বিচারপতি নিজামুল হককে নিয়ে বিতর্ক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বিচারপতি নিজামুল হককে নিয়ে বিতর্ক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ২ আগস্ট, ২০১৩

ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম জাতীয় গণতদন্ত কমিশিনের সেক্রেটারিয়েট এর সদস্য ছিলেন।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান  বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি  (ঘাদানিক)  গঠিত  জাতীয়  গণতদন্ত কমিশিনের সেক্রেটারিয়েট এর সদস্য ছিলেন। এ তদন্ত কমিশন বর্তমানে কারাবন্দী জামায়াতের অনেক  নেতৃবৃন্দসহ  মোট ১৬ জনকে  যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত করে দুই দফা তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করে ১৯৯৪ এবং ১৯৯৫ সালে।

গণতদন্ত কমিশনের সেক্রেটারিয়েট এর কাজ ছিল উক্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত কাজে  কমিশনকে সর্বাত্মক সহায়তা করা।

বিচারপতি নিজামুল হক  নাসিম গণতদন্ত কমিশনের সাথে সম্পৃক্ত থাকা  ছাড়াও ১৯৯২ সালে গনআদালতের রায় বাস্তাবায়নের দাবিতে তখন সমাবেশে  অংশ নিয়েছিলেন। অতীতে একাধিক রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ততারও প্রমান পাওয়া গেছে বিচারপতি নিজামুল হকের বিরুদ্ধে। তিনি  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এস এম হল শাখার  জাসদ ছাত্রলীগের জিএস ছিলেন।

জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গঠিত গণআদালতের ধারাবাহিকতায় ১৯৯৩ সালের ২৬ মার্চ  মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও  ঘাতক দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটি গঠন করে জাতীয় গণতদন্ত কমিশন। কবি সুফিয়া কামালকে করা হয় এর চেযারম্যান। কমিশন ১৬ জনের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে যুদ্ধপারাধের অভিযোগ তদন্ত করে।

যে তদন্ত  কমিশন বর্তমানে আটক নেতৃবৃন্দকে   আগেই যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে সেই কমিশনের সাথে সম্পৃক্ত হাইকোর্টের তৎকালীন এ্যাডভোকেট  (বর্তমানে বিচারপতি) নিজামুল হক নাসিমকে করা হয়েছে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান।  ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুমও তখন গণতদন্ত কমিশিনের সেক্রেটারিয়েট সদস্য ছিলেন। ট্রাইব্যুনালের অপর প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু  গণআদালতের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে জাহানারা ইমামের সাথে ঢাকা, রাজশাহীসহ সারা দেশে অসংখ্য সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।

বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম শুধু যে গণতদন্ত কমিশনের সাথে  সম্পৃক্ত ছিলেন তাই নয় বরং জাহানরা ইমামের নেতৃত্বে গঠিত গণআদালত ১৯৯২ সালে  জামায়াতের তৎকালীন আমীর প্রফেসর গোলাম আযমের  বিরুদ্ধে যে ফাঁসির রায় দিয়েছিল সেই রায় বাস্তবায়নেরও দাবি জানিয়েছিলেন তিনি।  গণআদালতের রায়ের প্রতি আইনানুগ ব্যবস্থা  গ্রহনের দাবি জানিয়ে ১৯৯২ সালের ১০ এপ্রিল শুক্রবার সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতির  কক্ষে আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের একটি সভা হয়। এ সভায় অংশগ্রহণ করেণ বর্তমানে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক। এ বিষয়ে ১৯৯২ সালে ১১ এপ্রিল দৈনিক সংবাদে পরিবেশিত প্রতিবেদনে বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের নাম রয়েছে।

তাছাড়া গণআদালতের কারনে জাহানারা ইমামসহ যে ২৪ জনের বিরুদ্ধে তখন রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হয়েছিল সেই মামলায়  আসামী পক্ষের আইনজীবী ড. কামাল হোসেনের সাথে তখন  বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমও আইনী সহায়তা প্রদান করেণ।

যুদ্ধাপরাধ তদন্তে কবি সুফিয়া কামালকে  চেয়ারম্যান করে যে  জাতীয় গণতদন্ত কমিশন গঠন করা হয় সেই কমিশনকে তাদের কাজে সহায়তা করার জন্য গঠন করা হয় তদন্ত কমিশন সেক্রেটারিয়েট। আইনজীবী, সাংবাদিক এবং লেখকদের সমন্বয়ে মোট ৪০ জন  সদস্য বিশিষ্ট ছিলেন  সেক্রেটারিয়েটে ।

ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম যে ঘাদানিক ও গণতদন্ত কমিশনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন তার প্রমান গণতদন্ত কমিশনের প্রথম ও দ্বিতীয় রিপোর্ট, শাহরিয়ার কবির সম্পাদিত  এবং লিখিত  দুটি বই যথাক্রমে ‘একাত্তরের যুদ্ধাপরাধ ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার’, ‘গণ আদালতের পটভূমি’  এবং বিবিসি সাংবাদিক সাবির মুস্তাফা অনুদিত গণতদন্ত কমিশনের ইংরেজি ভার্সনসহ  (রিপোর্ট অন দি ফাইন্ডিংস অব দি পিপলস ইনকোয়ারি কমিশন..) সর্বত্র নিজামুল হক নাসিমের  নাম উল্লেখ রয়েছে সেক্রেটারিয়েট সদস্য হিসেবে।

বর্তমানে কারাবন্দী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মোজাহিদ, মুহম্মদ কামারুজ্জামান, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, আব্দুল কাদের মোল্লাসহ মোট আটজনের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে যুদ্ধাপরাধের তদন্তে জাতীয় গণ  তদন্ত কমিশন গঠন করা হয় ১৯৯৩ সালের ২৬ মার্চ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল সমন্বয় কমিটি এ  কমিশন গঠন করেণ। শাহরিয়ার কবির সম্পাদিত এ বিষয়ক বইয়ে  উল্লেখ করা হয়েছে জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে  গঠিত গণ আদালত গোলাম আজমের যে প্রতীকী ফাঁসির রায় দিয়েছে তারাই ধারাবাহিকতায় অন্যান্য নেতৃবৃন্দের যুদ্ধাপরাধের তদন্ত এবং তাদের বিচারের দাবিতে জনমত তৈরির লক্ষ্যে গঠিত হয় গণতদন্ত কমিশন।

১৯৯৪ সালের ২৬ মার্চ প্রথম দফায় কমিশন আটজনকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এরা হলেন আব্বাস আলী খান, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, আব্দুল আলীম (বর্তমানে জামিনে মুক্ত) মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মাওলানা আব্দুল মান্নান, আনোয়ার জাহিদ এবং আব্দুল কাদের মোল্লা।

