সাঈদী : তদন্ত কর্মকর্তা জেরা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সাঈদী : তদন্ত কর্মকর্তা জেরা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০১৩

ট্রাইব্যুনালে যোগ দিলেন নতুন বিচারপতি

৩০/৮/২০১২
বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন নতুন সদস্য হিসেবে যোগ দিলেন  আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল -১ এ।  আজ  তিনি কোর্টেও বসেন। তবে কোর্টে কোন বিচার কার্যক্রম চলেনি। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবী আহসানুল হক হেনা কোর্টে হাজির অসুস্থতার কারনে সময় প্রার্থনা করলে আগামী রোববার পর্যন্ত কোর্ট মুলতবি করা হয়।

গত মঙ্গলবার তিন সদস্য বিশিষ্ট ট্রাইব্যুনালের (১)  সদস্য বিচারক এ কে এম জহির আহমেদ পদত্যাগ করলে হাইকোর্টের বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন নিয়োগ পান।

তদন্ত কর্মকর্তার জেরা শেষ// জেরায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সাঈদী নির্দোষ-আইনজীবী

মেহেদী হাসান, ১৩/৮/২০১২, সোমবার
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনের জেরা আজ সোমবারন শেষ হয়। আজ  তার জেরা শেষ করার জন্য ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ  ছিল মাওলানা সাঈদীর আইনজীবীর  প্রতি।

জেরা শেষে মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী মিজানুল ইসলামের কাছে সাংবাদিকরা জানতে চান  সাক্ষী এবং তদন্ত কর্মকর্তার যে জেরা হল তাতে আপনারা কি পেলেন এখন পর্যন্ত । জবাবে  মিজানুল ইসলাম বলেন, জেরায় এ পর্যন্ত যে তথ্য আমরা পেলাম তাতে এটি প্রতিষ্ঠিত  যে, সাঈদী সাহেব নির্দোষ। দেশবাসীর কাছে  ইতোমধ্যে সাঈদী সাহেব নির্দোষ হিসেবে প্রমানিত হয়েছেন। তিনি বলেন, মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ ছিল সাতটি গ্রামের সব বাড়িঘর পোড়ানো এবং লুটপাটের অভিযোগ আনা হয়েছে। কিন্তু  এর পক্ষে তারা একজন সাক্ষীও আনতে পারেননি।

মাওলানা সাঈদীর নাম সংশোধন বিষয়ে সংসদীয় তদন্ত গঠন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মিজানুল ইসলাম সাংবাদিকদের  বলেন, দুনিয়ার ইতিহাসে সম্ভবত এমন নজির নেই যে, কোন ব্যক্তির নাম সংশোধন   বিষয়ে তদন্তের জন্য সংসদীয় কমিটি গঠিত হতে পারে। মাওলানা সাঈদীর নাম ১৯৫৭ সালের দাখিল সনদে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, পিতা ইউসুফ সাঈদী লেখা আছে। রাষ্ট্রপক্ষ  সাঈদী সাহেবের বিরুদ্ধে যে ডকুমেন্ট দিয়েছেন তাতেই এ তথ্য রয়েছে। আলিম সনদে তার নাম ভুল থাকায় তা সংশোধন করা হয়েছে।
মিজানুল ইসলাম বলেন, সাঈদী সাহেবের বিরুদ্ধে  রাষ্ট্রপক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল তিনি পূর্বে দেলোয়ার হোসেন  শিকদার  ছিলেন।  পরে নামের শেষে  শিকদার বাদ দিয়ে সাঈদী  নাম ধারন করেন তিনি।  কিন্তু এর পক্ষে তারা কোন একটি  প্রমানও  হাজির করতে পারেনি। উপরুন্ত তাদের দেয়া ডকুমেন্ট যেটি তারা শর্ষিণা মাদ্রাসা থেকে সংগ্রহ করেছেন তাতেই দেখা যায় ১৯৫৭ সালেই মাওলানার নামের শেষে সাঈদী লেখা আছে, শিকদার নয়। পিতার নামের শেষেও সাঈদী লেখা রয়েছে। মিজানুল ইসলাম বলেন রাজনৈতিক অসৎ উদ্দেশ্য থেকে আজ তার নামের বিষয়ে সংসদীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অপর আরেক প্রশ্নের জবাবে মিজানুল ইসলাম বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা ২৫ ভাগ প্রশ্নের জবাবে উত্তর দিয়েছেন “আমার নোটে নেই,  আমার রেকর্ডে নেই, আমি বলতে পারবনা” বলে। এ থেকেই বোঝা যায় তিনি আসলে কি তদন্ত করেছেন। রাজনৈতিক নির্দেশ মত তিনি আসলে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করেছেন।

গত ২৫ এপ্রিল তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনের জেরা  শুরু হয়। তখন থেকে দিনের সংখ্যা হিসেবে  তার মোট ৪৮ দিন জেরা হয়েছে। মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী মিজানুল ইসলাম বলেন, পূর্ণ দিন হিসেব করলে ২০ দিনের মত তার জেরা হয়েছে। সংখ্যায় ৪৮ দিন হলেও খুব কম দিনই  তার একটানা পূর্ণ দিন জেরা হয়েছে। কোন দিন  অর্ধ দিবস, কোন দিন এক থেকে  দুই ঘন্টা, কোন দিন পূর্ণ দিবস এভাবে  জেরা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দী হয় মোট নয়দিন। তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন বলেন, জবানবন্দীও সব সময় একটানা পুরো দিন হয়নি।
গত বছর সাত ডিসেম্বর মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়।

তদন্ত কর্মকর্তার জেরা আট আগস্ট শেষ করার জন্য এর  আগে ২ আগস্ট আদেশ পাশ করেন ট্রাইব্যুনাল। কিন্তু আট আগস্ট   জেরা শেষ করতে না পারায় এবং নতুন আরেক সাক্ষীর জবানবন্দী তার অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করার প্রেক্ষিতে আরো দুইদিন সময় বাড়িয়ে দিয়ে ১৩ আগস্ট জেরা শেষ করার পুনরায় নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।  আট আগস্ট দুই দিন সময় বাড়িয়ে আদেশ পাশ করার সময় ট্রাইব্যুনাল বলেন আর কোন সময় বাড়ানো হবেনা। সে হিসেবে গতকাল তার জেরা শেষ হয়েছে।

আজ তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরায় অ্যডভোকেট মিজানুল ইসলামকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট মনজুর আহমদ আনসারী, ব্যারিস্টার তানভির আহমেদ আল আমিন, আবু বকর সিদ্দিক, হাসানুল বান্না সোহাগ।
মাওলানা সাঈদীর পক্ষে সাক্ষী হাজির করা বিষয়ে ঈদের ছুটির পর তারিখ নির্ধারন করা হবে।


তদন্তকালে মাওলানা সাঈদীর বাসা পরিদর্শনে যাননি তদন্ত কর্মকর্তা

মেহেদী হাসান, ১২.৮.২১০২, রোববার
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে   জবানবন্দীতে তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন   বলেছিলেন ১৯৭১ সালে লুটের টাকায়  দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ঢাকা এবং খুলনায় অট্টালিকাসহ বহু সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। আজ তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনকে জেরার সময় মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী এ বিষয়ে প্রশ্ন করেন।   জেরায় তদন্ত কর্মকর্তা জানান তিনি তদন্তের সময় মাওলানা সাঈদীর  ঢাকা বা খুলনার কোন বাসা পরিদর্শনে যাননি। ওই বাসার মূল্যমানও তিনি পরিমাপ করেননি।

মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী মিজানুল ইসলাম প্রশ্ন করেন  সাঈদী সাহেবের খুলনা এবং ঢাকার বাসার মূল্যমান কত তা কি আপনি পরিমাপ করেছেন? জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন “না”। এরপর তাকে প্রশ্ন করা হয় তিনি তদন্তকালে খুলনা বা ঢাকায় মাওলানা সাঈদীর বাসা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন কি-না। উত্তরে তিনি জানান “না”।
এরপর মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী সাজেশন দিয়ে ট্রাইব্যুনালে জানান মাওলানা সাঈদী ঢাকায় যে বাড়িটি করেছেন তা ব্যাংকের লোনের মাধ্যমে। মাওলানা সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী দৈনিক নয়া দিগন্তকে  জানান খুলনায় তাদের টিনশেটের খুব ছোট একটি বাসা আছে।

মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে পিরোজপুরের  উমেদপুর গ্রামে ২৫ টি বাড়ি পোড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা জানান তিনি  তদন্তকালে ওইসব বাড়িতে যান এবং দেড় ঘন্টা অবস্থান করেন। মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী মনজুর আহমদ আনসারী দৈনিক নয়া দিগন্তকে বলেন, মাত্র দেড়ঘন্টার মধ্যে ২৫টি বাড়িতে যাওয়া, প্রত্যেক বাড়ির লোকজনের সাথে কথা, বলা তথ্য সংগ্রহ করা  কঠিন নয় কি?

তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরায় অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলামকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট মনজুর আহমদ আনসারী। আজ সোমবার তদন্ত কর্মকর্তার জেরা শেষ করার জন্য ট্রাইব্যুনালের আদেশ রয়েছে মাওলানা সাঈদীর আইনজীবীর প্রতি। 

সাক্ষীর কাছে না গিয়েই তাদের হাজির করা সম্ভব নয় বলে দেখানো হল!

মেহেদী হাসান, ৭.৮.২০১২
গত ২০ মার্চ   রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে একটি আবেদন জমা দেয়া হয়। তাতে উল্লেখ করা হয় মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে ৪৬ জন সাক্ষী আদৌ হাজির করা সম্ভব নয়। তাই তারা তদন্ত কর্মকর্তার কাছে যে জবানবন্দী দিয়েছেন তা যেন তাদের অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

কিন্তু আজ তদন্ত কর্মকর্তা জেরায় স্বীকার করলেন মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে অনুপস্থিত যেসব সাক্ষী ঢাকায় এবং যশোরে রয়েছেন তাদেরকে হাজির করার জন্য তিনি তাদের কাছে যাননি। কাউকে পাঠানওনি সমন নিয়ে। ঢাকায় অবস্থান করছেন  অথচ তাদের কাছে  সমন নিয়ে  যাননি  এরা হলেন শাহরিয়ার কবির, জুয়েল আইচ, মেজর (অব) জিয়াউদ্দিন, জাফর ইকবাল, আলী হায়দার খান, সুফিয়া হায়দার, আফরোজা পারভীন, একেএম জগলুল হায়দার আফরিক । যশোরে অবস্থানরত অনুপস্থিত তিনজন সাক্ষী হলেন, তোজাম্মেল হোসেন, সদরুদ্দিন এবং  খন্দকার শহীদুল্লাহ।   আদৌ হাজির করা সম্ভব নয় মর্মে যে ৪৬ জন সাক্ষীর তালিকা রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জমা দেয়া হয়েছে তাদের মধ্যে  উক্ত ১১ জন সাক্ষীও রয়েছেন। কিন্তু তাদের কাছে না গিয়েই তাদের  আদৌ হাজির করা সম্ভব নয় তালিকায় তাদের নাম দিয়ে দেয়া হল ।


মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে আরো এক সাক্ষীর জবানবন্দী অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্য হিসেবে  গ্রহণ

৮/৮/২০১২, বুধবার
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে অনুপস্থিত ৪৬ জন সাক্ষীর মধ্য থেকে আরো একজন সাক্ষীর জবানবন্দী তার অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করল ট্রাইব্যুনাল (১)।  অর্থাৎ তদন্তকালে সাক্ষী  তদন্ত কর্মকর্তার কাছে যে জবানবন্দী দিয়েছেন তা তার অনুপস্থিতিতে  সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হল। 

নতুন যে সাক্ষীর জবানবন্দী তার অনুপস্থিতিতে  সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হল তার নাম মুকুন্দ চক্রবর্তী। তিনি  গত ২১ এপ্রিল মারা যাওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে তার জবানবন্দী সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহনের আবেদন জানায়।  আজ  বুধবার  এ আবেদন গ্রহণ করে আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ  হায়দার আলী ট্রাইব্যুনালে আবেদন উপস্থাপন করেন।

এ নিয়ে মোট ১৬ জন সাক্ষীর তদন্ত কর্মকর্তার কাছে প্রদত্ত জবানবন্দী তাদের অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্য হিসেবে  গ্রহণ করা হল। এর আগে গত ২৯ মার্চ এক আদেশের মাধ্যমে ১৫ জনের জবানবন্দী সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয় তাদের অনুপস্থিতিতে।

গত ২০ মার্চ   রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে একটি আবেদন জমা দেয়া হয়। তাতে উল্লেখ করা হয় মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে ৪৬ জন সাক্ষী আদালতে আদৌ হাজির করা তাদের পক্ষে  সম্ভব নয়। তাই ওই ৪৬ জন সাক্ষী  তদন্ত কর্মকর্তার কাছে  তদন্তকালে যে জবানবন্দী দিয়েছেন তা যেন তাদের অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয় এটি ছিল আবেদনের বিষয়।

৪৬ জন সাক্ষী হাজির করতে না পারা বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে যেসব কারণ  জানানো হয়েছিল  তার মধ্যে রয়েছে সাক্ষীর অসুস্থতা, সাক্ষী খুজে না পাওয়া, সাক্ষী নিখোঁজ  হয়ে যাওয়া এবং মাওলানা সাঈদীর পক্ষাবলম্বনকারী অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী কর্তৃক বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভয়ভীতি এবং হুমকি দেয়ার কারনে সাক্ষীদের বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যাওয়া। ২৯ মার্চ ট্রাইব্যুনাল এক আদেশে এই ৪৬ জনের মধ্য থেকে ১৫ জনের আবেদন গ্রহণ করে এবং ৩১ জনের আবেদন  বাতিল করেন। গতকাল মুকুন্দ চক্রবর্তী নামে যে সাক্ষীর জবানবন্দী সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হল তার নাম ছিল ৪৬ জনের তালিকায় ৩৫ নম্বরে এবং বাতিল হওয়া ৩১ জনের মধ্যে তিনি ছিলেন একজন।

আবেদনের বিরোধীতায়  মিজানুল ইসলামের যুক্তি :
মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী মিজানুল ইসলাম মুকুন্দ চক্রবর্তীর আবেদন গ্রহনের বিরোধীতা করে ট্রাইব্যুনালে বলেন, ৪৬ জন সাক্ষীর  জবানবন্দী সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহনের তারা আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে প্রথম ১৯ জন সাক্ষী হাজির করতে না পারা বিষয়ে তারা যে কারণ দেখিয়েছে সেগুলো হল  একজন সাক্ষীর অসুস্থতা,  চার জন  নিখোঁজ হয়ে যাওয়া।  বাকী  ৬ থেকে ১৯ নং  ক্রমিকে বর্ণিত ১৪ জন সাক্ষী

বিষয়ে বলা হয়েছে আসামীর পক্ষাবলম্বনকারী  অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গ্রুপ কর্তৃক বাড়ি গিয়ে ভয়ভীতি এবং হুমকির কারনে তারা আত্মগোপনে চলে গেছে, তাদের আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা।

এই ৪৬ জন সাক্ষী হাজির  করতে না পারা বিষয়ে  রাষ্ট্রপক্ষ থেকে যে কারণ দেখানো হয়েছে  সে বিষয়ে আপনারা ১৫ জনের বিষয়ে সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাদের  জবানবন্দী সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন। বাকী ৩১ জনের বিষয়ে যে কারণ দেখানো হয়েছে তাতে আপনারা সন্তুষ্ট হতে পারেননি বিধায় তাদের জবানবন্দী আপনারা গ্রহণ না করে বাতিল করেছেন। আজ মুকুন্দ চক্রবর্তী নামে যে সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহনের আবেদন তারা করেছেন তার নাম ছিল ওই বাতিল হওয়া ৩১ জনের মধ্যে। ৪৬ জনের তালিকায়   তার নাম ছিল ৩৫ নম্বর সিরিয়ালে। তাকে হাজির করতে না পারা বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ কোন ধরনের ভয়ভীতি দেখানো, খুজে পাওয়া যাচ্ছেনা বা সে আত্মগোপনে  চলে গেয়ে এ জাতীয় কোন কারণ তখন   হাজির করতে পারেনি তখন। সুতরাং যার আবেদন তখন  গ্রহণ করা আপনারা যৌক্তিক মনে করেননি এখন সে  মারা যাবার পরে কি কারনে তার  জবানবন্দী সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা যৌক্তিক হতে পারে?

এসময় ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারপতি আনোয়ারুল হক বলেন, তখন যে কারনে তার আবেদন গ্রহণ করা হয়নি সেটি এখন আর বিদ্যমান নেই।  এখন সে মারা গেছে। এর চেয়ে বড় কারণ আর নেই। আইনের ১৯.২ ধারায় সাক্ষীর অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করার যে কারণ তার মধ্যে এক নম্বর কারণ বলা হয়েছে সাক্ষী যদি মারা যায়।  এ সাক্ষী মারা গেছে। এখন তার জবানবন্দী গ্রহনের অসুবিধা কোথায়?

ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক  অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলামকে লক্ষ্য করে বলেন, আপনার নিকট আমার প্রশ্ন,  প্রথমে গ্রহণ করা হয়নি বলে পরে মারা গেলেও গ্রহণ করা যাবেনা এ বিষয়ে আইনে কি কোন বাঁধা  আছে?

