ইউসুফ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ইউসুফ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

বিচার চলাকালে মাওলানা একেএম ইউসুফের ইন্তেকাল

মেহেদী হাসান ও হাবিবুর রহমান, ৯/২/২০১৪
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির বিশিষ্ট হাদিশ বিশারদ মাওলানা একেএম ইউসুফ (৮৮) ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহী ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বন্দী প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ আজ সকাল সোয়া এগারটায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায়  শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি কাশিমপুর কারাগার-১ এ বন্দী ছিলেন।

মরহুমের পরিবার থেকে জানানো হয়েছে কাশিমপুর (গাজিপুর) কারাগারে  আজ  সকালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর কারা কর্তৃপক্ষ সকাল পৌনে ১১টার দিকে তাকে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে নিয়ে আসে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোয়া ১১টা তার  মৃত্যু হয়।

মাওলানা একেএম ইসুফের ছেলে একেএম মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন সকাল সাড়ে আটটার দিকে কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে পিতার অসুস্থতার কথা জানায় । তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসার কথা জানানো হয় এবং তারা হাসপাতালে অপেক্ষা করেন। তবে তাকে যখন হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় তখন তিনি অচেতন ছিলেন এবং তারা কেউ কোন কথা বলতে পারেননি। হাসপাতালের ডাক্তাররা তাদের জানিয়েছেন তার পিতা স্ট্রোক করেছিলেন।

মাহবুবুর রহমান জানান, তাকে প্রথমে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হলে সেখান থেকে আইসিইউ (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) এ নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। কিন্তু আইসিইউতে কোন রুম খালি না থাকায় তাকে বারডেম অথবা ঢাকা মেডিক্যালে পাঠানোর পরামর্শ দেয়া হয়। কিন্তু তিনি বন্দী থাকায় এ বিষয়ে প্রকৃয়া সম্পন্ন না করে তাকে তাৎক্ষনিকভাবে বারডেম বা ঢাকা মেড্যিকালে  পাঠানো সম্ভব ছিলনা। সবশেষে  তাকে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালের  জরুরি বিভাগে রেখেই চিকিৎসার উদ্যোগ নেয়া হয় এবং এ অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচার চলছিল মাওলানা একেএম ইউসুফের। উভয় পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এ মামলার যুক্তি উপস্থাপনের জন্য ধার্য্য ছিল। গত বছর ১২ মে মাওলানা ইউসুফকে তার ধানমন্ডি বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর নির্দেশে। পরে তার মামলাটি ট্রাইব্যুনাল -২ এ হস্তান্তর করা হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অধীনে ১৯৭১ সালে যুদ্ধাপরাধ তথা  মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচারাধীন এবং বন্দী অবস্থায় এই প্রথম কোন জামায়াত নেতার মৃত্যু হল। পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে  মাওলানা ইউসুফ হোসপাতালে মৃত্যুর পর তার লাশ ময়না তদন্ত ছাড়া তারা ফেরত নিতে চায়। তখন কারা কর্তৃপক্ষ জানায় ময়না তদন্ত ছাড়া লাশ ফেরত নিতে হলে  ট্রাইব্যুনালের অনুমতি লাগবে। আসামী পক্ষে অ্যাডভোকেট গাজী এমএইচ তামিম এরপর দরখাস্ত নিয়ে যান ট্রাইব্যুনালে। ট্রাইব্যুনাল কারা কর্তৃপক্ষের নিয়ম মেনেই লাশ হস্তান্তর করার জন্য আদেশ দেন দুপুরের পর।

গাজী তামিম জানান, বৃদ্ধ বয়সে মাওলানা ইউসুফের স্বাভাবিক মৃত্যুহয়েছে উল্লেখ করে লাশের ময়না তদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার জন্য আমরা ট্রাইব্যুনালে একটি আবেদন করি। এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আবেদনের বিরোধিতা করেন। এরপর ট্রাইব্যুনাল পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সাধারণ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। 
 সোয়া ছয়টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে এখনো তারা লাশ বুঝে পাননি। জানজার সময় এবং স্থানও এখনো ঠিক করা হয়নি।


বিচার চলাকালে মৃত্যু :
মাওলানা আবুল কালাম মুহাম্মদ (একেএম) ইউসুফের মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আগামী ১২ ও ১৩ ফেব্রুয়ারি বুধ ও বৃহস্পতিবার মামলার শেষ ধাপে রাষ্ট্রপক্ষের (আর্গুমেন্ট) যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য রয়েছে। মাওলানা ইউসুফের মৃত্যুর পর মামলার কার্যক্রম কি হবে সে বিষয়ে প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ সাংবাদিকদের বলেন, ট্রাইব্যুনাল আইনে মরোনত্ত্বর বিচার করার সুযোগ নেই। অন্যদিকে গাজী তামিম জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য রয়েছে। আশাকরি ওই দিন ট্রাইব্যুনাল প্রয়োজনীয় আদেশ দেবেন।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি আসামীপক্ষের একমাত্র ডিফেন্স সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন মাওলানা ইউসুফের বড় ছেলে একেএম মাহবুবুর রহমান। এর আগে মাওলানা ইউসুফের বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষের ২৭ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।
গত ৩০ জানুয়ারি মাওলানা ইউসুফের বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো: হেলাল উদ্দিনকে আসামীপক্ষের জেরা শেষে তিনজন ডিফেন্স সাক্ষী দেয়ার অনুমতি দেন ট্রাইব্যুনালঅ। গত ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনদিন ডিফেন্স সাক্ষীদের সাক্ষ্য দেয়ার দিন ধার্য করা হয়। মাওলানা একেএম ইউসুফকেও ওই তিনদিন ট্রাইব্যুনালে হাজির থাকতে হবে বলে মৌখিকভাবে জানিয়ে দেন ট্রাইব্যুনাল। 
৩০ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তার জেরা শেষে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান মাওলানা ইউসুফের সাথে কথা বলেন এবং শারীরিক অবস্থা জানতে চান। জবাবে মাওলানা ইউসুফ বলেন, শরীর ভালো না। এরপর বিচারপতি বলেন, ঠান্ডা কমেছে। ঠান্ডা ও অসুস্থতার কারণে আপনাকে সাতদিন ট্রাইব্যুনালে না আসার অনুমতি দিয়েছি। সামনে তিনদিন আসতে হবে। আপনার পক্ষে ডিফেন্স সাক্ষী সাক্ষ্য দেবে। আপনার শোনা জরুরী। জবাবে মাওলানা ইউসুফ বলেন, তারিখ একটু দেরিতে দেয়া যায় কি না।
এরপর বিচারপতি ওবায়দুল হাসান মাওলানা ইউসুফের কাছে জানতে চান মালেক মন্ত্রী সভায় আপনারা কতজন ছিলেন? জবাবে মাওলানা ইউসুফ বলেন, কতজন ছিলাম মনে নেই।
এরপর বিচারপতি প্রশ্ন করেন, আপনি কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন? জবাবে মাওলানা ইউসুফ বলেন, রাজস্বতে ছিলাম। এরপর ট্রাইব্যুনাল প্রশ্ন করেন, কত তারিখে ও কোথায় আপনারা আত্মসমার্পণ করেন? জবাবে মাওলানা ইউসুফ বলেন, ঠিক মনে করতে পারছি না। তবে ১৪ ডিসেম্বর হতে পারে। হোটেল ইন্টারকন্টিডেন্টলে।
এরপর বিচারপতি প্রশ্ন করেন, পদত্যাগের জন্য ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত কেন অপেক্ষা করলেন না? জবাবে মাওলানা ইউসুফ বলেন, তখনকার পরিস্থিতির কারণে। ট্রাইব্যুনাল আরো জানতে চান, মালেক সাহেব দাতের ডাক্তার ছিলেন কি না? জবাবে মাওলানা ইউসুফ বলেন, মনে নেই। এরপর ট্রাইব্যুনাল বলেন, একটু কষ্ট হলেও আপনাকে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি তারিখে ট্রাইব্যুনালে আসতে হবে।
গত ১৫ জানুয়ারি মাওলানা একেএম ইউসুফকে প্রয়োজন ছাড়া মামলা চলাকালীন সময় ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেন ট্রাইব্যুনাল। ওইদিন শারীরিক অসুস্থতার কারণে আদালতে অনুপস্থিত থাকার জন্য মাওলানা ইউসুফের পক্ষে একটি আবেদন দায়ের করা হয়। আবেদনে বলা হয়, ইউসুফ সাহেব কাশিমপুর কারাগারে থাকেন। তার ওষুধপত্রও সেখানে থাকে। ঠান্ডার মধ্যে দীর্ঘ পথ যাতায়াত করতে যেয়ে তিনি আরো অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তিনি দীর্ঘদিন থেকে অসুস্থ। অসুস্থ ব্যক্তির থেকে মামলা চলাকালীন সময় অনুপস্থিত থাকা ট্রাইব্যুনাল রুলস পারমিট করে।
গত ১ আগস্ট মাওলানা একেএম ইউসুফের বিরুদ্ধে একাত্তর সালে সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ গঠন করা হয়। তার বিরুদ্ধে ১৩টি অপরাধের ঘটনা আমলে নিয়ে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। গত বছরের ১২ মে ট্রইব্যুনালের আদেশে ধানমন্ডির বাসা থেকে মাওলানা একেএম ইউসুফকে গ্রেফতার করা হয়। গত ৮ মে মাওলানা একেএম ইউসুফের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। গত ২২ এপ্রিল মাওলানা একেএম ইউসুফের বিরুদ্ধে তদন্ত চূড়ান্ত করে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।


