নিজামী : আর্গুমেন্ট লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
নিজামী : আর্গুমেন্ট লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১৪

নিজামীর মৃত্যুদণ্ড

মেহেদী হাসান, ২৯/১০/২০১৪
জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। চারটি অভিযোগের প্রতিটিতে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর আরো চারটি অভিযোগের প্রত্যেকটিতে মাওলানা নিজামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের লক্ষ্যে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১  আজ  তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদন্ডের এ রায় ঘোষনা করেন।

মুক্তিযুদ্ধকালে বুদ্ধিজীবী হত্যা, গনহত্যা, হত্যা,  ধর্ষণ ও মানবতাবিরোধী  অপরাধের নির্দেষদাতা, পরিকল্পনা,  ষড়যন্ত্র এবং  উর্দ্ধতন নেতৃত্বের দায়ে (সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি) মাওলানা নিজামীকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে মাওলানা নিজামী তৎকালীন ইসলামী ছাত্রসংঘ এবং আলবদর বাহিনীর প্রধান ছিলেন। আলবদর বাহিনী একটি অপরাধী সংগঠন এবং এ বাহিনী কর্তৃক বুুদ্ধিজীবী হত্যায়  মাওলানা নিজামীর নৈতিক সমর্থন ছিল। ইসলামী ছাত্রসংঘ এবং     বদর বাহিনীর প্রধান হিসেবে এসব সংগঠনের সদস্যদের ওপর তার নিয়ন্ত্রন ছিল। কাজেই উর্দ্ধতন নেতা হিসেবে মানবতাবিরোধী এসব  অপরাধের দায় তিনি এড়াতে পারেননা।  

মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে মোট ১৬টি অভিযোগে চার্জ গঠন হয়েছিল। এর মধ্যে আটটি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। অপর আটটি অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেয়া হয়েছে।

২০১২ সালের ২৮ মে বিচার শুরুর পর আড়াই বছরের মাথায় ট্রাইব্যুনালের অন্যতম আলোচিত এ মামলার রায় দেয়া হল। রায় ঘোষনা উপলক্ষে দেশী বিদেশী বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক, আইনজীবী, এবং বিভিন্ন শ্রেনিপেশার লোকজন  জড়ো হন ট্রাইব্যুনালে। সকাল ১১টা পাঁচ মিনিটের সময় জনাকীর্ণ ট্রাইব্যুনলে রায় ঘোষনা শুরু হয়। রায় প্রদান উপলক্ষে সুপ্রীম কোর্ট এলাকা এবং ট্রাইব্যুালের আশপাশে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

মৃত্যুদন্ডের চার অভিযোগ :
মাওলানা নিজামীকে ২, ৪, ৬ এবং ১৬ নং অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে।
দুই  নং অভিযোগে বলা হয়েছে ১৯৭১ সালের  ১০ মে বেলা ১১টার দিকে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার বাউশগাড়ি গ্রামের  রূপসী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শান্তি কমিটি এবং রাজাকার বাহিনীর সদস্যরা অংশগ্রহণ করে। মাওলানা নিজামী সেখানে বক্তব্য রাখেন। ওই সভার পরিকল্পনা অনুসারে  বাউশগাড়ি এবং রূপসী  গ্রামে পাকিস্তান আর্মি অভিযান চালিয়ে প্রায় সাড়ে ৪০০ মানুষ হত্যা ৪০ জনের মত নারী ধর্ষণ করা হয়। এ গনহত্যা বিষয়ে ষড়যন্ত্র এবং পরিকল্পনার অভিযোগ আনা হয়েছে মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে।

চতুর্থ অভিযোগ হল হত্যা ধর্ষণ এবং দেশান্তরকরন বিষয়ক। এতে বলা হয়েছে পাবনার করমজা গ্রামে মাওলানা  নিজামীর নির্দেশনা ও পরিকল্পনায় হাবিবুর রহমান নামে একজনকে হত্যা করা হয়। ৮ মে রাজাকার ও আলবদর বাহিনী করমজা গ্রাম ঘিরে ফেলে  মেঘা ঠাকুর, ষষ্ঠি হালদার, শান্তি হালদার, ফকির চাঁদসহ ৯ জন হিন্দুকে  হত্যা, মেঘা ঠাকুরের মেয়ে এবং আরেক ব্যক্তির স্ত্রীকে ধর্ষণ এবং বাড়িঘরে আগুন দেয়া হয়। মাওলানা নিজামীর র্নিদেশে রাজকার ও আলবদর বাহিনীর সদস্যরা মানবতাবিরোধী এ অপরাধ করেছে। 

ষষ্ঠ অভিযোগে বলা হয়েছে, মাওলানা  নিজামীর নির্দেশে ২৭ নভেম্বর পাবনার ধুলাউড়ি গ্রামে  মুক্তিযোদ্ধাদের খুঁজতে অভিযান চালায় রাজাকার ও পাকিস্তানি সেনারা। এসময় ২৬ জন নিরস্ত্র নারী পুরুষকে হত্যা করা হয়।

১৬ নম্বর অভিযোগে বলা হয়েছে, একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের ঊষালগ্নে অসংখ্য বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করে আলবদর বাহিনী । তৎকালীন ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘ ও আলবদর বাহিনীর প্রধান  হিসেবে  মাওলানা নিজামী এ  গণহত্যার দায় এড়াতে পারেননা এবং এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। 

যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত চার অভিযোগ :
যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত চারটি অভিযোগ হল ১, ৩, ৭ এবং ৮।
১ নং অভিযোগে বলা হয়েছে  ১৯৭১ সালের ৪ জুন পাবনা জিলা স্কুলের প্রধান শিক মাওলানা কছিমুদ্দিনকে পাকিস্তানী সেনারা অপহরন করে । মাওলানা নিজামীর উপস্থিতিতে ১০ জুন ইছামতি নদীর পাড়ে কছিমউদ্দিনসহ আরো দুইজনকে হত্যা করা হয়।

তৃতীয় অভিযোগে হল হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন এবং ষড়যন্ত্র বিষয়ক। এতে বলা হয়েছে  ১৯৭১ সালের মে মাসের শুরু থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোহাম্মদপুরের ফিজিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে পাকিস্তানি সেনাদের ক্যাম্প ছিল। রাজাকার ও আলবদর বাহিনীও সেখানে ক্যাম্প স্থাপন করে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাতে থাকে। মাওলানা নিজামী ওই ক্যাম্পে নিয়মিত যাতায়াত ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র করতেন।

সপ্তম অভিযোগে বলা হয়েছে, ৩ নভেম্বর মধ্যরাতে নিজামীর তথ্যমতে পাকিস্তানি বাহিনী পাবনার বৃশালিখা গ্রাম  ঘিরে ফেলে সোহরাব আলীকে আটক করে তার স্ত্রী ও সন্তানদের সামনে হত্যা করে। এ ঘটনায় মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে নির্যাতন  এবং হত্যার দায় আনা হয়েছে। 

অষ্টম অভিযোগে বলা হয়েছে, ৩০ আগস্ট মাওলানা নিজামী নাখালপাড়ার পুরোনো এমপি হোস্টেলে গিয়ে সেখানে আটক রুমী, বদি ও জয়েল  হত্যার জন্য পাকিস্তানি সেনাদের প্ররোচনা  দেন।


মাওলানা নিজামীকে মন্ত্রী বানানো লজ্জার :
রায় ঘোষনার সময় রায়ের পর্যবেক্ষনে ট্রাইব্যুনাল বলেছেন মাওলানা নিজামীকে তৎকালীন সরকারের সময় মন্ত্রী করা হয়েছিল। এটা ছিল একটা ভুল এবং দেশের জন্য লজ্জা ও কলঙ্কের। মুক্তিযুদ্দে ৩০ লক্ষ লোক শহীদ হয়েছেন। মাওলানা নিজামী মনে প্রানে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী ছিলেন। জাময়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রসংঘ এবং আলবদর বাহিনীর সদস্যরা স্বাধীনতাযুদ্ধকালে হত্যা, ধর্ষণ এবং নির্যতান করেছে মানুষের ওপর। তারা কখনো মুক্তিযোদ্ধা শব্দটি উচ্চারন করেনি। মুক্তিযোদ্ধাদের তারা দুষ্কৃতকারী বলেছে। পাকিস্তানকে আল্লাহর ঘর বলেছে। হিন্দুদের মুসলমানদের এবং পাকিস্তানের শত্রু আখ্যায়িত করেছে। ইসলামের নামে তারা ভয়ঙ্কর সব অপরাধ করেছে। রাজনীতিতে ধর্মের অপব্যবহার করেছে ১৯৭১ সালে।

উর্দ্ধতন নেতৃত্বের দায় :
রায় ঘোষনার সময় মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে উর্দ্ধতন নেতৃত্বের দায় বা সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি বিষয়ে তুলে ধরেন  ট্রাইব্যুনাল। এসময় রায় থেকে ‘১৯৭১ সালে মাওলানা নিজামীর অবস্থান এবং ভূমিকা’ শীর্ষক অধ্যায় পড়ে শোনান ট্রাইব্যুনাল। এতে ট্রাইব্যুনাল বলেন, মাওলানা নিজামী তৎকালীন ইসলামী ছাত্রসংঘ এবং আলবদর বাহিনীর প্রধান ছিলেন। তিনি ১৯৬৭ থেকে ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ইসলামী ছাত্রসংঘের প্রধান ছিলেন। আলবদর বাহিনী একটি ক্রিমিনাল সংগঠন। ইসলামী ছাত্রসংঘ, আলবদর এবং জামায়াতে ইসলামীর সদস্যরা হত্যা, ধর্ষণ নির্যাতন সংঘটিত করেছে। মাওলানা নিজামী আলবদর বাহিনীর প্রধান হিসেবে এ বাহিনীর কর্মকান্ডের দায় এড়াতে পারেননা। ১৯৭১ সালে ইসলামী ছাত্রসংঘ এবং বদরবাহিনীর প্রধান হিসেবে মাওলানা নিজামী উর্দ্ধতন নেতৃত্বের দায়ে অভিযুক্ত এবং এটা শাস্তিযোগ্য।  আলবদর বাহিনী কর্তৃক বুদ্ধিজীবী  হত্যা বিষয়ে মাওলানা নিজামীর নৈতিক সমর্থন এবং উসকানি ছিল। ছাত্রসংঘ এবং বদরবাহিনীর হাইকমান্ড হিসেবে এ বাহিনীর সদস্যদের ওপর, অধীনস্ততের ওপর মাওলানা নিজামীর কার্যকরী নিয়ন্ত্রন ছিল। কাজেই এদের অপরাধের দায় তিনি এড়াতে পারেননা। অধীনস্তদের ওপর নিয়ন্ত্রনের ক্ষমতা হিসেবে ১৬ নং অভিযোগ যথা বুদ্ধিজীবী হত্যার ঘটনা তিনি ঠেকাতে পারতেনা কিন্তু প্রতিরোধ করেননি। একইভাবে মোহাম্মদপুরে ফিজিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে গড়ে তোলা নির্যাতন কেন্দ্রে তার সংগঠনের সদস্যদের দ্বারা সংঘটিত  অপরাধও তিনিি প্রতিরোধ করেননি। কাজেই তিনি উর্দ্ধতন নেতত্বের দায়ে দোষী ।

ট্রাইব্যুনালের এ পর্যবেক্ষন বিষয়ে মাওলানা নিজামীর পক্ষে আইনজীবী তাজুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালের সামনে সাংবাদিকদের বলেন, ট্রাইব্যুনালের দায়িত্ব ছিল  ১৯৭১ সালে মাওলানা নিজামী কোন অপরাধের সাথে জড়িত ছিল কি-না তার বিচার করা। কিন্তু মাওলানা নিজামীকে মন্ত্রী হওয়া বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল যে মন্তব্য করেছেন তার মাধ্যমে তারা তাদের ক্ষমতা এবং এখতিয়ারের বাইরে বিচরন করেছেন। মাওলানা নিজামী জনগনের ভোটে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় তিনি মন্ত্রী হয়েছেন। কাজেই তার মন্ত্রী হওয়ার বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল যে মন্তব্য করলেন তার মাধ্যমে আসলে জনগনের রায়কে অস্বীকার করলেন। এর মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালের আবেগতাড়িত হওয়ার প্রমান মিলেছে এবং এ কারনে এ রায় বাতিল হওয়া উচিত ।

অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, ট্রাইব্যুনালই তার রায়ে বলেছেন, মাওলানা নিজামী ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ছাত্রসংঘের সভাপতি ছিলেন। কাজেই ডিসেম্বর মাসে সংঘটিত বুদ্ধিজীবী হত্যার দায় তার ওপর আসে কিভাবে।
চেয়ারম্যান বিচারপতি ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে রায় ঘোষনা করেন। অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক।
রায় ঘোষনার শুরুতে চেয়ারম্যান বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম বলেন, রায় ঘোষনার বিলম্ব নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে বিভিন্ন কথা উঠেছে। । সেসবের জবাব দেয়ার সুযোগ আমাদের নেই। কারণ আমরা রাস্তায় গিয়ে কথা বলতে পারিনা। তিনি বলেন, আমাদের ওপর কারো নির্দেশ নেই। আমরা সংবিধান এবং আইনের নির্দেশ মেনে কাজ করি। তিনি বলেন, এর আগে এ ট্রাইব্যুনাল থেকে প্রদত্ত তিনটি রায় দেয়া হয়েছে এবং  সংক্ষিপ্ত  রায় পড়ে শোনানো হয়েছে। মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে রায়টি ২০৪ পৃষ্ঠার। সংক্ষিপ্ত রায় তৈরি করা হয়নি। আমরা এখানে আমাদের পর্যবেক্ষন, অভিযোগ এবং রায় অংশ পড়ে শোনাব।
এরপর তিনজন বিচারপতি পালাক্রমে রায় থেকে পড়ে শোনান।

