সাঈদী : ১৫ সাক্ষী এবং সেফ হাউজ কেলেঙ্কারি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সাঈদী : ১৫ সাক্ষী এবং সেফ হাউজ কেলেঙ্কারি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ১ আগস্ট, ২০১৩

সেফ হাউজ ডায়েরি

সেফ হাউজ ডায়েরি
১৮/১০/২০১১

Mehedy Hasan
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তদন্ত সংস্থার আদেশ নম্বর ২৪, তারিখ ১২-১০-১১ এর মোতাবেক এবং স্মারক নং ১০৮০, তারিখ ১২-১০-১১ অনুসারে অত্র ৬৪৫ অতীশ দীপংকর, সায়েদাবাদ, গোলাপবাগ, যাত্রাবাড়িস্থ সেইফ হাউজ এর যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা এবং উর্ধ্বতন অফিসারগণের পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারীদের নিয়ন্ত্রন সহ সরকারী আদেশ উপদেশ কার্যকরী করার কল্পে অদ্য ১৮-১০-১১ তারিখের সকাল ০৮.০০ হতে অত্র ডায়েরী পত্তন তথা খোলা হইলো। অত্র ডায়েরী থানার ডায়েরী ন্যায় অর্থাৎ পিআরবি ৩৭৭ এবং পুলিশ আইনে ৪৪ ধারা মোতাবেক ব্যবহৃত হবে। বিশেষ করে  অফিসার ফোর্স বাহির গমনে এবং স্বাীদের আইনগত সুযোগ সুবিধা ও উর্ধ্বতন অফিসারগনের তাৎনিক আদেশ কার্যকরী করা হবে। সংশ্লিষ্ট সংস্থার মামলা বা স্বাী বা যে কোন ঘটনা এই অফিসের ইনচার্জ সাহেবকে জানাতে হবে। তিনি উর্ধ্বতন অফিসারকে জ্ঞাত করবেন। প্রয়োজনে ঘটনা বা তথ্য বিচারে সরাসরি উর্ধ্বতন অফিসারকে জ্ঞাত করবেন। অত্র অফিসের জন্য নিয়োজিত সকল ফোর্সের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির হিসাব এসআই  বাকি বিল্লাহ সাহেব নিয়ন্ত্রন করবেন। সেন্ট্রাল অফিস থেকে প্রেরিত মালামালের হিসাব তথা ষ্টক রেজিষ্ট্রার এসআই  কালাচাঁদ বাবু রনাবেন করবেন। সংশ্লিষ্ট ০২জন ঝও সাহেব অফিস চালুর যাবতীয় অসমাপ্ত কার্য সমূহ তরান্বিত করে আগামী ২৬-১০-১১ তারিখে সর্ব্বত উপযোগী করে তুলবেন। তারা আমার মাধ্যমে বা সরাসরি ইন্স: ওবায়েদুল্লাহ সাহেবের সঙ্গে যোগাযোগ করে সকল প্রকার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করবেন।




১৮/১০/২০১১
পার্শ্বলিখিত সময় আমি এবং এসআই কালাচাদ ঘোষ কনকর্ড কোম্পানীর ইঞ্জিানয়র ইউসুফ সাহেবের সঙ্গে অত্র অফিস তদন্ত সংস্থার স্বাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদের পরিবেশ উপযোগী করে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অনুরোধ করিরাম।
ইহা ছাড়া গ্যাস কন্ট্রাক্টর মিজানুর সাহেব, গ্যাস অফিসের ইঞ্জিনিয়র মেহেদী সাহেবের সঙ্গে অত্র সেইফ হাউজ আঙ্গিনায় কাজগুলি তরান্বিত করার অনুরোধ করিলাম।

১৮/১০/২০১১
পার্শ্বলিখিত সময় আমি মো: আমজাদ হোসেন, ইনচার্জ সেইফ হাউজ  আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তদন্ত সংস্থা অত্র ডায়েরী বহির ডাইরী নং ০৯, তারিখ ১৮-১০-১১ সংক্রান্তে স্বাক্ষী প্রদানের জন্য গোপালগঞ্জ রওয়ানা হলাম। অত্র সেইফ হাউজের দ্বায়িত্বভার  এসআই কালা চাঁদ ঘোষের উপর অর্পিত হল। তিনি আগামী শনিবারে যে মালামাল আইসিটি  থেকে আসবে তা গ্রহনের ব্যবস্থা করার জন এসআই  কালা চাঁদ বাবুকে বলা হল।

২২/১০/২০১১
পার্শ্বলিখিত সময়  আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল হইতে নি¤œ বর্ণিত
ক্রোকারিজ মালামাল অত্র সেইফ হাউজে ব্যবহারের জন্য প্রেরণ করিলে তাহা প্রাপ্ত হইয়া অত্র সংস্থার রুমে রাখা হইল। এবং উক্ত মালামাল প্রাপ্তির ব্যাপারে পুলিশ পরিদর্শক (প্র) জনাব মো: ওবায়দুল্লাহ সাহেবকে অবগত করা হইল ও অত্র সংস্থার ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক জনাব মো: আমজাদ হোসেন সাহেবকে অবগত করিয়া ভবিষ্যতের জন্য নোট করিয়া রাখিলাম।
মালামালের বিবরন ঃ
০১। প্লেট বড়  (মেলামাইন) - ২৪টি
০২। কাচের গ্লাস - ৭২টি
০৩। কাপ প্রিচ - ৩৬টি
০৪। চা-চামচ - ৩৬টি
০৫। পানির জগ (প্লাষ্টিক) - ১২টি
০৬। ভাতের হাড়ি ঢাকনা সহ - ১০টি
০৭। কড়াই - ৩টি
০৮। তরকারীর হাড়ি ঢাকনা সহ - ০৮টি
০৯। ছোট বাটি মেলামাইন - ১০০টি
১০। মাঝারী বাটি মেলামাইন - ১০টি
১১। ভাতের গামলা মেলামাইন - ০৬টি
১২। বড় বাটি মেলামাইন - ১০টি
১৩। ভাতের চামচ (ষ্টিল) - ০৬টি
১৪। তরকারীর চামচ (ষ্টিল) - ০৬টি
১৫। রুটি বানানোর ফিড়ি ও বেলুন - ০৪ সেট
১৬। বদনা প্লাষ্টিক - ১২টি
১৭। জায়নামাজ - ০৪টি
১৮। তাওয়ালে মাঝারী - ৬০টি
১৯। তাওয়া খুনতী - ০৪ সেট
২০। বটি - ০৪টি
২১। ট্রে মেলামাইন - ০৪টি
২২। পানির ফিল্টার - ০৪টি
২৩। বালতি প্লাষ্টিক - ১০টি
২৪। মগ - ১০টি
২৫। তোষক - ২০টি
২৬। বালিশ ২০টি।

১৩/১১/১১
পুলিশ কমিশনারের আদেশ স্মারক নং বদলী/২১-২০১১ (অংশ)/৮৮৯০/আরও তাং ০৩-১১-১১ মোতাবেক রাজারবাগ পুলিশ লাইন হইতে ০৩ জন পুলিশ পরিদর্শক আর্মড এসআই ০২ জন, হেড কন্সস্টেবল ০৩ জন, নায়েক ০৩ জন, কনস্টেবল ৬জন আদেশ প্রাপ্তির পর নি¤œ বর্ণিত অফিসার ও ফোর্স বিভিন্ন তারিখে ও সময়ে অত্র সেইফ হাউজে হাজির হইয়া কর্তব্য পালন করিতেছে। উক্ত অফিসার ফোর্সদের প্রেষনে মনোনিত করা হয়েছে।

১৫/১১/১১
আমি ইনচার্জ সেইফ হাউজ গোলাপবাগ এই মর্মে নোট করিতেছি যে, অত্র সেইফ হাউজের দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার-ষ্টাফদের মধ্যে নি¤েœ স্ব স্ব নামে পার্শ্বে দ্বায়িত্ব পালনের জন্য কার্য বন্টন করিয়া দেওয়া হইল এবং স্বাক্ষীদের নিরাপত্তা বিধান করিবেন এবং আমার সাথে এবং উর্ধ্বতন অফিসারের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করিবেন।
এসআই কালা চাঁদ ঘোঘ সঙ্গে ক/রবিউল
০১। স্বাক্ষীদের নিরাপত্তা
০২। স্বাক্ষীদের খাবারের বাজার
০৩। বাবুর্চিদের তত্বাবধান এবং খাবার সরবরাহ
০৪। প্রধান সমন্বয়ক অফিসের সাথে যাবতীয় অর্থনৈতিক যোগযোগ ও হিসাব সংরক্ষন
এসআই আব্দুল্লাহ আল বাকী সঙ্গে ক/মাসুম
০১। স্বাক্ষীদের নিরাপত্তা
০২। রিসিভ সেকশনে ডিউটিরত ও স্বাক্ষীদের তথ্য ১টি রেজিষ্টারে রক্ষনাবেক্ষন
০৩। স্বাক্ষীদের জন্য অফিসে সংরক্ষিত মূল রেজিষ্টার রক্ষনাবেক্ষন
০৪। স্বাক্ষীদের অবস্থানে যাবতীয় ব্যবস্থা
০৫। স্বাক্ষীদের কোর্টে প্রেরণ এবং কোর্ট প্রত্যাগত স্বাক্ষীদের গ্রহন
০৬। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তদন্তকারী অফিসার ও প্রসিকিউটরদের আপ্যায়নসহ যাবতীয় কাজ করবেন



১৬/১১/১১
পার্শ্বলিখিত সময়ে কন্ট্রাক্টর মি. শাহ আলম সাহেবের নিকট হতে নি¤œ লিখিত সেইফ হাউচের ব্যবহৃত মালামাল বুঝিয়া পাইয়া নোট করিরাম।

মালামালের বর্ণনা ঃ-
০১। গ্যাস সহ গ্যাস সিলিন্ডার - ৩টি
০২। গ্যাস চুরা স্টীর ফিটিং মিটার রেগুলেটর সহ - ২টি
০৩। লাক্স সাবান মধ্যম - ১ডজন
০৪। লাক্স সাবান ছোট - ১ডজন
০৫। এসিআই (মশক নিধন) - ১টি
০৬। টেবিল টিসু পেপার - ২ বক্স
০৭। টয়লেট টিসু পেপার - ১ বক্স
৮ । পাপশ -৮টি


মালামালের বর্ণনা ঃ-
০১। হারপিক - ২০টি
০২। লাক্স সাবান - ২ ডজন
০৩। ভিম পাউডার - ১ ডজন
০৪। টিসু বক্স - ৫০টি
০৫। টয়লেট পেপার - ৫০টি
০৬। পাপশ - ৪০টি
০৭। ঝুড়ি - ২০টি
০৮। ঝাড়– ফুলের - ৬টি
০৯। ঝাড়ু শলার - ৪টি
১০। দেয়াল ঘড়ি - ৪টি
১১। মরটিন (মশক নিধন) - ১০টি
১২। টি ব্যাগ - ৫ বক্স
১৩। কফি - ২ কৌটা
১৪। চিনি - ৪ কেজি
১৫। চা এর নেট ছাকনি - ৪টি
১৬। কাটা চামচ - ১ ডজন
১৭। টেবিল কলমদানি - ২টি
১৮। লাক্স সাবান - ৪টি
১৯।  ঝুলি ঝাড়ু - ২টি



সাক্ষী বিষয়ক তথ্য
১৬/১১/১১
পার্শ্বলিখিত সময়ে আমি স্বাক্সী সেইফ হাউচ ইনচার্জ গোলাপবাগ সায়েদাবাদ-ঢাকা এই মর্মে নোট করিতেছি যে, নি¤œ বর্ণিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলা নং এর স্বাক্ষীগণ সর্বমোট ০৯ (নয়) জন স্বাক্ষীকে পুলিশ পরিদর্শক (প্রশাসন) জনাব মো: ওবায়দুল হক এবং  জঙ ঝও সুভাষ চন্দ্র ঘোষ সাহেবের মাধ্যমে গ্রহন করার পর তাহাদেরকে স্বসম্মানে অত্র সেইফ হাউজের ২য় তলায় রুম নং-২১০,২১১,২১২তে  বিশ্যামের জন্য/থাকার জন্য সকল প্রকার ব্যবস্থা গ্রহন পূর্বক তাহাদের সকালের নাস্তা চা সহ আপ্যায়ন করা হইয়াছে এবং তাহাদের নিরাপত্তার জন্য সকল প্রকার ব্যবস্থা গ্রহন করা হইয়াছে। এই ব্যপারে অত্র সেইফ হাউজে কর্মরত সকল অফিসার এবং ফোর্সদেরকে সতকর্তার সহিত স্বাক্ষীদের নিরাপত্তা কল্পে এবং স্বাক্ষীদের সহিত সুলভ আচরন করার জন্য এবং তাহাদের চাহিদা মোতাবেক সকল প্রকার ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য বলা হইল। এই ব্যপারে কিছু কিছু সমস্যার কথা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট আলাপ অব্যাহত আছে।

স্বাক্ষীদের নাম ও ঠিকানা নি¤œরুপ ঃ-
০১। মো: মাহবুবুল আলম (৫৮)
পিতা : মৃত জমির উদ্দিন হাওলাদার, গ্রাম: টেংরাখালী, থানা: ইন্দুনকানী, জেলা : পিরোজপুর, মোবাইল : ০১৯২৮২৩৪৩২৫
০২। মো: মাহতাব উদ্দিন হাওলাদার (৫৭)
পিতা : মো: মোশারফ হোসেন, গ্রাম: টেংরাখালী, থানা: ইন্দুনকানী, জেলা : পিরোজপুর, মোবাইল : ০১৭৩৯৮৭৭৭৮৫
০৩। মো: মোস্তফা হাওলাদার (৫৫)
পিতা : ইসুফ আলী হাওলাদার, গ্রাম: হোগলাবুনিয়া, থানা: ইন্দুনকানী, জেলা : পিরোজপুর, মোবাইল : ০১৭২৮৮০১২৭১
০৪। মানিক পশারী (৬৬)
পিতা : হাজী সইজুদ্দিন পশারী, গ্রাম: চিথলিয়া, থানা: পিরোজপুর, জেলা : পিরোজপুর, মোবাইল : ০১৯৩৬০৬৮০৪৮
০৫। আশিষ কুমার মন্ডল (৪৮)
পিতা : মৃত হরিপদ মন্ডল, গ্রাম: মাসিমপুর, থানা: পিরোজপুর, জেলা : পিরোজপুর, মোবাইল : ০১৯২৩৯৭১৩৬৩
০৬। সমর মিস্ত্রি (৫৫)
পিতা : রাজেন মিস্ত্রি (শহীদ), গ্রাম: মাসিমপুর, থানা: পিরোজপুর, জেলা : পিরোজপুর, মোবাইল : ০১৭১২৪৯২৬৬৪
০৭। রুহুল আমীন নবীন (৫১)
পিতা : মৃত সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, গ্রাম: পাড়েরহাট বন্দর, থানা: পিরোজপুর, জেলা : পিরোজপুর, মোবাইল : ০১৭১৫১৫২৮৭৬
০৮। মো: আলতাফ হাওলাদার (৬৮)
পিতা : হামিদ উদ্দিন হাওলাদার, গ্রাম: টেংরাখালী, থানা: ইন্দুনকানী, জেলা : পিরোজপুর, মোবাইল : ০১৯২২৩৭১২৫৭
পিতা : মৃত মেছের আলী হাওলাদার, গ্রাম: টেংরাখালী, থানা: ইন্দুনকানী, জেলা : পিরোজপুর, মোবাইল : ০১৭০৬১৯৬৩৫

১৬/১১/১১
পার্শ্বলিখিত সময়ে অত্র সেইফ হাউজের স্বাক্ষী মানিক পশারী অবস্থাররত এর ভাগিনা মো: বাবুল আহমেদ, পিতা: মৃত আসমত আলু খান, সাং-চিথলিয়া, থানা-জেলা: পিরোজপুর, অদ্য ১৩:৪৫ মিনিটের সময় সেইফ  হাউজে আসেন এবং তার সাথে অবস্থান করিতেছেন। তাহার মোবাইল নম্বর ০১৭১৫২২১৯৯৭। বিষয়টি ভবিষ্যতের জন্য ডাইরীবদ্ধ করা হইল।


১৭/১১/১১
পার্শ্বলিখিত সময়ে জনাব মো: মিজানুর রহমান তালুকদার, পিতা: মৃত আব্দুল মজিদ তালুকদার, সাং-টগড়া, থানা-জিয়নগর (ইন্দুরকানী), জেলা-পিরোজপুর, এপি-এডি৮   কাজী নজরুল ইসলাম রোড, মোহাম্মাদপুর, ঢাকা, তিনি অত্র সেইফ হাউজে মাহবুব সাহেব স্বাক্ষী উনার কাছে আসেন। জিজ্ঞাসাবাদে জানান, তিনি অত্র স্বাক্ষীদের সাথে উক্ত মামলার স্বাক্ষী হিসেবে আছেন। তিনি অত্র সেইফ হাউজে আগত স্বাক্ষীদের দেখার জন্য ও আলাপ আলোচনার জন্য এসেছেন। বিষয়টি ববিষ্যতের জন্য ডাইরীভুক্ত করিয়া রাখিলাম ও উধ্বৃতন কর্তৃপক্ষকে জানাইলাম। তার মোবাইল নং- ০১৭১২০৩২১১৫

১৭/১১/১১
পার্শ্বলিখিত সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলার মানিত সাক্ষী (১) সুলতান আহমদ, ০১৭৪৭৬১২০৬৩, পিতা- মৃত হোসেন আলী হাওলাদার, সাং- চিথলিয়া, থানা- পিরোজপুর, জেলা- পিরোজপুর এবং (২) সাক্ষী আশিষ কুমার মন্ডলের ভগ্নিপতি গোপাল কৃষ্ণ মিস্ত্রি, সাং- মাছিমপুর, থানা ও জেলা- পিরোজপুর এবং মেয়ে (৩) চন্দ্রিমা মিস্ত্রি সহ হাজির হইলে তাহাদেরকে সেইফ হাউজের যথাক্রমে ২১০ এবং ৩১৬ নম্বর রুমে অবস্থানের জন্য ব্যবস্থা গ্রহন করা হইয়াছে। বিষয়টা ভবিষ্যতের জন্য ডায়েরী ভুক্ত করা হইলো।

১৭/১১/১১
২০.১৫ : পার্শ্বলিখিত সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ প্রসিকিউটরগণ অত্র সেইফ হাউজে অবস্থানরত সাক্ষীদের সবাইকে প্রসিকিউটর রুমে একত্রিত হয়ে একটি বিফ্রিংয়ে মিলিত হয় এবং সাক্ষীদেরকে মামলা সংক্রান্তে ব্রিপ করেন। বিষয়টি ভবিষ্যতের জন্য ডায়েরীভূক্ত করা হইলো।

১৮/১১/১১
পার্শ্বলিখিত সময়ে সাক্ষী আশিষ কুমার মন্ডলের ভগ্নিপতি গোপাল কৃষ্ণ মিস্ত্রি এবং তার মেয়ে চন্দ্রিমা মিস্ত্রি অত্র সেইফ হাইজ হইতে চলিয়া যান। বিষয়টা ভবিষ্যতের জন্য ডায়েরী ভুক্ত করা হইলো। বর্তমানে ১১ জন সাক্ষী উপস্থিত আছে।

১৯/১১/১১
আমি ইনচার্জ সেইফ হাউজ মো: আমজাদ হোসেন পুলিশ পরিদশৃক এই মর্মে নোট করিতেছি যে, অত্র সেইফ হাউজে মানবতা বিরোধী অপরাধীদের মামলার গুরুত্বপূর্ণ স্বাক্ষীগন  অত্র হাউজে অবস্থান করিতেছেন। তাহাদের নিরাপত্তা কল্পে পূর্ব হইতেই নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য আলাপ আলোচনা হইয়াছে এবং পত্রালাপও হইয়াছে। সেই প্রেক্ষিতে যথা উপযুক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পর্যাপ্ত পুলিশ নিরাপত্তা হইতেছে না বলিয়া প্রতিয়মান হইতেছে। সেই কারনে আমি অদ্য সকালে অত্র সেইফ হাউজের নিরাপত্তা পুলিশ গার্ড এর পরিদর্শক আব্দুল হাই এবংআর্মড এসআই মুজিবর রহমান, হেড কনষ্টেবল কামরুল ইসলামদের সহিত আলোচনা করিয়া গার্ড এর পুলিশ এবং নায়েকদের নিয়া সেইফ হাউজে অবস্থানরত স্বাক্ষীদের নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট টেলিফোন এবং মৌখিকভাবে আলোচনা অব্যহত আছে। বিষয়টি ভবিষ্যতের জন্য ডাইরী ভুক্ত করিলাম।

১৯/১১/১১
পার্শ্বলিখিত সময়ে অত্র সেইফ হাউজে অবস্থারত মামলার স্বাক্ষী সমর মিস্ত্রি (৫৫), পিতা: রাজেন মিস্ত্রি, সাং-মাসিমপুর, থানা-জেলা-পিরোজপুর, হঠাৎ শারিরীকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়িলে হেল্প লাইনের মাধ্যমে পুলিশ এ্যাম্বুলেন্স যোগে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে  প্রাথমিক চিকিৎসার পর পুনরায় সেইফ হাউজে রওয়ানা হয়। সে বর্তমানে সেইফ হাউজে অবস্থান করিতেছে।

২০/১১/১১
পার্শ্বলিখিত সময়ে সহকারী পুলিশ কমিশনার মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা জনাব মো: হেলাল উদ্দিন সাহেব অবস্থানরত স্বাক্ষী (১) রুহুল আমীন নবীন, পিতা: মৃত সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, (২) মাহাবুবুল আলম, পিতা: মৃত: জমির উদ্দিন, (৩) মিজানুর রহমান তালুকদার, পিতা: মৃত আব্দুর মজিদ তালুকদারকে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে স্বাক্ষ্য গ্রহনের উদ্দেশ্যে সরকারী গাড়ি যোগে রওয়ানা হইয়া যায়। বিষয়টি ডাইরী করা হইল।

২০/১১/১১
পার্শ্বলিখিত সময়ে অসুস্থ সাক্ষী সমর মিস্ত্রি পিতা- মৃত রাজিব মিস্ত্রি সঙ্গে অপর সাক্ষী আশিষ কুমার মন্ডল, পিতা- মৃত হরিপদ মন্ডল সহ আমি এসআই আব্দুল্লাহ আল বাকির সঙ্গে ফোর্স সহ চিকিৎসার জন্য মহাখালী এজমা হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হইলাম। বিষয়টি নোট করা হইলো।

২১/১১/১১
পার্শ্বলিখিত সময়ে স্বাক্ষী আশিষ বাবুর ১+১=২জন স্বাক্ষীর দুপুর/সকাল খাওয়ার ব্যবস্থা করা হইয়াছে ও অন্য একজন স্বাক্ষরি মেহমানকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হইয়াছে। মোট ১০+৩=১৩ জন স্বাক্ষী ও মেহমান খাওয়ানো হইয়াছে।

