সাঈদী : আসামী পক্ষের আর্গুমেন্ট লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সাঈদী : আসামী পক্ষের আর্গুমেন্ট লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ২ আগস্ট, ২০১৩

ভানুসাহার ভাইবোনরা দেশে থাকলেও তাদের সাক্ষী করেনি রাষ্ট্রপক্ষ

২২.১১/২০১২ বৃহষ্পতিবার
ভানুসাহাকে ধর্ষনের অভিযোগ বিষয়ে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর  পক্ষে  যুক্তি উপস্থাপন করেছেন  অ্যডভোকেট মিজানুল ইসলাম ।

মিজানুল ইসলাম  বলেন, আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ  হল তিনি ভানুসাহাকে তারই বাড়িতে আটকে রেখে বা  বাড়িতে   থাকতে বাধ্য করে  নিয়মিত ধর্ষণ করেছেন। সাথে অন্যরাও থাকতে পারে।

এ অভিযোগের স্বপক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের সবচেয়ে উত্তম সাক্ষী হতে পারতেন  ভুক্তভোগী ভানুসাহা নিজে। এরপর সবচেয়ে ভাল সাক্ষী হতে পারতেন ভানুসাহার পরিবারের সদস্যরা। এরপর তার প্রতিবেশীরা। এরপর সাক্ষী হতে পারতেন ঘটনাক্রমে  এ ঘটনা যদি কেউ দেখে থাকত সেরকম কোন ব্যক্তি।  কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ  অভিযোগের স্বপক্ষে ভানুসাহা, তার পরিবারের কোন সদস্য, তাদের কোন প্রতিবেশী বা এ ঘটনা দেখেছে এরকম কাউকেই সাক্ষী হিসেবে  হাজির করেনি।

মিজানুল ইসলাম বলেন, ভানুসাহার  তিনভাই, তিন বোন এবং ভাবীরা এদেশেই আছেন। ভানুসাহার বড় ভাইর বয়স ৫০ বছর।   তদন্ত কর্মকর্তা বলেছেন  শুধুমাত্র ভানুসাহা ভারতে আছেন। ভানুসাহার  বড় ভাইর কাছে ভানুসাহার বিষয়ে  জিজ্ঞাসা করেছেন কিন্তু তিনি  ভানু সাহার বিষয়ে কোন খবর দিতে পারেনন্ ি। ভানুসাহা ভারতে কোথায় আছে তা তারা জানাতে পারেনি  বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

মিজানুল ইসলাম বলেন  বাংলাদেশে বসবাসরত ভানুসাহার ভাই  এবং বোনদের সাথে ভারতে থাকা  ভানুসাহার কোন যোগযোগ নেই এবং পরিবারের লোকজন জানবেনা  সে ভারতের কোথায় আছে এটা কি বিশ্বাসযোগ্য  হতে পারে? তাহলে বলতে হয়  তদন্ত কর্মকর্তা সঠিকভাবে ঘটনার তদন্ত করেননি। ভানুসাহা কোথায় আছে তা তিনি জানার এবং খোঁজারই কোন চেষ্টা করেননি।

মিজানুল ইসলাম যুক্তি দিয়ে বলেন ভানুসাহাকে পাননি বা খোঁজার চেষ্টা করেননি কিন্তু ভানুসাহার  ভাইবোন যারা এদেশে আছে তাদেরও কাউকে সাক্ষী  করা হলনা। তাদের কোন প্রতিবেশীকেও সাক্ষী করা হলনা। এ ঘটনার সময় ঘটনাক্রমে উপস্থিত ছিল এমন কাউকেও সাক্ষী হিসেবে আনা হলনা। রাষ্ট্রপক্ষ ভানুসাহা বিষয়ে যাদেরকে সাক্ষী করেছেন তাদের মধ্যে শুধুমাত্র চুতর্থ সাক্ষী সুলতান আহমদ হাওলাদার  ভানুসাহা বিষয়ে সরাসরি  আল্লামা সাঈদীকে জড়িয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন ।  সুলতান আহমদ  বলেছেন,  বিপদ সাহার মেয়ে ভানুসাহাকে দেলোয়ার হোসেন শিকদার বর্তমান সাঈদী এবং মোসলেম মাওলানা নিয়মিত ধর্ষন করত।  কিন্তু  এই সাক্ষী তা নিজে দেখেননি। কার কাছে শুনেছেন তাও বলেননি। তার বাড়িও পাড়েরহাট নয়। সে ভানুসাহার   কোন আত্মীয়ও না।
মিজানুল ইসলাম বলেন, ভানুসাহার আপন ভাই, বোন, ভাবীদের চাইতে কি  সুলতান আহমেদ  তাদের কাছে  বেশি বিশ্বাসযোগ্য হয়ে গেল?
তাছাড়া এই সাক্ষীর বিরুদ্ধে বরিশালে দুটি ট্রালার চুরি মামলা এবং হাইকোর্টে একটি কলা চুরির মামলা  অনিষ্পন্ন অবস্থায় রয়েছে। কলা চুরির মামলায় তার সাজা হয়েছে । এ ধরনের একজন সাক্ষীর কথার বিশ্বাসযোগ্য এবং গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু  তা মাননীয় ট্রাইব্যুনাল  বিবেচনা করবেন।

মিজানুল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের দ্বিতীয় সাক্ষী রুহুল আমিন নবিন বলেছেন, পাকিস্তান আর্মি কয়েকমাস ভানুসাহাকে আটকে রেখে উপর্যপুরি তাকে ধর্ষণ করেছে।    অথচ ভানুসাহা বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের যে অভিযোগ তাতে পাকিস্তান আর্মির বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ আনা হয়নি । আপনাদের হয়ত মনে আছে সাক্ষী রুহুল আমিন নবিন তার জবানবন্দী শেষ করার পর, আসামী সনাক্ত করার পর  রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তাকে বারবার জিজ্ঞাসা করেন আরো কিছু বলার আছে কিনা। তারপর তিনি আদালতের অনুমতি নিয়ে একটি কথা যোগ করেন এবং তখন তিনি পাকিস্তান আর্মিকে জড়িয়ে উপরোক্ত কথাটি বলেন। রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীর কথা অনুযায়ী পাকিস্তান আর্মি যদি তাকে কয়েকমাস আটকে রেখে  উপর্যপুরী ধর্ষণ করে তাহলে তার বাড়িতে গিয়ে বা বাড়িতে আটকে রেখে  আল্লামা সাঈদী কর্তৃক  ধর্ষনের অভিযোগ টেকেনা।
মিজানুল ইসলাম বলেন,  রাষ্ট্রপক্ষের আরেক সাক্ষী  মাহতাব উদ্দিন জেরার সময় বললেন ভানু সাহাকে নিয়ে তারই বাড়িতে বাস করতেন  শান্তি কমিটির নেতা মোসলেম মাওলানা। যদি মোসলেম মাওলানার সাথে স্বামী স্ত্রী-পরিচয়ে বাস করে থাকে তাহলে সেটা স্বাভাবিক দৃষ্টিতে ধর্ষনের মধ্যেও পড়েনা।

মিজানুল ইসলাম বলেন, তাহলে আমরা সবশেষে বলতে পারি  ভানুসাহাকে   আল্লামা সাঈদী কর্তৃক ধর্ষনের অভিযোগের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের শুধুমাত্র একজন সাক্ষী  সাঈদী সাহেবকে জাড়িয়ে কথা বলেছেন এবং তিনি ভানুসাহার পরিবারের কোন সদস্য, প্রতিবেশী নন এমনকি পাড়েরহাটেরও লোকন তিনি। তাছাড়া   সাক্ষী যে  চরিত্রের লোক তাতে তার কথার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
মিজানুল ইসলাম  যুক্তি উপস্থান শেষে ট্রাইব্যুনালকে বলেন আমি এটি প্রমানে  সক্ষম হয়েছি যে ভানুসাহা বিষয়ে আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তা একান্তই মনগড়া।
মিজানুল ইসলামের যুক্তি উপস্থাপনের সময় ট্রাইব্যুনাল মাঝে মধ্যে   দুয়েকটি প্রশ্ন করেন। তার মধ্যে একটি হল ভানুসাহার প্রতি সত্যিই পাশবিক অত্যাচারের কারনে শুধুমাত্র সে ভারতে চলে গেছে এবং অন্যরা দেশে আছে । এরকম যদি রাষ্ট্রপক্ষ থেকে যুক্তি তোলা হল তাহলে তার জবাব কি।
মিজানুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের নাগরিকদের ভারতে যাওয়া এবং ভারত থেকে এদেশে আসা ১৯৪৭ সাল থেকে একটি চলমান প্রকৃয়া। ১৯৭১ সালে চার লাখ নারী  নির্যাতিত হয়েছেন বলে   বলা হয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে। এই চার লাখ নারী কি সবাই ভারতে চলে গেছেন? বা ভারতে যারা গেছেন তারা কি সবাই   পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন একথা বলা যাবে?  ১৯৭১ সালের যেসব নির্যাতিত নারী ভারতে যাননি বাংলাদেশে আছেন তারা কি নির্যাতিত হননি একথাও কি বলা যাবে?   সতুরাং ভানুসাহা ভারতে  চলে গেছে এ কারণ দেখিয়ে বলা যায়না   তিনি  ১৯৭১ সালে পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ।
যুক্তি উপস্থাপনে মিজানুল ইসলামকে সহায়তা করেন ব্যারিস্টার তানভির আহমেদ আল আমিন।
ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক, সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, বিচারপতি আনোয়ারুল হক বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

পিরোজপুর শান্তি কমিটির তালিকায় সভাপতির নাম নেই!



২১/১১/২০১২ বুধবার

মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলায় আজ ভাগিরথী হত্যার অভিযোগ বিষয়ে যুক্তি উপস্থাপন করেছেন আসামী পক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম।

মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে ২০টি অভিযোগের একটি অভিযোগ হল- ভাগিরথী নামে একটি মেয়ে পাকিস্তান সেনা ক্যাম্পে কাজ করত। মাওলানা সাঈদী পাকিস্তানী সেনাদের খবর দেয় যে, ভাগীরথী  মুক্তিযোদ্ধাদের চর হিসেবে পাকিস্তানী সেনা ক্যাম্পের খবর  মুক্তিযোদ্ধাদের পৌছে দেয়। এরপর পাকিস্তান সেনারা তাকে হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেয়।

মিজানুল ইসলাম বলেন, ভাগিরথী হত্যায় আল্লামা সাঈদীর সংশ্লিষ্টতা বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ যেসব ডকুমেন্ট দাখিল করেছে তার মধ্যে রয়েছে ১৯৭২ সালে দৈনিক আজাদ পত্রিকার একটি রিপোর্ট,  তদন্ত কর্মকর্তা কর্তৃক রেকর্ডকৃত ভাগিরথীর ছেলে গণেশ চন্দ্র সাহার  জবানবন্দী। এছাড়া  তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দী   এবং জেরা, রাষ্ট্রপক্ষের ১২ নং সাক্ষী স্থানীয় এমপি একেএমএ আউয়ালের সাক্ষ্যে বিষয়টি এসেছে রাষ্ট্রপক্ষের ডকুমেন্ট হিসেবে।

আসামী পক্ষ থেকে এ বিষয়ে যে ডকুমেন্ট   রয়েছে  তা হল ভাগিরথীর ছেলে গণেশ কর্তৃক  আল্লামা সাঈদীর পক্ষে ট্রাইব্যুনালে এসে সাক্ষ্য প্রদান এবং আসামী পক্ষের  ১০ নং সাক্ষীর জবানবন্দী।

রাষ্টপক্ষ কর্তৃক জমা দেয়া ‘বর্বরতার রেকর্ড’ শীর্ষক ১৯৭২ সালের দৈনিক আজাদ পত্রিকার প্রতিবেদনটি পড়ে শোনান মিজানুল ইসলাম। প্রতিবেদেনর সারমর্ম  বিষয়ে মিজানুল ইসলাম বলেন, ভাগিরথীকে পাকিস্তান সেনা ক্যাম্পে  নিয়ে পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছিল। এরপর ভাগিরথী চিন্তা করল তার সবকিছুই যখন চলে গেল তখন সে প্রতিশোধ নেয়ার  পরিকল্পনা করল। পাকিস্তান সেনাদের বিশ্বাস ভাজন হবার সে কৌশল নিল ।  তাদের  খবরাদি মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে পৌছে দিত সে। একদিন তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাকিস্তান সৈন্যরা ভাগিরথীর গ্রামে আসে। সেখানে আগে থেকে প্রস্তুত ছিল মুক্তিযোদ্ধারা। ৪৫ জন খান সেনা তাদের গ্রামে এসেছিল । তার মধ্য থেকে ৪/৫ জন প্রান নিয়ে ফিরে যেতে পেরেছিল। এরপর পাকিস্তানী সেনারা এর জন্য ভাগিরথীকে দায়ী করে এবং তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে।

মিজানুল ইসলাম বলেন,  তদন্ত কর্মকর্তা দৈনিক আজাদের প্রতিবেদন বিষয়ে  স্বীকার করেছেন  ওই প্রতিবেদনে ভাগিরথী হত্যা বিষয়ে সাঈদী সাহেবের সংশ্লিষ্টতা বিষয়ে কিছু উল্লেখ নেই।
মিজানুল ইসলাম বলেন,  ভাগিরথী হত্যা বিষয়ে দৈনিক আজাদের প্রতিবেদন যদি সত্য ধরা হয় তাহলে দেখা যায়  ভাগিরথী হত্যার সময় রাজাকারদের  সংশ্লিষ্টতা বিষয়ে কিছু নেই। রাজাকারা তাকে  ধরিয়ে দিয়েছিল এ কথা উল্লেখ আছে শুধু ।
মিজানুল ইসলাম বলেন,  রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী এক ঘন্টা ধরে ভাগিরথীকে পিরোজপুর শহরে গাড়ির পেছনে টেনে হত্যা করা হল। কমপক্ষে ৫ থেকে ১০ মাইল তাকে টেনে হিচড়ে শরীর ক্ষত বিক্ষত করা হল। শত শত মানুষ এ ঘটনা দেখার কথা।   কিন্তু তারা এর পক্ষে একজন প্রত্যক্ষদর্শীও হাজির করতে পারলনা?  পিরোজপুরের সব লোক কি মাওলানা সাঈদীর পক্ষাবলম্বনকারী? একজন লোকও কি নেই যিনি এ বিষয়ে সত্য কথা বলতে পারেন? যদি ধরে নেয় হয়  ভাগিরথীর ছেলে গণেশের জবানবন্দী রেকর্ডের পর তারা মনে করেছেন আর কোন সাক্ষী দরকার নেই কিন্তু গণেশকে যখন  তারা সাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে আনতে পারলনা তখনো তো তারা অন্য কোন সাক্ষী আনতে  পারতো। কিন্তু তারপরও তো আনলনা।

মিজানুল ইসলাম বলেন, গণেশসহ  ৪৬ জন সাক্ষীকে  হাজির করা সম্ভব নয়  উল্লেখ করে রাষ্ট্রপক্ষ দরখাস্ত করেছিল তাদের অনুপস্থিতিতে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে প্রদত্ত জবানবন্দী  হিসেবে গ্রহণ করা হোক। ট্রাইব্যুনাল গণেশচন্দ্রসহ ১৫ জনের জবানবন্দী গ্রহণ করেছেন ১৯.২ ধারায়।  কিন্তু  গণেশ আসামী পক্ষে  ট্রাইব্যুনালে এসে সাক্ষ্য দেয়ার পর  ১৯.২ ধারা অনুযায়ী  তার জবানবন্দী আর ট্রাইব্যুনালের কাছে গ্রহণযোগ্য হবার কোন উপায় নেই। । কারণ গণেশ যে আল্লামা সাঈদীর  পক্ষ অবলম্বনকারী সন্ত্রাসীদের ভয়ে আত্মগোপনে ছিল তার পক্ষে কোন  প্রমান তারা হাজির করতে পারেনি। বরং তদন্ত কর্মকর্তা জেরায় স্বীকার করেছেন ডাকাতের ভয়ে গণেশ পালিয়ে ছিল। সেই ডাকাত একজন শাস্তি প্রাপ্ত লোক বলেও তিনি জানিয়েছেন। কাজেই  গণেশ যে আল্লামা সাঈদীর পক্ষাবলম্বনকৃত  সন্ত্রাসীদের ভয়ে পালিয়ে ছিলনা তাতো নিশ্চিত। রাষ্ট্র কি একজন সাক্ষীকে ডাকাতের কাছ থেকে নিরাপত্তা দিয়ে ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে পারেনা? গণেশের কি এমন সম্পত্তি আছে যে তার ডাকাতের  ভয় থাকবে? তাছাড়া গণেশকে রাষ্ট্রপক্ষ জেরার সময় এ মর্মে একটি সাজেশনও তারা দেননি যে, সে আল্লামা সাঈদীর সন্ত্রাসীদের ভয়ে পালিয়েছিল কি-না।

মিজানুল ইসলাম বলেন,  গণেশ  আল্লামা সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দেয়ার পর রাষ্ট্রপক্ষ বলেছিল সে আর রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী নয়। কিন্তু অপর দিকে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে তার প্রদত্ত জবানবন্দী আবার তারা গ্রহণ করতে চায়। এটা শুধু বৈপরীত্য এবং ডাবল স্ট্রাডার্ড নয়। আরো কিছু বলা যায়। আমি তা বললামনা।

মিজানুল ইসলাম বলেন, তদন্ত কর্মকর্তার কাছে   গনেশের যে জবানবন্দী রেকর্ড করা আছে তাতে বলা হয়েছিল মটর সাইকেলের পেছনে তার মাকে বেঁধে শহরে টেনে হিচড়ে ঘোরানো হয়েছিল।
অন্যদিকে ট্রাইব্যুনালে তিনি তার জবানবন্দীতে বলেছেন তার মাকে  জীপের পেছনে বাঁধা হয়েছিল। গণেশ তদন্ত কর্মকর্তার কাছে যে জবানবন্দী দিয়েছেন তাতে লেখা আছে যে মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান সর্দার ভাগিরথীর কাছ থেকে পাকিস্তানী সেনাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতেন তিনি বর্তমানে পিরোজপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান । কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা জেরায় বললেন উপজেলা চেয়ারম্যান   মতিউর রহমান সর্দার এবং   ভাগিরথীর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহকারী মতিউর রহমান সর্দার আলাদা ব্যক্তি । মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান জীবিত আছে কি-না তাও তিনি জানেননা।
এসময় ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, সাক্ষী যা বলেছে তদন্ত কর্মকর্তা তা লিখেছে। এখানে তার দোষ কোথায়? সাক্ষীর ওই লাইনটা  হয়ত সঠিক নয়।
মিজানুল ইসলাম বলেন, তিনি সাক্ষীর একটি জবানবন্দী জমা দিলেন এবং  জেরার সময় ধরে নেয়া যায় সে জবানবন্দী তার সামনে ছিল। সেখানে  গণেশ বলল উপজেলা চেয়ারম্যান  মতিউর রহমান এবং   মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান একই ব্যক্তি । আর তদন্ত কর্মকর্তা বললেন একই ব্যক্তি নন।  এটা একজন তদন্ত কর্মকর্তা কি করে বলতে পারেণ তার সামনে সাক্ষীর ডকুমেন্ট থাকার পরও?