খালাস পাওয়া আট অভিযোগ :
খালাস পাওয়া আটটি অভিযোগ হল উসকানি বিষয়ক। এগুলো হল ১১, ১২, ১৩ এবং ১৪ নং অভিযোগ। এসব অভিযোগে বলা হয়েছে মাওলানা নিজামী মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে সমাবেশে বক্তব্য দিয়ে ইসলামী ছাত্রসংঘ, রাজাকার এবং মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী লোকজনকে নানাভাবে উসকানি এবং প্ররোচনা দিয়েছেন স্বাধীনতা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে।
 এছাড়া খালাস পাওয়া অপর চারটি অভিযোগ হল ৫,  ৯, ১০, এবং ১৫ নং অভিযোগ।
 ৫ নং অভিযোগ তথা ঈশ্বরদী হত্যাকান্ড বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ কোন সাক্ষী হাজির করেনি।
নবম অভিযোগ হল  বৃশালিখা গ্রামে  ৭০ জনকে হত্যা ও ৭২টি ঘরে অগ্নিসংযোগ, দশম অভিযোগ হল মুক্তিযোদ্ধা অনিলের বাড়িতে আগুন দেয়া, ১৫ নং অভিযোগ হল পাবনার সাথিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থাপিত রাজাকার ক্যাম্পে গিয়ে মাওলানা নিজামী কর্তৃক মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী ষড়যন্ত্র করা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের পরিকল্পনা করার অভিযোগ।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরন:
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগ সংক্রান্ত  মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুন মতিউর রহমান নিজামীকে জাতীয় প্রেসকাবের সামনে থেকে গ্রেফতার  করা হয়। পরে একই বছরের ২ আগস্ট তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার দেখানো হয়।

মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে হত্যা, গনহত্যা, অগ্নিসংযোগ, স্বাধীনতাবিরোধী বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডের জন্য উসকানি, পরিকল্পনা, ষড়যন্ত্র  এবং বৃদ্ধিজীবী হত্যাসহ মোট  ১৬টি অভিযোগে চার্জ গঠন করা হয় ২০১২ সালের ২৮ মে। 

গত বছর ১৩ নভেম্বর এ মামলার বিচার কার্যক্রম শেষে রায়ের তারিখ অপেক্ষমান ঘোষনা করেন ট্রাইব্যুাল। কিন্তু রায় ঘোষনার আগে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বদল হওয়ায় পুনরায় যুক্তি উপস্থাপন করা হয় এবং গত ২৪ মার্চ দ্বিতীয় দফায় মামলার  রায় অপেক্ষমান ঘোষনা করা হয়।

গত ২৪ জুন মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে মামলার রায় ঘোষনার জন্য ধার্য্য করা হয়েছিল। মাওলানা নিজামী অসুস্থ থাকায়  তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে না পারায় ওইদিন রায় ঘোষনা থেকে বিরত থাকে ট্রাইব্যুনাল।

মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ মোট ৬৭ জন সাক্ষীর তালিকা দেয়। এখান থেকে ২৬ জনকে হাজির করে তারা। অপরদিকে আসামী পক্ষ ১০ হাজার ১১১ জন সাক্ষীর তালিকা দেয়। আসামী পক্ষে চারজন সাক্ষী  নির্ধারন করে দেয় ট্রাইব্যুনাল এবং তারা চারজন সাক্ষী হাজির করে।

মাওলানা নিজামীর পক্ষে এ মামলায় আইনজীবী হিসেবে বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালন করেছেন ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক, অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম, তাজুল ইসলাম, অ্যাডভোকেম মনজুর আহমদ আনসারী, ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন, অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট আসাদ উদ্দিন প্রমুখ।
রাষ্ট্রপক্ষে চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু, প্রসিকিউটর হায়দার আলী, প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলী,  প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ প্রমুখ দায়িত্ব পালন করেন এ মামলায়।






বুধবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৩

মাওলানা নিজামীর মামলায় যুক্তি উপস্থাপন শেষ

মেহেদী হাসান, ২০/১/২০১৩
জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মামলায় উভয় পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়েছে। এর মাধ্যমে শেষ হল এ মামলার সমস্ত বিচার কার্যক্রম। যেকোনদিন ঘোষনা করা হবে রায়।

আজ দিনব্যাপী যুক্তি পেশ করে রাষ্ট্রপক্ষ। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে প্রথমে রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তি পেশ করে এ মামলায়। পরে আসামী পক্ষ যুক্তি উপস্থাপন করে । গত মঙ্গলবার আসামী পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়। আজ রাষ্ট্রপক্ষ আসামী পক্ষের  উপস্থাপিত যুক্তির পাল্টা জবাব দেয় । রাষ্ট্রপক্ষে আজ  সৈয়দ হায়দার আলী, মোহাম্মদ আলী এবং ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ যুক্তি পেশ করেন।

আজ সকালে রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তি উপস্থাপন শুরু করে। চারটা ৩৫ মিনিটের সময় শেষ হয় যুক্তি উপস্থাপন। এরপর আসামী পক্ষে অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালকে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তি উপস্থাপনের সময় বিভিন্ন দেশের বিচারের রায় রেফারেন্স আকারে পেশ করেছে। এসব রায়কে তারা ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে, ভুল ব্যাখ্যা করেছে। এর মাধ্যমে তারা আদালতকে বিভ্রান্ত করেছে। আমরা  তাদের পেশ করা রায় থেকে দেখাতে পারব যে তারা কিভাবে এসব রায়কে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে উদাহরন হিসেবে। আইনী যুক্তি  উপস্থাপনের নামে তারা কূটতর্ক করেছে, কুযক্তি দেখিয়েছে ।  আলী আহাসন মোহাম্মদ মুজাহিদ এর মামলায় আসামী পক্ষ যে ডকুমেন্ট জমা দিয়েছে তা তারা এ মামলায় পেশ করেছে ডকুমেন্ট আকারে।
তাজুল ইসলাম বলেন, এসবের জবাব দেয়া দরকার আমাদের। এজন্য কমপক্ষে দুই ঘন্টা সময় দরকার। তবে আদালত এ আবেদন গ্রহণ করেনি।

গত ১৩ নভেম্বর মাওলানা নিজামীর মামলার রায় অপেক্ষমান ঘোষনা করা হয়। হরতালের কারনে আসামী পক্ষের সিনিয়র আইনজীবীরা পরপর চারদিন ট্রাইব্যুনালে  না আসায় তাদের যুক্তি উপস্থাপন অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম বন্ধ ঘোষনা করে ওই দিন রায় অপেক্ষমান ঘোষনা করে ট্রাইব্যুনাল। আসামী পক্ষ অসমাপ্ত যুক্তি উপস্থাপনের সুযোগ চেয়ে আদেশ পুনরায় বিবেচনার আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল তা গ্রহণ করে এবং গত রোববার থেকে  যুক্তি উপস্থাপন ফের শুরু হয়।

যুক্তি উপস্থাপন শেষে ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ আসামীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে সাংবাদিকদের বলেন, আমরা তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রমান উপস্থাপন করে অভিযোগ প্রমানে সক্ষম হয়েছি।
অপরদিকে অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালের সামনে অপক্ষেমান সাংবাদিকদের বলেন, মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে অভিযোগের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষ কোন বিশ্বাযোগ্য ডকুমেন্ট হাজির করতে পারেনি। যেসব সাক্ষ্য প্রমান তারা হাজির করেছে তাতে মাওলানা নিজামীকে একমিনিটিও সাজা দেয়ার সুযোগ নেই। আমরা আশা করছি তিনি অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাবেন।

গত বছর ২৮ মে মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে হত্যা, গনহত্যা, অগ্নিসংযোগ, স্বাধীনতাবিরোধী বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডের জন্য উসকানি, পরিকল্পনা, ষড়যন্ত্র  এবং বৃদ্ধিজীবী হত্যাসহ মোট  ১৬টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে চার্জ গঠন করা হয়।

মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে তদন্ত সংস্থার তদন্ত প্রতিবেদনে বুদ্ধিজীবী হত্যার অভিযোগ ছিলনা। রাষ্ট্রপক্ষ তার বিরুদ্ধে ১৬টি অভিযোগে ফরমাল চার্জ দাখিল করে। এই ১৬টি অভিযোগের মধ্যে  বুদ্ধিজীবী হত্যা বিষয়ে আলাদা কোন অভিযোগ ছিলনা। তবে ট্রাইব্যুনাল চার্জ গঠনের সময় বুদ্ধিজীবী হত্যাকে আলাদা একটি অভিযোগ হিসেবে গন্য করে চার্জ গঠন করে।

মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ  একজন তদন্ত কর্মকর্তা এবং ২ জন জব্দ তালিকার সাক্ষীসহ  মোট ২৬ জন সাক্ষী হাজির করে। এর মধ্যে সপ্তম সাক্ষী প্রদীপ কুমার দেব নামে একজন সাক্ষীকে রাষ্ট্রপক্ষ বৈরি ঘোষনা করে। কারণ সে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেয়ার সময় মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করেনি এবং মাওলানা নিজামীর নামও উচ্চারন করেনি।
অপরদিকে মাওলানা নিজামীর পক্ষে তার ছেলেসহ মোট চারজন সাক্ষী হাজির করা হয়। ট্রাইব্যুনাল আসামী পক্ষে মোট চারজন সাক্ষীর সংখ্যা নির্ধারন করে দিয়েছিল।
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়া সংক্রান্ত একটি মামলায় মাওলানা নিজামীকে ২০১০ সালের ২৯ জুন জাতীয় প্রেসকাব চত্বর থেকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর একই বছর ২ আগস্ট তাকে ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার দেখানো হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির, সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে অন্যান্যের মধ্যে  চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু, আসামী পক্ষে  অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম, তাজুল ইসলাম, নাজিব মোমেন, তারিকুল ইসলাম, আসাদ উদ্দিন, হাসানুল বান্না সোহাগ এবং আমিনুল হক বাপ্পি অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।



মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৩

মাওলানা নিজামী চারদলের বদলে মহাজোটের মন্ত্রী হলে মহাসুখে থাকতেন ///ব্যারিস্টার রাজ্জাকের যুক্তি পেশ

মেহেদী হাসান, ১৯/১১/২০১৩
জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মামলায় আসামী পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়েছে। আজ শেষ দিন যুক্তি পেশ করেন আসামী পক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী যদি চারদলের বদলে মহাজোটের  দলের মন্ত্রী হতেন তাহলে তিনি মহান নেতা হয়ে আজ মহাসুখে থাকতে পারতেন। তাকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে আজ আসামীর কাঠগড়ায় থাকতে হতনা।
মাওলানা নিজামীকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, যুদ্ধাপরাধ নয়  মাওলানা নিজামীর ক্যারিয়ার ধ্বংসের জন্য এটি বেশ ভাল একটি মামলা। 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মাওলানা নিজামীর বিচার চলছে। মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে হত্যা, গনহত্যা, ষড়যন্ত্র, পরিকল্পনাসহ মানবতাবিরোধী ১৬টি অভিযোগ আনা হয়েছে।  সবগুলো অভিযোগের সাথেই সুরিরিয়র কমান্ড রেসপনিসিবিলিটি বা উর্দ্ধতন নেতৃত্বের দায় এবং জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজ (জেসিইি) বা যৌথ অপরাধ সংঘটনের দায় চাপানো হয়েছে। ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক উর্দ্ধতন নেতৃত্বের দায় এবং যৌথ অপরাধের অভিযোগ খন্ডন করে যুক্তি পেশ করেন আজ । এসময় তিনি বিশ্বের বিভিন্ন মামলার রেফারেন্স পেশ করেন এবং তা জমা দেন  ট্রাইব্যুনালে।

উর্দ্ধতন নেতৃত্বের দায় বিষয়ে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন,  এ অভিযোগে কাউকে অভিযুক্ত করতে হলে প্রমান করতে হবে যারা অপরাধ করেছে তাদের উপর মাওলানা নিজামীর  নিয়ন্ত্রন এবং কর্তৃত্ব ছিল।  পাকিস্তান আর্মির ওপর কি কারো নিয়ন্ত্রন ছিল? এমনকি ড. মালেক সরকারের কি কোন নিয়ন্ত্রন ছিল পাকিস্তান আর্মির ওপর? তাদের ওপর মাওলানা নিজামীর কি করে নিয়ন্ত্রন থাকতে পারে? তাদের ওপর মাওলানা নিজামীর নিয়ন্ত্রন এবং কর্তৃত্ব ছিল তার কোন প্রমান নেই রাষ্ট্রপক্ষের কোন ডকুমেন্টে। যদি ধরেও নেয়া হয় যে, মাওলানা নিজামী আলবদর বাহিনীর  কমান্ডার ছিল তাহলেও প্রমান কোথায় যে, তার নিয়ন্ত্রনে এবং নির্দেশে অমুক অমুক বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করা হয়েছে? যারা বুদ্ধিজীবী হত্যার সাথে জড়িত ছিল তাদের ওপর মাওলানা নিজামীর কার্যকর নিয়ন্ত্রন এবং কর্তৃত্ব ছিল এরকম কোন প্রমান তো নেই। প্রমান ছাড়া যদি আপনারা তাকে দোষী সাব্যস্ত করতে চান করতে পারেন। সে ক্ষমতা আপনাদের আছে। কিন্তু অবিচারেরও তো একটি সীমা আছে।

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আলবদর বাহিনী গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ যে ডকুমেন্ট জমা দিয়েছে তাতেই ভিন্ন ভিন্ন এবং পরষ্পরবিরোধী তথ্য রয়েছে। যেমন রাষ্ট্রপক্ষ সেলিম মনসুর খান রচিত ‘আলবদর’ নামে একটি বই জমা দিয়েছে এবং আদালতে তা প্রদর্শন করেছে। এ বইয়ে কোথাও মাওলানা নিজামীকে আলবদর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।
রাষ্ট্রপক্ষের আরেকটি ডকুমেন্ট (প্রদর্শীনী ৩৫) এ বলা হয়েছে শর্ষিণা পীরের নেতৃত্বে আলবদর এবং রাজাকার বাহিনী গঠিত হয়েছে।
তাদের আরেকটি ডকুমেন্ট এ বলা হয়েছে কামরান নামে একজন ছিলেন আলবদর কমান্ডার। তাহলে দেখা যাচ্ছে রাষ্ট্রপক্ষের ডকুমেন্টই রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ নাকচ করছে। এই ডকুমেন্ট এর ওপর ভিত্তি করে আসামীকে কি সাজা দেয়া যায়?
এসময় ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ নিজামী সাহেব ছাত্রসংঘের প্রধান ছিলেন। ছাত্রসংঘের লোকজনই আলবদ বাহিনীর সদস্য ছিল। কাজেই তিনি ছাত্রসংঘের সভাপিত হিসেবে আলবদর বাহিনীর প্রধান ছিলেন। এর জবাব কি?

