এটিএম আজহার লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
এটিএম আজহার লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল, ২০১৪

এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে সাক্ষীকে বৈরি ঘোষনা করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন রাষ্ট্রপক্ষের // ট্রাইব্যুনালের নাকচ

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের সপ্তম সাী আমিনুল ইসলামকে বৈরি ঘোষনা করে তাকে কারা হেফাজতে নেয়ার আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। সাক্ষী তার জবানবন্দীতে এটিএম আজহারুল ইসলামের নাম  না বলায় রাষ্ট্রপক্ষ তাকে বৈরি ঘোষনা করে। এরপর তাকে জুড়িশিয়াল কাস্টডিতে নিয়ে কেন্দ্রীয় কারাগারে হেফাজতে পাঠানোর আবেদন করে। তবে ট্রাইব্যুনালে সে আবেদন নাকচ করে দেয়।


আজ চেয়ারম্যান  বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীমের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ সাক্ষীকে কারা হেফাজতে নেয়ার আবেদন নামঞ্জুর করে  আদেশে বলেন, আমরা এই সাক্ষীকে নিরাপত্তা হেফাজদে নেয়ার আবেদন গ্রহণ করলাম না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেয়া হচ্ছে এই সাক্ষী অন্য সাক্ষীদের যাতে ইনফুয়েন্স করতে না পারে সে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ইনফুয়েন্স করলে ব্যবস্থা নেবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই সাক্ষীকে ফলো করবে। একই সাথে ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুমকে নিরাপদে সাী আমিনুল ইসলামকে বাড়িতে পৌছে দেয়ার নির্দেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের আদেশের পর সাক্ষী আমিনুল ইসলামকে প্রসিকিউশনের কার্যালয়ে নিয়ে যান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। 

এর আগে সকালে জবানবন্দিকালে আসামির নাম না বলায় রাষ্ট্রপক্ষ সপ্তম সাী আমিনুল ইসলামকে বৈরি ঘোষনা করে। এরপর তাকে কাস্টডিতে (কারাগারে) পাঠানোর আবেদন করেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম। সাক্ষ্য প্রদান কালে আমিনুল ইসলাম এটিএম আজহারের নাম উল্লেখ না করে বলেন, একাত্তর সালে পাক বাহিনী ও তার দোসররা রংপুরে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এ সময় প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম সাীকে বৈরী ঘোষণা করে তাকে কেন্দ্রীয় কারাগারে নিরাপত্তা হেফাজতে পাঠানোর আবেদন করেন।
এসময় ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম বলেন, সাক্ষ্য দেয়ার পর কেন তাকে আমরা জুডিশিয়াল কাস্টুডিতে পাঠাবো।

আবেদনে প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম বলেন সাী আমিনুল ইসলামকে নিরাপত্তা দিতে কাস্টডিতে (কারাগারে) পাঠানো প্রয়োজন। তখন আদালত সাীর কাছে জানতে চায় আপনি কি নিরাপত্তা চান। জবাবে সাী বলেন, আমি নিরাপত্তা চাই না।
এসময় আসামী পক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম বলেন, একজন সাক্ষীকে বৈরী ঘোষনা করা হল রাষ্ট্রপক্ষ কর্তৃক। এরপর তারা তাকে কাস্টুডিতে নেয়ার আবেদন করেছে। আমি যতদূর জানি এই আইনে অভিযুক্ত ছাড়া কাউকে কাস্টুডিতে পাঠানোর অনুমতি নেই। এখানে এই ভদ্রলোক (সাক্ষী) নিরাপত্তা চেয়েছে। এ অবস্থায় তাকে পুলিশের হাতে ছেড়ে দিলে সাক্ষী বিশাবালীর যে ঘটনা ঘটেছে, সেই ঘটনার পুনুরাবৃত্তি হবে। একজন সাক্ষীকে সরকার হোস্টাইল ঘোষণা করে সেই ব্যক্তিকে নিরাপত্তায় নিলে তিনি কতটা নিরাপদ সেটা আমাদের অনুধাবন করতে হবে। সাক্ষী সাক্ষ্য দিতে যেয়ে যেন কোন ধরণের ভয়ভীতির স্বীকার না হয় সেটা মনে রাখতে হবে। একজন সাক্ষীকে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে তোলার পর তাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে গেছে।
এরপর জেয়াদ আল মালুম সাক্ষীকে আবারও কাস্টুডিতে রাখার আবেদন করেন।