২২/১১/১১
এস আই মো: এনামুল হক সঙ্গীয় ফোর্স সরকারী গাড়িসহ অত্র সেইফ হাউজে অবস্থানরত স্বাক্ষী (১) মাহবুবুল আলম (২) মাহতাব উদ্দিন (৩) আব্দুল লতিফ হাওলাদার (৪) আলতাফ হাওলাদার (৫) আশিষ কুমার মন্ডল (৬) সমর মিস্ত্রিদের তাহাদের নিজ বাড়ি পিরোজপুর জেলার উদ্দেশ্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেমক্রমে পৌছাইয়া দেয়ার নিমিত্তে রওয়ানা দেয়া গেল। প্রকাশ, অত্র সেইফ হাউজে বর্তমানে ০৩ (তিন) জন স্বাক্ষী আছে।

২২/১১/১১
পার্শ্বলিখিত সময়ে অত্র সেইফ হাউজ হইতে স্বাক্ষী (১) নবীন (২) মোস্তফা (৩) মানিক পশারী (৪) সুলতান নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়া গেল। বিষয়টি ভবিষ্যতের জন্য ডাইরী ভুক্ত করা হইল। সেইফ হাউজে কোন স্বাক্ষী নাই। উর্ধ্বতন অফিসারকে অবহিত করা হইল।

৪/১২/১১
পার্শ্বলিখিত সময়ে অত্র সেইফ হাউজ হইতে স্বাক্ষী (১) নবীন (২) মোস্তফা (৩) মানিক পশারী (৪) সুলতান নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়া গেল। বিষয়টি ভবিষ্যতের জন্য ডাইরী ভুক্ত করা হইল। সেইফ হাউজে কোন স্বাক্ষী নাই। উর্ধ্বতন অফিসারকে অবহিত করা হইল।

৭/১২/১২
পার্শ্বলিখিত সময়ে অত্র সেইফ হাউজ হইতে স্বাক্ষী দেওয়ার উদ্দেশ্যে  স্বাক্ষী (১) মো: মানিক পশারী (২) মো: নবীন (৩) মো: সুলতান (৪) মো: মাহবুব (৫) মো: মাহতাব উদ্দিন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা মো: হেলাল সাহেবের সাথে হাইকোর্ট এর উদ্দেশ্যে রওনা দেয় গেল। বিষয়টি ভবিষ্যতের জন্য ডাইরীভুক্ত করা হইল।
৭/১২/১১
পার্শ্বলিখিত সময়ে পূর্ব সূত্র ডাইরী নম্বর ৮৯/১১ ইং তাং ০৭-১২-১১ ইং মূলে স্বাক্ষ্য প্রদান শেষে স্বাক্ষীগণ পুনরায় অত্র সেইফ হাউজে আসিয়া হাজির হইল। প্রকাশ থাকে যে, স্বাক্ষী মাহবুব মামরার বাদী, তাহার স্বাক্ষ্য গ্রহন করা হইয়াছে, স্বাক্ষরি জেরা হয় নাই। স্বাক্ষী রুহুল আমীন নবীন এর আংশিক স্বাক্ষ্য গ্রহন করা হয়েছে।
৮/১২/১১
পার্শ্বলিখিত সময়ে স্বাক্ষী (১) মো: মাহবুব (২) মো: নবীন (৩) মো: সুলতান (৪) মাহবুব (৫) মো: মাহতাব স্বাক্ষী দেয়ার উদ্দেশ্যে অত্র সেইফ হাউজ ইনচার্জ মো: আমজাদ হোসেন স্যার এর সাথে হাইকোর্ট এর উদ্দেশ্যে রওনা দেয় গেল। একজন স্বাক্ষী সেইফ হাউজে আছে।


৮/১২/১১
পার্শ্বলিখিত সময়ে পূর্ব সূত্র ডায়েরী নং ১০৫/১১ ইং তাং ০৮/১২/২০১১ ইং মূলে তাহাদের স্বাক্ষী শেষে পুনরায় অত্র সেইফ হাউজ গোলাপবাগ আসিয়া হাজির হইল। প্রকাশ থাকে যে, স্বাক্ষী মো: নবীন সাহেবের স্বাক্ষ্য গ্রহন করা হয়েছে। স্বাক্ষীর জেরা করা হয় নাই।

৯/১২/১১
আমি ইনচার্জ সেইছ হাউজ এই মর্মে নোট করিতেছে যে, গত ইং ০৮-১২-১১ তারিখে সেইফ হাউজে ফোনে স্বাক্ষীদের হুমকি সংক্রান্তে যাত্রবাড়ি থানার সাধারন ডাইরী নম্বর ৪৯০, ৪৯১, ৪৯২ তারিখ ইং ০৮-১২-১১ সংক্রান্তে জরুরী ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ি থানায় টেরিফোন করিয়া অপারেশন অফিসার  ঝও মো: মাজহারুল ইসলামকে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ করিয়াছি। এ বিষয়ে ভবিষ্যতের জন্য ডাইরী ভুক্ত করিয়া রাখিলাম। এস আই  মো: মাজহারুল ইসলাম উক্ত ব্যপারে যাত্রাবাড়ি থানার জিডি নম্বর ৫১৬ তাং ০৯-১২-১১ করিয়াছেন।

১২/১২/১১
পার্শ্বলিখিত সময় অত্র সেইফ হাউজ হইতে স্বাক্ষী (১) মাহবুবুল আলম (২) সুলতান (৩) নবীন সাহেব স্বাক্ষী দেয়ার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কোর্টে রওনা দেয়া গেল।

১৩/১২/১১
পার্শ্বলিখিত সময় স্বাক্ষী (১) মাহবুবুল আলম হাওলাদার (২) মো: সুলতান (৩) মো: মিজান স্বাক্ষী দেয়ার উদ্দেশ্যে সেইফ হাউজ ইনচার্জ এর সাথে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়া গেল।

১৪/১২/১১
পার্শ্বলিখিত সময় স্বাক্ষী (১) মো: মানিক পশারী (২) মো: মাহতাব (৩) মো: সুলতান নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে সেইফ হাউজ গোলাপবাগ ত্যাগ করেন।



১৭/১২/১১ প্রশিক্ষন বিষয়ক

পার্শ্বলিখিত সময় অত্র সেইফ হাউজের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মো: আমজাদ হোসেন এই সাধারন ডাইরী করিতেছি যে, আগামী ইং ১৮-১২-১১ তাং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তদন্ত সংস্থার অপরাধ রেজিষ্টারের ক্রমিক নং-০২ সংক্রান্তে স্বাক্ষীদের মনোস্তাত্তিক বডি লেংগুয়েজ, পরষ্পর কথোপকথন এবং মোবাইল ফোনের ব্যবহার প্রভৃতি পর্যালোচনা করে বিস্তারিত ভাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক মহোদয়কে বিস্তারিত ভাবে তাহা মোবাইলে আলাপ করিলাম। তথা বিষয়টি মৌখিক আকারে গোপনীয় প্রতিবেদনের ন্যয় দাখিল করিলাম। আমি ইনচার্জ হিসাবে তাহাকে ইহাও বলিলাম যে, আমার এই টেলিফোনে কথোপকথন গোপনীয় প্রতিবেদন হিসাবে জানালাম। ইহার প্রতি উত্তরে জানান যে, তুমি যা রিপোর্ট করিলে আমি কিছুক্ষন আগেই অবগত হইয়াছি। এই কথোপকথনের প্রেক্ষিতে আমার প্রতি প্রয়োজনীয় আদেশ নির্দেশ প্রদান করিতে বলিলেন। আমি উহা শ্রবনের পর কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন করিলে তা কার্যকরী করা সম্ভব হয় না। সম্ভব না হওয়ার বিষয়টিও প্রধান সমন্বয়ক মহোদয়কে জানালে তিনি  বলেন, ঠিক আছে গোপন বিষয় নিয়ে সোচ্চার হওয়ার প্রয়োজন নেই।
বিষয়টি সংক্রান্তে সমন্বযক মহোদযের মৌখিক গৃহীত ব্যবস্থায় সন্তুষ্ট না হয়ে মামলার তদন্তকারী অফিসার সহকারী পুলিশ সুপার জনাব হেলাল উদ্দিন সাহেবকে সবকিছু জ্ঞাত করিলাম। এএসপি মহোদয়কে প্রধান সমন্বয়ক মহোদয়ের মৌখিক গৃহীত ব্যবস্থা কার্যকরী করার অনুরোধ করি। তিনি আমাকে জবাব প্রদান করেন যে, বিষয়টি আমি দেখছি। স্বাক্ষীদের স্বাক্ষের মানগত গুনাবলী বা প্রতিবন্ধকতা রোধের জন্যই উপরোক্ত পদক্ষেপ গুলি গ্রহন করি। বিষয়টি ভবিষ্যতের জন্য সাধারন ডাইরী করে রাখা হল।

২০/১২/১১
এসআই আব্দুল্লাহ আল বাকী অত্র সেইফ হাউজের স্বাক্ষী মাহবুব হাওলাদারকে সাথে নিয়ে ডাইগনষ্টিক সেন্টারে সরকারী গাড়ি যোগে রক্ত পরীক্ষার জন্য রওয়ানা দেয়া গেল উর্ধ্বতন অফিসারের নির্দেশে।

২০/১২/১১
পার্শ্বলিখিত সময়ে পুলিশ পরিদর্শক জনাব মো: আমজাদ হোসেন সহ স্বাক্ষী (১) মিজান (২) সুলতান (৩) নবীনকে পোষাকধারী ষ্কট এর মাধ্যমে কোর্টে রওয়ানা দেয়া গেল।

২৩/১২/১১

অত্র সেইফ হাউজের স্বাক্ষী মাহতাব এর বোন, বোন জামাই, ভাগনা এবং চাচা মোট ০৪ (চার) জন মেহমান অত্র সেইফ হাউজে অবস্থান করছেন।

১৬/১/১২
পার্শ্বলিখিত সময় আসিটির প্রধান সমন্বয়ক অত্র সেইফ হাউজের নতুন স্বাক্ষী মধু সুদন ঘরামী এসেছে কিনা এমন কেমন আছেন জানতে চায, তৎসঙ্গে তিনি আরো বলেন স্বাক্ষী গৌরাঙ্গ সাহার স্বাক্ষ্য খুব ভাল হয়েছে। টেলিফোনে আলোচনার সময়ে স্বাক্ষী গৌরাঙ্গ মিষ্টি খাওয়ার দাবী করে। বিষয়টি  ওএ স্যারকে জানালে তিনি বলেন, তাকে অর্থ্যাৎ গৌরাঙ্গকে মিষ্টি সহ পাঞ্জাবী পায়জামা দিয়ে দাও। তিনি আরো বলেন, যদি আরো কিছু চায় তবে আমি যেন সাধ্য মতো প্রদান করি। বিষয়টি সম্পর্কে  ওএ সানাউল্লাহ স্যারকে জানালে তিনি একই আদেশ প্রদান করেন। সিনিয়র দুই ¯্রারের আদেশে স্বাক্ষী গৌরাঙ্গ সঙ্গে বাদী মাহবুবুল আলম হাওলাদার ও অপর স্বাক্ষী মো: আব্দুল হালিম বাবুলকে অত্র সেইফ হাউজের সন্নিকটে বিক্রমপুর মিষ্টান্ন ভান্ডার হইতে দুইশত পঞ্চার টাকার মিষ্টি, সিগারেট, ঔষধ, প্রসাধনী সহ মোট ৫০০/= টাকা ব্যয় করা হইল। বিষয়টি ভবিষ্যতের জন্য ডাইরী ভুক্ত করে রাখা হল।


সাক্ষীদের নাম:
স্বাক্ষীদের নাম ও ঠিকানা নি¤œরুপ ঃ-
০১। মো: মাহবুবুল আলম (৫৮)
পিতা : মৃত জমির উদ্দিন হাওলাদার, গ্রাম: টেংরাখালী, থানা: ইন্দুনকানী, জেলা : পিরোজপুর, মোবাইল : ০১৯২৮২৩৪৩২৫
০২। মো: মাহতাব উদ্দিন হাওলাদার (৫৭)
পিতা : মো: মোশারফ হোসেন, গ্রাম: টেংরাখালী, থানা: ইন্দুনকানী, জেলা : পিরোজপুর, মোবাইল : ০১৭৩৯৮৭৭৭৮৫
০৩। মো: মোস্তফা হাওলাদার (৫৫)
পিতা : ইসুফ আলী হাওলাদার, গ্রাম: হোগলাবুনিয়া, থানা: ইন্দুনকানী, জেলা : পিরোজপুর, মোবাইল : ০১৭২৮৮০১২৭১
০৪। মানিক পশারী (৬৬)
পিতা : হাজী সইজুদ্দিন পশারী, গ্রাম: চিথলিয়া, থানা: পিরোজপুর, জেলা : পিরোজপুর, মোবাইল : ০১৯৩৬০৬৮০৪৮
০৫। আশিষ কুমার মন্ডল (৪৮)
পিতা : মৃত হরিপদ মন্ডল, গ্রাম: মাসিমপুর, থানা: পিরোজপুর, জেলা : পিরোজপুর, মোবাইল : ০১৯২৩৯৭১৩৬৩
০৬। সমর মিস্ত্রি (৫৫)
পিতা : রাজেন মিস্ত্রি (শহীদ), গ্রাম: মাসিমপুর, থানা: পিরোজপুর, জেলা : পিরোজপুর, মোবাইল : ০১৭১২৪৯২৬৬৪
০৭। রুহুল আমীন নবীন (৫১)
পিতা : মৃত সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, গ্রাম: পাড়েরহাট বন্দর, থানা: পিরোজপুর, জেলা : পিরোজপুর, মোবাইল : ০১৭১৫১৫২৮৭৬
০৮। মো: আলতাফ হাওলাদার (৬৮)
পিতা : হামিদ উদ্দিন হাওলাদার, গ্রাম: টেংরাখালী, থানা: ইন্দুনকানী, জেলা : পিরোজপুর, মোবাইল : ০১৯২২৩৭১২৫৭
পিতা : মৃত মেছের আলী হাওলাদার, গ্রাম: টেংরাখালী, থানা: ইন্দুনকানী, জেলা : পিরোজপুর, মোবাইল : ০১৭০৬১৯৬৩৫

পার্শ্বলিখিত সময়ে সাক্ষী (১) মো: মাহবুব (২) মো: মাহাতাব (৩) মো: আলতাফ (৪) মো: খলিল (৫) মো: লতিফ ও (৬) মো: এনতাজ নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া গেল। অত্র সেইফ হাউজে বর্তমানে মাহাতাবের মেহমান অবস্থান করিতেছে। তারা মোট ৪ জন। বিষয়টি ভবিষ্যতের জন্য ডায়েরী করা হইলো।
পার্শ্বলিখিত সময়ে অত্র সেইফ হাউজে নতুন সাক্ষী (১) মো: আইয়ুব আলী তালুকদার, পিতা- মৃত ইমান আলী তালুকদার, গ্রাম- চিথলিয়া, পোষ্ট- পাড়েরহাট, থানা- পিরোজপুর, জেলা- পিরোজপুর। (২) মো: জলিল শেখ, পিতা- মো: মৃত মাজেদ আলী, গ্রাম- চিথলিয়া, পোষ্ট- পাড়েরহাট, থানা- পিরোজপুর, জেলা- পিরোজপুর।৩) বাসুদেব মিস্ত্রি, পিতা- শশী কুমার মিস্ত্রি, গ্রাম- চিথলিয়া, পোষ্ট-পাড়েরহাট, থানা- পিরোজপুর, জেলা- পিরোজপুর আসিয়া হাজির হইলেন তাহারা মোট ৩ জন বিষয়টি ভবিষ্যতের জন্য ডায়েরী করা হইলো। মোবাইল নং- জলিল সাহেব ০১৯৪৪৭৯৪০০৮

পার্শ্বলিখিত সময়ে মো: সেলিম খান, পিতা- নুরুল ইসলাম খান, গ্রাম- বাদুরা, থানা ও জেলা- পিরোজপুর অত্র সেইফ হাউজ গোলাপবাগ আসিয়া হাজির হইলেন।

পার্শ্বলিখিত সময়ে এসআই আমিনুল ইসলাম নি¤œ লিখিত সাক্ষী ও মেহমান সহ অত্র সেইফ হাউজ গোলাপবাগ আসিয়া হাজির হইলেন। সাক্ষীদের নাম ও ঠিকানা (১) মাহবুবুল আলম, পিতা- জমির উদ্দিন হাওলাদার, সাং- টেংরাখালী, ইন্দুরকানী, পিরোজপুর, মোবাইল- ০১৯২৮২৩৪৩২৫ (২) মুকুন্দ চক্রবর্তী, পিতা- মৃত বিনোদ বিহারী, উমেদপুর, জিয়ানগর, পিরোজপুর, মোবাইল- ০১৯২০৮০৬২৭২, (৩) গৌরাঙ্গ সাহা, পিতা- মৃত হরিদাস সাহা, পাড়েরহাট, জিয়ানগর, পিরোজপুর, মোবাইল- ০১৭৩৫৩৫৪২৮১, (৪) অনিল চন্দ্র মন্ডল, পিতা- মৃত নোকুল চন্দ্র মন্ডল, উমেদপুর, জিয়ানগর, পিরোজপুর, মোবাইল- ০১৭৪১৩৬৯৪৯৮, (৫) মো: বজলুর রহমান, পিতা- আব্দুর হামিদ চাপরাশী, ইন্দুরকানী, পিরোজপুর, মোবাইল- ০১৯২৪০৩০৭১৪, (৬) আব্দুল হালিম বাবুল, পিতা- মৃত আব্দুল খালেক খলীফা, নলবুনিয়া, জিয়ানগর, পিরোজপুর, মোবাইল-

পার্শ্বলিখিত সময়ে এসআই এনামুল হক সহ সাক্ষী (১) মুকুন্দ চক্রবর্তী (২) অনিল চন্দ্র মন্ডল (৩) বজলুর রহমান ও মেহমান (১) শেখর চক্রবর্তী (২) কামাল শেখ নিজ নিজ বাড়ি জেলা পিরোজপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেওয়া গেল। প্রকাশ থাকে যে, এসআই এনামুল হক তাদের নিজ নিজ বাড়ি পৌছাইয়া দিয়া পূণরায় চলিয়া আসিবেন। সেইফ হাউজে বর্তমানে কোন সাক্ষী নাই।

পার্শ্বলিখিত সময়ে এসআই এনামুল হক এর সাথে সাক্ষী (১) মধুসুদন ঘোরামী, পিতা- মৃত রজনি ঘোরামী, হোগলাবুনিয়া, ইন্দুরকানী, পিরোজপুর ও (২) মো: মোস্তফা তৎসহিত পিরোজপুর থানার এমসআই অত্র সেইফ হাউজ আসিয়া হাজির হইলেন। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করিয়া ভবিষ্যতের জন্য ডায়েরী ভুক্ত করা হইলো।
(০১)    অধীর রঞ্জন রায়, এর সাক্ষী মো: মোস্তফা হাওলাদার

পার্শ্বলিখিত সময়ে এএসপি জনাব মো: হেলাল উদ্দিন সংগিয় সাক্ষী (০১) মো: সুলতান, (০২) শ্রী গৌরাঙ্গ, (০৩) মিজান, (০৪) ডাক্তার বাবুল সহ পিরোজপুর হতে অত্র সেইফ হাউজে হাজির হইলে অত্র সাক্ষীদের নিরাপত্তার ও সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হইতেছে। তাহাদের থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করা হইতেছে।

পার্শ্বলিখিত সময়ে অত্র সেইফ হাউজে অবস্থারত মামলার স্বাক্ষী সমর মিস্ত্রি (৫৫), পিতা: রাজেন মিস্ত্রি, সাং-মাসিমপুর, থানা-জেলা-পিরোজপুর, হঠাৎ শারিরীকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়িলে হেল্প লাইনের মাধ্যমে পুলিশ এ্যাম্বুলেন্স যোগে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে  প্রাথমিক চিকিৎসার পর পুনরায় সেইফ হাউজে রওয়ানা হয়। সে বর্তমানে সেইফ হাউজে অবস্থান করিতেছে।

পার্শ্বলিখিত সময়ে সহকারী পুলিশ কমিশনার মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা জনাব মো: হেলাল উদ্দিন সাহেব অবস্থানরত স্বাক্ষী (১) রুহুল আমীন নবীন, পিতা: মৃত সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, (২) মাহাবুবুল আলম, পিতা: মৃত: জমির উদ্দিন, (৩) মিজানুর রহমান তালুকদার, পিতা: মৃত আব্দুর মজিদ তালুকদারকে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে স্বাক্ষ্য গ্রহনের উদ্দেশ্যে সরকারী গাড়ি যোগে রওয়ানা হইয়া যায়। বিষয়টি ডাইরী করা হইল।
পার্শ্বলিখিত সময়ে অসুস্থ সাক্ষী সমর মিস্ত্রি পিতা- মৃত রাজিব মিস্ত্রি সঙ্গে অপর সাক্ষী আশিষ কুমার মন্ডল, পিতা- মৃত হরিপদ মন্ডল সহ আমি এসআই আব্দুল্লাহ আল বাকির সঙ্গে ফোর্স সহ চিকিৎসার জন্য মহাখালী এজমা হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হইলাম। বিষয়টি নোট করা হইলো। এসআই মো: এনামুল হক সঙ্গীয় ফোর্স সরকারী গাড়িসহ অত্র সেইফ হাউজে অবস্থানরত স্বাক্ষী (১) মাহবুবুল আলম (২) মাহতাব উদ্দিন (৩) আব্দুল লতিফ হাওলাদার (৪) আলতাফ হাওলাদার (৫) আশিষ কুমার মন্ডল (৬) সমর মিস্ত্রিদের তাহাদের নিজ বাড়ি পিরোজপুর জেলার উদ্দেশ্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেমক্রমে পৌছাইয়া দেয়ার নিমিত্তে রওয়ানা দেয়া গেল। প্রকাশ, অত্র সেইফ হাউজে বর্তমানে ০৩ (তিন) জন স্বাক্ষী আছে।

পার্শ্বলিখিত সময়ে অত্র সেইফ হাউজ হইতে স্বাক্ষী (১) নবীন (২) মোস্তফা (৩) মানিক পশারী (৪) সুলতান নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়া গেল। বিষয়টি ভবিষ্যতের জন্য ডাইরী ভুক্ত করা হইল। সেইফ হাউজে কোন স্বাক্ষী নাই। উর্ধ্বতন অফিসারকে অবহিত করা হইল।
পার্শ্বলিখিত সময়ে সহকারী পুলিশ কমিশনার মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা জনাব মো: হেলাল উদ্দিন সাহেব অবস্থানরত স্বাক্ষী (১) রুহুল আমীন নবীন, পিতা: মৃত সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, (২) মাহাবুবুল আলম, পিতা: মৃত: জমির উদ্দিন, (৩) মিজানুর রহমান তালুকদার, পিতা: মৃত আব্দুর মজিদ তালুকদারকে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে স্বাক্ষ্য গ্রহনের উদ্দেশ্যে সরকারী গাড়ি যোগে রওয়ানা হইয়া যায়। বিষয়টি ডাইরী করা হইল।
পার্শ্বলিখিত সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলার মানিত সাক্ষী (১) সুলতান আহমদ, ০১৭৪৭৬১২০৬৩, পিতা- মৃত হোসেন আলী হাওলাদার, সাং- চিথলিয়া, থানা- পিরোজপুর, জেলা- পিরোজপুর এবং (২) সাক্ষী আশিষ কুমার মন্ডলের ভগ্নিপতি গোপাল কৃষ্ণ মিস্ত্রি, সাং- মাছিমপুর, থানা ও জেলা- পিরোজপুর এবং মেয়ে (৩) চন্দ্রিমা মিস্ত্রি সহ হাজির হইলে তাহাদেরকে সেইফ হাউজের যথাক্রমে ২১০ এবং ৩১৬ নম্বর রুমে অবস্থানের জন্য ব্যবস্থা গ্রহন করা হইয়াছে। বিষয়টা ভবিষ্যতের জন্য ডায়েরী ভুক্ত করা হইলো।

