সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৩

অসদাচরনের অভিযোগ // জেয়াদ আল মালুমের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের

মেহেদী হাসান, ২৪/১০/২০১৩
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জেয়াদ আল মালুমের বিরুদ্ধে পেশাগত অসদাচরনের অভিযোগে শোকজ নোটিশ জারি করেছে  বাংলাদেশ বার কাউন্সিল।

আগামী সাত নভেম্বরের মধ্যে অভিযোগের জবাব প্রদানের জন্য সময় নির্ধারন করে আজ  এ নোটিশ জারি করা হয়।

ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্ত্রী ফরহাত কাদের চৌধুরী গত বছর ৩১ ডিসেম্বর জেয়াদ আল মালুমের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল বরাবর অভিযোগ করেন। স্কাইপ কেলেঙ্কারির  জের ধরে গুরুতর পেশাগত অসদাচরনের অভিযোগ এনে  জেয়াদ আল মালুমের আইনজীবী সনদ বাতিলের আবেদন করেন তিনি। এছাড়া স্কাইপ কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত থাকা এবং বিচার নিয়ে প্রহসন করার অভিযোগে জেয়াদ আল মালুমের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনেরও দাবি জানানো হয় দরখাস্তে। এ আবেদনের প্রক্ষিতে আজ  বার কাউন্সিল তার বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করল অভিযোগের বিষয়ে তার জবাব চেয়ে। সময়মত জবাব দাখিলে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে বার কাউন্সিলের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

অসদাচরনের অভিযোগ :
বাংলাদেশ বার কাউন্সিল বরাবর গত বছর ফরহাত কাদের চৌধুরীর দায়ের করা আবেদনে তিনি বলেন, আমার স্বামী সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ বিচারের মুখোমুখি। জেয়াদ আল মালুম তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের মুখ্য আইনজীবী। ট্রাইব্যুনালের সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম এবং বেলজিয়ামের ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনের যে স্কাইপ সংলাপ দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে তাতে  জেয়াদ  আল মালুমের বিরুদ্ধে গুরুতর অসদাচরনের প্রমান  রয়েছে।  জেয়াদ আল মালুম গোপনে ট্রাইব্যুনালের বিচারপতির সাথে বৈঠক করেছেন বিচার নিয়ে। আসামীর মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করার জন্য  কোন কোন সাক্ষী আনতে হবে, কোন সাক্ষী বাদ দিতে হবে এবং  সাক্ষীকে দিয়ে কি বলাতে হবে সে বিষয়ে তিনি সাক্ষীদের প্রশিক্ষন প্রদান করেছেন; বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমসহ বিভিন্ন মহলের সাথে গোপন আতাত করেছেন। কিভাবে প্রকাশ্য ট্রাইব্যুনালে বিচারের নামে নাটক করবেন এবং মানুষকে দেখাবেন যে, এখানে ন্যায় বিচার হয়েছে সে বিষয়ে বিচারপতি নিজামুল হকের রুমে গিয়ে আলোচনা করেছেন।  একজন আইনজীবী হিসেবে  জেয়াদ  আল মালুমের এ ধরনের কাজ বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে কর্তৃক আইনজীবীদের জন্য প্রণীত  আচরন বিধির লঙ্ঘন এবং গুরুতর অসদাচরনের শামিল।

বিচারপতি নিজামুল হক এবং ড. জিয়াউদ্দিন জেয়াদ আল মালুমের সাথে সাক্ষী নির্বাচন নিয়েই শুধু তারা আলোচনা করেননি বরং সাক্ষীকে দিয়ে কি বলাতে হবে সে বিষয়ে আলোচনা করেছেন। সাবেক সেনা প্রধান জেনারেল শফিউল্লাহ একজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হওয়া সত্ত্বেও তাকে  ট্রাইব্যুনালে আনা হয়নি। কারণ তাকে জেয়াদ আল মালুম অন্যান্য সাক্ষীদের মত প্রশিক্ষন দিয়ে নিয়ন্ত্রন করতে পারবেনা।  তার ওপর জেয়াদ আল মালুমের  নিয়ন্ত্রন থাকবেনা।  তিনি তাদের নির্দেশ মত সাক্ষ্য দিতে রাজি হবেননা। ফলে সাক্ষীর মুখ দিয়ে  এমন কিছু বের হয়ে  যেতে পারে যা আসামী পক্ষে চলে যেতে পারে এবং বিরাট সমস্যা হতে পারে রাষ্ট্রপক্ষের জন্য। সেকারনে তাকে সাক্ষী হিসেবে আনা হয়নি।  বিচারপতি নিজামুল হক  এবং ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনের সম্মতিতে তাকে সাক্ষী হিসেবে  না আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জেয়াদ আল মালুম। এ বিষয়ে আলোচনা রয়েছে স্কাইপ সংলাপে। সুতরাং আসামীকে ফাঁসানোর জন্য জেয়াদ আল মালুম শুধু সাক্ষী বাছাই, সাক্ষী বাদ দেয়ার কাজ করেছেন তাই নয় বরং তাদের প্রশিক্ষন দিয়ে কোর্টে নিয়ে এসেছেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং ট্রাইব্যুনাল মিলে প্রকাশ্য কোর্টে  নাটক মঞ্চস্ত করেছেন  ।  ট্রাইব্যুনালের গোটা বিচার কাজই ছিল এ ধরনের একটি সাজানো নাটক। বিচারপতি নিজামুল হকের রুমে গিয়ে জেয়াদ আল মালুম বলেছেন আমি কোর্টে দাড়িয়ে যাব আর আপনি আমাকে ধমক দিয়ে বসিয়ে দেবেন।  যাতে লোকে বুঝতে পারে আমাদের মধ্যে কোন  খাতির নেই।

সাক্ষী সুলতানা কামাল বিষয়ে স্কাইপ সংলাপে বলা আছে তাকে সমস্ত এভিডেন্স দেয়ার পর তিনি বুঝে গেছেন কি বলতে হবে। এছাড়া বেশ কয়েকবার তার সাথে আলোচনা হয়েছে  কিভাবে সাক্ষ্য দেয়া হবে  সে বিষয়ে।  সুলতানা কামালসহ অন্যান্য সাক্ষীদের প্রশিক্ষন এবং জেনারেল শফিউল্লাহ তাদের নির্দেশত সাক্ষ্য দিতে রাজি হবেননা বিধায় তাকে বাদ দেয়ার মাধ্যমে জেয়াদ আল মালুম বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে   অধ্যায়-১১১ এ বর্নিত আইনজীবীদের পেশাগত আচরন লঙ্ঘন করেছেন এবং  এটি গুরুতর অসদাচরনের শামিল।

১১১ অধ্যায়ে বর্নিত আছে ‘পাবলিক প্রসিকিউশনের একজন আইনজীবীর প্রথম  কর্তব্য হল আসামীকে দন্ডিত করা নয় বরং ন্যায় বিচার হচ্ছে কি-না তা দেখা। আসামীকে নির্দোষ প্রমানে সহায়ক হতে পারে এমন তথ্য প্রমান চেপে রাখা এবং সাক্ষী গোপন করা গুরুতর দুষনীয় কাজ।’

সাক্ষীকে প্রশিক্ষন দেয়া এবং সাক্ষী গোপন করার ফলে আসামীর  মৃত্যুদণ্ড হতে পারত। আসামীর  মৃত্যুদন্ড নিশ্চিত করার জন্য সে সাক্ষী গোপন করেছেন, তথ্য প্রমান চেপে রেখেছেন এবং সাক্ষী প্রশিক্ষনের কাজ  করেছে।   এ কারনে  জেয়াদ আল মালুুমের আইনজীবী খারিজ করা অপরিহার্য।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়-স্কাইপ সংলাপের এক স্থানে  ড. জিয়াউদ্দিন বলছেন, প্রসিকিউশনের কৌশল শুধু পাঁচ জনের জানা উচিত। তিনি থেকে চার জন মুল আইনজীবী এবং অন্য দুজন (বিচারপতি নিজামুল হক এবং  ড. জিয়াউদ্দিন নিজে)  জানবে বিষয়টি। জিয়াউদ্দিন আরো বলছেন তাদের (বিচারপতি নিজামুল হক এবং জিয়াউদ্দিন) মালুমকে সাপোর্ট দিতেই হবে। স্কাইপ সংলাপের ১২ টি স্থানে জিয়াউদ্দিন এবং বিচারপতি নিজামুল হক একজন আরেকজনকে প্রশ্ন করেছেন অমুক বিষয়ে জেয়াদ  আল মালুমের সাথে  আলোচনা করেছেন কি-না।  এসব থেকে বোঝা যায়  জেয়াদ আল মালুম নিয়মিত গোপন আতাত করতেন বিচারপতি নিজামুল   হকের  সাথে। এভাবে জেয়াদ আল মালুম ট্রাইব্যুনালের বিচারকে কলুষিত করার পেছনে কাজ করেছেন।  জেয়াদ আল মালুম ন্যায়বিচার এবং  স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার পথে একটি অন্তরায়। এ কারনে  তার আইনজীবী সনদ খারিজ করা উচিত বলে ফরহাত কাদের চৌধুরীর দরখাস্তে উল্লেখ করা হয়েছে। 

বুধবার, ২ অক্টোবর, ২০১৩

রায় কে লিখেছে জানতে চায় জাতি

মেহেদী হাসান, ২/১০/২০১৩
সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়শনের এক সভায় আইনজীবী নেতৃবৃন্দ বলেছেন, ট্রাইব্যুনালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মামলার রায় কে লিখেছে তা জাতি জানতে চায়। তারা বলেন, রায় আগেই প্রকাশিত হওয়ায় এ নিয়ে জনমনে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে বিচার ব্যবস্থায় অসন্তোষ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তারা আরো বলেন, ট্রাইব্যুনালকে অনুরোধ করবো রায় কে লিখেছে তা আপনারা বলেন।  যদি আপনারা সেটা না বলেন, তাহলে এই দোটানার জাজমেন্টের ক্রেডিবিলিটি নিয়ে সমগ্র বিশ্বে যেমন প্রশ্ন দেখা দেবে, তেমনি বাংলাদেশের মানুষের কাছেও প্রশ্ন দেখা দেবে।

আজ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এক বিশেষ সভায় আইনজীবীরা এসব কথা বলেন।

গত মঙ্গলবার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে ফাঁসির আদেশ দেয়  আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। রায়ের পর জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরমের সংবাদ সম্মেলনে বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘এই বিচারটি প্রহসনের বিচার। এই বিচার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিচার। ইনশাআল্লাহ যদি জাতীয়তাবাদী শক্তি ক্ষমতায় আসে, তাহলে সত্যিকার অর্থে যারা যুদ্ধাপরাধী তাদের বিচার হবে এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে নির্দোষ ব্যক্তিদের যে বিচার করা হয়েছে, কাল্পনিক গল্প দিয়ে যে মামলা তৈরি করা হয়েছে, অবশ্যই সেটা চলে যাবে।  যারা এই প্রহসনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলো, ইনশাআল্লাহ বাংলার মাটিতে তাদেরও বিচার হবে।’

তার এ কথার রেশ ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রচারিত হয় যে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সাথে জড়িত বিচারপতিরদেরও বিচার করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন খন্দকার মাহবুব হোসেন।

আজ সকালে  অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন  এর বিরুদ্ধে দেশের সর্বোচ্চ আদালত যথা সুপ্রীম কোর্টের  আপিল বিভাগে নালিশ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। প্রধান বিচারপতি মো : মোজাম্মেল হোসেন এর নেতৃত্বে আপিল বিভাগের কার্যক্রম শুরু হলে তিনি  খন্দকার মাহবুব হোসেন এর বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সাড়ে নয়টার দিকে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আপিল আবেদন শুনানী শুরুর আগে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, গতকাল মঙ্গলবার সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে  আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক রায় ঘোষনার পর  বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বেশ কিছু মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, এ বিচারের সাথে যারা জড়িত তাদেরও বিচারের আওতায় আনা হবে। মাই লর্ড এ বিচারের সাথে আপনারাও জড়িত। ফলে  এর এ বক্তব্যের মাধ্যমে আপনাদেরও বোঝানো হয়েছে। তিনি এই কোর্টের একজন অফিসার হয়ে এ ধরনের কথা বলতে পারেন কি-না।

তার এ কথার পর প্রধান বিচারপতি মো : মোজাম্মেল হোসেন বলেন, সিরিয়াস কথা। তো আমরা কি করতে পারি?
এসময় অপর বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, আমরা কিছু দেখিনাই, শুনিনাই। আমাদের সামনে ঘটনা ঘটেনি। আমাদের সামনে আছে শুধু পেপার বুক। তা দেখে আমরা বিচার করি। আপনারা প্রপার জায়গায় যান।
এরপর আর কিছু বলেননি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এসময় অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এমকে রহমান উপস্থিত ছিলেন।

এরপর ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হলে চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু খন্দকার মাহবুব হোসেন এর বিষয়ে উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান। ট্রাইব্যুনাল তাকে বলেন লিখিত আবেদন নিয়ে আসার জন্য।

এর জের ধরে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশন এর  নেতৃবৃন্দ তাৎক্ষনিকভাবে বার ভবনেরদণি হলে প্রতিবাদ সভা আয়োজন করে। 


বারের সিনিয়র সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, ‘বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্ট বারের পরপর দুইবার নির্বাচিত সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেনের একটি বক্তব্যের ব্যাপারে প্রসিকিউশন টিম আজ ট্রাইব্যুনালে উনার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করার উদ্যোগ নিয়েছে। খন্দকার মাহবুব হোসেনকে কলাবোরেটর অ্যাক্টসে বাংলাদেশে যে বিচার হচ্ছিলো সেই বিচারের চিফ প্রসিকিউটরের দায়িত্ব দিয়েছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। সুতরাং তিনি যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে অত্যন্ত বিজ্ঞ একজন সিনিয়র আইনজীবী। তিনি আদালত অবমাননার বিষয়ে কি বলেছেন, তা আমাদের বোধগম্যের বাইরে।’

তিনি আরো বলেন, ট্রাইব্যুনালে যাদের বিচার হচ্ছে- আইন প্রতিমন্ত্রী বিচার চলাকালীন তাদের ফাঁসি দাবি করেছেন। বহুবার দাবি করেছেন। সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরীর রায় আইন মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া যায়নি, এমন কথা আইন প্রতিমন্ত্রী দাবি করতে পারেননি। তিনি বলেছেন- বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। এর অর্থ আইন প্রতিমন্ত্রী স্বীকার করে নিয়েছেন যে, আইন মন্ত্রণালয় থেকে এ কাজটা করা হয়েছে। বিচারকালীন তারা বলছেন, ফাঁসি চাই। বিচার সুষ্টু হোক তারা তা চায়নি, ন্যায়বিচার তারা চায়নি। যারা বিচার চলাকালীন ফাঁসি চেয়েছেন তারা তাদের এই দাবির মাধ্যমে বিচারপতিদের প্রভাবান্বিত করার চেষ্টা করেছেন। রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, এ সমস্ত আচরণ যারা করেছেন, আইন অনুসারে তারা আদালত অবমাননা করেছেন। কিন্তু আজ একটি সঠিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কেন এমন আচরণ করা হলো জনগণ তা জানতে চায়। পত্রিকায় বলা হয়েছে রায়টা মন্ত্রণালয় থেকে টাইপ হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো কিছু বলা হয়নি। সরকারও এ বিষয়ে কিছু বলেনি। আমার প্রশ্ন- আসলে রায়টা কে লেখছে। ওই আইন মন্ত্রণালয়ের কম্পিউটারের ভেতরে রায়টা গেলো কি করে, ঢুকলো কি করে? জাতি জানতে চায় আপনাদের কাছ থেকে, আসলে এ রায়টা কে লেখছে। ট্রাইব্যুনালকে অনুরোধ করবো- যদি আপনারা সেটা না বলেন, তাহলে এই দোটানার জাজমেন্টের ক্রেডিবিলিটি নিয়ে সমগ্র বিশ্বে যেমন প্রশ্ন দেখা দেবে তেমনি বাংলাদেশের মানুষের কাছেও প্রশ্ন দেখা দেবে।

