সাঈদী : রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সাঈদী : রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০১৩

সেফ হাউজের ৩৮ জনকে সাক্ষী হিসেবে হাজিরের আবেদন আসামী পক্ষের

৮/১০/২০১২
তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক মো: আব্দুল হান্নান খান, সেফহাউজের  দায়িত্বরত সমস্ত পুলিশ সদস্যসহ  মোট ৩৮ জনকে সাক্ষী হিসেবে হাজিরের জন্য আবেদন করেছেন আসামী পক্ষ। মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত-১ এ আবেদন করা হয়। আজ এ আবেদনের ওপর  শুনানীনে অংশগ্রহণ করেন আসামী পক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক।

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক শুনানীর সময়  ট্রাইব্যুনালকে বলেন, সেফ হাউজ ডায়েরি বিষয়ে আদেশে আপনারা বলেছিলেন আমরা  সেফহাউজ বিষয়ে যে ডকুমেন্ট উপস্থাপন করেছি তা আমাদেরই প্রমান করতে হবে। আমরা সেটি প্রমানের সুযোগ চাই। এর সত্যতা প্রমানের জন্য সেফ হাউজে যেসব পুলিশ কর্মকর্তা এবং পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেছে তাদের সহ মোট ৩৮জনের তালিকা আমরা দিয়েছি। । তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের জন্য সমন জারি করা হোক। তারা ট্রাইব্যুনালে আসলে তাদেরকে আমরা এ ডায়েরি বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করব এবং এর সত্যতা বের হয়ে আসবে। আমাদের এ সুযোগ দেয়া হেক।

এদিকে মাওলানা সাঈদীর পক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ গতকাল অনুষ্ঠিত হয়নি। আজ অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে।

গত ২০ মার্চ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে একটি আবেদন পেশ করা হয়। আবেদনে বলা হয়  মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে  ৪৬ জন  সাক্ষীকে  হাজির করা আদৌ সম্ভব নয়। তাই  ৪৬ জন সাক্ষী  তদন্ত কর্মকর্তার কাছে যে  জবানবন্দী  দিয়েছেন তা  তাদের অনুপস্থিতিতে আদালতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহন করা হোক। সাক্ষী হাজির করতে না পারা বিষয়ে যেসব কারণ রাষ্ট্রপক্ষ থেকে  উল্লেখ করা হয় তার মধ্যে রয়েছে মাওলানা সাঈদীর পক্ষের অস্ত্রধারীদের হুমকির কারনে  কেউ কেউ  আত্মগোপন করেছে, কেউ  নিখেঁাঁজ,  তিনজন গোপনে ভারতে পালিয়ে গেছে। এছাড়া একজনের স্মৃতিশক্তি লোপ পেয়েছে এবং বয়স ও অসুস্থতাজনিত কারনে ভ্রমনে মৃত্যুর ঝুকি রয়েছে ।

গত ২৯ মার্চ  ১৫ জনের জবানবন্দী সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ  করে আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
এ রায় পুনরায় বিবেচনার জন্য গত ৯ মে রিভিউ আবেদন দাখিল করেন মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী। গত ৩রা জুন এ বিষয়ে শুনানীর সময় আসামী পক্ষের আইনজীবীরা সেফ হাউজের (ঢাকায় যেখানে সাক্ষী  এনে রাখা হত)  সমস্ত কাগজপত্র ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে  বলেন, সাক্ষী হাজির করতে না পারা বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ যে কারণ দেখিয়েছে তা সম্পূর্ণ  মিথ্যা। তারা কোর্টে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আদালতকে প্রতারিত করেছেন।  অনেক সাক্ষী তাদের হেফাজতেই ছিল এবং সেফহাউজের এসব কাগজপত্রে তার প্রমান রয়েছে।  কোন সাক্ষী কবে ঢাকায় আসে,  কতদিন সেফ হাউজে ছিল, কয়বেলা খাবার খেয়েছেন, কোন কোন পুলিশ  ইন্সপেক্টর, সাব-ইন্সপেক্টর এবং কনস্টেবল কোনদিন সেখানে দায়িত্ব পালন করেছেন  তার সমস্ত বিবরণ লেখা রয়েছে সেফ হাউজের ডায়েরিতে। আসামী পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে সে ডায়রির কপি  দাখিল করা হয় কোর্টে।

রাষ্ট্রপক্ষের সৈয়দ হায়দার আলী আসামী পক্ষের সেফ হাউজের ডায়েরিকে জাল হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, এটি আসামী পক্ষ  তৈরি করেছেন। সেফ হাউজ এবং এ ধরনের  ডায়েরি বলতে তাদের কিছু নেই।

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন,   একজন সাক্ষী সেফ হাউজে থাকা অবস্থায় তাকে হুমকি দেয়া হয় । সে বিষয়টি তিনি  যাত্রাবাড়ি থানায় ডায়েরি করেছেন। এ বিষয়টিও সেফ হাউজের ডায়েরিতে লেখা রয়েছে। জিডির নম্বর উল্লেখ রয়েছে।  এটা কেমন করে আমাদের পক্ষে জানান সম্ভব? যাত্রাবাড়ি থানার ডায়েরির সাথে সেফ হাউজের ডায়েরিতে বর্নিত নম্বর মিলিয়ে দেখলেই তো এর সত্যতা প্রমানিত হবে। তাছাড়া একজন পুলিশ সদস্য সেফ হাউজে দায়িত্ব পালনের সময় ঢাকার একটি কোর্টে সাক্ষী দিতে গেছে। তাও বর্নিত আছে।  এটা আমাদের পক্ষে কেমন করে জানা সম্ভব? ওই কোর্টের তথ্য হাজির করা হোক তাহলেও তো প্রমানিত হবে সে বর্নিত তারিখে  সে কোর্টে গিয়েছিল কি-না। তাহলে প্রমান হবে সেফ হাউজের ডায়েরি সত্য। সেফ হাউজে  দায়িত্ব পালন করেছে যেসব পুলিশ তাদের প্রত্যেকের ফোন নম্বর, কে কতক্ষন দায়িত্ব পালন করেছে সে সময় এবং প্রত্যেকের ব্যাজ নম্বর, পুলিশের কোড নম্বর সব উল্লেখ আছে। এটা আমাদের পক্ষে কি করে জানা সম্ভব?
একজন সাক্ষীকে সাক্ষ্য দেয়ার পর তদন্ত সংস্থা থেকে ফোন করে বলা হয়েছে আজ তার সাক্ষ্য খুব ভাল হয়েছে। তাকে মিষ্টি খাওয়ানো হোক। পাঞ্জাবী কিনে দেয়া হোক। তাও লেখা রয়েছে সেফ হাউজের ডায়েরিতে। এজাতীয় তথ্য সংবিলত ডায়েরি কি করে কোন মানুষের পক্ষে বানিয়ে রচনা করা সম্ভব?
তাই সর্বশেষ এখন এর সত্যতা প্রমান করতে হলে সেইসব পুলিশ সদস্যদের হাজির করে  আমাদেরকে ওপেন কোর্টে জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ দেয়া হোক।

সংগ্রাম প্রকাশক সম্পাদক এবং ফেনী বারের ১২ আইনজীবীকে ট্রাইব্যুনালে তলব

২/৪/২০১২
দৈনিক সংগ্রামের প্রকাশক, সম্পাদক, ফেনী সংবাদদাতা  এবং ফেনি বারের ১২ জন আইনজীবীকে তলব করেছেন ট্রাইব্যুনাল। তাদের বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবেনা সে মর্মে সশরীরে হাজির হয়ে আগামী ১৬ এপ্রিল তাদেরকে ব্যাখ্যা  প্রদানের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আজ দৈনিক সংগ্রামে প্রকাশিত “পুলিশকে দেয়া জবানবন্দী সাক্ষ্য  হিসেবে গ্রহনের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ফেনীর আইনজীবীগণ” শীর্ষক খবরের জন্য আদালত  এ আদেশ দিলেন। দৈনিক সংগ্রামের তৃতীয় পৃষ্ঠায় প্রকাশিত ঐ রিপোর্টে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালকে দলীয় ট্রাইব্যুনাল আখ্যায়িত করেছেন  ফেনী বারের ১২ জন আইনজীবী । বিবৃতিতে তারা বলেছেন “এই ট্রাইব্যুনালে কোন মানুষ ন্যায় বিচার পাবেনা।”

মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে  অনুপস্থিত  ১৫ জন সাক্ষী  তদন্ত কর্মকর্তার কাছে যে  জবানবন্দী দিয়েছেন তা  আদালত সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহন করে ২৯ মার্চ আদেশ দিয়েছেন।

ফেনী বারের ১২ জন আইনজীবী এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন এবং দৈনিক সংগ্রামের ফেনী সংবাদাতার বরাতে রিপোর্টটি প্রকাশিত হয়েছে। বিবৃতিতে আইনজীবীগন বলেছেন, “সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী সাক্ষীকে আদালতে এসেই সাক্ষ্য দিতে হবে। আদালতে এসে না বলা পর্যন্ত কোন  বক্তব্যই সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হবেনা। এ ক্ষেত্রে পুলিশের কাছে বলা কথা আইনের কাছে মূল্যহীন।” আইনজীবীগন পুলিশের কাছে সাক্ষীদের দেয়া বক্তব্যকেও মিথ্যা ও বানোয়াট হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। আইনজীবীগন একই সাথে ১৫ জন সাক্ষীর বক্তব্যকে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ না করে তা প্রত্যাখ্যান এবং দলীয় ট্রাইব্যুনাল বাতিল করে বন্দী জামায়াত নেতাদের মুক্তি দাবি  করেছেন। 

গতকাল একটার  দিকে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শেষ হয়ে যায়। এর আনুমানিক ১৫ মিনিট পরে আবার কোর্ট বসে এবং তখন ট্রাইব্যুনাল সংগ্রাম বিষয়ে আদালত অবমাননার অভিযোগ বিষয়ক  আদেশ দেন।  দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদক আবুল আসাদসহ সংশ্লিষ্টদের আদালতে হাজির হয়ে লিখিত আকারে কারণ ব্যাখ্যা করতে  নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালের  চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুলক হক দৈনিক সংগ্রামের উক্ত প্রতিবেদনের  কিছু অংশ  পড়ে শোনান।  তিনি বলেন, আমরা আগে বলেছি  ট্রাইব্যুনালের আদেশের সমালোচনা করা যাবে। ভুলও বের করা যাবে। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল সম্পর্কে  সাধারন মানুষের মনে ভুল ধারণা জন্মায় এমন কিছু করা যাবেনা। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালকে দলীয় আখ্যায়িত করেছেন তারা।  বিষয়টি আদালত অবমাননার শামীল। (এস্টাবলিশেস  এ প্রাইমাফেসি কেস ফর কনটেম্পট) ।  ১৬ এপ্রিল তাদের সকলকে আদালতে  সশরীরে হাজির হয়ে  লিখিত আকারে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে কেন ট্রাইব্যুনাল আইনের ১১.৪ ধারা মোতাবেক তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া  হবেনা।
সংগ্রাম অফিসে সরাসরি এবং ফেনী আইনজীবীদের ফেনী জেলা পুলিশ প্রধানের মাধ্যমে নোটিশ পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এসময় আদালতে উপস্থিত ব্যারিস্টার মুন্সী  আহসান কবিরকে লক্ষ্য করে বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, সরি, আমাদের এ ধরনের আদেশ দিতে হল।
ট্রাইব্যুনাল বলেন, বিবৃতিটি  আইনজীবীদের  পক্ষ থেকে এসেছে। তাদের ভাল করে জানা উচিত ছিল যে, ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য আইন প্রযোজ্য নয়।
আইনজীবীদের কাছ থেকে এ ধরনের বিবৃতি আসায় বিচারপতি নিজামুল হক বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “এ পার্টিসান ট্রাইব্যুনাল”?  (দলীয় ট্রাইব্যুনাল?)

ফেনী  জেলার যে ১২ জন আইনজীবীর  যৌথ বিবৃতির  ওপর ভিত্তি করে সংগ্রামে রিপোর্ট ছাপা হয়েছে তারা হলেন, সফিউল আলম, নুরুল ইসলাম বাচ্চু, মাঈনুদ্দীন, মোতাছিম বিল্লাহম গোলাম সরোয়ার, বেলায়েত হোসেন, কামাল উদ্দিন, আমিনুল হক ভুট্টো, এমদাদুল হক, আব্দুল কাইউম, মো: হাসান।


১৫ সাক্ষী বিষয়ে রিভিউ আবেদন খারিজ : আসামী পক্ষের দাখিল করা ডকুমেন্ট তাদেরই প্রমান করতে হবে-ট্রাইব্যুনাল

মেহেদী হাসান, ১২/৭/০১২
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলায়  ১৫ সাক্ষী বিষয়ে দাখিল করা রিভিউ আবেদন খারিজ করে  দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল । রিভিউ আবেদনে কোন মেরিট নেই বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। সেফ হাউজের ডকুমেমেন্টর যে ফটোকপি আসামী পক্ষ থেকে দাখিল করা হয়েছে তাও প্রমানিত নয় বলে উল্লেখ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। দাখিলকৃত  ডকুমেন্টের সত্যতা আসামী পক্ষকেই প্রমান করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন  ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান।

আদেশ বিষয়ে   ডিফেন্স টিমের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, এবার কাদম্বিনীকে মরিয়া প্রমান করতে হবে যে, সে মরে নাই।

গত ১২ জুন ১৫ সাক্ষী বিষয়ে শুনানী শেষে আদেশ মুলতবি রাখা হয়। এক মাসের মাথায় আজ   এ বিষয়ে আদশে পাশ করা হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ। 

আদেশ পাঠ করে শোনানোর পর  ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের প্রশ্নের জবাবে বলেন,  আপনারা যে ডকুমেন্ট দাখিল করেছেন তার সত্যতা আপনাদেরই প্রমান করতে হবে।
ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, আমরা সমস্ত ডকুমেন্ট জমা দিয়েছি। এটা যে সত্য সে বিষয়ে  আমরা যুক্তি উপস্থাপন করেছি।  এখন  আর কেমন করে আমরা প্রমান করব ?
জবাবে বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, আপনি সিনিয়র আইনজীবী। আপনি জানেন কিভাবে প্রমান করতে হবে। প্রমান করতে পারলে এটা নি:সন্দেহে গ্রহণ করা হবে। তবে ডকুমেন্ট এখনো প্রমানিত হয়নি। আপনার কথা অনুযায়ী ৫০ ভাগ তো প্রমানিত। বাকীটুকু করে ফেলেন। তাহলে বেনিফিট পাবেন।

একজন বিচারপতি অনুপস্থিত ছিলেন:
আদেশ পাশের সময় ট্রাইব্যুনালে দুজন সদস্য  উপস্থিত ছিলেন। এরা হলেন চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক এবং  সদস্য বিচারপতি আনোয়ারুল হক। অপর সদস্য বিচারপতি একেএম জহির আহমেদ উপস্থিতি ছিলেননা।
আদেশ পাশের পর ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক ট্রাইব্যুনালকে   বলেন, আমরা ধরে নিতে পারি এটা দুই সদস্যের আদেশ।
জবাবে বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, না, এটা ট্রাইব্যুনালের আদেশ। এটা সত্য যে, একজন নেই। কিন্তু সর্বসম্মত নয় তা বলা যাবেনা। কারন ভিন্ন মত তো আসেনি।
ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, আপনারা তিনজন আবেদনের শুনানীতে অংশ নিলেন। কাজেই তিনজন মিলেই আদেশ  দিলে ভাল হতনা?  একজন যেহেতু নেই তাই আরেকটু অপেক্ষা করতে পারতেন।
এ আদেশে আমরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।

ব্যারিস্টার রাজ্জাকের প্রতিকৃয়া:
ট্রাইব্যুনালের আদেশ শেষে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের বলেন, এখন কাদিম্বনীকে মরিয়া প্রমান করতে হবে যে, সে মরে নাই। আমরা যে ডকুমেন্ট জমা দিয়েছি  তা প্রমানের সুযোগ থেকে আমাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। প্রমানের সুযোগ তো দেয়া হয়নি। আমরা বলেছি ডকুমেন্টে যাদের নাম আছে তাদের সবাইকে কোর্টের ডকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক।   হাতের লেখা পরীক্ষা করানো হোক বিশেষজ্ঞ ডেকে। তাহলে প্রমান হবে ডকুমেন্টের প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি তথ্য সত্য। আমরা সেটি প্রমান করতে পারব ।
ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, ট্রাইব্যুনালের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি এ আদেশ সঠিক হয়নি। রোমান সম্রাটের আদেশের মত হয়েছে এ আদেশ। কারণ আমাদের আর আপীল বিভাগে যাওয়ার সুযোগ নেই এর বিরুদ্ধে।  তাই আমরা কোর্টের আদেশ মানতে বাধ্য।

ট্রাইব্যুনাল আবেদন  খারিজ বিষয়ে আদেশে  আরো উল্লেখ করা হয়েছে, আসামী পক্ষ  সেফ হাউজের যে ডকুমেন্ট দাখিল করছেন তার সত্যতা প্রমান বা অপ্রমানের  দিকে আমরা যাচ্ছিনা। বিচার চলাকালে এটি আসামী পক্ষ চাইলে প্রমানের সুযোগ পাবেন। তখন আমরা বিবেচনা করব বিষয়টি।
আদেশে  বলা হয়েছে ১৫ সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণ বিষয়ে আমরা উল্লেখ করেছি যেহেতু জেরা ছাড়া এটি আমরা গ্রহণ করেছি তাই এর মূল্য কম এবং সেভাবেই বিবেচনা করা  হবে। ’এছাড়া উষারানী মালাকার, সুখরঞ্জন বালী বিষয়ে জমাকৃত দিগন্ত এবং  ইসলামিক টিভির রিপোর্ট বিষয়ে আদেশে বলা হয়েছে  মূল যে ডকুমেন্ট জমা দেয়া হয়েছে তার সাথে এর বৈষাদৃশ্য রয়েছে।

ট্রাইব্যুনালের আদেশে বারবার দৈনিক নয়া দিগন্তে প্রকাশিত ২৭ মার্চের রিপোর্ট এবং দৈনিক আমার দেশে প্রকাশিত ২৪ এপ্রিলের রিপোর্ট  উল্লেখ করা হয়েছে। সাক্ষীদের সাথে কথোপকথন  বিষয়ে নয়া দিগন্তের রিপোর্ট এবং সেফ হাউজের ডায়েরি নিয়ে দৈনিক আমার দেশের রিপোর্ট বিষয়ে বলা হয়েছে এ রিপোর্ট   নি:সন্দেহে বিচার প্রকৃয়াকে বাঁধা গ্রস্ত করার শামিল।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের প্রতিকৃয়া: রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ হায়দার আলী বলেন, সেফ হাউজের  নামে যে ডকুমেন্ট আসামী পক্ষ জমা দিয়েছেন তা জাল। এটি তারা নিজেরা তৈরি করে জমা দিয়েছেন এই রিভিউ আবেদন করার উদ্দেশে। 

এ বিষয়ে আসামী পক্ষের আইনজীবী তাজুল ইসলাম বলেন, কোর্ট সেফ হাউজের  ডকুমেন্টকে জাল বা জাল নয়  সে বিষয়ে কিছুই  বলেননি। কোর্ট বলেছে এটির সত্যাসত্য প্রমানের দিকে তারা যাচ্ছেননা। তাজুল ইসলাম বলেন, প্রসিকিউশনের পর্বত প্রমান জাল জালিয়াতি এবং প্রতারনার  বিরুদ্ধে আমরা সমস্ত ডকুমেন্ট হাজির করেছি। তার প্রতিটি শব্দ সত্য তা  আমরা প্রমান করতে সক্ষম। এটি যে জাল তা তারা প্রমান করতে পারেননি। না পেরে এখন আবার তারা মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

১৫ সাক্ষী বিষয়ে রিভিউ আবেদনের প্রেক্ষাপট:
গত ২০ মার্চ  রাষ্ট্রপক্ষ থেকে একটি আবেদন দাখিল করা হয় ট্রাইব্যুনালে। সে দরখাস্তে বলা হয়েছে মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে ৪৬ জন  সাক্ষীকে  হাজির করা তাদের পক্ষে আদৌ সম্ভব নয়। তাই  ৪৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দী  তাদের অনুপস্থিতিতে আদালতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহন করা হোক।  

পাঁচজন সাক্ষী  হাজির করতে না পারা বিষয়ে আবেদনে  বলা হয়েছে তারা নিখোঁজ।  ১৪জনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। নিখেঁাঁজ  পাঁচ জনের তিনজন গোপনে ভারতে পালিয়ে গেছে।

আদৌ হাজির করা সম্ভব নয়  হিসেবে যে ৪৬ জনের তালিকা দেয়া হয়েছে তাদের  মধ্যে  ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির,  লেখক প্রফেসর জাফর ইকবাল (হুমায়ুন আহমেদের ভাই), খ্যাতিমান জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ, পিরোজপুর সাবসেক্টর কমান্ডার মেজর (অব) জিয়াউদ্দিন আহমেদের নামও রয়েছে।

যে ৪৬ জন সাক্ষীর অনুপস্থিতিতে তাদের সাক্ষ্য গ্রহনের আবেদন জানানো হয়েছে তাদের সবার নামের তালিকা দেয়া হয়েছে এবং ১৯ জন সাক্ষী  হাজির করতে না পারার কারণ তাদের নামের পাশে উল্লেখ করা হয়েছে। তালিকার এক নম্বরে থাকা ঊষারানী মালাকারকে হাজির করতে না পারা বিষয়ে বলা হয়েছে তিনি অসুস্থ, স্মরনশক্তি লোপ, ভ্রমনে মুত্যু ঝুকি রয়েছে। 

তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা সুখরঞ্জন বালী সম্পর্কে বলা হয়েছে  চার মাস আগে  নিজ বাড়ি থেকে বের হবার পর নিখোঁজ।  তালিকার ৩ থেকে পাচ নম্বরে থাকা আশিষ কুমার মন্ডল, সুমীত রানী মন্ডল এবং সমর মিস্ত্রী  সম্পর্কে বলা হয়েছে তারা ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে নিখোঁজ। সম্ভবত তারা গোপনে ভারতে পালিয়ে গেছে।
তালিকায় ৬ থেকে ১৯ নম্বর মোট ১৪ জন সাক্ষী সম্পর্কে বলা হয়েছে তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। আসামীর পক্ষ অবলম্বনকারী পিরোজপুরের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গ্রুপ কর্তৃক সাক্ষীদের বাড়িতে গিয়ে হুমকির কারনে তারা বাড়িছাড়া।

এ আবেদন বিষয়ে শুনানী শেষে গত ২৯ মার্চ রায় দেন ট্রাইব্যুনাল। তাতে ১৫ জন সাক্ষী তদন্ত কর্মকর্তার কাছে যে জবানবন্দী দিয়েছেন তা তাদের অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।

১৫ সাক্ষী বিষয়ে এ আদেশ  পুনরায় বিবেচনার জন্য গত ৯ মে রিভিউ আবেদন দাখিল করেন মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী। ২২ মে এ বিষয়ে প্রথম শুনানী অনুষ্ঠিত হয়।  ৩রা জুন পুনরায় শুনানীর সময় আসামী পক্ষের আইনজীবীরা সেফ হাউজের (ঢাকায় যেখানে সাক্ষী  এনে রাখা হত)  সমস্ত কাগজপত্র ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে  বলেন, সাক্ষী হাজির করতে না পারা বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ যে কারণ দেখিয়েছে তা সম্পূর্ণ  মিথ্যা। তারা কার্টে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আদালতকে প্রতারিত করেছেন।  অনেক সাক্ষী তাদের হেফাজতেই ছিল এবং সেফহাউজের এসব কাগজপত্রে তার প্রমান রয়েছে।  কোন সাক্ষী কবে ঢাকায় আসে,  কতদিন সেফ হাউজে ছিল,  কবে কাকে সেফ হাউজ থেকে কোর্টে হাজির করা হয়, কে কয়বেলা খাবার খেয়েছেন, কোন সাক্ষী কবে বাড়ি গেছেন, কোন দিন কার কোন আত্মীয় বেড়াতে এসেছেন, কোন দোকান থেকে জিনিসপত্র কেনা হয়েছে, কোন কোন পুলিশ  ইন্সপেক্ট, সাব-ইন্সপেক্টর এবং কনস্টেবল কোনদিন সেখানে দায়িত্ব পালন করেছেন তার সমস্ত কিছু লিখে রাখা হয়েছে যে  ডায়েরিতে ত আসামী পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
সেফ হাউজের যে রেজিস্ট্রার খাতা  আসামী পক্ষ থেকে জমা দেয়া হয়েছে তাতে  সাক্ষী এবং অতিথি হাজিরা খাতা, খাদ্য  বই এবং সাধারন ডায়েরি বই  রয়েছে।

মাওলানা সাঈদীর জামিন আবেদন নাকচ

২৪/৬/১২, রোববার
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর জামিন আবেদন নাকচ করা হয়েছে । জামিন  আবেদন নাকচ করা বিষয়ক আদেশে  ট্রাইব্যুনাল -১ বলেন, মাওলানা সাঈদী বর্তমানে অসুস্থ  অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যদিকে তাকে প্যারোলে মুক্তি দিয়ে বিদেশে পাঠানোর আবেদন জানানো হয়েছে। সে বিষয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।  প্যারোলে মুক্তির আবেদন থাকা অবস্থায় কিভাবে তাকে জামিন দেয়া যায় সেটি একটি প্রশ্ন আমাদের কাছে।

আদেশে ট্রাইব্যুনাল বলেন, জামিন আবেদনের পক্ষে সবচেয়ে বড় বিষয় ছিল মাওলানা সাঈদীর বড় ছেলে রাফীক বিন সাঈদী মারা যাওয়ায় তার পুরোপুরি সুস্থতা অর্জনের জন্য পারিবারিক সান্নিধ্যে থাকা দরকার। পারিবারিক সেবা শুশ্রুষা দরকার।  কিন্তু মাওলানা সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদীও সাংবাদিক সম্মেলনে করে  তার পিতাকে  প্যারোলে মুক্তি দিয়ে  চিকিৎসার জন্য লন্ডন পাঠানোর  দাবি জানিয়েছেন। এথেকে এটি প্রতীয়মান যে, তার এ মুহুর্তে চিকিৎসা করানো বেশি জরুরি। আর চিকিৎসার জন্য যদি তাকে লন্ডন পাঠানো হয় তাহলে সেখানে তার পক্ষে পারিবারিক সান্নিধ্য পাওয়া সম্ভব নয়।

তাছাড়া ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে, বারডেমে তাকে গুরুত্বসহকারে চিকিৎসা  প্রদান করা হচ্ছে বলেও ট্রাইব্যুনাল  আদেশে উল্লেখ করেন।

এরপর জামিন আবেদন নাকচের পক্ষে ট্রাইব্যুনাল দুটি যুক্তি উপস্থাপন করেন।  ট্রাইব্যুনাল বলেন, এর আগে মায়ের জানাজার সময়  মাওলানা সাঈদীকে প্যারোলে  মুক্তি দেয়া হয়েছিল। সেবার তিনি প্যারোলে মুক্তির শর্ত মেনে চলেছেন। কিন্তু এবার বড় ছেলের জানাজায় প্যারোলে মুক্তির শর্ত তিনি ভঙ্গ করেছেন।

জানাজার সময় তিনি ১০ মিনিট বক্তব্য দিয়েছেন। বক্তব্যের মধ্যে উসকানিমূলক (প্রোভোকেটিভ)  কথা ছিল। পুলিশ তাকে থামানোর চেষ্টা করলেও তিনি থামেননি। তাছাড়া অনেক উচ্ছৃঙ্খল (আনরুলি) লোকজন তাকে কারাগারে নিয়ে যাবার সময় গাড়ির পেছন পেছন অনুসরন করেছে।

আরেকটি বিষয় উল্লেখ করে ট্রাইব্যুনাল বলেন, মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে এক সাক্ষীর ছেলে একটি গ্রুপ কর্তৃক হামলার শীকার হয়েছে।  অভিযোগ এসেছে সাঈদ’র সমর্থকরা এটি করেছে।

আদেশ শেষে হবার সাথে সাথে  তাজুল ইসলাম  দাড়িয়ে  বলেন, প্যারোলে মুক্তির শর্ত তিনি ভঙ্গ করেছেন কিনা এ মর্মে রাষ্ট্রপক্ষের কোন আইনজীবীদের পক্ষ থেকেও কিছু বলা হয়নি এবং জেল কর্তৃপক্ষও কিছু বলেননি।  কাজেই এ বিষয়টি আপনারা  কিভাবে আদেশে আনলেন?
তখন ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক বলেন,  আমরা টিভিতে দেখেছি তিনি বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি কি বক্তব্য দেননি?

তাজুল ইসলাম বলেন, বক্তব্য দিয়েছেন কিন্তু তিনি শর্ত ভঙ্গ করেছেন, মানুষকে উসকানি দিয়েছেন এ অভিযোগতো কেউ করেনি।

এরপর তাজুল ইসলাম বলেন, পিরোজপুরে এক সাক্ষীর ছেলে গাজা খাওয়ার সময় প্রতিপক্ষ ছাত্রলীগ কর্মীদের হামলার শীকার  হয়েছেন। পত্রিকায় এ বিষয়ে রিপোর্ট হয়েছে। সেটিও কি মাওলানা সাঈদীর প্রভাবে হয়েছে  এবং জামিন না দেয়ার পক্ষে যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করা হবে? এ বিষয়ে তো রাষ্ট্রপক্ষ থেকেও কিছু বলা হয়নি। পত্রিকার রিপোর্ট থেকে এ বিষয়টি এখানে জামিন না দেয়ার পক্ষে কিভাবে  আপনারা  যুক্তি হিসেবে আনতে পারেন?
তাজুল ইসলাম বলেন,  এ দুটি বিষয় আদেশ থেকে বাদ দেয়া হোক আদেশ থেকে। ট্রাইব্যুনাল বলেন ঠিক  আছে  বাদ দেয়া হবে।

জামিন আবেদন বাতিল বিষয়ে তাজুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শেষে  সাংবাদিকদের বলেন,  এ নিয়ে সপ্তমবারের মত মাওলানা সাঈদীর  জামিন আবেদন বাতিল করা হল। আপনারা  জানেন কোন মানবিক প্রেক্ষাপট তুলে আমরা জামিনের আবেদন করেছিলাম। আমরা মনে করি তার জামিন আবেদন বাতিল করা সঠিক হয়নি, মানবিক হয়নি।

জামিন আবেদন বাতিলের পর মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনের জেরা শুরু হয়। তাকে জেরা করেন মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী মিজানুল ইসলাম। তাকে সহয়াতা করেন অ্যডভোকেট মনজুর আহমেদ আনছারী, আবু বকর সিদ্দিক, হাসানুল বান্না সোহাগ। এসময় অন্যান্য  আইনজীবীর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিক, শাহজাহান কবির, শিশির মোহাম্মদ মনির ।
মাওলানা সাঈদী ন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ডায়াবেটিসের সমস্যা বেড়ে যাওয়ায় তাকে গত শনিবার রাতে আবার বারডেমে নিয়ে আসা হয়েছে।

মাওলানা সাঈদীকে ইব্রাহীম কার্ডিয়াকে ভর্তি

১৪/৬/১২ বৃহষ্পতিবার
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী বুকে ব্যথা অনুভব করায় গত রাতে  তাকে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে গতরাতে। রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। তিনি সিসিইউ ১২ নং বেডে আছেন।

হাসপাতালে নিয়ে যাবার সময় মাওলানা সাঈদীর সাথে থাকা তার তৃতীয় ছেলে মাসুদ সাঈদী   দৈনিক নয়া দিগন্তকে জানান, মাগরিবের নামাজ শেষে  মতিঝিল বয়েজ স্কুল মাঠ থেকে আব্বাকে  নিয়ে জেল খানার দিকে রওয়ান দেয় কর্তৃপক্ষ । জানাজার মাঠেই তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করেন।  জেলগেটে পৌছতে রাত নটা বেজে যায়। কারণ জানাজায় হাজির হওয়া হাজার হাজার মানুষ তার গাড়ির সামনে পেছনে  আসে  জেল গেট পর্যন্ত।   রাত নয়টায় জেল গেটে পৌছানোর পর তাকে জেলখানায় প্রবেশ করানো হয়। এরপর তার বুকের ব্যথা আরো বাড়ার কারনে তাকে জেল কর্তৃপক্ষ দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাবার  সিদ্ধান্ত নেয়।
মাসুদ সাঈদী জানান  মাওলানা সাঈদীর বুকে  দুটি রিং বসানো আছে।  

সাক্ষীদের প্রশিক্ষনের অভিযোগ এবং সেফ হাউজের ডায়েরিতে যা লেখা রয়েছে

মেহেদী হাসান, ২২/৬/২০১২, শুক্রবার
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর  আইনজীবীরা বিভিন্ন সময় অভিযোগ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষ কর্তৃক সাক্ষীদের প্রশিক্ষন বিষয়ে।  অ্যডভোকেট তাজুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালে এবং ট্রাইব্যুনালের বাইরে সাংবাদিকদের  সামনে বিভিন্ন সময়   অভিযোগ করেছেন মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষীদের প্রশিক্ষন দেয়া হচ্ছে।  তাদেরকে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে  মিথ্যা কথা শিখিয়ে কোর্টে নিয়ে   আসা হচ্ছে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য।

রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের ঢাকায় এনে যেখানে রাখা হত সেই সেফ হাউজের ডকুমেন্ট  সম্প্রতি ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন  করেছেন  মাওলানা সাঈদীর আইনজীবীরা।  সেফ হাউজ ডায়েরিতে এমন কিছু নোট লেখা রয়েছে যাতে সাক্ষীদের প্রশিক্ষন বিষয়ক অভিযোগের সত্যতা মেলে।

যেমন  ১৮/১০/২০১১ তারিখের একটি ডায়েরি নোটে লেখা হয়েছে “পার্শ্বলিখিত সময় আমি এবং এসআই কালাচাদ ঘোষ কনকর্ড কোম্পানীর ইঞ্জিনিয়ার ইউসুফ সাহেবের সঙ্গে অত্র অফিস তদন্ত সংস্থার স্বাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদের পরিবেশ উপযোগী করে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অনুরোধ করিলাম।”
ডায়েরির এই লেখাটির প্রতি মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী তাজুল ইসলাম এবং মিজানুল ইসলামের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তারা বলেন, এ থেকে বোঝা যায় সেখানে একটি প্রতিকী ট্রায়ালের আয়োজন করা হয়েছিল সাক্ষীদের জন্য।

তারিখ ১৭/১১/২০১১ সময়  ২০.১৫ লিখিত আরেকটি ডায়েরি নোটে লেখা হয়েছে “পার্শ্বলিখিত সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ প্রসিকিউটরগণ অত্র সেইফ হাউজে অবস্থানরত সাক্ষীদের সবাইকে প্রসিকিউটর রুমে একত্রিত হয়ে একটি বিফ্রিংয়ে মিলিত হয় এবং সাক্ষীদেরকে মামলা সংক্রান্তে ব্রিফ করেন। বিষয়টি ভবিষ্যতের জন্য ডায়েরীভূক্ত করা হইলো।”
অ্যডভোকেট তাজুল ইসলাম এবং মিজানুল ইসলাম বলেন, সাক্ষীদের এভাবে প্রসিকিউটর রুমে একত্রিত করে ব্রিফিং করার কোন বিধান নেই।

১৭/১২/২০১১  তারিখ লিখিত সেফ হাউজের আরেকটি ডায়েরি নোটে লেখা রয়েছে “পার্শ্বলিখিত সময় অত্র সেইফ হাউজের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মো: আমজাদ হোসেন এই সাধারন ডাইরী করিতেছি যে, আগামী ইং ১৮-১২-১১ তাং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তদন্ত সংস্থার অপরাধ রেজিষ্টারের ক্রমিক নং-০২ সংক্রান্তে স্বাক্ষীদের মনোস্তাত্তিক বডি লেংগুয়েজ, পরষ্পর কথোপকথন এবং মোবাইল ফোনের ব্যবহার প্রভৃতি পর্যালোচনা করে বিস্তারিত ভাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক মহোদয়কে বিস্তারিত ভাবে তাহা মোবাইলে আলাপ করিলাম। তথা বিষয়টি মৌখিক আকারে গোপনীয় প্রতিবেদনের ন্যয় দাখিল করিলাম। আমি ইনচার্জ হিসাবে তাহাকে ইহাও বলিলাম যে, আমার এই টেলিফোনে কথোপকথন গোপনীয় প্রতিবেদন হিসাবে জানালাম। ইহার প্রতি উত্তরে জানান যে, তুমি যা রিপোর্ট করিলে আমি কিছুক্ষন আগেই অবগত হইয়াছি। এই কথোপকথনের প্রেক্ষিতে আমার প্রতি প্রয়োজনীয় আদেশ নির্দেশ প্রদান করিতে বলিলেন। আমি উহা শ্রবনের পর কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন করিলে তা কার্যকরী করা সম্ভব হয় না। সম্ভব না হওয়ার বিষয়টিও প্রধান সমন্বয়ক মহোদয়কে জানালে তিনি  বলেন, ঠিক আছে গোপন বিষয় নিয়ে সোচ্চার হওয়ার প্রয়োজন নেই।
বিষয়টি সংক্রান্তে সমন্বযক মহোদযের মৌখিক গৃহীত ব্যবস্থায় সন্তুষ্ট না হয়ে মামলার তদন্তকারী অফিসার সহকারী পুলিশ সুপার জনাব হেলাল উদ্দিন সাহেবকে সবকিছু জ্ঞাত করিলাম। এএসপি মহোদয়কে প্রধান সমন্বয়ক মহোদয়ের মৌখিক গৃহীত ব্যবস্থা কার্যকরী করার অনুরোধ করি। তিনি আমাকে জবাব প্রদান করেন যে, বিষয়টি আমি দেখছি। স্বাক্ষীদের স্বাক্ষের মানগত গুনাবলী বা প্রতিবন্ধকতা রোধের জন্যই উপরোক্ত পদক্ষেপ গুলি গ্রহন করি। বিষয়টি ভবিষ্যতের জন্য সাধারন ডাইরী করে রাখা হল।”

মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে ১৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দী তাদের অনুপস্থিতিতে আদালত সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে গত ২৯ মার্চ রায় দেন। সে রায় পুনরায় বিবেচনার জন্য গত ৯ মে রিভিউ আবেদন দাখিল করেন মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী। গত ৩রা জুন এ বিষয়ে শুনানীর সময় আসামী পক্ষের আইনজীবীরা সেফ হাউজের (ঢাকায় যেখানে সাক্ষী  এনে রাখা হত)  সমস্ত কাগজপত্র ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে  বলেন, সাক্ষী হাজির করতে না পারা বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ যে কারণ দেখিয়েছে তা সম্পূর্ণ  মিথ্যা। তারা কোর্টে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আদালতকে প্রতারিত করেছেন।  অনেক সাক্ষী তাদের হেফাজতেই ছিল এবং সেফহাউজের এসব কাগজপত্রে তার প্রমান রয়েছে।  কোন সাক্ষী কবে ঢাকায় আসে,  কতদিন সেফ হাউজে ছিল, কয়বেলা খাবার খেয়েছেন, কোন কোন পুলিশ  ইন্সপেক্টর, সাব-ইন্সপেক্টর এবং কনস্টেবল কোনদিন সেখানে দায়িত্ব পালন করেছেন  তার সমস্ত বিবরণ লেখা রয়েছে সেফ হাউজের ডায়েরিতে। আসামী পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে সে ডায়রির কপি  দাখিল করা হয় কোর্টে। গত ১২ জুন আসামী পক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক কোর্টে সেফ হাউজের সে ডায়রি  থেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ পড়ে শোনান। সেসময় তিনি কোর্টে উপরোক্ত মিষ্টি খাওয়ানোর বিষয়টিও উপস্থাপন করেন।
গত ৩ রা জুন আসামী পক্ষ থেকে সেফ হাউজের পায়েরি আদালতে দাখিলের সময়  রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ হায়দার আলী বলেন, সেফ হাউজ বলতে আমাদের কিছু নেই। তারা সেফ হাউজের নামে যে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন এই রিপোর্ট আমাদের না। এটি তাদের প্রডাকশন। হতে পারে এটি তাদের প্রডাকশন। তিনি সেফ হাউজের বদলে  উইটনেস হাউজ বা সাক্ষী হাউজ লেখার দাবি জানান ট্রাইব্যুনালের প্রতি।

জগ মগ তাওয়া খুনতি কেনার তথ্যও লিখে রাখা হয়েছে সেফ হাউজ ডায়েরিতে

সেফ হাউজ ডায়েরিতে জগ মগ তাওয়া খুনতি, পাপশ, ঝাড়–, বদনা প্রভৃতি জিনিসপত্র কেনার  তথ্যও লেখা রয়েছে। 
রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের ঢাকায় এনে যেখানে রাখা হত সেই সেফ হাউজের ডকুমেন্ট  সম্প্রতি ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন  করেছেন  মাওলানা সাঈদীর আইনজীবীরা।  তাতে দেখা যায় সেফ হাউজের যাবতীয় কর্মকান্ড এবং সেখানে যেসব সাক্ষী এনে রাখা হত তাদের  খুটিনাটি যাবতীয় তথ্য লিপিবদ্ধ করে রাখা  হয়েছে।
২২/১০/২০১১ তারিখে সেফ হাউজ ডায়েরির একটি নোটে লেখা রয়েছে “আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল হইতে নি¤œ বর্ণিত ক্রোকারিজ মালামাল অত্র সেইফ হাউজে ব্যবহারের জন্য প্রেরণ করিলে তাহা প্রাপ্ত হইয়া অত্র সংস্থার রুমে রাখা হইল। এবং উক্ত মালামাল প্রাপ্তির ব্যাপারে পুলিশ পরিদর্শক (প্র) জনাব মো: ওবায়দুল্লাহ সাহেবকে অবগত করা হইল ও অত্র সংস্থার ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক জনাব মো: আমজাদ হোসেন সাহেবকে অবগত করিয়া ভবিষ্যতের জন্য নোট করিয়া রাখিলাম।
মালামালের বিবরন ঃ
প্লেট বড়  (মেলামাইন) - ২৪টি,  কাচের গ্লাস - ৭২টি, কাপ প্রিচ - ৩৬টি,  চা-চামচ - ৩৬টি, পানির জগ (প্লাষ্টিক) - ১২টি, ভাতের হাড়ি ঢাকনা সহ - ১০টি, কড়াই - ৩টি, তরকারীর হাড়ি ঢাকনা সহ - ০৮টি, ছোট বাটি মেলামাইন - ১০০টি, মাঝারী বাটি মেলামাইন - ১০টি, ভাতের গামলা মেলামাইন - ০৬টি,  বড় বাটি মেলামাইন - ১০টি,  ভাতের চামচ (ষ্টিল) - ০৬টি, তরকারীর চামচ (ষ্টিল) - ০৬টি, রুটি বানানোর ফিড়ি ও বেলুন - ০৪ সেট, বদনা প্লাষ্টিক - ১২টি, জায়নামাজ - ০৪টি, তাওয়ালে মাঝারী - ৬০টি, তাওয়া খুনতী - ০৪ সেট, বটি - ০৪টি, ট্রে মেলামাইন - ০৪টি, পানির ফিল্টার - ০৪টি, বালতি প্লাষ্টিক - ১০টি, মগ - ১০টি, তোষক - ২০টি, বালিশ ২০টি।