মিজানুল ইসলাম বলেন, তাছাড়া দৈনিক আজাদের রিপোর্টে লেখা আছে ভাগিরথীর তখন একটি সন্তান ছিল। অন্যদিকে গণেশ তদন্ত কর্মকর্তার কাছে যে জবানবন্দী দিয়েছেন তাতে লেখা আছে তারা দুই ভাই ছিল তখন। তার বড় ভাইর নাম ছিল কার্তিক। সুতরাং দেখা যাচ্ছে ভাগিরথী হত্যা বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষই বিপরীতধর্মী তথ্য দিয়েছে।
বিচারপতি নিজামুল হক প্রশ্ন করেন, গনেশের যে জবানবন্দী তদন্ত কর্মকর্তা রেকর্ড করেছেন এবং ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষ জমা দিয়েছেন তাতে লেখা আছে তার মায়ের হত্যা বিষয়ে সে লোকমুখে শুনেছে। শোনা কথা কোনটা সত্য কোনটা মিথ্যা তার কিছুই সে জানেনা। স্বাধীনতার পর সে লোকমুখে শুনেছে পাড়েরহাটের রাজাকার দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ওরফে দেলুর প্রত্যক্ষ হাত ছিল তার ময়ের হত্যা বিষয়ে। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কি?

মিজানুল ইসলাম বলেন, গণেশ চন্দ্র  আল্লামা সাঈদীর পক্ষে এই ট্রাইব্যুনালে এসে সাক্ষ্য দিয়ে বলেছেন তার মায়ের হত্যার সাথে সাঈদী সাহেব জড়িত নন। ট্রাইব্যুনালে তিনি যা বলেছেন তা তদন্ত কর্মকর্তার রেকডকৃত বক্তব্যের বিপরীত।

শান্তি কমিটির তালিকায় সভাপতির নাম নেই!
তদন্ত কর্মকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত রাজাকার এবং শান্তি কমিটির একটি ওয়েবসাইট ট্রাইব্যুনালের পর্দায় দেখান  মিজানুল ইসলাম। পিরোজপুর  শান্তি কমিটির যে তালিকা  দেখানো হয় তাতে দেখা যায় পিরোজপুর শান্তি কমিটির সভাপতি খান বাহাদুর সৈয়দ মো: আফজালের নাম নেই। রাজাকার তালিকায়ও তার নাম নেই। রাজাকার তালিকায় আল্লামা সাঈদীর নাম আছে।

মিজানুল ইসলাম  বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন একটি জেলার রাজাকার এবং শান্তি কমিটির তালিকা তৈরি করা হল আর তাতে সে জেলার  শান্তি কমিটির সভাপতির নাম  রাখা হলনা।  কাজেই  এই তালিকার কি কোন গ্রহণযোগ্যতা, বিশ্বাস যোগ্যতা থাকতে পারে?  যে লেখক এই তালিকা তৈরি করেছে  সেই লেখকের গ্রহণযোগ্যতা, সততা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, তালিকায় আফজাল সাহেবের নাম না থাকলে কি তিনি শান্তি কমিটির লোক ছিলনা এটা বোঝায়?  তালিকায় নাম নেই কিন্তু তার বাইরে কি আর কোন রাজাকার বা শান্তি কমিটির লোক নেই? বা তালিকায় যাদের নাম আছে তারা সবাই  রাজাকার বা শান্তি কমিটির তাও কি ধরে নেয়া যায়?
মিজানুল ইসলাম বলেন আমি আপনার সাথে  সম্পূর্ণ একমত।  তালিকায় নাম না থাকলে যে আফজাল সাহেবর শান্তি কমিটির লোক নন  মর্মে আখ্যায়িত হবেন তা নয়।  আমি বোঝাতে চেয়েছি তালিকায় আসল ব্যক্তি সভাপতির নাম যদি না থাকে তাহলে সেই তালিকার  গ্রহণযোগ্যতা  বিশ্বাসযোগ্যতা প্রথমেই  চলে যায়।
বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, লেখক যাদের নাম পেয়েছে তাদের নাম দিয়েছে। ওনার নাম হয়ত তিনি পাননি।
মিজানুল ইসলাম বলেন, এটা হতে পারেনা। একজন লোক একটি  এলাকার শান্তি কমিটির তালিকা করবেন আর তিনি  সেই এলাকার সভাপতির নাম পাবেনা কিন্তু অন্যদের নাম পাবে তা  বিশ্বাসযোগ্য হতে পারেনা।

রাজাকার এবং শান্তি কমিটির তালিকার  যে ওয়েবসাইট দেখানো হল এ বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে মিজানুল ইসলাম  পরবর্তীতে বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা জেরায় বলেছিলেন ডা. এম এ হাসানের ওয়েবসাইট থেকে তিনি এ তথ্য পেয়েছেন। এটি  ডা. এম  এ হাসানের  ওয়েবসাইট। ওয়েবসাইটটির নাম ওয়ারক্রিমিনালসবিডিডটওআরজি। এখানে এ তালিকা আছে। তাছাড়া ওয়ারক্রাইমস ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির আহবায়ক ডা. এম এ হাসানের যে ডকুমেন্ট জমা দেয়া হয়েছেঠ তাতেও  তালিকা আছে। উভয় তালিকা একই।  এ ডকুমেন্ট  তদন্ত কর্মকর্তা তাদের পক্ষের ডকুমেন্ট হিসেবে ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেছেন।

যুক্তি উপস্থাপনে মিজানুল ইসলামকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট মনজুর  আহমদ আনসারী,  ব্যারিস্টার  তানভির আহমেদ আল আমিন, ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিক, অ্যাডভোকেট শিশির মো: মনির প্রমুখ।
রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু,  প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী প্রমুখ।
ট্রাইব্যুনাল (১) চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক, সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, বিচারপতি আনোয়ারুল হক বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

মদনসাহার দোকান লুট এবং ফেরত বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ও তদন্ত কর্মকর্তার তথ্যে ভিন্নতা

২০/১১/২০১২
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর  পক্ষে আইনজীবী  মিজানুল ইসলামের যুক্তি উপস্থাপন অব্যাহত রয়েছে। মাওলানা সাঈদীর নাম, মদনসাহার দোকান লুট এবং তা ফেরত প্রদান বিষয়ে  বিষয়ে সাক্ষী এবং তদন্ত কর্মকর্তার  সাক্ষ্য বিষয়ে যুক্তি উপস্থাপন করেন তিনি।

আজ যুক্তি উপস্থাপন করে মিজানুল ইসলাম বলেন, মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের পাঁচজন সাক্ষী বলেছিলেন ১৯৭১ সালে পাড়েরহাট বাজারে অবস্থিত  ব্যবসায়ী মদনসাহার  দোকান এবং বসত ঘর লুট করে তার শশুরবাড়ি নিয়ে যান। এরপর মুক্তিযুদ্ধ শেষ হলে মুক্তিযোদ্ধারা সে ঘর উদ্ধার করে মদন সাহাকে ফেরত দেন।  অন্যদিকে তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন  জেরার সময় বলেছেন মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মদনসাহা ভারতে চলে যান এবং এরপর আর ফেরত আসেনি। তাহলে মদনসাহাকে লুটের মাল কিভাবে ফেরত দেয়া হল?  আমরা কার কথা বিশ্বাস করব?

এরপর তদন্তকর্মকর্তা কর্তৃক  ট্রাইব্যুনালে দাখিলকৃত এবং প্রদর্শিত একটি ভিডিও চিত্র এবং  একটি স্থির চিত্র পুনরায় প্রদর্শনের  অনুরোধ করেন মিজানুল ইসলাম। ট্র্ইাব্যুনালের পর্দায়  প্রদর্শিত ভিডিও চিত্রে একটি টিনের ঘর দেখা যায়। মিজানুল ইসলাম বলেন,  তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন বলেছিলেন এই ঘরটি মদন সাহার। এরপর একটি দোতলা বাড়ির ছবি পর্দায়  দেখানো হয়। মিজানুল ইসলাম বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন জেরার সময় এই দোতালা বাড়িটিও মদন সাহার বলে সাক্ষ্য দিয়েছেন। একবার তিনি টিনের ঘরটিকে বলছেন মদন সাহার ঘর আরেকবার দোতলা বাড়িটিকে বলছেন মদন সাহার ঘর।
মিজানুল ইসলাম বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন এটি কি করে সম্ভব হতে পারে? এরপরও কি এই তদন্ত কর্মকর্তাকে বিশ্বাস করা যায়? তার ওপর আস্থা রাখা যায়? কি কারনে কিভাবে আমরা এরপরও তাকে বিশ্বাস করতে পারি?
ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক এসময় বলেন এখানে কোন ভুল আছে কি-না তা আমরা বুঝতে চাই।
মিজানুল ইসলাম বলেন, অবশ্যই  আপনারা বুঝতে চাইবেন এবং সেটি আপনাদের চাওয়া উচিত।  এ বিসয়ে জেরার সময় ট্রাইব্যুনালে দীর্ঘ বিতর্ক হয়েছে। আপনারা ইচ্ছা করলে সে ভিডিও রেকর্ড দেখতে পারেন।

এছাড়া আজ মাওলানা সাঈদীর নাম বিষয়ে যুক্তি উপস্থাপন করেন মিজানুল ইসলাম । তিনি বলেন,  রাষ্ট্রপক্ষের দাবি  আল্লামা সাঈদীর নামের শেষে শিকদার ছিল। স্বাধীনতার পর তিনি নাম পরিবর্তন করে সাঈদী হয়েছেন। তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১০ জন রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী এ বিষয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন।  কিন্তু আল্লামা  সাঈদীর নামের শেষে শিকদার ছিল, তার পিতার নামের শেষে শিকদার ছিল এ মর্মে কোন ডকুমেন্ট রাষ্ট্রপক্ষ হাজির করতে পারেনি। কোন প্রমান তারা  দিতে পারেনি। আল্লামা সাঈদীর নাম সাঈদী ছাড়া অন্য কিছু ছিল তার কোন প্রমান  দিতে তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ  হয়েছে। বরং তারা   আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে যে ডকুমেন্ট জমা দিয়েছেন তাতেই দেখা যায়  সাঈদী কথাটি  জন্ম থেকেই তার নামের শেষে ছিল। এমনকি তার পিতা এবং দাদার নামের সাথেও সাঈদী ছিল। তারা আল্লামা  সাঈদীর বিরুদ্ধে দাখিল এবং আলিমের সনদ জমা দিয়েছেন ট্রাইব্যুনালে। ১৯৫৭ সালের দাখিল সনদে তার নামের শেষে সাঈদী আছে। তার পিতার নামের শেষেও সাঈদী লেখা আছে। আলিমের সনদে নামের আগে ‘আবু নঈম মো: কথাটি’ একটানে কাটা আছে। যে শব্দটি কাটা সেটি তার নাম হতে পারেনা। আর বোর্ড কর্তৃপক্ষ যদি ভুল করে নাম লিখে আবার তা কাটে তার দায়দায়িত্ব তো সনদধারীর নয়। তাছাড়া মূল সনদ হল দাখিল। সেখানে যে নাম আছে সেটিই হল প্রকৃত নাম। সেখানে নামের শেষে সাঈদী আছে, পিতার নামের শেষেও সাঈদী আছে।
মিজানুল ইসলাম বলেন, তাছাড়া রাষ্ট্রপক্ষ  সাঈদী সাহেবের বিরুদ্ধে ইনকাম ট্যাক্স, হোল্ডিং ট্যক্স, গ্যাস বিল, বিদ্যুৎ বিলসহ মোট যে ছয়টি ডকুমেন্ট জমা দিয়েছেন তার প্রত্যেকটিতে তার নামের শেষে সাঈদী রয়েছে।।  পিতার নামের শেষেও সাঈদী আছে।  কাজেই তাদেরই জমা দেয়া এতগুলো ডকুমেন্টে তার এবং তার পিতার নামের শেষে সাঈদী লেখা থাকার পরও কি করে, কোন যুক্তিতে  তারা তাকে শিকদার বলে  আখ্যায়িত করতে পারে?
মিজানুল ইসলাম বলেন, আমরা সাঈদী সাহেবের পক্ষে ১৭ জন সাক্ষী হাজির করলাম। তাদের একজন সাক্ষীকেও  রাষ্ট্রপক্ষ জেরার সময় এমন কো সাজেশন দেননি যে, সাঈদী সাহেবের নাম আগে শিকদার ছিল, তার পিতার নামের শেষেও শিকদার ছিল।

মিজানুল ইসলাম বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা শপথ নিয়ে এই কাঠগড়ায় দাড়িয়ে অসত্য তথ্য দিয়েছেন।
মাওলানা সাঈদীর নামের  সাথে আল্লামা এবং মাওলানা লেখা বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য এবং অভিযোগের জবাবে মিজানুল ইসলাম বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ কোনদিন মাদ্রাসায় পড়েননি।  আব্দুল হামিদ খান ভাসানীও   কোন মাওলানা নন। কিন্তু তাদের নামের আগে মাওলানা শব্দেরব ব্যবহার নিয়ে কি কারো কোন প্রশ্ন আছে? তাছাড়া আল্লামা আজিজুল হক, আল্লামা ইকবালের  নামের আগে আল্লাম ব্যবহার করা হয়। কাজেই আল্লামা লিখতে হলে ইসলামী বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রী অর্জন করতে হবে বলে তদন্ত কর্মকর্তা যে তথ্য দিয়েছেন তা তার মনগড়া এবং অসত্য তথ্য।
গতকাল মিজানুল ইসলামের যুক্তি উপস্থাপনের সময় আসামী পক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক, অ্যাডভোকেট মনজুর আহমদ আনসারী, ব্যারিস্টার   ইমরান সিদ্দিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে  উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু।
ট্রাইব্যুনাল  চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল  হক, সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, বিচারপতি আনোয়ারুল হক বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

ভাগিরথী হত্যায় সাঈদী সাহেব জড়িত একথা কি কোন নাটক নভেলে আছে?