সিনিয়রা আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, খন্দকার মাহবুব হোসেন যে কথা বলেছেন তা সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে দেয়া অধিকারের ভিত্তিতে বলেছেন। দুঃখজনক হচ্ছে তার বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। যারা এই কাজটা করছেন, তাদেরকে আমরা বলবো যে- আপনারা সংবিধান পড়–ন এবং আপনারা বার এবং বেঞ্চের মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি করবেন না। আমরা চাই- বার এবং বেঞ্চের মধ্যে ভালো সম্পর্ক থাকুক। ইতিহাসে যখনই কোনো সঙ্কট দেখা দিয়েছে তখই সুপ্রিম কোর্ট বার সে সঙ্কট সমাধানে নেতৃত্ব দিয়েছে। আমরা এখন সেই দায়িত্বই পালন করছি। যারা তাদের অবস্থানকে ব্যবহার করে বারের অত্যন্ত সিনিয়র আইনজীবীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করারা পাঁয়তারা করছেন, এটা কারো জন্যই কোনো কল্যাণ বহণ করে আনবে না।

সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, খন্দকার মাহবুব হোসেনের মন্তব্যকে নিয়ে যারা বিভ্রান্তি সৃষ্টির প্রয়াস চালাচ্ছেন, তারা বিচার বিভাগের সুহৃদ হতে পারেন না। তারা বিচার বিভাগকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছেন। যারা এর পেছনে ইন্ধন দিচ্ছেন তারা যেন এটা থেকে বিরত থাকেন।

বারের সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্ট বারের পরপর দুইবার নির্বাচিত সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছিলেন, বিচারকার্য স্বচ্ছ করতে হবে। তিনি প্রশ্ন করেছিলেন- রায় ঘোষণার আগে রায় কিভাবে বাজারে চলে আসলো, ইন্টারনেটে চলে আসলো। এই প্রশ্ন আজ সারা জাতির। কিভাবে এই রায় আগে প্রচারিত হলো। পত্রিকায় এসেছে- বেলজিয়াম থেকে নাকি ইন্টারনেটে প্রকাশ হয়েছে এ রায়। মে মাসে আইন মন্ত্রণালয়ের কম্পিউটারে কিভাবে এসেছে? তাই বলতে চাই- খন্দকার মাহবুব হোসেনের যে বক্তব্য সে বক্তব্য সকল আইনজীবীর।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আইনের শাসনে বিশ্বাস করি। স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়ায় বিশ্বাস করি। এই বিচার প্রক্রিয়া সম্বন্ধে আইনজীবী হিসাবে এবং আইনজীবী নেতা হিসাবে খন্দকার মাহবুব হোসেন বক্তব্য রেখেছেন। এই মন্তব্যকে তারা এখন রাজনৈতিকভাবে ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করছে।’ অ্যাটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, কিভাবে সরকারের মন্ত্রীরা বলেন- ট্রাইব্যুনালে যাদের বিচার হচ্ছে তাদের ফাঁসি হবে? আইন প্রতিমন্ত্রী কিভাবে বললো যে- ওদের ফাঁসি হবে? প্রধানমন্ত্রী কিভাবে বলে- ওদের রায় কার্যকর হবে, ফাঁসি হবে। গণজাগরণ মঞ্চের ডা. ইমরান এইচ সরকার কেন অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে আসলো?

তিনি আরো বলেন, ‘অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস সম্পূর্ণ কলুষিত করেছে বিচার প্রক্রিয়ায়কে। শুধু তাই নয়, আগের দিন গণজাগরণ মঞ্চ শাহবাগ থেকে বললো- সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসি চাই। আগে তারা বললো- কাদের মোল্লার ফাঁসি চাই, গোলাম আযমের ফাঁসি চাই, পরের দিন ট্রাইব্যুনাল থেকে ফাঁসি দেয়। মাহবুব উদ্দিন বলেন, বিচারপতি নাসিম (নিজামুল হক নাসিম) স্কাইপিতে কথা বলেছেন রায়ের আগে। তারপরও তিনি কিভাবে বিচারকের আসনে বসেন- এ প্রশ্ন রাখেন তিনি প্রধান বিচারপতি ও অ্যাটর্নি জেনারেলের প্রতি। সমস্ত বিচার ব্যবস্থাকে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে স্কাইপ কেলেঙ্কারির মাধ্যমে। বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম ইউ আহমেদকে হত্যার সাথে জড়িত। তার কারণেই এম ইউ আহমেদকে হত্যা করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে তাকে প্রমোশন দেয়া হয়েছে। এ অসহিষ্ণু অবস্থা সুপ্রিম কোর্টে বা বাংলাদেশের আইননাঙ্গনে চলবে না। যদি ট্রাইব্যুনালও কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রনোদিত কোনো দরখাস্ত গ্রহণ করেন তাহলে বার কাউন্সিল ও সুপ্রিম কোর্ট থেকে আমরা সিদ্ধান্ত দিতে বাধ্য হবো- সকল আইনজীবী যেন এই ট্রাইব্যুনাল বর্জন করে।

আইনজীবীদের বক্তব্যের পর সর্বসম্মতিক্রমে সেখানে একটি রেজুলেশন পাস হয়। রেজুলেশনে বলা হয়, ইন্টারনেটে আগেই রায় প্রকাশ হওয়ায় বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনমনে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করতে ১৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনে প্রধান বিচারপতি বরাবর দাবি জানানো হয়।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বারের সহসভাপতি এ বি এম ওয়ালিউর রহমান খান ও মো. শাহজাদা মিয়া, সহসম্পাদক এ বি এম রফিকুল হক তালুকদার রাজা ও মো. সাইফুর রহমান, ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম, ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট রবিউল ইসলাম রবি, অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট শরিফুল ইসলাম প্রমুখ।

রায় ফাঁসের কথা স্বীকার ট্রাইব্যুনালের /// থানায় জিডি দায়ের


মেহেদী হাসান, ২/১০/২০১৩
সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে রায় ঘোষনার আগেই রায় ফাঁস হওয়ার কথা স্বীকার করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। তবে ফাঁস হওয়া রায়ের কপিটি নিতান্তই একটি খসড়া রায়ের কপি বলে দাবি করা হয়েছে। রায় ফাঁসের ঘটনা স্বীকার করে  আজ  শাহবাগ থানায় জিডি করা হয়েছে ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে।

ট্রাইব্যুনাল-১ এর পক্ষে ট্রাইব্যুনালের মুখপাত্র রেজিস্ট্রার এ কে এম নাসিরউদ্দিন মাহমুদ আজ আনষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য জানান।  ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রেজিস্ট্রার বলেন, কথিত ফাঁস হওয়া রায়ের কপি নিতান্তই একটি খসড়া যা রায় ঘোষণার অনেক আগেই কোন না কোনভাবে ‘লিকড’ বা ফাঁস হয়েছে এবং একটি দুষ্টচক্রের হস্তগত হয়েছে। খসড়া এ রায় ট্রাইব্যুনালের কম্পিউটারে কম্পোজ করার পর তা কোন না কোনভাবে ফাঁস হয়েছে। এই বিষয়টি উদঘাটনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই ট্রাইব্যুনালের নির্দেশক্রমে থানায় জিডি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

রেজিস্ট্রার এ কে এম নাসিরউদ্দিন মাহমুদ বলেন, দেখা যায় যে, কথিত ‘লিকড’ হওয়া রায়ের খসড়ার সাথে ঘোষিত রায়ের কিছু সাদৃশ্য রয়েছে। কিন্তু এটি আদৌ কোন রায় নয় যা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল। ঘোসিত রায় এবং ফাঁস হওয়া রায়ের মধ্যে পার্থক্যের একটি দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, ঘোষিত রায়ে অনুচ্ছেদ নম্বর উল্লেখ আছে কিন্তু ফাঁস হওয়া কথিত রায়ে অনুচ্ছেদ নম্বর নেই। এটি নিতান্তই একটি খসড়া কপি।

আজ  দপুরে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাইব্যুনালের পক্ষে  লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান তিনি। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যাল-১-এর মাননীয় চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশক্রমে ট্রাইব্যুনালের স্পোকসম্যান হিসেবে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী একটি তথ্য সম্পর্কে প্রাথমিক কিছু কথা বলা প্রয়োজন। গত ০১ অক্টোবর ২০১৩ তারিখে ট্রাইব্যুনাল-১ সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মামলার রায় ঘোষণা করেছেন। এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর তারিখে ট্রাইব্যুনাল উন্মুক্ত আদালতে জানিয়েছেন যে, রায় প্রস্তুত এবং পর দিন অর্থাৎ ০১ অক্টোবর রায় ঘোষিত হবে।

আইন ও বিধি অনুসারে রায় ঘোষণার দিনই সাথে সাথে রায়ের সার্টিফাইড কপি পক্ষগণকে দিতে হয় যা অন্য কোন আইনে দেখা যায় না। তাই সঙ্গত কারণে রায় চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত না করে রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ ও রায় ঘোষণা করা হয় না। এ কারণে সাধারণত রায় ঘোষণার ২/১ দিন আগে রায় চূড়ান্ত করা হয়ে থাকে। কেবল সাজা সংশ্লিষ্ট অংশটি রায়ের দিন মাননীয় বিচারকগণ একমত হয়ে চূড়ান্ত করে থাকেন।
রেজিস্ট্রার বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, মঙ্গলবার  যথারীতি রায় ঘোষণার পর অভিযুক্ত সাজাপ্রাপ্ত সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষে নিয়োজিত আইনজীবী এবং অভিযুক্তের স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের মিডিয়াকে দেয়া বক্তব্য থেকে জানা যায় যে, রায় আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার পূর্বে তা ইন্টারনেটে কিছু ওয়েবসাইটে পাওয়া গেছে। তারা এটিও দাবি করেছেন যে, কথিত ‘রায়’ আইন মন্ত্রণালয়ের কম্পিউটারে সংরক্ষিত আছে।

তিনি বলেন, আপনারা জানেন যে, প্রসিকিউটর এবং অভিযুক্ত পক্ষের নিযুক্ত আইনজীবীগণ কোর্টের অফিসার। গতকাল (মঙ্গলবার) রায় ঘোষণার জন্য ট্রাইব্যুনাল আসন গ্রহণের পর অভিযুক্ত পক্ষের বিজ্ঞ আইনজীবীর দায়িত্ব ছিল কোন কোন ওয়েবসাইটে কথিত খসড়া রায় আগের দিন রাতে আপলোডেড পাওয়া গেছে সেই বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের নজরে আনা। কিন্তু তিনি তা না করে আনুষ্ঠানিকভাবে রায় ঘোষণার পর কথিত খসড়ার হার্ড কপি দেখিয়ে মিডিয়ার সামনে এটি দাবি করেন যে, রায় আগেই ‘লিকড’ হয়েছে এবং এটি আইন মন্ত্রণালয়ের কম্পিউটারে রয়েছে এবং এটি একটি ‘ডিকটেটেড রায়’। অভিযুক্তের বিজ্ঞ আইনজীবীর এই উদ্দেশ্যমূলক বক্তব্য অসদাচরণ বটে। নিঃসন্দেহে রায় ঘোষণার পর এমন দাবি করা অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ট্রাইব্যুনালকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চক্রান্তের অংশ।

লিখিত বক্তব্যে রেজিস্ট্রার বলেন, দেখা যায় যে, কথিত ‘লিকড’ রায়ের খসড়ার সাথে ঘোষিত রায়ের কিছু সাদৃশ্য রয়েছে। কিন্তু এটি আদৌ কোন রায় নয় যা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল। আপনারা লক্ষ্য করবেন যে, ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক ঘোষিত রায়ে অনুচ্ছেদ নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে। পক্ষান্তরে কথিত ‘লিকড’ খসড়া রায়ে কোন অনুচ্ছেদ নম্বর নেই এবং এটি নিতান্তই একটি খসড়া যা রায় ঘোষণার অনেক আগেই কোনভাবে ‘লিকড’ হয়েছে এবং খসড়া পর্যায়ে লিকড হওয়া খসড়াটি রায় ঘোষণার বেশ ক’দিন পূর্বেই দুষ্ট চক্রের হস্তগত হয়েছে মর্মে অনুমিত। তাই যদি হয় তবে তা পূর্বে প্রকাশ না করে ঠিক আনুষ্ঠানিক রায় ঘোষণার আগের রাতে কথিত ওয়েবসাইটে আপলোডেড পাওয়া গেল কেন এবং কিভাবে? এ থেকে এটি স্পষ্ট অনুমিত যে, একটি সংঘবদ্ধ দুষ্ট চক্র যারা ট্রাইব্যুনাল ও এর বিচারিক কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চান তারা এবং যারা এই অপকর্মের সুবিধাভোগী তারাই এই অপকর্মটি করেছে।

তিনি বলেন, সার্বিক বিবেচনায় প্রাথমিকভাবে এটি অনুমান করা হচ্ছে যে, কথিত খসড়া রায় ট্রাইব্যুনালের কম্পিউটারে কম্পোজ করার পর তা কোন না কোনভাবে ‘লিকড’ হয়েছে। এই বিষয়টি উদঘাটনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই ট্রাইব্যুনালের নির্দেশক্রমে রেজিস্ট্রার থানায় জিডি করেছেন। আমরা আশা করি, সত্য বেরিয়ে আসবে এবং এই ষড়যন্ত্রের সাথে কারা কারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করা যাবে। ট্রাইব্যুনালে কর্মরত কেউ যদি এই অপরাধমূলক কাজের সাথে জড়িত থাকেন তবে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রায় ঘোষণার পর অভিযুক্ত পক্ষে তার বিজ্ঞ আইনজীবী এবং পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন যে, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য বিচারপতি শামীম হাসনাইনকে ট্রাইব্যুনাল অনুমতি দেননি এবং এতে তার অধিকার ুণœ হয়েছে। এটি আদৌ সঠিক নয়। গত ২৭/৬/২০১৩ তারিখের ১৮৯ নং আদেশে ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করেছেন যে,



Ô Proposed witness No. 5 Mr. Justice Shamim Hasnain is the sitting Judge of the Supreme Court of Bangladesh, and as such without obtaining his consent, no summons will be issued upon him.


