গোলাম আযম : আর্গুমেন্ট লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
গোলাম আযম : আর্গুমেন্ট লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ২৬ নভেম্বর, ২০১৩

গোলাম আযমের মামলায় আসামী পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ// ৪০ বছর আগের পেপারকাটিং ছাড়া কোন প্রমান হাজির করতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ-আসামী পক্ষের দাবি


মেহেদী হাসান, ১৫/৪/২০১৩, সোমবার
জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় আসামী পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন আজ শেষ হয়েছে। আগামী বুধবার ১৭ এপ্রিল এক দিনের জন্য  রাষ্ট্রপক্ষকে আসামী পক্ষের যুক্তির জবাব প্রদানের জন্য নির্ধারন করা হয়েছে। ওই দিন রাষ্ট্রপক্ষ জবাব প্রদান শেষ করলে মামলার বিচার কার্যক্রম শেষ হয়ে যাবে। নিয়ম অনুযায়ী মামলার বিচার কার্যক্রম শেষ হলে রায়ের তারিখ ঘোষনা করা হয়। তাই ১৭ এপ্রিল অধ্যাপক গোলাম আযমের মামলার রায়ের তারিখ ঘোষনা হতে পারে।

রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জানানো হয়েছে তারা চেষ্টা করবে বুধবার জবাব প্রদান শেষ করার জন্য। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি অধ্যাপক গোলাম আযমের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয়। চার মার্চ তাদের যুুক্তি উপস্থাপন শেষ হলে আসামী পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয়। আজ  আসামী পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হলে রাষ্ট্রপক্ষকে তার জবাব প্রদানের জন্য একদিন সময় বরাদ্দ করা হয়েছে।

আসামী পক্ষে শেষ দিনের মত যুক্তি উপস্থাপন করেন ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক এবং ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিক। যুক্তি উপস্থাপন শেষ করে আসামী পক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের বলেন, অধ্যাপক গোলাম আযমের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তার পক্ষে কোন সাক্ষ্য প্রমান, দলিল হাজির করতে সম্পূর্ণরুপে ব্যর্থ হয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। তাই কোন উপায়েই তাকে শাস্তি দেয়া যাবেনা। তার আগে তিনি ট্রাইব্যুনালে যুক্তি উপস্থাপনের সময় বলেন, ৪০ বছর আগের কিছু পেপার কাটিং ছাড়া অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে কোন প্রমান  রাষ্ট্রপক্ষ হাজির করতে পারেনি। অপরাধের পক্ষে কোন সাক্ষীও আনা হয়নি। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী মাহবুব উদ্দিন বীর বিক্রম বলেছেন, “রাজাকার বাহিনীর সদস্যরা রাজাকার কমান্ডার বা আর্মি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হত।” গোলাম আযম কর্তৃক নয়। তার এই একটি কথাই তো পুরো মামলা শেষ করে দিয়েছে।

আসামী পক্ষের যুক্তির সারসংক্ষেপ :
অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ৫টি শিরোনামে ৬০ টি অভিযোগ আনা  হয়েছে। এছাড়া আলাদা আরোকটি অভিযোগ মিলিয়ে মোট অভিযোগের সংখ্যা ৬১টি। অধ্যাপক গোলাম আযমকে নির্দোষ দাবি করে আসামী পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে যে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে তার একটি সার সংক্ষেপ গতকাল ট্রাইব্যুনালে জমা দেয়া হয়েছে। এখানে তা থেকে অংশবিশেষ তুলে ধরা হল।


চার্জ নং – ১ ষড়যন্ত্র ( Conspiracy)
অধ্যাপক গোলাম আজমের বিরুদ্ধে “ষড়যন্ত্রের” ছ’টি অভিযোগ আনা হয়েছে। ডিফেন্স বা আসামী পক্ষ থেকে  যুক্তি দিয়ে বলা হয়-গনহত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রমান করতে হলে, রাষ্ট্রপক্ষকে আসামীর সাথে ইয়াহিয়া খান বা টিক্কা খানের গনহত্যার একটি চুক্তি হয়েছিল মর্মে সাক্ষ্য উপস্থাপন করতে হবে। তবে এমামলায় তেমন কোন সাক্ষ্য প্রমান রাষ্ট্রপক্ষ হাজির করতে পারেনি। কেবল মাত্র বলা হয়েছে যে গোলাম আযম টিক্কা খান এবং ইয়াহিয়া খানের সাথে বৈঠক করেছে। পাকিস্তান আর্মির কোন অফিসারের সাথে কেবলমাত্র বৈঠক করে গনহত্যার ষড়যন্ত্রে অভিযোগ প্রমানিত করা যায় না।

গোলাম আযমের সাথে টিক্কা খানের পত্রিকায় প্রকাশিত একটি ছবি দিয়ে গনহত্যার ষড়যন্ত্র প্রমান করা যায় না। ডিফেন্সের পক্ষ থেকে এও নিবেদন করা হয় যে রাষ্ট্রপক্ষকেই প্রমান করতে হবে অধ্যাপক গোলাম আজম বাঙালী জাতি বা হিন্দু গোষ্ঠী নিধন করার উদ্দেশ্য নিয়ে গণহত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন। তবে কোন জাতি বা গোষ্ঠী নিধনের অভিপ্রায় গোলাম আজমের ছিল মর্মে কোন সাক্ষ্যপ্রমান রাষ্ট্রপক্ষ হাজির করতে পারেনি।

চার্জ নং- ২ পরিকল্পনা (Planning)
অধ্যাপক গোলাম আজমের বিরুদ্ধে “গনহত্যা” বা “মানবতা বিরোধী অপরাধ” এর পরিকল্পনার তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
আসামী পক্ষ থেকে নিবেদন করা হয় যে, ১৯৭৩ সালের আইনের ৩(২) ধারায় “পরিকল্পনা” করা কোন অপরাধ হিসেবে সংগায়িত করা হয়নি। তবে আইনের ৪(২) ধারায় “উর্দ্ধতন কর্মকর্তা” বা “কমান্ডার ” এর পরিকল্পনার ক্ষেত্রে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সুযোগ রুয়েছে। এই মামলায় গোলাম আজমকে “উর্দ্ধতন কর্মকর্তা” বা “কমান্ডার” হিসাবে আখ্যায়িত করে কোন অভিযোগ আনা হয়নি, এমনকি এমন কোন অভিযোগ আনা সম্ভবও নয় কেননা তিনি বেসামরিক ব্যক্তি। তাই পরিকল্পনাকারী হিসেবে গোলাম আজমের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগের আইনগত ভিত্তি নেই।
ডিফেন্স আরো নিবেদন করে যে ১৯৭১ সালে গোলাম আজম আদৌ গনহত্যা বা মানবতা বিরোধী অপরাধের পরিকল্পনা করেছিল এমন কোন দালিলিক প্রমান বা সাক্ষ্য প্রমান রাষ্ট্রপক্ষ হাজির করতে পারে নাই। উপরন্তর রাষ্ট্রপক্ষ তার ফর্মাল চার্জ-এ অধ্যাপক গোলাম আজমের কথিত পরিকল্পনার ফলে ১৯৭১ সালে সংঘটিত একটি অপরাধের ও সুনির্দিষ্ট বর্ণনা দিতে পারেন নাই।

চার্জ নং – ৩ উস্কানি (Incitement) 
অধ্যাপক গোলাম আজমের বিরুদ্ধে উস্কানীর ২৮টি অভিযোগ আনা হয়েছে।
আসামী পক্ষ থেকে নিবেদন করা হয়, উস্কানীর অভিযোগ প্রমান করতে হলে রাষ্ট্রপক্ষকে জেনোসাইড (গণহত্যা)  কনভেনশনের অধীনে সংরক্ষিত চারটি গোষ্ঠীর কোন একটি  সদস্যের বিরুদ্ধে সেই গোষ্ঠীকে নিধনের উদ্দেশ্যে উস্কানীমূলক বক্তব্য প্রমান করতে হবে। কোন জাতি, ধর্ম বা বর্ণের ভিত্তিতে গঠিত কোন গোষ্ঠীকে নিধন করার উদ্দেশ্যে গোলাম আজম ১৯৭১ সালে কোন উস্কানীমূলক বক্তব্য দিয়েছেন এ মর্মে কোন সাক্ষ্যপ্রমান রাষ্ট্রপক্ষ হাজির করতে পারে নাই।

রাষ্ট্রপক্ষকে প্রমান করতে হবে যে, কেবলমাত্র বাঙালী বিধায় তাদের ধ্বংসের জন্য  বাঙালী জাতির কোন সদস্যের বিরুদ্ধে উস্কানীমূলক বক্তব্য দেয়া হয়েছে। বা শুধুমাত্র হিন্দু বিধায় হিন্দুধর্মাবলম্বী কোন সদস্যের বিরুদ্ধে বিষাদাগার করা হয়েছে। তবে ১৯৭১ সালে গোলাম আজমের কোন বক্তব্য বা বিবৃতিতে এমন অভিপ্রায় প্রমানিত হয় মর্মে সাক্ষ্যপ্রমান রাষ্ট্রপক্ষ হাজির করতে পারে নাই।
ডিফেন্স আরো নিবেদন করে যে, জেনোসাইড কনভেনশনের অধীনে সংরক্ষিত চারটি গোষ্ঠীর কোন একটি গোষ্ঠীর সদস্যের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে অধ্যাপক গোলাম আজম কোন উস্কানীমূলক বক্তব্য দিয়েছেন মর্মে কোন দালিলিক বা সাক্ষ্য প্রমান রাষ্ট্রপক্ষ হাজির করতে পারেনি। অতএব উস্কনীর ২৮টি অভিযোগের মধ্যে কোনটাই রাষ্ট্রপক্ষ প্রমান করতে পারেনি।