এরপর ট্রাইব্যুনাল রাষ্ট্রপক্ষকে এবিষয়ে লিখিত আবেদন করা নির্ধেশ দেন।
দুপুর ২টায় লিখিত আবেদনের শুনানিতে জেয়াদ আল মালুম বলেন, এই সাক্ষী অন্য সাক্ষীদের প্রভাবিত করতে পারে, এজন্য সাক্ষীকে জুডিশিয়াল কাস্টুডিতে রাখার আবেদন জানাচ্ছি।
জবাবে আসামীপরে আইনজীবী তাজুল ইসলাম বলেন, প্রসিকিউশনের ইচ্ছানুযায়ী জবানবন্দী না দেয়ায় সাীকে বৈরী ঘোষণা করা হয়েছে। তাকে জেরাও করা হয়েছে। প্রসিকিউশন সাীকে বৈরী ঘোষণা করে ান্ত হননি বরং তাকে গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় করাগারে নেয়ার আবেদন করা হয়েছে। এটা ন্যায় বিচারকে ভেঙ্গে গুড়োগুড়ো করার সামিল। সাক্ষী কারোর পক্ষের নন। তিনি ন্যায় বিচারের স্বার্থে যা জানেন বলবেন। সব কিছু তাদের পক্ষে না নিতে পেরে রাষ্ট্রপক্ষ এই সাক্ষীকে  করাগারে নিতে চাচ্ছে। এই সাক্ষীকে জেলে পাঠানো হলে আর কেউই সাক্ষী দিতে আসবে না। ন্যায় বিচারকে ধ্বংস করতে এই আবেদন করা হয়েছে।  সাী নিরাপত্তা চায় না, তারপরও তাকে নিরাপত্তা দেয়ার দোহাই দিয়ে কারাগারে নিয়ে নির্যাতন করার জন্যই এ আবেদন করা হয়েছে।

সাক্ষীর জবানবন্দী ও রাষ্ট্রপক্ষের জেরা:
জবানবন্দীতে সাক্ষী বলেন, আমার নাম মো: আমিনুল ইসলাম। আমার বর্তমান বয়স আনুমানিক ৫৬ বৎসর। আমার ঠিকানা গ্রাম-উত্তর মোকছেদপুর ধাপপাড়া, উপজেলা-বদরগঞ্জ, জেলা-রংপুর। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি গড়াশোনা করতাম এবং আমি মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক ছিলাম। ১৯৭০ সালে আমাদের এলকায় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ছিলেন আফজাল হোসেন এবং মোখলেছুর রহমান এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন আনিছুল হক চৌধুরী ও মজিবুর রহমান মাষ্টার।
১৯৭১ সালের ১৬ এপ্রিল দুপুরের দিকে রংপুর থেকে একটি ট্রেন পাকিস্তানী আর্মি ও তাদের এদেশীয় দোসরসহ সেই ট্রেনে টেকশোর হাট ৬নং রেল গোমাটিতে এসে দাঁড়ায় এবং ট্রেন থেকে নেমে তারা সকলেই উত্তর দিকে অগ্রসর হতে থাকে এবং রাস্তার দুই ধারে অবস্থিত বাড়ি ঘর অগ্নিসংযোগ এবং এলোপাতারি গুলি করতে করতে ধাপপাড়া গ্রাম ঘেরাও করে ফেলে। ঐ সময় আমার চাচা ইউসুফ আলীর বাড়িতে একটি মাটির ঘরে আমার বড় আম্মা (চাচী) মরিময় নেছা ওরফে কালটি মাই, যিনি নয় মাসের অন্তঃস্বত্তা ছিলেন এবং আমি অবস্থান করছিলাম। তারপর আমার চাচী আম্মা বলে পাকিস্তানী আর্মিরা খুব কাছাকাছি এসে গেছে, চলো আমরা বাড়ি থেকে পালিয়ে যাই। আমার বড় আম্মা বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় কিন্তু আমি ঘরেই অবস্থান করতে থাকি। বাড়ি সংলগ্ন রাস্তায় পাকিস্তানী আর্মিরা আমার বড় আম্মাকে ধরে ফেলে। তখন আমার বড় আম্মা পাকিস্তানী আর্মিদের পা জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে বলে, ‘আমি নয় মাসের অন্তস্বত্তা, আমাকে মেরো না- আমাকে মেরে ফেললে আমার গর্ভের সন্তানও মারা যাবে’। আমি তখন মাটির ঘরের জানালা দিয়ে ঐ ঘটনা দেখছিলাম। পিছন দিক থেকে একজন পাক সেনা এসে আমার বড় আম্মাকে গুলি করে। বড় আম্মা মারা যায় এবং তার গর্ভের সন্তানটি নষ্ট হয়ে যায়। এরপর পাকিস্তানী আর্মিরা সেখান থেকে আরো উত্তর দিকে অগ্রসর হতে থাকে। পাকিস্তানী আর্মিরা আমাদরে গ্রামে এলে আমার চাচা ইউসুফ আলী আত্মরক্ষার জন্য বাড়ির কাছে একটি বড় বট গাছের উপরে আশ্রয় নেয়। আমার বড় আম্মাকে গুলি করে হত্যা করার পর পাকিস্তানী আর্মিরা ঐ স্থান থেকে আরো উত্তর দিকে চলে গেলে আমার চাচা ইউসুফ আলী গাছ থেকে নেমে বাড়িতে আসে, বাড়ির অবস্থা দেখার জন্য। তিনি তার নিজ ঘরে ঢুকে দেখেন তার জীবিকা নির্বাহের মাছ ধরা জাল ও টেবিলে রক্ষিত একটি রেডিও পাকিস্তানী আর্মিরা নিয়ে গেছে। পাকিস্তানী আর্মিরা কিছু সময় পরে যখন পুনরায় গ্রামের দিকে ফিরে আসছিল তখন আমার চাচা রাস্তায় গিয়ে পাকিস্তানী আর্মিদের ঐ জাল ও রেডিওটি ফেরত দেওয়ার জন্য অনুরোধ করে। আমি তখন বাড়ির বাহিরে ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে দেখছিলাম। তখন একজন পাকিস্তানী আর্মি বলে ‘ম্যারা জুট বাদ বলেগা’- এই কথা বলে তাকে গুলি করে হত্যা করে। ঐ দিন আমার চাচা ও বড় আম্মাসহ প্রায় ১৫ জনকে ঐ পাকিস্তানী আর্মি ও তাদের এদেশীয় দোসররা হত্যা করে। যারা নিহত হয়েছিলেন তাদের মধ্যে জঙ্গুলী ভরসা, আম মাই, চিনি মাই, বিষু, ওসমান আলী, ছহির আলী, জহির আলী, মৌলভী আব্দুল কুদ্দুস, মমতাজ, তমির উদ্দিন, আজিজার রহমান খোকা, সাধিনা, আমার চাচী মরিময় নেছা কালটি মাই, চাচা ইউসুফ আলী ছিলেন।
এই পর্যায়ে প্রসিকিউশন পক্ষ এই সাক্ষীকে বৈরী ঘোষণা করেন এবং তাকে জেরা করেন।

