সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী : রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী : রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ১৩ মে, ২০১৩

আসামীর নামও উচ্চারন করলেননা সাক্ষী


 মেহেদী হাসান
সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে গতকাল ৩৪ তম সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। সাক্ষীর নাম দ্বিজন কৃষ্ণ চৌধুরী (৫৮)। তবে সাক্ষী সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে  কোন অভিযোগ করেননি এমনকি আসামীর নামও উচ্চারন করেননি। তাই আসামী পক্ষ থেকে তাকে জেরাও করা হয়নি।

জবানবন্দী :
আমার নাম দ্বিজয় কৃঞ্চ চৌধূরী, আমার বয়স-৫৮ বৎসর, আমার ঠিকানা-জগৎমল্লপাড়া, থানা-রাউজান, জেলা-চট্টগ্রাম।
১৯৭১ সালে আমার বয়স ছিল প্রায় ১৬ বৎসর। তখন আমি এস,এস,সি, পরীক্ষার্থী ছিলাম। আমি বর্তমানে রাঙ্গামাটিতে ডাক বিভাগে চাকুরী করি। ১৯৭১ সালের ১৩ই এপ্রিল তারিখে বেলা আনুমানিক ৯.০০/১০.০০টার সময় আমাদের বাড়ির পশ্চিম দিক থেকে গোলাগুলির শব্দ শুনতে পাই। গোলাগুলির শব্দ শুনে আমার বাবা-মা, ভাই ও বৌদি সহ আমরা ডাবুয়ায় আমার খালা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিই। যাওয়ার পথে কিছুদূর যাওয়ার পর আমাদের বাড়ির দিকে গোলাগুলির শব্দ শুনতে পাই। লোকমুখে শুনতে পাই স্থানীয় কিছু রাজাকার, আলবদরের লোকজন এবং পাক অর্মিরা এসে শান্তি মিটিংয়ের নাম করে আমাদের বাড়ির পাশে কিরণ বিকাশ চৌধূরী ও সুরেন্দ্র বাবুর বাড়ির উঠানে লোকজন জড়ো করে এবং ব্রাশ ফায়ার করে ৩০/৩২জন মানুষ হত্যা করে। ২/৩দিন পরে বড়–য়া পাড়ার লোকজন এসে কিরণ বিকাশ চৌধূরীর বাড়ির উঠানের পাশে লাশগুলি গণকবর দেয়। পরে আমরা ভারতে চলে যাই। পরে আমরা আরো জানতে পারি যে আমাদের গ্রামের তিনজন বিজয় কৃঞ্চ চৌধূরী, বিধু ভূষণ চৌধূরী এবং ধীরেন্দ্র চৌধূরীকে ধরে ডাবুয়া খালের পাড়ে নিয়ে জবাই করে হত্যা করে। দেশ স্বাধীনের পর দেশে ফিরে আসার পর জানতে পারি যে নিহতদের হাড় গোড় গণকবর থেকে উঠিয়ে স্থানীয় শ্মশানে হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাহ করা হয়। যে স্থানে গণকবর দেওয়া হয়েছিল সেখানে স্মৃতিসৌধ তৈরী করে নিহতদের নাম লেখা হয়েছে। আমি তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট জবানবন্দী প্রদান করেছি।



বৃহস্পতিবার, ২ মে, ২০১৩

সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে জেরা ছাড়াই সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ এক সাক্ষীর।

Mehedy Hasan, 2/5/2013
সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে আজ  ৩২ তম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন বাসন্তি ঘোষ (৬৫)। তবে তিনি তার জবানবন্দীতে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নামও উচ্চারন করেননি । তাই তাকে জেরা করা থেকে বিরত থাকেন সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবী । সাক্ষী বাসন্তি ঘোষ তার জবানবন্দীতে বলেন, ১৯৭১ সালের একদিন তার স্বামী মনরঞ্জন ঘোষ বাজার থেকে আসার পর তাদের বাড়িতে একজন আর্মি এবং মিলিটারি এবং একজন বাঙ্গালী আসে। তারা তার স্বামীকে ধরে নিয়ে যায়। তিনি এসময় তার স্বামীকে ঝাপটে ধরলে তাকে মারধোর করা হয়। তার স্বামীকে নিয়ে যাওয়া হয় খিতিশ মহাজানের বাড়ি। সেখানে অনেকের সাথে তার স্বামীকেও হত্যা করা হয়। দুইদিন পর স্বামীর এক ভাই তার স্বামীর লাশ বাড়িতে নিয়ে আসে।

মঙ্গলবার, ৩০ এপ্রিল, ২০১৩

সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে ৩১তম সাক্ষীর জেরা

মেহেদী হাসান, ৩০/৪/২০১৩
বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে ৩১ তম সাক্ষী সুজিত মহাজনকে আজ জেরা করেন অ্যাডভোকেট আহসানুল হক হেনা। ২৯ এপ্রিল তর জবানবন্দী গ্রহণ করা হয়।  আজ জেরায় বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে সাক্ষী যে উত্তর দেন তা এখানে তুলে ধরা হল। 