জীবনী :
বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী মাওলানা একেএম ইউসুফ  ১৯২৬ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে বাগেরহাট জেলার শরনখোলায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫০ সালে তিনি মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে ফাজিল পরীক্ষায় পূর্ব পাকিস্তানে প্রথম স্থান অধিকার করেন। ১৯৫২ সালে তিনি কামিল পাশ করেন। এরপর তিনি হাদিশ বিষয়ে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেন এবং মোমতাজুল মোহদ্দেসিন খেতাব লাভ করেন। খুলনা আলিয়া মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন মাদ্রাসায় তিনি শিক্ষকতা শুরু করেন শিক্ষা জীবন শেষে। ৩৫ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে  মাওলানা একেএম ইউসুফ খুলনা এবং বরিশাল অঞ্চল থেকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য (এমএনএ) নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার পূর্বে তিনি প্রথমে ১৯৫৬ থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত খুলনা জামায়াতের আমির,  পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর স্বাধীন বাংলাদেশে তিনি তিনবার জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল এর দায়িত্ব পালন করেছেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি জামায়াতের নায়েবে আমির হিসেবে বহাল ছিলেন।
রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের পাশাপাশি ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ চাষী কল্যাণ সমিতি।
মহাগ্রন্থ আল কোরআন কি ও কেন, দারসুল কোরআন, হাদিসের আলোকে প্রভৃতি গ্রন্থের লেখক। মাওলানা একেএম ইউসুফ একাধারে আরবি, ইংরেজি, উর্দু এবং ফার্সি ভাষায় পারদর্শী ছিলেন।
মাওলানা ইউসুফ পাঁচ কন্যা ও তিন পুত্রের জনক ছিলেন।

মাওলানা ইউসুফ সম্পর্কে বড় ছেলের জবানবন্দী:
মাওলানা ইউসুফের বড় ছেলে একেএম মাহবুবুর রহমান গত ৫ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনালে দেয়া জবানবন্দীতে বলেছিলেন, ’৭১ সালের সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে আমার পিতা মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হলে আমরা পরিবারের সদস্যরা ঢাকা মিন্টু রোডে একই সঙ্গে বসবাস করতাম। ’৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর মালেক মন্ত্রী সভার পদত্যাগের পর রেডক্রস ঘোষিত নিরপেক্ষ এলাকা হোটেল ইন্টারকন্টিডেন্টালে আমার পিতাসহ আমরা পরিবারের সবাই আশ্রয়গ্রহণ করি। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের চার বা পাঁচ দিন পরে রেডক্রস কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে। এরপর আমরা এক থেকে দেড়মাস ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে আমার পিতাসহ স্বপরিবারে ভারতীয় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধায়নে ছিলাম। একপর্যায়ে ভারতীয় সেনাবাহিনী মালেক মন্ত্রী সভার আটককৃত সদস্যদের বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করে এবং বাংলাদেশ সরকার তাদের কারাগারে প্রেরণ করে।
১৯৭২ সালে আমার পিতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। সে মামলায় তার যাবজ্জিবন কারাদণ্ড হয়। কিন্তু যেহেতু আমার পিতার বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠনের অভিযোগ ছিল না সেজন্য ১৯৭৩ সালের ডিসেম্বর মাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ঘোষিত সাধারণ ক্ষমার আওতায় আমার পিতাকে ওই বছরের ১৬ ডিসেম্বরের পূর্বে মুক্তি দেয়া হয়। আমার পিতা অখন্ড পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন সত্য কিন্তু কোন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। স্বাধীনতার ৪০ বছর পর সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণদিত হয়ে ২০০৯ সাল থেকে আমার পিতার বিরুদ্ধে কিছু মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। তার একটি হল এই মামলার সাক্ষী লিয়াকত আলী খান কর্তৃক দায়েরকৃত মোড়লগঞ্জ থানার মামলা নং ২২ (৫) ২০০৯। আমার পিতার বিরুদ্ধে দালাল আইন ১৯৭২ এর অধীনে একটি মামলা হয়। এই মামলায় স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-৩ তাকে যাবজ্জিবন কারাদণ্ড দেয়। উক্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আমার পিতা হাইকোর্টে আফিল দায়ের করেছিলেন। এই মামলায় কয়েকটি ঘটনা সংক্রান্ত যথাক্রমে বাগেরহাট, মোড়লগঞ্জ ও কচুয়া থানায় দায়ের করা হয়েছিল। সেখানে আসামী হিসেবে আমার পিতার নাম ছিল না।







মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারি, ২০১৪

আল্লাহর পরে প্রধানমন্ত্রী এরপর আমরা : বললেন ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান

মেহেদী হাসান,
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেছেন, আল্লাহর পরে প্রধানমন্ত্রী এরপর আমরা।   আজ ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা পরিচালনার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

ট্রাইব্যুনালে একটি মিস মামলার আদেশের জন্য ধার্য্য ছিল আজ। মামলার  একটি পক্ষ  হিসেবে  বাগেরহাট নোটারী পাবলিকের দুই আইনজীবী শেখ আবদুল ওয়াদুদ এবং শামীমা আক্তারের উপস্থিতে এ আদেশ প্রদানের কথা ছিল। কিন্তু তারা কেউ গতকাল ট্রাইব্যুনালে হাজির ছিলেননা।

অবরোধের কারনে তারা আসতে না পারায় তাদের পক্ষে অ্যাডভোকেট গাজি এমএইচ তামিম সময় প্রার্থনা করেন। চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, ওনারা আসেননি কেন? ওনারা কোথায়?  এসময় গাজি তামিম হরতাল অবরোধ এবং নির্বাচনের পরের পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন এসব কারনে তারা আসতে পারেননি।
তখন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, এভাবে হয়না। আদালতে আইনজীবীরা আসছেন। বিভিন্ন এলাকা থেকে মামলার সাক্ষীরাও আসছে। গাড়ি ঘোড়া সব চলে । সবাই আসতে পারেন আর ওনারা পারেননা?  আসবেন, আমরা আসার ব্যবস্থা করলে আপনে আপনেই আসবেন। পরের  দিন  তারা আসতে না পারলে যেখানে যাবার সেখানে যেতে হবে তাদের। এর আগেও আমরা তাদের অনেক সুযোগ দিয়েছি।

এসময় গাজি তামিম বলেন তারা আসার জন্য চেষ্টা করেছেন। কিন্তু পারেননি। হরতাল অবরোধে সারা দেশে বর্তমান কি অবস্থা বিরাজ করছে তা আপনারা জানেন মাইলর্ড।
তখন ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বলেন, ওনারা চেষ্টা করলে আসতে পারতেন। চেষ্টা করলে ভেঙ্গে ভেঙ্গে আসতে পারতেন। আসলে ওনারা চেষ্টা করেননি। আমরা চেষ্টা করিয়ে দিলেই তারা আসবেন।


ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বলেন, এসব নাটক আর কতদিন চলবে? এসব বন্ধ করেন। এসব নাটক করে কি হবে? দেশে ইলেকশন হয়েছে।  সবকিছু চলছে। কোনকিছুতো থেমে নেই। তিনি বলেন,  আমরা অনেক সুযোগ দিয়েছি। এসব সুযোগ গ্রহণ করেন।  আমাদেরও সহ্য এবং ধৈর্য্যের একটা সীমা আছে। আমাদের ধৈর্য্যরে সে বাঁধ ভেঙ্গে দিবেননা। আমরা আর কত অপেক্ষা করব? আমাদের যদি আপনারা ক্ষেপিয়ে তোলেন এবং আমরাও যদি রাগের বশে তাদের বিরুদ্ধে কোন আদেশ দেই সে আদেশের  বিরুদ্ধে কোন আপিল করতে পারবেননা। কি তামিম সাহেব পারবেন কোন আপিল করতে?

ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান এরপর বলেন, দেখুন  আল্লাহর পরে প্রধানমন্ত্রী এরপর আমরা ।  আমরা কারো জন্য  আর অপেক্ষা করবনা। দেশ যেভাবে এগিয়ে যাওয়ার সেভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে।  আমাদেরও একইসাথে এগিয়ে যেতে হবে।

ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান গাজি তামিমকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি তো ট্রাইব্যুনালে এসেছেন। আপনাকে তো আগুন, বোমা, হামলা, জামায়াত-শিবির, পুলিশ আওয়ামী লীগ কিছু করতে পারেনা। আপনি তো আসতে পারেন। তারা কেন আসতে পারছেনা? 