২৩/১/১২
পার্শ্বলিখিত সময়ে এসআই কবীর হোসেন, কনস্টেবল হালিম শরুপকাঠি থানা সঙ্গিয় ট্রাইব্যুনাল মামলা নম্বর- (০১) সাক্ষী- (০১) ড. সৈয়দ মো: শরাফত আলী, পিতা- মৃত সৈয়দ মো: আব্দুল গফুর, পিঙ্গোলিয়া পুর্ব পাড়া গ্রাম, কাশিয়ানী, গোপালগঞ্জ, পিন্সিপাল ছারছিনা দারুস সুন্নত আলীয়া মাদ্রাসা, সরুপকাঠি, মোবাইল- ০১৭১৫৬৪৬৫৯৩। সাক্ষী- (০২) মো: আব্দুর রাজ্জাক, পিতা- মৃত হোসেন আলী মাস্টার, সাং- হাটপাগলা, থানা- ফুলপুর, জেলা- ময়মনসিংহ, অফিস সহকারী দারুস সুন্নত আলীয়া মাদ্রাসা, সরুপকাঠি ও সাক্ষী- (০৩) মো: সোলায়মান হোসেন বিশ্বাস, পিতা- মৃত শাখাওযাত হোসেন বিশ্বাস, সাং- মহিরন, থানা- বাঘারপাড়া, জেলা- যশোর। তাহাদেরকে পুলিশ স্কটের মাধ্যমে নিয়া আসিলে অত্র সেইফ হাউজে হেফাজতে রাখা হয়। তাহারা বর্তমানে সেইফ হাউজে অবস্থান করিতেছেন। উক্ত বিষয়ে মামলার আইও হেলাল সাহেবকে অবগত করা হয়েছে।

২৪/১/১২
পার্শ্বলিখিত সময়ে আমি পুলিশ পরিদর্শক মো: আমজাদ হোসেন ইনচার্জ সেইফ হাউজ গোলাপবাগ স্বাক্ষী (১) মো: শরাফত আলী (০২) মো: আব্দুর রাজ্জাক ও (০৩) মো: সোলায়মান হোসেন বিশ্বাসকে স্বাক্ষী প্রদানের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কোর্টের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া গেল।

২৫/১/১২
পার্শ্বলিখিত সময় সেইফ হাউজ ইনচার্জ মো: আমজাদ হোসেন স্বাক্ষী (১) ড. সৈয়দ মো: শরাফত আলী (০২) মো: আব্দুর রাজ্জাক (০৩) মো: সোলায়মান হোসেন (০৪) মো: জুলফিকার আলীকে সহ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কোর্টের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া গেল। সেইফ হাউজের চার্জ এসআই আব্দুল্লাহর উপর রইল।

১৭/১১/১১
পার্শ্বলিখিত সময়ে জনাব মো: মিজানুর রহমান তালুকদার, পিতা: মৃত আব্দুল মজিদ তালুকদার, সাং-টগড়া, থানা-জিয়নগর (ইন্দুরকানী), জেলা-পিরোজপুর,  অচ – উ৮   কাজী নজরুল ইসলাম রোড, মোহাম্মাদপুর, ঢাকা, তিনি অত্র সেইফ হাউজে মাহবুব সাহেব স্বাক্ষী উনার কাছে আসেন। জিজ্ঞাসাবাদে জানান, তিনি অত্র স্বাক্ষীদের সাথে উক্ত মামলার স্বাক্ষী হিসেবে আছেন। তিনি অত্র সেইফ হাউজে আগত স্বাক্ষীদের দেখার জন্য ও আলাপ আলোচনার জন্য এসেছেন। বিষয়টি ববিষ্যতের জন্য ডাইরীভুক্ত করিয়া রাখিলাম ও উধ্বৃতন কর্তৃপক্ষকে জানাইলাম। তার মোবাইল নং- ০১৭১২০৩২১১৫

মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে আরো এক সাক্ষীর জবানবন্দী অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ

৮/৮/২০১২
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে অনুপস্থিত ৪৬ জন সাক্ষীর মধ্য থেকে আরো একজন সাক্ষীর জবানবন্দী তার অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করল ট্রাইব্যুনাল (১)।  অর্থাৎ তদন্তকালে সাক্ষী  তদন্ত কর্মকর্তার কাছে যে জবানবন্দী দিয়েছেন তা তার অনুপস্থিতিতে  সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হল।
নতুন যে সাক্ষীর জবানবন্দী তার অনুপস্থিতিতে  সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হল তার নাম মুকুন্দ চক্রবর্তী। তিনি  গত ২১ এপ্রিল মারা যাওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে তার জবানবন্দী সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহনের আবেদন জানায়।  আজ বুধবার  এ আবেদন গ্রহণ করে আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ  হায়দার আলী ট্রাইব্যুনালে আবেদন উপস্থাপন করেন।

এ নিয়ে মোট ১৬ জন সাক্ষীর তদন্ত কর্মকর্তার কাছে প্রদত্ত জবানবন্দী তাদের অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্য হিসেবে  গ্রহণ করা হল। এর আগে গত ২৯ মার্চ এক আদেশের মাধ্যমে ১৫ জনের জবানবন্দী সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয় তাদের অনুপস্থিতিতে।

গত ২০ মার্চ   রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে একটি আবেদন জমা দেয়া হয়। তাতে উল্লেখ করা হয় মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে ৪৬ জন সাক্ষী আদালতে আদৌ হাজির করা তাদের পক্ষে  সম্ভব নয়। তাই ওই ৪৬ জন সাক্ষী  তদন্ত কর্মকর্তার কাছে  তদন্তকালে যে জবানবন্দী দিয়েছেন তা যেন তাদের অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয় এটি ছিল আবেদনের বিষয়।

৪৬ জন সাক্ষী হাজির করতে না পারা বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে যেসব কারণ  জানানো হয়েছিল  তার মধ্যে রয়েছে সাক্ষীর অসুস্থতা, সাক্ষী খুজে না পাওয়া, সাক্ষী নিখোঁজ  হয়ে যাওয়া এবং মাওলানা সাঈদীর পক্ষাবলম্বনকারী অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী কর্তৃক বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভয়ভীতি এবং হুমকি দেয়ার কারনে সাক্ষীদের বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যাওয়া। ২৯ মার্চ ট্রাইব্যুনাল এক আদেশে এই ৪৬ জনের মধ্য থেকে ১৫ জনের আবেদন গ্রহণ করে এবং ৩১ জনের আবেদন  বাতিল করেন। গতকাল মুকুন্দ চক্রবর্তী নামে যে সাক্ষীর জবানবন্দী সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হল তার নাম ছিল ৪৬ জনের তালিকায় ৩৫ নম্বরে এবং বাতিল হওয়া ৩১ জনের মধ্যে তিনি ছিলেন একজন।

আবেদনের বিরোধীতায়  মিজানুল ইসলামের যুক্তি :
মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী মিজানুল ইসলাম মুকুন্দ চক্রবর্তীর আবেদন গ্রহনের বিরোধীতা করে ট্রাইব্যুনালে বলেন, ৪৬ জন সাক্ষীর  জবানবন্দী সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহনের তারা আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে প্রথম ১৯ জন সাক্ষী হাজির করতে না পারা বিষয়ে তারা যে কারণ দেখিয়েছে সেগুলো হল  একজন সাক্ষীর অসুস্থতা,  চার জন  নিখোঁজ হয়ে যাওয়া।  বাকী  ৬ থেকে ১৯ নং  ক্রমিকে বর্ণিত ১৪ জন সাক্ষী

বিষয়ে বলা হয়েছে আসামীর পক্ষাবলম্বনকারী  অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গ্রুপ কর্তৃক বাড়ি গিয়ে ভয়ভীতি এবং হুমকির কারনে তারা আত্মগোপনে চলে গেছে, তাদের আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা।

এই ৪৬ জন সাক্ষী হাজির  করতে না পারা বিষয়ে  রাষ্ট্রপক্ষ থেকে যে কারণ দেখানো হয়েছে  সে বিষয়ে আপনারা ১৫ জনের বিষয়ে সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাদের  জবানবন্দী সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন। বাকী ৩১ জনের বিষয়ে যে কারণ দেখানো হয়েছে তাতে আপনারা সন্তুষ্ট হতে পারেননি বিধায় তাদের জবানবন্দী আপনারা গ্রহণ না করে বাতিল করেছেন। আজ মুকুন্দ চক্রবর্তী নামে যে সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহনের আবেদন তারা করেছেন তার নাম ছিল ওই বাতিল হওয়া ৩১ জনের মধ্যে। ৪৬ জনের তালিকায়   তার নাম ছিল ৩৫ নম্বর সিরিয়ালে। তাকে হাজির করতে না পারা বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ কোন ধরনের ভয়ভীতি দেখানো, খুজে পাওয়া যাচ্ছেনা বা সে আত্মগোপনে  চলে গেয়ে এ জাতীয় কোন কারণ তখন   হাজির করতে পারেনি তখন। সুতরাং যার আবেদন তখন  গ্রহণ করা আপনারা যৌক্তিক মনে করেননি এখন সে  মারা যাবার পরে কি কারনে তার  জবানবন্দী সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা যৌক্তিক হতে পারে?

এসময় ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারপতি আনোয়ারুল হক বলেন, তখন যে কারনে তার আবেদন গ্রহণ করা হয়নি সেটি এখন আর বিদ্যমান নেই।  এখন সে মারা গেছে। এর চেয়ে বড় কারণ আর নেই। আইনের ১৯.২ ধারায় সাক্ষীর অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করার যে কারণ তার মধ্যে এক নম্বর কারণ বলা হয়েছে সাক্ষী যদি মারা যায়।  এ সাক্ষী মারা গেছে। এখন তার জবানবন্দী গ্রহনের অসুবিধা কোথায়?

ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক  অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলামকে লক্ষ্য করে বলেন, আপনার নিকট আমার প্রশ্ন,  প্রথমে গ্রহণ করা হয়নি বলে পরে মারা গেলেও গ্রহণ করা যাবেনা এ বিষয়ে আইনে কি কোন বাঁধা  আছে?

জবাবে মিজানুল ইসলাম বলেন, এই সাক্ষীর জবানবন্দী যদি তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হত তাহলে তো তারা     শুরুতে যখন ৩১ জনের আবেদন বাতিল করা হয়েছে তখনই এদের হাজির করার চেষ্টা করত। কিন্তু তারা তো আজ পর্যন্ত  মুকুন্দ চক্রবর্তীকে কখনো হাজির করার কোন চেষ্টাই করেনি। কাজেই তার জবানবন্দী যে গুরুত্বপূর্ণ এ  দাবির যৌক্তিকতা কোথায়?
শুনানী শেষে ট্রাইব্যুনাল মুকুন্দ চক্রবর্তীর জবানবন্দী গ্রহণ করে আদেশ দেন।
এদিকে ৪৬ জন সাক্ষী হাজির করতে না পারা বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা গত ১৭ এবং ১৯ মার্চ  যে দুটি রিপোর্ট প্রসিকিউশন বরাবার দাখিল করেছিল তার বিষয়বস্তু সম্পর্কে জেরার করার  দাবি জানিয়ে  আবেদন করেছিলেন মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী মিজানুল ইসলাম। সে আবেদন খারিজ করে দেন ট্রাইব্যুনাল।

মাওলানা সাঈদীকে হাজির করা হল  ট্রাইব্যুনালে:
প্রায় দুই মাস পর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে আজ  ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এর আগে সর্বশেষ তিনি কোর্টে হাজির ছিলেন গত ১৩ জুন।

আজ  সকালে মাওলানা সাঈদীকে হুইল চেয়ারে করে  ট্রাইব্যুনালের কোর্ট রুমে হাজির করা হয়। তাকে কাঠ গড়ায় না উঠিয়ে কোর্টরুমের আইনজীবীদের  বেঞ্চের পাশে হুইল চেয়ারে বসানো হয়। কিছুক্ষন পরে তিনি অসুস্থ বোধ করায় বেঞ্চে বসেন।  এরপর বেঞ্চে শুয়ে   পড়েন মাওলানা সাঈদী। তখন  ট্রাইব্যুনাল  বলেন, তাকে কোর্টরুমে রাখার দরকার নেই। কারাগারে নিয়ে যাওয়া হোক।

গত ১৩ জুন  পিতার বিচার উপলক্ষে ট্রাইব্যুনালে  হাজির ছিলেন  মাওলানা সাঈদীর বড় ছেলে রাফিক বিন সাঈদী । কোর্ট চলাকালীন অবস্থায় তিনি হার্ট এ্যাটাকে আক্রান্ত হন।  সেখান থেকে তাকে হাসপাতালে নেয়ার পর ওইদিনই মারা যান তিনি। মাওলানা সাঈদীও ওইদিন কোর্টে  উপস্থিত ছিলেন।  পরেরদিন  প্যারোলে মুক্তির মাধ্যমে ছেলের জানাজা পড়িয়ে মতিঝিল বয়েজ স্কুল মাঠ থেকে কারাগারে নিয়ে যাবার পরপরই বুকে ব্যথা অনুভব করায় দ্রুত মাওলানা সাঈদীকে হাসপাতালে নেয়া হয়।  দীর্ঘদিন বারডেমের ইব্রাহিম কার্ডিয়ান সেন্টার, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল  তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। কারাগারে নেয়ার  পূর্বে হাজত খানায় মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী এবং তিন ছেলে তার সাথে সাক্ষাত করেন।

তদন্ত কর্মকর্তার জেরা দুইদিন বাড়ল: মাওলানা সাঈদীর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হেলালউদ্দিনকে জেরার জন্য আরো দুই দিন সময় বাড়ানো হয়েছে। গতকাল  তার জেরা শেষ হবার জন্য নির্ধারিত ছিল। কিন্তু  অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম স্বাস্থ্যগত কারণ  দেখিয়ে  একটার পর আর জেরা করতে অপরাগতা প্রকাশ করেন এবং জেরার আরো কিছু বিষয় বাকী থাকায় আরো কিছু সময় চান। এ প্রেক্ষিতে এবং নতুন আরেক সাক্ষীর জবানবন্দী সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করার কারনে আগামী রবি  এবং সোমবার আরো দুই দিন জেরার জন্য সময় বাড়িয় দেয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল এ বিষয়ক আদেশে বলেছেন এরপর আর সময় বাড়ানো হবেনা।

সেফ হাউজে ডায়েরি প্রদর্শন করতে দেয়া হয়নি

১৬/১০/২০১২
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলায় আলোচিত সেফ হাউজ ডায়েরি বা রেজিস্ট্রার বই প্রদর্শনী করতে দেয়া হযনি।    ট্রাইব্যুনাল এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে বলেছেন যার কাছ থেকে এ  ডায়েরি বা বই সংগ্রহ করা হয়েছে তাকে ট্রাইব্যুনালে আসতে হবে এবং তার মাধ্যমে এগুলো উপস্থাপন করতে  হবে।

আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল -১ এ  মাওলানা সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী ১৩ তম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেয়ার সময় আসামী পক্ষ  সেফ হাউজ সংক্রান্ত তিনটি রেজিস্ট্রার বই  ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক   চিহ্নিতকরনের উদ্যোগ নিলে  ট্রাইব্যুনাল আপত্তি উত্থাপন করেন।  তবে সেফহাউজ সংক্রান্ত দুটি জিডির ফটোকপি  পদর্শন মার্ক করা হয়েছে।

গত সোমবার প্রথমে সেফ হাউজ রেজিস্ট্রার বই চিহ্নিতকরন করতে চাইলে ট্রাইব্যুনাল  সাক্ষীর কাছে জানতে চান এটি তিনি  কিভাবে পেয়েছেন। তখন সাক্ষী  মাসুদ সাঈদী  জানান, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় এ বিষয়ে রিপোর্ট ছাপা হওয়ার পর আমরা সংশ্লিষ্ট রিপোর্টারের সাথে যোগাযোগ করি এবং তিনি এটি আমাদের দিয়েছেন। তখন ট্রাইব্যুনাল বলেন, তাহলে ওই রিপোর্টরকে আসতে  হবে। এরপর   এ বিষয়টি নিয়ে ভবিষ্যতে যাতে  জটিলতা না দেখা দেয় সেজন্য আসামী পক্ষকে আরো চিন্তা করার পরামর্শ দেন ট্রাইব্যুনাল। আসামী পক্ষ তখন এ বিষয়টি বাদ দিয়ে অন্যান্য বিষয় প্রদশর্ন করান।

আজ   ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হলে মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী  প্যানেল ট্রাইব্যুনালকে জানান তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এটি তারা প্রদর্শন করাবেন । তখন ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, আমরা এটি তার (মাসুদ সাঈদী)  কাছ থেকে নেবনা। এটি তার কাছে কিভাবে এসেছে সেটি আগে ঠিক করেন। আমরা বুঝতে পারছিনা তিনি (মাসুদ সাঈদী)  কিভাবে এর সাথে  জড়িত হলেন। আপনাদের দাবি অনুযায়ী এটা সরকারি ডকুমেন্ট। সরকারি ডকুমেন্ট কি যে কেউ প্রদর্শন করতে পারে ? তিনি এটা বলতে পারেননা যে তিনি এটা সংগ্রহ করেছেন।  এটা যে পুলিশের ডকুমেন্ট তা বলার তিনি কে? তিনি এটা অন্য আরেকজনের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছেন । তাকে আসতে হবে।
তারপরও আমরা আপনাদের সতর্ক করে বলছি যদি দেখা যায় এটা  জাল   তাহলে কিন্তু মারাত্মক পরিণতি হবে। সেই ঝামেলায় আপনারা ওনার ছেলেকে টেনে আনছেন কেন?

মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী মিজানুল ইসলাম বলেন, এটা আপনারা বিবেচনা করবেন কি করবেননা সেটি পরের বিষয় কিন্তু প্রদর্শন হতে আপত্তি কোথায়।
এরপর  এটি পদশর্নীর পরিবর্তে সাক্ষী মাসুদ সাঈদী সেফ  হাউজের তিনটি রেজিস্ট্রার   বই দেখেছেন এবং তার মধ্যে  কি আছে তার  সংক্ষিপ্ত একটি বিবরন রেকর্ড করা হয় ট্রাইব্যুনালে। এছ্ড়াা সেফ জাউজ সংক্রান্ত দুটি জিডি প্রদশর্ন করা হয়।

সাক্ষী মাসদু সাঈদী এ জুডি দুটি বিষয়ে নয়া দিগন্তকে জানান, সেফ  হাউজের রেজিস্ট্রার  বইতে  ৮ ডিসেম্বর ১১২ নং নোটে যাত্রা বাড়ি থানায় তিনটি জিডি করার কথা উল্লেখ আছে। সেফ হাউজে অবস্থানরত রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী মাহবুবুল আলম হাওলাদারকে কে বা কারা হুমকি দেয়। সে কারনে সেফ হাউজের ইনচার্জ   আমজাদ  গত ৮/১২/২০১১ তারিখ যাত্রাবাড়ি থানায় গিয়ে সাক্ষীকে হুমকির বিষয়ে জিডি করেন।  যাত্রাবাড়ি থানায় জিডি করার এ বিষয়টি সেফ হাউজের রেজিস্ট্রার বইতে নোট করে রাখা হয় ১৯/১২/২০১১ তারিখ। সেখানে জিডির নম্বরও উল্লেখ করা হয়। সেই সূত্র ধরে আমরা যাত্রাবাড়ি থানা থেকে জিডির ২টি কপি সংগ্রহ করি।

মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী মিজানুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে বলেন, এ জিডির কপি প্রদর্শনীর মাধ্যমে সেফ হাউজের অস্তিত্ব্ স্বীকার করে নেয়া হল।

এ জিডি কপি প্রদর্শনের সময় ট্রাইব্যুনাল সাক্ষী মাসুদ সাঈদীকে কয়েকটি প্রশ্ন করেন। সেগুলো হল-
প্রশ্ন : আপনি জিডি হিসেবে যে দুটি  ফটোকপি  হিসেবে দাখিল করেছেন তা যে জিডি তা আপনাকে কে  বলেছে?
উত্তর : কেউ বলেনি। দেখে বুঝেছি এটা জিডির কপি।
প্রশ্ন : থানায় জিডি হয়েছে তা আপনি কিভাবে জানলেন?
উত্তর : সেফ হাউজের ডকুমেন্টে জিডি করা হয়েছে মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে। সেটা দেখে আমার মরহুম বড় ভাই রাফিক বিন সাঈদী ও জিডি কপি সংগ্রহ করেছেন।
প্রশ্ন : এ কুপি দুটি আপনার ভাই কিভাবে কার  কাছ থেকে সংগ্রহ করেছেন তা আপনার জানা আছে?
উত্তর : আমার ভাইয়ের কাছে শুনেছি তিনি থানার মুন্সির কাছ থেকে সংগ্রহ করেছেন। আরো শুনেছি  জিডির  নম্বর বলতে পারলে এভাবে থানা থেকে জিডি কপি  সংগ্রহ করা যায় ।

এছাড়া জিডির কপি দুটি রেকর্ড করা বিষয়ে আরো কয়েকটি কথা রেকর্ড  করেন ট্রাইব্যুনাল।  সেটি হল- এই ডকুমেন্ট দুইটি থানায়প্রদত্ত দুটি জি,ডি এন্ট্রির ফটোকপি, যখন আসামী পক্ষের বিজ্ঞ আইনজীবিদের এর দায়দায়িত্ব ও সঠিকতা সম্পর্কে স্মরন করিয়ে দেওয়া হয় তখন তাহারা বলেন যে, এর দায় ও সঠিকতা সম্পর্কে চিন্তা ভাবনা করে তাহারা এই ডকুমেন্ট ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন

এরপর সেফ হাউজের  যে  তিনটি রেজিস্ট্রার বই মাওলানা সাঈদীর পক্ষে দাখিল করা হয়েছে তা নিম্নোক্ত উপায়ে ট্রাইব্যুনালে রেকর্ড করা হয়-

