নিজামী : রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
নিজামী : রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১৩

মাওলানা নিজামী মামলা : ইউটিউবের বক্তব্য সাক্ষী শামসুল হক নান্নুর তা ৯৯ ভাগ সত্য-দাবি আসামী পক্ষের


মেহেদী হাসান, ৩০/১০/২০১৩
মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে ১১ তম সাক্ষী অ্যাডভোকেট মো : শামসুল হক ওরফে নান্নুর নামে ইউটিউবে যে বক্তব্য প্রচারিত হয়েছে তা তারই বলে দাবি করেছে আসামী পক্ষ। ইউটিউবের বক্তব্য যে ১১ তম সাক্ষী শামসুল হক ওরফে নান্নুর সে বিষয়ে ৯৯ দশমিক ৯ ভাগ সত্য মর্মে পরীক্ষায় প্রমানিত হয়েছে বলে দাবি আসামী পক্ষের। 

মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর পক্ষে আইনজীবী তাজুল ইসলাম বলেন, শামসুল হক নান্নুর নামে ইউটিউবে যে বক্তব্য প্রচারিত হয়েছে তা  আমরা সংগ্রহ করেছি। এরপর বিভিন্ন টেলিভিশনে প্রচারিত তার বক্তব্যও সংগ্রহ করেছি। তার সব বক্তব্য আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কণ্ঠস্বর পরীক্ষা এবং ফরেনসিক তদন্তের জন্য বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ভেরিফিকেশন সার্ভিস (আইভিএস) এর  কাছে পাঠাই পরীক্ষার জন্য। আইভিএস এর  পাঠানো প্রতিবেদনে দেখা গেছে ইউটিউবে প্রচারিত বক্তব্য সাক্ষী শামসুল হক ওরফে নান্নুর এবং এটি ৯৯ দশমিক ৯ ভাগ সত্য মর্মে নিশ্চিত হয়েছে তারা। অপরদিকে  এ বক্তব্য তার নয় বলে সাক্ষী সংবাদ সম্মেলন করে যে দাবি করেছেন তাও ৯৮ ভাগ মিথ্যা বলে প্রতীয়মান হয়েছে তাদের প্রতিবেদনে।

তাজুল ইসলাম আজ ট্রাইব্যুনালের সামনে সাংবাদিকদের বলেন, আমরা আইভিএস থেকে ফরেনসিক রিপোর্ট পাবার পর ট্রাইব্যুনালে দুটি আবেদন করি। একটি হল সাক্ষী শামসুল হক ওরফে নান্নুকে ট্রাইব্যুনালে ডেকে এনে জেরার করার জন্য পুনরায় আবেদন এবং তার কণ্ঠস্বর পরীক্ষার প্রতিবেদন প্রস্ততকারী আইভিএস এর বিশেষজ্ঞ ক্যাপ্টেন (অব) জন পি স্লেটারকে আসামী পক্ষে সাক্ষী হিসেবে আনার জন্য সমন ইস্যু করা। তবে আবেদন দুটি আজ ( বুধবার) ট্রাইব্যুনাল শুনানী ছাড়া চেম্বারে বসে খারিজ করে দিয়েছেন।

মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে  ২০ জুন  বৃহষ্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ ১১ তম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন পাবনার অ্যাডভোকেট মোঃ শামছুল হক ওরফে নান্নু । আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ  মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে তিনি তার জবানবন্দীতে অনেকগুলো গুরুতর অভিযোগ করেন। এর মধ্যে রয়েছে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীকে সহায়তার জন্য মাওলানা নিজামীসহ অন্যান্যরা মিলে স্বাধীনতা বিরোধী সেল গঠন, সাঁথিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে রাজাকার ক্যাম্প উদ্বোধন, রুপসী প্রাইমারি স্কুলে শান্তিকমিটি গঠনের নির্দেশ এবং আলবদর বাহিনী গঠনের নেতৃত্ব দান।  এছাড়া মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং ধর্ষনের নেতৃত্ব দানের বেশ কয়েকটি অভিযোগ করেন সাক্ষী। পাবনা এলাকায় সংঘটিত এসব অপরাধের নেতৃত্ব দানের সময় সাক্ষী মাওলানা নিজামীকে দেখেছেন বলে সাক্ষ্য দেন। তিনি বলেন,  ১৯৭১ সালের ৯ এপ্রিল পাকিস্তানী বাহিনী গানবোট নিয়ে নগরবাড়ি ঘাটের দিকে অগ্রসর হয়।  মাওলানা নিজামী এবং তার দলবল তাদের সাথে থেকে তাদেরকে পথ দেখিয়ে নিয়ে আসে। সেদিনের যুদ্ধে প্রায় দেড়শ লোক শহীদ হয়। ১১ এপ্রিল মাওলনা নিজামী পাকিস্তানী সেনাবাহিনী নিয়ে পাবনা শহরে প্রবেশ করে এবং রাস্তার দুপাশের  ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়, দোকানপাট লুটপাট করে। ১৯ এপ্রিল একইভাবে মাওলানা নিজামীর সহায়তায় ডাববাগান আক্রমন পরিচালনা করে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। ১৪ই মে, ১৯৭১ ফজরের আযানের পর সশস্ত্র পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে মতিউর রহমান নিজামী, রফিকুন নবী, কুখ্যাত দালাল আসাদ এবং তার দলবল রূপসী, বাউশগাড়ী এবং ডেমরা গ্রাম ঘিরে ফেলে এবং ব্যাপক গোলাগুলি চালিয়ে নিরস্ত্র নীরিহ এবং নির্দোষ মানুষদেরকে হত্যা করে। এতে ৪৫০ জনের অধিক শহীদ হন ।  এভাবে আরো বেশ: কিছু ঘটনা উল্লেখ করে সাক্ষী বলেন, মাওলানা নিজামীর দেখানো মতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী অনেককে হত্যা করে। এসব  অনেক  অপরাধ সংঘটনের সময় মাওলানা নিজামীকে তিনি দেখার কথা বলেছেন।
ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেয়ার পূর্বে সাক্ষী মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জবানবন্দী দেন এবং সে জবানবন্দীতেও মাওলানা নিজামীকে জড়িয়ে প্রায় একই ধরনের বক্তব্য লিখিত আছে তার নামে।


অ্যাডভোকেট শামসুল হক ওরফে নান্নুর এ সাক্ষ্য গ্রহনের পর  আসামী পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়  সাক্ষী অ্যাডভোকেট শামসুল হক ওরফে নান্নুর একটি সাক্ষাৎকার প্রচারিত হয়েছে ইউটিউবে। সেটি তারা সংগ্রহ করেছেন। ১৮ সেপ্টেম্বর ইউটিউবে তার সাক্ষাৎকার প্রচারিত হয়েছে। ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেয়ার আগে গত বছর জুলাই মাসের দিকে তিনি এ সাক্ষাৎকার ধারন করা হয়েছে।  ধারনকৃত এ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধচলাকালে  মাওলানা নিজামীকে তিনি কোনদিন পাবনায় দেখেননি। মাওলানা নিজামীকে জড়িয়ে তিনি তদন্ত কর্মকর্তার কাছে কোন জবানবন্দীও দেননি। ১৯৮৬ সালের আগে তিনি মাওলানা নিজামীকে চিনতেনও না। মাওলানা নিজামীকে জড়িয়ে তার নামে তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দীতে যদি কিছু লেখা থাকে তাহলে তা মিথ্যা।

ইউটিউিবে এ ভিডিও প্রচারিত হবার পর গত ২১ সেপ্টেম্বর সাক্ষী অ্যাডভোকেট শামসুল হক ওরফে নান্নু প্রসিকিউশন কার্যালয়ে সংবাদ  সম্মেলন করে বলেন, ইউটিউবের সাক্ষাতকারে যে ব্যক্তিকে দেখা যাচ্ছে সে ব্যক্তি তিনি নন। তিনি এ ধরনের কোন সাক্ষাৎকার কাউকে দেননি।

এ প্রসঙ্গে আসামী পক্ষ তাকে তলব করে পুনরায় জেরার আবেদন জানায়। আসামী পক্ষ দাবি করে ইউটিউবের যে রেকর্ড তারা সংগ্রহ করেছে তা সাক্ষী শামসুল হক ওরফে নান্নুরই। ইউটিউবে তার প্রদত্ত বক্তব্যই সত্য এবং তিনি ট্রাইব্যুনালে এসে মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে যে সাক্ষ্য দিয়েছেন তা  মিথ্যা। তিনি চাপের মুখে বাধ্য হয়ে এ মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন ট্রাইব্যুনালে এসে।  গত ৮অক্টোবর শুনানী শেষে আবেদনটি খারিজ করে দেয় ট্রাইব্যুনাল।

এরপর  আসামী পক্ষ তাদের সংগৃহীত বিভিন্ন ভিডিও কিপ পরীক্ষার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইভিএস বররাবর পাঠায় এবং সে রিপোর্ট সম্প্রতি তাদের হাতে আসার পর সাক্ষীকে পুনরায় ডেকে আনার যে আবেদন ৮ অক্টেবার  খারিজ করে দিয়েছে আদালত তা পুনরায় বিবেচনার জন্য আবেদন করে তারা। এছাড়া কণ্ঠস্বর পরীক্ষার প্রতিবেদন প্রস্ততকারী জন পি স্লেটারকেও আসামী পক্ষের সাক্ষী হিসেবে তলবের জন্য আবেদন করে। দুটি আবেদনই আজ খারিজ করে দেয়া হয়েছে।

তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, কন্ঠস্বর পরীক্ষা এবং এ জাতীয় তদন্তের জন্য আইভিএস নামকরা প্রতিষ্ঠান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার দক্ষ লোকজন এখানে কাজ করে। আমরা আমাদের দরখাস্তের সাথে আইভিএস এর প্রতিবেদন এবং ইউটিউবের বক্তব্য, বিভিন্ন টিভিতে প্রচারিত সাক্ষীর বক্তব্য সিডি এবং ট্রান্সিক্রিপ্ট আকারে জমা দিয়েছিলাম।



মঙ্গলবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৩

ইউটিউব ভিডিও //মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে সাক্ষীকে পুনরায় জেরার আবেদন খারিজ


মেহেদী হাসান, ৮/১০/২০১৩
জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের  ১১ তম সাক্ষী অ্যাডভোকেট শামসুল হক ওরফে নান্নুকে পুনরায় তলব করে জেরার আবেদন খারিজ করে দেয়া হয়েছে। আসামী পক্ষের এ আবেদন শুনানী শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আবেদনটি খারিজ করে দেয়। আবেদনের পক্ষে ডিফেন্স টিমের প্রধান ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক শুনানী পেশ করেন।

সাক্ষী অ্যাডভোকেট শামসুল হক ওরফে নান্নু মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে গত ২০ জুন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন। তিনি তার জবানবন্দীতে  ১৯৭১ সালে পাবনায় মাওলানা নিজামীকে দেখেছেন উল্লেখ করে অনেকগুলো অপরাধ সংঘটনে মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দানের অভিযোগ করেন । অপরদিকে আসামী পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে সাক্ষী অ্যাডভোকেট শামসুল হক ওরফে নান্নুর একটি সাক্ষাৎকার প্রচারিত হয়েছে ইউটিউবে। ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেয়ার আগে ধারনকৃত এ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন ১৯৭১ সালে মাওলানা নিজামীকে তিনি কোনদিন পাবনায় দেখেননি। মাওলানা নিজামীকে জড়িয়ে তিনি তদন্ত কর্মকর্তার কাছে কোন জবানবন্দীও দেননি। ১৯৮৬ সালের আগে তিনি মাওলানা নিজামীকে চিনতেনও না।

ইউটিউিবে এ ভিডিও প্রচারিত হবার পর গত ২১ সেপ্টেম্বর সাক্ষী অ্যাডভোকেট শামসুল হক ওরফে নান্নু সংবাদ  সম্মেলন করে বলেন, ইউটিউবের সাক্ষাতকারে যে ব্যক্তিকে দেখা যাচ্ছে সে ব্যক্তি তিনি নন। তিনি এ ধরনের কোন সাক্ষাৎকার কাউকে দেননি। সাক্ষাতকারে যাকে দেখা যাচ্ছে তার গোফ নেই। তার বর্তমানে গোফ আছে।

এ প্রসঙ্গে আসামী পক্ষ তাকে তলব করে পুনরায় জেরার আবেদন জানায়। আজ   শুনানীতে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমরা তার পাসপোর্ট, ভোটার আইডি কার্ড এবং সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবীদের তালিকা থেকে অ্যাডভোকেট শামসুল হক ওরফে নান্নুর ছবি সংগ্রহ করেছি। এ ছবি আব্দুর রাজ্জাক কোর্টকে দেখিয়ে বলেন, এসব ছবিতে সাক্ষীর গোফ নেই। ইউটিউবের সাক্ষাৎকারে আমরা যাকে শামসুল হক ওরফে নান্নু বলে দাবি করছি তার চেহারার সাথে এসব ছবির চেহারর মিল রয়েছে। তাছাড়া পাবনায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের সাথে তার একটি ভিডিও ফুটেজ আমাদের কাছে আছে যেখানে তাকে গোফবিহনীন অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। পুনরায় তলবের পক্ষে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমরা তাকে প্রশ্ন করব পাসপোর্ট, ভোটার আইডিকার্ড এবং আইনজীবীদের তালিকায় প্রদত্ত এসব ছবি  তার কি-না। এছাড়া কণ্ঠ পরীক্ষার জন্য তিনি কণ্ঠ দিতে রাজি আছেন কি-না এবং মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রদানের বিষয়ে তার ওপর সরকারের কোন চাপ ছিল কি-না।

আসামীপক্ষের দাবিকৃত অ্যাডভোকেট শামসুল হক ওরফে নান্নুর ইউটিউবের সাক্ষাৎকার পড়ে শোনান ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, ইউটিউবে প্রচারিত সাক্ষাতকারে দেখা যায় সাক্ষী বলছেন “তা তো তখন আমি কোন জায়গায় মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে আমার সামনেও সে (নিজামী)  কোন দিন পড়ে নাই। তার কারণ তাকে কোথাও কোন দিন দেখিও নাই। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে কিছু করার দেখি নাই বিরোধীতা করার কিছু করারও দেখি নাই।.. আমি নিজামী সাহেবকে কখনো দেখিনি। আমি একচুয়ালি যখন ওই যে পলিটিকস ওপেন হলো ৮৬ ইলেকশনে এ তখন থেকে তার সঙ্গে পরিচয়।”

শুনানী শেষে আবেদনটি খারিজ করে দেয় ট্রাইব্যুনাল।



নিম্নে এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন রয়েছে যা গত ২৪ জুন দৈনিক নয়া দিগন্তে প্রকাশিত হয়।
মাওলানা নিজামীকে জড়িয়ে ট্রাইব্যুনালে এবং ট্রাইব্যুনালের বাইরে সাক্ষীর দুই ধরনের  বক্তব্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে  চলতি মাসের ২০ জুন  বৃহষ্পতিবার ১১ তম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন মোঃ শামছুল হক ওরফে নান্নু । তিনি পেশায় অ্যাডভোকেট এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ  করেছেন বলে ট্রাইব্যুনালে জানান।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ  মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে তিনি তার জবানবন্দীতে অনেকগুলো অভিযোগ করেন। এর মধ্যে রয়েছে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীকে সহায়তার জন্য মাওলানা নিজামীসহ অন্যান্যরা মিলে স্বাধীনতা বিরোধী সেল গঠন, সাঁথিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে রাজাকার ক্যাম্প উদ্বোধন, রুপসী প্রাইমারি স্কুলে শান্তিকমিটি গঠনের নির্দেশ এবং আলবদর বাহিনী গঠনের নেতৃত্ব দান।  এছাড়া মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং ধর্ষনের নেতৃত্ব দানের বেশ কয়েকটি অভিযোগ করেন সাক্ষী। পাবনা এলাকায় সংঘটিত এসব অপরাধের নেতৃত্ব দানের সময় সাক্ষী মাওলানা নিজামীকে দেখেছেন বলে সাক্ষ্য দেন। তিনি বলেন,  ১৯৭১ সালের ৯ এপ্রিল পাকিস্তানী বাহিনী গানবোট নিয়ে নগরবাড়ি ঘাটের দিকে অগ্রসর হয়।  মাওলানা নিজামী এবং তার দলবল তাদের সাথে থেকে তাদেরকে পথ দেখিয়ে নিয়ে আসে। সেদিনের যুদ্ধে প্রায় দেড়শ লোক শহীদ হয়। ১১ এপ্রিল মাওলনা নিজামী পাকিস্তানী সেনাবাহিনী নিয়ে পাবনা শহরে প্রবেশ করে এবং রাস্তার দুপাশের  ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়, দোকানপাট লুটপাট করে। ১৯ এপ্রিল একইভাবে মাওলানা নিজামীর সহায়তায় ডাববাগান আক্রমন পরিচালনা করে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। ১৪ই মে, ১৯৭১ ফজরের আযানের পর সশস্ত্র পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে মতিউর রহমান নিজামী, রফিকুন নবী, কুখ্যাত দালাল আসাদ এবং তার দলবল রূপসী, বাউশগাড়ী এবং ডেমরা গ্রাম ঘিরে ফেলে এবং ব্যাপক গোলাগুলি চালিয়ে নিরস্ত্র নীরিহ এবং নির্দোষ মানুষদেরকে হত্যা করে। এতে ৪৫০ জনের অধিক শহীদ হন ।  এভাবে আরো বেশ: কিছু ঘটনা উল্লেখ করে সাক্ষী বলেন, মাওলানা নিজামীর দেখানো মতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী অনেককে হত্যা করে। এসব  অনেক  অপরাধ সংঘটনের সময় মাওলানা নিজামীকে তিনি দেখার কথা বলেছেন।
ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেয়ার পূর্বে সাক্ষী মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জবানবন্দী দেন এবং সে জবানবন্দীতেও মাওলানা নিজামীকে জড়িয়ে প্রায় একই ধরনের বক্তব্য লিখিত আছে তার নামে।

ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেয়ার পূর্বে গত বছর জুলাই মাসে মোঃ শামছুল হক ওরফে নান্নু অ্যাডভোকেট দিগন্ত টেলিভিশনের সাথে সাক্ষাৎকার প্রদান করেন। সে সাক্ষাতকারে তিনি  বলেন, মাওলানা নিজামীকে  জড়িয়ে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে কোন জবানবন্দী দেননি তিনি। ১৯৭১ সালে তিনি পাবনায় মাওলানা নিজামীকে দেখেননি। মাওলানা নিজামীকে জড়িয়ে তার নামে তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দীতে যদি কিছু লেখা থাকে তাহলে তা মিথ্যা। দিগন্ত টিভি কর্তৃক গ্রহণ করা তার সাক্ষাৎকারটি প্রচারিত হয়নি ; তবে সে সাক্ষাতকারটি এখন ইউটিউবে পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া ইউটিউবে তার আরো একটি ভিডিও সাক্ষাকার  রয়েছে এবং সেখানেও তিনি মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে কোন কিছু বলার কথা অস্বীকার করছেন। তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দীতে তার  নামে মাওলানা নিজামীকে জড়িয়ে জবানবন্দী বিষয়টি নজরে আসার পর সাক্ষী মোঃ শামছুল হক ওরফে নান্নু অ্যাডভোকেট ২০১২ সালে একটি এফিডেভিট তৈরি করেন এবং সেখানে তিনি ঘোষনা করেন-   ১৯৭১ সালের ঘটনা বিষয়ে মাওলানা নিজামীকে জড়িয়ে তার নামে তদন্ত কমকর্তার  তৈরি করা জবানবন্দীতে যা আছে তা মিথ্যা। তিনি তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দী উল্লেখ করে বলেন তিনি এসব কথা তার কাছে বলেননি।

