রাজ্জাক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রাজ্জাক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৩

ট্রাইব্যুনালের মামলা বিষয়ে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের ব্রিফিং


১৪/১১/২০১৩
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ডিফেন্স টিমের প্রধান ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক আজ দুপুর একটার পর তার চেম্বারের সামনে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন ট্রাইব্যুনালের কয়েকটি চলমান মামলা বিষয়ে ।

এসময় তিনি বলেন :
মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মামলায় আসামী পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন অসমাপ্ত  থাকা অবস্থায় হরতালের মধ্যে মামলার কার্যক্রম বন্ধ ঘোষনা করে সিএভি করা হয়েছে। আমরা মনে করি এটা আনপ্রিসিডেন্টেড ( নজিরবিহীন, অনাকাঙ্খিত, অনভিপ্রেত)। আইনের শাসনের পরিপন্থী। হাইকোর্ট, সুপ্রীমকোর্ট, ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট কোথাও হরতালের মধ্যে এভাবে আদেশ পাশ করেনা।
আমরা সিএভি আদেশের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করব (ইতোমধ্যে করা হয়েছে) এবং আশা করছি এর শুনানী হবে।

মীর কাসেম আলীর মামলায় চার্জ গঠন আদেশ রিভিউ শুনানীর জন্য ট্রাইব্যুনাল -১ এ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেটি শুনানী ছাড়াই চেম্বারে বসে খারিজ করে দেয়া হয়েছে ।

আমরা শুনেছি আব্দুল কাদের মোল্লা মামলায় পূর্নাঙ্গ রায় প্রকাশ এবং রায় কার্যকরের জন্য চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। আমরা আশা করব কেউ চাপের কাছে নত হবেননা। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর আমরা ৩০ দিন সময় পাব রিভিউ আবেদন করার এবং আশা করছি আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।
আব্দুল কাদের মোল্লার রায় দ্রুত প্রকাশ এবং কার্যকরের বিষয়ে কারা কাদের চাপ দিচ্ছে সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আপনারা বুঝে নিন।

ব্রিফিংয়ের সময় হাইকোর্টের অ্যাডভোকেট  জসিম উদ্দিন সরকার, তাজুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সোমবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১২

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাককে গোয়েন্দা নজরদারি এবং হয়রানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভায় দেশের শীর্ষ আইনজীবী নেতৃবৃন্দের ঘোষনা /////আইনজীবীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাঁধা ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা করা হবে

 ১৫/১০/২০১২
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আসামী পক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার  আব্দুর রাজ্জাককে গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা এবং হয়রারিন বিরুদ্ধে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় দেশের শীর্ষ আইনজীবী নেতৃবৃন্দ হুশিয়ারি উচ্চারন করে বলেছেন, আইনজীবীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাঁধা ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা করা হবে । ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের ওপর  গোয়েন্দা নজরদারি এবং হয়রানির তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেছেন,  অবিলম্বে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের ওপর থেকে সকল ধরনের গোয়েন্দা নজরদারি তুলে নিতে হবে এবং হয়রানি বন্ধ করতে হবে। তা না হলে বৃহত্তর কর্মসূচী প্রদান করা হবে।

বাংলাদেশর সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের বাসার সামনে  এবং গাড়ির পেছনে গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন  অনুসরন করছেন।   ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাককে তার পেশাগত  দায়িত্ব পালনে  হয়রানি এবং বাঁধার প্রতিবাদে সুপ্রীম কোর্টের  আইনজীবীবৃন্দ আজ সুপ্রীম কোর্ট বারের  দণি হলে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন    দেশের প্রবীণ আইনজীবী  বিচারপতি  টিএইচ খান।
সভায় বক্তব্য রাখেন খ্যাতিমান আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদূদ আহমেদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের  ভাইস প্রেসিডেন্ট খন্দকার মাহবুব হোসেন, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি  সিনিয়র অ্যাডভোকেট যাইনুল আবেদীন,  সাবেক এটর্নি জেনারেল এ জে মো¤ম্মদ আলী, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিঞা, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুবু হোসেন এমপি, অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান, অ্যাডভোকেট ফাহিমা নাসরিন মুন্নি, অ্যাডভোকেট আফজাল এইচ খান, গোলাম মো: চৌধুরী আলাল, ব্যারিস্টার মুন্সি আহসান কবির প্রমুখ। প্রতিবাদ সমাবেশে বিপুল সংখ্যক আইনজীবী উপস্থিত হন।