চার্জ নং- ৪ সম্পৃক্ততা (Complicity)
অধ্যাপক গোলাম আজমের বিরুদ্ধে “গনহত্যা” ও “মানবতা বিরোধী অপরাধের” সম্পৃক্ততার ২৩টি অভিযোগ আনা হয়েছে। ডিফেন্সের পক্ষ থেকে নিবেদন করা হয় যে, “সম্পৃক্ততা” প্রমান করতে হলে রাষ্ট্রপক্ষকে একটি সুনির্দিষ্ট অপরাধের বর্ণনা দিতে হবে যে অপরাধটি  আসামীর সহযোগীতার ফলশ্রুতিতে সংঘটিত হয়েছে। এক্ষেত্রে রুয়ান্ডা ট্রাইব্যুনালের “সেমানজা” মামলার উদ্ধৃতি দেয়া হয়। ডিফেন্স নিবেদন করে যে গোলাম আজম পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে বা এর   আক্সিলয়ারী ফোর্সকে সহযোগীতা করেছে বা এরুপ সহযোগীতার ফলশ্রুতিতে ১৯৭৩ সালের আইনের ৩(২) ধারায় কোন সুনির্দিষ্ট অপরাধ সংগটিত হয়েছে এ মর্মে কোন দালিলিক বা সাক্ষ্য প্রমান রাষ্ট্রপক্ষ হাজির করতে পারে নাই। উপরন্তু এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেরায় স্বীকার করেছেন যে, গোলাম আজমের বক্তৃতা/ বিবৃতি শুনে বা পাঠ করে বা উনার নির্দেশে ১৯৭১ সালে কোন অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল কিনা তা তিনি জানে না।

চার্জ নং-৫ সিরু মিয়া হত্যাকন্ড
রাষ্ট্রপক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে গোলাম আজম সিরু মিয়া ও তার সহযোগীদের হত্যার নির্দেশ সম্বলিত একটি চিঠি ব্রাহ্মনবাড়ীয়া পিস কমিটির সভাপতি পিয়ার মিয়াকে প্রেরণ করে যার ফলশ্রুতিতে তাদের সকলকে হত্যা করা হয়। তবে গোলাম আজমের জারীকৃত কথিত চিঠি রাষ্ট্রপক্ষ ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত করেত পারেনি।
সিরু মিয়ার স্ত্রী আনোয়ারা বেগম ট্রাইবব্যুনালে বলেন যে, তার বোনের স্বামী মহসিন আলী খান ১৯৭১ সালে আযমের ছেলেদের শিক্ষক ছিলেন এবং সেই সুবাদে তিনি সিরু মিয়াকে বাঁচানোর জন্য একটি চিঠি গেলাম আযমের নিকট সংগ্রহ করেন। উক্ত মহসিন আলী খান আদালতে হাজির হয়ে সাক্ষী দেন নাই। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে তার দেয়া বক্তব্য ১৯ (২) ধারা অনুযায়ী সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে- সেখানে তিনি বলেন যে ১৯৭১ সালে তিনি খিলগাঁও মডেল কলেজে শিক্ষকতা করতেন। তবে আনোয়ারা বেগম আদালতে দেয়া সাক্ষ্যে বলেন যে মহসীন আলী খান খিলগাঁও মডেল কলেজে স্বাধীনতার পর যোগদান করেন।
ডিফেন্স নিবেদন করেন যে, পেয়ারা মিয়ার কাছে সিরু মিয়ার হত্যার নির্দেশ সম্বলিত চিঠি আনোওয়ারা বেগম দেখেননি বলে স্বীকার করেছেন। জেরায় তিনি বলেন, তার ভাই সেই চিঠি দেখেছে। তবে তিনি (আনোওয়ারা বেগম) বা তার ভাই গোলাম আযমের হাতের লেখা বা স্বাক্ষরের সাথে পরিচিত নয় বলে স্বীকার করেন। এও বলেন যে কথিত চিঠি কাকে সম্বোধন  করে লেখা হয়েছে তা তিনি জানে না বা কীভাবে কথিত চিঠিতে পেয়ারা মিয়াকে প্রেরন করা হয়েয়ে তাও তিনি জানেন না। ডিফেন্সের পক্ষ থেকে নিবেদন করা হয়, কথিত চিঠি যাকে প্রেরন করা হয়েছে (সিরু মিয়া) সে মৃত, যার মাধ্যমে প্রেরিত হয়েছে এবং যাকে দেখানে হয়েছে (ফজলুর রহমান) সেও মৃত। এবং কথিত চিঠিটিরও কোন হদিস নেই। তাই সিরুমিয়া হত্যাকান্ড সংক্রান্ত অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে।

চার্জ নং-৬  উর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায় (কমান্ড রেসপনসিবিলিটি)
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ শীর্ষ স্থানীয় ব্যক্তি হিসেবে ১৯৭১ সালে শান্তি কমিটি, রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস কর্তৃক সংঘটিত সকল অপরাধের জন্য গোলাম আযম দায়ী। আসামী পক্ষের  নিবেদন হল যে, কমান্ড রেসপনসিবিলিটির দায় ১৯৭৩ সালের আইনে ৪(২) ধারা অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে। আইনের ৪(২) ধারা অনুযায়ী কেবলমাত্র “ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তা” বা “কমান্ডার” এর কামান্ড রেসপনসিবিলিটি থাকার সুযোগ রয়েছে। তবে ১৯৭১ সালে গোলাম আযম কোন বাহিনী বা সংগঠনের “ঊদ্ধতন কর্মকর্তা” বা “কমান্ডার” ছিলেন এই মর্মে কোন দালিলিক বা সাক্ষ্য প্রমাণ রাষ্ট্রপক্ষ হাজির করতে পারেনি। সুতরাং আইনের ৪(২) ধারা গোলাম আযমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

যুগোস্লাভিয়া ও রুয়ান্ডা ট্রাইব্যুনালের বিভিন্ন মামলার নজির পেশ করে এও বলা হয় যে কোন বাহিনী বা সংগঠনের কোন সদস্যের অপরাধের দায় আসামীর উপর কেবল তখনই বর্তাবে যখন প্রমাণিত হয় যে, আসামী সেই বাহিনী বা সংগঠনের সদস্যদের আদেশ, নির্দেশ এবং শাস্তি প্রদান করতে পারত।

তবে এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী এ্যডভোকেট সুলতানা কামাল জেরায় স্বীকার করেন যে, রাজাকার, আলবদর, আল-শামস বাহিনীর কোন সদস্যকে বরখাস্ত করা বা শাস্তি প্রদানের ক্ষমতা গোলাম আযমের ছিল কিনা তিনি জানেন না। মামলার অপর সাক্ষী মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম জেরায় স্বীকার করেন যে, আল বদর, আল-শামস, শান্তি কমিটির সদস্যদের অধ্যাপক গোলাম আযম অপরাধমূলক কর্মকান্ড কর্মের আদেশ বা নির্দেশ দিয়েছেন এই মর্মে কোন দারিলিক প্রমাণ তাঁর নিকট নেই। তাছাড়া মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেরায় স্বীকার করেন যে, তিনি যে পুলিশের পাক্ষিক রিপোর্ট এবং সরকারের গোপন নথি জব্দ করেছে তার কোনটাতেই গোলাম আযমকে শান্তি কমিটি, রাজাকার, আল-বদর, আল-শামসের কোন সদস্যকে নিয়ন্ত্রন, নিয়োগ, শস্তি প্রদান বা আদেশ প্রদানের কোন ক্ষমতা দেয়া হয়নি।
ডিফেন্স নিবেদন করে যে, রাষ্ট্রপক্ষের উপরোক্ত তিনজন সাক্ষীর সাক্ষ্য থেকে এটা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস বা পিস কমিটির কোন সদস্যকে আদেশ, নির্দেশ বা শাস্তি প্রদানের ক্ষমতা গোলাম আযমের ছিল না। অতএব উক্ত বাহিনী বা কমিটির সদস্যদের কর্তৃক সংঘটিত আপরাধের জন্য অধ্যাপক গোলাম আযমকে দায়ী করবার আইনগত কোন সুযোগ নেই।

অধ্যাপক গোলাম আযমের  পক্ষে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক, অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম, তাজুল ইসলাম, মনজুর আহমদ আনসারী, মতিউর রহমান আকন্দ, ব্যারিস্টার  ইমরান সিদ্দিক, অ্যাডভোকেট শিশির মো: মনির, রায়হান উদ্দিন প্রমুখ অংশ নিয়েছেন।
ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির, সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক গতকাল বিচার কার্র্যক্রম পরিচালনা করেন।





সোমবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৩

অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আনিত অভিযোগ খন্ডন করে আসামী পক্ষ নিম্নলিখিত যুক্তি লিখিত আকারে পেশ করে ট্রাইব্যুনালে।

অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আনিত অভিযোগ খন্ডন করে আসামী পক্ষ নিম্নলিখিত যুক্তি লিখিত আকারে পেশ করে ট্রাইব্যুনালে।