আমি গৌরী শংকর বাজারে ছোটখাট মুদির দোকানদারী করি, আমি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়েছি। আমাদের এলাকাটি পৌর এলাকার বাইরে বিধায় ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। ১৯৭১ সালে হাফিজ বজলুর রহমান সড়ক থেকে আমাদের বাড়ীতে যাওয়ার পথে দোকানপাট ছিল। কাপ্তাই রোডটি দুই পার্শ্বের জমি থেকে উঁচু। গৌরী শংকর বাজারটি আমার বাড়ী থেকে উত্তর পার্শ্বে কোয়ার্টার কিলোমিটার দূরে। ১৯৭১ সালে রাউজান সদর এবং গহিরায় যেতে হলে হাফিজ বজলুর রহমান সড়ক দিয়ে যেতে হতো কিনা তাহা আমি জানিনা। আমাদের বাড়ী থেকে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী সাহেবের বাড়ীর দূরত্ব সড়ক পথে আনুমানিক ১২ কিলোমিটার হবে। আমাদের বাড়ী থেকে হাফিজ বজলুর রহমান সড়ক দেখা যায়।
ঘটনার দিন আর্মিরা পশ্চিম দিক থেকে এসেছিল। ঘটনার দিন আমি কোন আর্মির গাড়ি দেখিনাই। আমার বাড়ির পূর্ব পার্শ্বে চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ অবস্থিত যার সোজাসুজি দূরত্ব হবে আধা কিলোমিটার। উল্লেখিত ঘটনার পূর্বে আর্মিরা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ দখল করে নিয়েছিল ১১ই এপ্রিল ১৯৭১ তারিখে। আমরা মোট ৫ ভাই ১ বোন, তার মধ্যে বড় ভাই আমার বৈমাত্রের ভাই। তার নাম রঞ্জিত দ্বিতীয় বিবাহ করেন। আমার বোন বয়সে আমার চেয়ে ছোট। আমার বোন ১৯৭১ সালে বিবাহিতা ছিলনা। আমার পিতার মৃত্যুর সময়ে আমাদের জায়গা জমি ছিল। বাড়ীর ভিটা সব মিলিয়ে দুই/আড়াই কানি জমি ছিল। বর্তমানেও একই পরিমান জমি আছে। আমি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ওয়ারিশান সার্টিফিকেট নিইনাই। আমার দরকার না হওয়ায় সাকসেশন সার্টিফিকেট নিইনাই। ১৯৭১ সালে আমার পিতার নামে ব্যাংকে কোন একাউন্ট ছিলনা। চট্টগ্রামে যারা সুদের ব্যবসা করে তাদের মহাজন বলা হয় কিনা তাহা আমি জানিনা। আমাদের বাড়ী থেকে রাউজান থানার দূরত্ব আনুমানিক ৮ কিঃ মিঃ হবে। দেশ স্বাধীনের আগে বা পরে আমি বা আমার আত্মীয় স্বজন আমার পিতা ও বড় ভাইয়ের হত্যাকান্ডের বিষয়ে কোন মামলা করিনাই। আমাদের উনসত্তর পাড়ায় একটি মন্দিও আছে। ১৯৭১ সালে ঐ মন্দিরের পুরোহিত ছিলেন দেবেন্দ্র চক্রবর্তী, কৃঞ্চচন্দ্র ভট্টাচার্য কৃঞ্চচন্দ্র ৬৯ পাড়ায় হত্যাকান্ডের ব্যাপাওে রাউজান থানার মামলা নং-২২, তারিখ ২০-০২-১৯৭২, ধারা ঃ ৩০২/৩৭৬ দঃ বিঃ তৎসহ দালাল আইনের ১১ ধারার আসামী লেঃ কর্ণেল ফাতেমী (পাকিস্তান আর্মি), আব্দুর রাজ্জাক মকবুল আহম্মদ, মোঃ ইউসুফ, জহির আহম্মদ, পিয়ারু মিয়া, মবকুল এবং ফজর আলীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন কিনাতাহা আমি জানিনা। উল্লেখিথ মামলার বিষয়ে জেনেও আমি তথ্য গোপন করছি, ইহা সত্য নহে। ১৯৭১ সালের ১৩ই এপ্রিল তারিখে উনসত্তরপাড়ায় কোন ঘটনা ঘটে নাই, ইহা সত্য নহে। বর্ণিত ঘটনার এক সপ্তাহের মধ্যে উনসত্তরপাড়ায় পাকিস্তান আর্মিরা গিয়েছিল কিনা তাহা আমার জানা নাই। বর্ণিত ঘটনার দিন পাকিস্তান আর্মিরা কোন মহিলাকে হত্যা করেছিল কিনা তাহা আমি জানিনা। ঘটনার দিন আমার মায়ের গুলি খাওয়ার কথা আমি তদন্তকারী কর্মকর্তাকে বলিনাই, ইহা সত্য নহে। ঘটনার প্রায় একঘন্টা পর আমার বৌদি, কাকিমা এবং বোনের সংগে দেখা হয়েছিল। তখন তারা আমাকে ঘটনার কথা বলে নাই, কারণ তখন মা আহত ছিল। আমাদের পাড়ার মধ্যে ঘটনার দিন আমার বর্ণিত জায়গা ছাড়া আমাদের পাড়ার মধ্যে অন্য কোন বাড়ীতে আমি কোন মৃতদেহ দেখিনাই। ১৯৭১ সাওেল উনসত্তর পাড়ার হাইস্কুলের হেডমাস্টার ছিলেন সম্ভবত পটল বড়–য়া, তদন্তকারী কর্মকর্তা আমাকে রাউজানস্থ পল্লী বিদ্যুতের কমপাউন্ডের ভিতওে একটি বিল্ডিংয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন, ঐ জবানবন্দী প্রদানের সময় আমার সংগে কেউ ছিলনা। ঐ দিন আমি সেখানে হাইস্কুলের কোন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে দেখিনাই। ১৯৭১ সালে আমার বাড়ী থেকে সবচেয়ে নিকটতম মসজিদেও দূরত্ব ছিল প্রায় এক কিলোমিটার। হাইস্কুলের উত্তর পার্শ্বে রাস্তা আছে ১৯৭১ সালে হাফিজ বজলুর রহমান সড়ক থেকে আমাদের বাড়ী পর্যন্ত গাড়ি যেত, রোডটি আমাদের বাড়ীর সংলগ্ন, ক্ষিতিশ মহাজনের বাড়ী ও আমাদের বাড়ী পাশাপাশি। উল্লেখিত ঘটনার দিন তার বাড়ীর ভিতওে কোন হত্যাযজ্ঞ হয়নাই, পুকুর পাড়ে হয়েছিল, সে টিউবওয়েলের পাশে হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছিল সেই টিউবওয়েলটি আমাদের বাড়ীর ১০০ গজ পশ্চিমে ছিল। পুকুরপাড়টি টিউবওয়েল থেকে ১৫০ ফিট দূওে ছিল, ঘটনার পওে আমি  পুকুর পাড়ে যাইনাই। টিউবওয়েল থেকে সেই জায়গায় দেখা যাচ্ছিল। আমি গোলার পাশে লুকিয়ে থাকার কথা তদন্তকারী কর্মকর্তাকে বলি নাই, ইহা সত্য নহে। আমি যে ধানের গোলের পাশে লুকিয়ে ছিলাম তার দৈঘ্য প্রস্থ কত তাহা বলতে পারবনা। ঐ গোলার মধ্যে ৩০/৩৫ আড়ি ধান বা চাউল রাখা যেতো। আমার মা ১৯৯০ সালে মারা গেছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট জবানবন্দী দেওয়ার সময় আমার মা মৃত তাহা বলেছিলাম, তিনি লিখেছেন কিনা তাহা আমি জানিনা। আমি আমার মায়ের মৃত্যু সনদ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে গ্রহণ করিনাই। আমার মা ২০১১ সালে মারা গেছেন, ইহা সত্য নহে। আমার বৌদি মিনতি মহাজন এবং আমার বোন জীবিত আছে। ঐ কাকিমার ছেলে মেয়ে জীবিত আছে। আমার আহত মায়ের চিকিৎসার কোন সনদপত্র তদন্তকারী কর্মকর্তাকে প্রদান করিনাই। তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থল টিউবওয়েল ও পুকুরপাড় আমি দেখাইনাই। আমার মা আহত অবস্থায় যে জমিতে পড়েছিল, সেই জমিটি ক্ষিতিশ মহাজনের। আমার মা, বৌদি এবং কাকিমাকে পাকিস্তান আর্মিরা ধওে নিয়ে যাওয়া অসত্য, ইহা সত্য নহে। পাকিস্তান আর্মিরা যখন আমাদের পাড়ায় যায় তখন আমি আমাদের পাড়ায় হৈ চৈ শুনি নাই। হাফিজ বজলুর রহমান সড়কে ঘটনার সময় কোন লোকজন দৌরাদৌড়ি করেছিল কিনা তাহা আমি দেখিনাই। কারণ তখন আমি বাড়ীর মধ্যে ছিলাম। হাফিজ বজলুর রহমান সড়ক ১০০ গজ দূওে। আমার ঘর থেকে ক্ষিতিশ মহাজনের ঘরের দূরত্ব আনুমানিক ৩০/৩৫ ফিট দক্ষিনে। ঐ সময় বাড়ী থেকে ডাঃ টেইলরের মিশনারী হাসপাতালের দূরত্ব ঐ সময় আনুমানিক ১৭ মাইল ছিল। বাসে বা গাড়ীতে গেলে একঘন্টার মত সময় লাগে। আমি মহামনি নাম শুনেছি। আমার বাড়ী থেকে মহামনির দূরত্ব আনুমানিক দেড়মাইল দক্ষিনে। আমাদের গ্রাম থেকে মহামনি পর্যন্ত রিক্সা, বেবিটেক্সি এবং গাড়ী চলাচল করতো কিনা তাহা আমি জানি না। মহামনিতে একটি ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল হাসপাতাল এবং ডাঃ আব্দুল্লাহিল কাফি কর্মরত ছিল কিনা তাহা আমি জানিনা। ১৯৭১ সালে গৌরী শংকর হাটের দক্ষিণ পাশে কোন চেকপোষ্ট ছিল কিনা তাহা আমি জানিনা। উনসত্তর পাড়ায় চিতাখোলা পাড়ার কোন লোক মারা গেলে কোথায় তাদের দাহ করা হতো তাহা আমি জানিনা। হত্যাকান্ডের পর মৃতদেহগুলি কারা মাটিচাপা দিয়েছিল তাহা আমি জানিনা। ১৯৭১ সালে উনসত্তর পাড়ায় কতগুলি মুসলমান পরিবার ছিল তাহা আমি গণনা করিনাই, আন্দোজেও বলতে পারবনা। ক্ষিতিশ মহাজনের পুকুরপাড়ে ১৯৭১ সালে অনেকগুলি ঝোপ এবং বড়বড় গাছপালা ছিল। আমার পিতার চাচারা ৪ ভাই ছিলেন। আমার বাড়ী থেকে পশ্চিম-উত্তরে আধা কিলোমিটার দূরে কুমার পাড়া অবস্থিত শীলপাড়া এক কিলোমিটার থেকে কিছু কম হবে। ঘটনার দিন সন্ধ্যার পরে আমি শীল পাড়ায় গিয়েছিলাম। উনসত্তর পাড়া থেকে নিকটতম মুসলিম পাড়ার দূরত্ব এক কিলোমিটার। উনসত্তর পাড়ায় ১৯৭১ সালে মুসলি পরিবার বাস করতো। ডাক্তার নিরঞ্জন দত্ত গুপ্ত এর নাম শুনেছি। ঘটনার কয়েকদিন আগে আমাদের পাড়ায় হিন্দুরা অন্যত্র চলে গিয়েছিল শুনেছি। ডাক্তার নিরঞ্জন দত্ত গুপ্তের আহবানে পুনরায় সবাই ফিরে এসেছিল শুনেছি। পাকিস্তান আর্মিরা আমাদের পাড়ায় এক ঘন্টার মত ছিল। আর্মির ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার পর পুকুরপাড়ে বাহিরের কোন লোকজন এসেছিল কিনা তাহা আমি দেখিনাই। উনসত্তর পাড়া একটি গ্রাম। আমাদের বাবুল মালির নাম শুনেছিল তিনিও নিহত হয়েছিলেন। ক্ষিতিশ মহাজন আমার খুড়তাতো ভাই।
‘‘কিছুক্ষন পরে পশ্চিম দিক হতে পাকিস্তান জিন্দাবাদ, পাকিস্তান জিন্দাবাদ শ্লোগান শুনতে পাই” বা ‘‘আমি ভয়ে রান্না ঘরের পাশে ধানের গোলার পাশে লুকিয়ে থাকি ” বা ‘‘আমার বাবা এবং বড় ভাইকে ক্ষিতিশ মহাজনের পুকুরের উত্তর পাড়ে আরো অনেক লোকজন জড়ো করে ” বা ‘‘আমার মা হরিলতা মহাজনকে তখন গুলিবিদ্ধ আহত অবস্থায় পুকুড় পাড়ের পাশের একটি জমিতে পড়ে থাকতে দেখতে পাই। পশ্চিম দিকে তাকিয়ে দেখি ৬০/৬২ জন মানুষের লাশ পুকুরের উত্তর পাড়ে এবং কিছু পানিতে পড়ে আছে। তখন সন্ধ্যা প্রায় হয় হয় অবস্থায় আমি আমার আহত মাতাকে শীল পাড়ায় নিয়ে যাই। ঘটনার প্রায় দুই/তিন দিন পরে প্রতিবেশীরা পুকুরের পাড়ে গর্ত করে লাশগুলি মাটি চাপা দেয়। মাকে একটু সুস্থ করে তোলার পর তিন/চারদিন পর মায়ের নিকট থেকে জানতে পারি বাঙ্গালীদের মধ্যে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী সাহেব এবং তাহার সহযোগীরা ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। আহতদের মধ্যে জানতী বালা সহ আরও কয়েকজন ছিল। আমি পরবর্তীতে জানতে পেরেছি যে, একই দিনে মধ্য গহিরা, কুন্ডেশ্বরী, জগৎমল্লপাড়া, বণিক পাড়া, উনসত্তরপাড়াতে একই ভাবে পাকিস্তানী সৈন্যরা প্রায় দেড়শতাধিক সংখ্যালঘু লোককে গণহত্যা করেছে” একথাগুলি অসত্য এবং তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট বলিনাই, ইহা সত্য নহে। প্রসিকিউশনের শিখানো মতে আমি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী সাহেবের অত্র ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য প্রদান কররি, ইহা সত্য নহে। আমার মায়ের সাথে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী সাহেবের বন্ধুত্বছিল কিনা বা তাহার সহিত লেখাপড়া করতো কিনা তাহা আমি জানিনা। ১৯৭১ সালের আগে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী সাহেব কোন নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেছিল কিনা তাহা আমি জানিনা। আমার মা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী সাহেবকে চিনতেননা বা আমার মা আমাকে ঘটনার কথা বলেনাই, ইহা সত্য নহে। ঘটনার আগের আমাদের পাড়ায় হিন্দুরা পালিয়ে যাওয়ার সময় আমি তাদের সংগে পালিয়েছি বিধায় আমি ঘটনার সময় বাড়ীতে ছিলামনা, ইহা সত্য নহে। উনসত্তর পাড়ার ঘটনাটি ঘটেছিল ১৫ই এপ্রিল তারিখ, ১৩ ই এপ্রিল তারিখ, ইহা সত্য নহে। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী সাহেবের ১৬ই এপ্রিল তারিখে উনসত্তরপাড়ায় কোন ঘটনা ঘটেনাই, ইহা সত্য নহে। আমি হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের প্ররোচনায় মিথ্যা মামলার মিথ্যা সাক্ষ্য দিলাম, ইহা সত্য নহে।  

বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০১৩

সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে ৩০ তম সাক্ষীর জেরা সম্পন্ন

