আপনাকে রাখা হত?
উত্তর: ডালিম হোটেলের যে কক্ষে আমাকে প্রথম আটকে রাখা হয় সেখানেই সব সময় আমাকে থাকতে হত। তবে বিভিন্ন রুমে নিয়ে আমাকে নির্যাতন করা হত।
প্রশ্ন: আপনার বর্ণিত নির্যাতন ’৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত কি ছিল?
উত্তর: হ্যাঁ, ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিল।
এ পর্যন্ত জেরার পর গতকাল জেরা মুলতবি করা হয়।


৩/২/২০১৪
ডালিম হোটেল ঘটনার দিন ছাড়া আগে কখনো মীর কাসেম আলীকে দেখিনি-জেরায় সাক্ষী

জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনের সাবেক চেয়ারম্যান (এমসি) মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের তৃতীয় সাক্ষী নাসিরুদ্দিন চৌধুরীকে আসামীপক্ষের জেরা শেষ হয়েছে। আজ  আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ সাক্ষীকে জেরা করেন মীর কাসেম আলীর আইনজীবী মিজানুল ইসলাম।
জেরায় সাক্ষী বলেন, ১৯৭১ সালে ডালিম হোটেলে ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার আগে কখনো তিনি মীর কাসেম আলীকে দেখননি এবং ১৯৭১ সালের আগে মীর কাসেম আলীর সাথে তার কোন পরিচয়ও ছিলনা।

জেরা শেষে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষের চতুর্থ সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।
 জেরার সময় মীর কাসেম আলীকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। তার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন মিজানুল ইসলাম, ব্যারিস্টার তানভির আহমেদ আল আমিন, ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম এবং অ্যাডভোকেট আবু বকর সিদ্দিক ও অ্যাডভোকেট আসাদ উদ্দিন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম, সুলতান মাহমুদ সিমন ও নুরজাহান মুক্তা।