টিএইচ খান সভাপতির বক্তব্যে বলেন, আপনারা গোয়েবলসের নাম শুনেছেন কিন্তু হ্যান্সিয়ানির নাম শোনেননাই। হিটলারের সময় আইনমন্ত্রী ছিলেন হ্যান্সিয়ানি। সে সময়ও আইনজীবীদের এরকম নজরদারি করা হত। পরে ওই আইনমন্ত্রীর ফাঁসি হয়েছিল। এখন যা কিছু হয়, তাই বলা হয় যে যুদ্ধাপরাধের বিচার বানচালের জন্য করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, আজ আমরা যে উদ্দেশ্যে এখানে সমেবেত হয়েছি তা সত্যিই হৃদয় বিদারক। ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক একজন বিজ্ঞ আইনজীবী।  তিনি তার দায়িত্ব সুচারুভাবে পালন করছেন। কেউ তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনতে পারবে না। তার কোনো ক্রিটিক নেই।  আজ তার পেছনে সরকারের  গোয়েন্দা নজরদারি ও তাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে।’

তিনি   বলেন, ‘আমরা কথায় কথায় বলি পবিত্র সংবিধান, পবিত্র সংবিধান।  আপনারা সংবিধান খুললে দেখতে পাবেন তিনি (ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক) সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করছেন। আর সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদ মতে, একজন আসামীরও অধিকার আছে তিনি কাকে আইনজীবী হিসাবে পছন্দ করবেন। সাংবিধানিক এই দায়িত্ব পালনকালে তার পিছু নেয়া হচ্ছে- এমন কথা শুনতে অত্যন্ত কষ্ঠ লাগে। এটি করা হচ্ছে তাকে ট্রাইব্যুনাল থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য।’

তিনি বলেন, ‘দেশে যা কিছুই ঘটে সরকার বলে যে, এটি যুদ্ধাপরাধের বিচারকে বাধাগ্রস্ত করতে করা হচ্ছে। আপনারা জানেন দেশে ঠাডা পইরা (বজ্রপাতে) মানুষ মরতেছে।  বলা হবে যে, এটি  যুদ্ধাপরাধ বিচারকে বানচাল করার জন্যই হচ্ছে। এখন বন্যার সময় নয়। কিন্তু অকাল বন্যা হতে পারে। তখন সরকার বলবে যে, এটিও বিচারকে বানচাল করার জন্য করা হয়েছে। এই ধরনের আর্গুমেন্ট হিটলারের সময় করা হতো।’


ব্যারিস্টার মওদূদ আহমেদ বলেন, ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের অপরাধ তিনি তার  পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন। আমরা বিচারের বিরুদ্ধে নই। ব্যারিস্টার রাজ্জাকও বিচারের বিরুদ্ধে নন। বিচারের বিরুদ্ধে হলে তিনি তো ট্রাইব্যুনালে যেতেননা। তিনি তো ট্রাইব্যুনালে আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে বিচারকে সহায়তা করছেন। আমরা সবাই স্বচ্ছ বিচার চাই। তিনিও স্বচ্ছ বিচারের জন্য কাজ করছেন। সেটাই তো সবার উদ্দেশ্য। কিন্তু আজ তাকে হয়রানি করে মূলত আইনের শাসন, আইনজীবীদের মৌলিক অধিকারের ওপর আঘাত করা হয়েছে। একজনকে তার পেশায় বাঁধা দেয়ার মত হীন কাজ আর কিছু  হতে পারেনা।  এ  ধরনের হয়রানি বন্ধ করা  হোক। তা না হলে সবাই মিলে প্রতিহত করতে হবে।

ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, আইনের শাসন না থাকলে গনতন্ত্র  এবং মানবসভ্যতা থাকতে পারেনা। ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের মত লোকের পেছনে গোয়েন্দা নজরদারি করা আইনের শাসন এবং সংবিধানের লঙ্ঘন।

খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, অপরাধ সমর্থন করা কোন আনজীবীর দায়িত্ব নয়। কোন আসামীকে আদালতেক হাজির করা হলে  সে দোষী না নির্দোষ সেটা প্রমানে কোর্টকে সহায়তা করা আইনজীবীর দায়িত্ব।  শুধু ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক নয় বাংলাদেশের যেকোন আইনজীবীর ওপর তার পেশাগত দায়িত্ব পালনে কোন ধরনের বাঁধা আসলে আমরা তা ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা করব। আইনজীবীকে তার পেশাগত কাজে বাঁধা দেয়া, হয়রানির পরিমনা অত্যন্ত ভয়াবহ হবে। বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নির্বাচনে জাতীয়তাবাদীদের  বিজয়ের পর সরকার এখন বার কাউন্সিলকে পঙ্গু করার জন্য একটি আইন করছে। আমরা ৪৬ হাজার আইনজীবীর প্রতিনিধি।

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক কোন অপরাধকে সমর্থন করতে ট্রাইব্যুনালে যাননি।  ট্রাইব্যুনালে  যাদের বিচারের আওতায় আনা হয়েছে তাদের আইনগত সহায়তা করছেন এবং তিনি কোর্টকে সহায়তা করছেন। এর আগে আসামী পক্ষের আরেক  গুরুত্বপূণূ আইনজীবী তাজুল ইসলামের চেম্বারে সশস্ত্র   গোয়েন্দারা হানা দিয়েছে। সরকারের মনে রাখা উচিত কালো পোশাকধারীরা রাস্তায় নামলে তাদের  পতন অনিবার্য ।

ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিঞা  বলেন, এটর্নি জেনারেল শুধু সরকারের এটর্নি জেনারেল নন। তিনি সারা বাংলাদেশের   এটর্নি জেনারেল। ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাককে হয়রানির বিষয় জানার সাথে সাথে তার উচিত ছিল এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহন করা। প্রয়োজনে কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষন করে তিনি এ বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করতে পারতেন। এটি তার দায়িত্ব ছিল। তিনি তা না করায়   আইনজীবী সমাজ ুব্ধ এবং ব্যথিত। এ অবস্থা  উত্তোরনের জন্য আমি তাকে পদক্ষেপ গ্রহনের আহবান জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, যারা আইনের শাসন মানেনা, গণতন্ত্র মানেনা তারাই কেবল এ কাজ করতে পারে।

ব্যারিস্টার  আব্দুর রাজ্জাককে হয়রানির প্রতিবাদ করে তিনি বলেন এ আঘাত সমস্ত আইনজীবীদের ওপর আঘাত। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরও এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার ছিল। যদি এ হয়রানি বন্ধ না করা হয় প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দিতে হবে।

অ্যাডভোকেট যাইনুল আবেদন বলেন, গনতান্ত্রিক নামের এ সরকারের আমলে কেউ তার  পেশাগত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারছেননা। ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের মত একজন আইনজীবীকে গোয়েন্দা  নজরদারিতে রাখা এবং হয়রানি করা  অত্যন্ত লজ্জার কথা। তিনি বাংলাদেশের একজন সিনিয়র আইনজীবী। অনেক আগে তাকে   সিনিয়র আইনজীবী করা হয়েছে। তিনি ডাবল স্টারধারী । আপীল বিভাগ  এ মর্যাদা দিয়ে থাকে।
যাইনুল আবেদীন বলেন, সরকার যদি অবিলম্বে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের ওপর থেকে হয়রানি এবং গোয়েন্দা নজরদারি তুলে না নেয় তাহলে ব্যাপক কর্মসূচী দেয়া হবে।