মিস মামলার প্রেক্ষাপট : জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের  সপ্তম সাক্ষী ছিলেন আসিয়া খাতুন ।

মাওলানা ইসুফের পক্ষে আইনজীবী গাজি এমএইচ তামিম দৈনিক নয়া দিগন্তকে বলেন, সাক্ষী আসিয়া খাতুন ২০১০ সালে মাওলানা উসুফের বিরুদ্ধে তার স্বামী হত্যার বিষয়ে অভিযোগ করে একটি মামলা করেন। সে মামলাটি ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।
গাজি তামিম বলেন, আসিয়া খাতুন ২০১০ সালের মামলায় মাওলানা ইউসফ সাহেবকে আসামী করলেও মামলা দায়ের করার তি/চার মাস পরে একটি এফিডেভিট করেন বাগেরহাট নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে। সে এফিডেভিটে  তিনি বলেন, তার স্বামী হত্যার সাথে  মাওলানা ইউসুফের কোন সম্পর্ক নেই। ভুল করে তার স্বামী হত্যায় মাওলানা ইউসুফকে আসামী করা হয়েছে।  আসামীর তালিকা থেকে মাওলানা ইউসুফের নাম বাদ দিয়ে তিনি এ এফিডিভিট করেন।

গাজি তামিম বলেন, গত ১৭ নভেম্বর আমরা স্বাক্ষীকে জেরার সময় তার এ এফিডেভিট তাকে আদালতে প্রদর্শন করি। তখন  তিনি বলেন এফিডেভিট এর ছবি তার কিন্তু তিনি এফিডিভিট এবং এর স্বাক্ষর অস্বীকার করেন। । তখন ট্রাইব্যুনাল এফিডেভিট বিষয়ে জানতে চান। আমারা ট্রাইব্যুনালকে আমাদের সংগৃহীত কপি জমা দিয়েছি। এপর বাগেরহাট নোটাারি পাবলিক এর যে আইনজীবী  এফিডেভিট করেন এবং যিনি এটি সনাক্ত করেছেন সেই দুই আইনজীবীকে  তলব করে আদেশ দেন এ বিষয়ে জানার জন্য। ৪ ডিসেম্বর প্রথম তাদের হাজিরের জন্য দিন ধার্য্য ছিল।

গাজি তামিম বলেন, হরতাল অবরোধের কারনে এর আগেও বেশ কয়েকবার তারা আসতে পারেননি। তবে পরবর্তীতে তারা দুজন পৃথকভাবে এসে আদালতে হাজিরা দিয়েছেন এবং জানিয়েছেন যে, তাদের মাধ্যমে আসিয়া খাতুন এফিডেভিট করিয়েছেন। আজ  এ বিষয়ে আদেশ এর জন্য ধার্য্য ছিল।


মঙ্গলবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৩

একেএম ইউসুফের বিরুদ্ধে আরো ২ সাক্ষীর জেরা সম্পন্ন

২৪/১২/২০১৩
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে  আমির মাওলানা একেএম ইউসুফের বিরুদ্ধে ১৩ তম সাক্ষী সুধাংশু মন্ডল এবং ১৪ তম সাক্ষী বাবুল কুমার মিস্ত্রীর জেরা শেষ হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম সাক্ষীদের জেরা করেন। তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট গাজি এমএইচ তামিম।

জেরা :
প্রশ্ন : পাকিস্তান সেনাবাহিনী রামপাল এবং বাগেরহাট আসার আগে স্বাধীনতাবিরোধীদের ওই এলাকায় কোন তৎপরতা ছিলনা।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে ১৩ অক্টোবরের পূর্বে কোথায় ছিলেন?
উত্তর : স্মরন করতে পারছিনা। তবে ওই সময় আমরা যত্রতত্র ঘোরাফেরা করছিলাম এবং আমাদের কমান্ডার আফজাল সাহেবের সঙ্গেই ছিলাম।
প্রশ্ন : কালেখার দিঘি থেকে ঘনশ্যামপর স্কুল কোন দিকে কতমাইল?
উত্তর : উতরে ১০ মাইল হবে।
প্রশ্ন : কন্যাডুবি গ্রাম রামপাল থানার গৌশম্ভা ইউনিয়নে অবস্থিত।
উত্তর : সত্য।
প্রশ্ন : ঘনশ্যামপুর থেকে পশ্চিম দিকে ভোলা নদী অতিক্রম করে কন্যাডুবি যেতে হয়।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে কন্যাডুবি খেয়াঘাট ছিল?
উত্তর : ছিল।
প্রশ্ন : ঘনশ্যামপুর স্কুল থেকে কন্যাডুবি খেয়াঘাট কোন দিকে কতদূরে?
উত্তর :   দক্ষিনে ৬/৭ মাইল দূরে।
প্রশ্ন : শাহাদাত কাজী ওরফে বাশার কাজী ১৯৭১ সালে মেম্বার ছিল এবং সে মুসলিম লীগ করত।
উত্তর : সত্য।
প্রশ্ন : সিদ্দিক মাস্টারও মুসলিম লীগ করতেন।
উত্তর : সত্য ।
প্রশ্ন : তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন এবং শান্তি কমিটিরও চেয়ারম্যান ছিলেন।
উত্তর : সত্য।
প্রশ্ন : বাশার কাজী  বর্তমানে জীবিত আছেন?
উত্তর : জীবিত।
ট্রাইব্যুনালের প্রশ্ন : আপনি জবানবন্দীতে শাহাদাত কাজী ওরফে বাশার কাজীকে একই ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন এটা কি ঠিক?
উত্তর : শাহাদাত কাজী এবং বাশার কাজী একই ব্যক্তি নন। শাহাদাত কাজী বর্তমানে মৃত।

চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান এর নেতৃত্বে  তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

সোমবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৩

একেএম ইউসুফের বিরুদ্ধে ১২ তম সাক্ষীর জেরা

23/12/2013
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা একেএম ইউসুফের বিরুদ্ধে ১২ তম সাক্ষীর জেরা সম্পন্ন হয়েছে। সাক্ষীর নাম শেখ আফজাল হোসেন।  গত ২৫ নভেম্বর তার জবানবন্দী গ্রহণ করা হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ। 
অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম সাক্ষীকে জেরা করেন। তাকে সহায়তা করেন গাজী এমএইচ তামিম।

জেরা :
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে ইপিআর এ কোন পদে ছিলেন?
উত্তর : হাবিলদার।
প্রশ্ন : ১৯৭২ সালে বিডিআর এ যোগ দিয়েছিলেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : বিডিআর থেকে আপনি কোন অবসার ভাতা পাননা।
উত্তর : পাইনা।
প্রশ্ন : মুক্তিযুদ্ধের আগেই আপনাকে ইপিআর থেকে বরখাস্ত করা হয়? 
উত্তর : না।
প্রশ্ন : সাক্ষী সুধাংশু মন্ডলকে কতদিন ধরে চেনেন?
উত্তর : মুক্তিযুদ্ধের সময় পরিচয় হয়।
প্রশ্ন : তিনি বর্তমানে বাগেরহাট অ্যাডভোকেট জ্ঞানেন্দ্রনাথ মন্ডলের সহকারি।
উত্তর : জানা নেই।
প্রশ্ন : স্বরোচিশ সরকার নামে কারোর নাম শুনেছেন যিনি একাত্তরে বাগেরহাট নামে বই লিখেছেন?
উত্তর : শুনে থাকতে পারি। এখন মনে নেই।
প্রশ্ন : মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে কোন লেখক বা সাংবাদিকের কাছে ঘটনা বর্ননা করেছেন কখনো?
উত্তর : ৫/৭/১০ বছর আগে সাংবাদিকরা এসেছিলেন। তখন কিছু কথা বলেছিলাম।
প্রশ্ন : ভারত থেকে কোন পথে দেশে আসলেন?
উত্তর :  ধুমঘাট মুন্সিগঞ্জ
প্রশ্ন : কালেখার দিঘির পাড় থেকে চুলকাঠি বাজারের দূরত্ব কত?
উত্তর : ১২/১৩ মাইল।
প্রশ্ন : কালেখার দিঘির ১২/১৩ মাইলের মধ্যে কোন আর্মি বা রাজাকার ক্যাম্প ছিল?
উত্তর : এটা তখন জানার অবস্থা আমার ছিলনা।
প্রশ্ন আপনারা কি আর্মি বা রাজাকার ক্যাম্প আক্রমনের জন্য বাগেরহাট গিয়েছিলেন?
উত্তর : হ্যা।
প্রশ্ন : ঘনশ্যামপুর হাইস্কুল থেকে চুলকাঠির দূরত্ব এক মাইল এবং মাঝে নদী আছে।
উত্তর : ১ মাইলের বেশি হবে। মাঝে নদী নাই।
প্রশ্ন : আপনারা যে মাঝির বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন তার দূরত্ব ঘনশ্যামপুর স্কুল থেকে কতদূরে?
উত্তর : ২ মাইল দূরে মরাপশুর নদীর কন্যাডুবি ঘাটের খেয়া মাঝির বাড়িতে আমরা ১২/১৩ জন আশ্রয় নিয়েছিলাম।
প্রশ্ন : নদীর ধারা এবং ঘনশ্যামপুর স্কুলের মাঝে চুলকাঠি বাজার।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : নদীর ধারে মাঝির বাড়ি থেকে ঘনশ্যামপুর স্কুল কোন দিকে কতদূর?
উত্তর : দণি পশ্চিম দিকে দেড় মাইল।
প্রশ্ন : ঘনশ্যামপুর স্কুল থেকে চুলকাঠি বাজার কোন দিকে?
উত্তর : পূর্ব দিকে।
প্রশ্ন : মরা পশুর নদীর পার হয়েছিলেন ভারতে যাবার সময়?
উত্তর : হ্যা।
প্রশ্ন : মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে রজব আলী ফকিরের নাম শুনেছেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : ১৯৭০ সালে সে মুসলিম লীগের সদস্য হিসেবে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের প্রার্থী ছিলেন তা কি ১৯৭১ সালে শুনেছেন?
উত্তর : তখন তো সে রাজাকার ছিল। কালেখার দিঘির কাছে প্রায়ই সে আমাদের ওপর আক্রমন পরিচালনা করত।
প্রশ্ন : আহত হবার কতদিন পর স্বাভাবিক চলাফেরা শুরু করেন আপনি ?
উত্তর : দেড়/দুই মাস।
প্রশ্ন : মুক্তিযুদ্ধের আগে খান এ সবুর খান, একেএম ইউসুফ সাহেবকে চিনতেন?
উত্তর : খান এ সবুরের নাম শুনেছি চিনতামনা । ইউসুফ সাহেবের নাম শুনিনি।
প্রশ্ন : আপনার ভগ্নিপতির ভাই আশরাফুলের বাড়ি কোথায়?
উত্তর : ঘনশ্যামপুর।
প্রশ্ন : সে জীবিত?
উত্তর : হ্যা।
প্রশ্ন : সে কি মুক্তিযুদ্ধ করেছে?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : ঘনশ্যামপুর স্কুলে পরে আর গিয়েছিলেন?
উত্তর : হ্যা।
প্রশ্ন : আপনাদের সেট করা বোমায় স্কুল বিধ্বস্ত হয়?
উত্তর : চেয়ার টেবিল বিধ্বস্ত হয়।
প্রশ্ন : আপনি জবানবন্দীতে বলেছেন, রাজাকারদের মধ্যে দেখলাম পাজামা পাঞ্জাবী পরা মুখে সামান্য দাড়ি সে অন্যদের বলল এদের বাঁচিয়ে রেখে লাভ কি? গুলি কর। এ তথ্য আপনি তদন্ত কর্মকর্তাকে দিয়েছেন?
উত্তর : হ্যা।
প্রশ্ন : ভগ্নিপতির ভাই বলল সাদা পাজামা পাঞ্জাবি পরা লোকটি একেম ইউসুফ। তার নির্দেশে এ হত্যাকান্ড হয়েছে। এ তথ্য কি তদন্ত কর্মকর্তাকে দিয়েছেন?
উত্তর : দিয়েছি।
প্রশ্ন : জবানবন্দীতে বলেছেন, স্থানীয় চেয়ারম্যানের ভাতিজা জানিয়েছে  ইউসুফ সাহেবের নির্দেশে রাজাকার চারদিক থেকে ঘিরে ফিলেছে। ইউসুফ সাহেব কোথায় কার সামনে বসে রাজাকারদের আক্রমন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তা কি আপনার ভাতিজা আপনাকে বলেছিলেন?
উত্তর : রাজাকারদের আসার খবর দিয়ে সাথে সাথে সে চলে যায়। একথা বলার অবস্থা ছিলনা।