জেরা:
প্রশ্ন: আপনি কখন থেকে ডালিম হোটেল চেনেন?
উত্তর: স্বাধীনতার দুই বা তিন বছর পূর্ব থেকে মহামায়া নামে ওই হোটেলটি দেখেছি।
প্রশ্ন: ডালিম হোটেলের মালিক হিন্দু সম্প্রদায়ের ছিলেন।
উত্তর: সত্য। এই হোটেলটির নাম ’৭১ সালের পূর্বে ছিল মহামায়া হোটেল।
প্রশ্ন: ডালিম হোটেলের মালিক বা তার পরিবারের সদস্যদের নাম বলতে পারবেন?
উত্তর: না।
প্রশ্ন: ১৯৭১ সালের আগে ওই ডালিম হোটেলের নিকটবর্তী ইসলামী ছাত্রসংঘের কোন অফিষ ছিল কি না?
উত্তর: জানা নেই।
প্রশ্ন: আপনি ভারতে যাওয়ার পূর্বে ডালিম হোটেলে কোন ক্যাম্প হয়নি।
উত্তর: সত্য।
প্রশ্ন: ভারতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ডালিম হোটেল ভবনটির মূল মালিকের দখলে ছিল কি?
উত্তর: বলতে পারব না।
প্রশ্ন: ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের পর ডালিম হোটেলটির মালিক বা তার পরিবারের সদস্যদের সাথে কি আপনার দেখা হয়েছে?
উত্তর: দেখা হয়নি।
প্রশ্ন: বর্তমানে ডালিম হোটেলের মালিকানায় কে আছেন বলতে পারবেন?
উত্তর: বলতে পারব না।
প্রশ্ন: কখন থেকে ডালিম হোটেল টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
উত্তর: কখন থেকে বলতে পারব না।
প্রশ্ন: এ মামলার সাক্ষী জামালউদ্দিন যিনি একজন লেখক, তাকে চেনেন?
উত্তর: চিনি।
প্রশ্ন: ডালিম হোটেলের নির্যাতিত আবদুল জব্বার নামে কোন ব্যক্তির নাম শুনেছেন?
উত্তর: শুনিনি।
প্রশ্ন: আনোয়ারার জামাল চৌধুরীকে আপনি চেনেন?
উত্তর: চিনতাম। তিনি শান্তি কমিটি বা রাজাকার বাহিনীর প্রধান ছিলেন।
প্রশ্ন: মতিউর রহমান নামে কোন রাজাকারের নাম শুনেছেন?
উত্তর: শুনিনি।
প্রশ্ন: ১৯৭১ সালে ডালিম হোটেলটি মতিউর রহমান রাজাকারের দখলে ছিল। 
উত্তর: আমার জানা নেই।
প্রশ্ন: ডালিম হোটেল ভবনের মালিক দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ভবন দখল করে রাখা ও মহিলাদের শ্লীলতাহানি করার অভিযোগে ওই রাজাকার মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিল।
উত্তর: সত্য নয়।
প্রশ্ন: আপনাকে আটক করে ডালিম হোটেলে নিয়ে যাওয়া বা সেখানে অত্যাচর করা বা সেখানে মীর কাসেম আলীর সাহেবকে দেখার কথা অসত্য। 
উত্তর: সত্য নয়।
প্রশ্ন: আপনি মীর কাসেম আলীকে কতদিন যাবৎ চিনতেন?
উত্তর: ডালিম হোটেল ছাড়া তার আগে অন্য কোথা মীর কাসেম আলী সাহেবকে আগে দেখিনি বা চিনতাম না।
প্রশ্ন: আপনি মীর কাসেম আলী সাহেবকে এই ট্রাইব্যুনালে দেখার আগে কখনোই দেখেননি।
উত্তর: সত্য নয়।
প্রশ্ন: আপনি কখন থেকে সাংবাদিকতা শুরু করেন?
উত্তর: ১৯৮০ সাল থেকে।
প্রশ্ন: বর্তমানে কোন পত্রিকায় কাজ করেন?
উত্তর: আমি দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক।
প্রশ্ন: আপনার মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকা সম্পার্কে কখনো কোন স্মৃতিচারণমূলক বা সম্পাদকীয় লিখেছেন?
উত্তর: না।
প্রশ্ন: দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে মামলা করার প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করেছেন?
উত্তর: না।
প্রশ্ন: মীর কাসেম আলীর সঙ্গে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত আপনার কোন পরিচয় ছিল না।
উত্তর: সত্য।
প্রশ্ন: ১৯৭১ সালের পূর্বে বা পারে আপনি ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন?
উত্তর: কোন ছাত্রসংগঠনের নেতা ছিলাম না, ছাত্রলীগের কর্মী ছিলাম।
প্রশ্ন: বিএলএফ মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে গঠিত হয়?
উত্তর: সত্য নয়।
প্রশ্ন: বিএলএফ এর প্রধান কে ছিলেন?
উত্তর: প্রধান কেউ ছিল না। সারা দেশে চারজন আঞ্চলিক প্রধান ছিলেন। শেখ ফজলুল হক মনি, সিরাজুল আলম খান, আবদুর রাজ্জাক ও তোফায়েল আহমেদ। 
প্রশ্ন: বিএলএফ এর ট্রেনিং কোথায় হয়েছিল?
উত্তর: আসাম রাজ্যের হাফনং-এ।
প্রশ্ন: বিএলএফ এর সঙ্গে গণবাহিনী ও মুক্তিবাহিনী একই সঙ্গে ট্রেনিং নিয়েছিল?
উত্তর: সত্য নয়।
প্রশ্ন: আজম নাসিরউদ্দিন সাহেব কি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন?
উত্তর: না।
প্রশ্ন: আজম নাসিরউদ্দিন সাহেবের বাড়ি ও ডালিম হোটেল কি একই মহল্লায়?
উত্তর: একই মহল্লায় কি না জানিনা, তবে ওই বাড়ি থেকে ডালিম হোটেলের দূরত্ব ৬০০ থেকে ৭০০ গজ।
প্রশ্ন: হাজারি গলি হচ্ছে ডালিম হোটেলের পিছনে?
উত্তর: হ্যাঁ।
প্রশ্ন: হাজারি গলিটি একটি হিন্দু অধ্যুসিত এলাকা।
উত্তর: সত্য।
প্রশ্ন: এওয়াই খালেদ নামে কোন ব্যক্তিকে চেনেন?
উত্তর: না।
প্রশ্ন: নবী চৌধুরী ওরফে মাহমুদুন নবী চৌধুরীকে চেনেন?
উত্তর: নবী চৌধুরীকে আমি চিনতাম। তিনি শান্তিকমিটি চট্টগ্রামের প্রধান ছিলেন। আমার জানা মতে তিনি পিডিপি করতেন।
প্রশ্ন: জসিম, টুনটু সেন এবং রনজিত দাশকে আপনি চেনেন বা দেখে ছেন?
উত্তর: আমি তাদেরকে দেখিনি এবং আটক হওয়ার আগেও তাদের নাম শুনিনি।
প্রশ্ন: আপনি ওই তিনজনের নাম ট্রাইব্যুনালে প্রথম বলছেন?
উত্তর: ট্রাইব্যুনালে প্রথম বললাম কিনা সঠিক করে বলতে পারছি না, আগেও বলতে পারি।
প্রশ্ন: এই মামলার সাক্ষী সৈয়দ মো: এমরান ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আপনার সাথে ডালিম হোটেল থেকে মুক্তি পাননি। তিনি চট্টগ্রাম কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন? 
উত্তর: সত্য নয়।
প্রশ্ন: আপনি শোনা মতে মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে অসত্য সাক্ষ্য দিয়েছেন?
উত্তর: সত্য নয়।



বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০১৪

মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় সাক্ষীর জেরা

 ২৩.১.১৪
দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনের সাবেক চেয়ারম্যান (এমসি) ও জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের দ্বিতীয় সাক্ষী মো: সানাউল্লাহ চৌধুরীকে আসামীপক্ষের জেরা শেষ হয়েছে। আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ সাক্ষীকে জেরা করেন মীর কাসেম আলীর পক্ষে আইনজীবী মিজানুল ইসলাম। দ্বিতীয় সাক্ষীর জেরা শেষে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষের তৃতীয় সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে। 
সাক্ষ্যগ্রহণের সময় মীর কাসেম আলীকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। তিনি আদালতের কাঠগড়ায় বসে সাক্ষ্য গ্রহণ দেখেন। তার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন মিজানুল ইসলাম, ব্যারিস্টার তানভির আহমেদ আল আমিন, মীর আহমদ বিন কাসেম, আসাদ উদ্দিন ও আবু বকর সিদ্দিক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম ও সুলতান মাহমুদ সিমন।

জেরা:
প্রশ্ন: ডালিম হোটেল কখন থেকে চিনতেন?
উত্তর: স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে থেকে।
প্রশ্ন: ডালিম হোটেল ভবনের কোন কোন তলা আবাসিক হোটেল ছিল?
উত্তর: দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা।
প্রশ্ন: ডালিম হোটেলের মালিক কে ছিল?
উত্তর: বলতে পারব না।
প্রশ্ন: ডালিম হোটেলের আশপাশে কোন বসতি ছিল কি না?
উত্তর: বসতি ছিল কি না বলতে পারব না, তবে দোকানপাট ছিল।
প্রশ্ন: টন্টুসেন, জসিম ও রঞ্জিত দাসকে ডালিম হোটেলে দেখার আগে চিনতেন কি না?
উত্তর: চিনতাম না।
প্রশ্ন: ডালিম হোটেলের আটক থাকা অবস্থায় নবী চৌধুরীর নাম শুনেছেন কি না?
উত্তর: শুনিনি। তবে পিডিপি নেতা নবী চৌধুরীকে আমি চিনতাম।
প্রশ্ন: তিনি কি স্বাধীনতাবিরোধী ছিলেন? 
উত্তর: বলতে পারব না।
প্রশ্ন: রাজাকার কমান্ডার মতিউর রহমান ওরফে মইত্যা গুন্ডার নাম শুনেছেন?
উত্তর: শুনিনি।
প্রশ্ন: ডালিম হোটেলে আপনি কোন পাকিস্তান আর্মি বা বিহারীদের দেখেছেন? 
উত্তর: দেখিনি।
প্রশ্ন: আটক অবস্থায় আপনাকে ডালিম হোটেলের কোন কোন রুমে রাখা হত?
উত্তর: নির্দিষ্ট কোন রুমে রাখত না, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রুমে রাখা হত।
প্রশ্ন: বাবুলকান্তি নাথ নামে কাউকে চেনেন?
উত্তর: এ নামে কাউকে চিনি বলে মনে পড়ছে না।
প্রশ্ন: ১৯৭১ সালের ১৮ ডিসেম্বর থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত রাজাকাদের বিরুদ্ধে অনেক মামলা হয়।
উত্তর: রাজাকার ও আল-বদরদের বিরুদ্ধে মামলা হয় বলে শুনেছি।
প্রশ্ন: পেশকারের দায়িত্ব পালনকালে পাকিস্তান আর্মির বিরুদ্ধে কোন মামলা করতে দেখেছেন?
উত্তর: আমার নজরে আসেনি।
প্রশ্ন: ১৯৭২ সালে ডালিম হোটেলের মালিক মইত্যা গুন্ডা ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে হোটেল ভবন দখলে রাখা এবং সেখানে অবস্থান করে মহিলাদের শ্লীলতাহানী, লুটপাট সংগঠন প্রভৃতি অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছিল কি না?