ষড়যন্ত্র [Conspiracy [চার্জ নং - ১]
অধ্যাপক গোলাম আজমের বিরুদ্ধে “ষড়যন্ত্রের” ছ’টি অভিযোগ আনা হয়েছে। ডিফেন্স নিবেদন করেন যে, গনহত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রমান করতে হলে, রাষ্ট্রপক্ষকে আসামীর সাথে ইয়াহিয়া খান বা টিক্কা খানের গনহত্যার একটি চুক্তি হয়েছিল মর্মে সাক্ষ্য উপস্থাপন করতে হবে। তবে এমামলায় তেমন কোন সাক্ষ্য প্রমান রাষ্ট্রপক্ষ হাজির করতে পারেনি। কেবল মাত্র বলা হয়েছে যে গোলাম আযম টিক্কা খান এবং ইয়াহিয়া খানের সাথে বৈঠক করেছে। পাকিস্তান আর্মির কোন অফিসারের সাথে কেবলমাত্র বৈঠক করে গনহত্যার ষড়যন্ত্রে অভিযোগ প্রমানিত করা যায় না। ডিফেন্সের পক্ষ থেকে এও বলা হয় যে গনহত্যার চুক্তি
Circumstantial Evidence   এর মাধ্যমে প্রমান করা সম্ভব, তবে তেমন কোন সাক্ষ্য প্রমান রাষ্ট্রপক্ষ হাজির করতে ব্যর্থ হয়েছে। গোলাম আযমের সাথে টিক্কা খানের পত্রিকায় প্রকাশিত একটি ছবি দিয়ে গনহত্যার ষড়যন্ত্র প্রমান করা যায় না। ডিফেন্সের পক্ষ থেকে এও নিবেদন করা হয় যে রাষ্ট্রপক্ষকেই প্রমান করতে হবে অধ্যাপক গোলাম আজম বাঙালী জাতি বা হিন্দু গোষ্ঠী নিধন করার উদ্দেশ্য নিয়ে গণহত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন। তবে কোন জাতি বা গোষ্ঠী নিধনের অভিপ্রায় গোলাম আজমের ছিল মর্মে কোন সাক্ষ্যপ্রমান রাষ্ট্রপক্ষ হাজির করতে পারেনি।
ফর্দিনান্দ নাহিমানার কেস উল্লেখ করে বলা হয় যে, গনহত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রমান করা অত্যন্ত দূরুহ। উক্ত মামলায় ট্রায়াল চেম্বার গনহতার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রমানিত হয়েছে মর্মে রায় দিলেও পরবর্তীতে আপীলেট চেম্বার সে রায় খারিজ করে দেয়। আপীলেট চেম্বারের রায় উল্লেখ করে ডিফেন্স নিবেদন করে যে, অধ্যাপক গোলাম আজমের মামলায় যে সাক্ষ্য প্রমান এসেছে, তা থেকে কোনভাবেই বলা যায় না যে রাষ্ট্রপক্ষ গনহত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ সুনির্দিষ্টভাবে প্রমান করাও সক্ষম হয়েছে।

পরিকল্পনা [Planning] [চার্জ নং - ২]
অধ্যাপক গোলাম আজমের বিরুদ্ধে “গনহত্যা” বা “মানবতা বিরোধী অপরাধ” এর পরিকল্পনার তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
ডিফেন্সের পক্ষ থেকে নিবেদন করা হয় যে, ১৯৭৩ সালের আইনের ৩(২) ধারায় “পরিকল্পনা” করা কোন অপরাধ হিসেবে সংগায়িত করা হয়নি। তবে আইনের ৪(২) ধারায় “উর্দ্ধতন কর্মকর্তা” বা “কমান্ডার ” এর পরিকল্পনার ক্ষেত্রে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সুযোগ রুয়েছে। এই মামলায় গোলাম আজমকে “উর্দ্ধতন কর্মকর্তা” বা “কমান্ডার” হিসাবে আখ্যায়িত করে কোন অভিযোগ আনা হয়নি, এমনকি এমন কোন অভিযোগ আনা সম্ভবও নয় কেননা তিনি বেসামরিক ব্যক্তি। তাই পরিকল্পনাকারী হিসেবে গোলাম আজমের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগের আইনগত ভিত্তি নেই।
ডিফেন্স আরো নিবেদন করে যে ১৯৭১ সালে গোলাম আজম আদৌ গনহত্যা বা মানবতা বিরোধী অপরাধের পরিকল্পনা করেছিল এমন কোন দালিলিক প্রমান বা সাক্ষ্য প্রমান রাষ্ট্রপক্ষ হাজির করতে পারে নাই। উপরন্তর রাষ্ট্রপক্ষ তার ফর্মাল চার্জ-এ অধ্যাপক গোলাম আজমের কথিত পরিকল্পনার ফলে ১৯৭১ সালে সংঘটিত একটি অপরাধের ও সুনির্দিষ্ট বর্ণনা দিতে পারেন নাই।

উস্কানি [Incitement  [চার্জ নং - ৩]
অধ্যাপক গোলাম আজমের বিরুদ্ধে উস্কানীর ২৮টি অভিযোগ আনা হয়েছে।
আসামী পক্ষ থেকে নিবেদন করা হয়, উস্কানীর অভিযোগ প্রমান করতে হলে রাষ্ট্রপক্ষকে জেনোসাইড কনভেনশনের অধীনে সংরক্ষিত চারটি গোষ্ঠীর কোন একটি  সদস্যের বিরুদ্ধে সেই গোষ্ঠীকে নিধনের উদ্দেশ্যে উস্কানীমূলক বক্তব্য প্রমান করতে হবে। রুয়ান্ডা ট্রাইব্যুনালের “কাজেলিজেলি” ও “আকায়েসু” কেস উল্লেখ করে ডিফেন্স নিবেদন করে যে কোন জাতি, ধর্ম বা বর্ণের ভিত্তিতে গঠিত কোন গোষ্ঠীকে নিধন করার উদ্দেশ্যে গোলাম আজম ১৯৭১ সালে কোন উস্কানীমূলক বক্তব্য দিয়েছেন এ মর্মে কোন সাক্ষ্যপ্রমান রাষ্ট্রপক্ষ হাজির করতে পারে নাই। নাহিমানার কেস উল্লেখ করে ডিফেন্স নিবেদন করে যে সেই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ দালিলিক ও সাক্ষ্য প্রমানের মাধ্যমে প্রমান করেছিল যে নব্বইয়ের দশকে রুয়ান্ডায় কাঙ্গুরা প্রত্রিকা এবং আর.টি.এল.এম. রেডিওর মাধ্যমে টুটসি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে উস্কানীমূলক বক্তব্য এবং বিষোদাগার প্রচারিত হতো শুধুমাত্র এই কারনেই যে তারা টুটসির সম্প্রদায়ের সদস্য। একইভাবে এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষকে প্রমান করতে হবে যে কেবলমাত্র বাঙালী বিধায় বাঙালী জাতির কোন সদস্যের বিরুদ্ধে উস্কানীমূলক বক্তব্য দেয়া হয়েছে। বা শুধুমাত্র হিন্দু বিধায় হিন্দুধর্মাবলম্বী কোন সদস্যের বিরুদ্ধে বিষাদাগার করা হয়েছে। তবে ১৯৭১ সালে গোলাম আজমের কোন বক্তব্য বা বিবৃতিতে এমন অভিপ্রায় প্রমানিত হয় মর্মে সাক্ষ্যপ্রমান রাষ্ট্রপক্ষ হাজির করতে পারে নাই।
ডিফেন্স আরো নিবেদন করে যে, জেনোসাইড কনভেনশনের অধীনে সংরক্ষিত চারটি গোষ্ঠীর কোন একটি গোষ্ঠীর সদস্যের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে অধ্যাপক গোলাম আজম কোন উস্কানীমূলক বক্তব্য দিয়েছেন মর্মে কোন দালিলিক বা সাক্ষ্য প্রমান রাষ্ট্রপক্ষ হাজির করতে পারেনি। অতএব উস্কনীর ২৮টি অভিযোগের মধ্যে কোনটাই রাষ্ট্রপক্ষ প্রমান করতে পারেনি।

সম্পৃক্ততা [ Complicity[চার্জ নং - ৪]
অধ্যাপক গোলাম আজমের বিরুদ্ধে “গনহত্যা” ও “মানবতা বিরোধী অপরাধের” সম্পৃক্ততার ২৩টি অভিযোগ আনা হয়েছে। ডিফেন্সের পক্ষ থেকে নিবেদন করা হয় যে, “সম্পৃক্ততা” প্রমান করতে হলে রাষ্ট্রপক্ষকে একটি সুনির্দিষ্ট অপরাধের বর্ণনা দিতে হবে যা আসামীর সহযোগীতার ফলশ্রুতিতে সংঘটিত হয়েছে। এক্ষেত্রে রুয়ান্ডা ট্রাইব্যুনালের “সেমানজা” মামলার উদ্ধৃতি দেয়া হয়। ডিফেন্স নিবেদন করে যে গোলাম আজম পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে বা উহার আক্সিলারী ফোর্সকে সহযোগীতা করেছে বা এরুপ সহযোগীতার ফলশ্রুতিতে ১৯৭৩ সালের আইনের ৩(২) ধারায় কোন সুনির্দিষ্ট অপরাধ সংগটিত হয়েছে এ মর্মে কোন দালিলিক বা সাক্ষ্য প্রমান রাষ্ট্রপক্ষ হাজির করতে পারে নাই। উপরন্তু এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেরায় স্বীকার করেছেন যে, গোলাম আজমের বক্তৃতা/ বিবৃতি শুনে বা পাঠ করে বা উনার নির্দেশে ১৯৭১ সালে কোন অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল কিনা তা তিনি জানে না। অতএব সম্পৃক্ততার ২৩টি অভিযোগের একটিও রাষ্ট্রপক্ষ প্রমান করতে সক্ষম হয়নি।

