Contempt লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Contempt লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৩

অসদাচরনের অভিযোগ // জেয়াদ আল মালুমের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের

মেহেদী হাসান, ২৪/১০/২০১৩
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জেয়াদ আল মালুমের বিরুদ্ধে পেশাগত অসদাচরনের অভিযোগে শোকজ নোটিশ জারি করেছে  বাংলাদেশ বার কাউন্সিল।

আগামী সাত নভেম্বরের মধ্যে অভিযোগের জবাব প্রদানের জন্য সময় নির্ধারন করে আজ  এ নোটিশ জারি করা হয়।

ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্ত্রী ফরহাত কাদের চৌধুরী গত বছর ৩১ ডিসেম্বর জেয়াদ আল মালুমের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল বরাবর অভিযোগ করেন। স্কাইপ কেলেঙ্কারির  জের ধরে গুরুতর পেশাগত অসদাচরনের অভিযোগ এনে  জেয়াদ আল মালুমের আইনজীবী সনদ বাতিলের আবেদন করেন তিনি। এছাড়া স্কাইপ কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত থাকা এবং বিচার নিয়ে প্রহসন করার অভিযোগে জেয়াদ আল মালুমের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনেরও দাবি জানানো হয় দরখাস্তে। এ আবেদনের প্রক্ষিতে আজ  বার কাউন্সিল তার বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করল অভিযোগের বিষয়ে তার জবাব চেয়ে। সময়মত জবাব দাখিলে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে বার কাউন্সিলের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

অসদাচরনের অভিযোগ :
বাংলাদেশ বার কাউন্সিল বরাবর গত বছর ফরহাত কাদের চৌধুরীর দায়ের করা আবেদনে তিনি বলেন, আমার স্বামী সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ বিচারের মুখোমুখি। জেয়াদ আল মালুম তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের মুখ্য আইনজীবী। ট্রাইব্যুনালের সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম এবং বেলজিয়ামের ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনের যে স্কাইপ সংলাপ দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে তাতে  জেয়াদ  আল মালুমের বিরুদ্ধে গুরুতর অসদাচরনের প্রমান  রয়েছে।  জেয়াদ আল মালুম গোপনে ট্রাইব্যুনালের বিচারপতির সাথে বৈঠক করেছেন বিচার নিয়ে। আসামীর মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করার জন্য  কোন কোন সাক্ষী আনতে হবে, কোন সাক্ষী বাদ দিতে হবে এবং  সাক্ষীকে দিয়ে কি বলাতে হবে সে বিষয়ে তিনি সাক্ষীদের প্রশিক্ষন প্রদান করেছেন; বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমসহ বিভিন্ন মহলের সাথে গোপন আতাত করেছেন। কিভাবে প্রকাশ্য ট্রাইব্যুনালে বিচারের নামে নাটক করবেন এবং মানুষকে দেখাবেন যে, এখানে ন্যায় বিচার হয়েছে সে বিষয়ে বিচারপতি নিজামুল হকের রুমে গিয়ে আলোচনা করেছেন।  একজন আইনজীবী হিসেবে  জেয়াদ  আল মালুমের এ ধরনের কাজ বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে কর্তৃক আইনজীবীদের জন্য প্রণীত  আচরন বিধির লঙ্ঘন এবং গুরুতর অসদাচরনের শামিল।

বিচারপতি নিজামুল হক এবং ড. জিয়াউদ্দিন জেয়াদ আল মালুমের সাথে সাক্ষী নির্বাচন নিয়েই শুধু তারা আলোচনা করেননি বরং সাক্ষীকে দিয়ে কি বলাতে হবে সে বিষয়ে আলোচনা করেছেন। সাবেক সেনা প্রধান জেনারেল শফিউল্লাহ একজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হওয়া সত্ত্বেও তাকে  ট্রাইব্যুনালে আনা হয়নি। কারণ তাকে জেয়াদ আল মালুম অন্যান্য সাক্ষীদের মত প্রশিক্ষন দিয়ে নিয়ন্ত্রন করতে পারবেনা।  তার ওপর জেয়াদ আল মালুমের  নিয়ন্ত্রন থাকবেনা।  তিনি তাদের নির্দেশ মত সাক্ষ্য দিতে রাজি হবেননা। ফলে সাক্ষীর মুখ দিয়ে  এমন কিছু বের হয়ে  যেতে পারে যা আসামী পক্ষে চলে যেতে পারে এবং বিরাট সমস্যা হতে পারে রাষ্ট্রপক্ষের জন্য। সেকারনে তাকে সাক্ষী হিসেবে আনা হয়নি।  বিচারপতি নিজামুল হক  এবং ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনের সম্মতিতে তাকে সাক্ষী হিসেবে  না আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জেয়াদ আল মালুম। এ বিষয়ে আলোচনা রয়েছে স্কাইপ সংলাপে। সুতরাং আসামীকে ফাঁসানোর জন্য জেয়াদ আল মালুম শুধু সাক্ষী বাছাই, সাক্ষী বাদ দেয়ার কাজ করেছেন তাই নয় বরং তাদের প্রশিক্ষন দিয়ে কোর্টে নিয়ে এসেছেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং ট্রাইব্যুনাল মিলে প্রকাশ্য কোর্টে  নাটক মঞ্চস্ত করেছেন  ।  ট্রাইব্যুনালের গোটা বিচার কাজই ছিল এ ধরনের একটি সাজানো নাটক। বিচারপতি নিজামুল হকের রুমে গিয়ে জেয়াদ আল মালুম বলেছেন আমি কোর্টে দাড়িয়ে যাব আর আপনি আমাকে ধমক দিয়ে বসিয়ে দেবেন।  যাতে লোকে বুঝতে পারে আমাদের মধ্যে কোন  খাতির নেই।