উত্তর: জানা নেই।
প্রশ্ন: আপনি এসএসসি কোন সালে পাস করেছেন?
উত্তর: ১৯৬২ সালে।
প্রশ্ন: কোন সালে চাকরিতে যোগদান করেন?
উত্তর: ১৯৬৩ সালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের চাকরিতে যোগদান করি।
প্রশ্ন: এসডিও অফিসে কোন সালে কাজ করেছেন?
উত্তর: ১৯৭৮ সাল থেকে ’৮২ সাল পর্যন্ত এডিশনাল এসডিও অফিসে পেসকার হিসেবে চাকরি করেছি।
প্রশ্ন: ১৯৭১ সালে কোন পদে ছিলেন?
উত্তর: ’৭১ সালে ল্যান্ড অ্যাকুইজেশন শাখার অফিস সহকারী ছিলাম।
প্রশ্ন: অবসরের সময় কোন পদে ছিলেন?
উত্তর: ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় সহকারী হিসেবে কর্মরত অবস্থায় অবসর গ্রহণ করি।
প্রশ্ন: চাঁন্দগাও নামে চট্টগ্রামে কোন গ্রাম নেই।
উত্তর: সত্য নয়।
প্রশ্ন: ১৯৭১ সালে চাঁন্দগাও ইউনিয়ন ছিল? 
উত্তর: ইউনিয়নও ছিল, গ্রামও ছিল।
প্রশ্ন: ১৯৭১ সালে পাকিস্তান আর্মি চট্টগ্রাম শহরে কবে প্রবেশ করে?
উত্তর: ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করার চার বা পাঁচদিন পর।
প্রশ্ন: চট্টগ্রামের কোতয়ালী থানায় পাকিস্তান আর্মি কোথায় ছিল?
উত্তর: বলতে পারব না।
প্রশ্ন: জেলা প্রশাসনের নিকটবর্তী পাকিস্তান আর্মির ক্যাম্প কোথায় ছিল?
উত্তর: সার্কিট হাইজে অবস্থান করত, তবে সেখানে ক্যাম্প অফিস ছিল কিনা বলতে পারব না।
প্রশ্ন: চট্টগ্রাম আঞ্চলিক সামরিক আইন প্রশাসকের কার্যালয় কোথায় ছিল?
উত্তর: বলতে পারব না।
প্রশ্ন: শন্তি কমিটির অফিস কোথায় ছিল?
উত্তর: বলতে পারব না।
প্রশ্ন: জেলা আনসার অ্যাডজুটেন্ড কার্যালয় কোথায় ছিল?
উত্তর: স্মরণ নেই।
প্রশ্ন: জেলা অ্যাকাউন্টস অফিস ভবন কোথায় ছিল?
উত্তর: জেলা প্রশাসন ভবনেই ছিল।
প্রশ্ন: ’৭১ সালে অ্যাকাউন্টস অফিসে লুটপাট হয়?
উত্তর: জানা নেই।
প্রশ্ন: মুক্তিযোদ্ধা, বিএলএফ বা অন্যকোন মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপক্ষ শক্তি কর্তৃক জেলা প্রশাসনের অফিস আক্রান্ত হয়েছিল কি না?
উত্তর: জানা নেই। 
প্রশ্ন: আপনি ১৯৭০-৭১ সালে জেলা প্রশাসন ভবনে কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের নেতা ছিলেন কি না?
উত্তর: ছিলাম না।
প্রশ্ন: ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামে রাজাকার ও আল-বদর বাহিনীর প্রধান কার্যালয় কোথায় ছিল?
উত্তর: রাজাকারদের প্রধান কার্যালয় কোথায় ছিল বলতে পারব না। আল-বদরদের প্রধান অফিস চিল আন্দর কিল্লাস্থ ডালিম হোটেল।
প্রশ্ন: ১৯৭১ সালে চট্টগ্রাম জেলার জেলা প্রশাসক কে ছিলেন?
উত্তর: ২৬ মার্চের পর সম্ভবত হাসান আহমেদ জেলা প্রশাসক ছিলেন।
প্রশ্ন: আপনি জবানবন্দীতে মীর কাসেম আলী সম্পার্কে যে সকল বক্তব্য দিয়েছেন সে মর্মে কোন ঘটনা ঘটেনি।
উত্তর: সত্য নয়।
প্রশ্ন: মীর কাসেম আলী ১৯৭১ সালের ৭ নভেম্বর থেকে দেশ স্বাধীন হওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রামে থাকতেন না।
উত্তর: সত্য নয়।
প্রশ্ন: মীর কাসেম আলী কোন সময় আল বদর কমান্ডার ছিলেন না?
উত্তর: সত্য নয়।
প্রশ্ন: আপনি শেখানো মতে সাক্ষ্য দিয়েছেন?
উত্তর: সত্য নয়।