প্রসিকিউশন পক্ষ কর্তৃক জেরা:
জেরায় বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে সাক্ষী বলেন, আমি পাকিস্তানী আর্মিদের সাথে আসা এদেশীয় দোষরদের কারো নাম বলতে পারব না। আমার মনে কোন ভয় কাজ করছে না। মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসাবে এলাকায় যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে এবং যারা বিপক্ষে ছিল তাদের নাম জানা স্বাভাবিক এবং আমার নিজ এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুক্তিযুদ্ধ সময়কালীন সময় হতে এ পর্যন্ত আমাদের এলাকার সকলে জানে আমিও জানি। আমার এলাকার যে সমস্ত রাজনৈতিক দল আছে সে সমস্ত দলগুলো সম্পর্কে জানি এবং সেই সমস্ত দলের নেতা কর্মীদের ভূমিকা সম্পর্কে আমার যথেষ্ট জ্ঞান আছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় স্বাধীনতা বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের আমি চিনি, তাদের নাম ও ভূমিকা সম্পর্কেও জানি। আমার এলাকা বদরগঞ্জের ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম সাহেবের মামলায় তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে এসেছি। এটিএম আজহারুল ইসলাম ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় আমাদের এলাকায় গিয়েছিলেন কিনা তাহা আমার জানা নাই। ইহা সত্য নহে যে, আমি মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসাবে নিজেকে দাবী করে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে আমার গ্রামে পাকিস্তানী আর্মিদের ও তাদের এদেশীয় সহযোগীদের প্রকৃত নাম গোপন করিয়াছি। ইহা সত্য নহে যে, আমার চাচী মরিয়ম নেছা ওরফে কালটি মাইকে পাকিস্তানী আর্শি তাদের এদেশীয় দোষর আসামী এটিএম আজহারুল ইসলামের উপস্থিতিতে এবং তার নির্দেশে হত্যা করা হইয়াছে, তাহা আমি গোপন করি।