সাক্ষী সুলতানা কামাল বিষয়ে স্কাইপ সংলাপে বলা আছে তাকে সমস্ত এভিডেন্স দেয়ার পর তিনি বুঝে গেছেন কি বলতে হবে। এছাড়া বেশ কয়েকবার তার সাথে আলোচনা হয়েছে  কিভাবে সাক্ষ্য দেয়া হবে  সে বিষয়ে।  সুলতানা কামালসহ অন্যান্য সাক্ষীদের প্রশিক্ষন এবং জেনারেল শফিউল্লাহ তাদের নির্দেশত সাক্ষ্য দিতে রাজি হবেননা বিধায় তাকে বাদ দেয়ার মাধ্যমে জেয়াদ আল মালুম বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে   অধ্যায়-১১১ এ বর্নিত আইনজীবীদের পেশাগত আচরন লঙ্ঘন করেছেন এবং  এটি গুরুতর অসদাচরনের শামিল।

১১১ অধ্যায়ে বর্নিত আছে ‘পাবলিক প্রসিকিউশনের একজন আইনজীবীর প্রথম  কর্তব্য হল আসামীকে দন্ডিত করা নয় বরং ন্যায় বিচার হচ্ছে কি-না তা দেখা। আসামীকে নির্দোষ প্রমানে সহায়ক হতে পারে এমন তথ্য প্রমান চেপে রাখা এবং সাক্ষী গোপন করা গুরুতর দুষনীয় কাজ।’

সাক্ষীকে প্রশিক্ষন দেয়া এবং সাক্ষী গোপন করার ফলে আসামীর  মৃত্যুদণ্ড হতে পারত। আসামীর  মৃত্যুদন্ড নিশ্চিত করার জন্য সে সাক্ষী গোপন করেছেন, তথ্য প্রমান চেপে রেখেছেন এবং সাক্ষী প্রশিক্ষনের কাজ  করেছে।   এ কারনে  জেয়াদ আল মালুুমের আইনজীবী খারিজ করা অপরিহার্য।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়-স্কাইপ সংলাপের এক স্থানে  ড. জিয়াউদ্দিন বলছেন, প্রসিকিউশনের কৌশল শুধু পাঁচ জনের জানা উচিত। তিনি থেকে চার জন মুল আইনজীবী এবং অন্য দুজন (বিচারপতি নিজামুল হক এবং  ড. জিয়াউদ্দিন নিজে)  জানবে বিষয়টি। জিয়াউদ্দিন আরো বলছেন তাদের (বিচারপতি নিজামুল হক এবং জিয়াউদ্দিন) মালুমকে সাপোর্ট দিতেই হবে। স্কাইপ সংলাপের ১২ টি স্থানে জিয়াউদ্দিন এবং বিচারপতি নিজামুল হক একজন আরেকজনকে প্রশ্ন করেছেন অমুক বিষয়ে জেয়াদ  আল মালুমের সাথে  আলোচনা করেছেন কি-না।  এসব থেকে বোঝা যায়  জেয়াদ আল মালুম নিয়মিত গোপন আতাত করতেন বিচারপতি নিজামুল   হকের  সাথে। এভাবে জেয়াদ আল মালুম ট্রাইব্যুনালের বিচারকে কলুষিত করার পেছনে কাজ করেছেন।  জেয়াদ আল মালুম ন্যায়বিচার এবং  স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার পথে একটি অন্তরায়। এ কারনে  তার আইনজীবী সনদ খারিজ করা উচিত বলে ফরহাত কাদের চৌধুরীর দরখাস্তে উল্লেখ করা হয়েছে। 

সোমবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৩

প্রবেশে বাঁধা // ট্রাইব্যুনালের গেটে জয়নুল আবেদিনসহ আইনজীবীদের অবস্থান কর্মসূচী

মেহেদী হাসান, ২১/১০/২০১৩
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি জয়নুল আবেদিনসহ আরো বেশ কয়েকজন আইনজীবীকে ট্রাইব্যুনালে প্রবেশে বাঁধা সৃষ্টি করায় আজ  ট্রাইব্যুনালের সামনে গেট আটকে অবস্থান কর্মসূচী পালন করেছেন তারা । একঘন্টা পর্যন্ত চলা অবস্থান কর্মসূচীর সময় ট্রাইব্যুনালের একজন বিচারকও মেইন গেট দিয়ে ট্রাইব্যুনালে প্রবেশে সমস্যায় পড়েন এবং তাকে গাড়ি ঘুরিয়ে ভিন্ন পথে নিয়ে যাওয়া হয় ট্রাইব্যুনালে। 

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সাবেক দুইবার নির্বাচিত সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন এর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক জারি করা আদালত অবমাননা বিষয়ক মামলার তারিখ ধার্য্য ছিল আজ ।  তার পক্ষে এ্যাডভোকে জয়নুল আবেদিন সুপ্রীম কোর্ট বারের এসিসট্যান্ট সেক্রেটারি সাইফুর রহমান, অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামসহ ১০/১২ জন  আইনজীবী নিয়ে সকাল সোয়া দশটার দিকে ট্রাইব্যুনালের সামনে আসেন। কিন্তু তখন তাদের ট্রাইব্যুনালে প্রবেশে বাঁধা দেয়া হলে এর প্রতিবাদে তারা গেটের সামনে দাড়িয়ে অবস্থান কর্মসূচী পালন শুরু করেন।