এর জবাবে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, যুক্তিবিদ্যা তত্ত্ব অনুযায়ী এভাবে মিলিয়ে অনেক কিছু বলা যায়। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি ছাত্রসংঘের সভাপতি সে কারনেই তিনি আলবদর বাহিনীর প্রধান হয়ে যাবেন? আলবদর বাহিনী ছিল একটি প্যারামিলিটারি।  কিন্তু  তদন্ত কর্মকর্তা বলেছেন, মাওলানা নিজামী মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময় একজন বেসামরিক ব্যক্তি ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষ যেসব ডকুমেন্ট জমা দিয়েছে তাতে কোথাও প্রমান নেই যে, মাওলানা নিজামী আলবদর প্রধান ছিলেন। ১৯৭১ সালের যেসকল গোয়েন্দা রিপোর্ট আছে তার কোথাও মাওলানা নিজামীকে আলবদর হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। সবজায়গায় লেখা আছে ছাত্রসংঘ প্রধান। তিনি আলবদর কমান্ডার হলে নিশ্চয়ই  সসময়কার গোয়েন্দা রিপোর্টে তার উল্লেখ থাকত। রাষ্ট্রপক্ষ সংগ্রামের যেসব পেপারকাটিং জমা দিয়েছে তার সব জায়গায় মতিউর রহমান নিজামীর পরিচয় লেখা আছে  ছাত্রসংঘ নেতা। কোথাও আলবদর নেতা উল্লেখ নেই। আর একথা স্বয়ং তদন্ত কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন জেরায়। এরপরও তাকে আলবদর কমান্ডার বলা যাবে?

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ পাবনা জেলার মুক্তিযুদ্ধের কথা নামে একটি বই জমা দিয়েছে। এই বয়ের ৫৮ পৃষ্ঠায় অধ্যাপক আবু সায়ীদ তার একটি লেখায় মাওলানা নিজামীকে আলবদর বলে উল্লেখ করেছেন। আর আবু সায়ীদ এর লেখাটি ছাপা হয়েছিল জনকন্ঠে। সেখান থেকে তুলে দেয়া হয়েছে বইয়ে। বইটি প্রকাশিত হয়েছে ২০০৯ সালে। আরো মজার বিষয় হল আবু সায়ীদ সংগ্রামের একটি খবরের উদ্ধৃতি করে মাওলানা নিজামীকে আলবদর হিসেবে উল্লেখ করেছেন তার লেখায়। কিন্তু তিনি সংগ্রামের যে খবরটিকে রেফার করেছেন সেই খবরটিতে কোথাও মাওলানা নিজামীকে আলবদর নেতা বলা হয়নি। রাষ্ট্রপক্ষের এই ধরনের কাহিনী এবং ডকুমেন্ট কি আপনারা বিশ্বাস করবেন?

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তার বিরুদ্ধে বুদ্ধিজীবী হত্যাসহ ১৯৭১ সালের ঘটনা বিষয়ে এত বড় অভিযোগ আনা হল। কিন্তু স্বাধীনতার ৪০ বছর পরও কেউ কোনদিন তার বিরুদ্ধে দালাল আইনেও এসব অভিযোগে একটি মামলা করেনি কেন?
আমাদের দাবি  মাওলানা নিজামী সম্পূর্ণ নির্দোষ। আশা করছি আপনরা ন্যায়বিচার করবেন এবং তিনি খালাস পাবেন।

যৌথ অপরাধের দায় খন্ডন করে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কয়েকজন মিলে কোন অপরাধ করলে এবং সেখানে নিছক কোন ব্যক্তি উপস্থিত থাকলেই তার ওপর দায় চাপানো যায়না। কারো বিরুদ্ধে দায় চাপাতে হলে প্রমান করতে হবে যে, অপরাধটি সংঘটনের পরিকল্পনা, ষড়যন্ত্র এবং বাস্তবায়নের সময় অন্যান্যের সাথে সেও জড়িত ছিল। কিন্তু মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে  অভিযোগের পক্ষে সাক্ষীরা যে সাক্ষ্য দিয়েছেন তাতে দেখা যায় মাওলানা নিজামী নিছক ঘটনাস্থলে বা আর্মির সাথে উপস্থিত ছিলেন। তারা তাকে আর্মির সাথে গাড়িতে বা কোন কোন সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত দেখেছেন। কিন্তু নিছক উপস্থিতির কারনে একজনের বিরুদ্ধে যৌথ অপরাধের দায় চাপানো যায়না। অপরাধটি সংঘটনের ক্ষেত্রে পরিকল্পনা, অংশগ্রহণ এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে  আসামীর সংশ্লিষ্টতা কোন পর্যায়ে তা নির্দিষ্ট করে বলতে হবে।  তাছাড়া সাক্ষীদের বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্নতো আছেই।

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, চার্জ ফ্রেম যেভাবে হয়েছে তাতে তার বিরুদ্ধে যৌথ অপরাধের অভিযোগ নেই। নির্দিষ্ট করে এ বিষয়ে কোন কিছু উল্লেখ করা হয়নি। সবগুলো অভিযোগের সাথে এ অভিযোগের ধারা যুক্ত করা হয়েছে মাত্র। কাজেই দেখা যাচ্ছে গোড়ায় গলদ রয়ে গেছে। চার্জে যদি নির্দিষ্ট কোন অভিযোগ না থাকে তাহলে তা প্রমানেরও প্রশ্ন আসেনা রাষ্ট্রপক্ষের। ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ১৬টি অভিযোগের যেখানেই যৌথ অপরাধের দায় আছে তার কোনটিতেই রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমান করতে পারেনি।

যুক্তি উপস্থাপনের সময় অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিক, ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন, অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট আসাদ উদ্দিন, অ্যাডভোকেট আমিনুল হক বাপ্পি প্রমুখ উপস্থতি ছিলেন।

আসামী পক্ষের যুক্ত খন্ডন করে আগামীকাল রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি পেশ করার কথা রয়েছে। এরপর শেষ হবে মামলার কার্যক্রম।




সোমবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৩

যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হলে সে তখন তৃতীয় শ্রেণির নাগরিক -ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান

মেহেদী হাসান, ১৮/১১/২০১৩
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির বলেছেন কারো বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হলে সে তখন তৃতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হয়।  কারণ হিসেবে তিনি  বলেন, সংবিধানে ন্যায় বিচার এবং মৌলিক মানবাধিকার সংক্রান্ত কিছু ধারা তাদের বিচারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।  কাজেই তৃতীয় শ্রেণির নাগরিকের জন্য আপনারা প্রথম শ্রেনির নাগরিকের সুবিধা আশা করবেন কিভাবে।

জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মামলায় যুক্তি উপস্থাপনের সময় তিনি একথা বলেন আজ। মাওলানা নিজামীর পক্ষে অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম যুক্তি উপস্থাপনের শেষ পর্যায়ে ট্রাইব্যুনালের বিচারকের উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা আইন অনুযায়ী ন্যায় বিচার করতে বাধ্য। অপরদিকে আপনারা বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন সংবিধান এবং আইন সমুন্নত রাখার জন্য।  শপথ এবং সংবিধান রক্ষা করতে গেলে আপনারা এখানে ন্যায় বিচার করতে পারবেননা। আবার আইন অনুযায়ী ন্যায় বিচার করলে সংবিধান লঙ্ঘন হবে।

এসময় ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক বলেন, কথাটা বুঝলামনা মিজান সাহেব। একটু খুলে বলেন।
মিজানুল ইসলাম তখন ট্রাইব্যুনাল আইনের একটি ধারা পড়ে শুনিয়ে বলেন, এখানে আপনাদেরকে ন্যায় বিচার করার কথা বলা হয়েছে। অপরদিকে  সংবিধানের ৩৫ (৩)  অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে “ফৌজদারী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তি আইনের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আদালত বা ট্রাইব্যুনালে দ্রুত  ও প্রকাশ্য বিচারলাভের অধিকারী হইবেন।”

কিন্তু যুদ্ধাপরাধ বিচারের জন্য প্রণীত আইনকে সুরক্ষা প্রদানের জন্য বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে এবং সেখানে ৪৭ক ও ৪৭ (৩) নামে দুটি ধারা সংযোজন করা হয়েছে। এ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের  ৩৫ (৩) ধারাটি অকার্যকর ঘোষনা করা হয়েছে  ট্রাইব্যুনালের বিচারের ক্ষেত্রে।  এছাড়া বাংলাদেশের নাগরিকরদের জন্য বিদ্যমান কয়েকটি মৌলিক মানবাধিকার  ধারাও অকর্যকর করা হয়েছে এ বিচারের ক্ষেত্রে।
মিজানুল ইসলাম বলেন, সংবিধানের ৩৫ (৩) ধারায় প্রকাশ্য ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ট্রাইব্যুনালের বিচারের ক্ষেত্রে সংবিধানের ৩৫ (৩) ধারাটিকে অকার্যকর করে রাখা মানে  হল আপনারা   এখানে ন্যায় বিচার করতে পারবেনা। যদি ন্যায় বিচার করেন তাহলে সংবিধান লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটবে। আবার ট্রাইব্যুনালের আইনে বলা হয়েছে ন্যায় বিচার করতে হবে। এখন আপনারা কোনটি করবেন? সংবিধান রক্ষা করবেন  না আইন অনুযায়ী চলবেন?

তখন ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির বলেন, ব্যারিস্টার  আব্দুর রাজ্জাক সাহেবও  এ প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেছিলেন। আসলে বিষয় হল সংসদে যখন ১৯৭৩ সালের যুদ্ধাপরাধ বিচার সংক্রান্ত আইনটি পাশ হয় তখন তাদের একটি লক্ষ্য ছিল যে, যুদ্ধাপরাধের দায়ে যাদের বিচারের আওতায় আনা হবে তাদের ক্ষেত্রে ন্যায় বিচার এবং সংবিধানের কিছু মৌলিক অধিকার  বিষয়ক  ধারা প্রযোজ্য হবেনা। তারা এসব অধিকার ভোগ করতে পারবেনা। এর ফলে যাদের বিরুদ্ধেই যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হবে তখনই তারা তৃতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে বিবেচিত। যখন এ বিষয়টি সামনে আসে তখন এ ট্রাইব্যুনালের অধীনে সাত/আটজন লোক বন্দী ছিলেন। ১৬ কোটি মানুষের বিপরীতে কয়েকজন লোক  তৃতীয় শ্রেনির নাগরিক হলেন। তৃতীয় শ্রেনির নাগরিক হয়ে আপনি প্রথম শ্রেনির নাগিরকের সুবিধা পাবেন কি করে? যতদিন  এ বিষয়টি সুরাহা না হয় ততদিন এ সমস্যা থাকবে।
বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির বলেন, যুদ্ধাপরাধ বিচারের ক্ষেত্রে সংবিধানে প্রকাশ্য বিচারের ধারা অকার্যকর করা হয়েছে। কিন্তু ট্রাইব্যুনালের আইনে প্রকাশ্য বিচারের ধারা যোগ করা হয়েছে এবং আমরা এখানে প্রকাশ্য  বিচার করছি।

বিচারপতি আনোয়রুল হক বলেন, সংবিধান সংশোধনীকে যদি আইন ধরা হয় তাহলে আমরা সে আইন অনুযায়ী বিচার করছি।

এর আগে ঘটনা বিষয়ে যুক্তি উপস্থাপন করে মিজানুল ইসলাম বলেন, সাক্ষী শামসুল হক নান্নু বলেন, বোয়ালখালি মাদ্রাসায় মাওলানা নিজামী যখন পড়াশুনা করেছেন তখন তিনি তাকে দেখেছেন। মাওলানা নিজামী দাকিল পাশ করেছেন ১৯৫৫ সালে। আর সনদ অনুযায়ী শামসুল হক নান্নুর  জন্ম তারিখ ১৯৫৩ সাল এবং তখন তার বয়স মাত্র দেড় বছর। দেড় বছর বয়সে তিনি মাওলানা নিজামীকে দেখলেন কি করে?
সাক্ষী জহুরুল হক বলেছেন তিনি ১৯৭১ সালে রাজনারায়নপুর বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। অথচ তখন রাজনাপারায়নপুর বালিকা বিদ্যালয় নামে কোন বিদ্যালয় ছিলনা। সেটা তিনি জেরায় স্বীকার করেছেন। সেখানে তখন একটি মাত্র অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল।


তাজুল ইসলামের যুক্তি উপস্থাপন

জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মামলায় আজ আসামী পক্ষে অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম যুক্তি পেশ করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ। এ মামলায় তিনি আইনি দিক নিয়ে যুক্তি পেশ করেন ।

মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে ইনসাইটমেন্ট বা উসকানি বিষয়ক চারটি অভিযোগ আনা হয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে। তাজুল ইসলাম বলেন,  এ অভিযোগের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষ চারটি মাত্র পেপার কাটিং জমা দিয়েছে এবং এর পক্ষে কোন সাক্ষী নেই তাদের।

মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে একটি উসকানির অভিযোগ হল ১৯৭১ সালে আগস্ট মাসে চট্টগ্রামে ইসলামী ছাত্রসংঘের সমাবেশে তিনি বলেছেন পাকিস্তান আল্লাহর ঘর এবং পাকিস্তান আমি অতীতে যেমন এ ঘর রক্ষা করেছে ভবিষ্যতেও তেমনি রক্ষা করবে।
তাজুল ইসলাম বলেন, পাকিস্তান রাষ্ট্র একসময় অনেকের কাছে স্বপ্নের একটি রাষ্ট্রছিল। এ স্বপ্নের রাষ্ট্র অর্জনের জন্য, ব্রিটিশের গোলামী থেকে মুক্তির জন্য  অনেক রক্তক্ষয় এবং ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে অনেককে। এ রাষ্ট্রের প্রতি তখনকার মানুষের অনেক মোহমায়া, স্বপ্ন ছিল।  অনেকে অনেকভাবে তার বিশ্বাস এবং স্বপ্নের কথা প্রকাশ করে থাকেন। যেমন কবি শামসুর রাহমান স্বাধীনতাকে তুলনা করেছেন পিতার কোমল জায়নামাজের উদার জমিনের সাথে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তুরিন আফরোজ বলেছেন ইসলামের জন্য স্বাধীনতাযুদ্ধ হয়নি। কিন্তু কবি শামসুর রহমান স্বাধীনতাকে পিতার কোমল জায়নামাজের উদার জমিনের সাথে তুলনা করেছেন। কিন্তু এজন্য তো তাকে  সাম্প্রদায়িক আখ্যায়িত করা হয়নি। তেমনি মাওলানা নিজামীও পাকিস্তান রাষ্ট্র ঘিরে মানুষের যে আশা আকাঙ্খা এবং স্বপ্ন ছিল সে প্রেক্ষাপটে ধর্মীয় বিশ্বাসের জায়গা থেকে দেশকে পবিত্র ঘরের সাথে তুলনা করে দেশের প্রতি ভালবাসার বহিপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। এখানে উসকানির কোন বিষয় থাততে পারেনা। অনেকে দেশকে দেবী, মা দুর্গার সাথে তুলনা করে। দেশের জন্য আবেগ প্রকাশ করা কি কোন অপরাধ   হতে পারে?
এ বক্তব্যের মাধমে তিনি কোন নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে ধ্বংস বা নিশ্চিহকরনের কথা বলেননি। কাজেই এটি কোন উসকানির অভিযোগের মধ্যে পড়েনা।
তাছাড়া রাষ্ট্রপক্ষ যে পেপারকাটিং জমা দিয়েছে তাতে প্রতিদেনটি  প্রকাশের তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ৫  আগস্ট। চট্টগ্রাম থেকে খবর পাঠিয়েছে ৩ আগস্ট। খবরে লেখা আছে গতকাল সমাবেশ হয়েছে। তার মানে হল সমাবেশটি হয়েছে ২ আগস্ট। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ বলছে ৩ আগস্ট মাওলানা নিজামী এ বক্তব্য দিয়েছেন।  কাজেই রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ মতে তিনি ৩ আগস্ট এ জাতীয় কোন বক্তব্য দেননি। ফলে এটি কোন অভিযোগ আকারে টেকেনা। তাছাড়া রাষ্ট্রপক্ষ স্বীকার করেছেন ৫ আগস্ট প্রতিবেদন প্রকাশের যে তারিখ লেখা রয়েছে তা তারা নিজেরা লিখেছে। প্রতিবেদনটিতে পত্রিকা প্রকাশের তারিখ ছাপার অক্ষরে কোথাও লেখা নেই।
কাজেই এজাতীয় ডকুমেন্ট কি করে বিশ্বাসযোগ্য  হতে পারে?

মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে উসকানির আরেকটি অভিযোগ হল যশোরে রাজাকারদের একটি সমাবেশে তিনি সুরা তওবার আয়াত পাঠ করে কোরআনের অপব্যাখ্যা করে তাদের উসকানি দিয়েছেন স্বাধীনতাবিরোধী কাজের জন্য।
এ বিষয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, মাওলানা নিজামী সুরা তওবার যে আয়াত পাঠ করেন তার অর্থ হল ‘আল্লাহ মুমিনের জীবন এবং সম্পদ কিনে নিয়েছেন জান্নাতের বিনিময়ে। তারা মারে এবং মরে।’
তাজুল ইসলাম বলেন, ঈমানের সাথে দায়িত্ব পালনের আহবান জানিয়ে  এই আয়াতের ব্যাখ্যা করা কি করে উসকানির মধ্যে পড়তে পারে? কোরআনের আয়াত তাফসির করা কি যুদ্ধাপরাধ? তিনি যদি এ আয়াত ব্যাখ্যা করে তাদেরকে খুন, হত্যার জন্য আহবান জানাতেন তাহলে তাকে উসকানি এবং উসকানির জন্য কোরআনকে ব্যবহারের অভিযোগ আনা যেতে পারত। কিন্তু তাতো তিনি করেননি।
মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে উসকানির আরেকটি অভিযোগ হল ভারতের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য। বাংলাদেশের প্রতি ভারতের বিভিন্ন বৈরি আচরন, পানি ইস্যু, সীমান্ত হত্যা, অসংখ্যবার বিভিন্ন ইস্যুতে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ প্রভৃতি তুলে ধরে তাজুল ইসলাম বলেন, ভারতের বিরুদ্ধে বক্তব্যের জন্য যারা মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে তাদের বিরুদ্ধে সুয়োমটো রুল জারি করা উচিত ট্রাইব্যুনালের। তিনি বলেন, একটি দেশের বিরুদ্ধে বক্তব্যের কারনে যখন নিজামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় তখন বোঝা যায় কতবড় গেম এর পেছনে কাজ করছে।

মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আরেকটি উসকানির অভিযোগে বলা হয়েছে মাদানী নামক এক ব্যক্তিকে হত্যার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য তিনি আহবান জানিয়েছেন।
তাজুল ইসলাম বলেন, এটি তার কোন বক্তৃতা না বিবৃতি তার কিছুই উল্লেখ নেই পেপারকাটিংয়ে।  ইসলামিক একাডেমিতে তিনি এ কথা বলেছেন বলে উল্লেখ আছে  কিন্তু ইসলামিক একাডেমি কোথায় তাও উল্লেখ নেই। মাদানী কে, কি তার পরিচয়, কারা তাকে হত্যা করল তাও উল্লেখ নেই প্রতিবেদনে। যদি এমন হত যে মাদানী ছিল স্বাধীনতাবিরোধী এবং মুক্তিযোদ্ধারা তাকে হত্যা করেছে তাহলে তার হত্যার প্রতিশোধ নেয়ার আহবান জানানো মানে মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়ার আহবান জানানো হয়েছে তা বোঝা যেত। কিন্তু মাদানী কে , কারা তাকে হত্যা করল তার কোন কিছু পরিস্কার নয়। তদন্ত কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন জেরায় যে, এ বিষয়ক খবরটি তিনি পুরোপুরি জব্দ করেননি। শুধুমাত্র নিজামীর  বক্তব্যের অংশটুকু জমা দিয়েছেন।
তাজুল ইসলাম বলেন, এ জাতীয় ডকুমেন্ট  যদি গ্রহণ করা হয় এবং এর ওপর ভিত্তি করে যদি কাউকে অভিযুক্ত করা হয় তাহলে ন্যায় বিচার বলতে আর কিছু থাকবেনা।
তাজুল ইসলাম বলেন, উসকানির পক্ষে শুধুমাত্র চারটি পেপারকাটিং তারা জমা দিয়েছে এবং তার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

রবীন্দ্রনাথ ত্রিবেদী তার ৭১ এর দশমাস বইয়ে লিখেছেন তখন এদেশে সংবাদ প্রকাশের ওপর কঠোর সেন্সরশীপ আরোপ করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। সরকার পক্ষের খবরই তখন গুরুত্বসহকারে প্রকাশিত হত। মাওলানা নিজামীর যেসব বক্তব্য পেপারে ছাপা হয়েছে এবং যা এখানে জমা দেয়া হয়েছে তা যে সেন্সর আকারে প্রকাশিত হয়েছে তা সহজেই ধরে নেয়া যায়।  সরকারের পক্ষে তার যে বক্তব্য ছিল তাই গুরুত্ব দিয়ে ছাপা হত সেটা ধরে নেয়া যায়। তার যেসব বক্তব্য ছাপা হয়েছে এবং যা এখানে জমা দিয়েছেন তার বাইরে তিনি যে আর কোন কথা বলেননি এবং তা যে সেন্সর করা হয়নি তা আমরা কি করে বলতে পারি।  কাজেই সেন্সর করে প্রকাশিত এবং রাষ্ট্রপক্ষের দুর্বল এসব ডকুমেন্টকে  আমলে নেয়ার কোন কারণ থাকতে পারেনা।

তাজুল ইসলাম বলেন, উসকানি কিসের প্রতি (ইনসাইটমেন্ট টু হোয়াট অফেন্স)  সে বিষয়ে অভিযোগে কিছু বলা হয়নি। যেমন কোন অপরাধের প্রতি তিনি কাউকে উসকানি দিয়েছেন না কি কাউকে ভালবাসার  জন্য উসকানি দিয়েছেন সে বিষয়ে কোন কিছু উল্লেখ নেই অভিযোগে।
তাজুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী মানবতাবিরোধী অপরাধের উসকানি, যুদ্ধাপরাধের প্রতি উসকানি কোন উসকানির মধ্যে পড়েনা,  অপরাধের মধ্যে পড়েনা (Incitement to crimes against humanity is not an offence in international  recognised law, incitement ti war crime is not offence in internationa law) । শুধুমাত্র গনহত্যার বিরুদ্ধে উসকানি অপরাধ এবং গনহত্যা ও উসকানি বিষয়ে সেখানে সুষ্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রীম কোর্টের একটি আদেশ তুলে ধরে তাজুল ইসলাম বলেন, উসকানির মধ্যে সুষ্পষ্টভাবে   ঘৃনামূলক বক্তব্য (হেইট স্পিস)  থাকতে হবে এবং তাতে বিপদের আশঙ্কা উপস্থিত থাকতে হবে। তবেই কেবল তা উসকানিমূলক বক্তব্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। 



মাওলানা নিজামীর মামলায় তাজুল ইসলামের যুক্তি উপস্থাপন


মেহেদী হাসান, ১৮/১১/২০১৩
জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মামলায় আজ আসামী পক্ষে অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম যুক্তি পেশ করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ। এ মামলায় তিনি আইনি দিক নিয়ে যুক্তি পেশ করেন ।

মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে ইনসাইটমেন্ট বা উসকানি বিষয়ক চারটি অভিযোগ আনা হয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে। তাজুল ইসলাম বলেন,  এ অভিযোগের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষ চারটি মাত্র পেপার কাটিং জমা দিয়েছে এবং এর পক্ষে কোন সাক্ষী নেই তাদের।

মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে একটি উসকানির অভিযোগ হল ১৯৭১ সালে আগস্ট মাসে চট্টগ্রামে ইসলামী ছাত্রসংঘের সমাবেশে তিনি বলেছেন পাকিস্তান আল্লাহর ঘর এবং পাকিস্তান আমি অতীতে যেমন এ ঘর রক্ষা করেছে ভবিষ্যতেও তেমনি রক্ষা করবে।
তাজুল ইসলাম বলেন, পাকিস্তান রাষ্ট্র একসময় অনেকের কাছে স্বপ্নের একটি রাষ্ট্রছিল। এ স্বপ্নের রাষ্ট্র অর্জনের জন্য, ব্রিটিশের গোলামী থেকে মুক্তির জন্য  অনেক রক্তক্ষয় এবং ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে অনেককে। এ রাষ্ট্রের প্রতি তখনকার মানুষের অনেক মোহমায়া, স্বপ্ন ছিল।  অনেকে অনেকভাবে তার বিশ্বাস এবং স্বপ্নের কথা প্রকাশ করে থাকেন। যেমন কবি শামসুর রাহমান স্বাধীনতাকে তুলনা করেছেন পিতার কোমল জায়নামাজের উদার জমিনের সাথে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তুরিন আফরোজ বলেছেন ইসলামের জন্য স্বাধীনতাযুদ্ধ হয়নি। কিন্তু কবি শামসুর রহমান স্বাধীনতাকে পিতার কোমল জায়নামাজের উদার জমিনের সাথে তুলনা করেছেন। কিন্তু এজন্য তো তাকে  সাম্প্রদায়িক আখ্যায়িত করা হয়নি। তেমনি মাওলানা নিজামীও পাকিস্তান রাষ্ট্র ঘিরে মানুষের যে আশা আকাঙ্খা এবং স্বপ্ন ছিল সে প্রেক্ষাপটে ধর্মীয় বিশ্বাসের জায়গা থেকে দেশকে পবিত্র ঘরের সাথে তুলনা করে দেশের প্রতি ভালবাসার বহিপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। এখানে উসকানির কোন বিষয় থাততে পারেনা। অনেকে দেশকে দেবী, মা দুর্গার সাথে তুলনা করে। দেশের জন্য আবেগ প্রকাশ করা কি কোন অপরাধ   হতে পারে?
এ বক্তব্যের মাধমে তিনি কোন নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে ধ্বংস বা নিশ্চিহকরনের কথা বলেননি। কাজেই এটি কোন উসকানির অভিযোগের মধ্যে পড়েনা।
তাছাড়া রাষ্ট্রপক্ষ যে পেপারকাটিং জমা দিয়েছে তাতে প্রতিদেনটি  প্রকাশের তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ৫  আগস্ট। চট্টগ্রাম থেকে খবর পাঠিয়েছে ৩ আগস্ট। খবরে লেখা আছে গতকাল সমাবেশ হয়েছে। তার মানে হল সমাবেশটি হয়েছে ২ আগস্ট। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ বলছে ৩ আগস্ট মাওলানা নিজামী এ বক্তব্য দিয়েছেন।  কাজেই রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ মতে তিনি ৩ আগস্ট এ জাতীয় কোন বক্তব্য দেননি। ফলে এটি কোন অভিযোগ আকারে টেকেনা। তাছাড়া রাষ্ট্রপক্ষ স্বীকার করেছেন ৫ আগস্ট প্রতিবেদন প্রকাশের যে তারিখ লেখা রয়েছে তা তারা নিজেরা লিখেছে। প্রতিবেদনটিতে পত্রিকা প্রকাশের তারিখ ছাপার অক্ষরে কোথাও লেখা নেই।
কাজেই এজাতীয় ডকুমেন্ট কি করে বিশ্বাসযোগ্য  হতে পারে?


মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে উসকানির আরেকটি অভিযোগ হল যশোরে রাজাকারদের একটি সমাবেশে তিনি সুরা তওবার আয়াত পাঠ করে কোরআনের অপব্যাখ্যা করে তাদের উসকানি দিয়েছেন স্বাধীনতাবিরোধী কাজের জন্য।
এ বিষয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, মাওলানা নিজামী সুরা তওবার যে আয়াত পাঠ করেন তার অর্থ হল ‘আল্লাহ মুমিনের জীবন এবং সম্পদ কিনে নিয়েছেন জান্নাতের বিনিময়ে। তারা মারে এবং মরে।’
তাজুল ইসলাম বলেন, ঈমানের সাথে দায়িত্ব পালনের আহবান জানিয়ে  এই আয়াতের ব্যাখ্যা করা কি করে উসকানির মধ্যে পড়তে পারে? কোরআনের আয়াত তাফসির করা কি যুদ্ধাপরাধ? তিনি যদি এ আয়াত ব্যাখ্যা করে তাদেরকে খুন, হত্যার জন্য আহবান জানাতেন তাহলে তাকে উসকানি এবং উসকানির জন্য কোরআনকে ব্যবহারের অভিযোগ আনা যেতে পারত। কিন্তু তাতো তিনি করেননি।
মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে উসকানির আরেকটি অভিযোগ হল ভারতের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য। বাংলাদেশের প্রতি ভারতের বিভিন্ন বৈরি আচরন, পানি ইস্যু, সীমান্ত হত্যা, অসংখ্যবার বিভিন্ন ইস্যুতে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ প্রভৃতি তুলে ধরে তাজুল ইসলাম বলেন, ভারতের বিরুদ্ধে বক্তব্যের জন্য যারা মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে তাদের বিরুদ্ধে সুয়োমটো রুল জারি করা উচিত ট্রাইব্যুনালের। তিনি বলেন, একটি দেশের বিরুদ্ধে বক্তব্যের কারনে যখন নিজামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় তখন বোঝা যায় কতবড় গেম এর পেছনে কাজ করছে।
মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আরেকটি উসকানির অভিযোগে বলা হয়েছে মাদানী নামক এক ব্যক্তিকে হত্যার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য তিনি আহবান জানিয়েছেন।
তাজুল ইসলাম বলেন, এটি তার কোন বক্তৃতা না বিবৃতি তার কিছুই উল্লেখ নেই পেপারকাটিংয়ে।  ইসলামিক একাডেমিতে তিনি এ কথা বলেছেন বলে উল্লেখ আছে  কিন্তু ইসলামিক একাডেমি কোথায় তাও উল্লেখ নেই। মাদানী কে, কি তার পরিচয়, কারা তাকে হত্যা করল তাও উল্লেখ নেই প্রতিবেদনে। যদি এমন হত যে মাদানী ছিল স্বাধীনতাবিরোধী এবং মুক্তিযোদ্ধারা তাকে হত্যা করেছে তাহলে তার হত্যার প্রতিশোধ নেয়ার আহবান জানানো মানে মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়ার আহবান জানানো হয়েছে তা বোঝা যেত। কিন্তু মাদানী কে , কারা তাকে হত্যা করল তার কোন কিছু পরিস্কার নয়। তদন্ত কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন জেরায় যে, এ বিষয়ক খবরটি তিনি পুরোপুরি জব্দ করেননি। শুধুমাত্র নিজামীর  বক্তব্যের অংশটুকু জমা দিয়েছেন।
তাজুল ইসলাম বলেন, এ জাতীয় ডকুমেন্ট  যদি গ্রহণ করা হয় এবং এর ওপর ভিত্তি করে যদি কাউকে অভিযুক্ত করা হয় তাহলে ন্যায় বিচার বলতে আর কিছু থাকবেনা।
তাজুল ইসলাম বলেন, উসকানির পক্ষে শুধুমাত্র চারটি পেপারকাটিং তারা জমা দিয়েছে এবং তার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
রবীন্দ্রনাথ ত্রিবেদী তার ৭১ এর দশমাস বইয়ে লিখেছেন তখন এদেশে সংবাদ প্রকাশের ওপর কঠোর সেন্সরশীপ আরোপ করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। সরকার পক্ষের খবরই তখন গুরুত্বসহকারে প্রকাশিত হত। মাওলানা নিজামীর যেসব বক্তব্য পেপারে ছাপা হয়েছে এবং যা এখানে জমা দেয়া হয়েছে তা যে সেন্সর আকারে প্রকাশিত হয়েছে তা সহজেই ধরে নেয়া যায়।  সরকারের পক্ষে তার যে বক্তব্য ছিল তাই গুরুত্ব দিয়ে ছাপা হত সেটা ধরে নেয়া যায়। তার যেসব বক্তব্য ছাপা হয়েছে এবং যা এখানে জমা দিয়েছেন তার বাইরে তিনি যে আর কোন কথা বলেননি এবং তা যে সেন্সর করা হয়নি তা আমরা কি করে বলতে পারি।  কাজেই সেন্সর করে প্রকাশিত এবং রাষ্ট্রপক্ষের দুর্বল এসব ডকুমেন্টকে  আমলে নেয়ার কোন কারণ থাকতে পারেনা।

তাজুল ইসলাম বলেন, উসকানি কিসের প্রতি (ইনসাইটমেন্ট টু হোয়াট)  সে বিষয়ে অভিযোগে কিছু বলা হয়নি। যেমন কোন অপরাধের প্রতি তিনি কাউকে উসকানি দিয়েছেন না কি কাউকে ভালবাসার  জন্য উসকানি দিয়েছেন সে বিষয়ে কোন কিছু উল্লেখ নেই অভিযোগে।
তাজুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী মানবতাবিরোধী অপরাধের উসকানি, যুদ্ধাপরাধের প্রতি উসকানি কোন উসকানির মধ্যে পড়েনা,  অপরাধের মধ্যে পড়েনা। শুধুমাত্র গনহত্যার বিরুদ্ধে উসকানি অপরাধ এবং গনহত্যা ও উসকানি বিষয়ে সেখানে সুষ্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রীম কোর্টের একটি আদেশ তুলে ধরে তাজুল ইসলাম বলেন, উসকানির মধ্যে সুষ্পষ্টভাবে   ঘৃনামূলক বক্তব্য (হেইট স্পিস)  থাকতে হবে এবং তাতে বিপদের আশঙ্কা উপস্থিত থাকতে হবে। তবেই কেবল তা উসকানিমূলক বক্তব্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। 

রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৩

নিজামীর মামলায় ফের যুক্তি উপস্থাপন শুরু// তদন্ত কর্মকর্তা আড়াইশ মিথ্যা বলেছে

মেহেদী হাসান, ১৭/১১/২০১৩
জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মামলায় আসামী পক্ষকে অসমাপ্ত যুক্তি উপস্থাপনের অনুমতি দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। ফলে আজ  থেকে আবার এ মামলায় যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয়।

এর আগে হরতালে  পরপর চারদিন আসামী পক্ষের সিনিয়র কোন আইনজীবী ট্রাইব্যুনালে হাজির না হওয়ায় আসামী পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন বন্ধ করে গত বুধবার মামলার কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষনা করা হয় এবং রায় অপেক্ষমান (সিএভি) রাখা হয়।

এ আদেশ পুনরায় বিবেবচনার জন্য আসামী পক্ষ আবেদন করে। আসামী পক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক আজ আবেদনের পক্ষে শুনানী পেশ করেন। এরপর আদালত আজ  এবং আগামীকাল দুই দিন ধার্য্য করেন শুনানীর জন্য। আগামী বৃহষ্পতি এবং রোববার আরো দুইদিন সময় বাড়ানোর জন্য ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক অনুমতি চাইলে ট্রাইব্যুনাল আশ্বাস দিয়ে বলেন, শুরু করেন, তারপর দেখা যাবে।

শুনানীতে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এ পর্যন্ত যত হরতাল হয়েছে তাতে আমরা কোন সিনিয়র আইনজীবী নিরাপত্তার কারনে ট্রাইব্যুনালে আসিনি। এর আগে সকল মামলার ক্ষেত্রেই হরতালের কারনে সময় দেয়া হয়েছে। কোন জেলা জজ আদালত এভাবে হরতালে আসামী পক্ষের অনুপস্থিতিতে আদেশ পাশ করেনা। হাইকোর্ট সুপ্রীম কোর্টেও আইনজীবীরা আসেননা। তাই এ মামলায় হরতালের মধ্যে এভাবে আসামী পক্ষের বিরুদ্ধে আদেশ পাশ করলে আমরা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হব।

তদন্ত কর্মকর্তা আড়াইশ মিথ্যা বলেছে
অসমাপ্ত যুক্তি উপস্থাপনের অনুমতি পাবার পর মাওলানা নিজামীর পক্ষে অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম আজ  দ্বিতীয় দিনের মত যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন। মিজানুল ইসলাম বলেন, এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ যেসব ডকুমেন্ট জমা দিয়েছে তাতে তদন্ত কর্মকর্তা আড়াইশ মিথ্যা কথা বলেছেন। এসময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম আযাদ বলেন, এভাবে বললে হবেনা। কোথায় কিভাবে মিথ্যা বলেছে তা বলতে হবে। তখন মিজানুল ইসলাম বলেন, অবশই আমি তা লিখিত আকারে জমা দেব। এই মামলায় তদন্ত কাজ শেষ হয় ২০১১ সালের ১ নভেম্বর। তদন্ত কর্মকর্তা  জেরায় বলেছেন, তদন্ত  প্রতিবেদন জমা দেয়ার পরও তিনি তদন্ত কাজ অব্যাহত রাখেন এবং তখন সাক্ষী শ্যামলী নাসরিনের জবানবন্দী রেকর্ড করেন। কিন্তু শ্যামলী নাসরিনের যে ডকুমেন্ট তিনি আদালতে জমা দিয়েছেন তাতে দেখা যায় শ্যামলী নাসরিনের জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়েছে ২০১১ সালের ১১ মার্চ। তার জমা দেয়া ডকুমেন্ট অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে তদন্ত শেষ হবার আগেই তার জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়েছে। আর কোর্টে এসে বললেন, তদন্ত শেষ হবার পর তিনি তার জবানবন্দী রেকর্ড করেছেন। আদালত এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে মিজানুল ইসলাম বলেন, তদন্ত কর্মকর্তার মিথ্যার এই ডকুমেন্ট এই মুহুর্তে আপনাদের সামনে আছে; আপনারা মিলিয়ে দেখতে পারেন।

মিজানুল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ মাওলানা নিজামী বুদ্ধিজীবী হত্যার পরিকল্পনা করেছেন। আবার তাদের জমা দেয়া ডকুমেন্টে দেখা যায় হামিদুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে অবজারভার ভবনে বুদ্ধিজীবী হত্যার পরিকল্পনা হয়। কোনটি সত্য?
মিজানুল ইসলাম বলেন, আলবদর একটি সামরিক বাহিনী। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ মাওলানা নিজামী আলবদর বাহিনীর প্রধান ছিলেন। অপর দিকে তদন্ত কর্মকর্তা দাবি করেছেন পুরো মুক্তিযুদ্ধের সময় মাওলানা নিজামী একজন বেসামরিক ব্যক্তি ছিলেন। পুরো সময় তিনি যদি বেসামরিক ব্যক্তি থাকেন তাহলে আবার আলবদর বাহিনীর প্রধান হন কি করে?

এরপর মিজানুল ইসলাম মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে বিভিন্নি অভিযোগ এবং তার পক্ষে সাক্ষীদের বক্তব্য খন্ডন করে যুক্তি পেশ করেন।

মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে ৩ নং অভিযোগ হল মোহাম্মদপুর ফিজিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিউিটে রাজাকার ক্যাম্প স্থাপন করে অপরহন নির্যাতন।   এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ মোহাম্মদপুর ফিজিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের বর্তমান গার্ড় রুস্তম আলীকে সাক্ষী হিসেবে হাজির করে। তার পিতা ১৯৭১ সালে ওই প্রতিষ্ঠানের গার্ড ছিল।

মিজানুল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ এ অভিযোগ বিষয়ে বলেছে, ১৯৭১ সালের মে মাস থেকে  মাওলানা নিজামী মোহাম্মদপুর ফিজিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। আর সাক্ষী রুস্তম আলী বলছেন, সেখানে আর্মি ক্যাম্প স্থাপনের চার/পাঁচ মাস পরে রাজাকার ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। সাক্ষীর বক্তব্য অনুযায়ী নিজামী সাহেব জুলাই আগস্টের আগে সেখানে যাননি। আর রাষ্ট্রপক্ষ বলছে মে মাস থেকে সেখানে গেছেন তিনি। কোনটি সত্য?
মিজানুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ কোন তারিখে স্বাধীন হয় তাও বলতে পারেনি সাক্ষী। এ সাক্ষী একজন নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি। সাক্ষী বলেছেন তিনি মুশুরীখোলা ও বাকুড়া ক্যাম্পে যাননি। কিন্তু অপর সাক্ষী জহিরুদ্দিন জালাল ওরফে বিচ্ছু জালাল বলেছেন  ওই ক্যাম্পে রুস্তম আলীর সাথে তার দেখা হয়েছে। কার কথা সত্য?
সাক্ষী রুস্তম আলী বলেছেন, স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরুর পর তিনি বিচ্ছু জালালের নাম শুনেছেন। আর বিচ্ছু জালাল বলেছেন সেপ্টেম্বরে তাকে বিচ্ছু জালাল খেতাব দেয়া  হয়। মিজানুল ইসলাম বলেন তাহলে এটাও রুস্তম আলীর একটা  মিথ্যা কথা।

১১ নং সাক্ষী শামসুল হক নান্নু বলেছেন ১১ এপ্রিল মাওলানা নিজামীর নেতৃত্বে তাদের পাবনার বাড়ি ভাংচুর করা হয় এবং পাশের বাড়ির ছাদে বসে তিনি তা দেখেছেন। অপর দিকে জহিরুদ্দিন জালাল ওরফে বিচ্ছু জালাল বলেছেন একই সময়ে তিনি মাওলানা নিজামীকে ঢাকায় সার্কিট হাউজে দেখেছেন। মিজানুল ইসলাম বলেন, কার কথা সত্য?
বিচ্ছু জালাল আবার বলেছেন ৩০ আগস্ট তাকে এমপি হোস্টেলে ধরে নিয়ে মাওলানা নিজামী পিস্তল দিয়ে তাকে পিটিয়েছেন। আবার সাক্ষী অনিল বলেছেন, আগস্টের শেষের দিকে মাওলানা নিজামীকে মুক্তিযোদ্ধা বাতেন পাবনায়  তার নৌকায় আটকে রেখে নির্যাতন করে। মিজানুল ইসলাম প্রশ্ন করে বলেন, আসলে মাওলানা নিজামী কোথায় ছিলেন এবং কার কথা সত্য?
বিচ্ছুু জালাল বলেছেন ৩০ আগস্ট রাজাকাররা তাকে ধরে নিয়ে যায়। আবার জেরায় সে বলেছে ৩ সেপ্টেম্বর মেলাঘরে সে প্রথম রাজাকার শব্দ শুনেছে। কোনটি সত্য?