প্রশ্ন : চেয়ারম্যানের ভাতিজাকে আগে কখনো দেখেছিলেন?
উত্তর : ওইদিন ওই সময়ই প্রথম দেখা।
প্রশ্ন : ইউসুফ সাহেব খুলনায় অবস্থান করতেন।
উত্তর : শুনেছি খুলনায় ভুতের বাড়ির সামনে থাকতেন।
প্রশ্ন : একেএম ইউসুফ সাহেবের নির্দেশ ঘনশ্যামপুর হাইস্কুলে আক্রমন করার কথা অসত্য।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : সাদা পাজামা পাঞ্জাবী পরা মুখে সামান্য দাড়ি দাড়িওয়ালা লোকটি ছিল একেএম ইউসুফ। সে বলল এদের বাঁচিয়ে রেখে লাভ কি। গুলি কর। আপনার একথা অসত্য।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : ইউসুফ সাহেব কখনো বাগেরহাটের কোথাও  যাননি।
উত্তর : অসত্য।

সাড়ে ১২টার দিকে জেরা শেষ হলে বিকালের সেশনে  মুলতবি আবেদন জানিয়ে মিজানুল ইসলাম বলেন, আগামীকাল ১৩ ও ১৪ তম সাক্ষীর তিনি জেরা করতে চাচ্ছেন। কোর্ট আবেদন মঞ্জুর করেন।
ট্রাইব্যুনাল-২ চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, সদস্য বিচারপতি মুজিবুর রহমান ও বিচারপতি শাহীনূর ইসলাম বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।


মঙ্গলবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৩

৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে ৭ সাক্ষীর জেরার সুযোগ আসামী পক্ষের

১৭/১২/২০১৩
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা একেএম ইউসুফের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের সাত সাক্ষীকে  জেরা করার অনুমতি পেয়েছে আসামী পক্ষ। এজন্য আসামী পক্ষকে ৪০ হাজার টাকা খরচ ধার্য্য করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

হরতাল অবরোধের কারনে আসামী পক্ষের সিনিয়র আইনজীবীরা ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হওয়া থেকে বিরত থাকেন। এসময় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের জবানবন্দী গ্রহণ করা হলেও আসামী পক্ষের সিনিয়র আইনজীবী না থাকায় তাদের জেরা করা হয়নি। বিভিন্ন সময় জুনিয়র আইনজীবী গাজী এমএইচ  তামিম দুয়েকটি প্রশ্নের মাধ্যমে জেরা করে মুলতবি আবেদন করেন। ট্রাইব্যুনালও বিভিন্ন সময় মুলতবি করে আসামী পক্ষকে সময় দিয়েছেন এবং জেরার জন্য পরবর্তী তারিখ ধার্য্য করেছেন। কিন্তু টানা হরতাল অবরোধ চলতে থাকায় জেরার জন্য নির্ধারিত তারিখে আসামী পক্ষের সংশ্লিষ্ট আইনজীবী উপস্থিত হননি। ফলে এভাবে রাষ্ট্রপক্ষের সাতজন সাক্ষীর জেরা অসমাপ্ত অবস্থায় বন্ধ ঘোষনা করা হয়।
এছাড়া মাওলানা ইউসুফের পক্ষে আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমানের ওপরও  ট্রাইব্যুনালে মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
এ পরিস্থিতিতে আসামী পক্ষ বন্ধ ঘোষনা করা সাক্ষীদের জেরার সুযোগ এবং মিজানুর রহমানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা আদেশ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করে। মিজানুর রহমানের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার আবেদন খারিজ করে দেয় ট্রাইব্যুনাল।
অপরদিকে সাক্ষীদের জেরা করার সুযোগ চেয়ে দায়ের করা আবেদন গ্রহণ করা হয়। তবে তাদের জেরার জন্য সময় নির্দিষ্ট করে দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। রাষ্ট্রপক্ষের ১২,১৩,১৪ এবং ১৫ নং সাক্ষীকে ২৩ ও ২৪ ডিসেম্বর এবং ১৬,১৭ ও ১৮ নং সাক্ষীকে ২৯ ও ৩০ ডিসেম্বর জেরার জন্য ধার্য্য করে দেয়া হয়।
এদিকে সৈয়দ মিজানুর রহমানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় মাওলানা ইউসুফের পক্ষে মিজানুল ইসলামকে নতুন আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আজ মিজানুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন ট্রাইব্যুনাল -২ এ।
সৈয়দ মিজানুর রহমানের ওপর নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে আসামী পক্ষের রিভিউ আবেদনের ওপর শুনানী করেন অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান। তিনি বলেন, সৈয়দ মিজানুর রহমানকে যদি ভবিষ্যতে এ মামলায় বা অপর কেউ ট্রাইব্যুনালের মামলা পরিচালনায় নিয়োগ দিতে চায় সে সুযোগ যেন দেয়া হয়। মিজানুর রহমানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার অনুরোধ করেন তিনি।
তখন ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, তাকে আর এ ট্রাইব্যুনালে দেখতে চাইনা। এই কোর্ট ওনার প্রতি গোসসা।
সাইফুর রহমান তখন বলেন, আমরা আপনাদের গোসসা ভাঙ্গাতে এসেছি।
এরপর ট্রাইব্যুনাল তার বিষয়ক আবেদন খারিজ করে দেয়।
এদিকে  জাতীয় পার্টির সাবেক কৃষি প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মো: কায়সারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের চার্জ গঠন শুনানী শেষ হয়েছে আজ। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রানাদাস গুপ্ত শুনানী পেশ করেন । ১৯৭১ সালে হত্যা, গনহত্যাসহ মানবতাবিরোধী ১৮টি অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
আগামী ১৯ ডিসেম্বর আসামী পক্ষের শুনানীর জন্য ধার্য্য করা হয়েছে।