১৯৯৫ সালের ২৬ মার্চ কমিশন  তাদের দ্বিতীয় প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। এখানে যাদের  বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের তদন্ত করা হয়  তারা হলেন, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, আল আহসান মোহাম্মদ মোজাহিদ, মাওলানা এ কে এম ইউসুফ, মাওলানা আব্দুস সোবহান, এ এস এম সোলায়মান,  মোহাম্মদ আয়েন উদ্দিন, এবিএম খালেক মজুমদার এবং ড. সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন।

দৈনিক সংবাদের খবর: জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গঠিত গণআদালত ১৯৯২ সালে প্রফেসর গোলাম আযমের প্রতীকী ফাঁসির যে রায় প্রদান করে সে রায়ের বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ সুপ্রীম কোর্টে একটি সমাবেশ করে তখন। সে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম। ১৯৯২ সালে ১১ এপ্রিল দৈনিক সংবাদে প্রকাশিত  “আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের দাবি: গণআদালতের রায় সম্পর্কে আইনানুগ ব্যবস্থা

নিতে হবে” শীর্ষক খবরে  বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের নাম রয়েছে সভায় উপস্থিত অন্যান্যদের সাথে।


সংবাদে পরিবেশিত খবরে লেখা হয় “গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ আইনজীবী সমিতি সমূহের সমন্বয় পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভা সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী সমিতির সভাপতির  কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেণ সমন্বয় পরিষদের আহবায়ক শামসুল হক চৌধুরী। সভার প্রস্তাবে গণআদালতের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা  গ্রহনের  জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানানো হয়।.......... সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এম আমীর উল ইসলাম, শফিক আহমেদ, আব্দুল বাসেত মজুমদার, আলহাজ্ব গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, আফসার উদ্দিন আহমেদ, গোলাম মাঈনুদ্দীন, আ ফ ম মেসবাহউদ্দীন, শামসুদ্দীন মিঞা, কে এম সাইফুদ্দীন আহমেদ, এম কে রহমান, নিজামুল হক নাসিম, ঢাকা বারের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আব্দুল মান্নান, আব্দুল গণি তালুকদার, ফরিদ আহমদ, মমতাজ উদ্দিন ফকির।  খবর সংবাদ বিজ্ঞপ্তির।”

বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা:  বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগে অধ্যয়নকালে  এস এম হলের একজন ছাত্র ছিলেন। তিনি এস এম হল শাখার জাসদ ছাত্র লীগের জিএস নির্বাচিত হন। বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম ১৯৬৭ সালে এইচএসসি পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে ভর্তি হন। এর আগে পটুয়াখালি সরকারি কলেজে ইন্টারমিডিয়েটে অধ্যয়নকালে বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম  ছাত্রলীগের  (আওয়ামী লীগ) একজন সাধারন মানে কর্মী/সমর্থক ছিলেন বলে উল্লেখ করেছেন তার কলেজ জীবনের পরিচিতরা।

ট্রাইব্যুনালের সদস্যদের  গণআদালতের সাথে  সম্পৃক্ততা বিষয়ে আইনজীবীদের প্রতিকৃয়া
অভিযোগকারী কখনো বিচারের আসনে বসতে পারেননা


যুদ্ধাপরাধ বিচারের  লক্ষ্যে গঠিত ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানসহ বেশ কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে  ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গঠিত গণতদন্ত কমিশনের সাথে সম্পুক্ততার বিষয়ে বিশিষ্ট আইনজ্ঞরা বলেছেন, নৈতিকভাবে চেয়ারম্যান ঐ পদে বসার অধিকার হারিয়েছেন। কারণ আইনের সাধারণ কথা হল অভিযোগকারী কখনো অভিযুক্ত ব্যক্তির বিচার করতে পারেননা।  যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে বর্তমানে যাদের বিচার চলছে   গণতদন্ত কমিশন  আগেই তাদেরকে একই অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে।  আর ট্রাইব্যুনালের বর্তমান চেয়ারম্যান ঐ তদন্ত কমিশন সেক্রেটারিয়েট মেম্বার ছিলেন। সেই একই লোকের ওপর এখন তাদের বিচারের দায়িত্ব অর্পিত হলে কখনো ন্যায় বিচার হতে পারেনা।


বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশন এর সভাপতি  খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন,  যুদ্ধাপরাধের  অভিযোগে এখন যাদের বিচার চলছে তাদেরকে আগেই যারা অভিযুক্ত করেছে তাদের  এ বিচার কাজের সাথে জড়িত না থাকা বিচারিক দায়িত্ব। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান  ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গঠিত ১৯৯৩ সালের  জাতীয়  গণতদন্ত কমিশিনের সাথে জড়িত  থাকার  বিষয়ে  খবর বেরিয়েছে। তিনি যদি এভাবে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির গণতদন্ত  কমিশনের সাথে জড়িত থেকে থাকেন তাহলে তার আর এ পদে থাকা উচিত কি উচিত কিনা সে সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব এখন তার। আমরা  মনে করি তার  সম্পর্কে যে খবর পত্রিকায় বের হয়েছে তারপর আর তার এ পদে থাকা ন্যায় বিচারের পরিপন্থী।  কারো বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ  প্রমানিত হলে তার এ জাতীয় পদে থাকার নৈতিক অধিকার থাকেনা।

ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিঞ বলেন, আইনের  একেবারে সাধারণ কথা হল যিনি বিচার চাইবেন বা বিচারপ্রার্থী বা  অভিযোগকারী  তিনি বিচার করতে পারেননা।  অভিযোগকারী অভিযুক্ত ব্যক্তির বিচারের জন্য বিচারের আসনে বসতে পারেননা। তাহলে ন্যায় বিচার পাওয়া যায়না। এটা সম্ভব নয়। এটা সারা বিশ্বের সর্বজনস্বীকৃত  বিষয় ।  কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি এখন  যুদ্ধাপরাধের  অভিযোগে যাদের বিচার করা হচ্ছে তাদেরকে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান আগেই অভিযুক্ত করেছেন। তিনি তাদের বিরুদ্ধে একজন বিচার প্রার্থী ছিলেন। তিনি অভিযোগকারী, তিনিই বিচারক। এটা কেমন করে হতে পারে। যিনি আগে থেকেই একজনকে অভিযুক্ত করে বিচার চেয়ে আসছেন সেই  একই লোক এখন তাদের বিচারের জন্য চেয়ারে বসেছেন। এটা তো বিচারের নামে প্রহসন ছাড়া আর কিছু নয়।

যুদ্ধাপরাধ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সেমিনার// ট্রাইব্যুনাল ভেঙ্গে দেয়ার দাবী আইনীজীবদের

 ৫/৭/১১
যুদ্ধাপরাধ বিচারের লক্ষ্যে গঠিত ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল  ভেঙ্গে দেয়ার  দাবি জানিয়েছেন আইনজীবরা। একই সাথে তারা অবিলম্বে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক  নাসিমকে তার পদ থেকে সরে দাড়ানোর দাবি জানিয়ে বলেছেন তিনি ঐ পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন।

ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গঠিত গণতদন্ত কমিশন এবং গণআদালতের সাথে বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের সম্পৃক্ত থাকার বিষয়ে তথ্য প্রমান উপস্থাপন করে গতকাল আন্তর্জাতিক একটি সেমিনারে আইনজীবীরা এ দাবি   জানান।  সেমিনারে অংশ নেয়া দেশের খ্যাতিমান আইনজীবীরা বলেন, এ ট্রাইব্যুনাল তার নিরপেক্ষতা হারিয়েছে এবং  এ ধরনের বিচারের যোগ্যতা ও দক্ষতা তাদের নেই। এ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে ন্যায় বিচার পাওয়ার কোন আশা নেই।  যুদ্ধাপরাধ বিচার নয় বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে  বিরোধেী ইসলামী দলকে ধ্বংস করারই তাদের লক্ষ্য।

নাগরিক ফোরাম আয়োজিত স্থানীয় একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে বক্তারা বলেন, ট্রাইব্যুানলের চেয়ারম্যান পদে বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের থাকার কোন নৈতিক অধিকার নেই।   কারণ  যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে বর্তমানে যাদের আটক করা হয়েছে তিনি আগে থেকেই তাদের একই অভিযোগে অভিযুক্ত করে তাদের বিচার দাবি করেছেন। একজন বিচারপতি হিসেবে তার এ পদ গ্রহণ করাও ন্যায়সঙ্গত হয়নি।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং বাংলাদেশে ফৌজদারি বিচার পদ্ধতি: আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত কি রাবার স্ট্যাম্প? র্শীষক সেমিনারে আইনজীবীরা বলেন, বিচার নয় বরং জামায়াতে ইসলামীকে ধ্বংস করার জন্যই যুদ্ধাপরাধের বিচার চলছে। এটি এখন আর  এদেশের  কারো কোন বক্তব্য নয় বরং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন এ কথা বলতে শুরু করেছে। লন্ডন থেকে প্রকাশিত বিশ্বখ্যাত সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন দি ইকোনমিস্টের চলতি সংখ্যার  একটি প্রতিবেদনে একথা বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশন এর সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেনের সভাপতিত্বে  সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে  বক্তব্য রাখেন ব্যারিস্টার  মওদূদ  আহমদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ব্যাস্টিার জমির উদ্দিন সরকার এমপি, ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক, বিশিষ্ট সাংবাদিক সাদেক খান, সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সেক্রেটারি বদরুদ্দোজা বাদল, ঢাকা বার এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি এ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ ফাহিমা নাসরিন মুন্নি, সুপ্রীম কোর্ট আইনীজীবী ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসেন, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হোমাম কাদের চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার জন্য যুদ্ধাপরাধ বিষয়ক বৃটিশ আইনজীবী টবি ক্যাডম্যান সেমিনারে যোগ দেয়ার জন্য বিমানবন্দরে এসে পৌছলে তাকে সেখান থেকে ফেরত পাঠানো হয় সরকারের নির্দেশে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন নাগরিক ফোরামের সভাপতি আব্দুল্লাহেল মাসুদ।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার মওদূদ আহমদ   যুদ্ধাপরাধ আদালত বিষয়ে চার দফা দাবি উপস্থাপন করে বলেন, বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান পদে থাকার কোন নৈতিক অধিকার নেই। তিনি ১৯৯২ সালের গণআদালতের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছিলেন। এছাড়া ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গঠিত গণতদন্ত কমিশিনের সেক্রেটারিয়েট সদস্য ছিলেন তিনি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উদাহরণ তুলে ধরে ব্যারিস্টার মওদূদ আহমদ  বলেন, কোন বিচারের সাথে আগেই যাদের দূরতম কোন সম্পর্ক  থাকে তারা কোন দিন সেই একই বিচারের ক্ষেত্রে বিচারকের আসনে বসতে পারেননা। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন বিচারপতি নিজামুল হক কি তার  পূর্ব সম্পৃক্ততার বিষয় অস্বীকার করতে পারবেন?

বন্দী ব্যক্তিদের জামিন দিতে হবে দাবি করে মওদূদ আহমদ বলেন অনেক দিন তাদেরকে আটকে রেখেছেন আপনারা।  এক বছর পার হয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোন চার্জশীট  দিতে পারেনি।  এ থেকে বোঝা যায় রাজনৈতিক কারণে  ট্রাইব্যুনাল তাদের বিষয়ে বিলম্ব করছে এবং আটক রেখেছে।  এ জাতীয় বিচারে কোনদিন স্বচ্ছতা আশা করা যায়না।

ট্রাইব্যুনাল যোগ্যতা হারিয়েছে উল্লেখ করে মওদূদ আহমদ বলেন, এ  ট্রাইব্যুনাল ভেঙ্গে দিতে হবে এবং নতুন করে গঠন করতে হবে।    যুদ্ধাপরাধের বিচারের লক্ষ্যে গঠিত ট্রাইব্যুনালের এ ধরনের বিচারের বিচারের কোন অভিজ্ঞতা  নেই।  তারা অদক্ষ। কোন দিন এ জাতীয় বিচার তারা করেণনি।  এ ট্রাইব্যুনাল যুদ্ধাপরাধ বিচার  করার ক্ষমতা রাখেনা। ট্রাইব্যুনালের  বিচারপতি আইনজীবী এবং তদন্তকারী অনেকেই ঘাতক দালাল, গণআদালত এবং গণতদন্ত কমিশনের সাথে জড়িত। তারা নিরপেক্ষ নন। ১৯৭৩ সালের যুদ্ধাপরাধ আইনকে সুরক্ষার জন্য যে সংবিধান সংশোধন করা হয় তা ছিল সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক। তাই এ  বিচার প্রকৃয়াও সাংবিধানিক নয়


এ চারদফা দাবি জানিয়ে মওদূদ আহমদ বলেন, যদি আপনারা এগুলো না মানেন তাহলে  প্রমান হবে আপনারা রাজনৈতিকভাবে বিরোধী দলকে ধ্বংস করার জন্য এ বিচার করছেন। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর জন্য তার পরিবার বিদেশী আইনজীবী নিয়োগ দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু  আপনারা সে অনুমতি দেননি। একইভাবে জামায়াত নেতাদেরও এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এ থেকে বোঝা যায় আপনাদের নিরপেক্ষ বিচারের সাহস নেই। টবি ক্যাডম্যান নামে একজন বৃটিশ আইনজীবী আজকের এ সমাবেশে  যোগ দিতে চেয়েছিল। কিন্তু তাকে বিমান বন্দরে আটকে দেয়া হয়েছে। এ থেকেও বোঝা যায় আপনারা নিরপেক্ষ  এবং স্বচ্ছ নন।  গোটা জাতি এবং বিশ্ব বুঝে গেছে এ বিচার  হচ্ছে রাজনৈতিক কারণে বিরোধী দল দমনের জন্য।  ইকোনমিস্টের সর্বশেষ প্রতিবেদনেও সে কথা বলা আছে।

ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, অভিযোগকারী কখনো বিচাররে আসনে বসতে পারেননা। যিনি একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেণ তিনি কি করে তার বিচার করবেন? এ বিচার  তো ন্যায় বিচার হতে পারেনা।
খনদকার মাহবুব হোসেন বলেন,  ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসীদের ধ্বংস করার জন্য এ বিচার চলছে। বিচারের নামে কেউ কেউ  এদেরকে ফাঁসিতে ঝোলানোরও স্বপ্ন দেখছে। তিনি বলেন, আগে আসল  যুদ্ধাপরাধী ১৯৫ জন পাকিস্তানী সেনা কর্মকর্তার বিচার করুন তারপর দেশীয়দের বিচারের কথা চিন্তা করা যাবে।

মাহবুব হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ আজকের এই  সেমিনার সম্পর্কে বলবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাঁধাগ্রস্ত করার জন্য এ সমাবেশ করা হয়েছে। কিন্তু এখন আর সে সুযোগ নেই। কারণ ট্রইব্যুনালের


চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম গণতদন্ত কমিশনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন  এবং  তা সবাই জেনে  গেছে।

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, জামায়াত  এবং বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ এদেশীয় লোকজন যখন যুদ্ধাপরাধের বিচারকে রাজনৈতিক বিচার হিসেবে আখ্যায়িত করে আসছে তখন  সরকার বলেছে আমরা যুদ্ধাপরাধ বিচারকে বানচাল করার জন্য এসব নাকি বলছি।  কিন্তু এ বিচার যে সত্যিই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষকে  দমন করার জন্য করা হচ্ছে তার  পক্ষে শক্ত প্রমান রয়েছে। আজ সমস্ত আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায় থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে এ বিচার রাজনৈতিক। ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা উদ্দেশ্য নয়। গত ২১ জুন এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এখন পর্যন্ত যে সাত জনকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে গ্রেফতার করা হয়েছে তার মধ্যে ৫ জনই জামায়াতে ইসলামীর নেতা এবঙ দুজন বিএনপির নেতা। এতে  এ ধারণার জন্ম নিচ্ছে যে,  শুধুমাত্র বিরোধী নেতাদের টার্গেট করার জন্যই এ বিচারের আয়োজন চলছে।

লন্ডন থেকে প্রকাশিত বিশ্বখ্যাত সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন ‘দি  ইকোনমিস্ট’ এর   চলতি সংখ্যার  প্রতিবেদনে বলা হয়েছে “ন্যায় বিচার  প্রতিষ্ঠা নয় বরং বিরোধী ইসলামিক রাজনৈতিক দল  জামায়াতে ইসলামীকে ধ্বংস করার জন্যই ট্রাইব্যুনালকে ব্যবহার করা হচ্ছে। ”

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আপনাদের সাহস থাকলে ট্রাইব্যুনালে  বিদেশী  বিচারপতি, আইনজীবী এবং তদন্তকারী নিয়োগ দেন। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি আপনাদের সে সাহস নেই। কারণ আপনারা মিথ্যার ওপর বিচার করছেন।

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক আবারো চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, সাহস থাকলে সংবিধানের প্রথম সংশোধনী বাতিল করুণ। কিন্তু আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি আপনারা তা করতে পারবেননা।  বিচাররে সিআরপিসি  প্রয়োগ না করার কারনে তিনি  একে আনসিভিলাইজড হিসেবে উল্লেখ করেণ।

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, যেখানেই এ জাতীয় বিচার হয় সেখানেই আগে থেকেই অপরাধীদের তালিকা করা থাকে। কিন্তু আজ ৪০ বছর পরও নতুন করে লোকজনকে তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে। এক বছর   আটক রাখার পরও  তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ  দায়ের করতে পারেনা। অথচ ৪০ বছর আগে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক একটি উদাহরণ টেনে  ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন,  সম্প্রতি   আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এ জাতীয় অভিযোগে একজনকে গ্রেফতারের একদিন পরেই চার্জশিট প্রদান করা  হয়।

সাদেক খান  ইকনোমিস্ট এর  প্রতিবেদন তুলে ধরে বলেন এ বিচার করা হচ্ছে জামায়তে ধংস করার জন্য। আজ দেশে যা কিছুই করা হচ্ছে তার মূল   উদ্দেশ্য হল দেশকে অকার্যকর করা।

এ্যাডভোকেট জয়নুল  আবেদিন বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের   ঘাতক দালাল এবং গণ তদন্ত  কমিশনের সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে বলেন, আপনারা এ পদ গ্রহণ করা উচিত হয়নি। আপনি পদত্যাগ করে আবার হাইকোর্টে ফিরে আসুন।

তিনি বলেন, যারা আইনের শাসনে বিশ্বাস করেনা  তিনি এখন আইনমন্ত্রী। তারা গোলাম আযমনে ফাঁসির রায় দিয়েছিলেন। তিনি এখন   ঘাতক দালালের নিজামুল হক নাসিমকে বানিয়েছেন ট্রাইব্যুানলের চেয়ারম্যান যাতে গোলাম আযম ছাড়া বাকী যারা ছিলেন তাদেরও ফাঁিসর ব্যবস্থা করতে পারেন।

ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল বলেন, হাইকোর্টের বিচারপতি শুধু হাইকোর্টের বিচার করবেন। এটি সংবিধানে বলা আছে। কিন্তু হাইকোর্টের বিচারপতিকে করা হয়েছে   ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান। আবার নিজামুল হক নাসিম  এটিএম ফজলে কবিরের চেয়ে ২৯ জন পরে ছিলেন সিরিয়ালের দিক দিয়ে কিন্তু। কিন্তু তার অধীনে এখন  জুনিয়র হিসেবে কাজ করছেন ফজলে কবির। তিনি বলেন এ ট্রাইব্যুনাল গুয়ানতানামো কারাগারের চেয়েও খারাপ।

সানাউল হক বলেন, আন্তর্জাতিক  আদালতের “আও” নেই এখানে। বিচারের নামে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করাই এর আসল কাজ।

