আব্দুস সোবহান লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আব্দুস সোবহান লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৩

মাওলানা আবদুস সোবহানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন// আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ মিথ্যা

মেহেদী হাসান, ৩১/১২/২০১৩
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা আবদুস সোবহানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। ১৯৭১ সালে হত্যা, গনহত্যা, এবং মানবতাবিরোধী বিভিন্ন  অপরাধসহ মোট নয়টি অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১  তার বিরুদ্ধে আজ অভিযোগ গঠন করে আদেশ দেয়। আগামী ২৮ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য এবং সাক্ষ্য গ্রহনের জন্য ধার্য্য করা হয়েছে।

অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচার শুরু হল মাওলানা আবদুস সোবহানের।

মাওলানা আবদুস সোবহানের বিরুদ্ধে নয়টি অভিযোগ পড়ে শোনানো শেষে ট্রাইব্যুনাল তার কাছে জানতে চান আপনি কি দোষী না নির্দোষ দাবি করেন?
জবাবে মাওলানা আবদুস সোবহান বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা  মিথ্যা। আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ। এর সাথে আমার কোন রকম সম্পর্ক ছিলনা।

চার্জ গঠন আদেশ উপলক্ষে মাওলানা আবদুস সোবহানকে আজ ট্রাইব্যুনালে আসামীর কাঠগড়া থেকে সামনের দিকে সাক্ষী কাঠগড়ায় এনে বসানো হয়।

ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির অভিযোগ পড়ে শোনান এবং চার্জ গঠন করে আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে মাওলানা আবদুস সোবহানের বিরুদ্ধে মোট নয়টি অভিযোগ আনা হয়েছিল এবং নয়টি অভিযোগেই চার্জ গঠন করা হয়েছে।

১৯৭১ সালে মাওলানা আবদুস সোবহান পাবনা জেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির ছিলেন। সেই হিসেবে তার পরামর্শ,  নির্দেশে এবং নেতৃত্বে পাকিস্তান আর্মি  পাবনায় স্বাধীনতাপন্থীদের দমন এবং নির্মূলের জন্য ও হত্যা, গণহত্যা, লুটপাট অগ্নিসংযোগ, অপহরন নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী নানাবিধ অপরাধ সংঘটন করে মর্মে অভিযোগ গঠন আদেশে  উল্লেখ করা হয়েছে। পাকিস্তান আর্মি ছাড়াও মাওলানা আবদুস সোবহানের সহযোগী হিসেবে খোদাবক্স খান এবং পাবনার অনেক  বিহারীর নাম  উল্লেখ করা হয়েছে যারা অনেক অপরাধমূলক কর্মকান্ড সংঘটিত করেছে ।

অভিযোগ :
অভিযোগ ১ : ১৯৭১ সালের ১৭ এবং ১৮ এপ্রিল যথাক্রমে পাবনার ঈশ্বরদী রেলওয়ে তেলডিপো  থেকে মোয়াজ্জেম হোসেন এবং ঈশ্বরদী জামে মসজিদে আশ্রয় নেয়া মোতালেব খানকে  মাওলানা আবদুস সোবহানের নির্দেশে অপহরন করে হত্যা।