সোমবার, ২৮ অক্টোবর, ২০১৩

মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে মামলা ৭ নভেম্বর পর্যন্ত মূলতবি

দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনের সাবেক চেয়ারম্যান (এমসি) জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে  মামলা আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত মূলতবি করা হয়েছে। ওই দিন মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ পুনরায় বিবেচনা বিষয়ক  (রিভিউ) আবেদনের উপর শুনানির জন্য দিন ধার্য্য করা হয়েছে।  আজ  আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন।

সকালে ট্রাইব্যুনাল-২ এর কার্যক্রম শুরু হলে মীর কাসেম আলীর পক্ষে ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম  অভিযোগ গঠনের আদেশের বিরুদ্ধে দায়ের করা রিভিউ আবেদন উপস্থাপন করে বলেন, ডিফেন্স টিমের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক রিভিউ আবেদনের উপর শুনানি করবেন। এজন্য আমরা চার সপ্তাহ সময় চাচ্ছি। জবাবে ট্রাইব্যুনাল বলেন, আমরা চাই রিভিউ আবেদনের নিষ্পত্তি হোক, তবে তা আইন অনুযায়ী হতে হবে। আইন অনুযায়ী আপনারা সময় পাবেন। এরপর ট্রাইব্যুনাল আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম মূলতবি করেন।

ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম সাংবাদিকদের বলেন, ট্রাইব্যুনাল-১ এ মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের পর ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলাটি  স্থানান্তর করা হয় গত ৩০ সেপ্টেম্বর।  চার্জ গঠনের বিরুদ্ধে আমরা রিভিউ আবেদন করি। কিন্তু আবেদন শুনানীর আগেই  মামলাটি দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। তাই আমরা দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনালে আবার চার্জ গঠনের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করেছি।

ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম বলেন, অভিযোগ গঠনের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন ছাড়া  আরো দুটি আবেদন দায়ের করা হয়েছে। ৭ নভেম্বর এসব আবেদনের উপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
অন্যদিকে এ মামলার প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ বলেন, আগামী ৭ নভেম্বর  মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে মামলায় সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করা হবে। রিভিউ আবেদনের বিষয়ে তিনি বলেন, রিভিউ আবেদনের উপর শুনানির জন্য আইনগত দিকগুলো দেখাতে বলেছেন ট্রাইব্যুনাল। 