সাঈদীর বিচার শুরু : বিচারপতি নিজামুল হকের ট্রাইব্যুনালে থাকার ব্যাখ্যা বুধবার

20-11-11
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপুর সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে এ বিচার  শুরু হলো ট্রাইব্যুনালে।
মাওলানা সাঈদীর আইনজীবীদের দায়ের করা দুটি আবেদনের শুনানীর মাধ্যমে আজ সকালে আদালতের  কার্যক্রম  শুরু হয়। প্রথম আবেদনটি ছিল ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম কোন বিবেচনায় পুনরায় আদালতে বসেছেন তার ব্যাখ্যা দাবি সংক্রান্ত। দ্বিতীয়টি ছিল মামলার কাগজপত্র  এবং স্বাক্ষীদের প্রস্তুতির জন্য তিন মাস সময় চেয়ে বিচার শুরু করার বিষয়ে।
প্রথম আবেদন  শুনানী শেষে  ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক আগামী ২৩ নভেম্বর তার (বিচারপতি নিজামুল হক) আদালতে বসা বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের দিন ধার্য করেন।  দ্বিতীয় আবেদনের প্রেক্ষিতে আগামী ৭ ডিসেম্বর তিনি অভিযুক্ত পক্ষের স্বাক্ষীদের তালিকা আদালতে উপস্থাপনের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি আদালত আগামী ৭ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রণের দিন ধার্য করেছেন।
এরপর তিনি রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের নির্দেশ দেন মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে  অভিযোগ বিষয়ে যুক্তি উপস্থাপনের।  চিফ প্রসিকিউটর বেলা ২ টায় সূচনা বক্তব্য শুরু করেন।
ট্রাইব্যুনালের চেয়রম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটরদের সূচনা বক্তব্য রাখার নির্দেশ দেয়ায় তার বিরুদ্ধে আপত্তি জানান মাওলানা সাঈদীর প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানে বিরুদ্ধে উত্থাপিত আবেদনের শুনানী নিষ্পত্তি না করে বিচার শুরু করা উচিত নয়। এটা বেমানান। তিনি বলেন, সূচনা বক্তব্য রাখা মানে বিচার শুরু হয়ে যাওয়া। আগামী বুধবার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আবেদনের নিষ্পত্তির যে তারিখ ধার্য করা হয়েছে তার পরে এ বিচার শুরু করার জন্য প্রার্থনা করেন।
সকালে  ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের পদে বহাল থাকার বিষয়ে দায়ের করা আবেদনের শুনানিতে অংশ নেন সুপ্রিম কোর্টের নিসিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার  মওদুদ আহমেদ, সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক এবং অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম। এসময় ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটরদের সাথে  অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম  শুনানীতে অংশ নেন।
ব্যারিস্টার মওদুদ  আহমেদ  শুনানীতে বলেন, এ বিচার একটি রাজনৈতিক রূপ লাভ করেছে।  বিরোধীদল দমনের জন্য ট্রাইব্যুনালকে ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে যাদের বিচার কার্যক্রম চলছে তাদেরকে ১৯৯৩ সালে গঠিত  গণতদন্ত কমিশন যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত করেছিল। সেটি ছিল একটি রাজনৈতিক উদ্যোগ।  সেই উদ্যোগের সাথে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক জড়তি ছিলেন। এই রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অতীতে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানের একটি রাজনৈতিক ভূমিকা ছিল। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান হিসেবে বিচারকাজ চালিয়ে যান তাহলে এর রাজনৈতিককরণ আরো স্পষ্ট হবে। সেজন্য আপনি ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান  পদে থাকলে  পদটি আরো  বিতর্কিত হবে এবং আপনি নিজেও বিতর্কিত হবেন। নিরপক্ষে এবং স্বচ্ছ বিচার নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই থাকেব ক্রমাগত।
পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বিচারপতি নিজামুল হক যদি বলেন যে, তিনি গণতদন্ত কমিশনের সাথে জড়িত ছিলেননা তাহলে সেটি ভিন্ন বিষয়।
ব্যারিষ্টার মওদুদ বলেন, বিচারপতি নিজামুল হক  লিখিত আকারে বলুক তিনি কি করনে এখনো ট্রাইব্যুনালে আছেন। তিনি যদি ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান হিসেবে কার্যক্রম চালিয়ে যান তাহলে সেটা হবে অসদারচনের শামিল। সুপ্রীম কোর্টের মর্যাদা, সুপ্রীম কোর্টের একজন বিচারপতির মর্যাদার স্বার্থে তার এ পদ থেকে সরে দাড়ানো উচিত। তিনি  বলেন, যেহেতু সরকার তাকে নিয়োগ দিয়েছে তাই সরকার প্রধান বিচারপতিকে পরামর্শ দিতে পারে তাকে সরিয়ে দেয়ার জন্য।
অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুনানীতে অংশ নিয়ে  বলেন, এ ধরনের আবেদনের কথা আমরা কখনো শুনিনি। কোন অভিযুক্ত ব্যক্তি এভাবে ব্যাখ্যা চাইতে পারেননা। এটি আদালত অবমাননার শামিল। একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি বিচারপতিকে বলতে পারেননা যে আপনি কেন আদালতে বসছেন  তার ব্যাখ্যা দিতে হবে।  বিচার কার্যক্রমকে বাঁধাগ্রস্ত করা এবং বিলম্বিত করার জন্যই এ ধরনের আবেদন করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল  হকের বিরুদ্ধে  ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির গণতদন্ত কমিশনের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে এ পদ থেকে সরে দাড়ানোর দাবি জানিয়ে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে  ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক গত ২৭ অক্টোবর একটি আবেদন  দায়ের করেন। গত ১৪ নভেম্বর এ বিষয়ে শুনানী শেষে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয় এবং  বিচারপতি নিজামুল হকের সরে দাড়ানোর বিষয়টি তার সুবিবেচনার ওপর ছেড়ে দেন ট্রাইব্যুনালের অপর  দুই বিচারপতি এ. টি. এম. ফজলে কবির এবং এ. কে. এম. জহির আহমদ। গত ১৬  নভেম্বর আবার আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে দুই দিন অনুপস্থিতির পর  আদালতে বসেন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক। তখন মাওলানা সাঈদীর আইনজীবীদের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয় বিচারপতি নিজামুল হক কোন বিবেচনায় আবার আদালতে বসেছেন সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে। পাশপাশি এ  বিষয়ে ব্যাখ্যা না দেয়া পর্যন্ত  ঐদিনের নির্ধারিত শুনানী মুলতবীর আবেদন জানানো হয়। কিন্তু সে আবেদন প্রত্যাখ্যান হওয়ায় ঐদিন মাওলানা সাঈদীর আইনজীবীরা আদালত থেকে বেরিয়ে আসেন। বিচারপতি নিজামুল হক কোন বিবেচনায় আদালতে বসেছেন সে বিষয়ে আবেদনের শুনানীর গতকাল ২০ নভেম্বর ধার্য ছিল। 
এবিষয়ে শুনানীতে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক ভারত পাকিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, বিচারপতি নিজামুল হকের এ পদ থেকে সরে দাড়ানো উচিত। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান কিভাবে তার সুবিবেচনা প্রয়োগ করেছেন, কোন বিবেচনায় এখনো তিনি আদালতে বসা অব্যাহত রেখেছেন, তিনি যে পক্ষপাতদুষ্ট নন এবং কিভাবে তিনি এ  বিচারে নিরপেক্ষতা বজায় রাখবেন  সে বিষয়ে আমরা ব্যাখ্যা চান তিনি।
শুনানী  শেষে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের বলেন, যেখানে চেয়ারম্যানের থাকা বা না থাকার বিষয়টি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি সেখানে  সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে মাওলানা সাঈদীর  বিচার শুরু করা ঠিক হবেনা। অ্যাটর্নি জেনারেলের আদালত অবমানার অভিযোগ সম্পর্কে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমরা অনেকগুলো অভিযোগ করেছি, তার পক্ষে অনেক উদাহরণ পেশ করেছি। তার একটিও তো তিনি খন্ডাতে পারেননি। আদালত অবমাননার একটি উদাহরণও তিনি দিতে পারেননি। তার বক্তব্য রাজনৈতিক। আদালত অবমাননার বিষয়টি দেখবেন আদালত।
শুনানীতে অংশ নিয়ে অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, একজন বিচারপতি তার নিজের মামলার বিচার নিজেই করতে পারেন না। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতি আমাদের কাছে গৌরবের। যেহেতু আপনি সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতি, আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠেছে পক্ষপাতিত্ব নিয়ে এবং তার পক্ষে প্রমাণও হাজির করা হয়েছে তাই সুপ্রিম কোর্টের মর্যদা রক্ষায় আপনার সরে দাঁড়ানো উচিত।
মাওলানা  সাঈদীর অপর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম আবেদন পেশের যৌক্তিকতা উপস্থাপন করে বলেন, ১৪ তারিখের আদেশে তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়নি। বিষয়টি আপনার (বিচারপতি নিজামুল হক) সুবিবেচনার ওপর ছেড়ে দেয়া হয়। তাই তিনি ট্রাইব্যুনারের চেয়ারম্যানের কাছে ব্যাখ্যা দাবী করেন তার আদালতে বসার অব্যাহত রাখার বিষয়ে।
বিচারপতি নিজামুল হক, বিচারপতি এ.টি.এম ফজলে কবীর ও বিচারপতি এ.কে.এম. জহির আহমেদ সমন্বয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল উভয় পক্ষের শুনানি গ্রহণ করেন।
দুপুরের বিরতির পর রাষ্ট্রপক্ষে চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপুর প্রারম্ভিক বক্তব্যের (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হয় মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর। ৮৮ পৃষ্ঠার স্টেটমেন্টের মধ্যে গতকাল বিকেল ৪ টা পর্যন্ত ৬১ পৃষ্ঠা পাঠ করা হয়েছে। আজ সোমবার যথারীরীতি বাকী অংশ পাঠ করা হবে। এই স্টেটমেন্ট সাঈদীর বিরুদ্ধে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়বস্তু উল্লেখ করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে ৮৮ পৃষ্ঠার ওপেনিং স্টেটমেন্টের ওপর চীফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু, প্রসিকিউটর সৈয়দ রেজাউর রহমান বক্তব্য রাখেন। তারা তাদের বক্তব্যে মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুট, হিন্দুদের জোর করে ধর্মান্তরিত করা, দেশত্যাগে বাধ্য করা, হিন্দু মহিলাদের পাক বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া, পাকিস্তান ক্যাম্প স্থাপনে সহায়তা করা, ধর্ষণে সহায়তা করা সহ মানবতা বিরোধী অপরাধের তথ্য তুলে ধরেন।  তারা বলেন, এবিচার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা ব্যক্তিগত অভিলাষের জন্য জন্য নয় গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। মাওলনা সাঈদীর বিরুদ্ধে একাত্তরে মানবতা বিরোধী অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা ফরমাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত ১৪ জুলাই। গত ৩ অক্টোবর সাঈদীর বিরুদ্ধে ২০ টি অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে দায়ের করা এক মামলায় মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে গত বছর গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাকে একাত্তরে যুদ্ধাপরাধ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে আদালতে আরো উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার, ব্যারিষ্টার ফকরুল ইসলাম, ব্যারিষ্টার মুন্সী আহন কবীর, অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন খান, ব্যারিষ্টার তানভীর আহমেদ আল আমীন, ব্যারিষ্টার ইমরান এ সিদ্দিক, ব্যারিষ্টার এহসান এ সিদ্দিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।   
অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নী জেনারেল ছাড়াও চীফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু, প্রসিকিউটর সৈয়দ রেজাউর রহমান, সৈয়দ হায়দার আলী, রানা দাশগুপ্ত, জিয়াদ আল মালুম, মোহাম্মদ আলীসহ অপরাপর প্রসিকিউটরগণ উপস্থিত ছিলেন।