মঙ্গলবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৩

অবরোধে অনুপস্থিত আইনজীবী// আরো এক সাক্ষীর জেরা বন্ধ ঘোষনা

মেহেদী হাসান, ৩/১২/২০১৩
অবরোধের কারনে সিনিয়র আইনজীবী অনুপস্থিত থাকায় মাওলানা একেএম ইউসুফের বিরুদ্ধে আরো এক সাক্ষীর জেরা বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মাওলানা ইউসুফের বিরুদ্ধে ১৪ তম সাক্ষীর জেরার জন্য ধার্য্য ছিল আজ। কিন্তু আসামী পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী অনুপস্থিত থাকায় জেরা বন্ধ ঘোষনা করে ট্রাইব্যুনাল। এর আগে ১২ এবং ১৩ তম সাক্ষীর জেরাও একই কারনে অসমাপ্ত অবস্থায় বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে।

সকাল সোয়া ১১টার দিকে ট্রাইব্যুনাল বসলে আসামী পক্ষে উপস্থিত জুনিয়র আইনজীবী গাজী এমএইচ তামিম ১৪ তম সাক্ষীর জেরা মুলতবি রাখার জন্য আবেদন করেন। ট্রাইব্যুনাল জানতে চান কেন মুলতবি করা হবে। গাজি তামিম বলেন, অস্বাভাবাবিক পরিস্থিতির কারনে  তিনি আসতে পারেননি। অবরোধে হাইকোর্টেরও কোন বেঞ্চ বসেনি।
এসময় সদস্য বিচারপতি মুজিবুর রহমান বলেন, আমরা কি হাইকোর্টের আন্ডারে? চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, প্রধান বিচারপতি বলেছেন, আমরা স্বাধীন। আমরা স্বাধীনভাবে কাজ করব।
এসময় গাজি তামিম অবরোধ পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তার বিষয়টি তুৃলে ধরার চেষ্টা করলে অপর সদস্য বিচারপতি শাহীনূর ইসলাম বলেন, কতদিন মুলতবি করব? অবরোধ তো চলছে। আপনাদের আইনজীবী  সৈয়দ মিজানুর রহমান যেদিন আসতে পারবে সেদিন পর্যন্ত মুলতবি করব আমরা? এভাবে কি চলতে পারে?
এ পর্যায়ে গাজি তামিম আবারো অবরোধ এবং সহিংস পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, কার ওপর কখন যে কোন দিক দিয়ে হামলা হয় কেউ বলতে পারেনা।
এসময় চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, দেখুন স্বাভাবিক পরিস্থিতিতেও অনেক মানুষ দুর্ঘটনায় পড়ে, মারা যায়। তাই বলে সবাই ঘরে বসে নেই। কপালে যা আছে হবেই । মৃত্যু যেভাবে লেখা আছে হবেই । এ বিশ্বাস করেন তো নাকি? আল্লাহর ওপর বিশ্বাস আপনাদের কম মনে হয়? দেখুন যে আগুনে পড়ে মারা গেছে মনে করতে হবে এটা তার কপালে লেখা ছিল এভাবে তার মৃত্যু হবে। উছিলা হল ওই বদমাশ যে আগুন দিয়েছে। এ বিশ্বাস রাখতে হবে। এ বিশ্বাস করেনতো নাকি?

এরপর তিনি আসামী পক্ষের সংশ্লিষ্ট সিনিয়র আইনজীবীর প্রতি উদ্দেশ্য করে বলেন, উনি হাটেননা, খাননা, চলাফেরা করেননা? আমরা সবাই কোর্টে আসি, অন্যরা আসে, সাক্ষী আসে, আর উনি আসতে পারেননা? আমরা সবাই আছি শুধু তিনি নেই। দেখুন আমরা চাই উনি কোটি বছর হায়াত পাক। কিন্তু কপালে থাকলে এভাবে মৃত্যু হবে।কেউ ঠেকাতে পারবেনা। কিন্তু তাই বলে বসে থাকলে চলেনা।

এরপর তিনি রাষ্ট্রপক্ষকে নির্দেশ দেন  ১৪ তম সাক্ষীকে কাঠগড়ায় আনার জন্য । গাজি তামিমকে তিনি প্রশ্ন করেন আপনি কি জেরা করবেন? গাজি তামিম বলেন, না। তখন চেয়ারম্যান বলেন জেরা কোজ। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নতুন সাক্ষী আছে? রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জানানো হয় নতুন সাক্ষী নেই আজ। এরপর নতুন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহনের জন্য আগামী রোববার পর্যন্ত মুলতবি করা হয় বিচার কার্যক্রম।


এছাড়া গাজি তামিম ১৩ তম সাক্ষীর জেরা বন্ধের আদেশ বিষয়ে  রিভিউ আবেদন জমা দিলেও তাও খারিজ করে দেয়া হয়।





সোমবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৩

একেএম ইউসুফের বিরুদ্ধে ১৪ তম সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণ : ভারতে বসে পিতার কাছ থেকে ঘটনা শুনেছেন সাক্ষী। পিতাও শুনেছেন অন্যদের কাছে। ১৩ তম সাক্ষীর জেরা বন্ধ ঘোষনা

মেহেদী হাসান, ২/১২/২০১৩
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা একেএম ইউসুফের বিরুদ্ধে আজ ১৪ তম সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। তার নাম বাবুল কুমার মিস্ত্রি। ১৯৭১ সালে তার বয়স ছিল ৭/৮ বছর। সাক্ষী মাওলানা ইউসুফের বিরুদ্ধে ডাকরা গনহত্যা বিষয়ে যে অভিযোগ করেছেন তা তিনি ভারতে বসে তার পিতার কাছ থেকে শুনেছেন বলে জানান। তার পিতাও তখন ভারতে ছিল এবং সেও এ ঘটনা অন্যদের কাছ থেকে শুনেছে বলে জানান সাক্ষী।


এদিকে অবরোধে আসামী পক্ষের সিনিয়র আইনজীবী উপস্থিত না হওয়ায় ১৩ তম সাক্ষীর জেরা বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। গতকাল ১৩ তম সাক্ষীর জবানবন্দী শেষে উপস্থিত জুনিয়র আইনজীবী কয়েকটি প্রশ্নের মাধ্যমে তার জেরা শুরু করেন। এরপর তিনি মঙ্গলবার পর্যন্ত জেরা মুলতবি করার আবেদন করেন । ট্রাইব্যুনাল বলেন, সোমবার পর্যন্ত মুলতবি করা হল। সোমবারও সিনিয়র আইনজীবী না আসলে জেরা বন্ধ করে দেয়া হবে। সকালে ১৩ তম সাক্ষী শুধাংশু মন্ডল কাঠগড়ায় আনা হয় জেরার জন্য। আসামী পক্ষে উপস্থিত জুনিয়র আইনজীবী গাজি এম এইচ তামিম জেরা মঙ্গলবার পর্যন্ত মুলতবির আবেদন করেন। ট্রাইব্যুনাল এসময় জানতে চান মঙ্গলবারও যদি কর্মসূচী থাকে তাহলে কি করবেন। গাজি তামিম বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে ওনারা আসবেন। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল  মৌখিক এ আবেদন আমলে না নিয়ে গতকালের আদেশ অনুযায়ী সিনিয়র আইনজীবী উপস্থিত না হওয়ায় জেরা বন্ধ করে আজ নতুন সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহনের নির্দেশ দেন।

জবানবন্দী : সাক্ষী তার নিজের পরিচয় সম্পর্কে শুরুতে বলেন, আমার নাম বাবুল কুমার মিস্ত্রি। বয়স অনুমান ৪৯/৫০ বছর। পিতা অনিল কৃষ্ণ মিস্ত্রি (মৃত)। গ্রাম ও থানা রামপাল। জেলা বাগেরহাট।

এরপর সাক্ষী বলেন, ১৯৭১ সালের ১৯ এপ্রিল সোমবার সকাল অনুমান ১০টা বা সাড়ে দশটার দিকে রামপাল কলেজ অডিটোরিয়াম এর মাইক থেকে বলা হয় বিকাল তিনটার দিকে শান্তি কমিটির মিটিং হবে। এ অবস্থায় আমাদের বাড়ির সামনে অনেক লোকজন বলাবলি করছিল যে, তিনটার সময় মিটিং আছে। মিটিং শুনতে যেতে হবে। আমি অনুমান সাড়ে তিনটা বা চারটার দিকে আমার কাকা কালীপদ মিস্ত্রির সাথে মিটিংয়ে যাই। মিটিংয়ে গিয়ে দেখি সেখানে অনুমান ৩০০/৪০০ লোক উপস্থিত আছে। গিয়ে দেখি বাগেরহাটগামী একটি লঞ্চ রামপাল ঘাটে আসে। ওখান থেকে অনুমান ৩০/৪০ জন লোক নেমে আসে। তারাআসলেই ওই মিটিংয়ের অনেকে নারায়ে তাকবির বলে মাইকে উল্লাস করতে থাকে। প্রথমে রজব আলী ফকির পরে মোসলেম ডাক্তার বক্তব্য রাখে। মোসলেম ডাক্তার তোতলা ছিল। উনি বললেন, মালায়নকো মাল লোতোপাতো খাও। এদেশ পাকিস্তান, এদেশ মালায়ানদের না। মালায়ানদের মালামাল মহিলাসহ যে যা লুট করে নিতে পার নিয়ে যাও। একথা বলার পর নারায়ে তাকবির বলে স্লোগান দিতে থাকে। এতে আমি ভীত হয়ে কাকার হাত ধরে বাড়ি ফিরে আসি। বাড়ি এসে কাকা সবাইকে চিৎকার করে ডাকতে থাকে। বাড়ির সবাইকে একত্র করে । এরই এক পর্যায়ে আমরা বাড়ির লোকজন বাড়ির পাশের পুকুরেরর পাকা সিড়ির নিচে কুঠুরিতে আত্মগোপন করি। এসময় আমাদের বাড়ির ছয়টি টিনের ঘর এবং চারটি লোহার সিন্দুক লুটপাট করে নিয়ে যায়। লোহার সিন্দুক ভেঙ্গে টাকা সোনাদানা সব নিয়ে যায়। সন্ধ্যায় আমরা আকবর চেয়ারম্যানের বাড়ি চলে যাই। ওই বাড়িতে ২/৩ তিন মাচা ওচকির নিচে আত্মগোপনে থাকি। পরে আকবর চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে আমরা অনেক লোক ভারতের দিকে রওয়ানা হই।