মাহবুব উদ্দিন খোকন এমপি বলেন, ওয়ান ইলেভেন সরকারের সাথে এ সরকারের পার্থক্য কোথায়? তখনো  মানুষের পেছনে এভাবে গোয়েন্দা লেলিয়ে দেয়া হয়েছিল। আমার পেছনে সব সময় কিছু হোন্ডা ঘুরত। বর্তমান সরকার ওয়ান ইলেভেনের প্রাডাক্ট। তাই দুই সরকারের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।

সাইদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে যখন কোন বিচার হয় তখন যদি তার আইনজীবী নিয়োগের সামর্থ্য না থাকে তাহলে রাষ্ট্র  তার পক্ষে একজন আইনজীবী নিয়োগ দেয়। আইনজীবী ছাড়া কারো বিচার হয়না। সংবিধানে এ অধিকার দিয়েছে নাগরিকদের। ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক  আসামীর পক্ষে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করছেন। আইনজীবীদের নিয়ে ছিনিমিন খেলবেননা। এ হয়রানি বন্ধ না হলে বিচার প্রশাসন বন্ধ হয়ে যাবে। কারন ব্যারিস্টার রাজ্জাক কোন একজন মাত্র ব্যক্তি নন।

আফজাল এইচ খান বলেন, আজ অত্যন্ত একটি পরিতাপের বিষয় নিয়ে এখানে সমবেত হয়েছি। জনগন আজ পীড়িত। কিছু হলেই বলা হয় যুদ্ধাপরাধের বিচার বাঁধাগ্রস্ত করার জন্য এটি করা হচ্ছে।
ফাহিমা নাসরিন মুন্নি বলেন, পুরো দেশ আজ কারাগার, ১৯৭০ সালে ব্রাজিলের মত দেশে আজ গুম সংস্কৃতি চালু হয়েছে।  ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের ওপর হেনস্থার আমি তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
গোলাম মো: চৌধুরী আলাল বলেন,  বাংলাদেশ আজ পুলিশী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। আইনজীবীদের পেশা পালনে বাঁধা এবং মৌলিক অধিকার হরনের যে সংস্কৃতি চালু হয়েছে তার সর্বশেষ নজীর  ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের ওপর গোয়েন্দা নজরদারির ঘটনা।

প্রতিবাদ সভাপর শুরুতে ব্যারিস্টার মুন্সি আহসান কবির বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে  তিনি ১০ জন আসামীর পক্ষে  প্রধান আইনজীবী। তিনি তার মেধা এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে আজ এ পর্যায়ে  উপনীত হয়েছেন। আজ ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের বাসার সামনে গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন অবস্থান করছেন। তার গাড়ির পেছনে গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন  অনুসরন করছেন।  তিনি যাতে তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে না পারেন সেজন্য তাকে মানসিকভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার, ১১ অক্টোবর, ২০১২

ডিফেন্স আইনজীবীদের হয়রানির প্রতিবাদে বার কাউন্সিলের হুঁশিয়ারি ///পেশাগত দায়িত্ব পালনে হয়রানি করা হলে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের  আসামী পক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আাব্দুর রাজ্জাকের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি এবং  ডিফেন্স টিমের (আসামী পক্ষের আইনজীবী)  অন্যতম সদস্য অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামের চেম্বারে সশস্ত্র  গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানের প্রেক্ষিতে কড়া হুশিয়ারি উচ্চারন করা হয়েছে বাংলাদেশের বার কাউন্সিলের পক্ষ থেকে।