বিচারপতি নিজামুল হককে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি তাঁর বিবেকের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল

 ১৪/১১/১১
বিচারপতি নিজামুল হককে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাড়ানোর আবেদনের বিষয়টি তাঁর বিবেকের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন আদালত। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই বিচারপতির এব্যাপারে আদেশ দেয়ার আইনগত এখতিয়ার নেই বলে তাঁরা উল্লেখ করেন। তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালের একজন বিচারপতির বিরুদ্ধে অপর দুই বিচারপতি এবিষয়ে মন্তব্য বা আদেশ দিতে পারেন না। তাই বিষয়টি তার (বিচারপতি নিজামুল হক) বিবেকের ওপর নির্ভর করে। 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দুই সদস্য বিচারপতি এ. টি.এম ফজলে কবীর ও বিচারপতি এ. কে. এম. জহির আহমেদ আজ এ আদেশ প্রদান করেন। আদেশে বলা হয়, এর মাধ্যমে বিচারপতি নিজামুল হক-এর প্রত্যাহার সংক্রান্ত আবেদন নিষ্পত্তি করা হলো।

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হককে প্রত্যাহারের জন্য জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী গত ২৭ অক্টোবর এ আবেদনটি দায়ের করেন। গত রোববার উভয় পক্ষের শুনানী গ্রহণ শেষে ট্রাইব্যুনাল গতকাল সোমবার আদেশ প্রদানের দিন ধার্য করেন।
আদেশের পর মাওলনা সাঈদীর পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার  আব্দুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের বলেন, আদালত আমাদের আবেদন খারিজ করেননি। তারা বিষয়টি বিচারপতি নিজামুল হকের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। আমরাও বিষয়টি তার ওপর ছেড়ে দিয়েছি। অন্যান্য আইনজীবীরাও দাবি জানিয়েছেন তার নিজ থেকেই সরে যাওয়া উচিত। গোটা জাতি এখন অপেক্ষা করছে তিনি কি সিদ্ধান্ত নেন তা দেখার জন্য।
তিনি বলেন, তাঁকে সরে দাড়ানের আবেদনের শুনানীতে আমরা যেসব যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছি আদালত আদেশে তা খন্ডন করেননি। তার মানে আমাদের যুক্তি গৃহীত হয়েছে এবং রয়ে গেছে। আইনজীবীরাও বলেছেন, তাঁর নিজ থেকে সরে দাড়ানো উচিত। আমাদের দাবি তিনি অবিলম্বে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন। যত দ্রুত তিনি সরে দাঁড়াবেন ততই তা নিজের জন্য এবং ট্রাইব্যুনালের জন্য মঙ্গলজনক। জাতি অধীর আগ্রহে অপেক্ষ করছেন তিনি ট্রাইব্যুনাল থেকে কবে চলে যাবেন। বিচারপতি নিজামুল হক যদি পদত্যাগ না করেণ তাহলে কি পদক্ষেপ নেয়া হবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমাদের সামনে এখনো একটি পথ খোলা আছে। আমরা সুপ্রীম জুড়িশিয়াল কাউন্সিলের  কথা চিন্তা করব।
তিনি বলেন, বিচারপতি নিজামুল হক ট্রাইব্যুনালে বিচারকার্য পরিচালনা করলে আমরা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হবো।  অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, এই আদেশের ফলে ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি হিসাবে নিজামুল হক থাকতে পারবেন। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের অপর দুই বিচারপতি তাঁদের এখতিয়ার নেই উল্লেখ করে সাঈদীর আবেদনটি নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন।

