সুখরঞ্জন বালী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সুখরঞ্জন বালী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ৪ আগস্ট, ২০১৩

ভারতের সুপ্রীম কোর্টে সুখরঞ্জন বালী : আমাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবেননা

৪/৮/২০১৩ 
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে এসে অপহনের শিকার সাক্ষী সুখরঞ্জন বালী  ভারতের সুপ্রীম কোর্টে হাজির হয়ে অনুরোধ করেছেন তাকে যেন বাংলাদেশে ফেরত  পাঠানো না হয়। তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হলে বর্তমান সরকার তাকে গায়েব করে ফেববে  বলে তিনি আশঙ্কার কথা জানিছেন কোর্টকে।

গত শুক্রকার ভারতের সর্বোচ্চ আদালতে সুখরঞ্জন বালীকে হাজির করা হলে তিনি এ অনুরোধ করেন। কলকাতা থেকে প্রকাশিত ইংরেজি দৈনিক টেলিগ্রাফে এ মর্মে প্রতিবেদন  প্রকাশিত হয়েছে।
ভারতের সুপ্রীম কোর্ট তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি স্থগিত করেছে।

সুখরঞ্জন বালী ছিলেন মাওলানা সাঈদীর মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের একজন সাক্ষী। কিন্তু তিনি রাষ্ট্রপক্ষ ত্যাগ করে মাওলানা সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে আসলে গত বছর ৫ নভেম্বর তাকে ট্রাইব্যুনালের সামনে থেকে অপহরন করে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

গত ১৬ মে ঢাকার ইংরেজি দৈনিক নিউএজ পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয় সুখরঞ্জন বালী ভারতের কারাগারে বন্দী রয়েছেন। তাকে বাংলাদেশ থেকে ভারতের সীমান্তে ঠেলে দেয়ার পর ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীরা তাকে গ্রেফতার করে। নিউএজ এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয় সুখরঞ্জন বালীকে ট্রাইব্যুনালের সামনে থেকে অপহরনের পর ছয় সপ্তাহ আটক রাখা হয়। এরপর ডিসেম্বরে তাকে ভারতে পাঠানো হয়। অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে তাকে উত্তর চব্বিশ পরগনার বশিরহাটের একটি আদালত তাকে ১১০ দিনের জেল দেয়। এরপর বিভিন্ন জেলে সাড়ে চার মাস কারাভোগের পর তাকে কলকাতার দমদম সংশোধন কেন্দ্রে  আনা হয়।
সুখরঞ্জন বালী বিষয়ে এ  প্রতিবেদন প্রকাশের পর দেশে এবং বিদেশে এ নিয়ে আরেকবার আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ভারতে তার পাশে এসে দাড়ায় বিশ্বের প্রভাবশালী বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এবং আইনজীবী । গত বছর ৫ নভেম্বর সুখরঞ্জন বালীকে অপহরন করা হলে তখনো সারা বিশ্বে এ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

সুখরঞ্জন বালীর কারাভোগের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবার পর তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আশঙ্কা তৈরি হয়। সেজন্য তিনি ভারতের সুপ্রীম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন আইনজীবীর মাধ্যমে।

সুখরঞ্জন বালীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে অন্তত দুই সপ্তাহের মধ্যে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবেনা এ মর্মে এডিশনাল সিলসিটর জেনারেল ইন্দিরা জয়সিং  নিশ্চয়তা প্রদানের পর ভারতের সুপ্রীম কোর্ট সুখরঞ্জন বালী বিষয়ে আদেশ পাশ করে।

সুখরঞ্জন বালীর ভারতে অবস্থান বর্ধিতকরন বিষয়ে আগামী সাত আগস্ট সিদ্ধান্ত নিতে পারে কলকাতা হাইকোর্ট। কলকাতা হাইকোর্ট সুখরঞ্জন বালীর বিষয়টি সাত আগস্ট পর্যন্ত স্থগিত ঘোষনার পর তার বিষয়টি ভারতের সুপ্রীম কোর্টে আনা হয়। তার পক্ষে নিযুক্ত আইনজীবী কলিন গঞ্জালভস  আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন বালীকে ভারত সরকার যেকোন সময় বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে পারে।

ভারতের সুপ্রীম কোর্টে বালীর পক্ষে দায়ের করা আবেদনে বলা হয়-  বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধ মামলায় তিনি রাষ্ট্রপক্ষে একজন সাক্ষী ছিলেন। তিনি  রাষ্ট্রপক্ষ ত্যাগ করে আসামী পক্ষে সাক্ষ্য দিতে আসার পর তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন অপহরন করে ট্রাইব্যুনালের  গেট থেকে। অনেক দিন তাকে আটকে রাখার পর সীমান্ত দিয়ে তাকে ভারতে ঠেলে দেয়া হয় এবং এরপর তাকে বিএসফ গ্রেফতার করে।
উত্তর চব্বিশ পরগনার একটি আদালত গত এপ্রিল মাসে তাকে ১১০ দিনের জন্য কারাদন্ড প্রদান করে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের দায়ে। তার সাজাভোগের মেয়াদ ইতোমধ্যে পার হয়ে গেছে এবং তার আশঙ্কা তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে।






বৃহস্পতিবার, ১৬ মে, ২০১৩

সুখরঞ্জন বালীর সন্ধান লাভ// ভারতের কারাগারে বন্দী সে

 Bali

Bali's wife crying after abduction of Bali
Mehedy Hasan
সুখরঞ্জন বালীর সন্ধান পাওয়া গেছে। কলকাতার দম দম কারাগারে বন্দী সে।
সুখরঞ্জন বালী ভারতের কারাগারে বন্দী রয়েছে মর্মে আজ  নিউএজ পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।  চাঞ্চল্যকর এ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি করেছেন নিউএজ পত্রিকার সাংবাদিক (এডিটর স্পেশাল রিপোর্টস) ডেভিড বার্গম্যান। এখানে তার প্রতিবেদনটির অনুবাদ তুলে ধরা হল।

