নিজামী : সাফাই সাক্ষী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
নিজামী : সাফাই সাক্ষী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০১৩

মাওলানা নিজামীর মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ// রোববার আর্গুমেন্ট

৩১/১০/২০১৩
জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে মামলায় আসামী পক্ষের সাফাই সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। এর মাধ্যমে এ মামলায় উভয় পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হল। আগামী রোববার মামলার শেষ ধাপে আর্গুমেন্ট তথা যুক্তি উপস্থাপন শুরু হবে। প্রথমে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের জন্য ধার্য্য করা হয়েছে।

মাওলানা নিজামীর পক্ষে চতুর্থ সাক্ষী নাজিবুর রহমান ওরফে নাজিব মোমেন এর জেরা শেষ হয় আজ। গত বুধবার এ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে যুক্তি উপস্থাপনের জন্য ধার্য্য ছিল। তবে রাষ্ট্রপক্ষ সাফাই সাক্ষীর জেরা শেষ করতে না পারায় আগামী রোববার থেকে যুক্তি উপস্থাপন ধার্য্য করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিচার চলছে ১৯৭১ সালে মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে।

মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ মোট ২৬ জন সাক্ষী হাজির করে। অপর দিকে মাওলানা নিজামীর পক্ষে ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক নির্ধারিত চারজন সাক্ষী হাজির করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন পাবনা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মো: শামসুল আলম এবং মুক্তিযোদ্ধা  কে এম হামিদুর রহমান ।
অপরদিকে মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে যারা সাক্ষ্য দিয়েছেন তাদের মধ্যে উল্লেযোগ্য হলেন পাবনা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার হাবিবুর রহমান এবং  ইসলামী ঐক্য জোটের চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান চৌধুরী।
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুস সোবহানের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন বিষয়ে আসামী পক্ষের শুনানী আগামী পাঁচ নভেম্বর পুনরায় নির্ধারন করা হয়েছে। আজ  আসামী পক্ষের শুনানীর জন্য ধার্য্য ছিল। তবে আসামী পক্ষে অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান কবির প্রস্তুতির জন্য সময় প্রার্থনা করায় ট্রাইব্যুনাল পুনরায় তারিখ ধার্য্য করেন।

ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান এটিএম ফজলে কবির, সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৩

মাওলানা নিজামীর পক্ষে ছেলের সাক্ষ্য/// আমার পিতা জামায়াতের আমির না হলে কোন অভিযোগ আনা হতনা

মেহেদী হাসান, ২৪/১০/২০১৩
মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর পক্ষে তার  ছেলে ব্যারিস্টার মো : নাজিবুর রহমান ওরফে নাজিব মোমেন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়ে বলেছেন, আমার পিতা যদি জামায়াতে ইসলামীর আমির না হতেন তাহলে তার বিরুদ্ধে স্বাধীনতার ৪২ বছর পর মানবতাবিরোধী কোন অভিযোগ আনা হতনা। 
তিনি বলেন, ১৯৮৬ সালে জামায়াতের পক্ষ থেকে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার আগ পর্যন্ত কেউ আমার পিতার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগও করেনি, কোন মামলাও হয়নি কোথাও।

ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর পক্ষে একজন তদ্বিরকারক হিসেবে যুক্ত আছেন মামলার শুরু থেকে। সে হিসেবে তিনি তার পিতার পক্ষে চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য প্রদান শুরু করেছেন আজ থেকে।

জবানবন্দী প্রদানের সময় নাজিব মোমেন দলিল দস্তাবেজ উপস্থাপন করে বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ড সংক্রান্তে ৪২টির বেশি মামলা দায়ের হয়েছিল। এমনকি ১৯৯৭ সালেও বুদ্ধিজীবী হত্যা সংক্রান্তে একটি মামলা দায়ের করা হয়। এ বিষয়ে  এতগুলো মামলা দায়ের হলেও আমার পিতাকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দায়ী করা হয়নি ।  ১৯৭১ সালে সংঘটিত অপরাধ বিষয়ে সাধারন ফৌজদারি আইনে মামলা ছাড়াও শুধুমাত্র দালাল আইনেই লক্ষাধিক মামলা হয়েছিল স্বাধীনতার পর। এছাড়া সরকারি প্রতিবেদনে এবং  বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় দীর্ঘদিন ধরে অপরাধীদের নাম প্রকাশিত হতে থাকে। কিন্তু কোথাও আমার পিতার বিরুদ্ধে একটি মামলও দায়ের হয়নি, একটি অভিযোগও করেনি কেউ ১৯৭১ সাল বিষয়ে। তাই আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই আমার পিতা রাজনৈতিক প্রতিহিংশার শীকার।  তার বিরুদ্ধে অনৈতিকভাবে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মামলা সাজানো হয়েছে।