 ’ কিন্তু দেখা যায় যে, পরবর্তীতে মাননীয় বিচারপতি শামীম হাসনাইন এর নিকট থেকে এ বিষয়ে সম্মতি সংশ্লিষ্ট কোন কিছু ট্রাইব্যুনালকে অবহিত করা হয়নি।

যে বিষয়ে আপনাদের মাধ্যমে সবাইকে অবহিত করা হলো সে বিষয়ে পরবর্তী যে কোন অগ্রগতি যথারীতি আপনাদের অবহিত করা হবে। পরিশেষে এটি বলব যে, ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সহযোগিতা আমরা সব সময় পেয়েছি। প্রত্যাশা আগামীতেও এটি অব্যাহত থাকবে।
আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।

রায় ফাঁসের ঘটনা বিষয়ে জিডি :
ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে শাহবাগ থানায় দায়ের করা জিডির কপি সংবাদ সম্মেলনে বিলি করা হয় সাংবাদিকদের মাঝে। জিডির বিবরনে লেখা হয়েছে-
আমি নিম্নস্বাক্ষরকারী এই মর্মে আদিষ্ট হয়ে জানাচ্ছি যে, গত ০১/১০/২০১৩ ইং তারিখ রোজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ বিচারাধীন আইসিটি বিডি কেস নং -২/২০১১ চীফ প্রসিকিউটর বনাম সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী-এর রায় প্রচারের জন্য দিন ধার্য ছিল। রায় ঘোষণার পর পরই আসামী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের সদস্যগণ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া ব্যক্তকালে জানান যে, উক্ত মামলার রায়ের কপি তারা ইন্টারনেটের মাধ্যমে পূর্বেই প্রাপ্ত হয়েছেন। আসামী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্ত্রী ফারহাত কাদের চৌধুরী ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া ব্যক্তকালে আদালত হতে রায়ের কপি সরবরাহ করার পূর্বেই একটি ডকুমেন্ট ক্যামেরার সামনে প্রদর্শন করে বলেন যে, এই সেই ইন্টারনেট হতে প্রাপ্ত রায়ের কপি যা রায় ঘোষণার পূর্বেই তারা প্রাপ্ত হয়েছেন এবং সেটি নিয়েই তারা আদালত কক্ষে প্রবেশ করেছেন। তিনি আরো বলেন যে, আদালত হতে প্রচারিত রায় এবং ইন্টারনেট হতে প্রাপ্ত রায়ের মধ্যে মিল আছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল হতে প্রচারিত সমস্ত রায় ট্রাইব্যুনালেই প্রস্তুত করা হয়। রায় ঘোষণার পূর্বে রায়ের কোন অংশের কপি অন্য কোনভাবে প্রকাশের সুযোগ নেই। কিন্তু তারপরেও কথিত খসড়া রায়ের অংশ কিভাবে ইন্টারনেটে প্রচারিত হল বা কিভাবে ট্রাইব্যুনাল হতে খসড়া রায়ের অংশবিশেষ ফাঁস (leaked) হল তা উদ্বেগের বিষয়। বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার প্রতি হুমকি স্বরূপ। উল্লেখ্য যে,
www.tribunalleaks.be ওয়েবসাইটে কথিত খসড়া রায়ের অংশ আপলোডেড দেখা যায়।
এমতাবস্থায় বিষয়টি তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করা হল।
এ কে এম নাসির উদ্দিন মাহমুদ
রেজিস্ট্রার
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
পুরাতন হাইকোর্ট ভবনম ঢাকা।
জিডি নং ৮৫ তাং ০২/১০/ডি
মো : জাফর আলী
এস আই। শাহবাগ থানা।

রায় ফাঁস হয়নি দাবি এবং ট্রাইব্যুনালের স্বীকারোক্তি

ট্রাইব্যুনালের পক্ষে রেজিস্ট্রার গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে  স্বীকার করেছেন রায়ের খসড়া কপি কোন না কোনভাবে ফাঁস হয়েছে। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেছেন খসড়া কপির অংশ বিশেষ ফাঁস হয়েছে।
কিন্তু মঙ্গলবার সরকারের বিভিন্ন মহল থেকে দাবি করা হয় রায় ফাঁস হওয়ার প্রশ্নই আসেনা।
মঙ্গলবার সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে  ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক রায়  ঘোষনার আগেই রায় ফাঁস হওয়া বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেছেন, এটি মিথ্যে কথা। আমি এটর্নি জেনারেল হয়ে জানতে পারলামনা ; ওনারা পেলেন কিভাবে। এটি একটি মনগড়া কথা।

আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম,  আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিত  আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হকও মঙ্গলবার  দাবি করেন, রায় ফাঁস হওয়ার কোন প্রশ্নই আসেনা। মন্ত্রণালয় থেকে রায় ফাঁস হওয়ার কোন সুযোগ নেই।  তার পরও মন্ত্রণালয়  এ বিষয়টি অনুসন্ধান করে দেখার জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রন  কমিশনকে (বিটিআরসি) নির্দেশ দিয়েছে।

১৯৭১ সালে মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে গত মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল-১ সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদন্ডের রায় দেয়। কিন্তু সোমবার মধ্যরাতের পর থেকে ইন্টারনেটে রায় ফাঁস হওয়ার ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ে । ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক রায় ঘোষনার পরপরই  সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবী ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম এবং স্ত্রী ফরহাত কাদের চৌধুরীর  পক্ষ থেকে দাবি করা হয় আইন মন্ত্রণালয় থেকে এ রায় লেখা হয়েছে। রায় আগেই ফাঁস হয়ে গেছে এবং তারা ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করে সে রায়ের কপি নিয়ে এসেছেন। সাংবাদিকদের সে কপি দেখিয়ে তারা দাবি করেন, ট্রাইব্যুনালে একটু আগে যে রায় ঘোষনা করা হল তার সাথে হুবহু মিল রয়েছে ফাঁস হওয়া রায়ের কপির সাথে।







মঙ্গলবার, ১ অক্টোবর, ২০১৩

রায় ঘোষনার আগেই ফাঁসের অভিযোগ

মেহেদী হাসান, ১/১০/২০১৩
সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক রায় ঘোষনার পর তার আইনজীবী ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম এবং স্ত্রী ফরহাত কাদের চৌধুরী অভিযোগ করে বলেছেন, ট্রাইব্যুনালে আজ যে রায় ঘোষনা করা হয়েছে তা আগেই ইন্টারনেটে ফাঁস হয়ে গেছে। রায় ঘোষনার আগেই  সোমবার মধ্য রাত থেকে ইন্টারনেট এবং অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে রায়ের কপি প্রকাশিত হয়ে যায়। তারা অভিযোগ করেন যে, আইন মন্ত্রণালয় থেকে লেখা রায় পড়ে শোনানো হয়েছে ট্রাইব্যুনালে । ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক রায় ঘোষনার পর দেখা যায় আগেই ফাঁস হওয়া রায়ের কপির সাথে  হুবহু মিল রয়েছে।

তারা ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোডকৃত ফাঁস হওয়া রায়ের একটি কপি সাংবাদিকদের দেখান এসময়।

তারা জানান, সোমবার মধ্যরাতের পর বেলজিয়ামের িি.িঃৎরনঁহধষষবধশং.নব, নামক একটি ওয়েবসাইট, বিদেশী আরেকটি ওয়েবসাইট িি.িলঁংঃরপবপড়হপবৎহ.পড়স  এবং নফঃড়ফধু.হবঃ  এর ব্লগে  রায় প্রকাশিত হয়। এরপর এর সূত্র ধরে ফেসবুক, বিভিন্ন ব্লগ এবং ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন অনলাইন গনমাধ্যমে এ খবর প্রচারিত হতে থাকে। ফলে ইন্টারনেট, মোবাইল এবং অন্যান্য তথ্য প্রযুক্তির বরাতে অতি দ্রুত এ খবর ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র।

সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে রায় ঘোষনা উপলক্ষে সকাল থেকেই ট্রাইব্যুনালের সামনে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজন ভিড় করতে থাকেন। এসময় হাইকোর্ট এবং ট্রাইব্যুনাল অঙ্গনে রায় ফাঁস হওয়ার ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা চলতে থাকে। যারা এ বিষয়ে অনবহিত ছিল তাদের কাছেও এ খবর ছড়িয়ে পড়ে।

রায় ঘোষনার পরপরই সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্ত্রী ফরহাত কাদের চৌধুরী, তার ছেলে হুমাম কাদের চৌধুরী এবং আইনজীবী ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম একই সুরে অভিযোগ করে বলেন, ট্রাইব্যুনালে একটু আগে যে রায় পড়ে শোনানো হল সেটি আসলে আইন মন্ত্রণালয় থেকে লিখে পাঠানো হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিরা আইন মন্ত্রণালয়ের লেখা রায় পড়ে শুনিয়েছেন মাত্র। এটি তাদের রায় নয়।  এ রায় আগেই ফাঁস হয়ে গেছে। ফাঁস হওয়া রায় বিষয়ক প্রতিবেদনে আরো যে চাঞ্চল্যকর তথ্য রয়েছে তা হল বিচার শেষ হবার অনেক আ্েগই চলতি বছর ২৩ মে আইন   মন্ত্রনালয়ে এ রায় লেখা শুরু হয় যখন  সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ চলছিল।  আমরা ইন্টারনেট এবং অনলাইন গনমাধ্যম থেকে রায়ের কপি ডাউন লোড করে  নিয়ে এসেছি। এ কপির সাথে ট্রাইব্যুনালের পাঠ করা রায়ের  হুবহু  মিল রয়েছে দেখা যাচ্ছে। তারা দাবি করেন যেসব অনলাইনে রায়টি ঘোষনার আগেই ফাঁস হয়েছে তাতে আইনমন্ত্রণালয়ের কম্পিউটারে এ রায় লেখা মর্মে প্রমান রয়েছে।

রায় ঘোষনার পর ফাহাত কাদের চৌধুরী বলেন, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী রায় ঘোষনার সময় ট্রাইব্যুনালে বলেছেন এটা আইনমন্ত্রণালয় থেকে তৈরি করা রায়। আদালতে রায় ঘোষণার সময় আমি আইনমন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত রায়ের কপি মিলিয়ে দেখেছি। আমি দেখেছি বিচারপতিরা যে রায় পাঠ করেছেন তা প্রকাশিত কপির সাথে হুবহু মিলে গেছে। রায়ের ভারডিক্ট অংশ ছাড়া বাকী অংশটুকু আইনমন্ত্রণালয়ের লেখা কপির সাথে হুবহু মিলে গেছে। আমি বিস্মিত আইনমন্ত্রণালয়ের লেখা রায় কিভাবে বিচারপতিরা পড়ে শোনাতে পারলেন। তাদের এ রায় ঘোষনা থেকে বিরত থাকা উচিত ছিল।

তিনি এসময় ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করা ফাঁস হওয়া রায়ের  একটি কপি সাংবাদিকদের দেখিয়ে বলেন আপনারা দেখেন এই রায় আমন্ত্রণালয় থেকে লেখা হয়েছে। গতকাল রাতে বিভিন্ন অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে এ রায়।
ফরহাত কাদের চৌধুরী বলেন, আমরা দেশবাসী ও দুনিয়াকে দেখাতে চাই এখানে জুডিশিয়াল কিলিং হচ্ছে। এখানে কেউ বিচার পাবে না। আমরা বুঝতে পারছি না কোথায় যাব, কোথায় বিচার পাব। আমরা আগে থেকেই জানতাম এখানে বিচার পাব না।

সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবী ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম বলেন, এই রায় আইনমন্ত্রণালয় থেকে লেখা হয়েছে।  ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিরা তা আজ পাঠ করেছেন মাত্র। রায়টি গতকাল রাত থেকে ইন্টারনে এবং অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। ট্রাইব্যুনালের তিনজন বিচারপতির এই রায় পাঠ না করে পদত্যাগ  করা উচিৎ ছিল।

সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরীর বড় ছেলে ফাইয়াজ কাদের চৌধুরী রায়ের পর সাংবাদিকদের বলেন, বাবা ট্রাইব্যুনালে বলেছেন রায় আইনমন্ত্রণালয় থেকে বেরিয়েছে। ফাঁস হওয়া রায়ের কপিতে তার প্রমান রয়েছে।

আজ  সকালে হাইকোর্ট অঙ্গনে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে ফাঁস হওয়া রায় বিষয়ে একটি বুলেটিন প্রচারিত হয় আসামী পক্ষ থেকে। বুলেটিনের এ প্রতিবেদনে  ফাঁস হওয়া রায়ের সারমর্ম এবং কোথা থেকে এটি ফাঁস হয়েছে তার সূত্র তুলে ধরা হয় । বুলেটিনের প্রতিবেদন এবং অন্যান্য গনমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক যে রায় ঘোষনা করা হয়েছে তার  অনুলিপি আইন  মন্ত্রনালয়েল আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মোহাম্মদ জহিরুল হকের অফিসের কম্পিউটারে রতি ছিল। আইন মন্ত্রণালয়ের ষষ্ঠ তলার একটি কম্পিউটারে ‘ডি ড্রাইভে’ এ রায়ের কপি পাওয়া যায়। কম্পিউটারের প্রত্যেকটি ফাইল বা ডকুমেন্টের উৎস নির্ণয়ক তথ্য ওই ফাইল বা ডকুমেন্টে সংরক্ষিত থাকে। এই তথ্য ওই ফাইল বা ডকুমেন্টের প্রপারটিস অপশনে গেলে পাওয়া যায়। এই রায়ের কপিটি যে ফাইলে পাওয়া গেছে তার প্রাপারটিস অপশনে গিয়ে যেসব তথ্য পাওয়া গেছে তাহলো- ‘ডি ড্রাইভ’র ‘আলম’ নামে ফোল্ডারের সাব ফোল্ডার ‘ডিফারেন্ট কোর্টস অ্যান্ড পোস্ট ক্রিয়েশন’ এর মধ্যে আরেকটি সাব ফোল্ডার ‘ওয়ার ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল’। এই ‘ওয়ার ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল’ এর মধ্যে আরেকটি ফোল্ডার ‘চিফ প্রসিকিউটর-ওয়ার ট্রাইব্যুনাল’ এর মধ্যে রাখা রায়ের খসড়া কপিটির নাম ছিলো ‘সাকা ফাইনাল-১’। রায় লেখা চূড়ান্ত করার পর খসড়া কপিটির নাম ‘সাকা-১’ পরিবর্তন করে রাখা হয়, ‘আইসিটি বিডি কেস নং ০২ অব ২০১১ (ডেলিভারি অব জাজমেন্ট)(ফাইনাল)’।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়ছে আলম নামের যে ব্যক্তির কম্পিউটারে ফাইলটি পাওয়া গেছে সেই আলম হলেন আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিব  আবু সালেহ শেখ মো : জহিরুল হক এর কম্পিউটার অপারেটর।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে কম্পিউটারের তথ্যে  দেখা যায় আইন মন্ত্রণালয়ে উক্ত ফাইলটি তৈরি করা হয়েছে চলতি বছর ২৩ মে ১২টা ১ মিনিটের সময় যখন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ চলছিলো। ফাইলের সাইজ ১৬৭ কেবি। ফাইলটি এডিট করা হয়েছে ২৫৮৭ মিনিট পর্যন্ত। 
এ তথ্য থেকে আসামী পক্ষ দাবি করেছে বিচার শেষ হওয়ার আগেই ২৩ মে থেকে রায় লেখা শুরু হয়েছিল। গত ১৪ জুলাই সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম শেষে রায় অপেক্ষমান ঘোষনা করা হয়।