(সুখরঞ্জন বালী ছিলেন  রাষ্ট্রপক্ষের একজন সাক্ষী। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য দিতে না এসে বালী মাওলানা সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে এসেছিলেন। কিন্তু সাক্ষ্য দেয়ার আগে অপহরনের শিকার হন তিনি। দেশে বিদেশে এ নিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় তখন। )

ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একজন সাক্ষী ছিলেন সুখরঞ্জন বালী। ২০১২ সালের নভেম্বর মাসে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপহরণ করে বলে আসামী পক্ষ দাবি করে আসছে। কলকাতার একটি কারাগারে তার খোঁজ পাওয়া  গেছে।
দণিাঞ্চলীয়  জেলা পিরোজপুরের হিন্দু সম্প্রদায়ের  লোক সুখরঞ্জন বালী।  গত বছরের ৫ নভেম্বর  সকালে তিনি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য ট্রাইব্যুনালে যাচ্ছিলেন। এসময় সকালে ট্রাইব্যুনালের সামনে  থেকে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে অপহরন করে নিয়ে য়াওয়ার বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করেছেন।

সুখরঞ্জন বালী কলকাতার দম দম সংশোধন কেন্দ্রে আটক রয়েছেন  এবং তাকে দেখতে তার  পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়েছে  মর্মে চলতি  বছরের  ফেব্রয়িারি মাসে  জানতে পারে নিউএজ।  এরপর এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে এবং কিভাবে তিনি সেখানে গেলেন তা খুজের বের করার জন্য অনুসন্ধান চালায় পত্রিকাটি।
পত্রিকাটি তার সঙ্গে দেখা করতে এবং তার বক্তব্য জানার জন্য  ওই কারাগারে  প্রবেশে  সক্ষম  একজন ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে। নিরাপত্তার কারণে তার নাম প্রকাশে অনিচ্ছর কথা জানান ওই ব্যক্তি। ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির অনেক নেতৃবৃন্দের বিচার চলছে। এর কোন একটি দলের সাথেও ওই ব্যক্তির কোন সম্পৃক্ততা নেই।

যাকে দিয়ে আমরা সুখরঞ্জন বালীর কাছ থেকে বক্তব্য সংগ্রহ করেছি তিনি নিউএজকে নিশ্চিত করেছেন যে,  যে ব্যক্তির বক্তব্য সংগ্রহ করা হয়েছে তার সাথে বালীর আসল ছবির সম্পূর্ণ মিল রয়েছে।

বালীর কাছ থেকে বক্তব্য সংগ্রহ করা ওই ব্যক্তি নিউএজকে জানান, বালী পুরো অপহরন ঘটনার অত্যন্ত স্পষ্ট বিবরন দিয়েছেন। । আমি মনে করি, ঘটনাটি সত্য না হলে এ রকম মুহূর্তে তার কাছ থেকে এমন বিবরণ আসা খুবই কঠিন।’ অবশ্য বালীকে তখন নার্ভাস দেখাচ্ছিল  বলেও ওই ব্যক্তি নিউ এইজ-কে জানান।

বালী জানান, অপহরনের পর  তাকে কোনো ধরনের নির্যাতন করা হয়নি।  তবে তারা প্রশ্ন করেছে  ‘কেন আমি সাঈদী সাহেবের পক্ষে সাক্ষ্য দিতে এসেছি।  তারা বলেছে- আমাকে হত্যা করা হবে এবং সাঈদী সাহেবকে ফাঁসিতে ঝোলানো  হবে।’
তার বক্তব্য অনুযায়ী  ২০১২ সালের ডিসেম্বরের শেষের দিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী  বাহিনীর হাতে তুলে দেয়ার আগে ঢাকায় তাকে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত আটক রাখা হয়। গত সাড়ে চার মাস তাকে  ভারতের বিভিন্ন কারাগারে আটক রাখা  হয়েছে।

বালীর এসব দাবির সত্যতা নিউএইজ স্বাধীনভাবে   নিশ্চিত করতে পারেনি। কারণ, এর আগে তার পরিবারের এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আসামী পক্ষ তার অপহরন বিষয়ে যেসব কথা বলেছিল তার সাথে বালীর সর্বশেষ বক্তব্যের কিছু  কিছু গরমিল রয়েছে। তবে  বালী আটক থাকা থাকার  সময়সীমার যে তথ্য দিয়েছে তার সাথে মিল রয়েছে ভারতীয় আদালতে তার আটক থাকা বিষয়ে  পুলিশের দাখিলকৃত তথ্যের সাথে।

ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে দেশটির ফরেইনার অ্যাক্ট-১৯৪৬ এর অধীনে কলকাতার একটি আদালত বালীকে ১০৫ দিনের কারাদণ্ড দেয় গত ৩ এপ্রিল । । যেহেতু বিচার চলাকালে এই মেয়াদটা  তিনি কারাভোগ করেছেন, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে  তাকে যেকোনো দিন বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া এবং পাবলিক রিলেশনস কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ‘আমাদের কাছে (বালীর বিষয়ে) কোনো তথ্য নেই। আমি যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলামের  সঙ্গে কথা বলেছি এবং তিনি বলেছেন- তিনি কিছুই জানেন না। এই মুহূর্তে বালী কোথায়  আছে তিনি তা জানেন না।’ মনিরুল ইসলাম ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

১৯৭১ সালের যুদ্ধের সময় দুটি মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে  আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল দেলাওয়ার হোসাইন  সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দেন গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে।  এরমধ্যে একটি হলো- সুখরঞ্জন বালীর ভাই বিশাবালীকে হত্যায় জাতি  থাকার অভিযোগ।