সাঈদীর আইনজীবীদের এজলাস ত্যাগ // ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যানকে অবিলম্বে// সরে দাড়ানোর দাবি সুপ্রিমকোর্ট বারের

 ১৬/১১/১১
মাওলানা দেলাওয়ার  হোসাইন সাঈদীর আইনজীবীরা  ট্রাইব্যুনাল থেকে ওয়াক আউট করেছেন। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক কোন বিবেচনায় আাদালতে বসেছেন তার ব্যাখ্যা না দেয়া পর্যন্ত আজ শুনানির জন্য নির্ধারিত বিষয়বস্তু মুলতবী রাখার আবেদন করেন মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম। কিন্তু মুলতবীর আবেদন গ্রহণ না করায় উপস্থিত সাঈদীর আইনজীবীরা একযোগে এজলাস থেকে বের হয়ে আসেন।

এদিকে মাওলনা সাঈদীর আইনজীবীরা আদালত কক্ষ ত্যাগ করার পর  সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশন
দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান  বিচারপতি নিজামুল হককে অবিলম্বে তার পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছে।
আজ   মাওলানা সাঈদীর  চার্জসীটের ওপর রিভিউ পিটিশনের শুনানী নির্ধারিত ছিল।  কিন্তু  সকাল ১০ টা ৪০ মিনিটে আদালতের কার্যক্রম শুরুর সাথে সাথে মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী তাজুল ইসলাম
২ টি আবেদন দাখিল করেন। প্রথম আবেদনে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক কোন বিবেচনায় পুনরায় আদালতে বসেছেন সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।  এবং অপরটি গতকালের নির্ধারিত রিভিউ পিটিশনের শুনানী মুলতবীর আবেদন জানান। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা না দেয়া পর্যন্ত নির্ধারিত রিভিউ পিটিশনের শুনানী মুলতবী রাখার প্রার্থনা করেন।

আদালত তখন বলেন,  বিষয়টি আপনারা গতকাল  উপস্থাপন করেননি। আজকে মাত্র করেছেন। আমরা আমরা আবেদনটি পাইনি। এ আবেদনে কী আছে আদালত তা অবহিত নয়। এ অবস্তায় আমরা কিভাবে ওই আবেদনের শুনানী করতে পারি। তখন তাজুল ইমলাম বলেন, ১৪ তারিখের আদেশে বিষয়টি আপনার সুভ বিবেচনার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আজকে পর্যন্ত আমাদের আশা ছিল আপনি আদালতে বসবেননা। যেহেতু বসছেন তাই শেষ মুহূর্তে আমরা এই আবেদন দাখিল করেছি। গতকাল দাখিল করলে ওই আবেদনের পূর্ণতা পেতো না।  কারণ আমরা জানতাম না আপনি আজকে আদালতে বসবেন। এপর্যায়ে আদালত তাজুলের উদ্দেশ্যে বলেন, আজকের নির্ধারিত রিভিউ পিটিশনের ওপর শুনানী করেন। ওই আবেদনের শুনানী হবে ২০ নভেম্বর। 
অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আবেদন করার সময়  রাষ্ট্রপক্ষের  আইনজীবী সৈয়দ হাযদার আলী অভিযোগ করেন বিচারকাজকে বিলম্বিত করার জন্যই মুলতবী আবেদন দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ১৪ নভেম্বর নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। তাই মুলতবী আবেদনের শুনানীর প্রশ্নই আসে না।
তখন উভয় পক্ষের  আইনজীবীদের মধ্যে  বিতর্ক শুরু হয়। এ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, ন্যায় বিচারের স্বার্থে আমরা কোন আবেদন করলেই রাষ্ট্র পক্ষের  প্রসিকিউটরদের পক্ষ থেকে বিচার কাজে বাঁধাদানের অভিযোগ করা হয়। তাজুল ইসলাম  আদালতকে বলেন, আপনার বিরুদ্ধে  অভিযোগ আনা হয়েছে, আপনি অতীতে  ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির  গণতদন্ত কমিশনের সাথে জড়িত ছিলেন। বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়ার আগে কেন আদালতে বসেছেন ? নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আদালতে বসতে পারেন না। আপনি এখানে তাকলে আপনার নিজের জন্য যেমন বিব্রতকর; তেমনি আমাদের জন্যও বিব্রতকর।
তাজুল ইসলামের মুলতবী আবেদন প্রত্যাখ্যান করে আবারো আদালত দিনের  নির্ধারিত বিষয়ে শুনানীর জন্য নির্দেশ দেন। তখন তাজুল ইসলাম অন্যান্য আইনজীবীদের নিয়ে আদালত কক্ষ থেকে বের হয়ে আসেন। মাওলানা সাঈদীর আইনজীবীরা আদালত থেকে একযোগে বেরিয়ে  যাবার পর আদালত মাওলানা সাঈদীল চার্জসীটের  রিভিউ পিটিশনটিও আদালতে উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেন।
আদালত থেকে বেরিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, গত ১৪ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালের দুই বিচারপতি এ.টি.এম. ফজলে কবির এবং এ. কে. এম জহির আহমেদ আদেশ দেন যে, টুাইব্যুনালের চেয়ারম্যানকে  অপসারন বিষয়ে রায় দেয়ার আইনগত এখতিয়ার তাদের  নেই। বিষয়টি তারা সংশ্লিষ্ট বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের সুবিবেবচনার ওপর  ছেড়ে দেন।
মাওলানা সাঈদীর পক্ষের আইনজীবী তাজুল ইসলাম বলেন, যেহেতু  আদালতের রায়ে বিচারপতি নিজামুল হকের বিবেকের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন সে বিষয়ে আমরা ব্যাখ্যা চাচ্ছি কোন বিবেচনায় তিনি  আবার আদালতে বসেছেন। এর ব্যাখ্যা না পাওয়া পর্যন্ত আমরা আজকের রিভিউ পিটিশন মুলতবীর আবেদন জানিয়েছিলাম।  কিন্তু তা গ্রহণ না করায় আমরা বেরিয়ে এসেছি।
পরে রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর জিয়াদ আল মালুম সাংবাদিকদের বলেন, অনুমতি না নিয়ে আদালত থেকে ওয়াক আউট করায় সাঈদীর আইনজীবীরা ট্রাইব্যুনালের নিয়ম সুপ্রিম কোর্টের বিধিবিধান লঙ্ঘন করেছেন। এর মাধ্যমে আদালতের মান মর্যদা ুন্ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, একটি নিষ্পত্তি হওয়া বিষয়কে টেনে এনে ট্রাইব্যুনালের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছেন তারা। আদালত বা এজলাসের অনুমতি না নিয়ে কোন আইনজীবীর আদালত থেকে ওয়াক আউট করার কোন বিধান নেই। তিনি বলেন, এটা সংসদ নয়, আদালত। আদালত ত্যাগ করার আগে অনুমতি নিতে হয়। তাজুল ইসলাম সহ সাঈদীর আইনজীবীরা এর মাধ্য আদালতের মান মর্যাদাকে ুন্ন করেছেন। ডিফেন্স কাইন্সিলের আচার আচরণ অগ্রহণযোগ্য ও অসৌজন্য। তাই তাজুল ইসলাম এর মাধ্যমে আদালত অবমাননা করেছেন। তার বিরুদ্ধে আলাপ আলোচনা করে প্রসিকিউশনের পক্ষ তেকে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলেও তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান।