বিচ্ছু জালাল ট্রাইব্যুনাল-১ এ সাক্ষ্য দেয়ার সময় বলেছেন, বদী, রুমী এবং জুয়েলকে ১৯৭১ সালের ২৯ আগস্ট রমনা থানায় ধরে নিয়ে যায় বলে যেকথা বলেছেন  দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনালে তা তিনি ভুল করে বলেছেন।
মিজানুল ইসলাম বলেছেন,  বিচ্ছু জালাল দুই ট্রাইব্যুালে দুইজন আসামীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনি দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনালে ভুল সাক্ষ্য দেয়ার কথা বলেছেন। এখানে যা বলেছেন তা সঠিক বলেছেন তার প্রামন কি? জাহানারা ইমাম তার বইয়ে বলেছেন, বদী, রুমি, জুয়েল নির্যাতন, হত্যার সাথে কোন বাঙ্গালী জড়িত ছিলনা। আর বিচ্ছু জালাল বলেছেন মাওলানা নিজামী এর সাথে জড়িত। বিচ্ছু জালাল বলেছেন, স্বাধীনতার পর তিনি রুমিদের বাসায় গেছেন এবং রুমির পিতার সাথেও দেখা হয়েছে। অথচ রুমির পিতা মারা গেছেন ১৩ ডিসেম্বর। তাহলে স্বাধীনতার পর তার সাথে তার দেখা হল কি করে? এরপরও কি এই সাক্ষীকে বিশ্বাস করা যায়? তাছাড়া জাহানারা ইমামের বইয়ে বিচ্ছু জালাল বিষয়ে কোন কথা উল্লেখ নেই।

পাবনার কছিম উদ্দিন মাওলানা হত্যার অভিযোগ বিষয়ে মিজানুল ইসলাম বলেন, পাবনার ইতিহাস বইয়ে এ হত্যার বিবরন রয়েছে। সেখানে মাওলানা নিজামীর নাম নেই।
মিজানুল ইসলাম বলেন, পাবনার বৃশালিকায় হিন্দু পাড়ায় হত্যা, নির্যাতন ধর্ষণ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষে শাহজাহান আলী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন তিনি তার ফুফু বাড়ি যাবার পথে হিন্দু পাড়ায় যান । সেখানে গিয়ে দেখতে পান  একটি হিন্দু বাড়িতে ৪/৫ জন মুসলমান লোক দাড়িয়ে আছে। তাদেরকে দেখে তিনি ওই বাড়িতে যাই। তিনি সেখানে দেখতে পান  তিন/চার জন মহিলা  বিবস্ত্র অবস্থায় বসে আছে। তারা জানায় মতিউর রহমান নিজামী উপস্থিত থেকে পাকিস্তানী আর্মি দিয়ে তাদের ধর্ষণ করিয়েছে।

মিজানুল ইসলাম বলেন, ধর্ষনের পর সব মহিলারা উলঙ্গ হয়ে প্রকাশে বসে থাকবে আর তাদের ঘিরে কতগুলো লোক দাড়িয়ে থাকবে এবং তাদেরকে বলবে তাদেরকে অমুক ধর্ষণ করিয়েছে একথা কি কোন বিশ্বাসযোগ্য কথা? মিজানুল ইসলাম বলেন, মাই লর্ড, নিজামী সাহেবের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ধর্ষনের কোন অভিযোগ আনেনি। অভিযোগ হল তিনি পাকিস্তানীদের নারি সাপ্লাই দিয়েছেন তার উপস্থিত থেকে পাকিস্তানী সেনাদের ধর্ষণ করিয়েছেন।  নিজামী সাহেব তখন  যুবক ছিলেন। তিনি অপরকে দিয়ে ধর্ষণ করিয়েছেন নিজে করেননি। কেন তিনি কি নপুংশক ছিলেন? আমরা তো জানি তার ছয়টি সন্তান আছে।
মিজানুল ইসলাম বলেন, কতগুলো টাউট বাটপাড় নিয়ে এসেছে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়ার জন্য।

মিজানুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে সারা দেশে স্বাধীনতা বিরোধীদের নামের তালিকা করা হয়। মাওলানা নিজামী এত অপকর্ম করলেন, বুদ্ধিজীবী হত্যার মত এতবড় পরিকল্পনা করলেন আর তার নামই তালিকায় আসলনা?

যুক্তি উপস্থাপনের সময় অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলামকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন, আসাদ উদ্দিন প্রমুখ।
 ট্রাইব্যুনাল-১ চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির, সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়রুল হক বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।





বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৩

হরতালে ট্রাইব্যুনালে একতরফা মামলা পরিচালনায় বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন কর্তৃক উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি প্রদান


১৪/১১/২০১৩
সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ বাংলাদেশের কতিপয় আদালত হরতাল ধর্মঘটের মতো রাজনৈতিক কর্মসূচি চলাকালে আইনজীবীদেরকে আদালতে উপস্তিত থাকতে বাধ্য করতে যে সেব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন তাতে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের পক্ষ থেকে আমি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। এসব আদালতে পেশাগত দায়িত্ব পালনরত আইনজীবগণ জানিয়েছেন যে, হরতাল, ধর্মঘট বা অবরোধের মতো রাজনৈতিককর্মসূচি চলাকালে নিরাপত্তাজনিত কারণে আইনজীবীদের বিশেষত সিনিয়র আইনজীবীদের পক্ষে আদালতে উপস্থিত হওয়া সম্ভব না হলে তাদের পক্ষে সংশ্লিষ্ট জুনিয়র আইনজীবীগণ সময়ের আবেদন জানালেও অনেক ক্ষেত্রেই তা বিবেচনায় না নিয়ে একতরফাভাবে মামলা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এমনকি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন একজন শীর্ষ রাজনীতিবিদের মামলায় চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সুযোগ না দিয়ে মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমান রাখা হয়েছে।

এতে মামলার সংশ্লিষ্ট পক্ষগণ যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তেমনি নিয়োজিত আইনজীবীরা পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অযাচিত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন। এছাড়া কোন কোন মাননীয় বিচারক হরতাল চলাকালীন সময়ে আদালতে উপস্থিত না হওয়ার জন্য অনেক সিনিয়র আইনজীবীর বিরুদ্ধে সমালোচনা এবং তির্যক মন্তব্য করছেন যা কোন ভাবেই কাম্য নয়। বার কাউন্সিল মনে করে ভয়ভীতিহীনভাবে এবং সকল প্রভাবমুক্ত থেকে স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন একজন আইনজীবীর সংবিধানিক এবং আইনগত অধিকার। কোন রাজনৈতিক কর্মসূচি লংঘন করে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আদালতে উপস্থিত থাকতে কোন আইনজীবী বাধ্য নয়। ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশে সুপ্রীম কোর্টের উভয় বিভাগ হরতালের মতো কোন রাজনৈতিক কর্মসূচী চলাকালে সাধারণত কোন বিচার কার্য পরিচালনা করেন না বা কোন পক্ষ অনুপস্থিত থাকলে সেই মামলার শুনানী অনুষ্ঠিত হয় না। অথচ প্রচলিত এই ঐতিহ্য ভঙ্গ করে কোন কোন আদালত আইনজীবীদের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে আদালতে আসতে বাধ্য করার জন্য যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছেন তা থেকে বিরত থাকার জন্য বার কাউন্সিলের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মাননীয় বিচারকবৃন্দের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

বুধবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৩

আসামী পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন অসমাপ্ত অবস্থায় মাওলানা নিজামীর মামলা সিএভি ///আদেশ প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন গ্রহণ করা হয়নি

মেহেদী হাসান, ১৩/১১/২০১৩
জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলার রায় যেকোন দিন ঘোষনা করা হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজ  রায় ঘোষনার তারিখ অপেক্ষমান রাখা বিষয়ে আদেশ দেন। 

মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে মামলায় আসামী পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন অসমাপ্ত  অবস্থায় রায় অপেক্ষমান ঘোষনা করা হল। এ মামলার শেষ ধাপে আসামী পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন চলছিল। কিন্তু হরতালজনিত কারনে পরপর চারদিন আসামী পক্ষের সিনিয়র আইনজীবীরা  আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তাদের যুক্তি উপস্থাপন সমাপ্ত ঘোষনা করে  আজ  ট্রাইব্যুনাল মামলার বিচার কার্যক্রম কোজ করেন এবং রায় অপেক্ষমান ঘোষনা করেন। তবে আসামী পক্ষ চাইলে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে তাদের অসমাপ্ত যুক্তি লিখিত আকারে জমা দিতে পারবে মর্মে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে সিএভি আদেশ প্রত্যাহার এবং অসমাপ্ত যুক্তি উপস্থাপনের সুযোগ চেয়ে আসামী পক্ষ দুপুরের পর আবেদন করলেও তা ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে।

গত সাত নভেম্বর বৃহষ্পতিবার মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে মামলায় আসামী পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয়। আসামী পক্ষ একদিন যুক্তি উপস্থাপনের পর রোববার থেকে চারদিনের হরতাল শুরু হয়। রোববার মাওলানা নিজামীর পক্ষে জুনিয়র আইনজীবী আসাদ উদ্দিন ট্রাইব্যুনালে  উপস্থিত হয়ে জানান হরতাল পরিস্থিতিতে  নিরাপত্তাজনতি কারনে আসামী পক্ষের সিনিয়র আইনজীবীরা ট্রাইব্যুনালে আসতে পারছেননা। তাই তিনি মামলার কার্যক্রম মুলতবি করার আবেদন করেন। ট্রাইব্যুনাল এক দিনের জন্য মুলতবি করেন। এভাবে মঙ্গলবার পর্যন্ত একই প্রেক্ষাপটে একদিন করে মোট তিনদিন মামলা মুলতবি করা হয় আসামী পক্ষের সিনিয়র আইনজীবী না থাকায়। গত মঙ্গলবারও এভাবে একদিনের জন্য আসামী পক্ষের  মুলতবি আবেদন মঞ্জুর করে ট্রাইব্যুনাল বলে দেন এটাই শেষ সুযোগ। এরপর আর মুলতবি করা হবেনা।

আজ  বুধবারও একই প্রেক্ষাপট অর্থাৎ হরতালের কারনে সিনিয়র কোন আইনজীবী হাজির হননি আসামী পক্ষে। জুনিয়র আইনজীবী তারিকুল ইসলাম এবং আসাদ উদ্দিন উপস্থিত হন। আসাদ উদ্দিন আর  একদিনের জন্য অর্থাৎ বৃহষ্পতিবার পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম মুলতবির আবেদন করে শেষবারের মত সুযোগ চান। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল আবেদন নামঞ্জুর করে  মামলার কার্যক্রম বন্ধ ঘোষনা করেন।

মুলতবি আবেদন নাকচ করে ট্রাইব্যুনাল বলেন, আমরা ন্যায় বিচারের স্বার্থে একের পর এক  মুলতবি আবেদন মঞ্জুর করেছি, তাদের সহযোগিতা পাবার জন্য। আজ আসামী পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ করার জন্য ধার্য্য ছিল। কিন্তু আজো তারা আসলেননা। কিন্তু আমরা ন্যায় বিচারের স্বার্থে আনলিমিটেড সময় অপেক্ষ করতে পারিনা। ট্রাইব্যুনাল আইনে দ্রুততার সাথে মামলার কার্যক্রম শেষ করার কথা বলা আছে। তাই আজ মুলতবি আবেদন আর গ্রহণ করা হলনা। আসামী পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন এখানে সমাপ্ত ঘোষনা করা হল।

অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালের সামনে অপেক্ষমান সাংবাদিকদের বলেন, গত চার বছরে যত হরতাল হয়েছে তার কোনদিন আসামী পক্ষের (জামায়াত নেতৃবৃন্দ)  কোন সিনিয়র আইনজীবী  ট্রাইব্যুনালে আসেননি নিরাপত্তাজনতি কারনে। ট্রাইব্যুনালও পরিস্থিতি বিবেচনায় মামলার কার্যক্রম মুলতবি করেছেন। গত তিনদিন পর্যন্ত একই প্রেক্ষাপটে তারা আসতে পারেননি এবং আমরা জুনিয়র আইনজীবীরা ট্রাইব্যুনালে এসে সময় প্রার্থনা করেছি হরতালের কারনে। তিনদিন পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। কিন্তু আজ আমাদের মুলতবি অবেদন নামঞ্জুর করে আমাদের যুক্তি উপস্থাপন অসমাপ্ত থাকা অবস্থায় মামলার রায় অপেক্ষমান ঘোষনা করা হয়েছে। তিনি বলেন, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী জামায়াতে ইসলামীর আমির। তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী গুরুতর অনেক অভিযোগ আনা হয়েছে। এ মামলায় মৃত্যুদন্ডের বিধান রয়েছে।  যুক্তি উপস্থাপন মামলার খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যায়। কিন্তু এতবড় একটি মামলায় আমাদের যুক্তি উপস্থাপন অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম বন্ধ ঘোষনা করা হল। তারিকুল ইসলাম বলেন, হরতালের সময় হাইকোর্টেও সিনিয়র আইনজীবীরা আসেননা।
তিনি বলেন, আমরা আগামীকাল আমাদের অসমাপ্ত যুক্তি উপস্থাপনের জন্য সুযোগ চেয়ে আদেশ পুনরায় বিবেচনার জন্য আবেদন করব।

রায় অপেক্ষমান ঘোষনার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ আলী সাংবাদিকদের বলেন, মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে হত্যা, গনহত্যা, অগ্নিসংযোগ, বুদ্ধিজীবী হত্যার পরিকল্পনা এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। আমরা তার বিরুদ্ধে ২৬ জন সাক্ষী হাজির করেছি। তার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যৃদন্ড দাবি করছি আমরা।

মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয়। যুক্তি উপস্থাপনের জন্য রাষ্ট্রপক্ষের জন্য তিন দিন এবং আসামী পক্ষের জন্য চারদিন সময় নির্ধারন করে দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। আসামী পক্ষ একদিন যুক্তি উপস্থাপন করেছে এ মামলায়। এরপর হরতালজনিত পরিস্থিতিতে তাদের যুক্তি উপস্থাপন অসমাপ্ত থাকা অবস্থায় গতকাল মামলার কার্যক্রম বন্ধ ঘোষনা করে রায় অপেক্ষমান বিষয়ে আদেশ দেয়া হয়েছে।