সিরু মিয়া হত্যাকন্ড [চার্জ নং - ৫]
রাষ্ট্রপক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে গোলাম আজম সিরু মিয়া ও তার সহযোগীদের হত্যার নির্দেশ সম্বলিত একটি চিঠি ব্রাহ্মনবাড়ীয়া পিস কমিটির সভাপতি পিয়ার মিয়াকে প্রেরণ করে যার ফলশ্রুতিতে তাদের সকলকে হত্যা করা হয়। তবে গোলাম আজমের জারীকৃত কথিত চিঠি রাষ্ট্রপক্ষ ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত করেত পারেনি।
সিরু মিয়ার স্ত্রী আনোয়ারা বেগম ট্রাইবব্যুনালে বলেন যে, তার বোনের স্বামী মহসিন আলী খান ১৯৭১ সালে আযমের ছেলেদের শিক্ষক ছিলেন এবং সেই সুবাদে তিনি সিরু মিয়াকে বাঁচানোর জন্য একটি চিঠি গেলাম আযমের নিকট সংগ্রহ করেন। উক্ত মহসিন আলী খান আদালতে হাজির হয়ে সাক্ষী দেন নাই। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে তার দেয়া বক্তব্য ১৯ (২) ধারা অনুযায়ী সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে- সেখানে তিনি বলেন যে ১৯৭১ সালে তিনি খিলগাঁও মডেল কলেজে শিক্ষকতা করতেন। তবে আনোয়ারা বেগম আদালতে দেয়া সাক্ষ্যে বলেন যে মহসীন আলী খান খিলগাঁও মডেল কলেজে স্বাধীনতার পর যোগদান করেন।
ডিফেন্স নিবেদন করেন যে, পেয়ারা মিয়ার কাছে সিরু মিয়ার হত্যার নির্দেশ সম্বলিত চিঠি আনোওয়ারা বেগম দেখেননি বলে স্বীকার করেছেন। জেরায় তিনি বলেন, তার ভাই সেই চিঠি দেখেছে। তবে তিনি (আনোওয়ারা বেগম) বা তার ভাই গোলাম আযমের হাতের লেখা বা স্বাক্ষরের সাথে পরিচিত নয় বলে স্বীকার করেন। এও বলেন যে কথিত চিঠি কাকে সম্বোধন  করে লেখা হয়েছে তা তিনি জানে না বা কীভাবে কথিত চিঠিতে পেয়ারা মিয়াকে প্রেরন করা হয়েয়ে তাও তিনি জানেন না। ডিফেন্সের পক্ষ থেকে নিবেদন করা হয়, কথিত চিঠি যাকে প্রেরন করা হয়েছে (সিরু মিয়া) সে মৃত, যার মাধ্যমে প্রেরিত হয়েছে এবং যাকে দেখানে হয়েছে (ফজলুর রহমান) সেও মৃত। এবং কথিত চিঠিটিরও কোন হদিস নেই। তাই সিরুমিয়া হত্যাকান্ড সংক্রান্ত অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে।

কমান্ড রেসপনসিবিলিটি
রাষ্ট্র পক্ষের অভিযোগ যে শীর্ষ স্থানীয় ব্যক্তি হিসেবে ১৯৭১ সালে শান্তি কমিটি, রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস কর্তৃক সংঘটিত সকল অপরাধের জন্য গোলাম আযম দায়ী। ডিফেন্সের নিবেদন হল যে কমান্ড রেসপনসিবিলিটির দায় ১৯৭৩ সালের আইনে ৪(২) ধারা অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে। আইনের ৪(২) ধারা অনুযায়ী কেবলমাত্র “ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তা” বা “কমান্ডার” এর কামান্ড রেসপনসিবিলিটি থাকার সুযোগ রয়েছে। তবে ১৯৭১ সালে গোলাম আযম কোন বাহিনী বা সংগঠনের “ঊদ্ধতন কর্মকর্তা” বা “কমান্ডার” ছিলেন এই মর্মে কোন দালিলিক বা সাক্ষ্য প্রমাণ রাষ্ট্রপক্ষ হাজির করতে পারেনি। সুতরাং আইনের ৪(২) ধারা গোলাম আযমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
যুগোস্লাভিয়া ও রুয়ান্ডা ট্রাইব্যুনালের বিভিন্ন মামলার নজির পেশ করে এও বলা হয় যে কোন বাহিনী বা সংগঠনের কোন সদস্যের অপরাধের দায় আসামীর উপর কেবল তখনই বর্তাবে যখন প্রমাণিত হয় যে আসামী সেই বাহিনী বা সংগঠনের সদস্যদের আদেশ, নির্দেশ এবং শাস্তি প্রদান করতে পারত।
তবে এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী এ্যডভোকেট সুলতানা কামাল জেরায় স্বীকার করেন যে, রাজাকার, আলবদর, আল-শামস বাহিনীর কোন সদস্যকে বরখাস্ত করা বা শাস্তি প্রদানের ক্ষমতা গোলাম আযমের ছিল কিনা তিনি জানেন না। মামলার অপর সাক্ষী মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম জেরায় স্বীকার করেন যে, আল বদর, আল-শামস, শান্তি কমিটির সদস্যদের অধ্যাপক গোলাম আযম অপরাধমূলক কর্মকান্ড কর্মের আদেশ বা নির্দেশ দিয়েছেন এই মর্মে কোন দারিলিক প্রমাণ তাঁর নিকট নেই। তাছাড়া মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেরায় স্বীকার করেন যে তিনি যে পুলিশের পাক্ষিক রিপোর্ট এবং সরকারের গোপন নথি জব্দ করেছে তার কোনটাতেই গোলাম আযমকে শান্তি কমিটি, রাজাকার, আল-বদর, আল-শামসের কোন সদস্যকে নিয়ন্ত্রন, নিয়োগ, শস্তি প্রদান বা আদেশ প্রদানের কোন ক্ষমতা দেয়া হয়নি।
ডিফেন্স নিবেদন করে যে, রাষ্ট্রপক্ষের উপরোক্ত তিনজন সাক্ষীর সাক্ষ্য থেকে এটা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস বা পিস কমিটির কোন সদস্যকে আদেশ, নির্দেশ বা শাস্তি প্রদানের ক্ষমতা গোলাম আযমের ছিল না। অতএব উক্ত বাহিনী বা কমিটির সদস্যদের কর্তৃক সংঘটিত আপরাধের জন্য অধ্যাপক গোলাম আযমকে দায়ী করবার আইনগত কোন সুযোগ নেই।


Golam Azam : summary of defence case



SUMMARY OF CHARGES 1, 2, 3 AND 4

  1. CONSPIRACY

  1. There are 6 counts of conspiracy against the Accused. Conspiracy to commit crimes under section 3(2) of the 1973 Act is punishable under section 3(2)(g) of the said Act.

  1. In order to prove the offence of conspiracy to commit genocide, the Prosecution is required to establish the following beyond reasonable doubt:

ACTUS REUS:
(i)                  Existence of an agreement between the Accused and one or more persons to commit the crime of genocide (Actus Reus) (Para 894, Nahimana (Appeals Chamber)).
(ii)                Agreement may be proved by direct evidence. Agreement may also be inferred from circumstantial evidence. Concerted or coordinated action on the part of the conspirators can constitute evidence of an agreement. However, where existence of an agreement is to be proved from circumstantial evidence, the existence of a conspiracy to commit genocide must be the only reasonable inference based on the totality of the evidence (Paras 896, 897, Nahimana (Appeals Chamber)).
(iii)               Since conspiracy to commit genocide is an inchoate offence, it is not necessary to prove that genocide occurred pursuant to the conspiracy.

MENS REA:
(iv)              The Accused had the intent to destroy in whole or in part a national, ethnical, racial, religious or political group, which is also known as the genocidal intent (Mens Rea) (Para 894, Nahimana (Appeals Chamber)).
(v)                It is difficult to find explicit manifestations of genocidal intent. In most cases, genocidal intent will be proved by circumstantial evidence (Para 93, Kayishema (Trial Chamber). In such cases, it is necessary that the finding that the accused had the genocidal intent be the only reasonable inference from the totality of the evidence (Para 524, Nahimana (Appeals Chamber))
(vi)              Genocidal intent presupposes that victims are chosen by reason of the membership in the group whose destruction is sought (Para 561, Radislav Krstic (Trial Chamber)).

  1. It is the Defence case that the Prosecution has failed to produce any evidence on record to establish that any agreement was reached between the Accused and any other person to commit any crimes under section 3(2) of the Act. As such, the Actus Reus of the offence of conspiracy has not been established beyond reasonable doubt.

  1. Furthermore, no evidence has been brought on record by the Prosecution to show that the Accused had the intent to destroy in whole or in part a national, ethnic, racial, religious or political group. There is no evidence on record on the basis of which such genocidal intent may be inferred. Also, the Prosecution has not even attempted to establish that the alleged targets of the conspiracy were chosen by reason of the membership in the group whose destruction was sought.

  1. PLANNING

  1. There are 3 counts of Planning against the Accused.

  1. Planning is not an offence under section 3(2) of the Act. However, under section 4(2), a ‘superior officer’ or ‘commander’ who is connected with any plans and activities involving the commission of crimes under section 3(2) of the Act is guilty of such crimes. 

  1. There is no allegation in the Formal Charge or the Charge Framing Order that the Accused was a ‘superior officer’ or ‘commander’ in 1971. Further, no Prosecution Witness has made any statement identifying the Accused as a ‘superior officer’ or ‘commander’. As such, no question arises of attracting liability under section 4(2) of the Act.

  1. The Prosecution has alleged that Planning is a crime under international law and as such punishable under section 3(2)(f) of the 1973 Act. However, there is no evidence to show that Planning commission of Genocide is a crime under international law. The Genocide Convention makes no reference to the offence of planning commission of genocide. It is pointed out however that Planning the commission of Crimes against Humanity was punishable under the Nuremberg Charter.

  1. Under the ICTY and ICTR Statutes, Planning the commission of genocide or Crimes Against Humanity is an offence.

  1. Under the ICTY and ICTR Statutes, in order to prove the offence of Planning, the Prosecution has to establish the following beyond reasonable doubt:

ACTUS REUS:
(i)                  That one or more persons designed the criminal conduct constituting one or more statutory crimes that are later perpetrated. It is sufficient to demonstrate that the planning was a factor substantially contributing to such criminal conduct (Para 479, Nahimana (Appeals Chamber).
(ii)                Planning presupposes that one or more persons contemplate the commission of a crime at both its preparatory and execution phases (Para 271, Gacumbitsi (Trial Chamber). The level of participation in planning must be substantial, such as actually formulating a plan or endorsing a plan proposed by another person (Para 761, Kajelijeli (Trial Chamber).

