স্কাইপ কেলেঙ্কারি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
স্কাইপ কেলেঙ্কারি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৩

অসদাচরনের অভিযোগ // জেয়াদ আল মালুমের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের

মেহেদী হাসান, ২৪/১০/২০১৩
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জেয়াদ আল মালুমের বিরুদ্ধে পেশাগত অসদাচরনের অভিযোগে শোকজ নোটিশ জারি করেছে  বাংলাদেশ বার কাউন্সিল।

আগামী সাত নভেম্বরের মধ্যে অভিযোগের জবাব প্রদানের জন্য সময় নির্ধারন করে আজ  এ নোটিশ জারি করা হয়।

ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্ত্রী ফরহাত কাদের চৌধুরী গত বছর ৩১ ডিসেম্বর জেয়াদ আল মালুমের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল বরাবর অভিযোগ করেন। স্কাইপ কেলেঙ্কারির  জের ধরে গুরুতর পেশাগত অসদাচরনের অভিযোগ এনে  জেয়াদ আল মালুমের আইনজীবী সনদ বাতিলের আবেদন করেন তিনি। এছাড়া স্কাইপ কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত থাকা এবং বিচার নিয়ে প্রহসন করার অভিযোগে জেয়াদ আল মালুমের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনেরও দাবি জানানো হয় দরখাস্তে। এ আবেদনের প্রক্ষিতে আজ  বার কাউন্সিল তার বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করল অভিযোগের বিষয়ে তার জবাব চেয়ে। সময়মত জবাব দাখিলে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে বার কাউন্সিলের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

অসদাচরনের অভিযোগ :
বাংলাদেশ বার কাউন্সিল বরাবর গত বছর ফরহাত কাদের চৌধুরীর দায়ের করা আবেদনে তিনি বলেন, আমার স্বামী সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ বিচারের মুখোমুখি। জেয়াদ আল মালুম তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের মুখ্য আইনজীবী। ট্রাইব্যুনালের সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম এবং বেলজিয়ামের ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনের যে স্কাইপ সংলাপ দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে তাতে  জেয়াদ  আল মালুমের বিরুদ্ধে গুরুতর অসদাচরনের প্রমান  রয়েছে।  জেয়াদ আল মালুম গোপনে ট্রাইব্যুনালের বিচারপতির সাথে বৈঠক করেছেন বিচার নিয়ে। আসামীর মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করার জন্য  কোন কোন সাক্ষী আনতে হবে, কোন সাক্ষী বাদ দিতে হবে এবং  সাক্ষীকে দিয়ে কি বলাতে হবে সে বিষয়ে তিনি সাক্ষীদের প্রশিক্ষন প্রদান করেছেন; বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমসহ বিভিন্ন মহলের সাথে গোপন আতাত করেছেন। কিভাবে প্রকাশ্য ট্রাইব্যুনালে বিচারের নামে নাটক করবেন এবং মানুষকে দেখাবেন যে, এখানে ন্যায় বিচার হয়েছে সে বিষয়ে বিচারপতি নিজামুল হকের রুমে গিয়ে আলোচনা করেছেন।  একজন আইনজীবী হিসেবে  জেয়াদ  আল মালুমের এ ধরনের কাজ বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে কর্তৃক আইনজীবীদের জন্য প্রণীত  আচরন বিধির লঙ্ঘন এবং গুরুতর অসদাচরনের শামিল।

বিচারপতি নিজামুল হক এবং ড. জিয়াউদ্দিন জেয়াদ আল মালুমের সাথে সাক্ষী নির্বাচন নিয়েই শুধু তারা আলোচনা করেননি বরং সাক্ষীকে দিয়ে কি বলাতে হবে সে বিষয়ে আলোচনা করেছেন। সাবেক সেনা প্রধান জেনারেল শফিউল্লাহ একজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হওয়া সত্ত্বেও তাকে  ট্রাইব্যুনালে আনা হয়নি। কারণ তাকে জেয়াদ আল মালুম অন্যান্য সাক্ষীদের মত প্রশিক্ষন দিয়ে নিয়ন্ত্রন করতে পারবেনা।  তার ওপর জেয়াদ আল মালুমের  নিয়ন্ত্রন থাকবেনা।  তিনি তাদের নির্দেশ মত সাক্ষ্য দিতে রাজি হবেননা। ফলে সাক্ষীর মুখ দিয়ে  এমন কিছু বের হয়ে  যেতে পারে যা আসামী পক্ষে চলে যেতে পারে এবং বিরাট সমস্যা হতে পারে রাষ্ট্রপক্ষের জন্য। সেকারনে তাকে সাক্ষী হিসেবে আনা হয়নি।  বিচারপতি নিজামুল হক  এবং ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনের সম্মতিতে তাকে সাক্ষী হিসেবে  না আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জেয়াদ আল মালুম। এ বিষয়ে আলোচনা রয়েছে স্কাইপ সংলাপে। সুতরাং আসামীকে ফাঁসানোর জন্য জেয়াদ আল মালুম শুধু সাক্ষী বাছাই, সাক্ষী বাদ দেয়ার কাজ করেছেন তাই নয় বরং তাদের প্রশিক্ষন দিয়ে কোর্টে নিয়ে এসেছেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং ট্রাইব্যুনাল মিলে প্রকাশ্য কোর্টে  নাটক মঞ্চস্ত করেছেন  ।  ট্রাইব্যুনালের গোটা বিচার কাজই ছিল এ ধরনের একটি সাজানো নাটক। বিচারপতি নিজামুল হকের রুমে গিয়ে জেয়াদ আল মালুম বলেছেন আমি কোর্টে দাড়িয়ে যাব আর আপনি আমাকে ধমক দিয়ে বসিয়ে দেবেন।  যাতে লোকে বুঝতে পারে আমাদের মধ্যে কোন  খাতির নেই।

সাক্ষী সুলতানা কামাল বিষয়ে স্কাইপ সংলাপে বলা আছে তাকে সমস্ত এভিডেন্স দেয়ার পর তিনি বুঝে গেছেন কি বলতে হবে। এছাড়া বেশ কয়েকবার তার সাথে আলোচনা হয়েছে  কিভাবে সাক্ষ্য দেয়া হবে  সে বিষয়ে।  সুলতানা কামালসহ অন্যান্য সাক্ষীদের প্রশিক্ষন এবং জেনারেল শফিউল্লাহ তাদের নির্দেশত সাক্ষ্য দিতে রাজি হবেননা বিধায় তাকে বাদ দেয়ার মাধ্যমে জেয়াদ আল মালুম বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে   অধ্যায়-১১১ এ বর্নিত আইনজীবীদের পেশাগত আচরন লঙ্ঘন করেছেন এবং  এটি গুরুতর অসদাচরনের শামিল।

১১১ অধ্যায়ে বর্নিত আছে ‘পাবলিক প্রসিকিউশনের একজন আইনজীবীর প্রথম  কর্তব্য হল আসামীকে দন্ডিত করা নয় বরং ন্যায় বিচার হচ্ছে কি-না তা দেখা। আসামীকে নির্দোষ প্রমানে সহায়ক হতে পারে এমন তথ্য প্রমান চেপে রাখা এবং সাক্ষী গোপন করা গুরুতর দুষনীয় কাজ।’

সাক্ষীকে প্রশিক্ষন দেয়া এবং সাক্ষী গোপন করার ফলে আসামীর  মৃত্যুদণ্ড হতে পারত। আসামীর  মৃত্যুদন্ড নিশ্চিত করার জন্য সে সাক্ষী গোপন করেছেন, তথ্য প্রমান চেপে রেখেছেন এবং সাক্ষী প্রশিক্ষনের কাজ  করেছে।   এ কারনে  জেয়াদ আল মালুুমের আইনজীবী খারিজ করা অপরিহার্য।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়-স্কাইপ সংলাপের এক স্থানে  ড. জিয়াউদ্দিন বলছেন, প্রসিকিউশনের কৌশল শুধু পাঁচ জনের জানা উচিত। তিনি থেকে চার জন মুল আইনজীবী এবং অন্য দুজন (বিচারপতি নিজামুল হক এবং  ড. জিয়াউদ্দিন নিজে)  জানবে বিষয়টি। জিয়াউদ্দিন আরো বলছেন তাদের (বিচারপতি নিজামুল হক এবং জিয়াউদ্দিন) মালুমকে সাপোর্ট দিতেই হবে। স্কাইপ সংলাপের ১২ টি স্থানে জিয়াউদ্দিন এবং বিচারপতি নিজামুল হক একজন আরেকজনকে প্রশ্ন করেছেন অমুক বিষয়ে জেয়াদ  আল মালুমের সাথে  আলোচনা করেছেন কি-না।  এসব থেকে বোঝা যায়  জেয়াদ আল মালুম নিয়মিত গোপন আতাত করতেন বিচারপতি নিজামুল   হকের  সাথে। এভাবে জেয়াদ আল মালুম ট্রাইব্যুনালের বিচারকে কলুষিত করার পেছনে কাজ করেছেন।  জেয়াদ আল মালুম ন্যায়বিচার এবং  স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার পথে একটি অন্তরায়। এ কারনে  তার আইনজীবী সনদ খারিজ করা উচিত বলে ফরহাত কাদের চৌধুরীর দরখাস্তে উল্লেখ করা হয়েছে। 

শুক্রবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

The trial of the birth of a nation



This week the chairman of Bangladesh’s International Crimes Tribunal resigned. We explain the background to his action, our role in the story, and what it all means for his country’s search for justice

Dec 15th 2012 | from the print edition

BANGLADESH suffered a violent birth. In the last days of 1971 the country then called East Pakistan was engulfed by torture, rape, mass-killing and other acts of genocide. The main perpetrators were Pakistani troops bent on preventing secession from “West Pakistan”. But the army had the support of many of East Pakistan’s fundamentalist groups, including Jamaat-e-Islami, which remains Bangladesh’s largest Islamic party. Estimates of the death toll vary from around 300,000 to the current government’s reckoning of 3m—one in 20 of the population at that time.
In 2010 Bangladesh established a tribunal to try those accused of war crimes. It is called the International Crimes Tribunal, though it is not an international court in the sense of being founded on international law. Rather it is a national court, based on a Bangladeshi statute passed in 1973 and amended in 2009 and 2012. It was very late to begin the search for justice, for the accused as well as for victims. But war crimes are subject to no statute of limitation.
The main perpetrators are not in the dock, since they are either dead or living in Pakistan. But some suspects are still leading prominent lives in Bangladesh. Ten people have been arrested and charged with offences ranging from individual acts of rape and murder to the ordering of mass executions. This week the first case—that of Delwar Hossain Sayeedi, a member of parliament in 1996-2008 and a leader of Jamaat—seemed to be moving towards its fatal conclusion. His conviction, and presumed death sentence, was widely expected in mid-December.
At the last moment, however, the presiding judge, Mohammed Nizamul Huq, resigned as chairman of the tribunal, following questions put to him by The Economist and the publication in Bangladesh of private e-mails which cast doubt upon his role and upon the court proceedings. Recordings of him speaking by telephone were also available on YouTube. The Economist has seen these, and other materials, and has been investigating their accuracy and significance. This week, we publish the results of those investigations.
The e-mails and phone conversations we have seen raise profound questions about the trial. The material suggests the government tried to put pressure on Mr Nizamul, albeit he seems to have resisted it. It seems to show he worked improperly with a lawyer based in Brussels, and that the lawyer co-operated with the prosecution—raising questions about conflicts of interest. And in Mr Sayeedi’s case it points to the possibility that, even before the court had finished hearing testimony from the defence witnesses, Mr Nizamul was already expecting a guilty verdict.
These concerns are so serious that there is a risk not only of a miscarriage of justice affecting the individual defendants, but also that the wrongs which Bangladesh has already suffered will be aggravated by the flawed process of the tribunal. That would not heal the country’s wounds, but deepen them.
As well as being about the birth of the nation, the war-crimes trial also has enormous significance to today’s politics in Bangladesh. In the general election of 2008 the current prime minister, Sheikh Hasina, campaigned on a promise to set up the tribunal. The men in the dock include leaders or former leaders of Jamaat, which is allied with the main opposition group, the Bangladesh Nationalist Party (BNP), led by Sheikh Hasina’s bitter foe, Khaleda Zia. Since Mrs Zia cannot win power without support from Jamaat, many people doubt that she would continue with the trials should she become prime minister. She has already condemned them as a “mockery”. Backers of the trials therefore wanted them wrapped up before the next general election, which is due around the end of 2013.
The 1973 act says that “if, in the course of the trial, any one of the members of the Tribunal is, for any reason, unable to attend to any sitting thereof, the trial may continue before the other members.” The evidence we have seen, though, suggests that a full reconsideration of proceedings may now be required.
“Absolutely crazy for a judgment”
The first part of that evidence raises questions about the government’s behaviour. It suggests the tribunal came under political pressure to speed proceedings up, even though Bangladesh guarantees the independence %of the judiciary. In a conversation of October 14th, between Mr Nizamul and Ahmed Ziauddin, the Brussels-based lawyer of Bangladeshi origin, the judge refers to the government as “absolutely crazy for a judgment. The government has gone totally mad. They have gone completely mad, I am telling you. They want a judgment by 16th December...it’s as simple as that.” December 16th, known as Victory Day in Bangladesh, is the anniversary of the surrender by Pakistani forces in the war of independence.
So determined was the government to hurry matters along that Mr Nizamul and Mr Ziauddin worried that ministers were pushing too hard. “We have to make them understand that it [the verdict] is not a product that you just ask for it and it will be delivered from the machine,” Mr Ziauddin said later in that same conversation.“But we are not in a position to make them understand. Even then we have to try, we have to speak to them.”
It is one thing to push for an early verdict, another to attempt to intervene in the trial to secure one. That seems to have happened, too. In a conversation the next day, Mr Nizamul described how a member of the government “came to visit me this evening. He asked me to pass this verdict fast. I told him ‘how can I do that?’... He said, ‘Try as quick as you can.’”
In a phone interview on 5th December, the judge denied that he had come under political pressure and declared he was master of his own court. “We do proceed according to our own wish,” he said. “We are following our own proceeding according to our own system and own choice.”
Elsewhere in the material we were shown, however, it is Mr Nizamul’s independence that is in question. He is a Supreme Court judge and remains one after resigning as chairman of the tribunal. (A tribunal has between three and five judges; there is no jury.) Mr Ziauddin, the man he is communicating with, is an expatriate Bangladeshi who is an academic specialising in international law. He is the director of the Bangladesh Centre for Genocide Studies in Belgium. The two men have known each other for 25 years, as they were human-rights campaigners and Mr Ziauddin’s late brother had been a student friend of the judge.
The adviser
In the material shown to us, Mr Ziauddin emerges as an important figure in the trial—offering advice, urging Mr Nizamul to do this or that, and supplying him with news and drafts of court documents. In general, judges are required to be extremely careful about discussing details of cases with third parties because that could lead to bias or the impression that they have come under the influence of someone who has nothing to do with the proceedings. This requirement is embodied in Bangladesh’s constitution, which says “the chief justice and other judges shall be independent in the exercise of their judicial functions.” The judges’ code of conduct confirms that “an independent judiciary is indispensable to the justice system in Bangladesh.”
Perhaps, however, there are extenuating circumstances in this particular case. Though the tribunal is a domestic court, its officers seem eager to measure up to the standards set by international war-crimes tribunals. The tribunal is short of resources. It might be understandable if Mr Nizamul quietly talked to an international expert in order to improve the quality of the tribunal’s work.
That is what Mr Nizamul argued. The order of December 6th explains that the tribunal is based on “new law”, so the judges needed to “take the assistance of researchers from inside and outside the country”. It names Mr Ziauddin as just such an expert. “During the proceedings of the trial and order the Chairman also took assistance from him,” it says.
Speaking to The Economist on December 4th, Mr Ziauddin said something similar. “It’s up to judges to decide where they are going to get research support or other support they need. They are quite entitled to do it. The more so when they really don’t have that research backup [in Bangladesh]. [They ask for help] if they feel if there are people more informed about the issue, especially where [international law] is so new in Bangladesh...I’m not really advising him, but if there is a question then I try to respond.”
Yet the characterisation in the order and from Mr Ziauddin contradicts what the judge told us in an interview on December 5th. On the evening before issuing the order, Mr Nizamul admitted that he and Mr Ziauddin talk but denied that the expatriate had a part in preparing documents. “As judges, we cannot take help from third person and outsiders,” he said. Asked whether they sometimes exchange e-mails about the tribunal, he says “No, no, no, regarding tribunal...no talks regarding the judgment or regarding the proceedings, no.” Later he said, “A Supreme Court judge, we do not talk even with our wife regarding the tribunal.”
In his interview on the previous day, Mr Ziauddin also took the view that judges must be careful about speaking to third parties during a trial. He told us that he has “No official standing [with the court]. No relationship whatsoever.” He can send the judge messages if he wants—but “generally though I don’t,” he said, “he’s a judge after all.”
Of course, judges can take advice. But any adviser is usually given an official role, known to prosecution and defence. Also as a general rule, advisers tend to stick to their areas of expertise—giving advice on knotty points of law, for example.
Mr Ziauddin does not seem to meet these requirements. Before the tribunal’s order on 6th December his role had not been disclosed to the court or the public. And his advice seems to go beyond particular points of law to include, for example, the drafting of charges. The 17 hours of conversations available to The Economist took place between August 28th and October 20th this year—the equivalent of almost 20 minutes every day. The two men also exchanged more than 230 e-mails in the 12 months to September. Many of these contacts suggest that Mr Ziauddin was involved in aspects of the trial that go beyond what would be permitted to a court adviser or anyone else. Each particular accusation might appear to be modest, or might be explained away. Taken together, they suggest a disturbing pattern.
First, Mr Ziauddin appears to have helped prepare documents for the tribunal, which the judge said would be improper. On May 12th the Brussels-based lawyer sent Mr Nizamul a document called “GhulamAzamChargesFinalDraft”; it was a slightly revised version of a charge sheet he had sent six days earlier. The next day, May 13th, the tribunal issued its indictment against Mr Azam, whom the two men usually refer to as “the big one”. It was identical to Mr Ziauddin’s document. In interviews with us, both men denied that Mr Ziauddin helped prepare documents for the court.
Second, their discussions ranged beyond the realm of technical advice. On September 6th Mr Nizamul said: “I am a bit afraid about Shahinur [Shahinur Islam, a tribunal judge]. Because he is too inclined to the international standard. It...was in my mind—and prosecutors also complained to me—that he brought the references of foreign tribunals in every order.” Mr Ziauddin replied, “he has to be stopped from doing that or he has to be removed from there...If he does not stop he has to go as well, because it is so harmful to us.” Here, Mr Ziauddin talks as if he can recommend the dismissal of judges.
“Very anxious”
Again, on November 26th 2011 Mr Nizamul (who is known informally as Nasim) sent Mr Ziauddin an e-mail about an important defence petition. His message reads in full: “Subject: Order. not yet received. very anxious. please send by this night bd [Bangladesh] time, otherwise, i will follow my own one. Nasim.” Mr Nizamul’s e-mail suggests that he considered Mr Ziauddin’s arguments to have primacy over his own.
Third, material we have seen suggests that Mr Ziauddin was communicating with the prosecution and judge about the same issues at the same time. On November 8th 2011 he e-mailed Mr Nizamul a list of matters raised by a defence petition that the judge recuse himself from the trial. The first five items on the list are materials and documents that, the e-mail says, were to be supplied to Mr Nizamul by Zaed-al-Malum, the chief prosecutor at the tribunal. It was perfectly proper for the judge to receive such materials, which do not appear to concern matters that might be disputed in court. It is also possible that the prosecutor was the person best placed to supply them. Even so, it is curious that, on a matter of procedure, the chief prosecutor is being asked to help by someone who is also advising the judge.
The connection between judge, prosecution and adviser seemed to have continued. On December 11th 2011 Mr Ziauddin sent an e-mail to two prosecutors, including Mr Malum, apparently giving help with the case against Mr Azam and tips on how to present their arguments. He forwarded this advice to Mr Nizamul the same day. Speaking to us, Mr Ziauddin acknowledged knowing Mr Malum, who is acting for his family in unrelated matters. But he denies improper contact about the cases before the tribunal, and Mr Malum has not replied to our inquiries.
The material we have seen therefore suggests three things: that Mr Ziauddin had an influence over how the prosecution framed its case and how the court framed its indictment; that Mr Ziauddin told the judge in his December 2011 e-mail about how prosecutors might develop their case; and that after the prosecutors laid their charges, the judge accepted guidance about the formal accusations from Mr Ziauddin directly.
Lastly, in the case of Mr Sayeedi, an e-mail from Mr Ziauddin to Mr Nizamul refers to a shared Google document called “Sayeedi judgment”. This document says “last edit was made on October 14”. At this time, Mr Sayeedi’s lawyers were still presenting his defence to the court. The document consists of a series of subjects (“list of testimonies”, “procedural history”; “challenges”, etc). Presumably details were to be filled in later. The final headings, and the only two in capitals, read: “CONVICTION/BASIS” and “SENTENCING”.
Courts often start work on long judgments before the end of a trial and Mr Nizamul could have amended his structure to replace “conviction” with “acquittal”. However, on his own showing, that was not what was happening. He denied to us he had been working on the document in October. “Delwar Hussain’s judgment has not been even started then,” he said.
Legitimate questions
The judge called our allegations “absolutely absurd” and “all false”. Mr Ziauddin argued there were other explanations for our findings but—after the court order telling The Economist to appear before it—said he would make no further comment. We do not believe he has broken any laws and cannot be held responsible for the actions of others. In addition, our investigations have not covered any aspect of the defence’s approach to this tribunal. Nevertheless, we believe that, taken together, the material shown to us raises legitimate questions about due process that the Bangladeshi authorities should now investigate thoroughly. These investigations are the more urgent in the light of Mr Nizamul’s resignation.