জবানবন্দী :
সাক্ষী তার জবানবন্দীতে বলেন, আমার নাম মোঃ নাজিবুর রহমান ওরফে নাজিব মোমেন। আমার বয়স ৩২ বৎসর।
আমি মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের ছেলে। আমি তার পক্ষে তদ্বিরকারক হিসাবে এই মামলার শুরু থেকে যুক্ত আছি। আমি এই মামলার অনুসন্ধান করতে গিয়ে এবং এই মামলার অভিযোগ সমূহ পর্যালোচনা করতে গিয়ে ১৯৭১ সালে সংঘটিত মুক্তিযুদ্ধের উপর প্রকাশিত বই পুস্তক, সরকারী বেসরকারী দলিল দস্তাবেজ, ১৯৭১ সালে প্রকাশিত পত্র পত্রিকা এবং স্বাধীনতার পর পরই প্রকাশিত পত্র পত্রিকা পর্যালোচনা করি। ১৯৭১ সালে প্রকৃত পক্ষে কি ঘটেছিল, কারা ঐ সময় সংঘটিত অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল সেই সত্য অনুসন্ধানের জন্য দেশ বরেণ্য মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধ গবেষক, সাংবাদিকসহ সেই সময়ে প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি বর্গের   সাথে  সাক্ষাৎ করি। অত্র মামলায় যে সমস্ত অভিযোগ আনা হয়েছে সেই সমস্ত স্থানসমূহ পরিদর্শন করি এবং সেই সমস্ত স্থানের স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের সময় শহীদ ও ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিবর্গের পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ করি। আমি এবং আমার সহকর্মীরা দেশে বিদেশে ১৯৭১ সালের ঘটনাকেন্দ্রীক বিভিন্ন নথিপত্র ও বই পুস্তক সংগ্রহ করার চেষ্টা করি। আমার গত সাড়ে তিন বছরের অনুসন্ধানের ভিত্তিতে আমি দ্যর্থহীন ভাবে বলতে পারি মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের বিরুদ্ধে আনীত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ সমূহ সবৈর্ব মিথ্যা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। এর বড় প্রমান হলো ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর থেকে ১৯৮৬ সালে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী সাহেব জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের নমিনি হিসাবে অংশগ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোথাও কোন অভিযোগ আনা হয় নি। আসামী পক্ষে দাখিলকৃত দলিলসমূহ যা আমি মাননীয় ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করব এবং সরকার পক্ষের প্রদর্শিত দলিলপত্র সমূহ পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে ১৯৭১ সালে সংঘটিত অপরাধসমূহের বিবরণ স্বাধীনতার পরবর্তীতে প্রকাশিত সংবাদপত্রে দীর্ঘদিন পর্যন্ত প্রতিবেদন আকারে প্রকাশিত হতে থাকে। এ সমস্ত জঘন্যতম অপরাধের সাথে যারা যুক্ত ছিল কিংবা যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের তীর উঠেছিল তাদের নামও ঐ সময় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। যারা আলবদর নামে পরিচিত ছিল তাদের নাম পত্র পত্রিকায় সেই সময় এসেছিল এমনকি তাদের ছবিও সেই সময়কার বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। অনেককে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পত্রিকায় গণ বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশিত হয়েছিল। ১৯৭১ সালে সংঘটিত অপরাধের প্রেক্ষিতে সেই সময় অসংখ্য মামলা হয়েছিল। শুধুমাত্র দালাল আইনেই লক্ষাধিক মামলা হয়েছিল। সাধারণ ফৌজদারি আইনেও অনেক মামলা হয়েছিল। এসকল মামলায় বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের সাথে পাকিস্তান বাহিনীর সহযোগী রাজনীতিবিদদেরকেও আসামী করা হয়েছিল। ১৯৭১ সালের ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তাদের নামও সাপ্তাহিক বিচিত্রায় ১৯৮১ সালে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল। আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের বিরুদ্ধে একটি মামলাও দায়ের হয় নাই এমনকি কোন পত্র পত্রিকায় ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে অপরাধের সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে কোন অভিযোগ আসে নাই। আমার প্রদর্শিতব্য দলিলে দেখা যাবে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পরবর্তী সময়ে সরকার পাকিস্তান আর্মির সহযোগিদের একটি তালিকা প্রস্তুত করেছিল। এই তালিকা প্রণয়নের জন্য প্রতিটি থানায় সিও (ডেভ) কে আহ্বায়ক করে এবং সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদেরকে সদস্যসচিব করে কমিটি গঠন করা হয়। উক্ত কমিটি রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও শান্তিকমিটির সদস্যদের তালিকা জেলা পুলিশ সুপার বরাবর প্রেরণ করেন। জেলা পুলিশ সুপার উক্ত তালিকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ে প্রেরণ করেছিলেন। আমি অনুসন্ধানকালে দেখতে পেয়েছি আমার পিতা মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের নাম উক্ত তালিকায় নাই। আমার প্রদর্শিতব্য দলিল পত্রাদিতে আরো দেখা যাবে ১৯৭১ সালে বুদ্ধিজীবী হত্যা সংক্রান্তে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছিল এবং সরকার পক্ষের প্রদর্শিত দলিলে দেখা যায় স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ড সংক্রান্তে ৪২টির বেশি মামলা দায়ের হয়েছিল। এমনকি ১৯৯৭ সালেও বুদ্ধিজীবী হত্যা সংক্রান্তে একটি মামলা দায়ের করা হয়। এ সংক্রান্তে এতগুলো মামলা দায়ের হলেও আমার পিতাকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দায়ী করা হয় নাই। এ থেকে প্রতিয়মান হয় যে, আমার পিতা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। তার বিরুদ্ধে অনৈতিকভাবে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মামলা সাজানো হয়েছে। মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের বিরুদ্ধে তদন্তকারী কর্মকর্তা বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ড সংক্রান্তে কোন অভিযোগ আনতে ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও জনৈকি ব্যক্তির নির্দেশনায় প্রসিকিউশন সেই অভিযোগ এনেছে (প্রসিকিউশনের আপত্তি সহকারে)। এমনটি তদন্ত সমাপ্ত হওয়ার পর ফরমাল চার্জ দাখিলের পরে অন্যায়ভাবে উক্ত অভিযোগটি প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ফরমায়েশে সাক্ষী বানানো হয়েছে।

সাক্ষী বলেন, প্রসিকিউশনের প্রদর্শিত ডকুমেন্টে দেখা যায় ১৯৭০/১৯৭১ সালে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী সাহেব কোন অখ্যাত ব্যক্তি ছিলেন না। তার বক্তব্য বিবৃতি পত্র পত্রিকায় সেই সময় নিয়মিত প্রকাশিত হতো। সরকারী গোয়েন্দা রিপোর্টে তার কর্মকান্ডের বিষয়ে বর্ণনা থাকতো। মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী সাহেব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ষাটের দশকের শেষের দিকে লেখাপড়া এবং ছাত্র রাজনীতি করেছেন। তার সমসাময়িক ছাত্র নেতারা বাংলাদেশের রাজনীতিতে বর্তমানে জাতীয় রাজনীতিবিদ হিসাবে পরিচিত। জনাব তোফায়েল আহমেদ, জনাব আব্দুর রাজ্জাক, জনাব রাশেদ খান মেনন তার সমসাময়িক রাজনীতিবিদ এবং তারা একই সাথে ষাটের দশক থেকে অদ্যাবধি রাজনীতি করে যাচ্ছেন। ১৯৭১ সালে মাওলানা নিজামীর যে সমস্ত বক্তব্য, বিবৃতি ও কর্মকান্ডের খবর তদানিন্তন পত্র পত্রিকায় এবং গোয়েন্দা রিপোর্টে উল্লেখিত হয়েছে সেখানে কোথাও নিজামী সাহেবের পরিচিতি হিসাবে আলবদর প্রধান বা আলবদরের কমান্ডার উল্লেখ করা হয় নাই। তিনি আলবদরের কোন বৈঠকে যোগ দিয়েছেন এ ধরণের কোন রিপোর্টও নেই। তিনি সেনাবাহিনীর কোন অফিসার কিংবা কোন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন এ ধরণের কোন রিপোর্ট ১৯৭১ সালের গোয়েন্দা রিপোর্ট বা পত্র পত্রিকায় নাই। আমার পিতা ১৯৭১ সালে যে সমস্ত জায়গায় গিয়েছিলেন এবং বক্তব্য রেখেছিলেন তা পত্র পত্রিকায় ও গোয়েন্দা রিপোর্টে এসেছিল। তদানিন্তন প্রবাসী সরকারের গোয়েন্দা রিপোর্টেও আমার পিতার বিরুদ্ধে আলবদর বাহিনী প্রধান হওয়ার বা পাবনা যাওয়ার কোন অভিযোগ নেই। এ সমস্ত অভিযোগের সূচনা ১৯৮৬ সালে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী সাহেব জাতীয় নির্বাচনে অংশ গ্রহনের মাধ্যমে ইসলামী আন্দোলনের একজন সম্ভাবনাময় নেতা হিসাবে আত্মপ্রকাশের পরপরই হয়েছে। আমার পিতা যদি আজকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির না হতেন, তার বিরুদ্ধে স্বাধীনতার ৪২ বৎসর পর নতুন করে অভিযোগ আনা হতো না। শুধুমাত্র বাংলাদেশের বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে তিনি একজন ফ্যাক্টর বলে তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগসমূহ আনা হয়েছে। আমার পিতা দীর্ঘ ৫০ বৎসর বাংলাদেশে সুনামের সাথে রাজনীতি করে যাচ্ছেন এবং তিনি বিভিন্ন সময় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি পাবনা জেলার দায়িত্ব প্রাপ্ত মন্ত্রী হিসাবে ২০০১ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। সাথিয়া-বেড়া এলাকায় তিনি দুই দুই বার সংসদ সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশ সরকারের শিল্পমন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করে দেশের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন এবং দেশ ও দশের ক্ষতিকর কোন কাজ করেছেন এমন কোন অভিযোগ তার বিরুদ্ধে নেই।
মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের একজন বিশ্বাসী ব্যক্তি। তিনি শুধুমাত্র একজন রাজনীতিবিদ নন তিনি একজন ইসলামীক স্কলারও বটে। তিনি বাংলাদেশের ইসলামী শিক্ষার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা থেকে ইসলামী আইনের উপর সর্বোচ্চ ডিগ্রী লাভ করেছেন। স্বাধীনতার পূর্ব থেকে তার লিখিত বর্তমান সময় পর্যন্ত ইসলামের উপর অসংখ্য পুস্তক ও আর্টিকেল প্রকাশিত হয়েছে। তার রাজনৈতি কর্মকান্ড ও লিখিত বই পুস্তক পর্যালোচনা করে আমি দেখেছি তিনি আগাগোড়াই গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ইসলামী শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাসী।
আমি আমার উল্লেখিত বক্তব্যেল সমর্থনে এখন কিছু দলিলপত্র উপস্থাপন করছি। ডঃ এম আবদুল আলিম কর্তৃক সম্পাদিত “পাবনার ইতিহাস” বইয়ের ফটোকপি সংশ্লিষ্ট অংশ যাহা আসামী পক্ষ কর্তৃক দাখিলি ডকুমেন্ট ভলিউম-১৩ এর ৪২০ থেকে ৫২০ পৃষ্ঠা প্রদর্শনী-অ হিসাবে চিহ্নিত হইল। ডঃ মুহাম্মদ আবদুল জলিল কর্তৃক লিখিত “শাহজাদপুরের ইতিহাস” বইয়ের ফটোকপি সংশ্লিষ্ট অংশ যাহা আসামী পক্ষ কর্তৃক দাখিলি ডকুমেন্ট ভলিউম-৯ এর ১৮৪ থেকে ১৮৯ পৃষ্ঠা প্রদর্শনী-ই হিসাবে চিহ্নিত হইল। পাবনার এসপি কর্তৃক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারী বরাবরে ২৬-০৯-৭২ তারিখে ৬৭৯০/ই- স্মারক মূলে প্রেরিত প্রতিবেদন যাহাতে পাবনা জেলার স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকার, আলবদর, আলশামসদের তালিকার ফটোকপি যাহা আসামী পক্ষ কর্তৃক দাখিলি ডকুমেন্ট ভলিউম-১৪ এর ১৮৮ থেকে ১৯৮ পৃষ্ঠায় প্রদর্শনী- ঈ হিসাবে চিহ্নিত হইল।