আসামী পক্ষ কর্তৃক জেরা:
এই মামলার সাক্ষী অধ্যাপক মেছের উদ্দিন, মোখলেছুর রহমান, তাহের সরকার, আইয়ুব আলী, মকবুল হোসেন এবং আব্দুর রহমান কে আমি চিনি। আমি আমার বড় আম্মা কালটি মাইকে হত্যাকান্ডের ব্যাপারে উপরোক্ত সাক্ষীদের বলেছি। ১৯৯৬ সালের পূর্বে আসামী এটিএম আজহারুল ইসলাম আমাদের এলাকায় গিয়েছিলেন কিনা তাহা আমার জানা নাই।
এরপর আগামী বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপক্ষের পরবর্তী সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।

##

শুক্রবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৩

এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

২৬/১২/২০১৩
জামায়াতে ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের  বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ  রাষ্ট্রপক্ষের প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ক্যামেরা ট্রায়ালের (রুদ্ধদ্বার কক্ষে) মাধ্যমে একজন মহিলা সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য গ্রহনের শুরুতে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের ট্রাইব্যুনাল নির্দেশ দেন এ বিষয়ে তাদের কেউ যেন সংবাদ মাধ্যমের কাছে কোন কিছু প্রকাশ না করে। ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে গ্রহণ করা সাক্ষ্যের কোন কিছু প্রকাশে সংবাদমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা থাকায় আদালত কক্ষে কোন সাংবাদিক বা দর্শনার্থীর অবস্থান করাও নিষিদ্ধ।

চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবিরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচার চলছে এটিএম আজহারুল ইসলামের।

মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৩

এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন// জামায়াত করায় আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ-এটিএম আজহার



মেহেদী হাসান, ১২/১১/২০১৩
জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। আগামী পাঁচ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের  সূচনা বক্তব্যের জন্য ধার্য্য করা হয়েছে। এরপর শুরু হবে সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ পর্ব। 

১৯৭১ সালে হত্যা, গনহত্যা, অপহরন, নির্যাতন, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষনে সহায়তাসহ ছয়টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবিরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল আজ  চার্জ গঠনের এ আদেশ দেন।

এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয় রংপুর অঞ্চলে ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনী কর্তৃক সংঘটিত বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সহায়তা করেছেন ।  ১৯৭১ সালে তিনি রংপুর কারমাইকেল কলেজে একাদশ শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন এবং জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের রংপুর শাখার সভাপতি ছিলেন। সে হিসেবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সাথে তার সখ্যতা গড়ে ওঠে এবং তার পরামর্শ ও পরিকল্পনায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী রংপুরের  বিভিন্ন এলাকায় মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটায়।

জামায়াত করায়  আমার বিরুদ্ধে  অভিযোগ :
চার্জ গঠনের আদেশের পূর্বে এটিএম আজহারুল ইসলাম নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে বলেন, শুধুমাত্র জামায়াতে ইসলাম করার কারনে আমার বিরুদ্ধে ৪০ বছর পর ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এ অভিযোগ আনা হয়েছে ।
চার্জ গঠনের আদেশের পূর্বে ট্রাইব্যুনাল এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে ছয়টি অভিযোগ  পড়ে শোনান। অভিযোগ পড়ে শোনানো শেষে ট্রাইব্যুনাল তার কাছে জানতে চান অভিযোগ বিষয়ে তিনি নিজেকে দোষী না নির্দোষ দাবি করেন সে বিষয়ে।
তখন এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, আমি সম্পূণ নির্দোষ। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং ষড়যন্ত্র। এসব অভিযোগের সাথে আমার সামান্যতম সম্পৃক্ততা নেই। গত ৪০ বছরেও আমার বিরুদ্ধে দেশের কোথাও কেউ এসব অভিযোগে  কোন মামলা করেনি, কোন জিডিও করেনি। আমার বিরুদ্ধে ১৯৭১ সাল বিষয়ে সামান্যতম কোন অভিযোগ ছিলনা। শুধুমাত্র জামায়াতে ইসলামী করার কারনে, জামায়াতের সাথে আমার সম্পৃক্ততার কারনে আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনা হয়েছে।
এসময় ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান তাকে থামানোর চেষ্টা করলে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ২০১০ সালের পর আমার বিরুদ্ধে ১০টি মামলা দেয়া হয়। ওইসব মামলা থেকে আমি একের পর এক বের হয়ে আসছিলাম। তখন আমাকে কোনভাবে আটকাতে না পেরে ১৯৭১ সালের ঘটনা বিষয়ে এসব মিথ্যা এবং কাল্পনিক অভিযোগ এনে আমার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার স্বীকার। রাজনৈতিক কারনে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এ মামলা করা হয়েছে।