মেহেদী হাসান, ২৫/৪/২০১৩
গত বুধবার সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে ৩০ তম সাক্ষী নাজিম উদ্দিনের জবানবন্দী গ্রহণ করা হয়। আজ তাকে জেরা করে আইনজীবী আহসানুল হক হেনা।
জেরা :
প্রশ্ন : আপনি আপনার জবানবন্দীতে যা কিছু বলেছেন তা সব শোনা কথা।
উত্তর : সব শোনা কথা।
প্রশ্ন : আপনার ফুফার পিতা সোনা মিয়া ১৯৭২ সালে একটি মামলা করেছিল আপনার ফুফার  হত্যার বিচার চেয়ে তা জানেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : আমি বলছি ওই মামলায় সাতজন আসামী ছিল।  মামলার  এজাহার বা চার্জশিটে কোথাও সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নাম ছিলনা।
উত্তর : আমার জানা নেই।
প্রশ্ন : আপনি যে নামজমার কথা বলেছেন সেই নাজমাকে তার দুই সন্তানসহ মুক্তিযুদ্ধের সময় মেরে ফেলা হয়েছে।
উত্তর : হ্যা।
প্রশ্ন : নাজমা কোনদিন গুডসহিলে যায়নি।
প্রশ্ন : উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনি কোনদিন নাজমাকে দেখেছেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : আপনার ফুফাকে ধরে নিয়ে যাবার খবর আপনাদের বাড়িতে কে নিয়ে এসেছিল তার নাম বলতে পারবেন?
উত্তর : না।
আগামী সোমবার ৩১ তম সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহনের কথা রয়েছে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে।




বুধবার, ২৪ এপ্রিল, ২০১৩

সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুই সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ

মেহেদী হাসান, ২৪ এপ্রিল ২০১৩, ঢাকা :
বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে আজ ২৯ এবং ৩০ তম সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহন করা হয়েছে। এরা হলেন সুবল ও মো: নাজিম উদ্দিন।

সুবলের জবানবন্দী :
আমার নাম সুবল, আমার বয়স-৫১ বৎসর, আমার ঠিকানা-মধ্য গহিরা, থানা রাউজান, জেলা চট্টগ্রাম।
আমি গৃহস্থলি করি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বয়স ছিল ৯ বৎসর। ১৯৭১ সালে যখন যুদ্ধ শুরু হয় তখন চারিদিকে গোলাগুলি হচ্ছিল। তখন আমার বাবা আমাদেরকে বলেন বাড়িতে থাকা নিরাপদ নয়। তখন আমরা আমার বাবার সংগে আশ্রয়ের জন্য বিনাজুড়ির দিকে যাচ্ছিলাম। কিছুদুর যাওয়ার পর গোলাগুলির শব্দ শুনতে পাই। বাবা বললেন মনে হয় আমাদের বাড়ির দিকে গোলাগুলি হচ্ছে। তখন আমরা ঝোপের আড়ালে বাবা-মা সহ আশ্রয় নিই। ঝোপের আড়ালে আমরা ঘন্টা খানেক ছিলাম। আমার বাবা বললেন বাড়িতে কি ঘটনা হয়েছে দেখে আসা দরকার। তারপর আমরা বাবার সংগে বাড়িতে যাই। বাড়িতে গিেেয় দেখি উঠানে চারজনের গুলিবিদ্ধ লাশ পড়ে আছে এবং দুইজন আহত অবস্থায় কাতরাচ্ছে। আহত দুইজনের নাম জয়ন্ত ও মাখন লাল। নিহত চারজনের নাম যথা পঞ্চবালা, সুনিল, দুলাল এবং জ্যোতিলাল। লাশগুলি দেখার পর আমরা বাড়ি থেকে চলে যাই। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাড়িতে ফিরে এসে শুনেছি কাজী ফরিদ নাকি আমাদের পুকুর পাড়ে ঐ লাশগুলি মাটিচাপা দিয়েছে। আড়ি তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে জবানবন্দী দিয়েছি।


জেরা
জেরায় আইনজীবীর প্রশ্নের জবাবে সুবল যেসব উত্তর দিয়েছেন তা এখানে  তুলে ধরা হল।
নিহত দুলালের বাড়ি হাটহাজারী থানায়। তিনি মামা বাড়ি গহিরাতে থাকতেন। স্বাধীনতার পর আহত জয়ন্ত মারা হেছে। মাখনলাল কখন মারা যায় আমি জানিনা। ঘটনাস্থলটি উঠান। ঐ উঠান কত বড় আমি বলতে পারবনা। ঘটনার সময় আমার বয়স ছিল ৯ বৎসর। আমার জন্ম ১৯৬২ সালে, তবে কোন মাসে তাহা বলতে পারবনা। ঘটনাস্থল নাপিতপাড়ার মধ্যে অবস্থিত। রাঙ্গামাটি রোড থেকে নাপিতপাড়ার দূরত্ব আধা কিলোমিটার মত হবে। সেখানে গাড়ি চলাচলের রাস্তা আছে। গোলাগুলির শব্দ প্রায় দশ মিনিটের মত চলেছিল। আমি মেলিটারী চিনিনা, মুক্তিযোদ্ধাও চিনতামনা। ঘটনার প্রায় ঘন্টখানেক পরে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। আমাদের নাপিত পাড়ায় অনেক ঘরবাড়ি ছিল। প্রায় ১৫০ মত লোক সেখানে বসবাস করত। ঘটনাস্থল উঠানের পূর্ব ও পশ্চিম পার্শ্বে ঘরবাড়ি ছিল। আমরা ঘটনার পর যখন ঘটনাস্থলে যাই তখন পূর্ব ও পশ্চিম পার্শ্বে বসবাসকারী কোন লোকজনকে দেখিনাই। আমরা ছাড়া সেখানে কোন লোক দেখিনাই, সকলে ভয়ে পালিয়ে গিয়েছিল। নাপিতপাড়া থেকে মুসলিম পাড়ার দূরত্ব আনুমানিক পাঁচ কানি জমি দূরে। এই ঘটনার আগে অনেক লোক প্রাণের ভয়ে ভারতে পালিয়ে যায়, ইহা সত্য। ১৯৭১ সালের ১৩ই এপ্রিল তারিখে রাঙ্গামাটি রোডে আর্মিদের গাড়ি ছাড়া অন্য গাড়ি চলাচল করেছিল কিনা তাহা আমি বলতে পারবনা। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের প্ররোচনায় এই মিথ্যা মামলায় মিথ্যা স্যা দিলাম, ইহা সত্য নহে। আামার কথিত দিনে, কথিত সময়ে, কথিত প্রকারে কোন ঘটনা ঘটেনাই, ইহা সত্য নহে। (সমাপ্ত)



নাজিম উদ্দিনের জবানবন্দী :
আমার নাম মোঃ নাজিমুদ্দিন, আমার বয়স-৫৭ বৎসর, আমার ঠিকানা-কাশেম ফকিরের বাড়ি,  মধ্যম মাদার্শা, থানা হাটহাজারী, জেলা চট্টগ্রাম।
১৯৭১ সালে আমি ৮ম শ্রেণীর ছাত্র ছিলাম। ১৯৭০ সালে আমার ফুফু নূর বেগমের সাথে রাউজান থানাধীন কর্তার দীঘির পাড় পথের হাট গ্রামের হানিফের বিবাহ হয়।  ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হল আমার ফুফা আমার ফুফুকে নিয়ে আমাদের বাড়িতে  চলে আসেন। মুন্সি ও ফয়েজ নামে ফুফার দুইজন বন্ধু আমাদের বাড়িতে আসা যাওয়া করতোএবং তার সংগে কথাবার্তা বলত। কথাবার্তা বলার পরে একদিন আমার ফুফা আমার ফুফুকে নিয়ে তার নিজ বাড়িতে চলে যান। ১৯৭১ সালের মে মাসের ২০ তারিখের দিকে আমরা খবর পাই যে আমার ফুপাকে পাকিস্তান আর্মিরা ধরে নিয়ে গেছে। এই সংবাদ পাওয়ার পরে পরের দিন আমার নান আব্দুল কুদ্দুস, চাচা আব্দুল করিম সহ ফুফুকে আনতে ফুফার বাড়িতে যাই। সেখানে যাওয়ার পরে শুনলাম ফয়েজ আহম্মদ এবং মুন্সি মিয়া রাজাকার ও  পাকিস্তান আর্মি সহ এসে আমার  ফুপাকে ধরে নিয়ে গেছে। আমি আরো শুনেছি  আমার  ফুপাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় রাজাকার ও আর্মিদের সংগে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী সাহেব গাড়িতে ছিলেন। ফুফা হানিফের পিতা সোনা মিয়া সওদাগর আন্ধার মানিকের জনৈক নাজমা বেগমকে গুডস হিলে পাঠান আমার ফুফাকে উদ্ধার করার জন্য। অনেক চেষ্টা করার পর সেই মহিলা আমার ফুফাকে উদ্ধার করতে পারেননাই, তিনি গুডস হিলে আমার ফুফাকে অত্যাচার করতে দেখেছেন। আমার ফুফা আর কোনদিন ফেরত আসেননাই।  আমি অত্র মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট জবানবন্দী করেছি। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী সাহেবকে আমি চিনি, তিনি অদ্য ট্রাইব্যুনালের ডকে উপস্থিত আছেন।
আজ নাজিম উদ্দিনকে একটি প্রশ্নের মাধ্যমে জেরা শুরু করেন সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবী। এরপর বিচার কার্যক্রম মুলতবি করা  হয়।






সোমবার, ২২ অক্টোবর, ২০১২

সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে ১৫ তম সাক্ষী/// পরে জেনেছি এবং শুনেছি উনি ছিলেন সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী

বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের  চৌধুরীর বিরুদ্ধে ১৫ তম সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণ করা হয়েছে আজ। সাক্ষীর নাম নিজামউদ্দিন আহমেদ। বাড়ি লোহাগড়া।  ১৯৭১ সালে   তার বয়স ছিল ১৮ বছর এবং এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