বিরতির পর ২.০০টায় পুনরায় জবানবন্দি শুরুঃ-
আবুল কালাম আজাদ কর্তৃক লিখিত “মুক্তিযুদ্ধের কিছু কথা পাবনা জেলা” এর ফটোকপি আসামী পক্ষ কর্তৃক দাখিলি ডকুমেন্ট ভলিউম-১৪ এর ২০১ থেকে ২১৪ পৃষ্ঠায় প্রদর্শনী-উ হিসাবে চিহ্নিত হইল। দৈনিক সংবাদের ০৭-০৬-২০১২ইং তারিখে পত্রিকার “বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডের প্রত্যক্ষদর্শী রহম আলী খবর কেউ রাখেনি” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের ফটোকপি যাহা আসামী পক্ষ কর্তৃক দাখিলি ডকুমেন্ট ভলিউম-১০ এর ২৯৭ পৃষ্ঠায় প্রদর্শনী-ঊ হিসাবে চিহ্নিত হইল। মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম কর্তৃক লিখিত “৭১’র মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি কথা” এর ফটোকপি আসামী পক্ষ কর্তৃক দাখিলি ডকুমেন্ট ভলিউম-৯ এর ৩৪ থেকে ৭০ পৃষ্ঠায় প্রদর্শনী-ঋ হিসাবে চিহ্নিত হইল। বাংলা ১৩৭৮ সালের পঞ্জিকা গণনায় উত্তম সিংহ এর ফটোকপি যাহা আসামী পক্ষ কর্তৃক দাখিলি ডকুমেন্ট ভলিউম-১৩ এর ০১ থেকে ৩৬৯ পৃষ্ঠায় প্রদর্শনী-এ হিসাবে চিহ্নিত হইল। পাবনার বেড়া উপজেলার সম্ভুপুর এলাকায় মহিলাদের ভোটার লিষ্ট যাহা আসামী পক্ষ কর্তৃক দাখিলি ডকুমেন্ট ভলিউম-১৩ এর ৩৮২ থেকে ৩৮৪ পৃষ্ঠায় প্রদর্শনী-ঐ হিসাবে চিহ্নিত হইল। পাবনার বেড়া উপজেলার বৃশালিখা এলাকার পুরুষদের ভোটার লিষ্ট যাহা আসামী পক্ষ কর্তৃক দাখিলি ডকুমেন্ট ভলিউম-১৩ এর ৩৮৮ পৃষ্ঠায় প্রদর্শনী-ও হিসাবে চিহ্নিত হইল। শহীদ আব্দুল হালিম চৌধুরী জুয়েলের জীবন বৃত্তান্ত যাহা আসামী পক্ষ কর্তৃক দাখিলি ডকুমেন্ট ভলিউম-১৩ এর ৩৯২ ও ৩৯৩ পৃষ্ঠায় প্রদর্শনী-ঔ হিসাবে চিহ্নিত হইল। দৈনিক প্রথম আলোর ০২-১১-২০১১ইং তারিখের সংশ্লিষ্ট অংশের ফটোকপি যাহা আসামী পক্ষ কর্তৃক দাখিলি ডকুমেন্ট ভলিউম-১৩ এর ৩৯৪ ও ৩৯৫ পৃষ্ঠায় প্রদর্শনী-ক হিসাবে চিহ্নিত হইল। শহীদ আলতাফ মাহমুদ এর জীবন বৃত্তান্ত যাহা আসামী পক্ষ কর্তৃক দাখিলি ডকুমেন্ট ভলিউম-১৩ এর ৩৯৬ থেকে ৩৯৮ পৃষ্ঠায় প্রদর্শনী-খ হিসাবে চিহ্নিত হইল। “আলতাফ মাহমুদ এক ঝড়ের পাখি” নামক স্মারক গ্রন্থ সম্পাদনায় মতিউর রহমান আসামী পক্ষ কর্তৃক দাখিলি ডকুমেন্ট ভলিউম-১৪ এর ২৬৬ থেকে ৩২০ পৃষ্ঠায় প্রদর্শনী-গ হিসাবে চিহ্নিত হইল। আনিসুল হকের লিখিত বই “মা” যাহা প্রদর্শনী-ঘ হিসাবে চিহ্নিত হইল। মোহাম্মদ আসাদ ও মিল্লাত হোসেন সম্পাদিত “ঢাকার মুক্তিযুদ্ধ” বইয়ের ফটোকপি যাহা আসামী পক্ষ কর্তৃক দাখিলি ডকুমেন্ট ভলিউম-৯ এর ২৬৭ থেকে ২৭৫ পৃষ্ঠায় পদর্শনী-ঙ হিসাবে চিহ্নিত হইল। পাবনা জেলার বেড়া থানার বৃশালিখা পুরুষদের ভোটার লিষ্ট যাহা আসামী পক্ষ কর্তৃক দাখিলি ডকুমেন্ট ভলিউম-১৫ এর ০১ থেকে ০৪ পৃষ্ঠায় প্রদর্শনী-চ হিসাবে চিহ্নিত হইল। বাংলদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র- ৭ম খন্ড যাহা আসামী পক্ষ কর্তৃক দাখিলি ডকুমন্টে ভলিউম-১১ এর ২৯৯ তেকে ৩১৩ পৃষ্ঠায় প্রদর্শনী-ছ হিসাবে চিহ্নিত হইল। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র- ৮ম খন্ড যাহা আসামী পক্ষ কৃর্তক দাখিলি ডকুমন্টে ভলিউম-১১ এর ৩১৪ থেকে ৩২৭ পৃষ্ঠায় প্রদর্শনী-জ হিসাবে চিহ্নিত হইল। মুনতাসির মামুন কর্তৃক লিখিত ''ঞঐঊ ঠঅঘছটওঝঐঊউ এঊঘঊজঅখঝ অঘউ ঞঐঊ খওইঊজঅঞওঙঘ ডঅজ ঙঋ ইঅঘএখঅউঊঝঐ'' যাহা আসামী পক্ষ কর্তৃক দাখিলি ডকুমেন্ট ভলিউম-১০ এর ২৯ থেকে ৫৯ পৃষ্ঠায় প্রদশর্নী-ঝ হিসাবে চিহ্নিত হইল। জেনারেল এ এ কে নিয়াজী কর্তৃক লিখিত "ঞযব ইবঃৎধুধষ ড়ভ ঊধংঃ চধশরংঃধহ" যাহা আসামী পক্ষ কর্তৃক দখিলি ডকুমেন্ট ভলিউম-৭ এর ১৩৩ থেকে ১৯৮ পৃষ্ঠায় প্রদর্শনী-ঞ হিসাবে চিহ্নিত হইল। জেনারেল রাও ফরমান আলী কর্তৃক লিখিত “বাংলাদেশের জন্ম” যাহা আসামী পক্ষ কর্তৃক দাখিলি ডকুমেন্ট ভলিউম-৪ এর ৩২৪ থেকে ৩৬৮ পৃষ্ঠায় প্রদর্শনী-ট হিসাবে চিহ্নিত হইল। জেনারেল স্যার জ্যাক ডেভারেল এর পড়সসধহফ জবংঢ়ড়হংরনরষরঃু এর উপর প্রদত্ত মতামত যাহা আসামী পক্ষ কর্তৃক দাখিলি ডকুমেন্ট ভলিউম-১০ এর ০১ থেকে ২৮ পৃষ্ঠায় প্রদর্শনী-ঠ হিসাবে চিহ্নিত হইল। রাজাকার অর্ডিন্যান্স যাহা আসামী পক্ষ কর্তৃক দাখিলি ডকুমন্টে ভলিউম-৭ এর ০১ থেকে ০৩ পৃষ্ঠায় প্রদর্শনী-ড হিসাবে চিহ্নিত হইল। বাংলাদেশে স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিল পত্র- একাদশ খন্ড যাহা আসামী পক্ষ কর্তৃক দখিলি ডকুমন্টে ভলিউম-৭ এর ৩২২ থেকে ৩২৭ পৃষ্ঠায় মুজিবনগর সরকারের ইন্টেলিজেন্স রিপোর্টের কপি প্রদর্শনী-ঢ হিসাবে চিহ্নিত হইল। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহিল আমান আযমী কর্তৃক আসামী অধ্যাপক গোলাম আযম সাহেবের মামলায় প্রদত্ত জবানবন্দি ও জেরার জাবেদা নকলের ফটোকপি যাহা আসামী পক্ষ কৃর্তক দখিলি ডকুমন্টে ভলিউম-১৪ এর ১৩৬ থেকে ১৮৭ পৃষ্ঠায় প্রদর্শনী-ণ হিসাবে চিহ্নিত হইল। রমনা থানা মামলা নং-১১৫(৯)৯৭ এর এজাহারসহ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রের ফটোকপি যাহা আসামী পক্ষ কর্তৃক দাখিলি ডকুমন্টে ভলিউম-১৪ এর ৮৬ থেকে ১০৪ পৃষ্ঠায় প্রদর্শনী-ত হিসাবে চিহ্নিত হইল (প্রদর্শনী-অ ঃড় ত উপস্থাপনে প্রসিকিউশন কর্তৃক আপত্তি সহকারে)। (চলবে)