গতকাল হরতালের কারনে আসামী পক্ষে সিনিয়র কোন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেননা ট্রাইব্যুনালে। আসামী পক্ষে জুনিয়র আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন চার্জ গঠন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ১৯৭১ সালে এটিএম আজহারুল ইসলাম ইন্টারমিডিয়েটের একজন ছাত্র ছিলেন। তার মত একজন ছাত্রেরর পরামর্শে এবং নির্দেশে পাকিস্তানী সেনাকর্মকর্তারা কাজ করত একথা বিশ্বাসযোগ্য নয়। একাদশ শ্রেণীর একজন ছাত্রের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী যেসব অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। জামায়াতে ইসলামীকে নেতৃত্বশূণ্য করার অংশ হিসেবে তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার।


ছয় অভিযোগ :
যে ছয়টি অভিযোগে এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়েছে সেগুলো হল
অভিযোগ-১:  ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চ রংপুর মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও আইনজীবী মাহফুজ আলীসহ ১১ জনকে অপহরন  করে নির্যাতন করা হয়।  এরপর তাদের ৩ এপ্রিল রংপুর শহরের দখিগঞ্জ  শ্মশানে নিয়ে ব্রাশফায়ার করে হত্যা করে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। এ ঘটনায় একজন বেঁচে যায়। এর সাথে এটিএম আজহারুল ইসলাম জড়িত ছিল মর্মে অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগ-২ : ১৯৭১ সালের  ১৬ এপ্রিল রংপুরের বদরগঞ্জ থানার ধাপপাড়ায় হত্যাকান্ড ঘটে। এসময়  ১৫ জন নিরস্ত্র বাঙালিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর এ হত্যাকান্ডের সাথে এটিএম আজহাহরুল ইসলাম জড়িত ছিল মর্মে অভিযোগ আনা হয়েছে। 

অভিযোগ-৩ :  ১৭ এপ্রিল রংপুরের বদরগঞ্জের ঝাড়ুয়ার বিল এলাকায় ১২শ’র বেশি নিরীহ লোককে ধরে নিয়ে গণহত্যা চালায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী। এর সাথে এটিএম আজহারুল ইসলাম জড়িত মর্মে অভিযোগ আনা হয়েছে। 

অভিযোগ-৪ : ১৭ এপ্রিল  কারমাইকেল কলেজের চার শিক্ষক ও আরেক শিক্ষকের স্ত্রীকে  ধরে দমদম ব্রিজের কাছে নিয়ে পাকিস্তানী সেনা সদস্যরা  গুলি করে হত্যা করে। এদেরকে ধরিয়ে দেয়ার বিষয়ে এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগ-৫ : ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে রংপুর শহর ও বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মহিলাদের ধরে এনে টাউন হলে আটকে রেখে পাকিস্তানী বাহিনী কর্তৃক  ধর্ষণসহ শারীরিক নির্যাতনের সঙ্গে আসামীর  জড়িত থাকার অভিযোগ।


অভিযোগ-৬ :  নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে রংপুর শহরের গুপ্তাপাড়ায় একজনকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ।

প্তম অভিযোগ, ‘একাত্তরের ১ ডিসেম্বর রংপুর শহরের বেতপট্টি হতে এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে রংপুর কলেজের মুসলিম ছাত্রাবাসে আটক রেখে নির্যাতন করে গুরুতর জখম করার সঙ্গে এ আসামি জড়িত ছিলেন।’

এটিএম আজহারুল ইসলামকে দাড় করিয়ে রাখা প্রসঙ্গ :
ট্রাইব্যুনালে আসামীর কাঠগড়ায় একটি চেয়ার থাকে আসামীর বসার জন্য। কিন্তু গত ২৮ অক্টোবর এটিএম আজহারুল ইসলামকে যখন কাঠগড়ায় হাজির করা হয় তখন সেখানে কোন চেয়ার ছিলনা এবং তিনি দাড়িয়ে ছিলেন। কেন তাকে দাড় করিয়ে রাখা হয় এ বিষয়ে আসামী পক্ষ জানতে চাইলে ট্রাইব্যুনাল বলেছিলেন ১২ নভেম্বর মামলার পরবর্তী তারিখে এ বিষয়ে জানানো হবে। আজ এটিএম আজহারুল ইসলামকে কাঠগড়ায় হাজির করা হলে সেখানে কোন চেয়ার ছিলনা। এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন, বিচারপতিগন এজলাসে প্রবেশের সময় এবং নেমে যাওয়ার সময় সবাইকে দাড়িয়ে আদালতকে সম্মান করতে হয় এবং করেন। কিন্তু লক্ষ্য করা গেছে তিনি এসময় বসে থাকেন। তিনি কোর্টকে সম্মান করতে চাননা। তাই তার চেয়ার সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