রায় প্রকাশের আগেই বিভিন্ন অনলাইন এবং অন্যান্য গনমাধ্যমে ফাঁস হওয়া রায় নিয়ে তৈরি করা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে  ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী মোট ২৩টি অভিযোগে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়। সেখান থেকে মোট ১৭টি অভিযোগের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী হাজির করে। যেহেতু রাষ্ট্রপক্ষ ১৭টি অভিযোগের পক্ষে সাক্ষী হাজির করেছে, তাই এ ১৭টি অভিযোগের বিষয়ে রায় লেখা হয়েছে মর্মে তথ্য দেখা যায় আইন মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া রায়ের কপিতে। আইন মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া রায়ে দেখা যায়, ১৭টি অভিযোগের মধ্যে মোট ৯টি অভিযোগে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। আটটি অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেয়া হয়েছে। এছাড়া যে ছয়টি অভিযোগের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষী হাজির করেনি সেগুলো থেকেও তাকে খালাস দেয়া হয়েছে।
আজ  ট্রাইব্যুনাল কতৃক প্রকাশিত রায়েও হুবহু একই ফলাফল দেখা যায় বলে আসামীর পরিবার এবং আইনজীবীরা দাবি করেছেন।





সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ড

মেহেদী হাসান, ১/১০/২০১৩
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য বিশিষ্ট পার্লামেন্টরিয়ান সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছে। ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের লক্ষ্যে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুাল -১  আজ  তার বিরুদ্ধে এ রায় ঘোষনা করে।

চারটি অভিযোগে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরকে  মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া তিনটি অভিযোগের  প্রত্যেকটিতে ২০ বছর এবং আরো দুটি অভিযোগের প্রতিটিতে পাঁচ বছর করে জেল দেয়া হয়েছে।

সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে মোট ২৩ টি অভিযোগে  চার্জ গঠন করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপক্ষ সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে ২৩টি অভিযোগের মধ্য থেকে ১৭টি অভিযোগের পক্ষে সাক্ষী হাজির করে । ১৭টি অভিযোগ থেকে  তাকে মোট ৯টি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে ট্রাইব্যুনালের রায়ে। বাকী আটটি অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেয়া  হয়েছে।
এছাড়া রাষ্ট্রপক্ষ বাকী যে ছয়টি অভিযোগের পক্ষে সাক্ষ্য প্রমান হাজির করেনি সে ছয়টি অভিযোগ থেকেও সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে খালাস দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ তাকে মোট  ১৪টি অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেয়া হয়েছে ট্রাইব্যুনালের রায়ে।  বিস্তারিত আসছে।


জনাকীর্ন ট্রাইব্যুনাল কক্ষে আজ  আলোচিত এবং ঘটনাবহুল এ মামলার রায় প্রদান করা হয়। রায় ঘোষনা উপলক্ষে সকাল থেকেই বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে কোর্ট প্রাঙ্গনে। এছাড়া  রায় ঘোষনার আগেই সুপ্রীম কোর্ট এবং ট্রাইব্যূনালে উপস্থিত সাংবাদিক এবং অন্যান্য লোকজনের মুখে  ছড়িয়ে পড়ে রায় ফাঁস হওয়ার বিষয়টি। সব মিলিয়ে  আলোচিত এ রায়কে কেন্দ্র করে আজ  একটি ভিন্ন মাত্রা বিরাজ করে কোর্ট প্রাঙ্গনে। সকাল ১০টা ৪২ মিনিটের সময় সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে ট্রাইব্যুনালের বিচার কক্ষে হাজির করা হয়। এরপরপরই ট্রাইব্যুনালের তিন বিচারপতি এজলাশে প্রবেশ করেন এবং রায় পড়ে শোনাতে শুরু করেন। ট্রাইব্যুনাল-১  চেয়ারম্যান বিচারপতি  এটিএম ফজলে কবির, সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক পালাক্রমে রায় পড়ে শোনান। মূল রায়টি ১৭২ পৃষ্ঠার। সেখান থেকে সংক্ষিপ্ত রায় পড়ে শোনানো হয়।

মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত ৪ অভিযোগ : 

যে চারটি অভিযোগে মুত্যুদন্ড দেয়া হয়েছে সেগুলো হল ৩, ৫, ৬ এবং ৮ নং অভিযোগ।
অভিযোগ-৩  :  রাষ্ট্রপক্ষের এ অভিযোগে বলা হয় ১৯৭১ সালের ১৩ এপ্রিল সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর উপস্থিতিতে এবং নির্দেশে রাউজানের গহিরায় অবস্থিত কুন্ডেশ্বরী কমপ্লেক্স এর প্রতিষ্ঠাতা সমাজসেবক অধ্যক্ষ নূতন চন্দ্র সিংহকে পাকিস্তান আর্মি গুলি করে হত্যা করে।  সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী নিজেও  তাকে গুলি করে । 

অভিযোগ-৫ :  এ অভিযোগ সম্পর্কে বলা হয় ১৯৭১ সালে ১৩ এপ্রিল সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী কতিপয় অনুসারীদের নিয়ে রাউজানের সুলতানপুর গ্রামে  হামলা চালিয়ে  তিনজনকে গুলি করে হত্যা করে। 
অভিযোগ-৬  : ১৯৭১ সালের ১৩ এপ্রিল সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর  রাউজানের ঊনসত্তরপাড়ায় সশস্ত্র অভিযান চালান। এসময় ৫০ থেকে ৫৫ জন হিন্দুকে  ব্রাশফায়ার করে হত্যা করা হয়।
অভিযোগ-৮  :  ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মোজাফফর আহম্মদ তার পুত্র শেখ আলমগীরসহ তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য প্রাাইভেটকারযোগে চট্টগ্রামের রাউজান থেকে চট্টগ্রাম শহরে আসছিলেন। পথে হাটহাজারী থানার খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি তিন রাস্তার মোড়ে সকাল অনুমান ১১টার দিকে পৌঁছামাত্র আসামি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সঙ্গে থাকা পাকিস্তানি দখলদার সৈন্যরা তাদের প্রাাইভেট গাড়িটি অবরোধ করে শেখ মোজাফফর আহম্মেদ ও তার ছেলে শেখ আলমগীরকে গাড়ি থেকে নামিয়ে আটক করে স্থানীয় পাকিস্তানি সেনা ক্যাম্পে নিয়ে যায়। পরে আর তাদের কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।

২০ বছর জেলদন্ডের ৩ অভিযোগ :
২, ৪ এবং ৭ নং অভিযোগে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে ২০ বছর করে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
অভিযোগ ২ :   ১৯৭১ সালের  ১৩ এপ্রিল সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নেতৃত্বে পাকিস্তান  সেনাবাহিনীর একদল সদস্য রাউজানের গহিরা  গ্রামের  হিন্দু  পাড়ায় সশস্ত্র অভিযান চালায়। এসময়  পঞ্চবালা শর্মা, সুনীল শর্মা, মতিলাল শর্মা ও দুলাল শর্মা লাল শর্মা  তিন চারদিন পর মারা যায়।

অভিযোগ ৪ : এ অভিযোগে বলা হয় ১৯৭১ সালের ১৩ এপ্রিল সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী স্থানীয় সহযোগী এবং  পাকিস্তানি  সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে হিন্দু অধ্যুষিত জগৎমলপাড়ায় অভিযান চালান। এসময় ৩২ জনকে হত্যা করা হয়।

অভিযোগ ৭ : ১৯৭১ সালের ১৪ এপ্রিল  সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নেতৃত্বে একদল পাকিস্তানি সেনা সদস্য রাউজান পৌরসভা এলাকার সতীশ চন্দ্র পালিতের বাড়িতে  প্রবেশ করে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয।

পাঁচ বছর কারাদান্ডের ২  অভিযোগ :
১৭ এবং ১৮ নং অভিযোগে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। ১৭ নং অভিযোগে বলা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক নিজাম উদ্দিন আহম্মেদ, সিরাজ ও ওয়াহেদ ওরফে ঝুনু পাগলাকে অপহরণ করে বন্দী করে রাখা হয়। ১৮ নং অভিযোগে বলা হয়েছে চট্টগ্রাম জেলার চান্দগাঁও থানার মোহারা গ্রামের  সালেহউদ্দিনকে অপহরণ করে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পারিবারিক বাসভবন গুড়সহিলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী তার গালে চড় মারেন।

আলোচিত ঘটনাবহুল একটি মামলা :
ট্রাইব্যুনালে যেসব মামলার রায় হয়েছে এবং আরো যেসব মামলা বিচারাধীন রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম আলোচিত মামলা ছিল সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী মামলা। তবে আজ  রায় প্রকাশের আগেই রায় ফাঁস হয়ে যাবার অভিযোগের ঘটনার মধ্য দিয়ে এ মামলায় আলোচনার নতুন মাত্রা যোগ হল। রায় ঘোষনা উপলক্ষে সকালে আদালতে আসেন সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের সদস্য এবং আইনজীবীরা। তারা ফাঁস হওয়া রায়ের একটি কবি হাতে করে আদালতে আসেন।

সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী হল বিএনপির প্রথম কোন নেতা যার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক রায় প্রদান করা হল। ২০১১ সালে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিচারের উদ্যোগ গ্রহন উপলক্ষে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের পর থেকে বিচার চলাকালে নানা ধরনের মন্তব্য করে বিভিন্ন সময় সংবাদ শিরোনাম হয়েছেন জনপ্রিয় এই রাজনীতিক। আজও তিনি রায় ঘোষনার সময় দাড়িয়ে বলেছেন এ রায় পড়ে লাভ কি। এসবতো আগেই ইন্টারনেটে অনলাইনে চলে এসেছে।

ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন ব্যক্তিবর্গের মধ্যে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ছিলেন একমাত্র ব্যক্তি যিনি নিজে সাক্ষীকে জেরা করেছেন মাঝে মধ্যে। তার পক্ষে তিনি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমান, হাইকোর্টের বিচারপতি শামীম হাসনাইন, আনোয়ার হোসেন মঞ্জুসহ পরিচিত এবং জনপ্রিয় বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গকে সাক্ষী মানার ঘটনা দেশজুড়ে আলোচিত হয়েছে।  বিচারের শুরুতে তিনি তার পক্ষে কোন আইনজীবী নিয়োগ না করে নিজেই নিজের মামলায় লড়বেন বলে ঘোষনা দেন। এরপর তার পক্ষে একজন রাষ্ট্রীয় আইনজীবী নিয়োগ দেয়ার পর তিনি নিজে আবার আইনজীবী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। বিচার চলাকালে এক পর্যায়ে আবার নিজের আইনজীবী প্রত্যাহর করে নেন এবং আবারো তার পক্ষে রাষ্ট্রীয় আইনজীবী নিয়োগের ঘটনা ঘটে।

পাকিস্তান অবস্থানের দাবি নাকচ :
সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পর চট্টগ্রামের রাউজান, রাঙ্গুনিয়া এবং বোয়ালিয়া থানায় বিভিন্ন হত্যা, গনহত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোকজনকে হত্যা নির্যাতন এবং হিন্দু সম্প্রদায়কে হত্যা, নির্মূল এবং দেশান্তরকরনের অভিযোগ আনা হয় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে।  আর সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর দাবি ছিল ১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ তিনি পাকিস্তানে চলে যান। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বদলী ছাত্র হিসেবে তিনি  পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং যুদ্ধের পুরো সময় পাকিস্তান অবস্থান করেন। পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অধ্যয়ন শেষে ১৯৭১ সালের অক্টোবার মাসে  লন্ডনে চলে যান এবং লিঙ্কন ইনে ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৯৭৪ সালে তিনি সর্বপ্রথম দেশে আসেন বলে দাবি করে তিনি।

১৯৭১ সালে তার পাকিস্তান অবস্থান বিষয়ে বাংলাদেশের এবং পাকিস্তানের জীবিত অনেক ভিআইপি ব্যক্তিবর্গের নাম  উল্লেখ করেছিলেন সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী তার জবানবন্দীতে।  বাংলাদেশে যাদের নাম উল্লেখ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন সুপ্রীম কোর্টের বর্তমান বিচারপতি শামীম হাসনাইনের নাম। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেছেন শামীম হাসনাইন তার সাথে তখন একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন এবং তিনি তার বন্ধু ছিলেন। এছাড়া  বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বর্তমান উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানও সেসময় পাকিস্তান অবস্থান করছিলেন এবং তার সাথে নিয়মিত দেখা সাক্ষাত হত দাবি করে  তাকেও তিনি সাক্ষী মেনেছিলেন।

১৯৭১ সালে পাকিস্তানে অবস্থান বিষয়ে পাকিস্তানে বর্তমানে জীবিত যেসব গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের নাম উল্লেখ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট এবং ২০০৮ সালে কেয়ারটেকার সরকারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মিয়া সামরু, সাবেক তথ্যমন্ত্রী ইসকাহ খান খাকওয়ানী, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিদ্দিক খান কানজু প্রমুখ। এরা সকলেই তার কাসমেট ছিলেন। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ট্রাইব্যুনালে বলেন, আমি যে ১৯৭১ সালে পাকিস্তান ছিলাম সে মর্মে তারাসহ আরো অনেকে এফিডেভিড পাঠিয়েছেন আমাকে। তারা আমার পক্ষে এসে সাক্ষ্য দিতে চান কিন্তু বাংলাদেশ সরকার তাদের এদেশে আসার বিষয়ে ভিসা দিচ্চেনা।

তবে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তার পাকিস্তান অবস্থান বিষয়ে দাবি নাকচ করে দেয়া হয়েছে রায়ে।  এ দাবি নাকচের পক্ষে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে দৈনিক পাকিস্তান পত্রিকায় ২৯/৯/১৯৭১ সালে একটি খবর প্রকাশিত হয়। রাষ্ট্রপক্ষ সে ডকুমেন্ট আদালতে দাখিল করেছে। ওই খবরের শিরোনাম ছিল বোমার আঘাতে ফজলুল কাদের চৌধুরীর ছেলে আহত। খবরে বলা হয়েছে তাদের গাড়ির ওপর বোমা হামলা হয় এবং এতে ফজলুল কাদের চৌধুরীর বড় ছেলে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী আহত হয়। তাদের চালক নিহত হয়েছে। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী এ ঘটনার পর যে চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন সে মর্মে তখনকার একজন ডাক্তার সাক্ষ্য দিয়েছেন। কাজেই রাষ্ট্রপক্ষ যে সাক্ষ্য প্রমান হাজির করেছে তাতে এটি প্রমানিত যে তিনি তখন দেশে ছিলেন। তিনি দেশে ছিলেনননা আসামী পক্ষ এ দাবি প্রমানে ব্যর্থ হয়েছে। কাজেই এ  আবেদন নাকচ  করা হল।

রায়ে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর প্রতি উষ্মা : রায়ে বলা হয় সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী এ পর্যন্ত ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি একজন বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান, আইন প্রনেতা। কিন্তু তিনি বিচার চলাকালে এ কোর্টে যেসব আচরন করেছেন মাঝে মাঝে তা দু:খজনক। আমরা তার অনেক বিষয় খেয়াল করেছি। তিনি কোর্টের ডেকোরাম মানতে চাননি। মাঝে মাঝে উচ্চস্বরে চিৎকার করেছেন। তাকে সতর্কও করা হয়েছে এজন্য বিভিন্ন সময়। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান এবং মেম্বারদের তিনি চেয়ারম্যান সাহেব এবং মেম্বার সাহেব বলে সম্বোধন করেছেন। বিচারপতিরা আদালত  কক্ষ ত্যাগ করার সময় তিনি বসে থাকতেন বলে লক্ষ্য করা গেছে ।