জবাবে মিজানুল ইসলাম বলেন, এই সাক্ষীর জবানবন্দী যদি তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হত তাহলে তো তারা     শুরুতে যখন ৩১ জনের আবেদন বাতিল করা হয়েছে তখনই এদের হাজির করার চেষ্টা করত। কিন্তু তারা তো আজ পর্যন্ত  মুকুন্দ চক্রবর্তীকে কখনো হাজির করার কোন চেষ্টাই করেনি। কাজেই তার জবানবন্দী যে গুরুত্বপূর্ণ এ  দাবির যৌক্তিকতা কোথায়?
শুনানী শেষে ট্রাইব্যুনাল মুকুন্দ চক্রবর্তীর জবানবন্দী গ্রহণ করে আদেশ দেন।
এদিকে ৪৬ জন সাক্ষী হাজির করতে না পারা বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা গত ১৭ এবং ১৯ মার্চ  যে দুটি রিপোর্ট প্রসিকিউশন বরাবার দাখিল করেছিল তার বিষয়বস্তু সম্পর্কে জেরার করার  দাবি জানিয়ে  আবেদন করেছিলেন মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী মিজানুল ইসলাম। সে আবেদন খারিজ করে দেন ট্রাইব্যুনাল।

মাওলানা সাঈদীকে হাজির করা হল  ট্রাইব্যুনালে:
প্রায় দুই মাস পর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে আজ  ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এর আগে সর্বশেষ তিনি কোর্টে হাজির ছিলেন গত ১৩ জুন।

আজ   সকালে মাওলানা সাঈদীকে হুইল চেয়ারে করে  ট্রাইব্যুনালের কোর্ট রুমে হাজির করা হয়। তাকে কাঠ গড়ায় না উঠিয়ে কোর্টরুমের আইনজীবীদের  বেঞ্চের পাশে হুইল চেয়ারে বসানো হয়। কিছুক্ষন পরে তিনি অসুস্থ বোধ করায় বেঞ্চে বসেন।  এরপর বেঞ্চে শুয়ে   পড়েন মাওলানা সাঈদী। তখন  ট্রাইব্যুনাল  বলেন, তাকে কোর্টরুমে রাখার দরকার নেই। কারাগারে নিয়ে যাওয়া হোক।

গত ১৩ জুন  পিতার বিচার উপলক্ষে ট্রাইব্যুনালে  হাজির ছিলেন  মাওলানা সাঈদীর বড় ছেলে রাফিক বিন সাঈদী । কোর্ট চলাকালীন অবস্থায় তিনি হার্ট এ্যাটাকে আক্রান্ত হন।  সেখান থেকে তাকে হাসপাতালে নেয়ার পর ওইদিনই মারা যান তিনি। মাওলানা সাঈদীও ওইদিন কোর্টে  উপস্থিত ছিলেন।  পরেরদিন  প্যারোলে মুক্তির মাধ্যমে ছেলের জানাজা পড়িয়ে মতিঝিল বয়েজ স্কুল মাঠ থেকে কারাগারে নিয়ে যাবার পরপরই বুকে ব্যথা অনুভব করায় দ্রুত মাওলানা সাঈদীকে হাসপাতালে নেয়া হয়।  দীর্ঘদিন বারডেমের ইব্রাহিম কার্ডিয়ান সেন্টার, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল  তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। কারাগারে নেয়ার  পূর্বে হাজত খানায় মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী এবং তিন ছেলে তার সাথে সাক্ষাত করেন।

তদন্ত কর্মকর্তার জেরা দুইদিন বাড়ল: মাওলানা সাঈদীর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হেলালউদ্দিনকে জেরার জন্য আরো দুই দিন সময় বাড়ানো হয়েছে। আজ তার জেরা শেষ হবার জন্য নির্ধারিত ছিল। কিন্তু  অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম স্বাস্থ্যগত কারণ  দেখিয়ে  একটার পর আর জেরা করতে অপরাগতা প্রকাশ করেন এবং জেরার আরো কিছু বিষয় বাকী থাকায় আরো কিছু সময় চান। এ প্রেক্ষিতে এবং নতুন আরেক সাক্ষীর জবানবন্দী সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করার কারনে আগামী রবি  এবং সোমবার আরো দুই দিন জেরার জন্য সময় বাড়িয় দেয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল এ বিষয়ক আদেশে বলেছেন এরপর আর সময় বাড়ানো হবেনা।

সকালে তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনকে জেরা করেন অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম। তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট মনজুর আহমদ আনসারী, আবু বকর সিদ্দিক।

জেরা  (সংক্ষিপ্ত) :
প্রশ্ন : পিরোজপুরের যেসব সাক্ষী অনুপস্থিত তাদের কারো বাড়িতেই আপনি প্রসেস (সমন) নিয়ে যাননি।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : কার কার বাড়ি গিয়েছিলেন তাহলে?
উত্তর : নাম বলতে পারছিনা। তবে সাক্ষীদের হাজির করার কিছু প্রসেস (সমন) আমার কাছে ছিল।
প্রশ্ন : আসামীর পক্ষাবলম্বনকারী অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গ্রুপ কর্তৃক বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি এবং ভয়ভীতির কারনে ৬ হতে ১৯ নং সাক্ষী আত্মগেপান করেছে বিধায় তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা বলে উল্লেখ করা হয়েছে ৪৬ সাক্ষী  বিষয়ক দরখাস্তে।  সাঈদীর পক্ষের সন্ত্রাসীরা  অস্ত্র নিয়ে বাড়ি  বাড়ি গিয়ে হুমকি দিয়েছে এটি দেখেছে এমন কতজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী পেয়েছেন?
উত্তর : ১৫/১৬ জন সাক্ষী আছে। তবে ঐ মুহুর্তে তাদের হাতে অস্ত্র ছিলনা। তবে তারা চিহ্নিত স্থানীয় অস্ত্রধারী লোক  এবং ডাকাত বলে পরিচিত।
প্রশ্ন : এই ১৫/১৬ জন  ব্যক্তির পরিচয় সংশ্লিষ্ট থানায় লিপিবদ্ধ আছে?
উত্তর : জানা নেই।
প্রশ্ন : সাক্ষীদের এই ভয়ভীতি দেখানোর বিষয়ে থানায় কোন অভিযোগ হয়েছে?
উত্তর : হয়েছে।
প্রশ্ন : ডাকাত শামীম বাদে অন্য সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনার জন্য কি কি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে সে বিষয়ে থানা থেকে আপনি কোন প্রতিবেদন সংগ্রহ করেছেন?
উত্তর : আমি তদন্ত সংস্থার কোঅর্ডিনেটর বরাবর লিখিতভাবে আবেদন করেছি ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য। । এ প্রেক্ষিতে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল তা আমার জানা নেই।
প্রশ্ন : দরখাস্তে বর্নিত অনুপস্থিত ৪৬ সাক্ষী হাজির করা সম্ভব হবেনা মর্মে আপনি কোন প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের (রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীবৃন্দ) কাছে দাখিল করেন নাই।
উত্তর : ১৭ এবং ১৯ মার্চের ওই দুটি প্রতিবেদন বাদে অন্য কোন প্রতিবেদন আমি  দেইনি।

আজ  মাওলানা সাঈদীর পক্ষে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক, অ্যাডভোকেট  গিয়াসউদ্দিন আহমেদ মিঠু, অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, ব্যারিস্টার তানভির আহমেদ আল আমিন, মো: তারিকুল ইসলাম প্রমুখ

ছবি রায় ভানু সাহার বোন?

মেহেদী হাসান, ৭.৮.২০১২, মঙ্গলবার
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় সাক্ষী রুহুল আমিন নবিন গত ৮ ডিসেম্বর জবানবন্দী প্রদানের সময় বলেছিলেন শান্তি কমিটি ও রাজাকার সদস্যরা পাকিস্তান  আর্মিদের নিয়ে পারেরহাট বাজারের ছবি রায় ও   ভানু সাহাকে  ধর্ষণ করে।

আজ তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনকে জেরার সময় মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী মিজানুল ইসলাম  ছবি রায় বিষয়ে প্রশ্ন করেন। অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম প্রশ্ন করেন “ছবি রায়  নামে কাউকে কি তদন্তের সময় আপনি খুঁজে পেয়েছিলেন?”
জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, “ছবি রায় বিপদ  বিপদ সাহার মেয়ে। বর্তমানে সে ভারতে আছে।”
এরপর মিজানুল ইসলাম তাকে প্রশ্ন করেন, “ছবি রায় কি ভানু সাহার বড় না ছোট?”
জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন  এ বিষয়ে তার নোটে তথ্য নেই।
মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী মিজানুল ইসলাম  দৈনিক নয়া দিগন্তের সাংবাদিক হিসেবে আমাকে   জানান, বাস্তবে ছবি রায়  বিপদ সাহার মেয়ে নয়  এবং  ভানু সাহারও বোন নয়। ছবি রায় নামে তারা তদন্তের সময় কোন ভুক্তভোগীর  অস্তিত্ব খুঁজে পাননি। ছবি রায় পিবদ সাহার মেয়ে  বলে তদন্ত কর্মকর্তা যে উত্তর দিয়েছেন তা একদম সঠিক নয়। সম্পূর্ণ ফলস কথা। ছবি রায় যে ভানু সাহার বোন নয়  তা তাদের নাম থেকেও স্পষ্ট। ভানুর নামের শেষে যুক্ত আছে ‘সাহা’। আর ছবির নামের শেষে যুক্ত আছে ‘রায়’।  মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী জানান, তাদের প্রাপ্ত তথ্য মতে  ভানু সাহারা পাঁচ ভাই এবং পাঁচ বোন।    ভানু সাহার পাঁচ ভাই হলেন, ননী সাহা, দুলাল সাহা, দিলীপ সাহা, রাম সাহা এবং নিতাই সাহা। পাঁচ বোনদের  নাম হল আঙ্গুরা সাহা, গৌরী সাহা, ভানু সাহা, গীতা সাহা এবং বেলা সাহা।  ছবি রায় নামে তারা ভানু সাহার কোন বোনের অস্তিত্ব পাননি।  অথচ তদন্ত কর্মকর্তা বললেন  ছবি রায় বিপদ সাহার মেয়ে।

(মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে বর্তমানে যে বিচার চলছে তাতে ভানু সাহা একটি আলোচিত  নাম।  সে পারেরহাট বাজারে বিপদ সাহার মেয়ে। ১৯৭১ সালে সে পাকিস্তান সেনাবাহিনী এবং রাজাকার কর্তৃক নিয়মিত ধর্ষনের স্বীকার হয় বলে সাক্ষীরা সাক্ষ্য দিয়েছেন।  ভানু সাহা বর্তমানে ভারতে রয়েছেন।)

আজ তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরায় অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলামকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট মনজুর আহমদ আনসারী,  ব্যারিস্টার তানভির আহমেদ আল আমিন, আবু বকর সিদ্দিক প্রমুখ।

জেরা  (সংক্ষিপ্ত) :
প্রশ্ন : মাসিমপুর সবচেয়ে পুরনো বাস মালিক কে তার খোঁজ নিয়েছিলেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে পিরোজপুরে কোন বাস স্ট্যান্ড ছিলনা।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে পিরোজপুরে বাস ট্রাক পরিবহনের জন্য কোন ফেরি সার্ভিস ছিল কি-না সে বিষয়ে জেলা প্রশাসন বা বিআইডব্লিউটিএ’র কাছে খোঁজ নিয়েছিলেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : আমি বলছি এরশাদের আমলে এবং সাঈদী সাহেবের দ্বিতীয়বার এমপি থাকা অবস্থায় পিরোজপুরে বাস স্ট্যান্ড স্থাপন করা হয়।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : এসডিপিও ফয়জুর রহমানকে ডেকে নিয়ে যাবার পর সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে কোথায় বৈঠক হয়?
উত্তর : তাকে সরকারি কাজে যোগদানের জন্য বলা হলে তিনি অফিসে আসেন। সেখান থেকে তাকে আটক করে নিয়ে যায় এবং বলেশ্বর নদীর তীরে হত্যা করা হয়।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে এসপিও অফিসে যারা কর্মরত ছিলেন তাদের বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়েছেন?
উত্তর : নিয়েছি।
প্রশ্ন : এসডিও আব্দুর রাজ্জাককে হত্যার পর তার পদে কাকে বসানো হয়?
উত্তর : নোটে নেই।
প্রশ্ন : এসডিপিও অফিস, ইন্দুরকানী এবং পিরোজপুর সদর থানার কেউ বেঁচে আছে কি-না খোঁজ নিয়েছেন?
উত্তর : পিরোজপুর থানার ওসির বিষয়ে খোঁজ নিয়েছি। শুনেছি সে মারা গেছে। অন্য কারো বিষয়ে খোঁজ নেইনি।
প্রশ্ন : ছবি রায় নামে কাউকে খুঁজে পেয়েছেন?
উত্তর : সে বিপদ সাহার মেয়ে।  ভারতে আছে।
প্রশ্ন : ছবি রায় ভানু সাহার বড় না ছোট?
উত্তর : নোটে নেই।

ক্ষতিগ্রস্তের বাড়ি না গিয়েও তদন্ত কর্মকর্তা বললেন গিয়েছি

মেহেদী হাসান, ৫.৮.২০১২, রোববার
ক্ষতিগ্রস্তের বাড়িতে তদন্তের সময় না গিয়েও তদন্ত কর্মকর্তা হেলালউদ্দিন জেরার  সময় এক পশ্নের জবাবে বললেন তিনি ওই বাড়িতে গিয়েছেন। পরে ট্রাইব্যুনাল বিষয়টি পর্যালোচনা করলে দেখা যায় তিনি ওই বাড়িতে যাননি।

মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষী সমর মিস্ত্রী, সুমতি রানী এবং আশিষ কুমার মন্ডল তদন্ত কর্মকর্তার কাছে প্রদত্ত জবানবন্দীতে বলেছেন  মনিন্দ্র মিস্তির বাড়ি  ১৯৭১ সালে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়। আজ  তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনকে জেরারয় সময়  মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী  মিজানুল ইসলাম প্রশ্ন করেন “আপনি কি  তদন্তকালে মনিন্দ্র মিস্ত্রির বাড়ি গিয়েছিলেন?”। তদন্ত কর্মকর্তা “গিয়েছি” বলে জবাব দেন।  তিনি কবে সে বাড়িতে যান, কত সময় থাকেন তাও জানান।  কিন্তু অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম এ বিষয়ে  বিস্তারিত তথ্য চাওয়ায় এবং   ট্রাইব্যুনাল বিষয়টি  পর্যালোচনা করলে দেখা যায়  তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন মনিন্দ্র মিস্ত্রীর বাড়ি যাননি।

জেরার সময় মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী মিজানুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রশ্ন করেন “আপনি  মনিন্দ্রের বাড়ি গেছেন?”
হ্যা।
কাকে পেলেন সে বাড়িতে?
কাউকে পাইনি।
কত তারিখ সে বাড়িতে গেলেন?
২৯/৯/২০১০ তারিখ। বিকাল তিনটা থেকে সোয়া চারটা পর্যন্ত ছিলাম।

এরপর মিজানুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জানতে চান ঐ বাড়িতে তিনি যে গেছেন সে মর্মে তার নোটে কি লেখা আছে তা জানানোর জন্য। তদন্ত কর্মকর্তা বলেন,  নোটে তেমন কিছু লেখা নেই এ বিষয়ে।  মিজানুল ইসলাম  আবেদন জানান হয় তাদের  না হয় ট্রাইব্যুনালকে  সে নোট  দেখানোর জন্য। এরপর ট্রাইব্যুনাল তার কাছ থেকে নোট নিয়ে পড়েন।  পর্যালোচনা করে ট্রাইব্যুনাল বলেন, তিনি আশিষ কুমার মন্ডল, সুমতী রানী এবং সমর মিস্ত্রির বাড়ি গেছেন সে বিষয়ে  লেখা আছে। মনিন্দ্রের বাড়ি  যাওয়ার  বিষয়ে  লেখা নেই।
এরপর কোর্ট সিদ্ধান্ত দেন   মনিন্দ্রের বাড়িতে যাওয়া বিষয়ে যে প্রশ্নগুলো করা হয়েছে তা বাদ দেয়ার। তিনি  মনিন্দ্রের বাড়ি যাননি  মর্মে উত্তরটি রেকর্ড করা হয়।

জেরায় মিজানুল ইসলামকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট মনজুর আহমদ আনসারী,  আবু বকর সিদ্দিক প্রমুখ। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট  গিয়াসউদ্দিন আহমেদ মিঠ, নজির আহমদ হোসাইনি।

তদন্ত কর্মকর্তার জেরা ৮ আগস্টের মধ্যে শেষ করতে হবে

মেহেদী হাসান, ২/৮/২০১২
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে  তদন্ত কর্মকর্তার জেরা শেষ করার জন্য সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে।  আগামী  আট আগস্ট বুধবারের মধ্যে জেরা শেষ করতে হবে।
১৯৭১ সালে যুদ্ধাপরাধ তথা মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারের লক্ষ্যে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ  ট্রাইব্যুনাল-১ আজ এ আদেশ দিয়েছেন। 

আদেশ পাশের পূর্বে ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, তদন্ত কর্মকর্তার জেরা শেষ না  করে অন্য কোন মামলার বিচার কার্যক্রম চালানো হবেনা। সময় বেঁধে না দেয়ার জন্য  মাওলানা সাঈদীর পক্ষের আইনজীবীরা অনুরোধ জানানো হয়েছিল।

সময় বেঁধে দেয়া সম্পর্কিত আদেশে ট্রাইব্যুনাল বলেন, আমরা বলেছিলাম মিজানুল ইসলামকে আজকের মধ্যে জেরা শেষ করার জন্য। তিনি আরো সময় চেয়েছেন। ৪০ দিনেরও  বেশি তদন্ত কর্মকর্তা কাঠগড়ায় রয়েছেন। মাঝে  মাঝে মনে হয়েছে তিনি কান্ত। মিজানুল ইসলামকেও কান্ত মনে হয়েছে।  তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা বেশ ভালভাবে এগিয়েছে। সময় বেঁধে দেয়া পদ্ধতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন এড়ানো সম্ভব । আমরা মনে করি ন্যায় বিচারের স্বার্থে সময় বেঁধে দেয়া দরকার। কিন্তু কোন পক্ষ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেটিও আমরা দেখব। তাই আগামী ৮ আগস্টের মধ্যে আমরা আসামী পক্ষকে  তদন্ত কর্মকর্তার জেরা শেষ করার জন্য নির্দেশ দিচ্ছি।

আদেশের পূর্বে কথপোকথন:
মাওলানা সাঈদীর পক্ষে অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম সময় বেঁধে না দেয়ার জন্য এবং জেরার জন্য আরো সময় প্রার্থনা করে বলেন আগামী  ৫ আগস্ট রোববার মাওলানা নিজামী সাহেবের মামলা আছে। তখন বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, তদন্ত কর্মকর্তার জেরা শেষ না করে অন্য কোন মামলা ধরা হবেনা। এটা আগে  শেষ করতে হবে। তারপর অন্য মামলা।
আগামী ৫ আগস্ট রোববার মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, ৬ আগস্ট  সোমবার অধ্যাপক গোলাম আযম  এবং ৭ আগস্ট মঙ্গলবার সালাহউদ্দিন  কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহনের জন্য নির্ধারিত ছিল।

আজ   দিনব্যাপী তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনের জেরা চলে। বিকাল তিনটার  অল্প পূর্বে বিচারপতি নিজামুল হক  মাওলানা সাঈদীর আইনজীবীর প্রতি লক্ষ্য করে বলন, আজ বলেছিলাম তদন্ত কর্মকর্তার জেরা শেষ করার জন্য।  সময় বেঁধে দেয়ার জন্য আজ একটা আদেশ দেই।

তখন মিজানুল ইসলাম অনুরোধ করেন সময় বেঁধে দিয়ে আদেশ না দেয়ার  জন্য।
বিচারপতি নিজামুল হক  বলেন, সময় বেঁধে না দিলেতো শেষ করতে পারছিনা।
মিজানুল ইসলাম বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা পূর্ণ আট দিন জবানবন্দী দিয়েছেন। ২৭ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। ১৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দী তাদের অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।  ১৪টি বই জমা দিয়েছে যার একটিতেও মাওলানা সাঈদীর নাম নেই। ১২শ পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট জমা দেয়া হয়েছে আসামীর বিরুদ্ধে। সাধারনত একটি অভিযোগের বিষয়ে  তদন্ত কর্মকর্তাকে তিন/চারদিন জেরা করা হয়। এখানে সাঈদী সাহেবের বিরুদ্ধে ২০টি অভিযোগ আনা হয়েছে।
দিন হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তার মোট ৪২ দিন জেরা হয়েছে। কিন্তু  পূর্ন  ৪২ দিন জেরা হয়নি। সব দিন একটানা জেরা হয়নি। তারপরও মোট যে জেরা হয়েছে তার ২৫ ভাগ সময় ব্যায় হয়েছে ওনার উত্তর খোঁজা এবং অন্যান্য বিষয়ের কারনে । আমাদের কারনে  সময় নষ্ট হয়নি। 

বিচারপতি নিজামুল হক  বলেন, পত্রপত্রিকায় লিখেছে আজ জেরা শেষ হবার কথা রয়েছে। আমাদের মর্যাদা এবং সম্মান রক্ষায় আজ একটা আদেশ দেয়া দরকার। তা না হলে বলা হবে আমরা শুধু মুখে বলি। কাজে করিনা। এই বদনাম থেকে বাঁচতে চাই।

এ পর্যাায়ে   আসামী পক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক দাড়িয়ে আদেশ পাশ না করার জন্য অনুরোধ করলে  বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, আমরা এদেশে একটা নতুন পদ্ধতি চালু করতে চাই সময় বেঁধে দেয়ার ব্যাপারে। আমরা বিচার ব্যবস্থায় এটা চালু করতে চাই। এ সুযোগটা আমাদের দেন। আমরা একটা নতুন জিনিস চালু করি।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ হায়দার আলী আদেশ পাশের জন্য ট্রাইব্যুনালের প্রতি অনুরোধ করেন।

সাঈদীর বিরুদ্ধে ৩১ সাক্ষী বিষয়ে কোন প্রশ্ন করা যাবেনা-ট্রাইব্যুনাল

মেহেদী হাসান, ১/৮/২০১২,
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে ৩১ জন সাক্ষী বিষয়ে  জেরায় তদন্ত কর্মকর্তাকে কোন প্রশ্ন করা যাবেনা বলে জানিয়ে দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল (১)।

মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে ৪৬ জন সাক্ষী  তদন্ত কর্মকর্তার কাছে যে জবানবন্দী প্রদান করেন তা তাদের অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহনের জন্য গত ২০ মার্চ   রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের পক্ষ থেকে আবেদন  করা হয়। ট্রাইব্যুনাল তাদের মধ্য থেকে ১৫ জনের জবানবন্দী  সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে আদেশ দেন গত ২৯ মার্চ। বাকী ৩১ জনের জবানবন্দী আদালত গ্রহণ করেননি। এই ৩১ জন  সাক্ষী বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার সময়  কোন প্রশ্ন করা যাবেনা বলে  ট্রাইব্যুনাল সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।

জেরার সময় ১৫ জন সাক্ষীর বাইরে  তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রশ্ন করা হলে ট্রাইব্যুনাল এ সিদ্ধান্ত জানান। এ সময়  ট্রাইব্যুনালে আসামী পক্ষের আইনজীবীদের সাথে  উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের ঘটনা ঘটে।

আজ   বিকাল আড়াইটার দিকে মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী মিজানুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার সময় ছারছিনা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. শরাফত আলী এবং  আরেক সাক্ষী আব্দুর রাজ্জাক বিষয়ে প্রশ্ন করেন। তখন ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, এরা কি ১৫ জন সাক্ষীর মধ্যে না বাইরে? মিজানুল ইসলাম বলেন, ৪৬ জনের মধ্যে এরা আছেন।

তখন ট্রাইব্যুনাল বলেন, ৪৬ জনের মধ্যে ১৫ জন বাদে বাকী ৩১ জনের বিষযে তদন্ত কর্মকর্তাকে কোন প্রশ্ন করা যাবেনা। কোন প্রশ্ন এলাউ করা হবেনা।

অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ৪৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দী তাদের অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহনের আবেদন জানিয়েছেন। ৪৬ জন সাক্ষী হাজির করতে না পারা বিষয়ে তারা অনেক কারণ উল্লেখ করেছেন।  আমরা মনে করি ৪৬ জন সাক্ষী বিষয়ে তারা অনেস্টলি আবেদন করেননি। তারা বলেছেন আসামী পক্ষের লোকজন  সাক্ষীদের বাড়ি  বাড়ি  গিয়ে হুমকি দিয়েছে, ভয়ভীতি দেখিয়েছে। কাজেই ৪৬ জন সাক্ষী বিষয়ে যে দরখাস্ত তারা দিয়েছেন তার প্রতিটি শব্দ বিষয়ে জেরার করার অধিকার আমাদের রয়েছে।

এ পর্যায়ে ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, আমরা ১৫ জনের জবানবন্দী গ্রহণ করেছি। বাকী ৩১ জনের জবানবন্দী গ্রহণ করিনি। কাজেই তাদের জবানবন্দী  বিষয়ে প্রশ্ন করা যাবেনা।
মিজানুল ইসলাম বলেন আমি আপনার সাথে একশভাগ একমত। তাদের জবানবন্দী বিষয়ে আমি একটি প্রশ্নও করবনা।  আমরা  আবেদন বিষয়ে প্রশ্ন করব।

ট্রাইব্যুনাল বলেন,  আমরা  কিন্তু ৪৬ জনের জবানবন্দী গ্রহণ করিনি।  করলে করতে পারতাম। করিনি কারণ বাকীদের বিষয়ে আমরা   সন্তুষ্ট হতে পারিনি। তাছাড়া তাদের এখনো সাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে আনার সুযোগ রয়ে গেছে।
মিজানুল ইসলাম বলেন, আপনারা ১৫ জনের জবানবন্দী সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহনের বিষয়ে   কিন্তু আদেশে একবারও একথা বলেননি যে, বাকীদের বিষয়ে তাদের দাবি মিথ্যা । আমরা বলছি এই আবেদন অনেস্টলি করা হয়নি। সে কারনে আমরা ৪৬ জনের বিষয়ে যে দরখাস্ত তার সব বিষয়ে  জেরা করতে চাই ।
মিজানুল ইসলাম বলেন বাকীদের বিষয়ে প্রশ্ন করার অধিকার  চেয়ে আমরা একটি আবেদন করব।
ট্রাইব্যুনাল বলেন, আবেদন করতে পারেন ।  তবে তা বাতিল হবে।  ১৫ জনের বাইরে   অন্য সাক্ষী বিষয়ে কোন প্রশ্ন করা যাবেনা।
তখন মাওলানা সাঈদীর পক্ষে আইনজীবী তাজুল ইসলাম বলেন, আবদেন করার আগেই তা বাতিল করে দিলেন?

এ পর্যায়ে তাজুল ইসলাম অ্যডভোকেট মিজানুল ইসলামের সাথে পরামর্শ করছিলেন।  ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক তাজুল ইসলামের প্রতি লক্ষ্য করে ক্ষোভের সাথে বলেন মি. তাজুল ইসলাম আপনার একটা কথা আমাদের কানে এসেছে। আমি আপনাকে সতর্ক করে দিচ্ছি ভবিষ্যতে এ ধরনের কথা না বলার জন্য।  সাথে সাথে তাজুল  ইসলাম দাড়িয়ে বলেন, আমি কি বলেছি, আমিতো আমার সহকর্মীর সাথে পরামর্শ করছি।

বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, আপনি কি বলেছেন তা আমি শুনেছি।
তাজুল ইসলাম বলেন, কি শুনেছেন  বলেন তাহলে।
বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, আপনি  আপনার পাশের আইনজীবীকে বলেছেন,  চলেন তাহলে চলে যাই। আপনি একথা  বলতে পারেন?

তাজুল ইসলাম উত্তেজিত হয়ে বলেন, আমি চ্যালেঞ্জ করছি আপনি  ভুল শুনেছেন। আমি একথা বলিনি।
বিচারপতি নিজামুল হক  বলেন, আপনি কি বলেছেন বলেন তাহলে।

তাজুল ইসলাম বলেন, আমি  আমার সহকর্মীকে বলেছি আমাদের প্রশ্ন যদি গ্রহণ না করা হয়  তাহলে এখানে থাকার তো কোন অর্থ হয়না।

বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, এটা কি চলে যাওয়া বোঝায়না?
তাজুল ইসলাম বলেন, আমি আমার পাশের আইনজীবীর সাথে কি বলি বা না বলি সেটা আপনার শোনার কথা নয় (ইউ আর নট সাপোজড টু হেয়ার ইট)। আমারও আপনাদের মধ্যকার অনেক কথাবার্তা শুনি। কিন্তু সেগুলো  শুনিনি বলেই ধরে নেই। এ পর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষের একজন আইনজীবী কিছু একটা বলেন। তখন তাজুল ইসলাম তীব্রস্বরে  তাকে লক্ষ্য করে  বলেন, “ডোন্ট শাউট, ডোন্ট শাউট” ।
তখন বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, আপনি এভাবে তাকে শাউট না করার জন্য বলতে পারেননা। আমরা পারি। আমরা দেখছি মি. তাজুল ইসলাম আপনি শাউট করছেন। এরপর  পরিস্থিতি  শান্ত   হলে বিচার আজকে পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।

আজ তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনকে দিনব্যাপী জেরা করা হয়। জেরায় অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলামকে সহায়তা করেন   তাজুল ইসলাম, মনজুর আহমদ আনসারী, আবু বকর সিদ্দিক প্রমুখ।

মানিক পসারীর মামলায় উল্লেখ নেই মফিজউদ্দিন পসারীর ঘটনা

মেহেদী হাসান, ২৫.৭.২০১২ , বুধবার
মানিক পসারী  ২০০৯ সালে পিরোজপুরে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন  ১৯৭১ সালে তাদের বাড়িতে লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের দায়ে।

এই মানিক পসারী গত বছর ২৭ ডিসেম্বর মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসে জবানবন্দী দিয়েছেন।  জবানবন্দীতে তিনি উল্লেখ করেছেন ঘটনার দিন তাদের বাড়ি থেকে তাদের দুজন কাজের লোক যথা ইব্রাহিমক কুট্টি এবং অপর কাজের লোক মফিজ উদ্দিন পসারী (যিনি তার ফুফাত ভাইও বটে) পাকিস্তান সেনাবাহিনী এবং রাজাকাররা ধরে নিয়ে যায়। ইব্রাহিম কুট্টিকে হত্যা করে ।  মফিজউদ্দিনকে ক্যাম্পে নিয় নির্যাতনের  এক পর্যায়ে সে  পালিয়ে আসে।   কিন্তু মানিক পসারী পিরোজপুরে মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে যে মামলা করেছেন তার এজাহারে কোথাও মফিজউদ্দিনের  নাম করেননি।

মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী মনজুর আহমদ আনসারী ট্রাইব্যুনালে বলেন, ঐ এজাহারে কোথাও মফিজউদ্দিনকে  ঘটনার সাক্ষী করা হয়নি।  তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া, তার ওপর  নির্যাতন করা এসব কিছুই উল্লেখ নাই।

আজ  মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে  তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনকে জেরার সময় এ তথ্য বের হয়ে আসে।

মনজুর আহমদ আনসারী আমাকে বলেন, মানিক পসারীর বাড়ি থেকে লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের দিন ধরে নিয়ে যাওয়া হল মফিজকে।  ঘটনার এতবড় একজন প্রত্যক্ষদর্শীর নাম এজাহারে উল্লেখ নেই এবং তাকে পিরোজপুরের মামলায় সাক্ষীও করা হয়নি। এটা আশ্বর্যের বিষয় নয়কি?  অথচ মফিজ উদ্দিন পসারীও মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে এই  ট্রাইব্যুনালে এসে সাক্ষ্য দিয়েছেন।


মফিজ সম্পর্কে  মানিক পসারী ট্রাইব্যুনালে যা বলেছিলেন:
২০১১ সালেল ২৭ ডিসেম্বর  মঙ্গলবার আদালতে ষষ্ঠ সাক্ষী হিসেবে মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন মানিক পসারী।
মানিক পসারী  বলেন,  ১৯৭১ সালে ১৮ মে পাক সেনাবাহিনী নিয়ে রাজাকার বাহিনী আমাদের বড়িতে প্রবেশ করেন। তাদের দেখে আমার ফুফাত ভাই মফিজ উদ্দিন (  বাড়িতে কাজ করত) পালাতে চেষ্টা করে। তখন দৌড়াইয়া  পাক সেনারা মফিজকে ধরে আনে। বাড়ির  অপর কাজের লোক ইব্রাহিম কুট্টিকেও আর্মিরা ধরে তাদের দুজনকে একই দড়িতে বাঁধে। তারপর ঘরে লুটপাট এবং করে সোনাদানা দেলু শিকদার, সেকেন্দার শিকদার, মোসলেম মাওলানা নিয়ে যায়। লুটের পর দেলোয়ার শিকদারের (একেই বর্তমান সাঈদী হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি)  নেতৃত্বে  রাজাকার বাহিনী ঘরে  কেরোসিন   ছিটায়। তারপর দেলোয়ার শিকদার ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়।  মফিজ ও ইব্রাহিম কুট্টিকে  বেঁধে পারেরহাট নিয়ে যাবার সময় আমি তাদের পেছনে পেছনে যেতে থাকি। তাকে পারের  হাট বাজারের
মধ্যে  ব্রিজের ওপারে নিয়ে গেলে আমি  এপারে বসে তাদের লক্ষ্য করি। দেলোয়ার  হোসেন শিকদারকে আর্মির সাথে পরামর্শ করতে দেখি। তারপর দেলোয়ার হোসেন শিকদার, সেকেন্দার শিকদারের সাথে পরামর্শক্রমে পাক আর্মিরা  ইব্রাহিম কুট্টিকে গুলি করে। ইব্রাহিম চিৎকার মারে। তারপর লাশ নদীতে ফেলে দেয়। এরপর মফিজউদ্দিনকে নিয়ে ক্যাম্পের দিকে যায় । আমি লোকমুখে শুনতে পাই মফিজউদ্দিনের ওপর অত্যাচার নির্যাতন চালাইতেছে। রাত দেড়টা দুইটার দিকে মফিজ ক্যাম্প  থেকে আমাদের বাড়িতে পালিয়ে আসে। তার সমস্ত শরীরে রক্ত এবং পেটানোর দাগ দেখতে পাই।

গত ২৯ ডিসেম্বর আদালতে সাক্ষ্য দেন মফিজউদ্দিন পসারী।  তাকে মানিক পসারীর বাড়ি থেকে ধরে নেয়া, ক্যাম্পে নির্যাতন করা এবং পালিয়ে আসার দীর্ঘ বর্ননা দেন।

মাওলানা সাঈদীর পক্ষে  ৬ আবেদনের চারটি খারিজ
২৯/৭/২০১২
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে ছয়টি  আবেদন করা হয়েছিল। এর মধ্যে চারটি  আজ খারিজ করা হয়েছে। একটি রেকর্ডে রাখা হয়েছে এবং অপর একটি আজ  আদেশ প্রদানের জন্য ধার্য্য করা হয়েছে।

সর্বশেষ বিভিন্ন সময়ে যে ছয়টি আবেদন করা হয়েছিল সেগুলো হল  (১) সেফ হাউজে দায়িত্বরত  পুলিশ কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য, অন্যান্য বেসামরিক স্টাফসহ মোট ৩৮ জনকে কোর্ট সাক্ষী হিসেবে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করার আবেদন। এ আবেদনটি খারিজ না করে রেকর্ডে রাখা হয়েছে।
 (২) সেফ হাউজ ডায়েরিতে পুলিশ সদস্যদেরসহ অন্যান্য  যেসব টেলিফোন নম্বর উল্লেখ রয়েছে  সেসব টেলিফোন নম্বরের কললিস্ট তলব করার আবেদন। অর্থাৎ উল্লেখিত ঐসব নম্বর থেকে  কবে কার নম্বরে ফোন করা হয়েছে তার রেকর্ড তলব করা এবং যাচাই করা। এ আবেদনটি খারিজ  করা  হয়েছে।
(৩) মাওলানা সাঈদীর বিপক্ষে যে ৪৬ জন সাক্ষী আদৌ হাজির করা সম্ভব নয় বলে আবেদন করা হয়েছিল রাষ্ট্রপক্ষ থেকে সেই সাক্ষীদের প্রতি  সমন ইস্যুর তথ্য চেয়ে আবেদন। অর্থাৎ ট্রাইব্যুনালে হাজিরের জন্য কবে কার নামে সমন ইস্যু হয়েছিল সে তথ্য। এটিও খারিজ করা হয়েছে।
(৪) ৪৬ জন সাক্ষীকে হাজির করা সম্ভব  নয় মর্মে তদন্ত কর্মকর্তার পক্ষ থেকে প্রসিকিউশনের কাছে দুটি রিপোর্ট দাখিল করা হয়েছিল। সাক্ষী কেন হাজির করা সম্ভব নয় সে বিষয়ে কারণ বর্ণিত করা হয়েছে এ রিপোর্টে। সেই রিপোর্ট চেয়ে আবেদন করা  হয়েছে।  এ বিষয়ে আজ  আদেশ প্রদান করা হবে।
(৫) মানিক পসারী জিয়াগর থানায় ২০০৯ সালে তাদের বাড়ি লুট বিষয়ে মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে  মামলা দায়ের করেছিল। এছাড়া মাহবুবুল আলম হাওলাদার নামে আরেকজন মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে পিরোজপুর আদালতে মামলা করেছেন। সে মামলা এখনো বিচাররাধীন রয়েছে পিরোজপুরে। একই অভিযোগে একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুই জায়গায় দুটি মামলা চলতে পারেনা। কাজেই যে অভিযোগে পিরোজপুরে দুটি মামলা হয়েছে সে অভিযোগগুলো এখানকার মামলা থেকে বাদ দেয়া হোক। ব্যারিস্টার  আব্দুর রাজ্জাক  ট্রাইব্যুনালে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, এ মামলা দুটি এখানে কে আনল, কারা আনল, কিভাবে আসল সে প্রশ্ন আমাদের। এ আবেদনটিও খারিজ করা হয়েছে।
(৬) যেসব ডকুমেন্ট পূর্বে  আসামী পক্ষকে সরবরাহ করা হয়নি কিন্তু পরে সেগুলো প্রদর্শন করা হয়েছে সেগুলো প্রদর্শনী থেকে বাদ দেয়ার আবেদন।
আবেদনগুলোর ওপর আংশিক শুনানী অনুষ্ঠিত হয়। ব্যারিস্টার  আব্দুর রাজ্জাক শুনানীর আবেদন জানালে ট্রাইব্যুনাল চেয়য়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, শুনানীর দরকার নেই। আপনাদের বক্তব্য তো আবেদনের সাথে আছে। আমরা শুনানীর প্রয়োজন হলে আপনাদের বলব।
তখন ব্যারিস্টার আব্দু রাজ্জাক ৩৮ জন সেফ হাউজের লোকজনকে কোর্ট সাক্ষী হিসেবে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ সংক্রান্ত আবেদন বিষয়ে বলেন, এতবড় একটি আবেদন না শুনেই আদেশ দিয়ে দেবেন? আপনারা  এর আগে আদেশে বলেছিলেন আমারা পরে প্রমানের  সুযোগ পাব। আমরা সে সুযোগ চাচ্ছি। তাদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা  হোক। আমরা এখনই এর প্রমান করতে চাচ্ছি। এর আগে তাদের কয়েকজনকে   ডাকলেন। তাদের রুমে নিলেন। কিন্তু আমরা  তার ফল কি পেলাম?
ট্রাইব্যুনাল বলেন, আপনাদের বা রাষ্ট্রপক্ষের কারো দরখাস্তে কোর্ট সাক্ষী ডাকা হবেনা। আমরা প্রয়োজন  মনে করলে ডাকা হবে। তাদের ডাকার জন্য কারো পক্ষ থেকে দরখাস্তের প্রয়োজন নেই। আমরা একটা জিনিস বুঝেছি আপনারা সেফ হাউজের ওইসব ডকুমেন্টের সত্যতা প্রমান করতে চান। প্রসিকিউশনও চায়।  আমরা বলছি আমরা আপনাদের চেয়ে বেশি সিরিয়াসলি চাচ্ছি কে এটি ঘটিয়েছে তা বের করতে। বিচারপতি নিজামুল হক বলেন কোর্ট সাক্ষী বিষয়ে কোন আদেশ হবেনা।

এরপরও ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক  আবেদনের ওপর শুনানীর অনুরোধ জানালে বিচারপতি নিজামুল হক বলেন,  আপনারা বলতে চাইলে আমরা শুনতে বাধ্য। কিন্তু আমাদের যদি শুনকে বাধ্য করেন তাহলে এরপর আর আবেদন কোর্টে নিয়ে আসা হবেনা।  বিকল্প ব্যবস্থা হবে। এত আবেদন জমা পড়ছে যে, ওই রুল প্রয়োগ করতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা ইচ্ছা করলে চেম্বারে বসে এগুলো বিষয়ে আদেশ দিতে পারতাম। কিন্তু একটা দায়িত্ব নিয়ে কোর্টে নিয়ে এসেছি আবেদনগুলো।  কিন্তু বেশি জোরাজুরি করলে চেম্বারে বসে  আদেশ দেব। ওদিকে চলে যাব।
আবেদন প্রাথমিকভাবে একজন বিচারপতি কর্তৃক  চেম্বারে বসে বাছাই এবং কোর্টে না এনে সেখানেই সুরাহা করার ব্যবস্থা সংবলিত রুল প্রনয়ন করা হয়েছে সম্প্রতি।

আবেদন শুনানীতে আসামী পক্ষে   ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের সাথে আরো যারা উপস্থিত ছিলেন তাদের মধ্যে রয়েছেন মিজানুল ইসলাম, গিয়াস উদ্দিন আহমেদ মিঠু, ব্যারিস্টার তানভির আহমেদ আল আমিন, ব্যারিস্টার এমরান এ সিদ্দিক, ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিক প্রমুখ।


ইব্রাহীম কুট্টির বাড়িতে যাননি তদন্ত কর্মকর্তা

মেহেদী হাসান, ২৩/৭/২০১২, সোমবার
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে  তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন  আজ জেরার সময় বলেছেন তিনি ইব্রাহিম কুট্টির বাড়িতে যাননি তদন্তের সময় ।

মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগে  বর্তমানে বিচার চলছে তার মধ্যে অন্যতম আলোচিত ঘটনা হল ইব্রাহীম কুট্টিকে  হত্যা। মাওলানা সাঈদীর নির্দেশে পাক আর্মি ১৯৭১ সালের ৮ মে পারেরহাট বাজারে ইব্রাহিম কুট্টিকে হত্যা করে বলে দুজন সাক্ষী আদালতে সাক্ষী দিয়েছেন।   মানিক পসারী এবং সুলতান আহমদ হাওলাদার নামে এ দুজন সাক্ষী  নিজেদেরকে ইব্রাহিম হত্যা  ঘটনার চাুস সাক্ষী  হিসেবে  উপস্থাপন করেছেন।
মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী মনজুর আহমদ আনসারী  দৈনিক নয়া দিগন্তকে বলেন, যে ইব্রাহিম কুট্টিকে হত্যা নিয়ে  সাঈদী সাহেবের বিরুদ্ধে এতবড় অভিযোগ সেই ইব্রাহিমের বাড়িতে তিনি তদন্তের সময় যাননি এটি আশ্চর্যের বিষয়।

১৯৭১ সালের ৮ মে পারেরহাট বাজারে নিয়ে ইব্রাহিমকে হত্যার বিষয়ে সাক্ষীরা সাক্ষ্য দিলেও   গত ২৮/১২/২০১২ তারিখে  মাওলানা সাঈদীর আইনজীবীরা   আদালতে  যে তথ্য  প্রমান উপস্থাপন  করেন  তাতে দেখা যায়  ইব্রাহীম কুট্টি পারের হাট বাজারে ৮ মে নিহত হননি। তিনি তার শ্বশুর বাড়িতে  থাকা অবস্থায় ১ অক্টোবর  ১৯৭১ সালে  নিহত হন । দেশ স্বাধীনের পর  পিরোজপুর আদালতে ইব্রাহীম কুট্টির স্ত্রী  মমতাজ বেগম  স্বামীর হত্যার বিচার চেয়ে যে মামলা করেছিলেন ১৯৭২ সালে তার এজহার আদালতে দাখিল করেছেন মাওলানা সাঈদীর আইনজীবীরা। এজহারে  ১৩ জন আসামীর নাম উল্লেখ রয়েছে। শ্বশুর বাড়িতে  হত্যা ঘটনার বিবরন  এবং ঘটনার তারিখ ১ অক্টোবর ১৯৭১ সাল লেখা রয়েছে। মামলার নম্বর ৯। মমতাজ বেগমের দায়ের করা মামলায় ১৩ জন আসামীর মধ্যে মাওলানা  দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর নাম নেই।

ইব্রাহিম কুট্টির স্ত্রীর মমতাজ বেগম ১৯৭২ সালে পিরোজপুরে যে হত্যা মামলা করেন তার এজহারে উল্লেখ  করা হয়েছে ইব্রাহিম কুট্টির বাড়ি বাদুরা। তিনি কিছু হিন্দুদের বাড়িতে আশ্রয় দেয়ার কারনে পাক আর্মি এবং রাজাকারদের রোষানলে পড়েন। সে কারনে জীবন বাঁচাতে  তার স্বামী  ইব্রাহীম কুট্টি তাকে নিয়ে  তার বাপের বাড়ি নল বুনিয়ায় চলে আসেন।  অর্থাৎ ইব্রাহিম কুট্টি  তার শ্বশুর বাড়ি যান স্ত্রীকে নিয়ে।

মমতাজ বেগম  মামলার এজহারে বলেন,   তিনি তার স্বামীকে নিয়ে বাপের বাড়ি থাকা অবস্থায় ১ অক্টোবর ১৯৭১ সালে আসামীরা  তার স্বামী  ইব্রাহীম কুট্টি  এবং ভাই সিরাজকে  গুলি করে হত্যা করে।

মমতাজ বেগম তার স্বামীর হত্যা মামলায় যাদের আসামী করেছেন তারা হলেন, দানেশ মোল্লা,  আতাহার আল, আশ্রাব আলী, আব্দুল মান্নান, আইউব আলী কালাম চৌধুরী, রুহুল আমিন, আব্দুল হাকিম মুন্সি, মমিন উদ্দিন, সেকোন্দার আলী শিকদার, শামসুর রহমান এসআই, মোসলেম মাওলানা।  আসামীদের তালিকায় মাওলানা সাঈদীর নাম নেই। যারা আসামী তাদের প্রায় সকলেই কুখ্যাত রাজাকার এবং পিস কমিটির নেতা ছিল বলে স্বাীকার করেছেন  মাওলানা সাঈদীর  বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আসা সাক্ষীরা।

মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী মিজানুল ইসলাম আজ তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করেন। তাকে সহায়তা করে  অ্যাডভোকেট  মনজুর আহমদ আনসারী, ব্যারিস্টার তানভির আহমেদ আল আমিন,  আবু বকর সিদ্দিক প্রমুখ। 

পাকিস্তান আর্মি বহনকারী ২৬ রিক্সা চালকের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি

মেহেদী হাসান, ২২.৭.২০১২, রোববার
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলার বাদী মাহবুবুল আলম হাওলাদার, দ্বিতীয় সাক্ষী রুহুল আমিন নবীনসহ আরো কয়েক  সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়ে বলেছেন, ১৯৭১ সালের ৭ মে পাকিস্তান আর্মি পারেরহাট বন্দরে  আসে।  ২৬টি রিক্সাযোগে ৫২ জন আর্মি সদস্য পিরোজপুর শহর থেকে পারেরহাট রিক্সা স্ট্যান্ডে  এসে নামে।  তাদেরকে পারেরহাট রিক্সা স্ট্যান্ডে মাওলানা সাঈদীসহ শান্তি কমিটির লোকজন অভ্যর্থনা জানায়।
আজ জেরার সময় তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন জানান ১৯৭১ সালের  ওই ২৬ রিক্সা চালকের কাউকে তিনি খুঁজে পাননি। এমনকি  ১৯৭১ সালে পারেরহাট বাজারে রিক্সা চালাত এমন কাউকেও তিনি খুঁজে পাননি। 
এছাড়া তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে  জবানবন্দী প্রদানের সময় ১৩টি বইয়ের নাম উল্লেখ করেন। কিন্তু তার একটি বইয়েও মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই। এমনকি কোন কোন বই ১৯৭১ সালের অপরাধ সম্পর্কিত নয়।

জেরা (সংক্ষিপ্ত)
প্রশ্ন : গনেশকে হাজিরের সমন নিয়ে পিরোজপুর এসপির কাছে কবে যান? (গনেশ চন্দ্র সাহা ভাগীরথীর ছেলে। । তাকে মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষী করা হয়। যে ১৫ সাক্ষীর জবানবন্দী  তাদেরকে  আদালতে হাজির না করে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয় তাদের মধ্যে গনেশ রয়েছেন। )
উত্তর : মনে নেই।
প্রশ্ন : গনেশের কাছে কবে সমন নিয়ে যান?
উত্তর : স্মরনে নেই।
প্রশ্ন : গনেশকে না পাওয়ার কারণ কি উল্লেখ করেছিলেন?
উত্তর : পাওয়া যাচ্ছেনা।
প্রশ্ন : গণেশকে হাজিরের জন্য একাধিকবার চেষ্টা চালান
উত্তর : হ্য।
প্রশ্ন : কতবার?
উত্তর : কয়বার তা মনে নেই।
প্রশ্ন : শেষবার কবে চেষ্টা চালান?
উত্তর : মনে নেই।
প্রশ্ন : শেষ বারও তাকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি এ মর্মে নোট দিয়েছেন?
উত্তর : তাকে পাওয়া যায়নি ।
প্রশ্ন : গণেশের কর্মস্থলে যাওয়াই হয়নি।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : তার কর্মস্থল কোথায়?
উত্তর : তার বাড়ি এবং আশপাশের এলাকা।
প্রশ্ন : তার বাড়ি কোথায়?
উত্তর : বাগমারা।
প্রশ্ন : বাড়ি কিসের তৈরি?
উত্তর : টিনের।
প্রশ্ন : বাড়িতে কয়টি ঘর?
উত্তর : ২টি।
প্রশ্ন : কতখানি জায়গা নিয়ে?
উত্তর : ৬.৭ বিঘা জমি নিয়ে।
প্রশ্ন : বাড়িতে উল্লেখযোগ্য কি দেখেছেন?
উত্তর : উল্লেখযোগ্য আর কিছু দেখিনি।
প্রশ্ন : গ্রামের মন্ডলদের কাছে তার বিষয়ে খোঁজ নেয়ার জন্য গিয়েছিলেন?
উত্তর : বাড়ির আশ পাশের লোকদের কাছে খোঁজ নিয়েছি।
প্রশ্ন : বাগমারা আপনাকে কে নিয়ে যায়?
উত্তর : থানার এসআই বাদল কৃষ্ণ।
প্রশ্ন : এসআই থানা থেকে বের হওয়া এবং থানায় ফিরে আসার পর যে জিডি এন্ট্রি করেন তা প্রসিকিউশনকে দিয়েছিলেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন গণেশকে হাজির করতে না পারার বিষয়ে যে রিপোর্ট আপনি দাখিল করেছেন তা আপনার মনগড়া, ভুয়া এবং প্রসিকিউশনের নির্দেশমত তৈরি।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : কে এম শফিউল্লাহ একজন সেক্টর কমান্ডার ছিলেন।
উত্তর : (কিছুক্ষন ইতস্ততা করার পর জবাব দেন ‘দেখতে হবে’। তখন  ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক তখন বলেন, এটাও আপনার দেখতে হবে? আপনার তো চাকরি থাকা উচিত নয়।  তদন্ত কর্মকর্তা পরে বলেন, স্যার আমি জানি । একটু নিশ্চিত হওয়ার জন্য ওকথা বলেছি। )
প্রশ্ন : বাংলাদেশ এট ওয়ার,  মুনতাসির মামুনের লেখা বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ ১৯৭১-১৯৭৫, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরোত্তম রচিত স্বাধীনতা ১৯৭১, সালাম আজাদ রচিত কন্ট্রিবিউশন অব ইন্ডিয়া ইন দি লিবারেশন ওয়ার অব বাংলাদেশ, সিদ্দিক সালেক লিখিত উইটনেস টু সারেন্ডার, আমির হোসেন রচিত বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ, রফিকুল ইসলাম বীরোত্তম রচিত লক্ষ প্রানের বিনিময়ে মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১, হাবিবুল আলম লিখিত ব্রেভ অব হার্ট,   বইয়ে  দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই।
উত্তর : নাই।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে পারেরহাটে রিক্সা চালোতো এমন কোন ব্যাক্তি জীবিত আছে কিনা  সে বিষয়ে খোঁজ নিয়েছেন?
উত্তর : খোঁজ খবর নিয়েছি তবে কাউকে পাইনি।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে পিরোজপুর শহরে রিক্সা স্ট্যান্ড কোথায় ছিল তা অনুসন্ধান করেছেন?
উত্তর : অনুসন্ধান করি কিনা তা আমার নোটে না থাকায় বলতে পারছি না।
প্রশ্ন :  ১৯৭১ সালে যে রিক্সা যোগে পাকিস্তান আর্মিরা পিরোজপুর শহর থেকে পারেরহাটে আসে সেই ২৬ জন রিক্সাওয়ালা সম্পর্কে অনুসন্ধান করেছেন?
উত্তর :  আমি তদন্তকালে অনুসন্ধান করেছি, তবে কাউকে পাওয়া যায় নাই।  মাহবুবুল আলম, রুহুল আমীন নবীনসহ আরও অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি, গোপনে তদন্ত করেছি, কারও নাম পাইনি।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে রিক্সা চালাতো এরকম কোন রিক্সা চালক খুজে বের করার জন্য  পারেরহাট বাজার বা রিক্সা স্ট্যান্ডের এবং শহরের কোন রিক্সা চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন?
উত্তর : কয়েকজন রিক্সা চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি কিন্তু কোন রেজাল্ট না পাওয়ায় আমি নোট করি নাই । ফলে  কাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছি  তা বলতে পারছি না।

কয়েকশ মহিলাকে ধর্ষনের অভিযোগ করলেও একজনকেও সাক্ষী করা হয়নি

মেহেদী হাসান, ১৯.৭.২০১২ বৃহষ্পতিবার
মাওলানা  দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন জবানবন্দী প্রদানের সময় বলেছেন  পিরোজপুরে কয়েকশ মহিলাকে ধর্ষন করা হয়।  কিন্তু তাদের একজনকেও তিনি মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষী করেননি এবং জিজ্ঞাসবাদও করেননি  বলে আজ জেরায় স্বীকার করেছেন। 

কয়েকশ মহিলার মধ্যে ২০ জনের নাম বলতে বলায় তদন্ত কর্মকর্তা সাতজনের নাম বলেন। তাদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে আবার ধর্ষনের অভিযোগ নেই।

জেরা : (সংক্ষিপ্ত )
প্রশ্ন : আপনি আপনার জবানবন্দীতে পিরোজপুরে কয়েকশত মহিলাকে ধর্ষনের অভিযোগ করেছেন। তাদের একজনকেও আপনি জিজ্ঞাসাবাদ করেননি এবং তাদের কাউকে সাক্ষীও করেননি ?
উত্তর : না। কারণ পাওয়া যায়নি তাদের।
প্রশ্ন: কয়েকশত মহিলার মধ্যে ২০ জনের নাম বলেন যাদেরকে খুঁজে পাননি?
উত্তর : মহায়মায়া, অন্নরানী, কমলা রানী, ভানু সাহা, ছবি রানী, শেফালী ঘরামি, ভাগীরথী। এদের বাদে আর কারো নাম আমার নোটে নেই।
প্রশ্ন : কোন মুসলিম নারী ধর্ষনের অভিযোগ পাননি?
উত্তর : আমার নোটে নেই।
প্রশ্ন : এই সাতজন মহিলা ছাড়া অন্য কোন নারী ধর্ষনের খবর পেয়েছিলেন  কি-না।
উত্তর : পেয়েছি।
প্রশ্ন : সাঈদী সাহেবের বিরুদ্ধে ধর্ষনের কোন অভিযোগ নেই। ধর্ষনের শীকার যেসব মহিলার নাম আপনি বলেছেন তাদেরকে কোর্টে হাজির করা সম্ভব হবেনা জেনে আপনি তাদের নাম বলেছেন (ধর্ষনের শীকার ঐ মহিলাদের প্রায় সবাই স্বাধীনতার পর ভারতে চলে  গেছে) ।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন :  অধ্যাপক গোলাম আযম, একেএম ইউসুফ বা খানা বাহাদুর সৈয়দ মো: আফজাল শান্তি কমিটি গঠনের নির্দেশনা দিয়ে  সাঈদী সাহেবকে চিঠি দিয়েছেলেন এমন কোন ডকুমেন্ট আপনি জব্দ করেছেন?
উত্তর : কোন নির্দেশনা জব্দ করিনি । তবে পিরোজপুর শান্তি কমিটির চেয়ার‌্যাম ছিলেন খান বাহাদুর সৈয়দ মো: আফজাল । তার কাছে সমস্ত নির্দেশনা যেত। তার মৃত্যুা হওয়ায় আমি কোন নির্দেশনা জব্দ করতে পারিনি।
প্রশ্ন : পিরোজপুর মহকুমার শান্তি কমিটির সেক্রেটারি কে ছিলেন?
উত্তর : আমার নোটে নেই।
প্রশ্ন : পিরোজপুর থানা সভাপতি সেক্রেটারি  কারা ছিলেন?
উত্তর : আমার নোটে নেই।
প্রশ্ন :পিরোজপুর মহকুমা শান্তি কমিটি কয় সদস্য বিশিষ্ট সে তথ্যও আপনার নোটে নেই?
উত্তর : নাই।
প্রশ্ন : একই কথা পিরোজপুর থানা, শহর শান্তি কমিটির বেলায়ও প্রযোজ্য?
উত্তর : হ্যা।
প্রশ্ন : খান বাহাদুর সৈয়দ মো: আফজালকে স্বাধীনতার পর গ্রেফতার করা হয়।
উত্তর : আমার নোটে নেই।
প্রশ্ন : তিনি কোন সালে মারা যান জানা আছে?
উত্তর : আমার নোটে নেই।
প্রশ্ন : আপনি কি কাগজপত্র জব্দ করার জন্য তার বাড়ি গিয়েছিলেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন হুলারহাট গিয়েছিলেন?
উত্তর :  হ্যা।
প্রশ্ন : পাকিস্তান আর্মি  আগমনের বিষয়ে হুলারহাটের কোন প্রত্যক্ষদর্শী পেয়েছিলেন?
উত্তর : প্রত্যক্ষদর্শীর কোন  নাম আমার নোটে নেই।
প্রশ্ন : হুলারহাটের কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন?
উত্তর : না।
এ পর্যায়ে ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক হুলারহাট বিষয়ে এসব প্রশ্নের সাথে অপরাধের অভিযোগের সম্পর্ক কি জানতে চাইলে মিজানুল ইসলাম বলেন,  পারেরহাটের একজন তেল নুন লবন বিক্রেতা হুলারহাটে গিয়ে পাকিস্তান আর্মিকে স্বাগত জানিয়েছেন  বলা হয়েছে। আর এ বিষয়ে আমি প্রশ্ন করবনা?
এরপর এ বিষয়ে আরো কিছু প্রশ্ন করা হয়।
প্রশ্ন : গণেশ চন্দ্র সাহা ভাগীরথী হত্যার প্রত্যক্ষদর্শী নন।
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : ভাগীরথীকে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে টেনে নিয়ে যাবার দূরত্ব কত?
উত্তর : তদন্তে পেয়েছি তাকে পুরো শহরে টেনে হিচড়ে ঘুরিয়ে ভাগীরথী চত্তরে হত্যা করা হয়।
প্রশ্ন : গনেশের বয়স ১৯৭১ সালে কত ছিল?
উত্তর : ৫ বছর।
প্রশ্ন: ওনার জবানবন্দী রেকর্ড করেছেন?
উত্তর : হ্যা।
প্রশ্ন : ভাগীরথীর সন্তান আছে এ তথ্য প্রথম কে কবে দিল?
উত্তর : স্থানীয়ভাবে তদন্তে পেয়েছি। ৫/৪/২০১১ তারিখ।
প্রশ্ন : ঐ তারিখ কোথায় ছিলেন?
উত্তর : পিরোজপুর সার্কিট হাউজে।
প্রশ্ন : ঐ তারিখ   গনেশের সাথে দেখা হয়?
উত্তর : না । পরের দিন।
প্রশ্ন : তাকে সার্কিট হাউজে ডেকে পাঠান না আপনি তার বাড়িতে গিয়েছিলেন?
উত্তর : তাকে ডেকে পাঠানো হয়।
প্রশ্ন :  তার কাকা জীবিত আছে কি-না সে তথ্য পেয়েছিলেন?
উত্তর : আমার নোটে নেই।
প্রশ্ন : গনেশের বয়স ১৯৭১ সালে ৫ বছর ছিল এরকম কোন তথ্য সে দেয়নি। সে বলেছিল তার বয়স ১৯৭১ সালে ছিল  ৩/৪ বছর।  তার জবানবন্দী যা প্রদর্শনী ২৬৮  হিসেবে প্রদর্শন করা হয়েছে তাতে একথা লেখা আছে।
উত্তর :  তিনি বলেছেন ১৯৭১ সালে তার বয়স ৩/৪ বছর ছিল। বর্তমানে তার বয়স অনুমান ৪৫ বছর একথাও বলেছেন।
প্রশ্ন : যে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাগীরথী পাকিস্তানী আর্মিদের বিষয়ে খবর দিয়েছিল এবং  ৫০ জনের মত পাকিস্তানী আর্মি  হত্যা করে সেই মুক্তিযোদ্ধাদের কাউকে আপনি জিজ্ঞাসাবাদ করেননি।
উত্তর : রেকর্ডে নেই। তবে কাউকে সাক্ষী করিনি।
প্রশ্ন : গনেশ তার জবানবন্দীতে বলছে যে, তার মা ভাগীরথীকে মটর সাইকেলে বেধে টেনে হিচড়ে নিয়ে গিয়েছিল।
উত্তর : হ্যা।
প্রশ্ন ভাগীরথীকে বলেশ্বর নদীর ঘাটে গুলি করে হত্যা করা হয় একথাও  গনেশের জবানবন্দীতে উল্লেখ আছে।
উত্তর : হ্যা।