সাক্ষ্য গ্রহণ আগামী রোববার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল-১ চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির, সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।




মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৩

মাওলানা নিজামীর পক্ষে সাক্ষ্য দিলেন পাবনা জেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শামসুল আলম

মেহেদী হাসান , 22/10/2013
পাবনা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ  এর  সাবেক কমান্ডার মো: শামসুল আলম মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা মো : শামসুল হক এর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয় আজ।

জবানবন্দী :
সাক্ষী তার জবানবন্দীতে বলেন, আমার নাম মোঃ শামসুল আলম। বয়স আনুমানিক ৬২ বছর। ঠিকানা : গ্রাম- গোবিন্দা, থানা- পাবনা সদর, জেলা- পাবনা।

সাক্ষী তার পরিচয় সম্পর্কে বলেন, আমি একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা। আমি পাবনা জেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা জেলা কমান্ডার এবং জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছি।

মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহনের বিবরন দিয়ে সাক্ষী বলেন,  ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের কালো রাত্রে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী যখন নিরস্ত্র বাঙ্গালীদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে তখন আমরা দিশেহারা হয়ে পড়ি। পরবর্তীতে ২৮শে মার্চ আমার বাড়ির নিকটবর্তী টিএন্ডটি ভবনে অবস্থানরত পাক সেনাদেরকে আক্রমণ করে তাদের নিশ্চিহ্ন করি।  সেখানে ২৯ জন পাক সেনা ছিল। পরের দিন ২৯শে মার্চ পাবনার মাধপুর নামক স্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে পাক সেনাদের যুদ্ধ হয় এবং সেখানে ৯ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়।  এ যুদ্ধে অনেক পাক সেনা নিহত হয়। এরপর ৮ই এপ্রিল পর্যন্ত পাবনা জেলা শত্রুমুক্ত ছিল। তারপর ১৯শে এপ্রিল পাক সেনাদের সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের ডাববাগানে (শহীদনগর) যুদ্ধ হয়।  সেখানে অনেক মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন এবং অনেক পাক সেনাও নিহত হয়। আমাদের অস্ত্রশস্ত্র না থাকায় ট্রেনিং এবং অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আসার জন্য ভারতে  যাই। আমি প্রথমে ভারতের কেচুয়াডাংগা ইয়ুথ ক্যাম্পে যোগদান করি। এরপর  আমাদেরকে উচ্চতর ট্রেনিং-এর জন্য জুনের শেষের দিকে অথবা জুলাইয়ের প্রথম দিকে বিহারের চাকুলিয়ায় পাঠিয়ে দেয়। সেখানে ২৮ দিনের উচ্চতর ট্রেনিং দেওয়ার পরে মুর্শিদাবাদ জেলার বাবুলতলী অপারেশন ক্যাম্পে নিয়ে আসে। বাবুলতলী অপারেশন ক্যাম্প থেকে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ১২/১৩ই আগষ্ট বাংলাদেশের রাজশাহী এলাকায় প্রবেশ করি এবং রাজশাহী শহরের পাশে সিতলাই ব্রীজ বিস্ফোরক দিয়ে উড়িয়ে  দেই। তার দুই দিন পর সাব সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে অভয়া ব্রীজ অপারেশনে গেলে পাক সেনাদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধ হয়।  সেখানে আমাদের তিনজন মুক্তযোদ্ধা শহীদ হন এবং পাক সেনাদের অনেক হতাহত হয়। পরবর্তীতে ভারতের ধূলাউড়ি ক্যাম্পে যাই এবং সেখান থেকে মকবুল হোসেন সন্টুর নেতৃত্বে পাবনা এলাকায় চলে আসি। দেশে আসার পর আড়িয়া গোয়ালবাড়ি নামক স্থানে নকশাল, রাজাকার সম্মিলতি বাহিনীর সাথে যুদ্ধ হয় আমাদের এবং সেখানে ২৩ জনকে পাকড়াও করি। পরবর্তীতে পাবনার নিকটবর্তী তিনগাছা বাবুবাড়িতে যুদ্ধ হয় নকশালদের বিরুদ্ধে। সেখানে আমাদের দুইজন শহীদ এবং শত্রুপক্ষের ১৭/১৮ জন নিহত হয়। তিনগাছা বাবুবাড়িটি নকশালদের হেডকোয়ার্টার ছিল যেটি  আমরা যুদ্ধের পরে  দখল করি। ২৭শে নভেম্বর ১৯৭১ সানিকদিয়ায় ভয়াবহ যুদ্ধ হয়।  এ  যুদ্ধে পাক সেনাদের সাথে রাজাকার, নকশাল মিলে তিন শতাধিক ছিল।  মুক্তিযোদ্ধারাও দুই শতাধিক ছিল। যুদ্ধে আমাদের পরিবারের ৯ জনসহ মোট ২০/২৫ জন শহীদ হয় এবং শত্রুপক্ষের অসংখ্য আহত ও নিহত হয়।  পাকসেনারা তাদেরকে গাড়িতে করে নিয়ে যায়। এরপর থেকে পাবনার পশ্চিম অঞ্চল মুক্ত অঞ্চলে পরিণত হয়। আমি সানিকদিয়ার যুদ্ধে মর্টারের স্পিøন্টারে আহত হই।