আদালত রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে  বিশাবালীকে একটি নারিকেল গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা  হয়  এবং ‘অভিযুক্ত দেলাওয়ার  হোসাইন সাঈদীর নির্দেশে  রাজাকাররা তাকে গুলি করে হত্যা করে।  আদালত আরো ছয়টিঅপরাধের জন্য তাকে দোষী সাব্যস্ত করলেও কোনো সাজা ঘোষণা করেনি। মামলাটি বর্তমানে সুপ্রিম  কোর্টের  আপিল বিভাগে রয়েছে।

ট্রাইব্যুনাল চত্বর থেকে বালীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপহরণ করেছে এমন অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে সরকার এবং ট্রাইব্যুনাল কর্তৃপক্ষ।
গত বছরের ৫ নভেম্বর  সকালে আসামিপক্ষের  আইনজীবীরা বালীকে অপহরনের ঘটনাটি  ট্রাইব্যুনালকে  জানায়। এর কিছুক্ষন পর  চিফ  প্রসিকিউটর  আদালতকে বলেন, ‘আদালত চত্বরে সাক্ষী অপহরনের কোন ঘটনাই ঘটেনি। আদালত চত্বরে যেসব পুলিশ সদস্য রয়েছে তাদের সাথে আমি কথা বলেছি। তারা আমাকে জানিয়েছে এখানে আজ এ ধরনের কোন ঘটনাই ঘটেনি। তারা এ বিষয়ে কিছুই জানেননা। চিফ প্রসিকিউটর যখন ট্রাইব্যুনালকে এ তথ্য জানান তখন তার পাশে তদন্ত সংস্থার প্রধানও উপস্থিত ছিলেন এবং তিনিও এ বক্তব্য সমর্থন করেন।


এরপর প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয় সাক্ষী অপহরনের ঘটনাটি আসামী পক্ষের একটি অগ্রহনযোগ্য নাটক। নেতাদের বেআইনিভাবে মুক্ত করতে ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রম বনচাল করতে তাদের  (জামায়াাতে ইসলামীর) চেষ্টার অংশ এটি।

অপহরণের ঘটনার এক সপ্তাহ পর বালীর পক্ষে দায়ের করা হেবিয়াস করপাস  আবেদনের পরিপ্রেেিত অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম হাই কোর্টকে বলেন, ‘এই গল্প একেবারেই উদ্ভট এবং ট্রাইব্যুনালের সুনাম নষ্ট, ট্রাইব্যুনালকে হেয় প্রতিপন্ন  করাই এর উদ্দেশ্য।

বালীর জেলখানায় থেকে দেয়া বিবৃতিতে জানন,  ছয় সপ্তাহ তাকে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটকে রাখার পর ২৩ ডিসেম্বর তাকে চোক বেঁধে  পুলিশ তাকে সীমান্তে  নিয়ে যায়। এরপর ভারতীয়  সীমান্তরী বাহিনী-বিএসএফের হাতে তাকে তুলে দেয়া হয়।  নিজের সই করা বিবৃতিতে বালী বলেন, ‘তারা আমাকে খাবার দেয়ার  জন্য মাগুরার একটি হোটেলের সামনে গাড়ি থামায় ।  এসময় তারা আমার চোখের বাঁধন খুলে দেয়  এবং আমি বুঝতে পারি আমাকে প্রাইভেটকারে এখানে আনা  হয়েছে।

‘আমার খাবার খাওয়া  শেষ হলে ফের আমার চোখ বেঁধে  রওয়ানা দেয়া হয় গাড়িতে করে।  সর্বশেষ বিকেল ৫টার দিকে বিএসএফের হাতে আমাকে তুলে দিয়ে  তারা চলে যায।

বালী বলেন, বিএসএফ সদস্যরা তার সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করে। ‘তারা আমাকে নির্যাতন করে এবং জানতে চায় আমি সেখানে কী করছিলাম। বিএসএফের হাতে তুলে দেয়ার আগ পর্যন্ত আমি কী করেছি তা তুলে ধরার চেষ্টা করি। সম্ভবত তারা আমার কাছ থেকে সন্তোষজনক জবাব পায়নি এবং আমাকে আরো বেধধড়়ক মারধর করা হয়।’
এতে আহত হলে বিএসএফ তাকে একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে স্বরূপনগর থানায  নিয়ে যাওয়া  হয়। সেখান থেকে পরদিন তাকে বসিরহাট আদালতে তোলা হয়। । বসিরহাট কারাগারে ২০ দিন আটক থাকার পর তাকে দম দম   সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো হয় বলে জানান বালী।

বালী তার বক্তব্যে বলেন, ২০১২ সালের মে মাসের কিছুদিন পর সাঈদীর ছেলে ‘বুলবুল’ তার বাড়িতে যান  তার সঙ্গে দেখা করতে। কিন্তু এসময় তিনি বাড়িতে ছিলেননা। পরে ফোনে তিনি তিনি তাকে প্রথমবারের মত তার পিতা  সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য  দিতে বলেন। বুলবুল তার বাবার জন্য সাক্ষী হতে আমাকে অনুরোধ করে। কিছুদিন পর বুলবুল মারা যান। বালী উল্লেখ করেন  ২০১২ সালের ১৩ জুন সাঈদীর বড় ছেলে রফিক-বিন-সাঈদী মারা যান।

এই ছেলে হৃদরোগে মারা যাওয়ার পর সাঈদীর আরেক ছেলে তার  সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ রাখেন বলে জানান বালী এবং দুর্গাপূজার আগে (অক্টোবর ২০-২৪) তিনি ঢাকা আসেন। সাঈদীর বাসায়  ১৫ থেকে ১৬ দিন থাকেন।
তিনি বলেন, ৫ নভেম্বর তাকে সাঈদীর আইনজীবীদের অফিস পল্টনের একটি ভবনের ১০ম তলায় নেয়া হয়।  সেখানে সাঈদীর আইনজীবীদের সাথে তার সাক্ষাৎ হয়। এরপর  তাকে ট্রাইব্যুনালে নিয়ে যায়  তারা।