১৬/১১/১১ তারিখের আরেকটি ডায়েরি নোটে লেখা রয়েছে “সময়ে কন্ট্রাক্টর মি. শাহ আলম সাহেবের নিকট হতে নি¤œ লিখিত সেইফ হাউজের ব্যবহৃত মালামাল বুঝিয়া পাইয়া নোট করিলাম।
মালামালের বর্ণনা ঃ- গ্যাস সহ গ্যাস সিলিন্ডার - ৩টি, গ্যাস চুরা স্টীর ফিটিং মিটার রেগুলেটর সহ - ২টি, লাক্স সাবান মধ্যম - ১ডজন, লাক্স সাবান ছোট - ১ডজন, এসিআই (মশক নিধন) - ১টি, টেবিল টিসু পেপার - ২ বক্স, টয়লেট টিসু পেপার - ১ বক্স, পাপশ -৮টি, হারপিক - ২০টি, লাক্স সাবান - ২ ডজন, ভিম পাউডার - ১ ডজন, টিসু বক্স - ৫০টি, টয়লেট পেপার - ৫০টি, পাপশ - ৪০টি, ঝুড়ি - ২০টি, ঝাড়– ফুলের - ৬টি, ঝাড়ু শলার - ৪টি, দেয়াল ঘড়ি - ৪টি, মরটিন (মশক নিধন) - ১০টি, টি ব্যাগ - ৫ বক্স, কফি - ২ কৌটা,  চিনি - ৪ কেজি, চা এর নেট ছাকনি - ৪টি, কাটা চামচ - ১ ডজন, টেবিল কলমদানি - ২টি, লাক্স সাবান - ৪টি,  ঝুলি ঝাড়ু - ২টি।

সেফ হাউজ ডায়েরি// ভাল সাক্ষ্য দেয়ায় গৌরাঙ্গকে মিষ্টি খাওয়ানোর কথাও লেখা আছে ডায়েরিতে

মেহেদী হাসান, ১৫/৬/১২, শুক্রবার
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে গত ১৬ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন গৌরাঙ্গ চন্দ্র সাহা।  গৌরাঙ্গ চন্দ্র সাহা  ভাল সাক্ষ্য দেয়ায় সেদিন সেফ হাউজে তাকে মিষ্টি খাওয়ানো হয়। এছাড়া সিগারেট, প্রসাধীন এবং ঔষধ কিনে দেয়া হয় তাকে। এ বিষয়গুলোও  লেখা রয়েছে সেফ হাউজের ডায়েরিতে।

এখানে সেফ হাউজের ১৬ জানুয়ারি ২০১২ তারিখের এ বিষয়ক  বিবরন ডায়েরি  থেকে তুলে  ধরা হল
“প্রধান সমন্বয়ক অত্র সেইফ হাউজের নতুন স্বাক্ষী মধু সুদন ঘরামী এসেছে কিনা, এখন  কেমন আছেন জানতে চান।  তৎসঙ্গে তিনি আরো বলেন স্বাক্ষী গৌরাঙ্গ সাহার স্বাক্ষ্য খুব ভাল হয়েছে। টেলিফোনে আলোচনার সময়ে স্বাক্ষী গৌরাঙ্গ মিষ্টি খাওয়ার দাবী করে। বিষয়টি  ওএ স্যারকে ( সমন্বয়ক হান্নান খান এবং সানাউল হককে আইজির মর্যাদায় তদন্ত সংস্থায় নিয়োগ দেয়া হয়েছে)  জানালে তিনি বলেন, তাকে অর্থ্যাৎ গৌরাঙ্গকে মিষ্টিসহ পাঞ্জাবী পায়জামা দিয়ে দাও। তিনি আরো বলেন, যদি আরো কিছু চায় তবে আমি যেন সাধ্য মতো প্রদান করি। বিষয়টি সম্পর্কে  ওএ সানাউল্লাহ স্যারকে জানালে তিনি একই আদেশ প্রদান করেন। সিনিয়র দুই স্যারের আদেশে স্বাক্ষী গৌরাঙ্গ, সঙ্গে বাদী মাহবুবুল আলম হাওলাদার ও অপর স্বাক্ষী মো: আব্দুল হালিম বাবুলকে অত্র সেইফ হাউজের সন্নিকটে বিক্রমপুর মিষ্টান্ন ভান্ডার হইতে দুইশত পঞ্চার টাকার মিষ্টি, সিগারেট, ঔষধ, প্রসাধনী সহ মোট ৫০০/= টাকা ব্যয় করা হইল। বিষয়টি ভবিষ্যতের জন্য ডাইরী ভুক্ত করে রাখা হল।”

মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে ১৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দী তাদের অনুপস্থিতিতে আদালত সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে গত ২৯ মার্চ রায় দেন। সে রায় পুনরায় বিবেচনার জন্য গত ৯ মে রিভিউ আবেদন দাখিল করেন মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী। গত ৩রা জুন এ বিষয়ে শুনানীর সময় আসামী পক্ষের আইনজীবীরা সেফ হাউজের (ঢাকায় যেখানে সাক্ষী  এনে রাখা হত)  সমস্ত কাগজপত্র ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে  বলেন, সাক্ষী হাজির করতে না পারা বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ যে কারণ দেখিয়েছে তা সম্পূর্ণ  মিথ্যা। তারা কোর্টে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আদালতকে প্রতারিত করেছেন।  অনেক সাক্ষী তাদের হেফাজতেই ছিল এবং সেফহাউজের এসব কাগজপত্রে তার প্রমান রয়েছে।  কোন সাক্ষী কবে ঢাকায় আসে,  কতদিন সেফ হাউজে ছিল, কয়বেলা খাবার খেয়েছেন, কোন কোন পুলিশ  ইন্সপেক্টর, সাব-ইন্সপেক্টর এবং কনস্টেবল কোনদিন সেখানে দায়িত্ব পালন করেছেন  তার সমস্ত বিবরণ লেখা রয়েছে সেফ হাউজের ডায়েরিতে। আসামী পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে সে ডায়রির কপি  দাখিল করা হয় কোর্টে। গত ১২ জুন আসামী পক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক কোর্টে সেফ হাউজের সে ডায়রি  থেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ পড়ে শোনান। সেসময় তিনি কোর্টে উপরোক্ত মিষ্টি খাওয়ানোর বিষয়টিও উপস্থাপন করেন।
গত ৩ রা জুন আসামী পক্ষ থেকে সেফ হাউজের ডায়েরি আদালতে দাখিলের সময়  রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ হায়দার আলী বলেন, সেফ হাউজ বলতে আমাদের কিছু নেই। তারা সেফ হাউজের নামে যে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন এই রিপোর্ট আমাদের না। এটি তাদের প্রডাকশন। হতে পারে এটি
তাদের প্রডাকশন। তিনি সেফ হাউজের বদলে  উইটনেস হাউজ বা সাক্ষী হাউজ লেখার দাবি জানান ট্রাইব্যুনালের প্রতি।
সেফ হাউজ পত্তন বিষয়টিও সেফ হাউজের ডায়েরিতে লেখা রয়েছে। এখানে এ বিষয়ক বিবরন  সেফ হাউজ ডায়েরি থেকে তুলে ধরা হল। নোটটি ১৮/১০/২০১১ তারিখ লেখা। “আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তদন্ত সংস্থার আদেশ নম্বর ২৪, তারিখ ১২-১০-১১ এর মোতাবেক এবং স্মারক নং ১০৮০, তারিখ ১২-১০-১১ অনুসারে অত্র ৬৪৫ অতীশ দীপংকর, সায়েদাবাদ, গোলাপবাগ, যাত্রাবাড়িস্থ সেইফ হাউজ এর যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা এবং উর্ধ্বতন অফিসারগণের পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারীদের নিয়ন্ত্রন সহ সরকারী আদেশ উপদেশ কার্যকরী করার কল্পে অদ্য ১৮-১০-১১ তারিখের সকাল ০৮.০০ হতে অত্র ডায়েরী পত্তন তথা খোলা হইলো। অত্র ডায়েরী থানার ডায়েরী ন্যায় অর্থাৎ চজই ৩৭৭ এবং পুলিশ আইনে ৪৪ ধারা মোতাবেক ব্যবহৃত হবে। বিশেষ করে  অফিসার ফোর্স বাহির গমনে এবং স্বাীদের আইনগত সুযোগ সুবিধা ও উর্ধ্বতন অফিসারগনের তাৎনিক আদেশ কার্যকরী করা হবে। সংশ্লিষ্ট সংস্থার মামলা বা স্বাী বা যে কোন ঘটনা এই অফিসের ইনচার্জ সাহেবকে জানাতে হবে। তিনি উর্ধ্বতন অফিসারকে জ্ঞাত করবেন। প্রয়োজনে ঘটনা বা তথ্য বিচারে সরাসরি উর্ধ্বতন অফিসারকে জ্ঞাত করবেন। অত্র অফিসের জন্য নিয়োজিত সকল ফোর্সের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির হিসাব ঝও বাকি বিল্লাহ সাহেব নিয়ন্ত্রন করবেন। সেন্ট্রাল অফিস থেকে প্রেরিত মালামালের হিসাব তথা ষ্টক রেজিষ্ট্রার ঝও কালাচাঁদ বাবু রনাবেন করবেন। সংশ্লিষ্ট ০২জন ঝও সাহেব অফিস চালুর যাবতীয় অসমাপ্ত কার্য সমূহ তরান্বিত করে আগামী ২৬-১০-১১ তারিখে সর্ব্বত উপযোগী করে তুলবেন। তারা আমার মাধ্যমে বা সরাসরি ইন্স: ওবায়েদুল্লাহ সাহেবের সঙ্গে যোগাযোগ করে সকল প্রকার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করবেন। ”
সেফ হাউজে কে কি দায়িত্ব পালন করবেন সে বিষয়ক ১৫/১১/১১ তারিখের আরেকটি ডায়েরি নোট এখানে তুলে ধরা হল । “আমি (আমজাদ হোসেন) ইনচার্জ সেইফ হাউজ গোলাপবাগ এই মর্মে নোট করিতেছি যে, অত্র সেইফ হাউজের দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার-ষ্টাফদের মধ্যে নি¤েœ স্ব স্ব নামে পার্শ্বে দ্বায়িত্ব পালনের জন্য কার্য বন্টন করিয়া দেওয়া হইল এবং স্বাক্ষীদের নিরাপত্তা বিধান করিবেন এবং আমার সাথে এবং উর্ধ্বতন অফিসারের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করিবেন।
ঝও কালা চাঁদ ঘোঘ সঙ্গে ক/রবিউল
০১। স্বাক্ষীদের নিরাপত্তা
০২। স্বাক্ষীদের খাবারের বাজার
০৩। বাবুর্চিদের তত্বাবধান এবং খাবার সরবরাহ
০৪। প্রধান সমন্বয়ক অফিসের সাথে যাবতীয় অর্থনৈতিক যোগযোগ ও হিসাব সংরক্ষন
ঝও আব্দুল্লাহ আল বাকী সঙ্গে ক/মাসুম
০১। স্বাক্ষীদের নিরাপত্তা
০২। রিসিভ সেকশনে ডিউটিরত ও স্বাক্ষীদের তথ্য ১টি রেজিষ্টারে রক্ষনাবেক্ষন
০৩। স্বাক্ষীদের জন্য অফিসে সংরক্ষিত মূল রেজিষ্টার রক্ষনাবেক্ষন
০৪। স্বাক্ষীদের অবস্থানে যাবতীয় ব্যবস্থা
০৫। স্বাক্ষীদের কোর্টে প্রেরণ এবং কোর্ট প্রত্যাগত স্বাক্ষীদের গ্রহন
০৬। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তদন্তকারী অফিসার ও প্রসিকিউটরদের আপ্যায়নসহ যাবতীয় কাজ করবেন

শর্ষিণা মাদ্রাসার অধ্যক্ষও এসেছিলেন সাক্ষ্য দিতে:  সেফ হাউজ ডায়েরিতে স্বরূপকাঠীর ছারছিনা দারুস সুন্নত আলীয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ড. সৈয়দ মো: শরাফত আলীর নামও লেখা রয়েছে।  মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে তিনি সাক্ষ্য দিতে এসে এখানে উঠেছিলেন। তবে তিনি শেষ পর্যন্ত সাক্ষ্য দেননি। 

সেফ হাউজ ডায়েরিতে আরো যাদের আসা যাওয়ার খবর লেখা রয়েছে তারা হলেন মো: মাহবুবুল আলম হাওলাদার, মো: মাহতাব উদ্দিন হাওলাদার, মো: মোস্তফা হাওলাদার, মানিক পশারী, আশিষ কুমার মন্ডল, সমর মিস্ত্রি, রুহুল আমীন নবীন, মো: আলতাফ হাওলাদার, সুলতান আহমদ।

মিজানুর রহমান তালুকদার (তার বাসা ঢাকায় তবে তিনি সেখানে সাক্ষীদের সাথে দেখা  করতে এবং আলোচনার জন্য যান বলে লেখা আছে।  অন্য কয়েকজন সাক্ষীর সাথে তাকেও সাক্ষী দিতে সেফ হাউজ  থেকে  গাড়ি যোগে ট্রাইব্যুনালে নিয়ে আসার বিষয় লেখা  রয়েছে। সেফ হাউজ ডায়েরির বেশ কয়েকটা তারিখের ঘটনায় তার নাম লেখা রয়েছে। তা থেকে সহজে ধারনা করা যায় তিনি সেখানে বেশ কয়েকদিন ছিলেন এবং প্রায়ই আসা যাওয়াও করতেন।)

আব্দুল লতিফ হাওলাদার?, মো: খলিল (৫), মো: লতিফ ও, মো: এনতাজ, মো: আইয়ুব আলী তালুকদার, মো: জলিল শেখ, বাসুদেব মিস্ত্রি, মো: সেলিম খান, মুকুন্দ চক্রবর্তী, গৌরাঙ্গ সাহা, 
অনিল চন্দ্র মন্ডল, মা: বজলুর রহমান, আব্দুল হালিম বাবুল, মধুসুদন ঘোরামী,
ড. সৈয়দ মো: শরাফত আলী, পিন্সিপাল ছারছিনা দারুস সুন্নত আলীয়া মাদ্রাসা, সরুপকাঠি
মো: আব্দুর রাজ্জাক, অফিস সহকারী দারুস সুন্নত আলীয়া মাদ্রাসা, সরুপকাঠি ও
মো: সোলায়মান হোসেন বিশ্বাস, মো: জুলফিকার আলী


সেফ হাউজের ডকুমেন্ট বিষয়ে তথ্য প্রমান হাজির

মেহেদী হাসান, ১২/৬/২০১২, মঙ্গলবার
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, আমরা সেফ হাউজ বিষয়ে যেসব তথ্য প্রমান হাজির করেছি তারপর আর মাওলানা সাঈদীর বিচার চলতে পারেনা। সম্পূর্ণ  মিথ্যা দিয়ে সাজানো হয়েছে এ মামলা। প্রতারনা এবং জালিয়াতির  সুনামী হয়েছে এ মামলায়। তাই তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া উচিত। এ মামলা আর চালানো উচিত নয়। কারণ এ মামলার কোন ভিত্তি নেই। তদন্ত সংস্থার বিরুদ্ধে আমরা যে মিথ্যা এবং প্রতারনার প্রমান হাজির করেছি তারপর এ মামলা পরিচালনা করলে তা  বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় কালিমা লেপনের শামিল হবে।

মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে ১৫ সাক্ষী বিষয়ে রিভিউ আবেদনের শুনানীতে ব্যারিস্টার রাজ্জাক আজ ট্রাইব্যুনালে একথা বলেন।
ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, আমাদের যদি হাইকোর্টে যাবার সুযোগ থাকত তাহলে পাঁচ মিনিট শোনার পর হাইকোর্ট এ  মামলার সমস্ত কার্যক্রম স্থগিত করে দিত। ব্যারিস্টার রাজ্জাক ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হককে উদ্দেশ্য করে বলেন, আর যাই হোক আপনি অন্তন্ত এ  বিষয়ে আমার সাথে দ্বিমত করবনেনা। তখন বিচারপতি নিজামুল হক মুচকি  হাসেন।

দুই পক্ষের শুনানী শেষে  রিভিউ আবেবদেরন  আদেশ বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন, সিএভি  (কোর্ট এডজর্নড ফর ভারডিক্ট) । অর্থাৎ রায় না দেয়া পর্যন্ত এ বিষয়টি মুলতবি রাখা হল।

ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন সিএভি বেশি হয়ে যাচ্ছে।   ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক  বলেন, এ পর্যন্ত তিনটি সিএভি  হয়েছে। ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, সিএভি হলে  এ মামলার সব কার্যক্রম স্থগিত রাখা হোক  রায় না দেয়া পর্যন্ত। যে তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আমরা এতবড় মিথ্যা এবং প্রতারানার তথ্য প্রমান   দাখিল করলাম তার বিষয়ে ফয়সালা না  হওয়া পর্যন্ত এ মামলা কিভাবে চলতে পারে?
জবাবে ট্রাইব্যুনাল বলেন, রায়ের সময় আমরা সব বিবেচনা করব। কিন্তু  রায়ের জন্য মামলার কার্যক্রম স্থগিত থাকবেনা। মামলার কার্যক্রম চলবে।

মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে ১৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দী তাদের অনুপস্থিতিতে আদালত সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে গত ২৯ মার্চ রায় দেন। সে রায় পুনরায় বিবেচনার জন্য গত ৯ মে রিভিউ আবেদন দাখিল করেন মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী। গত ২২ মে এ বিষয়ে প্রথম শুনানী অনুষ্ঠিত হয়।  গত ৩রা জুন পুনরায় শুনানীর সময় আসামী পক্ষের আইনজীবীরা সেফ হাউজের (ঢাকায় যেখানে সাক্ষী  এনে রাখা হত)  সমস্ত কাগজপত্র ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে  বলেন, সাক্ষী হাজির করতে না পারা বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ যে

কারণ দেখিয়েছে তা সম্পূর্ণ  মিথ্যা। তারা কার্টে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আদালতকে প্রতারিত করেছেন।  অনেক সাক্ষী তাদের হেফাজতেই ছিল এবং সেফহাউজের এসব কাগজপত্রে তার প্রমান রয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ  হায়দার আলী এসময় বলেন, সেফ হাউজ বলতে আমাদের কিছু নেই। তারা সেফ হাউজের নামে যে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন এই রিপোর্ট আমাদের না। এটি তাদের প্রডাকশন। হতে পারে এটি তাদের প্রডাকশন।
আজ  ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক তথ্য প্রমান উপস্থাপন করে আদালতে প্রমান করেন যে, সেফ হাউজের নামে তারা যে ৬০০ পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট আদালতে দাখিল করেছেন তা সত্য।
সেফ হাউজের ডকুমেন্টকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের কর্তৃক অস্বীকার করা প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, এ বিচার রাজনৈতিক বিচার। সেজন্য তারা কোন সত্যের ধার ধারেননা। তাদের একটাই  লক্ষ্য। তারা চান তাকে দোষী সাব্যস্ত করে ঝুলিয়ে দিতে। সেজন্য তারা সবকিছুকে অস্বীকার করছে এককথায়।

ব্যারিস্টার রাজ্জাক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘জীবিত ও মৃত’ গল্পের  কাদম্বিনী চরিত্র উদাহরন পেশ করে বলেন, কাদম্বিনী মরিয়া প্রমান করেছিল যে, সে মরে নাই। আর   আজ যাকে মারার জন্য  সেফ  হাউজ বানানো হয়েছে  তিনি না মরে প্রমান করলেন  তাদের  সবই  মিথ্যা।

তারা (রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী) বলল  তিন জন সাক্ষী আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়ানোর কথা বলে চলে গেছে। তাদের খোঁজ  খবর তাদের কাছে নাই। । আমরা প্রমান দিলাম ঐ তিন সাক্ষী ঐ সময় পর্যন্ত  তাদের হেফাজতেই ছিল।
ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, সেফ হাউজে থাকা একজন সাক্ষীকে হুমকি দেয়া বিষয়ে যাত্রবাড়ি থানায় ডায়েরি করা হয়েছে ।   ডায়েরি নম্বর ৪৯১। সেফ হাউজে দায়িত্ব রত একজন পুলিশ মেজিস্ট্রেট কোর্টে সাক্ষ্য দিতে গেছে। সে তথ্যও লেখা রয়েছে সেফ হাউজেহর ডায়েরিতে।  কোন ফার্নিচার দোকান  থেকে আসববাপত্র কেনা হয়েছে তার টেলিফোন নম্বরও লেখা আছে। কয়টি কম্বল, জগ,   মগ, ভাতের চামচ, থালা  বাসন বালিশ কেনা হয়েছে তার সবই উল্লেখ আছে সেফ হাউজের ডায়েরিতে। গৌরাঙ্গ নামে একজন সাক্ষ্য ভাল সাক্ষ্য দেয়ায় মিস্টি খাওয়ানো  হয়েছে, সিগারেট কিনে দেয়া হয়েছে সে তথ্যও লেখা আছে। কোন দিন কোন সাক্ষী  এসেছে, কার সাথে কোন কোন মেহমান ছিল, কে কয়বেলা খেয়েছে, কাকে কখন চা আপ্যায়ন করা হয়েছে,  কাকে কোন হাসপাতালে নিয়ে রক্ত পরীক্ষা এবং অন্যান্য চিকিৎসা করা হয়েছে, কাকে কোনদিন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে, তার সাথে কোন কোন পুলিশ ছিল সবই ডায়েরিতে লেখা আছে। আমরা এসব ডডকুমেন্ট হাজির করেছি এবং তা যে সত্য তারও প্রমান দাখিল করেছি।
ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, এসব কি কোন মানুষের পক্ষে বানিয়ে লেখা সম্ভব? 