সাক্ষী বলেন, মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়ার পর ৫ জুলাই হাজারি ইউনিয়নে অবস্থিত  তাদের ক্যাম্প থেকে তাকে এবং  তার দুজন সহযোদ্ধাকে  পাকিস্তানী সৈন্যরা ধরে নিয়ে যায়।  ধরে নিয়ে যাবার সময় পাকিস্তানী সৈন্যদের সাথে  তিন থেকে চারজন সাদা পোশাকের  স্মার্ট যুবক  ছিল। এরপর তাদেরকে গুডস হিলে নিয়ে যাওয়া হয়। গুডস হিলে নিয়ে নির্যাতন করা হয় । একদিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত নির্যাতন চলে। সাক্ষী বলেন, যারা আমার ওপর অত্যাচার করেছে তাদের কথাবার্তা শুনে মনে হয়েছে যারা আমাদেরকে ক্যাম্প থেকে ধরে  এনেছিল তাদের মধ্যে ফজলুল কাদের চৌধুরী সাহেবের এক ছেলে ছিল। পরে জেনেছি এবং শুনেছি উনি ছিলেন সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী। এ বিষয়ে আমি এবং অন্যরাও পত্রপত্রিকায় লিখেছি।
এছাড়া সাক্ষী তার বেশ লম্বা জবানবন্দীতে আর সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নাম বলেননি।

সাক্ষী জানান বেশ কয়েকদিন  গুডস হিলে, চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামে এবং ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে তাদের ওপর নির্যাতন চালানোর পর চট্টগ্রাম জেলে পাঠানো হয়। ১৮ নভেম্বর তিনি জেল থেকে মুক্তি পান। এরপর ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হয়।

জবানবন্দীর শুরুতে সাক্ষী বলেন তিনি পেশায় একজন সাংবাদিক। তবে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জবানবন্দী প্রদানের পর রয়টার্স থেকে তার চাকরি চলে যায়। বর্তমানে তিনি ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে কাজ করছেন।

জবানবন্দী শেষে সাক্ষীকে জেরা  শুরু করেন আসামী পক্ষের আইনজীবী আহসানুল হক হেনা। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সুলতান মাহমুদ সিমন সাক্ষীকে পরিচালনা করেন জবানবন্দী গ্রহনের সময়।

বুধবার, ৩ অক্টোবর, ২০১২

সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে ১৪ তম সাক্ষীর জেরা শষ


মেহেদী হাসান, ৩/১০/২০১২
বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে ১৪ তম সাক্ষীর জেরা আজ  শেষ হয়েছে। ১৪ তম সাক্ষী গোপাল চন্দ্র দাস গত মঙ্গলবার জবানবন্দী প্রদান করেন এবং ওই দিনই তার জেরা  শুরু হয়।
তাকে জেরা করেন সালাহউদ্দিন  কাদের চৌধুরীর আইনজীবী আহসানুল হক হেনা। তাকে সহায়তা করেন ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম, রেজাউল করিম প্রমুখ।

১৪ তম সাক্ষী তার জবানবন্দীতে ১৯৭১ সালে  চট্টগ্রামের গহিরায় আলোচিত নূতনচন্দ্র সিংহ হত্যাকান্ডের বর্ননা দেন একজন প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে।