সাক্ষী বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন শত শত লোকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধ করার কারণে আমাদের নিকট অনেকে অভিযোগ করেছে কিন্তু মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের বিরুদ্ধে কেউ কোন সময় কোন অপরাধ করেছে মর্মে কোন অভিযোগ করে নাই। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে আমি আমাদের কমান্ডার ইকবাল হোসেন সাহেব এবং মকবুল হোসেন সন্টু সাহেবের সাথে জেলার সাথিয়া, সুজানগর, বেড়াসহ বিভিন্ন থানা এলাকায় গিয়েছি,। শত শত লোক যারা অপরাধ করেছে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের নিকট অভিযোগ করেছে লোকজন। লোকজনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা অনেককে শাস্তি দিয়েছি  কিন্তু কোন লোক মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের বিরুদ্ধে কোন অপরাধ করেছে মর্মে কোন অভিযোগ করে নাই। 
সাক্ষী বলেন, আমাদের পাবনা এলাকায় অধিকাংশ যুদ্ধ হয়েছে অতি বিপ্লবী নকশালদের সাথে তার মধ্যে ৮০/৯০ ভাগ মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়েছে তাদের গুলিতে। শহীদদের নিকট আত্মীয় ও পরিবারবর্গকে জিজ্ঞাসা করলে এর সত্যতা পাওয়া যাবে। পাবনা এলাকায় ক্যাপ্টেন জায়েদী, নুরু খন্দকার, টিপু বিশ্বাস, মাসুদ খন্দকার মূলত আর্মিসহ রাজাকার টাজাকারদের নিয়ন্ত্রণ করতো । এখানে  নিয়ন্ত্রণ অর্থ আর্মিদের কমান্ডার ছিল না তবে তাদেরকে যে দিকে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল সেদিকে নিয়ে যেতো।

সাক্ষী বলেন, স্থানীয় পিস কমিটির সভাপতি ছিল স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং পিস কমিটির সদস্য ছিল ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বাররা। তারা নি¤œবিত্ত লোকজন নিয়ে রাজাকার বাহিনী গঠন করেছিল। আমাদেরকে রাজাকারদের সাথে তেমন একটা যুদ্ধ করতে হয় নাই।


জেরা :
জবানবন্দী শেষে সাক্ষীকে জেরা করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ আলী।
প্রশ্ন : আপনার দাদার নাম কি?
উত্তর : কোরবান মালিথা।
প্রশ্ন : আপনারা কয় ভাইবোন?
উত্তর : ১২ জন।
প্রশ্ন : আপনি পাবনা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের দায়িত্ব পালন করেছেন কোন সময় থেকে কোন সময় পর্যন্ত?
উত্তর : ২০০১ সাল থেকে ২০০৯ সালের মে মাস পর্যন্ত।
প্রশ্ন : ২০০১ সালের পর কারা ক্ষমতায় ছিল জানা আছে?
উত্তর : চারদলীয় জোট।
প্রশ্ন : চারদলীয় জোটের মধ্যে অন্যতম ছিল জামায়াতে ইসলামী ।
উত্তর : ছিল।
প্রশ্ন : মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী তখন মন্ত্রী ছিলেন।
উত্তর : ছিলেন।
প্রশ্ন : তিনি তখন জামায়াতের আমির ছিলেন।
উত্তর : হতে পারে।
প্রশ্ন : ২০০১ সালের নির্বাচনের আগেই আপনি নিজামী সাহেবের অনুপ্রেরনায় জামায়াতে যোগদেন  এবং আপনি তার কাছে মানুষে পরিণত হন।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনি ২০০১ সালের নির্বাচনে নিজামী সাহেবের পক্ষে প্রচারানয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তার প্রিয়ভাজনে পরিণত হন।
উত্তর : সঠিক নয়।
প্রশ্ন : ২০০১ সালের নির্বাচনের পর নিজামী সাহেব জোটের প্রভাবশালী মন্ত্রী হন এবং  তিনি আপনাকে পাবনা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ  করে।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের বিধি অনুযায়ী নির্বাচন হয়েছিল তখন?
উত্তর : শেষের দিকে হয়েছিল।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেছে এমন দলের নাম আপনার জানা আছে?
উত্তর : মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলাম, নেজামে ইসলাম এবং নকশালীরা।
প্রশ্ন : মুসলিম লীগ, জামায়াত এবং নেজামে ইসলাম রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েই মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেছিল।
উত্তর : হ্যা।
প্রশ্ন : বিপ্লবী নকশাল বাহিনী কখনোই অনুমোদিত কোন রাজনৈতিক ছিলনা।
উত্তর : আমার জানা নেই।
প্রশ্ন : মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে।
উত্তর : হ্যা।
প্রশ্ন : বঙ্গবন্ধুর দলের নাম ছিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
উত্তর : হ্যা।
প্রশ্ন : এ দলের ছাত্রফ্রন্টের নাম ছিল বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।
উত্তর : হ্যা।
প্রশ্ন : এভাবে জামায়াতেরও ছাত্রফ্রন্ট ছিল এবং ১৯৭১ সালে এর নাম ছিল ইসলামী ছাত্রসংঘ যা বর্তমানে ইসলামী ছাত্রশিবির নামে পরিচিত।
উত্তর : শুনেছি।
প্রশ্ন : সেসময় ইসলামী ছাত্রসংঘের সভাপতি ছিলেন মতিউর রহমান নিজামী।
উত্তর : জানা নেই।
প্রশ্ন : আপনার লেখাপড়া কতদূর?
উত্তর : এইচএসসি পাশ।
প্রশ্ন : স্বাধীনতাযুদ্ধের জন্য মুক্তিবাহিনীর পাশপাশি মুজিব বাহিনী হয়েছিল দেশকে হানাদার মুক্ত করার লক্ষ্যে তা আপনি জানেন।
উত্তর : হ্যা।
প্রশ্ন : রাজাকার বাহিনীর পাশাপাশি  আল বদর বাহিনী গঠিত হয়েছিল তাও আপনি জাননে।
উত্তর : শুনেছি।
প্রশ্ন : আল বদর বাহিনী গঠিত হয়েছিল পাকিস্তান বাহিনীকে সহায়তার জন্য।
উত্তর : হয়তোবা।
প্রশ্ন ঃ আড়িয়া গোয়ালবাড়িসহ চরতারাপুর ইউনিয়নেও দখলদার পাক বাহিনী দেশীয় রাজাকার, আলবদর ও আলশামসদের সহযোগীতায় একাধিকবার নিরিহ নিরস্ত্র লোকদের উপর আক্রমন     করেছিল কিনা?
উত্তর ঃ রাজাকার ও পাক বাহিনী দ্বারা আক্রমন হয়েছিল, অন্যদের সম্পর্কে আমার কোন ধারনা     নাই
প্রশ্ন : উক্ত চরতারপুর ইউনিয়নসহ পাবনা জেলার বিভিন্ন স্থানে দখলদার পাক বাহিনী ও রাজাকারদের সাথে  আলবদর বাহিনীর সদস্যরাও মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধ সংঘটনে সম্পৃক্ত ছিল।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : সাথিয়া, সুজানগর ও বেড়া থানার আলবদর কমান্ডার ছিল রফিকুন্নবী বাবলু । তিনি সহ অন্যান্য আলবদররাও দখলদার পাক বাহিনী ও রাজাকারদের সাথে মানবতা বিরোধী অপরাধ সংঘটনে জড়িত ছিল।
উত্তর : আমার জানা নেই।
প্রশ্ন : পাবনার কোন জায়াগায়  নকশালদের সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধ হয়নি।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : “তিনগাছা বাবু বাড়িটি নকশালদের হেড কোয়ার্টার ছিল” বা “মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের বিরুদ্ধে কেউ কোন সময় কোন অপরাধ করেছে মর্মে কোন অভিযোগ করে নাই।” বা “কোন লোক মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের বিরুদ্ধে কোন অপরাধ করেছে মর্মে কোন অভিযোগ করে নাই।” আপনার এ বক্তব্য অসত্য।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : নিজামী সাহেব আপনাকে  জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়াক/কমান্ডার মনোনিত করায় এবং চার দলীয় জোট সরকারের আমলে প্রভাবশালী মন্ত্রী জনাব মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের দ্বারা আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার কারনে তাকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যে তার পক্ষে অসত্য সাফাই সাক্ষ্য েিদ এসেছেন।
উত্তর : সত্য নয়।