সারা দেশের আইনজীবীদের অভিভাবক সংগঠন ‘বাংলাদেশ বার কাউন্সিল’র পক্ষ থেকে  সতর্ক করে দিয়ে   বলা হযেছে  ‘আমরা সবাইকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলতে চাই, পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে একজন আইনজীবীর উপর আঘাত আসলে আমরা এটাকে সমগ্র আইনজীবীদের উপর আঘাত বলে ধরে নেবো এবং এর বিরুদ্ধে দেশের সকল আইনজীবীকে নিয়ে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বাধ্য হবো।’

গত মঙ্গলবার অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামের চেম্বারে সিভিল ড্রেসে ১০/১২ জন গোয়েন্দা পুলিশ  হানা দেয়।
এর প্রতিবাদে আজ বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন ভবন অডিটরিয়ামে। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির ভাইস চেয়ারম্যান ও বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন লিখিত বক্তব্য পেশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয় একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ডিফেন্স টিমের আইনজীবীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে সরকার। তাদের স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে দেয়া হচ্ছে না। গোয়েন্দা নজরদারির নামে তাদের চেম্বারে সশস্ত্র অভিযান পরিচালনা  করা হয়েছে। বার কাউন্সিলের পক্ষ থেকে আরো বলা হয়, ‘আমরা দেশে আইনের শাসন চাই। যারা দোষী তাদের সাজা হোক। কিন্তু যদি বিচারের নামে প্রহসন হয় এবং আইনজীবীদের যদি পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে হয়রানি করা হয়, তবে আমরাও বাধ্য হবো রাস্তায় নামতে। কালো কোর্ট (আইনজীবীরা) যদি একবার রাস্তায় নামে, অতীতের ইতিহাস দেখুন সে সরকার বেশি দিন টিকেনা।’

সংবাদ সম্মেলনে একই অভিযোগ করে ডিফেন্স টিমের প্রধান ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘গত  ৮/১০ দিন ধরে ২/৪ জন গোয়েন্দা আমাকে নজরদারি করছে। তারা আমার বাসায় গিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এমনকি আমার সাথে একজন গোয়েন্দা কথাও বলেছেন।’ তিনি অভিযোগ করেন, যাতে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে না পারি সেজন্যই এমনটি করা হচ্ছে। একজন আইনজীবীকে যদি হয়রানি করা হয় তবে কিভাবে তিনি পেশাগত দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি বলেন, একজন আইনজীবীকে পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে হয়রানি করা আদালত অবমাননার শামিল। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিষয়টি ট্রাইব্যুনালকে জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান আরো বলেন, বর্তমান সরকার বিচার বিভাগকে কুক্ষিগত করতে চাচ্ছে। আমরা বার বার এর প্রতিবাদ করেছি। অতীতেও আমরা দেখেছি, যারাই বিচার বিভাগকে কুক্ষিগত করতে চেয়েছে তাদের করুণ পরিণতি হয়েছে। এই সরকার ক্ষমতায় এসে নিম্ন আদালত ও উচ্চ আদালত সব ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। এই কারণে দেশবাসীর মাঝে বিচার বিভাগের প্রতি আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতি দেশ ও জাতির জন্য দুঃখজনক।