মীর কাসেম আলীর মামলা ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে  ট্রাইব্যুনাল-২ এ স্থানান্তর করার পর গত ৬ অক্টোবর মামলাটি দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনালের  কার্যতালিকায় আসে। তবে অভিযোগ গঠনের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদনের নিষ্পত্তি না হওয়ায় ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত মামলাটি মূলতবি করা হয়।
গত ৫ সেপ্টেম্বর মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আনা ১৪টি ঘটনায় অভিযুক্ত করে চার্জ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল-১।

সোমবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

মীর কাসেম আলীর মামলা ট্রাইব্যুনাল-২ এ স্থানান্তর

মেহেদী হাসান,  ৩০.৯.১৩
দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান (এমসি) ও জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলীর মামলা ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে ট্রাইব্যুনাল-২ এ স্থানান্তর করা হয়েছে। আজ  আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ মীর কাসেম আলীর মামলা ট্রাইব্যুনাল-২ প্রেরণের জন্য স্বতপ্রণদিত (সুয়োমোটো) হয়ে আদেশ দেন।

সকালে মীর কাসেম আলীর পক্ষে দায়ের করা চার্জ গঠনের আদেশ পুর্নবিবেচনা করা এবং মামলার মূলতবি করার আবেদনের উপর সংক্ষিপ্ত শুনানি গ্রহণ করে ট্রাইব্যুনাল মামলা স্থানান্তরের আদেশ দেন। মীর কাসেম আলীর পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সুলতান মাহমুদ সিমন।

আদেশে ট্রাইব্যুনাল বলেন, ট্রাইব্যুনাল-১ এ লার্জ নাম্বার অফ কেসেস পেন্ডিং রয়েছে। এই মামলাটি দ্রুত শুনানি ও নিষ্পত্তি করার জন্য ট্রাইব্যুনাল-২ এ প্রেরণ করা হল।

আদেশের পর তাজুল ইসলাম বলেন, আমরা তো এটা চাইনি। মামলা ট্রান্সফারের বিষয়ে আমরা একটি শব্দও বলিনি। জবাবে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির বলেন, আমরা সুয়োমোটো আদেশ দিয়েছি। ট্রাইব্যুনাল আইনে আমাদের এই ক্ষমতা রয়েছে।

আজ মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে সাক্ষ্য গ্রহণ করার দিন ধার্য ছিল।

গত ৫ সেপ্টেম্বর মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আনা ১৪টি ঘটনায় অভিযুক্ত করে চার্জ গঠন  করা হয়।
গত ২৬ মে জামায়াত নেতা মীর কাশেম আলীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। ১৬ মে রাষ্ট্রপক্ষ মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে ফরমাল চার্জ দাখিল করে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। গত বছর ১৭ জুন মীর কাসেম আলীকে  ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ এবং শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১  এর নির্দেশে। সেই থেকে তিনি বন্দী রয়েছেন।






বৃহস্পতিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে চার্জ গঠন

মেহেদী হাসান , ৫/৯/২০১৩
দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান (এমসি) জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য  মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে  চার্জ গঠন  করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ  আজ চার্জ গঠন করে আদেশ দেয়। এর মাধ্যমে মূলত মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে বিচার শুরু হল।  আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্যের জন্য তারিখ ধার্য্য করা হয়েছে। সূচনা বক্তব্যের পর শুরু হবে সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ। এর মাধ্যমে শুরু হবে আনুষ্ঠানিক বিচার।

মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে হত্যা, নির্যাতন, অপহরন লুন্ঠন এবং অগ্নিসংযোগের মত ১৪টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল রাষ্ট্রপক্ষ থেকে। ১৪টি অভিযোগেই তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হল।

অভিযোগ পড়ে শোনানোর পর ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির মীর কাসেম আলীকে উদ্দেশ করে বলেন, মীর কাসেম আলী সাহেব, আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো পড়ে শোনানো হল এবং আপনি তা শুনেছেন ও বুঝেছেন আশা করি। এসব অভিযোগ বিষয়ে আপনি নিজেকে কি দোষী না নির্দোষ দাবি করেন?
মীর কাসেম  আলী বলেন, আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ।
অভিযোগ গঠনের পর মীর কাসেম আলীর পক্ষে আইনজীবী ব্যারিস্টার তানভির আহমেদ আল আমিন সাংবাদিকদের বলেন, রাজনৈতিক কারনে মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। একদিন ইনশাআল্লাহ সত্য প্রকাশিত হবে  এবং মীর কাসেম আলী নির্দোষ প্রমানিত হবেন।