MENS REA:
(iii)               The mens rea for this mode of responsibility entails the intent to plan the commission of a crime, or at a minimum, the awareness of substantial likelihood (Para 479, Nahimana (Appeals Chamber).

  1. Planning is not an inchoate offence.

  1. It is the Defence case that no evidence has been brought on record by the Prosecution to establish that the Accused designed the criminal conduct constituting a crime under section 3(2) of the Act that was later perpetrated. There is no evidence show that the Accused contemplated the commission of a specific crime at both its preparatory and execution phases and that the level of his participation was substantial. Further, the Prosecution has failed to identify a specific offence or incident of atrocities which was perpetrated pursuant to any plans of the Accused. No evidence has been brought on record to show that the Accused’s conduct substantially contributed to the commission of a specific offence punishable under section 3(2) of the Act. As such, the Prosecution has failed to prove the Actus Reus of the offence of Planning.

  1. The Prosecution has also not proved that the Accused had the intent to plan the commission of a specific crime.

  1. INCITEMENT

  1. There are 28 counts of Incitement against the Accused.

  1. Incitement is not an offence which has been specifically mentioned in section 3(2) of the 1973 Act. However, ‘Direct and Public Incitement to commit genocide’ is punishable under Article 3(c) of the Genocide Convention (which is reflective of customary international law) and as such, the same is a crime under international law punishable under section 3(2)(f) of the Act. Therefore in order to determine the elements of crime of ‘Direct and Public Incitement to commit Genocide’, it is necessary to refer to Article 2 of the Genocide Convention.

  1. According to Article 2 of the Genocide Convention, genocide may be committed of 4 groups – (i) national group, (ii) ethnical group, (iii) racial group and (iv) religious group.

  1. Incitement to commit Genocide is an inchoate offence. Therefore it is not necessary to prove that genocide has occurred in order to prove the offence of incitement to commit genocide (Para 678, Nahimana (Appeals Chamber)).

  1. There is no evidence to show that ‘Incitement to commit Crimes Against Humanity’ is a crime under international law punishable under section 3(2)(f) of the Act.

  1. In order to prove the offence of ‘Direct and Public Incitement to commit Genocide’, the Prosecutor has to establish the following beyond reasonable doubt:

ACTUS REUS:
(i)                  The ‘public’ element of the offence requires there to be a call for criminal action to a number of individuals in a public place or members of the general public against members of any of the 4 protected groups under the Genocide Convention (Para 851, Kajelijeli (Trial Chamber)).
(ii)                The ‘direct’ element of the offence requires specifically urging another individual to take immediate criminal action (Para 852, Kajelijeli (Trial Chamber). The direct element requires one to specifically provoke another to engage in a criminal act. More than mere vague or indirect suggestion is required (Para 557, Akayesu (Trial Chamber)).
(iii)               Implicit language may however be direct. Therefore, the Court has to consider the cultural and linguistic content of the speech (Para 557, Akayesu (Trial Chamber). The Court has to consider the whether in light of the culture of the country and the specific circumstances of the case, the persons for whom the message was intended immediately grasped the implication thereof (Para 558, Akayesu (Trial Chamber)).

MENS REA:
(iv)              The mens rea required for the crime of direct and public incitement to commit genocide is the intent to directly prompt or provoke another to commit genocide (Para 560, Akayesu (Trial Chamber)).
(v)                The person who is inciting to commit genocide must have himself the genocidal intent, i.e., the specific intent to destroy in whole or in part, a national, ethnical, racial or religious group (Para 560, Akayesu (Trial Chamber)).
(iv)              It is difficult to find explicit manifestations of genocidal intent. In most cases, genocidal intent will be proved by circumstantial evidence (Para 93, Kayishema (Trial Chamber). In such cases, it is necessary that the finding that the accused had the genocidal intent be the only reasonable inference from the totality of the evidence (Para 524, Nahimana (Appeals Chamber))
(vi)              Genocidal intent presupposes that victims are chosen by reason of the membership in the group whose destruction in sought (Para 561, Radislav Krstic (Trial Chamber)).

  1. It is the Defence case that the Prosecution has failed to produce any evidence to show that the statements and speeches of the Accused were targeted against members of any ‘national’, ‘ethnic’, ‘racial’ or ‘religious’ group. The Defence relies on paragraphs 512-516 of the Akayesu trial judgment for definitions of what constitutes a ‘national’, ‘ethnic’, ‘racial’ or ‘religious’ group. The Defence has referred to Prosecution Exhibits, including Fortnightly Reports, to show that the terms ‘miscreants’, ‘rebels’, ‘separatists’, ‘enemies’, ‘anti-state elements’ and ‘infiltrators/intruders’ were used in 1971 to refer to armed Freedom fighters engaged in liberation struggle/armed insurgents who had crossed the border to assist in the armed struggle for liberation. The Defence has argued that there is no scope for armed freedom fighters or armed insurgents to fall into one of the 4 protected groups under the Genocide Convention. As such, the Accused’s statements/speeches targeting ‘miscreants’, ‘rebels’, ‘separatists’, ‘enemies’, ‘anti-state elements’ and ‘infiltrators/intruders’ does not amount to incitement to commit genocide of any of the protected groups under the Genocide the Convention. Therefore the Prosecution has failed to prove the Actus Reus of the offence of incitement to commit genocide.

  1. Furthermore, no evidence has been brought on record by the Prosecution to show that the Accused had the intent to destroy in whole or in part a national, ethnic, racial or religious. There is no evidence on record on the basis of which such genocidal intent may be inferred. The Prosecution has failed to show that the Accused in his statements/speeches targeted members of an ethnic group on account of their ethnicity or members of a religious group on account of their religious beliefs.

  1. COMPLICITY

  1. There are 23 counts of complicity against the Accused Petitioner.

  1. Complicity in the commission of Genocide/Crimes Against Humanity is an offence under section 3(2)(h) of the 1973 Act.

  1. In order to prove the offence of Complicity in the commission of crimes under section 3(2) of the Act, the Prosecution is required to establish the following beyond reasonable doubt:

ACTUS REUS:
(i)                  That the Accused provided assistance or encouragement that substantially contributed to or have had a substantial effect on the completion of the crime (Para 395, Semanza (Trial Chamber)).
MENS REA:
(ii)                That the Accused must have acted intentionally with the awareness that he was contributing to the crime of genocide, including all its material elements (Para 395, Semanza (Trial Chamber)).

  1. Complicity is not an inchoate offence.

  1. It is the Defence case that no evidence has been brought on record by the Prosecution to establish that the Accused provided assistance or encouragement to the perpetrators of a specific offence that substantially contributed to or had a substantial impact on the commission of an offence punishable under section 3(2) of the Act. The Prosecution has failed to identify a specific offence or incident of atrocities which was perpetrated pursuant to any actions of the Accused. No evidence has been brought on record to show that the Accused’s conduct/action substantially contributed to the commission of a specific offence punishable under section 3(2) of the Act. As such, the Prosecution has failed to prove the Actus Reus of the offence of Complicity.

  1. The Prosecution has also not proved that the Accused acted intentionally with the awareness that he was contributing to the crime of genocide, including all its material elements.

আবারো আইনজীবীকে জরিমানা সাপেক্ষে গোলাম আযমের মামলা মুলতবি

মেহেদী হাসান, ১৮/৩/২০১৩ 
হরতালে অনুপস্থিত থাকার কারনে আবারো আইনজীবীকে  জরিমানা সাপেক্ষে মুলতবি করা হয়েছে অধ্যাপক গোলাম আযমের মামলার কার্যক্রম।

জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের মামলায় আসামী পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন চলছিল। অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম যুক্তি পেশ করছিলেন। কিন্তু হরতালের কারনে  আজ তিনি বা  আসামী পক্ষের কোন সিনিয়র আইনজীবী উপস্থিত হননি। রায়হান উদ্দিন নামে একজন মাত্র জুনিয়র আইনজীবী উপস্থিত হয়ে দুই দিনের জন্য মুলতবি আবেদন করেন। ট্রাইব্যুনাল আসামী পক্ষের আইনজীবীকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করে মুলতবি আবেদন মঞ্জুর করেন।

এর আগেও সর্বশেষ হরতালের দিন মিজানুল ইসলাম অনুপস্থিত থাকায় তাকে এক হাজার টাকা জরিমানা সাপেক্ষে মামলা একদিনের জন্য মুলতবি করেন। আজ ট্রাইব্যুনাল আদেশে বলেছেন ২০ তারিখের মধ্যে পূর্বের এক হাজার টাকাসহ আজকের  পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা প্রদান না করলে আসামী পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন বন্ধ করে দেয়া হবে।

আজ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি বা উর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায় বিষয়ে যুক্তি পেশ করেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের অপরাধীরা হল জামায়াতে ইসলামীর সদস্য এবং পাকিস্তান  দখলদার আর্মি। অধ্যাপক গোলাম আযম ছিলেন জামায়াতের আমির। কাজেই তার দল এবং দলের  লোকজনের করা অপরাধের দায় তার ওপর বর্তায়।  এছাড়া শান্তি কমিটি, রাজাকার বাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনী গঠনে অধ্যাপক গোলাম আযমের ভূমিকা এবং পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের  ওপর তার প্রভাবের বিষয়ে তুলে ধরেন তিনি।

এদিকে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে ২১ তম সাক্ষীর জেরা শেষ হয়েছে। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী নিজে সাক্ষীকে জেরা করেন।
ট্রাইব্যুনাল-১  চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির, সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন এবং বিচারপতি আনোয়ারুল হক বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।