সেইফ হাউজের ১৮-১০-২০১১ইং তারিখ হতে ২০-০৩-১২ ইং তারিখ পর্যন্ত সময়ে সাক্ষীদের আসা যাওয়া সংক্রান্ত রেজিস্ট্রার খাতা, উক্ত সেইফ হাউজের ১৮-১০-২০১১ইং তারিখ হতে ২০-০৩-২০১২ইং তারিখের সাধারন ডায়রী বই এবং উক্ত সেইফ হাউজের ১৮-১০-২০১১ইং তারিখ হতে৩০-০৩-২০১২ ইং তারিখের খাদ্য রেজিস্ট্রারগুলির ফটোকপি যা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী ১৫ জন সাক্ষীর তদন্তকারী অফিসারের নিকট প্রদত্ত জবানবন্দী গ্রহন    করে   মাননীয় ট্রাইব্যুনাল যে আদেশ প্রদান করেন তা রিভিউ দরখাস্ত শুনানীকালে আমার পিতার পক্ষ হতে ০৩-০৬-১২ইং তারিখ দাখিল করা হয়েছে, তা আমি দেখেছি। ঐ সমস্ত রেজিস্ট্রার প্রসিকিউশনের সাক্ষীদের আসা যাওয়া, খাওয়া দাওয়া, তাদের সঙ্গীয় মেহমানদের বর্ণনা, মোবাইল নম্বর কে কয়দিন থেকেছে ইত্যাদির বর্ণনা আছে। ঐ রেজিস্টারে উল্লেখযোগ্য যে সমস্ত বিষয় সমুহ লিপিবদ্ধ ছিল তার মধ্যে সাক্ষী আশীষ কুমার মন্ডল এবং তাহার মাতা এবং অপর সাক্ষী সমর মিস্ত্রি উল্লেখিত সেইফ হাউজে ২০১২ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত অবস্থান করেছেন।
গতকাল সাক্ষী মাসুদ সাঈদীর  জবানবন্দী শেষে জেরা শুরু হয়েছে।

গত ২০ মার্চ রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আবেদন করে বলা হয় মাওলানা সাঈদীর পক্ষে  অনুপস্থিত  ৪৬ সাক্ষী হাজির করা তাদের পক্ষে আদৌ সম্ভব নয়।   রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল ১৫ জন সাক্ষী তদন্ত কর্মকর্তার কাছে যে জবানবন্দী প্রদান করেন তা সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে আদেশ দেন ২৯ মার্চ। এ বিষয়ে রিভিউ আবেদনের শুনানীর সময় মাওলানা সাঈদীর আইনজীবীদের পক্ষ থেকে  কিছু ডকুমেন্ট উপস্থাপন করা হয়। মাওলানা সাঈদীর আইনজীবীরা ট্রাইব্যুনালে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের ঢাকায় এনে রাখা হত যেখানে সেই সেফ হাউজের তিনটি রেজিস্ট্রার বই তারা উদ্ধার করেছেন। সেখানে কোন সাক্ষী কবে আসছে, কবে গেছে, কতদিন ছিল  তার সমস্ত তথ্য লিপিবদ্ধ আছে।  তারা সে তথ্য উপস্থাপন করে বলেন,  সাক্ষী হাজির করতে না পারা বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ যে কারন দেখিয়েছে তা মিথ্যা।   যেসব সাক্ষী তারা খুঁজে পাচ্ছেনা বলে দাবি করছেন তার অনেক সাক্ষী ঢাকায় সেফ হাউজে ছিল তাদেরই তত্তাবধানে।
মাওলানা সাঈদীর পক্ষে অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম, মনজুর আহমদ আনসারী, ব্যারিস্টার তানভির আহমেদ আল আমিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সেফ হাউজের ৩৮ জনকে সাক্ষী হিসেবে হাজিরের আবেদন আসামী পক্ষের

৮/১০/২০১২
তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক মো: আব্দুল হান্নান খান, সেফহাউজের  দায়িত্বরত সমস্ত পুলিশ সদস্যসহ  মোট ৩৮ জনকে সাক্ষী হিসেবে হাজিরের জন্য আবেদন করেছেন আসামী পক্ষ। মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত-১ এ আবেদন করা হয়। আজ এ আবেদনের ওপর  শুনানীনে অংশগ্রহণ করেন আসামী পক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক।

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক শুনানীর সময়  ট্রাইব্যুনালকে বলেন, সেফ হাউজ ডায়েরি বিষয়ে আদেশে আপনারা বলেছিলেন আমরা  সেফহাউজ বিষয়ে যে ডকুমেন্ট উপস্থাপন করেছি তা আমাদেরই প্রমান করতে হবে। আমরা সেটি প্রমানের সুযোগ চাই। এর সত্যতা প্রমানের জন্য সেফ হাউজে যেসব পুলিশ কর্মকর্তা এবং পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেছে তাদের সহ মোট ৩৮জনের তালিকা আমরা দিয়েছি। । তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের জন্য সমন জারি করা হোক। তারা ট্রাইব্যুনালে আসলে তাদেরকে আমরা এ ডায়েরি বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করব এবং এর সত্যতা বের হয়ে আসবে। আমাদের এ সুযোগ দেয়া হেক।

এদিকে মাওলানা সাঈদীর পক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ আজ অনুষ্ঠিত হয়নি।  tomorrow অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে।

গত ২০ মার্চ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে একটি আবেদন পেশ করা হয়। আবেদনে বলা হয়  মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে  ৪৬ জন  সাক্ষীকে  হাজির করা আদৌ সম্ভব নয়। তাই  ৪৬ জন সাক্ষী  তদন্ত কর্মকর্তার কাছে যে  জবানবন্দী  দিয়েছেন তা  তাদের অনুপস্থিতিতে আদালতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহন করা হোক। সাক্ষী হাজির করতে না পারা বিষয়ে যেসব কারণ রাষ্ট্রপক্ষ থেকে  উল্লেখ করা হয় তার মধ্যে রয়েছে মাওলানা সাঈদীর পক্ষের অস্ত্রধারীদের হুমকির কারনে  কেউ কেউ  আত্মগোপন করেছে, কেউ  নিখেঁাঁজ,  তিনজন গোপনে ভারতে পালিয়ে গেছে। এছাড়া একজনের স্মৃতিশক্তি লোপ পেয়েছে এবং বয়স ও অসুস্থতাজনিত কারনে ভ্রমনে মৃত্যুর ঝুকি রয়েছে ।

গত ২৯ মার্চ  ১৫ জনের জবানবন্দী সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ  করে আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
এ রায় পুনরায় বিবেচনার জন্য গত ৯ মে রিভিউ আবেদন দাখিল করেন মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী। গত ৩রা জুন এ বিষয়ে শুনানীর সময় আসামী পক্ষের আইনজীবীরা সেফ হাউজের (ঢাকায় যেখানে সাক্ষী  এনে রাখা হত)  সমস্ত কাগজপত্র ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে  বলেন, সাক্ষী হাজির করতে না পারা বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ যে কারণ দেখিয়েছে তা সম্পূর্ণ  মিথ্যা। তারা কোর্টে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আদালতকে প্রতারিত করেছেন।  অনেক সাক্ষী তাদের হেফাজতেই ছিল এবং সেফহাউজের এসব কাগজপত্রে তার প্রমান রয়েছে।  কোন সাক্ষী কবে ঢাকায় আসে,  কতদিন সেফ হাউজে ছিল, কয়বেলা খাবার খেয়েছেন, কোন কোন পুলিশ  ইন্সপেক্টর, সাব-ইন্সপেক্টর এবং কনস্টেবল কোনদিন সেখানে দায়িত্ব পালন করেছেন  তার সমস্ত বিবরণ লেখা রয়েছে সেফ হাউজের ডায়েরিতে। আসামী পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে সে ডায়রির কপি  দাখিল করা হয় কোর্টে।

রাষ্ট্রপক্ষের সৈয়দ হায়দার আলী আসামী পক্ষের সেফ হাউজের ডায়েরিকে জাল হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, এটি আসামী পক্ষ  তৈরি করেছেন। সেফ হাউজ এবং এ ধরনের  ডায়েরি বলতে তাদের কিছু নেই।

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন,   একজন সাক্ষী সেফ হাউজে থাকা অবস্থায় তাকে হুমকি দেয়া হয় । সে বিষয়টি তিনি  যাত্রাবাড়ি থানায় ডায়েরি করেছেন। এ বিষয়টিও সেফ হাউজের ডায়েরিতে লেখা রয়েছে। জিডির নম্বর উল্লেখ রয়েছে।  এটা কেমন করে আমাদের পক্ষে জানান সম্ভব? যাত্রাবাড়ি থানার ডায়েরির সাথে সেফ হাউজের ডায়েরিতে বর্নিত নম্বর মিলিয়ে দেখলেই তো এর সত্যতা প্রমানিত হবে। তাছাড়া একজন পুলিশ সদস্য সেফ হাউজে দায়িত্ব পালনের সময় ঢাকার একটি কোর্টে সাক্ষী দিতে গেছে। তাও বর্নিত আছে।  এটা আমাদের পক্ষে কেমন করে জানা সম্ভব? ওই কোর্টের তথ্য হাজির করা হোক তাহলেও তো প্রমানিত হবে সে বর্নিত তারিখে  সে কোর্টে গিয়েছিল কি-না। তাহলে প্রমান হবে সেফ হাউজের ডায়েরি সত্য। সেফ হাউজে  দায়িত্ব পালন করেছে যেসব পুলিশ তাদের প্রত্যেকের ফোন নম্বর, কে কতক্ষন দায়িত্ব পালন করেছে সে সময় এবং প্রত্যেকের ব্যাজ নম্বর, পুলিশের কোড নম্বর সব উল্লেখ আছে। এটা আমাদের পক্ষে কি করে জানা সম্ভব?
একজন সাক্ষীকে সাক্ষ্য দেয়ার পর তদন্ত সংস্থা থেকে ফোন করে বলা হয়েছে আজ তার সাক্ষ্য খুব ভাল হয়েছে। তাকে মিষ্টি খাওয়ানো হোক। পাঞ্জাবী কিনে দেয়া হোক। তাও লেখা রয়েছে সেফ হাউজের ডায়েরিতে। এজাতীয় তথ্য সংবিলত ডায়েরি কি করে কোন মানুষের পক্ষে বানিয়ে রচনা করা সম্ভব?
তাই সর্বশেষ এখন এর সত্যতা প্রমান করতে হলে সেইসব পুলিশ সদস্যদের হাজির করে  আমাদেরকে ওপেন কোর্টে জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ দেয়া হোক।

১৫ সাক্ষী বিষয়ে রিভিউ আবেদন খারিজ : আসামী পক্ষের দাখিল করা ডকুমেন্ট তাদেরই প্রমান করতে হবে-ট্রাইব্যুনাল

১২/৭/০১২
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলায়  ১৫ সাক্ষী বিষয়ে দাখিল করা রিভিউ আবেদন খারিজ করে  দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল । রিভিউ আবেদনে কোন মেরিট নেই বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। সেফ হাউজের ডকুমেমেন্টর যে ফটোকপি আসামী পক্ষ থেকে দাখিল করা হয়েছে তাও প্রমানিত নয় বলে উল্লেখ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। দাখিলকৃত  ডকুমেন্টের সত্যতা আসামী পক্ষকেই প্রমান করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন  ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান।

আদেশ বিষয়ে   ডিফেন্স টিমের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, এবার কাদম্বিনীকে মরিয়া প্রমান করতে হবে যে, সে মরে নাই।

গত ১২ জুন ১৫ সাক্ষী বিষয়ে শুনানী শেষে আদেশ মুলতবি রাখা হয়। এক মাসের মাথায় আজ   এ বিষয়ে আদশে পাশ করা হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ।

আদেশ পাঠ করে শোনানোর পর  ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের প্রশ্নের জবাবে বলেন,  আপনারা যে ডকুমেন্ট দাখিল করেছেন তার সত্যতা আপনাদেরই প্রমান করতে হবে।
ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, আমরা সমস্ত ডকুমেন্ট জমা দিয়েছি। এটা যে সত্য সে বিষয়ে  আমরা যুক্তি উপস্থাপন করেছি।  এখন  আর কেমন করে আমরা প্রমান করব ?
জবাবে বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, আপনি সিনিয়র আইনজীবী। আপনি জানেন কিভাবে প্রমান করতে হবে। প্রমান করতে পারলে এটা নি:সন্দেহে গ্রহণ করা হবে। তবে ডকুমেন্ট এখনো প্রমানিত হয়নি। আপনার কথা অনুযায়ী ৫০ ভাগ তো প্রমানিত। বাকীটুকু করে ফেলেন। তাহলে বেনিফিট পাবেন।

একজন বিচারপতি অনুপস্থিত ছিলেন:
আদেশ পাশের সময় ট্রাইব্যুনালে দুজন সদস্য  উপস্থিত ছিলেন। এরা হলেন চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক এবং  সদস্য বিচারপতি আনোয়ারুল হক। অপর সদস্য বিচারপতি একেএম জহির আহমেদ উপস্থিতি ছিলেননা।
আদেশ পাশের পর ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক ট্রাইব্যুনালকে   বলেন, আমরা ধরে নিতে পারি এটা দুই সদস্যের আদেশ।
জবাবে বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, না, এটা ট্রাইব্যুনালের আদেশ। এটা সত্য যে, একজন নেই। কিন্তু সর্বসম্মত নয় তা বলা যাবেনা। কারন ভিন্ন মত তো আসেনি।
ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, আপনারা তিনজন আবেদনের শুনানীতে অংশ নিলেন। কাজেই তিনজন মিলেই আদেশ  দিলে ভাল হতনা?  একজন যেহেতু নেই তাই আরেকটু অপেক্ষা করতে পারতেন।
এ আদেশে আমরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।

ব্যারিস্টার রাজ্জাকের প্রতিকৃয়া:
ট্রাইব্যুনালের আদেশ শেষে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের বলেন, এখন কাদিম্বনীকে মরিয়া প্রমান করতে হবে যে, সে মরে নাই। আমরা যে ডকুমেন্ট জমা দিয়েছি  তা প্রমানের সুযোগ থেকে আমাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। প্রমানের সুযোগ তো দেয়া হয়নি। আমরা বলেছি ডকুমেন্টে যাদের নাম আছে তাদের সবাইকে কোর্টের ডকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক।   হাতের লেখা পরীক্ষা করানো হোক বিশেষজ্ঞ ডেকে। তাহলে প্রমান হবে ডকুমেন্টের প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি তথ্য সত্য। আমরা সেটি প্রমান করতে পারব ।
ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, ট্রাইব্যুনালের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি এ আদেশ সঠিক হয়নি। রোমান সম্রাটের আদেশের মত হয়েছে এ আদেশ। কারণ আমাদের আর আপীল বিভাগে যাওয়ার সুযোগ নেই এর বিরুদ্ধে।  তাই আমরা কোর্টের আদেশ মানতে বাধ্য।

ট্রাইব্যুনাল আবেদন  খারিজ বিষয়ে আদেশে  আরো উল্লেখ করা হয়েছে, আসামী পক্ষ  সেফ হাউজের যে ডকুমেন্ট দাখিল করছেন তার সত্যতা প্রমান বা অপ্রমানের  দিকে আমরা যাচ্ছিনা। বিচার চলাকালে এটি আসামী পক্ষ চাইলে প্রমানের সুযোগ পাবেন। তখন আমরা বিবেচনা করব বিষয়টি।
আদেশে  বলা হয়েছে ১৫ সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণ বিষয়ে আমরা উল্লেখ করেছি যেহেতু জেরা ছাড়া এটি আমরা গ্রহণ করেছি তাই এর মূল্য কম এবং সেভাবেই বিবেচনা করা  হবে। ’এছাড়া উষারানী মালাকার, সুখরঞ্জন বালী বিষয়ে জমাকৃত দিগন্ত এবং  ইসলামিক টিভির রিপোর্ট বিষয়ে আদেশে বলা হয়েছে  মূল যে ডকুমেন্ট জমা দেয়া হয়েছে তার সাথে এর বৈষাদৃশ্য রয়েছে।

ট্রাইব্যুনালের আদেশে বারবার দৈনিক নয়া দিগন্তে প্রকাশিত ২৭ মার্চের রিপোর্ট এবং দৈনিক আমার দেশে প্রকাশিত ২৪ এপ্রিলের রিপোর্ট  উল্লেখ করা হয়েছে। সাক্ষীদের সাথে কথোপকথন  বিষয়ে নয়া দিগন্তের রিপোর্ট এবং সেফ হাউজের ডায়েরি নিয়ে দৈনিক আমার দেশের রিপোর্ট বিষয়ে বলা হয়েছে এ রিপোর্ট   নি:সন্দেহে বিচার প্রকৃয়াকে বাঁধা গ্রস্ত করার শামিল।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের প্রতিকৃয়া: রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ হায়দার আলী বলেন, সেফ হাউজের  নামে যে ডকুমেন্ট আসামী পক্ষ জমা দিয়েছেন তা জাল। এটি তারা নিজেরা তৈরি করে জমা দিয়েছেন এই রিভিউ আবেদন করার উদ্দেশে।

এ বিষয়ে আসামী পক্ষের আইনজীবী তাজুল ইসলাম বলেন, কোর্ট সেফ হাউজের  ডকুমেন্টকে জাল বা জাল নয়  সে বিষয়ে কিছুই  বলেননি। কোর্ট বলেছে এটির সত্যাসত্য প্রমানের দিকে তারা যাচ্ছেননা। তাজুল ইসলাম বলেন, প্রসিকিউশনের পর্বত প্রমান জাল জালিয়াতি এবং প্রতারনার  বিরুদ্ধে আমরা সমস্ত ডকুমেন্ট হাজির করেছি। তার প্রতিটি শব্দ সত্য তা  আমরা প্রমান করতে সক্ষম। এটি যে জাল তা তারা প্রমান করতে পারেননি। না পেরে এখন আবার তারা মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

১৫ সাক্ষী বিষয়ে রিভিউ আবেদনের প্রেক্ষাপট:
গত ২০ মার্চ  রাষ্ট্রপক্ষ থেকে একটি আবেদন দাখিল করা হয় ট্রাইব্যুনালে। সে দরখাস্তে বলা হয়েছে মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে ৪৬ জন  সাক্ষীকে  হাজির করা তাদের পক্ষে আদৌ সম্ভব নয়। তাই  ৪৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দী  তাদের অনুপস্থিতিতে আদালতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহন করা হোক। 

পাঁচজন সাক্ষী  হাজির করতে না পারা বিষয়ে আবেদনে  বলা হয়েছে তারা নিখোঁজ।  ১৪জনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। নিখেঁাঁজ  পাঁচ জনের তিনজন গোপনে ভারতে পালিয়ে গেছে।

আদৌ হাজির করা সম্ভব নয়  হিসেবে যে ৪৬ জনের তালিকা দেয়া হয়েছে তাদের  মধ্যে  ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির,  লেখক প্রফেসর জাফর ইকবাল (হুমায়ুন আহমেদের ভাই), খ্যাতিমান জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ, পিরোজপুর সাবসেক্টর কমান্ডার মেজর (অব) জিয়াউদ্দিন আহমেদের নামও রয়েছে।

যে ৪৬ জন সাক্ষীর অনুপস্থিতিতে তাদের সাক্ষ্য গ্রহনের আবেদন জানানো হয়েছে তাদের সবার নামের তালিকা দেয়া হয়েছে এবং ১৯ জন সাক্ষী  হাজির করতে না পারার কারণ তাদের নামের পাশে উল্লেখ করা হয়েছে। তালিকার এক নম্বরে থাকা ঊষারানী মালাকারকে হাজির করতে না পারা বিষয়ে বলা হয়েছে তিনি অসুস্থ, স্মরনশক্তি লোপ, ভ্রমনে মুত্যু ঝুকি রয়েছে।

তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা সুখরঞ্জন বালী সম্পর্কে বলা হয়েছে  চার মাস আগে  নিজ বাড়ি থেকে বের হবার পর নিখোঁজ।  তালিকার ৩ থেকে পাচ নম্বরে থাকা আশিষ কুমার মন্ডল, সুমীত রানী মন্ডল এবং সমর মিস্ত্রী  সম্পর্কে বলা হয়েছে তারা ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে নিখোঁজ। সম্ভবত তারা গোপনে ভারতে পালিয়ে গেছে।
তালিকায় ৬ থেকে ১৯ নম্বর মোট ১৪ জন সাক্ষী সম্পর্কে বলা হয়েছে তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। আসামীর পক্ষ অবলম্বনকারী পিরোজপুরের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গ্রুপ কর্তৃক সাক্ষীদের বাড়িতে গিয়ে হুমকির কারনে তারা বাড়িছাড়া।

এ আবেদন বিষয়ে শুনানী শেষে গত ২৯ মার্চ রায় দেন ট্রাইব্যুনাল। তাতে ১৫ জন সাক্ষী তদন্ত কর্মকর্তার কাছে যে জবানবন্দী দিয়েছেন তা তাদের অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।

১৫ সাক্ষী বিষয়ে এ আদেশ  পুনরায় বিবেচনার জন্য গত ৯ মে রিভিউ আবেদন দাখিল করেন মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী। ২২ মে এ বিষয়ে প্রথম শুনানী অনুষ্ঠিত হয়।  ৩রা জুন পুনরায় শুনানীর সময় আসামী পক্ষের আইনজীবীরা সেফ হাউজের (ঢাকায় যেখানে সাক্ষী  এনে রাখা হত)  সমস্ত কাগজপত্র ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে  বলেন, সাক্ষী হাজির করতে না পারা বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ যে কারণ দেখিয়েছে তা সম্পূর্ণ  মিথ্যা। তারা কার্টে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আদালতকে প্রতারিত করেছেন।  অনেক সাক্ষী তাদের হেফাজতেই ছিল এবং সেফহাউজের এসব কাগজপত্রে তার প্রমান রয়েছে।  কোন সাক্ষী কবে ঢাকায় আসে,  কতদিন সেফ হাউজে ছিল,  কবে কাকে সেফ হাউজ থেকে কোর্টে হাজির করা হয়, কে কয়বেলা খাবার খেয়েছেন, কোন সাক্ষী কবে বাড়ি গেছেন, কোন দিন কার কোন আত্মীয় বেড়াতে এসেছেন, কোন দোকান থেকে জিনিসপত্র কেনা হয়েছে, কোন কোন পুলিশ  ইন্সপেক্ট, সাব-ইন্সপেক্টর এবং কনস্টেবল কোনদিন সেখানে দায়িত্ব পালন করেছেন তার সমস্ত কিছু লিখে রাখা হয়েছে যে  ডায়েরিতে ত আসামী পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
সেফ হাউজের যে রেজিস্ট্রার খাতা  আসামী পক্ষ থেকে জমা দেয়া হয়েছে তাতে  সাক্ষী এবং অতিথি হাজিরা খাতা, খাদ্য  বই এবং সাধারন ডায়েরি বই  রয়েছে।

মাওলানা সাঈদীর জামিন আবেদন নাকচ

২৪/৬/১২, রোববার
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর জামিন আবেদন নাকচ করা হয়েছে । জামিন  আবেদন নাকচ করা বিষয়ক আদেশে  ট্রাইব্যুনাল -১ বলেন, মাওলানা সাঈদী বর্তমানে অসুস্থ  অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যদিকে তাকে প্যারোলে মুক্তি দিয়ে বিদেশে পাঠানোর আবেদন জানানো হয়েছে। সে বিষয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।  প্যারোলে মুক্তির আবেদন থাকা অবস্থায় কিভাবে তাকে জামিন দেয়া যায় সেটি একটি প্রশ্ন আমাদের কাছে।

আদেশে ট্রাইব্যুনাল বলেন, জামিন আবেদনের পক্ষে সবচেয়ে বড় বিষয় ছিল মাওলানা সাঈদীর বড় ছেলে রাফীক বিন সাঈদী মারা যাওয়ায় তার পুরোপুরি সুস্থতা অর্জনের জন্য পারিবারিক সান্নিধ্যে থাকা দরকার। পারিবারিক সেবা শুশ্রুষা দরকার।  কিন্তু মাওলানা সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদীও সাংবাদিক সম্মেলনে করে  তার পিতাকে  প্যারোলে মুক্তি দিয়ে  চিকিৎসার জন্য লন্ডন পাঠানোর  দাবি জানিয়েছেন। এথেকে এটি প্রতীয়মান যে, তার এ মুহুর্তে চিকিৎসা করানো বেশি জরুরি। আর চিকিৎসার জন্য যদি তাকে লন্ডন পাঠানো হয় তাহলে সেখানে তার পক্ষে পারিবারিক সান্নিধ্য পাওয়া সম্ভব নয়।

তাছাড়া ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে, বারডেমে তাকে গুরুত্বসহকারে চিকিৎসা  প্রদান করা হচ্ছে বলেও ট্রাইব্যুনাল  আদেশে উল্লেখ করেন।

এরপর জামিন আবেদন নাকচের পক্ষে ট্রাইব্যুনাল দুটি যুক্তি উপস্থাপন করেন।  ট্রাইব্যুনাল বলেন, এর আগে মায়ের জানাজার সময়  মাওলানা সাঈদীকে প্যারোলে  মুক্তি দেয়া হয়েছিল। সেবার তিনি প্যারোলে মুক্তির শর্ত মেনে চলেছেন। কিন্তু এবার বড় ছেলের জানাজায় প্যারোলে মুক্তির শর্ত তিনি ভঙ্গ করেছেন।

জানাজার সময় তিনি ১০ মিনিট বক্তব্য দিয়েছেন। বক্তব্যের মধ্যে উসকানিমূলক (প্রোভোকেটিভ)  কথা ছিল। পুলিশ তাকে থামানোর চেষ্টা করলেও তিনি থামেননি। তাছাড়া অনেক উচ্ছৃঙ্খল (আনরুলি) লোকজন তাকে কারাগারে নিয়ে যাবার সময় গাড়ির পেছন পেছন অনুসরন করেছে।

আরেকটি বিষয় উল্লেখ করে ট্রাইব্যুনাল বলেন, মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে এক সাক্ষীর ছেলে একটি গ্রুপ কর্তৃক হামলার শীকার হয়েছে।  অভিযোগ এসেছে সাঈদ’র সমর্থকরা এটি করেছে।

আদেশ শেষে হবার সাথে সাথে  তাজুল ইসলাম  দাড়িয়ে  বলেন, প্যারোলে মুক্তির শর্ত তিনি ভঙ্গ করেছেন কিনা এ মর্মে রাষ্ট্রপক্ষের কোন আইনজীবীদের পক্ষ থেকেও কিছু বলা হয়নি এবং জেল কর্তৃপক্ষও কিছু বলেননি।  কাজেই এ বিষয়টি আপনারা  কিভাবে আদেশে আনলেন?
তখন ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক বলেন,  আমরা টিভিতে দেখেছি তিনি বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি কি বক্তব্য দেননি?