রায়ের কপি হাতে ট্রাইব্যুনালে আসেন আসামী পক্ষ :
আজ  সকাল থেকেই হাইকোর্ট এবং ট্রাইব্যুনাল অঙ্গনে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রায় ফাঁস হওয়ার অভিযোগের ঘটনা ছড়িয়ে পড়ে। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবী এবং পরিবারের সদস্যরা ফাঁস হওয়া রায়ের ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করা  কপি নিয়ে হাজির হন ট্রাইব্যুনালে।  তারা অনেককে এটি দেখিয়ে বলেন আমরা রায়ের কপি আগেই পেয়ে গেছি। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবী এবং স্ত্রী  অভিযোগ করেন   আইন মন্ত্রণালয়ের কম্পিউটার থেকে এ রায়ের কপি ফাঁস হয়েছে এবং রায় আইন   মন্ত্রনালয় থেকেই লেখা হয়েছে।

সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি :
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি পরিচিত নাম সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী। স্বাধীন বাংলাদেশে তিনি পরপর ছয়বার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি আলোচিত একটি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। তার পিতা ফজলুল কাদের চৌধুরী পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি এবং সংসদের স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন।  তৎকালীন পূর্ব  পাকিস্তান ক্যাডেট কলেজে (বর্তমানে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ) ভর্তি  ১৯৬০ সালে এবং সেখান থেকে এসএসসি ১৯৬৬ সালে। এরপর  নটরডেম কলেজে ১৯৬৬ সালে ভর্তি হন।  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্নাসে ভর্তির পর মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে বদলি হন এবং সেখানে অধ্যয়ন শেষে ১৯৭১ সালে অক্টোবর মাসে লন্ডনের লিঙ্কন ইনে ভর্র্তি  হন ব্যারিস্টারি পড়ালেখার জন্য। তবে তা শেষ করেননি তিনি।  ক্যাডেট কলেজে ভর্তির আগে তিনি পাকিস্তানের বিখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাদিক পাবলিক স্কুলে পড়াশুনা করেন।

ছাত্রজীবনে তিনি সরাসরি কোন ছাত্রসংগঠনের সাথে জড়িত  না থাকলেও আইয়ূব বিরোধী আন্দোলনে যোগদান করেন।  ১৯৬৯ সালে এই আন্দোলনে নিহত আসাদ এর মৃত্যুর সময় ঘটনাস্তল থেকে মাত্র ১০ ফুট দূরে অবস্থান করছিলেন  বলে জবানবন্দীতে উল্লেখ করেন।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরন :
গত বছর ১৯ এপ্রিল সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। এক বছর চার মাসের মাথায় আলোচিত এ মামলার সমস্ত বিচার কার্যক্রম শেষ হয় গত ১৪ আগস্ট। ওই দিন যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় অপেক্ষমান ঘোষনা করা হয়। 
২০১০ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভোরে গ্রেফতার করা হয় সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে।

১৭টি অভিযোগের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষ মোট ৪১ জন সাক্ষী হাজির করে। অপর দিকে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষে আসামী নিজেসহ মোট চারজন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। 














শুক্রবার, ১৬ আগস্ট, ২০১৩

সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী মামলা : নূতন চন্দ্র সিংহ হত্যা বিষয়ে ১৯৭২ সালের এফআইআর- এ যা রয়েছে


মেহেদী হাসান, ১৫/৮/২০১৩
সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী যেসব অপরাধের অভিযোগে বিচার চলছে তার মধ্যে অন্যতম আলোচিত একটি অভিযোগ হল রউজান থানার  গহিরা গ্রামে কুন্ডেশ্বরী কমপ্লেক্স’র প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ নূতন চন্দ্র সিংহ হত্যাকান্ড। এ হত্যাকান্ড বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের  ২ জন  সাক্ষী বলেছেন, তারা দেখেছেন  সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নির্দেশে পাকিস্তান আর্মি নূতন চন্দ্র সিংহকে গুলি করে প্রথমে। এরপর সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী  নিজেও তার  পিস্তল দিয়ে কয়েক রাউন্ড  গুলি করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে। গুলি করার আগে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী নূতন চন্দ্র সিংহকে তার বাড়ির ভেতরে অবস্থিত মন্দির থেকে টেনে হিচড়ে বের করে নিয়ে আসে।

নূতন চন্দ্র সিংহ’র ছেলে সত্যরঞ্জন সিংহ ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে  তার পিতার হত্যা বিষয়ে একটি মামলা করেছিলেন  রাউজান থানা। রাউজান থানায় দায়েরকৃত এফআইআর-এ সত্যরঞ্জনসিংহ তার পিতা হত্যার যে বিবরন দিয়েছেন তার সাথে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষীদের বর্নিত ঘটনার সাথে। সত্যরঞ্জন সিংহ ১৯৭২ সালের এফআইআর-এ যে বর্ননা দিয়েছেন তাতে তিনি উল্লেখ করেছেন- পাকিস্তান আর্মির দুজন সদস্য তার পিতাকে মন্দির থেকে বের করে আনে। এরপর পাকিস্তান আর্মির এক সদস্য তাকে পরপর তিনটি গুলি করে। এতেই তার মৃত্যু হয়। সেখানে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে গুলি করার কোন অভিযোগ নেই। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং তার পিতা ফজলুল কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে তার পিতা হত্যায় ষড়যন্ত্র এবং প্রররোচনার অভিযোগ আনা হয়েছে  ১৯৭২ সালের ওই মামলায়।

গত বুধবার  ট্রাইব্যুনালে এ মামলার যুক্তি উপস্থাপনের শেষ দিনে আসামী পক্ষ থেকে ১৯৭২ সালের  এফআইআর ডকুমেন্ট দাখিল করা হয়। এফআইআরটি নিম্নরূপ :

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার মহোদয় সমীপেষু।
আমি শ্রী সত্য রঞ্জন সিংহ, পিতা-মৃত অধ্যক্ষ ণূতন চন্দ্র সিংহ সাং গহিরা, থানা-রাউজান, চট্টগ্রাম অদ্য আমার পিতার হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রকারী, প্ররোচনাকারী ও সমর্থনকারীর বিরুদ্ধে অত্র লিখিত অভিযোগ দায়ের করিতেছি ঘটনার বিবরণ যথাÑ
(১) আমার পিতা স্বর্গীয় ণূতন চন্দ্র সিংহ চট্টগ্রাম তথা সমগ্র বাংলাদেশের একজন খ্যাতনামা ব্যক্তি ছিলেন। তিনি নিজ ব্যয়ে কুণ্ডেশ্বরী বালিকা বিদ্যামন্দির ও কুণ্ডেশ্বরী বালিকা মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা ছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কয়েক লক্ষ টাকা দান করিয়া অশেষ খ্যাতি অর্জন করায় উগ্র হিন্দু বিদ্বেষী পার্শ্বোক্ত ১ (ফজলুল কাদের চৌধুরী) ও ২নং (সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী) ব্যক্তি তজ্জন্য বরাবর ঈর্ষা পরায়ণ ছিলেন। পার্শ্বোক্ত ৩-১০ ব্যক্তিগণ পার্শ্বোক্ত ১/২নং ব্যক্তির অন্ধ সমর্থক ও দুষ্কার্যের সহায়ক। আমার পিতার ন্যায্য ও সময়োচিত হস্তক্ষেপের দরুণ তাহাদের বহু দুষ্কার্য বহুবার বাধাপ্রাপ্ত হওয়ায় তাহারাও আমার পিতার প্রতি অতীব আক্রোশ ভাবাপন্ন ছিল। তাহাদের কেহ কেহ ইতিপূর্বে হত্যা ও ডাকাতির দায়ে শাস্তি ভোগ করিয়াছে।

(২) বিগত ১৩/০৪/১৯৭১ ইংরাজী তারিখ রোজ মঙ্গলবার বেলা অনুমান ৯.৩০ (সাড়ে নয়) ঘটিকার সময় পার্শ্বোক্ত ২-১০নং ব্যক্তি সমভিব্যবহারে হানাদার বাহিনী আমাদের ভিতর বাড়ী উপস্থিত হওয়ার সময় আমার বাবা আমাদের বাড়ীতে স্থাপিত শ্রী শ্রী কুণ্ডেশ্বরী দেবীর মন্দিরে স্বাভাবিক নিয়মে প্রার্থনারত ছিলেন। হানাদার বাহিনীর ২ জন লোক মন্দিরের অভ্যন্তরে ঢুকিয়া পড়িয়া প্রার্থনারত আমার বাবাকে মন্দির হইতে টানিয়া বাহিরে লইয়া আসে এবং তাঁহার নিকট নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার দাবি করে। তখন আমার বাবার নিকট থাকা মং ৮০,০০০/০০ নগদ টাকা এবং প্রায় ২০০ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার হানাদার বাহিনীর হাতে তুলিয়া দেন। উক্তমতে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার পাইয়া ও বাবার সহিত আলাপ আলোচনার পর হানাদার বাহিনী ফেরৎ যাওয়ার জন্য কিয়দ্দুর অগ্রহসর হইলে পার্শ্বোক্ত ২নং ব্যক্তি (সালাহউদ্দিন কাদের চৌধরী)  তাহার জামার পকেট হইতে একটি নোট বই বাহির করিয়া উহার একটি নির্দিষ্ট পৃষ্ঠা খুলিয়া আমার বাবার নাম তাহার পিতার (১নং ব্যক্তি) দেওয়া হত্যাযোগ্য ব্যক্তির তালিকায় লিপিবদ্ধ থাকার বিষয় হানাদার বাহিনীল নিকট প্রকাশ করিলে এবং তাহার হাতের নোট বই এর পাতায় জনৈক হানাদার অফিসারের দৃষ্টি আকর্ষণ করিলে উক্ত অফিসার বাবার বৃদ্ধাবস্থার বিষয় বিবেচনা করিয়া ও ইতিপূর্বে বাবার সহিত আলাপে মুগ্ধ হইয়া হত্যা করিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে। তখন পার্শ্বোক্ত ২-১০ ব্যক্তি বাহিরে অপেক্ষারত অপর এক অফিসারকে ডাকিয়া আনে এবং আমার বাবাকে হত্যা করা  না হইলে পাকিস্তানের সর্বনাশ সাধন করা হইবে এবং স্থানীয় মুসলমানগনের জীবন রক্ষা করা কঠিন হইবে এবং তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকবৃন্দসহ অনেক ইপি আর বাহিনীর আশ্রয়দাতা ইত্যাদি নানা বিষয়ের অবতারণা করিয়া পার্শ্বোক্ত ২-১০ নং ব্যক্তি শোষোক্ত অফিসারকে উত্তেজিত এবং বাবাকে হত্যার জন্য প্ররোচিত করিতে থাকিলে অফিসারটি পার্শ্বোক্ত ২-১০নং ব্যক্তির ষড়যন্ত্রমূলক কার্যের দ্বারা প্ররোচিত হইয়া তাহার অধিনস্থ জনৈক সিপাইকে বাবাকে হত্যা করার আদেশ দিলে পার্শ্বোক্ত ২-১০ নং ব্যক্তি একযোগে করতালি দিয়া অফিসারটিকে অভিনন্দন জানায়। এদিকে হত্যা করার জন্য হুকুমপ্রাপ্ত সৈনিকটি আমার বাবাকে মন্দিরের সামনে মাটিতে বসাইয়া প্রায় ১০.৫ ঘটিকার সময় রাইফেল দ্বারা পরপর তিনটি গুলি করায় শরীরে বিদ্ধ করিলে বাবা মাটিতে হেলিয়া পড়েন এবং গুলিবিদ্ধ স্থান হইতে অতিরিক্ত রক্তস্রাব হওয়ার দরুণ ২০ মিনিটের মধ্যেই দেহত্যাগ করেন। পার্শ্বোক্ত ব্যক্তিগণের পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনামূলক কার্যের ফলেই আমার বাবা অকালে নির্মমভাবে প্রাণ হারাতে বাধ্য হইয়া ছিলেন। বাবাকে উক্তমতে গুলিবিদ্ধ করার পর পার্শ্বোক্ত ২-১০নং ব্যক্তি পাকিস্তান জিন্দাবাদ মুসলিম লীগ জিন্দাবাদ ফজলুল কাদের চৌধুরি জিন্দাবাদ এয়াহিয়া খান জিন্দাবাদ ইত্যাদি বৃথান দিতে দিতে আমাদের দেবী মন্দিরে প্রবেশ করে এবং পরে ৩নং ব্যক্তির দ্বারা আমাদের ভিতর বাড়ী হইতে আনীত কয়েক খানি বড়বড় কাঠের টুকরার আঘাতে পার্শ্বোক্ত ৩-১০নং ব্যক্তি দেবী মূর্তির বিভিন্ন অংশ ভাঙ্গিয়া ফেলে এবং সম্পূর্ণ রূপে বিকৃত করিয়া করিয়া ফেলে।
আমি ঘটনার সময় উপস্থিত না থাকিলেও প্রত্যক্ষদর্শী আমার জেষ্ঠতাত ভ্রাতাগণ ও কর্মচারীবৃন্দ ও অন্যান্য নিরপেক্ষ ব্যক্তির নিকট ঘটনার সম্পূর্ণ বিষয় জানিয়া ও ব্যক্তিগতভাবে অনুসন্ধান করিয়া ঘটনার সম্পর্কে সন্দেহাতীত হইয়া অত্র অভিযোগ পত্র দায়ের করিলাম।
অতএব প্রার্থনা এই যে, আপনি অনুগ্রহ পূর্বক ঘটনা সম্পর্কে তদন্ত করতঃ অপরাধীগণের উপযুক্ত শাস্তি বিধানের নিমিত্তে আদেশ হয়। ইতি ২২/১/৭২ইংরাজী। নিবেদক-শ্রী সত্য রঞ্জন সিংহ।

বুধবার, ১৪ আগস্ট, ২০১৩

সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে রায় যেকোন দিন


মেহেদী হাসান , ১৪/৮/২০১৩
বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী মামলায় যেকোন দিন রায় ঘোষনা করা হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (১)  এ মামলার সমস্ত  বিচার কার্যক্রম শেষ হলে আজ  রায় প্রদানের তারিখ অপেক্ষমান  ঘোষনা করা হয়।
যুক্তি উপস্থাপনের শেষে রাষ্ট্রপক্ষ সালাহউদ্দিন  কাদের চৌধুরীর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছে।

গত বছর ১৯ এপ্রিল সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। এক বছর চার মাসের মাথায় আলোচিত এ মামলার সমস্ত বিচার কার্যক্রম শেষ হল।

১৯৭১ সালে যুদ্ধাপরাধ তথা মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের লক্ষ্যে গঠিত ট্রাইব্যুনালে এই প্রথম কোন বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম শেষ হল এবং যেকোন দিন রায় ঘোষনা হতে পারে। ২০১০ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভোরে গ্রেফতার করা হয় সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে।

সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে  চট্টগ্রামের রাউজান, রাঙ্গুনিয়া এবং বোয়ালিয়া থানায় হত্যা, গনহত্যা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, অপহরন, নির্যতান দেশান্তরকরনসহ মানবতাবিরোধী অভিযোগ আনা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী মোট ৩২টি অভিযোগ দায়ের করে। সেখান থেকে ট্রাইব্যুনাল ২৩ টি অভিযোগে তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ মোট ১৭টি অভিযোগের পক্ষে সাক্ষী হাজির করে এবং যুক্তি পেশ করে। বাকী ছয়টি অভিযোগ তারা ছেড়ে দিয়েছে। ছয়টি অভিযোগ কেন ছেড়ে দেয়া হল সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান সময়ের অভাবে তারা এসব অভিযোগের পক্ষে সাক্ষী হাজির করতে পারেনি।

১৭টি অভিযোগের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষ মোট ৪১ জন সাক্ষী হাজির করে। অপর দিকে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষে আসামী নিজেসহ মোট চারজন সাক্ষী হাজির করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাস থেকে সেপ্টম্বর মাস পর্যন্ত উপরোক্ত থানাগুলোতে যেসব অপরধ সংঘটিত  হয়েছে তার অনেকগুলোতে  পাকিস্তান আর্মির সাথে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী সরাসরি অংশগ্রহণ করেছেন এবং  নেতৃত্ব দিয়েছেন।

অপর দিকে আসামী পক্ষের দাবি সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী সেসময় দেশেই ছিলেননা। তিনি পাকিস্তানে ছিলেন তখন। তাদের দাবি সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ পাকিস্তান গমন করেন এবং ১৯৭৪ সালের ২০ এপ্রিল বাংলাদেশে আসেন। কাজেই অপরাধের সাথে তার সংশ্লিষ্টতার প্রশ্নই আসেনা। যুক্তি পেশের শেষে আসামী পক্ষ দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষ সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ প্রমান করতে পারেনি। তারা তার বিরুদ্ধে সাজানো মিথ্যা সাক্ষী হাজির করেছে। তাই তারা আসামীর বেকসুর খালাস দাবি করেন।


বিচার কার্যাক্রম শেষে তিন সদস্যের  ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির রায় অপেক্ষমান ঘোষনা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন এবং বিচারপতি আনোয়ারুল হক।
রাষ্ট্রপক্ষে এ মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট জেয়াদ আল মালুম, সুলতান মাহমুদ সিমন এবং ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ। অপর দিকে আসামী পক্ষে এ মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট আহসানুল হক হেনা,  ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট আল ফেসানী প্রমুখ।


সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আনিত অভিযোগ :

অভিযোগ ১ :  ১৯৭১ সালের ৪ বা ৫ এপ্রিল রাত আনুমাণিক ৯টার পর মতিলাল চৌধুরী, অরুণ চৌধুরী, যোগেশ চন্দ্র দে ও পরিতোষ দাস, পাচক সুনীল প্রমুখকে  শহীদ মতিলাল চৌধুরীর চট্টগ্রাম শহরের কোতোয়ালি থানার রামজন লেনের বাসভব থেকে অপরহন করে নিয়ে যাওয়া হয় সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পাারিবারিক বাসভবন গুড়সহিলে। পরে এদের মধ্য থেকে ছয়জনের আর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। 

অভিযোগ ২ : ১৯৭১ সালের  ১৩ এপ্রিল সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নেতৃত্বে পাকিস্তান  সেনাবাহিনীর একদল সদস্য রাউজানের গহিরা  গ্রামের  হিন্দু  পাড়ায় সশস্ত্র অভিযান চালায়। অভিযান চালিয়ে নিরীহ নিরস্ত্র হিন্দুদের ডাক্তার মাখন লাল শর্মার বাড়িতে জড়ো করা হয়। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর উপস্থিতিতে পাকিস্তানি দখলদার সেনাবাহিনীর সদস্যরা ব্রাশফায়ার করে । এসময়  পঞ্চবালা শর্মা, সুনীল শর্মা, মতিলাল শর্মা ও দুলাল শর্মা নিহত হয়। এ ঘটনায় আহত মাখন লাল শর্মা  তিন চারদিন পর মারা যায়। 

অভিযোগ-৩  :  ১৩ এপ্রিল রাউজানের গহিরায় অবস্থিত কুন্ডেশ্বরী কমপ্লেক্স এর প্রতিষ্ঠাতা সমাজসেবক অধ্যক্ষ নূতন চন্দ্র সিংহকে হত্যা করা হয়। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর উপস্থিতিতে পাকিস্তান আর্মি তাকে  প্রথমে গুলি করে । পরে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী নিজেও গুলি করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে।

অভিযোগ-৪ :  ১৯৭১ সালের ১৩ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী স্থানীয় সহযোগী এবং  পাকিস্তানি  সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে হিন্দু অধ্যুষিত জগৎমলপাড়ায় অভিযান চালান। এসময় ৩২ জনকে হত্যা করা হয়।
অভিযোগ-৫ : ১৩ এপ্রিল বেলা আনুমাণিক একটার দিকে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী কতিপয় অনুসারীদের নিয়ে রাউজানের সুলতানপুর গ্রামে  হামলা চালান। এসময় তিনজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

অভিযোগ-৬  : ১৩ এপ্রিল বিকেল ৪টা থেকে ৫টা নাগাদ  সালাউদ্দিন কাদের চৌধরিী হিন্দু জনগোষ্ঠীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার জন্য রাউজানের ঊনসত্তরপাড়ায় সশস্ত্র অভিযান চালান। এসময়  হিন্দু নর-নারীদের স্থানীয় তিীশ মহাজনের বাড়ির পেছনে পুকুর পাড়ে শান্তি মিটিংয়ের নামে একত্রিত করে এবং ৫০ থেকে ৫৫ জনকে ব্রাশফায়ার করে হত্যা করে।

অভিযোগ-৭ : ১৯৭১ সালের ১৪ এপ্রিল দুপুর আনুমাণিক ১২টার দিকে আসামি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নেতৃত্বে একদল পাকিস্তানি সেনা সদস্য রাউজান পৌরসভা এলাকার সতীশ চন্দ্র পালিতের বাড়িতে  প্রবেশ করে। আসামীর নির্দেশে তাকে গুলি করে হত্যার পর লাশ কাপড়ে মুড়িয়ে পাউডার দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়।


অভিযোগ-৮  :  ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল ।  চট্টগ্রমাম আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মোজাফফর আহম্মদ তার পুত্র শেখ আলমগীরসহ তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য প্রাইভেটকারযোগে চট্টগ্রামের রাউজান থেকে চট্টগ্রাম শহরে আসছিলেন। পথে হাটহাজারী থানার খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি তিন রাস্তার মোড়ে সকাল অনুমান ১১টার দিকে পৌঁছামাত্র আসামি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সঙ্গে থাকা পাকিস্তানি দখলদার সৈন্যরা তাদের প্রাইভেট গাড়িটি অবরোধ করে শেখ মোজাফফর আহম্মেদ ও তার ছেলে শেখ আলমগীরকে গাড়ি থেকে নামিয়ে আটক করে স্থানীয় পাকিস্তানি সেনা ক্যাম্পে নিয়ে যায়। পরে আর তাদের কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ-৯ : ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালে এপ্রিলের মাঝামাঝি বোয়ালখালি থানার  কদুরখিল গ্রামে যাওয়ার সময় মুন্সীরহাটের শান্তি দেবকে ধরে নিয়ে হত্যা  করা হয়।


অভিযোগ-১০ :  ১৯৭১ সালের ১৩ এপ্রিল মানিক ধরের বাড়ি থেকে তার  জিপ গাড়ি ও ধান ভাঙ্গার কল লুট করে নিয়ে যায়।

অভিযোগ-১১ : ১৯৭১ সালের ২০ এপ্রিল সকালবেলা বোয়ালখালী থানার হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা শাকপুরা গ্রামে সশস্ত্র অভিযান চালিয়ে হিন্দুদের হত্যা করে। পরবর্তীতে শহীদদের মধ্যে ৫২ জনের লাশ শনাক্ত করা হয়। এসব হত্যাকাণ্ড ছাড়াও শাকপুরা এলাকায় যুদ্ধকালীন বিভিন্ন সময়ে আরও তিন শতাধিক লোককে হত্যা করা হয়, যাদের সেখানে মাটিচাপা দিয়ে সমাধিস্থ করা হয়েছে।

অভিযোগ-১২ : ১৯৭১ সালের  ৫ মে সকাল সাড়ে ১০টায় সালাহউদ্দিন কাদের  চৌধুরীর উপস্থিতিতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী রাউজান থানার জ্যোতিমল গ্রামে গুলি করে বিজয় কৃষ্ণ চৌধুরী রাখাল, বিভূতি ভূষণ চৌধুরী, হীরেন্দ্র লাল চৌধুরীকে হত্যা করে।

অভিযোগ-১৩  :  ১৯৭১ সালের ১৫ মে সন্ধ্যার সময় আসামি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নির্দেশে ঘাসিমাঝির পার এলাকায় ৬ জনকে গুলি করে হত্যা, ২ জনকে গুরুতর আহত এবং অন্তত ৫ মহিলাকে ধর্ষণ করে।


অভিযোগ-১৪ :  ১৯৭১ সালের ২০ মে বিকেল ৪টার দিকে আসামি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নেতৃত্বে তার সহযোগী কয়েকজন রাজাকার সদস্য পাকিস্তানি সেনা সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে চট্টগ্রাম জেলার রাউজান থানার পথেরহাটের কর্তার দীঘির পারে মোঃ হানিফের বাড়িতে যায়। তাকে অপরহন করে গুড়সহিলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ-১৫ :  ১৯৭১ সালের মে মাসের মাঝামাঝি শেখ মায়মুন আলী চৌধুরী তার ভাগ্নি জামাই মোস্তাক আহম্মেদ চৌধুরীর চট্টগ্রাম শহরের রহমতগঞ্জের বাসায় ছিলেন। আসামি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নেতৃত্বে  শেখ মায়মুন আলীকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করা হয়।

অভিযোগ-১৬ :  ১৯৭১ সালের ৭ জুন রাজাকার মাকসুদুর রহমান ও আসামির পিতা ফজলুল কাদের চৌধুরী পাকিস্তানি সেনা সদস্যদের সহযোগিতায় জামাল খান রোড থেকে ওমর ফারুককে ধরে নিয়ে গুড়সহিলে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়।

অভিযোগ-১৭ :  ১৯৭১ সালের ৫ জুলাই সন্ধ্যা আনুমাণিক সাতটা থেকে সাড়ে সাতটার দিকে আসামি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী তার আরও ২/৩ জন সহযোগীসহ পাকিস্তান সেনা সদস্যরা চট্টগ্রাম জেলার কোতোয়ালি থানার হাজারী লেনের জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর পোড়োবাড়ি থেকে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক নিজাম উদ্দিন আহম্মেদ, সিরাজ ও ওয়াহেদ ওরফে ঝুনু পাগলাকে অপহরণ করে বন্দী করে রাখা হয় দেশ স্বাধীন হওয়া পর্যন্ত।

অভিযোগ-১৮ : ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন জুলাই মাসের তৃতীয় সপ্তাহে একদিন ভোর আনুমাণিক সাড়ে ৫টায় আসামি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পিতা ফজলুল কাদের চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ সহচর মুসলিম লীগ নেতা শিকারপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মৃত শামসু মিয়া সহযোগী তিনজন রাজাকারসমেত চট্টগ্রাম জেলার চান্দগাঁও থানার মোহারা গ্রামে আব্দুল মোতালেব চৌধুরীর বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে তারা মোঃ সালেহউদ্দিনকে অপহরণ করে। পরে তাকে গুড়সহিলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী তার গালে চড় মারেন।

অভিযোগ-১৯ :  ১৯৭১ সালের ২৭ জুলাই রাত আনুমাণিক সাড়ে আটটায় হাটহাজারীর নেয়ামত আলী রোডের সাহেব মিয়ার বাড়ি (রজমান টেন্ডলের বাড়ি) ঘেরাও করে তার দু’ছেলে নুর মোহাম্মদ ও নুরুল আলমকে অপহরণ করা হয়। পরে তাদেরকে মুক্তিপনের বিনিময়ে ছাড়া হয়।


অভিযোগ-২০ : ১৯৭১ সালের  ২৭/২৮ জুলাই বিকেল ৩/৪টায় রাজাকার বাহিনী আকলাচ মিয়াকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর তাকে গুডসহিলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। সেখানে তার মৃত্যু ঘটে।

অভিযোগ-২১ : ১৯৭১ সালের আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে  চট্টগ্রাম জেলার রাউজান থানার বিনাজুরি গ্রামের ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল হক চৌধুরীকে অপরহ করে গুডসহিলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়।


অভিযোগ-২২ :  ১৯৭১ সালের আগস্ট মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের শেষ দিকে এইচএসসি পরীা চলাকালীন রাত আনুমাণিক ৯টায় মোঃ নুরুল আনোয়ার চৌধুরীকে অপহরণ করা হয়। পরে মুক্তিপন আদায় করা হয়।

অভিযোগ-২৩ : এম সলিমুল্লাহকে গুড়সহিলে নিয়ে নির্যাতন।




শুক্রবার, ৫ জুলাই, ২০১৩

Full deposition of Salahuddin Quader Chowdhury in the International Crimes Tribunal-1, Dhaka