গোলাম আযমের মামলায় সোমবার যুক্তি উপস্থাপন শেষ করতে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ

১১/৪/২০১৩, বৃহষ্পতিবার
জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের মামলায় আসামী পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন  আগামী সোমবার শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। ওইদিন  আসামী পক্ষ যুক্তি উপস্থাপন শেষ না করলে যুক্তি উপস্থান বন্ধ করে দেয়া হবে বলেও জানিয়ে  দেয়া হয়েছে।

আজ ট্রাইব্যুনাল এ নির্দেশ দিয়েছেন। হরতালের কারনে আসামী পক্ষের কোন সিনিয়র আইনজীবী হাজির হননি ট্রাইব্যুনালে। আসামী পক্ষে জুনিয়র একজন আইনজীবী  একদিনের জন্য মুলতবি আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল শেষবারের মত  সময় দিয়ে বলেন, এরপর আর সময় দেয়া হবেনা। সোমবার যুক্তি  উপস্থাপন শেষ করতে হবে। তা  না হলে যুক্তি উপস্থাপন বন্ধ করে দেয়া  হবে।


অধ্যাপক গোলাম আযমের মামলায় আসামী পক্ষের  যুক্তি উপস্থাপন শেষ পর্যায়ে ছিল। সর্বশেষ গত  রোববার আসামী পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়। সোমবার থেকে হরতাল শুরু হওয়ায়  আসামী পক্ষের  সিনিয়র আইনজীবীরা  ট্রাইব্যুনালে অনুপস্থিত থাকেন।  সোমবার আসামী  পক্ষ থেকে মুলতবি আবেদন করা হলে ট্রাইব্যুনাল বৃহষ্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি  আবদেন গ্রহণ করেন।  কিন্তু  আজ বৃহষ্পতিবারও হরতাল থাকায় আসামী পক্ষের সিনিয়র আইনজীবী যথারীতি অনুপস্থিত থাকেন। ফলে ট্রাইব্যুনাল সর্বশেষ সুযোগ দিয়ে আগামী সোমবার সর্বশেষ সময় ধার্য্য করে মুলতবি আবেদন গ্রহণ করেন।


গোলাম আযমের মামলায় যুক্তি উপস্থাপন শেষ পর্যায়ে

৭/৪/২০১৩, রোববার
জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের মামলায় আসামী পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন  অব্যাহত রয়েছে। তবে আসামী পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং তাদের যুক্তি উপস্থাপন  শেষ হলে  নিয়ম অনুযায়ী  রায়ের তারিখ ঘোষনা করা হবে। রাষ্ট্রপক্ষ আগেই তাদের যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেছে।

ট্রাইব্যুনাল এর আগে গত বৃহষ্পতিবারের মধ্যে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করার জন্য আসামী পক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিল। তবে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করতে  আসামী পক্ষ আরো দুই দিন সময় নেয়। আজকের যুক্তি উপস্থপন শেষে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়। আসামী পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে আগামী  ধার্য্য তারিখে যুক্তি উপস্থাপন শেষ হবে বলে আশা করা যায়।

এদিকে আগামী বুধবার পর্যন্ত তিনদিনের হরতাল ঘোষিত হয়েছে। সাধারণত আসামী পক্ষের সিনিয়র আইনজীবীরা ট্রাইব্যুনালে  উপস্থিত হওয়া থেকে বিরত থাকেন।

আজ আসামী পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিক। অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে আনীত ১৯৭১ সালে বিভিন্ন অপরাধের উসকানির অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি বলেন, জেনোসাইড কনভেনশন অনুযায়ী কারো বিরুদ্ধে উসকানির  অভিযোগ আনতে হলে দুটি বিষয় প্রমাণ হতে হবে। প্রথমত  অভিযুক্তকে এমন বক্তব্য দিতে হবে যার কারণে কোন নির্দিষ্ট অপরাধ সংগঠিত হয়েছে মর্মে প্রমান হাজির করতে হবে। দ্বিতীয়ত সংঘটিত অপরাধের সাথে  অভিযুক্ত ব্যক্তির এমন সহযোগীতা বা সম্পৃক্ততা থাকতে হবে যার কারণেও অপরাধ হয়েছে মর্মে দেখাতে হবে। কিন্তু গোলাম আযমের বিরুদ্ধে এ মর্মে কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই।

যুক্তি উপস্থাপনে ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিকীকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট শিশির মো: মনির, রায়হান উদ্দিন প্রমুখ।
ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির, সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, বিচারপতি আনোয়ারুল হক বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

গোলাম আযমের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন সঠিক হয়নি-যুক্তি উপস্থাপনের শুরুতে ব্যারিস্টার রাজ্জাক


মেহেদী হাসান, ৩১/৩/২০১৩
জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেছেন আসামী পক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক। আইনী দিক তুলে ধরে তিনি  আজ যুক্তি উপস্থাপন করেন। এর আগে অভিযোগ এবং সাক্ষীদের সাক্ষ্য বিষয়ে  যুক্তি উপস্থান করেছেন আসামী পক্ষের অপর আইনজীবী মিজানুল ইসলাম।

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক আজ ট্রাইব্যুনালে বলেন, অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন সঠিক হয়নি। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে কোন অভিযোগ নেই। টিক্কাখানের সাথে দেখা করা কোন অপরাধ হতে পারেনা।  কাউকে দোষী সাব্যস্ত করতে হলে সুনির্দিষ্টভাবে বলতে হবে তার অমুক বৈঠকের অমুক সিদ্ধান্তের কারনে বা অমুক স্থানে অমুক বক্তব্যের কারনে অমুক অমুক স্থানে এই এই অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। কিন্তু গোলাম আযমের বিরুদ্ধে সেরকম কিছূই নেই  তাই  তাকে সম্পূর্ণ নির্দোষ ঘোষনা করা উচিত।

আইনজীবীদের  উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় :
 আজ জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে তৃতীয় সাক্ষীর জেরা করেন আসামী পক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম। এসময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আলতাফ হোসেন সাক্ষীর একটি প্রশ্নের উত্তরে হস্তক্ষেপ করলে তিনি এবং মিজানুল ইসলামের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় চলে।  সাক্ষীর প্রশ্নের উত্তরে  আলতাফ হোসেন হস্তক্ষেপ করায়  অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম এর বিরোধীতা করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তখন আলতাফ হোসেন মিজানুল ইসলামকে  বেয়াদব  আখ্যায়িত করে বলেন, আপনি আমাকে ধমক দেন কেন। আমি কি আপনার অধীনে চাকরি করেন? এখানে কি রগ কাটার জন্য এসেছেন নাকি? তখন অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম  প্রচন্ডভাবে উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তিনি আলতাফ হোসেনের দিকে  হাত উচিয়ে বলেন, ইউ ব্লাডি ননসেন্স, বেয়াদব। মুখ সামলে কথা বলেন।  আমি রগ কাটার জন্য আসিনি। মামলা লড়তে এসেছি।
উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় শেষ হলে  মিজানুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালকে বলেন, আমি আমার কমেন্টের জন্য ক্ষমা চাচ্ছি। কিন্তু সে যে আমাকে বেয়াদব বলেছে সেজন্য তাকে সতর্ক করা হোক। তখন ট্রাইব্যুনাল আলতাফ হোসেনকে লক্ষ্য করে বলেন তার এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করা ঠিক হয়নি। ট্রাইব্যুনাল বলেন আপনারা যদি পরষ্পরকে শ্রদ্ধা না করেন এবং আদালতে এভাবে আক্রমন করেন তাহলে   তা মোটেই শোভনীয় নয়।

জেরা : মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে তৃতীয় সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন মোহাম্মদপুর ফিজিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের গার্ড় রুস্তম আলী। তার পিতা ১৯৭১ সালে ওই প্রতিষ্ঠানের গার্ড ছিল। সাক্ষী তখন মাওলানা নিজামীকে সেখানে দেখেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তার জবানবন্দীতে। আজ  সাক্ষীকে জেরা করেন অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম। তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট মনজুর আহমদ আনসারী।