তাজুল ইসলাম বলেন, বক্তব্য দিয়েছেন কিন্তু তিনি শর্ত ভঙ্গ করেছেন, মানুষকে উসকানি দিয়েছেন এ অভিযোগতো কেউ করেনি।

এরপর তাজুল ইসলাম বলেন, পিরোজপুরে এক সাক্ষীর ছেলে গাজা খাওয়ার সময় প্রতিপক্ষ ছাত্রলীগ কর্মীদের হামলার শীকার  হয়েছেন। পত্রিকায় এ বিষয়ে রিপোর্ট হয়েছে। সেটিও কি মাওলানা সাঈদীর প্রভাবে হয়েছে  এবং জামিন না দেয়ার পক্ষে যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করা হবে? এ বিষয়ে তো রাষ্ট্রপক্ষ থেকেও কিছু বলা হয়নি। পত্রিকার রিপোর্ট থেকে এ বিষয়টি এখানে জামিন না দেয়ার পক্ষে কিভাবে  আপনারা  যুক্তি হিসেবে আনতে পারেন?
তাজুল ইসলাম বলেন,  এ দুটি বিষয় আদেশ থেকে বাদ দেয়া হোক আদেশ থেকে। ট্রাইব্যুনাল বলেন ঠিক  আছে  বাদ দেয়া হবে।

জামিন আবেদন বাতিল বিষয়ে তাজুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শেষে  সাংবাদিকদের বলেন,  এ নিয়ে সপ্তমবারের মত মাওলানা সাঈদীর  জামিন আবেদন বাতিল করা হল। আপনারা  জানেন কোন মানবিক প্রেক্ষাপট তুলে আমরা জামিনের আবেদন করেছিলাম। আমরা মনে করি তার জামিন আবেদন বাতিল করা সঠিক হয়নি, মানবিক হয়নি।

জামিন আবেদন বাতিলের পর মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনের জেরা শুরু হয়। তাকে জেরা করেন মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী মিজানুল ইসলাম। তাকে সহয়াতা করেন অ্যডভোকেট মনজুর আহমেদ আনছারী, আবু বকর সিদ্দিক, হাসানুল বান্না সোহাগ। এসময় অন্যান্য  আইনজীবীর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিক, শাহজাহান কবির, শিশির মোহাম্মদ মনির ।
মাওলানা সাঈদী ন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ডায়াবেটিসের সমস্যা বেড়ে যাওয়ায় তাকে গত শনিবার রাতে আবার বারডেমে নিয়ে আসা হয়েছে।

মাওলানা সাঈদীকে ইব্রাহীম কার্ডিয়াকে ভর্তি

১৪/৬/১২ বৃহষ্পতিবার
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী বুকে ব্যথা অনুভব করায় গত রাতে  তাকে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে গতরাতে। রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। তিনি সিসিইউ ১২ নং বেডে আছেন।

হাসপাতালে নিয়ে যাবার সময় মাওলানা সাঈদীর সাথে থাকা তার তৃতীয় ছেলে মাসুদ সাঈদী   দৈনিক নয়া দিগন্তকে জানান, মাগরিবের নামাজ শেষে  মতিঝিল বয়েজ স্কুল মাঠ থেকে আব্বাকে  নিয়ে জেল খানার দিকে রওয়ান দেয় কর্তৃপক্ষ । জানাজার মাঠেই তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করেন।  জেলগেটে পৌছতে রাত নটা বেজে যায়। কারণ জানাজায় হাজির হওয়া হাজার হাজার মানুষ তার গাড়ির সামনে পেছনে  আসে  জেল গেট পর্যন্ত।   রাত নয়টায় জেল গেটে পৌছানোর পর তাকে জেলখানায় প্রবেশ করানো হয়। এরপর তার বুকের ব্যথা আরো বাড়ার কারনে তাকে জেল কর্তৃপক্ষ দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাবার  সিদ্ধান্ত নেয়।
মাসুদ সাঈদী জানান  মাওলানা সাঈদীর বুকে  দুটি রিং বসানো আছে।  

সাক্ষীদের প্রশিক্ষনের অভিযোগ এবং সেফ হাউজের ডায়েরিতে যা লেখা রয়েছে

২২/৬/২০১২, শুক্রবার
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর  আইনজীবীরা বিভিন্ন সময় অভিযোগ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষ কর্তৃক সাক্ষীদের প্রশিক্ষন বিষয়ে।  অ্যডভোকেট তাজুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালে এবং ট্রাইব্যুনালের বাইরে সাংবাদিকদের  সামনে বিভিন্ন সময়   অভিযোগ করেছেন মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষীদের প্রশিক্ষন দেয়া হচ্ছে।  তাদেরকে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে  মিথ্যা কথা শিখিয়ে কোর্টে নিয়ে   আসা হচ্ছে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য।

রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের ঢাকায় এনে যেখানে রাখা হত সেই সেফ হাউজের ডকুমেন্ট  সম্প্রতি ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন  করেছেন  মাওলানা সাঈদীর আইনজীবীরা।  সেফ হাউজ ডায়েরিতে এমন কিছু নোট লেখা রয়েছে যাতে সাক্ষীদের প্রশিক্ষন বিষয়ক অভিযোগের সত্যতা মেলে।

যেমন  ১৮/১০/২০১১ তারিখের একটি ডায়েরি নোটে লেখা হয়েছে “পার্শ্বলিখিত সময় আমি এবং এসআই কালাচাদ ঘোষ কনকর্ড কোম্পানীর ইঞ্জিনিয়ার ইউসুফ সাহেবের সঙ্গে অত্র অফিস তদন্ত সংস্থার স্বাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদের পরিবেশ উপযোগী করে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অনুরোধ করিলাম।”
ডায়েরির এই লেখাটির প্রতি মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী তাজুল ইসলাম এবং মিজানুল ইসলামের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তারা বলেন, এ থেকে বোঝা যায় সেখানে একটি প্রতিকী ট্রায়ালের আয়োজন করা হয়েছিল সাক্ষীদের জন্য।

তারিখ ১৭/১১/২০১১ সময়  ২০.১৫ লিখিত আরেকটি ডায়েরি নোটে লেখা হয়েছে “পার্শ্বলিখিত সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ প্রসিকিউটরগণ অত্র সেইফ হাউজে অবস্থানরত সাক্ষীদের সবাইকে প্রসিকিউটর রুমে একত্রিত হয়ে একটি বিফ্রিংয়ে মিলিত হয় এবং সাক্ষীদেরকে মামলা সংক্রান্তে ব্রিফ করেন। বিষয়টি ভবিষ্যতের জন্য ডায়েরীভূক্ত করা হইলো।”
অ্যডভোকেট তাজুল ইসলাম এবং মিজানুল ইসলাম বলেন, সাক্ষীদের এভাবে প্রসিকিউটর রুমে একত্রিত করে ব্রিফিং করার কোন বিধান নেই।

১৭/১২/২০১১  তারিখ লিখিত সেফ হাউজের আরেকটি ডায়েরি নোটে লেখা রয়েছে “পার্শ্বলিখিত সময় অত্র সেইফ হাউজের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মো: আমজাদ হোসেন এই সাধারন ডাইরী করিতেছি যে, আগামী ইং ১৮-১২-১১ তাং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তদন্ত সংস্থার অপরাধ রেজিষ্টারের ক্রমিক নং-০২ সংক্রান্তে স্বাক্ষীদের মনোস্তাত্তিক বডি লেংগুয়েজ, পরষ্পর কথোপকথন এবং মোবাইল ফোনের ব্যবহার প্রভৃতি পর্যালোচনা করে বিস্তারিত ভাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক মহোদয়কে বিস্তারিত ভাবে তাহা মোবাইলে আলাপ করিলাম। তথা বিষয়টি মৌখিক আকারে গোপনীয় প্রতিবেদনের ন্যয় দাখিল করিলাম। আমি ইনচার্জ হিসাবে তাহাকে ইহাও বলিলাম যে, আমার এই টেলিফোনে কথোপকথন গোপনীয় প্রতিবেদন হিসাবে জানালাম। ইহার প্রতি উত্তরে জানান যে, তুমি যা রিপোর্ট করিলে আমি কিছুক্ষন আগেই অবগত হইয়াছি। এই কথোপকথনের প্রেক্ষিতে আমার প্রতি প্রয়োজনীয় আদেশ নির্দেশ প্রদান করিতে বলিলেন। আমি উহা শ্রবনের পর কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন করিলে তা কার্যকরী করা সম্ভব হয় না। সম্ভব না হওয়ার বিষয়টিও প্রধান সমন্বয়ক মহোদয়কে জানালে তিনি  বলেন, ঠিক আছে গোপন বিষয় নিয়ে সোচ্চার হওয়ার প্রয়োজন নেই।
বিষয়টি সংক্রান্তে সমন্বযক মহোদযের মৌখিক গৃহীত ব্যবস্থায় সন্তুষ্ট না হয়ে মামলার তদন্তকারী অফিসার সহকারী পুলিশ সুপার জনাব হেলাল উদ্দিন সাহেবকে সবকিছু জ্ঞাত করিলাম। এএসপি মহোদয়কে প্রধান সমন্বয়ক মহোদয়ের মৌখিক গৃহীত ব্যবস্থা কার্যকরী করার অনুরোধ করি। তিনি আমাকে জবাব প্রদান করেন যে, বিষয়টি আমি দেখছি। স্বাক্ষীদের স্বাক্ষের মানগত গুনাবলী বা প্রতিবন্ধকতা রোধের জন্যই উপরোক্ত পদক্ষেপ গুলি গ্রহন করি। বিষয়টি ভবিষ্যতের জন্য সাধারন ডাইরী করে রাখা হল।”

মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে ১৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দী তাদের অনুপস্থিতিতে আদালত সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে গত ২৯ মার্চ রায় দেন। সে রায় পুনরায় বিবেচনার জন্য গত ৯ মে রিভিউ আবেদন দাখিল করেন মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী। গত ৩রা জুন এ বিষয়ে শুনানীর সময় আসামী পক্ষের আইনজীবীরা সেফ হাউজের (ঢাকায় যেখানে সাক্ষী  এনে রাখা হত)  সমস্ত কাগজপত্র ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে  বলেন, সাক্ষী হাজির করতে না পারা বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ যে কারণ দেখিয়েছে তা সম্পূর্ণ  মিথ্যা। তারা কোর্টে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আদালতকে প্রতারিত করেছেন।  অনেক সাক্ষী তাদের হেফাজতেই ছিল এবং সেফহাউজের এসব কাগজপত্রে তার প্রমান রয়েছে।  কোন সাক্ষী কবে ঢাকায় আসে,  কতদিন সেফ হাউজে ছিল, কয়বেলা খাবার খেয়েছেন, কোন কোন পুলিশ  ইন্সপেক্টর, সাব-ইন্সপেক্টর এবং কনস্টেবল কোনদিন সেখানে দায়িত্ব পালন করেছেন  তার সমস্ত বিবরণ লেখা রয়েছে সেফ হাউজের ডায়েরিতে। আসামী পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে সে ডায়রির কপি  দাখিল করা হয় কোর্টে। গত ১২ জুন আসামী পক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক কোর্টে সেফ হাউজের সে ডায়রি  থেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ পড়ে শোনান। সেসময় তিনি কোর্টে উপরোক্ত মিষ্টি খাওয়ানোর বিষয়টিও উপস্থাপন করেন।
গত ৩ রা জুন আসামী পক্ষ থেকে সেফ হাউজের পায়েরি আদালতে দাখিলের সময়  রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ হায়দার আলী বলেন, সেফ হাউজ বলতে আমাদের কিছু নেই। তারা সেফ হাউজের নামে যে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন এই রিপোর্ট আমাদের না। এটি তাদের প্রডাকশন। হতে পারে এটি তাদের প্রডাকশন। তিনি সেফ হাউজের বদলে  উইটনেস হাউজ বা সাক্ষী হাউজ লেখার দাবি জানান ট্রাইব্যুনালের প্রতি।

জগ মগ তাওয়া খুনতি কেনার তথ্যও লিখে রাখা হয়েছে সেফ হাউজ ডায়েরিতে

সেফ হাউজ ডায়েরিতে জগ মগ তাওয়া খুনতি, পাপশ, ঝাড়–, বদনা প্রভৃতি জিনিসপত্র কেনার  তথ্যও লেখা রয়েছে। 
রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের ঢাকায় এনে যেখানে রাখা হত সেই সেফ হাউজের ডকুমেন্ট  সম্প্রতি ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন  করেছেন  মাওলানা সাঈদীর আইনজীবীরা।  তাতে দেখা যায় সেফ হাউজের যাবতীয় কর্মকান্ড এবং সেখানে যেসব সাক্ষী এনে রাখা হত তাদের  খুটিনাটি যাবতীয় তথ্য লিপিবদ্ধ করে রাখা  হয়েছে।
২২/১০/২০১১ তারিখে সেফ হাউজ ডায়েরির একটি নোটে লেখা রয়েছে “আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল হইতে নি¤œ বর্ণিত ক্রোকারিজ মালামাল অত্র সেইফ হাউজে ব্যবহারের জন্য প্রেরণ করিলে তাহা প্রাপ্ত হইয়া অত্র সংস্থার রুমে রাখা হইল। এবং উক্ত মালামাল প্রাপ্তির ব্যাপারে পুলিশ পরিদর্শক (প্র) জনাব মো: ওবায়দুল্লাহ সাহেবকে অবগত করা হইল ও অত্র সংস্থার ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক জনাব মো: আমজাদ হোসেন সাহেবকে অবগত করিয়া ভবিষ্যতের জন্য নোট করিয়া রাখিলাম।
মালামালের বিবরন ঃ
প্লেট বড়  (মেলামাইন) - ২৪টি,  কাচের গ্লাস - ৭২টি, কাপ প্রিচ - ৩৬টি,  চা-চামচ - ৩৬টি, পানির জগ (প্লাষ্টিক) - ১২টি, ভাতের হাড়ি ঢাকনা সহ - ১০টি, কড়াই - ৩টি, তরকারীর হাড়ি ঢাকনা সহ - ০৮টি, ছোট বাটি মেলামাইন - ১০০টি, মাঝারী বাটি মেলামাইন - ১০টি, ভাতের গামলা মেলামাইন - ০৬টি,  বড় বাটি মেলামাইন - ১০টি,  ভাতের চামচ (ষ্টিল) - ০৬টি, তরকারীর চামচ (ষ্টিল) - ০৬টি, রুটি বানানোর ফিড়ি ও বেলুন - ০৪ সেট, বদনা প্লাষ্টিক - ১২টি, জায়নামাজ - ০৪টি, তাওয়ালে মাঝারী - ৬০টি, তাওয়া খুনতী - ০৪ সেট, বটি - ০৪টি, ট্রে মেলামাইন - ০৪টি, পানির ফিল্টার - ০৪টি, বালতি প্লাষ্টিক - ১০টি, মগ - ১০টি, তোষক - ২০টি, বালিশ ২০টি।

১৬/১১/১১ তারিখের আরেকটি ডায়েরি নোটে লেখা রয়েছে “সময়ে কন্ট্রাক্টর মি. শাহ আলম সাহেবের নিকট হতে নি¤œ লিখিত সেইফ হাউজের ব্যবহৃত মালামাল বুঝিয়া পাইয়া নোট করিলাম।
মালামালের বর্ণনা ঃ- গ্যাস সহ গ্যাস সিলিন্ডার - ৩টি, গ্যাস চুরা স্টীর ফিটিং মিটার রেগুলেটর সহ - ২টি, লাক্স সাবান মধ্যম - ১ডজন, লাক্স সাবান ছোট - ১ডজন, এসিআই (মশক নিধন) - ১টি, টেবিল টিসু পেপার - ২ বক্স, টয়লেট টিসু পেপার - ১ বক্স, পাপশ -৮টি, হারপিক - ২০টি, লাক্স সাবান - ২ ডজন, ভিম পাউডার - ১ ডজন, টিসু বক্স - ৫০টি, টয়লেট পেপার - ৫০টি, পাপশ - ৪০টি, ঝুড়ি - ২০টি, ঝাড়– ফুলের - ৬টি, ঝাড়ু শলার - ৪টি, দেয়াল ঘড়ি - ৪টি, মরটিন (মশক নিধন) - ১০টি, টি ব্যাগ - ৫ বক্স, কফি - ২ কৌটা,  চিনি - ৪ কেজি, চা এর নেট ছাকনি - ৪টি, কাটা চামচ - ১ ডজন, টেবিল কলমদানি - ২টি, লাক্স সাবান - ৪টি,  ঝুলি ঝাড়ু - ২টি।

সেফ হাউজ ডায়েরি// ভাল সাক্ষ্য দেয়ায় গৌরাঙ্গকে মিষ্টি খাওয়ানোর কথাও লেখা আছে ডায়েরিতে

১৫/৬/১২, শুক্রবার
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে গত ১৬ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন গৌরাঙ্গ চন্দ্র সাহা।  গৌরাঙ্গ চন্দ্র সাহা  ভাল সাক্ষ্য দেয়ায় সেদিন সেফ হাউজে তাকে মিষ্টি খাওয়ানো হয়। এছাড়া সিগারেট, প্রসাধীন এবং ঔষধ কিনে দেয়া হয় তাকে। এ বিষয়গুলোও  লেখা রয়েছে সেফ হাউজের ডায়েরিতে।

এখানে সেফ হাউজের ১৬ জানুয়ারি ২০১২ তারিখের এ বিষয়ক  বিবরন ডায়েরি  থেকে তুলে  ধরা হল
“প্রধান সমন্বয়ক অত্র সেইফ হাউজের নতুন স্বাক্ষী মধু সুদন ঘরামী এসেছে কিনা, এখন  কেমন আছেন জানতে চান।  তৎসঙ্গে তিনি আরো বলেন স্বাক্ষী গৌরাঙ্গ সাহার স্বাক্ষ্য খুব ভাল হয়েছে। টেলিফোনে আলোচনার সময়ে স্বাক্ষী গৌরাঙ্গ মিষ্টি খাওয়ার দাবী করে। বিষয়টি  ওএ স্যারকে ( সমন্বয়ক হান্নান খান এবং সানাউল হককে আইজির মর্যাদায় তদন্ত সংস্থায় নিয়োগ দেয়া হয়েছে)  জানালে তিনি বলেন, তাকে অর্থ্যাৎ গৌরাঙ্গকে মিষ্টিসহ পাঞ্জাবী পায়জামা দিয়ে দাও। তিনি আরো বলেন, যদি আরো কিছু চায় তবে আমি যেন সাধ্য মতো প্রদান করি। বিষয়টি সম্পর্কে  ওএ সানাউল্লাহ স্যারকে জানালে তিনি একই আদেশ প্রদান করেন। সিনিয়র দুই স্যারের আদেশে স্বাক্ষী গৌরাঙ্গ, সঙ্গে বাদী মাহবুবুল আলম হাওলাদার ও অপর স্বাক্ষী মো: আব্দুল হালিম বাবুলকে অত্র সেইফ হাউজের সন্নিকটে বিক্রমপুর মিষ্টান্ন ভান্ডার হইতে দুইশত পঞ্চার টাকার মিষ্টি, সিগারেট, ঔষধ, প্রসাধনী সহ মোট ৫০০/= টাকা ব্যয় করা হইল। বিষয়টি ভবিষ্যতের জন্য ডাইরী ভুক্ত করে রাখা হল।”

মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে ১৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দী তাদের অনুপস্থিতিতে আদালত সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে গত ২৯ মার্চ রায় দেন। সে রায় পুনরায় বিবেচনার জন্য গত ৯ মে রিভিউ আবেদন দাখিল করেন মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী। গত ৩রা জুন এ বিষয়ে শুনানীর সময় আসামী পক্ষের আইনজীবীরা সেফ হাউজের (ঢাকায় যেখানে সাক্ষী  এনে রাখা হত)  সমস্ত কাগজপত্র ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে  বলেন, সাক্ষী হাজির করতে না পারা বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ যে কারণ দেখিয়েছে তা সম্পূর্ণ  মিথ্যা। তারা কোর্টে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আদালতকে প্রতারিত করেছেন।  অনেক সাক্ষী তাদের হেফাজতেই ছিল এবং সেফহাউজের এসব কাগজপত্রে তার প্রমান রয়েছে।  কোন সাক্ষী কবে ঢাকায় আসে,  কতদিন সেফ হাউজে ছিল, কয়বেলা খাবার খেয়েছেন, কোন কোন পুলিশ  ইন্সপেক্টর, সাব-ইন্সপেক্টর এবং কনস্টেবল কোনদিন সেখানে দায়িত্ব পালন করেছেন  তার সমস্ত বিবরণ লেখা রয়েছে সেফ হাউজের ডায়েরিতে। আসামী পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে সে ডায়রির কপি  দাখিল করা হয় কোর্টে। গত ১২ জুন আসামী পক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক কোর্টে সেফ হাউজের সে ডায়রি  থেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ পড়ে শোনান। সেসময় তিনি কোর্টে উপরোক্ত মিষ্টি খাওয়ানোর বিষয়টিও উপস্থাপন করেন।
গত ৩ রা জুন আসামী পক্ষ থেকে সেফ হাউজের ডায়েরি আদালতে দাখিলের সময়  রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ হায়দার আলী বলেন, সেফ হাউজ বলতে আমাদের কিছু নেই। তারা সেফ হাউজের নামে যে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন এই রিপোর্ট আমাদের না। এটি তাদের প্রডাকশন। হতে পারে এটি
তাদের প্রডাকশন। তিনি সেফ হাউজের বদলে  উইটনেস হাউজ বা সাক্ষী হাউজ লেখার দাবি জানান ট্রাইব্যুনালের প্রতি।
সেফ হাউজ পত্তন বিষয়টিও সেফ হাউজের ডায়েরিতে লেখা রয়েছে। এখানে এ বিষয়ক বিবরন  সেফ হাউজ ডায়েরি থেকে তুলে ধরা হল। নোটটি ১৮/১০/২০১১ তারিখ লেখা। “আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তদন্ত সংস্থার আদেশ নম্বর ২৪, তারিখ ১২-১০-১১ এর মোতাবেক এবং স্মারক নং ১০৮০, তারিখ ১২-১০-১১ অনুসারে অত্র ৬৪৫ অতীশ দীপংকর, সায়েদাবাদ, গোলাপবাগ, যাত্রাবাড়িস্থ সেইফ হাউজ এর যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা এবং উর্ধ্বতন অফিসারগণের পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারীদের নিয়ন্ত্রন সহ সরকারী আদেশ উপদেশ কার্যকরী করার কল্পে অদ্য ১৮-১০-১১ তারিখের সকাল ০৮.০০ হতে অত্র ডায়েরী পত্তন তথা খোলা হইলো। অত্র ডায়েরী থানার ডায়েরী ন্যায় অর্থাৎ চজই ৩৭৭ এবং পুলিশ আইনে ৪৪ ধারা মোতাবেক ব্যবহৃত হবে। বিশেষ করে  অফিসার ফোর্স বাহির গমনে এবং স্বাীদের আইনগত সুযোগ সুবিধা ও উর্ধ্বতন অফিসারগনের তাৎনিক আদেশ কার্যকরী করা হবে। সংশ্লিষ্ট সংস্থার মামলা বা স্বাী বা যে কোন ঘটনা এই অফিসের ইনচার্জ সাহেবকে জানাতে হবে। তিনি উর্ধ্বতন অফিসারকে জ্ঞাত করবেন। প্রয়োজনে ঘটনা বা তথ্য বিচারে সরাসরি উর্ধ্বতন অফিসারকে জ্ঞাত করবেন। অত্র অফিসের জন্য নিয়োজিত সকল ফোর্সের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির হিসাব ঝও বাকি বিল্লাহ সাহেব নিয়ন্ত্রন করবেন। সেন্ট্রাল অফিস থেকে প্রেরিত মালামালের হিসাব তথা ষ্টক রেজিষ্ট্রার ঝও কালাচাঁদ বাবু রনাবেন করবেন। সংশ্লিষ্ট ০২জন ঝও সাহেব অফিস চালুর যাবতীয় অসমাপ্ত কার্য সমূহ তরান্বিত করে আগামী ২৬-১০-১১ তারিখে সর্ব্বত উপযোগী করে তুলবেন। তারা আমার মাধ্যমে বা সরাসরি ইন্স: ওবায়েদুল্লাহ সাহেবের সঙ্গে যোগাযোগ করে সকল প্রকার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করবেন। ”
সেফ হাউজে কে কি দায়িত্ব পালন করবেন সে বিষয়ক ১৫/১১/১১ তারিখের আরেকটি ডায়েরি নোট এখানে তুলে ধরা হল । “আমি (আমজাদ হোসেন) ইনচার্জ সেইফ হাউজ গোলাপবাগ এই মর্মে নোট করিতেছি যে, অত্র সেইফ হাউজের দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার-ষ্টাফদের মধ্যে নি¤েœ স্ব স্ব নামে পার্শ্বে দ্বায়িত্ব পালনের জন্য কার্য বন্টন করিয়া দেওয়া হইল এবং স্বাক্ষীদের নিরাপত্তা বিধান করিবেন এবং আমার সাথে এবং উর্ধ্বতন অফিসারের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করিবেন।
ঝও কালা চাঁদ ঘোঘ সঙ্গে ক/রবিউল
০১। স্বাক্ষীদের নিরাপত্তা
০২। স্বাক্ষীদের খাবারের বাজার
০৩। বাবুর্চিদের তত্বাবধান এবং খাবার সরবরাহ
০৪। প্রধান সমন্বয়ক অফিসের সাথে যাবতীয় অর্থনৈতিক যোগযোগ ও হিসাব সংরক্ষন
ঝও আব্দুল্লাহ আল বাকী সঙ্গে ক/মাসুম
০১। স্বাক্ষীদের নিরাপত্তা
০২। রিসিভ সেকশনে ডিউটিরত ও স্বাক্ষীদের তথ্য ১টি রেজিষ্টারে রক্ষনাবেক্ষন
০৩। স্বাক্ষীদের জন্য অফিসে সংরক্ষিত মূল রেজিষ্টার রক্ষনাবেক্ষন
০৪। স্বাক্ষীদের অবস্থানে যাবতীয় ব্যবস্থা
০৫। স্বাক্ষীদের কোর্টে প্রেরণ এবং কোর্ট প্রত্যাগত স্বাক্ষীদের গ্রহন
০৬। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তদন্তকারী অফিসার ও প্রসিকিউটরদের আপ্যায়নসহ যাবতীয় কাজ করবেন

শর্ষিণা মাদ্রাসার অধ্যক্ষও এসেছিলেন সাক্ষ্য দিতে:  সেফ হাউজ ডায়েরিতে স্বরূপকাঠীর ছারছিনা দারুস সুন্নত আলীয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ড. সৈয়দ মো: শরাফত আলীর নামও লেখা রয়েছে।  মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে তিনি সাক্ষ্য দিতে এসে এখানে উঠেছিলেন। তবে তিনি শেষ পর্যন্ত সাক্ষ্য দেননি।

সেফ হাউজ ডায়েরিতে আরো যাদের আসা যাওয়ার খবর লেখা রয়েছে তারা হলেন মো: মাহবুবুল আলম হাওলাদার, মো: মাহতাব উদ্দিন হাওলাদার, মো: মোস্তফা হাওলাদার, মানিক পশারী, আশিষ কুমার মন্ডল, সমর মিস্ত্রি, রুহুল আমীন নবীন, মো: আলতাফ হাওলাদার, সুলতান আহমদ।

মিজানুর রহমান তালুকদার (তার বাসা ঢাকায় তবে তিনি সেখানে সাক্ষীদের সাথে দেখা  করতে এবং আলোচনার জন্য যান বলে লেখা আছে।  অন্য কয়েকজন সাক্ষীর সাথে তাকেও সাক্ষী দিতে সেফ হাউজ  থেকে  গাড়ি যোগে ট্রাইব্যুনালে নিয়ে আসার বিষয় লেখা  রয়েছে। সেফ হাউজ ডায়েরির বেশ কয়েকটা তারিখের ঘটনায় তার নাম লেখা রয়েছে। তা থেকে সহজে ধারনা করা যায় তিনি সেখানে বেশ কয়েকদিন ছিলেন এবং প্রায়ই আসা যাওয়াও করতেন।)

আব্দুল লতিফ হাওলাদার?, মো: খলিল (৫), মো: লতিফ ও, মো: এনতাজ, মো: আইয়ুব আলী তালুকদার, মো: জলিল শেখ, বাসুদেব মিস্ত্রি, মো: সেলিম খান, মুকুন্দ চক্রবর্তী, গৌরাঙ্গ সাহা,
অনিল চন্দ্র মন্ডল, মা: বজলুর রহমান, আব্দুল হালিম বাবুল, মধুসুদন ঘোরামী,
ড. সৈয়দ মো: শরাফত আলী, পিন্সিপাল ছারছিনা দারুস সুন্নত আলীয়া মাদ্রাসা, সরুপকাঠি
মো: আব্দুর রাজ্জাক, অফিস সহকারী দারুস সুন্নত আলীয়া মাদ্রাসা, সরুপকাঠি ও
মো: সোলায়মান হোসেন বিশ্বাস, মো: জুলফিকার আলী

সেফ হাউজের ডকুমেন্ট বিষয়ে তথ্য প্রমান হাজির

১২/৬/২০১২, মঙ্গলবার
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, আমরা সেফ হাউজ বিষয়ে যেসব তথ্য প্রমান হাজির করেছি তারপর আর মাওলানা সাঈদীর বিচার চলতে পারেনা। সম্পূর্ণ  মিথ্যা দিয়ে সাজানো হয়েছে এ মামলা। প্রতারনা এবং জালিয়াতির  সুনামী হয়েছে এ মামলায়। তাই তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া উচিত। এ মামলা আর চালানো উচিত নয়। কারণ এ মামলার কোন ভিত্তি নেই। তদন্ত সংস্থার বিরুদ্ধে আমরা যে মিথ্যা এবং প্রতারনার প্রমান হাজির করেছি তারপর এ মামলা পরিচালনা করলে তা  বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় কালিমা লেপনের শামিল হবে।

মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে ১৫ সাক্ষী বিষয়ে রিভিউ আবেদনের শুনানীতে ব্যারিস্টার রাজ্জাক আজ ট্রাইব্যুনালে একথা বলেন।
ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, আমাদের যদি হাইকোর্টে যাবার সুযোগ থাকত তাহলে পাঁচ মিনিট শোনার পর হাইকোর্ট এ  মামলার সমস্ত কার্যক্রম স্থগিত করে দিত। ব্যারিস্টার রাজ্জাক ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হককে উদ্দেশ্য করে বলেন, আর যাই হোক আপনি অন্তন্ত এ  বিষয়ে আমার সাথে দ্বিমত করবনেনা। তখন বিচারপতি নিজামুল হক মুচকি  হাসেন।

দুই পক্ষের শুনানী শেষে  রিভিউ আবেবদেরন  আদেশ বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন, সিএভি  (কোর্ট এডজর্নড ফর ভারডিক্ট) । অর্থাৎ রায় না দেয়া পর্যন্ত এ বিষয়টি মুলতবি রাখা হল।

ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন সিএভি বেশি হয়ে যাচ্ছে।   ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক  বলেন, এ পর্যন্ত তিনটি সিএভি  হয়েছে। ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, সিএভি হলে  এ মামলার সব কার্যক্রম স্থগিত রাখা হোক  রায় না দেয়া পর্যন্ত। যে তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আমরা এতবড় মিথ্যা এবং প্রতারানার তথ্য প্রমান   দাখিল করলাম তার বিষয়ে ফয়সালা না  হওয়া পর্যন্ত এ মামলা কিভাবে চলতে পারে?
জবাবে ট্রাইব্যুনাল বলেন, রায়ের সময় আমরা সব বিবেচনা করব। কিন্তু  রায়ের জন্য মামলার কার্যক্রম স্থগিত থাকবেনা। মামলার কার্যক্রম চলবে।

মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে ১৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দী তাদের অনুপস্থিতিতে আদালত সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে গত ২৯ মার্চ রায় দেন। সে রায় পুনরায় বিবেচনার জন্য গত ৯ মে রিভিউ আবেদন দাখিল করেন মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী। গত ২২ মে এ বিষয়ে প্রথম শুনানী অনুষ্ঠিত হয়।  গত ৩রা জুন পুনরায় শুনানীর সময় আসামী পক্ষের আইনজীবীরা সেফ হাউজের (ঢাকায় যেখানে সাক্ষী  এনে রাখা হত)  সমস্ত কাগজপত্র ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে  বলেন, সাক্ষী হাজির করতে না পারা বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ যে

কারণ দেখিয়েছে তা সম্পূর্ণ  মিথ্যা। তারা কার্টে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আদালতকে প্রতারিত করেছেন।  অনেক সাক্ষী তাদের হেফাজতেই ছিল এবং সেফহাউজের এসব কাগজপত্রে তার প্রমান রয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ  হায়দার আলী এসময় বলেন, সেফ হাউজ বলতে আমাদের কিছু নেই। তারা সেফ হাউজের নামে যে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন এই রিপোর্ট আমাদের না। এটি তাদের প্রডাকশন। হতে পারে এটি তাদের প্রডাকশন।
আজ  ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক তথ্য প্রমান উপস্থাপন করে আদালতে প্রমান করেন যে, সেফ হাউজের নামে তারা যে ৬০০ পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট আদালতে দাখিল করেছেন তা সত্য।
সেফ হাউজের ডকুমেন্টকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের কর্তৃক অস্বীকার করা প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, এ বিচার রাজনৈতিক বিচার। সেজন্য তারা কোন সত্যের ধার ধারেননা। তাদের একটাই  লক্ষ্য। তারা চান তাকে দোষী সাব্যস্ত করে ঝুলিয়ে দিতে। সেজন্য তারা সবকিছুকে অস্বীকার করছে এককথায়।

ব্যারিস্টার রাজ্জাক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘জীবিত ও মৃত’ গল্পের  কাদম্বিনী চরিত্র উদাহরন পেশ করে বলেন, কাদম্বিনী মরিয়া প্রমান করেছিল যে, সে মরে নাই। আর   আজ যাকে মারার জন্য  সেফ  হাউজ বানানো হয়েছে  তিনি না মরে প্রমান করলেন  তাদের  সবই  মিথ্যা।

তারা (রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী) বলল  তিন জন সাক্ষী আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়ানোর কথা বলে চলে গেছে। তাদের খোঁজ  খবর তাদের কাছে নাই। । আমরা প্রমান দিলাম ঐ তিন সাক্ষী ঐ সময় পর্যন্ত  তাদের হেফাজতেই ছিল।
ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, সেফ হাউজে থাকা একজন সাক্ষীকে হুমকি দেয়া বিষয়ে যাত্রবাড়ি থানায় ডায়েরি করা হয়েছে ।   ডায়েরি নম্বর ৪৯১। সেফ হাউজে দায়িত্ব রত একজন পুলিশ মেজিস্ট্রেট কোর্টে সাক্ষ্য দিতে গেছে। সে তথ্যও লেখা রয়েছে সেফ হাউজেহর ডায়েরিতে।  কোন ফার্নিচার দোকান  থেকে আসববাপত্র কেনা হয়েছে তার টেলিফোন নম্বরও লেখা আছে। কয়টি কম্বল, জগ,   মগ, ভাতের চামচ, থালা  বাসন বালিশ কেনা হয়েছে তার সবই উল্লেখ আছে সেফ হাউজের ডায়েরিতে। গৌরাঙ্গ নামে একজন সাক্ষ্য ভাল সাক্ষ্য দেয়ায় মিস্টি খাওয়ানো  হয়েছে, সিগারেট কিনে দেয়া হয়েছে সে তথ্যও লেখা আছে। কোন দিন কোন সাক্ষী  এসেছে, কার সাথে কোন কোন মেহমান ছিল, কে কয়বেলা খেয়েছে, কাকে কখন চা আপ্যায়ন করা হয়েছে,  কাকে কোন হাসপাতালে নিয়ে রক্ত পরীক্ষা এবং অন্যান্য চিকিৎসা করা হয়েছে, কাকে কোনদিন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে, তার সাথে কোন কোন পুলিশ ছিল সবই ডায়েরিতে লেখা আছে। আমরা এসব ডডকুমেন্ট হাজির করেছি এবং তা যে সত্য তারও প্রমান দাখিল করেছি।
ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, এসব কি কোন মানুষের পক্ষে বানিয়ে লেখা সম্ভব?

ব্যারিস্টার  আব্দুর রাজ্জাক তার বক্তব্য পেশ করার পর বেলা দুইটায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ হায়দার আলী  শুনানীতে অংশ নেন। সেফ হাউজের যেসব ডকুমেন্ট মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী কর্তৃক আদালতে দাখিল করা হয়েছে   তাকে তিনি একটি ষড়যন্ত্র হিসেবে  আখ্যায়িত করেন। ষড়যন্ত্রের পক্ষে প্রমান হিসেবে তিনি বলেন,  এ ডকুমেমেন্টর ওপর ভিত্তি করে ওনারা ১৫ সাক্ষী বিষয়ক রায় বাতিলের  আবেদন করেছেন। সবশেষে তারা আসামীকে মামলা থেকে অব্যাহতির  দাবি জানিয়েছেন।
সেফ হাউজের ডকুমেন্টকে তিনি জাল টাকার সাথে তুলনা করে বলেন, জাল টাকা দেখতে খুব সুন্দর। এটা জালা হতে পারে। আমার সাবমিশন হল এটা  জাল।
তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রের কাল হাত কতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে তা এ থেকে বোঝা যায়।

তিনি ব্যারিস্টার রাজ্জাকের  উপস্থাপনা বিষয়ে বলেন,   ভাল ইপস্থাপন করলেই তা  বিশ্বাসযোগ্য  হবার কোন কারণ নেই।
সেফ হাউজের ডায়েরি তথ্য অস্বীকার করায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের লক্ষ্য করে বিচারপতি  এ কে এম  জহির আহমেদ বলেন  আপনাদের সাক্ষী হাউজ কি তাহলে লিল্লাহ বোর্ডিং? খাওয়াচ্ছেন দাওয়াচ্ছেন কোন রেকর্ড রাখা হয়না সেখানে?
বিচারপতি জহির আহমেদ সৈয়দ হায়দার আলীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি বলতে চাচ্ছেন  কালাচাঁদ মেজিস্ট্রেট কোর্টে সাক্ষ্য দিয়েছিল সেটা ওনারা জেনে তারপর তার নামে এ    ডায়েরি তৈরি করেছেন?
টেলিফোন নম্বর বিষয়ে তিনি বলেন, তদন্ত সংস্থা কি এই টেলিফোন নম্বর স্বীকার করেনা?
সেফ হাউজের নাম  নিয়ে বিতর্কের এক পর্যায়ে বিচারপতি  জহির আহমেদ  বলেন, নাম যাই বলেন, গোলাপ গোলাপই।
বিচারপতি একেএম জহির আহমেদ বলেন, সেফ হাউজের রেকড, এখানে সাক্ষীদের সাক্ষ্যের রেকর্ড এবং পত্রিকার  রেকর্ডের মধ্যে মিল রয়েছে। তাহলে এগুলো অস্বীকার করব কিভাবে?

ব্যারিস্টার রাজ্জাক ট্রাইব্যুনালে বলেন, আমরা যে ডকুমেন্ট দাখিল করেছি তা যে সত্য তার পক্ষে আমরা কয়েকটি প্রমান হাজির করতে চাই।
প্রথমত  টেলিফোন বিল। সাধারন ডাইরিতে   তিনটি টেলিফোন নম্বর লেখা রয়েছে সেফ হাউজের। এগুলো হল ৭৫৪৭৮০৭, ৭৫৪৭৮০৪, ৭৫৪৭৮১০।  ২০১১ সালে নভেম্বর মাসে  উক্ত তিনটি টেফিফোন নম্বরের পাশে বিল উল্লেখ করা আছে যথাক্রমে ৪৯১২ টাকা, ৪১১৪ টাকা এবং ৪১৬৮ টাকা। এরপর লেখা রয়েছে-“টেলিফোন বিল আইসিটি হেড অফিস বরাবর প্রেরন করা হইল” ।
ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, আমরা বিটিসিএল থেকে এ তিনটি নম্বরের বিপরীতে  বিলপত্র সংগ্রহ করেছি।
বিটিসিএলের টেলিফোন বিলে  ঠিকানা উল্লেখ আছে ৬৪৫, অতীশ দিপঙ্কর রোড, পুলিশ টাওয়ার বিল্ডিং, গোলাপবাগ, ঢাকা। ।  বিলে ইংরেজিতে  নাম  হিসেবে উল্লেখ আছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ।

ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, সেফ হাউজের  ঠিকানায়ও উল্লেখ আছে ৬৪৫, অতীশ দিপঙ্কর রোড, পুলিশ টাওয়ার বিল্ডিং, গোলাপবাগ, ঢাকা।   এই একটি ঘটনাই যথেষ্ট  এটা প্রমানের জন্য যে, সমস্ত ডকুমেন্ট সত্য।
দ্বিতীয় প্রমান হিসেবে ব্যাস্টিার রাজ্জাক বলেন, সেফ হাউজে দায়িত্বরত এসআই কাল চাঁদ ঘোষ চকবাজার থানার মামলা নম্বর ৪১ (০১)১০ জিআর ১০২/১০ ইং তারিখ ১২-০১-১২ মূলে সাক্ষ্য প্রদান করার জন্য সিএমএম কোর্ট নম্বর ৩১-ঢাকা এর উদ্দেশ্যে রওনা দেয় লেখা আছে।
ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, কালাচাঁদ যে  কোর্টে সাক্ষ্য দিতে গেল তা আমাদের পক্ষে জানা কেমন করে সম্ভব? আপনারা প্রয়োজনে ঐদিন মেজিস্ট্রেট কোর্টের কাগজপত্র তলব করেন। তাহলেই সত্যতা বের হয়ে যাবে।  তিনি বলেন,  কালা চাঁদকে কোর্টে হাজির করা হোক। আমরা তাকে জেরা করব।

১৬ জানুয়ারির আরেকটি ডায়েরি নোট আদালতে  পড়ে শোনান ব্যারিস্টার রাজ্জাক। এখানে উল্লেখ আছে “পার্শ্বলিখিত সময় আসিটির প্রধান সমন্বয়ক অত্র সেইফ হাউজের নতুন স্বাক্ষী মধু সুদন ঘরামী এসেছে কিনা এমন কেমন আছেন জানতে চায, তৎসঙ্গে তিনি আরো বলেন স্বাক্ষী গৌরাঙ্গ সাহার স্বাক্ষ্য খুব ভাল হয়েছে। টেলিফোনে আলোচনার সময়ে স্বাক্ষী গৌরাঙ্গ মিষ্টি খাওয়ার দাবী করে। বিষয়টি  ওএ স্যারকে জানালে তিনি বলেন, তাকে অর্থ্যাৎ গৌরাঙ্গকে মিষ্টি সহ পাঞ্জাবী পায়জামা দিয়ে দাও। তিনি আরো বলেন, যদি আরো কিছু চায় তবে আমি যেন সাধ্য মতো প্রদান করি। বিষয়টি সম্পর্কে  ওএ সানাউল্লাহ

স্যারকে জানালে তিনি একই আদেশ প্রদান করেন। সিনিয়র দুই ¯্রারের আদেশে স্বাক্ষী গৌরাঙ্গ সঙ্গে বাদী মাহবুবুল আলম হাওলাদার ও অপর স্বাক্ষী মো: আব্দুল হালিম বাবুলকে অত্র সেইফ হাউজের সন্নিকটে বিক্রমপুর মিষ্টান্ন ভান্ডার হইতে দুইশত পঞ্চার টাকার মিষ্টি, সিগারেট, ঔষধ, প্রসাধনী সহ মোট ৫০০/= টাকা ব্যয় করা হইল। বিষয়টি ভবিষ্যতের জন্য ডাইরী ভুক্ত করে রাখা হল” ।

৮/১২/২০১১ তারিখের একটি নোট : অত্র সেইফ হাউজে তদন্ত সংস্থা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কমপ্লেন্ট রেজিষ্টার ক্রমিক নং ০২ তাং ২১/০৭/২০১১ ইং এর মামলার স্বাক্ষী জনাব মাহাবুবুল আলম হাওলাদার সেইফ হাউজে অবস্থানরত আছে। তিনি জনান যে, গত ইং ০৭/১২/২০১১ইং ট্র্রাইব্যুনালে স্বাক্ষী দেওয়ার পর অদ্য ০৮/১২/২০১১ ইং সন্ধ্যা ০৬.১৪ মিনিটের সময় ফেরাউন পরিচয় ধারী অজ্ঞাত ব্যক্তি তাহার মোবা: নং- ১৯৪৪-২১৪৩৫৪ থেকে তাহাকে প্রাণ নাসের হুমকি সহ তাহার বাড়ী ঘর আগুন দিয়ে জ্বলাইয়া দেওয়া সহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করিলে উক্ত বিষয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জানান। যেহেতু ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে বিচার কার্য চলিতেছে এই মুহুর্তে এই ধরনের হুমকি মূলক কার্য স্বাক্ষী উপস্থিতি, স্বাক্ষী গ্রহন ও আগমনে বাধা সৃষ্টির বিদ্যমান। সেহেতু উক্ত ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট আলোচনা করিয়া এবং মোবাইল নম্বর পর্যালোচনা করিয়া বিষয়টি যেহেতু অতি গুরুত্বপূর্ন সেহেতু উক্ত ব্যাপারে ডাইরী ভূক্ত করার জন্য অফিসার ইনচার্জ যাত্রাবাড়ী থানা বরাবরে এস,আই, আব্দুল্লাহ্ আল বাকী এর মাধ্যেমে সাধারন ডাইরী করার জন্য প্রেরণ করি। এবং উক্ত বিষয় যাত্রাবাড়ী থানার সাধারন ডাইরী নাম্বার ৪৯২ তাং-০৮/১২/২০১১ ইং মূলে ডাইরী ভূক্ত করা হয়েছে। ঘটনাটি অভিযোগে বিস্তারিত লিপিবদ্ধ আছে।

ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন,  আমাদের পক্ষে কিভাবে জানা সম্ভব যে, এভাবে থানায়  জিডি করা হয়েছে?