প্রথমে আসা যাক দিগন্ত টিভিতে ধারন করা ইউটিউবে প্রচারিত তার সাক্ষাতকার বিষয়ে। নিম্নের এ লিংক দুটিতে তার সাক্ষাতকার দেখা এবং শোনা যাবে।





দিগন্ত টিভিতে  প্রদত্ত সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, বাউশগাড়ী ঘেরাও করার সময়  পাকিস্তানী আর্মিকে  সাহায্য করছে বেড়ার আসাদ নাম করে একটা লোক। সে  ওদেরকে রাস্তা দেখায়ে নিয়ে আসছে। ... বিষয়টা হলো তখন পাকিস্তান মিলিটারীর দাবড় খাইয়া লোক যার যার মত লাইফ নিয়ে পালায়।  যেটা বাস্তবতা। পালায়ে চলে যায়। আসাদকে সামনা সামনি আমি দেখিনি, তবে লোক সবাই বলছে, যারা দেখছে যে, আসাদ ছিল। এইখানে মাওলানা নিজামী সাহেব, সোবহান সাহেব বা আদারস্ যারা আছে, ওদের ওখানে কেউ বলে নি যে, তারা ছিল বা আমরাও দেখিনি।....স্বাধীন হওয়ার পর যখন যাদের লোকজন মারা গেছে তারা আসাদকে দেখায়ে দিল যে এই লোকটি আনছিল, তখন মুক্তিযোদ্ধারা গণআদালতে আসাদের বিচার করে, বিচার করে তার মৃত্যুদ- দেয়।...ডেমরা হত্যাকান্ডে  পাকিস্তানী সেনাবাহিনীকে রাস্তা আসাদ দেখায়ে নিয়ে আসছে।
এক প্রশ্নের জবাবে সাক্ষী বলেন, এ ঘটনায় আমি মতিউর রহমান নিজামীর নাম বলিনি।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে সাক্ষী বলেন, তখন আমি মাওলানা নিজামী সাহেবকে চিনতামও না।আরেক প্রশ্নের জবাবে সাক্ষী বলেন, আমি তো বললাম, একাত্তরে তার সাথে আমার পরিচয়ই ছিলো না।

সাক্ষী বলেন, যে আসাদ পাকিস্তানী সেনাবাহিনীকে পথ দেখিয়ে নিয়ে এসেছিল তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। কিন্তু সে মারা যাবার আগে কখনো মাওলানা নিজামী, আব্দুস সোবহানের নাম বলেনি।

তার নামে তদন্ত কর্মকর্তা কর্তৃক  জমা দেয়া জবানবন্দীতে মাওলানা নিজামীকে জড়িয়ে সরাসরি অনেক অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সাক্ষী বলেন, তিনি এটা বলেননি। যদি এধরনের কথা লেখা থাকে তাহলে তা  ঠিক নয় এবং তিনি এর প্রতিবাদ করবেন।

ইউটিউবে প্রচারিত তার আরেকটি সাক্ষাতকারে দেখা যায় যেখানে সাক্ষী বলছেন “তা তো তখন আমি কোন জায়গায় মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে আমার সামনেও সে (নিজামী)  কোন দিন পড়ে নাই। তার কারণ তাকে কোথাও কোন দিন দেখিও নাই। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে কিছু করার দেখি নাই বিরোধীতা করার কিছু করারও দেখি নাই।.. আমি নিজামী সাহেবকে কখনো দেখিনি। আমি একচুয়ালি যখন ওই যে পলিটিকস ওপেন হলো ৮৬ ইলেকশনে এ তখন থেকে তার সঙ্গে পরিচয়।

এফিডেভিট : সাক্ষী মো : মোঃ শামছুল হক ওরফে নান্নু  ২০১২ সালে ১ম শ্রেণীর মেজিস্ট্রেট/ নোটারি পাবলিক এর কার্যালয়, পাবনা একটি হলফনামা তৈরি করেন। ১০০ টাকার স্ট্যাম্পে তৈরি করা সে হলফনামায় সাক্ষী মো : শামছুল হক ঘোষনা করেন- স্বাধীনতাবিরোধী সেল গঠন, বাউশগাড়ীসহ বিভিন্ন অপারেশনে মাওলানা নিজামী কর্তৃক পাকিস্তানী সেনাবাহিীনকে নিয়ে যাওয়া এবং পথ দেখিয়ে দেয়া, রাজাকার বাহিনী গঠনসহ মাওলানা নিজামীকে জড়িয়ে আমার নামে তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দীতে যা উল্লেখ রয়েছে তা মিথ্যা।

তদন্ত কর্মকর্তা কর্তৃক  জমা দেয়া জবানবন্দী কোট করে তিনি  ঘোষনা করেন-“এ বিষয়ে আমার পরিস্কার বক্তব্য এই যে,  আমি অত্র মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জনাব আব্দুর রাজ্জাক খানের  নিকট প্রদত্ত জবানবন্দীকালে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে জড়াইয়া এ ধরনের কোন বক্তব্য প্রদান করিনাই। যদি আমার নামে উল্লিখিত কোন বক্তব্য লিখিত থাকে তাহা হইলে তা তদন্ত কর্মকর্তার মনগড়া বক্তব্য।
আমি এই মর্মে আরো ঘোষনা করিতেছি যে, আমি যে বক্তব্য প্রদান করিয়াছি তাহাতে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে জড়াইয়া কোন বক্তব্য  প্রদান করিনাই। কারণ তিনি উল্লিখিত ঘটনার সাথে কোনভাবেই জড়িত ছিলেননা।”
এফিডেভিট, দিগন্ত টিভিতে প্রদত্ত সাক্ষাতকার যা এখন ইউটিউবে পাওয়া যাচ্ছে এ বিষয়ে সাক্ষীর মতামত জানানর জন্য তাকে ফোনে চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

মাওলানা নিজামী সম্পর্কে সাক্ষীর পরস্পরবিরোধী বক্তব্য 

 http://www.dailynayadiganta.com/welcome/post/1867#.UlQAEdhP0p0

 









নিজামীর পক্ষে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু ২০ অক্টোবর থেকে

৮/১০/২০১৩
জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর পক্ষে সাফাই সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হবে আগামী ২০ অক্টোবর থেকে। আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ তারিখ ধার্য্য করেছে। তার পক্ষে মোট চার জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিতে পারবেন।
মাওলানা নিজামীর পক্ষে আসামী পক্ষ সর্বশেষ ২৫ জন সাক্ষীর অনুমতি চেয়ে দরখাস্ত করা হয়েছিল। সেখান থেকে চারজন নির্ধারন করে ট্রাইব্যুনাল। আজ আবার আসামী পক্ষ অন্তত সাতজন  পর্যন্ত সাফাই সাক্ষী বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছিল । তাবে তা খারিজ করা হয়েছে।
গতকাল মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়।

সোমবার, ৭ অক্টোবর, ২০১৩

মাওলানা নিজামী মামলা //ট্রাইব্যুনালে আমার নামে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া হয়েছে-কছিমউদ্দিনের ছেলে শিবলী

মেহেদী হাসান, ৭/১০/২০১৩
জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার চলছে তার মধ্যে অন্যতম একটি অভিযোগ হল পাবনা জিলা স্কুলের হেড মাওলানা কছিমউদ্দিনকে হত্যা। রাষ্ট্রপক্ষ আনিত এ অভিযোগের পক্ষে দুজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন হলেন  পাবনা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হাবিবুর রহমান হাবিব। কছিমউদ্দিন হত্যার ঘটনা তিনি বর্ননা করতে গিয়ে ট্রাইব্যুনালে বলেছেন যে, ১৯৭১ সালে তিনি ঘটনার পর সমবেদনা জানানোর জন্য কছিমউদ্দিনের পাবনা শহরের বাসায় যান।  তখন কছিমউদ্দিনের ছেলে শিবলী তাকে তার পিতার হত্যার ঘটনা জানায়। শিবলীর বরাত দিয়ে তিনি কছিমউদ্দিন হত্যার ঘটনা বর্ননা করেছেন ট্রাইব্যুনালে ।

কিন্তু কছিমউদ্দিনের ছেলে শিবলী এর প্রতিবাদ করে জানিয়ে বলেছেন  পাবনা শহরে হাবিবুর রহমান হাবিবের সাথে দেখা হওয়ার ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা। শিবলী বলেছেন, ১৯৭১ সালে আমি বা আমার পরিবারের কেউ মাওলানা নিজামীকে চিনতামনা। শিবলী দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। নিউয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকায়  গত ৩০ সেপ্টেম্বর সাক্ষাৎকারে তিনি এ দাবি করেছেন।  সাক্ষাকারে তিনি বলেন, আমাদের পিতা হত্যার সাথে মাওলানা নিজামী জড়িত একথা আমাদের কেউ কোনদিন বলেনি।

হাবিবুর রহমানের জবানবন্দী এবং শিবলীর প্রতিবাদ বিষয়ে জানানর আগে কছিমউদ্দিন হত্যার ঘটনা বিষয়ে জানা যাক।

ঘটনার বিবরণঃ
কছিমউদ্দিন হত্যা বিষয়ে মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আনিত অভিযোগে বলা হয়েছে  শহীদ মাওলানা কছিমুদ্দিন আহমেদ পাবনা জেলা স্কুলের হেড মাওলানা ছিলেন। মতিউর রহমান নিজামী  তাকে হত্যার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা করে। তিনি এ খবর জানতে পেরে   আত্মপোগন করেন। ১৯৭১ সালের ৪ জুন ১৯৭১ তারিখ সকালে উলাপাড়া যাওয়ার জন্য বাস যোগে রওয়ানা করেন। এসময়  মোসলেম খার তেমাথার মোড়ে অবস্থিত পাকিস্তানী আর্মির চেকপোষ্টে আর্মিরা তাকে বাস থেকে নামিয়ে পাবনা শহরের নূরপুর ওয়াপদা পাওয়ার হাউজ আর্মি ক্যাম্পে নিয়া আসামী মতিউর রহমান নিজামীর উপস্থিতিতে ও ইঙ্গিতে তার উপর সীমাহীন নির্যাতন চলে। অতঃপর ১০ জুন ১৯৭১ তারিখ ভোর অনুমান ছয় টার সময় মাধপুর আর্মি ক্যাম্প সংলগ্ন ইছামতী নদীর পাড়ে অজ্ঞাত দুই সঙ্গী সহ তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

হাবিবুর রহমানের জবানবন্দী :
গত ১৪ এপ্রিল মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন মোঃ হাবিবুর রহমান হাবিব। তিনি পাবনা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার। তিনি তার জবানবন্দীতে বলেন, ১৯৭১ সালে ১১ এপ্রিল হানাদার বাহিনী পাবনা দখল করে নেয়। তখন আমি এবং আমার বড় ভাই শহিদুল্লাহ এবং আমাদের সঙ্গে আরও তিন/চারশত ছাত্র ভারতে চলে যাই।  আমরা ৪৫ জনের একটি দল মুক্তিযুদ্ধের উপর উচ্চ শ্রেণীর ট্রেনিং নেওয়ার জন্য দেরাদুন যাই। সেখানে আমরা ৪৫ দিন ট্রেনিং গ্রহণ শেষে ১৭ আগষ্ট তারিখে পাবনা ফিরে আসি। আমরা ভারতে থাকা অবস্থায় জানতে পারি পাবনা জেলা স্কুলের হেড মওলানা শিক্ষক কছিমুদ্দিন স্যারকে মেরে ফেলা হয়েছে। ঐ স্যারের ছেলের নাম শিবলী, সে আমার ঘনিষ্ট বন্ধু ছিল। ১৯ আগষ্ট গভীর রাতে আমি স্যারের মৃত্যুর সমবেদনা জানাতে স্যারের বাসায় শিবলীর সঙ্গে দেখা করি। তখন সে তার বাবার মৃত্যুর বর্ণনা আমাকে বলে। সে বলে যে, ৪ জুন, ১৯৭১ তারিখে তার বাবা বাড়ি থেকে পালানোর জন্য বলে, মতিউর রহমান নিজামী তাকে (কছিমুদ্দিন সাহেব) মেরে ফেলার জন্য তালিকা করেছে। কছিমুদ্দিন সাহেব তার পরিবারের লোকজনকে বলেন যে, তিনি নিরাপদ নন এবং বাড়ির অন্যান্যদের সাবধানে থাকার পরামর্শ দিয়ে বাড়ি থেকে তিনি পালিয়ে যান এবং মোসলেম পরামানিকের তেমাথা নামক স্থান থেকে একটি চলন্ত বাসে উঠেন। সেখানে কিছু জামায়াতের লোকজন তাকে চিনে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাতে ধরায়ে দেয়। তৎপর মাওলানা সাহেবকে নূরপুর আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। আমার বন্ধু শিবলী আরও জানায় যে, তার বাবাকে আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। শিবলী এবং তার মা, ভাই, বোনেরা নূরপুর আর্মি ক্যাম্পে গিয়ে মাওলানা সাহেবকে ছাড়িয়ে আনার জন্য কাকুতি মিনতী করতে থাকে। তখন তারা মতিউর রহমান নিজামী সাহেবকে আর্মি ক্যাম্পের গেটে ঢুকতে দেখে মাওলানা সাহেবকে মুক্ত করার জন্য নিজামী সাহেবের পায়ে ধরে কান্নাকাটি করতে থাকে। তখন নিজামী সাহেব শিবলীর মাকে বলে যে, তোমার স্বামীকে মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং দিতে বলো গিয়ে। কছিমুদ্দিন মাওলানা সাহেব অসহযোগ আন্দোলনের সময় পাবনা জেলা স্কুলে ডামী রাইফেল দিয়ে ছাত্রদের ট্রেনিং দিতেন। ১০ জুন, ১৯৭১ তারিখে নূরপুর আর্মি ক্যাম্প থেকে কছিমুদ্দিন মাওলনা সাহেবকে মাধপুর ইছামতি নদীর পাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে এবং আরও দুইজনকে বাঁশ বাগানের মধ্যে নিয়ে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী তিনজনকে গুলি করে হত্যা করে। শিবলী আমাকে আরও বলে যে, খবর পেয়ে তাদের পরিবার সেখানে গিয়ে কছিমুদ্দিন সাহেবের কবর দেখতে পান এবং স্থানীয় লোকজনের নিকট শুনতে পায় যে, মতিউর রহমান নিজামী সাহেব হত্যার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন।


কছিম উদ্দিনের ছেলে শিবলীর দাবি :
নিউয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকায় সাক্ষাৎকারে কছিমউদ্দিনের ছেলে শিবলী বলেছেন আমার নামে ট্রাইব্যুনালে হাবিবুর রহমান হাবি মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকার প্রতিবেদনটি এখানে উল্লেখ করা হল।
 
পাবনা জেলার প্রখ্যাত শিক্ষক ও সমাবসেবক, মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ মাওলানা কছিমুদ্দিন সাহেবের যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী পুত্র শিবলী এই প্রতিবেদকের সাথে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আমি পত্রপত্রিকার মাধ্যমে সম্প্রতি জানতে পেরেছি যে, পাবনা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের বর্তমান কমান্ডার হাবিবুর রহমান হাবিব আমার বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিযে বরেছেন যে, আমি নাকি তার ঘনিষ্ট বন্ধু এবং ১৯৭১ সালের ১৯ আগস্ট, তিনি আমার সাথে আমাদের পাবনাস্থ বাসায় এসে দেখা করেন। সে সময় আমি নাকি তাকে বলেছিলাম যে, ‘৪ঠা জুন ১৯৭১ তারিখে আমার বাবা মাওলানা কছিমুদ্দিন বাড়ি থেকে পালানোর সময় বলে যে, মতিউর রহমান নিজামী সাহেব তাকে (মাওলানা কছিমুদ্দিনকে) মেরে ফেলার জন্য তালিকা করেছে।’ আমি নাকি তাকে আরো বলেছিলাম যে, ‘আমি এবং আমার মা নুরপুর ওয়াপদা হাউসের গেটে মাওলানা নিজামী সাহেবের পা ধরে আমার বাবার মুক্তির জন্য কান্নাকাটি করি’ এবং আমার পিতার শহীদ হওয়ার খবর পেয়ে আমরা মাধপুরে কবর দেখতে যাই এবং স্থানীয় লোকজনের নিকট শুনতে পাই যে, মতিউর রহমান নিজামী সাহেব আমার পিতার হত্যার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন।’ এ ব্যাপারে আমার পরিষ্কার বক্তব্য হল, আমি হাবিবুর রহমান হাবিব সাহেবকে চিনি বটে কিন্তু বয়সে তিনি আমার চাইতে বছর পাঁচেকের ছোট এবং আমি কখনই কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলাম না। সঙ্গত কারণেই হাবিবুর রহমান হাবিব সাহেব আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। যে সময় হাবিব সাহেব আমার সাথে আমাদের পাবনাস্থ বাসায় দেখা হওয়ার কথা বলেছেন, সে সময় পাক হানাদার বাহিনীর হামলার আশঙ্কায় আমার মরহুম শহীদ পিতা আমাদের সবাইকে আমাদের গ্রামের বাড়িতে বর্তমান সিরাজগঞ্জে জেলার শাহজাদপুরে রেখে আসেন। আমি এ সময়টিতে শাহজাদপুরে অবস্থান করছিলাম বিধায় আমার সাথে পাবনা শহরের বাসায় হাবিব সাহেবের সাথে দেখা হওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ অবান্তর ঘটনা। আমরা পরবর্তীতে লোকমুখে শুনতে পেরে আমার মরহুম শহীদ পিতার কবর মাধপুরে আবিষ্কার করি।

মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী সাহেবকে আমি কিংবা আমার পরিবার ১৯৭১ সালে চিনতাম না এমনকি আমারা তার নামও ১৯৭১ সালের বহুপর পর্যন্ত শুনি নাই। আমাদের পরিবারের কিংবা আমার শহীদ পিতার সাথে তার সঙ্গত কারণেই কোনো ধরনের শত্রুতা থাকার প্রশ্নই ওঠে না। আমাদেরকে কেউ কোনোদিন বলেনি যে, আমার পিতার হত্যাকাণ্ডের সাথে মাওলানা নিজামী সাহেব জড়িত।

আমি দীর্ঘদিন প্রবাসে বাস করছি এবং দেশের কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে কোনোভাবেই জড়িত নই। আমার পিতা মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন। বাংলাদেদেশের সরকার আমার পিতার স্মরণে ডাকটিকেট প্রকাশ করেছে। মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন গ্রন্থে আমার পিতার শাহাদতের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। আমরা সন্তানেরা বিভিন্ন পত্রিকায় এ ব্যাপারে সাক্ষাৎকার নিয়েছি। হঠাৎ করে আমাদের বরাত কাওকে নতুন করে জড়িয়ে কেউ অসত্য বক্তব্য দিক এটি আমাদের কাম্য নয়। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।