জেরায় প্রশ্ন নিয়  ট্রাইব্যুনাল বিচারপতিদের মধ্যে মতপার্থক্য:
আজ  তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার এক পর্যায়ে ট্রাইব্যুনালের তিনজন বিচারপতির মধ্যে বেশ মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়। একটি  ইস্যুতে বিচারপতি একেএম জহির আহমেদের সাথে ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল এবং সদস্য বিচারপতি আনোয়ারুল হক ভিন্ন মত পোষন করায় এ মতপার্থক্য দেখা দেয়। শেষে বিচারপতি নিজামুল হক এবং আনোয়ারুল হক দুজন একদিকে থাকায় এবং তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় একটি প্রশ্ন জেরা থেকে বাদ দেয়া হয়।

মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী মিজানুল ইসলাম  তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনকে প্রশ্ন করেন “আপনি নিজে গনেশকে হাজিরের জন্য প্রসিকিউশন বরাবর কোন প্রসেস ইস্যুর আবেদন করেছিলেন কি-না।”
তদন্ত কর্মকর্তা জবাব দেন “আমার নোটে নেই” বলে।
তখন বিচারপতি একেএম জহির আহমেদ বলেন, অন্যসব প্রশ্নের মত এটাতেও নোটে নেই বললেতো হবেনা। আপনাকে বলতে হবে আপনি কোন আবেদন করেছিলেন কি-না। ইয়েস অর নো। এটা তো নোটে থাকা না থাকার বিষয় নয়।

এখান থেকে মতপাথ্যর্ক্যরে সূত্রপাত।
মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে যে ১৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দী তাদের অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে তার মধ্যে গণেশ চন্দ্র সাহা রয়েছে।

বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, সাক্ষী পাওয়া যাচ্ছেনা বিষয়ে আপনি (তদন্ত কর্মকর্তা)  রিপোর্ট  দিলেন । তার ওপর ভিত্তি করে প্রসিকিউশন থেকে আবেদন দেয়া হল এবং আমরা একটি অর্ডার দিলাম।
এরপর সাক্ষীকে সমন ইস্যু, সাক্ষী হাজিরের নিয়ম নিয়ে তিনজন বিচারপতির মধ্যে কথপোকথন চলে।
বিচারপতি আনোয়ারুল হকও   এ সংক্রান্ত  বিষয়ে বিচারপতি একেএম জহির আহমেদের সাথে ভিন্ন মত পোষনের কথা প্রকাশ করেন এবং বিচারপতি নিজামুল হককে সমর্থন করেন।

কথপোকথন শেষে বিচারপতি  একেএম জহির আহমেদ তদন্ত কর্মকর্তাকে বলেন আপনি আমার  প্রশ্নের জবাব দেন। আমাকে আপনি কিয়ার করেন।
এরপর তিনি পরপর তিনটি প্রশ্ন করেন।

প্রথম প্রশ্ন : গণেশকে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য উপস্থিক করতে ট্রাইব্যুনালের কোন প্রসেস পেয়েছিলেন কি-না।
উত্তর : হ্যা।
দ্বিতীয় প্রশ্ন : গনেশের বাড়ি গিয়েছিলেন কি-না প্রসেস বাস্তবায়নের জন্য?
উত্তর : হ্যা।
তৃতীয় প্রশ্ন : গনেশকে পাননি সে মর্মে প্রসেস রিপোর্ট লিখিতভাবে ফেরত পাঠিয়েছিলেন কি-না?
উত্তর : ২টি রিপোর্ট দিয়েছিলাম।
প্রশ্ন তিনটি করার পর বিচারপতি একেএম জহির আহমেদ বলেন এগুলো আমার প্রশ্ন হিসেবে যাক। বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, আপনার প্রশ্ন হিসেবে কেন যাবে ।  গেলে ট্রাইব্যুনালের  প্রশ্ন হিসেবে যাবে।
এ পর্যায়ে বিচারপতি নিজামুল হক বেশ ক্ষোভের সাথে বিচারপতি একেএম জহির আহমেদকে বলেন, আপনি দয়া করে অর্ডারটা পড়েনা। আপনি উত্তেজিত হয়ে এমনসব প্রশ্ন করছেন যাতে মনে হয় এ বিষয়ে কোন অর্ডার নেই। তৃতীয় প্রশ্নটি অর্ডার অনুযায়ী হয়নি।

বিচারপতি একেএম জহির আহমেদ বলেন ঠিক আছে তৃতীয় প্রশ্ন বাদ দেয়া হোক।
তখন মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী মিজানুল ইসলাম বলেন, যেহেতু প্রশ্ন রেকর্ড হয়ে গেছে তাই এখন বাদ দিতে হলে আদেশ পাশ করতে হবে। তখন বিচারপতি আনোয়ারুল হক বলেন আমরা বলছি বাদ যাবে।    আদেশ  লাগবে কেন। বিচারপতি নিজামুল হক তখন বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ মত গ্রহণ করা হবে। আমরা বলছি বাদ যাবে। তখন প্রশ্নটি বাদ দেয়া হয়। 

ইব্রাহীম কুট্টি, বিশাবালী হত্যা বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের ডকুমেন্টেই ভিন্ন তথ্য

মেহেদী হাসান, ১৮.৭.২০১২, বুধবার
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের দাখিলকৃত তথ্যে জিয়ানগর উপজেলায় কোন বীরাঙ্গনা নেই বলে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া  ইব্রাহীম কুট্টিকে মানিক পসারীর বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে হত্যার  বিষয়ে ইতোপূর্বে কয়েকজন সাক্ষী সাক্ষ্য   দিলেও রাষ্ট্রপক্ষের দাখিল করা তথ্যেই লেখা রয়েছে তাকে নলবুনিয়া তার  শ্বশুর বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে হত্যা করা হয়।

এমনিভাবে বিশাবালী নামে একজনকে মাওলানা সাঈদীর উপস্থিতিতে উমেদপুরে তার নিজ বাড়িতে গুলি করে হত্যার অভিযোগ রযেছে।  কিন্তু আজ জেরায় দেখা যায়  বলেশ্বর নদীর বেদিতে  নিহত ২৬ জনের যে তালিকা  রয়েছে তার এক নম্বরে রয়েছে বিশাবালির নাম।  বলেশ্বর নদীর বেদিতে নিহত ২৬ জনের  এ তালিকা রাষ্ট্রপক্ষই দাখিল করেছেন ট্রাইব্যুনালে।  গতকাল তদন্ত কর্মকর্তার জেরায় এ তথ্য বের হয়ে আসে। 

রাষ্ট্রপক্ষের দাখিলকৃত যে  ডকুমেন্টে এসব তথ্য উল্লেখ আছে তাতে মামলার বাদী মাহবুবুল আলম হাওলাদারেরও স্বাক্ষর রয়েছে। পিরোজার জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ  এর প্যাডে এবং জেলা কমান্ড স্বাক্ষরিত  একটি তালিকা সংগ্রহ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। তাতে পিরোজপুরের মুক্তিযোদ্ধা, ক্ষতিগ্রস্ত মুক্তিযোদ্ধা, ক্ষয়ক্ষতি, রাজাকার, শান্তি কমিটির  নামের তালিকা এবং তথ্য রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা এ ডকুমেন্টটি ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেছেন। তাতেই বিশাবালী, হত্যা, ইব্রাহীম কুট্টিকে নলবুনিয়া থেকে ধরে  এনে হত্যা এবং পিরোজপুরে কোন বীরাঙ্গনা নেই বলে এসব তথ্য রয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধকালে পিরোজুর মহকুমার তৎকালীন সাবডিভিশনাল  পুলিশ অফিসার (এসডিপিও) শহীদ ফয়জুর রহমানের নিহত হবার ঘটনা বিষয়ে দীর্ঘ জেরা করা হয় তদন্ত কর্মকর্তাকে।  সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের পিতা শহীদ ফয়জুর রহমান হত্যা বিষয়েও মাওলানা সাঈদীর  বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু জেরায় তদন্ত কর্মকর্তা জানান ১৯৭২ সালে ফয়জুর রহমানের স্ত্রী আয়েশা ফয়েজ স্বামী হত্যা বিষয়ে যে মামলা করেছিলেন সে মামলার কোন রেকর্ড তিনি সংগ্রহ করেননি।  এ মামলার নথিপত্র সংগ্রহ করার জন্য তিনি পিরোজপুর কর্তপক্ষের কাছে কোন চিঠিও লেখেনি। তদন্ত কর্মকর্তা  হেলাল উদ্দিন জানান, তদন্তকালে  ফয়জুর রহমানের স্ত্রী এবং তার ছেলে মেয়েদের সাথে দেখা হয়েছিল। আমি ভেবেছিলাম তাদের কাছে এসব  রেকর্ড পাওয়া যাবে।  সে কারনে তিনি চিঠি লেখেনি পিরোজপুর কর্তৃপক্ষের কাছে।

মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগে  বর্তমানে বিচার চলছে তার মধ্যে অন্যতম আলোচিত ঘটনা হল ইব্রাহীম কুট্টিকে  হত্যা। মাওলানা সাঈদীর নির্দেশে পাক আর্মি ১৯৭১ সালের ৮ মে পারেরহাট বাজারে ইব্রাহিম কুট্টিকে হত্যা করে বলে কয়েকজন সাক্ষী সাক্ষী  ট্রাই্যুনালে  সাক্ষী দিয়েছেন।    দুজন সাক্ষী  নিজেদেরকে  ঘটনার চাুস সাক্ষী  হিসেবে  উপস্থাপন করেছেন। কিন্তু  গত ২৮/১২/২০১১  মাওলানা সাঈদীর আইনজীবীরা আদালতে তথ্য প্রমান উপস্থাপন করে দেখিয়েছেন ইব্রাহীম কুট্টি পারের হাট বাজারে ৮ মে নিহত হননি। তিনি তার শ্বশুর বাড়িতে  থাকা অবস্থায় ১
অক্টোবর  ১৯৭১ সালে  নিহত হন । ইব্রাহীম কুট্টির স্ত্রী মমতাজ বেগম দেশ স্বাধীন হবার পর ১৯৭২ সালের ১৬ জুলাই পিরোজপুর  আদালতে ১৩  জনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তাতেই এ তথ্য উল্লেখ আছে। তাতে  ১৩ জন আসামীর মধ্যে মাওলানা  দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর নাম নেই।  ইব্রাহীম কুট্টি হত্যা বিষয়ে আসামী পক্ষের উপস্থপিত এ তথ্যের সাথে গতকাল জেরায় বের হওয়া তথ্যের সাথে মিল রয়েছে।

আজ তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করেন অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম। তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট মনজুর আহমদ আনসারী, ব্যারিস্টার তানভির আহমেদ আল আমিন, আবু বকর সিদ্দিক প্রমুখ।

জেরা (সংক্ষিপ্ত)
প্রশ্ন : জিয়ানগর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মাহবুবুল আলম হাওলাদার স্বাক্ষরিত একটি  তালিকা আপনি    দাখিল করেছেন। এখানে জিয়ানগর উপজেলার তথ্য উপাত্ত আছে।
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : এই তথ্য উপাত্তে ৩ নং ক্রমিকে লেখা আছে জিয়ানগরে কোন বীরাঙ্গনা নেই।
উত্তর : হ্যা আছে।
প্রশ্ন :  তালিকার ৪ নং ক্রমিকে মুক্তিযোদ্ধা এবং যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা আছে। সেখানে মোকাররম হোসেন নামে একজন মুক্তিযোদ্ধার নাম আছে যার বাড়ি পারেরহাট।
উত্তর : হ্যা।
প্রশ্ন : মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জিয়ানগর উপজেলায় অগ্নিসংযোগে কোন হাটবাজার ব্রিজ কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি তা ওই প্রতিবেদনে লেখা আছে।
উত্তর : হ্যা।
প্রশ্ন : জিয়া নগর উপজেলায় আলবদর আল শামস  এর কোন লোক নেই লেখা আছে ।
উত্তর : হ্যা।
প্রশ্ন : বলেশ্বর নদীর বেদিতে গুলি করে হত্যা করা হয় এমন ২৬ জনের নামের তালিকা আছে।
উত্তর : হ্যা।
প্রশ্ন : এ  তালিকায় ১ নং ক্রমিকে বিশাবালী, পিতা ললিত বালী উমেদপুর জিয়ানগর  উল্লেখ আছে।
উত্তর : আছে।
প্রশ্ন : উমেদপুরে পাকিস্তান আর্মি দ্বারা বিশাবালী নামে একাধিক ব্যক্তি নিহত হয়েছে এমন কোন তথ্য পাননি।
উত্তর : না। তবে এই বিশাবালীকেই  তার নিজ বাড়িতে  হত্যা করা হয় । তদন্তে তা পাওয়া গেছে।
প্রশ্ন : এই তালিকার ২৬ নং  ক্রমিকে ইব্রাহীম কুট্টি, পিতা গফুর শেখ উল্লেখ আছে।
উত্তর : হ্যা।
প্রশ্ন : ইব্রাহীম কুট্টির নামের পাশে ঠিকানা কলামে উল্লেখ আছে “ গ্রাম বাদুরা, উপজেলা+জেলা পিরোজপুর। তাকে শ্বশুর বাড়ি  পারেরহাট  নলবুনয়িা থেকে  ধরে এনে পারেরহাট বন্দরে পোলের নিকটস্থ খালের পাড়ে গুলি করে হত্যা করা হয়।
উত্তর : হ্যা। তবে এ ইব্রাহীম কুট্টিকে মানিক পসারীর বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে পারেরহাট থানার ঘাটে নিয়ে হত্যা করা হয়। (তবে বলে জবানবন্দীতে প্রদত্ত বক্তব্য পুনরায় এখানে উল্লেখ বিষয়ে আসামী পক্ষের আপত্তি আছে)।
প্রশ্ন : পিরোজপুর এলাকার রাজাকারদের যে তালিকা আপনি উল্লেখ করেছেন সেখানে  মোসলেম মাওলানা, রাজ্জাকা রাজাকার, সেকেন্দার শিকদার মমিন কারীর নাম নেই।
উত্তর : নেই।
প্রশ্ন : এসডিও আব্দুর রাজ্জাক এবং এসডিপিও ফয়জুর রহমান কে হত্যার পর পিরোজপুরে তাদের দায়িত্ব কে কে নিয়েছিল?
উত্তর : আমার নোটে নেই।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে ৫ মে পর্যন্ত ওসির দায়িত্ব কে পালন করেন?
উত্তর : তোফাজ্জল হোসেন
প্রশ্ন : তিনি চিঠি লিখে এসডিপিও ফয়জুর রহমানকে কাজে যোগদানের জন্য অনুরোধ করেছিলেন।
উত্তর : হ্যা।
প্রশ্ন : এসডিপিও ফয়জুর রহমান সাহেবকে হত্যার পর তার বাড়িও লুটপাট হয়।
উত্তর : হ্যা।
প্রশ্ন : স্বাধীনতার পর এসডিপিও শহীদ ফয়জুর রহমানের স্ত্রী আয়েশা ফয়েজ স্বামী হত্যা বিষয়ে আসামীদের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছিলেন তাও আপনি তদন্তকালে পেয়েছেন।
উত্তর : মামলা করেছিল কিন্তু আমি কোন রেকর্ড পাইনি।
প্রশ্ন : আয়েশা ফয়েজের দায়ের করা এই মামলায় দেলায়ার হোসাইন সাঈদীর নাম নেই। তার নামে কোন অভিযোগও করা হয়নি। এই তথ্যও আপনি আয়েশা ফয়েজ এবং তার  ছেলে ড. জাফর ইকবাল, কন্যা সুফিয়া হায়দারের কাছে পেয়েছিলেন।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : ওনারা যে মামলা করেছিলেন সে মামলার কাগজপত্র সংগ্রহের জন্য পিরোজপুর থানায় কোন চিঠি দিয়েছিলেন?
উত্তর : লিখিত চিঠি দেইনি। তদন্তকালে তালাশ করেছি।
প্রশ্ন : আপনি ওই মামলার জিআর রেজিস্ট্রার পর্যবেক্ষনের জন্য কোর্টে গিয়েছিলেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : মামলার রেকর্ড পাঠানো হয়  এমন সংশ্লিষ্ট সার্কেল অফিস  বা পিরোজপুর এসপি অফিসে চিঠি লিখেছিলেন ১৯৭২ সালে ফয়জুর রহমানের স্ত্রী আয়েশা ফয়েজের মামলর কপি চেয়ে?
উত্তর : না। কারণ বাদী এবং তার ছেলে মেয়েদের সন্ধান আমি পেয়েছিলাম। তাদের কাছে  পাওয়া যাবে বলে মনে করেছিলাম।
উত্তর : আয়েশা ফয়েজের দায়ের করা মামলায় সাঈদী সাহেবের নাম ছিলান বিষয়টি প্রকাশিত হয়ে যাবে সে কারনে আপনি ইচ্ছাকৃতভাবে এই মামলায় আয়েশা ফয়েজকে সাক্ষী করেননি এবং তার ছেলে জাফর ইকবাল, কন্যা সুফিয়া হায়দারকে কোর্টে হাজির করেননি।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : একই কারনে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়টিও আপনি এড়িয়ে গেছেন।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : একই কারনে জিআর রেজিস্ট্রার পর্যবেক্ষনের তথ্যও এড়িয়ে গেছেন।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : প্রশ্ন : তদন্তকালে পিরোজপুরে দালাল আইনে মামলা করা হয়েছে এমন কয়টি মামলার তথ্য পেয়েছেন?
উত্তর : আমার নোটে নেই।
প্রশ্ন : তদন্তকালে আপনি এমন একটি মামলার সন্ধান পেয়েছেন যেখানে পিরোজপুরের ২৭৯ জন স্বাধীনতা বিরোধী আসামীর নাম আছে।
উত্তর : আমার নোটে নেই।
উত্তর : আমি বলছি দালাল আইনে দায়ের করা  কোন মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর নাম না থাকায় ওই মামলার তথ্য আপনি নোটে নেই বলে এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করছেন।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে ১৬ ডিসেম্বরের পর পিরোজপুর  থানায় কতজন স্বাধীনতা বিরোধী গ্রেফতার করা হয় এ মর্মে কোন রিপোর্ট আপনি থানা থেকে চাননি।
উত্তর : না।
প্রশ্ন : এসডিপিও শহীদ ফয়জুর রহমান, এসডিও  শহীদ আব্দুর রাজ্জাক এবং ট্রেজারার শহীদ সাইফ মিজানুর রহামানকে পিরোজপুর শহর থেকে ধরা হয়।
উত্তর : হ্যা।
প্রশ্ন : পাকিস্তান আর্মি কোন তারিখে পিরোজপুর আসে সে মর্মে পিরোজপুর ডিসির কাছ থেকে কোন রিপোর্ট তলব করেছেন?
উত্তর : সুনির্দিষ্টভাবে করেছি কি-না তা আমার নোটে নেই।
প্রশ্ন : হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র বইটি পর্যালোচনা করেছেন?
উত্তর : করেছি।
প্রশ্ন : এই বইয়ে ফয়জুর রহমান হত্যা বিষয়ে তার জামাতা অ্যাডভোকেট আলী হায়দারের একটি পত্র সংযুক্ত আছে।
উত্তর : আমার নোটে নেই।
প্রশ্ন : এই বইয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা আছে এবং তাতে মাহবুবুল আলম হাওলাদারের নাম নেই।
উত্তর :  আমার নোটে নেই।
প্রশ্ন : এই বইয়ে পিরোজপুরের স্বাধীনতা বিরোধীদের নামের  তালিকা আছে  এবং  তাতে সাঈদী সাহেবের নাম নেই।
 উত্তর : নোটে না থাকায় বলতে পারছিনা।
প্রশ্ন : এই বই আদালতে উপস্থাপন করলে সাঈদী সাহেবের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ   মিথ্যা প্রমানিত হবে বিধায় বইটি আপনি  দাখিল করেননি।
উত্তর :  সত্য নয়।
প্রশ্ন : বলেশ্বর নদীর হত্যাকান্ডের সময় কোন প্রত্যক্ষদর্শী ছিল এমন কাউকে পেয়েছেন?
উত্তর : নোটে নেই।
প্রশ্ন : সাইফ মিজানুর রহমান, এসডিও রাজ্জাককে ধরার সময় কোন প্রত্যক্ষদর্শী  ছিল কিনা এবং এমন কাউকে পেয়েছেন কিনা?
উত্তর : নোটে নেই।
প্রশ্ন : যে হাসপাতাল থেকে তাদের ধরা হয়  তার আশপাশে তখনো লোকালয় ছিল এবং এখনো আছে।
উত্তর : হ্যা।
প্রশ্ন : ৭ মে পিরোজপুর শান্তি কমিটি গঠিত হয়।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : “এরপর  মিজানুল ইসলাম রাষ্ট্রপক্ষের দাখিল করা একটি ডকুমেন্ট থেকে  দৈনিক আজাদ পত্রিকার একটি খবর পড়ে শোনান এবং প্রশ্ন করেন) “বরিশাল ৭ মে: নিলিখ পাকিস্তান মুসলিম লীগ ও পূর্ব পাকিস্তানের সাবেক উজির খান মুহম্মদ সৈয়দ আফজাল সাহেবকে সভাপতি করিয়া পিরোজপুর মহকুমা শান্তি কমিটি গঠন করা হইয়াছে”  এ মর্মে একটি খবর প্রকাশিত হয়েছিল। এখানে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর  নাম নেই।
উত্তর : নাই।
প্রশ্ন : পিরোজপুরে রাজাকার বাহিনী গঠন সংক্রান্ত কোন দালিলিক প্রমান আপনার কাছে নেই।
উত্তর : নেই।