মাওলানা নিজামীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম, মনজুর আহমেদ আনসারী, তাজুল ইসলাম, ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন, আসাদ উদ্দিন, তারিকুল ইসলাম প্রমুখ।

সোমবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৩

মাওলানা নিজামীর পক্ষে সাক্ষ্য দিলেন মুক্তিযোদ্ধা হামিদুর রহমান


মেহেদী হাসান, ২১/১০/২০১৩
জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর পক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে। তার পক্ষে প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন পাবনার মুক্তিযোদ্ধা কে এম হামিদুর রহমান। তিনি ১৯৬৮-৬৯ সময়ে পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক ছিলেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ   আজ  তার জবানবন্দী  গ্রহণ শেষে জেরা সমাপ্ত হয়।

জবানবন্দী :
আমার নাম কে এম হামিদুর রহমান। বয়স আনুমানিক ৬৬ বছর। আমার বর্তমান ঠিকানা- দিলালপুর, পাবনা শহর, পাবনা। আমি পাবনা জেলা জজ কোর্টের একজন আইনজীবী। আমি ১৯৬৭ সালে এইচএসসি পাশ করার পর পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে মেডিকেল কোরে সিপাহী পদে যোগদান করি। সেখানে ট্রেনিং নেওয়ার পর কয়েক মাস চাকুরী করার পর চাকুরী ছেড়ে চলে আসি। এরপর আমি নিয়মিত পড়াশুনা করে ১৯৭২ সালে এলএলবি পাশ করে ১৯৭৩ সালে আমি আইন পেশায় যোগদান করি। আমি সপ্তম শ্রেণীতে পড়া অবস্থা থেকেই ছাত্রলীগের সাথে জড়িত হই। ১৯৬৮ সালে এডওয়ার্ড কলেজে বিএ পড়া অবস্থায় পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হই। ১৯৬৯ সালে বিএ পাশ করে ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত একই পদে দায়িত্ব পালন করি।

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ দিবাগত রাত্রে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী নিরস্ত্র বাঙ্গালীদের উপর হত্যাযজ্ঞ শুরু করার পর আমরা ২৬শে মার্চ থেকেই স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ি। তারপর থেকে আমরা বিভিন্ন সময় মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করি এবং আমাদের মধ্যে যাদের ট্রেনিং ছিল না তাদের অনেকেই মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং নেওয়ার জন্য ভারতে চলে যান এবং আমি যেহেতু সেনাবাহিনীর ট্রেনিং প্রাপ্ত সেহেতু আমি ভারতে যাই নাই। আমরা রাজাকারদের পরিবারের সদস্যদের উদ্বুদ্ধ করতাম এই মর্মে যে, তাদের পরিবারের যে সকল লোক রাজাকারে গিয়েছে তারা যেন এলাকায় কোন ক্ষতি না করে। ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে আমরা মুক্তিযোদ্ধারা সুজানগর থানা আক্রমণ করি এবং সেই যুদ্ধ চারদিন চাররাত্র চলার পর পঞ্চম দিন রাত্রে পাকিস্তান সেনারা সেখানে কয়েকটি লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময়ে সুজানগর, সাথিয়া ও বেড়া থানা এলাকায় আমরা চলা ফেরা করতাম এবং সোর্সের মাধ্যমে খবর সংগ্রহ করতাম। সোর্সদের মাধ্যমে এবং আমি ব্যক্তিগত ভাবে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি যে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী সাহেব সাথিয়া থানা এলাকায় মানবতা বিরোধী কোন অপরাধ করেছেন কিংবা অপরাধের কোন সহযোগিতা করেছেন এই মর্মে কোন ব্যক্তি আমার নিকট অভিযোগ করেন নাই এবং কোন ব্যক্তি আমার নিকট ইহা বলে নাই যে, তারা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সাথিয়া এলাকাতে মতিউর রহমান নিজামী সাহেবকে দেখেছেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই আমি মতিউর রহমান নিজামী সাহেবকে তার এলাকাতে এবং পাবনা শহরে স্বাধীনভাবে ঘুরা ফেরা করতে দেখেছি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে আমরা জানতে পেরেছি সিও (ডেভ) কে আহবায়ক করে এবং সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব করে সরকার একটি কমিটি করেছিল রাজাকার, আলবদরদের তালিকা তৈরি করার জন্য এবং পরবর্তীতে তাদের দ্বারা তৈরিকৃত তালিকায় মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের নাম ছিল না। মতিউর রহমান নিজামী সাহেবকে আমি চিনি, তিনি অদ্য ট্রাইব্যুনালের ডকে উপস্থিত আছেন।


জেরা (সংক্ষিপ্ত ) ঃ
জবানবন্দী শেষে সাক্ষীকে জেরা করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ হায়দার আলী এবং মোহাম্মদ আলী।