সাক্ষী বলেন, সম্ভবত ১৯/৫/১৯৭১ তারিখ ডাকরায় একটি গনহত্যা হয়। সেখানে আমার মামা কার্তিক হালদার সহ ৫/৭ হাজার লোক সমাগত হয়েছিল। রাজাকাররা চারদিক থেকে ঘেরাও করে এলোপতাড়ি গুলি করে প্রায় ৫০০/৬০০ লোক হত্যা করে। ভারতে থাকা অবস্থায় বাবার কাছে এ ঘটনার কথা শুনেছি। বাবার কাছে শুনেছি ইউসুফ সাহেবের নেতৃত্বে এ হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়।

এ পর্যন্ত বলে জবানবন্দী শেষ করার পর ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান প্রশ্ন করেন ১৯৭১ সালে আপনার বয়স কত ছিল। সাক্ষী বলেন, অনুমান সাত/আট বছর। দেশে ফিরলেন কবে জানতে চাইলে সাক্ষী বলেন, ছয়/সাত মাস পরে। আরেক প্রশ্নের জবাবে সাক্ষী বলেন, সেসময়কার কিছু কিছু ঘটনা আমার মনে আছে। বাকী ঘটনা আমার শোনা।

জবানবন্দী শেষে গাজি এম এইচ তামিম তাকে একটি প্রশ্নের মাধ্যমে জেরা করেন। এরপর জেরা আগামীকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।





রবিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১৩

একেএম ইউসুফের বিরুদ্ধে একটি ঘটনায় ৫০০/৬০০ হিন্দু হত্যার অভিযোগ

মেহেদী হাসান, ১/১২/২০১৩
জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমির একেএম ইউসুফের বিরুদ্ধে আজ ১৩ তম সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণ করা হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।  সাক্ষী একটি ঘটনায় ইউসুফের বিরুদ্ধে ৫ থেকে ৬শ হিন্দু হত্যার নির্দেশ দানের অভিযোগ আনেন।

জবানবন্দী :
আমার নাম শুধাংসু মন্ডল। পিতা মৃত ভবনাথ মন্ডল। ঠিকানা গ্রাম টেংরামারি, থানা রামপাল, জেলা বাগেরহাট। বংস ৫৯। আমি কৃষি কাজ করি।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষনের পর এবং ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষনার পর আমি স্থানীয় জবেদ কমান্ডারের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদের সদস্য হই। ১৯ এপ্রিল ১৯৭১ আমি জানতে পারি রামপাল অডিটোরিয়াম হলে শান্তি  মিটিং হবে। ওই দিন বেলা দুইটা আড়াইটার সময় আমাদের এলাকার সব লোকজন ওই মিটিংয়ে উপস্থিত হই। বেলা তিনটা সাড়ে তিনটার সময় বাগেরহাট থেকে একটি লঞ্চ ৩০-৩৫ জন লোক নিয়ে রামপাল কলেজ ঘাটে ভেড়ে। ওই লঞ্চ থেকে ৩০-৩৫ জন লোক নামে। তারা পাকিস্তান জিন্দাবাদ, একেএম ইউসুফ আলী জিন্দাবাদ স্লোগান দিতে দিতে অডিটোরিয়াম সভাপস্থলে উপস্থিত হয়। ওই মিটিংয়ে রজ্জব আলী (মৃত), মোজাম ডাক্তার, মোসলেম ডাক্তার বক্তব্য দেয়ার পর সর্বশেষ বক্তব্য রাখেন এ কে এম ইউসুফ আলী। বক্তব্যে ইউসুফ আলী বলেন, মালায়ন খতম কর। এদেশ হিন্দুদের নয়। এদেশ মুসলমানদের। হিন্দুদের মালামাল, মহিলা গনিমতের মাল। এসবই ভোগ করতে পারে যেকেউ।  এতে কোন অপরাধ নেই। সর্বশেষ বলে লোটোপাট খাও, মালায়ন খতম কর। একথা বলার পর নারায়ে তকবির দিয়ে ইউসুফের সঙ্গীয় লোকজন স্থানীয় রামপাল সদরে অবস্থিত যাদব মিস্ত্রি, কৃষ্ণধন মিস্ত্রিী এদের বাড়ির ওপর চড়াও হয়ে ঘরবাড়ি তছনছ করে মালামাল নিয়ে লঞ্চযোগে বাগেরহাটের দিকে চলে যায়। এরপর আমি বাড়িতে এসে সবাইকে এ ঘটনার কথা খুলে বলি।
একেএম ইউসুফ আলী খুলনা শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান হন এবং বিভিন্ন এলাকার লোকজন নিয়ে রাজাকার বাহিনী গঠন করেন। রাজাকার বাহিনীকে ইউসুফ আলী নির্দেশ দেয় হিন্দুদের বাড়ি নষ্ট করবা এবং যেখানে পাবা তাদের হত্যা করবা, এদেশ পাকিস্তান।

২১ মে ১৯৭১ রামপাল থানাধীন ডাকরা কালিবাড়িতে হাজার হাজার হিন্দুরা এসে আশ্রয় নেয় সেখান থেকে ভারতে চলে যাবার জন্য। একেএম ইউসুফ বাগেরহাটের রাজাকার রজ্জব আলী, সিরাজ মাস্টারকে নির্দেশ দেন ডাকরা কালিবাড়িতে আশ্রয় গ্রহণকারী ব্যক্তিদেরকে ধ্বংস করে ফেলার জন্য। এই নির্দেশের প্রেক্ষিতে রাজাকাররা ২১ মে, ১৯৭১ তারিখে ডাকরা কালিবাড়িতে আক্রমন করে ৫০০/৬০০ হিন্দুদের হত্যা করে। ওই হত্যাযজ্ঞ থেকে বেঁচে যাওয়া একজনের নাম আমি বলতে পারি। সে হল নারায়ন চৌকিদার যার বাড়ি আমার বাড়ি থেকে দুই মাইল দূরে।
এসময় ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান ওবায়দুল হাসান সাক্ষীকে প্রশ্ন করেন, ইউসুফ সাহেব যে নির্দেশ দিলেন তা আপনি জানলেন কি করে? আপনি তো র্নিদেশ দেয়ার সময় উপস্থিত ছিলেননা।
তখন সাক্ষী বলেন, আমাদের এলাকার শান্তি কমিটির নেতা সিদ্দিক মাস্টার, শাহাদাত কাজী ওরফে বাসার কাজী  প্রমুখদের কাছ থেকে শুনেছি ইউসুফ সাহেবের নির্দেশে রাজাকাররাও ওইসব ঘটনা ঘটায়।
ট্রাইব্যুনাল আবার প্রশ্ন করেন, যে দুই জনের নাম বললেন তারা কি জীবিত না মৃত। সাক্ষী বলেন, মৃত।

এরপর সাক্ষী বলেন, ২২ মে ১৯৭১ সকাল বেলা নারায়ন চৌকিদার আমাদের বাড়িতে এসে সবাইকে বলল এদেশে  আর থাকা যাবেনা। সবাইকে ভারতে চলে যেতে হ।ে তারপর আমরা আমাদের গ্রামের সবাইকে নিয়ে ভারতে চলে যাই। ভারতের বশিরহাটে আশ্রয় নেই। সেখানে আমার বাবা মাকে রেখে আমি মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিংয়ের জন্য বিহারের চালুকিয়াতে চলে যাই। ২৭ দিন ট্রেনিং শেষে আফজাল কমান্ডারের সঙ্গে ৯ নং সেক্টর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করি। দেশে এসে বিভিন্ন রনাঙ্গনে যুদ্ধ করি।
সর্বশেষ ১৩ অক্টেবার ১৯৭১ বাগেরহাট থানার ঘনশ্যামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাটি করে। ওই দিনই বাগেরহাট থেকে রাজাকার রজ্জব আলী ফকিরের নেতৃত্বে রাজাকাররা আমাদের ঘিরে ফেলে চারদিক থেকে। রাজাকারদের সাথে আমাদের তুমুল যুদ্ধ হয়। জায়গাটি অচেনা বিধায় আমরা যুদ্ধে টিকতে না পেরে ছিন্নভিন্ন হয়ে যাই। আমরা চার/পাঁচজন পাশের একটি সুপারি বাগানে আশ্রয় নেই। পরদিন ১৪ অক্টোবর ভোরে একটি লোক আমাদের দেখে ফেলে। সে আমাদেরকে জানায় যেখানে আছেন সেখান থেকে নডবেননা। আপনাদের বেশ কিছু মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় লোকজনকে ধরৈ রাজাকাররা চুলকাঠি বাজারে নিয়ে গেছে। সেখানে তাদেরকে হত্যা করে হবে বলে শুনেছি। এই লোকটি পরে আমাদেরকে এসে জানায় ইউসুফের নির্দেশে চুলকাঠি বাজারের কাছে একটি কাঠের ব্রিজের ওপর মোট সাতজনকে রাজাকাররা হত্যা করেছে। এর মধ্যে বিজয় দাস ও সুনীল নামে দুজনের নাম সে আমাদেরকে বলতে পেরেছে। বাকিদের নাম বলতে পারেনি। ওই লোকটি আমাদেরকে ১৪ অক্টোবর একটি নৌকাযোগে খুলনা জেলার বটিয়াঘাটায় পৌছে দেয়।