জেরা : 
প্রশ্ন : আপনি  ব্রজহরি কর্মকারের রুম থেকে ঘটনা (নূতনচন্দ্র সিংহ হত্যাকান্ড) দেখেছিলেন  একথা  প্রফুল্ল বাবুকে  (নূতন চন্দ্রের ছেলে) বলেছিলেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : আপনি কবে ভারতে রওয়ান দেন এবং কবে পৌছান?
উত্তর : আমি ২৭শে এপ্রিল ১৯৭১ তারিখে ভারতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে ২৮শে এপ্রিল তারিখে ভারতে   পৌঁিছ।
প্রশ্ন :   ১৩ এপ্রিল  ঘটনার পর  ভারতে যাবার আগে   কুন্ডেশ্বরী ভবনে  গিয়েছিলেন?
উত্তর : ১৩ই এপ্রিল থেকে ২৭শে এপ্রিল তারিখে ভারতে যাওয়ার পথে কুন্ডেশ্বরী ভবনের সামনে আসা ব্যতীত অন্য কোন সময় আমি কুন্ডেশ্বরী ভবনের সামনে আসিনাই।
প্রশ্ন : আপনি ১৯৭১ সালে কোন সময় ভারতে যাননাই।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : স্বাধীনতার  পর কুন্ডেশ্বরী বালিকা মহা বিদ্যালয়ের দেয়ালে কোন গুলির দাগ দেখেছিলেন?
উত্তর : দেশ স্বাধীনের পর আমি যখন প্রথম কুন্ডেশ্বরী কমপ্লেক্স যাই তখন কুন্ডেশ্বরী বালিকা  মহাবিদ্যালয়ে কোন গুলির দাগ আমি দেখিনাই।
প্রশ্ন :  ৪১ (১) ৭২ নম্বরে নতুন চন্দ্র হত্যার ব্যাপারে  একটি মামলা হয়েছিল তা জানেন?
উত্তর :  জানি। এই মামালা দায়েরের সময় আমি গিয়েছিলাম।
প্রশ্ন : উক্ত মামলায় ফজলুল কাদের চৌধুরীকে আসামী করা হয়েছিল।
উত্তর : হ্যা।
প্রশ্ন : উক্ত মামলায় ২রা মে ১৯৮০ তারিখে সরকারের নির্দেশে পাবলিক প্রসিবিউটর মামলাটি উথড্রো করার আবেদন করিলে আসামীদেরকে খালাস দেয় হয় জানেন?
উত্তর : জানা নেই।
প্রশ্ন : সেই মামলাটি দায়ের করেছিলেন সত্য রঞ্জন সিংহ।
উত্তর : হ্যা।
প্রশ্ন : সে মামলার এজাহার পড়েছিলেন?
উত্তর : পড়েছিলাম  তবে মনে নাই।
প্রশ্ন : সত্য বাবুদের বাড়ি লুটপাট এবং গাড়ি লুটপাটের ব্যাপারে ৪২(১)৭২ নম্বরে অন্য কোন মামলা হয়েছিল তা জানেন?
উত্তর : জানা নেই।
প্রশ্ন :  উনাদের বাড়ি গাড়ি লুটপাট হয়েছিল  তা জানেন?
উত্তর :  জানা নেই।
প্রশ্ন :  ঐসকল মামলায় যে গোপাল চন্দ্র দাস সাী হয়েছিল আপনি সেই গোপাল চন্দ্র দাস নহেন।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন :  প্রশ্ন : পাকিস্তানি আর্মি প্রথমবার চলে যাওয়ার পর এবং পুনরায় ফিরে আসার মাঝে যে সময় সে সময়ের মধ্যে আপনি নূতন চন্দ্র বাবুর সাথে কথা বলেছিলেন?
উত্তর :  কথা বলার কোন সুযোগ পাইনাই। কারণ আমি ঐ সময় দোতলাতেই ছিলাম।
প্রশ্ন :  ঐ সময় দোতলার সমস্ত ক বন্ধ ছিল এবং সেই সব কে আমার ঢোকার কোন উপায় ছিলনা।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : ওই  বিল্ডিংয়ের দোতলার যে রুমে আপনি ছিলেন বলছেন  সেই রুম থেকে মন্দিরের সামনের অংশ দেখা যায়না।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন :  “ওই সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, ওই মাবুদ”  এই কথাগুলি তখন কে বলেছিল ?
উত্তর : তা আমি এখন  মনে করতে পারছিনা।
প্রশ্ন : এই কথাগুলি তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলার স্বার্থে আপনাকে শিখিয়ে দিয়েছে।
উত্তর :  সত্য নয়।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালের ১৩ই এপ্রিল তারিখে  কুন্ডেশ্বরী কমপ্লেক্স বা তার আশে পাশে কোথাও  আপনি ছিলেননা।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : একটি কুচক্রী মহল আপনাকে  ভারত থেকে ঢাকায় এনে একমাস রেখে শিখিয়ে এই ট্রাইব্যুনালে নিয়ে এসেছে অসত্য বক্তব্য প্রদানের জন্য।
উত্তর : সঠিক নয়।
প্রশ্ন :  ঘটনার দিন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী সাহেবের পাকিস্তানি আর্মির সংগে ঘটনাস্থলে যাওয়া এবং পিস্তল বা রিভলভার দিয়ে দুই/তিন রাউন্ড গুলি করা  অসত্য
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : কথিত সময়ে, কথিত দিনে, কথিত স্থানে, কথিত প্রকারে আপনি  কোন ঘটনা দেখেননাই এবং  কোন ঘটনা ঘটে নাই
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : “১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে আমার বয়স ৩৪/৩৫ বৎসর ছিল। আমি ১৯৬৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এম,এ, পাশ করেছি। এর আগে সংস্কৃত শাস্ত্রে কাব্য ব্যাকরণতীর্থ ও বিধ্যানীধি উপাধি লাভ করি। আমি বর্তমানে চিটাগং এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক যাহা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৮৭৫ সনে। ১৯৭১ সালে আমি কুন্ডেশ্বরী বালিকা মহাবিদ্যালয়ের অধ্য হিসাবে কর্মরত ছিলাম বা ঐ কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন অধ্য নতুন চন্দ্র সিংহ এবং আমি ছিলাম প্রতিষ্ঠাতা অধ্য। ১৯৭১ সাল ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সকলের নিকট একটি স্মরণীয় বছর। ১৯৭১ সালে কুন্ডেশ্বরী ভবনে একটি স্মরণীয় ঘটনা যা এ যুগের সবচেয়ে নিকৃষ্টতম ঘটনা বাংলাদেশে সংঘটিত হয়েছে বলে চট্টগ্রাম বাসী এবং বাংলাদেশের জনগণ জ্ঞাত আছেন বা ঐ দিনে কুন্ডেশ্বরী আয়ুর্বেদীয় ঔষধালয়, কুন্ডেশ্বরী বালিকা বিদ্যা মন্দির এবং কুন্ডেশ্বরী বালিকা মহাবিদ্যালয়ের মহান প্রতিষ্ঠানা দানবীর নতুন চন্দ্র সিংহ মহাশয়কে হত্যা করা হয় এবং এই ঘটনাটি আমি চাুস প্রত্য করেছি। দেশ যখন পাকিস্তানিদের দ্বারা আক্রান্ত সেই সময়ে তাদের কিছু সহযোগী পাকিস্তানি মিলিটারীদের সাথে একত্র হয়ে লুন্ঠন, হত্যাকান্ড, অগ্নি সংযোগ এবং ধর্ষণ ইত্যাদি জঘন্যতম ঘটনা ঘটতে থাকে এবং এ খবর কুন্ডেশ্বরীতে আমাদের কাছে আসছে। সেখানে আশ্রিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩০টি অধ্যাপক পরিবারও এ ঘটনা সম্পর্কে জ্ঞাত হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আশ্রিত অধ্যাপকদের মধ্যে ছিলেন সৈয়দ আলী আহসান, ডঃ আনিসুজ্জামান, ডঃ রশিদুল হক, ডঃ মাহমুদ শাহ কোরায়েশী প্রমুখ। বিষয়টি অবহিত হয়ে আমরা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিকবৃন্দ একটি জরুরী আলোচনায় মিলিত হই। অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান সাহেব অভিজ্ঞ ব্যক্তি ছিলেন। যুদ্ধের ভয়াবহতা বিষয়ে আলী আহসান সাহেবের জ্ঞান ছিল গভীর। তিনি সেদিন বলেছিলেন যুদ্ধ আসন্ন এবং আমরাও আক্রান্ত হতে পারি। আমরা সেদিন সিদ্ধান্ত নিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকবৃন্দ সহ কুন্ডেশ্বরী ভবনের সকলেই ১০ই এপ্রিল তারিখের মধ্যেই আবাসস্থল ত্যাগ করে ভারতে চলে যাবো। পরবর্তীতে ১০ তারিখের মধ্যেই কুন্ডেশ্বরী ভবন এবং আশ্রিত অধ্যাপকবৃন্দ তাদের আবাসস্থল ত্যাগ করেন, একমাত্র প্রতিষ্ঠাতা অধ্য নতুন চন্দ্র সিংহ ছাড়া। তাকে ভারতে চলে যাওয়ার জন্য অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান সাহেব সহ আমরা সকলেই অনুরোধ করি। কিন্তু নতুন চন্দ্র সিংহ মহাশয় সংকল্পে দৃঢ় ছিলেন। তিনি বলেছিলেন এ আমার জন্মভূমি এবং আমার প্রাণ প্রিয় প্রতিষ্ঠান সমূহ আমি স্থাপন করেছি এখানে মা কুন্ডেশ্বরী মুর্তি স্থাপিত আছে এগুলোকে ত্যাগ করে আমি কোথাও যেতে পারি না। পরের দিন থেকে সকলেই কুন্ডেশ্বরীর আবাসন ত্যাগ করতে থাকে এবং আমিও স্বস্ত্রীক আমার একমাত্র কন্যাটিকে নিয়ে আমাদের গ্রামের বাড়ীতে চলে যাই। গ্রামের বাড়ীতে একরাত্রি অবস্থানের পর আমি পরের দিন কুন্ডেশ্বরী ভবনে ফিলে আসি। আমি যখন কুন্ডেশ্বরী ভবনে প্রবেশ করলাম তখন দেখলাম যে, নতুন চন্দ্র সিংহ মহাশয় একান্ত একা। তিনি আমাকে দেখে আবেগে আপ্লুত হলেন এবং আমাকে জড়িয়ে ধরলেন। প্রায় কাঁদ কাঁদ স্বরে তিনি বললেন বাবা সবাই চলে গেছে তুমিও যাবে নাকি? তুমি যেও না, তুমি থাক। আমিও আবেগে তাড়িত হয়েছিলাম এবং বলেছিলাম যে, কাকাবাবু যাবনা, আপনাকে নিয়েই আমি থাকবো। সেইদিন কিছুণ পরে আমি গৌরাঙ্গ সিংহকে দেখেছিলাম। তিনি অবস্থান করছিলেন নতুন চন্দ্র সিংহ মহাশয়কে রান্না বান্না করে দেওয়ার জন্য। সেইদিন বেলা বারোটা/একটা পর্যন্ত আমি কুন্ডেশ্বরী ভবনে ছিলাম। তারপর দুপুরে খাওয়া দাওয়া সেরে বিকাল ৪/৫ টার সময় আমি আবার কুন্ডেশ্বরী ভবনে ফিরে আসি। নতুন সিংহ মহাশয় আমাকে পুনরায় দেখে স্বস্তি পেয়েছিলেন। আমি প্রায় রাত্রি ৯/১০ টা পর্যন্ত কুন্ডেশ্বরী ভবনে ছিলাম এবং নতুন চন্দ্র সিংহ মহাশয়কে সংগ এবং স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। পুনরায় রাত্রিতে আমি আবার জগৎমল্লপাড়ায় আমার বড় শ্যালিকার বাড়িতে ফিরে আসি এবং সেখানে রাত্রি যাপন করি বা পরের দিন আবার সকাল ৯/১০ টার দিকে আবার কুন্ডেশ্বরী ভবনে যাই এবং নতুন চন্দ্র সিংহ মহাশয়ের সংগে দেখা করি। সেইদিন আরও কিছু সংখ্যক লোক একজনের পর একজন করে প্রায় ৬/৭ জন লোক কুন্ডেশ্বরী ভবনে এসে নতুন চন্দ্র সিংহ মহাশয়ের সংগে সাাত করে। তাদের মধ্যে ছিলে শ্রী ব্রজহরি কর্মকার, শমাংক মোহন পালিত, হিমাংশু বৈদ্য, মনোরঞ্জন সিংহ এবং গৌরাঙ্গ সিংহ। আমরা বসে বেশ কিছুণ নতুন চন্দ্র সিংহ মহাশয়ের সংগে আলোচনা করেছি এবং আমাদের সকলের নিরাপত্তার জন্য কুন্ডেশ্বরী ভবন ত্যাগ করে অন্য কোন নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি এবং নতুন চন্দ্র সিংহ মহাশয়ের সংগে কথাবার্তা বলে আমরা যে যার বাড়িতে চলে যাই। আমি জগৎমল্লপাড়ায় চলে যাই। বিকালে আমি আবার কুন্ডেশ্বরী ভবনে আসি এবং নতুন চন্দ্র সিংহ মহাশয়কে সংগ দিয়ে আবার বিকালে আমার সেই শ্যালিকার বাড়িতে জগৎমল্লপাড়ায় চলে যাই। পরের দিন অর্থাৎ ১৩ই এপ্রিল, ১৯৭১ তারিখে সকাল ৯টা/ সাড়ে নয়টার সময় আমি আবার কুন্ডেশ্বরীতে ফিরে আসার সময় আমি রাস্তায় গোলাগুলির শব্দ শুনছিলাম। খুব তাড়াহুড়া করে কুন্ডেশ্বরী ভবনে এসে দেখলাম যে, ব্রজহরি বাবু, হিমাংশু বৈদ্য, মনোরঞ্জন সিংহ এবং গৌরাঙ্গ সিংহ কুন্ডেশ্বরী মন্দিরের উঠানে দাঁড়িয়ে নতুন চন্দ্র সিংহ মহাশয়ের সাথে আলাপ আলোচনা করছেন। আমি এসেই বললাম যে, আর দেরী নয়, আমাদের এখনই চলে যেতে হবে। আমি গোলাগুলির আওয়াজ শুনেছি। পাকিস্তানি আর্মি এবং তাদের সহযোগীরা কুন্ডেশ্বরীতেও আসতে পারে। কথাটা বলেছিলাম শুধু নতুন চন্দ্র সিংহ মহাশয়কে সরিয়ে নেওয়ার জন্য। কিন্তু বেশী সময় লাগল না। অল্প সময়ের মধ্যেই পাকিস্তানি আর্মি বহর সামনে একখানা জীপ গাড়ি হন হন করে কুন্ডেশ্বরী ভবনে ঢুকে পড়ে, বাইরের উঠানে থেমে যায়। তখন আমরা দেখলাম সঙ্গিন উঁচিয়ে পাকিস্তানি আর্মি নামছে এবং জীপ থেকে একজন পাকিস্তানি আর্মি অফিসার সহ কয়েকজন সিভিলিয়ান যারা বাঙ্গালী গাড়ি থেকে নেমে পড়ে। তাদেরকে দেখেই সকলে বলে উঠলেন, ওই সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, ওই মাবুদ। আমরা তাদেরকে দেখেই অত্যন্ত তড়িঘড়ি করে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে আমি এবং ব্রজ হরি বাবু নতুন চন্দ্র সিংহ মহাশয়ের দ্বিতল ভবনের দোতলায় উঠে পড়ি এবং সেখানে আত্মগোপন করে। অন্যারা বাড়ির পেছনের দিকে অর্থাৎ বাড়ির দণি-পশ্চিম দিকে বাঁশঝাড়ে এবং ঝোপের আড়ালে আত্মগোপন করে। আমি এবং ব্রজ হরি বাবু দোতলায় যে ছোট কামরাটিতে ব্রজ হরি বাবু থাকতেন সেই কামরায় নিজেকে আড়ালে রেখে জানালা দিয়ে সেদিনকার ঘটনা অবলোকন করতে থাকি। দেখলাম যে, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী সাহেব এবং পাকিস্তানি আর্মি অফিসার এবং দু/একজন আর্মি সিপাই এবং আরও দুই/একজন বাঙ্গালী নতুন চন্দ্র সিংহ মহাশয়ের সাথে কথাবার্তা বলছেন এবং কিছুণ পরেই তারা নতুন চন্দ্র সিংহ মহাশয়কে ছেড়ে আবার চলে যায়। তারা গাড়িতে উঠেন, আমরা গাড়ির আওয়াজ শুনেছি। আমরা ভেবেছিলাম বিপদমুক্ত হলাম। আনুমানিক আট/দশ মিনিট পরে আবার গাড়ির আওয়াজ শোনা গেল। আমরা দোতলার ঐ ঘরটিতে আবার আত্মগোপন করি। কিছুণ পরে আমরা আবার দেখতে পাই সেই সেনাবাহিনী এবং তাদের সংগের লোকেরা আবার ফিরে আসে এবং মন্দিরের ভিতরে প্রবেশ করে নতুন চন্দ্র সিংহ মহাশয়কে টেনে হিচড়ে বাহির করে উঠানে নিয়ে আসে। তাকে উদ্দেশ্য করে ব্রাশ ফায়ার করে।”
এই যে কথাগুলো আপনি এই ট্রাইব্যুালে  এসে সাক্ষ্য দেয়ার সময় বললেন এই কথাগুলো  আপনি তদন্ত কর্মকর্তার কাছে প্রদত্ত জবনবন্দীতে  বলেননি।

উত্তর : সত্য নয়। বলেছি।
প্রশ্ন :  “আমি নিজে দেখেছি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীও তার পিস্তল বা রিভলবার দিয়ে নতুন চন্দ্র সিংহের উপর দুই/তিন রাউন্ড গুলি বর্ষন করে” একথাও আপনি  তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট  বলেননি।
উত্তর : বলেছি।
প্রশ্ন :  উপরোক্ত বক্তব্যসমূহ উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং  তদন্তকারী কর্মকর্তা  আপনাকে শিখিয়ে দিয়েছে বলার জন্য।
প্রশ্ন : সত্য নয়।