শুক্রবার, ৪ অক্টোবর, ২০১৩

মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তার জেরা


তাং- ০৩-১০-২০১৩ইং
পূনরায় জেরাঃ
প্রদর্শনী ২/৫ দৈনিক সংগ্রামের ০৫-০৮-১৯৭১ তারিখের দৈনিক সংগ্রামের সংখ্যায় ৩রা আগষ্ট এ একটি ছাত্র সংগঠনের ছাত্র সূধী সমাবেশের খবর পরিবেশিত হয়েছে। এই সংবাদে বক্তাদের পরিচিতির বর্ণনায় কারও নামের পূর্বে আলবদর কথাটি লিখা নাই। এই সমাবেশে কোন সামরিক অফিসার বক্তৃতা দিয়েছেন এই মর্মে কোন উদ্ধৃতি নাই। ঐ বক্তৃতায় পাকিস্তান শাসক গোষ্ঠীর সমালোচনা করে কোন বক্তব্য ছিল, ইহা সত্য নহে। এই বক্তব্য শুনে কোন ব্যক্তি সুনির্দিষ্ট অপরাধ সংঘটিত করেছে এই মর্মে কোন তথ্য আমি আমার তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করি নাই। প্রদর্শনী- ২/৬, ২/৭, ২/৮, ২/৯ সমূহে প্রকাশিত সংবাদে নিজামী সাহেবের সাথে সংশ্লিষ্ট সংবাদের সাথে আলবদর বাহিনীর কোন সম্পর্ক নাই। প্রদর্শনী ২/১০ এ মোস্তফা আল মাদানী হত্যার প্রতিবাদে মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দেওয়া আছে তবে ঐ সংবাদের সম্পূর্ণ অংশ আমি জব্দ করি নাই, শুধুমাত্র নিজামী সাহেবের বক্তব্যের অংশটুকু আমি জব্দ করেছি। ইহা সত্য নহে যে, এই প্রদর্শনী-২/১০ পাঠ করে বলা সম্ভব নয় যে, এটি নিজামী সাহেবের বিবৃতি না কোন সভার বক্তব্য। মোস্তফা আল মাদানী সাহেব স্বাধীনতা বিরোধী ছিলেন কিনা ইহা আমার জানা নাই। মোস্তফা আল মাদানী সাহেবের হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে কেউ কোন বিবৃতি দিয়েছিল কিনা আমি জানি না। এই প্রদর্শনীর দ্বিতীয় পৃষ্ঠার প্রথম লাইনটি স্ক্যানের অংশ নয়, পরে টাইপ করা।
প্রদর্শনী ২/১১, ২/১২, ২/১৩, ২/১৪ সমূহ এই মামলার আসামী মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়।
প্রদর্শনী ২/১৫ তে যে সংবাদের উদ্ধৃতি দেওয়া আছে তা একটি ছাত্র সংগঠনের সভায় মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের দেওয়া বক্তব্য। এই সংবাদে আলবদর সংক্রান্ত কোন বক্তব্য নাই। এই সংবাদ পাঠ করে কেউ কোন অপরাধ সংঘটিত করেছিল মর্মে কোন তথ্য আমি তদন্ত রিপোর্টে দাখিল করি নাই।
প্রদর্শনী- ২/১৬ তে দুইটি অংশ, একটি হচ্ছে ছাত্র সংগঠনের সভায় বক্তব্য দেওয়া এবং অন্যটি হচ্ছে কোরআনের তাফসির করা। এই সংবাদ পাঠ করে কেউ কোন অপরাধ সংঘটিত করেছিল মর্মে কোন তথ্য আমি তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করি নাই। মতিউর রহমান নিজামী সাহেব সূরা তাওবার ১১১ এবং ১১২ নং আয়াতের কোন ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন কিনা তাহা আমি জানি না।
প্রদর্শনী- ২/১৭, ২/১৮, ২/১৯, ২/২০, ২/২১, ২/২৩, ২/২৫, ২/২৬, ২/২৭, ২/২৮, ২/২৯, ২/৩০, ২/৩১, ২/৩২, ২/৩৩ সমূহে আলবদর বাহিনীতে জড়িত থাকা সম্পর্কে নিজামী সাহেবকে জড়িয়ে কোন সংবাদ পরিবেশিত হয় নাই। প্রদর্শনী- ২/২২ মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের লেখা একটি প্রবন্ধ। এই প্রবন্ধে কোন স্থানে কিংবা লেখক পরিচিতি সম্পর্কে মতিউর রহমান নিজামী সাহেব আলবদর বাহিনীর প্রধান, সংগঠক বা প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে উল্লেখ নাই। প্রদর্শনী- ২/২৪ এ প্রদর্শিত ছবিতে নিজামী সাহেবের ছবি থাকার কথা উল্লেখ নাই। (চলবে)

পূনরায় জেরা ঃ
প্রদর্শনী- ৪ এর আইটেম নাম্বার ২২৫ দৈনিক আজাদের ১১-১২-১৯৭১ এর সংখ্যায় আলবদর বাহিনী আয়োজিত পথসভার একটি ছবি আছে তাতে আলবদর বাহিনীর প্রধান হিসেবে মতিউর রহমান নিজামী সাহেব নয়, অন্য ব্যক্তির নাম উল্লেখ আছে। আইটেম নাম্বার ২২৫ সাপ্তাহিক বিচিত্রা ১০বর্ষ প্রথম সংখ্যা ২০-০৫-১৯৮১ এর “বাংলাদেশ গণহত্যা” শিরোনামে সংবাদ জব্দ করা আছে।
প্রদর্শনী- ৪/১, ৪/২, ৪/৩, ৪/৪, ৪/৫, ৪/৬, ৪/৭, ৪/৮, ৪/৯, ৪/১০, ৪/১১, ৪/১২, ৪/১৩, ৪/১৪, ৪/১৫, ৪/১৬, ৪/১৭, ৪/১৮, ৪/১৯, ৪/২০, ৪/২১, ৪/২২, ৪/২৩, ৪/২৪ সমূহে নিজামী সাহেবের নামের সাথে আলবদর শব্দটি নাই।
প্রদর্শনী-৮ হচ্ছে একটি জব্দ তালিকা, প্রদর্শনী- ৮/১ দৈনিক ইত্তেফাক ১৭-১১-১৯৭১। প্রদর্শনী-৩ শাহরিয়ার কবীর কর্তৃক লিখিত “বাংলাদেশে মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা” বই এর ৬৯ পৃষ্ঠায় “তাদের পরিবারের সদস্যরা সেদিনই জানতে পেরেছিলেন পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর ক্যাপ্টেন তাহের ও মেজর আসলামের নির্দেশে কারফিউ জারী করা হয়েছিল। আজহারুল হক ও হুমায়ুন কবীর ধরা পড়ার পর পরই কারফিউ তুলে নেওয়া হয়।”- এই কথাগুলো লিখা আছে। প্রদর্শনী- ৮/১ অনুযায়ী জানা যায় যে, ঐ দুই ডাক্তার সাহেবের হত্যাকান্ডের কারণে রমনা থানায় একটি মামলা হয়েছিল। প্রদর্শনী-৩০ এর ৬৮ নম্বর পৃষ্ঠার শেষ প্যারায় “ডা: আজহারুল হক আর ডা: হুমায়ুন কবীরকে আলবদর বাহিনীর হাতে যে তুলে দিয়েছিল সেই ব্যক্তিই ছিল পেশায় চিকিৎসক। তার নাম এহসানুল করিম খান। ১৬ ডিসেম্বরের পর পালাতে গিয়ে কলকাতার দমদম বিমান বন্দরে ধরা পড়েছিল। কিন্তু একদিন পরই তাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছে আরেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার, ঘাতক এহসানুলের ভাই। সালমা হক জানিয়েছেন, সম্ভবতঃ এই লোক এখন বেলজিয়াম অথবা মধ্যপ্রাচ্যের কোথাও আছে।”- এই কথাগুলো উল্লেখ আছে। উল্লেখিত মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের নাম শাহরিয়ার কবীর সাহেবের নিকট জানতে চাই নাই, তবে সালমা হক সাহেবার নিকট জানতে চেয়েছিলাম কিন্তু তিনি তা জানাতে পারেন নাই। ১৫ই নভেম্বর ১৯৭১ তারিখে ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগের টেকনিশিয়ান জনাব আহসান সাহেবের ছেলেকেও ধরে নিয়ে গিয়েছিল মর্মে সালমা হক আমাকে জানিয়েছিলেন। আহসান সাহেব বা তার ছেলের সাথে যোগাযোগের কোন চেষ্টা আমি করি নাই। ডাঃ আজহারুল হক এবং ডাঃ হুমায়ুন কবীর সাহেবের হত্যাকান্ডের বিষয়ে রমনা থানায় যে মামলা হয়েছিল সেই বিষয়ে রমনা থানায় যোগাযোগ করেছি কিন্তু রমনা থানায় ১৯৭১ সালের মামলা সংক্রান্ত কোন নথি না থাকায় এই মামলার ফলাফলের বিষয়ে আমি জানতে পারি নাই। ঢাকার সংশ্লিষ্ট আদালতে এই মামলার তথ্য জানার জন্য আমি যাই নাই। অন্য দুই জায়গায় মামলার এজাহার সমূহের কপি থাকার কথা অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট পুলিশ সার্কেল অফিস এবং এসপি, এসবির নিকট থাকার কথা সেখানে আমি তাহা সংগ্রহের জন্য যাই নাই। ডা: আজহারুল হক সাহেব এবং ডা: হুমায়ুন কবীর সাহেবের হত্যাকান্ডের বিষয়টি এই মামলার তদন্ত রিপোর্ট দাখিলের পূর্বে আমি অবগত ছিলাম, ইহা সত্য নহে। ইহা সত্য নহে যে, আমি ইচ্ছাকৃতভাবে ডা: আজহারুল হক সাহেব এবং ডা: হুমায়ুন কবীর সাহেবের হত্যাকান্ড সংক্রান্ত মামলার তথ্য গোপন করেছি।
আলবদর মূল বইটি উর্দুতে লিখা। উহার বাংলা অনুবাদ “আলবদর” নামক বইটি প্রদর্শনী ২৮/২ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। যে ব্যক্তি এই বইটির বাংলা অনুবাদ করেছে তার নাম প্রদর্শনী ২৮/২ বইয়ে উল্লে খ নাই। এই অনুবাদ গ্রন্থটি বাজারে পাওয়া যায়না। প্রদর্শনী ২৮/২ এর ২৫৬ পৃষ্ঠায় মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের বক্তব্যের দুইটি উদ্ধৃতি দেওয়া আছে। উক্ত উদ্ধৃতি দুইটির একটিতে আবদুল মালেকের ব্যক্তিগত জীবনের অর্থনৈতিক অবস্থার বর্ণনা আছে এবং অন্যটিতে নিজামী সাহেবের সাথে মালেক সাহেবের ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা আছে। উর্দূতে লেখা আলবদর বইটি আমি বিজ্ঞ প্রসিকিটরের নিকট দিয়েছি, কিন্তু তিনি উহা ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেছেন কিনা তাহা আমার জানা নাই। আলবদর বইয়ের লেখক সেলিম মানসুর খালেক ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে ছিলেন কিনা তাহা আমার জানা নাই। প্রদর্শনী ২৮/২ এ সেলিম মানসুর খালেদের প্রদর্শনী ২৮/২ এ সেলিম মানসুর খালেদের পরিচিতি উল্লেখ নাই। ইহা সত্য নহে যে, কোন যৌক্তিক কারণ ছাড়াই আলবদর বইটি ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেছি। প্রদর্শনী ২৮/২ বইয়ে ২৫৬ নাম্বার পৃষ্ঠায় যেখানে মতিউ রহমান নিজামী সাহেবের নাম উল্লেখ আছে সেখানে তার নামের পূর্বে তার পরিচিতি হিসাবে আলবদর শব্দটি উল্লেখ নাই।
দি ভ্যানগার্ড অব দি ইসলামিক রেভুলেশন (প্রদর্শনী- ২৮) এর ৬৬ নাম্বার পৃষ্ঠার শেষ লাইনের আগের লাইনে “উযধশধ টহরাবৎংরঃু৩৮” লেখা আছে। ঐ বইয়ের ২৩৭ নাম্বার পৃষ্ঠায় ৩৮ নাম্বার ক্রমিকে  “ওহঃবৎারবি রিঃয গঁঃর দঁ’ ১-জধযসধহ ঘরুধসর রহ তঠঘঅঞ, ঠড়ষ. ২, ২৩৪-৩৫”  লেখা রয়েছে। উক্ত বইয়ের প্রথম দিকে ীীরর পৃষ্ঠায় ঔঠঘঅঞ এর পূর্ণাঙ্গ শব্দ হিসাবে “ঝধুুরফ গঁমধয়য়রঁ’ ১-জধযসধহ ধহফ ঝধষরস গধহংঁৎ কযধষরফ, বফং, ঔধন ঠঁয-ঘধুরস-র অ’ষধ ঃযব, ২ াড়ষ. (খধযড়ৎব: ওফধৎধযর গধঃনঁ’ধঃ-র ঞধষধনধয, ১৯৮১)” উল্লেখ আছে। ঔঠঘঅঞ াড়ষ. ২, ২৩৪-৩৫ পৃষ্ঠায় কি লেখা আছে তাহা আমি দেখি নাই। ইহা সত্য নহে যে, উল্লেখিত ২৩৪-৩৫ পৃষ্ঠায় নিজামী সাহেবের সাক্ষাৎকারের যে বক্তব্য আছে তাহার উদ্ধৃতি না দিয়ে প্রদর্শনী- ২৮ এ ভুল উদ্ধৃতি দেওয়া আছে তাহা আমি জানার কারণে ঐ বইটি না পড়ার কথা বলছি।
“পাবনা জেলার মুক্তিযুদ্ধের কথা” (প্রদর্শনী ৩৩) নামক বইয়ের ৭৩ পৃষ্ঠার ২৭শে নভেম্বর সাঁথিয়া থানার ধূলাউড়ি হত্যাকান্ডের বর্ণনা দেওয়া আছে, ৬৮ পৃষ্ঠায় ডেমরা ও রূপসী গ্রামে গণহত্যার বর্ণনা আছে, ২১০ পৃষ্ঠায় মাওলানা কাছিম উদ্দিন হত্যাকান্ডের বর্ণনা আছে। এই বর্ণনা সমূহে পাকিস্তান আর্মির স্থানীয় সহযোগিদের নাম উল্লেখ থাকলেও মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের নাম উল্লেখ নাই। এই উল্লেখিত বইয়ের লেখক মো: জহুরুল ইসলাম বিশু জীবিত আছেন। ড. আবদুল আলিম নামে পাবনা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিষয়ে কোন গবেষক আছেন কিনা তাহা আমি জানিনা। (চলবে)

বৃহস্পতিবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৩

মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তার জেরা অব্যাহত রয়েছে।

তাং- ০২-১০-২০১৩ইং
পূনরায় জেরাঃ
মিসবাহুর রহমান চৌধুরী সাহেবের দেওয়া সিরাজুল ইসলাম মতলিব সাহেবের কথিত চিঠির ফটোকপি আমি জব্দ করেছি। আমার জব্দকৃত প্রদর্শনী-১ এর নিচ অংশে অনেকখানি ফাকা জায়গা আছে। আমি যে প্রদর্শনী- ১ জব্দ করেছি এই জব্দকৃত চিঠি সম্পর্কে অন্য কোন তথ্য তিনি আমাকে দেন নাই।
আমি যে সমস্ত পত্রিকা ও বই পত্র জব্দ করেছি সেগুলি জব্দ করার স্থানে গিয়ে ঐ পত্রিকা ও বইপত্র পড়ে এই মামলার সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার পরে জব্দ করেছি। ০৩-০৩-২০১১ইং তারিখে মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরে আমি ১৩.২০ ঘটিকায় গিয়ে ১৭.০০ ঘটিকায় ফেরত আসি। ২৩-১০-২০১১ইং তারিখে বাংলা একাডেমীতে আমি বেলা ১০.০৫ ঘটিকায় গিয়ে ১৪.৩০ ঘটিকায় ফেরত আসি। ১৫-০৩-২০১১ইং এবং ২৪-০৩-২০১১ইং তারিখে আমি বাংলা একাডেমীতে যাই নাই। আমার সহযোগী তদন্তকারী কর্মকর্তা মতিউর রহমান সাহেব সেখানে গিয়েছিলেন কিন্তু কোন অতিরিক্ত কেস ডাইরী না থাকায় আমি বলতে পারছি না তিনি কখন গিয়েছেন এবং কখন ফেরত এসেছেন। ০৩-০৩-২০১১ইং তারিখে এসপি, ডিএসবি কুষ্টিয়ায় আমি যাই নাই এবং অতিরিক্ত কেস ডাইরী না থাকায় ঐ দিনের কার্যক্রম সম্পর্কে আমি কোন তথ্য দিতে পারছি না। ১৫-০৫-২০১১ইং তারিখে বাংলা একাডেমীতে আমি ১১.২০ ঘটিকায় গিয়ে ১৪.৩০ ঘটিকায় ফেরত আসি। ২৯-০৫-২০১১ইং তারিখে বাংলাদেশ প্রেস ইন্সটিটিউটে আমার সহযোগী তদন্তকারী কর্মকর্তা আলতাফুর রহমান সাহেব সেখানে গিয়েছিলেন কিন্তু কোন অতিরিক্ত কেস ডাইরী না থাকায় আমি বলতে পারছি না তিনি কখন গিয়েছেন এবং কখন ফেরত এসেছেন। ০৫-০৭-২০১১ইং তারিখে জাতীয় জাদুঘরে আমি ১০.৩০ ঘটিকায় গিয়ে ১৪.৩০ ঘটিকায় ফেরত আসি। ১৫-০৫-২০১২ইং তারিখে বাংলা একাডেমীতে আমার সহযোগী তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহজাহান কবীর সাহেব গিয়েছিলেন কিন্তু কোন অতিরিক্ত কেস ডাইরী না থাকায় আমি বলতে পারছি না তিনি কখন গিয়েছেন এবং কখন ফেরত এসেছেন। ১৪-০৬-২০১২ইং তারিখে বাংলা একাডেমীতে আমি ১২.৩০ ঘটিকায় গিয়ে ১৪.৩০ ঘটিকায় ফেরত আসি। ০২-০৪-২০১১ইং তারিখে জাতীয় জাদুঘরে আমি ১১.৩০ ঘটিকায় গিয়ে ১৫.৩০ ঘটিকায় ফেরত আসি। ২০-০৪-২০১১, ০১-০৬-২০১১ এবং ০৭-০৬-২০১১ইং তারিখে আমি জাতীয় জাদুঘরে কয়টায় পৌছাই এবং কয়টায় ফেরত আসি তাহা আমি বলতে পারছি না। ০২-০৮-২০১১ইং তারিখে জাতীয় জাদুঘরে আমি ১০.২০ ঘটিকায় গিয়ে ১৭.০০ ঘটিকায় ফেরত আসি। ১০-০৯-২০১১ইং তারিখে জাতীয় জাদুঘরে আমি ১০.২০ ঘটিকায় গিয়ে ১৫.০০ ঘটিকায় ফেরত আসি। ১৭-০৪-২০১১ইং তারিখে বাংলাদেশ প্রেস ইন্সটিটিউটে আমি কয়টায় পৌছাই এবং কয়টায় ফেরত আসি তাহা আমি বলতে পারছি না। ১০-০৯-২০১১ইং তারিখে ১৭৬টি পত্রিকার কাটিং ফটোকপি করতে আমার আনুমানিক সাড়ে তিন থেকে চার ঘন্টা সময় লেগেছে এবং ফটোকপি করার পর আমি সেগুলো জব্দ করেছি। ০২-০৮-২০১১ইং তারিখে ২০৫টি পত্রিকার কাটিং ফটোকপি করতে আমার আনুমানিক পাঁচ ঘন্টা সময় লেগেছে এবং ফটোকপি করার পর আমি সেগুলো জব্দ করেছি। ০৩-০৩-২০১১ইং তারিখে ৩৪টি আইটেম ফটোকপি করতে আমার আনুমানিক চার ঘন্টা সময় লেগেছে এবং ফটোকপি করার পর আমি সেগুলো জব্দ করেছি। ২৩-১০-২০১১ইং তারিখে ২৫৫টি আইটেম ফটোকপি করতে আমার আনুমানিক চার ঘন্টা সময় লেগেছে এবং ফটোকপি করার পর আমি সেগুলো জব্দ করেছি।
তদন্তকালীন সময়ে আমি ডা: এম এ হাসান কর্তৃক লিখিত “পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধী ১৯১” এর প্রথম প্রকাশ ২০০৭, তারেক আলী কর্তৃক লিখিত “The Duel” প্রথম প্রকাশ ২০০৮, মহিতুল আলম ও আবু মোঃ দেলোয়ার হোসেন সম্পাদিত “মুক্তিযুদ্ধে ঢাকা ১৯৭১” প্রথম প্রকাশ ২০১০, অধ্যাপক ডা: এম এ হাসান কর্তৃক লিখিত “যুদ্ধ ও নারী” প্রথম প্রকাশ নভেম্বর ২০০৮, “শীর্ষ পনের পাকি যুদ্ধাপরাধী” প্রথম প্রকাশ ২০০৮ জব্দ করেছিলাম। (চলবে)