কর্মসূচীর ৪০ মিনিটের মাথায় ট্রাইব্যুনালের গেটে একজন বিচারকের গাড়ি আসে। বিচারকের গাড়ির সামনে থাকা পুলিশের গাড়ি থেকে পুলিশ সদস্যরা নেমে আসেন।  পুলিশ তাদের অনুরোধ করেন গেট থেকে সরে যাবার জন্য। কিন্ত জয়নুল আবেদিন তাদের বলেন, আমাদের ভেতরে প্রবেশ করতে না দিলে আমরা এখান থেকে সরবনা। আমাদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হোক আমরা সরে যাব।  এসময় ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার এ কে এম নাসির উদ্দিন মাহমুদ সেখানে আসেন এবং তাদের সরে যেতে অনুরোধ করেন। জয়নুল আবেদিন বলেন, আমরা ৪০ মিনিট পর্যন্ত এখানে দাড়িয়ে আছি। আপনি আমাদের ঢকুতে দিচ্ছেননা কেন? ট্রাইব্যুনালের কোন আইনে  আছে যে, সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবীরা ট্রাইব্যুনালে প্রবেশ করতে পারবেনা আমাদের দেখান। আপনি নাকি বলেছেন আমাদের ভেতরে যাবার দরকার নেই।   নাসির উদ্দিন মাহমুদ বলেন, আপনাদের টাইম প্রেয়ারের দরখাস্ত গতকাল আমি পেয়েছি।  আমি একটু আগে আপনাদের এখানে যারা এসেছেন তাদের তালিকা নিয়েছি। সেখান থেকে যাচাই বাছাই করে প্রবেশের ব্যবস্থা করব। কিন্তু তার আগে আপনারা গেটটা একটু ছেড়ে দেন। জাজ সাহেবকে ভেতরে যেতে দিন। জয়নুল আবেদিন বলেন, আমাদের ভেতরে যেতে দিন। আমরা এুনি সরে যাব। এরপর নাসির উদ্দিন মাহমুদ বলেন, অন্তত পাঁচ মিনিটের জন্য গেটটা ছাড়েন। জজ সাহেব যাক তারপর আপনাদের ব্যবস্থা করব।  এসময় জয়নুল আবেদন তাকে পাঁচ মিনিট সময় দেন। কিন্তু ততক্ষনে বিচারক চলে গেছেন গাড়ি ঘুরিয়ে। এরপর রেজিস্ট্রার এ কে এম নাসির উদ্দিন মাহমুদ ভেতরে চলে যান। কিন্তু ১৫ মিনিট পার হয়ে গেলেও কারা প্রবেশ করতে পারবে সে বিষয়ে কোন তালিকা না আসায় জয়নুল আবেদিন বলেন, আমরা আর ভেতরে প্রবেশ করবনা আজ। ৫ মিনিটের কথা বলে রেজিস্ট্রার চলে গেছেন কিন্তু এখন ১৫ মিনিট পার হয়ে গেছে তার কোন খবর নেই।   তিনি কোন তালিকা পাঠাননি।

একঘন্টা অবধি অবস্থান কর্মসূচী পালন শেষে অ্যাডভোটেক জয়নুল আবেদিন সাংবাদিকদের  ঘটনার বিষয়ে বলেন, আপনারা সব দেখলেন নিজের চোখে। আজ খন্দকার মাহবুব হোসেন এর মামলার তারিখ ধার্য্য ছিল। আমাকে তিনি তার পক্ষে আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ করেছেন। আমরা এ মামলায়  চার সপ্তাহ সময় চেয়ে গতকাল একটি দরখাস্ত দিয়েছি। আজ আমি আমার কাউন্সিলরদের নিয়ে ট্রাইব্যুনালে এসেছি। কিন্তু আমাদের ভেতরে যেতে দেয়া  হলনা। যে ট্রাইব্যুনালে আইনজীবীদের প্রবেশ করতে দেয়া হয়না সে ট্রাইব্যুনালের বিচার সম্পর্কে সন্দেহ সৃষ্টি হওয়াই স্বাভাবিক।

আইনজীবীদের ট্রাইব্যুনালে প্রবেশে বাঁধা বিষয়ে অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, জয়নুল আবেদিনসহ  আমরা এখানে আসার পর রেজিস্ট্রার  আমাদের জানিয়েছেন, টাইম প্রেয়ারের দরখাস্ত মুভ করতে  আমাদের যাবার দরকার নেই। ভেতরে নাকি চার পাঁচজন আইনজীবী আছেন তারাই যথেষ্ট।  ভেতরে যে আইনজীবীদের কথা উনি বলেছেন তারা কেউই খন্দকার মাহবুব হোসেন এর পক্ষের আইনজীবী নন। তারা মাওলানা নিজামীর মামলার আইনজীবী। খন্দকার মাহবুব হোসেন এর পক্ষে কোন আইনজীবী ভেতরে  যায়নি। আমাদের প্রশ্ন হল  খন্দকার মাহবুব হোসেন এর পক্ষে কে কোর্টে কথা বলবে তা কি রেজিস্ট্রার সাহেব ঠিক করে দেবেন? তাজুল ইসলাম বলেন, আধাঘন্টা পর রেজিস্ট্রার এখানে লোক পাঠিয়ে কারা কারা উপস্থিত আছি তাদের তালিকা চেয়েছেন। আমরা তালিকা দিয়েছি  কিন্তু কোন খবর নেই। ৪০ মিনিটরে মাথায় এসে তিনি বললেন যাচাই বাছাই করে তালিকা ঠিক করে ভেতরে প্রবেশের ব্যবস্থা করবেন। সুপ্রীম কোর্ট বারের একজন সভাপতি, সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবীদের তিনি এক ঘন্টা পর্যন্ত দাড় করিয়ে রেখেছেন এখানে। ৫ মিনিটের মধ্যে প্রবেশের ব্যবস্থা করা হবে বলে চলে গেলেন তিনি। ১৫ মিনিটের মাথায়ও তিনি কোন খবর দিলেননা। এই হল এখানকার অবস্থা।

অবস্থান কর্মসূচী শেষে প্রহসনের বিচার বন্ধ কর করতে হবে স্লোগান দিতে দিতে চলে যান সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবীরা।