ব্যারিস্টার  আব্দুর রাজ্জাক তার বক্তব্য পেশ করার পর বেলা দুইটায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ হায়দার আলী  শুনানীতে অংশ নেন। সেফ হাউজের যেসব ডকুমেন্ট মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী কর্তৃক আদালতে দাখিল করা হয়েছে   তাকে তিনি একটি ষড়যন্ত্র হিসেবে  আখ্যায়িত করেন। ষড়যন্ত্রের পক্ষে প্রমান হিসেবে তিনি বলেন,  এ ডকুমেমেন্টর ওপর ভিত্তি করে ওনারা ১৫ সাক্ষী বিষয়ক রায় বাতিলের  আবেদন করেছেন। সবশেষে তারা আসামীকে মামলা থেকে অব্যাহতির  দাবি জানিয়েছেন।
সেফ হাউজের ডকুমেন্টকে তিনি জাল টাকার সাথে তুলনা করে বলেন, জাল টাকা দেখতে খুব সুন্দর। এটা জালা হতে পারে। আমার সাবমিশন হল এটা  জাল।
তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রের কাল হাত কতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে তা এ থেকে বোঝা যায়।

তিনি ব্যারিস্টার রাজ্জাকের  উপস্থাপনা বিষয়ে বলেন,   ভাল ইপস্থাপন করলেই তা  বিশ্বাসযোগ্য  হবার কোন কারণ নেই।
সেফ হাউজের ডায়েরি তথ্য অস্বীকার করায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের লক্ষ্য করে বিচারপতি  এ কে এম  জহির আহমেদ বলেন  আপনাদের সাক্ষী হাউজ কি তাহলে লিল্লাহ বোর্ডিং? খাওয়াচ্ছেন দাওয়াচ্ছেন কোন রেকর্ড রাখা হয়না সেখানে?
বিচারপতি জহির আহমেদ সৈয়দ হায়দার আলীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি বলতে চাচ্ছেন  কালাচাঁদ মেজিস্ট্রেট কোর্টে সাক্ষ্য দিয়েছিল সেটা ওনারা জেনে তারপর তার নামে এ    ডায়েরি তৈরি করেছেন?
টেলিফোন নম্বর বিষয়ে তিনি বলেন, তদন্ত সংস্থা কি এই টেলিফোন নম্বর স্বীকার করেনা?
সেফ হাউজের নাম  নিয়ে বিতর্কের এক পর্যায়ে বিচারপতি  জহির আহমেদ  বলেন, নাম যাই বলেন, গোলাপ গোলাপই।
বিচারপতি একেএম জহির আহমেদ বলেন, সেফ হাউজের রেকড, এখানে সাক্ষীদের সাক্ষ্যের রেকর্ড এবং পত্রিকার  রেকর্ডের মধ্যে মিল রয়েছে। তাহলে এগুলো অস্বীকার করব কিভাবে? 

ব্যারিস্টার রাজ্জাক ট্রাইব্যুনালে বলেন, আমরা যে ডকুমেন্ট দাখিল করেছি তা যে সত্য তার পক্ষে আমরা কয়েকটি প্রমান হাজির করতে চাই।
প্রথমত  টেলিফোন বিল। সাধারন ডাইরিতে   তিনটি টেলিফোন নম্বর লেখা রয়েছে সেফ হাউজের। এগুলো হল ৭৫৪৭৮০৭, ৭৫৪৭৮০৪, ৭৫৪৭৮১০।  ২০১১ সালে নভেম্বর মাসে  উক্ত তিনটি টেফিফোন নম্বরের পাশে বিল উল্লেখ করা আছে যথাক্রমে ৪৯১২ টাকা, ৪১১৪ টাকা এবং ৪১৬৮ টাকা। এরপর লেখা রয়েছে-“টেলিফোন বিল আইসিটি হেড অফিস বরাবর প্রেরন করা হইল” ।
ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, আমরা বিটিসিএল থেকে এ তিনটি নম্বরের বিপরীতে  বিলপত্র সংগ্রহ করেছি। 
বিটিসিএলের টেলিফোন বিলে  ঠিকানা উল্লেখ আছে ৬৪৫, অতীশ দিপঙ্কর রোড, পুলিশ টাওয়ার বিল্ডিং, গোলাপবাগ, ঢাকা। ।  বিলে ইংরেজিতে  নাম  হিসেবে উল্লেখ আছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ।

ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, সেফ হাউজের  ঠিকানায়ও উল্লেখ আছে ৬৪৫, অতীশ দিপঙ্কর রোড, পুলিশ টাওয়ার বিল্ডিং, গোলাপবাগ, ঢাকা।   এই একটি ঘটনাই যথেষ্ট  এটা প্রমানের জন্য যে, সমস্ত ডকুমেন্ট সত্য।
দ্বিতীয় প্রমান হিসেবে ব্যাস্টিার রাজ্জাক বলেন, সেফ হাউজে দায়িত্বরত এসআই কাল চাঁদ ঘোষ চকবাজার থানার মামলা নম্বর ৪১ (০১)১০ জিআর ১০২/১০ ইং তারিখ ১২-০১-১২ মূলে সাক্ষ্য প্রদান করার জন্য সিএমএম কোর্ট নম্বর ৩১-ঢাকা এর উদ্দেশ্যে রওনা দেয় লেখা আছে।
ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, কালাচাঁদ যে  কোর্টে সাক্ষ্য দিতে গেল তা আমাদের পক্ষে জানা কেমন করে সম্ভব? আপনারা প্রয়োজনে ঐদিন মেজিস্ট্রেট কোর্টের কাগজপত্র তলব করেন। তাহলেই সত্যতা বের হয়ে যাবে।  তিনি বলেন,  কালা চাঁদকে কোর্টে হাজির করা হোক। আমরা তাকে জেরা করব।

১৬ জানুয়ারির আরেকটি ডায়েরি নোট আদালতে  পড়ে শোনান ব্যারিস্টার রাজ্জাক। এখানে উল্লেখ আছে “পার্শ্বলিখিত সময় আসিটির প্রধান সমন্বয়ক অত্র সেইফ হাউজের নতুন স্বাক্ষী মধু সুদন ঘরামী এসেছে কিনা এমন কেমন আছেন জানতে চায, তৎসঙ্গে তিনি আরো বলেন স্বাক্ষী গৌরাঙ্গ সাহার স্বাক্ষ্য খুব ভাল হয়েছে। টেলিফোনে আলোচনার সময়ে স্বাক্ষী গৌরাঙ্গ মিষ্টি খাওয়ার দাবী করে। বিষয়টি  ওএ স্যারকে জানালে তিনি বলেন, তাকে অর্থ্যাৎ গৌরাঙ্গকে মিষ্টি সহ পাঞ্জাবী পায়জামা দিয়ে দাও। তিনি আরো বলেন, যদি আরো কিছু চায় তবে আমি যেন সাধ্য মতো প্রদান করি। বিষয়টি সম্পর্কে  ওএ সানাউল্লাহ

স্যারকে জানালে তিনি একই আদেশ প্রদান করেন। সিনিয়র দুই ¯্রারের আদেশে স্বাক্ষী গৌরাঙ্গ সঙ্গে বাদী মাহবুবুল আলম হাওলাদার ও অপর স্বাক্ষী মো: আব্দুল হালিম বাবুলকে অত্র সেইফ হাউজের সন্নিকটে বিক্রমপুর মিষ্টান্ন ভান্ডার হইতে দুইশত পঞ্চার টাকার মিষ্টি, সিগারেট, ঔষধ, প্রসাধনী সহ মোট ৫০০/= টাকা ব্যয় করা হইল। বিষয়টি ভবিষ্যতের জন্য ডাইরী ভুক্ত করে রাখা হল” ।

৮/১২/২০১১ তারিখের একটি নোট : অত্র সেইফ হাউজে তদন্ত সংস্থা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কমপ্লেন্ট রেজিষ্টার ক্রমিক নং ০২ তাং ২১/০৭/২০১১ ইং এর মামলার স্বাক্ষী জনাব মাহাবুবুল আলম হাওলাদার সেইফ হাউজে অবস্থানরত আছে। তিনি জনান যে, গত ইং ০৭/১২/২০১১ইং ট্র্রাইব্যুনালে স্বাক্ষী দেওয়ার পর অদ্য ০৮/১২/২০১১ ইং সন্ধ্যা ০৬.১৪ মিনিটের সময় ফেরাউন পরিচয় ধারী অজ্ঞাত ব্যক্তি তাহার মোবা: নং- ১৯৪৪-২১৪৩৫৪ থেকে তাহাকে প্রাণ নাসের হুমকি সহ তাহার বাড়ী ঘর আগুন দিয়ে জ্বলাইয়া দেওয়া সহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করিলে উক্ত বিষয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জানান। যেহেতু ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে বিচার কার্য চলিতেছে এই মুহুর্তে এই ধরনের হুমকি মূলক কার্য স্বাক্ষী উপস্থিতি, স্বাক্ষী গ্রহন ও আগমনে বাধা সৃষ্টির বিদ্যমান। সেহেতু উক্ত ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট আলোচনা করিয়া এবং মোবাইল নম্বর পর্যালোচনা করিয়া বিষয়টি যেহেতু অতি গুরুত্বপূর্ন সেহেতু উক্ত ব্যাপারে ডাইরী ভূক্ত করার জন্য অফিসার ইনচার্জ যাত্রাবাড়ী থানা বরাবরে এস,আই, আব্দুল্লাহ্ আল বাকী এর মাধ্যেমে সাধারন ডাইরী করার জন্য প্রেরণ করি। এবং উক্ত বিষয় যাত্রাবাড়ী থানার সাধারন ডাইরী নাম্বার ৪৯২ তাং-০৮/১২/২০১১ ইং মূলে ডাইরী ভূক্ত করা হয়েছে। ঘটনাটি অভিযোগে বিস্তারিত লিপিবদ্ধ আছে।

ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন,  আমাদের পক্ষে কিভাবে জানা সম্ভব যে, এভাবে থানায়  জিডি করা হয়েছে?

এসব তথ্য প্রমান উপস্থাপনের সময় ট্রাইব্যুনাল ব্যারিস্টার রাজ্জাকের কাছে জানতে চান এসব তথ্য সত্য হলে কি হবে বলেন।
ব্যারিস্টার রাজ্জাক  বলেন, আমাদের আবেদন শুধু ১৫ সাক্ষীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবেনা। আমরা মাওলানা সাঈদীকে পুরো মামলা থেকে অব্যহতি চাচ্ছি।

এসময় ট্রাইব্যুনাল  বলেন,   আপনাদের দাবি হল ১৫ সাক্ষী বিষয়ে প্রসিকিউশন মিথ্যা তথ্য দিয়েছে। কিন্তু ঐ ১৫ জন সাক্ষী ছাড়া যে, ১৬ জনের জবানবন্দী কোর্টে নেয়া হয়েছে এবং জেরা হয়েছে তাদের সাক্ষ্য  কিভাবে বাতিল করা যাবে?
ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, যারা ১৫ জন সাক্ষী বিষয়ে এভাবে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন আদালতে তাদের অন্য বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্যতা কি? মাওলানা সাঈদীর মামলা তারা সম্পূর্ণ মিথ্যা দিয়ে সাজিয়েছে।  এ মামলা সম্পূর্ণ মিথ্যার ওপর দাগিয়ে আছে। এ মামলার কোন ভিত্তি নেই।

ট্রাইব্যুনালের অপর বিচারপতি আনোয়ারুল হক বলেন, চার্জ গঠনের পর সিচার্জ করার কোন সুযোগ নেই। হয় দোষী না হয় খালাস পাবেন  বিচারে। জবাবে ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, এখানে সিআরপিসি কার্যকর নেই। এটা বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ।  কাজেই চার্জ গঠনের পর  তা বাতিল করা যাবেনা তা কোথাও বলা নেই।


সেফহাউজের ডকুমেন্ট সত্যতা যাচাইয়ে ক্যামেরা সেসন ট্রাইব্যুনালে

মেহেদী হাসান, ৭/৬/২০১২, বৃহষ্পতিবার,
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আইনজীবীদের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে সেফ হাউজের যে ডকুমেন্ট জমা দেয়া হয়েছে  তার সত্যতা যাচাইয়ে ট্রাইব্যুনাল-১ ক্যামেরা সেসন হয়েছে।  ওপেন  কোর্টে এ বিষয়ে শুনানী অনুষ্ঠিত হয়নি।   বিচারপতির  চেম্বারে এ বিষয়ে শুনানী অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিচারপতির চেম্বারে এ বিষয়ে কি কথাবার্তা হয়েছে তা গণমাধ্যমে  প্রকাশ সম্পূর্ণরুপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আজ   সকাল  সোয়া ১১টার দিকে  ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক  বলেন,  আমরা ওনাদের (সেফ হাউজের দায়িত্ব পালনকারী সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা এবং  অন্যান্য পুলিশ কনস্টেবল) ডেকেছি ডকুমেন্ট  এর ব্যাপারে আমারা সন্তুষ্ট হবার জন্য। আমারা এখন চেম্বারে বসব। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে চিফ প্রসিকিউটর এবং অপর আরেকজন প্রসিকিউটর চেম্বারে আসবেন। আসামী পক্ষ থেকে ব্যারিস্টার  আব্দুর রাজ্জাক এবং তিনি আরেকজন আইনজীবী নিয়ে চেম্বারে আসবেন এখন।  এরপর সেফ হাউজের যাদের ডাকার  প্রয়োজন তাদের ডাকব।
এরপর তিনি বলেন, দিস ইজ ক্যামেরা সেসন। ওপেন কোর্টে যা বলা হবেনা তার বাইরে কোন কিছু মিডিয়ায় প্রকাশ করা যাবেনা। চেম্বারের কোন কিছু মিডিয়াল লেখা যাবেনা। 
এরপর সোয়া ১১টায়  চেম্বারে ক্যামেরা সেশন শুরু হয়। টানা সোয়া একটা পর্যন্ত চলে।  ক্যামেরা সেসন শেষে আইনজীবীরা সাংবাদিকদের জানান চেম্বারে বসে কি কথা বর্তাা হয়েছে তা প্রকাশ করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আছে।
রাষ্ট্রপক্ষের চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপুর সাথে  প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী এবং আসামী পক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের সাথে  এ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম চেম্বারে ক্যামেরা সেসনে যোগ দেন।

চেম্বারে তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক হান্নান খান এবং  সেফ হাউজের পুলিশ ইনচার্জসহ আরো দুই তিনজনকে প্রবেশ করতে দেখা গেছে।

মিথ্যার প্রলয় শুরু হয়েছে-ব্যারিস্টার রাজ্জাক
চেম্বারে ক্যামেরা সেসন এবং দুপুরের বিরতির পর সোয়া দুইটার দিকে কোর্ট বসে।  এসময় ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক কোর্টে বলেন, আমরা কোর্টে ৬০০ পৃষ্ঠার যে ডকুমেন্ট  জমা দিয়েছি তার প্রত্যেকটি তথ্য,  প্রত্যেকটি শব্দ সত্য। এরপর  ১৫ সাক্ষী বিষয়ক রিভিউ আবেদনের শুনানী আগামী সোমবার পুনরায় নির্ধারন করা হয়।

ট্রাইব্যুনাল থেকে  বের হয়ে ব্যারিস্টার  আব্দুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের বলেন, আমরা আজ ট্রাইব্যুনালে তিনটি দরখাস্ত  দিয়েছে । তাতে চারটি বিষয় রয়েছে। দুটি দরখাস্ত ট্রাইব্যুনাল গ্রহণ করেছেন। একটির বিষয়ে বলেছেন এটি আমাদের হাতে রাখতে। প্রয়োজন হলে তারা নেবেন।
ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, একটি দরখাস্ত করা হয়েছে তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রতারানার  দায়ে আদালত অবমাননার অভিযোগ  এনে।  তদন্ত সংস্থার সব কিছু মিথ্যার ওপর দাড়িয়ে আছে। মিথ্যার প্রলয় শুরু হয়েছে এবং তা ধরা পড়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আদালতকে   প্রতারিত করেছেন এবং    আদালতা অবমাননা করেছেন। তাই তার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল আইনের ১১ (এ) ধারায় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আবেদন জানানো হয়েছে।
অপর আরেকটি আবেদন বিষয়ে ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, মাওলানা সাঈদীকে মামলা থেকে অব্যাহতির আবদেন জানানো হয়েছে।  তদন্ত সংস্থার তথ্য যদি আমরা মিথ্যা প্রমান করতে পারি তাহলে মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে আর এ মামলা চলতে পারেনা। এ মামলা চালাতে হলে সম্পূর্ণ নতুন ভাবে তদন্ত করতে হবে।
তবে এ আবেদনটি ট্রাইব্যুনাল গ্রহণ না করে বলেছেন আমাদের হাতে রাখতে। ট্রাইব্যুনাল বলেছেন এর প্রয়োজন নাও  হতে পারে।
অপর আবেদন বিষয়ে ব্যারিস্টার রাজ্জাক  বলেন, সেফ হাউজের কিছু রেকর্ড  তলবের আবেদন জানানো হয়েছে। সেফ হাউজে দায়িত্বরত কয়েকজন পুলিশ বিষয়ে আমরা বলেছি তাদের বিষয়ে বিভিন্ন রেকর্ড তলবের জন্য। যেমন একজন পুলিশ বিষয়ে ডায়েরিতে উল্লেখ আছে তিনি  একদিন জজকোর্টে গেছেন একটি মামলায় সাক্ষ্য দিতে। তিনি জজকোর্টে সাক্ষ্য দিতে গেছেন কিনা তার প্রমান তো  জজকোর্টে রয়ে গেছে। কাজেই  জজকোটের তথ্য তলব করলেই তো বের হয়ে আসবে ঘটনা। তিনি কোনদিন সাক্ষ্য দিতে গেছেন কিনা তা তো আমাদের জানার কথা নয়। ডায়েরিতে উল্লেখ আছে। আমরা তার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য বলেছি।
ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমরা যে ডকুমেন্ট জমা দিয়েছি তার সত্যতা প্রমানের জন্য আমরা এক পায়ে দাড়িয়ে আছি। আগামী সোমবার এ বিষয়ে পুনরায় শুনানী হবে। সেদিনও আমরা প্রমান দেব।

এর আগে  ট্রইব্যুনালের নির্দেশে সেফ হাউজ বা সাক্ষী হাউজে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা এবং অন্যান্য কনস্টেবল হাজির  হন। সকাল সাড়ে দশটায় ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হয়।  অধ্যাপক গোলাম আযমের চার্জফ্রেম অর্ডার রিভিউ আবেদনের  বিপক্ষে  রাষ্ট্রপক্ষের  আইনজীবী জেয়াদ আল মালুম যুক্তি উপস্থাপনের পর মাওলানা সাঈদীর মামলা শুরু হয় সকাল সোয়া ১১টা ১০ মিনিটের দিকে। এরপর সোয়া ১১টায় ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিরা  এজলাস ছেড়ে চেম্বারে যান  ক্যামেরা সেসনের জন্য ডকুমেন্ট বিষয়ে সত্যতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে।
মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে ১৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দী তাদের অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহনের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করা হয়েছিল মাওলানা সাঈদীর আইনজীবীদের পক্ষ থেকে। গত ২২ মে এ বিষয়ে প্রথম শুনানী অনুষ্ঠিত হয়।  গত ৩রা জুন পুনরায় শুনানীর সময় আসামী পক্ষের আইনজীবীরা সেফ হাউজের (ঢাকায় যেখানে সাক্ষী  এনে রাখা হত)  সমস্ত কাগজপত্র ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে  বলেন, সাক্ষী হাজির করতে না পারা বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ যে কারণ দেখিয়েছে তা সম্পূর্ণ  মিথ্যা। তারা কার্টে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আদালতকে প্রতারিত করেছেন।  অনেক সাক্ষী তাদের হেফাজতেই ছিল এবং সেফহাউজের এসব কাগজপত্রে তার প্রমান রয়েছে।  কোন সাক্ষী কবে ঢাকায় আসে,  কতদিন সেফ হাউজে ছিল, কয়বেলা খাবার খেয়েছেন, কোন কোন পুলিশ  ইন্সপেক্ট, সাব-ইন্সপেক্টর এবং কনস্টেবল কোনদিন সেখানে দায়িত্ব পালন করেছেন তার সমস্ত কাগজপত্র আসামী পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ  হায়দার আলী এসময় বলেন, সেফ হাউজ বলতে আমাদের কিছু নেই। তারা সেফ হাউজের নামে যে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন এই রিপোর্ট আমাদের না। এটি তাদের প্রডাকশন। হতে পারে এটি তাদের প্রডাকশন।

সৈয়দ হায়দার আলী সেফ হাউজের কথা অস্বীকার করার আগে ঐদিন   ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক  আসামী পক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের কাছে জানতে চান সেফ হাউজটি কোথায়। তখন  ব্যারিস্টার রাজ্জাক ৬৪৫, অতীশ দিপঙ্কর রোড, পুলিশ টাওয়ার বির্ল্ডি, গোলাপবাগ ঢাকা পড়ে শোনান। এরপর  এ ঠিকানা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় বিচারপতি নিজামুল হক তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনের কাছে সেফ হাউজের ঠিকানা দাবি করেন। বিচারপতি নিজামুল হক সেফ হাউজের দায়িত্বরত  প্রত্যেক ব্যক্তিবর্গ এবং নথিপত্র তলব করেন।   আজ  বৃহষ্পতিবার তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনকে ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন।   নির্দেশ অনুযায়ী তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক হান্নান খান, দুজন পুলিশ ইন্সপেক্টর, দুজন সাব ইন্সপেক্টর এবং পুলিশ কনস্টেবলসহ মোট ১১ জন হাজির হন । তবে তাদের ওপেন কোর্টে আনা হয়নি এবং ডকুমেন্ট বিষয়ে ওপেন কোর্টে শুনানীও হয়নি  গতকাল।