প্রশ্ন : আপনার পিতা কবে অবসরে যান?
উত্তর : ১৯৮৬ সালে।
প্রশ্ন : তিনি কবে যোগ দিয়েছিলেন?
উত্তর : বলতে পারবনা।
প্রশ্ন : আপনার জন্ম কোথায়?
উত্তর : ঢাকা।
প্রশ্ন : আপনি কোন স্কুলে পড়ালেখা করেছেন?
উত্তর : সামান্য কিছু পড়ালেখা করেছি ডামুড্যা প্রাইমারি স্কুলে। মাঝে মাঝে স্কুলে যেতাম।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে ৭ মার্চ ভাষন শোনার জন্য গিয়েছিলেন?
উত্তর : হ্যা।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে আপনার  এলাকায় আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রলীগের নেতা কারা ছিল বলতে পারবেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : ১৯৭০ সালের নির্বাচনের সময় কোথায় ছিলেন?
উত্তর : ঢাকা ।
প্রশ্ন : ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আপনার এলাকায় কে জেতে এবং কে হারে মনে আছে?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে ফিজিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ কে ছিলেন?
উত্তর : খান মজলিশ।
প্রশ্ন : এখন কে?
উত্তর : তার ছেলে তারেক খান মজলিশ।
প্রশ্ন : সেখানে তখনকার পড়াশুনা বিষয়ে কিছু বলতে পারবেন?
উত্তর : খেলাধুলার কলেজ। টেনিং দিত।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে আপনি যে বাসায় থাকতেন তা কি ক্যাম্পসের মধ্যে না বাইরে?
উত্তর : ক্যাম্পাসের মধ্যে।
প্রশ্ন : যুদ্ধের সময় কাস হত সেখানে?
উত্তর : না।
প্রশ্ন :  খান মজলিশ কি বেঁচে আছেন?
উত্তর : হ্যা।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে সেখানে যারা শিক্ষক ছিলেন তাদের  কারো নাম মনে আছে?
উত্তর : বাদশা মিয়া, লুৎফর রহমান, মালেক সাব, আব্দুল হক ভ্ইুয়া।
প্রশ্ন : ক্যাম্পাসের মধ্যে ২৫ মার্চ রাতে যখন  আর্মি ক্যাম্প স্থাপন করল তখন আপনি কোথায় ছিলেন?
উত্তর : ক্যাম্পাসের মধ্যে কোয়ার্টারের বাসায়।
প্রশ্ন : ভবন কাঠামো কি আগের মতই আছে?
উত্তর : হ্যা, একই রকম আছে।
প্রশ্ন : তখন আপনি ক্যাম্পাসের বাইরে যেতেন?
উত্তর : যেতাম।
প্রশ্ন : আপনার আব্বা ছাড়া তখন আর কোন বাঙ্গালী কর্মচারি ছিল?
উত্তর : ছিল। সুরুজ মিয়া,  হানিফের নাম মনে আছে।
প্রশ্ন : ক্যাম্পাসের বন্দীশালা আপনার বাসা থেকে কতদূর ছিল?
উত্তর : একশ/দেড়শ গুজ দূরে অনুমান।
প্রশ্ন : আপনি আপনার জবানবন্দীতে বলেছেন বুদ্ধিজীবী, শিল্পী, ডাক্তার সাধারন মানুষকে ধরে আনা হত বন্দীশালায়।  ধরে আনা হয়েছিল এরকম দুয়েকজন বুদ্ধিজীবী, ডাক্তার বা শিল্পীর নাম বলতে পারবেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : যেসব মহিলাদের ধরে আনা  হয়েছিল তাদের কারো সাথে আপনার কথা  হয়েছিল?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : রাজাকার শব্দটা প্রথম কবে শুনলেন?
উত্তর : যুদ্ধ শুরুর  তিন/চার মাস পর ট্রেনিং শুরু হলে রাজাকার নাম শুনতে পাই।
প্রশ্ন : সেখানে প্রথম রাজাকার প্রশিক্ষক কে ছিল?
উত্তর : একজন পাঞ্জাবী।
প্রশ্ন : যারা ট্রেনিং নিত তাদের কারো নাম বলতে পারবেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : কতদিন ট্রেনিং দিত?
উত্তর : এক ব্যাসে ১৫/২০ দিন ট্রেনিং দেয়া হত।
প্রশ্ন : এক ব্যাসে কয়জন ট্রেনিং নিত?
উত্তর : দুই/তিন হাজার।
প্রশ্ন : এরা থাকত কোথায়?
উত্তর : মাঠে তাবু এবং হোস্টেলের  নিচতলায়।
প্রশ্ন : কয়টি ব্যাস টেনিং নিয়েছিল?
উত্তর : বলতে পারবনা।
প্রশ্ন : যুদ্ধ শুরুর তিন চার মাস পরে মোহাম্মদপুর বাজারে কোন বাঙ্গালী ছিল?
উত্তর : কিছু ছিল।
প্রশ্ন : আপনি এবং আপনার পিতা বিটিভি ওয়ার্ল্ড এর কাছে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন?
উত্তর : হ্যা।
প্রশ্ন : আপনার উপস্থিতিতে আপনার পিতা দিগন্ত টিভিতে সাক্ষাৎকার দিয়েছে?
উত্তর : জানা নেই।
প্রশ্ন : আপনার বর্তমান অধ্যক্ষ টিভিতে এ বিষয়ে কোন সাক্ষাৎকার দিয়েছেন?
উত্তর : জানা নেই।
এ পর্যন্ত জেরা করার পর  সোমবার পর্যন্ত জেরা মুলতবি করা হয়।


রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ// ১৯৭১ সালের সকল হত্যা ধর্ষণসহ যাবতীয় অপরাধের দায় গোলাম আযমের-রাষ্ট্রপক্ষ

মেহেদী হাসান, ৪/৩/২০১৩
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থান শেষ হয়েছে আজ। আগামী বৃহষ্পতিবার সাত মার্চ থেকে  আসামী পক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের জন্য ধার্য্য করা হয়েছে।

আজ যুক্তি উপস্থাপন শেষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জেয়াদ আল মালুম ট্রাইব্যুনালের সামনে অপেক্ষমান সাংবাদিকদের বলেন, ১৯৭১ সালে ৩০ লাখ মানুষ হত্যা, ৪ লাখ নারী র্ধষন, ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ডসহ যত অপরাধ  সংঘটিত হয়েছে তার সব কিছুর দায়ভার গোলাম আযমের। তিনি ছিলেন এসব কিছুর মাস্টারমাইন্ড। এসব অপরাধের জন্য উসকানিদাতা, পরিকল্পনা ষযযন্ত্রকারী হিসেবে এসবের দায়ভার তার। 

এর আগে যুক্তি উপস্থাপনের শেষ পর্যায়ে ট্রাইব্যুনালেও তিনি অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে একই দাবি করে বলেন, আমরা তার বিরুদ্ধে  যেসব অভিযোগ এনেছি তার সবগুলোই সঠিকভাবে প্রমান করতে পেরেছি এবং তার সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত।
জেয়াদ আল মালুম সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, সর্বোচ্চ শাস্তি  মৃত্যুদণ্ড প্রদানের ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালের আইনে বয়স কোন বিষয় নয়। ১৯৭১ সালে তার যে বয়স ছিল সে  বয়স বিবেচনা করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বর্তমান বয়স নয়।

রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী গোলাম আরিফ টিপুর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মাধ্যমে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয় গতকাল। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে সমস্ত অপরাধের জন্য গোলাম আযম মাস্টারমাইন্ড হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন।

হরতাল চলার কারনে আজও আসামী পক্ষের কোন সিনিয়র আইনজীবী ট্রাইব্যুনালে যাননি। তিনজন জুনিয়র আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে বিচারপতি নিজামুল হকের স্কাইপ হ্যাকিং বিষয়ে লন্ডনের ইকোনমিস্ট সামিয়কীর বিরুদ্ধে জারি করা রুলের জবাব প্রদানের সময় বাড়িয়ে আগামী ২৫ মার্চ পরবর্তী তারিখ নির্ধারন করা হয়েছে।
অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষী হাজির না করায় সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে পরবর্তী মামলার তারিখ ধার্য্য করা হয়েছে ।


গোলাম আযমের মামলায় রোববার থেকে যুক্তি উপস্থাপন


মেহেদী হাসান, ১৪/২/২০১৩
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে মামলায় আগামী রোববার থেকে যুক্তি (আর্গুমেন্ট)  উপস্থাপন শুরু হবে। প্রথমে রাষ্ট্রপক্ষ তাদের যুক্তি উপস্থাপন শুরু করবে রোববার। এরপর আসামী পক্ষ যুক্তি উপস্থাপন করবে।

আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রাষ্ট্রপক্ষকে যুক্তি উপস্থাপন  শুরুর এ নির্দেশ দিয়েছেন। আজ অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে মামলায় আসামী পক্ষের দ্বিতীয় সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহনের জন্য ধার্য্য ছিল। তবে আসামী পক্ষ সাক্ষী হাজির করতে না পারায় ট্রাইব্যুনাল সাক্ষ্য গ্রহণ বন্ধ করে দিয়ে যুক্তি উপস্থাপনের জন্য তারিখ ধার্য্য করেন।  বেশ কয়েকবার  তারিখ দেয়া সত্ত্বেও সাক্ষী হাজির  করতে না পারায় আজ আসামী পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ বন্ধ করে দেন ট্রাইব্যুনাল।

অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ মোট ১২ জন সাক্ষী হাজির করে। আসামী পক্ষের জন্যও ১২ জন সাক্ষীর জন্য নির্ধারন করা হয়েছিল । তবে আসামী পক্ষ  মাত্র একজন সাক্ষী হাজির করেছেন এ পর্যন্ত। তিনি হলেন অধ্যাপক গোলাম আযমের ছেলে সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল  আব্দুল্লাহিল আমান আযমী। তিনি তার পিতার পক্ষে সাক্ষ্য দেন এবং আসামী পক্ষের যাবতীয় ডকুমেন্ট  উপস্থাপন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের ১২ জন সাক্ষীর মধ্যে তিনজন ছিলেন জব্দ তালিকার সাক্ষী। একজন তদন্ত কর্মকর্তা। বাকী  নয়জন নিয়মিত সাক্ষীদের মধ্যে  উল্লেখযোগ্য হলেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক, টিআইবি (ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ) চেয়ারম্যান সুলতানা  কামাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মুনতাসির মামুন, মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, সুরকার সঙ্গীত পরিচালক আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল, কুমিল্লা থেকে আগত শফিউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।  এছাড়া একজন নারী সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে রুদ্ধদ্বার  বিচার কক্ষে।