অভিযোগ ২ : ১৯৭১ সালের ১৩ এপ্রিল ঈশ্বরদীর গোপালপুর এবং যুক্তিতলা গ্রামে বিভিন্ন বাড়িতে মাওলানা আবদুস সোবহানের নেতৃত্বে লুটপাট এবং হামলা চালানো হয়। এতে অনেকে নিহত হয়। এ ঘটনায় আটজন নিহতের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ ৩ : ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসের শেষের দিকে খোদাবক্স খানকে সাথে নিয়ে মাওলানা আবদুস সোবহান আলাউদ্দিন এবং  রিয়াজউদ্দিন মেম্বারের বাড়ি লুট করে। এছাড়া  জয়নুদ্দিন, নুরু, আনসার কমান্ডারসহ অনেককে অপরহরন করে নির্যাতান করা হয়। এ অভিযোগে ২ জন নিহতের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ ৪ : মাওলানা আবদুস সোবহানের নেতৃত্বে পাকিস্তান আর্মি ইশ্বরদীর শাহপুর গ্রামে অপারেশন পরিচালনা করে। এসময় বিভিন্ন বাড়িঘরে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ করে গণহত্যা পরিচালনা করা হয়। এ ঘটনায় সাতজন নিহতের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ ৫ : মাওলানা আবদুস সোবহানের নেতৃত্বে পাকিস্তান আর্মি পাবনা সদরের কুলনিয়া এবং দোগাছি গ্রামে অভিযান চালায়। এসময় পাকিস্তান আর্মি স্বাধীনতাপন্থী অনেককে গুলি করে হত্যা করে। বাড়িঘরে আগুন দেয়।  এ ঘটনায় সাতজন নিহতের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ ৬ : ১৯৭১ সালের ১২ মে পাকিস্তান আর্মি ৩০০ সৈন্য নিয়ে সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে অভিযান চালায়। এসময় বিভিন্ন বাড়ি ঘর লুটপাট করে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। এ সময় পরিচালিত গণহত্যায় কয়েকশ লোক নিহহ হয়। এদের মধ্যে ২৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগে।

অভিযোগ ৭ : পাবনার আটঘরিয়া ইউনিয়নে ২১ মে পাকিস্তান আর্মি অপারেশন পরিচালনা করে ১৯ জনকে হত্যা করে।
অভিযোগ ৮ :  সাবেক পাবনা সদর বর্তমানে আতাকুলা থানার দুবলিয়া বাজার থেকে দুই জন স্বাধীনতাপন্থীকে ধরে নিয়ে হত্যা করা হয়।
অভিযোগ ৯ : ১৯৭১ সালেল ২১ নভেম্বর পাবনার বেতবাড়িয়া গ্রামে পরিচালিত অপারেশনে বিভিন্ন বাড়িতে লুটপাট শেষে আগুন দেয়া হয়। এসময় চারজনকে অপহরন করে হত্যা করা হয়।

২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন  মাওলানা  আব্দুস সোবহানকে টাঙ্গাইল থেকে আটক করে। ২০০৩ সালে পাবনা থানায় দায়েরকৃত  মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।

২৩ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী (চিফ প্রসিকিউটর) গোলাম আরিফ টিপু মাওলানা আব্দুস সোবহানকে  গ্রেফতার দেখানোর (শোন অ্যারেস্ট)  আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করে প্রডাকশন ওয়ারেন্ট ইস্যু করে ওইদিন এবং তাকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় আটক দেখানো হয়। ২৩ তারিখে ট্রাইব্যুনালের  আদেশের প্রেক্ষিতে ৩০ সেপ্টেম্বর মাওলানা আবদুস সোবহানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।




রবিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৩

মাওলানা আব্দুস সোবহানের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন আদেশ ১৮ ডিসেম্বর

২৪/১১/২০১৩
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুস সোবমানের বিরুদ্ধে আগামী ১৮ ডিসেম্বর চার্জ গঠন বিষযক আদেশ দেয়া হবে। চার্জ গঠন বিষয়ে উভয় পক্ষের শুনানী শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজ এ তারিখ ধার্য্য করে।

মাওলানা আব্দুস সোবহানের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের বিরোধীতা করে সকালে আসামী পক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক শুনানী পেশ করেন। মাওলানা আব্দুস সোবহানের সম্পূর্ণ খালাস দাবি করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ তার বিরুদ্ধে যেসব কাগজপত্র  জমা দিয়েছে তা আইনের শর্ত পূরণ করেনা। তাকে শান্তি কমিটির নেতা অভিহিত করা হয়েছে, পাকিস্তান আর্মির সাথে যোগসাজসের অভিযোগ আনা হয়েছে কিন্তু তিনি কি অপরাধ করেছে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ।