এ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার, নজরুল ইসলাম, ব্যারিস্টার  তানভির আহমেদ আল আমিন, ব্যারিস্টার মুন্সি আহসান কবির, ব্যারিস্টার এমরান সিদ্দিক, ব্যারিস্টার এহসান সিদ্দিক, শিশির মোহাম্মদ মনির, শাহজাহান কবির, আবু বকর সিদ্দিক প্রমুখ আইনজীবী গতকাল উপস্থিত ছিলেন আসামী পক্ষে।
রাষ্ট্রপক্ষে  রানাদাস গুপ্ত, জেয়াদ আল মালুম, নূর জাহান বেগম মুক্তা প্রমুখ আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন অন্যান্যের মধ্যে।

সেফ হাউজের দায়িত্বরত সকল ব্যক্তিবর্গ নথিপত্র তলব ট্রাইব্যুনালে

মেহেদী হাসান, ৩/৬/১২, রোববার
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষীদের ঢাকা এনে রাখা হয় যেখানে সেই সেফ হাউজ বা সাক্ষী হাউজের সমস্ত  নথিপত্র এবং দায়িত্বরত সকল ব্যক্তিবর্গকে ট্রাবইব্যুনালে  তলব করা হয়েছে।  আগামী ৭ জুন তাদের ট্র্াই্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে। ১৯৭১ সালে মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারের লক্ষ্যে গঠিত ট্রাইবু্যুনাল -১ আজ  এ আদেশ দেন।

মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আইনজীবীদের পক্ষ থেকে সেফ হাউজে সাক্ষীদের  অবস্থান সম্পর্কিত   মোট পাঁচশত ৫০ পৃষ্ঠার তিনটি ডাইরি গতকাল ট্রাইব্যুনালে জমা দেয়ায় ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দিলেন।

১৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দী তাদের অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহনের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করা হয়েছিল মাওলানা সাঈদীর আইনজীবীদের পক্ষ থেকে। গতকাল এ বিষয়ে দ্বিতীয় দফা শুনানীর জন্য  ধার্য ছিল।

শুনানীর শুরুতে আসামী পক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার  আব্দুর রাজ্জাক  সেফ হাউজের পাঁচশত পৃষ্ঠার  তিনটি ডাইরি ডকুমেন্ট আকারে দাখিল করেন ট্রাইব্যুনালে। ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের পক্ষ থেকে লিখিত জবাবে বলা হয়েছে এ জাতীয় কোন সেফ হাউজ তাদের নেই এবং এ ধরনের কোন ডাইরিও সেখানে মেনটেন করা হয়না। কিন্তু আমরা দেখাচ্ছি যে, সেফ হাউজ আছে এবং সেখানে ডাইরি মেনটেন করা হয়। কোন সাক্ষী কবে আসেন, কবে ফেরত যান, কয়বেলা খাবার খান, সেখানে কারা দায়িত্ব পালন করেন তার সব বিবরন এ ডাইরিতে আছে।  এমনকি কোন কোন সাক্ষীকে প্রসিকিউশনের রুমে পর্যন্ত আনা হয়েছিল।
ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, তিনটি ডাইরি রয়েছে আমাদের ডকুমেন্টে। একটি সাধারন ডাইরি, একটি হাজিরা ডাইরি এবং একটি খাবার সংক্রান্ত ডাইরি। ওনারা বলছেন খাবার বিষয়েও কোন  ডাইরি নেই। আমরা বলছি আছে। আপনাদের সামনে তা জমা দিয়েছি।  আব্দুল লতিফ নামে একজন সাক্ষী সম্পর্কে তারা বলছেন কোনদিন সে ঢাকায় আসেননি। কিন্তু আমরা দেখাচ্ছি, ডাইরিতে উল্লেখ আছে  সে ঢাকায় এসেছিল।
কোন সাক্ষী কবে আসেন, কবে যান, তাদের সবকিছুর বিবরন এখানে আছে। তারা বলছেন এ জাতীয় কিছুর অস্তিত্ব নেই। আমরা বলছি আছে। এসব ডকুমেন্ট এখন ফেসবুক ইউটিউবে পাওয়া যাচ্ছে।
এসব ডকুমেন্ট জমা দেয়ার পর ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাড়াচাড়া করে দেখেন। এরপর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের প্রতি লক্ষ্য করে বলেন, ইউ হ্যাভ রিসিভড রিপলাই নাউ।
এরপর বিচারপতি নিজামুল হক সেফ হাউজের ঠিকানা পড়ে বোঝার চেষ্টা করেন এটির অবস্থান কোথায়। এপর তিনি প্রশ্ন করেন,  আমারা সাক্ষীদের নিরাপত্তার  জন্য এবং থাকার  যে সেফ হাউজের অনুমতি দিয়েছি এটা কি সেই সেফ হাউজ?
ব্যারিস্টার  আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এ সেফ হাউজটি  গোলাপবাগে অবস্থিত।

গোলাপবাগ  কোথায় কোন থানায় অবস্থিত এ নিয়ে কথাবার্তা চলার এক পর্যায়ে বিচারপতি নিজামুল হক তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনকে বেশ ক্ষোভের সাথে বলেন, মি. আইও, গিভ আজ দি এডড্রেস অব সেফহাউজ। হু অয়ার ইন চার্জ? গিভ আজ এভরি পার্টিকুলার অব এভরিওয়ান হু অয়ার ইন রেসপনসিবল অব দি হাউজ।  (মি. তদন্ত কর্মকর্তা. সেফহাউজের ঠিকানা দেন আমাদের। সেখানকার  ইনচার্জ কে? কারা কারা সেখানে দায়িত্ব পালন করেছেন তাদের সবার সম্পর্কে সবকিছু আমাদের জানান। )
এরপর বিচারপতি নিজামুল হক ক্ষোভের সাথে বলেন বিচার পরে করব । আগে এটা দেখে নেই।
এরপর বিচারপতি নিজামুল হক বেঞ্চ অফিসারকে ডেকে অর্ডার ডিকটেট করেন।
আদেশে তিনি বলেন, সেফহাউজের ইনচার্জসহ সেখানে যারা দায়িত্ব পালন করেছেন তাদের সবাইকে আগামী ৭ জুন ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে হবে। সেফহাউজের সমস্ত নথিপত্রও দাখিল করতে হবে। আসামী পক্ষ থেকে সেফ হাউজের যে ডকুমেন্ট দাখিল করা হয়েছে সে বিষয়ে  জবাব দিতে হবে। তিনি তদন্ত কর্মকর্তার প্রতি নির্দেশ দিয়ে বলেন, আপনি তাদের হাজির হওয়া বিষয়ে জানাবেন এবং তাদের হাজির করার বিষয়ে  ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।  এ বিষয়ে আর কোন লিখিত নোটিশ প্রদান করা  হবেনা।
এসময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ হায়দার আলী বলেন, সেফ হাউজ বলতে আমাদের কিছু নেই। তারা সেফ হাউজের নামে যে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন এই রিপোর্ট আমাদের না। এটি তাদের প্রডাকশন। হতে পারে এটি তাদের প্রডাকশন। তিনি সেফ হাউজের বদলে  উইটনেস হাউজ বা সাক্ষী হাউজ লেখার দাবি জানান।

আদেশ শেষে ব্যারিস্টার  আব্দুর রাজ্জাক  সাংবাদিকদের বলেন, তারা বলছেন সেফ হাউজ, ডাইরি এসব কিছু নেই। এটা মিথ্যা এবং প্রতারনার শামিল। আমরা আদালতে সেফ হাউজ বিষয়ে ডকুমেন্ট দাখিল করে দেখিয়েছি এসব ছিল।

গত ২০ মার্চ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের পক্ষ থেকে মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে  ৪৬ জন  সাক্ষীর একটি তালিকা দিয়ে আদালতে দরখাস্ত করে বলা হয় এদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা আদৌ সম্ভব নয়। তাই তারা তদন্ত কর্মকর্তার কাছে যে জবানবন্দী দিয়েছেন তা তাদের অনুপস্থিতিতে  সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহন করার আবেদন করা হয়।
১৫ জন জন সাক্ষীর  জবানবন্দী সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেন  করে ২৯ মার্চ আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের  পক্ষ থেকে  ২০ মার্চ  দাখিল করা আবেদনে সাক্ষী কেন আদৌ  করা সম্ভব নয় তার কারণও উল্লেখ করা হয় ।   পাঁচজন সাক্ষী  হাজির করতে না পারা বিষয়ে বলা হয়েছে তারা নিখোঁজ।  ১৪জন সম্পর্কে  উল্লেখ করা হয় তাদের  খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। নিখেঁাঁজ  পাঁচ জনের তিনজন সম্পর্কে উল্লেখ করা হয় তারা গোপনে  ভারতে পালিয়ে গেছে । একজন সম্পর্কে বলা  হয় তার স্মৃতিশক্তি লোপ পেয়েছে, ভ্রমনে মুত্যৃর ঝুকি রয়েছে।  নিখোঁজ  কয়েকজনস সাক্ষী সম্পর্কে বলা হয় মাওলানা সাঈদীর পক্ষের সন্ত্রাসীদের ভয়ে  তারা বাড়িছাড়া।

২৯ মার্চ ট্রাইব্যুনাল  যে ১৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দী তাদের অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে আদেশ দেন সে আদেশ পুনবিবেচনার আবেদন করেন মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী।   আবেদনে বলা হয় সাক্ষী হাজির করতে না পারা বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে যে কারণ উল্লেখ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানানো গল্প। এসব সাক্ষীরা মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে রাজী না হওয়ায় তাদেরকে আদালতে হাজির করেনি প্রসিকিউশন।  সাক্ষীদের অনেকে তাদেরই হেফাজতে সেফ হাউজে ছিল ।

গত ২২ মে ১৫ জন সাক্ষী বিষয়ে পুনবিবেচনা আবেদনের ওপর প্রথম  শুনানী হয় ।  হাজির করা সম্ভব নয় বলে  বর্নিত ৪৬ জন সাক্ষীদের অনেকেই যে  রাষ্ট্রপক্ষের হেফজতে ছিল সে বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য প্রমান আদালতে হাজির করেন মাওলানা সাঈদীর আইনজীবীরা। তিনজন সাক্ষীর ভিডিও দেখানো হয় ঐদিন আদালতে  । অন্য অনেকের বিষয়ে  আদালতে তথ্য প্রমান দাখিল করে  সাক্ষীদের নাম ধরে ধরে

বলা হয় তাদের মধ্যে কে কবে সেফ হাউজে আসেন, কবে বাড়িতে যান, কে কয়বেলা খাবার গ্রহণ করেন। কাকে  কবে সেফ হাউজ থেকে প্রসিকিউশনের রুমে পর্যন্ত আনা হয়েছিল তাও  উল্লেখ করা হয়।  ৩ জন সাক্ষী  সম্পর্কে  দিন তারিখ উল্লেখ করে বলা হয় তারা দুই দফায়  ৪৭ দিন পর্যন্ত সেফ হাউজে ছিল রাষ্ট্রপক্ষের  আইনজীবীদের হেফাজতে। অন্য অনেক সাক্ষী সম্পর্কে তথ্য প্রমান উপস্থাপন করে বলা হয় তারা কেউ কেউ   বাড়িতে আছেন, স্বাভাবিক কাজ কর্ম করছেন।

১৫ সাক্ষী বিষয়ে রিভিউ আবেদনের ওপর গত ২২ মে শুনানীর পর আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের কাছে জানতে চান তারা এ  অভিযোগের বিরুদ্ধে কোন লিখিত জবাব দেবেন কিনা। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ হায়দার আলীর সম্মতিতে লিখিত জবাব দেয়ার জন্য সময় দেয়া হয় তাদের। তারা জবাব দাখিল করার পর গতকাল এ বিষয়ে শুনানীর জন্য ধার্য্য ছিল।

দুই সাক্ষীকে পুনরায় জেরার অনুমতি: মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে দুজন সাক্ষীকে পুনরায় জেরার অনুমতি দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এরা হলেন মামলার বাদী মাহবুবুল আলম হাওলাদার এবং অপর সাক্ষী মানিক পসারী। মাওলানা সাঈদীর পক্ষ থেকে মোট তিনজন সাক্ষীকে পুনরায় জেরা করার আবেদন জানানো হয়। অপরজন ছিলেন রুহুল আমিন নবীন। তবে তাকে পুনরায় ঢাকা  এনে হাজির করার অনুমতি দেয়া হয়নি।

কেন সাক্ষীকে পুনরায় জেরা করার আবেদন করা হয়েছিল এ বিষয়ে মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী তাজুল ইসলাম বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা  এমন কিছু বিষয় আদালতে প্রদর্শন করেছেন  যা ঐসব সাক্ষীদের জবানবন্দীতে ছিলনা। সে বিষয়ে ন্যায় বিচারের সার্থে তাদের জেরা করা দরকার।   পুনরায় জেরার অনুমতি দেয়া হয়নি রুহুল আমিন নবীন সম্পর্কে  তাজুল ইসলাম বলেন, তিনি বলেছিলেন তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় অনার্স। আমরা ডকুমেন্ট সংগ্রহ করেছি যে, তিনি পরীক্ষায়  বহিষ্কার হয়েছিলেন এবং  অনার্স পাশ করেননি।

দুজন সাক্ষীকে ঢাকা এনে পুনরায় জেরা করা বিষয়ে তাদের জন্য  মোট পাঁচ হাজার টাকা খরচ বাবদ ট্রাইব্যুনালে জমা দেয়ার জন্য আসামী পক্ষকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। আগামী ১৫ জুনের মধ্যে দুজন সাক্ষীকে  হাজির করতে বলা হয়েছে।
বিচারপতি একেএম জহির আহমেদ আজ  এ বিষয়ে আদেশ দেন। এসময়  চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক ছাড়া অপর বিচারপতি আনোয়ারুল হক উপস্থিত ছিলেন।
ব্যারিস্টার  আব্দুর রাজ্জাক, তাজুল ইসলাম ছাড়াও  মাওলানা সাঈদীর পক্ষে  উপস্থিত ছিলেন মিজানুল ইসলাম, মনজুর  আহমেদ আনছারী, ব্যারিস্টার তানভীর  আল আমিন, ব্যারিস্টার এমারন সিদ্দিক, ব্যারিস্টার এহসান সিদ্দিক, শিশির মনির প্রমুখ আইনজীবী।



“১৫ সাক্ষী বিষয়ে অভিযোগের জবাব দিতে ব্যর্থ প্রসিকিউশন”

মেহেদী হাসান, ২৩/৫/২০১২, বুধবার
মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক জামায়াত নেতাদের পক্ষে প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ১৫ সাক্ষীর বিষয়ে আমরা যে অভিযোগ করেছি  তদন্ত কর্মকর্তা  এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের বিরুদ্ধে তার জবাব দিতে ব্যর্থ হয়েছেন প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীবৃন্দ) ।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ হায়দার আলী  উষারানী মালাকার নামে এক সাক্ষীর ব্যাপারে আজ স্বীকার করেছেন  যে, প্রয়োজন হলে তিনি এসে কোর্টে সাক্ষ্য দেবেন।
এ থেকে প্রমান হয় যে, সাক্ষী হাজির করা সম্ভব নয় বলে তারা যে কারণ দেখিয়েছেন তা সম্পূর্ন মিথ্যা ছিল। তাদের বিরুদ্ধে আমরা যে অভিযোগ করেছি  তা  সত্য। সাক্ষীরা আসতে চায় কিন্তু তাদের আনা হচ্ছেনা কারণ তারা  মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে রাজি  হচ্ছেননা। 

গত ২৯ মার্চ মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য তাদের অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেন মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারের লক্ষ্যে  ট্রাইব্যুনাল-১।  এ আদেশ বিষয়ে  ডিফেন্স টিমের (আসামী পক্ষের আইনজীবীবৃন্দ)  পক্ষ থেকে রিভিউি পিটিশন দায়ের করা হয়। গত মঙ্গলবার  এ বিষয়ে  ডিফেন্স টিমের পক্ষ থেকে বক্তব্য পেশ করা হয় ট্রাইব্যুনালে। গতকাল  রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের জবাব দেয়ার জন্য নির্ধারিত ছিল এবং  প্রসিকিউটর (রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ) সৈয়দ হায়দার  আলী সকালে মৌখিক জবাব দিয়েছেন।

গতকালের  শুনানী শেষে ট্রাইব্যুনালের সামনে সাংবাদিকদের ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন,  দুই সপ্তাহ আগে আমরা আবেদন জমা দিয়েছি। কিন্তু আজো (বুধবার) তারা এর কোন জবাব দেয়নি। তারা মৌখিক  বক্তব্য রাখার পরে কোর্ট তাদের বলেছেন,   অভিযোগ বিষয়ে তারা কোন লিখিত জবাব দেবেন কি-না। তারা বলেছেন দেবেন। এজন্য আগামী মঙ্গলবার ধার্য্য করা হয়েছে তাদের লিখিত জবাব প্রদানের জন্য। আমরা কোর্টকে বলেছি লিখিত জবাব দেয়ার জন্য তাদেরকে বলা না হলে তারা লিখিত জবাব দিতনা। তারা লিখিত  জবাব না দিলে আমাদের ফ্যাক্টসগুলো থেকে যেত। কোর্ট তাদের লিখিত  জবাবের বিষয়ে বলে দেয়ায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আর তারা লাভবান হয়েছেন।

ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, আমরা  চারজন সাক্ষীর টিভি সাক্ষাৎকারের ভিডিও কোর্টে উপস্থান করেছি প্রতিকী আকারে। প্রকৃত পক্ষে  ১৫ সাক্ষীর বাকীদেরও আনা সম্ভব ছিল।

রাষ্ট্রপক্ষ থেকে  সাক্ষী হাজির না করা বিষয়ে যে কারণ দেখিয়েছে তার বিরুদ্ধে আমরা এতবড়  মারাত্মক অভিযোগ দিলাম আর তারা এর কোন জবাব দিলনা। এটা কি তাদের দায়িত্ব ছিলনা? তারা কোর্টে মুখস্ত বলে দিল আমাদের অভিযোগ সঠিক নয়!
এ থেকে প্রমানিত হয় আমাদের অভিযোগ সত্য। ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ফলে আমরা আদালতে ১৫ সাক্ষী বিষয়ে এসব প্রমান হাজির করতে পেরেছি। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা নিয়ে প্রসিকিউশন  কিছু মন্তব্য করেছেন। আমরা বলব তারা এ রিপোর্ট করে ভুল কিছু করেননি।

গত ২০ মার্চ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের পক্ষ থেকে মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে তালিকাভুক্ত ৪৬ জন  সাক্ষীর একটি তালিকা দিয়ে আদালতে দরখাস্ত করে বলা হয় এদের হাজির করা আদৌ সম্ভব নয়।  কেন


হাজির করা সম্ভব নয় সে বিষয়ে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে  আবেদনে বলা হয় তারা তদন্ত কর্মকর্তার কাছে যে জবানবন্দী দিয়েছেন তা সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হোক। এদের মধ্যে ১৫ জনের জবানবন্দী সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেন আদালত।

(যেসব সাক্ষীদের  আদালতে আদৌ হাজির করা সম্ভব নয় বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের  পক্ষ থেকে দরখাস্ত দিয়ে কোর্টে বলা হযেছিল সে বিষয়ে ১২ এপ্রিল দৈনিক আমার দেশ এবং ২৭ মার্চ দৈনিক নয়া দিগন্তে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।  প্রসিকিউশনের সেফ হাউজের রেজিষ্ট্রেশন  খাতার তথ্য তুলে ধরে আমার দেশে রিপোর্ট করা হয়েছে কোন সাক্ষী কতদিন তাদের হেফাজতে ছিল। অনুসন্ধানী এসব রিপোর্ট ডিফেন্স টিমের পক্ষ থেকে আদালতে রেফারেন্স হিসেবে  তুলে ধরা হয়েছে  আবেদনের সাথে)

রাষ্ট্রপক্ষের  জবাব:
সকালে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ হায়দার আলী  শুনানীতে অংশ নেন। তিনি বলেন, ১৫ সাক্ষীর বিষয়ে আদেশ পাশের বিষয়ে পূর্বে আসামী পক্ষ থেকে যে বক্তব্য প্রদান করা হয়েছিল এখনো প্রায় সেই একই বক্তব্য রাখা হয়েছে। দৈনিক নয়া দিগন্তে প্রকাশিত সাক্ষীদের সাথে কথাপোকথন বিষয়ে কোর্ট বলেছিলেন এ রিপোর্ট ছিল উচ্চমাত্রায় অবমাননার শামীল। বিচার চলাকালে কি করে একজন সাংবাদিক সাক্ষীর সাথে কথা বলে রিপোর্ট করতে পারে?