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে আপনার গ্রামের বাড়ি কোথায় ছিল?
উত্তর :  গ্রাম গোকুলপুর, ইউনিয়ন সুজানগর।
 প্রশ্ন : ট্রাইব্যুনালে নিজামী সাহেবের পক্ষে সাক্ষ্য দিতে হবে একথা কবে জানতে পারলেন?
উত্তর : অনেক আগে জানতে পেরেছি যে, তবে তারিখ আমার মনে নাই।
প্রশ্ন : সর্বপ্রথম কার কাছ থেকে জানতে পারলেন সাক্ষ্য দেয়ার বিষয়ে?
উত্তর : নিজামী সাহেবের ছেলের নিকট থেকে
প্রশ্ন : ঢাকা কবে এসেছেন ?
উত্তর :  গতকাল ।
প্রশ্ন : আপনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন কবে?
উত্তর :  প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পরে সম্ভবত ১৯৮০ সালের পূর্বে দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলাম।
প্রশ্ন : আপনি বলেছেন এলএলবি পাশ করেছেন আপনি। কোথা থেকে পাশ করলেন?
উত্তর :  রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ।
প্রশ্ন : আপনি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দিতা করেছিলেন?
উত্তর : হ্যা।
প্রশ্ন : কবে কোন উপজেলায়?
উত্তর : ১৯৮৯ সালে পাবনা সদর।
প্রশ্ন : আপনি মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর পছন্দে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করেছিলেন।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনার পাবনা শহরের বাড়িটা তো বেশ বড়।
উত্তর : আমার তার চেয়েও বড় বাড়ি আছে। পাবনা শহরে আমার ৫৩টি দোকান, তিনটি মার্কেট আছে।
প্রশ্ন : পাবনা শহরের বাড়িতে কতজন ভাড়াটিয়া আছে?
উত্তর : ২০টি পরিবার থাকে। এছাড়া একটি বাড়িতে  ব্যাচেলর সরকারী ও বেসরকারী কর্মচারীদের জন্য ফ্যাট ভাড়া দেওয়া আছে।
প্রশ্ন : আপনি ইনকাম ট্যাক্স দেন?
উত্তর : অবশ্যই।
প্রশ্ন : গত বছর কত দিয়েছেন?
উত্তর : স্মরন নেই।  সম্ভবত ২০/৪০ হাজার টাকা হবে। আমার ইনকাম ট্যাক্স লইয়ার আছে। সে এসব দেখে।
প্রশ্ন : আপনার মাসিক আয় কত?
উত্তর  : আমি আমার বাড়ি এবং দোকান থেকে মাসিক লক্ষাধিক টাকা ভাড়া পাই।
প্রশ্ন : আমি বলছি আপনার বাড়ি ও দোকান ভাড়ার মাসিক আয় লক্ষাধিক টাকার অনেক বেশী হওয়া সত্ত্বেও অদ্য মাননীয় ট্রাইব্যুনালে অসত্য তথ্য দিয়েছেন।
উত্তর :  সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনি ইসলামী ছাত্র শিবিরের অনেক ছাত্রকে আপনার বাড়ি ভাড়া দিয়েছেন।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনি পাবনা  সদর উপজেলার জামায়াতে ইসলামীর আমির।
উত্তর : সত্য নয়। আমির তো দূরেরর কথা। আমি জামায়াতের কিছুই নই। প্রশ্নটা করার আগে এটা আপনার জানা উচিত ছিল।
প্রশ্ন : আপনি আর্মিতে থাকা অবস্থায় কোথায় ট্রেনিং নিয়েছিলেন?
উত্তর :  পাকিস্তানের এবোটাবাদ-এ ছয় মাসের আর্মি ট্রেনিং নিয়েছিলাম। ট্রেনিং শেষে দুই/তিন মাস চাকুরীতে ছিলাম।
প্রশ্ন : আর্মি থেকে চাকরি ছেড়ে আসার কোন সুযোগ নেই।
উত্তর : আছে।
প্রশ্ন : আপনি অনুমতি ছাড়া কাউকে কোন কিছু না জানিয়ে পালিয়ে চলে এসেছেন?
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : সে কারনে আপনার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি হয় তখন।
উত্তর : সত্য নয়। কোনদিনও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়নি।
প্রশ্ন : আপনি বলেছেন রাজাকারদের পরিবারকে উদ্ভুদ্ধ করতেন ক্ষতিকর কাজকর্ম না করার জন্য।
এর মানে হল রাজাকার এবং  রাজাকারদের পরিবারের সাথে আপনার সুসম্পর্ক ছিল।
উত্তর : অসত্য।
প্রশ্ন :  তৎকালীন ইসলামী ছাত্র সংঘের সভাপতি মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের নির্দেশেই মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে রাজাকারদের সাথে আপনি যোগাযোগ রাখতেন।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে আপনি  সবসময় মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের সঙ্গে থাকতেন এবং চলাফেরা করতেন।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন :  আপনার মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করার কথা ভূয়া ও অসত্য।
উত্তর : আপনার দাবি  সত্য নয়।
প্রশ্ন :  আমি পাবনা জেলা জামায়াত শিবিরের আর্থিক মদদদাতা।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন :  আপনি  সপ্তম শ্রেণীতে পড়াশুনা করাকালীন সময় থেকেই ছাত্রলীগের সাথে জড়িত  ছিলেন একথা সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনার দাবি সত্য নয়।
প্রশ্ন : ১৯৬৮ সালে এডওয়ার্ড কলেজে বিএ পড়া অবস্থায় পাবনা জেলা ছাত্র লীগের সাধারন সম্পাদক মনোনিত হওয়ার কথাও সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনার দাবি সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনার এলাকায় কোন লোক বিপদে পড়ে আনপার কাছে আসলে আপনি তার পক্ষে সাক্ষ্য দেন।
উত্তর : আমি আমার মেয়ের পক্ষে একবার ছোলেনামা সাক্ষ্য দিয়েছিলাম। এছাড়া কোনদিন এর আগে কোন মামলায় সাক্ষ্য দেইনি।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে মতিউর রহমান নিজামী কি করতেন, কি ছিলেন, তার রাজনৈতিক পরিচয় আপনি জানতেন।
উত্তর : জানতামনা।
মাওলানা নিজামীর পক্ষে অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম, তাজুল ইসলাম, ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন, তারিকুল ইসলাম, আসাদ উদ্দিন প্রমুখ আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষে অন্যান্যের মধ্যে চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু উপস্থিত ছিলেন।



পূর্ন জেরাঃ
জেরায় প্রশ্নের জবাব আকারে  সাক্ষী যে উত্তর দিয়েছেন তা হুবহু এখানে তুলে ধরা হল। উত্তর তেকে প্রশ্নটি কি ধরনের ছিল তা বুঝে নিতে হবে।
আমি কখনোই নোটারী পাবলিক ছিলাম না এবং নোটারী পাবলিক হওয়ার জন্য কখনো আবেদনও করি নাই। ১৯৭১ সালে আমার গ্রামের বাড়ি ছিল গোকুলপুর, ইউনিয়ন পরিষদ ছিল সুজানগর। (চলবে)