তিনি বলেন,  মাওলানা আব্দুস সোবহানের নেতৃত্বে পাবনার পাকশী এবং  ঈশ্বরদীতে গনহত্যা, লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের যেবব অভিযোগ আনা হয়েছে তার পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষ পর্যাপ্ত কোন ডকুমেন্ট হাজির করতে পারেনি। সম্পূর্ণ অপর্যাপ্ত। এছাড়া তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তার সবগুলোর সাথে অপহরন, নির্যাতন, বন্দীকরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। কিন্তু ১৯৭১ সালে প্রচলিত আন্তর্জাতিক আইনে এগুলো মানবতাবিরোধী কোন অপরাধ ছিলনা। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অপরাপর যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তার মধ্যেও মানবতাবিরোধী অপরাধের  উপাদান নেই।

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মাওলানা আব্দুস সোবহান দুইবার পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য ছিলেন, বাংলাদেশেও তিনি ১৯৯১ এবং ২০০১ সালে দুইবার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। রাজনৈতিক কারনে তার বিরুদ্ধে আজ এত বছর পর ১৯৭১ সালের বিষয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক যুক্তি উপস্থাপন শেষে রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সিমন সংক্ষেপে জবাব প্রদান করেন।
আসামী পক্ষে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার এহসান সিদ্দিক, অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান কবির প্রমুখ।

মাওলানা আব্দুস সোবহানের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে পাবনার বিভিন্ন অঞ্চলে হত্যা, গনহত্যা, অপহরন, নির্যাতন, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং স্বাধীনতাবিরোধী পরিকল্পনা ষড়যন্ত্রসহ নয়টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা  হয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর মাওলানা আব্দুস সোবহানের বিরুদ্ধে  অভিযোগ আমলে নেয়া হয়।

২০০৩ সালে পাবনা থানায় দায়েরকৃত  মামলায় গত বছর   ২০ সেপ্টেম্বর গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন  মাওলানা  আব্দুস সোবহানকে টাঙ্গাইল থেকে আটক করে। ২৩ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী (চিফ প্রসিকিউটর) গোলাম আরিফ টিপু মাওলানা আব্দুস সোবহানকে  গ্রেফতার দেখানোর (শোন অ্যারেস্ট)  আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করে প্রডাকশন ওয়ারেন্ট ইস্যু করেন ট্রাইব্যুনাল।  ৩০ সেপ্টেম্বর তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে মানবতা বিরোধী অভিযোগে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। 



বুধবার, ৯ অক্টোবর, ২০১৩

মাওলানা আব্দুস সোবহানের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন শুনানী শুরু

৯/১০/২০১৩
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সাবেক এমপি মাওলানা আব্দুস সোবমানের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন শুনানী শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ। রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সিমন শুনানী শুরু করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের শুনানী শেষ হলে আগামী ২৩ অক্টোবর আসামী পক্ষের শুনানীর জন্য ধার্য্য করা হয়।

দুইটার পরে কোর্টের কার্যক্রম শুরু হলে আসামী পক্ষে অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান কবির দুই সপ্তাহের জন্য মুলতবি আবেদন করেন। ট্রাইব্যুনাল বলেন, আপনি বসেন। এরপর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সুলতান মাহমুদের কাছে জানতে চাওয়া হয় আপনারা প্রস্তুত কি-না। সিমন বলেন, আমরা প্রস্তুত। ট্রাইব্যুনাল বলেন, আপনি শুরু করেন। আসামী পক্ষের আইনজীবীকে বলেন, আপনার আবেদন পরে বিবেচনা করা হবে। এখন রাষ্ট্রপক্ষের পার্ট শুরু হোক।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর মাওলানা আব্দুস সোবহানের বিরুদ্ধে  আজ অভিযোগ আমলে নেয়া হয়।

মাওলানা আব্দুস সোবহানের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে হত্যা গনহত্যা, অপহরন, নির্যাতন, পরিকল্পনা ষড়যন্ত্রসহ নয়টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে।