আমারা  যে কারনে সাক্ষী হাজির করা সম্ভব নয় বলেছি তা এখনো বিদ্যমান। তারা বলেছে দৈনিক আমার দেশে সাক্ষীদের বিষয়ে যে রিপোর্ট ছাপা হয়েছে তার কোন প্রতিবাদ  দেইনি।  প্রতিবাদ দেয়া আমাদের কাজ নয়। আমরা  সেদিনই বলেছিলাম এটা হওয়া উচিত নয়।

আপনারা ১৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দী  গ্রহণ করেছেন তা বিবেচনার জন্য। এখানে আইনের কোন ব্যত্যয় হয়নি।
তদন্ত কর্মকর্তা আদালতের সাথে প্রতারান করেছেন এ ধরনের বক্তব্য ব্যারিস্টার রাজ্জাক সাহেবের মত সিনিয়র আইনজীবীর কাছ থেকে  কাম্য নয়। এটা সম্পূর্ণ বেআইনী, অবধৈ। ওনার কাছ থেকে এটা আশা করিনি।

সৈয়দ হায়দার  আলী বলেন, আত্মীয়ের বাসায় যাবার কথা বলে কোন সাক্ষী যদি কোথাও চলে যায় সেখানে আমরা কি করতে পারি।  এটা মুক্ত যুগ। আমরা তো তাদের বন্দী করে রাখিনি। আমরা তো বলছি তারা আমাদের  এসেছিল।   কিন্তু পরে চলে গেছে এটাই বাস্তব।
তারা কতদিন  আমাদের কাছে ছিল, কবে চলে গেছে এসব বিষয়ে যে তথ্য দিয়েছেন তা ঠিক নয়।  একটি পত্রিকার রিপোর্ট থেকে  তারা এ তথ্য দিয়েছেন। অফিসিয়াল সিকরেট এ্যাক্ট তো এখনো আছে।

ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক : সাক্ষীরা কোথায় আছে তা তারা জানল কি করে?
সৈয়দ হায়দার আলী : এটা (আমার দেশের রিপোর্ট) সঠিক রিপোর্ট নয়।
চেয়ারম্যান: যদি রিপোর্ট সঠিক হয়?
এসময়  অপর বিচারপতি একেএম জহির আহমেদ বলেন, আপনরা বলছেন ফেব্রুয়ারি মাসে তিন সাক্ষী নিখোঁজ হয়ে গেছে। ওনারা নির্দিষ্ট তারিখ দিয়ে বলছেন যে, ১৬ মার্চ তারা আপনাদের হেফাজতে ছিল।

চেয়ারম্যান: রেজিস্ট্রেশন ডায়েরি থাকল কেন? থাকলেও তারা এটা জানল কি করে?

জহির আহমেদ : উষারানী মালাকার সম্পর্কে আপনারা বললেন তিনি শয্যাশায়ী, স্মৃতি শক্তি লোপ পেয়েছে। কিন্তু ওনারা যে ভিডিও দেখাল তাতে দেখা যাচ্ছে তিনি  কথা বলতেছে, দেখে মনে হচ্ছে  পান খাচ্ছেন।
চেয়ারম্যান: ওনারা তো বলছেন ইনভেস্টিগেশন জার্নালিজমের মাধ্যমে তারা এটা করেছে। দে এবিউজড দি ওয়ার্ড ইনভেস্টিগেশন। আপনারা বলছেন এ রিপোর্ট সঠিক নয়। তাহলে তা লিখে দেন আমাদের।
সৈয়দ হায়দার আলী: ১৫ দিন, ৪৭ দিন  আমাদের হেফাজতে ছিল বলে যে কথা বলা হয়েছে তা সঠিক নয়।
এ ধরনের ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্ট করা তাদের দায়িত্ব ছিল কিনা এবং এটা করার অধিকার কি তাদের আছে?
কাল যে ভিডিও দেখানো হয়েছে তা দেখেতো তাকে সুস্থ মনে হয়নি। তাছাড়া এ ভিডিও কবে কিভাবে কোথায় বসে করল?
চেয়ারম্যান :  ভিডিওতে তাদের কথা  শুনে মনে হয়েছে এটি আমাদের অর্ডার পাস করার পর  ধারন  করা হয়েছে।
সৈয়দ হায়দার আলী : অবস্থার উন্নতি হলে হয়েছে।
জহির আহমেদ: আপনি বলেছিলেন স্মরন শক্তি লোপ পেয়েছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে উষারানী পান খাচ্ছে। স্মরনশক্তি লোপ পাওয়া ব্যক্তি তো পান খেতে পারেনা।
সৈয়দ হায়দার আলী: স্মরন শক্তি লোপ অনেক ধরনের হতে পারে। কেউ পেছনের স্মৃতি বলতে পারেনা। কেউ কিছু মনে রাখতে পারেনা।
আমরা তো বলছি তিনজন সাক্ষী আমাদের কাছে আসছিল। তারা চলে গেছে।

এ পর্যায়ে সৈয়দ হায়দার  আলী বলেন, ১৫ সাক্ষীর জবানবন্দী সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে যে আদেশ দেয়া হয়েছে তা রিভিউ করার কোন সুযোগ নেই।

বিচারপতি একেএম জহির আহমেদ বলেন, ১৯ (২) ধারার তিনটি অপশন আছে। সাক্ষী মৃত হতে হবে, তাকে আনা সময় সাপেক্ষ এবং আরেকটি হল ব্যয়বহুল হতে  হবে।
উষারানী মালাকার মৃত নন। তাকে দেখে মনে  হচ্ছে তিনি চলৎশক্তিহীন নন। কথা বলছেন। পিরোজপুরে আছেন। তাকে আনা ব্যয়বহুলও নয়। এখন এ সাক্ষীর জবানবন্দী আইনের ১৯ (২) ধারায় থাকবে কি থাকবেনা বলেন।
সৈয়দ হায়দার আলী বলেন, মনে হয় আপনারা ভিডিও রিপোর্ট সঠিক ধরে নিয়েছেন এবং বিশ্বাস করেছেন। 
বিচারপতি জহির আহমেদ বলেন আমাদের বিশ্বাস অবিশ্বাস  বিষয় নয়। আমি আপনার কাছে জবাব চাচ্ছি।
সৈয়দ হায়দার আলী : তার স্মৃতিশক্তি ফিরে এলে তো আমাদেরই লাভ।

চেয়ারম্যান : নতুন তথ্য  হাজিরের পর ডিফেন্স তো সেই গ্রাউন্ডেও রিভিউ আবেদন করতে পারে।
সৈয়দ হায়দার আলী : তিনি (উষারানী মালাকার) যদি সক্ষম হন এসে সাক্ষ্য দেবেন।
একটি সরকারি অফিসের ডায়রিতে কি আছে তা বের করে এনে রিপোর্ট করা কোন ধরনের ইনভেস্টিগেশন রিপোর্ট?

চেয়ারম্যান : ওনারা তো গ্যালপের নিচে আছেন। ধরে নেন ওনরা চুরি করেছেন। প্রশ্ন হল সরকারি কাগজ বাইরে গেল কি করে?

জহির আহমেদ : সাক্ষীরা যে আপনাদের কাছে আসছিল সে কথাতো  আসামী পক্ষের আইনজীবীরাও বলছেন।   কিন্তু বিষয় হল আপনরা বলছেন তারা চলে গেছে। আপনারা খুজে পাচ্ছেননা। আর তারা বলছেন সাক্ষীরা আপনাদের হেফাজতে ছিল। খুবই মারাত্মক অভিযোগ।
চেয়ারম্যান : ওনাদের দরখাস্তে যে সংযুক্তি আছে আপনারা কি তার জবাব দেবেন?  ইয়েস অর নো বলেন।
সৈয়দ হায়দার আলী : আমরা জবাব দেব।
এরপর মঙ্গলবার জবাবের জন্য ধার্য্য করা হয়।

ব্যারিস্টার রাজ্জাকের পাল্টা জবাব
ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, আপনারা যদি লিখিত জবাব  দেয়ার  বিষয়ে জিজ্ঞস না করতেন তাহলে তারা লিখিত জবাব দিতনা।  ফলে আমাদের অভিযোগগুলো এভাবে থেকে যেত। আপনাদের এই বলে দেয়ার মাধ্যমে আমারা ক্ষতিগ্রস্ত হলাম। আর ওনারা লাভবান হলেন।
আমাদের অভিযোগ খুব স্পষ্ট এবং সুনির্দিষ্ট। তারা এসবের কোন জবাব দিলেননা। তারা আজ কোর্টে এসেছেন কোন জবাব তৈরি ছাড়াই।

এসময় চেয়ারম্যান বলেন, তারা মৌখিক জবাব দিয়েছেন। আপনাদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। লিখিত জবাবের বিষয়ে ব্যারিস্টার রাজ্জাকের অভিযোগ বিষয়ে  বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, আপনারা লিখিত বক্তব্য জমা দিয়েছেন। ওনারা আজ মৌখিক বলেছেন। আমারা আজ অর্ডার দেবনা। পরে অর্ডার দেব। লিখিত অর্ডারে দুই পক্ষের বক্তব্য থাকতে হবে। ওনারা আজ মুখে কি বলল তাতো আমাদের মনে থাকবেনা পরে। সেজন্য লিখিত থাকা দরকার।

ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, আমার লার্নেড  ফ্রেন্ড স্বীকার করে ফেলেছেন যে, উষারানী মালাকার প্রয়োজনে এসে সাক্ষ্য দেবেন। কিন্তু ১৫ সাক্ষীর আদেশ থাকা অবস্থায় কি করে তিনি সাক্ষ্য দেবেন?

ব্যারিস্টার রাজ্জাক সৈয়দ হায়দার আলীর   বক্তব্য প্রসঙ্গে বলেন, উনি মুখস্ত বলে দিলেন আমি নাকি বেআইনী কথা বলেছি। আইনসম্মত কথা বলিনি। উনি যদি বলে দিতেন  আমার কোন কথাটা, কোন আইনের লঙ্ঘন এবং কোন আইন অনুযায়ী বেআইনী হয়েছে তাহলে তা আমার জন্য শিক্ষনীয় হতে পারত। কিন্তু তিনি তা বলেননি।
ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, আমি আমার কথা শুরুই করেছি ভারত, বাংলাদেশসহ তিনটি দেশের সংবিধান এর রেফারেন্স দিয়ে।   এছাড়া ডিএলআর রেফারেন্স দিয়েছি। আমি সম্পূর্ণ আইন এবং   যুক্তি দিয়ে কথা বলেছি। কোন রাজনৈতিক কথা বলিনি। কোর্টে আমি কোন রাজনৈতিক কথা বলিনা। আমার আরেকটি পরিচয় আছে কিন্তু আমি  তা কোর্টে কোনদিন ব্যবহার করিনা। আই  হেট টুৃ মেক পলিটিক্যাল সাবমিশন ইন কোর্ট। আমি আইন দিয়ে লড়াই করি কোর্টে। রাজনীতি দিয়ে নয়।

আমার বন্ধু আইনজীবীর সুবিধা হল তিনি একটা কিছু  বলে দিতে পারেন কোন রেফারেন্স ছাড়া। কিন্তু আমি যখন কথা বলি তখন রেফারেন্স দিয়ে কথা বলি।
চারজন সাক্ষীর টিভি সাক্ষাৎকার দেখানো কিভাবে বেআইনী হল? অনুসন্ধানী রিপোর্ট করা কিভাবে বেআইনী? আপনারা  ওয়াটার গেট কেলেঙ্কারীর কথা জানেন। এ রিপোর্টের ফলে কি পরিণতি হয়েছিল। (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নিক্সনকেক পদত্যাক করতে হয়েছিল। )
এরপর সৈয়দ হায়দার আলী বলেন, কোর্ট না বললে আমরা লিখিত জবাব দিতামনা এটা সঠিক নয়।



১৫ সাক্ষীর জবানবন্দী সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহনের আদেশ পুনর্বিবেচনা আবেদনের ওপর ডিফেন্স টিমের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে পেশ করা লিখিত বক্তব্য।

মেহেদী হাসান, ২২/৫/২০১২

১৫ সাক্ষীর জবানবন্দী সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহনের আদেশ পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করা হয়েছে ডিফেন্স টিমের পক্ষ থেকে। এ  বিষয়ে   আজ  শুনানী অনুষ্ঠিত হয়েছে।  ডিফেন্স টিমের পক্ষ থেকে  যে লিখিত বক্তব্য  পাঠ করে শোনানো হয় এখানে তা বাংলায় তুলে ধরা হল। 

মূল কথা : ডিফেন্স টিমের পক্ষ থেকে  তথ্য প্রমান সহকারে প্রমানের চেষ্টা করা হবে সাক্ষী হাজির  করতে না পারা বিষয়ে যে কারণ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের পক্ষ থেকে দেখানো হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ।   সাক্ষীরা  নিখোঁজ নয়, তাদের  প্রায় সবাই বাড়িতেই আছেন। তাদের অনেককে সাক্ষ্য দিকে ঢাকায় আনা হয়েছিল। তারা প্রসিকিউশেরন হেফাজতে ছিল। তারা প্রসিকিউশেনর শেখানো মতে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে রাজি হয়নি বিধায় তাদের কোর্টে হাজির করা হয়নি। এ বিষয়ে যাবতীয় তথ্য প্রমান সংগ্রহ করা হয়েছে।  সাক্ষীদের অনেকে বলেছেন তাদের নামে যে  জবানবন্দী আদালতে জমা দেয়া হয়েছে তাও তাদের স্টেটমেন্ট নয়।  তাদের নামে  তদন্ত কর্মকর্তা তার মনগড়া মিথ্যা  বক্তব্য লিখে জমা দিয়েছেন। ট্রাইব্যুনালকে প্রতারিত করেছেন।

তাই ২০ মার্চ ৪৬ সাক্ষীর জবানবন্দী সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহনের যে আবেদন জানানো হয়েছে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে সেই আবেদনই বাতিল করার দাবি ডিফেন্স টিমের।

জেরা ছাড়া তাদের  মিথ্যা  স্টেটমেন্ট আসামীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য হিসেবে  ব্যবহার করা হলে ন্যায় বিচার পাবার কোন আশা থাকবেনা।

সাবমিশন:
১. গত ২০ মার্চ ২০১২ মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে ৪৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দী  তাদের অনুপস্থিতিতে আদালতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহনের আবেদন জানানো হয় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে। ইন্টারন্যাশানাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল এ্যাক্ট এর ১৯ (২) ধারার অধীনে এ  আবেদন জানানো  হয়।

ট্রাইব্যুনাল আইনের ১৯ (২) ধারায় বলা হয়েছে “ বিচার চলাকালে কোন ব্যক্তি মৃত হলে, তাকে হাজির করা  যদি  কালপেক্ষন এবং ব্যাবহুল হয় এবং ট্রাইব্যুনাল যদি মনে করেন এভাবে সময় এবং অর্থ ব্যায় করে কাউকে হাজির করা যুক্তিসঙ্গত নয় তাহলে মেজিস্ট্রেট বা তদন্ত কর্মকর্তার কাছে উক্ত ব্যক্তিদের  প্রদত্ত জবানবন্দী আদালত  এভিডেন্স আকারে গ্রহণ করতে পারেন।”

প্রসিকিউশনের আবেদনে বলা হয়েছে সাক্ষ্য প্রদানের নিমিত্তে তাদের হাজির করা দুরুহ, সময়সাপেক্ষ, ব্যয়বহুল এবং আদৌ সম্ভব নয়।

২.    প্রসিকিউশনের এ আবেদন বাতিলের পক্ষে ডিফেন্স এর পক্ষ থেকে নিম্নলিখিত নিবেদন পেশ করা হয় আদালতে।

ক.    আইনের ১৯ (২) ধারায় আসাীর গুরুত্বপূর্ণ একটি অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। তাই  আইনের এ ধারাটি সন্দেহ সংশয়াতীতভাবে ব্যাখ্যা করা দরকার।
খ.    প্রসিকিউশেরন বর্নিত বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগ বাস্তবতা বিবর্জিত ও বানোয়াট। প্রসিকিউশন পক্ষ তাদের উক্তরূপ দাবীর প্রমাণে কোনরূপ প্রমাণ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।তাদেরকে সন্দেহাতীতভাবে প্রমান করতে হবে যে, তাদের হাজির করতে গেলে বিচার বিলম্বিত হবে।
গ.    সাক্ষীর নিরাপত্তা এবং তাকে জেরা করা একটি মৌলিক অধিকার।
ঘ.   
ঙ.   


৩. মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে ১৫ জন সাক্ষী  তদন্ত কর্মকর্তার কাছে যে জবানবন্দী দিয়েছেন তা তাদের অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ  করে গত ২৯ মার্চ আদেশ প্রদান করেন ট্রাইব্রুনাল।

আদালত যে ১৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দী সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন এরা হলেন, ঊষারানী মালাকার,
সুখরঞ্জন বালী, আশিষ কুমার মন্ডল, সুমীত রানী মন্ডল, সমর মিস্ত্রী, সুরেষ চন্দ্র মন্ডল, গণেশ চন্দ্র সাহা, শহিদুল ইসলাম খান সেলিম, আইউব আলী হাওলাদার, সিতারা বেগম, রানী বেগম, মো: মোস্তফা, আব্দুল লতিফ হাওলাদার, অনিল চন্দ্র মন্ডল এবং  অজিত কুমার শীল। 

১৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দী  তাদের অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহন বিষয়ক আদেশে ট্রাইব্যুনাল বলেন,  আইনের ১৯ (২) ধারার শর্ত প্রসিকিউশন সন্তোষজনকাভাবে পূরন করেছে বিধায় তাদের জবানবন্দী এভিডেন্স হিসেবে গ্রহনের আদেশ দেয়া হল।

৪. জেরা ছাড়া সাক্ষীদের অনুপস্থিতিতে তাদের জবানবন্দী সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ নিম্নলিখিত কারনে ন্যায় বিচার পরিপন্থী এবং সরাসরি আসামীর ন্যা বিচার থেকে বঞ্চিত করার শামীল।

৫. প্রসিকিউশন তাদের আবেদনের স্বপক্ষে জানিয়েছেন অনেক সাক্ষী নিখোঁজ এবং অনেককে হাজির করা সম্ভব নয় বিভিন্ন কারনে। এর স্বপক্ষে তারা তদন্ত কর্মকর্তার একটি রিপোর্টের ওপর নির্ভর করেছে যদিও আমাদের সে কপি দেয়া  হয়নি।
৬. সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ সম্বলিত কোন রিপোর্ট অভিযুক্ত পক্ষকে সরবরাহ করা হয়নি

        ৭. ঊষারাণী মালাকার সম্পর্কে প্রসিকিউশন বলেছেন যে, সে অসুস্থ এবং তার স্মৃতিশক্তি লোপ পেয়েছে । ভ্রমণে মৃত্যুর ঝুঁকি আছে। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা  এর সমর্থনে প্রমানাদি প্রদান করতে ব্যর্থ হয়েছেন।          এমনকি ঊষা রাণী মালাকারের বক্তব্য স্মৃতি লোপ পাওয়ার পূর্বে না পরে রেকর্ড করা হয়েছে তাও বলা হয়নি। আইনত মানসিক বিকারগ্রস্থ ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। বাস্তবিক পক্ষে আমাদের প্রাপ্ত তথ্য মতে উষারানী মালাকার অসুস্থ নয় এবং  তাকে হাজির করা সম্ভব। তাকে হাজির করার জন্য কোন সমনও জারি করা হয়নি।

         ৮. সুখরঞ্জন বালীর নিখোঁজ হওয়া প্রসঙ্গে প্রসিকিউশন বলেছেন যে, সুখরঞ্জন বিগত চার মাস যাবৎ নিখোঁজ। কিন্তু তাঁরা তাদের দাবির সমর্থনে একটি প্রমাণও  দিতে পারেননি।  যদি সত্যিকার অর্থে উক্ত ব্যক্তি এমন দীর্ঘ সময়ের জন্য নিখোঁজ থেকে থাকতেন তবে তার পরিবার বর্গ নিশ্চয়ই থানায় সাধারণ ডায়েরী করতেন। কিন্তু এ ধরনের কোন প্রমাণাদি প্রসিকিউশন প্রদান করতে ব্যর্থ হয়েছেন। উপরোন্তু বিগত ২৭ মার্চ দৈনিক নয়া দিগন্ত’র এক রিপোর্টে প্রকাশিত হয় যে, উক্ত সাক্ষী মিথ্যা বক্তব্য প্রদানে অস্বীকৃতি জানায়। সম্ভবত সে কারণেই তাকে সাক্ষী দিতে আনা হয়নি। 

          ৯.     আশিষ কুমার, সুমতি রাণী মন্ডল এবং সমর মিস্ত্রি সম্পর্কে প্রসিকিউশনের বক্তব্য হচ্ছে, তারা বিগত ফেব্রুয়ারী মাসের প্রথম সপ্তাহ হতে নিখোঁজ। সম্ভবত তারা নিখোঁজ নয়, কারন জানুয়ারী মাসে তাদেরকে ঢাকায় আনা হয়েছিল এবং প্রসিকিউশনের তদারকিতে প্রায় এক/দেড় মাস অবধি রাখা হয়, এমনকি একপর্যায়ে প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালে উক্ত সাক্ষীদের হাজিরাও প্রদান করেন।
          গত ২ ফেব্রুয়ারী প্রসিকিউশন আদালতকে জানায় যে, গতকাল সাক্ষীগণ তাদের আত্মীয়ের সাথে দেখা করবে বলে বের হয়ে আর ফেরৎ আসেনি। এ মর্মে গত ২৭ মার্চ দৈনিক নয়া দিগন্তে উক্ত সাক্ষীদের নিকট আত্মীয়দের বক্তব্য উদ্ধৃত্ত করে বলা হয় যে, তারা প্রসিকিউশনের হেফাজতে এক থেকে দেড় মাস  ছিল। তারা  মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে রাজী না হওয়ায় তাদেরকে আনা হয়নি।  