১১/১১/২০১২ রোববার
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের সময় ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে প্রশ্ন করেন  শুনেছি ভাগিরথী হত্যা বিষয়ে নাটক নভেল হয়েছে। কোন নাটক নভেলে কি একথা আছে যে, তার হত্যার সাথে সাঈদী সাহেব জড়িত ছিলেন? এ বিষয়ে কোন ডকুমেন্ট আছে আপনাদের? তাহলে অন্তত বলতে পারতেন যে, জনশ্রুতি হিসেবে তার নাম  আছে। কারণ জনশ্রুতির একটা মূল্য আছে।  এরপর  তিনি আবারো প্রশ্ন করেন কোন জনশ্রুতিও নেই এ বিষয়ে?
জবাবে সৈয়দ হায়দার আলী বলেন থাকলে আমরা দেব।
এসময় মাওলানা সাঈদীর পক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম বলেন রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ভাগিরথী বিষয়ে দুটি ডকুমেন্ট জমা দেয়া হয়েছে। একটি হল ১৯৭২ সালের  আযাদ পত্রিকার খবর এবং আরেকটি হল ভাগিরথীর ছেলে গণেশ চন্দ্র  সাহার জবানবন্দী। গণেশ  তাদের পক্ষে সাক্ষ্য দেয়নি। আমাদের পক্ষে দিয়েছেন।  যেহেতু তিনি তাদের পক্ষে সাক্ষ্য দেয়নি তাই তার  জবানবন্দীর আর কি দাম রইল। তিনি  আমাদের পক্ষে  যা বলেছেন তাও যদি বাদ দেয়া হয় তাহলে থাকল শুধু আযাদের রিপোর্ট। আযাদের রিপোর্টে  ভাগিরথী হত্যার সাথে সাঈদী সাহেবের কোন সম্পৃক্ততার কথা নেই।

আজ  মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে যুক্তি উপস্থাপনের সময় মাওলানা সাঈদীর পক্ষের সাক্ষীদের  প্রদত্ত সাক্ষ্যের বৈপরিত্য  তুলে ধরে তাদের  বক্তব্য খন্ডন করেন সৈয়দ হায়দার আলী।
সৈয়দ হায়দার যুক্তি উপস্থাপন করেন  সাঈদী সাহেব স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় পর্যন্ত পিরোজপুরে ছিলেননা। তিনি  পিরোজপুরের বাইরে পালিয়ে ছিলেন। সাঈদী সাহেবের  পক্ষের সাক্ষী রওশন আলী বলেছেন ১৯৭৩ সাল থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত  খুলনায় সাঈদী সাহেবের বাসায় তিনি কয়েকবার গেছেন। এ থেকে প্রমানিত যে, সাঈদী সাহেবে ১৯৭৩  থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত খুলনায় ছিলেন। তাছাড়া সাঈদী সাহেবের ছেলে একটি ডকুমেন্ট জমা দিয়েছেন তার পিতার ওয়াজ মাহফিলের দাওয়াতনামা বিষয়ে। ১৯৭৪ সালের সে দাওয়াতনামায় সাঈদী সাহেবের নামের শেষে খুলনা লেখা আছে।

এসব থেকে একটা জিনিস প্রতিষ্ঠিত তাহল তিনি ১৯৭৩ সাল থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত পিরোজপুরে ছিলেননা, খুলনা ছিলেন। আমরা বলেছি মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী কর্মকান্ডের সাথে জড়িত থাকার কারনে স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘদিন তিনি পিরোজপুরে ছিলেনা।

স্বাধীনতার পূর্ব থেকে এবং স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে মাওলানা সাঈদী যশোরে ছিলেন এ মর্মে মাওলানা সাঈদীর পক্ষে পাঁচজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। রওশন আলী নামে এক সাক্ষী বলেছিলেন স্বাধীনতা যুদ্ধচলাকালে মে মাসের প্রথম থেকে জুলাই মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত সাঈদী সাহেব তাদের বাসায় ছিলেন সপরিবারে।
এ বিষয়ে সৈয়দ হায়দার আলী বলেন রওশন আলীর বাসায় সাঈদী সাহেব  ছিলেন এটা সত্য । তবে তা স্বাধীনতার পরে,  স্বাধীনতার আগে বা স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় নয়। তিনি বলেন, সাঈদী সাহেবের ছেলে মাসুদ সাঈদী বলেছেন তার পিতার পেশা ছিল লেখালেখি করা। ওয়াজ মাহফিল নয়। কিন্তু সাক্ষীরা বলেছেন, ওয়াজ মাহফিল করার কারনে তিনি যশোরে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন। সৈয়দ হায়দার আলী বলেন,  যেটা তার পেশা নয় সে কারনে তিনি যশোরে গিয়ে বাসা ভাড়া করে কেন থাকবেন? লেখালেখির জন্য পিরোজপুর থেকে যশোরে গিয়ে থাকার কোন দরকার নেই। এটা হাস্যকর, অযৌক্তিক। আর সারা দেশে ওয়াজ করলে শুধু যশোরে গিয়ে বাসা ভাড়া করে কেন থাকবেন?

মাওলানা সাঈদীর পক্ষে  সাক্ষী মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম তালুকদারের সাক্ষ্য খন্ডাতে গিয়ে সৈয়দ হায়দার আলী বলেন,  তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা সেটা আমরা দ্বিমত করছিনা। কিন্তু  তিনি কেন এসেছেন সেটা আমরা  তুলে ধরতে চাই। সৈয়দ হায়দার আলী বলেন, শামসুল আলম তালুকদার স্বাধীনতার পূর্ব থেকেই স্বাধীনতা বিরোধীদের সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি  ভাসানী ন্যাপ এর মশিউর রহমান জাদু মিয়ার গ্রুপের সাথে সম্পর্কিত ছিল। মশিউর রহমান  জাদু মিয়ার গ্রুপটি স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিল।
সৈয়দ হায়দার আলী বলেন এখনো  শামসুল আলম তালুকদার একটি জোটের (১৮ দল)   রাজনীতির সাথে জড়িত এবং তিনি জোটের  একটি শরীক দলের নেতা। আগে থেকেই তিনি স্বাধীনতা বিরোধীদের সাথে যুক্ত থাকায় এবং বর্তমানেও একটি জোট রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততার কারনে তিনি সাঈদী  সাহেবের পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন।  তিনি এখানে এসে যা বলেছেন তা তার মতামত মাত্র।

ট্রাইব্যুনাল এসময় প্রশ্ন করেন একজন লোক কোন পক্ষের সাথে যুক্ত সেটা বড় বিষয় না তিনি যা বলেছেন তার সত্যাসত্য কি সেটা বড়  বিষয়?
জবাবে সৈয়দ হায়দার আলী বলেন, বলা হচ্ছে একজন মুক্তিযোদ্ধা এসে সাঈদী সাহেবের পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন। সেজন্য আমরা বলেছি তিনি কি কারনে এখানে আসলেন। তার আসার  কারণটা তুলে ধরেছি।
এভাবে মাওলানা সাঈদীর পক্ষে  অপর দুজন মুক্তিযোদ্ধা সাক্ষীর বক্তব্যও খন্ডন করার সময় তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য এবং পরিচয় তুলে ধরেন তিনি।
মাওলানা সাঈদীর পক্ষে সাক্ষী মুক্তিযোদ্ধা খসরুল  আলম সম্পর্কে সৈয়দ হায়দার আলী বলেন, সাক্ষী দাবি করেছেন   তিনি ছাত্রলীগের সদস্য ছিলেন। তিনি বলেছেন ছাত্রলীগে অন্তর্ভুক্ত হতে হলে তখন ওয়াদাপত্র পূরন করতে হত। কিন্তু বাস্তবে তখন এ ধরনের কোন ব্যবস্থা ছিলনা। জবানবন্দীতে তিনি দাবি করেছেন পাড়েরহাটে ক্যাপ্টেন জিয়া উদ্দিনের কাছে রাজাকার এবং     স্থানীয় লোকজন রাজাকারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছেন। আবার জেরায় তিনি বলেছেন ক্যাপ্টেন জিয়া উদ্দিন তখন কারো কথা শোনেননি। তিনি শুধুমাত্র তার বক্তব্য দিয়ে পিরোজপুর চলে গেছেন।
সৈয়দ হায়দার আলী বলেন, তার বক্তব্যে বৈপরিত্য রয়েছে।
আরেক সাক্ষী আব্দুর রাজ্জাকের বক্তব্য খন্ডন করে  তিনি বলেন, সাক্ষী এক জায়গায় বলেছেন আমি দিনেও পালাইনি রাতেও পালাইনি। কারণ রাজাকারদের কোন চাপ ছিলনা তার ওপর। আবার আরেক স্থানে বলেছেন, তিনি তার দুলাভাইকে নিয়ে পালিয়ে পালিয়ে থেকেছেন। তার বক্তব্যও অসংলগ্ন।

তাজুল ইসলাম ট্রাব্যুনালে নিষিদ্ধ



৬/১১/২০১২
আসামী পক্ষের অন্যতম প্রধান আইনজীবী তাজুল ইসলামকে ২২ নভেম্বর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া তিনিসহ আসামী পক্ষের অপর  গুরুত্পূর্ণ আইনজীবী মিজানুল ইসলাম, ব্যারিস্টার তানভির আহমেদ আল আমীনের বিরুদ্ধে  আদালত অবমাননা, বিচারকাজে বাঁধা সৃষ্টি এবং ট্রাইব্যুনালের সুনাম নস্যাতের অভিযোগে কারণ দর্শানো নোটিশ  জারি করা হয়েছে।

ট্রাইব্যুনাল আইনের ১১(৪) ধারার অধীনে কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবেনা সে মর্মে আগামী ২২ নভেম্বর  জবাব দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। ওই তারিখ পর্যন্ত তাজুল ইসলামের ওপর  ট্রাইব্যুনালে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

গত সোমবার মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষের সাক্ষী সুখরঞ্জন বালীকে ট্রাব্যুনালের গেট থেকে  ডিবি পুলিশ কর্তৃক অপহরনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনালে সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতির জের ধরে আসামীপক্ষের আইনজীবীদের বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ নেয়া হল। এছাড়া মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে  মাসুদ সাঈদীসহ ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত আসামী পক্ষের অন্যান্য সকল আইনজীবীদেরও সতর্ক করেছেন ট্রাইব্যুনাল। আদেশে ট্রাইব্যুনাল বলেছেন  ট্রাইব্যুনালের সুনাম নস্যাতের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক, সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন এবং  বিচারপতি আনোয়ারুল হক  সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ গতকাল এ  নোটিশ জারির আদেশ দেন।

সকালে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জেয়াদ আল মালুম আসামী পক্ষের আইনজীবী তাজুল ইসলাম, মিজানুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে ব্যবস্থা গ্রহনের আবেদন করেন। তিনি  তার আবেদনে বলেন, আজ  সারা দেশে জামায়াতের যে তান্ডব হয়েছে তারই অংশ ছিল সকালে ট্রাইব্যুনালের গেটের ঘটনা (সাক্ষী অপহরন )  ।  জেয়াদ আল মালুম  বলেন, উক্ত ঘটনার পর ট্রাইব্যুনালে আসামী পক্ষের আইনজীবীরা যে ভাষায় কথা বলেছেন, যে আচরন করেছেন তা স্বাভাবিক বিচার কাজ পরিচালনার জন্য বাঁধাস্বরূপ। স্বাভাবিক বিচার কার্যক্রম সচল রাখা সম্ভব নয়। বিচার কাজ বাঁধাগ্রস্ত করার জন্য তারা সারা দেশে তান্ডব চালিয়েছে। তারা ট্রাইব্যুনালকে আক্রমন করেছে ট্রাইব্যুনালের কাজে বাঁধা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে।
তাই এ অভিযোগে তাজুল ইসলাম এবং মিজানুল ইসলামের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া  হোক।
জেয়াদ আল মালুম জামায়াতের কর্মসূচী বিষয়ে প্রকাশিত দশটি  পত্রিকার খবর জমা দেন  ট্রাইব্যুনালে। এরপর তিনি বলেন, এছাড়া তাজুল ইসলাম এবং মিজানুল ইসলাম গতকাল ট্রাইব্যুনালের বাইরে ট্রাইব্যুনালকে আক্রমন করে যে বক্তব্য দিয়েছেন মিডিয়ার সামনে তা সকল টিভি ক্যামেরায় ধারন করা আছে। সেসব ভিডিও ফুটেজ জমা দেয়ার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি নির্দেশ দেয়া হোক। তাহলে তারা কি বলেছে তা আপনারা দেখতে পাবেন।

আসামী পক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এখানে রাজনৈতিক বক্তব্য রেখেছেন। জামায়াত বাইরে কি করেছে বা না করেছে তার সাথে এখানকার  পরিস্থিতির কোন সম্পর্ক নেই। জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মসূচীর সাথে আমাদের আইনী লড়াইয়ের কোন সম্পর্ক নেই। তাজুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালকে হেয় করার মানসিকতা নিয়ে কিছু বলেননি বা করেননি।

চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক বলেন  ট্রাইব্যুনালকে দায়ী করে তাজুল ইসলাম বক্তব্য দিয়েছেন মর্মে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা যদি সত্য হয় তাহলে  তা আইনের আওতয়া আসে কি-না। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে একটি অভিযোগের (অসদাচরনের )  নোটিশ জারি করা হয়েছে এবং আজ (মঙ্গলবার) তার জবাব দেয়ার কথা রয়েছে। এ অবস্থায় যদি তিনি আবারো তার চেয়ে বড় ঘটনা ঘটান তাহলে লিগ্যাল পজিশন কি দাড়ায়? আমরা চিফ প্রসিকিউটর জনাব গোলাম আরিফ টিপুকে বলেছিলাম আপনি  বিষয়টি (অপহরন) সম্পর্কে জেনে আমাদের কাছে রিপোর্ট করেন। তাকে আমরা সাথে সাথে কোর্ট থেকে বের হয়ে চলে যেতে বললাম খবর নেয়ার জন্য। তিনি সাড়ে বারটার দিকে এসে  পুলিশের  বরাত দিয়ে বলেছেন গতকাল সকালে গেটের সামনে এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। তার জবাবে তাকে বলা হল মিথ্যুক। এটা কি  আইনের আতওয়া পড়েনা?
ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সেটা আপনারা বিবেচনা করবেন।

এরপর বিচারপতি নিজামুল হক বলেন,  দুইটায় আদেশ দেয়া হবে  এ বিষয়ে।
দুইটায় কোর্ট শুরু হলে ট্রাইব্যুনাল আদেশ দেন। আদেশে ট্রাইব্যুনাল অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে বলেন, আমরা পত্রিকার রিপোর্ট দেখেছি। সেই সাথে এখানে ট্রাইব্যুনাল কক্ষে যা হয়েছে তাও সিসি ক্যামেরায় ধারনকৃত ভিডিও সিডির মাধ্যমে দেখেছি। আমরা দেখেছি গতকাল এখানে অনেক কালকোর্টধারী বারবার দাড়িয়েছেন, কথা বলেছেন। তাজুল ইসলাম বারবার চিৎকার করছিলেন। প্রতি মিনিট অন্তর অন্তর তিনি দাড়িয়ে যাচ্ছিলেন। ট্রাইব্যুনালের বিচার কাজ চলা অবস্থায় অনেক আইনজীবী এখানে প্রবেশ করেন। তা আমরা লক্ষ্য করেছি। আমাদের নির্দেশের প্রেক্ষিতে চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু রমনা পুলিশসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে সাড়ে বারটায় কোর্টে আসেন। তিনি পুলিশের বরাত দিয়ে বলেন এখানে  এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। সাথে সাথে তাজুল ইসলাম চিৎকার শুরু করেন। তিনি  এ বিষয়ে সাথে সাথে  ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন ট্রাইব্যুনালের ওপর। আমরা বলেছিলাম  বিরতির সময় আমরাও বিষয়টি খোজ খবর নিয়ে দুইটায় এ বিষয়টি দেখব। কিন্তু তিনি  চিৎকার অব্যাহত রাখেন। অন্যান্য সব  কালকোর্টধারীরা দাড়িয়ে যান। তাজুল  ইসলাম এবং মিজানুল ইসলাম চিৎকার অব্যাহত রাখেন। ব্যারিস্টার তানভির আহমেদ আল আমীন দাড়িয়ে যান। মনজুর আহমেদ আনসারীও দাড়ান। তবে তার কণ্ঠস্বর আমরা শুনিনি। তাজুল ইসলাম এবং মিজানুল ইসলাম  চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপুকে বলেছেন “মিথ্যুক”।  এসময় রাষ্ট্রপক্ষের একজন আইনজীবী জানতে চান কেন তারা এভাবে মিথ্যুক বলছেন। তখন তারা আবারো তাকে মিথ্যুক বলেন। বাইরে গিয়ে প্রেসের  সামনে এ ঘটনার সাথে ট্রাইব্যুনালকে অভিযুক্ত করে বক্তব্য দিয়েছেন তাজুল ইসলাম।  তিনি সরাসরি ট্রাইব্যুনালকে অভিযুক্ত করেছেন যা অতিশয় অবমাননাকর। তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ অনিষ্পন্ন অবস্থায় রয়েছে। সে অবস্থায় তিনি আবার গতকাল ট্রাইব্যুনালে তার চেয়েও বড় ঘটনা ঘটিয়েছেন।  যা আমরা উপেক্ষা করতে পারিনা। দেশবাসীর সামনে তারা ট্রাইব্যুনালকে হেয় করেছে। ট্রাইব্যনালের সুনাম নস্যাতের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। 

ট্রাইব্যুনালের সুনাম ধ্বংস করার জন্য কেন তাদের বিরুদ্ধে আইনের ১১ (৪) ধারায় ব্যবস্থা করা হবেনা সে মর্মে ২২  নভেম্বররের মধ্যে জবাব দিতে হবে। (আইনের ১১ ধারায় বলা হয়েছে, ট্রাইব্যুনালের বিচার কাজে বাঁধা সৃষ্টি করা, আদেশ অমান্য করা, ঘৃনা বিদ্বেষ ছড়ানো, বা এজাতীয় কোন কাজ যা ট্রাইব্যুনালের প্রতি অবমাননাকর সেজন্য কাজের জন্য ট্রাইব্যুনাল সংশিষ্ট ব্যক্তির  বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে)

ট্রাইব্যুনাল তার আদেশে বলেন, এখানে অন্য যেসব আইনজীবী চিৎকার চেচামেচি করেছে তাদের সবার নাম আমরা জানিনা কিন্তু সবার মুখ আমাদের পরিচিত। তাদের সবাইকে আমরা চিনি। তাদের সবাইকে সতর্ক করা  হল ভবিষ্যতের জন্য। তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে আরো কিছু ব্যবস্থা নেয়া উচিত। তাকে আগামী ২২ নভেম্বর পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালে প্রবেশ থেকে বিরত থাকতে  নির্দেশ দেয়া হল। ২২ নভেম্বর জবাব দেয়ার পর আমরা পরবর্তী পদক্ষেপের  বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।