২০০৩ সালে পাবনা থানায় দায়েরকৃত  মামলায় গত বছর   ২০ সেপ্টেম্বর গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন  মাওলানা  আব্দুস সোবহানকে টাঙ্গাইল থেকে আটক করে। ২৩ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী (চিফ প্রসিকিউটর) গোলাম আরিফ টিপু মাওলানা আব্দুস সোবহানকে  গ্রেফতার দেখানোর (শোন অ্যারেস্ট)  আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করে প্রডাকশন ওয়ারেন্ট ইস্যু করেন ট্রাইব্যুনাল।  ৩০ সেপ্টেম্বর তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে মানবতা বিরোধী অভিযোগে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। 



বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

মাওলানা আব্দুস সোবহানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়েছে ট্রাইব্যুনাল


১৯/৯/২০১৩
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সাবেক এমপি মাওলানা আব্দুস সোবমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। আগামী ২ অক্টোবর থেকে অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানীর জন্য ধার্য্য করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজ অভিযোগ আমলে নিয়ে এ আদেশ দিয়েছে।

মাওলানা আব্দুস সোবহানের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে হত্যা গনহত্যা, অপহরন, নির্যাতন, পরিকল্পনা ষড়যন্ত্রসহ নয়টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে।

অভিযোগ আমলে নেয়া উপলক্ষে মাওলানা আব্দুস সোবহানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

২০০৩ সালে পাবনা থানায় দায়েরকৃত  মামলায় গত বছর   ২০ সেপ্টেম্বর গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন  মাওলানা  আব্দুস সোবহানকে টাঙ্গাইল থেকে আটক করে। ২৩ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী (চিফ প্রসিকিউটর) গোলাম আরিফ টিপু মাওলানা আব্দুস সোবহানকে  গ্রেফতার দেখানোর (শোন অ্যারেস্ট)  আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করে প্রডাকশন ওয়ারেন্ট ইস্যু করেন ট্রাইব্যুনাল।  ৩০ সেপ্টেম্বর তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে মানবতা বিরোধী অভিযোগে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। 


সোমবার, ১ অক্টোবর, ২০১২

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের জন্য ১৯৭৩ সালের আইনকে ব্যবহার করা হচ্ছে //মাওলানা আব্দুস সোবহানের জামিনের শুনানীতে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক


মেহেদী হাসান, ১/১০/২০১২
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর সাবেক এমপি মাওলানা আব্দুস সোবহানের জামিন আবেদনের  ওপর  আজ শুনানী অনুষ্ঠিত হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ। আসামী পক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক অভিযোগ করে বলেন,  বর্তমান সরকার তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের জন্য ১৯৭৩ সালের  আইনকে ব্যবহার করছে। মাওলানা আব্দুস সোবহানকে অন্য কোন মামলায় আটক রাখার সুযোগ নেই বিধায় তার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

শুনানীর সময়  ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক ট্রাইব্যুনালে বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশে এবং জামায়াতে ইসলামীকে একটি দল হিসেবে ধ্বংস করার জন্য  মাওলানা আব্দুস সোবহানকে  গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি জামায়াতের নবম নেতা যাকে সর্বশেষ যুদ্ধাপরাধ মামলায় গ্রেফতার করা হল।
ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, প্রসিকিউশন থেকে  বলা হয়েছে মাওলানা আব্দুস সোবহান পালানোর চেষ্টা করছিলেন। এটি অসত্য। তিনি ঢাকা থেকে পাবনা যাচ্ছিলেন। যাবার পথে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি একজন সম্মানিত ব্যক্তিত্ব। তদানিন্তন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হওয়া ছাড়াও তিনি স্বাধীন বাংলাদেশে দুইবার যথাক্রমে ১৯৯১ এবং ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে  রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ১৯৭১ সালে যুদ্ধাপরাধের যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা যদি সত্য হত তাহলে তিনি এভাবে নির্বাচিত হতে পারতেননা। গত ৫০ বছর ধরে তিনি রাজনীতির সাথে জড়িত। তৃণমূল থেকে উঠে আসা নেতা তিনি। ৫০ বছরে পাবনায় যত উন্নয়ন হয়েছে তার সবকিছুতে কমবেশি অবদান আছে তার।