এদিকে ট্রাইব্যুনাল-১ এ আজকের কার্যতালিকায় খন্দকার মাহবুব হোসেন এর মামলাটি ছিল এক নং ক্রমিকে। কিন্তু ট্রাইব্যুনালে এ মামলায়  কোন আইনজীবী না থাকায় মাওলানা নিজামীর মামলার কার্যক্রম শুরু হয়। মাওলানা নিজামীর পক্ষের সাক্ষীর নাম নিয়ে সমস্যা হওয়ায় ১২টায় কোর্ট মুলতবি করা হয় এবং দুইটায় খন্দকার মাহবুব হোসেন এর মামলার বিষয়ে জানানো হবে বলে আদেশ দেন কোর্ট।

দুইটার বিরতির পরও এ মামলায় কোন আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামকে তলব করে আনা হয় ট্রাইব্যুনাল। তাজুল ইসলাম যখন উপস্থিত হন তখন মাওলানা নিজামীর মমালা চলছিল। মাওলানা নিজামীর মামলা শেষ হলে খন্দকার মাহবুব হোসেন এর মামলার কার্যক্রম শুরু হয়। ট্রাইব্যুনাল তাজুল ইসলামকে বলেন, টাইম প্রেয়ার দরখাস্তে আপনার স্বাক্ষর রয়েছে। কিন্তু আপনি কোর্টে উপস্থিত নেই কেন ? আপনাকে কেন ডেকে আনতে হল?

তখন তাজুল ইসলামক সকালের ঘটনার বিবরন দিয়ে বলেন, যেহেতু এ মামলার সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদিনসহ অন্যান্যদের প্রবেশ করতে দেয়া হয়ন এবং তারা চলে গেছেন তাই তাদের  ডিঙ্গিয়ে এবং কায়েন্টের পরামর্শ ব্যতীত আমি কিছু করতে পারিনা। তারা যেহেতু আসেননি তাই আমার একার এখানে আসাটা শোভনীয় নয়।

ট্রাইব্যুনাল বলেন, আপনি কোর্টে এসে শুরুতেই এ বিষয়টি তুলতে পারতেন । আপনার তো কোর্টে আসতে বাঁধা নেই। তাজুল ইসলাম বলেন, আমি অন্য মামলার আইনজীবী হিসেবে কোর্টে আসি। কিন্তু খন্দকার মাহবুব হোসেন এর মামলায় আইনজীবীদের প্রবেশ নিয়ে যা হয়েছে তাতে আমি সে মামলায় একা এখানে আসতে পারিনা। এটা আমার জন্য বিব্রতকর অবস্থা।  রেজিস্ট্রার সুপ্রীম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি এবং সিনিয়র আইনজীবীদের সাথে অশোভন আচরন করেছেন। তারা সবাই মিলে এর প্রতিবাদে চলে গেছেন কোর্টে না এসে। এ অবস্থায় আমি এখানে অন্য মামলার আইনজীবী হিসেবে এখানে আসতে পারলেও ওই মামলার হয়ে কোন কথা বলতে পারিনা। এটা আমার জন্য শোভনীয় নয়।

এরপর আগামীকাল আবার এ মামলার তারিখ ধার্য্য করা হয়। কোর্ট উঠে যাবার পূর্বে রাষ্ট্রপক্ষের অ্যাডভোকেট জেয়াদ আল মালুম কিছু একটা বলেন। এসময় তাজুল ইসলাম বলেন, সাবমিশনেরও একটা সীমা থাকা উচিত। কোর্টে কিভাবে কথা বলতে হয় তা শিখে আসেন। এসময় কোর্টের বিচারপতিরা কোর্টরুম ত্যাগ করার জন্য উঠে দাড়িয়েছেন। তারা বের হয়ে যাচ্ছেন। এমনসময় তাজুল ইসলাম এবং জেয়াদ আল মালুমের মধ্যে উচ্চস্বরে বাক্য বিনিময় শুরু হয়ে যায়। দুই পক্ষ পরষ্পরের প্রতি তেড়ে যাবার উপক্রম হয়। জেয়াদ আল মালুম তাজুল ইসলামকে উচ্চস্বরে  বলেন, বেয়াদপ। তাজুল ইসলাম বলেন, সারাজীবন যা করে এসেছেন তা এখানে এসেও করতে চান। জেয়াদ আল মালুম বলেন, কি করেছি সারা জীবন? তাজুল ইসলাম বলেন, গুন্ডা। কোর্টে এসেও গুন্ডামি করতে চান? স্কাইপে আপনার নাম আসেনি? বিচার ব্যবস্থাকে আপনারা ধ্বংস করেননি? বেহায়া, নির্লজ্জ কোথাকার। এসময় তাজুল ইসলামের এক জুনিয়র বলেন, বিচার ব্যবস্থাকে ধ্বংসের জন্য যারা দায়ী তাদের বিচার একদিন হবেই। এ পরিস্থিতিতে  দুইপক্ষের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে পুলিশ এসে হস্তক্ষেপ করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।

অবস্থান কর্মসূচীতে জয়নুল আবেদিনের সাথে সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী গোলাম কিবরিয়া, হুমায়ুন কবির মঞ্জু, আব্দুর রহমান, মোহাম্মদ আলী, জাহানারা সরকার, মাসুদ রানা, শেখ মো : আলী, মাসুদুল হক, কামরুন্নাহার, রাফিয়া আখতার, নাসরিন খন্দকার, নাজমুল হক, রেজবাউল কবির, তাহা মোল্লা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৩

আদালত অবমাননার অভিযোগ অস্বীকার করে বক্তব্যের স্বপক্ষে অবস্থান নিলেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী

মেহেদী হাসান, ১০/১০/২০১৩
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিচার নিয়ে  টিভি টকশোতে যে বক্তব্য দিয়েছেন তার স্বপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তিনি। আদালত অবমাননার অভিযোগ বিষয়ে দাখিলকৃত লিখিত জবাবে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী কোন ধরনের দু:খপ্রকাশ বা নিজের বক্তব্যকে ভুলও বলে স্বীকার করেননি।
আদালত অবমাননা বিষয়ে আনীত  অভিযোগ অস্বীকার করে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন তিনি ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী কোন অপরাধ করেননি টকশোর  বক্তব্যের মাধ্যমে।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ বিষয়ে আজ  আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১  এ শুনানীর জন্য ধার্য্য ছিল। এ উপলক্ষে সকালে তিনি ট্রাইব্যুনালে হাজির হন। তিনি তার পক্ষে কোন আইনজীবী নিয়োগ দেননি। নিজের বক্তব্য নিজেই উপস্থাপনের জন্য লিখিত আকারে নিয়ে আসেন এবং আদালতে তা দাখিল করেন। তবে সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহসহ অপর অভিযুক্তরা ট্রাইব্যুনালে না আসায় আজ শুনানী অনুষ্ঠিত হয়নি।

সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহর পক্ষে সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশন এর সাবেক সভাপতি সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন হাজির হয়ে বলেন, সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন। তাই তিন সপ্তাহ সময় দরকার। এছাড়া চ্যানেল ২৪ এর অপরাপর অভিযুক্তদের পক্ষে অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান হাজির হয়ে সময় আবেদন করেন। আদালত তাদের আবেদন গ্রহণ করে শুনানী এবং হাজিরার জন্য আগামী ৬ নভেম্বর পরবর্তী তারিখ ধার্য্য করেন।
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সাথে দার্শনিক ফরহাদ মজহার, রাজনীতিবিদ আসম আব্দুর রব, নারীনেত্রী ফরিদা আখতারসহ বিপুলসংখ্যক ভক্ত ট্রাইব্যুনালে আসেন।


লিখিত জবাব :
ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী যে লিখিত বক্তব্য কোর্টে দাখিল করেছেন তাতে তিনি লিখেছেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত আদালত অবমাননার অভিযোগের উত্তরে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে দ্বিধাহীন কন্ঠে নি:সংকোচে আমি বলতে চাই যে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারাধীন মামলা সম্পর্কে ১৮ সেপ্টেম্বর মুক্তবাক অনুষ্ঠানে খোলামনে আলোচনা করে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ১১(৪) ধারা মোতাবেক কোন অপরাধ করিনি, আমি মনগড়া কোন মিথ্যা বক্তব্য দেইনি, কল্পকাহিনী সৃষ্টি করিনি এবং আদালতের কার্যক্রমে কোনভাবে বাঁধাও সৃষ্টি করিনি। জনগনের মনে আদালত সম্পর্কে অনাস্থা  ও ঘৃনা সৃষ্টি করিনি। বরঞ্চ জনগনের বক্তব্যসমূহ পুনরুল্লেখ করে সমস্যার প্রতি আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আমি আদালতের সুহৃদের কর্তব্য পালন করেছি। জনসম্মুখে কোন চলমান মামলা সম্পর্কে আলোচনা বা বক্তব্য কিংবা মন্তব্য করলেই তা সাবজুডিস হয়না।

লিখিত জবাবে  জাফরুল্লাহ চৌধুরী উল্লেখ বলেছেন, ‘বিচারপতি হাসনাইনের জবানবন্দী শুনতে চাই’ শিরোনামে ২ অক্টোবার প্রথম আলোতে একটি রিপোর্ট ছাপা হয়েছে। সেখানে লেখা হয়েছে ২২ জুলাই প্রধান বিচারপতির কাছে লেখা চিঠিতে বিচারপতি শামীম হাসনাইন সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দিতে চেয়েছিলেন। বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে এটি সম্ভবত একটি নজিরবিহীন ঘটনা। এই চিঠিতে লেখা হয়েছে, এটা সত্য যে একাত্তরের মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে আগস্ট পর্যন্ত সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছিলেন।

চ্যানেল ২৪ এ করা বক্তব্যের স্বপক্ষে জাফরুল্লাহ চৌধুরী লিখেছেন, সম্প্রতি মাননীয় আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ ্বকে কর্মশালায় বলেছেন, সপ্রীম কোর্টের বিচার প্রাথীদের ভোগান্তির শেষ নেই। ফাইল জমা দিতে, শুনানীতে, মামলা কার্যতালিকায় নিতে, আদেশের কপি পেতে বিভিন্ন ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হন বিচারপ্রার্থী জনগন। তিনি বলেন, নিন্ম আদালতের চিত্র তো আরো ভয়াবহ, কোর্টের ইটও নাকি টাকার জন্য হা করে থাকে। এ অবস্থার কোন উন্নতি হয়নি। কোন কোন ক্ষেত্রে দুনীতি আরো বেড়েছে। পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারন করেছে।  এ অবস্থার পরিবর্তন চাই। বিচার বিভাগের প্রতি কতকাংশ মানুষের আস্থার অভবা দেখা দিয়েছে......।
জাফরুল্লাহ চৌধুরী আরো একটি উদ্ধৃতি উল্লেখ করেছেন তার লিখিত জবাবে।
১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকা ট্রিবিউনে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন এর বক্তব্য দিয় শিরোনাম করা হয়েছে । শিরোনামটি হল ডু নট পে ব্রাইবস টু জাজেস (বিচারকতের ঘুষ দেবেননা)।
এসব  বক্তব্য উদ্ধৃতি করে জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রশ্ন করেছেন আইনমন্ত্রীর এ সত্য ভাষনের জন্য কি সুপ্রীম কোর্টে তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা হবে?
বিচারপতি যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে কি বিচারকদের সম্মানহানি হয়েছে? বিচারকদের প্রতি কি জনসাধারনের অনাস্থা সৃষ্টি হবে?