পূনরায় জেরা ২টার পর ঃ
ডা: এম এ হাসান কর্তৃক লিখিত “নিরবতার ওপারে কৃষ্ণ মেঘের দিনগুলি” প্রথম প্রকাশ ফেব্রুয়ারী ২০০৬, “যুদ্ধাপরাধীদের তালিকা ও বিচারের অন্বেষন” এবং “একাত্তরের নারী নির্যাতন ইতিহাসের কৃষ্ণ অধ্যায়” এই বইগুলো আমি তদন্তকালে জব্দ করেছি।
মহিউদ্দিন চৌধুরী কর্তৃক লিখিত “সান সেট এট মিড ডে” প্রথম প্রকাশ ১৯৯৮, সাঈদ ওয়ালী রেজা নসর কর্তৃক লিখিত “দি ভ্যানগার্ড অব ইসলামিক রেভুলেশন” (কয়েকটি প্রবন্ধের সমন্বয়) প্রথম প্রবন্ধটি ১৯৯২ সালের শীতকালে প্রকাশিত, মুসা খান জালাজাই কর্তৃক লিখিত “সেকটারিয়ানিজম এন্ড পলিটিকো-রিলিজিয়াস টেরোরিজম ইন পাকিস্তান” প্রথম প্রকাশের সন লেখা নাই, রিভাইসড এডিশন ১৯৯৩ সালে, শাহরিয়ার কবীর কর্তৃক লিখিত “বাংলাদেশ মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা” প্রথম প্রকাশ ১৯৯৮, ড. আহমেদ শরীফ গং কর্তৃক সম্পাদিত “একাত্তরের ঘাতক ও দালালরা কে কোথায়” এর চতুর্থ সংস্করন (প্রথম প্রকাশ- ১৯৮৭), হোসেন হাক্কানী কর্তৃক লিখিত “পাকিস্তান বিটুইন মস্ক এন্ড মিলিটারী” প্রথম প্রকাশ ২০০৫, সেলিম মনসুর খালেদ কর্তৃক লিখিত “আলবদর” প্রথম প্রকাশ ২০১০ এর অনুবাদ, জাহানারা ইমাম কর্তৃক লিখিত “একাত্তরের দিনগুলি” দশম সংস্করন প্রথম প্রকাশ ১৯৮৬ এবং মোঃ জহুরুল ইসলাম বিশু কর্তৃক লিখিত “পাবনা জেলার মুক্তিযুদ্ধের কথা” প্রথম প্রকাশ ২০০৯ বইগুলি জব্দ ও প্রদর্শন করেছি। উল্লেখিত বই সমূহের সম্পাদনা পরিষদের সদস্য ও লেখকদের মধ্যে অধ্যাপক আবু সাঈদ, ডা: এম এ হাসান, আজাদুর রহমান চন্দন, শাহরিয়ার কবীর বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে মুক্তিযুদ্ধকালে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধ সম্পর্কে গবেষনা করেছেন, বিভিন্ন পুস্তক ও প্রবন্ধ লিখেছেন। জনাব শাহরিয়ার কবীর দৈনিক বাংলা এবং সাপ্তাহিক বিচিত্রায় ১৯৭১ সালে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধ সম্পর্কে অনুসন্ধানী কোন রিপোর্ট ১৯৮১ সালে প্রকাশ করেছিলেন কিনা তাহা আমার জানা নাই। শাহরিয়ার কবীর সাহেবকে এই মামলায় আমি সাক্ষী মান্য করেছি। তিনি উক্ত রিপোর্ট সম্পর্কে আমাকে কোন তথ্য দেন নাই। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বরের পর থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত এদেশে মুক্তিযুদ্ধকালে সংঘটিত অপরাধ এবং এই অপরাধের সাথে সম্পর্কিত ব্যক্তিদের নাম উল্লেখে অনেক বই প্রকাশিত হলেও এই মমলায় আমি জব্দ করি নাই। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে যুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী এয়ার ভাইস মার্শাল একে খন্দকার, জেনারেল সি আর দত্ত এবং জেনারেল শফিউল্লাহসহ মাঠ পর্যায়ের অনেক সামরিক অফিসার এখনো জীবিত আছেন। উল্লেখিত ব্যক্তিবর্গসহ মাঠ পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী কোন সামরিক অফিসারকে আমি এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করি নাই এবং সাক্ষীও করি নাই। পাবনার মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক অধ্যাপক আবু সাঈদ সাহেব জীবিত আছেন। পাবনার অন্যান্য মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকরা জীবিত আছেন কিনা তাহা আমি বলতে পারব না। মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ঢাকায় বিচ্ছু বাহিনীর নেতৃত্ব দিতেন কিনা তাহা আমার জানা নাই, তবে তিনি জীবিত আছেন। ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল সাহেব ঢাকা অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কিনা তাহা আমি জানি না। তবে তিনি মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ঢাকা সেক্টর-২ এর অধীনে ছিল কিনা তাহা আমার জানা নাই। কর্ণেল আয়েন উদ্দিন ঢাকা এলাকায় মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন কিনা তাহা আমার জানা নাই। ঢাকা এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের সময় বিচ্ছু বাহিনী নামে একটি গেরিলা গ্রুপ ছিল শুনেছি তবে এর বেশী কিছু আমি জানিনা। যশোর অঞ্চল যে সেক্টরের অধীনে ছিল তার সাব সেক্টর কমান্ডার এসপি মাহবুব উদ্দিন আহমেদ ছিলেন কিনা তাহা আমার জানা নাই। চট্টগ্রাম এবং যশোর অঞ্চলের কোন মুক্তিযোদ্ধা  মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক বা কোন ব্যক্তিকে আমি এই মামলায় সাক্ষী করি নাই।
১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ অপারেশন সার্চলাইট অভিযান শুরু হওয়ার সাথে সাথে গণমাধ্যমের উপর প্রেস সেন্সরশীপ চালু করা হয়েছিল কিনা তাহা আমার জানা নাই। ১৯৭১ সালে সংবাদ পরিবেশনের উপর কোন প্রেস সেন্সরশীপ ছিল কিনা তাহা আমার জানা নাই। ১৯৭১ সালে এদেশে দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক সংবাদ, দৈনিক আজাদ, দৈনিক পূর্বদেশ, দৈনিক সংগ্রাম, দৈনিক পাকিস্তান, দৈনিক অবজারভার, দৈনিক মর্নিং নিউজ নামে পত্রিকাসমূহ চালু ছিল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে দৈনিক সংগ্রামের প্রকাশ বন্ধ হয়ে যায়, দৈনিক পাকিস্তান দৈনিক বাংলায় রূপান্তরিত হয় এবং বাংলার বাণী নামে নতুন একটি পত্রিকা চালু হয়। আমার জানা নাই যে, ঐ পত্রিকা সমূহে ১৯৭১ সালের বা স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে কর্মরত অনেক সাংবাদিক ও কর্মচারী এখনও জীবিত আছেন কিনা। উল্লেখিত সংবাদপত্রসমূহের অফিস ও সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করে আমি একথা জানার চেষ্টা করি নাই যে, ঐ সময়ে কর্মরত কোন সাংবাদিক বা কর্মচারী এখনও জীবিত আছেন কিনা। জনাব এবিএম মুসা ও জনাব আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী ১৯৭১ সালের ১৯৭১ সালের পূর্ব থেকে সাংবাদিকতা করতেন, তারা এখনো জীবিত আছেন এবং তারা এখনো সাংবাদিকতার সাথে জড়িত আছেন।
১৯৭১ সালে বিবিসি এবং ভয়েস অব আমেরিকা বাংলাদেশে কর্মরত ছিল তবে অন্য কোন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বা প্রচার মাধ্যম বাংলাদেশে কর্মরত ছিল কিনা তাহা আমার জানা নাই। ১৯৭১ সালে বিবিসি এবং ভয়েস অব আমেরিকা থেকে প্রচারিত কোন সংবাদে মতিউর রহমান নিজামী সাহেবকে আলবদর প্রধান বলা হয়েছিল মর্মে শুনি নাই। ১৯৮০ সাল পর্যন্ত কোন ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার এই মর্মে প্রচারিত কোন সংবাদ আমি সংগ্রহ করতে পারি নাই যাতে মতিউর রহমান নিজামী সাহেবকে আলবদর বাহিনীর প্রধান বলা হয়েছে। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে সংবাদ প্রচারের সাথে সংশ্লিষ্ট কোন ব্যক্তির সাথে যোগাযোগের আমি চেষ্টা করি নাই। আমি শুনেছি যে, বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ড বিষয়ে সর্বপ্রথম বৃটেনের চ্যানেল-৪ এ একটি ডকুমেন্টারী প্রচারিত হয়েছিল। এই ডকুমেন্টারী প্রস্তুতকারী এখন বাংলাদেশে বসবাস করেন। বৃটেনের চ্যানেল ৪ এ প্রচারিত সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্টারীতে মতিউর রহমান নিজামী সাহেব আলবদর বাহিনীর সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন মর্মে কোন তথ্য আছে কিনা তাহা আমি উক্ত ডকুমেন্টারী না দেখার কারণে বলতে পারছি না।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে ১৯৭১ সালের মানবতা বিরোধী অপরাধ এবং অপরাধের সহিত জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য বিদেশী সাংবাদিক বাংলাদেশে এসিছিলেন কিনা তাহা আমার জানা নাই।
ফাদার রিচার্ড উইলিয়াম টীম এর জবানবন্দী আমার সহযোগী তদন্তকারী কর্মকর্তা মনোয়ারা বেগম তদন্তকালে ঢাকায় লিপিবদ্ধ করেছেন। তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য কোন নির্দেশনা আমি প্রাপ্ত হইনি।
গণতদন্ত কমিশনের রিপোর্ট আমি তদন্তকালে সংগ্রহ করেছি। গণতদন্ত কমিশন রিপোর্ট প্রণয়নের সাথে সংশ্লিষ্ট জনাব শাহরিয়ার কবিরসহ অনেকেই এখনও জীবিত আছেন। শাহরিয়ার কবীর ছাড়া গণতদন্ত কমিশনের কাউকে আমি এই মামলায় সাক্ষী মান্য করি নাই। জনাব শাহরিয়ার কবীর সাহেবকে অত্র মামলায় সাক্ষী হিসেবে হাজির করার জন্য কোন নির্দেশনা আমি পাই নাই।
প্রদর্শনী-২,  জব্দ তালিকার তারিখ ১৫/০৫/২০১১ ইং এর ক্রমিক-১ এর বক্তব্যটি হাতে লিখা এবং বাকীগুলো কম্পিউটারে কম্পোজ করা। প্রদর্শনী-২/১ দৈনিক সংগ্রাম ১৩/০৫/১৯৭১ তারিখের সংখ্যার সংশ্লিষ্ট পত্রিকার উপ-সম্পাদকীয়। ধূমকেতু ছদ্মনামে উপ সম্পাদকীয়টি প্রকাশিত। এই লেখার মধ্যে মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের বক্তব্যের কোন উদ্ধৃতি নাই। প্রদর্শনী-২/২ দৈনিক সংগ্রামের ২৩/৫/১৯৭১ইং তারিখের সম্পাদকীয়, প্রদর্শনী-২/৩ দৈনিক সংগ্রামের ২৮/৫/১৯৭১ ইং তারিখের সম্পাদকীয়, প্রদর্শনী-২/৪ দৈনিক সংগ্রামের ৩/৮/১৯৭১ তারিখের সম্পাদকীয় পত্রিকার কোনটিতেও মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের নাম নাই। (চলবে)


সোমবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তার জেরা চলছে

৩০/৯/২০১৩
মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ তদন্ত কর্মকর্তার জেরা চলছে। আজকের জেরায় অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা যেসব উত্তর দেন তা নিম্নরূপ।