এর আগে সাঈদীর আইনজীবীরা এবং বালীর স্ত্রী দাবি করেন, বালী নভেম্বরের শুরুতে প্রথমে ঢাকা আসেন। ঢাকায় অবস্থানকালে বালী সাঈদীর পরিবারের কোনো সদস্যের বাড়িতে অবস্থান করেননি  বলেও দাবি করেন তারা আইনজীবীরা।
ভারতীয় পুলিশের ২০১২ সালের ২৪ ডিসেম্বর দাখিল করা প্রথম প্রতিবেদনে  বলা হয়, পুলিশ কর্মকর্তা কুলদীপ সিং ভারতীয়  সীমান্তবর্তী স্বরূপনগরে ‘সন্দেহজনক গতিবিধি পর্যবেক্ষন’ করেন এবং বালীকে চ্যালেঞ্জ করলে তিনি পালান। এফআইআর-এ বলা হয়, আটক করা হলে বালী তাদের জানায়, ‘তিনি বাংলাদেশ থেকে তার ভাইযয়ের সঙ্গে দেখা করতে ভারতে এসেছে।’

কলকাতায় বাংলাদেশ   হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি (রাজনৈতিক) শরিফ উদ্দিন নিউ এইজ-কে বলেন, ‘বিভিন্ন সংশোধন কেন্দ্রে আটক বাংলাদেশিদের দেখতে এপ্রিলের শেষের দিকে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের  একটি দল কলকাতায় আসেন।’
‘আমরা  দম দম  সংশোধন কেন্দ্র পরিদর্শন করেছি। আমি তাদের সঙ্গে ছিলাম। কিন্তু  তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলটি বালী সঙ্গে দেখা করেছেন কিনা আমি বলতে পারবো না’ বলে জানান শরিফ উদ্দিন।

ওই  প্রতিনিধি দলের একজন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবির লে. কর্নেল তৌহিদ বলেন, ‘বালীর সঙ্গে তারা দেখা করেছেন কিনা তা তিনি বলতে পারবেন না।’
তিনি বলেন, ‘যেহেতু কারাগারে  প্রায় ১৩০ জন ছিল, তাই আমি বিষয়টি স্মরণ করতে পারছি না। আপনাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করতে হবে।’

সুখরঞ্জন বালীর নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সামনে থেকে অপহরনের শিকার সাক্ষী সুখরঞ্জন বালীর জীবনের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য বাংলাদেশ এবং ভারত উভয় সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এর বিবৃতিতে বলা হয়েছে বালীকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো উচিত হবেনা। কারণ এখানে ফেরত আসলে তার জীবন সত্যিই হুমকীর সম্মুখীন হবে।

ঢাকা থেকে প্রকাশিত ইংরেজি দৈনিক নিউএজ পত্রিকায় আজ রিপোর্ট  করা হয়েছে সুখরঞ্জন বালীর সন্ধান পাওয়া গেছে।  বর্তমানে সে ভারতের দম দম জেলখানায় বন্দী রয়েছে। বালীকে নিয়ে এ রিপোর্ট প্রকাশের পর হিউম্যান রাইটস ওয়াচ তার নিরাপত্তার দাবি  জানিয়ে বিবৃতি প্রদান করেছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বিবৃতিতে বলা  হয়েছে- দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ সাক্ষী সুখরঞ্জন বালীর নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশ এবং ভারত  উভয় দেশ কর্তৃক সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিত।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বিবৃতিতে বালীর অপহরনের বিষয়টি তুলে ধরে বলা হয়-বালীর দাবিমতে তাকে  ট্রাইব্যুনালের সামনে থেকে বাংলাদেশী পুলিশ অপহরন করে । এরপর তাকে কিছুদিন বাংলাদেশে বন্দী করে রাখার পর আইনশঙ্খলা বাহিনী তাকে সীমান্ত দিয়ে  ভারতে পাঠিয়ে দেয়  জোর করে। বালী অভিযোগ করেছেন, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সদস্যরা তাকে আটক করে এবং তার ওপর নির্যাতন চালায়। এরপর তাকে দমদম জেলে পাঠানো হয়।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্রাড  এ্যাডমা  গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতিতে বলেছেন- ‘ট্রাইব্যুনালের সামনে থেকে সাক্ষী অপহরনের বিষয়টি প্রসিকিউশন, বিচারক এবং সরকারের আচরন নিয়ে  গভীর উদ্বেগ এবং সন্দেহের  জন্ম দিয়েছে।  অনেক প্রশ্নের মধ্যে একটি প্রশ্ন হল কে এই অপহরনের নির্দেশ দিয়েছিল এবং  উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কিভাবে এর সাথে নিজেরা জড়িত ছিলেন?’

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়-ট্রাইব্যুনালে আসামী পক্ষে সাক্ষ্য দেয়ার কথা ছিল বালীর। বালী জানিয়েছেন, ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর তাকে সাদা পোশাকের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গ্রেফতার করে ট্রাইব্যুনালের সামনে থেকে। এরপর তাকে একটি পুলিশ ভ্যানে তুলে পুলিশের অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়।
ট্রাইবু্যুনালের সামনে অবস্থানকারী অনেকে এ অপহরন ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছে।
আসামী পক্ষ ট্রাইব্যুনালে এ অপহরন ঘটনা জানানোর পর  ট্রাইব্যুনাল রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের (প্রসিকিউশন) নির্দেশ দেন বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য।  অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য স্বাধীন কোন সংস্থাকে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়নি। কিছুপক্ষন পর  প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালে ফিরে এসে বললেন আদৌ এ ধরনের কোন ঘটনাই ঘটেনি। কোন অপহরনের ঘটনা ওইদিন ঘটেনি। প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রপক্ষ আসামী পক্ষের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করলেন।
বালীর নিরুদ্দেশ হওয়া  বিষয়ে তদন্তের জন্য বিচারকরা পরবর্তীতে আর কোন নির্দেশ দিলেননা। সে কোথায় আছে সে বিষয়ে  কোন তথ্য প্রকাশ করা হয়নি জনসম্মুখে। বালী বিষয়ে তদন্তের দাবিও অস্বীকার করল সরকার। বালীর পক্ষে দায়ের করা হেবিয়াস করপাস শুনানীতে  এটর্নি জেনারেল বললেন আদালতের সুনাম ুন্ন করার জন্য এ অভিযোগ করা হচ্ছে আসামী পক্ষ থেকে।