অবরোধের কারনে আসামী পক্ষের সিনিয়র কোন আইনজীবী উপস্থিত ছিলনা ট্রাইব্যুনালে। আসামী পক্ষে গাজী এম এইচ তামিম নামে একজন মাত্র জুনিয়র আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। তিনি সাক্ষীকে জেরা শুরু করেন।
জেরা :
প্রশ্ন : ১৩ অক্টোবরের যে ঘটনা আপনি বললেন তা সত্য নয়।
উত্তর : অসত্য।
প্রশ্ন : ১৯ এপ্রিল সমাবেশে এ কে এম ইউসুফের বক্তব্য দেয়ার ঘটনাও সত্য নয়।
উত্তর : অসত্য।
প্রশ্ন : ওই বক্তব্য দিয়েছিল রজ্জব এবং মোজাম ডাক্তার। ইউসুফ সাহেব নয়।
উত্তর : অসত্য।
প্রশ্ন : ওই দিন ছাড়া আর কোন শান্তি কমিটির মিটিংয়ে গেছেন কখনো?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : আপনার জানামতে  আর কোন হিন্দু কি শান্তি কমিটির মিটিংয়ে গেছে কখনো?
উত্তর : আমরা ভারতে যাবার আগ পর্যন্ত রামপালের ওই সমাবেশ ছাড়া   শান্তি কমিটির আর কোন মটিং হয়নি।
এ পর্যন্ত জেরার পর গাজি তামিম আদালতের কাছে আবেদন করেন যেহেতু সিনিয়র আইনজীবী নেই তাই জেরা দুই দিন মুলতবি রাখার জন্য। তখন ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান ওবায়দুল হাসান বলেন, আগামীকাল পর্যন্ত মুলতবি করা হল। গাজি তামিম আরো সময় প্রার্থনা করলে তিনি বলেন, নো। কাল না আসলে জেরা কোজ করা হবে। উকিল না আসার কারনে বিচারকদের উঠে যেতে হবে এটা আনহার্ড।
এসময় গাজি তামিম অবরোধের সময় সহিংসতার চিত্র তুলে ধরে তাদের চলাচালে রসমস্যার কথা বলেন। তখন চেয়ারম্যান বলেন, পেছনে তাকিয়ে দেখেন সব লোক এসেছে। রাস্তায় হরদম যানবাহন চলছে। অবরোধে রাজধানীর ভেতরে দোকানপাট খোলা রাখা যাবে, যানবাহন চলতে পারবে এটা বলা আছ।গাজি তামিম বলেন দোকানপাট খোলা কিন্তু যানবাহন চলতে পারেনা। খুব কম চলছে। চেয়ারম্যান এ দাবির বিরোধীতা করে বলেন, আপনারা সব জায়গায় যেতে পারেন, টকশোতে যেতে পারেন আর ট্রাইব্যুনালে আসতে পারেননা এটা হবেনা। কাল না আসলে জেরা কোজ।



মঙ্গলবার, ১৪ মে, ২০১৩

মাওলানা ইউসুফের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন শুনানী ৬ জুন//“স্কাইপ সংলাপ হ্যাকিংয়ের জন্য ইকোনমিস্ট দায়ী নয়”





মেহেদী হাসান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা  এ কে এম ইউসুফের জামিন আবেদন খারিজ করা হয়েছে। জামিন আবেদন খারিজ করে আগামী ৬ জুন তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের  শুনানীর জন্য ধার্য্য করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজ  এ আদেশ দেন।

স্কাইপ সংলাপ হ্যাকিংয়ে ইকোনমিস্ট দায়ী নয় : লন্ডন ভিত্তিক সাময়িকী দি  ইকোনমিস্টোর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল-১ কর্তৃক  জারি করা আদালত অবমাননা নোটিশের  ওপর শুনানী অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইকোনমিস্ট’র পক্ষে ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান খান শুনানীতে অংশ নিয়ে বলেন, ট্রাইব্যুনালের সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি  নিজামুল হকের স্কাইপ সংলাপ এবং ২৩০টি ইমেইল ডকুমেন্ট ইকোনমিস্ট কর্তৃপক্ষ তৃতীয় একটি পক্ষের কাছ থেকে লাভ করে। কাজেই স্কাইপ সংলাপ হ্যাকিংয়ের জন্য ইকোনমিস্ট দায়ী। প্রাপ্ত ডকুমেন্ট এর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ইকনোমিস্ট সোর্সের সাথে যোগাযোগ করেছে। কিন্তু গোপনীয়তার স্বার্থে কর্তৃপক্ষ সূত্র প্রকাশ করতে বাধ্য নয়। ব্রিটেনের আইনে সে সুরক্ষা প্রদান করা আছে।

ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রম  নিয়ে বেলজিয়ামের ড. আহমদ জিয়া উদ্দিনের সাথে বিচারপতি নিজামুল হকের স্কাইপ সংলাপ এবং ইমেইল ডকুমেন্ট হাতে পাওয়ার পর ইকোনমিস্ট এর সাংবাদিক বিচারপতি নিজামুল হকের সাথে টেলিফোনে কথা বলেন এর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য। এ প্রেক্ষিতে গত বছর ৬ ডিসেম্বর বিচারপতি নিজামুল হক ইকোনমিস্টের বিরুদ্ধে আদালত অবমনানা বিষয়ে নোটিশ জারি করেন  বিচারপতি নিজামুল হকের   ইমেইল, স্কাইপি একাউন্টস এবং  কম্পিউটর  থেকে যেসব তথ্য সংগ্রহ  করা হয়েছে তা প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় এবং  গোপন রাখার নির্দেশ দেয়া হয় ইকোনমিস্ট এর বিরুদ্ধে।
আদেশে বলা হয়, ইমেইল, স্কাইপি, কম্পিউটার হ্যাক করা, চেয়ারম্যানের কাছ থেকে অবৈধভাবে ব্যক্তিগত গোপনীয় তথ্য সংগ্রহ করা   ব্যক্তিগত গোপনীয়তার লঙ্ঘন এবং  বাংলাদেশের সুপ্রীম কোর্টের একজন বিচারপতিকে প্রভাবিত করার শামিল। টেলিফোনে চেয়ারম্যানের সাথে যিনি এ বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি  নিজেকে চেয়ারম্যানের সাথে কথপোকথনে লিপ্ত করেছেন এবং আইন অনুযায়ী তিনি এটি পারেননা।
তাই বিচারকাজে বাঁধা সৃষ্টি এবং হস্তক্ষেপ এর অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননা বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবেনা সে মর্মে ব্যাখ্যা দানের নির্দেশ দেয়া হয়।

আজ শুনানীর সময় ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমানকে ট্রাইব্যুনাল প্রশ্ন করেন, বিচারকের সাথে সাংবাদিকের কথা বলা অপরাধ কি-না। 
মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে এ বিষয়ে কোন আইন নেই এবং কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনেরও কোন নজির নেই। বিচারপতি ফয়সাল মাহমুদ ফয়েজীর  সাথে  দৃটি পত্রিকার সাংবাদিক কথা বলে রিপোর্ট করেছিলেন। সে ক্ষেত্রে আপিল বিভাগ  একটি পর্যবেক্ষন দিয়ে বলেছিলেন সাংবাদিকরা রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে কথা বলতে পারতেন বিচারকের কাছে কোন কিছু জানতে চাওয়ার ক্ষেত্রে।
ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান ট্রাইব্যুনালকে প্রস্তাব করেন এ ক্ষেত্রেও কিছু পর্যবেক্ষন দিয়ে বিষয়টির সুরাহা করা যেতে পারে।

ইকোনমিস্ট কোন সূত্র থেকে স্কাইপ এবং ইমেইল ডকুমেন্ট সংগ্রহ করেছে তা প্রকাশ করা হয়নি । এ বিষয়ে  ট্রাইব্যুনালের এ প্রশ্নের জবাবে মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, সাংবাদিকরা কোন অবস্থাতেই সূত্র প্রকাশ করতে বাধ্য নয়।