ট্রাইব্যুনাল বলেন, মাওলানা সাঈদী সাহেবের ছেলে মাসুদ সাঈদীকে দেখা গেছে তিনি বারবার সামনে আসছিলেন এবং পেছনে যাচ্ছিলেন। তিনি কোন আইনজীবী নন।  তার এ ধরনের  আচরন গ্রহণযোগ্য নয়।  তাকেও সতর্ক করা হল। অন্য সবাইকে সাধারনভাবে সতর্ক করা হল।
এছাড়া অ্যাডভোকেট শিশির মনির প্রসঙ্গে ট্রাইব্যুনাল বলেন, তিনি হঠাৎ করে একটি ছবি নিয়ে প্রবেশ করলেন ট্রাইব্যুনালে । আসামী পক্ষ সেটি আমাদের কাছে দিলেন সাথে সাথে। আমরাও  তখন পরিস্থিতির কারনে সেটি বুঝতে পারিনি । কিন্তু পরে আমরা দেখলাম সে ছবিতে অপহরন সংক্রান্ত কিছু নেই।  শুধু একটি পুলিশের গাড়ি এবং একজন লোক বাইরে দাড়ানো দেখা যাচ্ছে। এটি ট্রাইব্যুনালকে বিভ্রান্ত করার শামিল। ট্রাইব্যুনালকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় যায়। তবে তরুন আইনজীবী হিসেবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হলনা।

অসদাচরনের অভিযোগের জবাবদানের সময় পেলেন তাজুল ইসলাম : তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে অসদাচরনের অভিযোগে জারি করা নোটিশের জবাব দেয়ার  জন্য  আজ  তারিখ  ধার্য্য করা ছিল। এ বিষয়ে তার পক্ষে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে আট সপ্তাহ সময় প্রার্থনা করেন। ট্রাইব্যুনাল ২২ নভেম্বর পর্যন্ত সময় দেন। এসময়  বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি জয়নুল আবেদনী, ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকম অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম প্রমুখ  আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন তাজুল ইসলামের পক্ষে।

সুখরঞ্জন বালী ছিলেন রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী। রাষ্ট্রপক্ষ তাকে হাজির করতে পারেনি। গত সোমবার তিনি  এসেছিলেন মাওলানা সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য। ট্রাইব্যুনালের প্রবেশের সময় তাকে সাদা পোশাকধারী গোয়েন্দা পুলিশ অপহরন করে নিয়ে যায়। এ  বিষয়টি ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করে   প্রতিকার প্রার্থনা করেন সকালে।  সকালে ট্রাইব্যুনাল চিফ প্রসিকিউটরকে নির্দেশ দেন এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানানোর জন্য।  এর মাঝে অন্য কিছু আবেদনের শুনানী শুরু হয় এবং চিফ প্রসিকিউটর খবর নিয়ে আসতে আসতে সাড়ে বারটা বেজে যায়। চিফ প্রসিকিউটরের জবাবের পর ট্রাইব্যুনাল বলেন দুইটার পর এ বিষয়ে তারা দেখবেন। এ সময় আসামী পক্ষ  চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্যের জবাব দিতে চাইলে এবং  এ বিষয়ে তাৎক্ষনিক  পদক্ষেপ  গ্রহনের অনুরোধ করলে ট্রাইব্যুনাল তা গ্রহণ করেননি। ট্রাইব্যুনাল বিচারপতিগন এজলাশ ছেড়ে চলে যান বিরতিতে। তখন মিজানুল ইসলাম, তাজুল ইসলাম এবং আসামী পক্ষের অন্যান্য আইনজীবীরা ট্রাইব্যুনালে উচ্চস্বরে ক্ষোভ প্রকাশ করে কথা বলতে থাকেন। চিফ প্রসিকিউটরকে মিথ্যুক বলেন। এরই প্রেক্ষিতে তাদের বিরুদ্ধে গতকাল  পদক্ষেপ গ্রহণ করা হল।
এদিকে সোমবার ট্রাইব্যুনালে যে  কড়া নিরাপত্তা  ব্যবস্থা  ছিল গতকাল সেরকম কড়া পরিস্থিতি ছিলনা। গতকালের  নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল  আগের অন্যান্য দিনের মত স্বাভাবিক।


এদিকে আজ  মাওলানা সাঈদীর আইনজীবীরা ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপক্ষ মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে যুক্তি উপস্থাপন অব্যাহত রাখেন। আগামী বৃহষ্পতিবার পর্যন্ত তাদের সময় লাগবে বলে ট্রাইব্যুনালে জানিয়েছেন  প্রসিকিউটর সৈয়দ  হায়দার আলী।

হুমায়ুন আহমেদের পিতা শহীদ ফয়জুর রহমান হত্যার অভিযোগ বিষয়ে আসামী পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন

২৬/১১/২০১২ সোমবার
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলায় আজ আসামী পক্ষ  পিরোজপুরের তকালীন এসডিপিও শহীদ ফয়জুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত এসডিও  শহীদ আব্দুর রাজ্জাক এবং  মেজিস্ট্রেট শহীদ সাইফ মিজানুর রহমান হত্যাকান্ড বিষয়ে যুক্তি উপস্থাপন করেন।

মাওলানা সাঈদীর পক্ষে আইনজীবী মিজানুল ইসলাম বলেন, এ অভিযোগ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ একজন মাত্র সাক্ষী হাজির করেছে ট্রাইব্যুনালে এবং তিনিও কোন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী নন। তিনি এ ঘটনা মন্নাফ রাজাকার এবং শান্তি কমিটির নেতা  আফজালের কাছে শুনেছেন।  রাষ্ট্রপক্ষের এ সাক্ষীর নাম হল সাঈফ হাফিজুর রহমান। তিনি শহীদ সাঈফ মিজানুর রহমানের ভাই। এছাড়া রাষ্ট্রপক্ষ  দৈনিক জনকণ্ঠ এবং দৈনিক ভোরের কাগজের ২০১১ ও ২০১০ সালের কিছু রিপোর্টে   দাখিল করেছে অভিযোগের পক্ষে।
আসামী পক্ষের এ বিষয়ে যেসব ডকুমেন্ট রয়েছে তা হল শহীদ ফয়জুর রহমানের স্ত্রী জনপ্রিয় কথাসাহিত্যক  হুমায়ুন আহমেদের মা আয়েশা ফয়েজ লিখিত ‘জীবন যেকরম’ বই। এছাড়া  স্বাধীনতা যুদ্ধের  দলিলপত্র (অষ্টম খন্ড), পিরোজপুর জেলার ইতিহাস এবং  হুমায়ূন আহমেদ লিখিত জোছনা ও জননীর গল্প উপন্যাস।
মিজানুল ইসলাম বলেন, আয়েশা ফয়েজ তার বইয়ে উল্লেখ করেছেন তার স্বামী হত্যা বিষয়ে  একটি মামলা করেছিলেন। অনেক কষ্ট করে সাক্ষী প্রমান সংগ্রহ করা হয়েছিল। বইয়ে তিনি তিনি উল্লেখ করেছেন এদেশে পাকিস্তান মিলিটারি ল ল মানুষ মেরেছে। কিন্তু হত্যাকান্ডের জন্য প্রত্যভাবে দায়ী করা যায় সেরকম স্যা প্রমান কারো বিরুদ্ধে নেই। কাজলের (হুমায়ূন আহমেদ) বাবার হত্যাকান্ডের সাী প্রমান রয়েছে। কে মেরেছে, কারা মেরেছে, কিভাবে মেরেছে তাও জানা আছে।
এসমময় ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক প্রশ্ন করেন  সেসব সাক্ষী কারা। মিজানুল ইসলাম বলেন,
আয়েশ ফয়েজ সে মামলায় তার স্বামী ফয়জুর রহমান হত্যা বিষয়ে প্রধান আসামী হিসেবে তার বইয়ে দুজন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেছেন। তারা হল পাকিস্তানী সেনা  অফিসার ব্রিগেডিয়ার আতিক রশিদ  এবং ক্যাপ্টেন এজাজ। বইয়ে তিনি লিখেছেন তার দেহাবশেষ তুলে এনে ময়না তদন্ত করা যাবে এবং হত্যাকারী পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে একটি পূর্নাঙ্গ খুনের মামলা দায়ের করা যাবে। খুনী আসামীর প্রধান নায়ক বিগ্রেডিয়ার আতিক রশীদ কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট থেকে ধরা পড়েছে। এখন যুদ্ধবন্দী হিসেবে আছে। সাধারন যুদ্ধবন্দীরা মুক্তি পেয়ে দেশে যেতে পারে কিন্তু যুদ্ধাপরাধী হিসেবে তাকে বিচার করে শাস্তি দেয়া যাবে।
মিজানুল ইসলঅম বলেন, আয়েশা ফয়েজ তার স্বামী হত্যার  জন্য বারবার পাকিস্তানী সৈন্যদের দায়ী করেছেন এবং ১৯৯২ সাল পর্যন্ত তিনি বলেছেন পাকিস্তানী সৈন্যদের দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের বিচারের দাবি তিনি সব সরকারের কাছে করেই যাবেন। তিনি কোনদিন বলেননি যে তার স্বামী হত্যার সাথে মাওলানা সাঈদী জড়িত ছিলেন সহযোগী হিসেবে।
মিজানুল ইসলাম বলেন তাদের গ্রেফতারের পর পিরোজপুর শহরে   অনুমান ৫ কিলোমিটার পথ ঘোরানো হল। শহ শত মানুষ এর সাক্ষী থাকার কথা । তাদের নিয়ে যাবার সময়, বলেশ্বর নদীর তীরে হত্যার সময় যুদি সাঈদী সাহেব উপস্থিত থাকতেন তবে তা মানুষের মুখে মুখে থাকার কথা ।  শহীদ ফয়জুর রহমানের জানাজায় ৫০ হাজারের মত লোক হয়েছিল। শহীদ ফয়জুর রহমানের স্ত্রী  স্বাধীনতার পরও  পিরোজপুর গিয়েছিলেন। এতবড় একটি ঘটনায় আল্লামা সাঈদী জড়িত  আর এত বছরেও কেউ তাকে এ কথাটি বললনা এটা কি করে বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে?

আয়েশা ফয়েজ তার বইয়ে লিখেছেন  ফয়জুর রহমানের দেহাবশেষ তুলে পুনরায় দাফনের সময়  পিরোজপুর শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান খান বাহাদুর সৈয়দ মো: আফজালকে  গ্রেফতার করে থানায় আনা   হয়েছিল। আমি তার কাছ থেকে একদিন কাজলের বাবার কথা জানতে চেয়েছিলাম। উত্তর না দিয়ে দেশ সম্পর্কে আমাকে জ্ঞান দান করেছিলেন। আমাকে দেখে তিনি শ্যেন দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন। চিনতে পারলেন সেরকম ভাব করলেননা।

এছাড়া আজ মধুসূদন ঘরামীর স্ত্রী শেফালী ঘরামীকে ধর্ষণ এবং এবং গৌরাঙ্গ সাহার তিনবোনকে  ধর্ষনের উদ্দেশে পাকিস্তানী সেনাদের হাতে  তুলে দেয়ার অভিযোগ বিষয়ে মিজানুল ইসলাম যুক্তি উপস্থাপন করেন।
শেফালী ঘরামীর স্বামী  মধুসূদন ঘরামী ট্রাইব্যুনালে এসে সাক্ষ্য দিয়েছেন।  তিনি তখন অসুস্থ ছিলেন।  সিক বেডে শুয়ে  সাক্ষ্য দিয়েছিলেন।  তিনি তার সাক্ষ্যে বলেছিলেন দেলোয়ার শিকদার  তাকে মুসলমান বানিয়েছিল।  দেলোয়ার শিকদার এবং অন্যান্যরা মিলে শান্তি কমিটি ও রাজাকার বাহিনী গঠন করে। তার স্ত্রীকে কে ধর্ষণ করেছিল  রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর এ প্রশ্নের উত্তরে মধুসূদন ঘরামী বলেছিলেন  “আমি বাড়িতে ছিলামনা। কারা এসেছিল জানিনা। আমার স্ত্রী  আমাকে পরে বলেছে যে, আমাকে যে মুসলমান বানিয়েছিল সে এসেছিল। তুমি পালাও। ”

মিজানুল ইসলাম জেরার সময় দেলোয়ার শিকদার বিষয় প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে  দেলোয়ার শিকদার, পিতা রসুল শিকদার এভাবে উল্লেখ করেন। গতকাল যুক্তি উপস্থাপনের সময় এ বিষয়টি সামনে আসলে ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যন বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, আমার মনে আছে সাক্ষী অসুস্থ থাকা অবস্থায় শুয়ে শুয়ে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। তখন আপনি অসুস্থ অবস্থায় তাকে সাজেশন আকারে প্রশ্ন করার সময় দেলোয়ার শিকদার   নামের সাথে তার পিতার নাম রসুল শিকদার উল্লেখ করেছিলেন এবং সাক্ষীও তালে তালে অসুস্থ থাকার কারনে  উত্তর দিয়েছেন ‘হ্যা’ বলে।  আমরা  আপনার প্রশ্ন থেকে ‘সান অব রসুল শিকদার’ এ কথাটা বাদ দিতে চাই। ওটা বাদ দিয়ে বাকী সব ঠিক থাকবে।

অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম  বলেন, এই যদি হয়  আমাদের প্রতি আপনাদের ধারণা যে, সাক্ষীকে অসুস্থ অবস্থায় পাজল করে বা কনফিউজড করে একটা উত্তর বের করে নেয়া তাহলে তা আমাদের জন্য  অত্যন্ত বেদনার। তিনি বলেন, আপনারা যদি এটা মনে করতেন তাহলে সাথে সাথে তখন আমাদের বাঁধা দিতে পারতেন বা এ প্রশ্ন এবং উত্তর তখনই বাদ দিতে পারতেন। কিন্তু তা করেননি। কাজেই আমরা আইন অনুযায়ী এ প্রশ্ন করেছি। সে অধিকার আমাদের ছিল বলেই এ প্রশ্ন করেছি এবং  দেলোয়ার শিকদার নামের সাথে তার পিতার নাম উল্লেখ করেছি।
বিচারপতি নিজামুল হক প্রশ্ন করেন মধুসূদন বলেছেন মধুসূদন ঘরামী বলেছেন  তাকে যে মুসলমান বানিয়েছিল সে তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করে। কে তাতে মুসলমান বানিয়েছিল সেকথা সে বলেছিল কি-না।
এসময় মিজানুল ইসলাম এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ হায়দার আলী উভয়ে বলেন ‘বলেছিল’। সে হল দেলোয়ার শিকদার।
বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, আসামী  পক্ষের দাবি  এই দেলোয়ার শিকদার  দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী  নন। এর পক্ষে আনপাদের কি প্রমান  বা ব্যাখ্যা আছে তা বলতে হবে। এরপর তিনি রাষ্ট্রপক্ষের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের  প্রমান করতে হবে সেই দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী এবং সেই দেলোয়ার  শিকদার  এক ব্যক্তি  কি-না।

৪০ বছর স্ত্রী সন্তানের কোন খোঁজ না নিয়ে এখন বিচার চাইছেন সাক্ষী

২৭/১১/২০১২ মঙ্গলবার
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলায় আজ   শেফালী ঘরামীকে ধর্ষনের অভিযোগসহ মোট তিনটি অভিযোগ খন্ডন করে  যুক্তি  উপস্থাপন করেছেন আসামী পক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম।

শেফালী ঘরামীকে ধর্ষনের বিষয়ে তার স্বামী মধুসূদন ঘরামী গত ১ ফেব্রুয়ারি মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন। জবানবন্দী এবং জেরায় তিনি জানান ধর্ষনের ফলে তার স্ত্রীর একটি বাচ্চা হয়েছিল এবং লোকজনের গঞ্জনা সহ্য করতে না পারার কারনে তার স্ত্রী সন্তানসহ ভারতে চলে যায়। এরপর তাদের সাথে  আর কোনদিন তার দেখা হয়নি। তারা ভারতে কোথায় আছে তাও জানেননা তিনি।

আজ যুক্তি উপস্থাপনের সময় মিজানুল ইসলাম বলেন, গত ৪০ বছর ধরে তিনি তার স্ত্রী  এবং সন্তানের কোন খোঁজ খবর নেননি। তারা কোথায় কি অবস্থায় আছে, কি খায় তার কোন খবর তিনি নিলেননা । আর সেই লোক ৪০ বছর পরে  এসেছেন তার স্ত্রীকে ধর্ষনের বিচার চাইতে। এটা কতটা মানানসই তা ট্রাইব্যুনাল বিবেচনা করবেন।
মিজানুল ইসলাম বলেন, শেফালী ঘরামীকে ধর্ষনের অভিযোগ বিষয়ে সাক্ষীর জবানবন্দী, জেরা এবং  তদন্ত কর্মকর্তার জেরায় যেটি বের হয়ে  এসেছে  তা হল    যুদ্ধ শুরুর অল্প  কিছুদিন আগে মধুসূদন ঘরামী বিয়ে করেন। যুদ্ধ শেষের দিকে  তার স্ত্রী ধর্ষনের ঘটনা ঘটে।  অগ্রহায়ন মাসে তার সন্তান হয়।  যুদ্ধের শেষের দিকে ধর্ষনের ঘটনা ঘটলে অগ্রহায়ন মাসে সন্তান হওয়া  কি করে সম্ভব হতে পারে? অবশ্য অলৌকিক ঘটনা হলে সেটা ভিন্ন কথা।
মিজানুল ইসলাম বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা এবং সাক্ষী  যে অনেক অসঙ্গতিপূর্ণ কথা বলেছেন এটা তার প্রমান। তিনি বলেন,  মধুসূদনকে দিয়ে  তার  স্ত্রীকে ধর্ষণ বিষয়ে  আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়ানো হয়েছে।

মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে আব্দুল হালিমের বাড়িতে আগুন দেয়ার অভিযোগ বিষয়ে মিজানুল ইসলাম বলেন, সাক্ষী  আব্দুল হালিম বাবুল ট্রাইব্যুনালে এসে বলেছেন তিনি তদন্ত কর্মকর্তার কাছে ২৭/৭/২০১০ তারিখে জবানবন্দী দিয়েছেন। আর তদন্ত কর্মকর্তা বলেছেন তিনি ১৮/৮/২০১০ তারিখে সর্ব প্রথম পিরোজপুর গেছেন। তাহলে  তদন্ত কর্মকর্তা কি করে ২৭/৭/২০১০ তারিখ সাক্ষীর জবানবন্দী নিলেন এবং সাক্ষীও বা কি করে ওই তারিখ জবানবন্দী দিলেন। তদন্ত কর্মকর্তা আরো বলেছেন সাক্ষী আব্দুল হালিম বাবুলের সাথে তার প্রথম সাক্ষাৎ হয় ২০/৯/২০১০ তারিখে।
মিজানুল ইসলাম বলেন এরপরও কি এই তদন্ত কর্মকর্তা এবং এই সাক্ষীকে বিশ্বাস করা যায়?
মিজানুল ইসলাম বলেন, গত ৫ অক্টোবর সাক্ষী আব্দুল হালিম বাবুলের মামা আব্দুর রাজ্জাক আঁকন   ট্রাইব্যুনালে এসে মাওলানা সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন।  আব্দুর রাজ্জাক সাক্ষ্য দিয়ে বলেন, তার ভাগনে আব্দুল হালিম বাবুল এই ট্রাইব্যুনালে এসে সাঈদী সাহেবের বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে আমার ভাগনে আব্দুল হালিমের বাড়িতে কোন পাক সেনা, রাজাকার যাই নাই। লুটপাট হই নাই। আগুন দেই নাই। এরকম কোন ঘটনাই ঘটেনি।

মিজানুল ইসলাম বলেন, আব্দুল হালিমের মা জীবিত। তার বাড়িতে আগুন লাগল । কিন্তু তার মাকে রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষী করলনা। সাধারনভাবে নিয়ম  হল এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে বাড়ির প্রবীণ লোকের কাছে খোজ খবর নেয়া। কিন্ত তদন্ত কর্মকর্তা তার মায়েরই কোন খোঁজ খবরই নিলেননা এ বিষয়ে তার কাছ থেকে জানার জন্য।

এরপর মিজানুল ইসলাম মাহবুবুল আলম হাওলাদারের বাড়ি লুট এবং তার বড় ভাই আব্দুল মজিদ হাওলাদারের ওপর নির্যাতন বিষয়ে  যুক্তি উপস্থাপন করেন।  তিনি বলেন, ফরমাল চার্জে বলা আছে তখনকার মূল্যের হিসাবে মাহবুবুল আলমের বাড়ি থেকে  তিন লাখ টাকা মূল্যের ¯¦র্ণ লুট করা হয়েছে। পাকিস্তানে তখন একভরি স্বর্নের দাম ছিল ১৩৫ টাকা। বাংলাদেশে যদি তিনশ টাকা ভরিও হিসাব করা হয় তাহলে তিন লাখ টাকায় এক হাজার ভরি ¯¦র্ণ পাওয়ার কথা। মাহবুবের বাড়িতে তখন এক হাজার ভরি ¯¦র্ণ থাকা সম্ভব ছিল কি-না আপনারা বিবেচনা করবেন।
আল্লামা সাঈদী শুরু থেকে দাবি করে আসছেন তার বিরুদ্ধে শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মিথ্যাচার চলছে। এটি তার একটি প্রমান। একহাজার ভরি ¯¦র্ণ লুটের অভিযোগ আনা হল যার বিরুদ্ধে তারই বিরুদ্ধে আবার অভিযোগ করা হল তিনি বগলে  করে  লুট করা টিন নিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি পাড়েরহাট বাজারে চট বিছিয়ে তেল লবন মরিচ বিক্রি করতেন। লঞ্চে  দাতের মাজন বিক্রি করতেন ফেরি করে। এরকম একটি লোকের  কথায় আবার   পাড়েরহটা শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান  দানেশ আলী মোল্লা ওঠবস করত পারে কি করে? এটা কি বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে?

তাছাড়া  মাহবুবুল আলম প্রথম যখন পিরোজপুরে মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলা করেন সেখানে তিনি বড় ভাই আব্দুল মজিদ হাওলাদারের  ওপর নির্যাতনের বিষয়ে কিছু উল্লেখ করেননি। এখানে এসে বলেছেন এ বিষয়ে। মাহবুবুল আলমের  বড় ভাই ভাইকে নির্যতানের বিষয়ে তার পরিবারের কাউকেই সাক্ষীও করা হয়নি। এমনকি  আব্দুল মজিদ হাওলাদারের স্ত্রী, অপর  জীবিত বড় ভাই আব্দুল বাতেনের কাছে এ বিষয়ে কোন খোঁজ খবরও নেননি।

যুক্তি উপস্থাপনে মিজানুল ইসলামকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট মনজুর আহমেদ আনসারী, ব্যারিস্টার তানভির আহমেদ আল আমিন, আবু বকর সিদ্দিক, হাসানুল বান্না সোহাগ প্রমুখ আইনজীবী।
ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক, সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর  হোসেন, বিচারপতি আনোয়ারুল হক বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

সভ্যতার ইতিহাসে এরকম সাজানো মামলার নাটক আর মঞ্চস্ত হয়নি

২৮/১১/২০১২
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলায় আসামী পক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক আজ   আইনী যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেছেন।  মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে  রাজনৈতিক অসৎ উদ্দেশ্যেপ্রনোদিত আখ্যায়িত  করে  ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সভ্যতার ইতিহাসে এরকম সাজানো মামলার নাটক আমার মনে হয়  আর কখনো মঞ্চস্ত হয়নি। কোন ঘটনার  ৪০ বছর পর বিচার শুরুর এমন নজির আর বিশ্বে একটিও নেই। বিশেষ করে কোন ব্যক্তি’র ৪০ বছর ধরে নিজ দেশে  প্রকাশ্যে বসবাস করার পর এই দীর্ঘ সময়ে তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ না এনে এভাবে ৪০  বছর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার নজির বিশ্বের ইতিহাসে নেই।
  
তিনি বলেন,  বিশ্বে  দীর্ঘদিন পরে যেসব  যুদ্ধাপরাধী বা বড় ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে বিচার প্রকৃয়া  শুরু হয়েছে সেসব অপরাধীরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দেশে পালিয়ে থেকেছে এবং ধরা পড়ার পরপরই  তাদের বিচার শুরু হয়েছে। কিন্তু  আল্লামা সাঈদী গত ৪০ বছর এ দেশে প্রকাশ্যে বাস করেছেন। দেশে বিদেশে ধর্মপ্রচার করেছেন। কোনদিন তার বিরুদ্ধে কেউ যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ করেনি। ২০০১ সালে সর্বপ্রথম দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় তাকে যুদ্ধাপরাধী আখ্যায়িত করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এ প্রতিবেদনের  উদ্দেশ্য ছিল অক্টোবর মাসের জাতীয় নির্বাচন। রাজনৈতিকভাবে তাকে ঘায়েল করার জন্য তারা তখন এ প্রতিবেদন করেছিল।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ  আজো  মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ বিষয়ে যুক্তি উপস্থাপনের কথা ছিল অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলামের। কিন্তু পারিবারিক সমস্যার কারনে তিনি গতকাল তিনি ট্রাইব্যুনালে আসতে পারেননি।    এ প্রেক্ষিতে আসামী পক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক গতকাল আইনী যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন।

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়  মে মাসে  আর বিচার শুরু হয় নভেম্বর মাসে। সিয়েরালিওনের যুদ্ধ শেষ হয় ১৮ জানুয়ারি ২০০২ আর বিচার কার্যক্রম শুরু হয় ওই বছরই  ১৬ জানুয়ারি। রুয়ান্ডা  যুদ্ধ শেষ হয় ১৯৯৪ সালের ডিসেম্বর মাসে আর বিচার শুরু হয় ওই বছরই নভেম্বর মাসে। যুদ্ধ শেষ হবার আগেই বিচার কার্যক্রম শুরু হয়ে যায়। যুগোস্লাভিয়া যুদ্ধ শেষ হয় ১৯৯৫ সালের ২১ নভেম্বর আর বিচার শুরু হয় ১৯৯৬ সালের ২৬ মে। এভাবে  বসনিয়সহ যত যুদ্ধাপরাধের বিচার হয়েছে তা ঘটনা শেষ হবার সাথে সাথেই তার বিচারের উদ্যোগ নেয়া হয় এবং  আসামীদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হয়। আর আল্লামা সাঈদীকে ৪০ বছর পর গ্রেফতার করা হল ২০১০ সালের জুন মাসে। চার্জ আনা হল ২০১১ সালের অক্টোবরে। তার বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ আনতে ৪০ বছর সময় নেয়া হল। এটা অস্বাভাবিক, অপ্রত্যাশিত।
তিনি বলেন, ক্রিমানল কেসে কোন ঘটনার ২ ঘন্টা পরেও এফআইআর করা হলে  দেরির একটা কারণ দেখাতে হয়। কিন্তু তাদের ৪০ বছর কেন দেরি হল তার কোন কারণ তারা ব্যাখ্যা করেনি। এ বিষয়ে একটি শব্দও রাষ্ট্রপক্ষ  উল্লেখ করেনি।

ব্যারিস্টার রাজ্জাক  বলেন, ৪০ বছর কেন, ৬০ বছর পরও বিচার হতে পারে।  আমি বলছিনা ৪০ বছর হয়েছে বলে আর বিচার হতে পারেনা।  আমি বলতে চাই  ৪০ বছর পর এই বিচারের  উদ্যোগ নেয়া হয়েছে রাজনৈতিক অসদুদ্দেশে।
ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বর্তমানে যে আইনে   সাঈদী সাহেবের বিচার চলছে সে আইনটি হয়েছিল ১৯৫ জন পাকিস্তানী সেনা কর্মকর্তাদের বিচারের জন্য। কোন বেসামরিক ব্যক্তিকে এ আইনের  অধীনে বিচারের কোন উদ্দেশ্য বা ইচ্ছা  কোনমতেই ছিলনা। এমনকি বেসমারিক ব্যক্তিকে যাতে এ আইনের অধীনে বিচার করা না হয় সেজন্য আইনটির বিল থেকে ইনকুডিং এনি পারসন শব্দ দুটি বাদ দেয়া হয়। বেসামরিক ব্যক্তিকে যাতে এ আইনের আওতায় আনা না হয় এবং শুধুমাত্র পাকিস্তানী সেনা কর্মকর্তাদের বিচার করাই যে এ আইনের লক্ষ্য ছিল সে বিষয়ে সংসদে তখন আইনটি পাশের পূর্বে যে আলোচনা হয়েছিল তা পড়ে শুনান ব্যারিস্টার  আব্দুর রাজ্জাক। তিনি তৎকালীন আইনমন্ত্রী মনোরঞ্জন ধরের সংসদে প্রদত্ত বক্তব্য  পড়ে শোনান।  মনোরঞ্জন ধর তখন বলেছিলেন এই আইনের আওতায় যুদ্ধবন্দী ছাড়া অন্য কোন বেসামরিক ব্যক্তি যেন না পড়ে এবং এ বিষয়ে কোন রকম  সন্দেহ সংসয় যাতে না থাকে সে জন্য আমাদের মহান নেতা (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) ইচ্ছা প্রকাশ করায় সংশোধনী আনা হল।

ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন,  সংসদের আলোচনা পড়লে এটা স্পষ্ট বোঝা যায় বেসামরিক ব্যক্তিদের বিচারের কোন উদ্দেশ্যই ছিলনা ১৯৭৩  সালের আইনের। কারণ  বেসামরিক ব্যক্তিদের বিচারের জন্য ১৯৭২ সালে দালাল আইন করা হয়েছিল।

তিনি  বলেন, সেক্সপিয়ারের হ্যামলেট  নাটকের প্রধান চরিত্র হল প্রিন্স অব ডেনমার্ক। সে-ই হ্যামলেট ।  প্রিন্স অব ডেনমার্ক  বাদ দিয়ে যেমন  হ্যামলেট নাটক মঞ্চস্ত করা যায়না তেমনি ১৯৫ জন পাকিস্তানী সেনা অফিসারকে বাদ দিয়ে যুদ্ধাপরাধের বিচারও করা যায়না।

মাওলানা সাঈদীকে বিদেশ যেতে বাঁধা দেয়া বিষয়ে  হাইকোর্টের রায় সাঈদী সাহেবের পক্ষে যাবার পরই  এটর্নি জেনারেল বললেন মামলা হতে কতক্ষন। এরপরপরই পিরোজপুরে  সাঈদী সাহেবের বিরুদ্ধে মামলা হল । এই হল তার বিরুদ্ধে মামলার প্রেক্ষাপট। এ থেকেই বোঝা যায়  এ মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশে করা হয়েছে।
ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, মাহবুবুল আলম এবং মানিক পসারী নামে দুজন ব্যক্তি ২০০৯ সালে সাঈদী সাহেবের বিরুদ্ধে মামলা করলেন । গত ৪০ বছরে তারা কোনদিন সাঈদী সাহেবের বিরুদ্ধে এ অভিযোগে মামলা করেননি, যদিও আওয়ামী লীগ সরকার এর আগেও ক্ষমতায় ছিল। মানিক পসারী ট্রাইব্যুনালে জেরায় বলেছেন, ২০০৯ সালের আগে তিনি কোনদিন সাঈদী সাহেবের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করেননি, তার বিরুদ্ধে কোনদিন কোথাও কোন বক্তব্য দেননি।
সুতরাং ২০০৯ সালে হঠাৎ করে তাদের  এ মামলার পেছনে যে রাজনৈতিক একটি উদ্দেশ্য ছিল তা পরিস্কার।

মূল আসামীদের বাদ দিয়ে সহযোগীদের বিচারের উদ্দেশ্য  বিষয়ে  ব্যরিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের  যুক্তি উপস্থাপন বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল সদস্য বিচারপতি আনোয়ারুল হক সাম্প্রতিক একটি অপরহন ঘটনার (পরাগ)   বিষয়ে  তুলে ধরে বলেন, প্রথমে মূল আসামীকে পাওয়া গেলনা। সহযোগীদের ধরা হল। পরে মূল আসামীকে পাওয়া গেল। এখন যদি মূল আসামীকে পাওয়া  না যেত  তাহলে কি সহযোগীদের বিচার করা যাবেনা?
ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মূল আসামী ১৯৫ জন পাকিস্তানীদের তো  ধরা হয়েছিল। তারা বন্দী ছিল। তাদের চিহ্নিত করা হল। তালিকা করা হল। তাদের বিচারের জন্য আইন করা হল। তারপর তিন দেশ মিলে চুক্তি করে তাদের ছেড়ে  দেয়া হল বিচার না করে। এখন ৪০ বছর পর সহযোগীদের বিচারের উদ্যোগ নেয়া হল। আমি বলছিনা সহযোগীদের বিচার করা যাবেনা। আমি বলছি  এ বিচারের  উদ্যোগ নেয়া হয়েছে সম্পূর্ন রাজননৈতিক উদ্দেশে। এ আইনে সাঈদী সাহেবের বিচার হতে পারেনা। হতে পারে দালাল আইনে।

যুক্তি উপস্থাপনে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকসে সহায়তা করেন ব্যারিস্টার তানভির আহমেদ আল আমিন, অ্যাডভোকেট শিশির মো: মনির।
রাষ্ট্রপক্ষে চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু, প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী উপস্থিত ছিলেন।
ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচপতি নিজামুল হক, সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, বিচারপতি আনোয়ারুল হক বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

সাঈদীর মামলায় সরকার পক্ষের কেলেঙ্কারি ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারিকেও হার মানিয়েছে

২৯/১১/২০১২, বৃহষ্পতিবার
ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক আজ পুনরায় যুক্তি  উপস্থাপন করে বলেন, এ মামলায় সরকার পক্ষ সাক্ষী নিয়ে যে কেলেঙ্কারির আশ্রয় নিয়েছে তা ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারিকেও শত শত গুন ছাড়িয়ে গেছে। (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৭২-৭৪ সালে সংঘটিত ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির ফলে প্রেসিডেন্ট নিক্সনকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল)।