আদালত অবমাননার অভিযোগের জবাব দাখিল করেছে ইকোনমিস্ট

২৫/৩/২০১৩
আদালত অবমাননার অভিযোগে লন্ডন থেকে প্রকাশিত বিশ্বখ্যাত সাময়িকী ‘দি ইকোনমিস্ট’ এর বিরুদ্ধে জারি করা রুলের জবাব  জমা দিয়েছে ইকোনমিস্ট। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ ইকোনমিস্টের পক্ষে নিয়োজিত আইনজীবী ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান লিখিত জবাব জমা দিয়েছেন। লিখিত জবাবে আদালত অবমাননার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইকোনমিস্ট।

ট্রাইব্যুনাল-১ এর সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের স্কাইপ কথোপকথন এবং ইমেইল একাউন্ট হ্যাক করা ডকুমেন্ট হস্তগত করার জের ধরে ইকোনমিস্ট এর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করে ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি নিজামুল হক চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় ইকোনমিস্ট এর বিরুদ্ধে রুল জারি করে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে অর্জিত ডকুমেন্ট প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। একই সাথে তাদের বিরুদ্ধে  কেন আদালত অবমাননার অভিযোগে ব্যবস্থা নেয়া হবেনা সেজন্য ব্যাখ্যা দাবি করা  হয়।

এদিকে আজ   ট্রাইব্যুনাল-১ এ সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে সাক্ষীর জেরা অব্যাহত ছিল।

স্কাইপ সংলাপ হ্যাকিংয়ে ইকোনমিস্ট দায়ী নয়

১৪/৫/২০১৩
লন্ডন ভিত্তিক সাময়িকী দি  ইকোনমিস্টোর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল-১ কর্তৃক  জারি করা আদালত অবমাননা নোটিশের  ওপর শুনানী অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইকোনমিস্ট’র পক্ষে ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান খান শুনানীতে অংশ নিয়ে বলেন, ট্রাইব্যুনালের সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি  নিজামুল হকের স্কাইপ সংলাপ এবং ২৩০টি ইমেইল ডকুমেন্ট ইকোনমিস্ট কর্তৃপক্ষ তৃতীয় একটি পক্ষের কাছ থেকে লাভ করে। কাজেই স্কাইপ সংলাপ হ্যাকিংয়ের জন্য ইকোনমিস্ট দায়ী। প্রাপ্ত ডকুমেন্ট এর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ইকনোমিস্ট সোর্সের সাথে যোগাযোগ করেছে। কিন্তু গোপনীয়তার স্বার্থে কর্তৃপক্ষ সূত্র প্রকাশ করতে বাধ্য নয়। ব্রিটেনের আইনে সে সুরক্ষা প্রদান করা আছে।

ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রম  নিয়ে বেলজিয়ামের ড. আহমদ জিয়া উদ্দিনের সাথে বিচারপতি নিজামুল হকের স্কাইপ সংলাপ এবং ইমেইল ডকুমেন্ট হাতে পাওয়ার পর ইকোনমিস্ট এর সাংবাদিক বিচারপতি নিজামুল হকের সাথে টেলিফোনে কথা বলেন এর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য। এ প্রেক্ষিতে গত বছর ৬ ডিসেম্বর বিচারপতি নিজামুল হক ইকোনমিস্টের বিরুদ্ধে আদালত অবমনানা বিষয়ে নোটিশ জারি করেন  বিচারপতি নিজামুল হকের   ইমেইল, স্কাইপি একাউন্টস এবং  কম্পিউটর  থেকে যেসব তথ্য সংগ্রহ  করা হয়েছে তা প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় এবং  গোপন রাখার নির্দেশ দেয়া হয় ইকোনমিস্ট এর বিরুদ্ধে।
আদেশে বলা হয়, ইমেইল, স্কাইপি, কম্পিউটার হ্যাক করা, চেয়ারম্যানের কাছ থেকে অবৈধভাবে ব্যক্তিগত গোপনীয় তথ্য সংগ্রহ করা   ব্যক্তিগত গোপনীয়তার লঙ্ঘন এবং  বাংলাদেশের সুপ্রীম কোর্টের একজন বিচারপতিকে প্রভাবিত করার শামিল। টেলিফোনে চেয়ারম্যানের সাথে যিনি এ বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি  নিজেকে চেয়ারম্যানের সাথে কথপোকথনে লিপ্ত করেছেন এবং আইন অনুযায়ী তিনি এটি পারেননা।
তাই বিচারকাজে বাঁধা সৃষ্টি এবং হস্তক্ষেপ এর অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননা বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবেনা সে মর্মে ব্যাখ্যা দানের নির্দেশ দেয়া হয়।

শুনানীর সময় ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমানকে ট্রাইব্যুনাল প্রশ্ন করেন, বিচারকের সাথে সাংবাদিকের কথা বলা অপরাধ কি-না। 
মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে এ বিষয়ে কোন আইন নেই এবং কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনেরও কোন নজির নেই। বিচারপতি ফয়সাল মাহমুদ ফয়েজীর  সাথে  দৃটি পত্রিকার সাংবাদিক কথা বলে রিপোর্ট করেছিলেন। সে ক্ষেত্রে আপিল বিভাগ  একটি পর্যবেক্ষন দিয়ে বলেছিলেন সাংবাদিকরা রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে কথা বলতে পারতেন বিচারকের কাছে কোন কিছু জানতে চাওয়ার ক্ষেত্রে।
ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান ট্রাইব্যুনালকে প্রস্তাব করেন এ ক্ষেত্রেও কিছু পর্যবেক্ষন দিয়ে বিষয়টির সুরাহা করা যেতে পারে।

ইকোনমিস্ট কোন সূত্র থেকে স্কাইপ এবং ইমেইল ডকুমেন্ট সংগ্রহ করেছে তা প্রকাশ করা হয়নি । এ বিষয়ে  ট্রাইব্যুনালের এ প্রশ্নের জবাবে মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, সাংবাদিকরা কোন অবস্থাতেই সূত্র প্রকাশ করতে বাধ্য নয়।

ট্রাইব্যুনাল রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, ইকোনমিস্ট এর বিরুদ্ধে নোটিশের মূল বিষয় ছিল বিচারকের সাথে কথা বলা প্রসঙ্গে। বিচারকের সাথে সাংবাদিকের কথা বলা আদালত অবমাননা কি-না এবং  ইকোনমিস্ট পক্ষ দাবি করেছেন তারা সোর্স প্রকাশ করতে বাধ্য নন। এ বিষয়ে আপনাদের জবাব কি?
তাছাড়া বিচারকের সাথে কথা বলার বিষয়ে ব্রিটেনের আইনে কি আছে সে বিষয়েও মুস্তাফিজুর রহমানের কাছে জানতে চান ট্রাইব্যুনাল।
উভয় পক্ষ জবাব প্রদানের জন্য সময় চাইলে  আগামী ১৮ জুন শুনানীর জন্য পরবর্তী তারিখ ধার্য্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির, সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যানের কথপোকথন রেকর্ড ইকনোমিস্টের কাছে // চিফ এডিটরসহ দুইজনের বিরুদ্ধে রুল জারি


মেহেদী হাসান, 6/12/2012  
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল -১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুুল হক  কর্তৃক বিদেশে একজনের সাথে কথপোকথনের  রেকর্ড এবং ইমেইলের  ডকুমেন্ট চলে গেছে লন্ডনভিত্তিক বিশ্বখ্যাত ম্যাগাজিন  ইকনোমিস্টের কছে।  বিচারপতি নিজামুল  হক এর  স্কাইপি ও  ইমেইল একাউন্টস এবং কম্পিউটর হ্যাক করে  ইকনোমিস্ট  এসব তথ্য হস্তগত করেছে বলে ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করেছেন।

ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক আজ নিজেই বিষয়টি ওপেন কোর্টে প্রকাশ করে  একটি আদেশ পাশ করেছেন।

ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যানের যেসব পোগনীয় তথ্য হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে ইকনোমিস্ট  সংগ্রহ করেছে তা প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। একই সাথে ইকনোমিস্টের চিফ এডিটর রব গিফর্ড এবং দণি এশিয়া ব্যুরো চিফ এ্যাডাম রবার্টের  প্রতি রুল জারি করা হয়েছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দাবি   করে। ট্রাইব্যুনালের আদেশ লঙ্ঘন করে যদি তারা সংগৃহীত  গোপন তথ্য ফাঁস করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিচারপতি নিজামুল হক বলেন,   ব্রাসেলসে বসবাসরত আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন বিশেষজ্ঞ ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনের কাছ থেকে ট্রাইব্যুনালের  বিচার প্রকৃয়া চলাকালে এবং বিভিন্ন আদেশের  সময় সহায়তা নিয়েছেন তিনি। এ উপলক্ষে তাদের দুজনের মধ্যে স্কাইপির মাধ্যমে কথপোকথন হয়েছে। এ  তথ্য হ্যাক করে ইকনোমিস্ট হস্তগত করেছে বলে   উল্লেখ করেন তিনি। 
গত বুধবার রাত দশটায় ইকনোমিস্ট থেকে বিচারপতি নিজামুল হককে জানানো হয় ড. আহমেদ আহমেদ জিয়াউদ্দিনের সাথে তিনি  যেসব কথাবার্তা বলেছেন এবং  ইমেইলের মাধ্যমে যেসব জিনিস গ্রহণ করেছেন তার সবকিছুই তাদের কাছে রয়েছে। এ বিষয়ে তারা চেয়ারম্যানকে আরো কিছু প্রশ্ন করেন।

ইকনোমিস্টের প্রতি আদালত অবমাননার অভিযোগে কেন  ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবেনা মর্মে জারি করা নোটিশের জবাব তিন সপ্তাহের মধ্যে দিতে বলা হয়েছে।

আজ  সকালে  মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলায় আসামী পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন চলছিল। এর এক পর্যায়ে বিচারপতি নিজামুল হক বলেন মিজান সাহেব আমরা আপনার কাছ থেকে দশ মিনিট সময় নিতে চাই একটি অর্ডার পাসের জন্য। বিচারপতি নিজামুল হক বেঞ্চ অফিসারকে ডেকে  অর্ডার ডিকটেট করতে থাকেন।   আদেশের সময়  বিষয়টির ভেতরে প্রবেশের সাথে সাথে ট্রাইব্যুনালে পিনপতন নিরবতা  নেমে আসে।  উপস্থিত  সাংবাদিকরাও বিষয়টি তখনই অবহিত হন।
ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক আদেশ পাশের সময় ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন এবং বিচারপতি আনোয়ারুল হক উপস্থিত ছিলেন।

আদেশ : 
ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক আদেশ ঘোষনা করে বলেন, এই  ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান এবং অপর দুই সদস্য বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতি। ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর চেয়ারম্যান এবং অপর দুই সদস্য নিয়োগের পর তারা   ওপেন কোর্টে বলেছেন যে, ইন্ট্রারন্যানশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্ট ১৯৭৩ তাদের কাছে একটি নতুন আইন। আইনটি বোঝার জন্য  রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী, আসামী পক্ষের আইনজীবী এবং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহনের পাশাপাশি বিভিন্ন ট্রাইব্যুনালের  বিচার প্রকৃয়া, আদেশ এবং সেগুলো পরীক্ষা  নিরীক্ষার প্রয়োজন আছে। দেশে এবং বিদেশে গবেষকদের কাছ থেকে তারা সহায়তা নিতে পারেন এবং এভাবে   ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রকৃয়া চলছিল।

আদেশে বলা হয়, ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানের সুযোগ হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন বিশেষজ্ঞ ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিন এবং আরো  কয়েকজন বাংলাদেশী যারা ব্রাসেলসহ অন্যান্য  জায়গায় বাস করেন তাদের সহায়তা গ্রহনের । বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের উন্নয়ন বিষয়ে ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনের সাথে চেয়ারম্যানের প্রায়ই আলোচনা হত এবং তার কাছ থেকে  চেয়ারম্যান এ বিষয়ে সহায়তা গ্রহণ করেছেন। এই বিচার প্রকৃয়া চলাকালে এবং বিভিন্ন আদেশের  সময় চেয়ারম্যান তার কাছ থেকে সহায়তা নিয়েছেন। এ উপলক্ষে তাদের দুজনের মধ্যে স্কাইপির মাধ্যমে কথপোকথন হয়েছে।

আদেশে বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, দুই বা তিনদিন আগে চেয়ারম্যানের ইমেইল, স্কাইপি  একাউন্টস এবং কম্পিউটার  হ্যাক হয়। গতকাল (বুধবার) রাত দশটায় ৯১৯৮১০০১৬৬২ নম্বর থেকে চেয়ারম্যানের কাছে ফোন আসে। ফোন নম্বরটি  লন্ডনভিত্তিক ইকনোমিস্ট  ম্যাগাজিনের। ফোন করে চেয়ারম্যানকে বলা হয় চেয়ারম্যান ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনের সাথে যেসব কথাবার্তা বলেছেন তা তাদের কাছে আছে। এবং এ বিষয়ে চেয়ারম্যানকে   কিছু প্রশ্ন করা হয়। ফোনে তিনি  আরো জানান  যে, চেয়ারম্যান নিয়মতি ড. আহমেদ জিয়া উদ্দিনের সাথে কথা বলেন এবং তার কাছ থেকে  উপদেশ  গ্রহণ করেন।  তিনি জানান, চেয়ারম্যান ড. আহমেদ জিয়া উদ্দিনের কাছ থেকে ইমেইলের মাধ্যমে যেসব জিনিস গ্রহণ করেছেন তার সবকিছুই তাদের কাছে রয়েছে। এভাবে চেয়ারম্যান এ উদ্বেগজনক বিষয়টি জানতে পারেন।