         এছাড়া গত ১২ এপ্রিল দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয় প্রসিকিউশন নিয়ন্ত্রিত সেফ হাউজের রেজিস্ট্রার খাতা ,  খাদ্য বুক, এবং জেনারেল ডায়েরীতে বর্ণিত তথ্য মতে সুমতি রানী, সমর মিস্ত্রী এবং আশিষ কুমার মন্ডল গত ১৬ মার্চ ২০১২ পর্যন্ত তারা সেফ হাউজেই ছিল । সেফ হাউজের রেজিস্ট্রি খাতার তথ্য অনুযায়ী তারা ৪৭ দিন সেখানে ছিল। প্রথম দফায় তাদের সেফ হাউজে আনা হয় ১১ নভেম্বর। ২২ নভেম্বর পর্যন্ত তাদের সেখানে রাখা হয়। ১২ এপ্রিল এ বিষয়ে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে সংশ্লিষ্ট অংশ তুলে  ধরা হল।
“প্রসকিউিশনরে আবদেনে বলা হয়ছেলি সাক্ষী আশষি কুমার মণ্ডল, সুমতি রানী মণ্ডল ও সমর মস্ত্রিি গত ২ ফব্রেুয়ারি থকেে নখিোঁজ। মাওলানা সাঈদীর মামলায় রাষ্ট্রপক্ষরে আইনজীবী প্রসকিউিটর অ্যাডভোকটে রানাদাস গুপ্ত ট্রাইব্যুনালকে জানয়িছেলিনে, আত্মীয়রে বাড়তিে বড়োনোর কথা বলে ২ ফবে্রুয়ারি সফে হাউস থকেে তারা বরে হয়ে গছেনে। পরে প্রসকিউিশন তাদরে আবদেনে জানান, ওই ৩ সাক্ষী গোপনে ভারতে চলে গছেনে। অথচ ট্রাইব্যুনালরে সাক্ষীদরে জন্য তরৈি করা সফে হাউসরে রজেস্টিার, সাধারণ ডায়রেি ও খাওয়ার হসিাবরে খাতা অনুযায়ী আশষি কুমার মণ্ডল, সুমতি রানী মণ্ডল ও সমর মস্ত্রিি ১৬ র্মাচ র্পযন্ত তাদরে নয়িন্ত্রণইে ছলিনে। সফে হাউজরে রজেস্টিাররে র্বণনা অনুযায়ী, সাক্ষী আশষি কুমার মণ্ডল ও সমর মস্ত্রিি ও সুমতি রানী মণ্ডল দুই দফায় ৪৭ দনি সফে হাউসে ছলিনে। প্রথম দফায় ২০১১ সালরে ১১ নভম্বেরে এই তনিজনকে সফে হাউসে আনা হয়। সদেনি মোট ৯ সাক্ষী এখানে আনা হয়ছেলি। তাদরে সফে হাউসে রাখা হয় ২২ নভম্বের র্পযন্ত। এই সময় তাদরে কীভাবে সাক্ষী দতিে হব,ে সে বষিয়ে প্রশক্ষিণ দয়ো হয়। সমর মস্ত্রিি এবং আশষি কুমার মণ্ডল ছাড়া এ সময় সফে হাউসে আনা অন্য সাক্ষীদরে মধ্যে ছলিনে মোহাম্মদ মাহাবুবুল আলম, মো. মাহতাব উদ্দনি হাওলাদার, মো. মোস্তফা হাওলাদার, মানকি পসার,ি মো. রুহুল আমনি নবী, মো. আলতাফ হাওলাদার ও মোহাম্মদ আবদুল লতফি হাওলাদার। রজেস্টিারে প্রত্যকে সাক্ষীর মোবাইল নম্বরও উল্লখে রয়ছে।ে

সমর মস্ত্রিি ও আশষি কুমার মণ্ডলসহ ৬ জনকে ২২ নভম্বের পরিোজপুর পাঠানো বষিয়ওে বস্তিারতি উল্লখে রয়ছেে সফে হাউসরে সাধারণ ডায়রেতি।ে এতে বলা হয়, ‘তাহাদরে নজি বাড়ি পরিোজপুর জলোর উদ্দশেে র্ঊধ্বতন র্কতৃপক্ষরে নর্দিশেক্রমে পৌঁছাইয়া দয়োর নমিত্তিে রওয়ানা দওেয়া গলে।’ পরে সমর মস্ত্রি,ি সুমতি রানী মণ্ডল ও আশষি কুমার মণ্ডলকে আবারও গত ৩১ জানুয়ারি সফে হাউসে আনা হয়। সফে হাউসরে রজেস্টিার অনুযায়ী তাদরে আত্মীয়স্বজনসহ ১৬ র্মাচ র্পযন্ত সখোনে ছলিনে। একটানা দড়ে মাসরে বশেি সফে হাউসে উপস্থতি রখেওে শখিয়িে দয়ো মথ্যিা সাক্ষ্য দতিে রাজি না হওয়ায় ট্রাইব্যুনালরে সামনে উপস্থতি করা হয়ন।ি সমর মস্ত্রি,ি আশষি কুমার মণ্ডল ও সুমতি রানী মণ্ডলরে বষিয়ে ১৬ র্মাচ সফে হাউসরে সাধারণ ডায়রেতিে উল্লখে রয়ছে,ে ‘র্পাশ্ব লখিতি স্বাক্ষর সাক্ষীদরে নয়িা বাড়রি উদ্দশ্যেে রওয়ানা দওেয়া গলে।’ অথচ প্রসকিউিশনরে আবদেনরে র্বণনা অনুযায়ী তারা পালয়িে গছে।ে“

         এ থেকে পরিষ্কার যে, এই তিন সাক্ষীর নিখোঁজ হবার তথ্য একেবারেই  মিথ্যা। তদন্ত কর্মকর্তার শেখানো মতে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে রাজী না হওয়ায়ই তাদের ট্রাইব্যুনালে  হাজির করা হয়নি।
          ৯. সুরেষ চন্দ্র মন্ডল, গনেশ চন্দ্র সাহা, শহিদুল ইসলাম খান সেলিম, আইউব আলী হাওলাদার, মোস্তাফা, আব্দুল লতিফ হাওলাদার, অনিল চন্দ্র মন্ডল, অীজত কুমার শিল এদের অনুপস্থিতিতে জবানবন্দী সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহনের পক্ষে ট্রাইব্যুনাল যে  বিষয় আমলে নিয়েছেন তা হল “স্থানীয় শস্ত্র বাহিনী তাদের হুমকি দিয়েছে। জীবনের নিরাপত্তার কারনে তাদের গোপন স্থানে রাখা হয়েছে। জীবনের নিরাপত্তার কারনে তাদের হাজির করা হলনা। যেসব সন্ত্রাসী বাহিনী তাদের হুমকি দিয়েছে তারা অভিযুক্তর পক্ষের লোক।”
          নিম্নলিখিত কারনে এ দাবি মিথ্যা।

          ক. হুমকির অভিযোগ বিষয়ে প্রসিকিউশন কোন প্রমান হাজির করতে পারেনি এবং এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানানো , ভিত্তিহীন।
         খ.   প্রসিকিউশন বলেছে  গণেশচন্দ্র একজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী। কিন্তু তার জবানবন্দী পড়লে বোঝা যায় তিনি কোন প্রত্যক্ষদর্শী নন।
          গ. শহিদুল ইসলাম খান সেলিম কখনো নিখোঁজ হননি। তাকে ১০ জানুয়ারি সেফ হাউজে আনা হয়। ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি সেখানে ছিলেন। মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে রাজি না হওয়ায়  তাকে কোর্টে আনা হয়নি। দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় ১২ এপ্রিল প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন তার প্রমান। এখানে সংশ্লিষ্ট অংশ  তুলে ধরা হল।
“সাক্ষী মুক্তযিোদ্ধা শহদিুল ইসলাম খান সলেমি ১০ জানুয়ারি থকেে ১২ জানুয়ারি র্পযন্ত সফে হাউসে ছলিনে। তাকে ১১ এবং ১২ জানুয়ারি পরপর দুইদনি সফে হাউস থকেে ট্রাইব্যুনালরে প্রসকিউিশন কক্ষে নয়িে আসা হয়। তবে সাক্ষী দতিে ট্রাইব্যুনালরে সামনে উপস্থতি করা হয়ন।ি সাক্ষ্য দতিে উপস্থতি না করে ১২ জানুয়ারি বলো আড়াইটায় তাকে ময়েরে বাসায় ফরেত পাঠানো হয়।“

          ঘ. আমার দেশে প্রকাশিত রিপোর্ট সাক্ষী আইউব আলী হাওলাদার ৭ জানুয়ারি থেকে ১০ জানুয়ারি ২০১২ পর্যন্ত সেফ হাউজে ছিলেন।
         ঙ. সাক্ষী সিতারা বেগমের ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল তদন্ত কর্মকর্তার রিপোর্টের ওপর নির্ভর করেছেন। সেখানে বলা হয়েছে তিনি অসুস্থ এবং হুমকির কারনে তাকে আনা যাচ্ছেনা। তিনি অসুস্থ এ মর্মে কোন মেডিকেল সার্টিফিকেট  দাখিল করেনি প্রসিকিউশন এবং তাকে হুমকির অভিযোগও মিথ্যা। এ ব্যাপারে দৈনিক নয়া দিগন্তে প্রকাশিত ২৭ মার্চ প্রতিবেদনে তথ্য রয়েছে। মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে হাজির করা হয়নি।

চ.    সাক্ষী রানী বেগম এবং মোস্তফা সম্পর্কে ২৭ মার্চ দৈনিক নয়া দিগন্তে  প্রকাশিত প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে তারা বাড়িতে আছেন এবং তাদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও মিথ্যা।
মোস্তফার উদ্ধৃতি দিয়ে নয়া দিগন্তে লেখা হয়েছে
“সাঈদীর কোন লোক কোন ধরনের আমাদের ভয়ভীতি দেখায়নি। সুতরাং এ অভিযোগ মিথ্যা। আমরা কোথাও আত্মগোপনও করিনি। আমরা সবাই নিজ বাড়িতেই আছি।”

ছ.    সাক্ষী আব্দুল লতিফ হাওলাদারের নিখোঁজ হবার অভিযোগও সম্পূর্ণ মিথ্যা। ১২ এপ্রিল দৈনিক আমার দেশের রিপোর্ট মোতাবেক তাকে ২ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। তাকে পরপর চারদিন প্রসিকিউশন রুমে আনা হয়।  ১৬ নভেম্বর ২০১১ তাকে প্রথম  সেফ হাউজে আনা হয়। ২২ নভেম্বর পর্যন্ত তিনি সেখানে ছিলেন। ৩১ ডিসেম্বর তাকে আবার সেফ হাউজে আনা  হয়। ৫ জানুয়ারি  পর্যন্ত তাকে সেখানে রাখা হয।
 আমার দেশের রিপোর্টে লেখা হয়েছে “ “সাক্ষী আবদুল লতফি হাওলাদারকে পর পর ৪ দনি ট্রাইব্যুনালরে প্রসকিউিশন কক্ষে হাজরি করা হয়। সফে হাউসরে ডায়রেি অনুযায়ী আবদুল লতফি হাওলাদারকে প্রথমে গত বছররে ১৬ নভম্বের এখানে উপস্থতি করা হয়। ২২ নভম্বের র্পযন্ত রাখা হয় সফে হাউস।ে পরে ৩১ ডসিম্বের তাকে আবারও সফে হাউসে আনা হয়। এখানে রাখা হয় ৫ জানুয়ারি র্পযন্ত। এ সময় তাকে পরপর ২, ৩ ও ৪ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালরে প্রসকিউিশন কক্ষে নয়িে যাওয়া হয়। প্রতবিারই সাক্ষী দয়োর জন্য ট্রাইব্যুনালরে সামনে উপস্থতি না করে ফরেত পাঠানো হয় সফে হাউস।ে ৫ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৬টায় তাকে বাড়তিে পাঠয়িে দয়ো হয়।“

         
জ. একইভাবে সাক্ষী অনিল চন্দ্র মন্ডল সম্পর্কে ১২ এপ্রিল আমার দেশ পত্রিকার রিপোর্টে লেখা হয়েছে “সাক্ষী অনলি চন্দ্র মণ্ডল গত ১২ জানুয়ারি থকেে ১৬ জানুয়ারি র্পযন্ত সফে হাউসে ছলিনে। তাকে ১২ জানুয়ারি সফে হাউসে নয়িে আসনে তদন্ত সংস্থা। টানা চারদনি সফে হাউসে রখেে শখিয়িে দয়ো সাক্ষ্য দতিে রাজি না হওয়ায় ট্রাইব্যুনালে হাজরি করা হয়ন।ি তাকে ১৬ জানুয়ারি বাড়তিে পাঠয়িে দয়ো হয়।“
ঝ. সাক্ষী অজিত কুমার শীল সম্পর্কে একই পত্রিকার রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় “সাক্ষী অজতি কুমারকে সফে হাউসে নয়িে আসা হয় ১০ ফবে্রুয়ার।ি তাকে এখানে রাখা হয় ১৩ ফবে্রুয়ারি র্পযন্ত। টানা ৩ দনি সফে হাউসে রাখার পরও সাক্ষ্য দতিে ট্রাইব্যুনালে হাজরি করা হয়ন।ি“

          সুতরাং দেখা যাচ্ছে তদন্ত কর্মকর্তা এসব সাক্ষী হাজির করা সম্ভব নয় মর্মে যে রিপোর্ট দিয়েছেন তা মিথ্যা রিপোর্ট। প্রসিকিউশনও এ মিথ্যা রিপোর্টের ওপর নির্ভর করে ট্রাইব্যুনালকে ভুল পথে পরিচালিত করেছে।

          তদন্ত কর্মকর্তা  জবানবন্দী রেকর্ড করেননি কাজেই তাকে বিশ্বাস করা যায়না।
       
১৯(২) ধারা মোতাবেক কারো অনুপস্থিতিতে জবানবন্দী  সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করতে হলে তা তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে রেকর্ড করতে হবে।  অনেক সাক্ষী প্রকাশ্যে বলেছেন তারা তদন্ত কর্মকর্তার কাছে কোন স্টেটমেন্ট দেননি। এ বিষয়ে পত্রিকায়ও অনেক রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে।
২২ মার্চ দৈনিক জনতা পত্রিকার একটি রিপোর্টের উদ্ধৃতি দেয়া যাক “ “অনুপস্থিতির তালিকায় শাহরিয়ার কবির, জাফর ইকবাল, জুয়েল আইচসহ বিশিষ্টিজনদের নামও রয়েছে। এ ব্যাপরে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নির্বাহী সভাপতি শাহরিয়ার কবির গতকাল দৈনিক জনতাকে জানান, তিনি যে সাঈদীর মামলার সাী বিষয়টি তাকে জানানোই হয়নি। এদিকে একই কথা জানিয়েছেন, দেশের বিশিষ্ঠ যাদুশিল্পী জুয়েল আইচ। এই বিষয়ে প্রথমে কথা বলতে অপারগত প্রকাশ করলেও পরবর্তীতে তিনি দৈনিক জনতাকে বলেন, আমাকে বিষয়টি জানানো হয়নি। ” (বসঢ়যধংরং ধফফবফ)
“অনুপস্থিতির তালিকায় শাহরিয়ার কবির, জাফর ইকবাল, জুয়েল আইচসহ বিশিষ্টিজনদের নামও রয়েছে। এ ব্যাপরে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নির্বাহী সভাপতি শাহরিয়ার কবির গতকাল দৈনিক জনতাকে জানান, তিনি যে সাঈদীর মামলার সাী বিষয়টি তাকে জানানোই হয়নি। এদিকে একই কথা জানিয়েছেন, দেশের বিশিষ্ঠ যাদুশিল্পী জুয়েল আইচ। এই বিষয়ে প্রথমে কথা বলতে অপারগত প্রকাশ করলেও পরবর্তীতে তিনি দৈনিক জনতাকে বলেন, আমাকে বিষয়টি জানানো হয়নি। ”
শাহরিয়ার কবির গতকাল দৈনিক জনতাকে জানান, আমি তো সাঈদীর মামলার সাী না। আমি গোলাম আযমের মামলার সাী। আর সাঈদী সম্পর্কে আমি যা জানি তা আমার বইতে লেখা আছে, আমি বইটি স্বার করে প্রসিকিউশনকে দিয়ে দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, সাঈদীর মামলার বিষয়ে আমাকে কোন সমন দেয়া হয়নি। এটা তারা মিথ্যা বলেছে।”
সুতরাং এটা পরিষ্কার যে, শাহরিয়ার কবির এবং জুয়েল আইচের নামে যে স্টেটমেন্ট  তদন্ত কর্মকর্তা জমা দিয়েছেন তা তাদের নয়।

অন্যদিকে তাদের হাজির করা আদৌ সম্ভব নয় বলে যে দাবি করা হয়েছে তাও মিথ্যা।
সুতরাং যে ১৫ জনের জবানবন্দী  তাদের অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে সে জবানবন্দী যে তারা তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দিয়েছেন সে মর্মে কোন প্রমান নেই।  তদন্ত কর্মকর্তা তাদের নামে মিথ্যা মনগড়া গালগল্প লিখে  জমা দিয়েছেন।

ন্যায় বিচার: সুতরাং জেরা ছাড়া তাদের  মিথ্যা  স্টেটমেন্ট আসামীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য হিসেবে  ব্যবহার করা হলে ন্যায় বিচার পাবার কোন আশা থাকবেনা। সুতরাং ২০ মার্চ প্রসিকিউশনের যে আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৫ মার্চ ১৫ জন সাক্ষীর স্টেটমেন্ট  সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে তা পুনরায় বিবেচনা কর ২০ মার্চের প্রসিকিউশনের ঐ আবেদন বাতিল করা  হোক।

তদন্ত কর্মকর্তা আদালতের সাথে প্রতারনা করেছেন- ব্যারিস্টার রাজ্জাক-


মেহেদী হাসান, ২২/৫/২০১২, মঙ্গলবার
ডিফেন্স টিমের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন  তদন্ত কর্মকর্তা  ট্রাইব্যুনালের সাথে প্রতারনা করেছেন।  সম্পূর্ণ অসত্য এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে কোর্টকে তিনি প্রতারিত করেছেন এবং আদেশ পাস    করিয়েছেন। আমি পুরো আস্থা নিয়ে বলছি তিনি কোটের সাথে প্রতারনা করেছেন।

গত ২৯ মার্চ মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য তাদের অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেন মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারের লক্ষ্যে  ট্রাইব্যুনাল-১।  এ আদেশ বিষয়ে  ডিফেন্স টিমের পক্ষ থেকে রিভিউি পিটিশন দায়ের করা হয়।  আজ  মঙ্গলবার এ বিষয়ে শুনানী অনুষ্ঠিত হবার সময় ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক কোর্টে উপরোক্ত কথা বলেন।

গত ২০ মার্চ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের পক্ষ থেকে মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে তালিকাভুক্ত ৪৬ জন  সাক্ষীর একটি তালিকা দিয়ে আদালতে দরখাস্ত করে বলা হয় এদের হাজির করা আদৌ সম্ভব নয়।  কেন হাজির করা সম্ভব নয় সে বিষয়ে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে  আবেদনে বলা হয় তারা তদন্ত কর্মকর্তার কাছে যে জবানবন্দী দিয়েছেন তা সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হোক। এদের মধ্যে ১৫ জনের জবানবন্দী সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেন আদালত।

যে ১৫ জনের সাক্ষ্য তাদের অনুপস্থিতিতে গ্রহণ করা হয়েছে তাদের মধ্যে তিনজন সাক্ষীর ভিডিও দেখানো হয় আদালতে  ডিফেন্স টিমের (আসামী পক্ষের আইনজীবী) পক্ষ থেকে।
এছাড়া বাকী ১২ জন সাক্ষী বিষয়ে ডিফেন্স টিমের  পক্ষ থেকে আদালতে তথ্য প্রমান দাখিল করে  সাক্ষীদের নাম ধরে ধরে বলা হয় তাদের মধ্যে কেউ কেউ প্রসিকিউশনের হেফাজতে দীর্ঘদিন ঢাকায় সেফ হাউজে ছিল। ৩ জন সাক্ষী ৪৭ দিন পর্যন্ত সেফ হাউজে ছিল। কোন কোন সাক্ষী  বাড়িতে আছেন, স্বাভাবিক কাজ কর্ম করছেন।
ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, এসব সাক্ষীরা মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে রাজী না হওয়ায় তাদেরকে আদালতে হাজির করেনি প্রসিকিউশন।  সাক্ষীদের অনেকে তাদেরই হেফাজতে ছিল এবং তারা  পলাতক, নিখোঁজ বলে  তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা রিপোর্ট  দিয়ে ট্রাইব্যুনালকে প্রতারিত   করেছন তদন্ত কর্মকর্তা। তারা তদন্ত কর্মকর্তার কাছে কোন জবানবন্দী দেননি। তাদের নামে তদন্ত কর্মকর্তা মিথ্যা মনগড়া গল্প বানিয়ে লিখে জমা দিয়েছেন ।  ভিডিওসহ এসব তথ্য প্রমান দেখানোর পরও বলা হবে  সাক্ষীরা মাওলানা সাঈদীর সন্ত্রাসীরা ভয়ে বাড়িছাড়া  হয়েছেন? 