চার্জ গঠন আদেশ উপলক্ষে মীর কাসেম আলীকে সকালে আসামীর কাঠগড়া থেকে সাক্ষীর কাঠগড়ায় আনা হয়। এরপর ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান অভিযোগগুলো পড়ে শোনাতে শুরু করেন।

অভিযোগ :
মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে ১৪টি অভিযোগের মধ্যে দুটি নির্যাতন ও হত্যা বিষয়ক। বাকী  ১২টি অভিযোগ অপহরন, নির্যাতন এবং  বন্দী করে রাখা বিষয়ক। হত্যা বিষয়ক যে দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে তাতে মোট সাতজনকে হত্যার ঘটনা রয়েছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে ১৯৭১ সালে মীর কাসেম আলী তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রসংঘের সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন ।  তার নেতৃত্বে চট্টগ্রামে মহামায়া বা ডালিম হোটেলে স্বাধীনতাপন্থী মুক্তিযোদ্ধাদের অপহরন করে  নির্যাতন, হত্যা, গুম করা হত। এছাড়া  লুন্ঠন এবং অগ্নিসংযোগের মত মানবতাবিরোধী কর্মকান্ড পারিচালিত হয়েছে তার নেতৃত্বে। মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে যে ১৪টি অভিযোগ আনা হয়েছে তার  সবগুলোর সাথেই হয়  তার নেতৃত্ব  অথবা  সরাসরি  সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়েছে।

১ নং অভিযোগ  : মীর কাসেম আলীর নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের ৮ নভেম্বর ওমরুল ইসলাম চৌধুরীকে  চাকতাই ঘাট থেকে অপহরন রা হয়। এরপর তাকে কয়েক দফায় চট্টগ্রামের আন্দর কিল্লাস্থ ডালিম হোটেল, পাচলাইশ থানার সালমা মঞ্জিল এবং একটি চামড়ার গুদামে নিয়ে নির্যাতন করা হয়।

২ নং অভিযোগ : আসামীর নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের ১৯ নভেম্বর চাকতাই থেকে লুৎফর রহমান ফারুককে অপহরন করে ডালিম হোটেলে নিয়ে নির্যাতন করা হয় এবং বাড়িঘরে আগুন দেয়া  হয়।

৩ নং অভিযোগ : ২২ অথবা ২৩ নভেম্বর আসামীর নেতৃত্বে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে তার কদমতলা বাসা থেকে ধরে নিয়ে ডালিম হোটেলে নির্যাতন করা হয়।

৪ নং    অভিযোগ :  ডাবলমুরিং থানায় সালাহউদ্দিন খানকে তার নিজ বাসা থেকে ধরে নিয়ে ডালিম হোটেলে আল বদর বাহিনী কর্তৃক নির্যাতন।

৫ নং অভিযোগ : ২৫ নভেম্বর আনোয়ারা থানার আব্দুল জব্বারকে  তার নিজ বাসা থেকে ধরে নিয়ে ডালিম হোটেলে মীর কাসেম আলীর সামনে হাজির করা হয় । এরপর তাকে নির্যাতন করে ছেড়ে দেয়া হয়।

৬ নং অভিযোগ : চট্টগ্রাম শহরের একটি চায়ের দোকান থেকে হারুনুর রশিদ নামে একজনকে ধরে নিয়ে ডালিম হোটেল এবং সালমা মঞ্জিলে নির্যাতন করা হয়।

৭ নং অভিযোগ : মীর কাসেম আলীর নেতৃত্বে সাত/আট জন যুবক ডাবলমুরিং থানা থেকে সানাউল্লাহ চৌধুরীসহ ২ জনকে ধরে নিয়ে ডালিম হোটেলে নির্যাতন করা হয়।

৮ নং অভিযোগ : ২৯ নভেম্বর রাতে নুরুল কুদ্দুসসহ চারজনকে অপহরন করে ডালিম হোটেলে নিয়ে নির্যাতন।