০২.০০ টায় পূনরায় জেরাঃ
আমি মাননীয় ট্রাইব্যুনাল থেকে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য কোন সমন পাই নাই। অনেক আগে জানতে পেরেছি যে, অত্র মামলার আসামী মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের পক্ষে সাক্ষ্য দিতে হবে, তবে তারিখ আমার মনে নাই। আমি সর্বপ্রথম মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের ছেলের নিকট থেকে জানতে পেরেছি যে, এই মামলায় মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের পক্ষে আমাকে সাক্ষ্য দিতে হবে। আমি গতকাল ঢাকায় এসেছি। আমার জানাশুনা একজন লোক আব্দুর রউফ এর সঙ্গে ঢাকায় এসেছি। প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পরে সম্ভবত ১৯৮০ সালের পূর্বে দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলাম। প্রথম স্ত্রীর একটি মেয়ে আছে। আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭২ সালে এলএলবি পাশ করেছি। আমি পাবনা সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দিতা করেছিলাম। আমি তখন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসাবে এবং ব্যক্তিগতভাবে মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের প্রার্থী হিসাবে উক্ত নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেছিলাম, ইহা সত্য নহে। আমার বাড়ির ২০টি ফ্যাট ভাড়া দেওয়া আছে। এছাড়াও ব্যাচেলর সরকারী ও বেসরকারী কর্মচারীদের জন্য ফ্যাট ভাড়া দেওয়া আছে। এছাড়াও আমার আরো তিনটি বাড়ি, ০৮টি গোডাউনসহ ৫৩টি দোকান ঘর আছে। আমি গত বৎসর সম্ভবত ২০/৪০ হাজার টাকা আয়কর দিয়েছি তবে সঠিক পরিমান বলতে পারব না। আমি আমার বাড়ি এবং দোকান থেকে মাসিক লক্ষাধিক টাকা ভাড়া পাই। আমার বাড়ি ও দোকান ভাড়ার মাসিক আয় লক্ষাধিক টাকার অনেক বেশী হওয়া সত্ত্বেও অদ্য মাননীয় ট্রাইব্যুনালে অসত্য তথ্য দিলাম, ইহা সত্য নহে। ইসলামী ছাত্র শিবিরের অনেক ছাত্রকে আমার বাড়িতে ভাড়া দিয়েছি, ইহা সত্য নহে। আমি সদর উপজেলার জামায়াতে ইসলামীর আমির, ইহা সত্য নহে। আমি পাকিস্তানের এবোটাবাদ-এ ছয় মাসের আর্মি ট্রেনিং নিয়েছিলাম। ট্রেনিং শেষে দুই/তিন মাস চাকুরীতে ছিলাম। চাকুরী ছেড়ে দিয়ে আসার কোন নিয়ম সেনাবাহিনীর চাকুরী বিধিতে নাই, ইহা সত্য নহে। আমি সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে কোন অনুমতি না নিয়ে বা ইনফরমেশন না দিয়ে পালিয়ে এসেছিলাম এবং এই কারণে আমার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল, ইহা সত্য নহে। ইহা সত্য নহে যে, রাজাকারদের পরিবারের সদস্যদের সহিত এবং রাজাকারদের সহিতও আমার সুসম্পর্ক ছিল এবং এজন্যই তাদের সহিত যোগাযোগ রাখতাম। আমি তৎকালিন ইসলামী ছাত্র সংঘের সভাপতি জনাব মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের নির্দেশেই মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে রাজাকারদের সহিত এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সহিত যোগাযোগ রক্ষা করতাম, ইহা সত্য নহে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে আমি সবসময় মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের সঙ্গে থাকতাম এবং চলাফেরা করতাম, ইহা সত্য নহে। আমি আমার জবানবন্দীতে যে সোর্স শব্দটি ব্যবহার করেছি, ইহা বলতে আমি রাজাকার, আলবদর ও মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের অনুগত লোকদেরকেই বুছিয়েছি, ইহা সত্য নহে। আমি আমার জবানবন্দীতে যে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করার কথা বলেছি ইহা ভূয়া ও অসত্য, ইহা সত্য নহে। আমি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে জনাব মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের নির্দেশে রাজাকার ও আলবদরদের কর্মকান্ড মনিটরিং করতাম, ইহা সত্য নহে। আমি পাবনা জেলা ইসলামী ছাত্র শিবির এবং জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাদের আর্থিক সাহায্য করি, ইহা সত্য নহে। ইহা সত্য নহে যে, গত চার দলীয় জোট সরকারের আমলে তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী জনাব মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের নির্দেশনা অনুযায়ী আমি পাবনা জেলা ইসলামী ছাত্র শিবির এবং জামায়াতে ইসলামীর কর্মকান্ড দেখা শুনা করতাম। গত নির্বাচনের পূর্বে সাধারন নির্বাচনে আমি মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারনা চালিয়েছিলাম, ইহা সত্য নহে।
আমি সপ্তম শ্রেণীতে পড়াশুনা করাকালীন সময় থেকেই ছাত্রলীগের সাথে জড়িত ছিলাম না, ইহা সত্য নহে। ১৯৬৮ সালে এডওয়ার্ড কলেজে বিএ পড়া অবস্থায় পাবনা জেলা ছাত্র লীগের সাধারন সম্পাদক মনোনিত হই নাই, ইহা সত্য নহে।
আমি মতিউর রহমান নিজামী সাহেবেরে ছেলের নিকট মাননীয় ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য প্রদানের বিষয়ে সম্মত হওয়ার সময় আমি আমার পেশাগত এবং বংশগত পরিচয়সহ পুরো পরিচয় দিয়েছি। পাবনা আইনজীবী সমিতির অন্য কোন সদস্যের নিকট মতিউর রহমান নিজমাী সাহেবের ছেলে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেওয়ার বিষয়ে বলেছিলেন কিনা তাহা আমার জানা নাই এবং সেই কারণে আইনজীবী পরিচয়ে অন্য কারো নাম আসামী পক্ষের সাক্ষীর তালিকায় আছে কিনা তাহাও আমার জানা নাই। আমি জানি না যে, প্রথম সাক্ষীর তালিকায় এডভোকেট পরিচয়ে দুইজন সাক্ষীর নাম ছিল কিনা। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে আমাদের সুজানগর থানার প্রত্যন্ত এলাকায় কোন পত্রিকা যেতনা এবং কোন পত্রিকা আমি পড়তাম না। মুক্তিযুদ্ধের পরেও আমি খবরের কাগজ তেমন একটা পড়তাম না, মাঝে মাঝে দুই/একটা পড়তাম। আমার এলাকায় কেউ মামলায় পড়লে আমাকে সাক্ষী দিতে বললে আমি কখনও সাক্ষ্য দেই নাই। আমি ইতিপূর্বে আমার মেয়ের পক্ষে একবার সাক্ষ্য দিয়েছি এবং অদ্য আরেকবার সাক্ষ্য দিলাম, ইহা ছাড়া আমি আর কখনও সাক্ষ্য দেই নাই। আমি কোন নেতার লেখা বই পড়ি নাই। মতিউর রহমান নিজমাী সাহেব জামায়াতে ইসলামীর আমির তাহা আমি জানি। ১৯৭১ সালে তিনি কি ছিলেন বা তিনি কি করতেন বা তার কোন রাজনৈতিক পরিচয় ছিল কিনা তাহা আমা জানা নাই। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিল জামায়াতে ইসলামী ও মুসলিম লীগ। ঐ দুইটি রাজনৈতিক দলের কোন ছাত্র সংগঠন ছিল কিনা তাহা আমার জানা নাই। দৈনিক সংগ্রাম নামে একটি পত্রিকা আছে তাহা আমি দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে জানতে পারি। সেই পত্রিকাটি জামায়াতে ইসলামীর মুখপত্র এটা এখন শুনি।
“সোর্সদের মাধ্যমে এবং আমি ব্যক্তিগত ভাবে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি যে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী সাহেব সাথিয়া থানা এলাকায় মানবতা বিরোধী কোন অপরাধ করেছেন কিংবা অপরাধের কোন সহযোগিতা করেছেন এই মর্মে কোন ব্যক্তি আমার নিকট অভিযোগ করেন নাই এবং কোন ব্যক্তি আমার নিকট ইহা বলে নাই যে, তারা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সাথিয়া এলাকাতে মতিউর রহমান নিজামী সাহেবকে দেখেছেন।” এই কথাগুলি অসত্য বা আমি মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের অনুগত কর্মী হিসাবে তাকে রক্ষা করার জন্য এই অসত্য বক্তব্য দিয়েছি, ইহা সত্য নহে।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ইসলাম ছাত্র সংঘের সভাপতি এবং আলবদর বাহিনীর প্রধান হিসাবে জনাব মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের পরিকল্পনা ও নির্দেশে এবং তার উপস্থিতিতে সাথিয়া থানার বিভিন্ন স্থানে তৎকালীন দখলদার পাক বাহিনী এবং রাজাকার আলবদরদের নিয়ে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ এবং বিতাড়ন সহ বিভিন্ন ধরনের মানবতা বিরোধী অপরাধ সংগঠিত হওয়ার ঘটনার কথা জানা সত্ত্বেও মতিউর রহমান নিজামী সাহেবকে বাঁচানোর জন্য সত্য গোপন করে অসত্য সাক্ষ্য দিলাম, ইহা সত্য নহে।
“দেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই আমি মতিউর রহমান নিজামী সাহেবকে তার এলাকাতে এবং পাবনা শহরে স্বাধীনভাবে ঘুরা ফেরা করতে দেখেছি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে আমরা জানতে পেরেছি সিও (ডেভ) কে আহবায়ক করে এবং সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব করে সরকার একটি কমিটি করেছিল রাজাকার, আলবদরদের তালিকা তৈরি করার জন্য এবং পরবর্তীতে তাদের দ্বারা তৈরিকৃত তালিকায় মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের নাম ছিল না।” এই কথাগুলি অসত্য, ইহা সত্য নহে। আমি জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতা হিসাবে জামায়াতে ইসলামীর প্রধান জনাব মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের কৃত অপরাধ গোপন করে অদ্য মাননীয় ট্রাইব্যুনালে অসত্য সাক্ষ্য দিলাম, ইহা সত্য নহে। (সমাপ্ত)