আদেশে বলা হয়, ইমেইল, স্কাইপি, কম্পিউটার হ্যাক করা, চেয়ারম্যানের কাছ থেকে অবৈধভাবে ব্যক্তিগত গোপনীয় তথ্য সংগ্রহ করা   ব্যক্তিগত গোপনীয়তার লঙ্ঘন এবং  বাংলাদেশের সুপ্রীম কোর্টের একজন বিচারপতিকে প্রভাবিত করার শামিল। টেলিফোনে চেয়ারম্যানের সাথে যিনি এ বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি  নিজেকে চেয়ারম্যানের সাথে কথপোকথনে লিপ্ত করেছেন এবং আইন অনুযায়ী তিনি এটি পারেননা। চেয়্যাারম্যান আরো জানতে পেরেছেন যে, ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনের ইমেইল, স্কাইপি এবং কম্পিউটারও হ্যাক হয়েছে। এতে এটি পরিষ্কার যে, যারা এ  ট্রাইব্যুনালের চলমান  বিচার কার্যক্রমকে ব্যহত করার কাজে লিপ্ত তারা এর সাথে জড়িত । এটা কোনমতেই  মেনে নেয়া যায়না। কাজেই  ইকনোমিস্টের  সাউথ এশিয়া ব্যুরো চিফ এ্যাডাম রবার্টস এবং ইকনোমিস্টের চিফ এডিটর রব গিফর্ডের প্রতি আমরা নোটিশ জারি করছি। আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের ১১(৪) ধারা মোতাবেক কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রকৃয়া শুরু করা হবেনা  সে মর্মে তিন সপ্তাহের মধ্যে  জবাব দিতে হবে। তারা  ইমেইল, স্কাইপি একাউন্টস এবং  চেয়ারম্যানের কম্পিউটর  থেকে যেসব তথ্য সংগ্রহ করেছেন তাও গোপন রাখার নির্দেশ দেয়া হল। এটি প্রকাশ করলে চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হবে এবং চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত পোগনীয়তা রক্ষা করা দরকার। তারা যদি এটি ভঙ্গ  এসব প্রকাশ  করে তাহলে আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য আদেশের কপি ইনেসপেক্টর  জেনারেল অব পুলিশ এবং বিটিআরসির চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানোর নিদের্শ  দেয়া হয় হয়েছে।
(স্কাইপি : ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করে কম্পিউটার বা ল্যাপটপের মাধ্যমে দুজনের কথপোকথন যেখানে পরস্পরের ছবি দেখারও ব্যবস্থা থাকে। ) 

স্কাইপি সংলাপ বিষয়ে ইকনোমিস্টের রিপোর্ট প্রকাশ// বিচার কার্যক্রম পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন



মেহেদী হাসান, ১৩/১২/২০১২
যে স্কাইপি সংলাপ নিয়ে বর্তমানে দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে তা সর্বপ্রথম পাবার দাবি করে লন্ডন থেকে প্রকাশিত বিশ্বখ্যাত সাময়িকী দি ইকনোমিস্ট।

ইকনোমিস্ট তাদের চলতি অনলাইন সংস্করনে  স্কাইপি সংলাপ পর্যালোচনা করে একটি  দীর্ঘ বিশ্লেষনমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। আগামী ১৫ ডিসেম্বর প্রিন্ট এডিশনে এটি প্রকাশিত হবে। ট্রাইব্যুনালের পদত্যাগী চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক ও  বেলজিয়াম প্রবাসী ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনের মধ্যকার স্কাইপি সংলাপ, ইমেইল  বিশ্লেষন করে  ইকনোমিস্ট তাদের প্রতিবেদনে  মন্তব্য করেছে এই বলে যে,  ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রম সম্পূর্ণ পুনর্বিচার প্রয়োজন  হতে পারে । বাংলাদেশ সরকারের উচিত এটি বিশদভাবে তদন্ত   করে দেখা। বিচারপতি নিজামুল হকের পদত্যাগের প্রেক্ষিতে এটি এখন অধিকতর জরুরি হয়ে পড়েছে। যেসব তথ্য প্রমান  উদ্ধার হয়েছে তাতে বিচারের উপযুক্ত প্রকৃয়া নিয়ে আইনগত প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।  ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রমে কিভাবে সরকার এবং বাইরের মহলের প্রভাব  বিস্তার করেছে এবং এর ফলে এ বিচারের  নিরপেক্ষতা কোন পর্যায়ে পৌছেছে  তা  দফা অনুসারে বিশ্লেষন করে দেখিয়েছে ইকনোমিস্ট। 

বিচারপতি নিজামুল হকের কাছে গত ৫ ডিসেম্বর  রাতে ফোন করে ইকনোমিস্ট কর্তৃপক্ষ  জানায় তাদের কাছে  স্কাইপি সংলাপ এবং  ২৩০টি ইমেইল ডকুমেন্ট রয়েছে।  পরের দিন ৬ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল-১  এ গোপন ডকুমেন্ট প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইকনোমিস্টের প্রতি রুল জারি করে। ৮ ডিসেম্বর ইকনোমিস্ট এ বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত  রিপোর্ট প্রকাশ করে জানায় তারা  বিষয়টি তদন্ত করছে। যদি বিষয়টি বৃহত্তর জনগনের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট হয় তাহলে তারা এটি প্রকাশ করবে। সে আলোকে ইকনোমিস্ট চলতি সংখ্যায় এ বিষয়ে তারা তাদের বিশ্লেষনমূলক  রিপোর্ট প্রকাশ করল। রিপোর্টটির শিরোনাম ‘দি ট্রায়াল অব দি বার্থ অব এ নেশন’।

ইকনোমিস্টের প্রতি  নিষেধাজ্ঞা  আরোপ করে ট্রাইব্যুনালের  রুল জারির পর অনেকে  অপেক্ষা করছিল ইকনোমিস্টের পদক্ষেপ বিষয়ে। তারা এ রিপোর্ট আদৌ প্রকাশ করে কি-না এবং করলে কতটুকু কিভাবে করবে তা নিয়ে।  তবে বাংলাদেশে দৈনিক আমার দেশ গত ৯ ডিসেম্বর থেকে স্কাইপি সংলাপ হুহবু প্রকাশ করে সারা দেশে হৈচৈ ফেলে দিয়েছে। 

৬ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল -১ যখন ইকনোমিস্টের ওপর রুল জারি করে আদেশ দেন তখনই স্কাইপি সংলাপ হ্যাক হওয়ার বিষয়টি গোটা জাতি এবং বিশ্ববাসীর সামনে প্রকাশ হয়  ।  স্বয়ং  ট্রাইব্যুনাল সর্বপ্রথমন বিষয়টি সবার  সামনে উন্মুক্ত করেছেন  জাতির সামনে।
কোর্টের সে আদেশ থেকে জানা যায় বিচারপতি নিজামুল হক ব্রাসেলসে বসবাস রত ড. আহমেদর জিয়া উদ্দিনের কাছে বিচার প্রক্রিয়ার বিভিন্ন বিষয়, আদেশ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা করেছেন স্কাইপির মাধ্যমে। সে স্কাইপি সংলাপ এবং তাদের দুজনের মধ্যকার আদান প্রদানকৃত সমস্ত ইমেইল হ্যাক বা আক্রান্ত হয়েছে। ইকনোমিস্টের কাছে সেসব রয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।

ইকনোমিস্ট লিখেছে ২৮ আগহস্ট থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত  ১৭ ঘন্টার কথোপকথন হয়েছে দুজনের মধ্যে। দৈনিক গড়ে ২০ মিনিট। বিচারপতি নিজামুল হক এবং ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনের আদান প্রদান করা ইমেইল এবং টেলিফোনে কথোপকথনের  যতটুকু আমরা এখন পর্যন্ত পর্যালোচনা করেছি তাতে এ বিচার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন  রয়েছে। এসব বিষয় থেকে এটা স্পষ্ট যে সরকার  জনাব নিজামুল হকের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করেছে।   
ইকনোমিস্ট বলেছে প্রাপ্ত তথ্য থেকে তিনটি বিষয় পরিস্কার যেমন রাষ্ট্রপক্ষ কিভাবে  কেস সাজাবে এবং কোর্ট কিভাবে চার্জ গঠন করবে সে বিষয়ে জিয়া উদ্দিনের প্রভাব ছিল। সর্বশেষ হল সাঈদীর মামলা বিষয়ে ‘সাঈদী জাজমেন্ট’   নামে একটি ডকুমেন্ট আহমেদ জিয়াউদ্দিন নিজামুল হকের কাছে পাঠিয়েছেন। ১৪ অক্টোবর এটি সর্বশেষ এডিট করা হয়েছে বলে  উল্লেখ করা হয়েছে ইমেইলে।  এ ডকুমেন্টের চূড়ান্ত হেডলাইন ছিল ‘কনভিকশন/বেসিস’  বা  দণ্ডাদেশ এবং ‘সেনটেন্সিং’  বা শাস্তি।

ইকনোমিস্ট বলছে  অথচ তখনো মাওলানা সাঈদীর পক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ চলছিল। তাহলে দেখা যাচ্ছে মাওলানা সাঈদীর  বিরুদ্ধে মামলায়   আসামী পক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহনের আগেই নিজামুল হক তাকে অপরাধী সাব্যস্ত করে রায় দেয়ার বিষয়ে আশা প্রকাশ করেছেন।

আরেকটি উদাহরন পেশ করে ইকনোমিস্ট লিখছে  মে মাসে  আহমেদ জিয়াউদ্দিন গোলাম আযমের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন বিষয়ে  একটি  ফাইনাল ড্রাফট তৈরি করে পঠিয়েছেন নিজামুল হকের কাছে।  এর ছয় দিন পর ১৩ মে  নিজামুল হক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে  চার্জ গঠনের যে আদেশ দিয়েছেন তা ওই ড্রাফটেরই   হুবহু  একটি ভার্সন ছিল মাত্র।
 
ইকনোমিস্ট মন্তব্য করেছে এই বলে যে, এটা অতিশয়  গুরুতর একটি উদ্বেগের বিষয় । কারণ এতে  যে শুধুমাত্র   ন্যায় বিচার নস্যাত হওয়া ঝুকি রয়েছে এবং কোন  ব্যক্তি বিশেষের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে তা নয় বরং  ত্রুটিপূর্ণ এ বিচার বাংলাদেশকে আরো অনেক ভোগান্তির মধ্যে  টেনে নেবে। ইতোমধ্যে এ  ভুলের কারনে বাংলাদেশ অনেক ভোগান্তির শীকার হয়েছে  এবং এভাবে এগিয়ে গেলে তা বাংলাদেশের ক্ষত সারাবেনা বরং আরো  বৃদ্ধি করবে।



ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের পদত্যাগ


মেহেদী হাসান, ১১/১২/২০১৩
স্কাইপ  কেলেঙ্কারির দায় মাথায় নিয়ে অবশেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম পদত্যাগ করেছেন। আজ  বিকালে সুপ্রীম কোর্টের রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে তিনি পদত্যাগপত্র জমা  দেন। আইন সচিব শেখ মো: জহিরুল হক তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন। আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক  মন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বিচারপতি  নাসিমের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে  জানান, শিগগিরই ট্রাইব্যুনালে (১) নতুন  একজন চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হবে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন কেলেঙ্কারির দায় নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যনালের চেয়ারম্যান  পদত্যাগ করলেও এর কার্যক্রম পরিচালনা  নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েই গেছে। কারণ দুটি ট্রাইব্যুনালের  কার্যক্রমের সাথে জড়িত বিচারক ও প্রসিকিউশনের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে স্কাইপিতে এমন কিছু সংলাপ রয়েছে যা আইন ও সংবিধান বিরোধী ।

আজ সকালে ট্রাইব্যুনাল-১ বসার কথা থাকলেও বসেনি। সোয়া দুইটার দিকে  চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের  অনুপস্থিতিতে ট্রাইব্যুনাল বসে।    এরপর বিকালে তার পদত্যাগের খবর আসে। 

এর আগে  গত ২৮ আগস্ট এই ট্রাইব্যুনালের একজন সদস্য বিচারক জহির আহমেদকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয় সরকারের পক্ষ থেকে। এখন তিন সদস্যের এই ট্রাইব্যুনালে দুইজন সদস্য থাকলেন যারা বিচার কার্যক্রম শুরু হওয়ার অনেক পরে  ট্রাইব্যুনালে যোগদান করেন।

ট্রাইব্যুনালের বিচার বিষয়ে বিচারপতি নিজামুল হক বেলজিয়ামে অবস্থানরত ড. আহমেদ জিয়া উদ্দিনের সাথে   স্কাইপ সংলাপ  বা ভিডিও কথোপকথন করেছেন বিভিন্ন সময়ে। ইমেইলেও বিচারের  বিভিন্ন বিষয় আদান প্রদান করেছেন।  তার সকল ভিডিও কথোপকথনের রেকর্ড এবং ইমেইল ডকুমেন্ট বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ সাময়িকী দি ইকনোমিস্টের কাছে চলে যায়।  দৈনিক আমার দেশও একটি বিদেশী সূত্র থেকে এ  সংলাপ ও ডকুমেন্ট পাওয়ার কথা জানায়। এরপর   বিচারপতি নিজামুল হকের  দীর্ঘ স্কাইপ সংলাপ গত রোববার থেকে ধারাবাহিকভাবে  প্রকাশ করা শুরু করে   আমার দেশ।   এ নিয়ে দেশে বিদেশে তুমুল ঝড়  ওঠে।    বিচারপতি নিজামুল হকের কথোপোকথনের বিষয়বস্তু পড়ে স্তম্ভিত হয়ে পড়ে গোটা জাতি। বিশিষ্ট আইনজ্ঞরা একে  দেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে আখ্যায়িত করেন। একজন বিচারপতির জন্য এর চেয়ে খারাপ কোন অসদাচরন আর  হতে পারেনা বলেও  মন্তব্য করেন তারা।

বিচারপতি নিজামুল হক ড. আহমেদ জিয়া উদ্দিনের সাথে যেসব কথাবর্তা বলেছেন তার মধ্যে  রয়েছে  অভিযুক্তদের  মামলার শুনানী কখন হবে, কোন মামলার রায় আগে হবে, কোনটার  রায় পরে  হবে, কোন ট্রাইব্যুনালে কোন মামলায় কতজন সাক্ষী আসামী পক্ষকে আনতে দেয়া হবে, রায়ের কাঠামো কি হবে,  অধ্যাপক গোলাম আযমের মামলায় সাক্ষী  সুলতানা কামাল, মুনতাসির মামুন এবং জেনারেল কে এম শফিউল্লাহকে দিয়ে কোন কোন বিষয় কিভাবে বলানো হবে সেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।  বিচারের রায়ের কাঠামো কি হবে সে বিষয়ে  বেলজিয়াম থেকে আহমেদ  জিয়া উদ্দিনের মাধ্যমে লিখিয়ে আনা বিষয়ে  তথ্য আদান প্রদান হয়।  পুরো বিচার প্রকৃয়া নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের সাথে ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যানের  গোপন যোগসাজস, আইনমন্ত্রী, আইন প্রতিমন্ত্রীর সাথে যোগসাজসসহ বিচার  কার্যক্রমের সাথে যে  বাইরের আরো  বিভিন্ন মহলের প্রভাবে  এবং ইশারা ইঙ্গিতে চলেছে  তা জানা যায় এ সংলাপ ফাঁস হওয়ার  মাধ্যমে।  বিশেষ করে সুদুর বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে অবস্থানরত ড, আহমেদ জিয়াউদ্দিনই যে এ বিচারের বিভিন্ন গতি প্রকৃতি নির্ধারন  করে দিচ্ছিলেন তা স্পষ্ট হয়েছে। ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিন  এ বিচার প্রকৃয়ার গতি প্রকৃতি নির্ধারনের জন্য  কোন কোন ব্যক্তি এবং মহলের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেন তাও  স্পষ্ট হয়ে যায়।    এ কারনে দেশের আইনজ্ঞ মহল থেকে বলা হয়েছে এ বিচার যে একটি সাজানো নাটক এবং প্রহসন ছিল তা প্রমানিত হয়েছে।

বিচারপতি নিজামুল   হকের সাথে কথোপকথনের এক পর্যায়ে  ড. জিয়াউদ্দিন কোন ট্রাইব্যুনালের কোন মামলা  এগিয়ে আনতে হবে, কোনটি পিছিয়ে দিতে হবে সেজন্য দুই ট্রাইব্যুনালের সব বিচারপতিদের আইনমন্ত্রীর বাসায় তিনি বসার ব্যবস্থা করবেন  বলে স্কাইপির মাধ্যমে আলাপকালে জানান বিচারপতি নিজামুল হককে।

বিচারপতি নিজামুল হক আলোচনার এক পর্যায়ে বলেন, “গভর্নমেন্ট রায়ের জন্য পাগল হইয়া গেছে। সাঈদীরটা হলে ডিসেম্বরের মধ্যে রায় দেতে পারবো। গভর্নমেন্ট গেছে পাগল হইয়া। তারা একটা রায় চায়।  সাঈদীর রায়ডা হইয়া গেলে গভর্নমেন্ট ঠাণ্ডা হইত।..আমাদের তো স্টেট মিনিস্টার (কামরুল ইসলাম) যাচ্ছে হজে। আজকে আসছিল আমার লগে দেখা করতে সন্ধ্যায়। ওনি বললেন যে রায়টা তাড়াতাড়ি দেবেন। ”