তদন্ত কর্মকর্তার জেরা : অবশেষে দেলোয়ার শিকদারের অস্তিত্ব স্বীকার

মেহেদী হাসান, ১৭/৭/২০১২, মঙ্গলবার
অবশেষে দেলোয়ার শিকদার, পিতা রসুল শিকদার নামে  পিরোজপুরে এক রাজাকার থাকার কথা  স্বীকার করলেন তদন্ত কর্মকতা হেলাল উদ্দিন। আজ তাকে জেরার সময় মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী মিজানুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি স্বীকার করেন পিরোজপুরে একটি রাজাকারের  তালিকায় এই নামে এক ব্যক্তি রয়েছে।

অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তাকে  প্রশ্ন করেন ‘আপনি বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ পিরোজপুর জেলা কমান্ড কাউন্সিল থেকে একটি তালিকা সংগ্রহ করেছেন?”
তদন্ত কর্মকর্তা জবাব দেন “জি, তবে প্রদর্শন করিনি”

এরপর মিজানুল ইসলাম তাকে প্রশ্ন করেন “এই তালিকায় রাজাকারের মধ্যে ৪৬ নম্বরে দেলোয়ার শিকদার, পিতা রসুল শিকদার নামে এক ব্যক্তির নাম রয়েছে?”
তদন্ত কর্মকর্তা জবাব দেন “জি” বলে।

এরপর জিয়ানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ থেকে তালিকা সংগ্রহ বিষয়ে আরেকটি প্রশ্ন করায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ হায়দার আলী আপত্তি জানিয়ে বলেন, যা ট্রাইব্যুনালে প্রদর্শন হয়নি তা নিয়ে এভাবে প্রশ্ন করা যায়না। এ নিয়ে দীর্ঘ বিতর্ক হয় ট্রাইব্যুনালে।  বিতর্ক শেষে গতকালের মত বিকাল চারটার পাঁচ মিনিট আগে মাওলানা সাঈদীর বিচার কার্যক্রম মুলতবি   করেন। আজ আবার তার জেরা হবার কথা রয়েছে।
পিরোজপুর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কউন্সিলের কমান্ডার ফজলুল হক সেন্টুর কাছ থেকে তিনি এ তালিকা সংগ্রহ করেছেন বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা।

দেলোয়ার শিকদার প্রসঙ্গ:
এর আগে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে  সাক্ষ্য দিতে আসা  অধিকাংশ সাক্ষীকে মাওলানা সাঈদীর আইনজীবীরা রাজাকার দেলোয়ার শিকদার, পিতা রসুল শিকদার  প্রসঙ্গে প্রশ্ন  করলে তারা দৃঢ়তার সাথে জানিয়েছেন এই নামে  পিরোজপুরে কোন রাজাকার ছিলনা। এই নামের কোন রাজাকারকে তারা চেনেননা।
পূর্বের সাক্ষীরা   বলেছেন,  দেলোয়ার শিকদার নামে তারা যে রাজাকারকে চেনেন তিনি জীবিত আছেন এবং বর্তমানে  তিনি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী নামে পরিচিতি। তার পিতার নাম ইউসুফ সাঈদী। রাজাকার দেলোয়ার শিকদারই স্বাধীনতার পর নাম পরিবর্তন করে সাঈদী নাম ধারন করেছেন বলে তাদের অভিযোগ। এজন্য তারা  আদালতে সাক্ষ্য দেয়ার সময় ‘দেলোয়ার হোসেন শিকদার বর্তমানে সাঈদী’ এভাবে উচ্চারন করেছেন নামটি।
মামলার বাদী মাহবুবুল আলম হাওলাদারও দেলাওয়ার হোসাইন বর্তমানে সাঈদী এভাবে উচ্চারন করেছেন তার নাম।
মিজানুর রহমান তালুকদার নামে একজন সাক্ষী জেরার সময় আদালতে উত্তেজিত  হয়ে বলেছিলেন, সাঈদীর পিতার নামের শেষেও শিকদার আছে । এটাও কি তারা মিথ্যা প্রমান করতে চায়?

মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বর্তমানে যে বিচার চলছে তাতে একটি আলোচিত নাম দেলোয়ার শিকদার। মাওলানা সাঈদীর আইনজীবীদের অভিযোগ- পিরোজপুরে দেলোয়ার শিকদার পিতা রসুল শিকদার নামে কুখ্যাত একজন রাজাকার ছিল।  স্বাধীনতার পর সে গণরোষের শিকার হয়ে মারা যায়।  কুখ্যাত রাজাকার দেলোয়ার শিকদারের  অপকর্মের  দায়ভার চাপানোর চেষ্টা চলছে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ওপর।  মাওলানা সাঈদীর আইনজীবীরা সাক্ষীদের জেরার সময় প্রশ্নের মাধ্যমে আদালতে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন যে, দেলোয়ার শিকদার নামে  ভিন্ন একজন রাজাকার ছিল। তার পিতার নাম  এবং মাওলানা সাঈদীর পিতার নামও আলাদা। এমনকি তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন মাওলানা সাঈদীর দাখিল এবং আলিমের যে সনদ জমা দিয়েছেন তাতেও দেখা যায় ১৯৫৭ সালের দাখিল সনদে মাওলানার নামের শেষে সাঈদী লেখা রয়েছে এবং তার পিতার নামও লেখা আছে ইউসুফ সাঈদী হিসেবে।

অনেক সাক্ষী দেলোয়ার শিকদার নামে রাজাকার থাকার বিষয়টি অস্বীকার করলেও ১ ফেব্রুয়ারি প্রবীণ সাক্ষী মধুসূদন ঘরামী দেলোয়ার শিকদারের কথা স্বীকার করেন।   মাওলানা সাঈদীর আইনজীবীরা রাজাকার দেলোয়ার শিকদারের  পিতৃ পরিচয় (রসুল শিকদার ) সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করে প্রশ্ন  করলে  প্রবীণ সাক্ষী মধুসূদন ঘরামী বলেন,  এই নামে একজন  রাজাকার ছিল। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তার অপকর্মের কারনে মুক্তিযোদ্ধা  এবং এলাকাবাসীর গণরোষের শিকার হয়ে পিরোজপুরে নিহত হয়ে থাকতে পারেন তিনি।

আজ তদন্ত কর্মকর্তা স্বীকার করলেন তার সংগৃহীত ডকুমেন্টেই দেলোয়ার শিকদার, পিতা রসুল শিকদারের অস্তিত্ব রয়েছে।

সাক্ষী করা হয়নি রওশন আলীকে
মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি স্বাধীনতার পর যশোরে রওশন আলীর বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন আত্মগোপনের অংশ হিসেবে।  পরে সেখানেও তার অবস্থান জানাজানি হলে তিনি অন্যত্র পালিয়ে যান।   তদন্ত কর্মকর্তা নিজেসহ বেশ কয়েকজন সাক্ষী তাদের জবানবন্দীতে এ  অভিযোগ করেছেন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেয়ার সময়। মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে চার্জশিটেও এ অভিযোগ রয়েছে। গতকাল জেরার সময় তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন স্বীকার করেন তিনি যশোর রওশন আলীর বাড়িতে গিয়েছিলেন। তার সাথে কথাও বলেন। তার  বাড়ির ভিড়িও চিত্রও তিনি  সাক্ষ্য দেয়ার সময়  আদালতে প্রদর্শন করেছেন। কিন্তু তাকে তিনি মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে কোন সাক্ষী করেননি।
মাওলানা সাঈদীর অপর আইনজীবী মনজুর আহমদ আনসারী বলেন নয়া দিগন্তকে বলেন, যার বাড়িতে মাওলানা সাঈদী  আত্মগোপন করলেন বলে অভিযোগ করলেন, তার বাড়িতে  তদন্ত কর্মকর্তা গেলেন, তিনি  জীবিত আছে কিন্তু তাকে কেন  সাক্ষী করা হলনা সেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আমাদের।

আজ জেরায় মিজানুল ইসলামকে সহায়তা করেন মনজুর  আহমদ আনসারী, গিয়াস উদ্দিন মিঠু, ব্যারিস্টার এহসান সিদ্দিক, শিশির মো: মনির, আবু বকর সিদ্দিক প্রমুখ আইনজীবী।

জেরায় তদন্ত কর্মকর্তার স্বীকার : শেফালী ঘরামী বিষয়ে তার পিতার বাড়িতে কোন খোঁজ নেননি

মেহেদী হাসান, ৮/৭/২০১২
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে  গত ১ ফেব্রুয়ারি  সাক্ষ্য  দেন  ৮১ বছর বয়স্ক মধুসূদন ঘরামী। তিনি  ট্রাইব্যুনালে বলেন, ১৯৭১ সালে রাাজাকার বাহিনীর হাতে তার স্ত্রী  শেফালী ঘরামী ধর্ষনের শিকার হন।  এ ঘটনার পর তার একটি বাচ্চা হলে মানুষের গঞ্জনা সহ্য করতে না পেরে সে ভারতে চলে যায়। এরপর আর  তার সাথে দেখা হয়নি।
মধুসূদন বলেছিলেন “আমি বাড়িতে ছিলামনা। কারা এসেছিল জানিনা। আমার স্ত্রী  আমাকে পরে বলেছে যে, আমাকে (মধুসূদন)  যে মুসলমান বানিয়েছিল সে এসেছিল। তুমি পালাও।”
মধুসূদন ঘরামী জানান, ১৯৭০ সালের আগে তার বড়ভাই মারা যাবার পর তিনি তার মৃত ভায়ের ঘরে ওঠেন। সে ঘরে তার বৌদী থাকত এবং  আজ অবধি তিনি ঐ ঘরে আছেন। তার বৌদী এবং তিনি এক পাকে খান। তার বড় ভাই তার থেকে দুই বছরের  বড় ছিলেন ।

আজ রোববার তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনকে  জেরার সময় মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী মিজানুল ইসলাম মধুসূদন ঘরামীর স্ত্রীকে ধর্ষণ বিষয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন করেন। জেরায় তিনি জানান, শেফালী ঘরামীকে ধর্ষণ  ঘটনার ঠিক আগ মুহুর্তে সে বাড়িতে তার বড় জা উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি এখনো জীবিত আছেন। তাছাড়া শেফাল ঘরামী বিষয়ে তার পিতা বা পিতার  বাড়ির কারো কাছে তিনি কোন খোঁজ খবর নেননি।  ভারতের পুলিশের কাছেও কোন চিঠি পাঠাননি।

তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা: (সংক্ষিপ্ত)
প্রশ্ন: প্রদর্শনী ৩৬ এ উল্লেখিত দঅ’ চিহ্নিত জায়গাটি মধু ঘরামির বাড়ি হিসেবে দেখানো হয়েছে।
উত্তর : হ্যা।
প্রশ্ন :  দঈ’, দউ’, দঊ’ চিহ্নিত বাড়িগুলি যথাক্রমে তরণী শিকদার, হরলাল কর্মকার এবং প্রথমা শিকদারের বাড়ি। উক্ত তিনজনই মৃত বিধায় তাদের আমি জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারি নাই।
উত্তর : হ্যা।
প্রশ্ন : এই তিন পরিবারের মধ্যে তরণী শিকদারের বড়পুত্র কেষ্ট শিকদারকে আপনি জিজ্ঞাসাবাদ বরেছেন?
উত্তর : কেষ্ট শিকদারে সাথে আমি কথা বলেছি, তবে তার বয়স ৪৭ বৎসর হওয়ায় তাকে আমি সাক্ষী করি নাই।
প্রশ্ন : গণেশের বয়স ৪৭ এর কম। কিন্তু তাকে আপনি সাক্ষী করেছেন। (এ পর্যায়ে বিচারপতি একেএম জহির  আহমেদ মিজানুল ইসলামকে লক্ষ্য করে বলেন, কম্পিউটার আপনার কাছে হার মানবে)
উত্তর : গণেশ সাহাকে আমি ০৬-০৪-২০১১ ইং তারিখে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলাম। তখন তার বয়স ছিল ৪৫ বৎসর।
প্রশ্ন : গণেশের মাতার নাম ভাগীরথী। ভাগীরথী বাড়ি থেকে তার নিহত হওয়ার স্থানের দূরত্ব কত?
উত্তর  : সেটা আমার রেকর্ডে না থাকায় বলতে পারছি না।
প্রশ্ন : হরলাল কর্মকার এবং প্রকাশ শিকদারের স্ত্রী ছাড়া দঈ’, দউ’, দঊ’ চিহ্নিত স্থানের মধ্যে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যাদের বয়স ১০ বৎসর বা তার চেয়ে বেশি ছিল এমন কতজনকে পেয়েছিলেন?
উত্তর : তা আমার নোটে না থাকায় বলতে পারছি না।
প্রশ্ন : উল্লেখিত তিনটি বাড়ির আশে পাশে ৬০ বছর উর্দ্ধের একজন পুরুষ লোককেও তদন্তকালে খুঁজে  পাননি?
উত্তর : পেয়েছিলাম কিনা তা আমার নোটে না থাকায় বলতে পারছি না।
প্রশ্ন : মধুসুদন ঘরমীর স্ত্রী সেফালী ঘরামীকে যখন ধর্ষণ করা হয়েছিল তার ঠিক আগ মুহূর্তে মধুসুধন ঘরামীর  বড় ভাই নিকুঞ্জ  ঘরামীর স্ত্রীও ঐ বাড়িতে উপস্থিত ছিল।
উত্তর :  ছিল।
প্রশ্ন : নিকুঞ্জ  ঘরামীর স্ত্রী বর্তমানে ঐ বাড়িতে বসবাস করেন।
উত্তর : হ্যা।
প্রশ্ন :ঐ বাড়িতে মধুসুদন ঘরামী এবং নিকুঞ্জ  ঘরামীর স্ত্রী ছাড়াও আরও লোক বসবাস করতো
উত্তর : সম্পূর্ণ সত্য নয়। তবে নিকুঞ্জ  ঘরামীর কন্যাও বসবাস করে।
প্রশ্ন : মধুসুদন ঘরামীর বর্তমান বাড়ির লাগা পূর্ব দিকে দুটি বাড়ি আছে।
উত্তর : হ্যা।
প্রশ্ন :মধুসুদন ঘরামীর বাড়ির উত্তর দিকে একটি বাগানবাড়ি আছে।  বাড়িটি দলিল লেখক মোহর আলীর ।
উত্তর : মোহর আলীর কিনা তা আমার নোটে না থাকায় বলতে পারছি না।
প্রশ্ন : উল্লেখিত ৩টি বাড়ির কোন সদস্যকে আপনি  তদন্তকালে জিজ্ঞাসাবাদে করি নাই।
উত্তর : করি নাই। কারণ এই বাড়িগুলি নতুন, ১৯৭১ সালে ঐ বাড়িগুলি ছিল না। পরে হয়েছে।
প্রশ্ন : সোবহান এবং সুলতান ১৯৭১ সালের দুই বৎছর আগে থেকেই মধুসুদন ঘরামীর বর্তমান বাড়ির পূর্ব দিকে অবস্থিত উল্লেখিত বাড়ি দুটিতে বসবাস করেন।  তা জানা সত্ত্বেও আপনি  সত্য গোপন করছেন।
উত্তর : সত্য নয়। 
প্রশ্ন : মধুসুদন ঘরামীর শ্বশুর বাড়ি বাগেরহাট জেলার মোড়লগঞ্জ কচুবুনিয়া গ্রামে। মধুসুদন ঘরামীর শ্বশুর শ্রীনাথ শিকদার বা অন্য কাউকে শেফালী ঘরামীর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন? তাদের কোন খোঁজ  খবর নিয়েছেন  বা তাদের গ্রামের অন্য কাউকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করেছেন?
উত্তর : না। 
প্রশ্ন : শেফালী ঘরামীর অবস্থান সম্পর্কে জানার জন্য আপনি ভবানী ভবন, কলিকাতায় কোন চিঠি প্রেরণ  করেছেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : । পশ্চিম বঙ্গের পুলিশ সদর দফতর লালবাজারে কোন চিঠি  দিয়েছেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : দেইনি।
প্রশ্ন :  ১৯৭১ সালে শেফালী ঘরামীর বয়স কত  ছিল?
উত্তর : সে মর্মে আমার রেকর্ডে না থাকায় বলতে পারছি না।
তদন্ত কর্মকর্তা হেলালউদ্দিনকে গতকাল  জেরা করেন অ্যডভোকেট মিজানুল ইসলাম এবং মনজুর  আহমেদ আনছারি। তাদের সহযোগিতা করেন তাজুল ইসলাম, ব্যারিস্টার তানভীর আহমেদ আল আমীন, গিয়াসউদ্দিন মিঠু, হাসানুল বান্নান সোহাগ,  আবু বকর সিদ্দিক প্রমুখ আইনজীবী।

মাওলানা সাঈদীর অবস্থা স্থিতিশীল

১৫/৬/১২
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর শারিরীক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। তিনি বর্তমানে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক  হাসপাতালে করোনারি কেয়ার ইউনিটে ডাক্তারদের নিবিড়  তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।

মাওলানা সাঈদীর তৃতীয় ছেলে মাসুদ সাঈদী গতরাতে এ প্রতিবেদককে ডাক্তারদের বরাত দিয়ে জানান  মাওলানা সাঈদী বর্তমানে শঙ্কামুক্ত। তবে ভয় পুরোপুরি কাটেনি এখনো  কারণ তার  একটি মাইল্ড স্ট্রোক হয়ে গেছে।  কারা কর্তৃপক্ষ তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসায় পরিস্থিত অবনতির দিকে যেতে পারেনি।

মাসুদ সাঈদী জানান, বর্তমানে তাকে পাঁচ দিনের একটি পর্যবেক্ষন কোর্সের অধীনে রাখা হয়েছে। যে মাইল্ড স্ট্রোক হয়েছিল তার ধকল শামলে ওঠার জন্য এ কোর্স   চলছে। ইনজেকশন দেয়া হচ্ছে। আজ শনিবার তার ব্লক  আছে কি-না তা পরীক্ষা করা হবে। চিকিৎসা বিষয়ে করনীয় নির্ধারনে আজ বোর্ড  গঠনের কথা রয়েছে। মাসুদ সাঈদী ডাক্তারকে উদ্ধৃতি দিয়ে  জানান, পাঁচ দিনের কোর্সে মাধ্যমে যদি তিনি  সর্বশেষ মাইল্ড স্ট্রোকের ধাক্কা  কাটিয়ে উঠতে  না পারেন  এবং ব্লক ধরা পড়ে তাহলে এনজিও গ্রামের প্রয়োজন হতে পারে ।
বর্তমানে মাওলানা সাঈদী লে. কর্নেল রেজাউল করিমের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।

মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী বুকে ব্যথা অনুভব করায় গত বৃহষ্পতিবার  রাতে  তাকে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

বড় ছেলে রাফীক বিন সাঈদীর জানাজা নামাজ পড়া শেষে   মতিঝিল বয়েজ স্কুল মাঠ থেকে মাওলানা সাঈদীকে পুনরায় জেলখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।  জেলখানায়  পৌছতে রাত নটা বেজে যায়। এরপর তিনি  বুকে ব্যথা অনুভব করায়  তাকে জেল কর্তৃপক্ষ দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায় জেল কর্তৃপক্ষ।

 

হরতালে চলেনি ট্রাইব্যুনাল

মেহেদী হাসান, ২৯/৪/১২
হরতালের  কারনে আজ ট্রাইব্যুনাল চলেনি। দুটি ট্রাইব্যুনালই বসেছিল সকালে তবে বিচার কার্যক্রম মুলতবী করে মামলার তারিখ পেছানো  হয় হরতালজনিত পরিস্থিতির কারনে। দুটি কোর্টে গতকালের তালিকায় থাকা তিনটি মামলা ৩ মে পর্যন্ত মুলতবির আদেশ দেয়া হয়।

এক নং ট্রাইব্যুনালে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং মাওলানা মতিউর রহমান  নিজামীর মামলার তারিখ ছিল। কিন্তু এ দুজন অভিযুক্তর একজনকেও গতকাল ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়নি। তাছাড়া সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষেও কোন আইনজীবী আজ কোর্টে যাননি। মাওলানা নিজামীর পক্ষে দুজন জুনিয়র আইনজীবী আদালতে উপস্থিত হন।  ফলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা ট্রাইব্যুনালে হাজির থাকলেও বিচার কার্যক্রম চালানো যায়নি।

সকাল সাড়ে দশটার  দিকে  ট্রইব্যুনাল-১ এর  চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক এবং অপর সদস্য আনোয়ারুল হক আদালত কক্ষে প্রবেশ করেন। বিচারপতি একেএম জহির আহমেদ  এর আগের তিনদিন হরতালেও আসেননি এবং গতকালও আসেননি।
আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জেয়াদ আল মালুম বলেন, তিনি  ১০ জন সাক্ষীর তালিকা জমা দিয়েছেন।
গতকাল সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য শুরু করার কথা ছিল। জেয়াদ আল মালুম বলেন, তিনি সূচনা বক্তব্য প্রদানের জন্য প্রস্তুত আছেন।

কিন্তু আসামীকে কোর্টে হাজির না করায় এবং আসামী পক্ষের কোন আইনজীবীও কোর্টে না থাকায় বিচারপতি নিজামুল হক আগামী ৩ মে মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারন করেন। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবীকে সাক্ষীর তালিকা নিয়ে যাবার জন্য অনুরোধ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের বিরোধীতা করে  গতকাল  যুক্তি উপস্থাপনের কথা ছিল  ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের। তারপক্ষে জুনিয়র আইনজীবী গাজী এম এইচ তামিম এবং সাজ্জাদ আলী চৌধুরী ট্রাইব্যুনালকে জানান,  হরতালের কারনে তিনি আজ আসতে পারছেননা।
তখন মাওলানা নিজামীর মামলাও ৩ মে পর্যন্ত মুলতবী করা হয়।

সাঈদী নামে রাবির এক ছাত্রের বিরুদ্ধে করা মামলাও চালানো হয়েছে মাওলানা সাঈদীর নামে

মেহেদী হাসান, ২৬/৪/১২, বৃহষ্পতিবার
রাজশাহীর মতিহার থানায় ২০০৯ সালে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সেই মামলার আসামীর নাম দেলাওয়ার হোসাইন  সাঈদী। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র।  বয়স ২৬। কিন্তু নামের মিল থাকায় রাবির এই ছাত্রের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটিও চালিয়ে দেয়া হয়েছে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর নামে। 

আজ  দ্বিতীয় দিনের মত মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী  মিজানুল ইসলাম জেরা করেন তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনকে। গতকাল জেরার সময় এ তথ্য বের হয়ে আসে।
তদন্ত কর্মকর্তা হেলালউদ্দিন এর আগে জবানবন্দী প্রদানের সময় ট্রাইব্যুনালকে জানিয়েছিলেন  মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে   বিরুদ্ধে সারা দেশের বিভিন্ন থানায় মোট ১৭ টি মামলা রয়েছে। এই ১৭টি মামলার মধ্যে রাজশাহীর মতিহার থানার উক্ত মামলাটিও  অন্তর্ভুক্ত। 

আজ জেরার সময় তদন্ত কর্মকর্তা স্বীকার করেন তিনি মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে যে ১৭টি মামলা থাকার কথা উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে মাত্র দুটি মামলা ছাড়া অন্য ১৫টি মামলার সাথে বর্তমান মামলার কোন সম্পর্ক নেই।
মিজানুল ইসলাম বলেন, মাওলানা সাঈদীকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টতা  না থাকা সত্ত্বেও এসব মামলা সাঈদীর নামে উল্লেখ করেছন।

জেরা:
আইনজীবী :  আসামী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে অত্র মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদনের সাথে  তদন্তের অগ্রগতির প্রতিবেদন দাখিল করেছিলেন আপনি ।  সেই প্রতিবেদনে অন্যান্য মামলার সাথে  উল্লেখিত দুইটি মামলায়ও (পিরোজপুরের দুটি মামলা)  আসামী দেলাওয়ার হোসাইন  সাঈদী গ্রেফতার আছেন মর্মে উল্লেখ  করেছেন।
তদন্ত কর্মকর্তা : হ্যা।
আইনজীবী :  আপনি জবানবন্দীর সময় মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে ১৭টি মামলা থাকার কথা বলেছেন।  ১৭টি মামলার মধ্যে ১নং ক্রমিকে বর্ণিত কদমতলী থানার মামলাটির এজাহারকারী ছিলেন পুলিশ পরিদর্শক মঞ্জুরুল মোর্শেদ এস,বি, ঢাকা ।
তদন্ত কর্মকর্তা : আমার জানা নেই। 
আইনজীবী : কদমতলীর ঐ মামলায় এজাহারকারী কি প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন?
তদন্ত কর্মকর্তা : আমি পিরোজপুরের দুটি মামলা পর্যালোচনা করেছি তদন্তের সময়।  ১৭টি মামলার মধ্যে অন্য মামলা পর্যালোচনা করিনাই ।
আইনজীবী : ঐ ১৭টি মামলায়  সংশ্লিষ্ট অফিসাররা যে রিপোর্ট দিয়েছিলেন আপনি তার সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা করেননি।
তদন্ত কর্মকর্তা : না।
আইনজীবী : ১৭টি মামলার মধ্যে ১৫নং  মামলাটি কোন ধারার বা  কোন আদালতে বিচারাধীন তাহা উল্লেখ করেননি।
তদন্ত কর্মকর্তা : না।
আইনজীবী : ১৩, ১৪ এবং ১৬ নং ক্রমিকের জি.আর মামলাগুলি বাদে  অন্যান্য জি.আর মামলায় আসামী দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর নাম এজাহারে নাই এবং  এখন পর্যন্ত পুলিশ রিপোর্ট দাখিল করা হয়নি। পরবর্তীতে  আসামীকে  ষড়যন্ত্রমূলকভাবে হয়রানি করার জন্য গ্রেফতার দেখানো হইয়াছে  তা জেনেও আপনি সত্য গোপন করছেন।
তদন্ত কর্মকর্তা : সত্য নয়।
আইনজীবী :  উত্তরা থানার মামলার এজাহারে দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী সাহেবের নাম নাই তাকে গ্রেফতার দেখানো হয় নাই এবং পুলিশ রিপোর্টও দাখিল করা হয়নি।  লোকসম্মুখে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য উক্ত মামলার কথা আপনি আসামীর বিরুদ্ধে উল্লেখ করেছেন।
তদন্ত কর্মকর্তা : সত্য নয়।
আইনজীবী :  ১৬ নং মামলাটি দায়ের করা হয়  রাজশাহীর মতিহার থানায়।  মামলা নং-২০ তারিখ ২৫/০৫/২০০৯ইং। এই মামলার আসামীর নাম    দেলাওয়ার হোসাইন  সাঈদী । তিনি   রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র।  তার বয়স ২৬ বছর। এটা জেনেও আপনি মাওলানা সাঈদী সাহেবকে   ঐ মামলার আসামী বলে চালিয়ে দিয়েছেন।
তদন্ত কর্মকর্তা : এই মামলা সম্পর্কে আমার কোন ধারণাও নেই পর্যালোচনাও করিনি।  মামলাটির সূত্রসহ অন্যান্য সূত্র সম্বলিতএকটি প্রতিবেদন মাহবুব হোসেন পি.পি.এম, এডিশনাল ডি.আই.জি (রাজনৈতিক) পক্ষে এডিশনাল আই.জি, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, বাংলাদেশ পুলিশ, ঢাকা এর নিকট হতে প্রাপ্ত হই। সূত্রে উল্লেখিত মামলাগুলি আন্তর্জাতিক অপরাধের কোন ঘটনা নয়, কাজেই ক্রমিক নং-৬ ও ৭ এ বর্নিত মামলা দুটি ছাড়া আমি আর কোন মামলা পর্যালোচনা করি নাই বিধায় মামলার গর্ভে কি আছে তাহা আমার জানা নাই। আমি রাজশাহীর মতিহার থানায় মামলা নং-২০ তারিখ ২৫/০৫/২০০৯ইং সংক্রান্ত প্রতিবেদন আমি দেখি নাই ও পর্যালোচনা করি নাই।

আইনজীবী : তাহলে আপনি এই মামমলা তদন্তকালে মতিহার থানার ঐ মামলার মূল রিপোর্ট দেখেননি এবং পর্যালোচনাও করেননি।
তদন্ত কর্মকর্তা :  হ্যা :
এ পর্যায়ে মতিহার থানার মামলাসহ আরো কিছু মামলার বিষয়বস্তু নিয়ে প্রশ্ন করতে চাইলে ট্রাইব্যুনাল বলেন, যে মামলা তিনি পর্যালোচনা করেননি বলে  স্বীকার করেছেন সে মামলার বিষয়বস্তু নিয়ে প্রশ্ন করা কতটা সঙ্গত এবং তার উত্তরই বা  তিনি কি দেবেনে। এর জবাবে মিজানুল ইসলাম বলেন, আইন অনযায়ী  তদন্ত কর্মকর্তা এসব মামলা পর্যালোচনা করতে বাধ্য। পর্যালোচনা ছাড়া কোন ডকুমেন্ট, কাগজপত্র আদালতে জমা দেয়ার এখতিয়ার তার নেই। তিনি একজন দায়িত্বশীল অফিসার। তিনি যা বলবেন এবং আদালতে জমা দেবেন তা দায়িত্ব নিয়েও করবেন এটাই ধরে নিতে হবে।  তিনি পর্যালোচনা না করে কিভাবে ঐ সব মামলা বিষয়ে জবানবন্দীতে উল্লেখ করলেন। আমার বিবেচনায় তিনি সব মামলাই পর্যালোচনা করছেন কিন্তু এখন সত্য গোপন করছেন।
ট্রাইব্যুনাল বলেন আপনি সেই প্রশ্ন তাকে করতে পারেন যে, আপনি  মামলাগুলোর বিষয়বস্তু জানা সত্ত্বেও সত্য গোপন করছেন।
আইনজীবী :  ১৭টি মামলার মধ্যে ক্রমিক নং-১ এর মামলাটি সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯, ১৫নং ক্রমিকের মামলাটি কর ফাঁকি মামলা ।  ৯, ১০, ১৩ এবং ১৭নং মামলাগুলির কোন ধারায় করা হয়েছে তা আপনি উল্লেখ করেননি এবং জানেনও না।  বাকী  মামলাগুলি সবই দন্ডবিধির মামলা।

তদন্ত কর্মকর্তা : সত্য।
আইনজীবী : ১৭টি মামলার মধ্যে যেগুলো  সি.আর মামলা তা বর্তমান সরকারের আমলে দায়ের করা হয়েছে।  সি.আর মামলাগুলি যারা দায়ের করেছেন তারা  আল্লামা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী সাহেবের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ।
তদন্ত কর্মকর্তা :  সি আর মামলাগুলি বর্তমান সরকারের আমলে দায়ের করা হয়েছে কি-না আমার জানাে  নেই। আর মামলার  বাদী আসামীর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ইহা সত্য নয়।      
এ পর্যন্ত জেরা চলার পর মাওলানা সাঈদীর বিচার ৭ মে পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। মাওলানা সাঈদীর আইনজীবীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এ মুলতবি আদেশ দেন। জেরার সময় মিজানুল ইসলামকে সহায়তা করেন মনজুর আহমদ আনছারী, কফিল উদ্দিন চৌধুরী, ব্যারিস্টার তানভীর আল আমিন, শিশির মনির, শাহজাহান কবির, আবু বকর সিদ্দিক প্রমুখ আইনজীবী।

সংগ্রাম সম্পাদক রিপোর্টারকে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা :
দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদক প্রকাশক আবুল আসাদ এবং  ফেনী সংবাদদাতা  একেএম আব্দুর রহিমকে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমান করা হয়েছে ।  অনাদায়ে ১৫ দিনের কারাভোগ করতে হবে। যুদ্ধাপরাধ বিচারের লক্ষ্যে গঠিত ট্রাইব্যুনাল-১ গতকাল  জরিমানা সংক্রান্ত এ আদেশ প্রদান করেন।  এছাড়া এ দুজনকে গতকাল  কোর্ট চলাকালীন সময় পর্যন্ত কয়েক মিনিটের প্রতিকী দণ্ডভোগের আদেশও দেয়া হয়েছে। আদেশ দেয়ার সাথে সাথেই  তিন বিচারপতি কোর্ট থেকে নেমে যান এবং এর সাথে সাথেই দণ্ডভোগের মেয়াদও শেষ হয়ে যায়।

চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক, বিচারপতি আনোয়ারুল হক এবং বিচারপতি একেএম জহির আহমেদ সমন্বয়ে  গঠিত  তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল প্রথমবারের মত কোন গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার দায়ে শাস্তির আদেশ দিলেন ।

গত ২ এপ্রিল দৈনিক সংগ্রামে প্রকাশিত “পুলিশকে দেয়া জবানবন্দী সাক্ষ্য  হিসেবে গ্রহনের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ফেনীর আইনজীবীগণ” শীর্ষক খবরের  প্রেক্ষিতে গতকাল ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।  আদালত আদেশে বলেছেন খবরটি উচ্চ মাত্রায় আদালত অবমাননাকর ছিল এবং সংগ্রাম সম্পাদক ও সংশ্লিষ্ট রিপোর্টার এর দায় এড়াতে পারেননা। ফেনী বার সমিতির ১০ জন আইনজীবীকে ‘বেনিফিট অব ডাউট’ হিসেবে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে  আদালত অবমাননার শাস্তি থেকে।

দৈনিক সংগ্রামের ২ এপ্রিলের রিপোর্ট এর প্রেক্ষিতে আদালত  ফেনি বারের ১২ জন আইনজীবীসহ সংগ্রাম পত্রিকার সম্পাদক এবং ফেনী সংবাদদাতাকে গত ১৬ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল তলব করেন। ঐদিন আবুল আসাদ নি:শত ক্ষমা প্রার্থনা করেন ট্রাইব্যুনালের কাছে।

ফেনী বারের ১২ জন আইনজীবীর বিবৃতির ওপর ভিত্তি করে  ২ এপ্রিলের  দৈনিক সংগ্রামে প্রকাশিত রিপোর্টে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালকে দলীয় ট্রাইব্যুনাল আখ্যায়িত করা হয়েছে  । বিবৃতিতে আইনজীবীরা বলেন,  “এই ট্রাইব্যুনালে কোন মানুষ ন্যায় বিচার পাবেনা।” বিবৃতিতে  আইনজীবীগন একই সাথে ১৫ জন সাক্ষীর বক্তব্যকে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ না করে তা প্রত্যাখ্যান এবং দলীয় ট্রাইব্যুনাল বাতিল করে বন্দী জামায়াত নেতাদের মুক্তি দাবি  করেছেন। 

১৬ এপ্রিল ফেনী বারের  আইনজীবীগন আদালতে এসে বলেন তারা এ জাতীয় কোন বিবৃতি দেননি। সংগ্রামের ফেনী সংবাদদাতা বলেন তার নাম করে অন্য কেউ  উক্ত রিপোর্ট পত্রিকায় পঠিয়েছেন। সংগ্রাম সম্পাদক বলেন তিনি ঐদিন অফিসে দায়িত্ব পালন করেননি। 

তদন্ত কর্মকর্তার জেরা শুরু : পিরোজপুরের দুটি মামলায় সাঈদীর নামের শেষে ‘শিকদার’ ‘দেলু’ ‘দেইল্লা’ নেই

মেহেদী হাসান, ২৫/৪/১২, বুধবার
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার জেরা আজ শুরু হয়।  জেরায় বের হয়ে এসেছে পিরোজপুরে একই অভিযোগে দায়ের করা দুটি মামলার অভিযোগে কোথাও মাওলানা সাঈদীর নামের শেষে “শিকদার”, “দেলু”  এবং “দেইল্লা” লেখা হয়নি। 
বর্তমান মামলায় একটি অন্যতম আলোচিত বিষয়  হল মাওলানা সাঈদীর  নাম  পূর্বে দেলাওয়ার হোসাইন শিকদার  ছিল। স্বাধীনতার পরে শিকদার বাদ দিয়ে নামের সাথে সাঈদী যোগ করেছেন তিনি।

তদন্ত  কর্মকর্তা হেলালউদ্দিনের জেরা শুরু বিষয়ে মাওলানা সাঈদীর আইনজীবীদের মুলতবি প্রস্তাব বাতিল করে বেলা তিনটার দিকে তার জেরা  শুরু হয়। সংক্ষিপ্ত জেরায় আরো বের হয়ে এসেছে একই অভিযোগে পিরোজপুরে দায়ের করা দুটি মামলা  অনিষ্পন্ন থাকা অবস্থায় বর্তমান মামলা চলছে ট্রাইব্যুনালে।

মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে ২০০৯ সালে পিরোজপুরে দুটি মামলা হয়েছিল ১৯৭১ সালে মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে। সে মামলা দুটি করেছিলেন  মাহবুবুল আলম হাওলাদার এবং মানকি পসারী নামে দুজন ব্যক্তি।  জেরায় বের হয়ে এসেছে উক্ত দুই বাদী তাদের মামলায় ‘মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী’ এভাবে নামটি  লিখেছেন । ঐ মামলার অভিযোগে মাওলানা দেলাওয়ার হোসান সাঈদীর নামের শেষে “শিকদার”, “দেলু” “দেইল্লা” এ জাতীয় কোন শব্দ লেখা নেই।

পিরোজপুরে যে   দুজন ব্যক্তি মামলা করেছিলেন মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে তাদেরই  একজন মাহবুবুল আলম হাওলাদার বর্তমান ট্রাইব্যুনালে মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন।   সে অভিযোগের  ভিত্তিতেই বর্তমানে মাওলানা সাঈদীর বিচার চলছে। কিন্তু যে মাহবুবুল আলম  হাওলাদার  কর্তৃক পিরোজপুরে মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় কোথাও মাওলানা সাঈদীর নামের শেষে শিকদার, দেলু বা দেইল্লা শব্দ  লেখা নেই  সেই একই ব্যক্তির দায়ের করা  অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা চার্জশিটে  এ তিনটি শব্দ লেখা রয়েছে। শুধু তাই নয় পিরোজপুরে মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে দায়ের করা অপর মামলার বাদী মানিক পসারী মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে এসে সাক্ষ্য দিয়েছেন। সে সাক্ষ্যে তিনি মাওলানা সাঈদীকে শিকদার, দেলু দেইল্লা নামে অভিহিত করেন।