পুনরায় জেরাঃ
তারিখ- ৩০-০৯-২০১৩
কেরানীগঞ্জ থানার মামলায় মতিউর রহমান নিজামী সাহেবকে ৩০-০৬-২০১০ ইং তারিখে গ্রেফতার দেখানো হয়। তদন্ত সংস্থায় নিজামী সাহেবের বিরুদ্ধে কোন ব্যক্তি লিখিত বা মৌখিকভাবে কোন নালিশ দায়ের করেন নাই। আমি নিজেও নিজামী সাহেবের বিরুদ্ধে কোন নালিশ দায়ের করি নাই। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এর রেজিষ্ট্রার মহোদয় কর্তৃক প্রেরিত পল্লবী থানার মামলা নং ৬০(১)০৮ কে আমি কমপ্লেইন্ট ১ তারিখ ২১-০৭-২০১০ হিসাবে গণ্য করেছি। এই কমপ্লেইন্টে আমি মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোঃ মুজাহিদ, মোঃ কামারুজ্জামান ও মোঃ আব্দুল কাদের মোল্লাকে আমি আসামী শ্রেণীভূক্ত করেছি। পল্লবী থানার মামলা নং ৬০(১)০৮ মামলার এজাহারে ঐ চারজন ব্যতীত অন্য যাদের নাম আছে তাদেরকে কমপ্লেইন্ট ১-এ আসামীভূক্ত করি নাই। কেরানীগঞ্জ ও পল্লবী থানার মামলা দুটির জুডিসিয়াল নথি এখনো তদন্ত সংস্থার হেফাজতে আছে। উক্ত মামলা দুটির দায় থেকে মতিউর রহমান নিজামী সাহেবকে অব্যাহতি প্রদানের জন্য মাননীয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বা সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞ আদালতে কোন আবেদন দাখিল করি নাই। ইহা সত্য নহে যে, পল্লবী ও কেরানীগঞ্জের উল্লেখিত মামলা দুটির জুডিসিয়াল নথি বেআইনীভাবে তদন্ত সংস্থায় প্রেরণ করা হয়েছে এবং আমি তা বেআইনীভাবে তদন্ত সংস্থার হেফাজতে নিয়েছি। ইহা সত্য নহে যে, জামায়াতে ইসলামী এবং উহার নেতাদের বিরুদ্ধে সরকারী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে আমি এই মামলায় নালিশ রেকর্ড করেছি। এই মামলার নালিশ রেকর্ড করার পর থেকে মতিউর রহমান নিজামীকে গ্রেফতার করার আবেদন দাখিল করার মধ্যবর্তি সময়ে আমি এই মামলায় কোন সাক্ষীর জবানবন্দী রেকর্ড করি নাই বা এই মামলা সংক্রান্ত কোন দালিল পত্রাদিও জব্দ করি নাই, যদিও আমি গ্রেফতারী পরোয়ানার আবেদনে বলেছি মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, কারণ নালিশ রেকর্ড করার  পরে এবং গ্রেফতারী পরোয়ানার আবেদন দাখিলের মধ্যবর্তী সময়ে আমি কিছু পত্রিকা ও বই পুস্তক পর্যালোচনায় মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রমাণ পেয়েছিলাম। ঐ সময় যে সমস্ত পত্রিকা এবং পুস্তক পর্যালোচনা করেছিলাম তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য দৈনিক সংগ্রামের ১৫-০৯-১৯৭১ এবং ১৪-১১-১৯৭১ তারিখের সংখ্যা এবং একাত্তরের ঘাতক ও দালালেরা কে কোথায়। তদন্ত সংস্থায় নিয়োগ প্রাপ্ত হওয়ার পর আমি বিভিন্ন স্থানে গিয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকা এবং বই পর্যালোচনা পূর্বক তা সংগ্রহ করি। তদন্ত সংস্থায় যোগদানের পর থেকে নালিশ রেকর্ড করা পর্যন্ত আমাকে সুনির্দিষ্ট কোন মামলার তদন্ত ভার দেওয়া হয় নাই এবং আমি নিজেও সুনির্দিষ্ট কোন মামলার তদন্তের জন্য মনোস্থির করি নাই।
পল্লবী থানার মামলার এজাহারকারী ছিলেন আমির হোসেন মোল্লা। তাকে আমি তদন্তকালে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি কিন্তু নিজামী সাহেবের বিরুদ্ধে তাকে সাক্ষী মান্য করিনি। বর্তমান পল্লবী থানা এলাকাটি ১৯৭১ সালে মিরপুর থানা এলাকার অধীনে ছিল কিনা তাহা আমার জানা নাই। রায়ের বাজার ১৯৭১ সালে কোন থানার অন্তর্ভূক্ত ছিল তাহা আমার জানা নাই। রায়ের বাজার বধ্যভূমি ১৯৭১ সালের ঢাকা বাজারের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত ছিল কিনা তাহা আমার জানা নাই। পল্লবী থানার মামলার এজাহারে ১৯৭১ সালে সংঘটিত দুইটি ঘটনার বর্ণনা দেওয়া হয়েছিল। তন্মধ্যে প্রথম ঘটনাটি ঘটেছিল ২৪-০৪-১৯৭১ তারিখে ফজরের নামাজের পর আলব্দি গ্রামে। অন্য ঘটনাটি ১৮-১২-১৯৭১ তারিখে মিরপুরের কাদের মোল্লার আস্তানায় ঘটার কথা বলা হয়েছে, ঘটনাস্থল মিরপুরের বোটানিকেল গার্ডেনের পশ্চিম পাশে। এই মামলার নালিশ রেকর্ড করার পূর্বে পল্লবী থানার মামলায় কয়জন তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত করেছেন তাহা আমি বলতে পারব না। আমার তদন্তকালীন সময়ে ঐ সব তদন্তকারী কর্মকর্তা কয়জন সাক্ষীর জবানবন্দী রেকর্ড করেছিলেন বা কোন আলামত উদ্ধার করেছিলেন কিনা সেই বিষয়ে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করি নাই। পল্লবী থানার মামলার এজারে ১৪ ব্যক্তিকে নাম ঠিকানা সহ সাক্ষী মান্য করা আছে। মানিত সাক্ষী গইজুদ্দিন মোল্লা, আব্দুস ছাত্তার মোল্লা, ফজলুল হক, আলামত হোসেন ব্যাপারী, মোহাম্মদ আলী মতবর, মুক্তিযোদ্ধা কামাল উদ্দিন, কদম আলী বেপারী, আনার উদ্দিন বেপারী, হাজী আম্বর আলী মোল্লা, মতিউর রহমান মোল্লা, রিয়াজ উদ্দিন ফকির, জুমন মোল্লা এবং হাজী আব্দুর রশিদ মোল্লাদের মধ্যে আমি অত্র মামলায় কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করি নাই। এই মামলার কেস ডাইরী অক্ষত অবস্থায় আমার নিকট সংরক্ষিত আছে। পল্লবী থানার মামলায় যে দুইটি ঘটনার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে সেই দুইটি ঘটনাস্থল আমি মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের মামলা তদন্তকালে পরিদর্শন করি নাই।
কেরানীগঞ্জ থানার মামলা নং- ৩৪(১২)২০০৭ এর এজাহারে নিজামী সাহেব দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে ১৫ই আগষ্ট ১৯৭৫ পর্যন্ত আটক থাকার যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে সেই বিষয়ে আমি তদন্ত করেছি তবে তিনি কোন মামলায় আটক ছিলেন তাহা পাই নাই। ঐ মামলার এজাহারকারী বা মানিত কোন সাক্ষীকে অত্র মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করি নাই বা সাক্ষী মান্য করি নাই। কেরানীগঞ্জ থানার মামলায় উল্লেখিত ঘটনাস্থল অত্র মামলার তদন্তকালে পরিদর্শন করি নাই বা তদন্ত সংক্রান্তে কেরানীগঞ্জ থানার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাদেরকেও জিজ্ঞাসাবাদ করি নাই। লারকানা ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় অপারেশন সার্চ লাইট প্রণয়ন করা হয়। অপারেশন সার্চ লাইটের প্রণেতা রাও ফরমান আলী কিনা, তা আমার সঠিক জানা নাই। জেনারেল টিক্কা খান এই অপারেশন সার্চলাইটের সাথে জড়িত ছিলেন তবে জেনারেল হামিদ যুক্ত ছিল কিনা তাহা আমার জানা নাই। অপারেশন সার্চ লাইট সফলভাবে কার্যকর হয়েছে মর্মে ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ কোন রিপোর্ট দাখিল করা হয়েছিল কিনা তাহা আমার জানা নাই। অপারেশন সার্চ লাইট প্রণয়নের সাথে কোন বাঙ্গালীর সংশ্লিষ্টতা আমি তদন্তকালে পাই নাই।
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ থেকে টিক্কা খানের গভর্ণর হিসাবে শপথ গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানের গভর্ণর হিসাবে দায়িত্বে ছিলেন ডা. আব্দুল মালেক। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে কে ছিলেন তাহা আমি বলতে পারব না। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকা জেলার মার্শাল ল’ এডমিনিষ্ট্রেটর এর দায়িত্বে কে কে ছিলেন বিষয়টি তদন্ত না করায় এই বিষয়ে আমি কোন মন্তব্য করতে পারছি না। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ তারিখে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের জিওসি কে ছিলেন তাহা আমি বলতে পারব না। ১৯৭১ সালের ১৪ই নভেম্বর থেকে ১৪ই ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের জিওসি কে ছিলেন তাহাও আমি বলতে পারব না। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে চট্টগ্রাম, সিলেট ও যশোর জেলার সামরিক আইন প্রশাসক এর দায়িত্বে কারা ছিলেন তাহা আমি তদন্ত না করায় বলতে পারব না। পাবনা জেলার সামরিক আইন প্রশাসক হিসাবে এপ্রিল ১৯৭১ থেকে জুন ১৯৭১ পর্যন্ত ছিলেন মেজর হামিদ, জুলাই ১৯৭১ থেকে আগস্ট ১৯৭১ পর্যন্ত ছিলেন মেজর নেওয়াজ এবং সেপ্টেম্বর ১৯৭১ থেকে ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন মেজর আসলাম মাহমুদ খান। ১৯৭১ সালে পাবনায় কোন ক্যান্টনমেন্ট ছিল না। ১৯৭১ সালে পাবনায় যে আর্মি ক্যাম্প ছিল সেটি নিয়ন্ত্রিত হতো বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট থেকে। ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে পাবনা নূরপুর ওয়াপদা আর্মি ক্যাম্পের দায়িত্বে কে ছিলেন তাহা আমি বলতে পারব না। কারণ তদন্তকালে এ বিষয়ে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে কোন আর্মি অফিসারের নেতৃত্বে আর্মিরা আরিচা থেকে গিয়ে নগরবাড়ী ঘাট দখল করে তাহা আমার জানা নাই, কারণ তদন্তকালে এ বিষয়ে আমি কোন তথ্য পাই নাই। ১৯৭১ সালে পাবনার পাবনা সদর, সাঁথিয়া, ঈশ্বরদী ও বেড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে কে ছিলেন তাহা আমার জানা নাই, কারণ তদন্তকালে এ বিষয়ে আমি কোন তথ্য সংগ্রহ করতে পারিনি।
মতিউর রহমান নিজামী সাহেব ১৯৭১ সালের পুরো সময়েই একজন বেসামরিক ব্যক্তি ছিলেন।
১৯৭১ সালে আর্মি এ্যাক্ট, ১৯৫২ অনুযায়ী রাজাকার ছাড়া অন্য কোন সংগঠনকে সরকারীভাবে সহায়ক বাহিনী হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় নাই, তবে আলবদর, আল শামস ও মুজাহিদ বাহিনীকে বেসরকারীভাবে সহায়ক বাহিনী হিসাবে ব্যবহার করা হতো। ইস্ট পাকিস্তান সিভিল আর্মড ফোর্সেস কোন সময়ে তৈরী করা হয় তাহা আমার জানা নাই। ১৯৭১ সালে ২রা আগস্ট আনসার বাহিনী বিলুপ্ত হওয়া পর্যন্ত পাকিস্তান আর্মির সহায়ক বাহিনী হিসাবে কাজ করেছে। মুজাহিদ বাহিনীর সদস্যরা সাধারণভাবে বিহারী সম্প্রদায়ের লোক ছিল। মিরপুর, মোহাম্মদপুরসহ বিহারী অধ্যূষিত সকল এলাকায় মুজাহিদ বাহিনীর কার্যক্রম চালু ছিল। এয়ার ফোর্স এ্যাক্ট ১৯৫৩ এবং নেভী অর্ডিন্যান্স, ১৯৬১ এর অধীনে কোন সহায়ক বাহিনী গঠন করা হয়েছিল কিনা তাহা আমি বলতে পারব না। পাঞ্জাব রেজিমেন্ট পাকিস্তান আর্মির সহায়ক বাহিনী হিসাবে কর্মরত ছিল। বিধি মোতাবেক রাজাকার বাহিনীর দুইটি উইং হিসাবে আলবদর এবং আলশামস উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে রাজাকার, আলবদর ও আল শামস পৃথক পৃথক বাহিনী হিসাবে কর্মরত ছিল। ১৯৭১ সালের ২রা আগস্ট সরকারীভাবে রাজাকার বাহিনী গঠিত হওয়ার পর উহার প্রধান কে ছিলেন এবং পদবী কি ছিল তদন্তকালে তা সংগ্রহ করলেও এই মুহূর্তে তা বলতে পারছি না। মুজাহিদ এবং আল শামস বাহিনীর প্রধান কে ছিলেন এবং তাদের পদবী কি ছিল তাহাও আমি তদন্তাকালে সংগ্রহ করেছিলাম তবে এই মুহূর্তে বলতে পারছি না।
কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটি এবং ঢাকা জেলা ও শহর কমিটি গঠেেনর মিটিংয়ে মতিউর রহমান নিজামী উপস্থিত ছিলেন মর্মে কোন তথ্য আমি তদন্তকালে পাই নাই। কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটি এবং ঢাকা জেলা ও শহর কমিটির কোন মিটিংয়ে উপস্থিত হয়ে মতিউর রহমান নিজামী সাহেব বক্তব্য দিয়েছিলেন এই ধরনের কোন তথ্য প্রমাণ আমি তদন্তকালে পাই নাই। যশোর জেলা ও মহাকুমা এবং চট্টগ্রাম জেলা, শহর ও মহকুমার শান্তি কমিটির কোন মিটিংএ মতিউর রহমান নিজামী সাহেব কোন বক্তব্য দিয়েছিলেন এই ধরনের কোন তথ্য আমি তদন্তকালে পাইনাই। মিরপুর এবং মোহাম্মদপুর এলাকার শান্তি কমিটির ও মিরপুর এলাকায় রাজাকার, আল শামস এবং মুজাহিদ বাহিনীর দায়িত্বে কে ছিলেন তাহা আমি তদন্তকালে সংগ্রহ করতে পারি নাই।
প্রদর্শনী-১ এ সিরাজুল ইসলাম মতলিব সভাপতি, ইসলামী ছাত্রসংঘ, কোন এলাকার বা কোথাকার সভাপতি এই চিঠিতে তাহা উল্লেখ নাই। সিরাজুল ইসলাম মতলিব সাহেবের সাথে তদন্তকালে আমার দেখা হয়েছিল। তদন্তকালে তাকে নোটিশ দিয়ে ডেকে নিয়ে এসে তার জবানবন্দী আমি রেকর্ড করেছিলাম। তার হাতের লেখা সংগ্রহ করে বিশেষজ্ঞের মতামত সংগ্রহের জন্য তা প্রেরণ করি নাই। আমি হস্তলিপি বিশারদ নই। আমার নিকট প্রদত্ত জবানবন্দীতে সিরাজুল ইসলাম সাহেব প্রদর্শনী- ১ চিঠিটি লেখার কথা অস্বীকার করেছেন। মেজর ফখরুল ইসলাম তৎকালীন মৌলভীবাজার মহকুমার সেনাবাহিনীর দায়িত্বে ছিলেন। এই তথ্যটি আমি মৌলভী বাজার মহকুমা শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান এডভোকেট মিসির উল্লাহর জবানবন্দী থেকে পেয়েছি। তবে তাকে আমি এই মামলায় সাক্ষী মান্য করি নাই। মিসির উল্লাহ মুসলিম লীগ করতেন। পিডব্লিউ-১ মিসবাহুর রহমান চৌধুরীর পিতা মরহুম আব্দুর রহমান চৌধুরী মুসলিম লীগ করতেন কিনা তাহা আমার জানা নাই। মৌলভীবাজার জেলার ইতিহাস নামক বইটি আমি পর্যালোচনা করি নাই। মিসবাহুর রহমান চৌধুরী রাজাকার ছিলেন কিনা তাহা আমি জানিনা। তবে তিনি ইসলামী ছাত্রসংঘের সদস্য ছিলেন। প্রদর্শনী-১ এর মূল চিঠিটি যে এ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম খান সাহেবের নিকট আছে বলা হয়েছে তার ঠিকানা সংগ্রহের জন্য মিসবাহুর রহমান সাহেবেকে ৬বার অনুরোধ করেছি, কিন্তু তিনি পরে দিবেন বলে ঠিকানা দেননি। এ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম খান সাহেবের এই চিঠিটি আছে মর্মে মিসবাহুর রহমান চৌধুরী কোন থানায় জিডি করেছিলেন মর্মে আমাকে কোন তথ্য দেন নাই। (চলবে)


বৃহস্পতিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দী গ্রহণ শেষে জেরা শুরু


২৬/৯/২০১৩
মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দী গ্রহণ শেষে আজ জেরা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ।

২৬/৯/২০১৩ তারিখ দ্বিতীয় দিনের মত পুনরায়  জবানবন্দী গ্রহণ :
০৩-০৩-২০১১ইং তারিখে তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ মতিউর রহমান কর্তৃক কুষ্টিয়া জেলা বিশেষ শাখা হইতে জব্দকৃত ফোর্টনাইটলি রিপোর্ট অন পলিটিকেল সিচিউশন এপ্রিল ১৯৭১ টু নভেম্বর ১৯৭১ জব্দ করিলে তাহা অত্র মামলায় ১৬-০৩-২০১১ইং তারিখে জব্দতালিকা হিসাবে গ্রহন করি যাহা জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমানপত্র এর ৯ম খন্ডের ২৬৩৭-২৬৪১ পৃষ্ঠায় সন্নিবেশিত আছে। এই সেই জব্দতালিকা যাহা প্রদর্শনী-১৭ হিসাবে চিহ্নিত হইল। আমি মোঃ মতিউর রহমান তদন্তকারী কর্মকর্তার দস্তখত চিনি। জব্দনামায় এই তার দস্তখত প্রদর্শনী-১৭/১ হিসাবে চিহ্নিত হইল। উক্ত জব্দনামায় উল্লেখিত ০১ হইতে ১৬ নম্বর আইটেমের দলিল পত্রাদি উক্ত ৯ম খন্ডের ২৬৫০ পৃষ্ঠা হইতে ২৭৯৮ পৃষ্ঠায় সন্নিবেশিত আছে। যাহা প্রদর্শনী- ১৮-১৮/১৫ সিরিজ হিসাবে চিহ্নিত হইল। উক্ত জব্দনামায় উল্লেখিত ৫,৯ ও ১২ নং ক্রমিকে মতিউর রহমান নিজামী সাহেব ইসলামী ছাত্র সংঘের সভাপতি হিসাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে ইসলামী ছাত্র সংঘের কর্মী রাজাকারদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতা করেছিল মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে।
০৮-০৫-১৯৭১ইং তারিখে সাথিয়া থানার করমজা গ্রামে পাকিস্তানী দখলদার হানাদার বাহিনী ও তার সহযোগীদের হাতে মেগা ঠাকুরসহ ০৮ জনকে গুলি করে হত্যা করে। তাহাদের মৃত দেহ মেগা ঠাকুরের বাড়ির আঙ্গিনায় কুপের ভিতর মাটি চাপা দেওয়া হয়। ০৭-১২-২০০০ইং তারিখে সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাঈদ সাহেব, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে উক্ত কূপটি খুড়িয়ে আট জন নিহত ব্যক্তির কংকাল উদ্ধার করিয়া সাথিয়া থানার মালখানায় সংরক্ষিত রাখা হয়। ০৯-০৩-২০১১ইং তারিখে আমি সাথিয়া থানার মালখানা হইতে উক্ত কংকাল গুলির হাড়গোড় জব্দনামা মূলে জব্দ করি। এই সেই জব্দতালিকা প্রদর্শনী-১৯ এবং উহাতে আমার দস্তখত প্রদর্শনী-১৯/১ হিসাবে চিহ্নিত হইল। জব্দকৃত হাড়গোড় গুলি সাথিয়া থানার মালখানা অফিসার এসআই রেজাউল করিম এর নিকট জিম্মনামা মূলে জিম্মায় প্রদান করি। এই সেই জিম্মানামা প্রদর্শনী-২০ এবং উহাতে এসআই রেজাউল করিমের দস্তখত প্রদর্শনী-২০/১ হিসাবে চিহ্নিত হইল।
১৫-০৩-২০১১ইং তারিখে আমার সহযোগী তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ মতিউর রহমান সাহেব বাংলা একাডেমী থেকে দৈনিক অবজারভার প্রতিকার বিভিন্ন তারিখে মোট ৩০টি পেপার কাটিং-এর সত্যায়িত ফটোকপি জব্দনামা মূলে জব্দ করেন। এই সেই জব্দনামা প্রদর্শনী-২১ এবং উহাতে মোঃ মতিউর রহমান সাহেবের দস্তখত প্রদর্শনী-২১/১ হিসাবে চিহ্নিত হইল (৮ম খন্ডের ২৫৫৯-২৫৬১ পৃষ্ঠায় সন্নিবেশিত আছে)। এই সেই জব্দকৃত ৩০টি পেপার কিপিং যাহা প্রদর্শনী-২২-২২/২৯ হিসাবে চিহ্নিত হইল (যাহা ৮ম খেন্ডর ২৫৬২ পৃষ্ঠা থেকে ২৬০০ পৃষ্ঠায় সন্নিবেশিত আছে)।
২৪-০৩-২০১১ইং তারিখে আমার সহযোগী তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ মতিউর রহমান সাহেব বাংলা একাডেমী থেকে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার বিভিন্ন তারিখে মোট ২৫টি পেপার কিপিং-এর সত্যায়িত ফটোকপি জব্দনামা মূলে জব্দ মূলে জব্দ করেন। এই সেই জব্দনামা প্রদর্শনী-২৩ এবং উহাতে মোঃ মতিউর রহমান সাহেবের দস্তখত প্রদর্শনী-২৩/১ হিসাবে চিহ্নিত হইল (৮ম খন্ডের ২৬০১-২৬০৩ পৃষ্ঠায় সন্নিবেশিত আছে। এই সেই জব্দকৃত ২৫টি পেপার কিপিং যাহা প্রদর্শনী-২-২৪/২৪ হিসাবে চিহ্নিত হইল (যাহা ৮ম খন্ডের ২৬০৪ থেকে ২৬৩৭ পৃষ্ঠায় সন্নিবেশিত আছে)।
২৯-০৫-২০১১ইং তারিখে আমার সহযোগী তদন্তকারী কর্মকর্তা জেড এম আলতাফুর রহমান বাংলাদেশ প্রেস ইন্সটিটিউট থেকে দৈনিক ভোরের কাগজ পত্রিকার বিভিন্ন তারিখে মোট ১০টি পেপার কিপিং-এর সত্যায়িত ফটোকপি জব্দনামা মূলে জব্দ করেন। এই সেই জিম্মানামা প্রদর্শনী-২৫ এবং উহাতে জেড এম আলতাফুর রহমান সাহেবের দস্তখত প্রদর্শনী-২৫/১ হিসাবে চিহ্নিত হইল (৯ম খন্ডের ২৯২৮ পৃষ্ঠায় সন্নিবেশিত আছে)। জব্দকৃত ১০টি পেপার কিপিং-এর মধ্যে ০১-১১-২০০৭ইং তারিখের ভোরের কাগজ পত্রিকার পেপার কিপিং যাহা প্রদর্শনী- ২৬ হিসাবে চিহ্নিত হইল (যাহা ৯ম খন্ডের ২৯৩৬-২৯৩৭ পৃষ্ঠায় সন্নিবেশিত আছে)।
০৯-০৬-২০১১ ইং তারিখে আমি সাগর পাবলিশার্স, ২৬ নাটক স্মরণী, নিউ বেইলী রোড, ঢাকা থেকে ০৮টি বই জব্দনামা মূলে জব্দ করি। এই সেই জব্দনামা প্রদর্শনী- ২৭ এবং উহাতে আমার দস্তখত প্রদর্শনী- ২৭/১ হিসাবে চিহ্নিত হইল (৯ম খন্ডের ২৯৫১-২৯৫২ পৃষ্ঠায় সন্নিবেশিত আছে)। সেই জব্দকৃত ০৮টি বইয়ের মধ্যে জব্দনামায় উল্লেখিত ০১ নং ক্রমিকের বই প্রদর্শনী- ২৮, ৪ নং ক্রমিকের বই প্রদর্শনী- ২৮/১, ৬ নং ক্রমিকের বইয়ের বাংলা অনুবাদ প্রদর্শনী- ২৮/২, ৮ নং ক্রমিকের বই প্রদর্শনী- ২৮/৩ হিসাবে চিহ্নিত হইল।
মামলাটি আমি সরেজমিনে তদন্ত করে তদন্তকালে প্রাপ্ত সাক্ষ্য ও দালিলিক প্রমাণাদিতে ১৯৭১ সালের জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের সমগ্র পাকিস্তানের সভাপতি ও আলবদর বাহিনীর প্রধান তথা এস সুপিরিয়র সিভিলয়ান লিডার আসামী মতিউর রহমান নিজামী, পিতা- মৃত- লুৎফর রহমান, সাং- মনমথপুর, থানা- সাথিয়া, জেলা- পাবনা বর্তমান ঠিকানা বাড়ি নং- ৬০, রোড নং- ১৮, বনানী, থানা- গুলশান, ঢাকা এর বিরুদ্ধে দখলদার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ও তাদের অপরাপর সহযোগী বাহিনীর দ্বারা বিশেষত শান্তি কমিটি, রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনী দ্বারা পাবনা জেলাসহ সারা বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩ এর ৩ (২) ধারার অধিনে মানবতাবিরোধী অপরাধ তথা- বেসামরিক জনসমষ্টির বিরুদ্ধে নরহত্যা, গণহত্যা, বিতাড়ন, আটক, শারীরিক নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ, লুণ্ঠন, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ব্যক্তি সমষ্টিকে সম্পূর্ণ বা আংশিক হত্যা করিয়া উল্লেখিত আইনের ৩(২) ধারার (ধ) (প) (ম) মোতাবেক মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকিয়া প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতার অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় মাননীয় ট্রাইব্যুনালের বিচারের উদ্দেশ্যে ৩০-১০-২০১১ ইং তারিখে বিজ্ঞ চীফ প্রসিকিউটর, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা বরাবরে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করি।
৩০-১০-২০১১ ইং তারিখে অত্র মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার পর আসামী মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সাক্ষ্য সংগ্রহের চেষ্টা অব্যাহত রাখি। অতিরিক্ত সাক্ষ্য প্রমাণ সংগ্রহকালে আমি বিগত ২৬-০৮-২০১২ ইং তারিখে সাগর পাবলিশার্স, ২৬ নাটক স্মরণী, বেইলী রোড, ঢাকা থেকে জব্দ নামা মূলে শাহরিয়ার কবীর কর্তৃক লিখিত ‘বাংলাদেশে মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা’ নামক বইটি জব্দ করি। এই সেই জব্দনামা প্রদর্শনী- ২৯ এবং উহাতে আমার দস্তখত প্রদর্শনী- ২৯/১ হিসাবে চিহ্নিত হইল। এই সেই জব্দকৃত বই প্রদর্শনী- ৩০ হিসাবে চিহ্নিত হইল।