৬ সেপ্টেম্বরের কথোপকথনে বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম বলেন, ‘সিনহা বাবু কইছে-ডিসম্বরের মধ্যে তিনডা দিয়া লন, তারপর আমরা আপনারে এহানে নিয়া আসি।’
চলতি বছরের ১৩ অক্টোবর ড. আহমদ জিয়াউদ্দিনের কাছে বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম জানতে চান, আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর চার্জের  কপিটা আছে কি না। তিনি এ-ও বলেন, ‘থাকতেই হবে, থাকতেই হবে। তো, এই জিনিসগুলোর রিপলাইডা আপনি যদি একটু ইয়ে করে দেন আমাকে। তাইলে আমি জাজমেন্টর জন্য একটু রেডি হইতে পারি।’
একই দিনের স্কাইপি কথোপকথনে বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম  বলেন, ‘জাজমেন্টের কাজ তো শুরু করছি আমি, অন্য কাজ ফেলাইয়া টাইপ শুরু করছি আমি।’ তখন তাকে আহমদ জিয়াউদ্দিন বলেন, ‘আপনি ওই জায়গাটাকে, আপনি করেন কি যে... এ জায়গাটিতে একটু গ্যাপ রাখেন। কারণ এখনও লিগ্যাল আরগুমেন্ট কিন্তু তারা প্লেস করে নাই।’  এ থেকে বোঝা যায়  আরগুমেন্ট শুরুর আগেই বিচারপতি নিজামুল হক  রায় লেখার কাজ শুরু করে দেন এবং রায়ের কিছু বিষয় লিখে পাঠানোর জন্য ড. আহমদ জিয়াউদ্দিনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন। 

নিজামুল হক নাসিম  নাসিম সংলাপের সময় বলেন, “এই গোলাম আযম হইলো টিম লিডার। সাঈদী সাইড ট্র্যাক। সাঈদীর লগে আপনার লিডার-টিডারশিপের কোনো প্রশ্ন আসতেছে না। গোলম আযমের রায়ের পরে আপনার নিজামী, মুজাহিদ, কাদের মোল্লা, কামারুজ্জামান—সবগুলা রায় হইতে পারে, এর পরে। কিন্তু গোলাম আযম ফাস্টে। ওই গ্রুপের থেকে একমাত্র সাঈদী, সাকা এরা বায়রায় (বাইরে)। সাকারে তো আমি থামাইয়াই দিছি। সাঈদীরে থামাচ্ছি না। কারণ, সাঈদী প্রায় শেষ। এইটা যদি উনাদেরকে বইল্লা... এইডা ওনাদেরকে (ট্রাইব্যুনাল-২) হায়ার লেভেল থেইকা বইল্লা, থামায়া দিতে হবে যে, আপনি কাদের মোল্লারে ঢিল দেন। ঢিল দিয়া বাকিগুলারে সামনে আগান। কেননা, ওই যে অ্যাবসেন্ট যে আছে, ওর নাম জানি কী...? ও বাচ্চু, হ্যারে দিয়া শুরু করেন। আরেকজনরে নিয়া আগান সামনে। এরপর আপনার, পর পর ৩-৪টা রায় দিয়া দেন, অসুবিধা নাই কোনো। বাট আফটার গোলাম আযম। নট বিফোর দ্যাট।”


বিচারপতি জহির আহমেদকে পদত্যাগে বাধ্য করার পর নতুন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনকে নিয়োগ দেয়া হয় ট্রাইব্যুনালে। এ বিষয়ে বিচারপতি নিজামুল হক দীর্ঘ আলোচনা করেছেন ড. জিয়াউদ্দিনের সাথে।  বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের  বিষয়ে তিনি বলেন,  “তাকে বলে দেয়া হয়েছে চেয়ারম্যান যা বলবে তুমি তাতে শুধু ইয়স বলবা।  তুমি যা বলবা রুমে বলবা, কোর্টে চেয়ারম্যান যা বলবে তাতে ওকে বলবা”
এছাড়া বিচারপতি নিজামুল   হক ট্রাইব্যুনালের নতুন সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনকে সোনা জাহাঙ্গীর, দুর্নীতি পরায়ন বলেছেন। আইনপ্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলামকে কামরুল টামরুল, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনকে খাতুন টাতুন সহ আরো  বিভিন্ন ব্যক্তিকে চোরসহ বিভিন্নভাবে ব্যাঙ্গ করে কথা বলেছেন। তাদেরকে আওয়ামী বলে ব্যাঙ্গ বিদ্রুপ করেছেন। (বিচারপতি নিজামুল হক ছাত্র জীবনে জাসদ ছাত্রলীগের সাথে জড়িত ছিলেন)।

এছাড়া ট্রাইব্যুনালের অপর সদস্য বিচারপতি আনোয়ারুল হকের বিষয়ে বিচারপতি নিজামুল হক বলেন আমরা দুইজন শক্ত আছি।
এসব আলোচনা থেকে এটা পরিষ্কার যে  ট্রাইব্যুনালে তিনজন সদস্য থাকলেও মূলত বিচারপতি নিজামুল হকের একক সিদ্ধান্তই বাস্তবায়ন হত। এবং তার সিদ্ধান্ত গ্রহনের পেছনে বাইরের বিভিন্ন ব্যক্তি, মহলের প্রভাব ছিল।

বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম আলোচনার এক পর্যায়ে  বলেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জেয়াদ আল মালুমকে শুধু লাফায়। আমি তাকে বসিয়ে দিয়েছি। পরে তাকে রুমে ডাকাই। মালুম বলে এটাই ঠিক আছে। আমি শুধু দাড়িয়ে যাব আপনি আমাকে বসিয়ে দেবেন। লোকে দেখবে আমাদের মধ্যে কোন খাতির নেই।

ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারপতি জহির আহমেদকে সচিবালয়ে ডেকে  আইনমন্ত্রলয় পদত্যাগে বাধ্য করেছিল সে বিষয়টিও উল্লেখ আছে বিচারপতি নিজামুল হকের সংলাপে।   এ সংলাপ থেকে জানা যায় বিচারক জহির আহমেদকে আইনমন্ত্রীর বাসায় ডেকে প্রথমে পদত্যাগ করতে বলা হয়।  এরপর সচিবালয়ে ডেকে পদত্যাগে স্বাক্ষর রাখা হয়।

স্কাইপি সংলাপের কথা স্বীকার করে বিচারপতি নিজামুল হক গত ৬ ডিসেম্বর ইকনোমিস্টের বিরুদ্ধে একটি রুল জারি করেন । ইকনোমিস্ট  যাতে তার গোপন সংলাপ ফাঁস না করে সেজন্য তাদের প্রতি নির্দেশ দেয়া  হয়। এ রিপোর্ট ফাঁস হওয়ার পর থেকে  গতকাল পর্যন্ত আসামী  পক্ষের আইনজীবীরা  ট্রাইব্যুনাল-১ এ যায়নি। 
গত রোববার থেকে দৈনিক আমার দেশ সে সংলাপ ফাঁস করতে থাকায় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয় ওই রিপোর্ট বন্ধ করে  দেয়ার জন্য।  গতকাল আমার দেশ বিষয়ে আদেশ দেয়ার কথা থাকলেও ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান আসেননি।
এরপর থেকেই ট্রাইব্যুনালে আসা সাংবাদিকরা বলাবলি করতে থাকেন তিনি হয়ত আর আসবেননা এবং সেটাই  সত্য  হল শেষ পর্যন্ত।
২০১০ সালের মার্চ মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন হয়। এ ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে জামায়াতের সাবেক  আমীর অধ্যাপক গোলাম  আযম, আমীর মতিউর রহমান নিজামী, বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধরীসহ আরো কয়েকটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। একমাত্র মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার কার্যক্রম শেষ হয়েছে।


বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি  (ঘাদানিক)  গঠিত  জাতীয়  গণতদন্ত কমিশিনের সেক্রেটারিয়েট এর সদস্য ছিলেন। বর্তমানে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে   বন্দী  অধিকাংশ নেতাসহ  মোট ১৬ জন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে যুদ্ধাপরাধী আখ্যায়িত করে তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য  এ কমিশন গঠন করা হয়েছিল।

বিচারপতি নিজামুল হক  নাসিম  ১৯৯২ সালে জাহানারা    ইমামের নেতৃত্বে পরিচালিত  গনআদালতের মাধ্যমে  অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে প্রদত্ত প্রতিকী  রায় বাস্তাবায়নের দাবিতে তখন সমাবেশে  অংশ নিয়েছিলেন।  এ বিষয়ে সকল প্রমান হাজির করে আসামী পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে পদত্যাগের দাবি করা হয়  ২০১১ সালের মাঝামাঝি থেকে।  এ নিয়ে দীর্ঘ আইনী লড়াই  চলে। দেশের বিশিষ্ট আইনজীবীরাও তার প্রতি  পদত্যাগের দাবি জানান। বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট বারের পক্ষ থেকেও  সম্মিলিতভাবে আইনজীবী মহল তার পদত্যাগ দাবি করেন ন্যায় বিচারের স্বার্থে।  তার পদত্যাগের দাবিদে  ট্রাইব্যুনাল বর্জনের ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু তিনি পদত্যাগ করেননি।

ট্রাইব্যুনালের বিভিন্ন আইনী বিষয় নিয়ে আসামী পক্ষ থেকে একের পর এক বানের মত দরখাস্ত আসতে থাকে দীর্ঘ সময় ধরে। কিন্তু সমস্ত চাপ উপেক্ষা করে তিনি শক্ত হাতে পরিচালনা করতে থাকেন ট্রাইব্যুনাল। বাতিল করেন আসামী পক্ষের অসংখ্য আবেদন।  অবশেষে কেলেঙ্কারি মাথায় নিয়ে সরে যেতে হল বিচারপতি নিজামুল হককে।

বৃহস্পতিবার, ১ আগস্ট, ২০১৩

সাঈদীর মামলার রায় যেকোন দিন

২৯/১/২০১৩
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলার রায় যেকোন দিন ঘোষনা করা হতে পারে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আজ  মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলায় সমস্ত বিচার প্রকৃয়া শেষ হলে সবাই অপেক্ষা করেন রায়ের তারিখ  বিষয়ে ঘোষনা শোনার জন্য। তবে ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষনার  তারিখ নির্দিষ্ট করে না দিয়ে  বলেছেন সিএভি (কুরিয়া এ্যাডভিজরি ভল্ট)।  অর্থাৎ রায় ঘোষনা পর্যন্ত মুলতবি । রায় প্রস্তুত হলে যেকোন দিন ঘোষনা করা হবে।

এর আগে গত বছর  ৬ ডিসেম্বর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলার সমস্ত কার্যক্রম শেষ হলে রায়ের তারিখ বিষয়ে সিএভি ঘোষনা করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। তখন ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান ছিলেন বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম।  ট্রাইব্যুনালের বিচার নিয়ে বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের স্কাইপ কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ার পরে ১১ ডিসেম্বর তিনি পদত্যাগ করেন। ট্রাইব্যুনালে নতুন চেয়ারম্যান  হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় বিচারপতি এটিএম ফজলে কবিরকে। স্কাইপ কেলেঙ্কারির কারনে মাওলানা সাঈদীসহ অন্য তিনজনের বিচার কার্যক্রম নতুন করে শুরুর আবেদন করা হয়।  তিনটি আবেদনই খারিজ করে দেয়া হয়। তবে ট্রাইব্যুনালে চেয়ারম্যান বদল হবার কারনে  শুধুমাত্র মাওলানা সাঈদীর মামলায় যুক্তিতর্ক পুনরায় সংক্ষিপ্ত আকারে শুনানীর জন্য ধার্য্য করেন ট্রাইব্যুনাল। গতকাল উভয় পক্ষের পুনরায় যুক্তি উপস্থাপন শেষ হলে প্রায় দুই মাসের মাথায় আবার নতুন করে রায় ঘোষনার তারিখ বিষয়ে আদেশ দেয়া হল।

চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির, সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন এবং বিচারপতি আনোয়রুল হক সমন্বয়ে গঠিত ট্রাইব্যুনাল-১ মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে রায়ের তারিখ বিষয়ে  আদেশ দিলেন।
গতকাল বিচারের শেষ মুহুর্তে  রায়ের তারিখ বিষয়ে আদেশের আগে ট্রাইব্যুনালে মাওলানা সাঈদীর কথাবলা নিয়ে বেশ উত্তেজনা দেখা দেয় উভয়পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে। মাওলানা সাঈদী দাড়িয়ে কথা বলার সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বাঁধা দিয়ে বলেন, তার এভাবে কথা বলার অধিকার নেই। তখনই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

বিচার প্রশ্নবিদ্ধ : আসামী পক্ষ
মামলার কার্যক্রম শেষে আসামী পক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক ট্রাইব্যুনালের সামনে অপক্ষেমান সাংবাদিকদের কাছে  প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেছেন,   এ বিচার প্রশ্নবিদ্ধ । বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম  এর স্কাইপ ষড়যন্ত্র এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যে প্রতারনার আশ্রয় নিয়েছেন তাতে এ বিচার সম্পূর্ণ প্রশ্নবিদ্ধ । বিচারপতি নিজামুল হকের রেখে যাওয়া বিচার কাজের ওপর ভিত্তি করেই এ  মামলার  বিচার কার্যক্রম  এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।  পুরো বিচার নতুন  করে করা হয়নি। শুধুমাত্র যুক্তি পুনরায় উপস্থাপন করা হয়েছে। বিচারপতি নিজামুল হকের  রেখে যাওয়া বিচারের গ্রহনযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে দেশবাসীর মনে।

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা প্রমানে রাষ্ট্রপক্ষ সম্পূর্ণরুপে ব্যর্থ  হয়েছে। ব্যর্থতার ইতিহাসে এটি এক নম্বরে স্থান পাবে।
অপর দিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ হায়দার আলী যুক্তি উপস্থাপন শেষে বলেছেন, আসামীর বিরুদ্ধে আনীত আমরা প্রমান করতে পেরেছি এবং আসামী সর্বোচ্চ শাস্তি পাবার উপযুক্ত।

ট্রাইব্যুনালের প্রথম মামলা :
১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সংঘটিত  মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারের লক্ষ্যে ২০১০ সালের মার্চ মাসে  আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ গঠন করা হয়।  ট্রাইব্যুনালে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলাটিই ছিল প্রথম মামলা। প্রথম মামলা হিসেবে এ মামলার কার্যক্রমই সর্বপ্রথম শেষ হয়েছিল এবং রায়ের তারিখ বিষয়েও আদেশ দেয়া হয়েছিল প্রথমে। গত বছর ডিসেম্বর মাসেই এ মামলার রায় ঘোষনা হতে পারে বলে বিভিন্ন মহল থেকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু  সে সম্ভাবনা শেষ  হয়ে যায় বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের স্কাইপ কেলেঙ্কারি  ফাঁস হওয়ার মধ্য দিয়ে। ফলে প্রায় দুই মাস পরে আবার নতুন করে রায়ের তারিখ বিষয়ে আদেশ দিতে হল। অন্যদিকে মামলার রায় ঘোষনার দিক দিয়ে এগিয়ে গেছে দ্বিতীয় ট্রাইবুনাল। গত বছর মার্চ মাসে দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। পলাতক থাকা অবস্থায় মাওলানা আবুল কালাম আযাদের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম শেষে ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়েছে  ট্রাইব্যুনাল-২এ। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীল সহকারি  সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে  মামলার কার্যক্রম শেষে গত ১৭ জানুয়ারি রায়ের তারিখ বিষয়ে সিএভি ঘোষনা করা হয়। গতকাল মাওলানা সাঈদীর মামলায় রায়ের তারিখ বিষয়ে সিএভি ঘোষনার মধ্য দিয়ে এখন দুটি ট্রাইব্যুনালে দুটি মামলার রায় অপেক্ষমান রইল।

২০১১ সালের ৭ ডিসেম্বর মাওলানা সাঈদীর মামলায় সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়।  প্রায় এক বছর চলে সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ  এবং জেরা।  জেরা শেষে গত বছর ৫ নভেম্বর শুরু হয় যুক্তি উপস্থাপন। ৬ ডিসেম্বর যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায়ের তারিখ বিষয়ে আদেশ দেয়া হয়। এরপর গত ১৩ জানুয়ারি আবার পুনরায় যুক্তি উপস্থাপন  শুরু হয় এবং গতকাল তা শেষ হয়।

শেষ হচ্ছে পুনশুনানী

২৮/১/২০১৩
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলায় পুনরায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন আগামীকাল শেষ হচ্ছে। আজ  আসামী পক্ষ যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেছে।  রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আজ   ট্রাইব্যুনালে জানানো হয়েছে তাদের এক ঘন্টার মত সময় লাগবে আসামী পক্ষের যুক্তির জবাব দিতে।  রাষ্ট্রপক্ষের জবাব প্রদান শেষ হলে মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে বিচারের সমস্ত কার্যক্রম শেষ হবে। নিয়ম অনুযায়ী  মামলার কার্যক্রম শেষে রায়ের তারিখ ঘোষনা করা হয়। সে হিসেবে আজ মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলার রায়ের তারিখ ঘোষনা  করা  হতে পারে।