মঙ্গলবার, ২ অক্টোবর, ২০১২

পূর্বের একজন সাক্ষী কর্তৃক দাবিকৃত মৃত এক সাক্ষী সাক্ষ্য দিলেন সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে



মেহেদী হাসান, 2/10/2012
গত ৪ জুন সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে  চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন গৌরাঙ্গ সিংহ।
গৌরাঙ্গ সিংহ সেদিন বলেছিলেন “আমি আমার জবানবন্দীতে যাদের নাম বলেছি তার মধ্যে আমি ও প্রফুল্ল ছাড়া আর কেউ জীবিত নাই।”
গৌরাঙ্গ সিংহ  তার জবানবন্দীতে যাদের নাম বলেছেন তার মধ্যে একজন ছিলেন গোপাল দাস। গৌরাঙ্গ সিংহের দাবি অনুযায়ী গোপাল দাস  মারা গেছে। কিন্তু  আজ  সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে ১৪ তম সাক্ষী হিসেবে  রাষ্ট্রপক্ষ হাজির করলেন সেই গোপাল  চন্দ্র দাসকে।

সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবী আহসানুল হক হেনা   জেরার সময় ট্রাইব্যুনালের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন এর  আগে চতুর্থ সাক্ষী বলে গেছেন গোপাল চন্দ্র দাস মারা গেছে।
তিনি সাক্ষী গোপাল  চন্দ্র দাসকে জেরার সময় সাজেশন দিয়ে বলেন, যে গোপাল  চন্দ্র  দাসকে  এ মামলায় সাক্ষী  বলে দাবি করা হয়েছে  সে অনেক আগেই মারা গেছে।  জবাবে সাক্ষী গোপাল চন্দ্র দাস বলেন, সত্য নয়।

গোপাল দাস সম্পর্কে গৌরাঙ্গ সিংহ যা বলেছিলেন: 
 গৌরাঙ্গ  চন্দ্র সিংহ নূতন চন্দ্র সিংহের ভাইপো। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগে বিচার হচ্ছে তার মধ্যে অন্যতম আলোচিত একটি হত্যাকান্ড হল ১৯৭১ সালের ১৩ এপ্রিল গহিরার কুন্ডেশ্বরী কমপ্লেক্সের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ নূতন চন্দ্র সিংহ হত্যাকান্ড।  ৪ জুন গৌরাঙ্গ সিংহ ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দীতে  তার কাকা নূতন চন্দ্র সিংহ হত্যাকান্ডের বর্ননা দিয়ে বলেন, ওই দিন তিনি কুন্ডেশ্বরীতে ছিলেন। এছাড়া  হিমাংশু বৈদ্য, ব্রজহরী কর্মকার, মনোরঞ্জন সিংহ এবং  গোপাল দাসও ছিলেন তাদের সাথে।  বাড়িতে আর্মির গাড়ি   ঢোকার পর এবং গাড়ি থেকে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ আর্মি  নামার পর তিনি,   হিমাংশু বৈদ্য এবং  মনোরঞ্জন সিংহ বাড়ির দনি পাশে পালিয়ে যান।   অন্য দুজন যথা  ব্রজহরী কর্মকার ও গোপাল দাস বাড়ির দোতলায় উঠে যায়। 
তখন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী সাহেব, দেশীয় লোকজন এবং পাঞ্জাবীরা আমার কাকা নতুন চন্দ্র সিংহের  সংগে কথা বলে চলে যায়।  জঙ্গলে পালিয়ে থেকে গাড়ির শব্দে বুঝলাম যে তারা চলে গেল।১০/১৫ মিনিট পর আবার  গাড়ির শব্দে বুঝলাম তারা আবার আসলো। তখন বোধ হয় স্টেনগানের গুলি হবে এরকম শব্দ শুনলাম। ২/১ মিনিটের মধ্যে আবার ২/৩টা গুলির শব্দ শোনা যায়। তখন আমরা ভাবলাম যে ওখানে থাকা নিরাপদ হবেনা এবং আমরা দনি দিকে চলে গেলাম।
গৌরাঙ্গ  সিংহ বলেন, তার কাকা নূতন চন্দ্র সিংহ হত্যাকান্ডের পর তারা ভারতে চলে যান। স্বাধীনতার পর ভারত থেকে দেশে এসে ব্রজহরি কর্মকাকারের কাছে তার কাকার হত্যাকান্ডের বিবরন শুনেন তিনি। গৌরাঙ্গ সিংহ বলেন, আমরা ভারত থেকে ফিরে এসেছি একথা শুনে  ব্রজহরী কর্মকার আমাদের কাছে আসে । তার কাছে শুনি যে, ঘটনার দিন সে ও গোপাল দাস দোতলায় ছিল। সেখান থেকে তারা দেখেছে যে, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী সংগে কিছু বাঙ্গালী এবং পাঞ্জাবী মিলিটারী সহ বাড়িতে ঢুকে আমার কাকা  নতুন চন্দ্র সিংহের সাথে কথা বলে চলে যায়। কিছুণ পরে তারা আবার ফিরে এসে মন্দির থেকে কাকাকে টেনে হিচড়ে মন্দিরের সামনে নিয়ে আসে এবং পাঞ্জাবীরা ব্রাশ ফায়ার করে। তারপর দুই মিনিটের মধ্যে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী তাকে গুলি করে।  এরপর ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। ব্রজহরী কর্মকারের নিকট থেকে আরও শুনি যে কাকা  নতুন চন্দ্র সিংহের লাশ ২/৩ দিন সেখানে পড়ে ছিল।

গৌরাঙ্গ সিংহের বর্ননা মতে  নূতন চন্দ্র সিংহ হত্যাকান্ডের দিন ব্রজহরি  ও গোপাল দাস দোতলায় ছিল। সেখান থেকে তারা নূতন চন্দ্র সিংরে হত্যাকান্ড দেখেছেন।  ব্রজহরির কাছ থেকে শোনা সে হত্যাকান্ডের বর্ননা দেন গৌরাঙ্গা সিংহ। জবানবন্দীর শেষের দিকে তিনি বলেন, “আমি আমার জবানবন্দীতে যাদের নাম বলেছি তরি মধ্যে আমি ও প্রফুল্ল (নুতন চন্দ্র সিংহের ছেলে) ছাড়া আর কেউ জীবিত নাই।
গৌরাঙ্গ সিংহের  এ দাবি অনুযায়ী গোপাল দাস মৃত। কিন্তু আজ  রাষ্ট্রপক্ষ  হাজির করল গৌরাঙ্গ সিংহ বর্নিত সেই  গোপাল দাসকে।  গৌরাঙ্গ সিংহের বর্নিত  সে হত্যাকান্ডের বিবরনের সাথে মিল রয়েছে  আজ  গোপাল চন্দ্র দাসের বর্ননার সাথে। গোপাল চন্দ্র দাসও আদালতে তার জবনাবন্দীতে বলেন ১৩ এপ্রিল তিনি এবং ব্রজহরি ভবনের দোতালায় আত্মগোপন করেন এবং সেখান থেকে নূতন চন্দ্র সিংহ হত্যাকান্ড দেখেন।