ট্রাইব্যুনাল রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, ইকোনমিস্ট এর বিরুদ্ধে নোটিশের মূল বিষয় ছিল বিচারকের সাথে কথা বলা প্রসঙ্গে। বিচারকের সাথে সাংবাদিকের কথা বলা আদালত অবমাননা কি-না এবং  ইকোনমিস্ট পক্ষ দাবি করেছেন তারা সোর্স প্রকাশ করতে বাধ্য নন। এ বিষয়ে আপনাদের জবাব কি?
তাছাড়া বিচারকের সাথে কথা বলার বিষয়ে ব্রিটেনের আইনে কি আছে সে বিষয়েও মুস্তাফিজুর রহমানের কাছে জানতে চান ট্রাইব্যুনাল।
উভয় পক্ষ জবাব প্রদানের জন্য সময় চাইলে  আগামী ১৮ জুন শুনানীর জন্য পরবর্তী তারিখ ধার্য্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির, সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।


সোমবার, ১৩ মে, ২০১৩

মাওলানা ইউসুফের জামিন আবেদন আদেশ tomorrow. Usuf's bail petition hearing held


মেহেদী হাসান, ১৩/৫/২০১৩
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা এ কে এম ইউসুফের পক্ষে করা জামিন আবেদনের ওপর শুনানী অনুষ্ঠিত হয়েছে।  শুনানী শেষে আগামীকাল  মঙ্গলবার আদেশের জন্য ধার্য্য করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ জামিন আবেদন শুনানীতে অংশ নেন আসামী পক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক ও অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম।

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক শুনানীতে অংশ নিয়ে বলেন, রোববার মাওলানা ইউসুফের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হল। আমরা বলেছিলাম সোমবার আমরা তাকে স্বেচ্ছায় ট্রাইব্যুনালে হাজির করব। ট্রাইব্যুনালও বলেছিলেন আমরা সে সুযোগ পাব। কিন্তু সে সুযোগ পেলাম কোথায়? কোর্টের আদেশের পর লিখিত  ওয়ারেন্ট কপি পাবার আগেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেফতার করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করল।
ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমরা সিরিয়াস অবজেকশন জানচ্ছি এর বিরুদ্ধে। কোর্টের সই করা লিখিত পরোয়ানা কপি ছাড়া কি করে তাকে গ্রেফতার করা হল? এর মাধ্যমে কোর্টের আদেশ এবং আইন ভঙ্গ করা হয়েছে। তাই এ জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

জামিন আবেদনের পক্ষে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তার বয়স ৮৭ বছর। অনেকবার অপারেশন হয়েছে। তাকে  হয় জামিন দেয়া হোক, অথবা বাসায়  গৃহবন্দী রাখা হোক, অথবা অধ্যাপক গোলাম আযমের মত হাসপাতালে রাখা হোক।

রাষ্ট্রপক্ষ জামিন আবেদনের বিরোধীতা করে বলেন, মাওলানা উইসুফ জামায়াতের নায়েবে আমির। তিনি রাজনীতির সাথে জড়িত। নায়েবে আমিরের দায়িত্ব যিনি পালন করতে পারেন তার ক্ষেত্রে অসুস্থতার কারণ খাটেনা।
জবাবে আসামী পক্ষে অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, মাওলানা ইউসুফ জামায়াতের নায়েবে আমির সত্য কিন্তু এটা একটা অর্নামেন্টাল পোস্ট হিসেবে তাকে  রাখা হয়েছে এ পদে। তিনি গত কয়েক বছর ধরে কোন রাজনৈতিক কর্মসূচীতে অংশ নেননি। কোন মিটিংয়েও অংশ নেননি। তিনি বার্ধক্যজনিত নানা অসুস্থতা নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
তাজুল ইসলাম বলেন, গত এক বছর ধরে তিনি গৃহবন্দী রয়েছেন। আমরা তাকে কোর্টে নিয়ে  আসার জন্য প্রস্তুত ছিলাম। তিনি কোর্টে আসার জন্য রেডি ছিলেন। কিন্তু তারপরও কোর্টের আদেশ হওয়া মাত্র লিখিত কপি ছাড় করার আগেই তাকে গ্রেফতার করে আনা হয়েছে রাজনৈতিক কারনে।
তাজুল ইসলাম শুনানী শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, জামায়াতের নেতা হওয়া এবং জামায়াতের কর্মী হওয়া এখন অপরাধ হয়ে দাড়িয়েছে  এবং সেই অপরাধের কারনেই রাজনৈতিক উদ্দেশে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদেশ কপি সাইন করার আগেই আমরা টিভিতে খরব দেখতে পেলাম মাওলানা ইউসুফ গ্রেফতার। এটা নজিরবিহীন। তাকে এভাবে গ্রেফতার করা অবৈধ।
জামিন আবেদনের বিরোধীতা করে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানীতে অংশ নেন সৈয়দ হায়দার আলী ও ঋষিকেষ সাহা।


রবিবার, ১২ মে, ২০১৩

মাওলানা ইউসুফ গ্রেপ্তার Maolana AKM Ususf arrest



মেহেদী হাসান, ১২/৫/২০১৩,
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির, প্রবীণ আলেমে দ্বীন বিশিষ্ট হাদিস বেত্তা  মাওলানা একেএম ইউসুফকে গেপ্তার  করা হয়েছে। ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজ তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। পরোয়ানা জারির পরপরই মাওলানা ইউসুফকে তার ধানমন্ডি বাসা থেকে গ্রেপ্তার  করে র‌্যাব, পুলিশ সদস্যারা।

দুপুর একটার দিকে মাওলানা ইউসুফকে গ্রেপ্তার করে প্রথমে র‌্যাব-২ কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে বিকাল চারটার দিকে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে ট্রাইব্যুনালে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। বিকাল পাঁচটার কিছু আগে তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ গতকাল সকালে মাওলানা ইউসুফের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মানবতা বিরোধী অপরাধ বিষয়ক অভিযোগ আমলে নেয়। এরপর ২৬ মে’র মধ্যে তাকে গ্রেপ্তারের  নির্দেশ দেয়া হয়।
গত ৮ মে বুধবার রাষ্ট্রপক্ষ (প্রসিকিউশন) মাওলানা ইউসুফের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। ফরমাল চার্জে মাওলানা ইউসুফের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে হত্যা, গণহত্যা,  ধর্মান্তরকরন, অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাটের ১৫ ধরনের অভিযোগ  আনা হয়েছে।
এর আগে গত ২২ এপ্রিল মাওলানা ইউসুফের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম শেষ হয় বলে ঘোষনা করে তদন্ত সংস্থা।
আগামীকাল  সোমবার মাওলানা  এ কে এম ইউসুফের জামিন আবেদনের ওপর শুনানী  অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে। মাওলানা ইউসুফের পক্ষে  অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান বলেন মাওলানা ইউসুফকে এভাবে গ্রেপ্তার করা এবং কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি দু:খজনক এবং নজিরবিহীন। সকালে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির সময় ২৬ তারিখ পর্যন্ত সময় দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। আমরা ট্রাইব্যুনালকে বলেছে আজ সোমবার আমরা সেচ্ছায় হাজির করব। ট্রাইব্যুনালও বলেছেন, ২৬ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করার দরকার কি, আগামী কাল (আজ) আপনারা তাকে হাজির করেন। কিন্তু গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পরপরই পরোয়ান হাতে পাবার আগেই আইন প্রয়োগকারী সদস্যরা তাকে গ্রেফতার করে। এটা আইনের শাসনের ব্যত্যয়। কোর্ট মুলতবি হয়ে যাবার পর তাকে বিকালে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয় এবং চেম্বারে  বসে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান বলেন, মাওলানা ইউসুফের বর্তমান বয়স ৮৭ বছর। তিনি বার্ধ্যক্যজনিত নানা ধরনের অসুস্থতায় ভুগছেন।
ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির, সদস্য বিচারপতি  জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১৩

মাওলানা একেএম ইউসুফ’র বিরুদ্ধে তদন্ত সম্পন্ন/Maolana AKM Usuf investigation ends


মেহেদী হাসান, ২২/৪/২০১৩, সোমবার, ঢাকা:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা একেএম ইউসুফ এর বিরুদ্ধে তদন্ত সম্পন্ন করেছে তদন্ত সংস্থা। ১৯৭১ সালে মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারের লক্ষ্যে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অধীনস্ত তদন্ত সংস্থা গত রোববার ২১ এপ্রিল  মাওলানা ইউসুফ এর বিরুদ্ধে তদন্ত সম্পন্ন করে। আজ  তদন্ত সংস্থার ধানমন্ডিস্থ কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের জানানো হয় তদন্ত কাজ শেষ করার বিষয়ে।

তদন্ত সংস্থা থেকে সাংবাদিকদের জানানো হয় মাওলানা একেএম ইউসুফের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, ধর্মান্তরকরন, অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাটের ১৫ ধরনের অভিযোগ  পাওয়া গেছে।

তদন্ত সম্পন্ন হলে নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত সংস্থা তা প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী টিম)  এর কাছে জমা দেয়। প্রসিকিউশন  থেকে তা পরে  ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয় ফরমাল চার্জ আকারে।

তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান খান ও তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন সাংবাবিদকের তদন্ত বিষয়ে অবহিত করেন।
১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে এ পর্যন্ত জামায়াতের নয়জন শীর্ষ নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে এর মধ্যে অধ্যাপক গোলাম আযম. মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মুহম্মদ কামারুজ্জামান ও আব্দুল কাদের মোল্লার বিচার সম্পন্ন হয়েছে।