তখন আসামী পক্ষে উপস্থিত জুনিয়র আইনজীবী তারিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমাদের নলেজে ছিলনা। আমরা বিষয়টি তাকে অবহিত করব এবং ভবিষ্যতে আর এ ধরনের ঘটনা ঘটবেনা বলে দুু:খ প্রকাশ করায় আদালত তার বসার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন।

তারিুকল ইসলাম পরে সাংবাদিকদের বলেন, কোর্ট শেষে আমরা এ বিষয়টি এটিএম আজহারুল ইসলামকে  অবহিত করলে তিনি বলেছেন, এরকম কোন ঘটনার কথা তার জানা নেই। তিনি  জানিয়েছেন, তাকে এ পর্যন্ত যতবার কোর্টে আনা হয়েছে তার প্রায় প্রতিবারই কোর্ট শুরুর পর আনা হয়েছে। নামিয়েও নেয়া হয়েছে অধিংকাশ সময় কোর্ট চলাকালে। কাজেই  বিচারপতিগন এজলাসে প্রবেশ এবং নেমে যাবার সময় চেয়ারে বসে থেকে তাদের অসম্মান করার  কোন ঘটনা তার জানা নেই  বলে তিনি জানিয়েছেন।

সোমবার, ২৮ অক্টোবর, ২০১৩

কাঠগড়ায় দাড় করিয়ে রাখা হয় এটিএম আজহারুল ইসলামকে


২৮/১০/২০১৩
আজ  মামলার কার্যক্রম শুরু হলে এটিএম আজহারুল ইসলামকে আসামির কাঠগড়ায় আনা হয়। ট্রাইব্যুনালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত আসামীর কাঠগড়ায় বসার জন্য চেয়ার রাখা হলেও আজ  কোন চেয়ার ছিলনা। চেয়ার না থাকায় এটিএম আজহারুল ইসলাম কাটগড়ায় দাড়িয়ে থাকেন। বিষয়টি আইনজীবীরা ট্রাইব্যুনালের নজরে অনলে ট্রাইব্যুনাল বলেন, বিষয়টি উনাকেই জিজ্ঞাসা করেন। এরপর আইনজীবীরা এটিএম আজহারের সাথে কথা বলেন কাঠগড়ার সামনে গিয়ে।  এটিএম আজহার বলেন, চেয়ার সরিয়ে নেয়ার বিষয় তিনি কিছু জানেননা।  এরপর আইনজীবীরা ট্রাইব্যুনালকে বলেন, উনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না। তখন  ট্রাইব্যুনাল বলেন, চেয়ার সরিয়ে নেয়ার কারণ ১২ নভেম্বর জানানো হবে।


এটিএম আজহারের অভিযোগ গঠনের আদেশ ১২ নভেম্বর: জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত  সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশ আগামী ১২ নভেম্বর পুননির্ধারণ করা হয়েছে। আজ  আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেন।

গত ১০ অক্টোবর রাষ্ট্র ও আসামিপরে শুনানি শেষে অভিযোগে গঠনের বিষয়ে ২৮ অক্টেবার সোমবার আদেশের দিন ধার্য করা হয়। আজ আসামির পরে আইনজীবীরা  ট্রাইব্যুনালে হাজির না থাকায় আদেশের জন্য নতুন দিন ধার্য করার আবেদন করেন আইনজীবী সৈয়দ মো. রায়হান উদ্দিন। এরপর ট্রাইব্যুনাল আদেশ দেন।


নিজামী :
জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর পক্ষে শেষ সাীর সাক্ষ্য গ্রহণ আগামীকাল পুননির্ধরণ করা হয়েছে। হরতাল পরিস্থিতিতে মাওলানা নিজামীর পক্ষে সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেন।  

এছাড়া ট্রাইব্যুনাল রাষ্ট্রপকে মামলার চূড়ান্ত যুক্তি উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়ে বলেন, প্রস্তুতি নেন, কাল (মঙ্গলবার) আসামিপে সিনিয়র আইনজীবী ও সাী না এলে পরদিন (বুধবার) থেকে এ মামলায় যুক্তি উপস্থাপন করবেন। আজ মাওলানা নিজামীকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলেও কাঠগড়ায় তোলা হয়নি।

মাওলানা নিজামীর পক্ষে ট্রাইব্যুনালে সময় আবেদনের শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মো. আসাদ উদ্দিন। রাষ্ট্রপে ছিলেন প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলী।

বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৩

এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন আদেশ ২৮ অক্টোবর

১০/১০/২০১৩
জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হবে কি হবেনা সে বিষয়ে আগামী ২৮ অক্টোবর আদেশের জন্য ধার্য্য করা হয়েছে। চার্জ গঠন বিষয়ে উভয় পক্ষের শুনানী শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজ এ আদেশ দেয়।

এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের বিরোধীতা করে শেষ দিন যুক্তি উপস্থাপন করেন আসামী পক্ষের (ডিফেন্স টিম) প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক।

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ১৯৭১ সালে যখন অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তখন আন্তর্জাতিক প্রচলিত আইনে  অপহরন এবং নির্যাতন নামে কোন অপরাধ ছিলনা। যুদ্ধাপরাধ বিচারের লক্ষ্যে বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে এবং সেখানে এ বিষয়গুলো বিচার্য বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আব্দুল কাদের মোল্লা মামলায় আপিল শুনানীতে অধিকাংশ  অ্যামিকাস কিউরি মত দিয়েছেন যে, এ বিচারে প্রচলিত আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগ করা যেতে পারে। আপনারাও এটা গ্রহণ করেছেন। কাজেই যেহেতু ১৯৭১ সালের প্রচলিত আইনে অপহরন এবং নির্যাতন নামে কোন অপরাধ ছিলনা তাই এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে এ অভিযোগে কোন চার্জ গঠন করা যাবেনা।

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে ১, ৪, ৫ এবং ৬ নং অভিযোগে অহরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া ১, ৫,  এবং ৬ নং অভিযোগে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক তার যুক্তির পক্ষে দেশি বিদেশি বিভিন্ন মামলার রেফারেন্স পেশ করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর সাইফুল ইসলাম এর বিরোধীতা করে বলেন, অন্যান্য অমানবিক অপরাধ বলে একটি অপরাধ তখনকার আইনে ছিল। সেই অপরাধের মধ্যে অপহরন, নির্যাতন সব কিছুই এসে যায়।

এটিএম আজহারুল ইসলামের  বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ১৯৭১ সালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী  ছয়টি অভিযোগ আনা হয়েছে। ১৮ জুলাই  রাষ্ট্রপক্ষ ফরমাল চার্জ দাখিল করে এবং  ২৫ জুলাই অভিযোগ আমলে নেয়  ট্রাইব্যুনাল।

গত বছর ২২ আগস্ট এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১  গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর  ওইদিনই তাকে  তাকে তার মগবাজারস্থ বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। সেই থেকে তিনি বন্দী রয়েছেন।

মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন শুনানী // আর্মির সাথে সখ্যতা এবং যোগাযোগ কমান্ড রেসপনসিবিলিটির ভিত্তি হতে পারেনা-আসামী পক্ষ


মেহেদী হাসান, ২৪/৯/২০১৩
জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের বিরোধীতা করে আসামী পক্ষের শুনানী শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আজ প্রথম দিন শুনানী পেশ করেন ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিক ও অ্যাডভোকেট শিশির মো : মনির।

ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির, সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হকের সমন্বয়ে গঠিত ট্রাইব্যুনাল-১ শুনানী গ্রহণ করেন।

প্রথমে অ্যাডভোকেট শিশির মো: মনির শুনানী পেশ করেন। চার্জ গঠনের বিরোধীতা করে শিশির মনির বলেন, এটিএম আজহারুল ইসলমের বিরুদ্ধে চার নং অভিযোগে বলা হয়েছে ১৯৭১ সালে তিনি ইসলামী ছাত্রসংঘের রংপুর শাখার সভাপতি ছিলেন। সেই হিসেবে পাকিস্তান আর্মির সাথে তার সখ্যতা ও যোগাযোগ ছিল। পাকিস্তান আর্মির সাথে তার সখ্যতা ও যোগাযোগ ছিল বিধায় তার বিরুদ্ধে সুপিরিয়ার কমান্ড রেসপনসিবিলিটি বা উর্দ্ধতন নেতৃত্বের দায় দায়িত্বের অভিযোগ আনা হয়েছে।  এই একই কারনে তার বিরুদ্ধে আনিত সবগুলো অভিযোগে (মোট ৬টি) কমান্ড রেসপনসিবিলিটি অভিযোগ আনা হয়েছে।