গোপাল চন্দ্র দাসের জবানবন্দী :
আমার নাম গোপাল চন্দ্র দাস।  বয়স-৭৬ বছর । ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে আমার বয়স ৩৪/৩৫ বছর ছিল। আমি ১৯৬৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এম,এ, পাশ করেছি। এর আগে সংস্কৃত শাস্ত্রে কাব্য ব্যাকরণথীর্থ ও বিধ্যানীধি উপাধি লাভ করি। আমি বর্তমানে চিটাগং এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক যাহা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৮৭৫ সনে। ১৯৭১ সালে আমি কুন্ডেশ্বরী বালিকা মহাবিদ্যালয়ের অধ্য হিসাবে কর্মরত ছিলাম। সেখানে আমি ১৯৭০ সালে যোগদান করি। ঐ কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন অধ্য নতুন চন্দ্র সিংহ এবং আমি ছিলাম প্রতিষ্ঠাতা অধ্য। ১৯৭১ সাল ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সকলের নিকট একটি স্মরণীয় বছর। ১৯৭১ সালে কুন্ডেশ্বরী ভবনে একটি স্মরণীয় ঘটনা যা এ যুগের সবচেয়ে নিকৃষ্টতম ঘটনা বাংলাদেশে সংঘটিত হয়েছে বলে চট্টগ্রাম বাসী এবং বাংলাদেশের জনগণ জ্ঞাত আছেন। ১৯৭১ সালের ১৩ই এপ্রিল এই ঘটনাটি ঘটে। ঐ দিনে কুন্ডেশ্বরী আয়ুর্বেদীয় ঔষধালয়, কুন্ডেশ্বরী বালিকা বিদ্যা মন্দির এবং কুন্ডেশ্বরী বালিকা মহাবিদ্যালয়ের মহান প্রতিষ্ঠানা দানবীর নতুন চন্দ্র সিংহ মহাশয়কে হত্যা করা হয় এবং এই ঘটনাটি আমি চাুস প্রত্য করেছি। দেশ যখন পাকিস্তানিদের দ্বারা আক্রান্ত সেই সময়ে তাদের কিছু সহযোগী পাকিস্তানি মিলিটারীদের সাথে একত্র হয়ে লুন্ঠন, হত্যাকান্ড, অগ্নি সংযোগ এবং ধর্ষণ ইত্যাদি জঘন্যতম ঘটনা ঘটতে থাকে এবং এ খবর কুন্ডেশ্বরীতে আমাদের কাছে আসছে। সেখানে আশ্রিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩০টি অধ্যাপক পরিবারও এ ঘটনা সম্পর্কে জ্ঞাত হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আশ্রিত অধ্যাপকদের মধ্যে ছিলেন সৈয়দ আলী আহসান, ডঃ আনিসুজ্জামান, ডঃ রশিদুল হক, ডঃ মাহমুদ শাহ কোরায়েশী প্রমুখ। বিষয়টি অবহিত হয়ে আমরা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিকবৃন্দ একটি জরুরী আলোচনায় মিলিত হই। অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান সাহেব অভিজ্ঞ ব্যক্তি ছিলেন। যুদ্ধের ভয়াবহতা বিষয়ে আলী আহসান সাহেবের জ্ঞান ছিল গভীর। তিনি সেদিন বলেছিলেন যুদ্ধ আসন্ন এবং আমরাও আক্রান্ত হতে পারি। আমরা সেদিন সিদ্ধান্ত নিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকবৃন্দ সহ কুন্ডেশ্বরী ভবনের সকলেই ১০ই এপ্রিল তারিখের মধ্যেই আবাসস্থল ত্যাগ করে ভারতে চলে যাবো। পরবর্তীতে ১০ তারিখের মধ্যেই কুন্ডেশ্বরী ভবন এবং আশ্রিত অধ্যাপকবৃন্দ তাদের আবাসস্থল ত্যাগ করেন, একমাত্র প্রতিষ্ঠাতা অধ্য নতুন চন্দ্র সিংহ ছাড়া। তাকে ভারতে চলে যাওয়ার জন্য অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান সাহেব সহ আমরা সকলেই অনুরোধ করি। কিন্তু নতুন চন্দ্র সিংহ মহাশয় সংকল্পে দৃঢ় ছিলেন। তিনি বলেছিলেন এ আমার জন্মভূমি এবং আমার প্রাণ প্রিয় প্রতিষ্ঠান সমূহ আমি স্থাপন করেছি এখানে মা কুন্ডেশ্বরী মুর্তি স্থাপিত আছে এগুলোকে ত্যাগ করে আমি কোথাও যেতে পারি না। পরের দিন থেকে সকলেই কুন্ডেশ্বরীর আবাসন ত্যাগ করতে থাকে এবং আমিও স্বস্ত্রীক আমার একমাত্র কন্যাটিকে নিয়ে আমাদের গ্রামের বাড়ীতে চলে যাই। গ্রামের বাড়ীতে একরাত্রি অবস্থানের পর আমি পরের দিন কুন্ডেশ্বরী ভবনে ফিলে আসি। আমি যখন কুন্ডেশ্বরী ভবনে প্রবেশ করলাম তখন দেখলাম যে, নতুন চন্দ্র সিংহ মহাশয় একান্ত একা। তিনি আমাকে দেখে আবেগে আপ্লুত হলেন এবং আমাকে জড়িয়ে ধরলেন। প্রায় কাঁদ কাঁদ স্বরে তিনি বললেন বাবা সবাই চলে গেছে তুমিও যাবে নাকি? তুমি যেও না, তুমি থাক। আমিও আবেগে তাড়িত হয়েছিলাম এবং বলেছিলাম যে, কাকাবাবু যাবনা, আপনাকে নিয়েই আমি থাকবো। সেইদিন কিছুণ পরে আমি গৌরাঙ্গ সিংহকে দেখেছিলাম। তিনি অবস্থান করছিলেন নতুন চন্দ্র সিংহ মহাশয়কে রান্না বান্না করে দেওয়ার জন্য। সেইদিন বেলা বারোটা/একটা পর্যন্ত আমি কুন্ডেশ্বরী ভবনে ছিলাম। তারপর দুপুরে খাওয়া দাওয়া সেরে বিকাল ৪/৫ টার সময় আমি আবার কুন্ডেশ্বরী ভবনে ফিরে আসি। নতুন সিংহ মহাশয় আমাকে পুনরায় দেখে স্বস্তি পেয়েছিলেন। আমি প্রায় রাত্রি ৯/১০ টা পর্যন্ত কুন্ডেশ্বরী ভবনে ছিলাম এবং নতুন চন্দ্র সিংহ মহাশয়কে সংগ এবং স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। পুনরায় রাত্রিতে আমি আবার জগৎমল্লপাড়ায় আমার বড় শ্যালিকার বাড়িতে ফিরে আসি এবং সেখানে রাত্রি যাপন করি। পরের দিন আবার সকাল ৯/১০ টার দিকে আবার কুন্ডেশ্বরী ভবনে যাই এবং নতুন চন্দ্র সিংহ মহাশয়ের সংগে দেখা করি। সেইদিন আরও কিছু সংখ্যক লোক একজনের পর একজন করে প্রায় ৬/৭ জন লোক কুন্ডেশ্বরী ভবনে এসে নতুন চন্দ্র সিংহ মহাশয়ের সংগে সাাত করে। তাদের মধ্যে ছিলে শ্রী ব্রজহরি কর্মকার, শমাংক মোহন পালিত, হিমাংশু বৈদ্য, মনোরঞ্জন সিংহ এবং গৌরাঙ্গ সিংহ। আমরা বসে বেশ কিছুণ নতুন চন্দ্র সিংহ মহাশয়ের সংগে আলোচনা করেছি এবং আমাদের সকলের নিরাপত্তার জন্য কুন্ডেশ্বরী ভবন ত্যাগ করে অন্য কোন নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি এবং নতুন চন্দ্র সিংহ মহাশয়ের সংগে কথাবার্তা বলে আমরা যে যার বাড়িতে চলে যাই। আমি জগৎমল্লপাড়ায় চলে যাই। বিকালে আমি আবার কুন্ডেশ্বরী ভবনে আসি এবং নতুন চন্দ্র সিংহ মহাশয়কে সংগ দিয়ে আবার বিকালে আমার সেই শ্যালিকার বাড়িতে জগৎমল্লপাড়ায় চলে যাই। পরের দিন অর্থাৎ ১৩ই এপ্রিল, ১৯৭১ তারিখে সকাল ৯টা/ সাড়ে নয়টার সময় আমি আবার কুন্ডেশ্বরীতে ফিরে আসার সময় আমি রাস্তায় গোলাগুলির শব্দ শুনছিলাম। খুব তাড়াহুড়া করে কুন্ডেশ্বরী ভবনে এসে দেখলাম যে, ব্রজহরি বাবু, হিমাংশু বৈদ্য, মনোরঞ্জন সিংহ এবং গৌরাঙ্গ সিংহ কুন্ডেশ্বরী মন্দিরের উঠানে দাঁড়িয়ে নতুন চন্দ্র সিংহ মহাশয়ের সাথে আলাপ আলোচনা করছেন। আমি এসেই বললাম যে, আর দেরী নয়, আমাদের এখনই চলে যেতে হবে। আমি গোলাগুলির আওয়াজ শুনেছি। পাকিস্তানি আর্মি এবং তাদের সহযোগীরা কুন্ডেশ্বরীতেও আসতে পারে। কথাটা বলেছিলাম শুধু নতুন চন্দ্র সিংহ মহাশয়কে সরিয়ে নেওয়ার জন্য। কিন্তু বেশী সময় লাগল না। অল্প সময়ের মধ্যেই পাকিস্তানি আর্মি বহর সামনে একখানা জীপ গাড়ি হন হন করে কুন্ডেশ্বরী ভবনে ঢুকে পড়ে, বাইরের উঠানে থেমে যায়। তখন আমরা দেখলাম সঙ্গিন উঁচিয়ে পাকিস্তানি আর্মি নামছে এবং জীপ থেকে একজন পাকিস্তানি আর্মি অফিসার সহ কয়েকজন সিভিলিয়ান যারা বাঙ্গালী গাড়ি থেকে নেমে পড়ে। তাদেরকে দেখেই সকলে বলে উঠলেন, ওই সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, ওই মাবুদ। আমরা তাদেরকে দেখেই অত্যন্ত তড়িঘড়ি করে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে আমি এবং ব্রজ হরি বাবু নতুন চন্দ্র সিংহ মহাশয়ের দ্বিতল ভবনের দোতলায় উঠে পড়ি এবং সেখানে আত্মগোপন করে। অন্যারা বাড়ির পেছনের দিকে অর্থাৎ বাড়ির দণি-পশ্চিম দিকে বাঁশঝাড়ে এবং ঝোপের আড়ালে আত্মগোপন করে। আমি এবং ব্রজ হরি বাবু দোতলায় যে ছোট কামরাটিতে ব্রজ হরি বাবু থাকতেন সেই কামরায় নিজেকে আড়ালে রেখে জানালা দিয়ে সেদিনকার ঘটনা অবলোকন করতে থাকি। দেখলাম যে, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী সাহেব এবং পাকিস্তানি আর্মি অফিসার এবং দু/একজন আর্মি সিপাই এবং আরও দুই/একজন বাঙ্গালী নতুন চন্দ্র সিংহ মহাশয়ের সাথে কথাবার্তা বলছেন এবং কিছুণ পরেই তারা নতুন চন্দ্র সিংহ মহাশয়কে ছেড়ে আবার চলে যায়। তারা গাড়িতে উঠেন, আমরা গাড়ির আওয়াজ শুনেছি। আমরা ভেবেছিলাম বিপদমুক্ত হলাম। আনুমানিক আট/দশ মিনিট পরে আবার গাড়ির আওয়াজ শোনা গেল। আমরা দোতলার ঐ ঘরটিতে আবার আত্মগোপন করি। কিছুণ পরে আমরা আবার দেখতে পাই সেই সেনাবাহিনী এবং তাদের সংগের লোকেরা আবার ফিরে আসে এবং মন্দিরের ভিতরে প্রবেশ করে নতুন চন্দ্র সিংহ মহাশয়কে টেনে হিচড়ে বাহির করে উঠানে নিয়ে আসে। তাকে উদ্দেশ্য করে ব্রাশ ফায়ার করে এবং তিনি ছটফট করতে থাকেন। আমি নিজে দেখেছি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীও তার পিস্তল বা রিভলবার দিয়ে নতুন চন্দ্র সিংহের উপর দুই/তিন রাউন্ড গুলি বর্ষন করে এবং বলে তাকে হত্যা করার জন্য বাবার নির্দেশ আছে। এইভাবে নতুন চন্দ্র সিংহের মৃত্যু নিশ্চিত করে তারা ওখান থেকে চলে যায়। আমরা অত্যন্ত ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে দোতলা থেকে নেমে দেিণ ধান বিলে দৌড়ে পালিয়ে যাই। নতুন চন্দ্র সিংহ ঘটনাস্থলেই মারা যায়। আমি আমার স্ত্রী সহ ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিই। স্বাধীনতার পরে ২৮শে ডিসেম্বর দেশে ফিরে এসে কুন্ডেশ্বরী মহাবিদ্যালয়ে যোগদান করি। আমি তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট জবানবন্দী প্রদান করেছি। আমি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী  সাহেবকে চিনি, তিনি অদ্য ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় উপস্থিত আছেন।

জবানবন্দী শেষে সাক্ষীকে জেরা করেন সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবী আহসানুল হক হেনা।