এর আগে গত বছর ছয় ডিসেম্বর মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম শেষে যেকোন দিন রায় ঘোষনা হবে মর্মে আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।  এরপর বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম  স্কাইপ কেলেঙ্কারির কারনে পদত্যাগ করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে।  বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত হন তার স্থলে। ট্রাইব্যুনালে চেয়্যারম্যান বদল হবার প্রেক্ষাপটে মাওলানা সাঈদীর মামলায় যুক্তিতর্ক পুনরায় শুনানীর  আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। রাষ্ট্রপক্ষকে দুই দিন এবং আসামী পক্ষের জন্য তিন দিন বরাদ্দ করা হয় যুক্তি উপস্থাপনের জন্য। সে হিসেবে রাষ্ট্রপক্ষ প্রথমে দুইদিন যুক্তি উপস্থাপন করে। এরপর আসামী পক্ষ  প্রায় ছয়দিনের মত সময় নেয় যুক্তি উপস্থাপনের জন্য।  আসামী পক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার  আব্দুর রাজ্জাক গতকাল   সাড়ে তিনটায় যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন।
যুক্তি উপস্থাপনের সময় ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এই মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা  যে পরিমান প্রতারনার আশ্রয় নিয়েছেন  এবং সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের স্কাইপ কেলেঙ্কারির পর  দেশবাসীর কাছে ট্রাইব্যুনালের গ্রহণ যোগ্যতা শুন্যের কোটায়  চলে গেছে।
গতকাল ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক ১৯.২ ধারায় গ্রহণ করা ১৬ সাক্ষীর জবানবন্দী এবং সেফহাউজ ডকুমেন্ট বিষয়ে যুক্তি উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ ২০১২ সালের ২০ মার্চ ৪৬ জন সাক্ষীর একটি তালিকা দিয়ে দরখাস্ত করে জানায় যে, এসব সাক্ষীদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা আদৌ সম্ভব নয়। এই ৪৬ জন সাক্ষীর মধ্যে প্রখ্যাতা যাদু শিল্পী জুয়েল আইচ, হুমায়ূন আহমেদ এর ভাই লেখক প্রফেসর মুহাম্মদ জাফর ইকবাল,  ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, মেজর (অব) জিয়াউদ্দিন, সুপ্রীম কোর্টের অ্যাডভোকেট এবং হুমায়ূন আহমেদ এর ভগ্নিপতি আলী হায়দার খান, হুমায়ূন আহমেদের বোন সুফিয়া  হায়দার এর নাম ছিল।
ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, এ ছয়জন লোককে হাজির করা কেন অসম্ভব হল রাষ্ট্রপক্ষের জন্য? শাহরিয়ার কবির তো ট্রাইব্যুনাল-২ এ সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য সদা সোচ্চার রয়েছেন।  আলী হায়দার খান তো এই ট্রাইব্যুনাল থেকে মাত্র দু’শ গুজ দূরে হাইকোর্টে প্রাকটিস করেন। জাফর ইকবাল এবং সুফিয়া হায়দারের পিতা ফয়জুর রজমানকে হত্যার অভিযোগ সাঈদী সাহেবের বিরুদ্ধে। তারা কেন তার পিতার পক্ষে সাক্ষ্য দিতে আসলেননা? 
ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ৪৬ জনের তালিকায়  উক্ত ছয় জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করার মধ্য দিয়ে বোঝা যায় তদন্ত কর্মকর্তা কি পরিমান প্রতারনার আশ্রয় নিয়েছেন।  শাহরিয়ার কবির একটি পত্রিকায় সাক্ষাৎকার দিয়ে বলেছেন তিনি সাঈদীর মামলা কোন সাক্ষী নন। জুয়েল আইচ বলেছেন তাকে কোন কিছূ জানানো  হয়নি। জাফর ইকবাল বলেছেন তিনি তার পিতার হত্যার বিচার চান কিন্তু সাঈদী তার পিতার হত্যার বিষয়ে জড়িত কি-না তা না জেনে কিভাবে সাক্ষ্য দেবেন।  যারা সাক্ষী নন তাদের নামে তদন্ত কর্মকর্তা জবানবন্দী লিখে তা তাদের অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহনের আবেদন করেছেন ট্রাইব্যুনালে। এর চেয়ে বড় জালিয়াতি আর কি হতে পারে?
ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, হেগে আমরা দেখেছি  এ ধরনের মামলায় ভুক্তভোগীরা সাক্ষ্য দেয়ার জন্য কোর্টের সামনে লাইন দিয়ে দাড়িয়ে থাকে। ৪০ বছর পর  বিচার হচ্ছে। জাফর ইকবাল, সুফিয়া  হায়দারদের তো দৌড়ে আসা উচিত ছিল এ মামলায় সাক্ষ্য দেয়ার জন্য। তাদের মাও জীবিত আছেন। তাদের আসা উচিত ছিল তার পিতার হত্যার বিষয়ে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য। কিন্তু তারা কেউ আসলেননা। ফয়জুর রহমানের স্ত্রী জীবন যেরকম নামে একটি বই  লিখেছেন। সেখানে মাওলানা সাঈদীর নামও তিনি কোথাও   উল্লেখ করেননি। লেখক হুমায়ূন আহমেদ জোছনা ও জননীর গল্প বইয়েও তার পিতার হত্যার বিষয়ে উল্লেখ করেছেন  কিন্তু সেখানেও  মাওলানা সাঈদীর নাম নেই।

তিনি বলেন, যে ১৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দী তাদের অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে তা তদন্ত কর্মকর্তা  কর্তৃক রচিত। তা তাদের জবানবন্দী নয়। একই জবানবন্দী নাম ঠিকানা বদল করে কপি পেস্ট করে আরেকজনের নামে চালয়ে দেয়া হয়েছে। তার পক্ষে তিনি কয়েকটি উদাহরন তুলে  ধরেন।

এরপর ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক সেফ হাউজের সত্যতা বিষয়ে সেফ  হাউজের ডকুমেন্ট থেকে বেশ কিছু বিষয় তুলে ধরেন প্রমান হিসেবে।  তিনি বলেন, সাক্ষীদের অনেককে রাষ্ট্রপক্ষের হেফজতে সেফহাউজে রাখা হয়েছে দীর্ঘদিন।   তার সমস্ত ডকুমেন্ট আমরা ট্রাইব্যুনালে হাজির করেছি। সেফ হাউজের ডকুমেন্টর এর সত্যতা বিষয়ে কফেকটি উদাহরন পেশ করে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সেফ হাউজের  নামে তিনটি টেলিফোন লাইন বরাদ্দ নেয়া হয়। তিনটি নম্বরের বিপরীতে যে টেলিফোন বিল জমা দেয়া হয়েছে তা আমরা বিটিআরসি থেকে সংগ্রহ করেছি। বিটিআরসির সে টেলিফোন বিলে যে ঠিকানা রয়েছে এবং সেফ হাউজের ঠিকানা একই। ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন এই  এই ডকুমেন্ট কি কারো পক্ষে তৈরি করা সম্ভব?

আজ যুক্তি উপস্থাপনে  ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাককে সহায়তা করেন ব্যারিস্টার তানভির আহমেদ।
ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ হায়দার আলী জবাব  প্রদান  শুরু করেন।
ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি  এটিএম ফজলে কবির, সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, বিচারপতি আনোয়ারুল হক বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।


মাওলানা সাঈদী তিনবার অবিচারের শীকার হয়েছেন-শুনানীতে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক

২৭/১/২০১৩
মাওলানা  দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলায়  আসামী পক্ষের পুনরায় যুক্তি উপস্থাপন অব্যাহত রয়েছে। আসামী পক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক আজ  দিনব্যাপী যুক্তি উপস্থাপন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ।
এসময় তিনি ট্রাইব্যুনালে বলেন,  মাওলানা  দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী তিনবার অবিচারের শীকার হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ১৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দী তাদের অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহন করা হয় আইনের ১৯.২ ধারায়। এর মাধ্যমে তিনি  প্রথমবার অবিচারের শীকার হয়েছেন । এরপর আমরা ১৫ সাক্ষী বিষয়ে সেফ হাউজের সমস্ত ডকুমেন্ট হাজির করে দেখিয়েছি যে, এসব সাক্ষীদের অনেকে  রাষ্ট্রপক্ষের হেফাজতে  ঢাকায় ছিল। তারা তাদের  শেখানো মতে সাক্ষ্য দিতে রাজি না হওয়ায় তাদেরকে ইচ্ছা করে রাষ্ট্রপক্ষ ট্রাইব্যুনালে হাজির করেনি। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ৪৩ দিন পর্যন্ত কয়েক দফায় সেফ হাউজে ছিল। তার সমস্ত ডকুমেন্ট আমরা হাজির করেছি এবং তাদের সাক্ষ্য বাতিলের জন্য দরখাস্ত করেছিলাম।  কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ থেকে  বলা হল আমরা  নিজেরা ওইসব ডকুমেন্ট তৈরি করেছি এবং তা জাল। আমাদের আনিত ডকুমেন্টকে  অস্বীকার করে বহাল রাখা হল তাদের সাক্ষ্য। এর মাধ্যমে  মাওলানা সাঈদী  দ্বিতীয়বার অবিচারের শীকার হয়েছেন।
এরপর বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের স্কাইপ কথোপকথন প্রকাশের পর আমরা তা ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুনরায় বিচার দাবি করেছি। কিন্তু পুনরায় বিচারের আবেদন গ্রহণ না করে তার প্রতি তৃতীয়বারের মত ঐতিহাসিক  অবিচার করা হল তার ওপর।  আশা করছি চতুর্থ বার তিনি ন্যায় বিচার পাবেন।

ট্রাইব্যুনালের সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের স্কাইপ কেলেঙ্কারির জের ধরে  ট্রাইব্যুনাল-১ এ নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রেক্ষাপটে মাওলানা সাঈদীর মামলায় পুনরায় পাঁচদিন শুনানীর জন্য ধার্য্য করেন ট্রাইব্যুনাল। আসামী পক্ষের জন্য বরাদ্দ করা নির্ধারিত তিনদিন পার হয়ে গেলেও তাদের যুক্তি পেশ শেষ না হওয়ায় তা অব্যাহত রয়েছে।
আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণসহ যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরোধীতা করে  আইনী যুক্তি উপস্থাপন করেন ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক।  মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ বিষয়ে তিনি বলেন এ অভিযোগের ধারে কাছেও নেই মাওলানা সাঈদী। রাষ্ট্রপক্ষ খুব হালকাভাবে নিয়েছেন গনহত্যার মত মারাত্মক একটি অভিযোগকে। ইচ্ছা হল আর তাই বসিয়ে দেয়া হয়েছে গণহত্যার অভিযোগ। গণহত্যার যেসব  উপাদান  এবং সংজ্ঞা রয়েছে তার কোন কিছুরই ধার ধারেননি মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনা  বিষয়ে।
মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ খন্ডন করে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বিশ্বের অনেকগুলো মামলার নজির তুলে ধরেন ট্রাইব্যুনালে।

ট্রাইব্যুনাল ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাককে অনুরোধ করেছিলেন গতকালের  মধ্যে তার যুক্তি উপস্থান শেষ করার জন্য। ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন আগামীকাল (আজ) দুপুরের মধ্যে তিনি শেষ করতে পারবেন। ট্রাইব্যুনালের আদেশ অনুযায়ী  এরপর রাষ্ট্রপক্ষ এক ঘন্টা সময় পাবে জবাব দেয়ার জন্য।  মামলায় যুক্তি উপস্থান শেষ করার মধ্য দিয়ে মামলার বিচার শেষ হয়ে যায় এবং নিয়ম অনুযায়ী এরপর মামলার রায়ের তারিখ ঘোষনা করা হয়।

যুক্তি উপস্থাপনে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাককে গতকাল সহায়তা করেন ব্যারিস্টার তানভির আহমেদ আল আমিন।
ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির, সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন এবং বিচারপতি আনোয়ারুল হক বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

অভিযোগ নয় রাষ্ট্রপক্ষের মিথ্যাচার প্রমানিত হয়েছে-আসামী পক্ষ


২৪/১/২০১৩
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলায় আসামী পক্ষের পুনরায় যুক্তি উপস্থাপন অব্যাহত রয়েছে। আজ মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ বিষয়ে যুক্তি  উপস্থাপন শেষ করেছেন অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম। এরপর আইনী বিষয়ে যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন আসামী পক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক

পুনরায় যুক্তি উপস্থাপনের শুরুতে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক  ট্রাইব্যুনালের নতুন চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনার আজ এখানে বসার কথা ছিলনা। কিন্তু   বাস্তবতা হল আপনি  বসেছেন। গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি এ মামলার রায় হবে এরকমটিই ধারনা ছিল। কিন্তু ম্যান পজেস গড ডিসপজেস। এসময় মুচকি হাসেন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান এটিএম ফজলে কবির।

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বর্তমানে যে আইনে   সাঈদী সাহেবের বিচার চলছে সে আইনটি হয়েছিল ১৯৫ জন পাকিস্তানী সেনা কর্মকর্তাদের বিচারের জন্য। কোন বেসামরিক ব্যক্তিকে এ আইনের  অধীনে বিচারের কোন উদ্দেশ্য বা ইচ্ছা  কোনমতেই ছিলনা। এমনকি বেসমারিক ব্যক্তিকে যাতে এ আইনের অধীনে বিচার করা না হয় সেজন্য আইনটির বিল থেকে ইনকুডিং এনি পারসন শব্দ দুটি বাদ দেয়া হয়। বেসামরিক ব্যক্তিকে যাতে এ আইনের আওতায় আনা না হয় এবং শুধুমাত্র পাকিস্তানী সেনা কর্মকর্তাদের বিচার করাই যে এ আইনের লক্ষ্য ছিল সে বিষয়ে সংসদে তখন আইনটি পাশের পূর্বে যে আলোচনা হয়েছিল তা পড়ে শুনান ব্যারিস্টার  আব্দুর রাজ্জাক।
ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন,  সংসদের আলোচনা পড়লে এটা স্পষ্ট বোঝা যায় বেসামরিক ব্যক্তিদের বিচারের কোন উদ্দেশ্যই ছিলনা ১৯৭৩  সালের আইনের। কারণ  বেসামরিক ব্যক্তিদের বিচারের জন্য ১৯৭২ সালে দালাল আইন করা হয়েছিল।

অভিযোগ নয়  রাষ্ট্রপক্ষের মিথ্যাচার প্রমানিত হয়েছে :
 মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আনিত ১৯টি অভিযোগ খন্ডন করে  তিনদিনেরও বেশি পুনরায় যুক্তি পেশ করেছেন অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম। অভিযোগ খন্ডন করে যুক্তি পেশ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন অপর আইনজীবী তাজুল ইসলাম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ যে অভিযোগ এনেছে তার সবগুলো আমরা মিথ্যা প্রমান করতে সমর্থ হয়েছি। প্রসিকিউশন  থেকে আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছিল তা ছিল শতাব্দীর নিকৃষ্ট মিথ্যাচার । এসব অভিযোগ প্রমানিত হয়নি। বরং তারা যে এ মামলায় মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে সেটা প্রমানিত হয়েছে। মিথ্যাচারও তারা যোগ্যতার সাথে করতে পারেনি। নির্লজ্জভাবে আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনেছে তারা এবং নির্লজ্জভাবে ধরা খেয়েছে মিথ্যাচার বিষয়ে।
যুক্তি পেশ করার সময়  ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক এবং মিজানুল ইসলামকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট মনজুর আহমেদ আনসারী, ব্যারিস্টার তানভির আহমেদ আল আমিন, অ্যাডভোকেট আবু বকর সিদ্দিক প্রমুখ।
ট্রাইব্যুনালের সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের স্কাইপ কেলেঙ্কারির জের ধরে  ট্রাইব্যুনাল-১ এ নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রেক্ষাপটে মাওলানা সাঈদীর মামলায় পুনরায় পাঁচদিন শুনানীর জন্য ধার্য্য করেন ট্রাইব্যুনাল। আসামী পক্ষের জন্য বরাদ্দ করা নির্ধারিত তিনদিন পার হয়ে গেলেও তাদের যুক্তি পেশ শেষ না হওয়ায় তা অব্যাহত রয়েছে। ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি  এটিএম ফজলে কবির গতকাল ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাককে বলেন আশা করছি আগামী রোববারের মধ্যে আপনরা শেষ করবেন। জবাবে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, রোববারের মধ্যে শেষ করা কঠিন হয়ে যাবে। শুনানীর সময় ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন এবং বিচারপতি আনোয়ারুল হক উপস্থিত ছিলেন।

মাওলানা সাঈদীর মামলায় পুনশুনানী/আগামীকালের মধ্যে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করার নির্দেশ

২১/১/২০১৩
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলায় আগামীকালের  মধ্যে পুনশুনানী শেষ করার  জন্য আসামী পক্ষকে নির্দেশ  দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মাওলানা সাঈদীর মামলায় আসামী পক্ষের পুনরায় যুক্তি পেশ চলছিল। আসামী পক্ষের  যুক্তি উপস্থাপনের জন্য বরাদ্দকৃত তিনদিন আজ শেষ হবার কথা। আজ অ্যাডভোকেটম মিজানুল ইসলাম যুক্তি উপস্থাপনের সময় ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, আপনি যেভাবে বিস্তৃত পরিসরে যুক্তি পেশ করছেন তাতো আপনি নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে পারবেননা। আপনি অভিযোগ খন্ডন করে যুক্তি পেশ করেন। সাক্ষীদের জবানবন্দী এবং জেরায় যেসব পয়েন্ট পেয়েছেন সেসব বিষয় তুলে ধরেন। অভিযোগ এবং আইনী  পয়েন্টে কথা বলেন।
জবাবে মিজানুল ইসলাম বলেন, আপনি এ মামলার শুরুতে ছিলেন। কিন্তু এরপরে দীর্ঘ সিময় ছিলেননা।  রাষ্ট্রপক্ষের মোট ৪৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণ করা হয়ছে। ২০ টি অভিযোগ। এসব বিষয়ে আমরা আপনাকে বুঝিয়ে বলতে চাই। সেজন্য একটু সময়তো লাগবে।

বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির বলেন, সাক্ষীদের জবানবন্দী এবং জেরা আমি পড়ব অবশ্যই ।  তাছাড়া এখানে আরো যে দজন সদস্য বিচারপতি আছেন তারা আগে থেকে অনেক বিষয়ে নোট নিয়েছেন। আমি তাদের কাছ থেকে সাহায্য নিতে পারব। কাজেই আপনি যেভাবে জেরা পড়ে শোনাচ্ছেন তার দরকার নেই। মূল বিষয়ে  কথা বলেন। আপনাকে  আগামী কাল (বুধবার) আমরা সময় দেব।  এর মধ্যে শেষ করতে হবে। বেশ সময় পাবেননা।

মিজানুল ইসলাম বলেন, আপনারা বন্ধ করে দিলে শেষ করতে বললে আমি অবশ্যই বন্ধ করে দেব।

স্কাইপ কেলেঙ্কারির জের ধরে ট্রাইব্যুনাল থেকে বিচারপতি নিজামুল হকের পদত্যাগ এবং  বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির  নতুন চেয়ারম্যান নিযুক্ত হবার  কারনে মাওলানা সাঈদীর মামলায় পাঁচ দিন  পুনরায় যুক্তি উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন। এর মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষে দুই দিন এবং আসামী পক্ষকে পাঁচ দিন সময়  বরাদ্দ দেয়া হয়।
শুনানীর সময় ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন এবং বিচারপতি আনোয়ারুল হক উপস্থিত ছিলেন।
নিয়ম অনুযায়ী যুক্তি উপস্থান শেষ হলে  রায়ের তারিখ নির্ধারন করা হয়।

গোলাম আযম নিজামী সাঈদীর রিভিউ আবেদন খারিজ

২১/১/২০১২
জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযম, বর্তমান আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী এবং নায়েবে আমির  মাওলানা  দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর  পক্ষ থেকে দায়ের করা পৃথক তিনটি রিভিউ আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল -১।

বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের স্কাইপ কেলেঙ্কারির জের  ধরে  উপরোক্ত তিনজনের বিচার পুনরায় শুরুর আবেদন করা হয়েছিল আসামী পক্ষ থেকে।  আবেদন শুনানী শেষে গত ৩ জানুয়ারি তিনটি আবদেন খারিজ করে দেন ট্রাইব্যুনাল। খারিজ আদেশ পুনরায় বিবেচনার আবেদন করা হয়েছিল আসামী পক্ষ থেকে। শুনানী শেষে আজ  রিভিউ আবেদন খারিজ করে আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনাল সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন  আদেশ পড়ে শোনান। এসময় ট্রাইব্যুনাল চেয়ার‌্যান এটিএম ফজলে কবির এবং অপর সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
খারিজ আদেশে বলা হয় আবদেন নতুন কোন  ঘটনা না থাকায়  তিন জানুয়ারির আদেশ পুনরায় বিবেচনার কোন  কারণ নেই। আদেশে  বলা হয় তিন জানুয়ারির আদেশে আমরা উল্লেখ করেছিলাম যে, বিচারপতি নিজামুল হকের স্কাইপ কথোপকথন এবং ইমেইল ডকুমেন্ট অবৈধ উপায়ে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং এটা  একটা অপরাধ। আমরা আবারো মত দিয়ে বলতে চাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অগোচরে এসব ডকুমেন্ট  হ্যাক করে সংগ্রহ করা  অবৈধ এবং অপরাধ। চুরি করা ডকুমেন্ট ব্যবহার করা যায় কিন্তু কোথা থেকে কে  কিভাবে তা  চুরি করা হয়েছে তা বলতে হবে।  হ্যাক করা ডকুমেন্ট ব্যবহার করা যায় কি-না সে বিষয়ে আসামী পক্ষ কোন সন্তোষজনক প্রমান  হাজির করতে পারেনি।

মাওলানা সাঈদীর মামলায় পুনরায় যুক্তি পেশ অব্যাহত :

আজ  ট্রাইব্যুনাল-২ কর্তৃক  বিশিষ্ট ইসলামী ব্যক্তিত্ব মাওলানা আবুল কালাম আযদের বিরুদ্ধে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন। তবে ট্রাইব্যুনাল-২এর বিচার কক্ষ ছোট হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল-১ এর কোর্টরুমে আদেশ ঘোষনা করা হয়। আদেশ ঘোষনা শেষ হওয়ার পর বসে ট্রাইব্যুনাল-১। আল্লামা সাঈদীর মামলায় পুনরায় যুক্তি পেশ  শুরু হয় আসামী পক্ষের। অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম রাষ্ট্রপক্ষের ২০ জন সাক্ষীর বিষয়ে তথ্য উপস্থাপন করে বলেন, তারা  সকলেই হয় সুবিধাভোগী, না হয় আওয়ামী লীগের সাথে জড়িত আর না হয়  জামায়াত বিদ্বেষী।  মামলা শুরুর পর রাষ্ট্রপক্ষের কোন সাক্ষী কিভাবে নানা সরকারি সুযোগ সুবিধা পেয়েছে তার বিবরন দেন মিজানুল ইসলাম।

আর্গুমেন্ট দুপুর একটা পর্যন্ত চলার পর অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলামের নিবেদনের প্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার  পর্যন্ত মুলতবি করা হয় । যুক্তি উপস্থাপনে মিজানুল ইসলামকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট মনজুর আহমেদ আনসারী।


মালুমকে অপসারনের ভার চিফ প্রসিকিউটরের সুবিবেচনার ওপর ছেড়ে দেয়া হল

২০/১/২০১৩ রোববার
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জেয়াদ আল মালুকে অপসারনের বিষয়টি চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপুর সুবিবেচনার ওপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ বিষয়ে আদেশ দিয়ে তার বিরুদ্ধে আবেদন নিষ্পত্তি করেছেন।

বিচারপতি নিজামুল হকের স্কাইপ কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত থাকা, ন্যায় বিচারকে বাঁধাগ্রস্ত করা এবং বিচার নিয়ে বিচারপতি নিজামুল হকসহ বাইরের লোকদের সাথে গোপন আতাতের অভিযোগে জেয়াদ আল মালুমকে অপসারনের আবেদন করা হয় আসামী পক্ষ থেকে।  জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযম এবং বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষ থেকে তার অপসারন চেয়ে আবেদন করা হয় ট্রাইব্যুনালে। অধ্যাপক গোলাম আযম এবং সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মামলায় জেয়াদ আল মালুম রাষ্ট্রপক্ষের সংশ্লিষ্ট  আইনজীবী। জেয়াদ আল মালুমের বিরুদ্ধে দুটি আবেদনেই  দাবি করা হয় তিনি  রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে তাদের মামলা পরিচালনা করলে তারা ন্যায় বিচার পাবেননা। জেয়াদ আল মালুম বিচারকে কলুষিত করার সাথে জড়িত বলে অভিযোগ করা হয় আবেদনে।

দুটি আবেদনের শুনানী শেষে  এ বিষয়ে আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। আদেশে ট্রাইব্যুনাল বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নিয়োগ বা অপসারনের দায়িত্ব  ট্রাইব্যুনালের নয়। এটি চিফ প্রসিকিউটর করে থাকেন। তাই জেয়াদ আল মালুমকে অপসারনের বিষয়টি চিফ প্রসিকিউটরের সুবিবেচনার ওপর ছেড়ে দেয়া হল। আদেশে স্কাইপ কেলেঙ্কারির  বিষযে জেয়াদ আল মালুমের সংশ্লিষ্টতা বিষয়ে উভয় পক্ষের শুনানীর সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হয়।

চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির, সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন এবং সদস্য বিচারতি আনোয়ার হোসেন সমন্বয়ে গঠিত ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেন। বিচারপতি আনোয়ারুল হক রায় ঘোষনা করেন। রায় ঘোষনার আগে তিনি বলেন উভয় আবেদেনর ক্ষেত্রে এ রায় প্রযোজ্য।


স্কাইপ ডকুমেন্ট প্রমানের দায়িত্ব কার?

১৬/১/২০১২
ট্রাইব্যুনাল থেকে পদত্যাগী চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের স্কাইপ কথোপকথন বিষয়ে  রাষ্ট্রপক্ষ থেকে বলা হয়েছে যারা এটা হাজির করেছে তাদেরই প্রমান করতে এটা সত্য কি-না। যারা এটা ব্যবহার করতে চায় তাদের দায়িত্ব এটার সত্যতার ব্যাপারে প্রমান করা।   অপর দিকে আসামী পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে এটা সত্য কি-না তার প্রমানের দায়িত্ব তাদের (আসামী পক্ষ) নয়; বরং যারা এটার সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ  করছে, যারা এটা অস্বীকার করছে   তাদেরই প্রমান করতে হবে যে,  এটা সত্য নয়।

আজ আন্তর্জাতিক  অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ    পুনরায় বিচার শুরু করা বিষয়ক   রিভিউ আবেদনের শুনানীর সময় উভয় পক্ষের আইনজীবীরা পাল্টপাল্টি এ দাবি করেন।

বিচারপতি নিজামুল হকের স্কাইপ কেলেঙ্কারির জের ধরে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযম, বর্তমান আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী এবং নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিচার আবার নতুন করে  শুরুর আবেদন করা হয়েছিল আসামী পক্ষ থেকে। আবেদনের পক্ষে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত স্কাইপ কথোপকথন জমা দেয়া হয় ডকুমেন্ট হিসেবে।  শুনানী শেষে গত ৩ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল   খারিজ করে দিয়েছেন  পুনরায় বিচারের আবেদন।  এরপর খারিজ আদেশ  পুনরায় বিবেচনার জন্য আবেদন করেছে আসামী পক্ষ।  গতকাল এ আবেদনের ওপর  উভয় পক্ষের শুনানী শেষ হয়েছে। আগামী ২১ জানুয়ারি এ বিষয়ে আদেশের জন্য ধার্য্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

পুনরায় বিবেচনার (রিভিউ)  আবেদনের শুনানীর সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ হায়দার আলী গতকাল বলেন,  যারা স্কাইপ কথোপকথন এর ডকুমেন্ট এনেছে  তাদেরই প্রমান করতে হবে এটা সত্য কি-না। যারা এটা ব্যবহার করতে চান এটার সত্যাসত্যতা তাদেরই প্রমান করতে হবে। বিচারপতি নিজামুল হক স্কাইপে কথা বলেছেন  তা সত্য। তিনি তা স্বীকার করেছেন। কিন্তু যে স্কাইপ কথোপকথন প্রকাশিত হয়েছে এটাই  যে সেকথা তার প্রমান কি? যে কথোপকথন প্রকাশিত হয়েছে এটা যে  সত্য তার প্রমান তাদেরই (আসামী পক্ষ) করতে হবে।

তিনি বলেন, সবকিছু মিলিয়ে দেখলে বোঝা যায় এটা একটা অনিরাপদ ডকুমেন্ট। এর কোন মূল্য নেই। তাই নতুন করে  বিচারের যে আবেদন খারিজ করে দেয়া হয়েছে  সে আদেশ পুনরায় বিবেচনার কোন সুযোগ নেই।

জবাবে আসামী পক্ষের আইনজীবী তাজুল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে এটা  আমাদের প্রমান করতে হবে।  আমি বলতে চাই এটা প্রমানের দায়িত্ব আমাদের নয়। আমাদের দায়িত্ব ডকুমেন্ট হাজির করার। আমরা তা করেছি। যারা এটা অস্বীকার করছে  যারা এটাতে সন্দেহ করছে তাদের  প্রমান করতে হবে যে, এটা সত্য নয়।

তাজুল ইসলাম বলেন, আজ পর্যন্ত স্কাইপ কথোপকথন কেউ  অস্বীকার করেননি। কাজেই প্রতিষ্ঠিত এবং সত্য  ডকুমেন্ট   প্রমানের দরকার হয়না। যারা স্কাইপ কথোপকথন করেছেন তারা চ্যালেঞ্জ করুক যে এটা তাদের কথা নয়; তাদের নামে যে কথোপকথন প্রকাশিত হয়েছে সেসব কথা তারা বলেননি। তারা বলুক এ কণ্ঠস্বর তাদের নয়।  তারপর আমরা প্রমান করব তারা একথা বলেছেন কি বলেনসনাই। কিন্তু তারা তো কেউ অস্বীকার করেননি এবং চ্যালেঞ্জও করেননি প্রকাশিত কথোপকথন  বিষয়ে।

তাজুল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের দাবি এটা আনসেফ (অনিররাপদ) ডকুমেন্ট।  আমাদের  প্রশ্ন কেন আনসেফ হবে? কেউ কি বলেছেন বক্তব্য বিকৃত করে প্রকাশ করা হয়েছে আমার দেশ পত্রিকায়? কেউ কি বলেছেন তারা যা বলেননি তাদের নামে তাই  ছাপা হয়েছে?  তাতো বলেননি কেউ। কাজেই আমরা যে  ডকুমেন্ট জমা দিয়েছি তা যদি আনসেফ হয়  তাহলে রাষ্ট্রপক্ষ অধ্যাপক গোলাম আযমের  মামলাসহ বিভিন্ন মামলায় যে পত্রপত্রিকার রিপোর্ট এবং অন্যান্য ডকুমেন্ট জমা দিয়েছেন তা নিরাপদ হবে কি করে? তা কেন  আনসেফ নয়? ওগুলোওতো পত্রপত্রিকার রিপোর্ট।  আমরা পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্ট জমা দিয়েছে এবং তা আনসেফ হয়ে গেল  আর তারা যেসব পত্রিকার রিপোর্ট জমা দিয়েছে তা সেফ হয়ে যাবে  কোন যুক্তিতে?
তাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের দাবি যদি এ ডকুমেন্ট নিয়ে কোন সন্দেহ থাকে তাহেল দক্ষ লোক এনে পরীক্ষা করা হোক। আমরা শুধু  আমার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত  রিপোর্টই জমা দেইনি বরং সিডিও জমা দিয়েছি। দক্ষ লোক এনে এসব পরীক্ষা করা  হোক সন্দেহ  থাকলে। প্রয়োজনে এর সত্যতা প্রমানের জন্য একটি কমিশন গঠন করা হোক।

এরপর তাজুল ইসলাম বলেন, রবীন্দ্রনাথের উদ্ধৃতি দিয়ে বলতে চাই কাউকে গোলাপ ফুল দেয়ার পর যদি সে বলে কিছুই বুঝিলামনা তাহা হইলে বলিতেই হইবে   ইহাতে বুঝিবার কিছুই নাই। ইহাতে শুধুই গন্ধ।

তাজুল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের আরেকজন আইনজীবী দাবি করেছেন যা কিছূ ঘটেছে তাতে নাকি বিচার কলুষিত হয়নি। বিচার কলুষিত হবার মত, নতুন করে বিচার শুরু করার মত তেমন  কিছুই নাকি ঘটেনি। আমাদের প্রশ্ন আর কতটা ঘটলে পরে বিচার কলুষিত হবে? কতটা পথ হাটলে পরে একজনকে  পথিক বলা যাবে?
তাজুল ইসলাম বলেন, পাঠান মুল্লূকে খুন খারাপি হলে তা  কোন আমলে নেয়া হয়না। কারণ ওটা ওখানে সাধারন ঘটনা। আমাদের দেশও পাঠান মুল্লুক হয়ে গেল যে এতবড় ঘটনার পরও বলা হচ্ছে কিছুই ঘটেনি?

ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির, সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন এবং বিচারপতি আনোয়ারুল হক বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

শুনানীর সময় আসামী পক্ষে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট মনজুর আহমেদ আনসারী, ব্যারিস্টার তানভির আহমেদ আল আমিন।

হরতালে সকালে চলেনি ট্রাইবু্যুনাল :

এদিকে আজ  সকালে হরতালের কারনে ট্রাইব্যুনাল-১ মুলতবি করা হয় বেল দুইটা পর্যন্ত। সকালে নির্ধারিত সময়ে ট্রাইব্যুনাল বসলে আসামী পক্ষের একজন মাত্র জুনি“ আইনজীবী হাজির ছিলেন।  রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন তিনজনের মত।  চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু বলেন হরতালের কারনে অন্যান্য প্রসিকিউটররা আসতে পারেননি। তখন দুইটা পর্যন্ত মুলতিব দিয়ে নেমে যান ট্রাইব্যুনাল।
এদিকে রিভিউ আবেদনের শুনানীর পর মাওলানা সাঈদীর মামলায় পুনরায় যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

স্কাইপ কথোপকথন অবৈধ ডকুমেন্ট নয় বরং সর্বজন স্বীকৃত সত্য ডকুমেন্ট


১৫/১/২০১২
আসামী পক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক  ট্রাইব্যুনালে  বলেছেন, স্কাইপ  কথোপকথন অবৈধ উপায়ে সংগৃহীত কোন ডকুমেন্ট নয়। বরং এটা সর্বজন স্বীকৃত প্রতিষ্ঠিত এবং সত্য ডকুমেন্ট। এটা বিভিন্ন ওয়েব সাইটে পাওয়া যাচ্ছে। এটা যে হ্যাক করা হয়েছে সে মর্মে কোন প্রমান কেউ হাজির করেনি। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এ নিয়ে রিপোর্ট হয়েছে। আজ পর্যন্ত বিচারপতি নিজামুল হক, ড. আহমেদ জিয়া উদ্দিন  কেউ এটা অস্বীকার করেননি। বরং তারা এটি স্বীকার করেছেন। স্কাইপ কথোপকথনে যাদের নাম এসেছে তারাও কেউ এটি অস্বীকার করেননি। কাজেই স্কাইপ কথোপকথন প্রতিষ্ঠিত সত্য ডকুমেন্ট।

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, স্কাইপ কথোপকথন হ্যাক করা হয়েছে কি-না, এটা অবৈধ উপায়ে সংগ্রহ করা হয়েছে কি-না এবং এটা  অপরাধের মধ্যে পড়ে কি-না সেটা  বলা এ ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারের মধ্যে পড়েনা। ২০০৬ সালে যে তথ্য প্রযুক্তি আইন হয়েছে সে আইনের অধীনে পরিচালিত কোন কোর্ট সাক্ষ্য প্রমানের ভিত্তিতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারে। তার আগে এটাকে ট্রাইব্যুনাল এটাকে  অবৈধ এবং হ্যাক করা হয়েছে এটা বলতে পারেননা। কারণ এটা কে, কোন দেশ থেকে কিভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে তা কেউ জানেনা।

ট্রাইব্যুনালের  পদত্যাগী চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের স্কাইপ কেলেঙ্কারির জের ধরে জামায়তে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযম, বর্তমান আমির  মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী এবং নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিচার    নতুন করে শুরুর  আবেদন করা হয়েছিল আসামী পক্ষ থেকে। সে আবেদন খারিজ করে গত ৩ জানুয়ারি আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।  খারিজ আদেশ পুনরায় বিবেচনার জন্য আবার আবেদন করা হয়েছিল আসামী পক্ষ থেকে। আজ ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক এ রিভিউ আবেদনের ওপর শুনানী পেশ করার সময় উপরোক্ত কথা বলেন । 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ শুনানীতে ব্যারিস্টার  আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পুনরায় বিচারের তিনটি আবেদন খারিজ করে দিয়ে গত তিন জানুয়ারি যে আদেশ আপনারা দিয়েছেন  সেখানে স্কাইপ কথোপকথন বিষয়ে বলা হয়েছে  এটি  হ্যাকড করা ডকুমেন্ট ।  এটা  অবৈধ উপায়ে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং এটা একটা অপরাধ। তাই এটা আমলে নেয়া যাবেনা।
এখন আমাদের  পরিষ্কার এবং স্পষ্ট  প্রশ্ন হল কে এটা হ্যাক করেছে। কোন দেশ থেকে কিভাবে হ্যাক করা হয়েছে?  এই তিন প্রশ্নের উত্তর কে দেবে? আপনারা বেদেন? এটা হ্যাক হয়েছে কি-না, এটা অবৈধ ডকুমেন্ট কি-না বা হ্যাকিং হয়ে থাকলে সেটা কোন ধরনের অপরাধের মধ্যে পড়বে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়ার ক্ষমতা কি এই ট্রাইব্যুনালের আছে? আমাদের মত হল আপনাদের সে এখতিয়ার নেই।
কারণ সাইবার ক্রাইম, হ্যাংকিং এসব বিষয়ে ২০০৬ সালে একটি আইন হয়েছে।।   স্কাইপ কথোপকথন হ্যাকিং হয়েছি কি-না  এবং সেটা কোন অপরাধ কি-না তা ২০০৬ সালের আইনের অধীনে পরিচালিত কোন কোর্ট কর্তৃক সাক্ষ্য প্রমানের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দিতে হবে। তার আগে আপনারা  বলতে পারেননা যে, স্কাইপ কথোপকথন  হ্যাকড ডকুমেন্ট, এটা  অবৈধ উপায়ে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং এটা একটা অপরাধ। আপনারা স্কাইপ কথোপকথনকে  অপরাধ হিসেবে অখ্যায়িত করেছেন। কিন্তু এটা যে হ্যাকড হয়েছে, অবৈধ উপায়ে সংগ্রহ করা হয়েছে  সে বিষয়ে কোন তথ্য প্রমান কি আপনাদের সামনে আছে?  নাই।

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন,   বিচারপতি নিজামুল হক এবং ড. আহমেদ জিয়া উদ্দিনের মধ্যে দ্ইু প্রন্ত থেকে স্কাইপের মাধ্যমে কথোপকথন হয়েছে। তাদের একজন বাংলাদেশে এবং আরেকজন বেলজিয়ামে ছিলেন। তাদের কথাবার্তা  যদি হ্যাকড হয় তাহলে হয় বাংলাদেশ থেকে অথবা বেলজিয়াম থেকে  হয়েছে। অথবা প্রথম আলো পত্রিকা লিখেছে একটি পাওয়ারফুল দেশ থেকে পাওয়া যেতে পারে। তাদের   কাছে নাকি সবই পাওয়া যায়। অথবা কেউ এটা ডিভাইসের মাধ্যমে রেকর্ড করেছে। এর  বাইরে এটা কারোর পাওয়ার কথা নয়।

ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ  এর উইকিলিকস বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার সংসদ বলেছে এটা তাদের দেশে কোন অপরাধ নয়। কিন্তু ইংল্যান্ডে এটা অপরাধ। কাজেই হ্যাকিং অপরাধ কিনা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে আগে জানতে হবে সেটা কোন দেশ থেকে হ্যাক করা হয়েছে এবং সেদেশের আইনে এ বিষয়ে কি বলা আছে।  বাংলাদেশ থেকে হ্যাকিং করা হয়েছে তার কোন প্রমান আছে?  বাংলাদেশ থেকে হ্যাকিং হয়েছে কি-না সেটা নিশ্চিত হবার আগে কি করে বলা যাবে যে, এটা অপরাধ?  কোন দেশ থেকে হ্যাক করা হয়েছে তা আমরা কেউ জানিনা। এটা বের না করা পর্যন্ত এটাকে আপনারা অবৈধ বলতে পারেননা। ২০০৬ সালের আইন কর্তৃক সাক্ষ্য প্রমানের ভিত্তিতে প্রমানের আগে আপনারা এটাকে অবৈধ বলতে পারেননা।
ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এখানে জেয়াদ আল মালুমকে অপসারন আবেদনের শুনানীতে  আইনজীবীরা বলেছেন  হতে পারে জিয়াউদ্দিন সাহেব  নিজেই এটা সরবরাহ করেছেন। বা অন্য কোন পক্ষ থেকে সরবরাহ করা হতে পারে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এসসয় ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির বলেন, সাবেক চেয়ারম্যান বিচারাতি  নিজামুল হক গত  ৬  ডিসেম্বর  লন্ডনের ইকোনমিস্টের বিরুদ্ধে রুল জারির সময়  তিনি নিজে বলেছেন  তার  ইমেইল এবং স্কাইপ একাউন্ট হ্যাক করা হয়েছে।
ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ৬ তারিখের ওই আদেশে বিচারপতি নিজামুল হক  এটাও স্বীকার করেছেন যে, তিনি জিয়াউদ্দিনের সাথে স্কাইপ কথোপকথন করেছেন। জিয়াউদ্দিন সাহেব ১৯  জানুয়ারি বিডি নিউজের লিখিত প্রবন্ধে স্বীকার করেছেন তিনি কথা বলেছেন। আজ পর্যন্ত তাদের দুজনের কেউ বা এখানে যাদের নাম  এসেছে তাদের কেউ   আমার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত স্কাইপ কথোপকথন বিষয়ে অস্বীকার করেননি। স্কাইপ কথোপকথনে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জেয়াদ আল মালুমের নাম এসেছে অনেক  বিষয়ে। তিনি এখন পর্যন্ত অস্বীকার করেননি যে তার সম্পর্কে স্কাইপ সংলাপে যা বলা হয়েছে তা মিথ্যা। স্কাইপ কথোপকথনে উল্লেখ আছে তিনি বিচারপতির রুমে গিয়েছেন সাক্ষী বিষয়ে আলোচনার জন্য। তিনি সাক্ষীকে প্রশিক্ষন দিয়েছেন। তার নামে যে এসব কথা মিথ্য লেখা হয়েছে বা তিনি যে এসব করেননি তাতো তিনি বলছেননা।  ড. আহমেদ জিয়া উদ্দিন তার প্রবন্ধে বলেছেন আমার দেশ পত্রিকায় যা প্রকাশিত হয়েছে তাতে কিছু  কাটাছাট এবং পরিবর্তনের আলামত পাওয়া গেছে। কিন্তু কোথায়  তার কথা বিকৃত করা হয়েছে, ভুল লেখা হয়েছে তা তিনি বলেননি। তিনি এতকথা লিখলেন আর  ভুল কোথায় লেখা হয়েছে তা  উল্লেখ  করতে পারলেননা?
কাজেই এসব থেকে এটা প্রমানিত যে, স্কাইপ কথোপকথন অবৈধ   নয় এটা সর্বজন স্বীকৃত প্রতিষ্ঠিত একটি সত্য ডকুমেন্ট। এটা   বিভিন্ন ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে।
ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন,  জিয়াউদ্দিন সাহেব তার প্রবন্ধে  গর্বের সাথে বলছেন  তারা এটি করে কোন অন্যায় এবং আইন ভঙ্গ করেননি। তারা  ট্রাইব্যুনালকে সহায়তার চেষ্টা করে গেছেন এবং ভবিষ্যতেও  করে যাবেন।
ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পুনরায় বিচার আবেদন খারিজ করে দেয়া আদেশে আপনারা ইকোনমিস্ট ম্যগাজিনকে প্রশংসা করেছেন। অন্যদিকে দৈনিক  আমার দেশ  পত্রিকা অনৈতিক কাজ করেছে বলে উল্লেখ করেছেন।  অথচ ইকনোমিস্ট আমার দেশ পত্রিকার চেয়ে অনেক  বেশি এবং শক্ত কথা লিকেছে।  তার কম শব্দে অনেক বেশি এবং গুরুত্বপূর্ণ কথা লিখেছে। আমার দেশ শুধু স্কাইপ কথোপকথন ছেপেছে; ইমেইল নিয়ে কোন রিপোট করেনি। কিন্তু ইকোনমিস্ট  স্কাইপ বিষয়ে একটি সারসংক্ষেপ রিপোর্ট করেছে এবং ইমেইল নিয়েও রিপোর্ট করেছে।
এসসয় ট্রাইব্যুাল বলেন, ইকোনমিস্ট স্কাইপ কনভারসেশন ছাপেনি।
ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন,   হুবহু ছাপেনি। তবে ইকনোমিস্ট তাদের রিপোর্টে   স্কাইপ থেকে সংলাপ   উদ্ধৃত করছে  তাদের প্রতিবেদনে। যেমন  ‘সরকার গেছে পাগল হইয়া, তারা একটা রায় চায়। সরকার রায়ের  জন্য  পাগল হইয়া গেছে, বাস। একথাগুলো  ইকোনরমিস্টও লিখেছে।  আপনারা যদি শুধু ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনও আমলে নেন তাহলেও এ বিচার পুনরায় শুরুর শতভাগ দাবি রাখে। 

তিনি  বলেন আমার দেশ এবং সংগ্রামে স্কাইপ প্রকাশ করেছে  সেকারনে তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন করতে পারেন কিন্তু ইকোনমিস্ট কি কারনে ছেপেছে?  উপমহাদেশের কোন দেশের  কোন ঘটনা নিয়ে  ইকোনমিস্ট এতবড় বিস্তারিত রিপোর্ট  এর আগে কখনো করেছে কি-না আমার জানা নেই। পূর্ন তিন পৃষ্ঠা রিপোর্ট করেছে তারা।  ১৯৭১ সালে তারা কত বড় রিপোর্ট করেছিল তা আমার মনে নেই। সাক্ষীদের প্রশিক্ষন দেয়ার কথা, কোন তারিখে কোন আদেশের ড্রাফট বেলজিয়াম থেকে এসেছে সেসব তারিখসহ ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ পর্যায়ে বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির বলেন, একজন আইনজীবী সাক্ষীর সাথে কথা বলতে পারেন। সাক্ষীকে টেস্ট করা তার দায়িত্ব। পুরো বিষয়টা সাক্ষীর মেমোরিতে আনা তার দায়িত্ব। এটা অবৈধ নয়। এটা টেম্পারিং নয়।

জবাবে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, অবশ্যই পারেন কিন্তু সুলতানা কামাল কি বিচারপতি নিজামুল হকের সাক্ষী না প্রসিকিউশনের সাক্ষী? জেনারেল শফিউল্লাহ,  মুনতাসির মামুন  এরা  কি নিজামুল হকের সাক্ষী না  প্রসিকিউশনের সাক্ষী? রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী যদি বিচারপতির চেম্বারে বসে  সাক্ষী নিয়ে আলোচনা করেন, কোন সাক্ষীকে দিয়ে কি বলাতে, কোন সাক্ষীকে বাদ দিতে হবে  তা নির্ধারন করেন  এবং এরপরও যদি এটা টেম্পারিং না হয় তাহলে টেম্পারিং কি? সাক্ষী যদি বিচারপতি নিজামুল হকের হয় এবং এরপরও যদি এ বিচার ব্যবস্থা অপবিত্র না হয় তাহলে আমাদের আর বলার কিছু নেই। আপনাদের সুবিবেবচনার ওপর ছেড়ে দিলাম।

হ্যাক করা ডকুমেন্ট ব্যবহার করা বৈধ কি-না সে বিষয়ে  ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক যুগোস্লাভিয়ার যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের দুটি উদাহরন  তুলে ধরেন শুনানীর সময় । তিনি বলেন, যুগোস্লভিয়া যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে  আসামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে টেলিফোন কথোপকথনের রেকর্ড সরবরাহ করা হয়েছিল। এ টেলিফোন কথোপকথন গোপনে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছিল।  আসামী পক্ষ থেকে তখন অভিযোগ করা হয়েছিল এটা অবৈধভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে। এটা অপরাধ। এটা ব্যবহার করা যাবেনা। কোর্ট তখন যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রে ঘটা   এজাতীয় ঘটনা পর্যালোচনা করে সেই হ্যাক করা ডকুমেন্ট  আমলে নেন এবং জানান, ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত হলে এবং রেকর্ডকৃত কথাবর্তা সত্য হলে সেটা ব্যবহার করা যাবে।
ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আপনরা দেখবেন আপনাদের সামনে যা হাজির করা হয়েছে তা প্রাসঙ্গিক  কিনা এবং সত্য কিনা।
কিভাবে ডকুমেন্ট  সংগ্রহ করা হয়েছে সেটা অপরাধ কি-না এবং তা দেখার ব্যবস্থা এই ট্রাইব্যুনালের আইনে নেই। ট্রাইব্যুনালের আইনের ১৯ (১) ধারায় বলা  আছে  পত্রিকা, ম্যাগাজিনের  প্রকাশিত খবর; চলচ্চিত্র,  প্রামান্য চিত্র এসব ডকুমেন্ট হিসেবে  গ্রহণ করা যাবে। কিন্তু কিভাবে এসব সংগ্রহ করা হয়েছে তা বিবেচনার  ব্যবস্থা আইনে নেই। অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে অনেক পত্রপত্রিকার রিপোর্ট জমা দেয়া হয়েছে এবং সেগুলো আপনারা গ্রহণ  করেছেন।  সাঈদীর সাহেবের বিরুদ্ধে মামলায় ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য তাদের অনুপস্থিতিতে গ্রহণ করা হয়েছে সাক্ষ্য হিসেবে। কাজেই এত ডকুমেন্ট আপনারা গ্রহণ করলেন। কিন্তু  এসব স্কাইপ কথোপকথন ডকুমেন্ট হিসেবে গ্রহণ করতে আপত্তি কোথায়? বিচার নতুন করে শুরু করতে  আপত্তি কোথায়? অবশ্য যারা তাড়াতাড়ি    করতে চায় তাদের অসুবিধা আছে।  ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন এই ট্রাইব্যুনালকে রক্ষার দায়িত্ব আপনাদের।

শুনানী পেশ করার সময় ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাককে সহায়তা করেন ব্যারিস্টার তানভির আহমেদ আল আমিন। অন্যান্যেল মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম, তাজুল ইসলাম প্রমুখ। রাষ্ট্রপক্ষে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু।

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক শুনানী পেশ করার পর রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জবাব প্রদান শুরু হয়েছে। আজ সকালেও তাদের জবাব দেয়ার কথা রয়েছে।

ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান এটিএম ফজলে কবির, সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন এবং বিচারপতি আনোয়রুল হক বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।


জেয়াদ আল মালুমকে অপসারন আবেদনের ওপর দীর্ঘ শুনানী

১৪/১/২০১২
স্কইপ কেলেঙ্কারির সাথে জাড়িত থাকার অভিযোগে  রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জেয়াদ আল মালুমকে অপসারনের দাবি জানিয়ে  জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযম এবং বিএনপি নেতা  সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষ থেকে দুটি আবেদন করা হয়েছে।  দুটি আবেদনের ওপরই আজ  শুনানী শুরু  হয়েছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে শুনানী চলে।  দুপুর দুইটার পর শুনানী শুরু হয়ে প্রায় সাড়ে চারটা পর্যন্ত চলার পর  আজ মঙ্গলবার  পর্যন্ত মুলতবি করা হয় শুনানী।


শুনানীর সময় প্রায়ই  বিচারপতি নিজামুল হক এবং ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনের মধ্যকার স্কাইপ কথোপকথন থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেন আইনজীবীরা এবং নিয়ে মাঝে মাঝে চাপা  হাসির ঘটনা ঘটে। জেয়াদ আল মালুমের পক্ষে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুনানী করার সময় শেষ বিকালে কিছুটা উত্তেজনাও দেখা দেয় গতকাল।

জেয়াদ আল মালুমকে অপসারন চেয়ে দাখিল করা দুটি আবেদন একই ধরনের। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষে শুনানীতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট আহসানুল হক হেনা এবং ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম। অধ্যাপক গোলাম আযমের পক্ষে শুনানীতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম। শুনানীতে তারা জেয়াদ আল মালুমকে অপসারনের দাবি জানিয়ে বলেন,  সে   এই বিচার নিয়ে  বিচারপতি নিজামুল হক, বেলজিয়ামের আহমেদ জিয়াউদ্দিনের সাথে যেসব গোপন আতাত এবং যোগসাজস করেছে তার মাধ্যমে সে নিজেকে ন্যায় বিচারের পরিপন্থী হিসেবে  প্রতিষ্ঠিত করেছে।  এরপরও সে এ মামলা পরিচালনায় অংশ নিলে আসামীদ্বয়  ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হবেন।

অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম আবেদনের পক্ষে শুনানীতে অংশ নিয়ে বলেন,  প্রসিকিউশন থেকে  আমাদের আবেদন খারিজের দাবি জানিয়ে একটি লিখিত জবাব দেয়া হয়েছে। দরখাস্তে তারা বলেছেন আমার দেশ এবং সংগ্রাম অসদউদ্দেশে স্কাইপ কথোপকথন প্রকাশ করেছে। কিন্তু আমার দেশ মিথ্যা কথা প্রকাশ করেছে একথা তারা দরখাস্তে বলতে পারেননি। আর জেয়াদ আল মালুম এই স্কাইপ কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত নন তাও অস্বীকার করেননি তিনি।  স্কাইপ কথোপকথনকেও অস্বীকার করেননি। তার বিষয়ে স্কাইপ কথোপকথনে যা যা উল্লেখ আছে তাও অস্বীকার করা হয়নি। কাজেই এটা যে সত্য তা প্রমানিত।
মিজানুল ইসলাম বলেন, দরখাস্তে বলা হয়েছে তারা সততা, নিষ্ঠা এবং কর্তব্য পরায়নতার সাথে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছেন। মিজানুল ইসলাম ক্ষোভের সাথে বলেন, সততা, নিষ্ঠা আর কর্তব্য পরায়নতার নমুনা কি এই যে, আসামীকে ফাঁসানোর জন্য  গোপনে বিচারপতির চেম্বারে গিয়ে সলা পরামর্শ করা এবং বিচারের নামে প্রকাশ্য ট্রাইব্যুনালে অভিনয় করা, নাটক করার ষড়যন্ত্র করা? সততার নমুৃনা কি এই যে, বিচারপতির রুমে গিয়ে বলা যে, আমি কোর্টে দাড়িয়ে যাব আর আপনি আমাকে ধমক দিয়ে বসিয়ে দেবেন; যাতে লোকে  বুঝতে পারে তাদের মধ্যে কোন খাতির নেই? গোপনে বাইরের তৃতীয় ব্যক্তির কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে তাদের নির্দেশমত কাজ করার নামই কি সততা আর নিষ্ঠা?  আসামীকে ফাঁসানোর জন্য কোন সাক্ষীকে দিয়ে কি বলাতে হবে, কোন সাক্ষী বাদ দিতে হবে, কাকে দিয়ে গ্যাপ পূরন করা হবে সে বিষয়ে সাক্ষীকে প্রশিক্ষন দেয়?  এসবই সততা, নিষ্ঠা আর কর্তব্য পরায়নতার নমুনা?

মিজানুল ইসলাম বলেন, তাদের লিখিত জবাবে অভিযোগ করা হয়েছে আমরা নাকি এসব দরখাস্ত দিয়ে ট্রাইব্যুনালের প্রতি অবজ্ঞা করছি, অবমাননা করছি, বিচারকে বিলম্বিত করার চেষ্টা করছি। জেয়াদ আল মালুম   বিচারপতি এবং বাইরের লোকের সাথে বিচার নিয়ে যেসব নাটক করলেন সেসব ট্রাইব্যুনালের প্রতি অবমাননা নয়।  আর অবমাননা হল তাকে অপসারন চাওয়া ? বেশ অদ্ভুত দাবি বটে।

মিজানুল ইসলাম বলেন,  জেয়াদ আল মালুম  কথায় কথায় ৩০ লাখ শহীদের কথা বলেন। ৩০ লাখ কি এজন্য শহীদ হয়েছিলেন যে, নীতিনৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে বিচারের নামে  আসামীকে ফাঁসানোর জন্য নাটক করবেন তারা?

তিনি বলেন, জেয়াদ  আল মালুম যা করেছেন, তা বার কাউন্সিল কর্তৃক একজন আইনজীবীর  জন্য যেসব  পেশাগত আচরন নির্ধারিত রয়েছে তার চূড়ান্ত লঙ্ঘন। তাই তাকে এ মামলা  পরিচালনা থেকে অব্যাহতি দেয়া উচিত। আইনে বরখাস্তের কথা বলা নেই। আইনে পদত্যাগের কথাও বলা নেই। কিন্তু তাই বলে কি একজন আইনজীবী পদত্যাগ করার অধিকার রাখেননা? অবশই রাখেন।  তাছাড়া এই ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক একজন আইনজীবীর ওপর ট্রাইব্যুনালে প্রবেশের ওপর এবং শুনানীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আদেশ দিয়েছেন। কাজেই জেয়াদ আল মালুমকে এই ট্রাইব্যুনালে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আদেশ  দেয়া হোক। তাহলেই সে আর মামলা পরিচালনা করতে পারবেনা।

শুনানীতে জেয়াদ আল মালুমের পক্ষে অংশ নেন এটর্নি জেনারেল  মাহবুবে আলম। তিনি বলেন,  বিচারকে বিলম্বিত করার জন্য এবং ট্রাইব্যুনালকে অকার্যকর করার জন্য এসব দরখাস্ত করা হচ্ছে একের পর এক। স্কাইপ দিয়ে বিচার হবেনা। বিচার হবে ফরমাল চার্জে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে কি কি অভিযোগ আছে তার ওপর ভিত্তি করে। সেখানে জেয়াদ আল মালুম কিছু করেননি। কাজেই এ আবেদন খারিজ করে দেয়া উচিত।
তিনি বলেন বিচারকে কেউ বাধাগ্রস্ত করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। কিন্তু এই স্কাইপ কথোপকথনে এমন কিছু নেই জেয়াদ আল মালুমের বিরুদ্ধে।
এসময়  এটর্নি জেনারেল ফরমাল চার্জ থেকে অধ্যাপক গোলাম আযম  কর্তৃক ১৯৭১ সালের কিছু বক্তব্য উদ্ধৃতি করেন তিনি। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের কোন কোন নেতার সাথে  বৈঠক করেছেন সেসব বর্ননা দেন। তখন মিজানুল ইসলাম বারবার আপত্তি দিয়ে বলতে থাকেন এসব কি এই আবেদনের বিষয়? এটর্নি জেনারেল অভিযোগ করলেন আমরা সময় ক্ষেপন করছি। কিন্তু তিনি এখন যা যা বলছেন তা কি?   তিনি যা  যা বলছেন তার সাথে আমাদের এই আবেদনের  কি কোন সম্পর্ক আছে?
মিজানুল ইসলাম বলেন, ৫ অক্টোবরের  স্কাইপ সংলাপে বিচারপতি নিজামুল হক এবং জিয়া উদ্দিন  বললেন  তারা রাষ্ট্রপক্ষকে একটি দরখাস্ত নিয়ে আসতে বলবেন  সাক্ষীর সংখ্যা  সীমিত করার বিষয়ে। ৭ তারিখ দরখাস্ত দেয়া হল। ৯ তারিখ অধ্যাপক গোলাম আযমের পক্ষে সাক্ষীর সংখ্যা ১২ জন নির্ধারন করে দিয়ে আদেশ দেয়া হল। এরকম  গোপন আতাতের পরও কি বলা যাবে জেয়াদ আল মালুম ন্যায় বিচারকে বাঁধাগ্রস্ত করার পেছনে লিপ্ত ছিলনা?

সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষে শুনানীতে অংশ নিয়ে আহসানুল হক হেনা এবং ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম দুজনেই বলেন, স্কাইপ কথোপকথন যে হ্যাক করা হয়েছে তার কোন প্রমান  রাষ্ট্রপক্ষের কাছে নেই। কাউকে এ বিষয়ে চিহ্নিত করা হয়নি। স্কাইপ কথোপকথন  হ্যাক নয় বরং বিচারপতি নিজামুল হক বা ড. আহমেদ জিয়া উদ্দিন এ দুজনের কেউ একজন  ফাঁস করে দিয়ে থাকতে পারে। জিয়াউদ্দিন আহমেদ কোন পক্ষ থেকে টাকা খেয়ে নিজেই অন্যকে দিয়েছেন  হয়ত। রাষ্ট্রপক্ষও এটি সরবরাহ করতে পারে।
তারা বলেন খড়ের কুটায় যেমন সুই হারিয়ে যায় তেমনি হ্যাকিং হারিয়ে গেছে।

আহসানুল হক হেনা বলেন, জেয়াদ আল মালুম এ বিচার নিয়ে যে গর্হিত কাজ করেছেন তাতে তিনি থাকলে আমরা ন্যায় বিচার পাবনা। তিনি বিচারপতির সাথে চেম্বারে গিয়ে গোপনে আতাত করে ঠিক করেছেন এখানে দাড়িয়ে যাওয়া আর বসিয়ে দেয়ার নাটক করবেন । মানুষকে দেখাবেন ন্যায় বিচার হচ্ছে আর ভেতরে করবেন অন্যকাজ। আসামীকে ন্যায় বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত করার জন্য  জেয়াদ  আল মালুম যেসব গর্হিত কাজ করেছেন তার অনেক প্রমান স্কাইপ সংলাপে আছে। তিনি বলেন, তাদের পক্ষের  সংগঠন  ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির পক্ষ থেকেই  সংবাদ সম্মেলন করে বলা হয়েছে তারা অসদাচরন করেছেন।
আহসানুল হক হেনা শুনানী পেশ করার সময় স্কাইপ সংলাপ থেকে উদ্ধৃতি  পড়ে শোনান।   এটর্নি জেনারেল দাড়িয়ে প্রতিবাদ করলে কিছুটা উত্তেজনা দেখা দেয়।

ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলামকে আবারো শোকজ: সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবী ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবেনা সে মর্মে কারণ দর্শানো নোটিশ  জারি করেছেন ট্রাইব্যুনাল-১। তিন সপ্তাহের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
স্কাইপ কেলেঙ্কারি বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল-১ এর বর্তমান তিনজন বিচারপতির কেউ আগে থেকে অবহিত ছিলেন কিনা সে বিষয়ে তাদের কাছ থেকে ব্যাখ্যা দাবি করে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষে আবেদন করেন ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম। এ বিষয়ক আদেশে আজ  ট্রাইব্যুনাল বলেন, ট্রাইব্যুনাল এবং ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিদের বিষয়ে বিরূপ ধারণা সৃষ্টির জন্য অসদ উদ্দেশ্য নিয়ে  এ আবেদন করা হয়েছে।

সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে সব বিচার কার্যক্রম স্থগিত আবেদন খারিজ : সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। সে আবেদন  গতকাল শুনানী শেষে খারিজ করে দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল-১। আবেদনের ওপর শুনানীতে আহসানুল হক হেনা বলেন স্কাইপ কথোপকথন ট্রাইবুনাল-১ আমলে নিয়েছেন। তারা ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনের বিরুদ্ধে একটি রুল জারি করেছেন স্কাইপ সংলাপ বিষয়ে। ১৭ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে শুনানী হবে।  কাজেই স্কাইপ নিয়ে ট্রাইব্যুনাল-২ এ বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এ মামলা চলতে পারেনা। কারণ দুটি ট্রাইবু্যুনালই একই আইনের অধীনে চলছে। স্কাইপ নিয়ে দুটি ট্রাইব্যুনাল দুই রকম আদেশ দিয়েছেন। কাজেই বিষয়টি সুরাহা হওয়ার দরকার।  আগে জিয়াউদ্দিন আহমেদ জবাব দিক।
শুনানী শেষে আবেদনটি খারিজ করে দেন ট্রাইব্যুনাল।

স্কাইপ ডকুমেন্ট ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে আবেদন : অধ্যাপক গোলাম আযমের মামলায় স্কাইপ ডকুমেন্ট প্রদর্শনের অনুমিত চেয়ে আবেদন  করা হয়েছে। এ বিষয়ক  আবেদনের ওপর শুনানীতে মিজানুল ইসলাম বলেন, পুনরায় বিচার শুরুর আবেদন খারিজ করা আদেশে বলা হয়েছিল স্কাইপ কথোপকথন অবৈধ উপায়ে অর্জন করা হয়েছে এবং এটা একটা অপরাধ। হ্যাকড ডকুমেন্ট আমলে নেয়া যাবেনা। তাছাড়া এটা টেম্বার করাও সম্ভব বলে উল্লেখ করা হয়েছে আদেশে।  কিন্তু এটা যে হ্যাক করা হয়েছে তার কোন প্রমান আজ পর্যন্ত কেউ হাজির করতে পারেনি।  আমার দেশ পত্রিকায় যা প্রকাশিত হয়েছে তা  যে টেম্পার করা হয়েছে তাও আজ পর্যন্ত কেউ বলেনি।  যে দুজন কথা বলেছেন সেই বিচারপতি নিজামুল হক এবং ড. আহমেদ জিয়া উদ্দিন  তাদের কেউ এটা অস্বীকার করেননি। বরং জিয়াউদ্দিন সাহেব গর্বভরে স্বীকারে করেছেন যে, তিনি এটা করেছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন।  যে ২২ জনের নাম আছে স্কাইপ সংলাপে তাদের কেউ অস্বীকার করেননি। আপনাদের আদেশেও কোথাও বলা হয়নি এটা জেনুইন নয়। সংশ্লিষ্ট কেউ এখন পর্যন্ত বলেননি যে, এটা জেনুইন নয়। কাজেই এই স্কাইপ সংলাপ আমাদেরকে ব্যবহারের সুযোগ দেয়া হোক।
 রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জেয়াদ আল মালুম আপত্তি জানিয়ে বলেন এটা ব্যবহারের আইনগত কোন বৈধতা নেই। কারণ এটা অবৈধবাবে  সংগ্রহ করা হয়েছে।
শুনানী শেষে কোন আদেশ দেননি ট্রাইব্যুনাল।
এদিকে মাওলানা সাঈদীর পক্ষে দায়ের করা ছয়টি আবেদনই খারিজ করে দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল-১।
ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির, সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, বিচারপতি আনোয়ারুল হক বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

মাওলানা সাঈদীর মামলায় পুনরায় যুক্তি উপস্থাপন শুরু

১৩/১/২০১৩
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ  মাওলানা  দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলায় পুনরায় যুক্তি উপস্থাপন  শুরু হয়েছে। আজ  রাষ্ট্রপক্ষ তাদের যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ হায়দার আলী    প্রথম দিন মাওলানা  সাঈদীর বিরুদ্ধে ১৯টি অভিযোগ বিষয়ে ১১টি অভিযোগের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। অভিযোগের পক্ষে তিনি  রাষ্ট্রপক্ষের বিভিন্ন সাক্ষীর জবানবন্দী পড়ে শোনান ট্রাইব্যুনালে।

স্কাইপ কেলেঙ্কারির  কারনে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির  অধ্যাপক গোলাম আযম, বর্তমান আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী এবং নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিচার পুনরায় শুরুর আবেদন করা হয়েছিল আসামী পক্ষ থেকে। তিনটি আবেদনই খারিজ    করে দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। তবে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বদল হওয়ার কারনে ন্যায় বিচারের স্বার্থে মাওলানা সাঈদীর যুক্তিতর্ক পুনরায় পাঁচ দিন উপস্থাপনের  সুযোগ দেন ট্রাইব্যুনাল। সে মোতাবেক গতকাল থেকে পুনরায়  যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয়েছে।

এদিকে  পুনরায় বিচার শুরু বিষয়ে খারিজ করে তিনটি আবেদন পুনরায় বিবেচনার আবেদন জানিয়েছে আসামী পক্ষ। পাশপাশি মাওলানা সাঈদীর পক্ষে নতুন করে ছয়টি আবেদন করা হয়েছে।   মাওলানা সাঈদীর পক্ষে অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম নতুন এ ছয়টি  আবেদন করেন গতকাল। এগুলো হল 
আল্লামা সাঈদীর পক্ষে আরো চয়টি আবেদন : আল্লামা সাঈদীর পক্ষে আরো ছয়টি  আবেদন দাখিল করা
পিডব্লিউ-২৮ এবং ডিডব্লিউ-১৩  রিকল আবেদন, ২ ডিফেন্স এক্সিবিট-১ বিষয়ে  নতুন একটি ডকুমেন্ট উপস্থাপন। এটি হল  ইব্রাহীম কুট্টি হত্যা বিষয়ে তার স্ত্রী মমতাজ বেগম   ১৯৭২ সালে  একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। সে মামলার কাগজপত্র আসামী পক্ষ দাখিল করে ট্রাইব্যুনালে। কিন্তু একে জাল হিসেবে  আখ্যায়িত করা হয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে। এ প্রেক্ষিতে ওই  মামলার জিআর  রেজিস্ট্রার দাখিলের জন্য আবেদন করা হয়েছে গতকাল। ৩. সাক্ষী হাজিরের জন্য যেসব সমন ইস্যু করা হয়েছে সেসব সমন  দেখার জন্য আবেদন, ৪ ট্রাইব্যুনাল আইনের সেকশন ১৭ (১) অনুযায়ী আল্লামা সাঈদীকে নিজের বক্তব্য পেশের সুযোগদানের আবেদন, ৫ সেফ হাউজ ডায়েরি বিষয়ে আবেদন নিষ্পত্তির সময় ট্রাইব্যুনাল বলেছিলেন এটি  প্রমানের সুযোগ আসামী পক্ষ পরবর্তীতে পাবে। সেটি প্রমানের সুযোগ চেয়ে আবেদন এবং ৬ আসামী পক্ষকে পুনরায়  যুক্তি উপস্থাপনের জন্য তিনদিন সময় দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এ সময় আরো বাড়ানোর জন্য আবেদন।
আজ এসব আবেদন বিষয়ে শুনানী অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির, সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি  আনোয়ারুল হক বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

আসামী পক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক, অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।