১৯৭১ সালে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগসমূহের মধ্যে একটি অভিযোগ ছিল সুখরঞ্জন বালীর ভাই   বিশাবালীকে হত্যার অভিযোগ।  রাষ্ট্রপক্ষের এ অভিযোগের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে চেয়েছিলেন সুখরঞ্জন বালী। সাঈদীকে যে দুটি হত্যার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে তার মধ্যে একটি অভিযোগ হল বিশাবালীকে হত্যা।

বালী দাবী করেছেন তাকে ট্রাইব্যুনালের সামনে থেকে পুলিশ অপহরন করেছে। এরপর সরকারী হেফাজতে তাকে কয়েক সপ্তাহ আটকে রাখা হয়। এরপর সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়-বাংলাদেশ থেকে যারা অবৈধভাবে সীমান্ত পারি দিয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করে তাদেরকে কিভাবে বিএসএফ হত্যা করে তার ডকুমেন্ট হিউম্যান রাইটস ওয়াচের কাছে রয়েছে। ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশের  দায়ে এপ্রিল মাসে বালীকে ভারতের একটি কোর্ট ১১০ দিনের জেল দেয়। তার কারাবাসের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু এখনো সে জেলে রয়েছে।

ভারতের দম দম জেলে বালীর বন্দী থাকার বিষয়টি হিউম্যান রাইটস ওয়াচ গত মার্চ মাসে জানতে পেরেছে। কিন্তু বালীর নিরাপত্তার স্বার্থে তা জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি। গত বৃহষ্পতিবার ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ পত্রিকায় এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর আমরা বালী বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করছি বলে উল্লেখ করে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

জাতিসংঘের উদ্বাস্তু বিষয়ক হাইকমিশনের (ইউএন এইচসিআর) ভারতীয় অফিস কর্তৃক বালীর সাথে কথা বলার আগে যেন বালীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো না হয়। বালী কোন রাজনৈতিক আশ্রয় চায় কি-না এবং সে উদ্বাস্তু কি-না সেটি তারা নির্ধারন করতে পারে। বালী যদি রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা নাও করে এবং তার এ দাবি যদি প্রত্যাখ্যানও হয় তবু তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো ঠিক হবেনা বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।  কারণ এখানে তার এখানে জীবনের নিরাপত্তাহীনতার ঝুকি রয়েছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়-বালীকে যারা অপহরন করে সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঠেলে দিয়েছে তাদের ধারণা ছিল বিএসএফ তাকে হত্যা করবে অথবা সে চিরতের নিখোঁজ হয়ে যাবে।
ব্রাড অ্যাডাম বলেন, সত্যিই বালীর জীবন এখানে হুমকির সম্মুখীন। কারণ এখানে তাকে ফেরত পাঠালে  অপহরনের বিষয়টি বিস্তারিতভাবে প্রকাশিত হয়ে পড়বে। বালীর এখন একজন নিরপেক্ষ স্বাধীন আইনজীবী এবং ইউএনএইচসিআর  এর সহায়তা দরকার যাতে তাকে তার নিরাপত্তাহীনতার  বিষয়টি তুলে ধরা যায় এবং এ প্রেক্ষিতে সে  সে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে ।

সোমবার, ৫ নভেম্বর, ২০১২

ট্রাইব্যুনালের গেট থেকে মাওলানা সাঈদীর পক্ষের সাক্ষী অপহরন/// আইনজীবীদের আদালত বর্জন


মেহেদী হাসান
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষের একজন সাক্ষীকে ট্রাইব্যুনালের গেট থেকে  অপহরন করে নিয়ে গেছে ডিবি (ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ) পুলিশের লোকজন। তার নাম সুখরঞ্জন বালী। তিনি ছিলেন মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের তালিকাভুক্ত  সাক্ষী ।  গতকাল তিনি এসেছিলেন মাওলানা সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে। সাক্ষ্য দিতে আসার সময় ট্রাইব্যুনালের প্রবেশ পথে তাকে  ডিবি পুলিশের লোকজন  ধরে নিয়ে  গেছে।

সাক্ষী অপহরনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনাল বর্জন করেছেন মাওলানা সাঈদীর আইনজীবীরা। আইনজীবীদের উপস্থিতি ছাড়াই বিকালে মাওলানা সাঈদীর মামলার যুক্তিতর্ক  গ্রহণ শুরু করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

মাওলানা সাঈদীপর আইনজীবীরা এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন সাক্ষীকে   ধরে নিয়ে  পুলিশের গাড়িতে তোলার সময় তাকে থাপ্পড় মেরেছে ডিবি পুলিশের লোকজন।


এদিকে রাষ্ট্রপক্ষের চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু ট্রাইব্যুনালে জানিয়েছেন  সাক্ষী অপহরনের কোন ঘটনাই ঘটেনি।

যেভাবে সাক্ষী  ধরে নেয়া হল :