তিনি বলেন,  সাক্ষীর নামে তদন্ত কর্মকর্তা (হেলালউদ্দিন) নিজে জবানবন্দী লিখে তা জমা দিয়েছেন ট্রাইব্যুনালে। প্রতারনার আশ্রয় নিয়ে তিনি  ট্রাইব্যুনালকে বিভ্রান্ত করেছেন।  কয়েকজন সাক্ষীর জবানবন্দী ট্রাইব্যুনালে পড়ে শুনিয়ে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন,  একজনের জবানবন্দীর সাথে আরেকজনের জবানবন্দী লাইন লাইন হুবহু, ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড হুমহু মিল রয়েছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে।  এ থেকেই প্রমানিত হয় তদন্ত কর্মকর্তা নিজে সাক্ষীর নামে জবানবন্দী লিখে তা জমা দিয়েছেন।
অন্যদিকে  সরকার পক্ষ দাবি করেছে মাওলানা সাঈদীর সন্ত্রাসীদের ভয়ে  তাদের সাক্ষীরা নিখোঁজ, বাড়িছাড়া হয়েছে। তারা সাক্ষী খুজে পাচ্ছেনা। অথচ আমরা ডকুমেন্ট  হাজির করে দেখিয়েছি অনেক সাক্ষী তাদের হেফজাতেই সেফ হাউজে ছিল। দিনের পর দিন তাদের ঢাকায় রাখা হয়েছে। প্রসিকিউশন অফিসে আনা হয়েছে। কিন্তু তারা তাদের কথামত মিথ্যা সাক্ষ্য  দিতে রাজি না হওয়ায়  সরকার পক্ষ  তাদের হাজির করেনি। মাওলান সাঈদীর মামলায় সাক্ষী নয় এমন লোকদের নামেও জবানবন্দী লিখে জমা দেয়া হয়েছে।।  সাক্ষীদের কাছে না গিয়েই বলা হয়েছে তাদের  হাজির করা আদৌ সম্ভব নয়। এভাবে তদন্ত কর্মকর্তা একের পর এক প্রতারনার আশ্রয় নিয়েছে এ মামলায়। এসব ঘটনা প্রমানের পর  তদন্ত কর্মকর্তার আর কোন বিশ্বাসযোগ্যতা, গ্রহণযোগ্যতা থাকতে পারেনা।

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক সেফ হাউজ ডকুমেন্ট পর্যালোচনা করে প্রমানের চেষ্টা করেন সেফ হাউজের অস্তিত্ব ছিল। সেখানে সাক্ষী এনে রাখত সরকার পক্ষ। তাদের  সাক্ষ্য দেয়ার জন্য প্রশিক্ষন দেয়া হত ।
এছাড়া তিনি বেশ কয়েকজন সাক্ষীর জবানবন্দী নিয়ে তুলনামূলক আলোচনা করে দেখান যে, তাদের সবার জবানবন্দী একই এবং তা তদন্ত কর্মকতা তাদের নামে লিখেছেন বলে দাবি করে তিনি।

তিনি  বলেন, ১৯.২ ধারায় যেসব সাক্ষীকে কোর্টে না এনে তাদের অনুপস্থিতিতে তাদের জবানবন্দী সাক্ষ্য  হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে তার ওপর ভিত্তি করে আসামীকে  দোষী সাব্যস্তা করা যাবেনা।
১৯.২ ধারায় গৃহীত আশিষ কুমার মন্ডল, সমর মিস্ত্রী, সুমতি রানী, সিতারা বেগম, মমতাজ বেগম এবং মোস্তফার জবানবন্দী তুলনামূলক আলোচনা করে ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন,  তাদের অনেকের বক্তব্য একজনের সাথে আরেকজনের হুবহু মিল রয়েছে অনেক স্থানে।

আশিষ কুমার মন্ডল, সুমতি রানীর জবানবন্দী পড়ে  শুনিয়ে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন,  তাদের দুজনের জবানবন্দীতে কয়েকটি লাইন হুবহু মিল।  পাকিস্তান সেনারা সাঈদীর দেখানো মতে মনিন্দ্রের ঘর আগুন দিয়ে  পুড়িয়ে দেয়। তখন লোকজন ভয়ে পালাতে থাকে। পাক সেনারা তাদের ওপর গুলি করে। পাক সেনারা চলে গেলে লোকজন ফিরে এসে দেখে লাশগুলো শেয়াল কুকুরে খাচ্ছে। উভয়ের জবানবন্দীতে এ শব্দগুলো লাইন বাই লাইন, ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড, ব্যাকরনগতভাবে সব দিক দিয়ে হুবহু মিলে যাচ্ছে। এটা কি করে সম্ভব হতে পারে?

এভাবে ইব্রাহীম কুট্টি এবং সাহেব আলীকে হত্যার বিবরন বিষয়ে ইব্রাহীমের স্ত্রী  মমতাজ বেগম, মমতাজ বেগমের মা সিতারা বেগমের জবানবন্দী পড়ে শোনান  এবং  তাদের বক্তব্যের যেখানে যেখানে হুবহু মিল আছে তা ট্রাইব্যুনালের দৃষ্টিতে আনেন।  ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তিনজন সাক্ষীই বলেছেন তিনটার সময় ঘটনা ঘটেছে। তখন কি তাদের হাতে ঘড়ি ছিল না তারা সময় লিখে রেখেছিল। ৪০ বছর পর কি করে তারা সবাই বলতে পারে তিনটার সময় ঘটনা ঘটেছিল?

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, উষারানীকে হাজির না করা বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করেছে তার স্মৃতিশক্তি লোপ পেয়েছে।  অথচ  একটি টিভি  ইন্টারভিউ আমরা এখানে দেখিয়েছি। সেখানে তিনি বলেছেন তিনি সাঈদীর বিরুদ্ধে কোন জবানবনন্দী দেননি। তিনি সাঈদীকে চেনেনইনা। তিনি স্বাভাবিকভাবে টিভির সাথে কথা বলছেন।

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক যুক্তি উপস্থাপন করে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী গণেশ আমাদের পক্ষে এসে সাক্ষ্য দিয়েছেন।  তদন্ত কর্মকর্তার কাছে তার যে জবানবন্দী রয়েছে   আর তিনি কোর্টে এসে  সাঈদীর পক্ষে যা বলেছেন এ দুই বক্তব্যের মধ্যে মিল নেই।  তদন্ত কর্মকর্তার কাছে গনেশের বরাত দিয়ে  জবানবন্দীতে লেখা আছে অনেকে  বলেছে তার মায়ের হত্যার ব্যাপারে পাড়েরহাটের রাজাকার  দেলোয়ার সাঈদীর প্রত্যক্ষ হাত ছিল। আর এখানে এসে  গনেশ বলেছেন  তার মায়ের হত্যার ব্যাপারে সাঈদী জড়িত নন।
ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, গনেশের মা ভাগিরথী হত্যা বিষয়ে  তদন্ত কর্মকর্তার কাছে প্রদত্ত গনেশের  জবানবন্দীতে  সাঈদী সাহেবকে জড়িয়ে যা লেখা আছে তা তদন্ত কর্মকর্তা নিজে লিখেছেন  গনেশের নামে।

ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক ১৯.২ ধারায় গৃহীত জবানবন্দী পর্যালোচনা করে ব্যারিস্টার আব্দুর  রাজ্জাক  বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী গণেশ আসামী পক্ষে সাক্ষ্য দেয়ার পর তদন্ত কর্মকর্তার কাছে প্রদত্ত তার জবানবন্দীর আর কোন মুল্য নেই।  তদন্ত কর্মকর্তার আর কোন গ্রহণযোগ্যতা বিশ্বাসযোগ্যতা থাকতে পারেনা এবং নেই।

এরপর ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক সেফ হাউজ ডায়েরি বিষয়ে যুক্তি উপস্থাপন করেন। এ বিষয়ে এর আগেও শুনানীর সময় যুক্তি উপস্থাপন করেন তিনি। গতকাল  এ বিষয়ে তিনি ফাইনাল আর্গুমেন্ট পেশ করলেন।

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ট্রাইব্যুনাল আইনের ১৯.২ ধারায়  সরকার পক্ষ ৪৬ জন সাক্ষীর বিষয়ে দরখাস্ত দিয়ে জানাল তাদেরকে হাজির করা আদৌ সম্ভব নয়।  তাদের হাজির করা সময় সাপেক্ষ। অনেক সাক্ষী বিষয়ে বলা হল তারা সাঈদীর সন্ত্রাসীদের ভয়ে নিখোঁজ, বাড়িছাড়া। কেউ কেউ আত্মগোপনে চলে গেছে।  তাই তারা তদন্ত কর্মকর্তার কাছে যে জবানবন্দী দিয়েছেন তা তাদের অনুপস্থিতিতে  সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা  হোক। এই ছিল ২০ মার্চ রাষ্ট্রপক্ষের দাখিল করা  দরখাস্তের বিষয়।
এখান থেকে ট্রাইব্যুনাল প্রথমবার ১৫   জনের জবানবন্দী গ্রহণ করে ২৯ মার্চ আদেশ দিলেন।
তিনি বলেন, যে ৪৬ জনের বিষয়ে তারা দরখাস্ত দিয়েছিল তাদের মধ্যে  অনেক স্বনামধন্য সম্মানিত লোক আছেন। এদের মধ্যে  উল্লেখযোগ্য তিনজন হলেন শাহরিয়ার কবির, জুয়েল আইচ এবং ড. জাফর ইকবাল। দৈনিক একটি পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে ব্যারিস্টার  আব্দুর রাজ্জাক বলেন, শাহরিয়ার কবির বলেছেন তিনি মাওলানা সাঈদীর মামলায় কখনোই সাক্ষী ছিলেননা। তিনি  জানেনইনা যে  তাকে সাক্ষী করা  হয়েছে। এ নিয়ে তার সাথে কোন আলোচনা হয়নি।  অথচ এই শাহরিয়ার কবিরের নামে একটি জবানবন্দী লিখে তদন্ত কর্মকর্তা ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়ে বললেন এটা শাহরিয়ার কবিরের জবানবন্দী এবং এটা তার অনুপস্থিতিতে গ্রহণ করে নেয়া হোক সাক্ষ্য হিসেবে। ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য একজন সোচ্চার ব্যক্তি। তিনি ট্রাইব্যুনাল-২ এ এসে সাক্ষ্য দিয়েছেন অন্য একজন আসামীর বিরুদ্ধে। তিনি কি এখানে আসতে পারতেননা সাক্ষ্য দেয়ার জন্য? অথচ তার নামে বলা হচ্ছে তাকে হাজির করা সম্ভব নয়। তার চেয়েও বড় কথা হল তিনি তদন্ত কর্মকর্তার কাছে কোন জবানবন্দীই দেননি এবং তার নামে মিথা কথা লিখে তার নামে জমা দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
এভাবে জুয়েল আইচ পত্রিকায় সাক্ষাৎকার দিয়ে বলেছেন তিনি যে মাওলানা সাঈদীর মামলায় সাক্ষী এ বিষয়ে কিছুই  জানেননা।  তাকে হাজির করার জন্য কোন সমন দেয়া হয়নি । তার কাছে কেউ যায়নি এবং তাকে এ বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি। । অথচ তার নামে একটি জবানবন্দী লিখে তদন্ত কর্মকর্তা জমা দিয়েছেন এবং তাকে হাজির করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তার নামে লিখিত জবানবন্দী সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করার নিবেদন করেছে সরকার পক্ষ।
এভাবে ড. জাফর ইকবাল ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে অস্বীকার করে বলেছেন তিনি তার পিতা ফয়জুর রহমান হত্যার বিচার অবশ্যই চান । কিন্তু তার পিতার হত্যার সাথে সাঈদী জড়িত কি-না তা তিনি জানেনানা। কাজেই তিনি কিভাবে সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবেন। অথচ এই জাফর ইকবালের নামেও দীর্ঘ ৯ পৃষ্ঠার একটি জবানবন্দী  জমা দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, আমি যে  তিনজনের কথা উল্লেখ করলাম তাদের জবানবন্দী আপনাদের সামনে রয়েছে। এটাকে কি করে আপনারা অস্বীকার করবেন?  আপনারা ১৯.২ ধারায় তাদের জবানবন্দী গ্রহণ করেননি সেটা ভিন্ন বিষয়। কিন্তু  যদি করতেন তাহলে বিষয়টি কি দাড়াত? ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন,  এভাবে আরো অনেক সাক্ষী যারা ঢাকায় বাস করেন, প্রকাশ্যে নিজ এলাকায় রয়েছেন তাদেরও হাজির করা সম্ভব নয় বলে  দাবি করেছেন সরকার পক্ষ। এরপরও এই তদন্ত কর্মকর্তার  কি কোন বিশ্বাসযোগ্যতা থাকতে পারে?

ব্যারিস্টার রাজ্জাক এরপর  সেফ হাউজের ডকুমেন্ট থেকে তারিখসহ উল্লেখ করে বলেন কোন সাক্ষী কতদিন রাষ্ট্রপক্ষের হেফাজতে ছিল। কবে তারা ঢাকায় এসেছে কবে বাড়ি গেছে।   তিনি বলেন,  এসব সাক্ষী সতাদের হেফাজতে থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রপক্ষ বলেছেন তারা নিখোঁজ, সাঈদীর সন্ত্রাসীদের ভয়ে বাড়িছাড়া।
ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল আশিষ কুমার মন্ডল, সুমতি রানি, সমর মিস্ত্রী আত্মিয়ের বাড়ি বেড়াতে গেছে বলে নিখোঁজ হয়ে গেছে। পরে তারা গোপনে ভারতে চলে গেছে। অথচ সেফ হাউজের ডকুমেন্টে বর্নিত আছে তারা ১৬ মার্চ পর্যন্ত  তাদের হেফাজতে ছিল। এভাবে মোখলেস পসারী, মুকুন্দ দাস,  শহিদুল ইসলাম খান সেলিম, আব্দুল লতিফ হাওলাদার, অনিল কুমার, আইউব আলী হাওলাদার প্রভৃতি  কোন সাক্ষী কবে সেফ হাউজে আসে এবং কবে বাড়িতে চলে যায় তার সব রেকর্ড তিনি ট্রাইব্যুনালের সামনে পড়ে শোনা সেফ হাউজ ডকুমেন্ট থেকে।
তিনি বলেন সেফ  হাউজের ডকুমেন্টে উল্লেখ আছে একজন পুলিশ চকবাজার গিয়েছিল   একটি মালায় হাজিরা দিতে।  সেফ হাউজে থাকা একজন সাক্ষীকে হুমকি দেয়া বিষয়ে যাত্রবাড়ি থানায় ডায়েরি করা হয়েছিল। সে বিষয়টিও ডায়েরির নম্বরসহ উল্লেখ আছে। গৌরাঙ্গ সাহা নামে একজন সাক্ষী ভাল সাক্ষ্য দেয়ার কারনে তাকে মিষ্টি খাওয়ানো হয়েছিল, পাঞ্জাবী দেয়া হয়েছিল সে কথাও লেখা আছে।
রাষ্ট্রপক্ষের  বন্ধুরা বলেছেন সেফ হাউজের কোন অস্তিত্ব নেই এবং এসব ডকুমেন্ট আমরা তৈরি করেছি। আমাদের পক্ষে কি করে জানা সম্ভব হতে পারে কোন  একজন পুলিশ কবে কোন কোর্টে হাজির দিতে গেছে। কি করে জানা সম্ভব কোন সাক্ষীকে কবে কে হুমকি দিয়েছিল এবং থানায় সে ডায়েরি করেছিল  সে বিষয়ে।
আমারা বলেছিলাম  সেফ   হাউজের ডকুমেন্টে যেসব ব্যাক্তিবর্গ, দায়িত্বরত পুলিশের নাম ধাম উল্লেখ আছে তাদের হাজির করা হোক। আমরা তাদের পরীক্ষা করব। তাহলেই এর সত্যতা প্রমানিত হয়ে যাবে। কিন্তু সে সুযোগ আমাদের দেয়া হলনা।
ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী এনে রাখা  হত যে সেফ হাউজে সেখানে তিনটি ডায়েরি মেনটেন করা হত। একটিতে খাওয়ার বিষয়, একটিতে যাবতীয় বিষয় এবং আরেকটিতে সাক্ষীদের  আসা যাওয়া বিষয় লিখে রাখা হত।
যুক্তি উপস্থাপনে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাককে সহায়তা করেন ব্যারিস্টার তানভির আহমেদ আল আমিন, অ্যাডভোকেট আবু বকর সিদ্দিক।
ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক, সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, বিচারপতি আনোয়ারুল হক বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে চিফ প্রসিকিউটর গোলাম  আরিফ টিপু , প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী উপস্থিত ছিলেন।

তদন্ত কর্মকর্তাকে বিশ্বাস করা হলে সত্য মিথ্যার পার্থক্য থাকবেনা


২/১২/২০১২ রোববার
ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের যুক্তি উপস্থাপন অব্যাহত রয়েছে। আজ   তিনি  ট্রাইব্যুনালে বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা এই মামলায় যেসব কেলেঙ্কারী করেছে, যে মিথ্যা এবং  প্রতরনার  আশ্রয় নিয়েছে তারপরও যদি তাকে বিশ্বাস করা হয় তাহলে সত্য আর মিথ্যার পার্থক্য থাকবেনা। আলো আর  অন্ধকারের পার্থক্য থাকবেনা। দিন আর রাতের পার্থক্য থাকবেনা।