নিজামুল হককে অবিলম্বে সরে দাঁড়ানোর
দাবি সুপ্রীম কোর্ট বারের


সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে অবিলম্বে চেয়ারম্যানের পদ থেকে বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের পদত্যাগ দাবি জানানো হয়।  মাওলনা সাঈদীর আইনজীবীরা ট্রাইব্যুনাল কক্ষ ত্যাগ করার পর   আজ দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান  বিচারপতি নিজামুল হককে সরে দাঁড়ানোর এ দাবি জানিয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে বারের সভাপতি সিনিয়র অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিঞা, ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন, সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ব্যরিষ্টার বদরুদ্দোজা বাদল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা, সুপ্রীম কোট এবং বিচারপতিদের মর্যদা ও স্বাধীনতার স্বার্থে তাকে অবিলম্বে সরে দাড়ানোর আহবান জানান সিনিয়র আইনজীবীবৃন্দ।
ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার এসময় সাংবাদিকদের বলেন, ১৪ তারিখের আদেশের পর বিচারপতি নিজামুল হকের আবার আদালতে বসা সুবিবেচনার কাজ হয়নি। এটা সুপ্রিম কোর্টের  জন্য মর্যাদাহানিকর বিষয়।
ব্রিফিংয়ে  লিখিত  বক্তব্যে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ১৪ তারিখের আদালতের আদেশের পর সকল আইনজীবীরা আশা করেছিল বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম সুবিচেবনার পরিচয় দিয়ে সরে দড়াবেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। আজকে আমরা তাকে আদালতে  বসতে দেখে বিস্মিত হয়েছি।
আব্দুর রাজ্জাক বলেন,  বিচারপতি নিজামুল হক ঘাতক দালাল নিমুল কমিটি গঠিত গণতদন্ত কমিশনের সেক্রেটারিয়েটের  একজন সদস্য ছিলেন। বিএনপি  এবং জামায়াতের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে  যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে  তদন্তের  জন্য ১৯৯৩ সালে ঐ  কমিশন গঠন করা হয়। মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ বর্তমানে আটক বিএনপির ২ জন  এবং জামায়াতের সাবেক পাঁচ নেতাকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত করে তদন্ত কমিশন রিপোর্ট জমা দেয়।
আমরা গত ২৭ অক্টোবর বিচারপতি নিজামুল হকের বিরুদ্ধে গণতদন্ত কমিশনের সাথে জড়িত থাকার  অভিযোগ এনে তাকে চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর আবেদন জমা দেই। বাংলাদেশের সংবিধান, বিচারপতিদের আচরণ বিধি,  সুপ্রীম কোর্ট বিচারপতিদের শপথ,  ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টসহ বিভিন্ন চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ বিচারের লক্ষ্যে প্রণীত আইনের ৬ ধারা  এবং সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষনার আলোকে আমরা এ  আবেদন করেছি। গত ১৩ নভেম্বর এ বিষয়ে শুনানী অনুষ্ঠিত হয়।  বিচারপতি নিজামুল হকের গণতদন্ত কমিশনের সাথে  সংশ্লিষ্টতা  এবং তার মাধ্যমে যে নিরপেক্ষ বিচার সম্ভব নয় সে বিষয়ে যুক্তিতর্ক  এবং  বিশ্বের দুটি উদাহরণ পেশ করা হয়েছে।  ১৩ তারিখ শুনানী শেষে ১৪ তারিখ এ বিষয়ে আদালত  বলেন,  তাদের পক্ষে   বিচারপতি নিজামুলক হককে সরে দাড়ানো বিষয়ে  রায় দেয়ার কোন আইনগত এখতিয়ার নেই। বিষয়টি  ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের  সুবিবেচনার ওপর ছেড়ে দিয়েছেন তারা। এখন কোন বিবেচনায় তিনি আবার আদালতে বসলেন সে বিষয়ে আমরা ব্যাখ্যা চাই তার কাছ থেকে। কারণ ১৪ তারিখের আদেশে আদালত আমাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেননি। ১৩ তারিখের শুনানীতে যেসব যুক্তি এবং উদাহরণ উপস্থাপন করা হয়েছে তার একটিও  আদালত অস্বীকার করেনি রায়ে। তিনি যে গণতদন্ত কমিশনের সাথে জড়িত ছিলেননা তাও বলেনি আদালত। আমাদের সব অভিযোগ এবং যুক্তি আদালতে গৃহীত হয়েছে। এরপর আমরা আমরা আশা করেছিলাম তিনি নিজ থেকে সরে  দাঁড়াবেন।
ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমরা  আজ এখনই তাকে চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাড়ানোর অনুরোধ করছি। তানাহলে বিচার ব্যবস্থায় দু:খজনক ঘটনার অবতারণা ঘটতে পারে।
এসময় উপস্থিত সাংবাদিকরা জানতে চান তার এ বক্তব্য সুপ্রীম কোর্ট বারের পক্ষ থেকে কিনা।  এসময় বার সভাপতিসহ উপস্থিত অন্যান্যরা জানান, সুপ্রীম কোর্টের মর্যাদা, দেশের বিচার বিভাগের মর্যাদা  এবং স্বাধীনতা রক্ষায় বারের পক্ষ থেকে এ ঘোষনা দেয়া হচ্ছে  এবং বিচারপতি নিজামুল হককে অবিলম্বে তার পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য দাবি জানানো যাচ্ছে।
দু:খজনক ঘটনার অবতারনা বলতে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক কি বুঝিয়েছেন সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে  বার সভাপতি  খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, সুপ্রীম জুড়িশিয়াল কাউন্সিলে আমাদের যেতে হতে পারে। সেটাই বোঝাতে চেয়েছেন তিনি।
ব্যারিষ্টার আব্দুর রাজ্জাকের কাছে জানতে চাওয়া হয় আপনারা আগামী রোববার আদালতে যাবেন কিনা ? জবাবে তিনি বলেন, ওইদিন আমাদের আইনজীবীরা আদালতে যাবেন।