গত বছর ২৮ মে মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে হত্যা, গনহত্যা, অগ্নিসংযোগ, স্বাধীনতাবিরোধী বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডের জন্য উসকানি, পরিকল্পনা, ষড়যন্ত্র  এবং বৃদ্ধিজীবী হত্যাসহ মোট  ১৬টি অভিযোগে চার্জ গঠন করা হয়।

মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে তদন্ত সংস্থার তদন্ত প্রতিবেদনে বুদ্ধিজীবী হত্যার অভিযোগ ছিলনা। রাষ্ট্রপক্ষ তার বিরুদ্ধে ১৬টি অভিযোগে ফরমাল চার্জ দাখিল করে। এই ১৬টি অভিযোগের মধ্যে  বুদ্ধিজীবী হত্যা বিষয়ে আলাদা কোন অভিযোগ ছিলনা। তবে ট্রাইব্যুনাল চার্জ গঠনের সময় বুদ্ধিজীবী হত্যাকে আলাদা একটি অভিযোগ হিসেবে গন্য করে চার্জ গঠন করে।

মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ  একজন তদন্ত কর্মকর্তা এবং ২ জন জব্দ তালিকার সাক্ষীসহ  মোট ২৬ জন সাক্ষী হাজির করে। এর মধ্যে সপ্তম সাক্ষী প্রদীপ কুমার দেব নামে একজন সাক্ষীকে রাষ্ট্রপক্ষ বৈরি ঘোষনা করে। কারণ সে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেয়ার সময় মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করেনি এবং মাওলানা নিজামীর নামও উচ্চারন করেনি।

অপরদিকে মাওলানা নিজামীর পক্ষে তার ছেলেসহ মোট চারজন সাক্ষী হাজির করা হয়। ট্রাইব্যুনাল আসামী পক্ষে মোট চারজন সাক্ষীর সংখ্যা নির্ধারন করে দিয়েছিল।

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়া সংক্রান্ত একটি মামলায় মাওলানা নিজামীকে ২০১০ সালের ২৯ জুন জাতীয় প্রেসকাব চত্বর থেকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর একই বছর ২ আগস্ট তাকে ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার দেখানো হয়।

সিএভি আদেশ প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন গ্রহণ করেনি ট্রাইব্যুনাল

সিএভি আদেশ প্রত্যাহার করে অসমাপ্ত  যুক্তি উপস্থাপনের সুযোগ চেয়ে আসামী পক্ষ আবেদন করেছিল। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল সে আবেদন গ্রহণ করেনি।

আসামী পক্ষের আইনজীবী তারিকুল ইসলাম আজ   বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে ট্রাইব্যুনাল রেজিস্ট্রারের কাছে যান রিকল আবেদন নিয়ে। কিন্তু রেজিস্ট্রার তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। এরপর তিনি আবেদন নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (১)  চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির এর চেম্বারে যান। বিচারপতি এটিএম ফজলে কবিরও আবেদন গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, যেহেতু  যুক্তি উপস্থাপন সমাপ্ত করে মামলার রায় অপেক্ষমান ঘোষনা করা হয়েছে তাই আপনারা শুধুমাত্র রিভিউ আবেদন করতে পারেন। তাছাড়া আইনে রিকল আবেদনের কোন বিধান নেই।

রিকল আবেদন গ্রহণ না করা বিষয়ে অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, এটা ট্রাইব্যুনালের সহজাত ক্ষমতা। আমরা অতীতে অনেক রিকল আবেদন করেছি। 


আসামী পক্ষের  বিবৃতি
যুক্তি উপস্থাপন অসমাপ্ত রেখে মামলার রায়ের তারিখ অপেক্ষমান ঘোষনা বিষয়ে আসামী পক্ষ বিবৃতি প্রদান করেছে। আসামী পক্ষের আইনজীবী তাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, যে কোন মামলায় যুক্তি  উপস্থাপন আসামীর অধিকার এবং এটি মামলাটির অতি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই অধিকার থেকে আসামী পক্ষকে বঞ্চিত করে ন্যয়বিচার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

আসামী পক্ষের আইনজীবীগন বিশেষকরে অত্র মামলার প্রধান ট্রায়াল ল’ইয়ার এ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম তার শারীরিক সমস্যার কারণে হরতাল চলাকালীন সময়ে ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে কখনই ট্রাইব্যুনালে আসতে পারেননি এবং ট্রাইব্যুনালের মাননীয় বিচারপতিগণ এই গ্রাউন্ডে সবসময়ই সময় দিয়ে এসেছেন। ডিফেন্স টিমের অন্যান্য সিনিয়র আইনজীবীগণও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কারণে হরতালের মধ্যে পেশাগত দায়িত্বপালনের জন্য ট্রাইব্যুনাল ও হাইকোর্ট সহ কোন আদালতেই কোনদিন হাজির হননি। অত্র মামলাটিতে এতদিন পর্যন্ত আসামীপক্ষকে উপোরল্লিখিত গ্রাউন্ডে সুযোগ দিলেও হঠাৎ করে যুক্তিতর্কের মত অতিগুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি না শুনেই মামলা কেন কোজ করা হল তা আমাদের বোধগোম্য নয়। আসামীপক্ষ এর মাধ্যমে মারাত্বক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয় মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের দৈনিক কার্যতালিকায় আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের মামলা গত ৪ দিন যাবত একাধারে শুনানীর জন্য থাকলেও হরতালের কারণে উক্ত মামলার শুনানী হয়নি। তাই আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই ট্রাইব্যুনালের এ আদেশের মাধ্যমে আসামীর প্রতি মারাত্বক অবিচার করা হয়েছে। অধিকন্তু দুপুরের পর পরই ট্রাইব্যুনালের এই আদেশের রি-কল চেয়ে আবেদন নিয়ে গেলে ট্রাইব্যুনারের রেজিষ্ট্রার তা গ্রহন করেননি।

নিজামীর মামলায় সিএভি আদেশ প্রত্যাহার করে অসমাপ্ত যুক্তি উপস্থাপনের সুযোগ চেয়ে আসামী পক্ষের আবেদন গ্রহণ করেনি ট্রাইব্যুনাল

মেহেদী হাসান ১৩/১১/২০১৩
জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে মামলায় সিএভি আদেশ প্রত্যাহার করে অসমাপ্ত  যুক্তি উপস্থাপনের সুযোগ চেয়ে আসামী পক্ষ আবেদন করেছিল। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল সে আবেদন গ্রহণ করেননি।

আসামী পক্ষের আইনজীবী তারিকুল ইসলাম আজ বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে ট্রাইব্যুনাল রেজিস্ট্রারের কাছে যান রিকল আবেদন নিয়ে। কিন্তু রেজিস্ট্রার তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। এরপর তিনি আবেদন নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (১)  চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির এর চেম্বারে যান। বিচারপতি এটিএম ফজলে কবিরও আবেদন গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, যেহেতু  যুক্তি উপস্থাপন সমাপ্ত করে মামলার রায় অপেক্ষমান ঘোষনা করা হয়েছে তাই আপনারা শুধুমাত্র রিভিউ আবেদন করতে পারেন। তাছাড়া আইনে রিকল আবেদনের কোন বিধান নেই।

রিকল আবেদন গ্রহণ না করা বিষয়ে অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, এটা ট্রাইব্যুনালের সহজাত ক্ষমতা। আমরা অতীতে অনেক রিকল আবেদন করেছি। 



IN THE INTERNATIONAL CRIMES TRIBUNAL-1, DHAKA

ICT-BD CASE NO.  3 of  2011
IN THE MATTER OF:
An application under Rule 46A of the International Crimes Tribunal Rules of Procedure 2010 for recall of the Order dated 13th November 2013 closing the proceedings of the instant case and further to allow the Defence to complete their concluding arguments.
AND
IN THE MATTER OF:
The Chief Prosecutor, International Crimes Tribunal, Dhaka.
                             ..........  Petitioner
-versus –
Motiur Rahman Nizami
                        ............ Opposite Party
AND
IN THE MATTER OF:
Motiur Rahman Nizami, Ameer of Bangladesh Jamaat-e-Islami, 505 Elephant Road, Mogbazar, Dhaka 1217.
                                                                   …Accused-Petitioner.
The humble petition on behalf of the Applicants above named most respectfully –

S H E W E T H:
That on 8th October 2013, the Defence counsel engaged by Accused Petitioner completed cross examination of the Investigating Officer (IO), PW-26. On 21st October 2013, the first Defence Witness, DW-1 deposed on behalf of the Accused Petitioner before this Hon’ble Tribunal. On 3rd November 2013, DW-4 completed his deposition before this Hon’ble Tribunal and the Prosecution commenced its closing arguments. On 6th November 2013, the Prosecution concluded its closing arguments.

That on 7th November 2013, the Defence commenced its closing arguments before this Hon’ble Tribunal. Thereafter, the Defence was due to make further closing submissions from 10th November 2013.

That on 9th November 2013, the Opposition political parties called a country-wide hartal (strike) for 84 hours from 6AM on 10th November 2013 to 6 PM on 13th November 2013.

That as a result of the hartals called from 10th November to 13th November 2013, it has not been possible for the learned defence counsel, Mr. Mizanul Islam to appear before this Hon’ble Tribunal on the aforesaid dates to make closing submissions in the instant case. It is stated that in view of his physical disabilities, the learned Defence Counsel, Mr. Mizanul Islam is required to move from one place to another in a wheel-chair. In such circumstances, it is stated that it is impossible for the learned Defence counsel, Mr. Mizanul Islam to travel from his residence/chambers in Paltan to the Tribunal in the absence of a suitable motor vehicle.

That it is stated that during the country-wide hartals from 10th November to 13th November 2013 there has been widespread violence in various parts of Dhaka City, including Paltan, Bijoy Nagar and Segun Bagicha. Many vehicles were torched and many people lost their lives. In the afternoon of 12th September 2013 alone, 9 commuters were burnt after a bus was burnt in the capital’s Jatrabari area. It is specifically stated that the torching of motor vehicles and buses during hartals has become a common phenomenon. In such circumstances, it has not been possible for the learned Defence Counsel to appear before the Hon’ble Tribunal on 10th, 11th, 12th and 13th November 2013 to make closing submissions in the instant case.

That furthermore, it has been the consistent practice of the superior courts of the country not to sit during hartals. Most benches of the High Court Division did not sit during the 4 day hartal from 10th November to 13th November 2013. Furthermore, the Benches of the High Court Division (which did sit during the hartals) did not dispose of any cases to the detriment of any party who could not be represented by any lawyer due to the hartals.

That it is specifically stated that the Appellate Division of the Supreme Court of Bangladesh does not also dispose of cases to the detriment of the litigants (who are not represented by their Advocates) during hartals. In this regard, it is specifically stated that although the appeal of Allama Delwar Hossain Saydee was listed in the Cause List of the Appellate Division on 10th, 11th, 12th and 13th November 2013, the matter was not taken up by the Hon’ble Supreme Court on the said dates as the learned Advocates for the Appellant, Allama Delwar Hossain Saydee were not present in court due to the hartals. Furthermore, the case of Mr. Ali Ahsan Mujahid was listed as Item No. 1 in the Cause List of the Appellate Division on 13th November 2013 ‘for Order’ as to submission of Concise Statement in the said case. However, no Advocate for the Appellant was present due to the hartals and the Hon’ble Appellate Division was pleased to adjourn the matter to 14th November 2013.

That in view of the consistent practice of the superior courts not to dispose of case to the detriment of the litigants (who are not represented by their Advocates) during hartals, it is submitted that this Hon’ble Tribunal may kindly recall its Order closing the proceedings of the case and further allow the Defence Counsels to complete their closing arguments in the instant case before this Hon’ble Tribunal.

That for the reasons as aforesaid, the Accused Petitioner prays that the Hon’ble Tribunal may be pleased to recall the Order dated 13th November 2013 closing the proceedings of the instant case and further allow the Defence to make further closing arguments in the instant case before this Hon’ble Tribunal.

That it is submitted that the Petitioner will be seriously prejudiced if the Defence Counsel are not allowed to make closing arguments on behalf of the Accused Petitioner in the instant case. On the other hand, no one will suffer any loss if the Defence is allowed to complete their concluding arguments in the instant case before this Hon’ble Tribunal.
Wherefore it is most humbly prayed that the Tribunal may graciously be pleased to recall the Order dated 13th November 2013 closing the proceedings of the instant case and further to allow the Defence to complete their concluding arguments in the instant case before the International Crimes Tribunal-1, Dhaka and pass such other or further order(s) as may deem fit and proper.
And for this act of kindness, the Applicant, as in duty bound shall ever pray.






মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে মামলায় রায় যেকোনদিন//আসামী পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন অসমাপ্ত

মেহেদী হাসান, ১৩/১১/২০১৩
জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলার রায় যেকোন দিন ঘোষনা করা হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজ  রায় ঘোষনার তারিখ অপেক্ষমান রাখা বিষয়ে আদেশ দেন। 

মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে মামলায় আসামী পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন অসমাপ্ত  অবস্থায় রায় অপেক্ষমান ঘোষনা করা হল। এ মামলার শেষ ধাপে আসামী পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন চলছিল। কিন্তু হরতালজনিত কারনে পরপর চারদিন আসামী পক্ষের সিনিয়র আইনজীবীরা  আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তাদের যুক্তি উপস্থাপন সমাপ্ত ঘোষনা করে  আজ ট্রাইব্যুনাল মামলার বিচার কার্যক্রম কোজ করেন এবং রায় অপেক্ষমান ঘোষনা করেন। তবে আসামী পক্ষ চাইলে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে তাদের অসমাপ্ত যুক্তি লিখিত আকারে জমা দিতে পারবে মর্মে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত সাত নভেম্বর বৃহষ্পতিবার মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে মামলায় আসামী পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয়। আসামী পক্ষ একদিন যুক্তি উপস্থাপনের পর রোববার থেকে চারদিনের হরতাল শুরু হয়। রোববার মাওলানা নিজামীর পক্ষে জুনিয়র আইনজীবী আসাদ উদ্দিন ট্রাইব্যুনালে  উপস্থিত হয়ে জানান হরতাল পরিস্থিতিতে  নিরাপত্তাজনতি কারনে আসামী পক্ষের সিনিয়র আইনজীবীরা ট্রাইব্যুনালে আসতে পারছেননা। তাই তিনি মামলার কার্যক্রম মুলতবি করার আবেদন করেন। ট্রাইব্যুনাল এক দিনের জন্য মুলতবি করেন। এভাবে মঙ্গলবার পর্যন্ত একই প্রেক্ষাপটে একদিন করে মোট তিনদিন মামলা মুলতবি করা হয় আসামী পক্ষের সিনিয়র আইনজীবী না থাকায়। গত মঙ্গলবারও এভাবে একদিনের জন্য আসামী পক্ষের  মুলতবি আবেদন মঞ্জুর করে ট্রাইব্যুনাল বলে দেন এটাই শেষ সুযোগ। এরপর আর মুলতবি করা হবেনা।

আজ  বুধবারও একই প্রেক্ষাপট অর্থাৎ হরতালের কারনে সিনিয়র কোন আইনজীবী হাজির হননি আসামী পক্ষে। জুনিয়র আইনজীবী তারিকুল ইসলাম এবং আসাদ উদ্দিন উপস্থিত হন। আসাদ উদ্দিন আর  একদিনের জন্য অর্থাৎ বৃহষ্পতিবার পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম মুলতবির আবেদন করে শেষবারের মত সুযোগ চান। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল আবেদন নামঞ্জুর করে  মামলার কার্যক্রম বন্ধ ঘোষনা করেন।

মুলতবি আবেদন নাকচ করে ট্রাইব্যুনাল বলেন, আমরা ন্যায় বিচারের স্বার্থে একের পর এক  মুলতবি আবেদন মঞ্জুর করেছি, তাদের সহযোগিতা পাবার জন্য। আজ আসামী পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ করার জন্য ধার্য্য ছিল। কিন্তু আজো তারা আসলেননা। কিন্তু আমরা ন্যায় বিচারের স্বার্থে আনলিমিটেড সময় অপেক্ষ করতে পারিনা। ট্রাইব্যুনাল আইনে দ্রুততার সাথে মামলার কার্যক্রম শেষ করার কথা বলা আছে। তাই আজ মুলতবি আবেদন আর গ্রহণ করা হলনা। আসামী পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন এখানে সমাপ্ত ঘোষনা করা হল।

অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালের সামনে অপেক্ষমান সাংবাদিকদের বলেন, গত চার বছরে যত হরতাল হয়েছে তার কোনদিন আসামী পক্ষের (জামায়াত নেতৃবৃন্দ)  কোন সিনিয়র আইনজীবী  ট্রাইব্যুনালে আসেননি নিরাপত্তাজনতি কারনে। ট্রাইব্যুনালও পরিস্থিতি বিবেচনায় মামলার কার্যক্রম মুলতবি করেছেন। গত তিনদিন পর্যন্ত একই প্রেক্ষাপটে তারা আসতে পারেননি এবং আমরা জুনিয়র আইনজীবীরা ট্রাইব্যুনালে এসে সময় প্রার্থনা করেছি হরতালের কারনে। তিনদিন পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। কিন্তু আজ আমাদের মুলতবি অবেদন নামঞ্জুর করে আমাদের যুক্তি উপস্থাপন অসমাপ্ত থাকা অবস্থায় মামলার রায় অপেক্ষমান ঘোষনা করা হয়েছে। তিনি বলেন, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী জামায়াতে ইসলামীর আমির। তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী গুরুতর অনেক অভিযোগ আনা হয়েছে। এ মামলায় মৃত্যুদন্ডের বিধান রয়েছে।  যুক্তি উপস্থাপন মামলার খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যায়। কিন্তু এতবড় একটি মামলায় আমাদের যুক্তি উপস্থাপন অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম বন্ধ ঘোষনা করা হল। তারিকুল ইসলাম বলেন, হরতালের সময় হাইকোর্টেও সিনিয়র আইনজীবীরা আসেননা।
তিনি বলেন, আমরা আগামীকাল আমাদের অসমাপ্ত যুক্তি উপস্থাপনের জন্য সুযোগ চেয়ে আদেশ পুনরায় বিবেচনার জন্য আবেদন করব।

রায় অপেক্ষমান ঘোষনার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ আলী সাংবাদিকদের বলেন, মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে হত্যা, গনহত্যা, অগ্নিসংযোগ, বুদ্ধিজীবী হত্যার পরিকল্পনা এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। আমরা তার বিরুদ্ধে ২৬ জন সাক্ষী হাজির করেছি। তার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যৃদন্ড দাবি করছি আমরা।

মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে হত্যা, গনহত্যা, অগ্নিসংযোগ, বুদ্ধিজীবী হত্যার পরিকল্পনা ষড়যন্ত্রসহ স্বাধীনতাবিরোধী বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডের জন্য উসকানি এবং পরিকল্পনার ১৬টি অভিযোগে চার্জ গঠন করা হয়েছিল।
মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে তদন্ত সংস্থার তদন্ত প্রতিবেদনে বুদ্ধিজীবী হত্যার অভিযোগ ছিলনা। রাষ্ট্রপক্ষ তার বিরুদ্ধে ১৬টি অভিযোগে ফরমাল চার্জ দাখিল করে। এই ১৬টি অভিযোগের মধ্যে  বুদ্ধিজীবী হত্যা বিষয়ে আলাদা কোন অভিযোগ ছিলনা। তবে ট্রাইব্যুনাল চার্জ গঠনের সময় বুদ্ধিজীবী হত্যাকে আলাদা একটি অভিযোগ হিসেবে গন্য করে চার্জ গঠন করেন। গত বছর ২৮ মে মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে হত্যা, গনহত্যা, অগ্নিসংযোগ, স্বাধীনতাবিরোধী বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডের জন্য উসকানি, পরিকল্পনা, ষড়যন্ত্র  এবং বৃদ্ধিজীবী হত্যাসহ মোট  ১৬টি অভিযোগে চার্জ গঠন করা হয়।
মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে তদন্ত সংস্থার তদন্ত প্রতিবেদনে বুদ্ধিজীবী হত্যার অভিযোগ ছিলনা। রাষ্ট্রপক্ষ তার বিরুদ্ধে ১৬টি অভিযোগে ফরমাল চার্জ দাখিল করে। এই ১৬টি অভিযোগের মধ্যে  বুদ্ধিজীবী হত্যা বিষয়ে আলাদা কোন অভিযোগ ছিলনা। তবে ট্রাইব্যুনাল চার্জ গঠনের সময় বুদ্ধিজীবী হত্যাকে আলাদা একটি অভিযোগ হিসেবে গন্য করে চার্জ গঠন করে।
মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ  একজন তদন্ত কর্মকর্তা এবং ২ জন জব্দ তালিকার সাক্ষীসহ  মোট ২৬ জন সাক্ষী হাজির করে। এর মধ্যে সপ্তম সাক্ষী প্রদীপ কুমার দেব নামে একজন সাক্ষীকে রাষ্ট্রপক্ষ বৈরি ঘোষনা করে। কারণ সে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেয়ার সময় মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করেনি এবং মাওলানা নিজামীর নামও উচ্চারন করেনি।
অপরদিকে মাওলানা নিজামীর পক্ষে তার ছেলেসহ মোট চারজন সাক্ষী হাজির করা হয়। ট্রাইব্যুনাল আসামী পক্ষে মোট চারজন সাক্ষীর সংখ্যা নির্ধারন করে দিয়েছিল।
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়া সংক্রান্ত একটি মামলায় মাওলানা নিজামীকে ২০১০ সালের ২৯ জুন জাতীয় প্রেসকাব চত্বর থেকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর একই বছর ২ আগস্ট তাকে ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার দেখানো হয়।

আসামী পক্ষের  বিবৃতি
যুক্তি উপস্থাপন অসমাপ্ত রেখে মামলার রায়ের তারিখ অপেক্ষমান ঘোষনা বিষয়ে আসামী পক্ষ বিবৃতি প্রদান করেছে। আসামী পক্ষের আইনজীবী তাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, যে কোন মামলায় যুক্তি  উপস্থাপন আসামীর অধিকার এবং এটি মামলাটির অতি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই অধিকার থেকে আসামী পক্ষকে বঞ্চিত করে ন্যয়বিচার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

আসামী পক্ষের আইনজীবীগন বিশেষকরে অত্র মামলার প্রধান ট্রায়াল ল’ইয়ার এ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম তার শারীরিক সমস্যার কারণে হরতাল চলাকালীন সময়ে ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে কখনই ট্রাইব্যুনালে আসতে পারেননি এবং ট্রাইব্যুনালের মাননীয় বিচারপতিগণ এই গ্রাউন্ডে সবসময়ই সময় দিয়ে এসেছেন। ডিফেন্স টিমের অন্যান্য সিনিয়র আইনজীবীগণও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কারণে হরতালের মধ্যে পেশাগত দায়িত্বপালনের জন্য ট্রাইব্যুনাল ও হাইকোর্ট সহ কোন আদালতেই কোনদিন হাজির হননি। অত্র মামলাটিতে এতদিন পর্যন্ত আসামীপক্ষকে উপোরল্লিখিত গ্রাউন্ডে সুযোগ দিলেও হঠাৎ করে যুক্তিতর্কের মত অতিগুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি না শুনেই মামলা কেন কোজ করা হল তা আমাদের বোধগোম্য নয়। আসামীপক্ষ এর মাধ্যমে মারাত্বক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয় মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের দৈনিক কার্যতালিকায় আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের মামলা গত ৪ দিন যাবত একাধারে শুনানীর জন্য থাকলেও হরতালের কারণে উক্ত মামলার শুনানী হয়নি। তাই আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই ট্রাইব্যুনালের এ আদেশের মাধ্যমে আসামীর প্রতি মারাত্বক অবিচার করা হয়েছে। অধিকন্তু দুপুরের পর পরই ট্রাইব্যুনালের এই আদেশের রি-কল চেয়ে আবেদন নিয়ে গেলে ট্রাইব্যুনারের রেজিষ্ট্রার তা গ্রহন করেননি।





মঙ্গলবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১৩

মাওলানা নিজামী মামলায় কাল থেকে যুক্তি উপস্থাপন শুরু

২৯/১০/২০১৩
জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে মামলায় কাল থেকে যুক্তি উপস্থাপন শুরু হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজ যুক্তি উপস্থাপনের এ দিন ধার্য্য করেন। প্রথমে রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তি উপস্থাপন করবে।

যুক্তি উপস্থাপন মামলার শেষ ধাপে হয় এবং যুক্তি উপস্থাপনের মাধ্যমে মামলার সমস্ত বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। যুক্তি উপস্থাপন শেষে  রায় ঘোষনার তারিখ নির্ধারন করা হয় ।

তবে কাল থেকে যুক্তি উপস্থান শুরু হলেও মাওলানা নিজামীর পক্ষে  চতুর্থ সাক্ষী তার ছেলে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান ওরফে নাজিব মোমেন তার অসমাপ্ত সাক্ষ্য প্রদানের সুযোগ পাবেন। প্রথমে সকালে তার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বিকালের সেশনে যুক্তি উপস্থাপন শুরুর জন্য ধার্য্য করেন আদালত।

গত বৃহষ্পতিবার  চতুর্থ সাক্ষী নাজিবুর রহমান ওরফে নাজিব মোমেন এর সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয় । কিন্তু রোববার থেকে হরতাল শুরু হওয়ায় আসামী পক্ষের সিনিয়র আইনজীবী এবং সাক্ষী আদালতে উপস্থিত হওয়া থেকে বিরত থাকেন। গত রোববার আসামী  পক্ষে জুনিয়র আইনজীবী আসাদ উদ্দিন সময় প্রার্থনা করে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি শেষ না হওয়া পর্যন্ত মুলতিব প্রার্থনা করেন। আদালত সোমবার পর্যন্ত মুলতিব করেন। সোমবারও একই প্রেক্ষাপটে আসাদ উদ্দিন সময় প্রার্থনা করেন আদালতের কাছে। তখন আদালত ঐদিনের মত আবেদন গ্রহণ করে আদেশে বলেন মঙ্গলবার সাক্ষী আনা না হলে যুক্তি উপস্থাপন শুরু হবে।
আদেশ অনুযায়ী আজও আসামী পক্ষের সাক্ষী এবং সিনিয়র আইনজীবী উপস্থিত না হওয়ায় যুক্তি উপস্থাপনের তারিখ ধার্য্য করেন আদালত। তবে আসামী পক্ষকে সাক্ষ্য প্রদান শেষ করারও সুযোগ রাখেন আদালত। সকালের সেশনে আসামী পক্ষে সর্বশেষ এবং চতুর্থ সাক্ষী তার জবানবন্দী প্রদান শেষ করতে পারবেন বলে আদেশে  উল্লেখ করেন আদালত।

আজ সকালে আসামী পক্ষে জুনিয়র আইনজীবী আসাদ উদ্দিন মুলতবি আবেদনের দরখাস্ত দিয়ে বলেন আগের দুইদিন যে প্রেক্ষাপটে তারা দরখাস্ত করেছেন এবং আদালত তা গ্রহণ করেছেন সেই একই প্রেক্ষাপট এখনো বিরাজ করছে। তাই ন্যায় বিচারের স্বার্থে আর একদিনের জন্য হলেও মুলতবি আবেদন করেন তিনি। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের বিচার শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত যত হরতাল হয়েছে তার কোনটিতেই নিরাপত্তার কারনে আসামী পক্ষের কোন সিনিয়র আইনজীবী কোর্টে আসেননি এবং তাদের পক্ষে সাফাই সাক্ষীও হাজির করেনি। সে ধারা মোতাবেক আজো তারা অনুপস্থিত এবং তাদের পরামর্শ মোতাবেক তিনি মুলতবি আবেদন পেশ করেছেন কোর্টে।

মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ মোট ২৬ জন সাক্ষী হাজির করে। এর মধ্যে একজন সাক্ষী কোর্টে সাক্ষ্য দেয়ার সময় তাকে রাষ্ট্রপক্ষ বৈরি সাক্ষী ঘোষনা করে।
অপর দিকে মাওলানা নিজামীর পক্ষে আদালতের বেঁধে দেয়া সংখ্যা অনুযায়ী চারজন সাক্ষী  হাজির করা হয়।
১৯৭১ সালে হত্যা, গনহত্যাসহ মানবতাবিরোধী মোট ১৬ টি অভিযোগে চার্জ গঠন করা হয় মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে । তবে একটি অভিযোগের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষ কোন সাক্ষী হাজির করেনি।