আইনজীবী এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল   সকাল সোয়া দশটার দিকে  মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী  মিজানুল ইসলাম এবং অন্য কয়েকজন আইনজীবী একটি গাড়িতে করে  ট্রাইব্যুনালে আসছিলেন। তাদের সাথেই ছিলেন সাক্ষী সুখরঞ্জন বালী। তাদের বহনকারী গাড়ি ট্রাইব্যুনালের  পাশে মাজার সংলগ্ন গেটে আসার পর   দায়িত্বরত পুলিশ  গাড়ি থামান। পুলিশ  সব আইনজীবীদের গাড়ি থেকে নামতে বলেন। অ্যাডভোকেট মনজুর আহমদ আনসারী,  হাসানুল  বান্না সোহাগ সবাই নেমে আসেন। তাদেরকে হেটে ট্রাইব্যুনালে যেতে বলেন  দায়িত্বরত। অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম পক্ষাগাতগ্রস্ত হওয়ায় শুধুমাত্র তাকে গাড়িতে চড়ে ট্রাইব্যুনালের  সামনে যাওয়ার অনুমতি দেন পুলিশ। গাড়িতে থাকা সাক্ষীকে সুখরঞ্জন বালীকেও নেমে আসতে বলেন তারা । সাক্ষী নেমে আসেন।
সাক্ষীসহ অন্যান্য আইনজীবীরা গেটে দাড়িয়ে থাকেন। অ্যাডভোকেট মনজুর আহমদ ভেতরে যান অন্য আইনজীবী এবং সাক্ষীর জন্য গেট পাশ আনতে। (অন্যান্য দিন এ ধরনের কড়াকড়ি ব্যবস্থা ছিলনা। সাক্ষী এবং আইনজীবী  এবং সাংবাদিকরা  সরসারি ট্রাইব্যুনালের সামনে চলে যেতে পারতেন। শুধুমাত্র গতকালই বাইরের গেটে এভাবে কড়াকড়ি এবং চেকিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়।)

এসময়  আসামী পক্ষের জুনিয়র আইনজীবী হাসানুল বান্না সোহাগ এবং সাক্ষী গেটে  দাড়িয়ে থাকেন। তখন চারজন সাদাপোশাকধারী লোক এসে  নিজেদের ডিবি পুলিশের লোক পরিচয় দেন। তারা সাক্ষীর নাম জিজ্ঞেস করেন। তারপর  সাক্ষীর দুপাশ থেকে দুজন করে পুলিশ হাত ধরে   রাস্তার দিকে নিয়ে যেতে থাকেন। আইনজীবী এর  প্রতিবাদ করলে  ডিবি সদস্যরা জানান কিছু  পাশেই তাদের কন্ট্রোল রুমে  নিয়ে কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করার পর ছেড়ে দেয়া হবে। এরপর সাক্ষীকে  টেনে      শিক্ষাভবনের দিককার  পুরনো হাইকোর্ট  গেট থেকে বের করে দোয়েল চত্বরের দিকে  ট্রাইব্যুনালের অপর গেটের দিকে নিয়ে যায়। এসময় ডিবি পুলিশের এক সদস্য মোবাইলে ফোন করলে ট্রাইব্যুনালের ভেতরের চত্বর থেকে একটি পুলিশের  পিকআপ ভ্যান  গেটে আসলে সাক্ষীকে গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া  হয়। প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবী জানান,  তাকে গাড়িতে ওঠানোর সময় থাপ্পর দেয়া হয় এবং টেনে চিচড়ে নিয়ে যাওয়ার সময় পেছন থেকে ধাক্কা মারা হয়।

ট্রাইব্যুনাল বর্জন :

সকাল সাড়ে দশটায় ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম    শুরু হলে অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালকে বিষয়টি অবহিত করেন। ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক বলেন কোর্ট শেষে আমরা বিষয়টি দেখব। আসামী পক্ষের প্রধান ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন সাক্ষীকে  এ অবস্থায় রেখে আমরা বিচার কাজে অংশ নিতে পারিনা। বিষয়টির বিষয়ে এখনই পদক্ষেপ নেয়া হোক।
এরপর ট্রাইব্যুনাল এক আদেশে চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপুকে নির্দেশ দেন   অপহরনের বিষয়টি বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে  এবং তাকে ছাড়িয়ে আনার বিষয়ে ট্রাইব্যুনালকে অবহিত করতে। তিনি আদেশের সাথে সাথে  তাকে  কোর্ট থেকে বের হয়ে চেম্বারে গিয়ে এ বিষয়ে খোঁজ  নেয়ার নির্দেশ দেন।
সাড়ে বারটার দিকে গোলাম আরিফ টিপু ট্রাইব্যুনালে আসেন। তখন অন্য একটি মামলার শুনানী চলছিল।  আসামীপক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার  আব্দুর রাজ্জাক সে শুনানী বন্ধ রেখে গোলাম আরিপ টিপুর কাছ থেকে  সাক্ষী বিষয়ক পরিস্থিত  শোনার আবেদন করেন। ট্রাইব্যুনাল বলেন চলমান আবেদনের শুনানী শেষ হোক। এরপর   একটা বাজার সামান্য আগে শুনানী শেষ হলে চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু ট্রাইব্যনালের সামনে দাড়িয়ে বলেন, আমি  আইনশৃঙখলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সাথে  কথা বলেছি। তারা বলেছেন, আইনের কোন লঙ্ঘন তারা করেননি।  ট্রাইব্যুনালের প্রবেশ পথে তারা  তাদের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
বিচারপতি নিজামুল হক বলেন একজনকে  ধরে  নিয়ে যাবার বিষয়ে আপনাকে খোঁজ নিতে বলেছিলাম তার কি হল। তার কি হল?
গোলাম আরিফ টিপু বলেন, এরকম কোন ঘটনাই ঘটেনি আজ সেখানে। 
বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, একটা হতে পারে কারা  এ কাজ যারা করেছে তারা চিনতে পারেনি অথবা ঘটনা ঘটেনি।
গোলাম আরিফ টিপু বলেন, আদৌ  এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি।
বিচারপতি নিজামুল হক আবারো বলেন, ট্রাইব্যুনালের গেট থেকে কেউ অপহরন হয়েছে কি-না?
গোলাম আরিফ টিপু বলেন কেউ অপহরন হয়নি।
এর সাথে সাথে আসামী পক্ষের আইনজীবীরা  তীব্র প্রতিবাদ জানান। ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমার কয়েকজন আইনজীবী এখানে এসে ঘটনা বলল প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে সেটা মিথ্যা হয়ে গেল? মিজান সাহেব কি তাহলে মিথ্যা বলেছেন?  তার সাথে থাকা আমাদের অন্যান্য আইনজীবীরা মিথ্যা বলেছেন?  আর চিফ প্রসিকিউটর পুলিশের কথা শুনে বলে দিলেন এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি?
বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, দুইটার পর আমরা বিষয়টি দেখব। এর মধ্যে আমরাও একটু খোঁজ খবর  নিয়ে দেখি কি হয়েছে। ব্যারিস্টার  আব্দুর রাজ্জাক অনুরোধ করেন বিষয়টি সুরাহা করে তারপর কোর্ট বিরতিতে যাক।