জাফরুল্লাহ চৌধুরী লিখেছেন, আমি বাক স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। দেশবাসী মনযোগ দিয়ে ট্রাইব্যুনালের বিচারকার্যক্রম লক্ষ্য করছে এবং বিভিন্ন  সময় বিভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছে। এটা তাদের অধিকার। আমিও এ সম্পর্কে বক্তব্য রেখেছি। এতে আদালতের বিচারকার্য বিঘিœত হয়না। এ ধরনের প্রকাশ্য আলোচনার উদ্দেশ্য জনগনের মনে  ট্রাইব্যুনালের বিরুদ্ধে ঘৃনা ও অনাস্থা সৃষ্টি নয়। বরং বিচারের প্রতি জনগনের আস্থা ও শ্রদ্ধা বাড়ানো।
যুদ্ধাপরাধ বিচারের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে তিনি লিখেছেন, মাননীয় বিচারপতিগন, আমি আশা করছি আমাকে আদালত অবমাননার অভিযোগ থেকে রেহাই দিয়ে আমার বাক স্বাধীনতার অধিকারের স্বীকৃতি দেবেন। আমি আদালত ও ন্যায় বিচারকদের প্রদি সবসময় শ্রদ্ধশীল।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর চ্যানেল-২৪ এ রাত ১১টায় প্রচারিত মুক্তবাক নামক টকশো অনুষ্ঠানে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আজকে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলছে, সে নাকি ছিলই না।  এর পক্ষে সে চারজন সাক্ষী মেনেছে। একটা তো বললাম, আমাদের সালমান, আরেকজন হলেন হাইকোর্টের একজন সিটিং জাজ। তিনি (হাইকোর্টের বিচারপতি শামীম হাসনাইন)  বলেছেন তিনি  স্যা দিতে চান সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষে। সাক্ষ্য দেয়ার অনুমতি চেয়ে প্রধান বিচারপতির কাছে দরখাস্ত দিয়েছেন কিন্তু অনুমতি পাননি।  তাকে অনুমতি দেয়া হয়নি এই যে জিনিসটা এর ফলে কী হবে? সন্দেহটা কিন্তু মানুষের মনে থেকেই যাবে। আইনে বলে  দশজন আসামি খালাস পেয়ে যাক, কিন্তু একজন নিরপরাধ যেন শাস্তি না পায়। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে মনে প্রানে  ঘৃণা করি আমি। এই লোক দাবি করেছে, সে (ঘটনার সময়) ছিল না। সে হাসনাইন নামের এক জজ সাহেবকে সাী মেনেছে। সেই জজ সাহেবকে কেন সাী দিতে দেননি, এটাকে যদি না দেয়া হয়, তাহলে কি বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদবে না?’

এ বক্তব্যের জের ধরে টকশোতে অংশগ্রহণকারী  ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ, অনুষ্ঠান সঞ্চালক মাহমুদুর রহমান মান্না ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল-২৪ এর সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের বিরুদেধ বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ করে রাষ্ট্রপক্ষ। ২৬ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনাল-১ তাদের বিরুদ্ধে রুল জারি করে ১০ অক্টোবর হাজির হওয়ার জন্য। একই সাথে কেন তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবেনা মর্মে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।


 

রবিবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৩

আদালত অবমাননার অভিযোগে খন্দকার মাহবুব হোসেন এর বিরুদ্ধে নোটিশ জারি

মেহেদী হাসান, ৬/১০/২০১৩
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন এর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে কারণ দর্শানো নোটিশ জারি করা হয়েছে।  আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজ  তার বিরুদ্ধে এ  নোটিশ জারি করে। আদালত অবমানার অভিযোগে কেন তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবেনা সে মর্মে  আগামী ২১ অক্টোবরের মধ্যে তাকে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে নোটিশে।

তবে তার পদমর্যাদা বিবেচনায় তাকে কোর্টে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে রায় বিষয়ে খন্দকার মাহবুব হোসেন এর বক্তব্যের জের ধরে রাষ্ট্রপক্ষ তার  বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ দায়ের করে গত বৃহষ্পতিবার। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে ট্রাইব্যুনাল আজ তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার নোটিশ জারি করল।

ট্রাইব্যুনালের আদেশে বলা হয় রাষ্ট্রপক্ষ খন্দকার মাহবুব হোসেন  এর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনেছে তা যৌক্তিক। খন্দকার মাহবুব হোসেন তার বক্তব্যের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালের বিচারক, আইনজীবী এবং সাক্ষীসহ সমস্ত বিচার প্রকৃয়াকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। তার বক্তব্য ট্রাইব্যুনাল এবং স্বাধীন  বিচার ব্যবস্থার প্রতি স্পষ্ট হুমকি । সুপ্রমী কোর্টের একজন আইনজীবী হিসেবে তার এ  বক্তব্য  বিচার সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য হুমকিস্বরূপ।  এ ধরনের বক্তব্য বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবে।


ট্রাইব্যুনাল তার আদেশে বলেন, খন্দকার মাহবুব হোসেন সুপ্রীম কোর্টের একজন সিনিয়র আইনজীবী। তিনি একজন সম্মানিত ব্যক্তি। তার সম্মান এবং পদমর্যাদ বিবেচনা করে তাকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেয়া হল। তিনি তার আইনজীবীর মাধ্যমে লিখিত জবাব দিতে পারবেন।

চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবিরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল -১  কারণ দর্শানো নোটিশ জারি করে।