এসব তথ্য প্রমান উপস্থাপনের সময় ট্রাইব্যুনাল ব্যারিস্টার রাজ্জাকের কাছে জানতে চান এসব তথ্য সত্য হলে কি হবে বলেন।
ব্যারিস্টার রাজ্জাক  বলেন, আমাদের আবেদন শুধু ১৫ সাক্ষীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবেনা। আমরা মাওলানা সাঈদীকে পুরো মামলা থেকে অব্যহতি চাচ্ছি।

এসময় ট্রাইব্যুনাল  বলেন,   আপনাদের দাবি হল ১৫ সাক্ষী বিষয়ে প্রসিকিউশন মিথ্যা তথ্য দিয়েছে। কিন্তু ঐ ১৫ জন সাক্ষী ছাড়া যে, ১৬ জনের জবানবন্দী কোর্টে নেয়া হয়েছে এবং জেরা হয়েছে তাদের সাক্ষ্য  কিভাবে বাতিল করা যাবে?
ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, যারা ১৫ জন সাক্ষী বিষয়ে এভাবে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন আদালতে তাদের অন্য বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্যতা কি? মাওলানা সাঈদীর মামলা তারা সম্পূর্ণ মিথ্যা দিয়ে সাজিয়েছে।  এ মামলা সম্পূর্ণ মিথ্যার ওপর দাগিয়ে আছে। এ মামলার কোন ভিত্তি নেই।

ট্রাইব্যুনালের অপর বিচারপতি আনোয়ারুল হক বলেন, চার্জ গঠনের পর সিচার্জ করার কোন সুযোগ নেই। হয় দোষী না হয় খালাস পাবেন  বিচারে। জবাবে ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, এখানে সিআরপিসি কার্যকর নেই। এটা বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ।  কাজেই চার্জ গঠনের পর  তা বাতিল করা যাবেনা তা কোথাও বলা নেই।

সেফহাউজের ডকুমেন্ট সত্যতা যাচাইয়ে ক্যামেরা সেসন ট্রাইব্যুনালে

৭/৬/২০১২, বৃহষ্পতিবার,
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আইনজীবীদের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে সেফ হাউজের যে ডকুমেন্ট জমা দেয়া হয়েছে  তার সত্যতা যাচাইয়ে ট্রাইব্যুনাল-১ ক্যামেরা সেসন হয়েছে।  ওপেন  কোর্টে এ বিষয়ে শুনানী অনুষ্ঠিত হয়নি।   বিচারপতির  চেম্বারে এ বিষয়ে শুনানী অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিচারপতির চেম্বারে এ বিষয়ে কি কথাবার্তা হয়েছে তা গণমাধ্যমে  প্রকাশ সম্পূর্ণরুপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আজ   সকাল  সোয়া ১১টার দিকে  ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক  বলেন,  আমরা ওনাদের (সেফ হাউজের দায়িত্ব পালনকারী সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা এবং  অন্যান্য পুলিশ কনস্টেবল) ডেকেছি ডকুমেন্ট  এর ব্যাপারে আমারা সন্তুষ্ট হবার জন্য। আমারা এখন চেম্বারে বসব। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে চিফ প্রসিকিউটর এবং অপর আরেকজন প্রসিকিউটর চেম্বারে আসবেন। আসামী পক্ষ থেকে ব্যারিস্টার  আব্দুর রাজ্জাক এবং তিনি আরেকজন আইনজীবী নিয়ে চেম্বারে আসবেন এখন।  এরপর সেফ হাউজের যাদের ডাকার  প্রয়োজন তাদের ডাকব।
এরপর তিনি বলেন, দিস ইজ ক্যামেরা সেসন। ওপেন কোর্টে যা বলা হবেনা তার বাইরে কোন কিছু মিডিয়ায় প্রকাশ করা যাবেনা। চেম্বারের কোন কিছু মিডিয়াল লেখা যাবেনা। 
এরপর সোয়া ১১টায়  চেম্বারে ক্যামেরা সেশন শুরু হয়। টানা সোয়া একটা পর্যন্ত চলে।  ক্যামেরা সেসন শেষে আইনজীবীরা সাংবাদিকদের জানান চেম্বারে বসে কি কথা বর্তাা হয়েছে তা প্রকাশ করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আছে।
রাষ্ট্রপক্ষের চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপুর সাথে  প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী এবং আসামী পক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের সাথে  এ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম চেম্বারে ক্যামেরা সেসনে যোগ দেন।

চেম্বারে তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক হান্নান খান এবং  সেফ হাউজের পুলিশ ইনচার্জসহ আরো দুই তিনজনকে প্রবেশ করতে দেখা গেছে।

মিথ্যার প্রলয় শুরু হয়েছে-ব্যারিস্টার রাজ্জাক
চেম্বারে ক্যামেরা সেসন এবং দুপুরের বিরতির পর সোয়া দুইটার দিকে কোর্ট বসে।  এসময় ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক কোর্টে বলেন, আমরা কোর্টে ৬০০ পৃষ্ঠার যে ডকুমেন্ট  জমা দিয়েছি তার প্রত্যেকটি তথ্য,  প্রত্যেকটি শব্দ সত্য। এরপর  ১৫ সাক্ষী বিষয়ক রিভিউ আবেদনের শুনানী আগামী সোমবার পুনরায় নির্ধারন করা হয়।

ট্রাইব্যুনাল থেকে  বের হয়ে ব্যারিস্টার  আব্দুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের বলেন, আমরা আজ ট্রাইব্যুনালে তিনটি দরখাস্ত  দিয়েছে । তাতে চারটি বিষয় রয়েছে। দুটি দরখাস্ত ট্রাইব্যুনাল গ্রহণ করেছেন। একটির বিষয়ে বলেছেন এটি আমাদের হাতে রাখতে। প্রয়োজন হলে তারা নেবেন।
ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, একটি দরখাস্ত করা হয়েছে তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রতারানার  দায়ে আদালত অবমাননার অভিযোগ  এনে।  তদন্ত সংস্থার সব কিছু মিথ্যার ওপর দাড়িয়ে আছে। মিথ্যার প্রলয় শুরু হয়েছে এবং তা ধরা পড়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আদালতকে   প্রতারিত করেছেন এবং    আদালতা অবমাননা করেছেন। তাই তার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল আইনের ১১ (এ) ধারায় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আবেদন জানানো হয়েছে।
অপর আরেকটি আবেদন বিষয়ে ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, মাওলানা সাঈদীকে মামলা থেকে অব্যাহতির আবদেন জানানো হয়েছে।  তদন্ত সংস্থার তথ্য যদি আমরা মিথ্যা প্রমান করতে পারি তাহলে মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে আর এ মামলা চলতে পারেনা। এ মামলা চালাতে হলে সম্পূর্ণ নতুন ভাবে তদন্ত করতে হবে।
তবে এ আবেদনটি ট্রাইব্যুনাল গ্রহণ না করে বলেছেন আমাদের হাতে রাখতে। ট্রাইব্যুনাল বলেছেন এর প্রয়োজন নাও  হতে পারে।
অপর আবেদন বিষয়ে ব্যারিস্টার রাজ্জাক  বলেন, সেফ হাউজের কিছু রেকর্ড  তলবের আবেদন জানানো হয়েছে। সেফ হাউজে দায়িত্বরত কয়েকজন পুলিশ বিষয়ে আমরা বলেছি তাদের বিষয়ে বিভিন্ন রেকর্ড তলবের জন্য। যেমন একজন পুলিশ বিষয়ে ডায়েরিতে উল্লেখ আছে তিনি  একদিন জজকোর্টে গেছেন একটি মামলায় সাক্ষ্য দিতে। তিনি জজকোর্টে সাক্ষ্য দিতে গেছেন কিনা তার প্রমান তো  জজকোর্টে রয়ে গেছে। কাজেই  জজকোটের তথ্য তলব করলেই তো বের হয়ে আসবে ঘটনা। তিনি কোনদিন সাক্ষ্য দিতে গেছেন কিনা তা তো আমাদের জানার কথা নয়। ডায়েরিতে উল্লেখ আছে। আমরা তার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য বলেছি।
ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমরা যে ডকুমেন্ট জমা দিয়েছি তার সত্যতা প্রমানের জন্য আমরা এক পায়ে দাড়িয়ে আছি। আগামী সোমবার এ বিষয়ে পুনরায় শুনানী হবে। সেদিনও আমরা প্রমান দেব।

এর আগে  ট্রইব্যুনালের নির্দেশে সেফ হাউজ বা সাক্ষী হাউজে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা এবং অন্যান্য কনস্টেবল হাজির  হন। সকাল সাড়ে দশটায় ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হয়।  অধ্যাপক গোলাম আযমের চার্জফ্রেম অর্ডার রিভিউ আবেদনের  বিপক্ষে  রাষ্ট্রপক্ষের  আইনজীবী জেয়াদ আল মালুম যুক্তি উপস্থাপনের পর মাওলানা সাঈদীর মামলা শুরু হয় সকাল সোয়া ১১টা ১০ মিনিটের দিকে। এরপর সোয়া ১১টায় ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিরা  এজলাস ছেড়ে চেম্বারে যান  ক্যামেরা সেসনের জন্য ডকুমেন্ট বিষয়ে সত্যতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে।
মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে ১৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দী তাদের অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহনের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করা হয়েছিল মাওলানা সাঈদীর আইনজীবীদের পক্ষ থেকে। গত ২২ মে এ বিষয়ে প্রথম শুনানী অনুষ্ঠিত হয়।  গত ৩রা জুন পুনরায় শুনানীর সময় আসামী পক্ষের আইনজীবীরা সেফ হাউজের (ঢাকায় যেখানে সাক্ষী  এনে রাখা হত)  সমস্ত কাগজপত্র ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে  বলেন, সাক্ষী হাজির করতে না পারা বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ যে কারণ দেখিয়েছে তা সম্পূর্ণ  মিথ্যা। তারা কার্টে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আদালতকে প্রতারিত করেছেন।  অনেক সাক্ষী তাদের হেফাজতেই ছিল এবং সেফহাউজের এসব কাগজপত্রে তার প্রমান রয়েছে।  কোন সাক্ষী কবে ঢাকায় আসে,  কতদিন সেফ হাউজে ছিল, কয়বেলা খাবার খেয়েছেন, কোন কোন পুলিশ  ইন্সপেক্ট, সাব-ইন্সপেক্টর এবং কনস্টেবল কোনদিন সেখানে দায়িত্ব পালন করেছেন তার সমস্ত কাগজপত্র আসামী পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ  হায়দার আলী এসময় বলেন, সেফ হাউজ বলতে আমাদের কিছু নেই। তারা সেফ হাউজের নামে যে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন এই রিপোর্ট আমাদের না। এটি তাদের প্রডাকশন। হতে পারে এটি তাদের প্রডাকশন।

সৈয়দ হায়দার আলী সেফ হাউজের কথা অস্বীকার করার আগে ঐদিন   ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক  আসামী পক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের কাছে জানতে চান সেফ হাউজটি কোথায়। তখন  ব্যারিস্টার রাজ্জাক ৬৪৫, অতীশ দিপঙ্কর রোড, পুলিশ টাওয়ার বির্ল্ডি, গোলাপবাগ ঢাকা পড়ে শোনান। এরপর  এ ঠিকানা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় বিচারপতি নিজামুল হক তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনের কাছে সেফ হাউজের ঠিকানা দাবি করেন। বিচারপতি নিজামুল হক সেফ হাউজের দায়িত্বরত  প্রত্যেক ব্যক্তিবর্গ এবং নথিপত্র তলব করেন।   আজ  বৃহষ্পতিবার তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনকে ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন।   নির্দেশ অনুযায়ী তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক হান্নান খান, দুজন পুলিশ ইন্সপেক্টর, দুজন সাব ইন্সপেক্টর এবং পুলিশ কনস্টেবলসহ মোট ১১ জন হাজির হন । তবে তাদের ওপেন কোর্টে আনা হয়নি এবং ডকুমেন্ট বিষয়ে ওপেন কোর্টে শুনানীও হয়নি  গতকাল।

এ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার, নজরুল ইসলাম, ব্যারিস্টার  তানভির আহমেদ আল আমিন, ব্যারিস্টার মুন্সি আহসান কবির, ব্যারিস্টার এমরান সিদ্দিক, ব্যারিস্টার এহসান সিদ্দিক, শিশির মোহাম্মদ মনির, শাহজাহান কবির, আবু বকর সিদ্দিক প্রমুখ আইনজীবী গতকাল উপস্থিত ছিলেন আসামী পক্ষে।
রাষ্ট্রপক্ষে  রানাদাস গুপ্ত, জেয়াদ আল মালুম, নূর জাহান বেগম মুক্তা প্রমুখ আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন অন্যান্যের মধ্যে।


সেফ হাউজের দায়িত্বরত সকল ব্যক্তিবর্গ নথিপত্র তলব ট্রাইব্যুনালে

৩/৬/১২, রোববার
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষীদের ঢাকা এনে রাখা হয় যেখানে সেই সেফ হাউজ বা সাক্ষী হাউজের সমস্ত  নথিপত্র এবং দায়িত্বরত সকল ব্যক্তিবর্গকে ট্রাবইব্যুনালে  তলব করা হয়েছে।  আগামী ৭ জুন তাদের ট্র্াই্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে। ১৯৭১ সালে মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারের লক্ষ্যে গঠিত ট্রাইবু্যুনাল -১ আজ  এ আদেশ দেন।

মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আইনজীবীদের পক্ষ থেকে সেফ হাউজে সাক্ষীদের  অবস্থান সম্পর্কিত   মোট পাঁচশত ৫০ পৃষ্ঠার তিনটি ডাইরি গতকাল ট্রাইব্যুনালে জমা দেয়ায় ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দিলেন।

১৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দী তাদের অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহনের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করা হয়েছিল মাওলানা সাঈদীর আইনজীবীদের পক্ষ থেকে। গতকাল এ বিষয়ে দ্বিতীয় দফা শুনানীর জন্য  ধার্য ছিল।

শুনানীর শুরুতে আসামী পক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার  আব্দুর রাজ্জাক  সেফ হাউজের পাঁচশত পৃষ্ঠার  তিনটি ডাইরি ডকুমেন্ট আকারে দাখিল করেন ট্রাইব্যুনালে। ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের পক্ষ থেকে লিখিত জবাবে বলা হয়েছে এ জাতীয় কোন সেফ হাউজ তাদের নেই এবং এ ধরনের কোন ডাইরিও সেখানে মেনটেন করা হয়না। কিন্তু আমরা দেখাচ্ছি যে, সেফ হাউজ আছে এবং সেখানে ডাইরি মেনটেন করা হয়। কোন সাক্ষী কবে আসেন, কবে ফেরত যান, কয়বেলা খাবার খান, সেখানে কারা দায়িত্ব পালন করেন তার সব বিবরন এ ডাইরিতে আছে।  এমনকি কোন কোন সাক্ষীকে প্রসিকিউশনের রুমে পর্যন্ত আনা হয়েছিল।
ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, তিনটি ডাইরি রয়েছে আমাদের ডকুমেন্টে। একটি সাধারন ডাইরি, একটি হাজিরা ডাইরি এবং একটি খাবার সংক্রান্ত ডাইরি। ওনারা বলছেন খাবার বিষয়েও কোন  ডাইরি নেই। আমরা বলছি আছে। আপনাদের সামনে তা জমা দিয়েছি।  আব্দুল লতিফ নামে একজন সাক্ষী সম্পর্কে তারা বলছেন কোনদিন সে ঢাকায় আসেননি। কিন্তু আমরা দেখাচ্ছি, ডাইরিতে উল্লেখ আছে  সে ঢাকায় এসেছিল।
কোন সাক্ষী কবে আসেন, কবে যান, তাদের সবকিছুর বিবরন এখানে আছে। তারা বলছেন এ জাতীয় কিছুর অস্তিত্ব নেই। আমরা বলছি আছে। এসব ডকুমেন্ট এখন ফেসবুক ইউটিউবে পাওয়া যাচ্ছে।
এসব ডকুমেন্ট জমা দেয়ার পর ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাড়াচাড়া করে দেখেন। এরপর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের প্রতি লক্ষ্য করে বলেন, ইউ হ্যাভ রিসিভড রিপলাই নাউ।
এরপর বিচারপতি নিজামুল হক সেফ হাউজের ঠিকানা পড়ে বোঝার চেষ্টা করেন এটির অবস্থান কোথায়। এপর তিনি প্রশ্ন করেন,  আমারা সাক্ষীদের নিরাপত্তার  জন্য এবং থাকার  যে সেফ হাউজের অনুমতি দিয়েছি এটা কি সেই সেফ হাউজ?
ব্যারিস্টার  আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এ সেফ হাউজটি  গোলাপবাগে অবস্থিত।

গোলাপবাগ  কোথায় কোন থানায় অবস্থিত এ নিয়ে কথাবার্তা চলার এক পর্যায়ে বিচারপতি নিজামুল হক তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনকে বেশ ক্ষোভের সাথে বলেন, মি. আইও, গিভ আজ দি এডড্রেস অব সেফহাউজ। হু অয়ার ইন চার্জ? গিভ আজ এভরি পার্টিকুলার অব এভরিওয়ান হু অয়ার ইন রেসপনসিবল অব দি হাউজ।  (মি. তদন্ত কর্মকর্তা. সেফহাউজের ঠিকানা দেন আমাদের। সেখানকার  ইনচার্জ কে? কারা কারা সেখানে দায়িত্ব পালন করেছেন তাদের সবার সম্পর্কে সবকিছু আমাদের জানান। )
এরপর বিচারপতি নিজামুল হক ক্ষোভের সাথে বলেন বিচার পরে করব । আগে এটা দেখে নেই।
এরপর বিচারপতি নিজামুল হক বেঞ্চ অফিসারকে ডেকে অর্ডার ডিকটেট করেন।
আদেশে তিনি বলেন, সেফহাউজের ইনচার্জসহ সেখানে যারা দায়িত্ব পালন করেছেন তাদের সবাইকে আগামী ৭ জুন ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে হবে। সেফহাউজের সমস্ত নথিপত্রও দাখিল করতে হবে। আসামী পক্ষ থেকে সেফ হাউজের যে ডকুমেন্ট দাখিল করা হয়েছে সে বিষয়ে  জবাব দিতে হবে। তিনি তদন্ত কর্মকর্তার প্রতি নির্দেশ দিয়ে বলেন, আপনি তাদের হাজির হওয়া বিষয়ে জানাবেন এবং তাদের হাজির করার বিষয়ে  ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।  এ বিষয়ে আর কোন লিখিত নোটিশ প্রদান করা  হবেনা।
এসময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ হায়দার আলী বলেন, সেফ হাউজ বলতে আমাদের কিছু নেই। তারা সেফ হাউজের নামে যে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন এই রিপোর্ট আমাদের না। এটি তাদের প্রডাকশন। হতে পারে এটি তাদের প্রডাকশন। তিনি সেফ হাউজের বদলে  উইটনেস হাউজ বা সাক্ষী হাউজ লেখার দাবি জানান।

আদেশ শেষে ব্যারিস্টার  আব্দুর রাজ্জাক  সাংবাদিকদের বলেন, তারা বলছেন সেফ হাউজ, ডাইরি এসব কিছু নেই। এটা মিথ্যা এবং প্রতারনার শামিল। আমরা আদালতে সেফ হাউজ বিষয়ে ডকুমেন্ট দাখিল করে দেখিয়েছি এসব ছিল।

গত ২০ মার্চ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের পক্ষ থেকে মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে  ৪৬ জন  সাক্ষীর একটি তালিকা দিয়ে আদালতে দরখাস্ত করে বলা হয় এদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা আদৌ সম্ভব নয়। তাই তারা তদন্ত কর্মকর্তার কাছে যে জবানবন্দী দিয়েছেন তা তাদের অনুপস্থিতিতে  সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহন করার আবেদন করা হয়।
১৫ জন জন সাক্ষীর  জবানবন্দী সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেন  করে ২৯ মার্চ আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের  পক্ষ থেকে  ২০ মার্চ  দাখিল করা আবেদনে সাক্ষী কেন আদৌ  করা সম্ভব নয় তার কারণও উল্লেখ করা হয় ।   পাঁচজন সাক্ষী  হাজির করতে না পারা বিষয়ে বলা হয়েছে তারা নিখোঁজ।  ১৪জন সম্পর্কে  উল্লেখ করা হয় তাদের  খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। নিখেঁাঁজ  পাঁচ জনের তিনজন সম্পর্কে উল্লেখ করা হয় তারা গোপনে  ভারতে পালিয়ে গেছে । একজন সম্পর্কে বলা  হয় তার স্মৃতিশক্তি লোপ পেয়েছে, ভ্রমনে মুত্যৃর ঝুকি রয়েছে।  নিখোঁজ  কয়েকজনস সাক্ষী সম্পর্কে বলা হয় মাওলানা সাঈদীর পক্ষের সন্ত্রাসীদের ভয়ে  তারা বাড়িছাড়া।