এরই মধ্যে  সাক্ষীকে ধরে নিয়ে যাওয়া সংক্রান্ত মোবাইলে তোলা ছবি  প্রিন্ট করে ট্রাইব্যুনাল কক্ষে প্রবেশ করেন  আসামী পক্ষের আরেক আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মো: মনির।   আসামী পক্ষ ট্রাইব্যুনালের সামনে সে ছবি জমা দেন। তিনজন বিচারপতি তা দেখেন। এরপরও তারা দুপুরের বিরুতিতে যাবার প্রস্তুতি নেন। ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মিজানুল ইসলাম কিছু  কথা বলেন। এসময় বিচারপতিগন চেয়ার থেকে উঠে যান । চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক বলেন,  এখন আর শোনা হবেনা। মিজানুল ইসলাম তীব্র ক্ষোভের সাথে বলেন, আমাদের কথাও শোনাও হবেনা? তাহলে আমরা এ  কোর্টে আসব কিভাবে? আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক শুরু হয় কোর্টরুমে। মিজানুল ইসলাম উচ্চস্বরে প্রতিবাদ করতে থাকেন। এরই মধ্যে কোর্টরুম ত্যাগ করে চলে যান বিচারপতিগন।

সকালে শুনানী চলাকালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস প্রেসিডন্টে  সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার মওদূদ আহমদ, সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি  জয়নুল আবেদনী ট্রাইব্যুনালে হাজির হন। ব্যারিস্টার মওদূদ আহমদ এবং খন্দকার মাহবুব হোসেন শুনানীতে অংশগ্রহণ করেন।
ট্রাইব্যুনাল বর্জনের পর খন্দকার মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, আমরা জানিনা  হতভাগ্য সাক্ষীর ভাগ্যে কি আছে। বাংলাদেশের রাস্তাঘাটে এখন লোকজন গুম হচ্ছে। আমরা জানিনা এ সাক্ষীকে আর খুঁজে পাওয়া যায় কি-না। কারণ সরকার পক্ষ তাকে অপহরনের বিষয়টি অস্বীকার করছে।  কোর্টে আসার পথে সাক্ষী অপরহন করা হচ্ছে। আমাদের নিরাপত্তা কোথায়?

ঢ়ধৎঃ২ ফি রিঃহবংং ধনফঁপঃবফ, ৎবঢ়ড়ৎঃ, ৫/১১/২০১২
সবযবফু


রাষ্ট্রপক্ষের   অভিযোগ :
সাক্ষী অপহরন বিষয়ে ট্রাইব্যুনালে এবং ট্রাইব্যুনালের বাইরে সাংবাদিকদের কাছে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী বলেন, সুখরঞ্জন বালী আসামী পক্ষের কোন সাক্ষী নয়। আজ সাক্ষীর জন্য নির্ধারিত কোন তারিখও ছিলনা।  সে তাদের কাছে গেল কি করে সেটাই আমাদের প্রশ্ন। সৈয়দ হায়দার আলী অভিযোগ করে বলেন, ট্রাইব্যুনাল  বর্জনের অজুহাত হিসেবে এ ঘটনার অবতারনা করা হয়েছে।

কে এই সুখরঞ্জন বালী : মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ  ১৯৭১ সালের ২ জুন পিরোজপুরের উমেদপুরে হিন্দুপাড়ায়  বিশাবালী নামে একজন অসুস্থ ব্যক্তিকে নারকেল গাছে সাথে বেঁেধ রাজাকাররা হত্যা করে। মাওলানা সাঈদীর উপস্থিতিতে এবং নির্দেশে তাকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। সেই বিশাবালীল ভাই হলেন সুখরঞ্জন বালী।   রাষ্ট্রপক্ষ তাকে সাক্ষী মেনেছিল। তবে  রাষ্ট্রপক্ষ তাকে হাজির করতে পারেনি।

বিশাবালীকে হাজির করতে না পারা বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ গত   মার্চ  মাসে ট্রাইব্যুনালে জানিয়েছিল চার মাস আগে  নিজ বাড়ি থেকে বের হবার পর  সুখরঞ্জনবালী নিখোঁজ হয়েছে।

গত ২০ মার্চ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে একটি আবেদন পেশ করা হয়। আবেদনে বলা হয়  মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে  ৪৬ জন  সাক্ষীকে  হাজির করা আদৌ সম্ভব নয়। তাই  ৪৬ জন সাক্ষী  তদন্ত কর্মকর্তার কাছে যে  জবানবন্দী  দিয়েছেন তা  তাদের অনুপস্থিতিতে আদালতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহন করা হোক।  এই ৪৬ জন সাক্ষীর তালিকায় সুখরঞ্জন বালীর নামও ছিলেন।