ব্যারিস্টার রাজ্জাক  বলেন,  রাষ্ট্রপক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে মাওলানা  আব্দুস সোবহান জামায়াতের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে সুকৌশলে দেশে বিদেশে বিচারের বিরুদ্ধে প্রচারনা চালাচ্ছেন, দেশে বিদেশে সাক্ষ্য প্রমান ধ্বংসের কাজে রত আছেন এবং দেশের অভ্যন্তরে নাশকতা সৃষ্টি, অশান্তি এবং ধ্বংসাত্মক কাজের ইন্ধন যোগানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
ব্যারিস্টার রাজ্জাক এ  অভিযোগ  খন্ডন করে বলেন, এ মামলার সাক্ষীরা সব দেশী। বিদেশী সাক্ষী নেই রাষ্ট্রপক্ষের। অভিযুক্ত ঘটনাস্থল সব দেশের মধ্যে। তাহলে কি করে তিনি বিদেশে সাক্ষ্য প্রমান ধ্বংসের কাছে লিপ্ত হতে পারেন?
মাওলানা  আব্দুস সোবহানের জামিন আবেদনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, তিনি উচ্চরক্তচাপসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। তার বয়স ৮৪ বছর। গ্রেফতার হওয়ার আগে তিনি চিকিৎসা শেষে ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরছিলেন।
ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তাকে গ্রেফতারের পর যথাসময়ে আদালতে হাজির করা হয়নি। এর মাধ্যমে  কর্তৃপক্ষ আইন এবং সংবিধান লঙ্ঘন  করেছে।  মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে। ২০ তারিখ গ্রেফতারের পর ২৩ তারিখ ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে।  রাজনৈতিক উদ্দেশে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে।

ট্রাইব্যুনালে শুনানী শেষে ব্যারিস্টার আব্দু রাজ্জাক  ট্রাইব্যুনালের সামনে অপেক্ষমান  সাংবাদিকদের বলেন, অন্য কোন মামলায় আটক রাখার কোন সুযোগ না থাকায় মাওলানা  আব্দুস সোবহানের বিরুদ্ধে  যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং এ অভিযোগ রাজনৈতিক। তিনি একটি রাজনৈতিক মামলায়  হাজিরা দিতে পাবনা যাচ্ছিলেন। এ অবস্থায় পথে তাকে গ্রেফতার করা হল। এটি কি ঠিক হল?
জামিন আবেদনের বিরোধীতা করে  রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ঋষিকেশ সাহা বলেন, ১৯৭১ সালে পাবনায় পাকিস্তান আর্মি যে নৃশংস বর্বরতা চালিয়েয়ে তার প্রত্যক্ষ সহায়তাকারী হলেন মাওলানা আব্দুস সোবহান।  তার নেতৃত্বে এবং প্রত্যক্ষ অংশগ্রহনের মাধ্যমে  পাবনায় এসব মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। কাজেই সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে আটক রাখা প্রয়োজন।
শুনানীর সময় ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক ঋষিকেশ সাহাকে প্রশ্ন করেন আপনি কি  মনে করেন যে, মাওলানা  আব্দুস সোবহানের বয়ষ ৮৪ বছর?
জবাবে ঋষিকেশ সাহা বলেন, হতে পারে।
এরপর তাকে তিনি প্রশ্ন করেন আপনি কি মনে করেন যে, মাওলানা আব্দুস সোবহান
ট্রাইব্যুনাল শুনানী শেষে আগামীকাল মঙ্গলবার আদেশের জন্য ধার্য্য করেন।
ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক, সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন এবং বিচারপতি আনোয়ারুল হক শুনানী  গ্রহণ করেন।
মাওলানা আব্দস সোবহানের পক্ষে  অন্যান্যের মধ্যে অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে অধ্যাপক গোলাম আযমের মামলায় আজ মহিলা সাক্ষীর জেরা হয়েছে ক্যামেরা ট্রায়ালের (রুদ্ধদ্বার কক্ষে) মাধ্যমে । তার জেরা শেষ হয়েছে। গত  রোববার তার জবানবন্দী গ্রহণ করা হয়।