২৯ মার্চ ট্রাইব্যুনাল  যে ১৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দী তাদের অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে আদেশ দেন সে আদেশ পুনবিবেচনার আবেদন করেন মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী।   আবেদনে বলা হয় সাক্ষী হাজির করতে না পারা বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে যে কারণ উল্লেখ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানানো গল্প। এসব সাক্ষীরা মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে রাজী না হওয়ায় তাদেরকে আদালতে হাজির করেনি প্রসিকিউশন।  সাক্ষীদের অনেকে তাদেরই হেফাজতে সেফ হাউজে ছিল ।

গত ২২ মে ১৫ জন সাক্ষী বিষয়ে পুনবিবেচনা আবেদনের ওপর প্রথম  শুনানী হয় ।  হাজির করা সম্ভব নয় বলে  বর্নিত ৪৬ জন সাক্ষীদের অনেকেই যে  রাষ্ট্রপক্ষের হেফজতে ছিল সে বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য প্রমান আদালতে হাজির করেন মাওলানা সাঈদীর আইনজীবীরা। তিনজন সাক্ষীর ভিডিও দেখানো হয় ঐদিন আদালতে  । অন্য অনেকের বিষয়ে  আদালতে তথ্য প্রমান দাখিল করে  সাক্ষীদের নাম ধরে ধরে

বলা হয় তাদের মধ্যে কে কবে সেফ হাউজে আসেন, কবে বাড়িতে যান, কে কয়বেলা খাবার গ্রহণ করেন। কাকে  কবে সেফ হাউজ থেকে প্রসিকিউশনের রুমে পর্যন্ত আনা হয়েছিল তাও  উল্লেখ করা হয়।  ৩ জন সাক্ষী  সম্পর্কে  দিন তারিখ উল্লেখ করে বলা হয় তারা দুই দফায়  ৪৭ দিন পর্যন্ত সেফ হাউজে ছিল রাষ্ট্রপক্ষের  আইনজীবীদের হেফাজতে। অন্য অনেক সাক্ষী সম্পর্কে তথ্য প্রমান উপস্থাপন করে বলা হয় তারা কেউ কেউ   বাড়িতে আছেন, স্বাভাবিক কাজ কর্ম করছেন।

১৫ সাক্ষী বিষয়ে রিভিউ আবেদনের ওপর গত ২২ মে শুনানীর পর আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের কাছে জানতে চান তারা এ  অভিযোগের বিরুদ্ধে কোন লিখিত জবাব দেবেন কিনা। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ হায়দার আলীর সম্মতিতে লিখিত জবাব দেয়ার জন্য সময় দেয়া হয় তাদের। তারা জবাব দাখিল করার পর গতকাল এ বিষয়ে শুনানীর জন্য ধার্য্য ছিল।

দুই সাক্ষীকে পুনরায় জেরার অনুমতি: মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে দুজন সাক্ষীকে পুনরায় জেরার অনুমতি দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এরা হলেন মামলার বাদী মাহবুবুল আলম হাওলাদার এবং অপর সাক্ষী মানিক পসারী। মাওলানা সাঈদীর পক্ষ থেকে মোট তিনজন সাক্ষীকে পুনরায় জেরা করার আবেদন জানানো হয়। অপরজন ছিলেন রুহুল আমিন নবীন। তবে তাকে পুনরায় ঢাকা  এনে হাজির করার অনুমতি দেয়া হয়নি।

কেন সাক্ষীকে পুনরায় জেরা করার আবেদন করা হয়েছিল এ বিষয়ে মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী তাজুল ইসলাম বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা  এমন কিছু বিষয় আদালতে প্রদর্শন করেছেন  যা ঐসব সাক্ষীদের জবানবন্দীতে ছিলনা। সে বিষয়ে ন্যায় বিচারের সার্থে তাদের জেরা করা দরকার।   পুনরায় জেরার অনুমতি দেয়া হয়নি রুহুল আমিন নবীন সম্পর্কে  তাজুল ইসলাম বলেন, তিনি বলেছিলেন তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় অনার্স। আমরা ডকুমেন্ট সংগ্রহ করেছি যে, তিনি পরীক্ষায়  বহিষ্কার হয়েছিলেন এবং  অনার্স পাশ করেননি।

দুজন সাক্ষীকে ঢাকা এনে পুনরায় জেরা করা বিষয়ে তাদের জন্য  মোট পাঁচ হাজার টাকা খরচ বাবদ ট্রাইব্যুনালে জমা দেয়ার জন্য আসামী পক্ষকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। আগামী ১৫ জুনের মধ্যে দুজন সাক্ষীকে  হাজির করতে বলা হয়েছে।
বিচারপতি একেএম জহির আহমেদ আজ  এ বিষয়ে আদেশ দেন। এসময়  চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক ছাড়া অপর বিচারপতি আনোয়ারুল হক উপস্থিত ছিলেন।
ব্যারিস্টার  আব্দুর রাজ্জাক, তাজুল ইসলাম ছাড়াও  মাওলানা সাঈদীর পক্ষে  উপস্থিত ছিলেন মিজানুল ইসলাম, মনজুর  আহমেদ আনছারী, ব্যারিস্টার তানভীর  আল আমিন, ব্যারিস্টার এমারন সিদ্দিক, ব্যারিস্টার এহসান সিদ্দিক, শিশির মনির প্রমুখ আইনজীবী।


“১৫ সাক্ষী বিষয়ে অভিযোগের জবাব দিতে ব্যর্থ প্রসিকিউশন”


২৩/৫/২০১২, বুধবার
মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক জামায়াত নেতাদের পক্ষে প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ১৫ সাক্ষীর বিষয়ে আমরা যে অভিযোগ করেছি  তদন্ত কর্মকর্তা  এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের বিরুদ্ধে তার জবাব দিতে ব্যর্থ হয়েছেন প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীবৃন্দ) ।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ হায়দার আলী  উষারানী মালাকার নামে এক সাক্ষীর ব্যাপারে আজ স্বীকার করেছেন  যে, প্রয়োজন হলে তিনি এসে কোর্টে সাক্ষ্য দেবেন।
এ থেকে প্রমান হয় যে, সাক্ষী হাজির করা সম্ভব নয় বলে তারা যে কারণ দেখিয়েছেন তা সম্পূর্ন মিথ্যা ছিল। তাদের বিরুদ্ধে আমরা যে অভিযোগ করেছি  তা  সত্য। সাক্ষীরা আসতে চায় কিন্তু তাদের আনা হচ্ছেনা কারণ তারা  মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে রাজি  হচ্ছেননা। 

গত ২৯ মার্চ মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য তাদের অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেন মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারের লক্ষ্যে  ট্রাইব্যুনাল-১।  এ আদেশ বিষয়ে  ডিফেন্স টিমের (আসামী পক্ষের আইনজীবীবৃন্দ)  পক্ষ থেকে রিভিউি পিটিশন দায়ের করা হয়। গত মঙ্গলবার  এ বিষয়ে  ডিফেন্স টিমের পক্ষ থেকে বক্তব্য পেশ করা হয় ট্রাইব্যুনালে। গতকাল  রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের জবাব দেয়ার জন্য নির্ধারিত ছিল এবং  প্রসিকিউটর (রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ) সৈয়দ হায়দার  আলী সকালে মৌখিক জবাব দিয়েছেন।

গতকালের  শুনানী শেষে ট্রাইব্যুনালের সামনে সাংবাদিকদের ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন,  দুই সপ্তাহ আগে আমরা আবেদন জমা দিয়েছি। কিন্তু আজো (বুধবার) তারা এর কোন জবাব দেয়নি। তারা মৌখিক  বক্তব্য রাখার পরে কোর্ট তাদের বলেছেন,   অভিযোগ বিষয়ে তারা কোন লিখিত জবাব দেবেন কি-না। তারা বলেছেন দেবেন। এজন্য আগামী মঙ্গলবার ধার্য্য করা হয়েছে তাদের লিখিত জবাব প্রদানের জন্য। আমরা কোর্টকে বলেছি লিখিত জবাব দেয়ার জন্য তাদেরকে বলা না হলে তারা লিখিত জবাব দিতনা। তারা লিখিত  জবাব না দিলে আমাদের ফ্যাক্টসগুলো থেকে যেত। কোর্ট তাদের লিখিত  জবাবের বিষয়ে বলে দেয়ায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আর তারা লাভবান হয়েছেন।

ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, আমরা  চারজন সাক্ষীর টিভি সাক্ষাৎকারের ভিডিও কোর্টে উপস্থান করেছি প্রতিকী আকারে। প্রকৃত পক্ষে  ১৫ সাক্ষীর বাকীদেরও আনা সম্ভব ছিল।

রাষ্ট্রপক্ষ থেকে  সাক্ষী হাজির না করা বিষয়ে যে কারণ দেখিয়েছে তার বিরুদ্ধে আমরা এতবড়  মারাত্মক অভিযোগ দিলাম আর তারা এর কোন জবাব দিলনা। এটা কি তাদের দায়িত্ব ছিলনা? তারা কোর্টে মুখস্ত বলে দিল আমাদের অভিযোগ সঠিক নয়!
এ থেকে প্রমানিত হয় আমাদের অভিযোগ সত্য। ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ফলে আমরা আদালতে ১৫ সাক্ষী বিষয়ে এসব প্রমান হাজির করতে পেরেছি। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা নিয়ে প্রসিকিউশন  কিছু মন্তব্য করেছেন। আমরা বলব তারা এ রিপোর্ট করে ভুল কিছু করেননি।

গত ২০ মার্চ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের পক্ষ থেকে মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে তালিকাভুক্ত ৪৬ জন  সাক্ষীর একটি তালিকা দিয়ে আদালতে দরখাস্ত করে বলা হয় এদের হাজির করা আদৌ সম্ভব নয়।  কেন


হাজির করা সম্ভব নয় সে বিষয়ে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে  আবেদনে বলা হয় তারা তদন্ত কর্মকর্তার কাছে যে জবানবন্দী দিয়েছেন তা সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হোক। এদের মধ্যে ১৫ জনের জবানবন্দী সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেন আদালত।

(যেসব সাক্ষীদের  আদালতে আদৌ হাজির করা সম্ভব নয় বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের  পক্ষ থেকে দরখাস্ত দিয়ে কোর্টে বলা হযেছিল সে বিষয়ে ১২ এপ্রিল দৈনিক আমার দেশ এবং ২৭ মার্চ দৈনিক নয়া দিগন্তে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।  প্রসিকিউশনের সেফ হাউজের রেজিষ্ট্রেশন  খাতার তথ্য তুলে ধরে আমার দেশে রিপোর্ট করা হয়েছে কোন সাক্ষী কতদিন তাদের হেফাজতে ছিল। অনুসন্ধানী এসব রিপোর্ট ডিফেন্স টিমের পক্ষ থেকে আদালতে রেফারেন্স হিসেবে  তুলে ধরা হয়েছে  আবেদনের সাথে)

রাষ্ট্রপক্ষের  জবাব:
সকালে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ হায়দার আলী  শুনানীতে অংশ নেন। তিনি বলেন, ১৫ সাক্ষীর বিষয়ে আদেশ পাশের বিষয়ে পূর্বে আসামী পক্ষ থেকে যে বক্তব্য প্রদান করা হয়েছিল এখনো প্রায় সেই একই বক্তব্য রাখা হয়েছে। দৈনিক নয়া দিগন্তে প্রকাশিত সাক্ষীদের সাথে কথাপোকথন বিষয়ে কোর্ট বলেছিলেন এ রিপোর্ট ছিল উচ্চমাত্রায় অবমাননার শামীল। বিচার চলাকালে কি করে একজন সাংবাদিক সাক্ষীর সাথে কথা বলে রিপোর্ট করতে পারে?

আমারা  যে কারনে সাক্ষী হাজির করা সম্ভব নয় বলেছি তা এখনো বিদ্যমান। তারা বলেছে দৈনিক আমার দেশে সাক্ষীদের বিষয়ে যে রিপোর্ট ছাপা হয়েছে তার কোন প্রতিবাদ  দেইনি।  প্রতিবাদ দেয়া আমাদের কাজ নয়। আমরা  সেদিনই বলেছিলাম এটা হওয়া উচিত নয়।

আপনারা ১৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দী  গ্রহণ করেছেন তা বিবেচনার জন্য। এখানে আইনের কোন ব্যত্যয় হয়নি।
তদন্ত কর্মকর্তা আদালতের সাথে প্রতারান করেছেন এ ধরনের বক্তব্য ব্যারিস্টার রাজ্জাক সাহেবের মত সিনিয়র আইনজীবীর কাছ থেকে  কাম্য নয়। এটা সম্পূর্ণ বেআইনী, অবধৈ। ওনার কাছ থেকে এটা আশা করিনি।

সৈয়দ হায়দার  আলী বলেন, আত্মীয়ের বাসায় যাবার কথা বলে কোন সাক্ষী যদি কোথাও চলে যায় সেখানে আমরা কি করতে পারি।  এটা মুক্ত যুগ। আমরা তো তাদের বন্দী করে রাখিনি। আমরা তো বলছি তারা আমাদের  এসেছিল।   কিন্তু পরে চলে গেছে এটাই বাস্তব।
তারা কতদিন  আমাদের কাছে ছিল, কবে চলে গেছে এসব বিষয়ে যে তথ্য দিয়েছেন তা ঠিক নয়।  একটি পত্রিকার রিপোর্ট থেকে  তারা এ তথ্য দিয়েছেন। অফিসিয়াল সিকরেট এ্যাক্ট তো এখনো আছে।

ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক : সাক্ষীরা কোথায় আছে তা তারা জানল কি করে?
সৈয়দ হায়দার আলী : এটা (আমার দেশের রিপোর্ট) সঠিক রিপোর্ট নয়।
চেয়ারম্যান: যদি রিপোর্ট সঠিক হয়?
এসময়  অপর বিচারপতি একেএম জহির আহমেদ বলেন, আপনরা বলছেন ফেব্রুয়ারি মাসে তিন সাক্ষী নিখোঁজ হয়ে গেছে। ওনারা নির্দিষ্ট তারিখ দিয়ে বলছেন যে, ১৬ মার্চ তারা আপনাদের হেফাজতে ছিল।

চেয়ারম্যান: রেজিস্ট্রেশন ডায়েরি থাকল কেন? থাকলেও তারা এটা জানল কি করে?

জহির আহমেদ : উষারানী মালাকার সম্পর্কে আপনারা বললেন তিনি শয্যাশায়ী, স্মৃতি শক্তি লোপ পেয়েছে। কিন্তু ওনারা যে ভিডিও দেখাল তাতে দেখা যাচ্ছে তিনি  কথা বলতেছে, দেখে মনে হচ্ছে  পান খাচ্ছেন।
চেয়ারম্যান: ওনারা তো বলছেন ইনভেস্টিগেশন জার্নালিজমের মাধ্যমে তারা এটা করেছে। দে এবিউজড দি ওয়ার্ড ইনভেস্টিগেশন। আপনারা বলছেন এ রিপোর্ট সঠিক নয়। তাহলে তা লিখে দেন আমাদের।
সৈয়দ হায়দার আলী: ১৫ দিন, ৪৭ দিন  আমাদের হেফাজতে ছিল বলে যে কথা বলা হয়েছে তা সঠিক নয়।
এ ধরনের ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্ট করা তাদের দায়িত্ব ছিল কিনা এবং এটা করার অধিকার কি তাদের আছে?
কাল যে ভিডিও দেখানো হয়েছে তা দেখেতো তাকে সুস্থ মনে হয়নি। তাছাড়া এ ভিডিও কবে কিভাবে কোথায় বসে করল?
চেয়ারম্যান :  ভিডিওতে তাদের কথা  শুনে মনে হয়েছে এটি আমাদের অর্ডার পাস করার পর  ধারন  করা হয়েছে।
সৈয়দ হায়দার আলী : অবস্থার উন্নতি হলে হয়েছে।
জহির আহমেদ: আপনি বলেছিলেন স্মরন শক্তি লোপ পেয়েছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে উষারানী পান খাচ্ছে। স্মরনশক্তি লোপ পাওয়া ব্যক্তি তো পান খেতে পারেনা।
সৈয়দ হায়দার আলী: স্মরন শক্তি লোপ অনেক ধরনের হতে পারে। কেউ পেছনের স্মৃতি বলতে পারেনা। কেউ কিছু মনে রাখতে পারেনা।
আমরা তো বলছি তিনজন সাক্ষী আমাদের কাছে আসছিল। তারা চলে গেছে।

এ পর্যায়ে সৈয়দ হায়দার  আলী বলেন, ১৫ সাক্ষীর জবানবন্দী সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে যে আদেশ দেয়া হয়েছে তা রিভিউ করার কোন সুযোগ নেই।

বিচারপতি একেএম জহির আহমেদ বলেন, ১৯ (২) ধারার তিনটি অপশন আছে। সাক্ষী মৃত হতে হবে, তাকে আনা সময় সাপেক্ষ এবং আরেকটি হল ব্যয়বহুল হতে  হবে।
উষারানী মালাকার মৃত নন। তাকে দেখে মনে  হচ্ছে তিনি চলৎশক্তিহীন নন। কথা বলছেন। পিরোজপুরে আছেন। তাকে আনা ব্যয়বহুলও নয়। এখন এ সাক্ষীর জবানবন্দী আইনের ১৯ (২) ধারায় থাকবে কি থাকবেনা বলেন।
সৈয়দ হায়দার আলী বলেন, মনে হয় আপনারা ভিডিও রিপোর্ট সঠিক ধরে নিয়েছেন এবং বিশ্বাস করেছেন। 
বিচারপতি জহির আহমেদ বলেন আমাদের বিশ্বাস অবিশ্বাস  বিষয় নয়। আমি আপনার কাছে জবাব চাচ্ছি।
সৈয়দ হায়দার আলী : তার স্মৃতিশক্তি ফিরে এলে তো আমাদেরই লাভ।

চেয়ারম্যান : নতুন তথ্য  হাজিরের পর ডিফেন্স তো সেই গ্রাউন্ডেও রিভিউ আবেদন করতে পারে।
সৈয়দ হায়দার আলী : তিনি (উষারানী মালাকার) যদি সক্ষম হন এসে সাক্ষ্য দেবেন।
একটি সরকারি অফিসের ডায়রিতে কি আছে তা বের করে এনে রিপোর্ট করা কোন ধরনের ইনভেস্টিগেশন রিপোর্ট?

চেয়ারম্যান : ওনারা তো গ্যালপের নিচে আছেন। ধরে নেন ওনরা চুরি করেছেন। প্রশ্ন হল সরকারি কাগজ বাইরে গেল কি করে?

জহির আহমেদ : সাক্ষীরা যে আপনাদের কাছে আসছিল সে কথাতো  আসামী পক্ষের আইনজীবীরাও বলছেন।   কিন্তু বিষয় হল আপনরা বলছেন তারা চলে গেছে। আপনারা খুজে পাচ্ছেননা। আর তারা বলছেন সাক্ষীরা আপনাদের হেফাজতে ছিল। খুবই মারাত্মক অভিযোগ।
চেয়ারম্যান : ওনাদের দরখাস্তে যে সংযুক্তি আছে আপনারা কি তার জবাব দেবেন?  ইয়েস অর নো বলেন।
সৈয়দ হায়দার আলী : আমরা জবাব দেব।
এরপর মঙ্গলবার জবাবের জন্য ধার্য্য করা হয়।

ব্যারিস্টার রাজ্জাকের পাল্টা জবাব
ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, আপনারা যদি লিখিত জবাব  দেয়ার  বিষয়ে জিজ্ঞস না করতেন তাহলে তারা লিখিত জবাব দিতনা।  ফলে আমাদের অভিযোগগুলো এভাবে থেকে যেত। আপনাদের এই বলে দেয়ার মাধ্যমে আমারা ক্ষতিগ্রস্ত হলাম। আর ওনারা লাভবান হলেন।
আমাদের অভিযোগ খুব স্পষ্ট এবং সুনির্দিষ্ট। তারা এসবের কোন জবাব দিলেননা। তারা আজ কোর্টে এসেছেন কোন জবাব তৈরি ছাড়াই।

এসময় চেয়ারম্যান বলেন, তারা মৌখিক জবাব দিয়েছেন। আপনাদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। লিখিত জবাবের বিষয়ে ব্যারিস্টার রাজ্জাকের অভিযোগ বিষয়ে  বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, আপনারা লিখিত বক্তব্য জমা দিয়েছেন। ওনারা আজ মৌখিক বলেছেন। আমারা আজ অর্ডার দেবনা। পরে অর্ডার দেব। লিখিত অর্ডারে দুই পক্ষের বক্তব্য থাকতে হবে। ওনারা আজ মুখে কি বলল তাতো আমাদের মনে থাকবেনা পরে। সেজন্য লিখিত থাকা দরকার।

ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, আমার লার্নেড  ফ্রেন্ড স্বীকার করে ফেলেছেন যে, উষারানী মালাকার প্রয়োজনে এসে সাক্ষ্য দেবেন। কিন্তু ১৫ সাক্ষীর আদেশ থাকা অবস্থায় কি করে তিনি সাক্ষ্য দেবেন?

ব্যারিস্টার রাজ্জাক সৈয়দ হায়দার আলীর   বক্তব্য প্রসঙ্গে বলেন, উনি মুখস্ত বলে দিলেন আমি নাকি বেআইনী কথা বলেছি। আইনসম্মত কথা বলিনি। উনি যদি বলে দিতেন  আমার কোন কথাটা, কোন আইনের লঙ্ঘন এবং কোন আইন অনুযায়ী বেআইনী হয়েছে তাহলে তা আমার জন্য শিক্ষনীয় হতে পারত। কিন্তু তিনি তা বলেননি।
ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, আমি আমার কথা শুরুই করেছি ভারত, বাংলাদেশসহ তিনটি দেশের সংবিধান এর রেফারেন্স দিয়ে।   এছাড়া ডিএলআর রেফারেন্স দিয়েছি। আমি সম্পূর্ণ আইন এবং   যুক্তি দিয়ে কথা বলেছি। কোন রাজনৈতিক কথা বলিনি। কোর্টে আমি কোন রাজনৈতিক কথা বলিনা। আমার আরেকটি পরিচয় আছে কিন্তু আমি  তা কোর্টে কোনদিন ব্যবহার করিনা। আই  হেট টুৃ মেক পলিটিক্যাল সাবমিশন ইন কোর্ট। আমি আইন দিয়ে লড়াই করি কোর্টে। রাজনীতি দিয়ে নয়।

আমার বন্ধু আইনজীবীর সুবিধা হল তিনি একটা কিছু  বলে দিতে পারেন কোন রেফারেন্স ছাড়া। কিন্তু আমি যখন কথা বলি তখন রেফারেন্স দিয়ে কথা বলি।
চারজন সাক্ষীর টিভি সাক্ষাৎকার দেখানো কিভাবে বেআইনী হল? অনুসন্ধানী রিপোর্ট করা কিভাবে বেআইনী? আপনারা  ওয়াটার গেট কেলেঙ্কারীর কথা জানেন। এ রিপোর্টের ফলে কি পরিণতি হয়েছিল। (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নিক্সনকেক পদত্যাক করতে হয়েছিল। )
এরপর সৈয়দ হায়দার আলী বলেন, কোর্ট না বললে আমরা লিখিত জবাব দিতামনা এটা সঠিক নয়।