অপর দিকে মামলার বাদী মাহবুবুল আলম মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়ার সময় “মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন  বর্তমানে সাঈদী” এভাবে নামটি উচ্চারন করেছেন।
আজ তদন্ত কর্মকর্তা হেলালউদ্দিনকে জেরা করেন মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী মিজানুল ইসলাম। তাকে সহায়তা করেন মনজুর আহমেদ আনছারী, কফিল উদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ।

জেরা:
আইনজীবী : বর্তমান মামলার অভিযোগকারী মোঃ মাহবুবুল আলম হাওলাদার  দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী ও অন্য তিন জনের নামে পিরোজপুরে নালিশী আদালতে ০১/০৮/২০০৯ইং তারিখে একটি নালিশী দরখান্ত দাখিল করেছিলেন।
তদন্ত কর্মকর্তা : জি করেছিলেন।
আইনজীবী :  উক্ত নালিশী দরখাস্তটি পরবর্তিতে জিয়ানগর থানার মামলা নং-৪ তারিখ ০৮/০৯/২০০৯ইং ধারা দন্ডবিধির ৪৩৬/৩৮০/৪২৭/৩০২/৩৪ হিসাবে এজাহার হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা : জি।
আইনজীবী : মামলাটি ও.সি জিয়ানগর থানা রেকর্ড করার পর এস.আই আঃ হাকিম খানের উপর তদন্তভার অর্পন করেন। ঐ মামলায় আসামীর নাম মোঃ দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী হিসেবে উল্লেখ আছে। নামের শেষে “শিকদার” শব্দটি লেখা নাই।
তদন্ত কর্মকর্তা : জি, নামের শেষে শিকদার নেই। সাঈদী লেখা আছে।
আইনজীবী : ঐ মামলার এজাহারে বা  আসামীর নামের কলামে বা অভিযোগের বর্ণনায় আসামী মোঃ দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর নামের সহিত “ওরফে দেলু” বা  ‘ওরফে দেইল্লা” জাতীয়  কোন শব্দ উল্লেখ নাই।
তদন্ত কর্মকর্তা : না নেই।
আইনজীবী : বর্তমান মামলায় ঘটনার তারিখ   ২ জুন ১৯৭১ লেখা হলেও  ২ জুন ছাড়াও অন্যান্য তারিখের ঘটনারও বর্ণনা আছে।
তদন্ত কর্মকর্তা : ২ জুন ১৭৯১ ঘটনার কথা উল্লেখ আছে। এছাড়া অন্যান্য ঘটনার কথা উল্লেখ আছে, তবে সেই সব ঘটনার তারিখ উল্লেখ নাই।
আইনজীবী : উক্ত মামলার অভিযোগের মধ্যে মাহবুব আলম হাওলাদারের বাড়ি লুন্ঠন ও নির্যাতন, বিশাবালীকে হত্যা, উমেদপুরে ২৫টি বাড়ীর মালামাল লুন্ঠন ও অগ্নিসংযোগ, শহিদুল ইসলাম সেলিমের বাড়ী লুন্ঠন, অগ্নিসংযোগ ও নির্যাতন, মানিক পসারীর বাড়ী লুন্ঠন, অগ্নি সংযোগের অভিযোগ আছে।
তদন্ত  কর্মকর্তা : জি আছে।
আইনজীবী : বর্তমান মামলার স্বাক্ষী  মনিক পসারী দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী সহ মোট ৫ জনের বিরুদ্ধে পিরোজপুর নালিশী আদালতে ১২/০৮/২০০৯ইং তারিখে মামলা দায়ের করেছিলেন।
তদন্ত কর্মকর্তা : জি করেছিলেন।
আইনজীবী : নালিশী আদালতের   উক্ত মামলা  পরবর্তীতে পিরোজপুর সদর থানার মামলা নং-৯ তারিখ ১৭/০৮/২০০৯ইং ধারা ৩০২/৩৮০/৪৩৬/৩৪ দন্ডবিধি হিসাবে রেজিষ্ট্রিভূক্ত হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা : হ্যা।
আইনজীবী : ঐ মামলার তদন্তভার কার ওপর দেয়া হয়?
তদন্ত কর্মকর্তা :  এস.আই. আজিম হাওলাদারের উপর ।
আইনজীবী :  উক্ত মামলার ঘটনার তারিখ ০৮ই মে ১৯৭১ইং উল্লেখ আছে।
তদন্ত কর্মকর্তা : সত্য ।
আইনজীবী : উক্ত মামলায় আসামী দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর নামের সাথে  “শিকদার” “দেলু” বা  “দেইল্লা” শব্দ উল্লেখ নাই।
তদন্ত কর্মকর্তা : না,  নাই।
আইনজীবী : উক্ত মামলার অভিযোগের মধ্যে ইব্রাহিম কুট্টি এর হত্যাকান্ড  ও মফিজ উদ্দিনকে অপহরণ এবং  নির্যাতনের কথা উল্লেখ আছে।
তদন্ত কর্মকর্তা :  জি আছে।
আইনজীবী : আপনি এই আদালতে  জবানবন্দী দেয়ার সময়  মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে মোট ১৭টি মামলা থাকার বিবরন দিয়েছিলেন। সেখানে  ১৭টি মামলার মধ্যে মাহবুবুল আলম হাওলাদারের আনিত মামলাটি ক্রমিক নং-৭ এবং মানিক পসারীর কর্তৃক আনিত মামলাটি ক্রমিক নং-৬ এ উল্লেখ  করেছেন।
তদন্ত কর্মকর্তা : হ্যা।
আইনজীবী : আপনি বর্তমান মামলাটি তদন্ত করার সময় পিরোজপুরে মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে দায়ের করা আগের দুটি মামলা  পর্যালোচনা করেছিলেন?
তদন্ত কর্মকর্তা : হ্যা করেছি।
আইনজীবী :  বর্তমান মামলাটি আপনি  তদন্ত করা পর্যন্ত উল্লেখিত দুইটি মামলায় পুলিশ রিপোর্ট দাখিল হইয়াছিল কিনা তা জানা আছে ?
তদন্ত কর্মকর্তা : আমার জানা নেই।
আইনজীবী : বর্তমান মামলাটি তদন্তকালে আসামী দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের কোন থানায় অন্য কোন মামলা তদন্তাধীন আছে কি-না  কিংবা কোন আদালতে তার বিরুদ্ধে কোন মামলা বিচারাধীন আছে কিনা এবং  থাকলে ঐসব মামলার অবস্থা  জানার  জন্য বাংলাদেশের সকল থানায় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট চিঠি পাঠিয়েছিলেন?
তদন্ত কর্মকর্তা : হ্যা:
আইনজীবী :   মাহবুবুল আলম হাওলাদার এবং মানিক পসারী নামে যে দুজন পিরোজপুরে মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলা করেছিল সে মামলা দুটি বিষয়ে কি  তথ্য  পেয়েছিলেন তখন?
তদন্ত কর্মকর্তা : মানিক পসারীর মামলাটি তদন্তাধীন ছিল এবং মাহবুবুল আলম হাওলাদারের আনিত মামলাটি অত্র ট্রাইব্যুনালে প্রেরণের পর ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় তদন্তাধীন আছে মর্মে রিপোর্ট  পাই। আইনজীবী : আপনি  বর্তমান মামলা বিষয়ে যে তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেছেন  যা ফরমাল চার্জের মাধ্যমে মাননীয় ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়েছে তাতে যেসব অভিযোগ রয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে

মাহবুবুল আলম হাওলাদারের বাড়ীতে লুট ও তাার ভাইকে নির্যাতন, বিশাবালী হত্যাকান্ড, উমেদপুরের ২৫টি হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ীতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট, সেলিম খানের বাড়ীতে লুটপাট ও নির্যাতন, মানিক পসারীর বাড়ীতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট, ইব্রাহীম ওরফে কুট্টি এর হত্যাকান্ড এবং মফিজ উদ্দিনকে অপহরণ ও নির্যাতনের ।
 তদন্ত কর্মকর্তা : অন্য আরো অভিযোগ রয়েছে।
এ পর্যন্ত জেরার পর গতকাল ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রম মুলতবী করা হয়। আগামীকাল   আবার জেরা শুরু হবার কথা রয়েছে।
মাওলানা সাঈদীর পক্ষে আজ জেরার সময় অন্যান্য আইনজীবীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক, তাজুল ইসলাম,   ব্যারিস্টার তানভীর আল আমিন, আবু বকর সিদ্দিক, হাসানুল বান্না সোহাগ প্রমুখ। 

আসামী পক্ষের জুনিয়র আইনজীবীদের আটকে রেখে বিচার পরিচালনা ট্রাইব্যুনালে

মেহেদী হাসান, ২৪/৪/২০১২, মঙ্গলবার
গুম হওয়া বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে ফিরিয়ে দেয়ার  দাবীতে আজ দ্বিতীয় দিনের মত সারা দেশে হরতাল চলছে।  হরতালের মধ্যে আসামী পক্ষের জুনিয়র আইনজীবীদের আটকে রেখে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে ট্রাইব্যুনালে। বিচার কার্যক্রম শুরুর পর বেশ কয়েকবার জুনিয়র আইনজীবীরা চলে আসতে চাইলেও তাদেরকে কোর্ট রুম ত্যাগের অনুমতি দেননি আদালত। জুনিয়র এসব আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন তাদেরকে কোর্টরুমে বসে থাকতে বাধ্য করা   হয়েছে।

আজ সকালে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম  শুরু হলে মাওলানা সাঈদীর পক্ষে জুনিয়র আইনজীবী হাসানুল বান্না ট্রাইব্যুনালে দাড়িয়ে বলেন, মাননীয় আদালত  হরতালের কারনে আমরা পায়ে হেটে এসেছি। আমাদের কোন সিনিয়র আইনজীবী আসতে পারেননি।   হরতালে চলাফেরা করায় ঝুকি রয়েছে। গতকাল দুজন মারা গেছে। এ অবস্থায় আমাদের সিনিয়র আইনজীবীগন আমাদের পাঠিয়েছেন তারা আসতে পারবেননা সে কথা জানানোর জন্য।  তাই মাওলানা সাঈদীর  বিচার কার্যক্রম আজ মুলতবি করা হোক।

ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম এসময় বলেন, না, আজ  বিচার কার্যক্রম  শুরু করা হবে। আপনারা সামনে এসে বসেন। দেখেন আমরা কি করি।

এসময় অপর জুনিয়র আইনজীবী সাজ্জাদ আলী চৌধুরী মুলতবি আবেদন ট্রাইব্যুনালের কাছে পেশ করেন। মাওলানা সাঈদীর পক্ষে অন্যান্য জুনিয়র আইনজীবীরাও মুলতবি বিষয়ে  কথা বলেন। এসময় মাওলানা  দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীও কঠগড়ায় দাড়িয়ে আদালতের অনুমতি নিয়ে বেশ কিছুক্ষন কথা বলেন।
এরপর আদালত মুলতবি আবেদন খারিজ করে দিয়ে তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন সাক্ষ্য প্রদান শুরু করার জন্য। তখ:ন সকাল ১০টা ৫৫ মিনিট।
এসময় মাওলানা সাঈদীর পক্ষে জুনিয়র আইনজীবীরা বলেন, যেহেতু আমাদের সিনিয়র আইনজীবী কেউ নেই তাই আমরা তো  কোর্ট এবং আমাদের মক্কেলকে কোন ধরনের সাহায্য করতে পারছিনা। এ অবস্থায় সাক্ষ্য গ্রহণ চললে আসামী প্রিজুুডিস হবেন। তাই তারা আদালতের অনুমিত চান কোর্ট থেকে চলে যাবার জন্য।
বিচারপতি নিজামুল হক এসময় উচ্চস্বরে “নো” বলেন। তিনি তাদের বলেন “টেক ইউর সিট”।

সাক্ষ্য  গ্রহন দুই তিন মিনিট চলার পর আবারো মাওলানা সাঈদীর পক্ষে জুনিয়র আইনজীবীরা দাড়িয়ে  চলে যাবার অনুমতি চান। তখন বিচারপতি নিজামুল হক   আবারো উচ্চস্বরে বলেন, “ইউ শ্যাল নট লিভ দি রুম উইদাউট পারমিশন অব ট্রাইব্যুনাল।”
এভাবে  জুনিয়র আইনজীবীরা পাঁচবার কোর্ট রুম ত্যাগের জন্য উঠে দাড়ান এবং চলে যাবার অনুমিত চান। কিন্তু তাদের কোর্টরুম ত্যাগের অনুমতি দেয়া হয়নি।

মাওলানা সাঈদীর পক্ষে আজ পাঁচজন জুনিয়র আইনজীবী কোর্টে আসেন। তারা হলেন, হাসানুল বান্না সোহাগ, আবু বকর সিদ্দিক, সাজ্জাদ আলী চৌধুরী, আমিনুল হক এবং গাজিী এম এইচ তামীম। এদের মধ্যে মাওলানা সাঈদীর পক্ষে মাত্র দুজন আইনজীবীরা ওকালাত নামা রয়েছে। বাকীরা সিনিয়র আইনজীবীদের সহকারী  হিসেবে ডিফেন্স টিমের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। 

তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য চলাকালে এসব জুনিয়র আইনজীবীগন মাঝে মাঝে চলে যাবার জন্য  বেঞ্চে বসা অবস্থা থেকে দাড়িয়ে থাকেন। সাজ্জাত আলী চৌধুরী  বলেন, মাই লর্ড প্রতিদিন আমরা  ট্রাইব্যুনালে আসি । কিন্তু আজ মনে হচ্ছে জেলখানায় আছি।

আবু বকর সিদ্দিক বলেন, আমাদের কাছে জবানবন্দীর কপি নেই।  সিনিয়রদের কাছে থাকে এসব কপি। তাই যেহেতু আমারা কোর্টকে সহায়তা করতে পারছিনা তাই আমাদের এখানে থাকা এবং না থাকা উভয়ই সমান।
তখন বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, কেন আপনাদের কাছে কপি নেই, কার কাছে থাকে বা না থাকে  সেটা আমাদের দেখার বিষয় নয়। আপনাদের কোর্টরুম লিভ করতে দেয়া হবেনা। আপনারা এসিস্ট করতে পারছেন কি পারছেননা সেটাও আমাদের দেখার বিষয় নয়। আপনারা বসেন। কথা বলবেনা। এসময় বেশ কিছুক্ষন তারা পাঁচজন দাড়িয়ে থাকেন। তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য  গ্রহনও চলতে থাকে।
এসময় হাসানুল বান্না বলেন, অনেক্ষন তো কোর্ট চলল মাই লর্ড এবার মুলতবী করা হোক।
তখন বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, আর একটু বসেন। শেষ করে দেব।
বিচারপতি নিজামুল হক এরপর বলেন, আজ তদন্ত কর্মকর্তার জবাবনবন্দী  কোজ করব। এরপর জেরার জন্য তারিখ দেব। আজই তার জেরা শুরু করতাম। কিন্তু যেহেতু আপনাদের সিনিয়র আইনজীবী নেই তাই আগামীকাল জেরা শুরু করা হবে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের প্রতি লক্ষ্য করে তিনি বলেন, পরবর্তীতে  যদি তদন্ত কর্মকর্তার আরো কিছু যোগ করার থাকে তাহলে আইন অনুযায়ী সে ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু আজই তার জবানবন্দী কোজ করতে হবে।
বিচারপতি নিজামুল হক মাওলানা সাঈদীর জুনিয়র আইনজীবীদের প্রতি বলেন, ভাল হয় তদন্ত কর্মকর্তাকে একটি প্রশ্নের মাধ্যমে আপনারা জেরা শুরু করেন। তারপর মুলতবি করা হবে।  আজ যদি আপনারা একটি প্রশ্নের মাধ্যমে জেরা শুরু করেন তাহলে আর নতুন করে  তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্যে যোগ করার  সুযোগ থাকবেনা। তা না হলে কাল আবার তার বলার সুযোগ  থেকে যাবে।

আবু বকর সিদ্দিক বলেন, সে সুযোগটি তাদের জন্য খোলা থাক এটাই আমার হাম্বল সাবমিশন। আমাদের সিনিয়র আইনজীবীদের উপস্থিতিতেই তার  জবানবন্দী কোজ করা হোক।
বিচারপতি নিজামুল হক তখন বলেন, তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দী আজই কোজ করা হোল। কাল (বুধবার) থেকে জেরা শুরু হবে।
তখন আবু বকর সিদ্দিক বলেন তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দী  কোজ না করা বিষয়ে আমার আবেদনের কি হল।
বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, আপনার আবেদন গ্রহণ করা হলনা। জবাববন্দী আজই কোজ। কাল জেরা শুরু হবে।
তখন  আবু বকর সিদ্দিক  তদন্ত কর্মকর্তার জেরা শুরুর জন্য কমপক্ষে একসপ্তাহ সময় চান।
বিচারপতি নিজামুল হক বলেন,  কাল আপনাদের সিনিয়র আইনজীবীরা আসুক এবং তারাই এসে এ সময়ের আবেদন করুক। তখন দেখা যাবে।

দুপুর ১২টার  একটু পরে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শেষ হলে আবু বকর সিদ্দিক সাংবাদিকদের   বলেন, আমাদেরকে কোর্টরুম ত্যাগের অনুমতি দেয়া হয়নি। আমরা বাধ্য হয়ে বসে ছিলাম। আমরা এসেছিলাম সিনিয়র আইনজীবীরা আসতে পারবেননা সেকথা জানাতে এবং মুলতবী আবেদন দিতে। কিন্তু আমাদের বসিয়ে রেখে তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য নেয়া হল। আমরা  মাননীয় আদালতকে বলেছিলাম যে, আমরা তো কোন এসিস্ট করতে পারছিনা। আমাদের  থাকা এবং না থাকা সমান ।  আমাদের চলে যেতে দেয়া হোক। কিন্তু আমাদের যেতে দেননি কোর্ট।

ট্রাইব্যুনালের কাছ থেকে আমরা এটা  আশা করিনি-মিজানুল ইসলাম:
মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী মিজানুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন,  আদালতের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্যই আমরা আমাদের কয়েকজন জুনিয়র আইনজীবীদের পাঠিয়েছিলাম আমরা আসতে পারছিনা তা জানানোর  জন্য। কিন্তু সিনিয়র আইনজীবীদের অনুপুিস্থতিতে এভাবে তদন্ত  কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণ  অত্যন্ত দু:খজনক, হতাশাব্যঞ্জক এবং ন্যায় বিচারের পরিপন্থী। জুনিয়র আইনজীবীদের আটকে রাখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা আরো দুর্ভাগ্যের বিষয়। ট্রাইব্যুনালের কাছ থেকে আমরা এটা আশা করিনি।

মিজানুল ইসলাম বলেন, গত বৃহষ্পতিবার তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে পরের সোমবার তারিখ দেন আদালত। আমরা ধরে নিয়েছি রোববার হরতালের কারনেই ঐদিন তারিখ রাখা হয়নি। সোমবার কোর্ট বসলে সেদিনও আমরা যেতে পারিনি হরতালের কারনে এবং  মাননীয় আদালত ঐদিন মুলতবি করেন। আমরা আশা করেছিলাম আজো (মঙ্গলবার) আমাদের আবেদন গ্রহণ করা  হবে। কিন্তু হলনা।
মিজনুল ইসলাম বলেন আজ আদালতে আরো কয়েকটি মামলা ছিল। মাওলানা নিজামী, মুজাহিদ এবং সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর  মামলা। তাদের কোন আইনজীবী আসেননি এবং সে মামলাগুলোর কার্যক্রমও চলেনি। কিন্তু সাঈদী সাহেবের ক্ষেত্রে কি এমন হল যে, আজ  তার মামলার কাজ চালাতেই হল?