আমি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মূসা খান জালাজাই কর্তৃক লিখিত
Sectarianism and Politico- Religious Terrorism in Pakistan’ নামক বইটি সংগ্রহ করি। এই সেই বই প্রদর্শনী- ৩১ হিসাবে চিহ্নিত হইল। (চলবে)

২৬-০৯-২০১৩ ইং ০২.০০ টায় পুনরায় জবানবন্দী শুরুঃ
২৮-০৫-২০১৩ ইং তারিখে সাগর পাবলিশার্স, ২৬ নাটক স্মরণী, বেইলী রোড, ঢাকা থেকে মোঃ জহরুল ইসলাম বিশু কর্তৃক লিখিত ‘পাবনা জেলার মুক্তিযুদ্ধের কথা’ নামক বইটি জব্দনামা মূলে জব্দ করি। এই সেই জব্দতালিকা প্রদর্শনী- ৩২ এবং উহাতে আমার দস্তখত প্রদর্শনী- ৩২/১ হিসাবে চিহ্নিত হইল। এই সেই বইটি প্রদর্শনী- ৩৩ হিসাবে চিহ্নিত হইল।
১০-০৭-২০১৩ ইং তারিখে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর থেকে ডঃ আহম্মদ শরীফ গং কর্তৃক সম্পাদিত ‘একাত্তরের ঘাতক ও দালালরা কে কোথায়’ নামক বইটিসহ অপর একটি রিপোর্ট জব্দনামা মূলে জব্দ করি। এই সেই জব্দতালিকা প্রদর্শনী- ৩৪ এবং উহাতে আমার দস্তখত প্রদর্শনী- ৩৪/১ হিসাবে চিহ্নিত হইল। এই সেই বইটি প্রদর্শনী- ৩৫ হিসাবে চিহ্নিত হইল।
২৪-০৭-২০১৩ ইং তারিখে সাগর পাবলিশার্স, ২৬ নাটক স্মরণী, বেইলী রোড, ঢাকা থেকে জাহানারা ইমাম কর্তৃক লিখিত ‘একাত্তরের দিনগুলি’ নামক বইটি জব্দনামা মূলে জব্দ করি। এই সেই জব্দতালিকা প্রদর্শনী- ৩৬ এবং উহাতে আমার দস্তখত প্রদর্শনী- ৩৬/১ হিসাবে চিহ্নিত হইল। এই সেই বইটি প্রদর্শনী- ৩৭ হিসাবে চিহ্নিত হইল।
আমার সহযোগী তদন্তকারী কর্মকর্তা মনোয়ারা বেগম, ১০-০৩-২০১১ ইং তারিখে সাক্ষী শ্যামলী নাসরীন চৌধুরী ও ২৫-০৮-২০১২ ইং তারিখে সৈয়দা সালমা মাহমুদ ওরফে হক এর জবানবন্দী লিপিবদ্ধ করেন। আমি ৩০-০৬-২০১২ ইং তারিখে সাক্ষী মোঃ জানে আলম ওরফে জানু, ১৬-০৫-২০১৩ ইং তারিখে সাক্ষী আলহাজ্ব তহুরুল আলম মোল্লা, ১৭-০৫-২০১৩ ইং তারিখে সাক্ষী মোঃ জহুরুল হক, মোঃ ইউনুস আলী বিশ্বাস ও মোঃ আবু সামা ফকির, ১৯-০৫-২০১৩ ইং তারিখে সাক্ষী মোঃ শাহজাহান আলী এর জবানবন্দী লিপিবদ্ধ করি।
আমি ০৬-১১-২০১০ ইং তারিখে সাক্ষী শংকর হালদার ও মোঃ আনছার প্রামাণিক এবং ২৭-০৮-২০১১ ইং তারিখে সাক্ষী সমর চন্দ্র কুন্ডু এর জবানবন্দী লিপিবদ্ধ করি। উক্ত সাক্ষী শংকর হালদার ২৭-০২-২০১২ ইং তারিখে, মোঃ আনছার আলী প্রামাণিক ২৫-০৫-২০১৩ ইং তারিখে এবং সাক্ষী সমর চন্দ্র কুন্ডু ১৬-০২-২০১২ ইং তারিখে মৃত্যুবরণ করেন। আমার নিকট সাক্ষী শংকর হালদারের প্রদত্ত জবানবন্দী প্রদর্শনী- ৩৮, সাক্ষী মোঃ আনছার প্রমাণিকের প্রদত্ত জবানবন্দী প্রদর্শনী- ৩৯ এবং সাক্ষী সমর চন্দ্র কুন্ডুর প্রদত্ত জবানবন্দী প্রদর্শনী- ৪০ হিসাবে চিহ্নিত হইল। ইহাই আমার জবানবন্দী।


জেরা- ঃ
এই মামলার আসামী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী সাহেবকে ২০১০ সালের ২৯শে জুন রেজাউল হক চাদপুরীর দায়ের করা একটি মামলায় প্রথম গ্রেফতার করা হয়েছিল কিনা তাহা আমার জানা নাই। এই রেজাউল হক চাদপুরী সাহেব বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিলের জন্য মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন কিনা তাহা আমার জানা নাই। পল্লবী থানার মামলা ৬০(১)২০০৮ মামলাটির জুডিশিয়াল রেকর্ড আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রেজিষ্ট্রার মহোদয়ের কার্যালয় থেকে তদন্ত সংস্থায় প্রেরণের পূর্বে অন্য কোন মামলার জুডিশিয়াল রেকর্ড তদন্ত সংস্থায় প্রেরণ করা হয় নাই। উক্ত মামলার সর্বশেষ তদন্তকারী কর্মকর্তা হচ্ছেন সিআইডি এর ইন্সপেক্টর নুরুল ইসলাম সিদ্দিকী। ঐ মামলায় মতিউর রহমান নিজামী সাহেবকে ৩--০৬-২০১০ইং তারিখে গ্রেফতারের আবেদন জানানো হয়। বিজ্ঞ সিএমএম ঢাকা সি, আর মামলা নং- ১০১২/১০ ধারা ২৯৮/১০৯ দঃবিঃ গ্রেফতারী পরোয়ানা মুলে প্রথমে নিজামী সাহেবকে গ্রেফতার করা হয়। তৎপর তাকে পল্লবী থানার মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়।


বুধবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু


২৫/৯/২০১৩
জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে ২৬ তম সাক্ষী হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক খানের সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে আজ।

জবানবন্দী

আমার নাম মোঃ আব্দুর রাজ্জাক খান, আমার বয়স আনুমানিক ৫৯ বৎসর।
আমি বাংলাদেশ পুলিশের একজন এএসপি। আমি অত্র মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।  গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্মারক নং- স্বঃ মঃ (আইন-২)/তদন্তকারী সংস্থা/১-৫/২০১০/১০১ তারিখ ২৫-০৩-২০১০ইং এর প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আমাকে তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসাবে নিয়োগ প্রদান করা হয়। সেই মোতাবেক আমি ২৮-০৩-২০১০ইং তারিখে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তদন্ত সংস্থায় যোগদান করি এবং বর্তমানে কর্মরত আছি। তদন্ত সংস্থায় কর্মরত থাকিয়া মামলার তদন্তের প্রস্তুতিকালে  বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও পটভূমি সংক্রান্তে বিভিন্ন বই ও পত্রিকার সংশ্লিষ্ট অংশ পাঠ পূর্বক সংগ্রহ করি। ২১-০৭-২০১০ইং তারিখে মাননীয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিষ্ট্রার মহোদয়ের অফিসের মাধ্যমে পল্লবী থানা (ডিএমপি) মামলা নং- ৬০ তারিখ ২৫-০১-২০০৮ ধারা ১৪৮/৪৪৮/৩০২/৩৪/২০১/৩২৬/৩০৭/৪৩৬ দঃ বিঃ এর জুডিসিয়াল নথি পৃষ্ঠা ০১-৮৮ পর্যন্ত প্রাপ্ত হইয়া তদন্ত সংস্থা ডাইরী নং- ১০১(১) তারিখ ২১-০৭-২০১০ইং মোতাবেক পত্র পাপ্তি রেজিষ্ট্রারে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। অতঃপর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এর ১৫ জুলাই ২০১০ এর বিধি ০৫ এর বিধান অনুযায়ী তদন্ত সংস্থায় রক্ষিত কমপ্লেইন্ট রেজিষ্ট্রারে ক্রমিক নং- ০১ তারিখ ২১-০৭-২০১০ হিসাবে অন্তর্ভূক্ত করা হয় এবং ঐ তারিখে আমাকে তদন্ত সংস্থা থেকে অত্র মামলার তদন্ত ভার দেওয়া হয়। জুডিসিয়াল নথি প্রাপ্তির পর নথিতে থাকা পল্লবী থানার মামলা নং- ০৬(১)২০০৮ এর এজাহার নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করিয়া আসামী ১। মতিউর রহমান নিজামী, ২। আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, ৩। মুহাম্মদ কামারুজ্জামান এবং ৪। আব্দুল কাদের মোল্লাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস্) আইন, ১৯৭৩ এর ৩(২) ধারার উপাদান বিদ্যমান থাকায় আমি উক্ত আইন ও বিধি মোতাবেক অত্র মামলার তদন্ত কাজ শুরু করি।
২৫-০৭-২০১০ইং তারিখে মাননীয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিষ্ট্রার অফিসের স্মারক নং- আন্তঃ অপঃ ট্রাইঃ/৯৮/১০ তারিখ ২২-০৭-২০১০ইং মোতাবেক কেরানীগঞ্জ থানা (ঢাকা) মামলা নং- ৩৪ তারিখ ৩১-১২-২০০৭ ধারা ৪৪৭/৪৪৮/৪৩৬/৩০২/১০৯/১১৪ দঃ বিঃ এর জুডিসিয়াল নথি পৃষ্ঠা ০১-৩০ পর্যন্ত প্রাপ্ত হইয়া তদন্ত সংস্থার ডাইরী নং- ১০৮ তারিখ ২৫-০৭-২০১০ইং মোতাবেক পত্র প্রাপ্তি রেজিষ্ট্রারে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। উক্ত মামলার এজাহার পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, এজাহারের ক্রমিক নং-১ এ আসামী মতিউর রহমান নিজামীর নাম উল্লেখ আছে। তদন্তকালে পল্লবী ও কেরানীগঞ্জ থানার এজাহার দুটি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা কালে এবং তদন্তের পূর্ব প্রস্তুতিকালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও পটভূমি এবং দৈনিক সংগ্রামসহ অন্যান্য পত্রিকা পর্যালোচনা কালে প্রতিভাত হয় যে, ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ-এর পর থেকে ১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১ পর্যন্ত দখলদার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সহযোগীতায় অত্র মামলার আসামী মতিউর রহমান নিজামী পাকিস্তান ইসলামী ছাত্র সংঘের সভাপতি পদে থাকিয়া বিভিন্ন জেলায় গমন করিয়া উষ্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান করিয়া শান্তি কমিটি, রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনীর সদস্যদের মনে ঘৃণা ও প্রতিহিংসার উদ্রেক করাইয়া আলবদর বাহিনীর প্রধান হিসাবে পাবনা জেলাসহ সমগ্র বাংলাদেশে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতা বিরোধী সকল অপরাধের সহিত সরাসরি জড়িত ছিলেন।
ইতিপূর্বে আসামী মতিউর রহমান নিজামী কেরানীগঞ্জ থানার মামলা নং- ৩৪(১২)২০০৭ এবং পল্লবী থানার মামলা নং- ৬-(১)২০০৮ সংক্রান্তে গ্রেফতার হইয়া জেলখানায় আটক থাকায় তাহার কর্তৃক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ৩(২) ধারার অপরাধ সংঘটিত হওয়ায় মামলার সুষ্ঠু ও কার্যকর তদন্তের স্বার্থে ২২-০৭-২০১০ইং তারিখে আসামী ১। আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, ২। মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, ৩। আব্দুল কাদের মোল্লার সহিত ৪। আসামী মতিউর রহমান নিজামীকে গ্রেফতার দেখানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বিজ্ঞ চীফ প্রসিকিউটর, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা বাংলাদেশ বরাবরে আবেদন করি। তৎপ্রেক্ষিতে মাননীয় ট্রাইব্যুনাল ০২-০৮-২০১০ইং সংশ্লিষ্ট আসামীগণকে মামলায় গ্রেফতার দেখাইয়া জেল হাজতে আটক রাখার নির্দেশ প্রদান করেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস্) আইন, ১৯৭৩-এ ৩(২) ধারা মোতাবেক আসামী মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে তাহার অপরাধ সম্পর্কে ০৪-১১-২০১০ইং তারিখে পাবনা ওয়াপদা পাওয়ার হাউজ ও পাবনা আলিয়া মাদ্রাসা পরিদর্শন করি এবং তদন্তকালে সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করিয়া ১। মোঃ হাবিবুর রহমান ওরফে হাবিব, ২। মোঃ শহিদুল্লাহ এবং ৩। জি এস এম এ চিশতীদের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করি। ০৫-১১-২০১০ইং তারিখে ঈশ্বরদী থানার ভূতের গাড়ি ও আড় পাড়া গ্রাম পরিদর্শন করি এবং তদন্তকালে সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করিয়া সাক্ষী ১। মোঃ আব্দুল হক, ২। লালন শেখ, ৩। মোস্তাক মল্লি, ৪। বজলুর রহমান এবং ৫। মোঃ আফজাল মালদের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করি। ০৬-১১-২০১০ইং তারিখে সাথিয়া থানার বাউশগাড়ি, ধুলাউড়ি, করমজা গ্রামের বধ্যভূমি এবং সাথিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করি এবং তদন্তকালে বাউশগাড়ি, ধুলাউড়ি ও করমজা গ্রামে ১৯৭১ সালে সংগঠিত ঘটনা সম্পর্কে সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করিয়া সাক্ষী আইনুল হকসহ মোট ১৭ জন সাক্ষীদের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করি।
২৯-০৩-২০১১ইং তারিখ সাক্ষী মিজবাহুর রহমান চৌধুরীকে তদন্ত সংস্থার অফিসে জিজ্ঞাসাবাদ করিয়া তাহার জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করি এবং ঐ তারিখেই ০১-০৮-১৯৭১ইং তারিখ সিরাজুল ইসলাম মতলিব সভাপতি ইসলামী ছাত্র সংঘ কর্তৃক তাহাকে লিখা চিঠি উপস্থাপন করিলে সাক্ষীদের মোকাবেলায় তাহা জব্দ করিয়া হেফাজতে নেই। অত্র জব্দ তালিকা ১০ম খন্ডে আছে। এই সেই জব্দ তালিকা যাহা প্রদর্শনী- ১৪ এবং উহাতে আমার দস্তখত ১৪/১ হিসাবে চিহ্নিত হইর। ০২-০৬-২০১১ইং তারিখে সাক্ষী ডাঃ রথীন্দ্র নাথ কুন্ডুকে তদন্ত সংস্থার অফিসে জিজ্ঞাসাবাদ করিয়া তাহার জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করি। ২৭-০৭-২০১১ইং তারিখে মোহাম্মদপুরের শারীরিক শিক্ষা কলেজ যাহা ১৯৭১ সালে ফিজিক্যাল ট্রেনিং ইন্সটিটিউট ছিল তাহা পরিদর্শন করি এবং তদন্তকালে সাক্ষী মোঃ রুস্তম আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিয়া তাহার জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করি। ১৮-০৮-২০১১ইং তারিখে সাক্ষী জহির উদ্দিন জালালকে সাথে নিয়া নাখালপাড়াস্থ পুরাতন এমপি হোস্টেল পরিদর্শন করি এবং তদন্ত সংস্থার অফিসে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করিয়া তাহার জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করি। ২৬-০৮-২০১১ইং তারিখে পাবনা জেলার বেড়া থানাধীন বৃশালিখা গ্রামের সোহরাব আলী প্রামানিক, পিতা- মৃত নয়ন উদ্দিন প্রামানিককে হত্যার স্থান পরিদর্শন করি এবং ০২ জন সাক্ষীর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করি। ২৭-০৮-২০১১ইং তারিখে সাক্ষী সমর চন্দ্র কুন্ডুকে তাহার বাড়িতে জিজ্ঞাসাবাদ করিয়া জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করি। ০৩-০৪-২০১১ইং তারিখে আসামী মতিউর রহমান নিজামীকে মামলার সুষ্ঠু ও কার্যকর তদন্তের স্বার্থে ০৩ দিনের হেফাজতে নিয়া জিজ্ঞাসাবাদ করি।
আমার তদন্তকাজে সহায়তা করার জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা মনোয়ার বেগমকে দেওয়ার অধীযাচন পত্র মোতাবেক তিনি ০৩-০৩-২০১১ইং তারিখে মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর হইতে একাত্তর সিভিল ও সামরিক প্রশাসন নেত্রকোনা সাব ডিভিশন ফাইল-০২ এর ফটোকপি জব্দ করেন। আমি তদন্তকারী কর্মকর্তা মনোয়ারা বেগমের হাতের লেখা এবং তাহার দস্তখত চিনি। এই সেই জব্দনামা প্রদর্শনী-১৫ এবং উহাতে মনোয়ার বেগমের দস্তখত যাহা প্রদর্শনী-১৫/১ হিসাবে চিহ্নিত হইল। সেই জব্দকৃত ফাইলের ফটোকপিটি প্রসিকিউশন পক্ষের দাখিলী জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমান পত্রের ১ম খন্ডে ২৯ পৃষ্ঠা থেকে ২৭৪ পৃষ্ঠায় সন্নিবেশিত আছে। এই গেন জব্দকৃত ফটোকপি গুলি যাহা প্রদর্শনী-১৬ হিসাবে চিহ্নিত হইল। উক্ত জব্দকৃত ফাইলে আলবদরদের অস্ত্র ও গুলি সরবরাহের কথা উল্লেখ আছে। (চলবে)

রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

আলবদর হাইকমান্ড নেতা নিজামীর নির্দেশে সাক্ষীর স্বামীকে ধরে নিয়ে যাবার কথা শাহরিয়ার কবিরের বইতে নেই।


মেহেদী হাসান, ২২/৯/২০১৩
মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে ২৩ তম সাক্ষী সৈয়দা সালমা মাহমুদ এর জবানবন্দী গ্রহণ করা হয় গত ১৬ সেপ্টেম্বর। আজ তার জেরা সম্পন্ন হয়েছে।
সাক্ষী সৈয়দা সালমা মাহমুদ তার জবানবন্দীতে বলেছেন ১৯৭১ সালের ১৫ নভেম্বর তার স্বামী ডা. আজহারুল হককে ধরে নিয়ে হত্যা করা হয়। আলবদর বাহিনীর হাইকমান্ড নেতা মতিউর রহমান নিজামীর নির্দেশে তার স্বামীকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় বলে তিনি জানান। সাক্ষী  তার জবানবন্দীতে বলেন, তার স্বামীকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে যাবার সময় তিনি অস্ত্রধারীদের পরিচয়  জিজ্ঞাসা করেন। তখন তারা তাকে জানান যে,  তারা  আলবদর বাহিনীর সদস্য। তাদের  হাই কমান্ড নেতা মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের নির্দেশে তারা তার  স্বামীকে ধরে নিতে এসেছে।

আজ  জেরায় সাক্ষীকে প্রশ্ন করা হয় ১৯৯৮ সালে শাহরিয়ার কবির এর  ‘বাংলাদেশে মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা’ বইটি প্রকাশের আগে শাহরিয়ার কবির আপনার স্বামী হত্যা বিষয়ে  আনপার সাক্ষাৎকার নিয়েছিল কি-না। সাক্ষী জানান তিনি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন । এরপর সাক্ষীকে প্রশ্ন করা হয় আলবদর হাইকমান্ড নেতা মাওলানা নিজামীর নির্দেশে আপনার স্বামীকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এ কথা শাহরিয়ার কবিরকে আপনি তখন বলেছিলেন কি-না । সাক্ষী জানান, বলেছেন।
মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর আইনজীবী মিজানুল ইসলাম  সাক্ষ্য গ্রহনের পর আমাকে জানান, আলবদর হাইকমান্ড নেতা মতিউর রহমান নিজামীর নির্দেশে তার স্বামীকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে যে কথা সাক্ষী এখানে বলেছেন তা শাহরিয়ার কবিরের  বইতে নেই। সেখানে অন্য কথা আছে। তার স্বামী হত্যা বিষয়ে অপর একজনকে কলকাতা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল মর্মে উল্লেখ আছে।

জেরা :
প্রশ্ন : আপনি লেখাপড়া কতদূর করেছেন?
উত্তর : দশম শ্রেণী।
প্রশ্ন : আপনারা কয় ভাইবোন?
উত্তর : সাত ভাই  দুই বোন।
প্রশ্ন : আপনি জবানবন্দীতে যে মদিরা খালার কথা বলেছেন তিনি  হচ্ছেন বিএমএ-এর বর্তমান সেক্রেটারী ইকবাল আর্সালান এর ফুফু।
উত্তর : হ্যা।
প্রশ্ন : ইকবাল আর্সালান এর পিতার নাম ডাঃ আসজাদ।
উত্তর : হ্যা।
প্রশ্ন : ডাঃ আসজাদ ১৯৯১ সালে জামায়াতে ইসলামীর দলীয় টিকেটে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন
উত্তর : আমার স্মরন নাই।
প্রশ্ন : তিনি আদৌ এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন কিনা সেটাই কি আপনার স্মরন নাই?
উত্তর : হ্যা।
প্রশ্ন :  মদিরা খালার সাথে আপনার পরিচয় কতদিনের?
উত্তর : তিনি  আমার মায়ের মামাতো বোন এবং তার সাথে আমার জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই পরিচয় আছে।
প্রশ্ন : তিনি কি জীবিত?
উত্তর : হ্যা।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালের আগে থেকেই ডাঃ আসজাদ সাহেবকে চিনতেন?
উত্তর : হ্যা।
প্রশ্ন : তিনি ঐ সময় কোন দল করতেন তা জানেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : আপনি  বিয়ের পরেই স্থায়ীভাবে ঢাকায় বসবাস শুরু করেন?
উত্তর : হ্যা।
প্রশ্ন : আপনার স্বামী ডাঃ আজহার সাহেব কোন রাজনৈতিক দল বা ছাত্র সংগঠনের সদস্য ছিলেন কিনা জানেন?
উত্তর : জানা নেই।
প্রশ্ন : ১৯৭০ সালের ছাত্র রাজনীতি সম্পর্কে কোন ধারনা আছে?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে রাজনৈতিক দল এবং ছাত্র সংগঠন বাদে অন্য কোন সংগঠন স্বাধীনতার বিরোধী ভূমিকা পালন করেছিল কি-না তা আপনার জানা আছে?
উত্তর : জানা নেই।
প্রশ্ন : আপনার স্বামী হাতিরপুলস্থ সাইদা ফার্মেসীতে কবে যোগ দেয়?
উত্তর : ১৯৭১ সালের মে/জুন মাসের দিকে
প্রশ্ন : আপনি  ঐ ফার্মেসীতে কোন দিন গিয়েছেন?
উত্তর : প্রয়োজন হয় নাই।
প্রশ্ন :  বিহারী আলীর বাড়ি কোথায় ছিল জানেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : বিহারীর যে ফার্মেসির কথা বলেছেন সেই ফার্মেসির বিহারী আলীকে ককনো দেখেছেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : আমার বাড়ির কর্মচারী শাহাদাতের বাড়ি কোথায়?
উত্তর : বরিশালের গৌর নদী।
প্রশ্ন : সে কি এখন জীবিত?
উত্তর : ১৯৭১ সালের পর থেকে আমার আর যোগাযোগ নাই তার সাথে।
প্রশ্ন : আপনারা খান বাহাদুর আব্দুল হাকিম সাহেবের যে বাড়িতে থাকদেন সে বাড়িটি বর্তমানে ঐ অবস্থাতেই আছে।
উত্তর : হ্যা।
প্রশ্ন : সেই বাড়ির পাশে একটি তেতুল গাছ ছিল।
উত্তর : গেটের পাশে ছিল।
প্রশ্ন : আপনি যে ডাঃ কামরুজ্জামানের কথা বলেছি তিনি বর্তমানে জীবিত আছেন ?
উত্তর : বলতে পারছি না, কারণ তার সাথে আমার যোগাযোগ নাই।
প্রশ্ন : ডাঃ শামসুদ্দিন সাহেব কি জীবিত আছেন?
উত্তর : সম্ভবত জীবিত আছেন, তবে তার সাথে আমার যোগাযোগ নাই।
প্রশ্ন : সৈয়দ নসরুল্লাহকে চেনেন?
উত্তর : তিনি আমার আপন চাচাতো ভাই।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে তিনি কি করতেন?
উত্তর : ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্র ছিলেন।
প্রশ্ন : তিনি জীবিত আছেন?
উত্তর : হ্যা।
প্রশ্ন : সৈয়দ আশরাফুজ্জামান আফরোজ আপনার আরেকজন চাচাত ভাই।
উত্তর : হ্যা।
প্রশ্ন : তিনি ১৯৭১ সালে কি করতেন?
উত্তর :  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন।
প্রশ্ন : আপনার যে ভাই  ভাই এস টি এস মাহমুদ এর কথা বলেছেন তিনি পুরো মুক্তিযুদ্ধকালে সরকারি চাকরি করেছেন?
উত্তর : হ্যা।
প্রশ্ন : ডাঃ এহসানুল করিমের নাম শুনেছেন?
উত্তর : হ্যা, তিনি ইসলামী ছাত্র সংঘ করতো।
প্রশ্ন : তাকে কখনো দেখেচেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন :  আপনার  স্বামী ডাঃ আজহারুল হক আপনাকে  কখনও বলেছেন যে,  তার সাথে মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের কখনও সাক্ষাত হয়েছিল কিনা।
উত্তর : না।
প্রশ্ন : ডা. এহসানুল হকের নাম কি  স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে নাকি স্বাধীনতা যুদ্ধের পরে শুনেছেন?
উত্তর : স্মরন নেই।
প্রশ্ন : আপনার  স্বামীকে হত্যার অভিযোগে কাউকে কলকাতা দমদম বিমান বন্দর থেকে গ্রেফতার করে রমনা থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল কিনা মনে আছে?
উত্তর : স্মরন হচ্ছেনা।
প্রশ্ন : আমার স্বামীকে হত্যার অভিযোগে রমনা থানায় কোন মামলা হয়েছিল ?
উত্তর : আমার স্মরন নাই।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পরে অথবা ১৯৭২/১৯৭৩ সালে আপনার  স্বামীর হত্যাকান্ডের বিষয়ে রমনা থানার কোন পুলিশ আপনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল?
উত্তর : স্মরন নাই।
প্রশ্ন : দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে আপনাদের পরিবারে পক্ষ থেকে আপনার স্বামীর হত্যাকান্ডের বিষয়ে কোন মামলা দায়ের করা হয়েছিল?
উত্তর : আমি স্মরন করতে পারছি না।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে আপনাদর বাসায় কোন পত্রিকা রাখা হত?
উত্তর : দৈনিক ইত্তেফাক এবং দৈনিক পাকিস্তান ।
প্রশ্ন : ঐ দুই পত্রিকায় মতিউর রহমান নিজামী সাহেবকে আলবদর বাহিনীর কমান্ডার হিসাবে উল্লেখ করে পরিবেশিত কোন খবর আপনি পড়েছিলেন?
উত্তর : হ্যা পড়েছি।
প্রশ্ন : আপনার স্বামী আপনাদের এলাকার কোন আলবদরের নাম আপনাকে বলেছিলেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন  দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে বা আগে আপনাদের  হাতিরপুল এলাকার কোন আলবদরের নাম শুনেছিলেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : হামিদুল হক চৌধুরী নামে কোন ব্যক্তির নাম শুনেছেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন :  ক্যাপ্টেন তাহের এবং মেজর আসলাম এর নাম শুনেছেন?
উত্তর : আমার ভাই এসটিএস রমনা থানা থেকে ফেরত আসার পর তার মুখ থেকে শনেছি।
প্রশ্ন : জহির রায়হানের নাম আমি শুনেছেন?
উত্তর :  হাসান ইমাম সাহেবের নাম শুনেছেন?
উত্তর : হ্যা।
প্রশ্ন :  ব্যরিষ্টার আমিরুল ইসলামের নাম শুনেছেন?
উত্তর : হ্যা।
প্রশ্ন :  জহির রায়হান সাহেব, হাসান ইমাম সাহেব এবং আমিরুল ইসলাম সাহেব বিজয় অর্জনের পরে আপনার স্বামীর হত্যার বিষয়ে আপনার সাথে যোগাযোগ করেছিলেন ?
উত্তর : আমার স্মরন নাই।
প্রশ্ন : দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে কোন সরকারী কর্মকর্তা আপনার  স্বামীর হত্যাকান্ডের বিষয়ে আপনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল?
উত্তর : আমার স্মরন নাই।
প্রশ্ন : ১৯৮৩ সালে বুদ্ধিজীবি স্মারক গ্রন্থ প্রকাশের পূর্বে আপনার  স্বামীর হত্যাকান্ডের বিষয়ে আপনার  নিকট থেকে কোন সাক্ষাৎকার  নিয়েছিল?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : গনতদন্ত কমিশনের কাছে কোন সাক্ষাতকার দিয়েছিলেন আপনার স্বামী হত্যা বিষয়ে ?
উত্তর :  গণ তদন্ত কমিশন আমার কাছে না যাওয়ায় আমার স্বামীর হত্যাকান্ডের বিষয়ে আমি তাদের নিকট কোন বক্তব্য দেই নাই।
প্রশ্ন :  শাহরিয়ার কবির সাহেব তার লিখিত বাংলাদেশে মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা বইটি১৯৯৮ সালে  প্রকাশের আগে আপনার  স্বামীর হত্যাকান্ডের বিষয়ে আপনার  সাক্ষাৎকার নিয়েছিল?
উত্তর : হ্যা।
প্রশ্ন : আপনি আপনার জবানবন্দীতে বলেছেন আপনার  স্বামীকে আলবদরের হাইকমান্ড মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের নির্দেশে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আপনার স্বামীকে ধরে নিতে আসা অন্যান্য আলবদররা একথা আপনাকে বলেছেন বলে উল্লেখ করেছেন। এই কথাগুলো কি আপনা শাহরিয়ার কবির সাহেবকে বলেছিলেন?
উত্তর : হ্যা।
প্রশ্ন : এই  ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেওয়ার দিন ছাড়া আপনি কখনো মতিউর রহমান নিজামীকে সরাসরি দেখেননি।
উত্তর : সত্য।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বুদ্ধিজীবি হত্যাকান্ডের তদন্তের জন্য সরকারীভাবে কোন তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছিল বলে শুনেছিলেন?
উত্তর : হয়তো শুনেছিলাম।
প্রশ্ন : বেসরকারী তদন্ত কমিশন গঠন হয়েছিল কিনা শুনেছিলেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : বুদ্ধিজীবি হত্যাকান্ডের নীল নকশা প্রনয়ন হয়েছিল  ডেইলি অবজারভার ভবনে শুনেছিলেন?
উত্তর: বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনকশার কথা শুনেছি তবে অবজারভার ভবনে হয়েছিল কিনা জানিনা।
প্রশ্ন : দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে খান এ সবুর খান এর বাসা থেকে  বুদ্ধিজীবি হত্যাকান্ডের নীল নকশার নথিপত্র উদ্ধার হয়েছিল মর্মে শুনেছেন?
উত্তর : নীলনকশার নথিপত্র উদ্ধারের কথা শুনেছি তবে  নীল নকশাটি খান এ সবুরের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল কিনা তাহা আমার স্মরন নাই।

কনট্রাডিকশন ও সাজেশন
“মাঝে মাঝে মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে গিয়েও চিকিৎসা সেবা দিতেন।” বা “বেলা ২ টার পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও আমার স্বামী আহত মুক্তিযোদ্ধাদের গোপনে চিকিৎসা দিতেন।” বা “তখন আমি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করি “তোমরা কারা? আমার স্বামীকে কোথায় নিয়ে গেলে?”, তখন উত্তরে তারা বললো “আমরা আলবদর বাহিনীর সদস্য, আমাদের হাই কমান্ড মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের নির্দেশে আপনার স্বামী ডাঃ আজাহারুল হক ও ডাঃ হুমায়ুন কবিরকে নিতে এসেছি”।” বা “যেহেতু তিনি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন সেহেতু তিনি ঐ মুহূর্ত্বে লুকিয়ে ছিলেন। আর্মিদের কর্ডন ঐ এলাকা থেকে উঠে যাওয়ার পর আমার সেই ভাই বাড়িওয়ালার বাসায় গিয়ে আমার আরেক ভাই ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ তুলুস শামস্ যিনি তখন ওয়াপদার নির্বাহী প্রকৌশলী ছিলেন তাকে ফোন করে ঘটনার কথা জানান।” একথাগুলি আমি তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট বলি নাই, ইহা সত্য নহে।
অন্যান্যদের সাথে “মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের পরিকল্পনা ও নীল নকশা অনুযায়ী বাংলাদেশকে মেধা শূণ্য করা, পঙ্গু করে দেওয়ার জন্য সুপরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছিল” একথাগুলো আমি তদন্তকারী কর্মকর্তাকে বলি নাই, ইহা সত্য নহে।
বুদ্ধিজীবি হত্যাকান্ডের নীল নকশা ডেইলী অবজারভার ভবনে হয়েছিল এটা জেনেও আমি গোপন করেছি, ইহা সত্য নহে। বুদ্ধিজীবি হত্যাকান্ডের নীল নকশা নথিপত্র খান এ সবুরের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল তাহা জানা সত্ত্বেও আমি গোপন করেছি, ইহা সত্য নহে।
মতিউর রহমান নিজামী সাহেব একটি রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা হওয়ায় এবং তার আদর্শের সাথে আমি এক মত না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে আমি অসত্য সাক্ষ্য দিলাম, ইহা সত্য নহে। (জেরা সমাপ্ত)

জেরায় মিজানুল ইসলমাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট মনজুর  আহমেদ আনসারী, ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন, আসাদ উদ্দিন প্রমুখ। আগামীকাল  মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে দুজন সিজার লিস্টোর সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহনের কথা রয়েছে। এছাড়া হাজী মোবারকের বিরুদ্ধেও আগামীকাল সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহনের জন্য ধার্য্য রয়েছে।





সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে ২৩ তম সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণ ///শ্যামলী নাসরিন বিষয়ক আবেদন খারিজ

মেহেদী হাসান, ১৬/৯/২০১৩
জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে ২৩ তম সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণ করা হয়েছে। সাক্ষীর নাম সৈয়দা সালমা মাহমুদ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ গতকাল তিনি জবানবন্দী প্রদান করেন।