শিশির মনির বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের আনিত সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটির ভিত্তি হল পাকিস্তান আর্মির সাথে এটিএম আজহারের  সখ্যতা এবং যোগাযোগ। এটা কোন কারণ হতে পারেনা। এটিএম আজহার ছাত্রসংঘের রংপুর শাখার সভাপতি ছিলেন এটা কোন অপরাধ হতে পারেনা। এটাকে অপরাধ প্রমান করতে হলে এবং এটার ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটির অভিযোগ আনতে হলে আসামী পক্ষের বলতে হবে এবং দেখাতে হবে যে, এটিএম আজহারুলে ইসলাম কর্তৃক যাদের ওপর নিয়ন্ত্রন ছিল তাদের দিয়ে কোন অপরাধ তিনি করিয়েছেন অথবা তার অধীনস্তরা কোন অপরাধ করেছে কিন্তু তিনি তাদেরকে অপরাধ থেকে বিরত রাখার কোন ব্যবস্থা নেয়নি বা তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কোন ব্যবস্থা নেয়নি।
কিন্তু আসামী পক্ষ তার বিরুদ্ধে অভিযোগে এ জাতীয় কোন ঘটনা এবং প্রমান হাজির করতে পারেনি।
শিশির মনির বলেন, তিনি যদি কোন কমান্ডের প্রধান থাকতেন তাহলে তার অধীনস্ত কারা ছিল তাদের পরিচয় দিতে হবে এবং তাদের দ্বারা কৃত অপরাধমূলক কর্মকান্ডেরও সুনির্দিষ্টি বিবরন তুলে ধরতে হবে। কিন্তু এর কোন কিছুই নেই চার্জে।
এরপর ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিক শুনানী পেশের সময় পাকিস্তান আর্মি কর্তৃক কয়েকটি হত্যার ঘটনা বিষয়ে বলেন, ১৮ বছরের যুবক এটিএম আজহারুল ইসলামের র্নিদেশে পাকিস্তানের সেনা কর্মকর্তারা এসব অপরাধ পরিচালনা করবে তা বিশ্বাসযোগ্য নয়।

এরপর শুনানী আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত মুলতবি করা হয়। গত দুই সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ চার্জ গঠনের ওপর শুনানী পেশ শেষ করে।
শুনানীতে আসামী পক্ষের অন্যান্য আইনজীবীর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন  অ্যাডভোকেট রায়হান উদ্দিন
আজহারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ১৯৭১ সালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী  ছয়টি অভিযোগ আনা হয়েছে। ১৮ জুলাই  রাষ্ট্রপক্ষ ফরমাল চার্জ দাখিল করে এবং  ২৫ জুলাই অভিযোগ আমলে নেয়  ট্রাইব্যুনাল।

গত বছর ২২ আগস্ট এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১  গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর  ওইদিনই তাকে  তাকে তার মগবাজারস্থ বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। সেই থেকে তিনি বন্দী রয়েছেন।



মঙ্গলবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানী শেষ

3/9/2013=
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানী শেষ হয়েছে আজ। আগামী রোববার আসামী পক্ষের শুনানীর জন্য ধার্য্য করা হয়েছে।

গত ২৯ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের শুনানী শুরু করে। ওইদিন শুনানীর পর আজ দ্বিতীয় দফা শুনানী পেশ করল রাষ্ট্রপক্ষ। প্রসিকিউটর একেএম সাইফুল ইসলাম শুনানী পেশ করেন।

ট্রাইব্যুনাল-১ চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির, সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

আজহারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ছয়টি অভিযোগ আনা হয়েছে। ১৮ জুলাই  রাষ্ট্রপক্ষ ফরমাল চার্জ দাখিল করে এবং  ২৫ জুলাই অভিযোগ আমলে নেয়  ট্রাইব্যুনাল।

গত বছর ২২ আগস্ট এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১  গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর  ওইদিনই তাকে  তাকে তার মগবাজারস্থ বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। সেই থেকে তিনি বন্দী রয়েছেন।



বৃহস্পতিবার, ২৯ আগস্ট, ২০১৩

এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন শুনানী শুরু

 ২৯/৮/২০১৩
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানী শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ প্রথমে শুনানী পেশ শুরু করে আজ। এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ছয়টি অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রসিকিউটর একেএম সাইফুল ইসলাম প্রথম দিন শুনানী পেশ করেন। আসামী পক্ষ থেকে দুই সপ্তাহ মুলতবি আবেদন করা হয়েছিল। ট্রাইব্যুনাল বলেছে আপনাদের পরে সময় দেয়া হবে। আজ রাষ্ট্রপক্ষ শুরু করুক।

ট্রাইব্যুনাল-১ চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির আজ অনুপস্থিত ছিলেন। সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। দুপুরের বিরতি পর্যন্ত শুনানী শেষে শুনানী আগামী ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।

এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে ১৮ জুলাই  রাষ্ট্রপক্ষ ফরমাল চার্জ দাখিল করে এবং  ২৫ জুলাই অভিযোগ আমলে নেয়  ট্রাইব্যুনাল।

গত বছর ২২ আগস্ট এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১  গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর  ওইদিনই তাকে  তাকে তার মগবাজারস্থ বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। সেই থেকে তিনি বন্দী রয়েছেন।