৯ নং অভিযোগ : ২৯ নভেম্বর সৈয়দ মো : এমরানসহ ছয় জনকে অপহরন ও নির্যাতন।

১০ নং অভিযোগ : আসামীর নির্দেশে মো : যাকারিয়াসহ চারজনকে অপহরন ও নির্যাতন।

১১ নং অভিযোগ : শহীদ জসিম উদ্দিনসহ ছয় জনকে অপহনের পর নির্যাতন করা হয়। এতে জসিমসহ পাঁচজন নিহত হয় এবং  পরে লাশ গুম করা হয়। ঈদের দিনের পর জসিমকে অপহন করে ডালিম হোটেলে নির্যাতন করা হয়।

১২ নং অভিযোগ : জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীসহ তিনজনকে অপহরন করে নির্যাতন করা হয়। এতে দুই জন নিহত হয় এবং তাদের লাশ গুম করা হয়।

১৩ নং     অভিযোগ : সুনীল কান্তিকে অপহরন ও নির্যাতন।

১৪ নং অভিযোগ : নাসির উদ্দিন চৌধুরীকে অপহরন ও নির্যাতন ।


চার্জ গঠন আদেশে  মীর কাসেম আলীর জন্ম পরিচয় তুলে ধরা হয় ।  এতে বলা হয় মীর কাসেম আলী ১৯৫২ সালে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর থানায় জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষা উপলক্ষে তিনি ১৯৭১ সালের পূর্ব থেকে চট্টগ্রাম শহরে অবস্থান করতেন। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এম এ ডিগ্রী অর্জন করেন। ইসলামী ছাত্রসংঘের সেক্রেটারি জেনারেল নির্বাচিত হবার পূর্বে তিনি চট্টগ্রাম শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

অভিযোগ গঠনের শুরুতে মীর কাসেম আলীর পক্ষে ব্যারিস্টার তানভির আহমেদ আল আমিন একদিন সময় প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, আমাদের টিমের প্রধান সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক এ শুনানীতে সাবমিশন রাখতে চেয়েছেন এবং আমাদের আবেদনের কারনে  আপনারা আগের ২৯ আগস্ট থেকে তারিখ পিছিয়ে আজ ৫ সেপ্টেম্বর তারিখ নির্ধারন করেছিলেন। কিন্তু তিনি আজো দেশে আসতে পারেননি। আট তারিখ তিনি দেশে আসবেন। তাই আজ বৃহষ্পতিবার মাত্র একদিন যদি মুলতবি রাখেন তাহলে আগামী আট তারিখ তিনি শুনানীতে অংশ নিতে পারবেন। মাত্র একদিন পেছানো হলে মামলার তেমন কেন ক্ষতি হবেনা।
আবেদনের বিরোধীতা করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সুলতান মাহমুদ সিমন বলেন, তাদেরকে অনেকবার সুযোগ দেয়া হয়েছে। আইনজীবীর কারনে আর তারিখ পেছানো ঠিক হবেনা। তাদের টিমের সদস্য জনাব তানভির আহমেদ খুব ভাল শুনানী করেছেন।
এরপর ট্রাইব্যুনাল মুলতবি আবেদন খারিজ করে দিয়ে চার্জ গঠন আদেশ দেয়।
চেয়ারম্যান এটিএম ফজলে কবির, সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হকের সমন্বয়ে গঠিত ট্রাইব্যুনাল চার্জ গঠন আদেশ দেয়।
এসময় আসামী পক্ষে অন্যান্যের মধ্যে অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, ব্যারিস্টার এহসান সিদ্দিক, অ্যাডভোকেট আবু বকর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষে অন্যান্যের মধ্যে চিফ প্রসিকিউটর গোলা আরিফ টিপু, অ্যাডভোটে জেয়াদ আল মালুম, ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ উপস্থিত ছিলেন।

১৬ মে রাষ্ট্রপক্ষ মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে ফরমাল চার্জ দাখিল করে ট্রাইব্যুনালে।

২০১২ সালের   ১৭ জুন মীর কাসেম আলীকে  ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ এবং শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১  এর নির্দেশে। সেই থেকে তিনি বন্দী রয়েছেন।