বিশিষ্ট আইনজীবীরা ট্রাইব্যুনালে:
আজ  ১৫ সাক্ষীর  রিভিউ পিটিশন উপলক্ষে  ট্রাইব্যুনাল-১ এ হাজির হন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, ব্যারিস্টার রফিকউল ইসলাম মিঞা, সুপ্রীম কোর্ট বারের সভাপতি


জয়নুল আবেদিন, বারের সাবেক সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার, নজরুল ইসলাম প্রমুখ আইনজীবী। এদের মধ্যে ব্যারিস্টার মওদূদ আহমেদ, খন্দকার মাহবুব হোসেন, জয়নুল  আবেদীন ট্রাইব্যুনালে বক্তব্য রাখেন।

ব্যারিস্টার  মওদূদ আহমেদ : ট্রাইব্যুনালে  বক্তব্য শেষে ব্যারিস্টার মওদূদ আহমেদ  সাংবাদিকদের বলেন, জেরা ছাড়া এ ১৫ জন সাক্ষীর ওপর ভিত্তি করে যদি কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তা অন্যায় এবং বেআইনী হবে। ১৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দী এভাবে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হলে ন্যায় বিচার বাঁধাগ্রস্ত হবে বলে আমি মনে করি। তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধাপরাধ বিচার চাই। তবে সে বিচার হতে হবে স্বচ্ছ এবং নিরপক্ষে। প্রচলিত আইন অনুযায়ী। আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন।
ট্রাইব্যুনালে সাক্ষীদের যে সাক্ষাৎকার দেখানো হল  তাতে বোঝা গেল তদন্ত কর্মকর্তা নিজে সাক্ষীদের নামে  জবানবন্দী লিখেছেন। সাক্ষীকে  জেরা করা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জেরায়  যদি আমি প্রমান করতে পারি এ সাক্ষীকে কিনে আনা হয়েছে তখন তো  তার সাক্ষ্যের গুরুত্ব থাকেনা।

ব্যারিস্টার মওদূদ আহমেদ ট্রাইব্যুালে বলেন, সাক্ষী আনা সম্ভব নয় বলে যে কারণ দেখানো হল তা সত্য নয় প্রমান হল। এখানে সাক্ষীদের সাক্ষাৎকার দেখানো হল টিভিতে। তারা বলছেন, তারা কোন জবানবন্দী দেননি। তাদের নামে যে জবানবন্দী জমা দেয়া হয়েছে তাতে তাদের কোন সাক্ষর নেই। তিনি বলেন বিচারে তাড়াহুড়া করা উচিত নয়। সাক্ষীর জেরা করা একটি মৌলিক অধিকার। জেরা ছাড়া জবানবন্দী সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ সংবিধানের লঙ্ঘন। 

জয়নুল আবেদনী:  ট্রাইব্যুনালে জয়নুল আবেদীন বলেন, ১৫ সাক্ষীর জবানবন্দী  গ্রহণ বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল রায়ে বলেছেন তারা প্রসিকিউশনের বর্ণিত কারনে ইতোমধ্যে সন্তুষ্ট। এসময় বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, আইনের ১৯ (২) ধারা মোতাবেক সন্তুষ্ট। তা নাহলে তো আদাশেই দেয়া যেতনা। জয়নুল আবেদন বলেন, কিন্তু আমরা এখানে সাক্ষীদের যে সাক্ষাৎকার দেখলাম তাতে যা দেখানো হল তাতে তো প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

খন্দকার মাহবুব হোসেন:  তিনি ট্রাইব্যুনারে বলেন, সরকার কি গরিব হয়ে গেছে যে টাকা খরচ করে সাক্ষী আনা যাবেনা? জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক কোন আইনেই জেরা ছাড়া সাক্ষ্য গ্রহন করা হয়না। অনেক সময় সাক্ষী তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেয়া বক্তব্য অস্বীকার করে। 


রিভিউ পিটিশন বিষয়ে  ট্রাইব্যুনালে ব্যারিস্টার রাজ্জাকের  যুক্তি:
৪৬ সাক্ষী হাজির না করা বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের দরখাস্তে যেসব কারণ উল্লেখ করা হয়েছিল প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তাতে কারো কারো ক্ষেত্রে বলা হয়েছিল গুরুতর অসুস্থ, কেউ  পলাতক, কেউ নিখোঁজ, কেউ ভারতে পালিয়ে গেছে, কেউবা মাওলানা সাঈদীর সন্ত্রাসীদের  ভয়ে বাড়িছাড়া।

উষারানী মালাকার সম্পর্কে বলা হয়েছিল তিনি অসুস্থ, স্মৃতিশক্তি লোপ পেয়েছে এবং ভ্রমনে মৃত্যু ঝুকি রয়েছে।  গতকাল   উষারানাী মালাকারের সাক্ষাৎকার দেখানো হয় ট্রাইব্যুনালের পর্দায়।  দিগন্ত টেলিভিশন এবং ইসলামিক টেলিভিশনে একটি সাক্ষাৎকার ভিত্তিক প্রতিবেদন দেখানো হয়। ডিফেন্স টিম এর সিডি ট্রাইব্যুানলে জমা দিয়েছেন। এতে  দেখানো হয়  উষারানী মালাকার সুস্থ এবং টিভিতে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন। তিনি বলছেন তিনি মাওলানা সাঈদীকে চেনননা। সাঈদীর বিরুদ্ধে তিনি কিছু বলেছিলেন কিনা এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে বারবার না না বলছেন তিনি। এছাড়া গণেষ চন্দ্র নামে আরেক সাক্ষী বলেন তিনিও মাওলানা সাঈদীকে চেনননা। তার মাকে  সাঈদী নন পাক আর্মিরা নির্যাতন

করেছেন। তার মায়ের  নাম বেইচ্চা  কেউ কেউ খাচ্ছে।  আর তারা পথে পথে ভিক্ষা করছেন।  সুখরাঞ্জন বালী নামে ১৫ সাক্ষীর আরেকজন জানান তিনি মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে কোন কিছু মিথ্যা বলেননি।
ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, সাক্ষী হাজির করতে না পারা বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা যেসব কারণ উল্লেখ করেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।  এ বিষয়ে  আমরা  প্রমান সংগ্রহ করেছি। তিনি বলেন,  আশিষ কুমার,  সুমতি রানী, সমর মিস্ত্রি  এ তিন জন সাক্ষী নিখোঁজ এবং ভারতে পালিয়ে   গেছে বলে বলা হয়েছে  । কিন্তু  আমরা তথ্য সংগ্রহ করেছি তারা দুই দফায়  ৪৭ দিন পর্যন্ত সেফ হাউজে প্রসিকিউশনেরই  হেফাজতে ছিল।

মাওলানা সাঈদীর ভয়ে বাড়িছাড়া বলা হয়েছে যাদের সম্পর্কে তাদের মধ্যে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন তারা বাড়িতে আছেন এবং কেউ কেউ ঢাকায় সেফ হাউজে ছিল প্রসিকিউশনের হেফাজতে। এমনকি তাদেরকে  ট্রাইব্যুনালে  প্রসিকিউশনের রুমে পর্যন্ত আনা হয়েছিল।

ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, আপনার এ অভিযোগের ভিত্তি কি। ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন একজন সাংবাদিক অনুসন্ধানী রিপোর্ট করেছেন। তিনি সেফ  হাউজে গেছেন এবং রেজিষ্ট্রেশন খাতায় বর্ণিত তথ্য উল্লেখ করেছেন। কোন সাক্ষী কত তারিখে সেফ হাউজে আনা হয়েছে, কবে তারা বাড়ি গেছে তার সব রেকর্ড রেজিস্ট্রার খাতায় আছে। গত ১২ এপ্রিল  দৈনিক আমার দেশ  পত্রিকায় এ বিষয়ে  প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তিনি পত্রিকা থেকে রিপোর্টের হেডলাইন পড়ে শোনান ।
বিচারপতি জহির আহমেদ বলেন উষারানী মালাকার সম্পর্কে প্রসিকিউশন থেকে বলা হয়েছিল তিনি  সয্যাশায়ী । অথচ আপনারা দেখালেন তিনি কথা বলছেন। টিভিতে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।  তাছাড়া তিনজন সাক্ষী সম্পর্কে  প্রসিকিউশন ফেব্রুয়ারি মাসে  বলেছিলেন তারা নিখোজ। তাদের কোন খোঁজ তারা পাচ্ছেননা। অথচ আপনি বললেন তারা ১৬ মার্চ সেফ হাউজে তাদেরই হেফাজতে ছিলেন। এটা তো অবিশ্বাস্য। মারাত্মক অভিযোগ। প্রসিকিউশন এ দুটি অভিযোগ বিষয়ে জবাব দিক।

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আইনের ১৯ (২) ধারায়  দুট অংশ আছে। প্রথম অংশ বলা হয়েছে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে সাক্ষী জবানবন্দী দিলে তা আদালত গ্রহণ করতে পারবে।  দ্বিতীয় অংশে বলা হয়েছে সাক্ষী হাজির করা যদি দূরুহ, সময় সাপেক্ষ এবং ব্যায়বহুল হয় এবং এভাবে সাক্ষী হাজির করা যদি অযৌক্তিক মনে করে কোর্ট তাহলে তাদের জবানবন্দী সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা যায় তাদের অনুপস্থিতিতে। কিন্তু  আমি প্রমান দেব  ঐসব সাক্ষী তদন্ত কর্মকর্তার কাছে কোন জবানবন্দীই দেননি। সুতরাং  ১৯ (২) আইনের প্রথম অংশ চলে গেল। ং ১৯ (২) ধারার যাত্রাই  শুরু হতে পারেনা যদি সাক্ষীরা তার কাছে কোন জবানবন্দী না দেন। । সুতরাং আইনের প্রথম অংশের প্রয়োগ  অকার্যকর হয়ে গেলে দ্বিতীয় অংশও অবান্তর হয়ে যায়।
আমাদের কাছে প্রমান আছে সাক্ষী হাজির করতে না পারা বিষয়ে যে কারণ দেখিয়েছেন  তদন্ত কর্মকর্তা এবং প্রসিকিউশন তা মিথ্যা।
ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, আপনারা ধরে নিয়েছেন এ ১৫ জন সাক্ষী তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জবানবন্দী দিয়েছেন। এটি ধরে নিতে হলে তদন্ত কর্মকর্তাকে ডকে এসে বলতে হবে তিনি তাদের কাছে গিয়েছিলেন। তাতো হয়নি।
এসময়  ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক কোন ডাক্তারি  পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট যখন আদালত গ্রহণ করে তখন কিন্তু ডাক্তার  আসেনা। ধরে নেয়া হয় এটি ডাক্তারের রিপোর্ট। পরে যদি 

প্রমান হয় তারা তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জবানবন্দী দেননি তা  বাতিল হবে পরে।  এখানেও যদি প্রমান হয় তাদের জবানবন্দী মিথ্যা তা বাতিল হবে। কিন্তু  তারা তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জবানবন্দী দিয়েছেন এটি ধরে নিয়ে তা গ্রহণ করা যাবেনা তা ঠিক নয়। এটি বেআইনী হয়নি।

এরপর ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, আমি আপনাদের দেখাব কিভাবে তদন্ত কর্মকর্তা  আপনাদের প্রতারিত করেছেন। তিনি বলেন আপনারা তো চাননা আমরা আপনাদের প্রতারিত করি। দি ইনভেস্টিগেশন অফিসার হ্যাজ কমিটেড ফ্রড ইন দিজ কোর্ট।
কয়েকজন সাক্ষীর জবানবন্দী বিষয়ে ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন হুবহু কপি পেস্ট করে একজনের বক্তব্য আরেক জনের নামে চালিয়ে দেয়া হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রতরানার অভিযোগ  এনে ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, তিনি একজন সম্মানিত লোক। সেক্স পিয়ারের জুলিয়ান সিজার নাটকে যে অর্থে এন্টনি জুলিয়াস সিজারের হত্যাকারীদের সম্মানিত বলে  আখ্যায়িত করেছিলেন আমি সেই অর্থে তাকে সম্মানিত বলেছি।


অনুপস্থিত ১৫ সাক্ষীর জবানবন্দী সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ

মেহেদী হাসান, ২৯/৩/২০১২, বৃহষ্পতিবার
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে ১৫ জন সাক্ষী  তদন্ত কর্মকর্তার কাছে যে জবানবন্দী দিয়েছেন তা তাদের অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ  করেছেন ট্রাইব্যুনাল। আজ ট্রাইব্যুনালে আদেশ দেয়া হয়েছে।

সাক্ষীর অনুপস্থিতিতে জবানবন্দীকে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করাকে নজীরবিহীন আখ্যায়িত করছেন  মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী মিজানুল ইসলাম। তিনি বলেন,  পৃথিবীর ইতিহাসে এ ধরণের নজির নেই যে পুলিশের কাছে দেয়া সাক্ষ্যকে জবানবন্দি হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

গত ২০ মার্চ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে একটি আবেদন পেশ করা হয়। আবেদনে বলা হয়  মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে  ৪৬ জন  সাক্ষীকে  হাজির করা আদৌ সম্ভব নয়। তাই  ৪৬ জন সাক্ষী  তদন্ত কর্মকর্তার কাছে যে  জবানবন্দী  দিয়েছেন তা  তাদের অনুপস্থিতিতে আদালতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহন করা হোক।

আবেদনে ৪৬ জন সাক্ষীর  মধ্যে ১৯ জনকে ঘটনার সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ১৯ জন সাক্ষীর মধ্য থেকে ১৫ জনের জবানবন্দী সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হবে মর্মে গতকাল ট্রাইব্যুনাল আদেশ দিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের দরখাস্তে ১৯ জন ঘটনার সাক্ষী হাজির করতে না পারা বিষয়ে বিভিন্ন কারণ  উল্লেখ করা হয়েছিল।  এদের মধ্যে পাঁচজনকে হাজির করতে না পারা বিষয়ে বলা হয়েছে তারা নিখোঁজ।  ১৪জনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। মাওলানা সাঈদীর পক্ষের অস্ত্রধারীদের হুমকির কারনে  তারা আত্মগোপন করেছে।  নিখেঁাঁজ  পাঁচ জনের তিনজন গোপনে ভারতে পালিয়ে গেছে। এছাড়া একজনের স্মৃতিশক্তি লোপ পেয়েছে এবং বয়স ও অসুস্থতাজনিত কারনে ভ্রমনে মৃত্যুর ঝুকি রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালত যে ১৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দী সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন এরা হলেন, ঊষারানী মালাকার,

সুখরঞ্জন বালী, আশিষ কুমার মন্ডল, সুমীত রানী মন্ডল, সমর মিস্ত্রী, সুরেষ চন্দ্র মন্ডল, গণেশ চন্দ্র সাহা, শহিদুল ইসলাম খান সেলিম, আইউব আলী হাওলাদার, সিতারা বেগম, রানী বেগম, মো: মোস্তফা, আব্দুল লতিফ হাওলাদার, অনিল চন্দ্র মন্ডল এবং  অজিত কুমার শীল। 
১৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দী  তাদের অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহন বিষয়ক আদেশে ট্রাইব্যুনাল বলেন, তাদের  হাজির না করা বিষয়ে প্রসিকিউশন যে কারণ  দেখিয়েছে তা সন্তোষজনক ।   এছাড়া অন্য সাক্ষীদের জবানবন্দী   সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহনের আবেদন বাতিল করা হল।

ট্রাইব্যুনাল আদেশে বলেন,  তদন্ত কর্মকর্তার দুটি রিপোর্ট হাজির করে প্রসিকিউটর সঠিকভাবে বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন যে, একজন সাক্ষী গুরুতর অসুস্থ এবং তার পক্ষে ঢাকায় ভ্রমন করা দুরুহ ব্যাপার।

সাঈদীর পক্ষাবলম্বনকারী অস্ত্রধারী গ্রুপ কর্তৃক অন্যান্য  সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখানো এবং বাড়ি থেকে পলায়নে বাধ্য করা বিষয়ে  বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা যে রিপোর্ট দিয়েছেন তাও সন্তোষজনক  হিসেবে আখ্যায়িত করেন ট্রাইব্যুনাল।
ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, “এর প্রেক্ষিতে  আমরা ১৫ জন সাক্ষী তদন্ত কর্মকর্তার কাছে যে জবানবন্দী দিয়েছেন তা এভিডেন্স হিসেবে গ্রহনের আদেশ দিচ্ছি।”

ট্রাইব্যুনাল তার পর্যবেক্ষনে বলেন, আমরা বুঝতে পেরেছি  অভিযুক্তের পক্ষে লোকজন সাক্ষীদের সাথে কথা বলছেন। তারা শুধু কথাই বলছেননা বরং তারা যাতে সাক্ষী দিতে না আসেন সে বিষয়ে ভয়ভীতিও প্রদর্শন করছেন। দৈনিক নয়া দিগন্ত  পত্রিকার সংশ্লিষ্ট রিপোর্টারকে সতর্ক করার সময় ট্রাইব্যুনাল এ পর্যবেক্ষনমূলক মন্তব্য করেন।
ট্রাইব্যুনাল আদেশে আরো বলেন, যে ১৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দী সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হল তা জেরা ছাড়া গ্রহণ করা হয়েছে সেটি ট্রাইব্যুনাল মনে রাখবে এবং জেরা ছাড়া এ জবানবন্দী কতটুকু মূল্য বহন করে তাও মাথায় রাখা হবে।

৪৬ অনুপস্থিত সাক্ষীর  জবানবন্দী সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করার আবেদনের ওপর গত ২৭ মার্চ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী  সৈয়দ হায়দার আলী  বক্তব্য উপস্থাপন  করেন।  বক্তব্যে সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখানো, খুন জখমের হুমকি দেয়ার অভিযোগ করা হয়। এসব কারনে  সাক্ষী   খুঁজে না পাওয়া, আত্মগোপনে চলে  যাওয়ার কথা জানান তিনি। এছাড়া  একজন সাক্ষীর অসুস্থতার তথ্য তুলে ধরেন। 

এ আবেদনের বিরোধীতা করে আসামী পক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক ২৮ মার্চ যুক্তি উপস্থাপন করেন। তিনি অভিযোগ করেন মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে রাজি না হওয়ায় প্রসিকিউশন সাক্ষী আনতে পারেনি। অনুপস্থিত এসব সাক্ষীর যে জবানবন্দী জমা দেয়া হয়েছে তা তদন্ত কর্মকর্তার মনগড়া বক্তব্য। সাক্ষী হাজির না করা বিষয়ে  রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী যে কারণ দেখিয়েছেন তা বানোয়াট এবং বাস্তবতা বিবর্জিত। এর পক্ষে তারা কোন  প্রমান হাজির করতে পারেননি এবং আইনেরও বিরোধী এ আবেদন।
          ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক আদালতে  কয়েকজন সাক্ষীর বিষয়ে তথ্য উপস্থাপন করে বলেন, তারা এলাকায় আছেন, স্বাভাবিক কাজকর্ম করছেন। তাছাড়া শাহরিয়ার কবির, জাফর ইকবাল, জুয়েল আইচ, মেজর জিয়াউদ্দিন এর মত নেতৃস্থানীয় সাক্ষীগন কেন আসবেননা সে বিষয়ে কারণ দেখাতেও ব্যর্থ হয়েছেন। 

আসামী পক্ষের আইনজীবীর প্রতিক্রিয়া:
মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালের আদেশ শেষে সাংবাদিককদের বলেন,  পুলিশের বক্তব্য গ্রহণ করে ১৫ জনের জবানবন্দী ট্রাইব্যুনাল সাক্ষী হিসেবে গ্রহণ করেছে। প্রসিকিউশনের আবেদনটি ছিল একটি  জংলী আবেদন। আমরা  আগেই বলেছি এ

ধরনের আবেদন গ্রহণ করা হলে  ন্যায় বিচারের কবর রচিত হবে।  ট্রাইব্যুনাল আমাদের বক্তব্য গ্রহণ না করে প্রসিকিউশনের বক্তব্য গ্রহণ করে ১৫ সাক্ষীর পুলিশের তৈরি করা জবানবন্দী গ্রহণ করেছে। পৃথিবীর ইতিহাসে এ ধরণের নজির নেই যে, পুলিশের কাছে দেয়া সাক্ষ্যকে জবানবন্দি হিসেবে গ্রহণ করা হয়। পুলিশের আচার আচরণ স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করা হয়না। এ বিষয়ে তিনি শাহরিয়ার কবিরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা তাকে সাক্ষি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।  অথচ দৈনিক জনতা পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্টে শাহরিয়ার কবির বলেছেন, তিনি  পুলিশ কর্মকর্তার কাছে জবানবন্দি দেননি।  তদন্ত কর্মকর্তা মিথ্যা বলেছেন। শাহরিয়ার কবির বলেছেন, তিনি মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে কোন সাক্ষী নন। 
মিজানুল ইসলাম বলেন, তিনি আরো বলেন, তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য সাক্ষী হিসেবে গ্রহণ করা হলে ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার ছাড়া অন্য কিছু পাওয়ার সুযোগ নেই।

ট্রাইবুনালের এই আদেশের বিরুদ্ধে আমাদের উচ্চ আদালতে যাওয়ার এই মুহুর্তে সুযোগ নেই। তবে এই আদেশের বিরুদ্ধে আমরা রিভিউ (পুনঃবিবেচনা) আবেদন করব। তিনি বলেন, মিথ্যা বানোয়াট এবং যা হয়নি তা দিয়ে সাক্ষীদের নামে জবানবন্দী  তৈরি করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা যে মনগড়া  বক্তব্য সাজিয়ে জবানবন্দী তৈরি করেছেন তার প্রমান আমরা আগেও পেয়েছি। পূর্বের অনেক সাক্ষী বলেছেন তারা এ তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জবানবন্দী দেননি।  তিনি আরো বলেন, ট্রাইব্যুনালের এই আদেশ বহাল থাকলে ন্যায় বিচার পাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই।


          নয়া দিগন্তকে সতর্ক করল ট্রাইব্যুনাল:
          গত ২৭ মার্চ দৈনিক নয়া দিগন্তে প্রকাশিত “মা বলেছেন, মরার আগে হুজুরের বিরুদ্ধে মিথ্যা বলতে পারবনা। সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে রাজি না হওয়ায় হাজির করা গেলনা সাক্ষীদের” রিপোর্ট বিষয়ে আজ ট্রাইব্যুনাল বলেছেন এটি অতিশয় অবমাননাকর। আমরা এ রিপোর্টের কারনে নয়া দিগন্ত কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট রিপোর্টারের প্রতি নোটিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তবে  ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের আবেদনের প্রেক্ষিতে আমরা পক্ষকে নোটিশ পাঠানো থেকে বিরত থাকলাম।

          ট্রাইব্যুনাল বলেন, বিচারাধীন বিষয়ে একজন সাংবাদিক কিভাবে সাক্ষীর সাথে কথা বলে রিপোর্ট করেন  তা ভেবে আমরা বিস্মিত। নয়া দিগন্তের সাংবাদিক সাক্ষীর কাছে গিয়ে কথা বলেছেন এবং সাক্ষী তদন্ত কর্মকর্তার কাছে যে কথা  বলেছেন তা ছেপে দিয়েছেন। ডিটেইলস রিপোর্ট করেছেন। দৈনিক নয়া দিগন্তের সংশ্লিষ্ট রিপোর্টারকে সতর্ক করে দিয়ে বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, আমি তার নাম বলতে চাইনা।  তিনি বলেন, এ ধরনের  রিপোর্ট  ট্রাইব্যুনালের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় ।      বিচরাধীন বিষয়ে রিপোর্ট করার ক্ষেত্রে আরো  সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।