সেফ হাউজের ডকুমেন্ট বিষয়ে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এর মধ্যে যেসব তথ্য  আছে তা-ই এটির সত্যতা প্রমানের জন্য যথেষ্ঠ,সেফ হাউজের অস্তিত্ব প্রমানের জন্য যথেষ্ঠ। এখানে যেসব তথ্য সুনির্দিষ্টভাবে বিস্তারিতভাবে  নিথভুক্ত করা হয়েছে তা কোন মানুষের পক্ষে কাল্পনিকভাবে তৈরি করা সম্ভব নয়।  তিনি বলেন, একজন পুলিশ  একটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এবং তিনি সে মামলায় কোর্টে  হাজিরা দিতে গেছেন। সে তথ্যও ডায়েরিতে লেখা আছে।  এ তথ্য আমাদের পক্ষে কি করে জানা সম্ভব? এভাবে আরো যেসব তথ্য আছে তা থেকে প্রমানিত যে, সেফ হাউজ ছিল এবং  আমরা সেফ হাউজের যে ডকুমেন্ট দাখিল করেছি তা সত্য।
সেফ হাউজের ডকুমেন্টের সত্যতা দাবি করে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কোন সাক্ষী কোর্টে এসে সাক্ষ্য দেয়ার সময় তার দিকে পাঁচ মিনিট তাকিয়ে থেকেই আপনরা বুঝে যান সাক্ষী সত্য বলছে কি মিথ্যা বলছে। সে ক্ষমতা এবং অভিজ্ঞতা আপনাদের আছে।
এসয় ট্রাইব্যুনাল সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, তা আমরা বুঝি কিন্তু আইনের ফাক দিয়ে অনেক সময় অনেক কিছু বের হয়ে যায়।
ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, তা বের হয়ে যাক কোন আপত্তি নেই। কিন্তু কোন নির্দোষ মানুষ যেন শাস্তি না পায় সেটা নিশ্চিত করা আপনাদের দায়িত্ব।  ১  জন  নির্দোষ মানুষের জীবন বাঁচাতে যদি ৯৯ জন দোষীও খালাস পায় তবু  তা দোষের নয়।  তবু নির্দোষীর জীবন যেন রক্ষা পায়। এটাই মানবতার দাবি।

ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, শাহরিয়ার কবির, জুয়েল আইচ এবং ড. জাফর ইকবাল বলেছেন তারা তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জবানবন্দী দেননি। আর  তদন্ত কর্মকর্তা তাদের নামে জবানবন্দী জমা দিয়েছেন।
ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, তাদের জবানবন্দী আমরা গ্রহণ করিনি ১৫ জনের সাথে।
ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক  বলেন আপনি ঠিক  বলেছেন। কিন্তু  তদন্ত কর্মকর্তা যে প্রতারনা করেছেন তার প্রমানতো এখানে রয়ে গেছে।
বিচারপতি নিজামুল হক বলেন তারা বাইরে পত্রিকার কাছে বলেছেন তারা তদন্ত কর্মকর্তাকে জবানবন্দী দেননি। কোর্টে   এসে একথা  বলেননি। আর তদন্ত কর্মকর্তা বলেছেন তারা তার কাছে জবানবন্দী দিয়েছেন। এতেই কি প্রমানিত হয়ে যায় যে, তদন্ত কর্মকর্তা প্রতারান করেছেন? বা যদি  প্রমানিত হয় তদন্ত কর্মকর্তা মিথ্য বলেছেন তাতেও কি প্রমানিত হয় তিনি প্রতারনা (ফ্রড) করেছেন?

ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, না তাতেই প্রমানিত হয়না যে, তিনি প্রতারনা করেছেন।  শুধু এ একটি ঘটনার কারনে আমরা বলছিনা তিনি প্রতারনার আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি ধারাবাহিকভাবে সিরিজ অব ফ্রড করেছেন এবং তার প্রমান আমরা দিয়েছি।

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক যুক্তি উপস্থাপন করে বলেন, কোন অভিযোগে  আসামীকে দোষী সাব্যস্ত করতে হলে তিনি ওই অপরাধ করেছেন এ মর্মে সন্দেহাতীত  প্রমান এবং ব্যাখ্যা হাজির করতে হবে।
মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, ধর্ষণ, গণহত্যা, হত্যা প্রভৃতি অপরাধের  যেসব উপাদান আছে তার প্রত্যেকটি উপাদান সন্দেহাতীতভাবে প্রমান করতে হবে রাষ্ট্রপক্ষকে। ১৯৭১ সালের যেসব অপরাধের বিচার হচ্ছে তার  প্রত্যেকটি উপাদান রাষ্ট্রপক্ষকে  দেখাতে হবে এবং প্রমান করতে হবে। তিনি বলেন,  মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের পাঁচটি উপাদান আছে। এগুলো হল হামলা, হামলার ফলে হত্যা গণহত্যা নির্যাতন সংঘটিত হওয়া, বেসরমারিক নাগরিক হত্যা, পরিকল্পিত উপায়ে পদ্ধতিগতভাবে কোন জনগোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন বা নির্মূল করা এবং অমানুসিক   নির্যাতন।  এসব  প্রত্যেকটি উপাদান প্রমানসহ অন্যান্য অভিযোগ যেমন  গণহত্যা, ধর্ষণ, ধর্মান্তরকরন প্রভৃতি অভিযোগের সব উপাদান প্রমান করতে হবে। কিন্তু এসব অপরাধের উপাদান প্রমানের জন্য রাষ্ট্রপক্ষ কোন সাক্ষী হাজির করেনি। রাষ্ট্রপক্ষের একজন সাক্ষী এসে এখানে বললেন মোসলেম মাওলানা এবং সাঈদী ভানুসাহাকে নিয়মিত ধর্ষণ করতেন। শুধু এতটুকু বলে দিলেই প্রমান হয়ে যায়না যে  তারা তাকে ধর্ষণ করত। ভুক্তভোগীকে এখানে হাজির করা হয়নি। আন্তর্জাতিক একটি কেসের উদাহরন দিয়ে ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন সে ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীকে হাজিরসহ ধর্ষনের সমস্ত আলামত হাজির করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী মধুসূদন ঘরামী বলেছেন জোর করে ধর্মান্তরকরনের কারনে তার আত্মীয়রা লজ্জায় ভারতে চলে গেছে। একথা বলাতেই প্রমান হয়না যে, তাদের ওপর ধর্মার্ন্তরকনসহ অন্যান্য  অমানুসিক নির্যাতন হয়েছে এবং শুধুমাত্র সে কারনেই তারা ভারতে চলে গেছে। মধুসূদনকেও জোর করে ধর্মান্তরকরন করার অভিযোগ করেছেন তিনি। কিন্তু তিনি নিজেতো  লজ্জার কারনে ভারতে যাননি। তার অন্য আত্মীয়রা লজ্জায় ভারতে গেছে তা তিনি এসে বলেছেন। যারা গেছে তারা এসে বলেননি যে তারা লজ্জার কারনে ভারতে গেছে।  ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, রাজনৈতিক কারনে গণহত্যা হলে  তা  প্রচলিত আন্তর্জাতিক আইনে  গণহত্যা হবেনা। কোন একটি গোষ্ঠী বা গ্রুপের সব মানুষকে পদ্ধতিগতভাবে নির্মুল করার জন্য পরিকল্পিত উপায়ে  নিধন  কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে সেটা গণহত্যা। বিশ্বে যত আন্তর্জাতিক আইন আছে তার কোনটিতেই রাজনৈতিক হত্যাকে গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়নি। কিন্তু ১৯৭৩ সালের আইনে আছে।
অন্যান্য আন্তজাতিক আইনে গণহত্যার সংজ্ঞা স্পষ্ট করে দিয়ে বলা হয়েছে  সেসব অপরাধের  বাইরে অন্য কোন হত্যা গণহত্যা হবেনা।
তিনি বলেন,    ১৯৭৩ সালের আইনে বর্নিত আরো অনেক অপরাধের কোন সঠিক সংজ্ঞা নেই।

বিচারপতি নিজামুল হক  ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাককে গতকালের  মধ্যে তার আইনী যুক্তি উপাস্থাপন শেষ করার  জন্য বললে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন আগামীকাল ১২টার মধ্যে  তিনি শেষ করতে পারবেন।

যুক্তি উপস্থাপনে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাককে সহায়তা করেন ব্যারিস্টার তানভির আহমেদ আল আমিন, আবু বকর সিদ্দিক।  অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মতিউর রহমান আকন্দ।
ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক, সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, বিচারপতি আনোয়ারুল হক বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী।

আয়েশা ফয়েজ জাফর ইকবাল সাক্ষ্য দিতে আসলেননা কেন?

৩/১২/২০১২, সোমবার
ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের আইনী যুক্তি উপস্থাপন  আজ শেষ হয়েছে। মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে  একটি অভিযোগ হল তৎকালীন পিরোজপুর মহকুমার পুলিশ প্রধান শহীদ ফয়জুর রহমানকে হত্যায় সহযোগিতা করা।
আজ   যুক্তি উপস্থাপন শেষে ট্রাইব্যুনালের সামনে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক এ বিষয়ে   বলেন, শহীদ ফয়জুর রহমানের স্ত্রী  আয়েশা ফয়েজ জীবিত আছেন। তার ছেলে মেয়েরা জীবিত আছেন। কিন্তু তারা কেউ এ মামলায় সাঈদী সাহেবের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আসেননি। তিনি  বলেন, আয়েশা ফয়েজ কোথায়? তার  যেসব ছেলে মেয়ে জীবিত আছেন তাদের মধ্যে একজন হলেন ড. জাফর ইকবাল। তিবি কোথায়?   জাফর ইকবালের তো এ মামলায় সাক্ষ্য দেয়ার জন্য ছুটে আসার কথা ছিল।   শহীদ ফয়জুর রহমানের স্ত্রী আয়েশা ফয়েজ  স্বামী হত্যা বিষয়ে বই লিখেছেন। তিনি এ মামলায়  সবচেয়ে ভাল সাক্ষী হতে পারতেন। কিন্তু তিনি কেন আসলেনননা? আয়েশা ফয়েজের মেয়ের জামাই অ্যাডভোকেট আলী হায়দার খান এই ট্রাইব্যুনাল থেকে মাত্র দুশ  গজ দূরে হাইকোর্টে প্রাকটিস করেন। তিনিও আসেনি তার  শশুরের হত্যাকান্ড বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে (অ্যাডভোকেট আলী হায়দার খানের বাড়ি পিরোজপুর এবং   ১৯৭১ সালে  শহীদ ফয়জুর রহমানের পরিবারের সাথে তার যোগাযোগ ছিল)।

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বসনিয়াসহ  পৃথিবীর যেখানেই এ ধরনের যুদ্ধাপরাধের বিচার হয়েছে  সেখানেই  ভুক্তভোগীর পরিবারের সমদস্যরা, আত্মীয়স্বজনরা কোর্টের সামনে লাইন দিয়ে ভিড় করেছে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য। কিন্তু আমরা শহীদ ফয়জুর রহমানের স্ত্রী, ছেলে মেয়েদের কাউকে এখানে সাক্ষী হিসেবে দেখলামনা। এ থেকে   প্রমানিত যে, মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে  তা মিথ্যা, সাজানো ষড়যন্ত্র। এটা এমনই  এক ষড়যন্ত্র যে পাহাড়  হেলে যায়।

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মাওলানা সাঈদীর  বিরুদ্ধে একমাত্র অভিযোগ তিনি  একজন জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ, তিনি কোরআনের তফসির  করেন, তিনি জামায়াতের  রাজনীতির সাথে জড়িত। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ  তার একটিতেও তার একদিনও শাস্তি হওয়া উচিত নয়।


ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে  বলেন, সাঈদী সাহেবের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আনীত ১৯টি অভিযোগের সবগুলোই বাতিল হওয়া উচিত, সবগুলো অভিযোগেই তাকে  নির্দোষ ঘোষনা দেয়া উচিত। তিনি যে নির্দোষ সে মর্মে আমরা প্রমান দিতে সম্পূর্ণ সক্ষম হয়েছি।  আশা করছি তিনি নির্দোষ প্রমানিত হবেন এবং খালাস পাবেন।


ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হয়। পৃথিবীর প্রথম রাজনৈতিক হত্যার শিকার হয়েছেন জুলিয়াস সিজার। খৃস্টপূর্ব ৪৪ সালে সেটি হয়েছে। তার ১৬০০ বছর পর এ নিয়ে নাটক লিখেছেন সেক্সপিয়ার। আজ এখানে যা হচ্ছে তা নিয়েও একদিন হয়ত কেউ নাটক লিখবে। ইতিহাসের   পুনরাবৃত্তি হবে।
ট্রাইব্যুনালে যুক্তি উপস্থানের শেষ পর্যায়ে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তার একটির সাথেও তার কোন সম্পর্ক নেই। এতবড় একটি মামলা এত বড় অভিযোগ তার বিরুদ্ধে কিন্তু আয়েশা ফয়েজ, ড. জাফর ইকবাল, এ মামলায় সাক্ষ্য দিতে আসলেননা।

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের পর অপর অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিরুদ্ধে যুক্তি উপস্থাপন  শুরু করেছেন। পারিবারিক সমস্যার কারনে তার যুক্তি উপস্থাপন  বন্ধ ছিল কয়েকদিন।
গতকাল  সকালে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাককে যুক্তি উপস্থাপনে সহায়তা করেন ব্যারিস্টার তানভির আহমেদ আল আমিন। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন  অ্যাডভোকেট মনজুর  আহমেদ আনসারী।

মাওলানা সাঈদীর পক্ষে কোন আইনজীবী যাননি ট্রাইব্যুনালে//আসামীপক্ষের আর্গুমেন্ট বন্ধ ঘোষনা

৪/১২/২০১২ মঙ্গলবার
আজ হরতাল।  আসামী পক্ষের কোন আইনজীবী যাননি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ । তবে আসামী পক্ষের উপস্থিতি ছাড়াই সারাদিন মাওলানা সাঈদীর বিচার কার্যক্রম চলছে।

ট্রাইব্যুনাল-১এ মাওলানা সাঈদীর মামলায় আসামী পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন চলছিল। আসামী পক্ষের কোন আইনজীবী উপস্থিত না হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল তাদের যুক্তি উপস্থাপন বন্ধ ঘোষনা করেন। এরপর ট্রাইব্যুনাল নির্দেশ দেন রাষ্ট্রপক্ষকে আসামী পক্ষের যুক্তির জবাব প্রদানের জন্য। রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী   আসামী পক্ষের যুক্তির পাল্টা জবাব দেয়া শুরু করেন।

তবে আসামী পক্ষের  যুক্তি উপস্থাপন বন্ধ করা বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল বলেছেন আসামী পক্ষ যদি তাদের অসমাপ্ত যুক্তি উপস্থাপনের জন্য আবেদন করে তাহলে তখন তা বিবেচনা করা হবে।

আর্গুমেন্ট শেষ হলে রায়ের তারিখ : রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী  আজ  তার যুক্তি উপস্থাপন শেষে ট্রাইব্যুনালের কাছে  নিবেদন করেন মামলার রায়ের তারিখ  ঘোষনার জন্য। ট্রাইব্যুনাল বলেন আপনার কাছে আমাদের আরো কিছু বিষয়ে ব্যাখ্যা জানার আছে। আগামীকাল আপনি সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দেবেন। চারটার দিকে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শেষ হলে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে সৈয়দ হায়দার আলী বলেন, আগামীকাল (আজ বুধবার) পাঁচ থেকে দশ মিনিটের মধ্যে আমাদের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়ে যাবে। সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন আগামীকাল আপনাদের আর্গুমেন্ট শেষ হয়ে যাবে। আসামী পক্ষের আর্গুমেন্টও বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। এ অবস্থায় কালও যদি তারা না আসে তাহলে আগামীকাল মামলার রায়ের তারিখ ঘোষনা হতে পারে কি-না।  জবাবে তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী আর্গুমেন্ট শেষ হলে মামলার জাজমেন্টের তারিখ ঘোষনা করা হয়। এটাই আইনের নিয়ম। এদিকে ট্রাইব্যুনাল থেকে বের হতে হতে অপর প্রসিকিউটর আব্দুর রহমান বলেন, আমরাতো আজই জাজমেন্টের তারিখ ঘোষনার জন্য দাবি করেছিলাম।

আসামী পক্ষের অনুপস্থিতিতে চলছে বিচার কার্যক্রম :  আজ  ১০টা ৫০ মিনিটে কোর্ট বসেন। প্রথমে রুস্তম আলী শিকদার নামে একটি মিসকেসের  বিষয়ে নতুন রারিখ  প্রদান করেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর  ট্রাইব্যুনাল বেঞ্চ অফিসারকে পরবর্তী মামলার নাম ঘোষনা করার নির্দেশ দিলে বেঞ্চ অফিসার মাওলানা সাঈদীর মামলার নাম ঘোষনা করেন।  ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক  পুলিশকে নির্দেশ দেন মাওলানা সাঈদীকে হাজতখানা থেকে কোর্ট রুমে নিয়ে আসার জন্য। আসামী পক্ষের আইনজীবীদের বেঞ্চ সম্পূর্ণ শূণ্য তখন। মাওলানা সাঈদীকে কোর্টরুমে নিয়ে আসা হলে বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, সাঈদী সাহেব, আপনার কোন আইনজীবীতো নেই। এখন আমরা কি করতে পারি?
মাওলানা সাঈদী বলেন, মাননীয় আদালত আমিতো আপনাদের পরামর্শ দিতে পারিনা। তবে   একটা অনুরোধ করতে পারি। আজ হরতাল চলছে। আমাকে এখানে নিরাপত্তা দিয়ে আনা হয়েছে। আপনাদেরও নিরাপত্তা দিয়ে আনা হয়েছে। আমার আইনজীবীরা আসতে পারেননি। তাই আমার অনুরোধ আজকে বিচার  মুলতবি রাখেন।

বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, আমরা তো বসে থাকতে পারিনা।  আপনার আইনজীবীদের আপনার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন চলছিল। তারা যথেষ্ঠ যুক্তি উপস্থাপন করেছে। আমাদের মনে হয় তাদের আরো কিছু  সময় লাগবে। আমরা এখন যেটা করতে পারি তাহল রাষ্ট্রপক্ষ এখন তাদের অংশ পেশ করবে।  এরপর আপনার আইনজীবী যদি আরো বলতে চায় তা পরে শুনব।

এরপর বিচারপতি নিজামুল হক মৌখিক আদেশে বলেন ডিফেন্স আর্গুমেন্ট ইজ কোজড। আসামী পক্ষের যুক্তি উপস্থান    বন্ধ। তারা  যদি পরে আবেদন করে তখন তা বিবেচনা করা হবে।
এরপর তিনি রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের উদ্দেশ্য করে বলেন আপনরা জবাব প্রদান শুরু করেন।
মাওলানা সাঈদী তখন বলেন, যেহেতু আমার কোন আইনজীবী নেই । তাই আমাকেও জেলখানায় পাঠিয়ে দেয়া হোক। কারণ আমিতো এসব শুনিনা এর  জবাবও আমি দিতে পারবনা।  আপনি জানেন আমি এখানে  বসে বসে কোরআন পড়ি। ট্রাইব্যুনাল  বলেন আপনি কোরআন পড়–ন। আমাদেরও উপকার হতে পারে। কিন্তু আপনাকে এখন পাঠানো যাচ্ছেনা। আপনাকে থাকতে হবে।
এরপর সৈয়দ হায়দার আলী জবাব প্রদান শুরু করেন।

শিকদার বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের  দাবি: প্রসিকিউটর  সৈয়দ হায়দার আলী যুক্তি উপস্থাপনের সময়  বলেন, সেফহোমে জিজ্ঞাসাবাদে  সাঈদী সাহেব বলেছেন, “আমার আসল নাম  আবু নঈম মো: দেলাওয়ার হোসাইন । সাঈদী নামটি আমার ওস্তাদ আমাকে দিয়েছেন।”
 এসময় বিচারপতি নিজামুল হক সৈয়দ হায়দার আলীকে প্রশ্ন করেন সাঈদী নাম যেই  দিক না কেন। এখানেতো শিকদার বিষয়ে কিছু  নেই। তার নাম  শিকদার ছিল  কি ছিলনা সে বিষয়ে  তো এখানে কিছু নেই।
জবাবে সৈয়দ হায়দার  আলী বলেন,  আছে। শিকদার তাদের পারিবারিক নাম।  আমরা সাউথখালীতে তাদের একটি জমির পরচা পেয়েছি। সে জমির পরচায়  সাঈদী সাহেবের দাদা, পিতার নামের শেষে  শিকদার লেখা আছে। সাঈদী সাহেবের ছেলে সাক্ষ্য দেয়ার সময় বলেছিলেন সাউথখালিতে তাদের  সম্পত্তি থাকতে পারে। আমরা তার জেরার পর এ কাগজ পেয়েছি।

এরপর ট্রাইব্যুনাল জানতে চান গণেশ চন্দ্র সাহা এখানে এসে সাঈদী সাহেবের পক্ষে সাক্ষ্য দেয়ার পর তিনি তদন্ত কর্মকর্তার কাছে যে জবানবন্দী দিয়েছেন তার কি কোন মূল্য আছে? তার  জবানবন্দীরতো এখন  কণ্ট্রাডিকশন এবং কোলাবোরেশন ছাড়া আর কোন ব্যবহার নেই। আমরা তার  যে জবানবন্দী সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছি তা ব্যবহার করতে পারব কি-না সে বিষয়ে আপনাদের কোন সাপোটির্ং বক্তব্য আছে কি-না।
জবাবে সৈয়দ হায়দার আলী বলেন,  তদন্ত কর্মকর্তার কাছে প্রদত্ত গনেশের যে জবানবন্দী আমরা দিয়েছি তা আপনারা একটি ডকুমেন্ট হিসেবে গ্রহণ করেছেন। সেটি সেভাবেই বিবেচনা করবেন।

আসামী পক্ষের বিরুদ্ধে    অভিযোগ : ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন  সৈয়দ হায়দার  আলীকে  উদ্দেশ্য করে বলেন, বেশ কয়েকজন সাক্ষীর জবানবন্দী বিষয়ে  আসামী পক্ষের দাবি    এগুলো সাক্ষী রেকর্ড করেননি। তদন্ত কর্মকর্তা নিজে তাদের নামে লিখে এনেছেন। আসামী পক্ষ সয়ং তদন্ত কর্মকর্তার ক্যারেকটার (চরিত্র) নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এক মহিলার ভিডিও দেখিয়েছেন এখানে তারা। তিনি  আপনাদের সাক্ষী ছিলেন।  ওই মহিলা টিভিতে সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে, সাঈদী সাহেব মার্ডার করেননি। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কি।
সৈয়দ হায়দার আলী বলেন, গনেশ এখানে এসে বলে গেছেন তদন্ত কর্মকর্তা তার কাছে গিয়েছিল। তাছাড়া তদন্ত কর্মকর্তা যে তাদের  জবানবন্দী রেকর্ড করেননি এ মর্মে জেরায় কিছু বের  হয়ে আসেনি।

এরপর সৈয়দ হায়দার আলী বলেন, আমার সাক্ষীর কাছে তারা (আসামীপক্ষ) গেছে। সাক্ষীদের মেনিপুলেট করেছে তারা। আমার সাক্ষীদের জবানবন্দী তাদেরকে আমরা দিয়েছি। তারপরও তারা কি করে আমার সাক্ষীর কাছে তারা যেতে পারে? কেন  কিভাবে তারা গেল?
এসময় ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক  ক্ষোভের সাথে বলেন, সাংবাদিক সাক্ষীদের (রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী)  কাছে গেছেন। এ নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশের পর আমরা  পদক্ষেপ নিতে চেয়েছিলাম তাদের বিরুদ্ধে।  ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের মত আইনজীবী মাফ চেয়েছেন  ওই সাংবাদিক এবং পত্রিকার পক্ষে যে, এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবেনা।  কিন্তু তারপরও তারা একটি রিভিউ আবেদনের সাথে ওই  রিপোর্ট যে বিষয়ে তিনি মাফ চাইলেন তা জমা দিলেন এনেক্সার হিসেবে। এখানে যে ভিডিও দেখানো হল তাও জমা দিলেন।
বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, সাঈদী সাহেবের মামলায় তদ্বিকার এখানে সাক্ষ্য দেয়ার সময় স্বীকার করেছেন তারা লোক পাঠিয়েছিল  সাক্ষীর কাছে (রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী) । তারা গেছে সাক্ষীদের কাছে। এটা এলাউড কি-না?
এরপর তিনি বলেন এ বিষয়ে জাজমেন্টে একটা নোট থাকতেই হবে তা যে পক্ষেই যাকনা কেন।
এরপর বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, গণেশ চন্দ্র সাহা এবং সুখরঞ্জন বালী বিষয়ে একটি দরখাস্ত  করা হয়েছিল এবং আমরা আদেশে বলেছিলাম আপনারা যাকে খুসী সাক্ষী হিসেবে আনতে পারেন। আমরা সমন দেবনা। তারপর তারা  গণেশকে আনল। পরেরদিন  বালীকে আনলনা। এরপরদিনও তারা বালীকে আনলনা। এরপর আমরা তাদের সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ বন্ধ করে আদেশ দিলাম। পাঁচ নভেম্বর  আর্গুমেন্টের জন্য নির্ধারন করা হল। সেদিন তারা বালীকে নিয়ে আসছিল বলে দাবি করল।  কোন  কোন পত্রিকায়, টুইটারে আইনজীবীর বরাত দিয়ে লিখল  চার নভেম্বরও নাকি তারা বালিকে নিয়ে এসেছিল। নিরাপত্তা কর্মীর কাছে ভিন্ন নাম  পরিচয় দিয়ে তারা তাকে নিয়ে এসেছিল। দে আর প্লেয়িং  ফ্রড  আপন দি কোর্ট। (তারা কোর্টের সাথে প্রতারনা/জুয়াচুরি করতেছে।

সাদা জামায় যেন কালো দাগ না পরে :
বিচার চলাকালে   দুপুরের বিরতির পূর্বে  মাওলানা সাঈদী ট্রাইব্যুনালের  প্রতি নিবেদন করে বলেন,  আমার নামাজ এবং খাওয়ার জন্য জেলখানায় পাঠিয়ে দেয়া হোক। বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, না এখানেই আপনার নামাজ খাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। মাওলানা সাঈদী বলেন, আমার কোন লোক তো খাবার নিয়ে আসেনি। বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটররা ব্যবস্থা করবে। কিন্তু আপনাকে এখন পাঠানো যাবেনা। যখন পাঠানোর  সময় হবে তখন যাবেন।
মাওলানা সাঈদী বলেন,  গতকাল এবং গত পরশুও আমাকে দুপুরের বিরতির পর জেলখানায় পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে আমার আবেদনের প্রেক্ষিতে। আমি অনেক্ষন একস্থানে বসে থাকতে পারিনা। আমার সমস্যা হচ্ছে।  আমার থেরাপী নেয়া বন্ধ আছে।
বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, কোর্টের কিছু নিয়ম আছে। আজ আসামী পক্ষের কোন আইনজীবী নেই।  আপনাকে আজ ছুটি দেবনা।

মাওলানা সাঈদী বলেন, প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী পরিষদের সদস্যরা তাড়াহুড়া করছেন। সেই ত্রস্ততা যেন আপনাদের মধ্যে না আসে। আমি আড়াই বছর ধরে এখানে বসে প্রসিকিউশনের মিথ্যাচার শুনছি। আমার মধ্যে কোন ত্রস্ততা, ভয়ভীতি নেই। আপনাদের ওই কালোকোর্টের নিচে একটা সাদা জামা আছে। আমার গায়েও সাদা জামা আছে। আপনাদের ওই সাদা জামায় যেন কাল দাগ না পড়ে।
এর আগে বিচারপতি নিজামুল হক অন্য এক প্রসঙ্গে বলেন, আমাদের জানামতে কোন অন্যায় আদেশ আমরা দেইনি। কোন ভুল আদেশ দেইনি। আমরা বিবেক অনুযায়ী এখন পর্যন্ত আদেশ দিয়েছি এবং দেব ইনশাআল্লাহ।
সৈয়দ হায়দার আলী বলেন আপনি প্রসিকিউশনের বিরুদ্ধে যে মিথ্যাচারের অভিযোগ করলেন  তা সঠিক নয়।


আসামী পক্ষের ব্যর্থতার কোন বিনিফিট পাবেনা রাষ্ট্রপক্ষ : বিচারপতি নিজামুল হক আজ স্পষ্ট করে  রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেছেন  আসামী পক্ষের ব্যর্থতার  কোন বেনিফিট রাষ্ট্রপক্ষ পাবেনা।  অর্থাৎ   মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের যেসব অভিযোগ তা যদি আসামী পক্ষ মিথ্যা প্রমান করতে নাও পারে তার বেনিফিট রাষ্ট্রপক্ষ পাবেনা। রাষ্ট্রপক্ষের আনীত অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষকেই প্রমান করতে হবে।
বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, আসামী পক্ষের দাবি সাঈদী সাহেব ঘটনার সময়  পিরোজপুর, পাড়েরহাট ছিলেননা। এটা যদি তারা প্রমান নাও করতে পারে তাতে মামলায়  তাদের কোন সমস্যা নেই।  আর  তারা যদি প্রমান করতে পারে যে, সাঈদী সাহেব পিরোজপুরে  ঘটনার সময় ছিলনা তাহলে আপনাদের  (রাষ্ট্রপক্ষের ) কেস  গেল।
তিনি বলেন,  রাষ্ট্রপক্ষের দাবি সাঈদী সাহেব  ১৯৭১ সালে ঘটনার সময়  পাড়েরহাট ছিলেন। তাই এটি রাষ্ট্রপক্ষকে  প্রমান করতে হবে যে তিনি ওখানে ছিলেন।  আসামী পক্ষ প্রমান করতে না পারলে তার কোন বেনিফিট আপনারা পাবেননা।
রাষ্ট্রপক্ষে চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু,  প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী, জেয়াদ আল মালুম, আব্দুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মাওলানা সাঈদীর মামলায় যুক্তি উপস্থান শেষ করার নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের

৫/১২/১২ বুধবার
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলায় আগামীকালের  মধ্যে আসামী পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

এদিকে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ের সময় এক প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন যুক্তি উপস্থান শেষ হলে রাযের দিন ধার্য্য করা ছাড়া আর তো কিছু করার নেই। আগামীকাল  রায়ের দিন ধার্য করা হতে পারে কিনা  সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন আজ আর্গুমেন্ট শেষ হবে। সুতরাং  বুঝে নেন।

গত মঙ্গলবার হরতালে ট্রাইব্যুনালে মাওলানা সাঈদীর পক্ষে কোন আইনজীবী হাজির  না হওয়ায় আসামী পক্ষের যুক্তি উপস্থান বন্ধ ঘোষনা করেন ট্রাইব্যুনাল।  তবে আসামী পক্ষ আবেদন করলে তখন তা বিবেচনা করবেন বলে ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করেছিলেন। সে হিসেবে আসামী পক্ষ গতকাল আবেদন করেন তাদের অসমাপ্ত যুক্তি উপস্থাপনের সুযোগ দেয়ার জন্য। ট্রাইব্যুনাল এ আবেদন গ্রহণ করে অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলামকে বলেন, গতকাল বুধবারের মধ্যে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করতে। মিজানুল ইসলাম বলেন, এটা কঠিন হয়ে যাবে।  আরো একদিন লাগবে। তখন ট্রাইব্যুনাল বলেন  আজ বৃহষ্পতিকারের  মধ্যে  শেষ করার নিদের্শ দেয়া হল।

এদিকে রাষ্ট্রপক্ষ আজ  মাওলানা সাঈদীর শিকদার নাম প্রসঙ্গে সাউথখালি জমির পরসার একটি সার্টিফাইড কপি ট্রাইবুনালে জমা দিয়ে জুডিশিয়াল নোটিশের মাধ্যমে গ্রহণ করার আবেদন করেন। জমির এ পরচায়  মাওলানা সাঈদীর দাদার নামের শেষে শিকদার আছে বলে দাবি করেন তারা।  ট্রাইব্যুনাল পরচার কাগজ নথিভুক্ত করে রাখার আদেশ দেন। মিজানুল ইসলাম বলেন ৪৫ পৃষ্ঠার কাগজ তারা জমা দিয়েছেন। আমরা এর জবাব দিতে চাই। সেজন্য এটি পর্যালোচনা করতে সময় দরকার এবং আমরা শুনানী করতে চাই। ট্রাইব্যুনাল বলেন, আপনারা যেকোন সময় লিখিত জবাব দিতে পারেন।  সেটিও রেকর্ডে রাখা হবে। তাদের কাগজ এবং আপনাদের জবাব আদেশের সময় প্রয়োজন হলে বিবেচনা করা হবে। শুনানীর দরকার নেই।

ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক, সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, বিচারপতি আনোয়ারুল হক বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

আসামী পক্ষে মিজানুল ইসলামকে  গতকাল যুক্তি উপস্থাপনে সহায়তা করেন মনজুর আহমেদ আনসারী। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আসামী পক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক, অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, মতিউর রহমান আকন্দ প্রমুখ।

রাষ্ট্রপক্ষে চিফ প্রসিকিউটর  গোলাম আরিফ টিপু, প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী, প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সাঈদীর মামলার রায় যেকোন দিন

৬/১২/১২, বৃহষ্পতিবার
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার রায় যেকোন দিন ঘোষনা করা হতে পারে।
আজ  মাওলানা সাঈদীর মামলায় সমস্ত বিচার প্রকৃয়া শেষ হলে সবাই অপেক্ষা করেন রায়ের তারিখ ঘোষনা শোনার জন্য। তবে ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষনার  তারিখ নির্দিষ্ট করে না দিয়ে  বলেছেন সিএভি (কোর্ট  অ্যাডর্জন ফর ভারডিক্ট), রায় ঘোষনা পর্যন্ত মুলতবি।

মাওলানা সাঈদীর মামলায় আজ  উভয় পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে ট্রাইব্যুনাল  রায় ঘোষনার  তারিখ নির্ধারন বিষয়ে এ আদেশ দেন।

১৯৭১ সালে মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারের লক্ষ্যে ২০১০ সালের মার্চ মাসে  আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গঠনের পর পৌনে তিন বছরের মাথায় এই প্রথম একটি  মামলার রায়ের   তারিখ বিষয়ে আদেশ দিলেন ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক, সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন এবং বিচারপতি আনোয়রুল হক সমন্বয়ে গঠিত ট্রাইব্যুনাল-১ মাওলানা সাঈদীর মামলার বিচার প্রকৃয়া শেষে  এ আদেশ দিলেন।

এর আগে মাওলানা সাঈদীর পক্ষে আইনজীবী  মিজানুল ইসলাম যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন।  যুক্তি উপস্থাপন শেষে মিজানুল ইসলাম দাবি করেন মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তার একটিও প্রমান করতে সক্ষম হয়নি রাষ্ট্রপক্ষ। মাওলানা সাঈদীর একদিনও সাজা হওয়ার কোন উপায় নেই। তাকে খালাস দেয়া ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই বলে তিনি ট্রাইব্যুনালের কাছে নিবেদন করেন।