জেরা :
প্রশ্ন : ঢাকা কতদিন হল এসেছেন?
উত্তর :  গত ১ সেপ্টেম্বর।
প্রশ্ন : ভারত থেকে কবে আসলেন।
উত্তর : ও সেপ্টেম্বর।
প্রশ্ন : কোলকাতা থেকে এসে এখনো বাড়ি যাওয়া হয়নি?
উত্তর : না। 
প্রশ্ন : ভারতে কত তারিখ গেলেন?
উত্তর : চার মাস আগে।
প্রশ্ন : চট্টগ্রামে ভারতীয় হাইকমিশন থেকে তিন মাসের বেশি ভিসা দেয়না।
উত্তর : আমাকেও দেয়নি। আমার ওভার স্টে করেছি আমার চোখের চিকিৎসার জন্য।
প্রশ্ন : ওভার স্টে বিষয়ে ভিসায় সিল মেরেছে?
উত্তর : আলাদা কাগজে মেরেছে।
প্রশ্ন : যে গোপাল চন্দ্র দাসকে এ মামলায় সাক্ষী বলে দাবি করা হয়েছে সে  অনেক আগে মারা গেছে।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনি তদন্ত কর্মকর্তার কাছে আপনার পিতার নাম  বঙ্গ চরন দাস বলেছেন।
উত্তর : সত্য নয়।
 ( এসময় নাম  নিয়ে প্রশ্ন করায় ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক এ প্রশ্নের প্রাসঙ্গিকতা জানতে চান আইনজীবীর কাছে। তখন আহসানুল হক হেনা বলেন, পূর্বের  চতুর্থ সাক্ষী বলে গেছেন গোপাল  মারা গেছে। )
প্রশ্ন : আপনি ১০, ১১ এবং ১২ এপ্রিল গৌরাঙ্গ সিংহকে দেখেননি । সে তার আগেই ভারতে চলে গেছে।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : নূতন চন্দ্র সিংহের বাবার বাড়ি কোথায় তা কখনো তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন?
উত্তর : না, কারণ আমি তা জানি।
প্রশ্ন : কোথায় তার বাবার বাড়ি?
উত্তর : গহিরায়। সুলতানপুরও হতে পারে।
প্রশ্ন : আপনি কোনদিন কোনকালে কুন্ডেশ্বরী বালিকা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ছিলেননা।
উত্তর : সত্য নয়।
এ পর্যন্ত জেরার পর জেরা  বুধবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়। জেরায় আহসানুল হক হেনাকে সহায়তা করেন ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম, রেজাউল করিম।
ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক, সদস্য বিচারপতি  জাহাঙ্গীর হোসেন, বিচারপতি আনোয়ারুল হক বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
গতকাল ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু,  প্রসিকিউটর রানাদাস  গুপ্ত, প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম, প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সিমন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

রবিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১২

সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নামও উচ্চারন করলেননা সাক্ষী////জেরা অস্বীকার আইনজীবীর


মেহেদী হাসান, ১৬/৯/২০১২
আজ   সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে ১২ তম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিলেন অরুনাাংশু বিমল  চৌধুরী। তিনি তার  সাক্ষ্যে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করেননি । এমনকি সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নামও উচ্চারন করেননি। তার জবানবন্দী শেষ হলে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবী আহসানুল হক হেনা বলেন, আমি স্বাক্ষীকে জেরা করবনা (ক্রস ইক্সামিনেশন ডিকলাইন্ড)।

জবানবন্দী :
আমার নাম অরুনাংশু বিমল চৌধুরী। বয়স ৮০/৮২ বছর।
১৯৭১ সালে আমার বয়স ৪০/৪১ বছর ছিল। আমি মেট্রিক পাশ করে এল.এম.এফ. পাশ করি। আমার গ্রামের বাড়ি সুলতানপুর, জগতমল্লপাড়া, থানা-রাউজান, জেলা-চট্টগ্রাম। আমি ডাক্তারী করি। আমি রাঙ্গুনিয়ায় রানীহাটে ডাক্তারী করতাম। যেদিন ঘটনা ঘটে রাঙ্গুনিয়ার রাজানগরের চেয়ারম্যান কায়কোবাদ চৌধুরী আমার দোকানের সামনে গিয়ে দাঁড়ান।  আমাকে বলেন,  বাবু আপনি এুুনি বাড়ি চলে যান এবং বাড়ি গিয়ে আপনার ফেমেলি সহ রাস্তা থেকে দুই মাইল দূরে সরে যাবেন। তখন আমি স্বপরিবারে বিনাজুড়িতে আমার শ্বশুড় বাড়িতে চলে গেলাম। আমি ওখানে পৌঁছার ঘন্টা দুয়েক পরে শুনতে পাই যে, জগতমল্লপাড়ার সব লোককে গুলি করে হত্যা করে ফেলেছে। তখন আমি মনে করলাম যে, আমি একটু গিয়ে দেখে আসি। তারপর সেখানে যাওয়ার পথে আমার ভাবীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দেখতে পাই। আমার বাড়ি থেকে এক মাইলের মত দেিণ আমার ভাবীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দেখি। আমার ভাবীর নাম জোৎস্না বালা চৌধুরী। তার বাবার বাড়িও বিনাজুড়িতে। তখন বিনাজুড়িতেও লুটপাট শুরু হয়ে যায়। আমার ভাবীকে বিনাজুড়িতে নিয়ে যাওয়ার পথে তার সংগে আমার কোন কথাবার্তা হয়নাই। এই ঘটনাগুলি কারা ঘটিয়েছে তাহা আমি জানিনা, কারণ আমি বাড়িতে ছিলামনা।

বিনাজুড়িতে যখন লুটপাট হয় তখন আমরা েেতর আড়ালে লুকিয়ে ছিলাম। এই ঘটনার পরে রাত্রি ৯-০০টার সময় স্বপরিবারে ভারতে চলে যাই। আমি পদব্রজে ভারতে চলে যাই। আমি যখন বর্ডারে যাই তখন আমার শিক সাধন ধর, আবদুল্লাহ আল হারুণ ও খালেদ সাহেবের সংগে দেখা হয়। তারা আমাকে একটা স্লিপ দেয়। তৎপর আমি নদী পাড় হয়ে ভারতে চলে যাই। মুক্তিযুদ্ধের পরে আমরা ভারত থেকে দেশে ফিরে আসি। বাড়ি ফিরে এসে দেখি গ্রামের সব শেষ হয়ে গেছে, কিছুই নেই, মাটির ঘরগুলি দাঁড়িয়ে আছে। ফিরে আসার পরে আমি দেখি যে, জগতমল্লপাড়ায় সব তিগ্রস্থ হয়েছে। আমি নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম, কোথায় থাকবো, কি খাব, যার ফলে অন্য গ্রামে কি হয়েছে  না হয়েছে তা দেখিনাই।

আমার বড়ভাই হিমাংশু বিমল চৌধুরী, বৌদি নীলুবালা  চৌধুরী,  আমার অপর ভাই সিতাংশু বিমল চৌধুরী, আমার কাকা সুরেন্দ্র চন্দ্র চৌধুরী, তার স্ত্রী চারুবালা চৌধুরী, আমার অপর ভাই কিরণ চন্দ্র চৌধুরী সহ আরো অনেককে হত্যা করা হয় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন  সময়ে। এদেরকে আমাদের বাড়িতে হত্যা করা হয়। এরপরে শুনেছি যে, আনুমানিক এক মাস পরে আরও তিনজনকে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনাগুলির পরে স্থানীয় লোকজন কে কোথায়  ছিল তা দেখার সুযোগ আমার হয়নাই। এই হত্যাকান্ডে জগতমল্লপাড়ায় যারা শহীদ হয়েছে তাদের স্মৃতিরার্থে শহীদ মিনার তৈরী করা হয়েছে। সেই শহীদ মিনারে শহীদদের নাম লেখা আছে।

এ পর্যন্ত বলার পর সাক্ষীকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সুলতান মাহমুদ সিমন প্রশ্ন করেন মামলা চলাকালে আপনি তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জবানবন্দী দিয়েছিলেন কি-না বা তদন্ত কর্মকর্তা আপনার জবানবন্দী  নিয়েছিলেন কি-না। প্রশ্নটি  ভাল করে বুঝতে না পারাই ট্রাইব্যুনাল তাকে আবার  বুঝিয়ে প্রশ্নটি করেন। তখন তিনি জবাব দেন। এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্তকালে আমার নিকট কোনকিছু জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন কিনা তা আমার মনে পড়ছেনা।

বৃহস্পতিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১২

সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে ১১ তম সাক্ষীর জেরা শেষ

৬/৯/২১০২
সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে ১১ তম সাক্ষী এস এম মাহবুবুল আলমের  জেরা আজ  শেষ হয়েছে। সাক্ষীকে জেরা করেন অ্যাডভোকেট আহসানুল হক হেনা। তাকে সহায়তা করেন ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম।

জেরা (সংক্ষিপ্ত) :
প্রশ্ন : আক্রমনের পরে গাড়ির মধ্যে কোন ডাক চিৎকার শুনেছেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : সেপ্টেম্বর মাসের ২০ তারিখ থেকে ৩০ তারিখের মধ্যে  এম আর আখতার মুকুলের চরমপত্র অনুষ্ঠানে আপনাদের আক্রমন বিষয়ে কোন  আলোচনা  শুনেছেন?
উত্তর :  শুনিনাই।
প্রশ্ন : আপনার নাম  ডিসি অফিসের  তালিকায় নেই।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনি  যে কমান্ডার ছিলেন সে মর্মে কোন কাগজপত্র তদন্ত কর্মকর্তাকে দিয়েছেন তদন্তকালে?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : আপনি কোন মুক্তিযোদ্ধা বা কমান্ডার ছিলেননা।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবার বা নিহত ড্রাইভারের পরিবার উক্ক ঘটনার জন্য কোন মামলা করেছিল আপনার বিরুদ্ধে?
উত্তর : জানা নেই।
প্রশ্ন : জিয়াউর রহমান সাহেব আপনাকে যে হিট লিস্ট দিয়েছিলেন তা আছে আপনার কাছে?
উত্তর : সময়ের পরিক্রমায় তা হারিয়ে গেছে।
প্রশ্ন : আক্রমনে যে গ্রেনেড চার্জ করা হয় সেটি কি রকম ছিল?
উত্তর : এনারগা গ্রেনেড। সেটি যথেষ্ঠ শক্তিশালী ছিল।
প্রশ্ন : স্টেনগান?
উত্তর : ৯ এম এম এসএমটি মার্ক ২।
প্রশ্ন : এ ধরনের স্টেনগান এবং গ্রেনেড দিয়ে হামলা করলে গাড়ির মধ্যে কারো বেঁচে থাকার কথা নয়।
উত্তর : ড্রাইভার নিহত হয়েছে। সালাহউদ্দিন কাদের সাহেব  গুরুতর আহত হয়েছিল। বাকীদের অবস্থা জানা নেই।
প্রশ্ন : ঘটনার দিন আপনি কখনো আয়েশা খাতুন লেনে যাননি। আপনি অন্যত্র ছিলেন।
উত্তর : সত্য নয়।