আসামী পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ বন্ধের প্রেক্ষাপট :
গত বুধবার সকালে অধ্যাপক গোলাম আযমের পক্ষে দ্বিতীয় সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহনের জন্য ধার্য্য ছিল। মতিঝিল এবং পল্টন এলাকায় ব্যাপক গোলাগুলির কারনে অধ্যাপক গোলাম আযমের পক্ষে নিযুক্ত মিজানুল ইসলামসহ অন্যান্য আইনজীবী বাসা থেকে বের হতে পারেননি। তাদের বাসা পল্টনে।  ফলে ট্রাইব্যুনাল বেলা দুইটা পর্যন্ত মুলতবি  করেন।  কিন্তু দুইটার সময়ও একই কারনে    মিজানুল ইসলামসহ  সংশ্লিষ্ট আইনজীবী আসতে পারেননি  বলে ট্রাইব্যুনালকে জানান আসামী পক্ষের আরেক আইনজীবী তাজুল ইসলাম। ট্রাইব্যুনাল  মামলা মুলতিব করে বলেন,  বৃহষ্পতিবার সাক্ষী আনতে না পারলে   পদক্ষেপ নেয়া হবে।
আজ  সকালে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হলে আসামী পক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম এবং তাজুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালকে বলেন, তারা নতুন কোন সাক্ষী আনতে পারেননি। একজন সাক্ষী অসুস্থ এবং আরেক সাক্ষী আগেই গ্রেফতার হয়েছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে অন্য কোন সাক্ষী সাক্ষ্য দিতে আসতে চাচ্ছেনা। তাই তারা গোলাম আযমের পক্ষে  নতুন সাক্ষীর তালিকা দিতে চান এবং মামলার কার্যক্রম এক সপ্তাহের জন্য মুলতবি চান। ট্রাইব্যুনাল আবেদন নাকচ করে দিয়ে সাক্ষ্য গ্রহণ বন্ধ ঘোষনা করেন এবং যুক্তি উপস্থাপনের জন্য ধার্য্য করেন।

এর আগে বিচারপতি নিজামুল হকের  স্কাইপ কেলেঙ্কারি ফাঁস হবার পর বিশেষ পরিস্থিতির কারনে আসামসী পক্ষ  ৯ এবং ১০ ডিসেম্বর পরপর দুই দিন অনুপস্থিত থাকেন ট্রাইব্যুনালে ।  ফলে   ১০ ডিসেম্বর বিচারপতি নিজামুল হক শর্তসাপেক্ষে আসামী পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ বন্ধ করে দিয়ে  যুক্তি উপস্থাপনের জন্য ধার্য্য করেছিলেন। কিন্তু ১১ ডিসেম্বর তিনি নিজেই পদত্যাগ করেন। এরপর  নতুন চেয়ারম্যান নিযুক্ত হবার পর আসামী পক্ষের দরখাস্তের প্রেক্ষিতে তাদের সাক্ষ্য  গ্রহণ  আবার শুরু হয়।


১৯৭১ সালে মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে গত বছর ১১ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালে হাজির হন অধ্যাপক গোলাম আযম। এরপর ট্রাইব্যুনাল তার জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়ে ওইদিনই  তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এদিকে আজ  ট্রাইব্যুনাল-১ এ সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষে ২০ তম সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে।



মুক্তিযুদ্ধকে সিভিল ওয়ার আখ্যায়িত করা ডকুমেন্ট দাখিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ

মেহেদী হাসান, ১৪/৩/২০১৩
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের সাবেক  আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে মামলায় আসামী পক্ষের  যুক্তি উপস্থাপন অব্যাহত রয়েছে।

আজ যুক্তি উপস্থাপনের সময় অধ্যাপক গোলাম আযমের পক্ষে আইনজীবী মিজানুল ইসলাম বলেন, এ মামলায়  রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তি উপস্থাপনের সময় অধ্যাপক  গোলাম আযমের বিরুদ্ধে  ট্রাইব্যুনালে বেশ কিছু ডকুমেন্ট প্রদর্শন  করেছেন। তাদের প্রদর্শন করা এরকম  কিছু  ডকুমেন্ট এর একটি ভলিউম এর  ওপর লেখা রয়েছে ‘সিভিল ওয়ার’। মিজানুল ইসলাম  ট্রাইব্যুনালকে সেটি দেখান।   এরপর মিজানুল ইসলাম বলেন, তাদের দাখিল করা এই ডকুমেন্ট এ মুক্তিযুদ্ধকে সিভিল ওয়ার বা গৃহযুদ্ধ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

মিজানুল ইসলাম  বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধকে সিভিল ওয়ার আখ্যায়িত করা হয়েছে এরকম একটি  ডকুমেন্ট  রাষ্ট্রপক্ষ কি করে দাখিল করতে পারল তা আমরা ভেবে পাচ্ছিনা।  আমরা যেখানে স্বাধীনতা যুদ্ধ বা   মুক্তিযু™ব্দ বলেছি, সেখানে প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালে ডকুমেন্ট দিয়ে বলেছে সেটি ছিল ‘‘সিভিল ওয়ার’’।

তখন ট্রাইব্যুনাল বলেন, এটা হয়তো ভুলবশত হয়েছে ভিতরে কোথাও এ কথা লেখা নেই। মিজানুল ইসলাম আরো অভিযোগ করেন রাষ্ট্রপক্ষের দাখিল করা এ ডকুমেন্টের সাথে অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের কোন সম্পর্ক নেই এবং  ডকুমেন্টটি যথাযথ প্রকৃয়ার মাধ্যমে দাখিল করা হয়নি। মামলার সাথে সম্পর্কহীন এবং স্বাধীনতা যুদ্ধকে গৃহযুদ্ধ আখ্যায়িত করা হয়েছে এমন ডকুমেন্ট তারা কি করে দাখিল করতে পারল?

ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শেষে সিভিল ওয়ার লেখা ভলিউম বিষয়ে অধ্যাপক গোলাম আযমের আইনজীবীরা সাংবাদিকদের বলেন,   ১৯৭১ সালের ২৬মার্চ পশ্চিম পাকিস্তানের  মার্কিন দুতাবাস থেকে ওয়াইট হাউসে একটি বার্তা পাঠানো হয়েছিল।   সে বার্তায়  লেখা আছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘোষনার মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তান গৃহযুদ্ধে পতিত হলো।    সিভিল ওয়ার লেখা সে ভলিউমভলিউমের মধ্যে অন্যান্য আরো বেশ কিছু ডকুমেন্টের সাথে এই চিঠিটিও আছে।
ট্রাইব্যুনাল-১ চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির, সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন এবং বিচারপতি আনোয়ারুল হক গতকাল বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। অধ্যাপক গোলাম আযমের পক্ষে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার ইমরান এ সিদ্দিক, অ্যাডভোকেট শিশির মো: মনির । রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন জেয়াদ প্রসিকিউটর আল মালুম, সুলতান মাহমুদ সিমন প্রমুখ।




গোলাম আযমের মামলায় যুক্তি উপস্থাপন শুরু

১৭/২/২০১৩
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে মামলায় যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী বা চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু আজ  তাদের পক্ষে যুক্তি উপস্থান শুরু করেন । শুরুতে তিনি ভাষা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধ শুরুর প্রেক্ষাপট তুলে ধরে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

আসামী পক্ষ নতুন সাক্ষী হাজির করতে না পারায় গত বৃহষ্পতিবার আসামী পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ বন্ধ করে দিয়ে যুক্তি উপস্থাপনের জন্য তারিখ ধার্য্য করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ১২ জন এবং আসামীপক্ষে  একজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন।

আজ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরুতে আসামী পক্ষে তিনটি নতুন দরখাস্ত  পেশ করেন অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম। এগুলো হল অধ্যাপক গোলাম আযমের পক্ষে  বিশেষজ্ঞ সাক্ষী হিসেবে প্রফেসর উইলিয়াম শাবাজ এবং ন্যাটোর সাবেক জেনারেল স্যার জ্যাক ডেভারেল  মতামত স্কাইপ বা ভিডিও লিংকের মাধ্যমে গ্রহণ করার ব্যবস্থা করা, অধ্যাপক গোলাম আযমকে জামিন প্রদান এবং তৃতীয়টি হল গোলাম আযমের পক্ষে নতুন সাক্ষীর তালিকা জমা দেয়ার  অনুমতি  চেয়ে আবেদন। প্রথম দুটি আবেদন বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল বলেছেন তারা উপযুক্ত মনে করলে এ  বিষয়ে শুনানীর জন্য ধার্য্য করবেন পরবর্তীতে। তৃতীয় আবেদনটি খারিজ করে দেন ট্রাইবুনাল। এরপর  রাষ্ট্রপক্ষকে যুক্তি উপস্থাপনের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে ৫টি শিরোনামে মোট ৬২টি অভিযোগে চার্জ গঠন করা হয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা বিরোধী কর্মকান্ডের পরিকল্পনা এবং ষড়যন্ত্র,  মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে পাকিস্তান আর্মিকে গণহত্যা এবং  ধ্বংসাত্মক কাজে সহায়তা, মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী কর্মকান্ডে উসকানি, স্বাধীনতা বিরোধী কর্মকান্ডের নেতৃত্ব প্রদান  এবং সুর্নিদিষ্ঠভাবে ব্রাক্ষ্মনবাড়িয়া কারাগারে মুক্তিযোদ্ধা  সিরুবাঙ্গালীসহ বেশ কয়েকজনকে হত্যার  নির্দেশ প্রদান প্রভৃতি।

আজ অধ্যাপক গোলাম আযমের পক্ষে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মনজুর আহমেদ আনসারী, অ্যাডভোকেট শিশির মো: মনির প্রমুখ।

১৯৭১ সালে মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে গত বছর ১১ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালে হাজির হন অধ্যাপক গোলাম আযম। এরপর ট্রাইব্যুনাল তার জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়ে ওইদিনই  তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 এদিকে আজ ট্রাইব্যুনাল-১ এ বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে ২০ তম সাক্ষীর জেরা শেষ হয়েছে। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী আজ সাক্ষীকে নিজে জেরা করেন। জেরা শেষে  আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহনের জন্য নির্ধারন করেন ট্রাইব্যুনাল।
ট্রাইব্যুনাল-১ চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির, সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন এবং বিচারপতি আনোয়ারুল হক বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।