তিনি বলেন, ‘আমরা আইনজীবী। আমরা কোনো অপরাধকে সমর্থন করিনা। আমাদের দায়িত্ব, যখন একজন আসামীকে বিচারের আওতায় আনা হয়, তখন সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তার প্রকৃত অবস্থানকে তুলে ধরা। এমনকি ফাঁসির যে আসামী থাকে, যাদেরকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়, তাদের যদি সামর্থ না থাকে তখন সরকার পক্ষ থেকে তাদের আইনি সহায়তা দেয়া হয় যাতে আদালত ন্যায় বিচার করতে পারে। তাই আজকে আমরা চাই, বাংলাদেশে আইনের শাসন কায়েম হোক। এর বিপরীত প্রচেষ্টা যদি হয় তবে দেশের আইনজীবীরা তাদের পেশাগত দায়িত্বের অংশ হিসাবে রুখে দাঁড়াবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বিগত কয়েক দিন ধরে দেখছি, সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন ট্রাইব্যুনালে বিশেষ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ডিফেন্স আইনজীবীদের বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করছে। শুধু তাই নয়, কিছুদিন আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ডিফেন্স টিমের অন্যতম একজন আইনজীবীর (অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম) চেম্বারে সাদা পোশাকে অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করে তারা। আমরা মনে করি, এমন আচরণ আমাদের পেশাগত দায়িত্বের প্রতি সরকারের প্রতিবন্ধকতা। এই প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আইনের শাসন চাই। যারা দোষী তাদের সাজা হোক। কিন্তু যদি বিচারের নামে প্রহসন হয় এবং আইনজীবীদেরকে যদি পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে হয়রানি করা হয় তবে আমরাও বাধ্য হবো রাস্তায় নামতে। কালো কোর্ট যদি একবার রাস্তায় নামে, অতীতের ইতিহাস দেখুন সে সরকার বেশি দিন টিকেনা। তিনি বলেন, দেশে এমন কোনো ঘটনা ঘটতে দেবো না যাতে দেশে অশুভ একটি শক্তির আবির্ভাব হয় এবং দেশে অশান্তির সৃষ্টি হয়।’

লিখিত বক্তব্যে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, সরকারের বিভিন্ন এজেন্সির লোকেরা সম্পূর্ণ অন্যায় ও বেআইনিভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে আইনজীবীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে। সারা দেশের আইনজীবীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান হিসাবে আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং সব আইনজীবীর পক্ষ থেকে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ডিফেন্স টিমের অন্যতম প্রধান আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামের চেম্বারে সশস্ত্র ব্যক্তিরা ডিবি পুলিশের পরিচয়ে অবৈধভাবে প্রবেশ করে তল্লাশির নামে আইনজীবী, কায়েন্ট এবং কর্মচারীদের হয়রানি করছে। এটি একটি ভয়াবহ ঘটনা। কোনো সভ্য দেশে আইনজীবীদের চেম্বারে এইভাবে হয়রানিমূলক অভিযান চালানো হলে সংবিধান এবং আইনের শাসন ভূলুণ্ঠিত হতে বাধ্য। আইনজীবীগণ ‘অফিসার্স অব দ্য কোর্ট’ হিসাবে বিবেচিত এবং তাদের চেম্বারসহ যাবতীয় পেশাগত কার্যক্রম ‘চৎরারষবমবফ’ বলে বিবেচিত। পুলিশ আইনজীবীর চেম্বারে অভিযান চালিয়ে আইনজীবীদের পেশাগত অধিকারকে পদদলিত করেছে। এরূপ অবস্থায় কোনো আইনজীবীর পক্ষে বিচারপ্রার্থী মানুষের জন্য স্বাধীন এবং ভয়-ভীতিহীনভাবে কাজ করা সম্ভব নয়।

তিনি আরো বলেন, সব মানুষেরই আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার রয়েছে এবং সেটি সংবিধান স্বীকৃত একটি মৌলিক অধিকার। আইনজীবীকে হয়রানি করার অর্থ সংবিধান স্বীকৃত এই মৌলিক অধিকারকে পদদলিত করা । অতীতের কোনো সরকার এ ধরনের ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ড করতে সাহসী না হলেও বর্তমান সরকার অবলীলাক্রমে তা করতে উদ্যত হয়েছে।

খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাককে গোয়েন্দা নজরদারির নামে হয়রানি করা হচ্ছে এবং তিনি যাতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে না পারেন সে ধরনের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাইকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলতে চাই, পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে একজন আইনজীবীর উপর আঘাত আসলে আমরা এটাকে সমগ্র আইনজীবীদের উপর আঘাত বলে ধরে নেবো এবং এর বিরুদ্ধে দেশের সকল আইনজীবীকে নিয়ে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বাধ্য হবো।’