আদালত অবমাননার অভিযোগ দায়েরের প্রেক্ষাপট :
গত ১ অক্টোবর সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদন্ডের রায় ঘোষনার পরপরই   জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সুপ্রীম কোর্ট বার ভবনে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে  খন্দকার মাহবুব হোসেন ট্রাইব্যুনালের বিচারকে প্রহসনের বিচার আখ্যায়িত করে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন,   জাতীয়তাবাদী শক্তি ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসলে এই বিচারের সাথে জড়িতদেরও বিচার করা হবে ইনশাআল্লাহ।

তার এ বক্তব্যকে আদালত অবমাননা আখ্যায়িত করে গত বৃহষ্পতিবার  তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ট্রাইব্যুনালে এ অভিযোগ দায়ের করে। 

আদালত অবমাননার অভিযোগে কেন খন্দকার মাহবুব হোসেন এর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল আইনের অধীনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবেনা সে মর্মে নোটিশ জারির আবেদন করা হয  রাষ্ট্রপক্ষের দরখাস্তে।

অভিযোগ দায়ের করার পর জেয়াদ আল মালুম এর প্রেক্ষাপট এবং যৌক্তিকতা তুলে ধরে ট্রাইব্যুনালকে বলেন, ট্রাইব্যুনালের এই বিচারের সাথে প্রধান বিচারপতি, সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের অন্যান্য বিচারপতি, ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী, তদন্ত সংস্থা, সাক্ষী এবং ক্ষতিগ্রস্তদের অসংখ্য পরিবার জড়িত। বিচারের এই পর্যায়ে খন্দকার মাহবুব হোসেন এ বিচারকে প্রহসনের বিচার আখ্যায়িত করে এবং বিচারের সাথে সম্পৃক্তদের বিচার করা হবে বক্তব্য দিয়ে সবাইকে হুমকি দিয়েছেন। তার এ বক্তব্য বিচারের প্রতি অবজ্ঞা, আদালত অবমাননা এবং আতঙ্ক সৃষ্টির শামিল। তার এ বক্তব্য ট্রাইব্যুনালের সমগ্র বিচার প্রকৃয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করা, হেয় প্রতিপন্ন করা এবং ন্যায় বিচারকে বাঁধাগ্রস্ত করার শামিল। কাজেই তার এ বক্তব্যের কারনে কেন তার বিরুদ্ধে আদালত অবমনানার অভিযোগে ব্যবস্থা গ্রহন  করা হবেনা সে মর্মে নোটিশ জারি করা হোক এবং এ বিষয়ে তার যদি কোন ব্যাখ্যা দেয়ার থাকে তাহলে আদালতে হাজির হয়ে সে ব্যাখ্যা দিতে বলা হোক।

বৃহষ্পতিবার রাষ্ট্রপক্ষের   আবেদনের ওপর জেয়াদ আল মালুম শুনানী পেশ করার পর রোববার আদেশের জন্য ধার্য্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

প্রহসনের বিচারের সাথে সম্পৃক্তদেরও বিচার করা হবে মর্মে ১ অক্টোবর মঙ্গলবার   খন্দকার মাহবুব হোসেন  বক্তব্য প্রদানের পর ২ অক্টোর বুধবার অ্যাটর্নি জেনারেল সর্বপ্রথম আপিল বিভাগের নজরে আনেন বিষয়টি। মাওলানা সাঈদীর আপিল আদেন শুনানীর লক্ষ্যে গঠিত প্রধান বিচারপতি মো : মোজাম্মেল হোসেন এর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ এর কার্যক্রম সকালে শুরু হলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এ বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। আপিল বিভাগের বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা এসময় যথাযথ স্থানে এ বিষয়টি উত্থাপনের পরামর্শ দেন। 
এরপর সকাল সাড়ে দশটার দিকে ট্রাইব্যুনাল -১ এর কার্যক্রম শুরু হলে চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু মৌখিকভাবে বিষয়টি উত্থাপন করেন। ট্রাইব্যুনাল তাকে বিষয়টি লিখিত আকারে দায়ের করার পরামর্শ দিলে  বৃহষ্পতিবার খন্দকার মাহবুব হোসেন এর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
খন্দকার মাহবুব হোসেন এর পরিচয় : খন্দকার মাহবুব হোসেন  বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়শেনর পরপর দুবার নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে তিনি সারা দেশের সকল আইনজীবীদের সংগঠন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান  এর দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার একজন উপদেষ্টা। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা বিরোধী এদেশীয় পাকিস্তানী সহযোগীদের বিচারের জন্য ১৯৭২ সালের দালাল আইনের অধীনে গঠিত ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর ছিলেন তিনি।
তাকে বাংলাদেশে শীর্ষ  ফৌজদারি আইনজীবী  হিসেবে গণ্য করা হয়। সর্বশেষ তিনি সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগে আব্দুল কাদের মোল্লার পক্ষে শুনানী পেশ করেছেন এবং মাওলানা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর পক্ষেও তাকে আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

আমার বক্তব্যে বিচারকদের সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি-খন্দকার মাহবুব


আদালত অবমাননার অভিযোগ বিষয়ে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, আমার বক্তব্যে বিচারকদের সম্পর্কে কিছু ছিলনা। কেননা বিচারক কোন মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেননা। তিনি থাকেন নিরপেক্ষ।

তার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক আদালত অবমাননার নোটিশ জারির পর দুপুরে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। লিখিত বক্তব্যে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, মামলার বাদী, বিবাদী এবং যারা সাক্ষ্য দেন তারাই মামলার সাথে সম্পৃক্ত থাকেন। বিচারক মামলার সাক্ষ্য প্রমান শুনে তা পর্যালোচনা করে রায় দেন। তার রায় বাদী পক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত সাক্ষ্য প্রমানের ওপর নির্ভর করে হয়ে থাকে।  আমাদের দন্ডবিধি আইনেও আদালতে মিথ্যা মামলা এবং মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া দন্ডনীয় অপরাধ। তাই ভবিষ্যতে যদি দেখা যায় মিথ্যা মামলা তৈরি করে এবং মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়ে ট্রাইব্যুনালে কাউকে সাজা দেওয়া হয়েছে তবে অবশ্যই তাদের বিচারের সম্মুখীন হতে হবে।

খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আমি ট্রাইব্যুনাল এবং বিচারকদের সম্পর্কে কোন মন্তব্য করিনাই। আমার বক্তব্য বিকৃত করে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। যদি আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয় বা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া হল তবে এর জন্য যারা দায়ী তাদের বিচার হওয়া উচিত কেনননা তা না হলে দেশে আইনের শাসন থাকবেনা এবং সাংবিধানিকভাবে কারো নিরাপত্তা থাকবেনা।
তিনি বলেন, আমরা বক্তব্য কারো প্রতি হুমকি নয়-বরং এটি একটি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও আইনগত বাধ্যবাধকতা।
লিখিত বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে প্রসিকিউশন এ অভিযোগ দায়ের করেছে।










বৃহস্পতিবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৩

খন্দকার মাহবুব হোসেন এর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ// রোববার আদেশ


মেহেদী হাসান, ৩/১০/২০১৩
 বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এর  ভাইস চেয়ারম্যান সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন এর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জেয়াদ আল মালুম  আজ সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার বিরুদ্ধে এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে কি-না সে সম্পর্কে রোববার আদেশের জন্য ধার্য্য করা হয়েছে।

গত ১ অক্টোবর সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদন্ডের রায় ঘোষনার পরপরই  জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার মাহবুব হোসেন ট্রাইব্যুনালের বিচারকে প্রহসনের বিচার আখ্যায়িত করে বলেছিলেন এই বিচারের সাথে জড়িতদেরও বিচার করা হবে জাতীয়তাবাদী শক্তি ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসলে। তার এ বক্তব্যকে আদালত অবমাননা আখ্যায়িত করে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ট্রাইব্যুনালে এ অভিযোগ দায়ের করল।

আদালত অবমাননার অভিযোগে কেন খন্দকার মাহবুব হোসেন এর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল আইনের অধীনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবেনা সে মর্মে নোটিশ জারির আবেদন করা হয়েছে রাষ্ট্রপক্ষের দরখাস্তে।

অভিযোগ দায়ের করার পর জেয়াদ আল মালুম এর প্রেক্ষাপট এবং যৌক্তিকতা তুলে ধরে ট্রাইব্যুনালকে বলেন, ট্রাইব্যুনালের এই বিচারের সাথে প্রধান বিচারপতি, সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের অন্যান্য বিচারপতি, ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী, তদন্ত সংস্থা, সাক্ষী এবং ক্ষতিগ্রস্তদের অসংখ্য পরিবার জড়িত। বিচারের এই পর্যায়ে খন্দকার মাহবুব হোসেন এ বিচারকে প্রহসনের বিচার আখ্যায়িত করে এবং বিচারের সাথে সম্পৃক্তদের বিচার করা হবে বক্তব্য দিয়ে সবাইকে হুমকি দিয়েছেন। তার এ বক্তব্য বিচারের প্রতি অবজ্ঞা, আদালত অবমাননা এবং আতঙ্ক সৃষ্টির শামিল। তার এ বক্তব্য ট্রাইব্যুনালের সমগ্র বিচার প্রকৃয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করা, হেয় প্রতিপন্ন করা এবং ন্যায় বিচারকে বাঁধাগ্রস্ত করার শামিল। কাজেই তার এ বক্তব্যের কারনে কেন তার বিরুদ্ধে আদালত অবমনানার অভিযোগে ব্যবস্থা গ্রহন  করা হবেনা সে মর্মে নোটিশ জারি করা হোক এবং এ বিষয়ে তার যদি কোন ব্যাখ্যা দেয়ার থাকে তাহলে আদালতে হাজির হয়ে সে ব্যাখ্যা দিতে বলা হোক।

খন্দকার মাহবুব হোসেন এর বক্তব্য প্রচারিত হয়েছে ২ অক্টোবরের এমন চারটি পত্রিকার পেপার কাটিং জমা দেয়া হয়েছে আবেদনের সাথে।  জেয়াদ আল মালুম আবেদনের পক্ষে বক্তব্য রাখার পর ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির বলেন, আগামী রোববার আদেশ দেয়া হবে এ বিষয়ে। এ সময় অপর দুই সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক উপস্থিত ছিলেন।

প্রহসনের বিচারের সাথে সম্পৃক্তদেরও বিচার করা হবে মর্মে ১ অক্টোবরের  খন্দকার মাহবুব হোসেন  বক্তব্য প্রদানের পর ২ অক্টোবার অ্যাটর্নি জেনারেল সর্বপ্রথম আপিল বিভাগের নজরে আনেন বিষয়টি। মাওলানা সাঈদীর আপিল আদেন শুনানীর লক্ষ্যে গঠিত প্রধান বিচারপতি মো : মোজাম্মেল হোসেন এর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ এর কার্যক্রম সকালে শুরু হলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এ বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। আপিল বিভাগের বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা এসময় যথাযথ স্থানে এ বিষয়টি উত্থাপনের পরামর্শ দেন। 
এরপর সকাল সাড়ে দশটার দিকে ট্রাইব্যুনাল -১ এর কার্যক্রম শুরু হলে চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু মৌখিকভাবে বিষয়টি উত্থাপন করেন। ট্রাইব্যুনাল তাকে বিষয়টি লিখিত আকারে দায়ের করার পরামর্শ দিলে আজ খন্দকার মাহবুব হোসেন এর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।