মেহেদী হাসান, ৭/৭/২০১৩
মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে আজ ১২ তম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন রথিন্দ্র নাথ কুন্ডু। সাক্ষী তার জবানবন্দীতে বলেন, তার ভায়রা অনিল কুন্ড ১৯৭১ সালে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ভাগ্নেকে জবাই করে হত্যা করে। কারণ হিসেবে সাক্ষী জানান মাওলানা নিজামীর ভাগ্নের নেতৃত্বে   রাজাকাররা অনিলদের বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছিল।  সাক্ষী বলেন, ১৯৮৫ সালে তিনি তার ভায়রা অনিল কুন্ডুর বাড়িতে গেলে তখন ১৯৭১ সালের এ ঘটনা অনিল তাকে জানান। অনিল ২০১০ সালে মারা যায়।
জবানবন্দী শেষে সাক্ষীকে জেরা করেন মাওলানা নিজামীর পক্ষে আইনজীবী মিজানুল ইসলাম। জেরায় সাক্ষীর কাছে মাওলানা নিজামীর আইনজীবী মতিউর রহমান নিজামীর নিহত ভাগ্নের নাম জানতে চাওয়া হলে তিনি জানাতে পারেননি। এছাড়া ১৯৭১ সালে মাওলানা নিজামীর কোন ভাগ্নে খুন হয়েছিলেন কি-না সে বিষয়ে ১৯৮৫ সালের পরবর্তীতে সাক্ষী কোন খোঁজ খবরও নেননি বলে জানান সাক্ষী।
১৯৭১ সালে হত্যা, গনহত্যাসহ মানবতাবিরোধী নানা কর্মকান্ডের নেতৃত্বে অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ বিচার চলছে মাওলানা নিজামীর।
জবানবন্দী :
আমার নাম রথিন্দ্র নাথ কুন্ডু, আমার বয়স- আনুমানিক ৫৮ বৎসর।
বর্তমানে আমি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার হাসপাতালে চিকিৎসক হিসাবে কর্মরত আছি। আমি ১৯৬৮ সালে এস,এস,সি, ১৯৭০ সালে এইচ,এস,সি, এবং ১৯৮৪ সালে এম,বি,বি,এস পাশ করি। ২২-০২-১৯৮৪ সালে আমি আই,এস,টি, হিসাবে সরকারী চাকুরীতে যোগদান করি। ১৪-০৭-১৯৮৫ তারিখে আমি সরকারী আদেশে হেলথ সাব সেন্টার, আটঘড়িয়ায় যোগদান করি। ১৯৯১ সালের ২রা জুন তারিখে আমি কারা বিভাগে যোগদান করি। ১৯৮৫ সালে আমি আমার স্ত্রীসহ নীলফামারীতে অবস্থানরত আমার ভায়রা অনিল কুন্ডুর বাড়িতে যাই। সেখানে যাওয়ার পর অনিল তার জীবনের কিছু কিছু ঘটনা আমাকে জানায়। অনিল আমাকে জানায় যে, সে ১৯৭০ সালে সাঁথিয়া হাইস্কুলের এস,এস,সি, ছাত্র ছিল এবং ১৯৭১ সালে এস,এস,সি, পরীক্ষার্থী ছিল। মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর অনিল তার বন্ধু বান্ধব সহ ভারতের পানিঘাটাতে মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং নেওয়ার জন্য চলে যায়। সেখানে তিন/চার মাস ট্রেনিং নেওয়ার পর বাংলাদেশে ফিরে এসে ৭ নং সেক্টরে বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে। এর ফলে অনিলের পিতা-মাতা তৎকালীন ইসলামী ছাত্র সংঘের নাজিমে আলা যাকে সভাপতি বলা হয় আলবদর বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা মতিউর রহমান নিজামী, রাজাকারদের অত্যাচারে ভারতে চলে যায়। নিজামীর নির্দেশে অনিল মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার অপরাধে ১৯৭১ সালের মে মাসে তার এক ভাগ্নের নেতৃত্বে একদল রাজাকার অনিলদের বাড়ি লুটপাট করে এবং আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এরপর অনিল ও তার গ্রুপ কমান্ডার বাতেন, হামিদ, ফনিন্দ্র নাথ ঘোষ এবং হাবিবুর রহমানসহ সাঁথিয়া থানার অন্তর্গত সোনাতলা গ্রামের পাশ দিয়ে বহমান ইছামতি নদীতে টহল ডিউটি করতো। অনিল তার বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার ক্ষোভে নিজামী সাহেবের উক্ত ভাগ্নেকে ধৃত করার জন্য একটি ফাঁদ পাতে। অনিল জানতো নিজামী সাহেবের ঐ ভাগ্নের মেয়েদের প্রতি আসক্তি ছিল। সেই সুযোগ নেওয়ার জন্য অনিল নিজে মেয়েদের শাড়ী ব্লাউজ পরে মেয়ে সেজে একটি ছইওয়ালা নৌকায় ঐ ইছামতি নদীতে ঘোরাফেরা করতে থাকে ১৯৭১ সালের আগষ্ট মাসের শেষের দিকে। নিজামী সাহেবের ঐ ভাগ্নে রাজাকারদের একটি দলসহ ইছামতি নদীতে পেট্রোলিং ডিউটি করতো। পেট্রোলিং ডিউটি করাকালীন ঘটনার ঐ দিন অনিলদের নৌকা দেখে নৌকার কাছে গিয়ে চ্যালেঞ্জ করে, নৌকার মধ্যে একটি মেয়েকে দেখে লাফ দিয়ে ঐ নৌকায় উঠে পড়ে। অনিলদের ঐ নৌকা হামিদ নামে একজন চালাচ্ছিলেন, ফনিন্দ্র ও হাবিবুর রহমান অস্ত্রসহ নৌকার পাটাতনের নীচে লুকিয়ে ছিল। নিজামী সাহেবের ঐ ভাগ্নে নৌকায় উঠা মাত্র অনিল এবং হামিদ ক্ষিপ্রতার সহিত তাকে জাপটে ধরে। সংগে সংগে পাটাতনের নীচ হতে তাদের সহযোগী দুইজন বেরিয়ে ব্লাংক ফায়ার করে। ইহাতে নিজামী সাহেবের ভাগ্নের সহযোগী রাজাকাররা নৌকা নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। তখন অনিলরা নিজামী সাহেবের ভাগ্নেকে নৌকার গলাইয়ের উপর শুয়ায়ে জবাই করে হত্যা করে লাশ ইছামতি নদীতে ফেলে দেয়। এই ঘটনা হয়েছিল ১৯৭১ সালের আগষ্ট মাসের শেষের দিকে। নিজামী সাহেবের ভাগ্নেকে মারার কারণে নিজামীর নির্দেশে একদল রাজাকার বাতেনকে সোনাতলায় ধরে নিয়ে আসে এবং পথিমধ্যে তাহাকে নিরস্ত্র অবস্থায় হত্যা করে। এই ঘটনাটি ঘটে ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে। আমি আমার জবানবন্দীতে যে অনিলের কথা বলেছি তার বাড়ি সাঁথিয়া থানার সোনাতলা গ্রামে ছিল। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট তারিখে বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের ভয়ে অনিল সোনাতলা গ্রাম ত্যাগ করে নীলফামারীতে চলে যায় এবং সেখানে অবস্থানকালীন সময়ে ৮ই মে, ২০১০ তারিখে মৃত্যুবরণ করে।
আমি আটঘড়িয়ায় অবস্থান করাকালে ১৯৭১ সালের আগষ্ট মাসের শেষ সপ্তাহে আমার স্কুল জীবনের বন্ধু স্বপনের সংগে আমার দেখা হয়। স্বপন আমাকে বলে যে, ১৯৭১ সালের ১০ই জুন তারিখে আমাদের স্কুলের শিক্ষক মাওলানা কছিম উদ্দিন আহম্মদসহ আরও দুইজনকে চোঁখ বাঁধা অবস্থায় পাকিস্তান আর্মিরা জীপে তুলে পশ্চিম দিক থেকে পূর্ব দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। তখন স্বপন দেখেছিল যে পাক আর্মির ঐ জীপে মতিউর রহমান নিজামী সাহেব বসা ছিলেন। ০২-০৬-২০১১ তারিখে আমি তদন্তকারী কর্মকর্তার অফিসে জবানবন্দী প্রদান করেছি। আমি যে মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের কথা বলেছি তাকে আমি চিনি, তিনি অদ্য ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় উপস্থিত আছেন (সনাক্তকৃত)

জেরা-
জেরায় আইনজীবীর প্রশ্নে সাক্ষী যে উত্তর দেন তা নিম্নরূপ
আমার জন্ম তারিখ ০১-০১-১৯৫৪। ১৯৭০ সালে এস,এস,সি পাশ করার পর পাবনা এডওয়ার্ড কলেছে বি,এস,সিতে ভর্তি হই। আমার এইচ,এস,সি পড়াশুনাও পাবনা এডওয়ার্ড কলেজে। ১৯৭১ সালে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজের ছাত্রলীগের সভাপতি বা সেক্রেটারী যে ছিলেন তাহা এডওয়ার্ড কলেজে আমার পড়াকালীন সময়ে ছাত্র সংসদেও কোন নির্বাচন হয়েছিল কিনা তাহা বলতে পারছি না। ঐ সময় এডওয়ার্ড কলেজে ছাত্রলীগের প্রভাবশালী নেতা ছিলেন আব্দুস ছাত্তার লালু, রফিকুল ইসলাম বকুল, সোহরাব উদ্দিন সোভা, ইশরাত আলী জিন্নাহ। ঐ সময় ছাত্র ইউনিয়ন (মেনন), ছাত্র ইউনিয়ন (মতিয়া) এবং ইসলামী ছাত্রসংঘের কার্যক্রম ছিল। ছাত্রসংঘের উল্লেখযোগ্য কারো নাম আমার এ মূহুর্তে মনে পড়ছে না। আমি ঐ কলেজে পড়াশুনা করা ব্যতীত আমি পিতামাতার সঙ্গে শহরের বাসায় থাকতাম। আমাদের বাসা ছিল দিলাপুরে (পাথরতলা) ১৯৭১ সালে আমি পাবনা শহরের শালগাড়ি এলাকা চিনতাম। ১৯৭১ সালে নগরবাদি ফেরীঘাট পার হয়ে গাড়ী সাধারনত কাশিনাথপুর, পাবনা শহরের মুজাহিদ স্যারের পাশ দিয়ে যেতো। ১৯৭১ সালে পাবনা শহরের বাসস্ট্যান্ড ছিল গোপালপুর। নগরবাড়ী ঘাট থেকে রাজশাহী যাতায়াতের জন্য উল্লেখিত সড়ক পথ ছাড়া বিকল্প কোন সড়ক পথ ছিল না। বাসস্ট্যান্ড থেকে শালগাড়ীয়ার দূরত্ব ছিল উত্তর দিকে আনুমানিক দুই কিলোমিটার। বাসস্ট্যান্ড থেকে শালগাড়িয়ার দিকে একটি কাঁচা রাস্তা ছিল, তবে সেটা নগরবাড়ী থেকে রাজশাহী যাওয়ার রাস্তা হিসাবে ব্যবহৃত হতো না। ১৯৭১ সালে ৯ই এপ্রিল তারিখে পাকিস্তানী সৈন্যরা সর্বপ্রথম পাবনা শহরে আসে কিনা তাহা আমার মনে নাই। পাকিস্তানী আর্মিরা ১৯৭১ সালে নগরবাড়ী ঘাট দিয়ে পাবনায় প্রবেশ করেছিল। নগরবাড়ী ঘাট দিয়ে পাকিস্তানী আর্মিরা পাবনায় আসার আগে কিছু আর্মি যারা পাবনায় ছিল তারা ডাক বাংলায় অবস্থান করতো। ডাক বাংলায় অবস্থানরত আর্মিরা নগরবাড়ী ঘাট দিয়ে আসা আর্মিদের সঙ্গে একত্রিত হয়েছিল কিনা তাহা আমার জানা নাই। ডাক বাংলা থেকে আমাদের শহরের বাড়ির দূরত্ব ৪ কিলোমিটার। ১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ থেকে ২৯ শে মার্চ পর্যন্ত আমি পাবনা শহরে দিলাপুরে আমার বাড়িতে ছিলাম। উল্লেখিত সময়ের মধ্যে পাবনা শহরে কোন যুদ্ধ হয়নি, তবে যুদ্ধের প্রস্তুতি চলছিল যার নেতৃত্বে ছিলেন তৎকালিন জেলা প্রশাসক জনাব নূরুল কাদির সাহেব। ১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ থেকে ৯ই এপ্রিল তারিখের মধ্যে পাবনা শহরে কোন হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছিল কিনা তাহা আমার স্মরন নাই। ১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ থেকে ৯ই এপ্রিল তারিখ পর্যন্ত জেলা স্কুল মাঠ সেখানে যুদ্ধের প্রস্তুতি চলছিল সেখানে আমার যাতায়াত ছিল। জেলা স্কুল মাঠে মুক্তিযোদ্ধাদের যারা ট্রেনিং দিতেন তাদের মধ্যে ছিলেন কাছিম উদ্দিন স্যার, বকুল ভাইসহ আরও অনেকে ছিল সকলের নাম আমার মনে নাই। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ থেকে ৯ই এপ্রিল তারিখ পর্যন্ত কোন ই,পি,আর. সদস্যকে আমি পাবনা শহরে দেখেছিলাম কিনা তাহা আমার স্মরন নাই। পাবনা শহরে এন,এস,এফ. এর কার্যালয় কোথায় ছিল তাহা আমার স্মরন নাই। ছাত্র ইউনিয়ন (মেনন), ইসলামী ছাত্রসংঘের অফিস কোথায় ছিল তাহা আমার মনে পড়ছে না। ছাত্রলীগের অফিস ছিল শহরে তাহা আমি চিনতাম। ১৯৭১ সালে পাবনা শহর বা জেলার ছাত্রসংঘের সভাপতি বা সেক্রেটারীর নাম আমার মনে নাই। ১৯৭১ সালের ২রা মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত পাবনা শহরে ছাত্রসংঘের পাঠক্রম কোথায় থেকে কে পরিচালনা করতো এ সম্পর্কে আমার কোন ধারনা নাই। ১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ থেকে ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত পাবনা শহরে ইসলামী ছাত্রসংঘের কার্যক্রম সম্পর্কে আমার কোন ধারনা নেই। ৯ই এপ্রিল তারিখে নগরবাড়ী ঘাট দিয়ে পাকিস্তান আর্মিরা প্রবেশ করার পর আমি শহরে থাকতাম। আমি ১৯৭১ সালের মে মাসের শেষের দিকে ভারতে চলে যাই। জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে আমি ভারত থেকে ফিরে আসি। ভারত থেকে ফেরত এসে চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার কোন একটা থানা এলাকায় ছিলাম তবে সেই থানার নাম আমার এ মূহুর্তে মনে পড়ছে না। ঐ এলাকায় বা চাপাইনবাবগঞ্জ জেলায় কতদিন ছিলাম তাহা অনুমান করে বলতে পারব না। ১৯৭১ সালে চাপাইনবাবনগঞ্জ জেলা থেকে পাবনা জেলায় ফেরত আসার আগ পর্যন্ত আমি বিভিন্ন জেলায় অবস্থান করেছি তবে তার নাম আমার এ মূহুর্তে স্মরন হচ্ছে না। বিজয় অর্জনের পর আমি বেড়া থানা এলাকায় আসি। আমি স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে আমি সাথিয়া এলাকায় যাই নাই। মে মাসের শেষের দিকে ভারত চলে যাওয়ার পর বিজয় অর্জন পর্যন্ত আমি পাবনা শহরে আসি নাই।
আমি আমার জবানবন্দীতে যে হাবিবুর রহমানের কথা বলেছি তার পিতার নাম শহীদ কোবাদ আলী,  সাকিম সাধুপাড়া, থানা পাবনা সদর কিনা তাহা আমি জানি না। আমি আমার জবানবন্দীতে যে বাতেনের নাম বলেছি তাকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। স্বাধীনতার যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত পাবনার রাজনীতি ত্রিধারায় বিভক্ত ছিল একটি হলো স্বাধীনতাপন্থী, একটি হলো পাকিস্তান পন্থী এবং অন্যটি নকশাল পন্থী। নকশাল পন্থীদের নেতৃত্বে টিপু বিশ্বাস ছিলেন তবে বাতেন ছিলেন কিনা তাহা আমার জানা নাই।
মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের যে ভাগ্নেকে হত্যা করার কথা বলা হয়েছে তার নাম অনিল আমাকে বলে নাই কিংবা আমি জানি না। মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের কোন ভাগ্নে ১৯৭১ সালে খুন হয়েছিল কিনা তাহা আমি অনুসন্ধান করি নাই বা যাচাই করি নাই।
আমি সাংগব মাছের নাম শুনেছি। সাংগব মাছের লেজ চাবুক হিসেবে ব্যবহার করা হয় কিনা তাহা আমি জানি না। আমি চর্ম রোগের চিকিৎসা করি। সাংগব মাছের লেজের বাড়ি মানুষের শরীরে লাগলে চামড়ায় পচন সৃষ্টি হয় কিনা তাহা আমার জানা নাই। অনিলের সঙ্গে আমার চলাফেরা দেখা সাক্ষাত হয়েছে। মতিউর রহমান নিজামী সাহেবকে ১৯৭১ সালে আগষ্ট মাসের শেষে আটক করা হয়েছিল মর্মে অনিল আমাকে কোন তথ্য দিয়েছিল কিনা তাহা এ মূহুর্তে আমার মনে নাই।
১৯৭৬ সালে আমি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ছাত্র হিসেবে ভর্তি হই। ১৯৭১ সালে বিজয় অর্জনের পর আমি দেশের বাইরে যাই এবং ১৯৭৪ সালে ফিরে এসে ১৯৭৬ সালে মেডিকেলে ভর্তি হই।
১৯৭১ সালে বিজয় অর্জনের পরে পাবনা শহর এবং বেড়া এলাকায় স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন বিভিন্ন অপরাধ সংঘটনের জন্য অনেক স্বাধীনতা বিরোধীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিল। বিজয় অর্জনের পর থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের বিরুদ্ধে কোন মামলা হয়েছিল কিনা তাহা এ মূহুর্তে আমার স্মরন নাই। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ থেকে ১৯৭৫ সালের ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত কোন পত্রিকায় মতিউর রহমান নিজামী সাহেবকে আলবদর বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে দেখিয়ে কোন সংবাদ পরিবেশিত হয়েছিল কিনা তাহা এ মূহুর্তে আমার মনে নাই। (চলবে)
পূনরায় জেরা
তাং- ০৮/০৭/২০১৩ ইং