সাক্ষী হাজির করতে না পারা বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ যেসব কারণ উল্লেখ করেছিল তার মধ্যে রয়েছে মাওলানা সাঈদীর পক্ষের সন্ত্রাসী অস্ত্রধারীদের হুমকির কারনে  অনেকে  আত্মগোপন করেছে, কেউ বাড়ি থেকে নিখোঁজ, কেউ গোপনে ভারতে  পালিয়ে গেছে, কেউ অসুস্থ, কারো কারো স্মৃতিশক্তি লোপ পেয়েছে।
৪৬ জনের সেই তালিকা থেকে ১৫ জনের জবানবন্দী মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধেথ  সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে ২৯ মার্চ আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। সেই ১৫ জনের মধ্যেও ছিলেন সুখরঞ্জন বালী।
রাষ্ট্রপক্ষ যে সাক্ষী সম্পর্কে বলেছিল সে নিখোঁজ সেই সুখরঞ্জন বালী গতকাল  এসেছিলেন মাওলানা সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে।
রাষ্ট্রপক্ষ কর্তৃক সাক্ষী হাজির করতে যেসব কারণ উল্লেখ করা হয়েছিল তাকে মিথ্যা এবং প্রতারনা বলে অভিযোগ করেছিল আসামী পক্ষ। আসামী পক্ষ অভিযোগ করে বলেছিল সাক্ষীরা রাষ্ট্রপক্ষের শেখানো মতে মিথ্যা বলতে রাজি নয় বিধায় তাদের হাজির করা হচ্ছেনা।

কড়া নিরাপত্তা ট্রাইব্যুনালে : গতকাল ট্রাইব্যুনালে ছিল কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনি যা আগে কখনো দেখা যায়নি। সাধারনত ট্রাইব্যুনালের সামনে থেকে পাশ নিয়ে প্রতিদিন গেট পাশ নিয়ে সাংবাদিক আইনজীবী এবঙ আসামীর আত্মীয়স্বজনকে প্রবেশ করতে হয়। কিন্তু গতকাল একদন বাইরের গেটে বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা কর্র্মী প্রত্যেকের আইডি কার্ড চেক করে ভেতরে প্রবেশের ব্যবস্থা করেন। মিজানুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করে বলেন, আজ কি কারনে এরকম ব্যবস্থা করা হল তা আমরা জানিনা এবং  এরকম যে ব্যবস্থা করা হবে তাও আমাদের জানানো হয়নি। জানালে আমরাও সেভাবে প্রস্তুতি নিয়ে আসতে পারতাম। তিনি বলেন নিরাপত্তাকমীর দায়িত্ব হল আমাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা। কিন্তু তারা যদি আমাদের হয়রানি করে, আইনজীবীদের  গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয় এবং সাক্ষীকে ধরে নিয়ে যায় তাহলে সে নিরাপত্তা কর্মী কিসের জন্য?
ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক হয়রানির বিষয়ে অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ গাড়ি চেক করতেই পারে,   আগতদের পরিচয় জানতে চাইতে পারে। কিন্তু তারা আমাদের আইনজীবীদের সাথে আজ যা ব্যবহার করছে তা কোনমতেই  গ্রহণযোগ্য নয়।
তাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের দুজন আইনজীবীকে এখনো পুলিশ বাইরে আটকে রেখেছে। তাদেরকে ঢুকতে দিচ্ছেনা। বলা হচ্ছে  পাশ ছাড়া কারো ভেতরে যাবার অনুমতি নেই।  কিন্তু বাইরে তো  গেট পাশ সংগ্রহের কোন ব্যবস্থাই নেই।   ভেতরেই যদি প্রবেশ করতে না দেয়া হয় তাহলে সে পাশ সংগ্রহ করবে কিভাবে? তিনি বলেন আমাদের আইনজীবীদের সাথে একরকম এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের সাথে আরেক রকম ব্যবহার করা হচ্ছে।
এ অভিযোগের পর ট্রাইব্যুনাল রেজিস্ট্রার নাসরি উদ্দিনকে ডেকে পাঠান এবং এ বিষয়ে জানতে চান।
নতুন নিরাপত্তা বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন আমরাই এ নির্দেশ দিয়েছি। আমরা ট্রাইব্যূনালকে হাট বানাতে দিতে চাইনা। আমরা দেখতে  পাই প্রতিদিন গাউন পরে অনেক লোক এখানে আসেন যারা  কোন পক্ষের আইনজীবী নন। তারা কিভাবে পাশ নিয়ে এখানে আসেন? আমরা আগেই বলেছি আসামীর আইনজীবী ছাড়া শেখার জন্য কেউ কেউ আসবেন। কিন্তু তার একটা মাত্রা তো থাকতে হবে। আমরা আপনাদের জন্য একশ আইনজীবী আসতে দিতে পারিনা।
তাজুল ইসলাম  গতকালের ঘটনার জন্য ট্রাইব্যুনালের সংশ্লিষ্টতারও অভিযোগ করেন। তিনি বলেন   কারণ ট্রাইব্যুনাল বলেছেন তাদের নির্দেশেই গতকালের নিরাপত্তা ব্যবস্থার আয়োজন করা হয়েছে।

সুখরঞ্জন বালী  কার সাক্ষী? সুখরঞ্জন বালী রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ছিলেন।  তিনি এবং আরেক সাক্ষী গণেশচন্দ্র সাহাকে আসামী পক্ষের সাক্ষী হিসেবে হাজিরের জন্য সমন জারির আবেদন করেছিলেন মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী। এ বিষয়ে আদেশে ট্রাইব্যুনাল বলেছিলেন আপনারা যাকে খুসী সাক্ষী হিসেবে আনতে পারেন তবে সমন জারি করা  হবেনা।  এরপর গত ২৩ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী  গণেশচন্দ্রকে হাজির করে আসামী পক্ষ  তিনি মাওলানা সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দেন। সুখরঞ্জন বালী বিষয়ে গতকাল আদেশের সময় ট্রাইব্যুনাল  তাকে আসামী পক্ষের সাক্ষী উল্লেখ না করেননি। মিজানুল ইসলাম বলেন তিনি এখন  আমাদের  মানে আসামী পক্ষের সাক্ষী। তাকে সে হিসেবে উল্লেখ করা হোক। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল  তা গ্রহণ করেননি।
এ বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে মিজানুল ইসলাম বলেন তিনি আসামী পক্ষের সাক্ষী।