জবানবন্দী :
আমার নাম সৈয়দা সালমা মাহমুদ ওরফে সৈয়দা সালমা হক। আমার বয়স আনুমানিক ৬৪ বৎসর। আমার ঠিকানা- ৩৫৮ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা।
১৯৭০ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারী শহীদ ডাঃ আজহারুল হকের সহিত আমার বিয়ে হয়। আমার স্বামী শহীদ ডাঃ আজহারুল হক ১৯৪০ সালের ২রা মার্চ ঢাকা সেন্ট্রাল জেল খানায় আমার শ্বশুরের সরকারী বাসভবনে জন্ম গ্রহন করেন। সেই সময় আমার শ্বশুর ঢাকা সেন্ট্রাল জেলের জেলার ছিলেন। আমার স্বামী শহীদ ডাঃ আজহারুল হক ১৯৬৮ সালে ঢাকা স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ থেকে এম,বি,বি,এস পাশ করেন। ১৯৬৯ সালে জুন মাসে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সহকারী সার্জন হিসাবে যোগদান করেন। আমার বিয়ের পরপরই ১৯৭০ সালে ২২নং ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, ঢাকায় হাকিম সাহেবের বাড়িতে বসবাস শুরু করি। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে আমার স্বামী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। ১৯৭১ সালের ২৩শে মার্চ আমি অসুস্থ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩১ নং কেবিনে ভর্তি ছিলাম। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ দিবাগত রাত্রে অনুমান সাড়ে এগারোটার দিকে প্রচন্ড গোলাগুলির শব্দে আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়, তখন আমি হাসপাতালের কেবিনেই ছিলাম। তখন আমি মেশিন গান, রাইফেল এবং কামানের তোপের শব্দ শুনতে পাই। এরপর আমি জানালা দিয়ে দেখতে পাই যে, ঢাকাতে চারদিকে শুধু আগুনের শিখা আর শুনতে পাই প্রচন্ড গোলাগুলির শব্দ। ২৩শে মার্চ থেকে আমার স্বামী আমার সঙ্গে কেবিনই ছিলেন। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ ভোরে আমার স্বামী কেবিন থেকে হাসপাতালের নিচে চলে যান হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের খোঁজ খবর নিতে। তিনি ঐ দিন সকাল ১০/১১ টার সময় আমার কেবিনে ফিরে আসেন। তখন আসতে কেন দেরি করলেন এটা জিজ্ঞাসা করলে আমার স্বামী আমাকে জিজ্ঞাসা করেন যে, মদিরা খালার স্বামীর নাম কি? তখন আমি তাকে বলি যে, মদিরা খালার স্বামী লেঃ কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন নেভীর অফিসার ছিলেন এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার একজন আসামী ছিলেন। তাকে ২৬শে মার্চ সকালে হত্যা করা হয়। তিনি আরো জানান যে, ইকবাল হক, জগন্নাথ হল সহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক এবং ছাত্রদেরকে হত্যা করা হয়েছে তন্মধ্যে ড. জি,সি দেব, প্রফেসর ড. মনিরুজ্জামান, ড. জ্যোতির্ময় গূহ ঠাকুর প্রমুখ ছিলেন এবং গোটা ঢাকা শহরে অনেক সাধারন মানুষদেরকে হত্যা করা হয়েছে। ঐ মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে আমার স্বামী আমাদের বাসার নিকটে সাইদা ফার্মেসী নামক একটি ফার্মেসীতে প্রাইভেট প্র্যাকটিসও করতেন। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে আমার স্বামী আহত মুক্তিযোদ্ধাদেরকে উক্ত ফার্মেসীতে চিকিৎসা করতেন এবং মাঝে মাঝে মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে গিয়েও চিকিৎসা সেবা দিতেন। ঐ সাইদা ফার্মেসীর বিপরীতে আলী ফার্মেসী নামে জনৈক বিহারীর একটি ফার্মেসী ছিল। ঐ ফার্মেসীর মালিক বিহারী আলী সবসময় আমার স্বামীর গতিবিধি ও চলাফেরা লক্ষ্য রাখতো এবং কোথায় যেতেন, কি করতেন এসব তথ্য গুলো পাকিস্তান আর্মিদের দিতেস বলে আমাদের সন্দেহ হতো। বেলা ২ টার পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও আমার স্বামী আহত মুক্তিযোদ্ধাদের গোপনে চিকিৎসা দিতেন।
১৯৭১ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারী, পরে বলেন ১৫ ই নভেম্বর ভোর ৬টার আমার স্বামী হাসপাতালে যাবেন সেই জন্য তার এপ্রোন আনার জন্য আমাদের বাসার কাজের ছেলে শাহাদাতকে আমাদের বাসার পাশেই লন্ড্রিতে পাঠাই। কিছুক্ষণ পর শাহাদাত খালী হাতে এসে জানায় যে, লন্ড্রিতে যাওয়া যায়নি কারণ ওখানে কিছু পাকিস্তানী আর্মি এবং বেশ কিছু অস্ত্রধারী বাঙ্গালী ঐ জায়গা কারফিউ দিয়ে রেখেছে আসলে ওটা কারফিউ ছিল না কর্ডন ছিল। ঐখানে গোটা হাতিরপুর, সেন্ট্রাল রোড ও ভূতের গলি পাকিস্তানী আর্মি ও অস্ত্রধারী বাঙ্গালীরা কর্ডন করে ফেলেছিল। তখন আমার স্বামী এবং আমিও চিন্তিত হয়ে পড়েছিলাম কিভাবে আমার সস্বামী হাসপাতালে যাবে। তখন আমার স্বামী আমাদের পাশের বাড়িওয়ালার বাসায় হাসপাতালে ফোন করতে যায় যাতে এ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয় তাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। তখন আমার স্বামী বাড়িওয়ালার বাসায় গেল ফোন করার জন্য, তখন আমি বারান্দায় দাড়িয়ে অপেক্ষা করি। ঠিক তখন আমাদের সামনের পাশের বিল্ডিং থেকে শহীদ ডাঃ হুমায়ুন কবিরের ছোট বোন মোমরাজ আমাকে ডাক দিয়ে জিজ্ঞাসা করেন যে, আমার স্বামী হাসপাতালে চলে গিয়েছেন কিনা। তখন আমি বলি যে, আমার স্বামী বাড়িওয়ালার বাসায় ফোন করতে গিয়েছে হাসপাতাল থেকে এ্যাম্বুলেন্স পাঠানোর জন্য, এ্যাম্বুলেন্স এলে আমার স্বামী হাসপাতালে যাবে। এই কথা শুনার পর শহীদ ডাঃ হুমায়ুন কবির ও আমার স্বামী শহীদ ডাঃ আজহারুল হক এ্যাম্বুলেন্সের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। তখন আমি শাহাদাতকে বললাম যে, উনাদেরকে তুমি ডাকো। তখন শাহাদাত ফিরে এসে আমাকে জানায় যে, কয়েকজন পাকিস্তানী আর্মি ও অস্ত্রধারী বাঙ্গালী ইউনিফর্ম পরা এবং মাথায় ক্যাপ ছিল তারা ডাক্তার সাহেবদের সাথে কি যেন বলছেন এবং তার দিকেও রাইফেল তাক করে। তারপর আবারো ওকে উনাদের ডাকতে বলি এবং আমি দৌড়িয়ে গেটের কাছে আসি, তখন দেখি যে, কয়েকজন আমার স্বামী ডাঃ আজহারের হাতে রাইফেলের বাট দিয়ে বাড়ি মারে এবং ডাঃ হুমায়ুন কবিরকেও রাইফেলের বাট দিয়ে বারি মারে। আরো দেখি যে পাকিস্তান আর্মি ও অস্ত্রধারী বাঙ্গালীরা শহীদ ডাঃ হুমায়ুন কবির ও আমার ডাঃ আজহারুল হককে গান পয়েন্টে রাস্তার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তখন আমি চিৎকার দিয়ে আমার স্বামীর কাছে যাইতে চাইলে তাদের মধ্যে থেকে কয়েকজন অস্ত্রধারী বাঙ্গালী আমাকেও গান পয়েন্টে বাসার ভিতরে ঢুকায়। তখন আমার ঘরের বারান্দায় আমাকে ঐ অস্ত্রধারী বাঙ্গালীরা জিজ্ঞাসা করে যে, আপনার স্বামীর কাছে কখন কারা আসতো ও যেতো এবং আপনার স্বামীও কোথায় কোথায় যেতো, কতো রাতে ফিরতো ইত্যাদি। তখন আমি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করি “তোমরা কারা? আমার স্বামীকে কোথায় নিয়ে গেলে?”, তখন উত্তরে তারা বললো “আমরা আলবদর বাহিনীর সদস্য, আমাদের হাই কমান্ড মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের নির্দেশে আপনার স্বামী ডাঃ আজাহারুল হক ও ডাঃ হুমায়ন কবিরকে নিতে এসেছি”। তারপর তারা আমার বেডরুমে ঢুকে বিছানা পত্র উল্টিয়ে তছনছ করে, তখন আমার মনে হয়েছিল সম্ভবত মুক্তিযুদ্ধের কাগজপত্র, বোমা-টোমা খোজছিল। তারপর তারা আমার বাসা থেকে চলে যায়। ঐ ঘটনার সময় আমার ভাই এডভোকেট সৈয়দ রফিকুস সালেহীন আমাদের বাসায়ই ছিলেন এবং যেহেতু তিনি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন সেহেতু তিনি ঐ মুহূর্ত্বে লুকিয়ে ছিলেন। আর্মিদের কর্ডন ঐ এলাকা থেকে উঠে যাওয়ার পর আমার সেই ভাই বাড়িওয়ালার বাসায় গিয়ে আমার আরেক ভাই ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ তুলুস শামস্ যিনি তখন ওয়াপদার নির্বাহী প্রকৌশলী ছিলেন তাকে ফোন করে ঘটনার কথা জানান। এর কিছুক্ষন পর আমার উক্ত ভাই তুলুস শামস্ আমার দুলাভাই (বর্তমানে মৃত) সৈয়দ সাহাব উদ্দিন সাহেবকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের বাসায় আসেন। তখন উনারা দুইজন আমার নিকট থেকে ঘটনা শুনে রমনা থানায় যান। রমনা থানায় উনারা গিয়ে দেখেন যে, হাতিরপুর  এলাকা থেকে প্রায় দুইশত লোককে ধরে রমনা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাদের নাম লিস্টে আছে কিন্তু আমার স্বামী শহীদ ডাঃ আজহারুল হক ও শহীদ ডাঃ হুমায়ুন করিবের নাম ঐ লিস্টে নাই। তখন ঐ থানারই একজন লোক উনাদেরকে চুপে চুপে বলনে যে, যাদের নাম লিস্টে নাই তাদেরকে মেরে ফেলা হয়। তারপর আমার ভাইয়েরা আমার বাসায় এসে আমাকে তাদের পরিবাগের সরকারী বাসায় নিয়ে যেতে চান। আমার স্বামীর বাসা থেকে আমি যেতে না চাইলে  তারা আমাকে বলে যে, তুমি একা বাসায় থাকলে তোমাকেও তারা একই ভাবে নিয়ে যেতে পারে, তখন আমি ছয়মাসের প্রথম অন্তঃস্বত্তা ছিলাম, তখন আমি তাদের সঙ্গে পরিবাগের আমার ভাইয়ের বাসায় চলে যাই। তখন আমাকে পরিবাগের বাসায় রেখে তারা বিভিন্ন স্থানে আমার স্বামীর খোঁজে বের হন।
তার পরের দিন ১৬ই নভেম্বর ১৯৭১ সাল ডাক্তার কামরুজ্জামান  ডাক্তার ববি আমার ভাইয়ের পরিবাগের বাসায় এসে আমাদেরকে জানান যে, আমার স্বামীর বস্ ডাঃ শামসুদ্দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজের হাসপাতাল মর্গে আমার স্বামী ও ডাঃ হুমায়ুন কবিরের লাশ চিনতে পেরেছেন, আপনারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে গিয়ে সনাক্ত করেন। তারা আরো জানান যে, আপনার স্বামীর লাশ এবং ডাঃ হুমায়ুন কবিরের লাশ ঢাকা নটরডেম কলেজের পাশে যে কালভার্টের নিচে ড্রেন হাত, পা ও চোখ বাধা অবস্থায় এবং শরীরে অনেক আঘাতের চিহ্ন ছিল, সেই অবস্থায় পাওয়া যায়। তারপর আমার ভাইয়েরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালের মর্গ থেকে আমার স্বামীর লাশ আমাদের পরিবাগের বাসায় নিয়ে আসে এবং ডাঃ হুমায়ুন কবিরের লাশ তারাই আজিমপুর গোরস্থানে দাফন করেন। আমার স্বামীর লাশ আমাকে দেখানোর পর আজিমপুর গোরস্থানে দাফন করে।
সেদিন যারা আমার স্বামী সহ এদেশের সেরা সন্তান বুদ্ধিজীবিদেরকে ধরে নিয়ে হত্যা করেছিল, সেদিন মতিউর রহমান নিজামী সাহেব, চৌধুরী মঈন উদ্দিন, আশরাফুজ্জামান, মোজাহিদ এবং গোলাম আযম সাহেবদের পরিকল্পনা ও নীল নকশা অনুযায়ী বাংলাদেশকে মেধা শূন্য করার, পঙ্গু করে দেওয়ার জন্য সুপরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছিল এবং যারা আমার স্বামীকে তার সন্তান দেখে যেতে দেয়নি এবং সন্তানও জন্ম নিয়ে তার পিতাকে দেখতে পায় নি আমি সেই হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড কামনা করি। এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট আমি জবানবন্দি প্রদান করেছি। এই মামলার আসামী মতিউর রহমান নিজামী সাহেব অদ্য ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় উপস্থিত আছেন (সনাক্তকৃত)।
 জেরা -
আদালতের সম্মূখভাগে যে লোকটি বসে আছেন তিনি আমার ভাই তার নাম ফুয়াদ, আমি তার সঙ্গে অদ্য ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে এসেছি। (চলবে)
একটি প্রশ্নের পর জেরা আগামী বুধবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।

শ্যামলী নাসরিন বিষয়ক আবেদন খারিজ :
মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের ১৩ তম সাক্ষী শ্যামলী নাসরিন  চৌধুরী এর সাক্ষ্য প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করেছিল  আসামী পক্ষ। আবেদন শুনানী শেষে খারিজ করে দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
আসামী পক্ষের আবেদনে বলা হয়েছে  গত ১০ জুলাই রাষ্ট্রপক্ষ ১৩ তম সাক্ষী হিসেবে শ্যামলী নাসরিন চৌধুরীকে হাজির করে এবং তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করেছে তাদেরকে ট্রাইব্যুনাল অতিরিক্ত ২৮ জন সাক্ষী হাজিরের অনুমতি দিয়েছে এবং  শ্যামলী নাসরিন ২৮ জনের একজন সাক্ষী। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক  ২০ ফেব্রুয়ারি যে আদেশ দেয়া হয়েছে তাতে ২৮ জন অতিরিক্ত সাক্ষীর অনুমতি দেয়া আছে। কিন্তু ২০ ফেব্রুয়ারি আদেশ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে সেই আদেশে অতিরিক্ত কোন সাক্ষীর আবেদন ছিলনা। সেটা ছিল অতিরিক্ত কিছু ডকুমেন্ট গ্রহনের আবেদন। ট্রাইব্যুনাল রাষ্ট্রপক্ষকে সেই ডকুমেন্ট দাখিলের অনুমতি দিয়ে আদেশ দিয়েছে। কিন্তু সেই আদেশের রেফারেন্সে রাষ্ট্রপক্ষ ট্রাইব্যুনালের কাছে অতিরিক্ত সাক্ষী হাজিরের জন্য সমন চেয়ে আবেদন করে অনুমতি আদায় করেছে এবং শ্যামলী নাসরিনকে হাজির করেছে।
আসামী পক্ষের আবেদনে বলা হয় আমরা ২০ ফেব্রুয়ারির সেই আদেশের কপি পাবার জন্য তিনবার আবেদন করেছি কিন্তু পাইনি। এরপর নতুন করে আবেদনের প্রেক্ষিতে  গত ৩ সেপ্টেম্বর আমরা সে কপি পেতে সক্ষম হই এবং সে  আদেশ কপিতে কোথাও নতুন ২৮ সাক্ষীর অনুমতি বিষয়ে কিছূ বলা নেই।

আবেদনের ওপর শুনানীতে তাজুল ইসলাম আজ  ট্রাইব্যুনালে বলেন, আসামী পক্ষ শ্যামলী নাসরিনকে সম্পূণ অবৈধভাবে ট্রাইব্যুনালে হাজির করেছে এবং এটা কোন অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য হতে পারেনা। সে কারনে তার সাক্ষ্য বাতিল করা উচিত ন্যায় বিচারের স্বার্থে। তাজুল ইসলাম বলেন,  ট্রাইব্যুনাল ২০ ফেব্রুয়ারি যে আদেশ দিয়েছে তাতে দেখা যায় রাষ্ট্রপক্ষ কখনো অতিরিক্ত সাক্ষীর কোন আবেদনই করেনি। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তার আবেদনে বলেছিলেন তদন্ত কর্মকর্তা এই মামলা সম্পর্কে কিছু ডকুমেন্ট জব্দ করেছিলেন কিন্তু সেগুলো প্রসিকিউশনের কাছে জমা দেয়নি । তাই সেগুলো যেন এখন গ্রহণ করা হয়।
আসামী পক্ষ আবেদনের সাথে ২০ ফেব্রুয়ারির আদেশও সরবরাহ করেন। ট্রাইব্যুনাল আসামী পক্ষের আবেদন এবং  ২০ ফেব্রুয়ারি আদেশ কপি  পর্যালোচনা করেন। বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, যেকোনভাবে হোক একটা ভুল হয়েছে।
তাজুল ইসলাম তখন বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ প্রতারনার আশ্রয় নিয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি ফজলে কবির বলেন, আমরা সরল বিশ্বাসে রাষ্ট্রপক্ষকে নতুন সাক্ষী হাজিরের জন্য সমন দিয়েছিলাম। তারা যে সমন আবেদন করেছে সেটা ছিল ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে।

রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী শুনানীতে অংশ নেন। তিনি বলেন, নতুন যে ডকুমেন্ট গ্রহনের জন্য আবেদন করা হয়েছিল তাতে অতিরিক্ত ২৮ জন সাক্ষীর জবানবন্দী দেয়া ছিল।

শুনানী শেষে আসামী পক্ষের আবেদন খারিজ করে দেয়া হয়। খারিজ আদেশে  ট্রাইব্যুনাল বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের আবদেনটি যথাযথভাবে ড্রাফট করা হয়নি। তাতে অতিরিক্ত সাক্ষী বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে অনুমতি চাওয়া হয়নি। তবে যেহেতু সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণ করা হয়েছে এবং জেরও হয়েছে তাই তা আর বাতিল করা হলনা।

আসামী পক্ষের আবেদন




IN THE INTERNATIONAL CRIMES TRIBUNAL-1, DHAKA
ICT-BD. CASE NO.   03 OF 2011

IN THE MATTER OF:
An application for exclusion of testimony of pw-13, Shyamoli Nasrin Chowdhury from the record.
AND
IN THE MATTER OF:
The Chief Prosecutor, International Crimes Tribunal, Dhaka.
…Petitioner.
-VERSUS-
Motiur Rahman Nizami.
…Accused.
The humble petition on behalf of the Accused above named most respectfully-

S H E W E T H:
1.               That on 11.02.2013 the Prosecution filed an application under section 9 (4) of the  International Crimes (Tribunals) Act, 1973 (hereinafter referred to as the said Act) for seeking permission to submit additional prosecution documents, books and CDs in relation to the case.
2.               That on 20.02.2013 the Hon’ble Tribunal heard and allowed the prosecution application filed under section 9 (4) of the Act vide its Order No. 78.
3.               That thereafter the Defense filed 3 (three) separate applications for certified copy of the said Order in different dates. But somehow the Defense did not get the same. That thereafter on 11.07.2013 the Defence filed an application for inspection of the Order sheets of this case except ex-party Orders and to allow them to take necessary notes and that application was allowed by this Hon’ble Tribunal.
4.               That after inspection of the Order sheets of the Hon’ble Tribunal the Defense filed an application for certified copy of the said Order and got the same on 03.09.2013.
5.               That after getting the certified copy of the order No. 78 dated 20.02.13 it is detected that by that Order this Hon’ble Tribunal allowed the prosecution to submit some additional documents only but did not allow them to produce any additional PWs.
Certified copy of the Order date 20.02.13 is annexed herewith and marked as ANNEXURE- A.
6.               That it appears from the application filed by the prosecution under section 9 (4) of the Act that no such prayer was made in that application though there are some statement that they intend to examine some new PWs.
7.               That on 10.07.13 pw-13 Shyamoli Nasrin Chowdhury, listed in the additional witness list, was examined as an additional prosecution witness though it appears from the Order dated 20.02.13 she was not allowed to be examined.
8.               That since no Order was passed allowing PW-13, Shyamoli Nasrin Chowdhury to depose before the Tribunal her testimony made before the Tribunal is absolutely illegal and unacceptable and as such the same needs to be excluded from the evidence for the ends of Justice.
9.               That it is submitted that since Shyamoli Nasrin Chowdhury was not at all permitted by the Tribunal to depose before the Tribunal her examination in chief and examination of cross and recording of her testimony by the Tribunal is absolutely without jurisdiction and against the principles of administration of Justice and as such her testimony needs to be excluded from the record for the ends of Justice.

10.    That for the abovementioned reasons in this application, the Accused humbly prays that this Hon’ble Tribunal may pass an Order for exclusion of the testimony of pw-13, Shyamoli Nasrin Chowdhury for the ends of Justice, otherwise the accused will be highly prejudiced.

Wherefore, it is most humbly prayed that the Hon’ble Tribunal would graciously be pleased to pass an Order for exclusion of the testimony of pw-13, Shyamoli Nasrin Chowdhury from the record and/or pass such other or further order or orders as may deem fit and proper.

And for this act of kindness the Accused, as in duty bound, shall ever pray.