মতিউর রহমান নিজামী সাহেবকে আমি কলেজে পড়াকালীন সময় থেকে চিনি। ১৯৭১ সাল বা তার আগে আমি মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের বাড়িতে যাই নাই। ঐ সময় তার গ্রামের বাড়ি কোথায় ছিল তাহা আমি জানতাম না। আমি যতটুকু জানি তিনি আটঘরিয়ায় একটি মাদ্রাসায় জায়গীর থেকে লেখাপড়া করেছেন। তিনি ঐ মাদ্রাসায় কোন্ কাস থেকে কোন্ কাস পর্যন্ত পড়েছেন তাহা আমার জানা নাই। আমি সাথিয়া থানার সোনাতলা গ্রামে কোনদিন যাই নাই। অনিলেরা সম্ভবত চার ভাই। অনিলের পিতা সত্তর দশকের পূর্বেই নিলফামারীতে বাড়ি করে বসবাস করতেন, ইহা সত্য নহে। মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের কোন বোন, ভগ্নিপতি ও ভাগ্নেকে আমি কোন দিন দেখি নাই। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনের আগে ১৯৭০ সালের পূর্বে আমি নিজামী সাহেবকে দেখেছি।
পাবনা শহর বা জেলায় শান্তি কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কে ছিলেন তাহা আমার মনে নাই। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরে শান্তি কমিটি গঠিত হয়েছিল, তবে কোন্ মাসে তাহা আমার মনে নাই। ক্যাপ্টেন জায়েদী সাহেবকে চিনতাম তিনি ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা বিরোধী ভূমিকা পালন করেন, তবে তিনি শান্তি কমিটি, রাজাকার নাকি আলবদরের সদস্য ছিলেন তাহা আমার মনে নাই।
শহিদ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা কাছিম উদ্দিন সাহেবকে আমি যখন কাস থ্রিতে পড়তাম তখন থেকেই চিনতাম, তিনি আমার শিক্ষক ছিলেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের ৩০৩ রাইফেলের ট্রেনিং দিতেন, তিনি একজন ভাল ক্যাডেট প্রশিক্ষক ছিলেন। তার ট্রেনিং ক্যাম্প কতদিন স্থায়ী ছিল তাহা আমার মনে নাই।
আমি একটিই মাত্র বিবাহ করেছি, আমার শ্বশুরের নাম নারায়ণ চন্দ্র কুন্ডু। অনিল চন্দ্র কুন্ডুসহ তার এক ভাই মারা গেছে, অপর দুই ভাই জীবিত আছে। অনিল চন্দ্র কুন্ডুদের সোনাতলা গ্রামে কে কে থাকে তাহা আমার জানা নাই।
১৯৭১ সালের মে মাসে ভারতে যাওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে আমি পাবনার আটঘরিয়া ও চাটমোহর এলাকায় এসেছিলাম, তবে পাবনা শহরে আসি নাই। ১৯৭১ সালের আগষ্ট মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত মতিউর রহমান নিজামী সাহেব পাবনার কোন্ এলাকায় থাকতেন তাহা আমার জানা নাই।
নিজামী সাহেব আলবদর বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মর্মে সংবাদ আমি ১৯৭১ সালের দৈনিক সংগ্রাম কিংবা দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় দেখেছিলাম। ঐ সংবাদটি আমি ভারতে যাওয়ার আগে নাকি পরে দেখেছি তাহা আমার মনে নাই।
বি,এল,এফ বা তার গঠন প্রক্রিয়া সম্পর্কে আমার কোন ধারণা নাই। দেশ স্বাধীনের পর পাবনা জেলায় নকশালদের কোন উৎপাত ছিল না, কিন্তু ১৯৭০ সালের পূর্বে ছিল।
“নিজামী সাহেবের ভাগ্নেকে মারার কারণে নিজামীর নির্দেশে একদল রাজাকার বাতেনকে সোনাতলায় ধরে নিয়ে আসে” বা “আমি আটঘড়িয়ায় অবস্থান করাকালে ১৯৭১ সালের আগষ্ট মাসের শেষ সপ্তাহে আমার স্কুল জীবনের বন্ধু স্বপনের সংগে আমার দেখা হয়। স্বপন আমাকে বলে যে, ১৯৭১ সালের ১০ই জুন তারিখে আমাদের স্কুলের শিক্ষক মাওলানা কছিম উদ্দিন আহম্মদসহ আরও দুইজনকে চোঁখ বাঁধা অবস্থায় পাকিস্তান আর্মিরা জীপে তুলে পশ্চিম দিক থেকে পূর্ব দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। তখন স্বপন দেখেছিল যে পাক আর্মির ঐ জীপে মতিউর রহমান নিজামী সাহেব বসা ছিলেন।” একথাগুলি আমি তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট বলি নাই, ইহা সত্য নহে।
তৎকালীন ইসলামী ছাত্রসংঘের নাজিমে আলা যাকে সভাপতি বলা হয় আল বদর বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা একথাগুলি আমি তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট বলি নাই, ইহা সত্য নহে। ১৯৭১ সালের মে মাস উল্লেখে রাজাকাররা অনিলের বাড়ি লুটপাট করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার কথা আমি তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট বলি নাই, ইহা সত্য নহে।
তদন্তকারী কর্মকর্তার ডাকে আমি তার নিকট জবানবন্দী প্রদান করি। অনিলের উদ্ধৃতি দিয়ে আমি যে সাক্ষ্য প্রদান করেছি তাহা অসত্য, ইহা সত্য নহে। স্বপনের উদ্ধৃতি দিয়ে আমি যে সাক্ষ্য প্রদান করেছি তাহাও অসত্য, ইহা সত্য নহে। আমি একজন সরকারী কর্মকর্তা হওয়ায় সরকারী এজেন্ডা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে মতিউর রহমান নিজামী সাহেবকে জড়িয়ে অসত্য জবানবন্দী দিয়েছি, ইহা সত্য নহে। (জেরা সমাপ্ত)

বুধবার, ২৬ জুন, ২০১৩

শায়িত অবস্থায় ট্রাইব্যুনালে আনা হল সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে

মেহেদী হাসান
বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে আজ  ইজি চেয়ারে শায়িত  অবস্থায় ট্রাইব্যুনারের বিচার কক্ষে হাজির করা হয়। তার শারিরীক অবস্থা জবানবন্দী দেয়ার  পর্যায়ে না থাকায় বিচার কার্যক্রম মুলতবি  করা হয়।

গত সোমবার জবানবন্দী প্রদানের সময় কাঠগড়ায় হঠাৎ অসুস্থ  হয়ে পড়েন সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী। আজ  তাকে সাড়ে ১১টার দিকে ট্রাইব্যুনালে আনার পর তিনি হাজতখানার ইজি চেয়ারে শুয়ে থাকেন।
সকালে মামলার কার্য তালিকায় প্রথমে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মামলা ছিল। কিন্তু কোর্ট শুরুর নির্ধারিত সময় সাড়ে দশটার মধ্যে তাকে জেল কর্তৃপক্ষ ট্রাইব্যুনারে  হাজির  করতে না পারায় মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মামলার কার্যক্রম শুরু করা হয়। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মামলা নিয়ে যাওয়া হয়  দুপুরের বিরতির পর।  দুপুরের বিরতির পর দুইটায় কোর্ট  বসলে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবীরা তার অসুস্থতার কথা জানান এবং বিচার কার্যক্রম মুলতবি রাখার অনুরোধ করেন।  ট্রাইব্যুনাল তাকে  কোর্টরুমে নিয়ে আসতে বলেন। নির্দেশ মোতাবেক  কয়েকজন পুলিশ ইজি চেয়ারে শায়িত থাকা অবস্থায় সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে দোতলার কোর্টরুমে নিয়ে আসেন নিচ তলা থেকে। কোর্টরুমে আনার পরও সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী শুয়ে থাকেন। এসময় তিনি লুঙ্গি পরিহিত ছিলেন এবং তাকে বিপর্যস্ত  ও বিমর্শ দেখাচ্ছিল। ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির জানতে চান তিনি জবানবন্দী প্রদানের মত অবস্থায় আছেন কি-না। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী কোন কথা বলছিলেননা। এরপর ট্রাইব্যুনাল রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সুলতান মাহমুদ সিমনকে বলেন তার কাছে গিয়ে তার শারিরীক অবস্থার খোঁজ নিতে। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী তখন বলেন, তার প্রেসার ওঠানাম করছে। মাথা ঘুরছে। সবকিছু ঠিকমত দেখতে পাচ্ছেননা। মাথা ঘুরছে। গতকাল নামাজের সময় পড়ে গিয়েছিলেন। কয়েকবার ¯েপ্র নিয়েছেন। ট্রাইব্যুনালকে সুলতান মাহমুদ তার অবস্থা  জানানোর পর বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির তাকে আবার নিচে হাজতখানায়  নিয়ে যাবার নির্দেশ দেন। এরপর তার সাথে আসা  অ্যাটেনডেন্সকে কোর্টে তলব করেন। জেলখানার ম্যোডিক্যাল অ্যাটেনডেন্স আসার পর বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির তার কাছে জানতে চান আসামীকে নিয়ে সকালে আপনারা কয়টায় রওয়ানা দিয়েছেন। তিনি জবাব দেন নয়টা ২২ মিনিটে। এরপর  কোর্ট জানতে চান তখন তার শারিরীক অবস্থা কেমন ছিল, সাক্ষ্য দেয়ার মত অবস্থা ছিল কি-না।  তিনি জবাব দেন- ভাল ছিল। সাক্ষ্য দেয়ার মত অবস্থায় ছিল। গাড়িতে তোলার পর তিনি পথে ঘুমিয়ে ছিলেন।
এরপর কোর্ট তার কাছে জানতে চান তিনি কখন অসুস্থ হলেন।
অ্যাটেনডেন্স জবাব দেন-ট্রাইব্যুনালে আসার পর তিনি অসুস্থ হন। বুকে ব্যথার কথা বলেন।
এরপর তাকে প্রশ্ন করেন এখন তার অবস্থা কেমন?
তিনি জবাব দেন তার প্রেসার ১০০ বাই ৭০।
তার এখন কি করা উচিত প্রশ্ন করা হলে অ্যাটেনডেন্স বলেন, হৃদরোগের ডাক্তার দেখানো উচিত।
এরপর কোর্ট তার চিকিৎসার যথাযথ নির্দেশ  বিষয়ে অর্ডার দেয়ার কথা বলে বিচার আগামী রোববার পর্যন্ত মুলতবি করেন।
সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবী ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম এরপর দাড়িয়ে বলেন, জেলখানা থেকে তার সাথে একজন মেডিক্যাল এসিসট্যান্ট পাঠানোর বিষয়টি প্রমান করে তাকে যখন নিয়ে আসা হয় তখন তার শারিরীক অবস্থা  ভাল ছিলনা। তাকে আদালতে পাঠানোর সময় শারিরীক অবস্থা  ভাল থাকলে তার সাথে মেডিক্যাল এসিট্যান্ট পাঠানো হতনা।
সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে গাজিপুরের কাসিমপুর কারাগারে রাখা হয়েছে।





বুধবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১২

সাকা চাই প্রসঙ্গে ট্রাইব্যুনালে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী যা বললেন

মেহেদী  হাসান
আজ  বিকালে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে ১১ তম সাক্ষী এস এম মাহবুবুল আলমের জেরা শুরু হয়। গত  ২৮ আগস্ট জবানবন্দীর সময় সাক্ষী মাহবুবুল আলম বলেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় মেজর জিয়াউর রহমান  তাদের  কাছে ২২ জনের একটি ছোট লিস্ট দিয়েছিলেন । তাতে  ১ নং ক্রমিকে  ফজলুল কাদের চৌধুরী,  ২ নং ক্রমিকে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ওরফে সাকা চৌধুরীর নাম ছিল । । ট্রাইব্যুনালের রেকর্ডেও  সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ওরফে সাকা চৌধুরী এভাবে নামটি লিপিবদ্ধ করা হয় তার জবানবন্দী গ্রহনের সময়।

আজ  জেরার সময় সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবী আহসানুল হক হেনা সাক্ষীকে  বলেন ১৯৭১ সালে সালাজউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে তো সাকা চৌধুরী বলা হতনা। কাজেই ১৯৭১ সালে তার নামের সাথে ওরফে  সাকা চৌধুরী কিভাবে আসল। এ সময় ট্রাইব্যুনাল এ প্রশ্ন বিষয়ে আপত্তি জানালে আহসানুল হক হেনা বলেন, জবানবন্দীতে যদি ওরফে  সাকা চৌধুরী না রাখা হত তাহলে আমি এ প্রশ্ন করতামনা। তখন ট্রাইব্যুনাল বলেন সাংবাদিকরা অনেক সময় সংক্ষেপে এভাবে লেখেন। আমরাও কারো নাম এভাবে লেখা পছন্দ করিনা। তখন  ডকে উপস্থিত সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, আমার নাম আপনারা সাকা চৌধুরী লেখেন আপত্তি নেই।  কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমানকে যদি আমরা  সংক্ষেপে শেমুর লিখি তখন কেমন হবে? তখন ট্রাইব্যুনাল বলেন, সবার নিকট নাম একটি স্পর্ষকাতর এবং সম্মানিত বিষয়। নাম বিকৃত করা ঠিক নয়।

এর আগেও মাঝে মাঝে সাক্ষী, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কর্তৃক  সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নাম সাকা চৌধুরী বলায় তিনি তীব্রভাবে এর প্রতিবাদ জানাতেন। একবার ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক  সবাইকে নির্দেশ দেন তার নাম ওভাবে না বলার জন্য।

তার আগে একবার বিচারপতি নিজামুল হকও সাকা চৌধুরী বলেন। তখন সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী সঙ্গে সঙ্গে হুঙ্কার দিয়ে বলে ওঠেন হু ইজ সাকা চৌধুরী। বিচারপতি নিজামুল হক সরি বলেন তখন।